bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

অনুমতি প্রার্থনা (৬২২৭-৬৩০৩)

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা আদম-কে তার যথাযোগ্য গঠনে সৃষ্টি করেছেন, তার উচ্চতা ছিল ষাট হাত। তিনি তাকে সৃষ্টি করে বললেনঃ তুমি যাও। উপবিষ্ট ফেরেশতাদের এই দলকে সালাম করো এবং তুমি মনোযোগ সহকারে শোনবে তারা তোমার সালামের কী জবাব দেয়? কারণ এটাই হবে তোমার ও তোমার বংশধরের সম্ভাষণ (তাহিয়্যা)। তাই তিনি গিয়ে বললেনঃ 'আসসালামু 'আলাইকুম'। তারা জবাবে বললেনঃ 'আসসালামু 'আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ'। তারা বাড়িয়ে বললেনঃ 'ওয়া রহমাতুল্লাহ' বাক্যটি। তারপর নবী (ﷺ) আরও বললেনঃ যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা আদম-এর আকৃতি বিশিষ্ট হবে। তারপর থেকে এ পর্যন্ত মানুষের আকৃতি ক্রমশঃ কমে আসছে।

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কুরবানীর দিনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাযল ইবন আব্বাস-কে আপন সওয়ারীর পিঠে নিজের পেছনে বসালেন। ফাযল একজন সুপুরুষ ছিলেন। নবী (ﷺ) লোকেদের মাসআলা মাসায়িল বলে দেয়ার জন্য আসলেন। এ সময় খাশ'আম গোত্রের এক সুন্দরী নারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট একটা মাসআলা জিজ্ঞেস করার জন্য আসল। তখন ফাযল তার দিকে তাকাতে লাগলেন। মহিলাটির সৌন্দর্য তাকে আকৃষ্ট করল। নবী (ﷺ) ফাযল এর দিকে ফিরে দেখলেন যে, ফাযল তার দিকে তাকাচ্ছেন। তিনি নিজের হাত পেছনের দিকে নিয়ে ফাযল এর চিবুক ধরে ঐ নারীর দিকে না তাকানোর জন্য তার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন। এরপর স্ত্রীলোকটি জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তার বান্দাদের উপর যে হাজ্জ ফরজ হবার বিধান দেয়া হয়েছে, আমার পিতার উপর তা এমন অবস্থায় এসেছে যে, বৃদ্ধ হবার কারণে সওয়ারীর উপর বসতে তিনি অক্ষম। যদি আমি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ আদায় করে নেই, তবে কি তার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে? তিনি বললেনঃ হা।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, একবার নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাকো। তারা বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের রাস্তায় বসা ব্যতীত গত্যন্তর নেই, আমরা সেখানে কথাবার্তা বলি। তখন তিনি বললেন, যদি তোমাদের রাস্তায় মজলিস করা ব্যতীত উপায় না থাকে, তবে তোমরা রাস্তার হক আদায় করবে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তার হক কী? তিনি বললেন, তা হলো চোখ অবনত রাখা, কাউকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা। সালামের জবাব দেয়া এবং সৎকাজের নির্দেশ দেয়া আর অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম, তখন আমরা আল্লাহর প্রতি তার বান্দাদের পক্ষ থেকে সালাম, জিবরীল -এর প্রতি সালাম, মীকাঈল-এর প্রতি সালাম এবং অমুকের প্রতি সালাম দিলাম। নবী (ﷺ) সালাত শেষ করে, আমাদের দিকে তার চেহারা ফিরিয়ে বললেনঃ আল্লাহ তাআলা নিজেই 'সালাম'। অতএব যখন তোমাদের কেউ সালাতের মধ্যে বসবে, তখন বলবেঃ "আত-তাহিয়াতু-লি-লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু, ওয়াত-তাইয়্যিবাতু, আস-সালামু আলাইকা আইয়্যুহান- নাবিয়্যু ওয়া রাহ-মাতুল-ইয়াহি ওয়া বারাকাতুহু, আস-সালামু 'আলাইনা ওয়া 'আলা' ইবাদিল্লাহি আস্সালিহিন"। মুসল্লী যখন এ কথাটা বলবে, তখনই আসমান যমীনে সব নেক বান্দাদের নিকট এ সালাম পৌছে যাবে। তারপর বলবে: "আশ-হাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ-হাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসুলু-হু"। তারপর সে তার পছন্দমত দোয়া বেছে নেবে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বয়োকনিষ্ঠ বয়োজ্যেষ্ঠকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আরোহী পদচারীকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আরোহী পদচারীকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বয়োকনিষ্ঠ বয়োজ্যেষ্ঠকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে।

বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সাতটি কাজেরঃ রোগীর খোজ-খবর নেয়া, জানাযার সঙ্গে যাওয়া, হাচি দাতার জন্য দোয়া করা, দুর্বলকে সাহায্য করা, মাযলূমের সাহায্য করা, সালাম প্রসার করা এবং কসমকারীর কসম পূর্ণ করা। আর নিষেধ করেছেন (সাতটি কাজ থেকে) রূপার পাত্রে পানাহার, স্বর্ণের আংটি পরিধান, রেশমী যিনের উপর সাওয়ার হওয়া, মিহিন রেশমী বস্ত্র পরিধান, পাতলা রেশম বস্ত্র ব্যবহার, রেশম মিশ্রিত কাতান বস্ত্র পরিধান এবং গাঢ় রেশমী বস্ত্র পরিধান করা।

আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত। এক লোক নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলঃ ইসলামের কোন কাজ উত্তম? তিনি বললেনঃ তুমি ক্ষুধার্তকে অন্ন দেবে, আর সালাম দিবে যাকে তুমি চেন আর যাকে চেন না।

আবূ আইউব হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলিমের পক্ষে তার কোন ভাইয়ের সাথে তিন দিনের অধিক এমনভাবে সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা বৈধ নয় যে, তাদের দু'জনের দেখা সাক্ষাৎ হলেও একজন এদিকে, আরেকজন অন্যদিকে চেহারা ঘুরিয়ে নেয়। তাদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি যে প্রথম সালাম করবে।

আনাস ইবন মালিক বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মদিনায় আসলেন, তখন তার (বর্ণনাকারীর) বয়স ছিল দশ বছর। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবনের দশটি বছর আমি তার খিদমত করি। আর পর্দার বিধান ব্যাপারে আমি সব চেয়ে অধিক অবগত ছিলাম, যখন তা অবতীর্ণ হয়। উবাই ইবন কা'ব প্রায়ই আমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। যাইনাব বিনত জাহশ এর সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাসরের দিনে প্রথম পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়। নবী (ﷺ) নতুন দুলহা হিসেবে সে দিন লোকেদের দাওয়াত করেন এবং এরপর অনেকেই দাওয়াত খেয়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু কয়েকজন তার কাছে রয়ে যান এবং তাদের অবস্থান দীর্ঘায়িত করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে দাড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান এবং আমিও তার সঙ্গে যাই, যাতে তারা বের হয়ে যায়। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চলেন এবং আমিও তার সঙ্গে চলি। এমনকি তিনি আয়িশাহ এর ঘরের দরজায় এসে পৌছেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভাবলেন যে, নিশ্চই তারা বেরিয়ে গেছে। তখন তিনি ফিরে আসেন আর তার সঙ্গে আমিও ফিরে আসি। তিনি যাইনাব এর ঘরে প্রবেশ করে দেখেন যে, তারা তখনও বসেই আছে, চলে যায়নি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে গেলেন এবং আমিও তার সঙ্গে ফিরে গেলাম। এমনকি তিনি আয়িশাহ এর দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত এসে পৌছেন। এরপর তিনি ভাবলেন যে, এখন তারা অবশ্যই বেরিয়ে গেছে। তাই তিনি ফিরে এসে দেখেন যে, তারা বেরিয়ে গেছে। এ সময় পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং তিনি তার ও আমার মধ্যে পর্দা টেনে দেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) যাইনাব-কে বিয়ে করলেন, তখন একদল (মেহমান) তার ঘরে এসে খাওয়া-দাওয়া করলেন। এরপর তারা ঘরে বসেই আলাপ-আলোচনা করতে লাগলেন। তিনি দাড়ালে কিছু লোক উঠে বেরিয়ে গেলেন। কিন্তু অবশিষ্ট কিছু লোক বসেই থাকলেন। নবী (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করার জন্য ফিরে এসে দেখলেন যে, তারা বসেই আছেন। কিছুক্ষণ পরে তারা উঠে চলে গেলেন। তারপর আমি নবী (ﷺ)-কে ওদের চলে যাবার খবর দিলে তিনি এসে প্রবেশ করলেন। তখন আমি ভেতরে যাওয়ার ইচ্ছে করলে তিনি আমার ও তার মাঝখানে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। এ সময় আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ "হে ঈমানদারগণ! তোমরা নবীর ঘরগুলোতে প্রবেশ করো না।".. শেষ পর্যন্ত। (আল-আহযাবঃ ৫৩)

