bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

নামাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (১১৯৮-১২২৩)

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি তার খালা মুমিনদের মা মাইমূনাহ-এর ঘরে রাত কাটালেন। তিনি বলেন, আমি বালিশের প্রস্থের দিকে শুয়ে পড়লাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এবং তার সহধর্মিণী বালিশের দৈর্ঘ্যে শয়ন করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মধ্যরাত বা তার কিছু আগ বা পর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জেগে উঠে বসলেন এবং দু'হাতে মুখমন্ডল মুছে ঘুমের রেশ দূর করলেন। অতঃপর তিনি সূরাহ ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। পরে একটি ঝুলন্ত মশ্কের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং এর পানি দ্বারা উত্তমরূপে উযূ করে সালাতে দাড়িয়ে গেলেন। আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস বলেন, আমিও উঠে পড়লাম এবং তিনি যেমন করেছিলেন, আমিও তেমন করলাম। অতঃপর আমি গিয়ে তার পাশে দাড়ালাম। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার ডান হাত আমার মাথার উপরে রেখে আমার ডান কানে মোচড়াতে লাগলেন (এবং আমাকে তার পিছন হতে ঘুরিয়ে এনে তার ডানপাশে দাড় করিয়ে দিলেন)। তিনি তখন দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর দু'রাকাত, অতঃপর দু'রাকাত, অতঃপর দু'রাকাত, অতঃপর দু'রাকাত, অতঃপর (দু'রাকাতের সাথে আর এক রাকাত দ্বারা বেজোড় করে) বিতর আদায় করে শুয়ে পড়লেন। শেষে (ফজরের জামা'আতের জন্য) মুআয্যিন এলেন। তিনি দাড়িয়ে সংক্ষিপ্ত (কিরাআতে) দু'রাকাত (ফজরের সুন্নাত) আদায় করলেন। অতঃপর বেরিয়ে গেলেন এবং ফাযরের সালাত আদায় করলেন।

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -কে তার সালাতরত অবস্থায় সালাম করতাম; তিনি আমাদের সালামের জওয়াব দিতেন। পরে যখন আমরা নাজাশীর নিকট হতে ফিরে এলাম, তখন তাকে (সালাতে) সালাম করলে তিনি আমাদের সালামের জবাব দিলেন না এবং পরে ইরশাদ করলেনঃ সালাতে আছে নিমগ্নতা।

যায়দ ইবন আরক্বাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর সময়ে সালাতের মধ্যে কথা বলতাম। আমাদের যে কেউ তার সঙ্গীর সাথে নিজ দরকারী বিষয়ে কথা বলত। অবশেষে এ আয়াত নাযিল হল- "তোমরা তোমাদের সালাতসমূহের সংরক্ষণ কর ও নিয়ানুমবর্তিতা রক্ষা কর; বিশেষ মধ্যবর্তী (আসর) সালাতে, আর তোমরা (সালাতে) আল্লাহর উদ্দেশে একাগ্রচিত্ত হও"- (বাক্বারাহ্ ২/২৩৮)। অতঃপর আমরা সালাতে নীরব থাকতে আদেশপ্রাপ্ত হলাম।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বনূ আমর ইবন আওফের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়ার উদ্দেশে বের হলেন, ইতোমধ্যে সালাতের সময় উপস্থিত হল। তখন বিলাল আবূ বাকর-এর নিকট এসে বললেন, নবী (ﷺ) কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আপনি লোকদের সালাতে ইমামাত করবেন? তিনি বললেন, হা, যদি তোমরা চাও। তখন বিলাল সালাতের ইকামত বললেন, আবূ বাকর সামনে এগিয়ে গিয়ে সালাত শুরু করলেন। ইতোমধ্যে নবী (ﷺ) আসলেন এবং কাতার ফাক করে সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রথম কাতারে দাড়ালেন। মুসল্লীগণ 'তাসফীহ্' করতে লাগলেন। সাহল বললেন, তাসফীহ্ কী তা তোমরা জান? তা হল 'তাস্ফীক' (তালি বাজান) আবূ বাকর সালাতে এদিক সেদিক লক্ষ্য করতেন না। মুসল্লীগণ অধিক তালি বাজালে তিনি সে দিকে লক্ষ্য করলে নবী (ﷺ) -কে কাতারে দেখতে পেলেন। তখন নবী (ﷺ) তাকে ইঙ্গিত করলেন- যথাস্থানে থাক। আবূ বাকর তখন দু'হাত তুলে আল্লাহ তাআলার হাম্দ বর্ণনা করলেন এবং পিছু হেটে চলে এলেন। নবী (ﷺ) সামনে এগিয়ে গিয়ে সালাত আদায় করলেন।

