উযূ (১৩৫-২৪৭)
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ 'যে ব্যক্তির হাদাস হয় তার সালাত কবূল হবে না, যতক্ষণ না সে উযূ করে। হাযরা-মাওতের জনৈক ব্যক্তি বলল, 'হে আবূ হুরাইরাহ! হাদাস কী?' হাদাস কী?' তিনি বললেন, 'নিঃশব্দে বা সশব্দে বায়ু বের হওয়া।'
নুআম মুজমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ-এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। অতঃপর তিনি উযূ করে বললেনঃ 'আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় আহবান করা হবে যে, উযূর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমন্ডল উজ্জ্বল থাকবে। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।'
'আব্বাদ ইবন তামীম-এর চাচা হতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর নিকট এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হল যে, তার মনে হয়েছিল যেন সালাতের মধ্যে কিছু হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেনঃ সে যেন ফিরে না যায়, যতক্ষণ না শব্দ শোনে বা দুর্গন্ধ পায়।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, একদা নবী (ﷺ) ঘুমিয়েছিলেন, এমনকি তার নিঃশ্বাসের শব্দ হতে লাগল। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। সুফ্ইয়ান আবার কখনো বলেছেন, তিনি শুয়ে পড়লেন, এমনকি নাক ডাকার আওয়ায হতে লাগল। অতঃপর দাড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। অন্য সূত্রে সুফইয়ান ইবন আব্বাস হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আমি এক রাতে আমার খালা মাইমূনাহ-এর নিকট রাত কাটালাম। রাতে নবী (ﷺ) ঘুম থেকে উঠলেন এবং রাতের কিছু অংশ চলে যাবার পর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একটি ঝুলন্ত মশক হতে হালকা ধরনের উযূ করলেন। রাবী আমর বলেন যে, হালকাভাবে ধুলেন, পানি কম ব্যবহার করলেন এবং সালাতে দাড়িয়ে গেলেন। ইবন আব্বাস বলেন, তখন তিনি যেভাবে উযূ করেছেন আমিও সেভাবে উযূ করলাম এবং এসে তার বায়ে দাড়িয়ে গেলাম। তারপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে ধরে তার ডান দিকে দাড় করালেন। অতঃপর আল্লাহর যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি সালাত আদায় করলেন। অতঃপর কাত হলেন আর ঘুমিয়ে পড়লেন, এমনকি তার নাক ডাকালেন। অতঃপর মুয়াযযিন এসে তাকে সালাতের কথা জানিয়ে দিলেন। তিনি তার সঙ্গে সালাতের জন্য চললেন এবং সালাত আদায় করলেন, কিন্তু উযূ করলেন না। আমরা আমর-কে বললামঃ লোকে বলে যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর চোখ ঘুমায় কিন্তু তার অন্তর ঘুমায় না। তখন আমর বললেন, 'আমি 'উবায়দ ইবন "উবায়দ-কে বলতে শুনেছি, নবীগণের স্বপ্ন ওয়াহী। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন। "আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে কুরবানী করছি"- (আস্ সাফ্ফাত ৩৭/১০২)।
উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আরাফার ময়দান হতে রওনা হলেন এবং উপত্যকায় পৌছে নেমে তিনি পেশাব করলেন। অতঃপর উযূ করলেন কিন্তু উত্তমরূপে উযূ করলেন না। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! সালাত আদায় করবেন কি?' তিনি বললেনঃ 'সালাতের স্থান তোমার সামনে।' অতঃপর তিনি আবার সওয়ার হলেন। অতঃপর মুযদালিফায় এসে সওয়ারী থেকে নেমে উযূ করলেন। এবার পূর্ণরূপে উযূ করলেন। তখন সালাতের জন্য ইকামত দেওয়া হল। তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সকলে তাদের অবতরণস্থলে নিজ নিজ উট বসিয়ে দিল। পুনরায় ইশার ইকামত দেয়া হল। অতঃপর তিনি ঈশার সালাত আদায় করলেন এবং উভয় সালাতের মধ্যে অন্য কোন সালাত আদায় করলেন না।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি উয়ু করলেন এবং তার মুখমন্ডল ধুলেন। এক আজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। অতঃপর আর এক আজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে অনুরূপ করলেন আরেক হাতের সাথে মিলিয়ে মুখমন্ডল ধুলেন। অতঃপর আর এক আজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে ডান হাত ধুলেন। অতঃপর আর এক আজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে তার বা হাত ধুলেন। অতঃপর তিনি মাথা মাসহ(মাসেহ) করলেন। অতঃপর আর এক আজলা পানি নিয়ে ডান পায়ের উপর ঢেলে দিয়ে তা ধুয়ে ফেললেন। অতঃপর আর এক আজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে বাম পা ধুলেন। অতঃপর বললেনঃ 'আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে এভাবে উযূ করতে দেখেছি।'
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে মিলনের পূর্বে যদি বলে, আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং যা আমাদেরকে দান করবে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখ)- অতঃপর (এ মিলনের দ্বারা) তাদের কিসমতে কোন সন্তান থাকলে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন প্রকৃতির ডাকে শৌচাগারে যেতেন তখন বলতেন, "আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবায়িছ" "হে আল্লাহ! আমি মন্দ কাজ ও শয়তান থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি।"
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, একদা নবী (ﷺ) পায়খানায় গেলেন, তখন আমি তার জন্য উযূর পানি রাখলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ 'এটা কে রেখেছে?' তাকে জানানো হলে তিনি বললেনঃ 'হে আল্লাহ! তুমি তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান কর।'
আবূ আইয়ুব আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন শৌচাগারে যায়, তখন সে যেন কিবলার দিকে মুখ না করে এবং তার দিকে পিঠও না করে, বরং তোমরা পূর্ব দিক এবং পশ্চিম দিকে ফিরে বসবে (এই নির্দেশ মাদ্বীনার বাসিন্দাদের জন্য)।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ 'লোকে বলে পেশাব পায়খানা করার সময় কিবলার দিকে এবং বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে বসবে না।' আবদুল্লাহ ইব্ন উমার বলেন, 'আমি একদা আমাদের ঘরের ছাদে উঠলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে দেখলাম বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে দু'টি ইটের উপর স্বীয় প্রয়োজনে বসেছেন। (কিন্তু সেখানে একটি পর্দা ছিল তাকে ঢেকে)