নবী (ﷺ) -এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, উমার ইবন খাত্তাব নবী (ﷺ) -এর নিকট প্রায়ই বলতেন যে, আপনি আপনার স্ত্রীদের পর্দা করান। কিন্তু তিনি তা করেননি। নবী (ﷺ) -এর স্ত্রীগণ প্রাকৃতিক প্রয়োজনে রাতে মাঠের দিকে বাইরে যেতেন। একবার সাওদাহ বিন্ত যাম'আহ বেরিয়ে গেলেন। তিনি ছিলেন দীর্ঘাঙ্গী মহিলা। উমার মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তাই তিনি পর্দার নির্দেশ অবতীর্ণ হবার আগ্রহে বললেনঃ ওহে সাওদাহ! আমি আপনাকে চিনে ফেলেছি। তখন আল্লাহ তাআলা পর্দার আয়াত নাযিল করলেন।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার এক লোক নবী (ﷺ) এর কোন এক হুজরায় উকি দিয়ে তাকালো। তখন নবী (ﷺ) এর কাছে একটা 'মিদরা' ছিল, যা দিয়ে তিনি তার মাথা চুলকাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ যদি আমি জানতাম যে, তুমি উকি দিবে, তবে এ দিয়ে তোমার চোখ ফুড়ে দিতাম। তাকানোর জন্য অনুমতি গ্রহণের বিধান দেয়া হয়েছে।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, একবার জনৈক লোক নবী (ﷺ) এর এক কক্ষে উকি দিল। তখন তিনি একটা তীর ফলক কিংবা তীর ফলকসমূহ নিয়ে তার দিকে দৌড়ালেন। আনাস বলেনঃ তা যেন আমি এখনও দেখছি। তিনি ঐ লোকটির চোখ ফুড়ে দেয়ার জন্য তাকে খুজছিলেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চই আল্লাহ তাআলা বানী আদমের জন্য যিনার একটা অংশ নির্ধারিত রেখেছেন। সে তাতে অবশ্যই জড়িত হবে। চোখের যিনা হলো দেখা, জিহবার যিনা হলো কথা বলা, কুপ্রবৃত্তি কামনা ও খাহেশ সৃষ্টি করা এবং যৌনাঙ্গ তা সত্য অথবা মিথ্যা প্রমাণ করে।

আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যখন সালাম করতেন, তখন তিনবার সালাম দিতেন এবং যখন কথা বলতেন তখন তিনবার তার পুনরাবৃত্তি করতেন।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি আনসারদের এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় হঠাৎ আবূ মূসা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে এসে বললেনঃ আমি তিনবার উমার এর নিকট অনুমতি চাইলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হলো না। তাই আমি ফিরে এলাম। উমার তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে কিসে বাধা দিল? আমি বললামঃ আমি প্রবেশের জন্য তিনবার অনুমতি চাইলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হলো না। তাই আমি ফিরে এলাম। (কারণ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি তোমাদের কেউ তিনবার প্রবেশের অনুমতি চায়। কিন্তু তাতে অনুমতি দেয়া না হয় তবে সে যেন ফিরে যায়। তখন উমার বললেনঃ আল্লাহর কসম! তোমাকে এ কথার উপর অবশ্যই প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি সবাইকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাদের মাঝে কেউ আছে কি যিনি নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীস শুনেছে? তখন উবাই ইবন কা'ব বললেনঃ আল্লাহর কসম! আপনার কাছে প্রমাণ দিতে দলের সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিই উঠে দাড়াবে। আর আমি দলের সর্বকনিষ্ঠ ছিলাম। সুতরাং আমি তার সঙ্গে উঠে দাড়িয়ে বললামঃ নবী (ﷺ) অবশ্যই এ কথা বলেছেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে তার ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি ঘরে গিয়ে একটি পেয়ালায় দুধ পেলেন। তিনি আমাকে বললেনঃ হে আবূ হির! তুমি আহলে সুফফার নিকট গিয়ে তাদের আমার নিকট ডেকে আন। তখন আমি তাদের কাছে গিয়ে দাওয়াত দিয়ে এলাম। তারপর তারা এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তাদের অনুমতি দেয়া হলো। তারপর তারা প্রবেশ করল।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, একবার তিনি একদল শিশুর পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করা কালে তিনি তাদের সালাম করে বললেন যে, নবী (ﷺ)-ও তা করতেন।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জুমুআহর দিনে খুশি হতাম। রাবী বলেন, আমি তাকে বললামঃ কেন? তিনি বললেনঃ আমাদের একজন বৃদ্ধা মহিলা ছিল। সে কোন লোককে 'বুদাআ' নামক খেজুর বাগানে পাঠিয়ে বীট চিনির শিকড় আনতো। তা একটি হাড়িতে দিয়ে সে তাতে কিছুটা যবের দানা দিয়ে ঘুঁটে এক রকম খাবার তৈরী করত। এরপর আমরা যখন জুমুআহর সালাত আদায় করে ফিরতাম, তখন আমরা ঐ মহিলাকে সালাম দিতাম। তখন সে আমাদের ঐ খাবার পরিবেশন করত। আমরা এজন্য খুশী হতাম। আমাদের নিয়ম ছিল যে, আমরা জুমুআহর পরেই মধ্যাহ্ন ভোজন ও মধ্যাহ্ন বিশ্রাম করতাম।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আয়িশাহ! ইনি জিবরীল তোমাকে সালাম দিচ্ছেন। তখন আমিও বললামঃ ওয়া আলাইহিস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উদ্দেশে বললেনঃ আমরা যা দেখছি না, তা আপনি দেখছেন।