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাতের (বৈঠকে) আত্তাহিয়্যাতু.....বলতাম, তখন আমাদের একে অপরকে সালামও করতাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তা শুনে ইরশাদ করলেনঃ তোমরা বলবে- "যাবতীয় মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহরই জন্য। হে (মহান) নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত (বর্ষিত)- হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর সালিহ্ বান্দাদের প্রতি; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন প্রকৃত ইলাহ নেই। এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তার বান্দা ও রাসূল।" কেননা, তোমরা এরূপ করলে আসমান ও যমীনে আল্লাহর সকল নেক বান্দাকে তোমরা যেন সালাম করলে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ (ইমামের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য) পুরুষদের বেলায় তাসবীহ সুবহানাল্লাহ্ বলা। তবে মহিলাদের বেলায় 'তাসফীক' (এক হাতের তালু দিয়ে অন্য হাতের তালুতে মারা)।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতে (লোকমা দেয়ার জন্য) পুরুষদের জন্য 'তাসবীহ' আর মহিলাদের জন্য তাসফীক।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত; মুসলিমগণ সোমবার (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর ওফাতের দিন) ফজরের সালাতে ছিলেন, আবূ বাকর তাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। নবী (ﷺ) আয়িশাহ-এর হুজরার পর্দা সরিয়ে তাদের দিকে তাকালেন। তখন তারা সারিবদ্ধ ছিলেন। তা দেখে তিনি মৃদু হাসলেন। তখন আবূ বাকর তার গোড়ালির উপর ভর দিয়ে পিছে সরে আসলেন। তিনি ধারণা করলেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাতের জন্য আসার ইচ্ছা করছেন। নবী (ﷺ) -কে দেখার আনন্দে মুসলিমগণের সালাত ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন তিনি সালাত সুসম্পন্ন করার জন্য তাদের দিকে হাতে ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর তিনি হুজরায় প্রবেশ করেন এবং পর্দা ছেড়ে দেন আর সে দিনই তার মৃত্যু হয়।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ এক মহিলা তার ছেলেকে ডাকল। তখন তার ছেলে গীর্জায় ছিল। বলল, হে জুরায়জ! ছেলে মনে মনে বলল, হে আল্লাহ! (এক দিকে) আমার মা (এর ডাক) আর (অন্য দিকে) আমার সালাত! মা আবার ডাকলেন, হে জুরাইজ! ছেলে বলল, হে আল্লাহ! আমার মা আর আমার সালাত! মা আবার ডাকলেন, হে জুরায়জ! ছেলে বলল, হে আল্লাহ! আমার মা ও আমার সালাত। মা বললেন, হে আল্লাহ! পতিতাদের সামনে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত যেন জুরায়জের মৃত্যু না হয়। এক রাখালিনী যে বকরী চরাতো, সে জুরায়জের গীর্জায় আসা যাওয়া করত। সে একটি সন্তান প্রসব করল। তাকে জিজ্ঞেস করা হল- এ সন্তান কার ঔরসজাত? সে জবাব দিল, জুরায়জের ঔরসের। জুরায়জ তার গীর্জা হতে নেমে এসে জিজ্ঞেস করলো, কোথায় সে মেয়েটি, যে বলে যে, তার সন্তানটি আমার? (সন্তানসহ মেয়েটিকে উপস্থিত করা হলে) জুরায়জ বলেন, হে বাবূস! তোমার পিতা কে? সে বলল, বকরীর অমুক রাখাল।