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) -এর স্ত্রীগণ রাতের বেলায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে খোলা ময়দানে যেতেন। আর উমার নবী (ﷺ) -কে বলতেন, 'আপনার স্ত্রীগণকে পর্দায় রাখুন।' কিন্তু আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তা করেননি। এক রাতে ইশার সময় নবী (ﷺ) -এর স্ত্রী সওদাহ বিন্তু যাম'আহ প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হন। তিনি ছিলেন দীর্ঘাঙ্গী। উমার তাকে ডেকে বললেন, 'হে সওদা! আমি কিন্তু তোমাকে চিনে ফেলেছি।' যেন পর্দার হুকুম অবতীর্ণ হয় সেই উদ্দেশ্যেই তিনি এ কথা বলেছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা পর্দার হুকুম অবতীর্ণ করেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ 'তোমাদের প্রয়োজনের জন্য বের হবার অনুমতি দেয়া হয়েছে।' হিশাম বলেন, পেশাব পায়খানার জন্য।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি আমার বিশেষ এক প্রয়োজনে হাফসাহ-এর ঘরের ছাদে উঠলাম। তখন দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে শাম-এর দিকে মুখ করে তার প্রয়োজনে বসেছেন।'
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ 'একদা আমি আমাদের ঘরের উপর উঠে দেখলাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দু'টি ইটের উপর বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বসেছেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হতেন তখন আমি ও অপর একটি ছেলে পানির পাত্র নিয়ে আসতাম। তিনি তা দিয়ে শৌচকার্য সারতেন।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হতেন তখন আমি এবং আমাদের অন্য একটি ছেলে তার পিছনে পানির পাত্র নিয়ে যেতাম।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন পায়খানায় যেতেন তখন আমি এবং একটি ছেলে পানির পাত্র এবং 'আনাযা' নিয়ে যেতাম। তিনি পানি দ্বারা শৌচকার্য করতেন।
আবূ ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, তোমাদের কেউ যখন পান করে, তখন সে যেন পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ছাড়ে। আর যখন শৌচাগারে যায় তখন তার পুরুষাঙ্গ যেন ডান হাত দিয়ে স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দিয়ে যেন শৌচকার্য না করে।
আবূ ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন পেশাব করে তখন সে যেন কখনো ডান হাত দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ না ধরে এবং ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য না করে এবং পান করার সময় যেন পাত্রের মধ্যে শ্বাস না ছাড়ে।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হলে আমি তার অনুসরণ করলাম। আর তিনি এদিক-ওদিক চাইতেন না। যখন আমি তার নিকটবর্তী হলাম তখন তিনি আমাকে বললেনঃ 'আমাকে কিছু পাথর কুড়িয়ে দাও, আমি তা দিয়ে শৌচকার্য সারব' (বর্ণনাকারী বলেন), বা এ ধরনের কোন কথা বললেন, আর আমার জন্য হাড্ডি বা গোবর আনবে না।' তখন আমি আমার কাপড়ের কোচায় করে কয়েকটি পাথর এনে তার পাশে রেখে আমি তার নিকট হতে সরে গেলাম। তিনি প্রয়োজন মিটিয়ে সেগুলো কাজে লাগালেন।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) একদা শৌচ কাজে যাবার সময় তিনটি পাথর কুড়িয়ে দিতে আমাকে নির্দেশ করলেন। তখন আমি দু'টি পাথর পেলাম এবং আরেকটি খুজলাম কিন্তু পেলাম না। তাই একখন্ড শুকনো গোবর নিয়ে তার নিকট গেলাম। তিনি পাথর দু'টি নিলেন এবং গোবর খন্ড ফেলে দিয়ে বললেন, এটা নোংরা।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ 'নবী (ﷺ) এক উযূতে একবার করে ধুয়েছেন।
আবদুল্লাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ 'নবী (ﷺ) উযূতে দু'বার করে ধুয়েছেন।'
হুমরান হতে বর্ণিত। তিনি উসমান ইবন আফফান-কে দেখেছেন যে, তিনি পানির পাত্র আনিয়ে উভয় হাতের তালুতে তিনবার ঢেলে তা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর ডান হাত পাত্রের মধ্যে ঢুকালেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তার মুখমন্ডল তিনবার ধুয়ে এবং দু'হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। অতঃপর মাথা মাসেহ করলেন। অতঃপর দুই পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। পরে বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ 'যে ব্যক্তি আমার মত এ রকম উযূ করবে, অতঃপর দু'রাকাত সালাত আদায় করবে, যাতে দুনিয়ার কোন খেয়াল করবে না, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।
ইবন শিহাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উরওয়াহ হুমরান থেকে বর্ণনা করেন, উসমান উযূ করে বললেন, আমি তোমাদের নিকট একটি হাদীস পেশ করব। যদি একটি আয়াতে কারীমা না হত, তবে আমি তোমাদের নিকট এ হাদীস বলতাম না। আমি নবী (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যে কোন ব্যক্তি সুন্দর করে উযূ করবে এবং সালাত আদায় করবে, পরবর্তী সালাত আদায় করা পর্যন্ত তার মধ্যবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। উরওয়াহ বলেন, সে আয়াতটি হলঃ "আমি যে সব স্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি তা যারা গোপন করে....।"
আবূ ইদরিস হতে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরাইরাহ-কে বলতে শুনেছেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উযূ করে সে যেন নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করে। আর যে শৌচকার্য করে সে যেন বিজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করে।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উযূ করে তখন সে যেন তার নাকে পানি দিয়ে ঝাড়ে। আর যে শৌচকার্য করে সে যেন বিজোড় সংখ্যায় ঢিলা ব্যবহার করে। আর তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে তখন সে যেন উযূর পানিতে হাত ঢুকানোর পূর্বে তা ধুয়ে নেয়; কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে, ঘুমন্ত অবস্থায় তার হাত কোথায় থাকে।
আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) এক সফরে আমাদের পিছনে রয়ে গিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি আমাদের নিকট পৌছে গেলেন। তখন আমরা আসরের সালাত শুরু করতে দেরী করে ফেলেছিলাম। তাই আমরা উযূ করছিলাম এবং (তাড়াতাড়ির কারণে) আমাদের পা মাসেহ করার মতো হালকাভাবে ধুয়ে নিচ্ছিলাম। তখন তিনি উচ্চৈস্বঃরে বললেনঃ 'পায়ের গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।' দু'বার অথবা তিনবার তিনি এ কথার পুনরাবৃত্তি করলেন।