জাবির বলেন, আমার পিতার কিছু ঋণ ছিল। এ সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য আমি নবী (ﷺ) এর কাছে এলাম এবং দরজায় আঘাত করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কে? আমি বললামঃ আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি আমি, যেন তিনি তা অপছন্দ করলেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদের একপার্শ্বে উপবিষ্ট ছিলেন। সে সালাত আদায় করে এসে তাকে সালাম করল। নবী (ﷺ) বললেনঃ ওয়া আলাইকাস সালাম; তুমি ফিরে যাও এবং সালাত আদায় কর। কারণ তুমি সালাত আদায় করনি। সে ফিরে গিয়ে সালাত আদায় করে এসে আবার সালাম করল। তিনি বললেনঃ ওয়া আলাইকাস্ সালাম; তুমি ফিরে যাও এবং সালাত আদায় কর। কারণ তুমি সালাত আদায় করনি। সে ফিরে গিয়ে সালাত আদায় করে তাকে সালাম করল। তখন সে দ্বিতীয় বারে অথবা তার পরের বারে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে সালাত শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ যখন তুমি সালাতে দাড়ানোর ইচ্ছে করবে, তখন প্রথমে তুমি যথানিয়মে অযূ করবে। তারপর কিব্লামুখী দাড়িয়ে তাকবীর বলবে। তারপর কুরআন থেকে যে অংশ তোমার পক্ষে সহজ হবে, তা তিলাওয়াত করবে। তারপর তুমি রুকূ করবে ধীরস্থিরভাবে। তারপর মাথা তুলে ঠিক সোজা হয়ে দাড়াবে। তারপর সিজদা করবে ধীরস্থিরভাবে। তারপর আবার মাথা তুলে বসবে ধীরস্থিরভাবে। তারপর ঠিক এভাবেই তোমার সালাতের যাবতীয় কাজ সমাধা করবে। আবূ উসামাহ বলেন, এমনকি শেষে তুমি সোজা হয়ে দন্ডায়মান হবে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তারপর উঠে বস ধীরস্থিরভাবে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ জিবরীল তোমাকে সালাম দিয়েছেন। তখন তিনি বললেনঃ ওয়া আলাইহিস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত যে, একবার নবী (ﷺ) এমন একটি গাধার উপর সাওয়ার হলেন, যার জ্বীনের নীচে ফাদাকের তৈরী একখানি চাদর ছিল। তিনি উসামাহ ইবন যায়দকে নিজের পেছনে বসিয়েছিলেন। তখন তিনি হারিস ইবন খাযরাজ গোত্রের সাদ ইবন উবাদাহ এর দেখাশোনার উদ্দেশে রওয়ানা হচ্ছিলেন। এটি ছিল বদর যুদ্ধের আগের ঘটনা। তিনি এমন এক মাজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যেখানে মুসলিম, প্রতিমাপূজক, মুশরিক ও ইয়াহূদী ছিল। তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালূলও ছিল। আর এ মাজলিসে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা-ও হাজির ছিলেন। যখন সাওয়ারীর পদাঘাতে বিক্ষিপ্ত ধূলাবালি মাজলিসকে ঢেকে ফেলছিল, তখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই তার চাদর দিয়ে তার নাক ঢাকল। তারপর বললঃ তোমরা আমাদের উপর ধূলাবালি উড়িয়ো না। তখন নবী (ﷺ) তাদের সালাম করলেন। তারপর এখানে থামলেন ও সাওয়ারী থেকে নেমে তাদের আল্লাহর প্রতি আহবান করলেন এবং তাদের কাছে কুরআন পাঠ করলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালূল বললঃ হে আগন্তুক! আপনার এ কথার চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই। তবে আপনি যা বলছেন, যদিও তা সত্য, তবুও আপনি আমাদের মাজলিসে এসব বলে আমাদের বিরক্ত করবেন না। আপনি আপনার নিজ বাসস্থানে ফিরে যান। এরপর আমাদের মধ্য হতে কোন লোক আপনার নিকট গেলে তাকে এসব কথা বলবেন। তখন ইবন রাওয়াহা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের মজলিসে আসবেন, আমরা এসব কথা পছন্দ করি। তখন মুসলিম, মুশরিক ও ইয়াহূদীদের মধ্যে পরস্পর গালাগালি শুরু হয়ে গেল। এমনকি তারা একে অন্যের উপর আক্রমণ করতে উদ্যত হল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিরস্ত করতে লাগলেন। শেষে তিনি তার সাওয়ারীতে উঠে রওয়ানা হলেন এবং সাদ ইবন উবাদাহর কাছে পৌছলেন। তারপর তিনি বললেন, হে সাদ! আবূ হুবাব আবদুল্লাহ ইবন উবাই কী বলেছে, তা কি তুমি শুনোনি? সাদ বললেনঃ সে এমন কথাবার্তা বলেছে। তিনি আরো বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাকে মাফ করে দিন। আর তার কথা ছেড়ে দিন। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তাআলা আপনাকে যে সব নিয়ামত দান করার ছিল তা সবই দান করেছেন। অন্যদিকে এ শহরের অধিবাসীরা তো পরামর্শ করে স্থির করেছিল যে, তারা তাকে রাজমুকুট পরাবে। আর তার শিরে রাজকীয় পাগড়ী বেধে দিবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আপনাকে যে দ্বীনে হক দান করেছেন, তা দিয়ে তিনি তাদের সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দিয়েছেন। ফলে সে (দুঃখের আগুনে) জ্বলছে। এজন্যই সে আপনার সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে, তা আপনি নিজেই দেখেছেন। তারপর নবী (ﷺ) তাকে মাফ করে দিলেন।