মু'আইকিব হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) সে ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, যে সিজদার স্থান হতে মাটি সমান করে। তিনি বলেন, যদি তোমার একান্তই করতে হয়, তবে একবার।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমের মধ্যে আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ মাটিতে তার চেহারা (কপাল) স্থির রাখতে সক্ষম না হলে সে তার কাপড় বিছিয়ে তার উপর সিজদা করত।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সালাত আদায়কালে আমি তার কিবলার দিকে পা ছড়িয়ে রাখতাম; তিনি সিজদা করার সময় আমাকে খোচা দিলে আমি পা সরিয়ে নিতাম; তিনি দাড়িয়ে গেলে আবার পা ছড়িয়ে দিতাম।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) একবার সালাত আদায় করার পর বললেনঃ শয়তান আমার সামনে এসে আমার সালাত বিনষ্ট করার জন্য আমার উপর আক্রমণ করল। তখন আল্লাহ আমাকে তার উপর ক্ষমতা দান করলেন, আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরলাম। আমার ইচ্ছা হয়েছিল, তাকে কোন স্তম্ভের সাথে বেধে রাখি। যাতে তোমরা সকাল বেলা উঠে তাকে দেখতে পাও। তখন সুলাইমান 'আলাইহিস সালাম-এর এ দোয়া আমার মনে পড়ে গেল, "হে রব! আমাকে এমন এক রাজ্য দান করুন যার অধিকারী আমার পরে আর কেউ না হয়"। তখন আল্লাহ তাকে (শয়তানকে) অপমানিত করে দূর করে দিলেন।

আযরাক্ব ইবন ক্বায়স হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আহওয়ায শহরে হারুরী (খারিজী) সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিলাম। যখন আমরা নহরের তীরে ছিলাম তখন সেখানে এক ব্যক্তি এসে সালাত আদায় করতে লাগল আর তার বাহনের লাগাম তার হাতে আছে। বাহনটি (ছুটে যাওয়ার জন্য) টানাটানি করতে লাগল, তিনিও তার অনুসরণ করতে লাগলেন। রাবী শুবাহ বলেন, তিনি ছিলেন আবূ বারযাহ আসলামী। এ অবস্থা দেখে এক খারিজী বলে উঠলো, ইয়া আল্লাহ! এ বৃদ্ধকে কিছু করুন। বৃদ্ধ সালাত শেষ করে বললেন- আমি তোমাদের কথা শুনেছি। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে ছয়, সাত কিংবা আট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং আমি তার সহজীকরণ লক্ষ্য করেছি। আমার বাহনটির সাথে আগপিছ হওয়া বাহনটিকে তার চারণ ভূমিতে ছেড়ে দেয়ার চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা, তা আমার জন্য কষ্টদায়ক হবে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হলো। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (সালাতে) দাড়ালেন এবং দীর্ঘ সূরাহ্ পাঠ করলেন, অতঃপর রুকূ করলেন, আর তা দীর্ঘ করলেন। অতঃপর রুকূ হতে মাথা তুলেন এবং অন্য একটি সূরাহ্ পাঠ করতে শুরু করলেন। পরে রুকূ সমাপ্ত করে সিজদা করলেন। দ্বিতীয় রাকা'আতেও এরূপ করলেন। অতঃপর বললেনঃ এ দু'টি (চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ) আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। তোমরা তা দেখলে গ্রহণ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে। আমি আমার এ স্থানে দাড়িয়ে, আমাকে যা ওয়াদা করা হয়েছে তা সবই দেখতে পেয়েছি। এমনকি যখন তোমরা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে দেখেছিলে তখন আমি দেখলাম যে, জান্নাতের একটি (আঙ্গুর) গুচ্ছ নেয়ার ইচ্ছা করছি এবং জাহান্নামে দেখতে পেলাম যে, তার একাংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলছে। আর যখন তোমরা আমাকে পিছনে সরে আসতে দেখেছিলে আমি দেখলাম সেখানে আমর ইবন লুহাইকে যে সায়িবাহ প্রথা প্রবর্তন করেছিল।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মসজিদের কিবলার দিকে নাকের শ্লেষ্মা দেখতে পেয়ে মসজিদের লোকদের উপর রাগান্বিত হলেন এবং বললেনঃ আল্লাহ তোমাদের প্রত্যেকের সামনে রয়েছেন, কাজেই তোমাদের কেউ সালাতে থাকাকালে থুথু ফেলবে না বা বর্ণনাকারী বলেছেন, নাক ঝাড়বে না। এ কথা বলার পর তিনি (মিম্বার হতে) নেমে এসে নিজের হাতে তা ঘষে ঘষে পরিষ্কার করলেন এবং ইবন উমার বলেন, তোমাদের কেউ যখন থুথু ফেলে তখন সে যেন তার বা দিকে ফেলে।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে, তখন তো সে তার রবের সাথে নিবিড় আলাপে মশগুল থাকে। কাজেই সে যেন তার সামনে বা ডানে থু থু না ফেলে; তবে (প্রয়োজনে) বা দিকে বা পায়ের নীচে ফেলবে।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন এবং তারা তাদের লুঙ্গি ছোট হবার কারণে ঘাড়ের সাথে বেধে রাখতেন। তাই মহিলাগণকে বলা হল, পুরুষগণ সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত তোমরা (সাজ্দাহ হতে) মাথা তুলবে না।