উসমান ইবন 'আফফান-এর মুক্ত করা দাস হুমরান হতে বর্ণিত। তিনি উসমান-কে উযূর পানি আনাতে দেখলেন। অতঃপর তিনি সে পাত্র হতে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তা তিনবার ধুলেন। অতঃপর তার ডান হাত পানিতে ঢুকালেন। অতঃপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। অতঃপর তার মুখমন্ডল তিনবার এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন, অতঃপর মাথা মাসেহ করলেন। অতঃপর উভয় পা তিনবার ধোয়ার পর বললেনঃ আমি নবী (ﷺ) -কে আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করতে দেখেছি এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ 'যে ব্যক্তি আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করে দু'রাকাত সালাত আদায় করবে এবং তার মধ্যে অন্য কোন চিন্তা মনে আনবে না, আল্লাহ তাআলা তার পূর্বকৃত সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।'
মুহাম্মাদ ইবন যিয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। লোকেরা সে সময় পাত্র থেকে উযূ করছিল। তখন তাকে বলতে শুনেছি, তোমরা উত্তমরূপে উযূ কর। কারণ আবুল কাসিম (ﷺ) বলেছেনঃ পায়ের গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আযাব রয়েছে।
'উবায়দ ইবন জুরায়জ হতে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমার-কে বললেন, 'হে আবূ আবদুর রহমান! আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখি, যা আপনার অন্য কোন সাথীকে দেখি না।' তিনি বললেন, 'ইবন জুরায়জ, সেগুলো কী?' তিনি বললেন, আমি দেখি, (১) আপনি ত্বওয়াফ করার সময় দুই রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত অন্য রুকন স্পর্শ করেন না। (২) আপনি 'সিবতী' (পশমবিহীন) জুতা পরিধান করেন; (৩) আপনি (কাপড়ে) হলুদ রং ব্যবহার করেন এবং (৪) আপনি যখন মক্কায় থাকেন লোকে চাঁদ দেখে ইহরাম বাধে; কিন্তু আপনি তারবিয়ার দিন (৮ই যিলহজ্জ) না এলে ইহরাম বাধেন না। আবদুল্লাহ বললেনঃ রুকনের কথা যা বলেছ, তা এজন্য করি যে আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে ইয়ামানী রুকনদ্বয় ব্যতীত আর কোনটি স্পর্শ করতে দেখিনি। আর 'সিবতী' জুতা, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে সিবতী জুতা পরতে এবং তা পরিহিত অবস্থায় উযূ করতে দেখেছি, তাই আমি তা পরতে ভালবাসি। আর হলুদ রং, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে তা দিয়ে কাপড় রঙিন করতে দেখেছি, তাই আমিও তা দিয়ে রঙিন করতে ভালবাসি। আর ইহরাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে নিয়ে তার সওয়ারী রওনা না হওয়া পর্যন্ত আমি তাকে ইহরাম বাধতে দেখিনি।
উম্মু আতিয়্যাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) তার মেয়ে [যায়নাব]-কে গোসল করানোর সময় তাদের বলেছিলেনঃ তোমরা তার ডান দিক হতে এবং উযূর অঙ্গ হতে আরম্ভ কর।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) জুতা পরা, চুল আচড়ানো এবং পবিত্রতা অর্জন করা তথা প্রত্যেক কাজই ডান দিক হতে আরম্ভ করতে পছন্দ করতেন।
আনাস ইবন মালিক (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে দেখলাম, তখন আসরের সালাতের সময় হয়ে গিয়েছিল। আর লোকজন উযূর পানি খুজতে লাগল কিন্তু পেল না। তারপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট কিছু পানি আনা হল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সে পাত্রে তার হাত রাখলেন এবং লোকজনকে তা থেকে উযূ করতে বললেন। আনাস বলেন, সে সময় আমি দেখলাম, তার আঙ্গুলের নীচ থেকে পানি উপচে পড়ছে। এমনকি তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত তার দ্বারা উযূ করল।
ইবন সীরীন হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবীদাহকে বললাম, আমাদের নিকট নবী (ﷺ) -এর চুল রয়েছে যা আমরা আনাস-এর নিকট হতে কিংবা আনাস-এর পরিবারের নিকট হতে পেয়েছি। তিনি বললেন, তার একটি চুল আমার নিকট থাকাটা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা অর্জনের চেয়ে অধিক পছন্দের।
আনাস হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার মাথা মুন্ডন করলে আবূ তলহা-ই প্রথমে তার চুল সংগ্রহ করেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর পান করে তবে তা যেন সাতবার ধুয়ে নেয়।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ (পূর্ব যুগে) জনৈক ব্যক্তি একটি কুকুরকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ভিজা মাটি চাটতে দেখতে পেয়ে তার মোজা নিল এবং কুকুরটির জন্য কুয়া হতে পানি এনে দিতে লাগল যতক্ষণ না সে ওর তৃষ্ণা মিটাল। আল্লাহ এর বিনিময় দিলেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর যামানায় কুকুর মসজিদের ভিতর দিয়ে আসা-যাওয়া করত অথচ এজন্য তারা কোথাও পানি ছিটিয়ে দিতেন না।
আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর সম্পর্কে) নবী (ﷺ) -কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ তুমি যখন তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকার ধরতে ছেড়ে দাও, তখন সে হত্যা করলে তা তুমি খেতে পার। আর সে তার অংশবিশেষ খেয়ে ফেললে তুমি তা খাবে না। কারণ সে তা নিজের জন্যই শিকার করেছে। আমি বললামঃ কখনো কখনো আমি আমার কুকুর (শিকারে) পাঠিয়ে দেই, অতঃপর তার সঙ্গে অন্য এক কুকুরও দেখতে পাই (এমতাবস্থায় শিকারকৃত প্রাণীর কী হুকুম)? তিনি বললেনঃ তবে খেও না। কারণ তুমি বিসমিল্লাহ্ বলেছ কেবল তোমার কুকুরের বেলায়, অন্য কুকুরের বেলায় বিসমিল্লাহ্ বলনি।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দা যে সময়টা মসজিদে সালাতের অপেক্ষায় থাকে, তার সে পুরো সময়টাই সালাতের মধ্যে গণ্য হয় যতক্ষণ না সে হাদাস করে। জনৈক অনারব বলল, হে আবূ হুরাইরাহ! 'হাদাস কী'? তিনি বললেন, 'শব্দ করে বায়ু বের হওয়া।'
আব্বাস ইবন তামীম, তার চাচার সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ (কোন মুসল্লী) সালাত থেকে সরে থাকবে না যতক্ষণ না সে শব্দ শুনতে পায় কিংবা গন্ধ পায়।
মুহাম্মাদ ইবন হানাফিয়্যাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আলী বলেছেন, আমার অধিক পরিমাণে মযী বের হতো। কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করছিলাম। তাই আমি মিকদাদ ইবন আসওয়াদ-কে অনুরোধ করলাম, তিনি যেন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট জিজ্ঞেস করেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বলেনঃ এতে শুধু উযূ করতে হয়।