আবদুল্লাহ ইবন কা'ব বলেনঃ যখন কা'ব ইবন মালিক তাবূকের যুদ্ধে যোগদান না করে পিছনে রয়ে যান, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাথে সালাম কালাম করতে সকলকে নিষেধ করে দেন। (তখনকার ঘটনা) আমি কা'ব ইবন মালিক-কে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসতাম এবং তাকে সালাম করতাম আর মনে মনে বলতাম যে, আমার সালামের জবাবে তার ঠোঁট দু'টি নড়ছে কিনা। পঞ্চাশ দিন পূর্ণ হলে নবী (ﷺ) ফজরের সালাতের সময় ঘোষণা দিলেন যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের তওবা কবূল করেছেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার একদল ইয়াহূদী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললঃ আসসামু আলাইকা। (তোমার মরণ হোক)। আমি এ কথার অর্থ বুঝে বললামঃ আলাইকুমুস্ সামু ওয়াল লানাতু। (তোমাদের উপর মৃত্যু ও লানত)। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আয়িশাহ! তুমি থামো। আল্লাহ সর্ব হালতে নম্রতা পছন্দ করেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! তারা যা বললোঃ তা কি আপনি শুনেননি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ জন্যই আমিও বলেছি, ওয়া আলাইকুম (তোমাদের উপরও)।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বললেনঃ ইয়াহূদী যদি তোমাদের সালাম করে তবে তাদের কেউ অবশ্যই বলবেঃ আসসামু আলাইকা। তখন তোমরা উত্তরে বলবে 'ওয়াআলাইকা'।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন আহলে কিতাব তোমাদের সালাম দেয়, তখন তোমরা বলবে ওয়া আলাইকুম (তোমাদের উপরও)।

আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে ও যুবায়র ইবন আওয়াম এবং আবূ মারসাদ গানাভী-কে অশ্ব বের করে নির্দেশ দিলেন যে, তোমরা রওয়ানা হয়ে যাও এবং 'রওযায়ে খাখে' গিয়ে উপস্থিত হও। সেখানে একজন মুশরিক স্ত্রীলোক পাবে। তার কাছে হাতিব ইবন আবূ বালতার দেয়া মুশরিকদের প্রতি প্রেরিত একখানি পত্র আছে। আমরা ঠিক সেই জায়গাতেই তাকে পেয়ে গেলাম যেখানকার কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন। ঐ স্ত্রী লোকটি তার এক উটের উপর সওয়ার ছিল। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, তোমার কাছে যে পত্রখানি আছে তা কোথায়? সে বললঃ আমার সাথে কোন পত্র নেই। তখন আমরা তার উটসহ তাকে বসালাম এবং তার সাওয়ারীর আসবাবপত্রের তল্লাশি করলাম। কিন্তু আমরা কিছুই খুজে পেলাম না। আমার দু'জন সাথী বললেনঃ পত্রখানা তো পাওয়া গেল না। আমি বললামঃ আমার জানা আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনর্থক কথা বলেননি। তখন তিনি স্ত্রী লোকটিকে ধমক দিয়ে বললেনঃ তোমাকে অবশ্যই চিঠিটা বের করে দিতে হবে, নইলে আমি তোমাকে উলঙ্গ করে তল্লাশি চালাব। এরপর সে যখন আমার দৃঢ়তা লক্ষ্য করল, তখন সে বাধ্য হয়ে তার কোমরে পেঁচানো চাদরে হাত দিয়ে ঐ পত্রখানা বের করে দিল। তারপর আমরা তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পৌছলাম। তখন তিনি হাতিব-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে হাতিব! তুমি কেন এমন কাজ করলে? তিনি বললেনঃ আমার মনে এমন কোন খারাপ ইচ্ছে নেই যে, আমি আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। আমি আমার দৃঢ় মনোভাব পরিবর্তন করিনি এবং আমি দ্বীনও বদল করিনি। এই চিঠি দ্বারা আমার নিছক উদ্দেশ্য ছিল যে, এতে মক্কাবাসীদের উপর আমার দ্বারা এমন উপকার হোক, যার ফলে আল্লাহ তাআলা আমার পরিবার ও সম্পদ নিরাপদে রাখবেন। আর সেখানে আপনার অন্যান্য সাহাবীদের এমন লোক আছেন যাদের দ্বারা আল্লাহ তাআলা তাদের পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা দান করবেন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ হাতিব ঠিক কথাই বলেছে। সুতরাং তোমরা তাকে ভাল ব্যতীত অন্য কিছুই বলো না। রাবী বলেনঃ উমার ইবন খাত্তাব বললেন, তিনি নিশ্চই আল্লাহ ও তার রাসূল এবং মুমিনদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। অতএব আমাকে ছেড়ে দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রাবী বলেন, তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ হে উমার! তোমার কি জানা নেই যে, নিশ্চই আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে জ্ঞাত আছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে, তোমরা যা ইচ্ছে করতে পার। নিশ্চই তোমাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে আছে। রাবী বলেনঃ তখন উমার এর দু'চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগলো। তিনি বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই সবচেয়ে ভাল জানেন।