আবদুল্লাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে তার সালাতে সালাম করতাম। তিনি আমাকে সালামের জবাব দিতেন। আমরা (আবিসিনিয়া হতে) ফিরে এসে তাকে (সালাতে) সালাম করলাম। তিনি জওয়াব দিলেন না এবং পরে বললেনঃ সালাতে আছে নিমগ্নতা।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে তার একটি কাজে পাঠালেন, আমি গেলাম এবং কাজটি সেরে ফিরে এলাম। অতঃপর নবী (ﷺ) -কে সালাম করলাম। তিনি জওয়াব দিলেন না। এতে আমার মনে এমন খটকা লাগল যা আল্লাহই ভাল জানেন। আমি মনে মনে বললাম, সম্ভবত আমি বিলম্বে আসার কারণে নবী (ﷺ) আমার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আবার আমি তাকে সালাম করলাম; তিনি জওয়াব দিলেন না। ফলে আমার মনে প্রথম বারের চেয়েও অধিক খটকা লাগল। (সালাত শেষে) আবার আমি তাকে সালাম করলাম এবার তিনি সালামের জওয়াব দিলেন এবং বললেনঃ সালাতে ছিলাম বলে তোমার সালামের জওয়াব দিতে পারিনি। তিনি তখন তার বাহনের পিঠে কিবলা হতে অন্যমুখে ছিলেন।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট এ সংবাদ পৌছল যে, কুবায় বনূ আমর ইবন আওফ গোত্রে কোন ব্যাপার ঘটেছে। তাদের মধ্যে মীমাংসার উদ্দেশে তিনি কয়েকজন সাহাবীসহ বেরিয়ে গেলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সেখানে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েন। ইতোমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেল। বিলাল আবূ বাকর-এর নিকট এসে বললেন, হে আবূ বাকর! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কর্মব্যস্ত রয়েছেন। এদিকে সালাতের সময় উপস্থিত। আপনি কি লোকদের ইমামাত করবেন? তিনি বললেন, হা, যদি তুমি চাও। তখন বিলাল সালাতের ইকামত বললেন এবং আবূ বাকর এগিয়ে গেলেন এবং তাকবীর বললেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আনলেন এবং কাতার ফাক করে সামনে এগিয়ে গিয়ে কাতারে দাড়ালেন। মুসল্লীগণ তখন তাস্ফীহ্ করতে লাগলেন। সাহল বলেন, তাসফীহ্ মানে তাস্ফীক (হাতে তালি দেয়া) তিনি আরো বললেন, আবূ বাকর সালাতে এদিক সেদিক তাকাতেন না। মুসল্লীগণ অধিক (তালি দেয়া) করবে, তিনি লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে দেখতে পেলেন। তিনি তাকে ইঙ্গিতে সালাত আদায় করার আদেশ দিলেন। তখন আবূ বাকর তার দু'হাত তুললেন এবং আল্লাহর হাম্দ বর্ণনা করলেন। অতঃপর পিছু হেটে পিছনে চলে এসে কাতারে দাড়ালেন। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সামনে এগিয়ে গেলেন এবং মুসল্লীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি মুসল্লীগণের দিকে মুখ করে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের কী হয়েছে? সালাতে কোন ব্যাপার ঘটলে তোমরা হাত চাপড়াতে শুরু কর কেন? হাত চাপড়ানো তো মেয়েদের জন্য। সালাতে আদায়রত অবস্থায় কারো কিছু ঘটলে পুরুষরা সুব্হানাল্লাহ্ বলবে। অতঃপর তিনি আবূ বাকর-এর দিকে লক্ষ্য করে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ বাকর! তোমাকে আমি ইঙ্গিত করা সত্ত্বেও কিসে তোমাকে সালাত আদায়ে বাধা দিল? আবূ বাকর বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সামনে দাড়িয়ে সালাত আদায় করা ইবন আবূ কুহাফার জন্য সমীচীন নয়।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে কোমরে হাত রাখা নিষেধ করা হয়েছে। হিশাম ও আবূ হিলাল ইবন সীরীন-এর মাধ্যমে আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোমরে হাত রেখে সালাত আদায় করতে লোকেদের নিষেধ করা হয়েছে।