যায়দ ইবন খালিদ হতে বর্ণিত। তিনি উসমান ইবন 'আফফান-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ 'কেউ যদি স্ত্রী সহবাস করে, কিন্তু বীর্যপাত না হয় (তবে তার হুকুম কী)? উসমান বললেনঃ 'সে সালাতের ন্যায় উযূ করে নেবে এবং তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। উসমান বলেন, আমি এ কথা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) থেকে শুনেছি। (পরবর্তীতে এই আদেশ বাতিল করা হয় এবং এই ধরনের ক্ষেত্রে গোসল করা আবশ্যক হয়ে পড়ে)।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জনৈক আনসারীর নিকট ডাকতে লোক পাঠালেন। তিনি আসলেন। তখন তার মাথা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছিল। নবী (ﷺ) বললেনঃ 'সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াহুড়া করতে বাধ্য করেছি।' তিনি বললেন, 'জী।' আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ যখন (যৌন মিলনের সময়) তাড়াহুড়ার কারণে বীর্যপাত না হয় অথবা বীর্যর অভাবজনিত কারণে তা বের না হয় তখন উযূ করে নিবে। (পরবর্তীতে এই আদেশ বাতিল করা হয় এবং এই ধরনের ক্ষেত্রে গোসল করা আবশ্যক হয়ে পড়ে)।
'উসামা ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন আরাফাহ হতে ফিরছিলেন, তখন তিনি একটি গিরিপথের দিকে গিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলেন। উসামা বলেন, পরে আমি তাকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলাম আর তিনি উযূ করছিলেন। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেনঃ 'সালাতের স্থান তোমার সম্মুখে (মুযদালিফায়)।'
মুগীরাহ ইবন শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি কোন এক সফরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাথে ছিলেন। এক সময় তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলেন। (প্রয়োজন সেরে আসার পর) মুগীরাহ তাকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন এবং তিনি উযূ করছিলেন। তিনি তার মুখমন্ডল এবং দু'হাত ধুলেন এবং তার মাথা মাসেহ করলেন ও উভয় মোজার উপর মাসেহ করলেন।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি একদা নবী (ﷺ) -এর স্ত্রী মাইমূনাহ-এর ঘরে রাত কাটান। তিনি ছিলেন ইবন আব্বাস-এর খালা। ইবন আব্বাস বলেনঃ অতঃপর আমি বিছানার প্রশস্ত দিকে শুলাম এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -ও তার স্ত্রী বিছানার লম্বা দিকে শুলেন; আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনিভাবে রাত যখন অর্ধেক হয়ে গেল তার কিছু পূর্বে কিংবা কিছু পরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জাগলেন। তিনি বসে হাত দিয়ে তার মুখমন্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। অতঃপর সূরাহ ইমরানের শেষ দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর দাড়িয়ে একটি ঝুলন্ত মশক হতে সুন্দরভাবে উযূ করলেন। অতঃপর সালাতে দাড়িয়ে গেলেন। ইবন আব্বাস বলেন, আমিও উঠে তিনি যেরূপ করেছেন তদ্রুপ করলাম। তারপর গিয়ে তার বাম পাশে দাড়ালাম। তিনি তার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে একটু নাড়া দিয়ে ডান পাশে এনে দাড় করালেন। অতঃপর তিনি দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন। তারপর দু'রাকাত, তারপর দু'রাকাত, তারপর দু'রাকাত, তারপর দু'রাকাত, তারপর দু'রাকাত, তারপর বিতর আদায় করলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তার নিকট মুয়ায্যিন এলে তিনি দাড়িয়ে হাল্কাভাবে দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন। তারপর বেরিয়ে গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন।
আসমা বিনতু আবূ বাকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একদা নবী (ﷺ) -এর স্ত্রী আয়িশাহ-এর নিকট আসলাম। তখন সূর্যে গ্রহণ লেগেছিল। দেখলাম সব মানুষ দাড়িয়ে সালাত আদায় করছে এবং আয়িশাহ-ও দাড়িয়ে সালাত আদায় করছেন। আমি বললাম, লোকদের কী হয়েছে? তিনি তার হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন 'সুবহানাল্লাহ্'! আমি বললাম, এটা কি কোন আলামত? তিনি ইঙ্গিত করে বললেনঃ 'হা'। অতঃপর আমিও সালাতে দাড়িয়ে গেলাম। এমনকি আমার জ্ঞান হারিয়ে ফেলার উপক্রম হলো এবং আমি আমার মাথায় পানি দিতে লাগলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (মুসল্লীদের দিকে) ফিরে আল্লাহর হাম্দ ও সানা বর্ণনা করে বললেনঃ "যেসব জিনিস আমি ইতোপূর্বে দেখিনি সেসব আমার এ স্থানে আমি দেখতে পেয়েছি, এমনকি জান্নাত এবং জাহান্নামও। আর আমার নিকট ওয়াহী পাঠানো হয়েছে যে, কবরে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা তার কাছাকাছি।" বর্ণনাকারী বলেনঃ আসমা কোনটি বলেছিলেন, আমি জানি না। তোমাদের প্রত্যেকের নিকট (মালাইকাহ) উপস্থিত হবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, "এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী জান?"-তারপর 'মুমিন,' বা 'মুকিন' ব্যক্তি বলবে- আসমা 'মুমিন' বলেছিলেন না 'মুকিন' তা আমি জানি না- ইনি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)। তিনি আমাদের নিকট মুজিযা ও হিদায়াত নিয়ে আগমন করেছিলেন। আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়েছি, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তার ইত্তিবা' করেছি। তারপর তাকে বলা হবে, নিশ্চিন্তে ঘুমাও। আমরা জানলাম যে, তুমি মুমিন ছিলে। আর 'মুনাফিক' বা 'মুরতাব' বলবে- আমি জানি না আসমা এর কোনটি বলেছিলেন- লোকজনকে এর সম্পর্কে কিছু একটা বলতে শুনেছি আর আমিও তা-ই বলেছি।
ইয়াহ্ইয়া আল-মাযিনী হতে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন যায়দ-কে (তিনি আমর ইবন ইয়াহইয়ার দাদা) জিজ্ঞেস করলঃ আপনি কি আমাদেরকে দেখাতে পারেন, কীভাবে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উযূ করতেন? আবদুল্লাহ ইবন যায়দ বললেনঃ 'হা। অতঃপর তিনি পানি আনালেন। হাতের উপর সে পানি ঢেলে দু'বার তার হাত ধুলেন। তারপর কুলি করলেন এবং তিনবার নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। অতঃপর চেহারা তিনবার ধুলেন। তারপর দু'হাত কনুই পর্যন্ত দু'বার করে ধুলেন। তারপর দু'হাত দিয়ে মাথা মাসেহ করলেন। হাতদু'টি সামনে এবং পেছনে নিলেন। মাথার সম্মুখ ভাগ থেকে শুরু করে উভয় হাত পেছনের চুলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত নিলেন। তারপর আবার যেখান থেকে শুরু করেছিলেন, সেখানেই ফিরিয়ে আনলেন। তারপর দু'পা ধুলেন।