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বর্ণনা করেন যে, আবূ সুফ্ইয়ান ইবন হারব তাকে বলেছেনঃ হিরাক্লিয়াস আবূ সুফ্ইয়ানকে ডেকে পাঠালেন, কুরাইশদের ঐ দলসহ যারা ব্যবসার জন্য সিরিয়া গিয়েছিলেন। তারা সবাই তার নিকট হাজির হলেন। এরপর তিনি ঘটনার বর্ণনা করেন। শেষে বললেন যে, তারপর হিরাক্লিয়াস রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চিঠিটি আনালেন এবং তা পাঠ করা হল। এতে ছিল 'বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম' আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল মুহাম্মাদ এর পক্ষ হতে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক তাদের উপর যারা সৎপথ অনুসরণ করেছে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বললেন যে, সে এক টুকরো কাঠ নিয়ে খোদাই করে এর ভেতর এক হাজার দ্বীনার ভর্তি করে রাখল এবং এর মালিকের প্রতি লেখা একখানা চিঠিও রেখে দিল। আর উমার ইবন আবূ সালামাহ সূত্রে আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এক লোক এক টুকরো কাঠ খোদাই করে তার ভেতরে কিছু মাল রেখে দিল এবং এর সাথে তার প্রাপকের প্রতি একখানা পত্রও ভরে দিল, যার মধ্যে লেখা ছিল, অমুকের পক্ষ থেকে অমুকের প্রতি।

আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত যে, কুরাইযাহ গোত্রের লোকেরা সাদ এর ফায়সালার উপর আত্মসমর্পণ করলো। নবী (ﷺ) তাকে আনার জন্য লোক পাঠালেন। তারপর তিনি এলে নবী (ﷺ) সাহাবীদের বললেনঃ তোমরা আপন সরদারের প্রতি অথবা বললেনঃ তোমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সম্মানার্থে উঠে দাড়াও। তারপর সাদ এসে নবী (ﷺ) এর পার্শ্বেই উপবেশন করলেন। তখন নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ এরা তোমার ফায়সালার উপর আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি বললেনঃ তা হলে আমি ফায়সালা দিচ্ছি যে, এদের মধ্যে যারা যুদ্ধ করার যোগ্য তাদের হত্যা করা হোক। আর তাদের ছোটদের বন্দী করা হোক। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এদের ব্যাপারে তুমি আল্লাহ তাআলার ফায়সালা অনুযায়ীই ফায়সালা দিয়েছ।

ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। আমি আনাস-কে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণের মধ্যে কি মুসাফাহা চালু ছিল? তিনি বললেনঃ হা।

আবদুল্লাহ ইবন হিশাম হতে বর্ণিত যে, আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি উমার ইবন খাত্তাব এর হস্ত ধারণকৃত অবস্থায় ছিলেন।

ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হাত তার উভয় হস্তের মধ্যে রেখে আমাকে এমনভাবে তাশাহহুদ শিখিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরা শিখাতেনঃ "সমস্ত ভাল প্রশংসা এবং প্রার্থনা এবং ভাল জিনিস আল্লাহর জন্য। আপনার উপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক, হে নবী! শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করার অধিকার নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তার রসূল।" রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় (আমরা নামাযে এটি পাঠ করতাম) কিন্তু তিনি যখন ইন্তেকাল করেন তখন আমরা বলতাম, "নবী (ﷺ) এর উপর শান্তি বর্ষিত হোক।"