ঊকবাহ ইবন হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে আসরের সালাত আদায় করলাম। সালাম করেই তিনি দ্রুত উঠে তার কোন এক সহধর্মিণীর নিকট গেলেন, অতঃপর বেরিয়ে এলেন। তার দ্রুত যাওয়া আসার ফলে (উপস্থিত) সাহাবীগণের চেহারায় বিস্ময়ের আভাস দেখে তিনি বললেনঃ সালাতে আমার নিকট রাখা একটি সোনার টুকরার কথা আমার মনে পড়ে গেল। সন্ধ্যায় বা রাতে তা আমার নিকট থাকবে আমি এটা অপছন্দ করলাম। তাই, তা বণ্টন করে দেয়ার নির্দেশ দিলাম।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেনঃ সালাতের আযান হলে শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে সে আযান শুনতে না পায়। তখন তার পশ্চাদ-বায়ু নিঃসরণ হতে থাকে। মুআয্যিন আযান শেষে নীরব হলে সে আবার এগিয়ে আসে। আবার ইকামত বলা হলে পালিয়ে যায়। মুআয্যিন ইকামত শেষ করলে এগিয়ে আসে। তখন সে মুসল্লীকে বলতে থাকে, (ওটা) স্মরণ কর, যে বিষয় তার স্মরণে ছিল না। শেষ পর্যন্ত কত রাকাত সালাত আদায় করল তা মনে করতে পারে না। আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান বলেছেন, তোমাদের কেউ এরূপ অবস্থায় পড়লে (শেষ বৈঠকে) বসা অবস্থায় যেন দু'টি সিজদা করে। এ কথা আবূ সালামাহ আবূ হুরাইরাহ্ হতে শুনেছেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকে বলে আবূ হুরাইরাহ্ অধিক হাদীস বর্ণনা করেছে। এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হলে আমি জিজ্ঞেস করলাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) গতরাতে ইশার সালাতে কোন সূরাহ্ পড়েছেন? লোকটি বলল, আমি জানি না। আমি বললাম, কেন, তুমি কি সে সালাতে উপস্থিত ছিলে না? সে বলল, হা, ছিলাম। আমি বললাম, আমি কিন্তু জানি তিনি অমুক অমুক সূরাহ্ পড়েছেন।