আমর ইবন আবূ হাসান হতে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন যায়দ-কে নবী (ﷺ) -এর উযূ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি এক পাত্র পানি আনলেন এবং তাদের (দেখাবার) জন্য নবী (ﷺ) -এর মত উযূ করলেন। তিনি পাত্র থেকে দু'হাতে পানি ঢাললেন। তা দিয়ে হাত দু'টি তিনবার ধুলেন। অতঃপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিন খাবল পানি নিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। তারপর আবার হাত ঢুকালেন। তিনবার তার মুখমন্ডল ধুলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে (পানি নিয়ে) দুই হাত কনুই পর্যন্ত দু'বার ধুলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত দিয়ে সামনে এবং পেছনে একবার মাত্র মাথা মাসেহ করলেন। তারপর দু' পা টাখনু পর্যন্ত ধুলেন।
আবূ জুহাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন একদা দুপুর বেলা নবী (ﷺ) আমাদের নিকট এলেন। তাকে উযূর পানি এনে দেয়া হলে তিনি উযূ করলেন। লোকে তার উযুর ব্যবহৃত পানি নিয়ে গায়ে মাখতে লাগল। অতঃপর নবী (ﷺ) যুহরের দু'রাকাত এবং আসরের দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন। আর তার সামনে ছিল একটি লাঠি।
আবূ মূসা বলেনঃ নবী (ﷺ) একটি পাত্র আনালেন যাতে পানি ছিল। অতঃপর তিনি তার মধ্যে উভয় হাত ও মুখমন্ডল ধুলেন এবং তার দ্বারা কুলি করলেন। অতঃপর তাদের দু'জন [আবূ মূসা ও বিলাল]-কে বললেনঃ 'তোমরা এ থেকে পান কর এবং তোমাদের মুখমন্ডলে ও বুকে ঢাল।'
মাহমূদ ইবন রবী হতে বর্ণিত। বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি সে ব্যক্তি, যার মুখমন্ডলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদের কুয়া হতে পানি নিয়ে কুলির পানি দিয়েছিলেন। তিনি তখন বালক ছিলেন। 'উরওয়া মিসওয়ার প্রমুখের নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেন। এ উভয় বর্ণনা একটি অন্যটির সত্যায়ন স্বরূপ। নবী (ﷺ) যখন উযূ করতেন তখন তার ব্যবহৃত পানির উপর তারা (সহাবায়ে কিরাম) যেন হুমড়ি খেয়ে পড়তেন।
সায়িব ইবন ইয়াযীদ বলেনঃ আমার খালা আমাকে নিয়ে নবী (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাগিনা অসুস্থ'। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং বরকতের দোয়া করলেন। অতঃপর উযূ করলেন। আমি তার উযুর (অবশিষ্ট) পানি পান করলাম। তারপর তার পিছনে দাড়ালাম। তখন আমি তার উভয় কাঁধের মধ্যস্থলে নুবূওয়াতের মোহর দেখতে পেলাম। তা ছিল পর্দার ঘুণ্টির মত।
আবদুল্লাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। একদা তিনি পাত্র হতে দু'হাতে পানি ঢেলে দু'হাত ধৌত করলেন। অতঃপর এক খাবল পানি দিয়ে (মুখ) ধুলেন বা কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন। তিনবার এরূপ করলেন। তারপর দু' হাত কনুই পর্যন্ত দু'-দু'বার ধুলেন এবং মাথার সামনের অংশ এবং পেছনের অংশ মাসেহ করলেন। আর টাখনু পর্যন্ত দু' পা ধুলেন। অতঃপর বললেনঃ "আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর উযূ এরূপ ছিল।"
ইয়াহইয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ 'আমি একদা আমর ইবন আবূ হাসান-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি আবদুল্লাহ ইবন যায়দ-কে নবী (ﷺ) -এর উযূ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। অতঃপর তিনি পানির একটি পাত্র এনে তাদের উযূ করে দেখালেন। তিনি পাত্রটি কাত করে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তিনবার তা ধুয়ে ফেলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন এবং তিন খাবল পানি দিয়ে তিনবার করে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে তা ঝাড়লেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিনবার মুখমন্ডল ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু'-দু'বার ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তার মাথা হাত দিয়ে সামনে এবং পেছনে মাসেহ করলেন। তারপর আবার পাত্রের মধ্যে তার হাত ঢুকিয়ে দুই পা ধুলেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল -এর সময় পুরুষ এবং মহিলা একত্রে (এক পাত্র হতে) উযূ করতেন।
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি অসুস্থ থাকা অবস্থায় একবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার খোজ-খবর নিতে এলেন। আমি তখন এতই অসুস্থ ছিলাম যে আমার জ্ঞান ছিল না। তারপর তিনি উযূ করলেন এবং তার উযূর পানি আমার উপর ছিঁটিয়ে দিলেন। তখন আমার জ্ঞান ফিরে এল। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! (আমার) 'মীরাস' কে পাবে? আমার একমাত্র ওয়ারিস হল কালালাহ। তখন ফারায়েযের আয়াত অবতীর্ণ হল।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা সালাতের সময় উপস্থিত হলে যাদের বাড়ি নিকটে ছিল তারা (উযূ করার জন্য) বাড়ি চলে গেলেন। আর কিছু লোক রয়ে গেলেন (তাদের কোন উযূর ব্যবস্থা ছিল না)। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর জন্য একটি পাথরের পাত্রে পানি আনা হল। পাত্রটি এত ছোট ছিল যে, তার মধ্যে তার উভয় হাত মেলে দেয়া সম্ভব ছিল না। তা থেকেই কওমের সকল লোক উযূ করলেন। আমরা জিজ্ঞেস করলামঃ 'আপনারা কতজন ছিলেন'? তিনি বললেনঃ 'আশিজন বা তারও কিছু অধিক।'
আবূ মূসা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা নবী (ﷺ) একটি পানি ভর্তি পাত্র আনালেন। তাতে তার উভয় হাত ও মুখমন্ডল ধুলেন এবং কুলি করলেন।
আবদুল্লাহ ইবন যায়দ বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের বাড়ি এলেন। আমরা তাকে পিতলের একটি পাত্রে পানি দিলে তা দিয়ে তিনি উযূ করলেন। তার মুখমন্ডল তিনবার ও উভয় হাত দু'-দু'বার করে ধুলেন এবং তার হাত সামনে ও পেছনে এনে মাথা মাসেহ করলেন আর উভয় পা ধুলেন।
আয়িশাহ বলেনঃ নবী (ﷺ) -এর অসুস্থতা বেড়ে গেলে তিনি আমার ঘরে শুশ্রূষার জন্য তার স্ত্রীদের নিকট অনুমতি চাইলে তারা অনুমতি দিলেন। নবী (ﷺ) (আমার ঘরে আসার জন্য) দু' ব্যক্তির উপর ভর করে বের হলেন। আর তার পা দু'খানি তখন মাটিতে চিহ্ন রেখে যাচ্ছিল। তিনি আব্বাস ও অন্য এক ব্যক্তির মাঝখানে ছিলেন। উবাইদুল্লাহ বলেনঃ 'আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস-কে এ কথা জানালাম। তিনি বললেনঃ সে অন্য ব্যক্তিটি কে তা কি তুমি জান? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তিনি হলেন আলী ইবন আবূ তালিব। আয়িশাহ বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) তার ঘরে আসলে অসুস্থতা আরো বৃদ্ধি পেল। তিনি বললেনঃ 'তোমরা আমার উপর মুখের বাধন খোলা হয়নি এমন সাতটি মশকের পানি ঢেলে দাও, তাহলে হয়ত আমি মানুষকে কিছু উপদেশ দিতে পারব।' তাকে তার স্ত্রী হাফসাহ-এর একটি বড় পাত্রে বসিয়ে দেয়া হল। অতঃপর আমরা তার উপর সেই সাত মশক পানি ঢালতে লাগলাম। এভাবে ঢালার পর এক সময় তিনি আমাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন, (এখন থাম) তোমরা তোমাদের কাজ করেছ। অতঃপর তিনি বের হয়ে জনসম্মুক্ষে গেলেন।