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, আলী ইবন আবূ তালিব যখন নবী (ﷺ) এর শেষ কালে তার কাছ থেকে বেরিয়ে এলেন, লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করলোঃ হে আবুল হাসান! কিভাবে নবী (ﷺ) এর সকাল হয়েছে? তিনি বললেনঃ আলহামদু লিল্লাহ সুস্থ অবস্থায় তার সকাল হয়েছে। তখন আব্বাস তার হাত ধরে বললেনঃ তুমি কি তার অবস্থা বুঝতে পারছ না? তুমি তিনদিন পরই লাঠির গোলাম হয়ে যাবে। আল্লাহর কসম! আমি নিঃসন্দেহে ধারণা করছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার এ অসুখেই শীঘ্রই ইন্তিকাল করবেন। আমি বনূ আবদুল মুত্তালিবের চেহারা থেকে তাদের মৃত্যুর আলামত বুঝতে পারি। অতএব তুমি আমাদের রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে যাও। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করবো যে, তার অবর্তমানে খিলাফতের দায়িত্ব কাদের হাতে থাকবে? যদি আমাদের বংশেই থাকে, তবে তা আমরা জেনে রাখলাম। আর যদি অন্য কোন গোত্রের হাতে থাকবে বলে জানি, তবে আমরা তার সাথে পরামর্শ করবো এবং তিনি আমাদের জন্য অসিয়ত করে যাবেন। আলী বললেনঃ আল্লাহর কসম! যদি আমরা এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করি আর তিনি এ ব্যাপারে আমাদের বিরত থাকার নির্দেশ দেন, তাহলে লোকজন কখনও আমাদের এ সুযোগ দেবে না। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কখনো জিজ্ঞেস করবো না।

মুআয ইবন জাবাল বলেন, আমি একবার নবী (ﷺ) এর পেছনে তার সাওয়ারীর উপর উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি আমাকে ডাক দিলেনঃ ওহে মুআয! আমি বললাম, লাব্বাইকা ওয়া সদাইকা। তারপর তিনি এরূপ তিনবার ডাকলেন। এরপর বললেনঃ তুমি কি জানো যে, বান্দাদের উপর আল্লাহর হক কী? তিনি বললেনঃ তা' হলো, বান্দারা তার ইবাদাত করবে আর এতে তার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আবার কিছুক্ষণ চলার পর তিনি বললেনঃ ওহে মুআয! আমি জবাবে বললামঃ লাববাইকা ওয়া সাদাইকা। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি জানো যে, বান্দা যখন তার ইবাদাত করবে, তখন আল্লাহর উপর বান্দাদের হক কী হবে? তিনি বললেনঃ তা এই যে, তিনি তাদের আযাব দিবেন না।