ইয়াহ্ইয়া বলেনঃ আমার চাচা উযূর পানি অধিক খরচ করতেন। একদা তিনি 'আব্দুল্লাহ্ ইবন যায়দ-কে বললেনঃ 'নবী (ﷺ) কীভাবে উযূ করতেন আপনি কি তা দেখেছেন?' তিনি এক গামলা পানি আনালেন। সেটি উভয় হাতে কাত করে (তা থেকে পানি ঢেলে) হাত দু'টি তিনবার ধুলেন, অতঃপর তার হাত গামলায় ঢুকালেন। অতঃপর এক খাবল (করে) পানি দিয়ে তিনবার কুলি করলেন এবং নাক ঝাড়লেন। তারপর পানিতে তার হাত ঢুকালেন। উভয় হাতে এক খাবল (করে) পানি নিয়ে মুখমন্ডল তিনবার ধুলেন। অতঃপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু'বার করে ধুলেন। অতঃপর উভয় হাতে পানি নিয়ে মাথার সামনে এবং পেছনে মাসেহ করলেন এবং দু' পা ধুলেন। তারপর বললেনঃ 'আমি নবী (ﷺ) -কে এভাবেই উযূ করতে দেখেছি।'
আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) একপাত্র পানি চাইলে একটি বড় পাত্র তার নিকট আনা হল, তাতে সামান্য পানি ছিল। তারপর তিনি তার মধ্যে তার আঙ্গুল রাখলেন। আনাস বলেনঃ আমি পানির দিকে তাকাতে লাগলাম। তার আঙ্গুলের ভেতর দিয়ে পানি উপচে পড়তে লাগল। আনাস বলেনঃ যারা উযূ করেছিল, আমি অনুমান করলাম তাদের সংখ্যা ছিল সত্তর হতে আশি জনের মত।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক সা' হতে পাচ মুদ পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন এবং উযু করতেন এক মুদ দিয়ে। [১ মুদ = ৬০০ গ্রাম, চার মুদ = ১ সা']
সাদ ইবন আবূ ওয়াককাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তার উভয় মোজার উপর মাসেহ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন উমার (তার পিতা) উমার-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ 'হা! সা'দ নবী (ﷺ) হতে কিছু বর্ণনা করলে সে ব্যাপারে আর অন্যকে জিজ্ঞেস করো না।'
মুগীরাহ ইবন শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলে তিনি (মুগীরাহ) পানি সহ একটা পাত্র নিয়ে তার অনুসরণ করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) প্রাকৃতিক প্রয়োজন শেষ করে এলে তিনি তাকে পানি ঢেলে দিলেন। আর তিনি (ﷺ) উযূ করলেন এবং উভয় মোজার উপর মাসেহ করলেন।
উমাইয়াহ যামরী হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে উভয় মোজার উপর মাসেহ করতে দেখেছেন। হার্ব ও আবান ইয়াহ্ইয়া হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
উমাইয়াহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ 'আমি নবী (ﷺ)-কে তার পাগড়ীর উপর এবং উভয় মোজার উপর মাসেহ করতে দেখেছি'। মা'মার আমর হতে অনুরূপ বর্ণনা করেনঃ 'আমি নবী (ﷺ) -কে তা করতে দেখেছি।"
মুগীরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে কোন এক সফরে ছিলাম। (উযূ করার সময়) আমি তার মোজা দু'টি খুলতে চাইলে তিনি বললেনঃ 'ও দু'টো থাক, আমি পবিত্র অবস্থায় ও দু'টি পরেছিলাম'। (এই বলে) তিনি তার উপর মাসেহ করলেন।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বকরীর কাঁধের গোশত খেলেন। অতঃপর সালাত আদায় করলেন; কিন্তু উযূ করলেন না।
উমাইয়াহ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) -কে একটি বকরীর কাঁধের গোশ্ত কেটে খেতে দেখলেন। এ সময় সালাতের জন্য আহবান হল। তিনি ছুরিটি ফেলে দিলেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন; কিন্তু উযূ করলেন না।
সুওয়াইদ ইবন নুমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বার যুদ্ধের বছর তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাথে বের হলেন। চলতে চলতে তারা যখন সাহবা-য় পৌছলেন, এটি খায়বরের নিকটবর্তী অঞ্চল, তখন তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর খাবার আনতে বললেনঃ কিন্তু ছাতু ব্যতীত আর কিছুই আনা হল না। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলে তাতে পানি মেশানো হয়। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তা খেলেন এবং আমরাও খেলাম। অতঃপর তিনি মাগরিবের জন্য দাড়ালেন, এবং কুলি করলেন এবং আমরাও কুলি করলাম। পরে তিনি সালাত আদায় করলেন; উযূ করলেন না।
মাইমূনাহ হতে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) তার নিকট (বকরীর) কাঁধের গোশত খেলেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন অথচ অযূ করলেন না।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দুধ পান করলেন। অতঃপর কুলি করলেন এবং বললেনঃ 'এতে রয়েছে তৈলাক্ত বস্তু' (কাজেই কুলি করা উত্তম)। ইউনুস ও সালিহ ইবন কায়সার যুহরী হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতরত অবস্থায় তোমাদের কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সে যেন ঘুমের আমেজ চলে না যাওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে নেয়। কারণ, যে তন্দ্রাবস্থায় সালাত আদায় করে সে জানে না যে, সে কি ইস্তেগফার করছে নাকি নিজেকে গালি দিচ্ছে।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, সে যেন ততক্ষণ ঘুমিয়ে নেয়, যতক্ষণ না সে কী পড়ছে, তা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) প্রত্যেক সালাতের সময় উযূ করতেন। আমি বললামঃ আপনারা কী করতেন? তিনি বললেনঃ হাদাস (উযূ ভঙ্গের কারণ) না হওয়া পর্যন্ত আমাদের (পূর্বের) উযূ যথেষ্ট হত।
সুওয়াইদ ইবন নুমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বার যুদ্ধের বছর আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাথে বের হলাম। সহ্বা নামক স্থানে পৌছে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে তিনি খাবার আনতে বললেন। ছাতু ব্যতীত আর কিছুই আনা হল না। আমরা তা খেলাম এবং পান করলাম। অতঃপর নবী (ﷺ) মাগরিবের জন্য দাড়ালেন, অতঃপর কুলি করলেন; অতঃপর আমাদের নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন অথচ তিনি (নতুন) উযূ করলেন না।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) একদা মাদ্বীনা বা মক্কার বাগানগুলোর মধ্য হতে কোন এক বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এমন দু' ব্যক্তির আওয়ায শুনতে পেলেন যে, তাদেরকে কবরে আযাব দেয়া হচ্ছিল। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এদের দু'জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে, অথচ কোন গুরুতর অপরাধে তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তারপর তিনি বললেনঃ 'হ্যা, এদের একজন তার পেশাব করতে গিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করত না। অপর ব্যক্তি চোগলখোরী করত। অতঃপর তিনি একটি খেজুরের ডাল আনতে বললেন, এবং তা ভেঙ্গে দু' টুকরা করে প্রত্যেকের কবরের উপর এক টুকরা করে রাখলেন। তাকে বলা হল, 'হে আল্লাহর রাসূল! কেন এমন করলেন?' তিনি বললেনঃ আশা করা যেতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু'টি শুকিয়ে না যায় তাদের আযাব কিছুটা হালকা করা হবে।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলে আমি তার নিকট পানি নিয়ে যেতাম। তিনি তা দিয়ে শৌচকার্য করতেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) একদা দু'টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তিনি বললেনঃ এদের আযাব দেয়া হচ্ছে, কোন গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব হতে সতর্ক থাকত না। আর অপরজন চোগলখোরী করে বেড়াত। তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙ্গে দু'ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের উপর একখানি গেড়ে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেন এমন করলেন? তিনি বললেনঃ আশা করা যেতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু'টি শুকিয়ে না যায় তাদের আযাব কিছুটা হালকা করা হবে। ইবন মুসান্না আ'মাশ বলেনঃ আমি মুজাহিদ হতে অনুরূপ শুনেছি। সে তার পেশাব হতে সতর্ক থাকত।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) এক বেদুঈনকে মসজিদে পেশাব করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেনঃ 'তাকে ছেড়ে দাও'। সে পেশাব শেষ করলে পানি নিয়ে আসতে বললেন, অতঃপর তা সেখানে ঢেলে দিলেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক বেদুঈন দাড়িয়ে মসজিদে পেশা করল। তখন লোকেরা তাকে বাধা দিতে গেলে নবী (ﷺ) তাদের বললেনঃ তোমরা তাকে ছেড়ে দাও এবং ওর পেশাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কারণ তোমাদেরকে কোমল ও সুন্দর আচরণ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, রূঢ় আচরণ করার জন্য পাঠানো হয়নি।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (২১৯ নম্বর হাদিসের অনুরুপ)
মা আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট একটি ছেলে শিশুকে আনা হল। শিশুটি তার কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি পানি আনালেন এবং এর উপর ঢেলে দিলেন।
উম্মু কায়স বিনত মিহসান হতে বর্ণিত যে, তিনি তার এমন একটি ছোট ছেলেকে নিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট এলেন যে তখনো খাবার খেতে শিখেনি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) শিশুটিকে তার কোলে বসালেন। তখন সে তার কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি পানি আনিয়ে এর উপর ছিটিয়ে দিলেন এবং তা ধৌত করলেন না।
হুযাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) একদা গোত্রের ময়লা আবর্জনা ফেলার স্থানে আসলেন। তিনি সেখানে দাড়িয়ে পেশাব করলেন। অতঃপর পানি আনতে বললেন। আমি তাকে পানি এনে দিলে তিনি উযূ করলেন।
হুযাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার স্মরণ আছে যে, একদা আমি ও নবী (ﷺ) এক সাথে চলছিলাম। তিনি দেয়ালের পিছনে মহল্লার একটি আবর্জনা ফেলার জায়গায় এলেন। অতঃপর তোমাদের কেউ যেভাবে দাড়ায় সে ভাবে দাড়িয়ে তিনি পেশাব করলেন। এ সময় আমি তার নিকট হতে সরে যাচ্ছিলাম কিন্তু তিনি আমাকে ইঙ্গিত করলেন। আমি এসে তার পেশাব করা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার পিছনে দাড়িয়ে রইলাম।
আবূ ওয়াইল হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ মূসা পেশাবের ব্যাপারে খুব কঠোরতা আরোপ করতেন এবং বলতেনঃ বনী ইসরাঈলের কারো কাপড়ে (পেশাব) লাগলে তা কেটে ফেলত। হুযায়ফাহ বললেন, আবূ মূসা যদি এ হতে বিরত থাকতেন (তবে ভাল হত)। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মহল্লার আবর্জনা ফেলার স্থানে গিয়ে দাড়িয়ে পেশাব করেছেন।
আসমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে বললেনঃ (হে আল্লাহর রাসূল!) বলুন, আমাদের কারো কাপড়ে হায়যের রক্ত লেগে গেলে সে কী করবে? তিনি বললেনঃ সে তা ঘষে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে এবং ভাল করে ধুয়ে ফেলবে। অতঃপর সেই কাপড়ে সালাত আদায় করবে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনতু আবূ হুবায়শ নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন রক্ত-প্রদর রোগগ্রস্তা (ইস্তিহাযাহ) মহিলা। আমি কখনো পবিত্র হতে পারি না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত পরিত্যাগ করবো?' আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ না, এতো শিরা হতে নির্গত রক্ত; হায়য নয়। তাই যখন তোমার হায়য আসবে তখন সালাত ছেড়ে দিও। আর যখন তা বন্ধ হবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলবে, তারপর সালাত আদায় করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা বলেছেনঃ অতঃপর এভাবে আরেক হায়িয না আসা পর্যন্ত প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করবে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) -এর কাপড় হতে অপবিত্রতার চিহ্ন ধুয়ে দিতাম এবং কাপড়ে ভিজা চিহ্ন নিয়ে তিনি সালাতে বের হতেন।
সুলাইমান ইবন ইয়াসার হতে বর্ণিত। 'আমি আয়িশাহ-কে কাপড়ে লাগা বীর্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।' তিনি বললেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কাপড় হতে তা ধুয়ে ফেলতাম। তিনি কাপড় ধোয়ার ভিজা দাগ নিয়ে সালাতে বের হতেন।
আমর ইবন মায়মূন হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কাপড়ে জানাবাতের অপবিত্রতা লাগা সম্পর্কে আমি সুলায়মান ইবন ইয়াসার-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ আয়িশাহ বলেছেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর কাপড় হতে তা ধুয়ে ফেলতাম। অতঃপর তিনি সালাতে বেরিয়ে যেতেন আর তাতে পানি দিয়ে ধোয়ার চিহ্ন অবশিষ্ট থাকত।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কাপড় হতে বীর্য ধুয়ে ফেলতেন। আয়িশাহ বললেনঃ তারপর আমি তাতে পানির একটি বা কয়েকটি দাগ দেখতে পেতাম।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উকল বা উরাইনাহ গোত্রের কিছু লোক (ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশে) মদিনায় এলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল। নবী (ﷺ) তাদের (সদকার) উটের নিকট যাবার এবং ওর পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা সেখানে চলে গেল। অতঃপর তারা সুস্থ হয়ে নবী (ﷺ) -এর রাখালকে হত্যা করল এবং উটগুলো তাড়িয়ে নিয়ে গেল। এ সংবাদ দিনের প্রথম ভাগেই (তার নিকট) এসে পৌছল। তিনি তাদের পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য লোক পাঠালেন। বেলা বাড়লে তাদেরকে পাকড়াও করে আনা হল। অতঃপর তার আদেশে তাদের হাত পা কেটে দেয়া হল। উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুটিয়ে দেয়া হল এবং গরম পাথুরে ভূমিতে তাদের নিক্ষেপ করা হল। তারা পানি চাইছিল, কিন্তু তাদেরকে পানি দেয়া হয়নি। আবূ কিলাবাহ বলেন, এরা চুরি করেছিল, হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল, ঈমান আনার পর কুফরী করেছিল এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মসজিদে নাবাবী নির্মিত হবার পূর্বে নবী (ﷺ) ভেড়ার খোয়াড়ে সালাত আদায় করতেন।
মাইমূনাহ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে 'ঘি'য়ে পতিত ইদুর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ ইদুরটি এবং তার আশ পাশ হতে ফেলে দাও এবং তোমাদের অবশিষ্ট ঘি খাও।
মাইমূনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) -কে 'ঘি'র মধ্যে ইদুর পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেনঃ তা ও তার আশপাশ হতে ফেলে দাও।
আবূ হুরাইরাহ নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় মুসলিমদের যে যখম হয়, কিয়ামতের দিন তার প্রতিটি যখম আঘাতকালীন সময়ে যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থাতেই থাকবে। রক্ত ছুটে বের হতে থাকবে। তার রং হবে রক্তের রং কিন্তু গন্ধ হবে মিশকের মত।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা শেষে আগমনকারী এবং (কিয়ামত দিবসে) অগ্রবর্তী।
একই বর্ণনাকারী বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে কখনো পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে।
আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সিজদারত অবস্থায় ছিলেন। অন্য সূত্রে আহমাদ ইবন উসমান .....আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) একদা বায়তুল্লাহর পাশে সালাত আদায় করছিলেন এবং সেখানে আবূ জাহাল ও তার সাথীরা বসা ছিল। এমন সময় তাদের একজন অন্যজনকে বলে উঠল 'তোমাদের মধ্যে কে অমুক গোত্রের উটনীর নাড়িভুঁড়ি এনে মুহাম্মাদ যখন সিজদা করেন তখন তার পিঠের উপর চাপিয়ে দিতে পারে'? তখন গোত্রের বড় পাষন্ড (উকবাহ) তাড়াতাড়ি গিয়ে তা নিয়ে এল এবং তার প্রতি লক্ষ্য রাখল। নবী (ﷺ) যখন সিজদায় গেলেন, তখন সে তার পিঠের উপর দুই কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। ইবন মাসঊদ বলেন, আমি (এ দৃশ্য) দেখছিলাম কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। হায়! আমার যদি বাধা দেবার শক্তি থাকত! তিনি বলেন, তারা হাসতে লাগল এবং একে অন্যের উপর লুটোপুটি খেতে লাগল। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তখন সিজদায় থাকলেন, মাথা উঠালেন না। অবশেষে ফাতিমা এসে সেটি তার পিঠের উপর হতে ফেলে দিলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মাথা উঠিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি কুরায়শকে ধ্বংস করুন। এরূপ তিনবার বললেন। তিনি যখন তাদের বদ দোয়া করেন তখন তা তাদের অন্তরে ভয় জাগিয়ে তুলল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা জানত যে, এ শহরে দোয়া কবূল হয়। অতঃপর তিনি নাম ধরে বললেনঃ হে আল্লাহ! আবূ জাহালকে ধ্বংস করুন এবং উতবাহ ইবন রবীআহ, শায়বাহ ইবন রবীআ, ওয়ালীদ ইবন উতবাহ, উমাইয়াহ ইবন খালাফ ও উকবাহ ইবন আবী মু'আইতকে ধ্বংস করুন। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম ব্যক্তির নামও বলেছিলেন কিন্তু তিনি স্মরণ রাখতে পারেননি। ইবন মাসঊদ বলেনঃ সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যাদের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, তাদের আমি বাদারের কূপের মধ্যে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একদা তার কাপড়ে থুথু ফেললেন। ইমাম বুখারী বলেন যে, ইবন আবূ মারইয়াম এ হাদীসটি বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে সকল পানীয় নেশা সৃষ্টি করে, তা হারাম।
আবূ হাযিম বলেন যে, যখন আমার এবং সাহল ইবন সাদ আস-সাঈদী-র মাঝখানে কেউ ছিল না, তখন লোকে তার নিকট আরয করলঃ (উহুদ যুদ্ধে) কী দিয়ে নবী (ﷺ) এর যখমের চিকিৎসা করা হয়েছিল? তখন তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক জানে এমন কেউ জীবিত নেই। আলী তার ঢালে করে পানি আনছিলেন আর ফাতিমা্ তার মুখমন্ডল হতে রক্ত ধুয়ে দিলেন। অবশেষে চাটাই পুড়িয়ে (তার ছাই) তার ক্ষতস্থানে দেয়া হল।
আবূ বুরদাহ-র পিতা আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি নবী (ﷺ) -এর নিকট এলাম। তখন তাকে দেখলাম তিনি মিসওয়াক করছেন এবং মিসওয়াক মুখে দিয়ে তিনি উ' উ' শব্দ করছেন যেন তিনি বমি করছেন।
হুযায়ফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন রাতে (সালাতের জন্য) উঠতেন তখন মিসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতেন।
ইবন উমার হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি (স্বপ্নে) দেখলাম যে, আমি মিসওয়াক করছি। আমার নিকট দু' ব্যক্তি এলেন। একজন অপরজন হতে বয়সে বড়। অতঃপর আমি তাদের মধ্যে কনিষ্ঠ ব্যক্তিকে মিসওয়াক দিতে গেলে আমাকে বলা হলো, 'বড়কে দাও'। তখন আমি তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে দিলাম।
বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন সালাতের উযূর মতো উযূ করে নেবে। তারপর ডান পাশে শুয়ে বলবেঃ "হে আল্লাহ! আমার জীবন আপনার নিকট সমর্পণ করলাম। আমার সকল কাজ তোমার নিকট অর্পণ করলাম এবং আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করলাম তোমার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন আশ্রয়স্থল ও পরিত্রাণের স্থান নেই। হে আল্লাহ! আমি ঈমান আনলাম তোমার অবতীর্ণ কিতাবের উপর এবং তোমার প্রেরিত নবীর প্রতি।" অতঃপর যদি সে রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ইসলামের উপর তোমার মৃত্যু হবে। এ কথাগুলো তোমার সর্বশেষ কথায় পরিণত কর। তিনি বলেন, 'আমি নবী (ﷺ) -কে এ কথাগুলো পুনরায় শুনালাম। আমি নবী (ﷺ) -এর সামনে এটি পুনরাবৃত্তি করলাম এবং যখন পৌছলাম 'আল্লাহুম্মা আমানতু বিকিতাবিকা-ল-লাদী আনজালতা (হে আল্লাহ আমি আপনার কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যা আপনি অবতীর্ণ করেছেন)' তখন তিনি বললেনঃ না; বরং ওয়ানাবিয়িকা-ল-লাদী আরসালতা (আপনার নবী যাকে আপনি পাঠিয়েছেন) বল।