যায়দ ইবন ওয়াহ্ব বলেন, আল্লাহর কসম! আবূ যার রাবাযাহ নামক স্থানে আমাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, একবার আমি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে এশার সময় মাদ্বীনায় হাররা নামক স্থান দিয়ে পায়ে হেটে যাচ্ছিলাম। তখন আমরা উহুদ পাহাড়ের সম্মুখীন হলে তিনি আমাকে বললেনঃ হে আবূ যার! আমি এটা পছন্দ করি না যে, আমার নিকট উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনা আসুক। আর ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছাড়া এক দ্বীনার পরিমাণ সোনাও এক রাত অথবা তিন রাত পর্যন্ত আমার হাতে তা থেকে যাক। বরং আমি পছন্দ করি যে, আমি এগুলো আল্লাহর বান্দাদের এভাবে বিলিয়ে দেই। (কীভাবে দেবেন) তা তার হাত দিয়ে তিনি দেখালেন। তারপর বললেনঃ হে আবূ যার! আমি বললামঃ লাব্বাইকা ওয়া স'দাইকা, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি বললেনঃ দুনিয়াতে যার বেশি ধন, আখিরাতে তারা হবে অনেক কম সাওয়াবের অধিকারী। তবে যারা তাদের সম্পদকে এভাবে, এভাবে বিলিয়ে দেবে। তারা হবে এর ব্যতিক্রম। তারপর তিনি আমাকে বললেনঃ আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত, হে আবূ যার! তুমি এ স্থানেই থাকো। এখান থেকে কোথাও যেয়ো না। এরপর তিনি রওয়ানা হয়ে গেলেন, এমনকি আমার অদৃশ্যে চলে গেলেন। এমন সময় একটা শব্দ শুনলাম। এতে আমি শংকিত হয়ে পড়লাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন বিপদের সম্মুখীন হয়ে পড়লেন কিনা? তাই আমি সে দিকে এগিয়ে যেতে চাইলাম। কিন্তু সাথে সাথেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিষেধাজ্ঞা- যে কোথায়ও যেয়ো না- মনে পড়লো এবং আমি থেমে গেলাম। এরপর তিনি ফিরে আসলে আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটা আওয়ায শুনে ভীত হয়ে পড়লাম যে, আপনি সেখানে গিয়ে কোন বিপদে পড়লেন কিনা। কিন্তু আপনার কথা স্মরণ করে থেমে গেলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তিনি ছিলেন জিবরীল। তিনি আমার নিকট এসে সংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মাতের মধ্যে যে লোক আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদিও সে ব্যক্তি ব্যভিচার করে? যদিও সে ব্যক্তি চুরি করে? তিনি বললেনঃ সে যদিও ব্যভিচার করে, যদিও চুরি করে থাকে তবুও। আ'মাশ বলেন, আমি যায়দকে বললাম, আমার কাছে খবর পৌছেছে যে, এ হাদীসের রাবী হলেন আবুদ্ দারদা। তিনি বললেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এ হাদীসটি আবূ যারই রাবাযা নামক স্থানে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আ'মাশ বলেন, আবূ সালিহও আবূ দারদা সূত্রে আমার কাছে এ রকম বর্ণনা করেছেন। আর আবূ শিহাব, আ'মাশ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ 'তিন দিনের অতিরিক্ত'।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি অপর কাউকে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে সে সেখানে বসবে না।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কোন লোককে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে অন্য লোক বসতে নিষেধ করেছেন। তবে তোমরা বসার জায়গা প্রশস্ত করে দাও এবং ব্যবস্থা করে দাও। ইবন উমার কেউ তার জায়গা থেকে উঠে যাক এবং তার স্থানে অন্যজন বসুক তা পছন্দ করতেন না।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) যাইনাব বিন্ত জাহশ-কে বিয়ে করলেন, তখন তিনি কয়েকজন লোককে দাওয়াত করলেন। তারা খাদ্য গ্রহণের পর বসে বসে অনেক সময় পর্যন্ত আলাপ-আলোচনায় মশগুল থাকলেন। তখন তিনি নিজে চলে যাবার ভাব প্রকাশ করলেন। কিন্তু তাতেও তারা উঠলেন না। তিনি এ অবস্থা দেখে নিজেই উঠে দাড়ালেন। যখন তিনি চলে গেলেন, তখন লোকেদের মধ্যে যারা দাড়াবার ইচ্ছে করলেন, তারা তার সঙ্গেই উঠে চলে গেলেন। কিন্তু তাদের তিনজন থেকে গেলেন। এরপর যখন নবী (ﷺ) ফিরে এসে ঘরে প্রবেশ করতে চাইলেন, তখন দেখলেন যে ঐ তিনজন তখনো বসে আছেন। কিছুক্ষণ পর তারাও উঠে চলে গেলে, আমি গিয়ে তাকে তাদের চলে যাবার সংবাদ দিলাম। এরপর তিনি এসে ঘরে ঢুকলেন। তখন আমিও প্রবেশ করতে চাইলে তিনি আমার ও তার মধ্যে পর্দা টেনে দিলেন। এ সময় আল্লাহ তাআলা ওয়াহী অবতীর্ণ করলেনঃ "তোমরা যারা ঈমান এনেছ শোন! নবীগৃহে প্রবেশ কর না যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়... আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা মহা অপরাধ।"- (আল-আহযাব ৩৩/৫৩)।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কাবার আঙ্গিনায় দু'হাটু খাড়া করে দু'হাত দিয়ে তা বেড় দিয়ে এভাবে উপবিষ্ট অবস্থায় পেয়েছি।

আবূ বাকরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি কি তোমাদের নিকৃষ্ট কাবীরাহ গুনাহের বর্ণনা দিব না? সকলে বললেনঃ হা, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি বললেনঃ তা হলো, আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন কিছুকে শারীক করা এবং মাতা-পিতার অবাধ্যতা।

মুসাদ্দাদ, বিশরের এক সূত্রে এ রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে অধিক বর্ণনা করেছেন যে, তখন নবী (ﷺ) হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেনঃ হুশিয়ার হও! আর (সবচেয়ে বড় গুনাহ) মিথ্যা কথা বলা। এ কথাটা তিনি বারবার বলতে থাকলেন। এমনকি আমরা বললামঃ হায়! তিনি যদি থামতেন।

উকবাহ ইবন হারিস বলেন, একবার নবী (ﷺ) আসরের সালাত আদায় পূর্বক দ্রুত গিয়ে নিজ ঘরে প্রবেশ করলেন।

আয়িশাহ বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (আমার) পালঙ্কের মাঝখানে দাড়িয়ে সালাত আদায় করতেন। তখন আমি তার ও কিবলার মাঝে শুয়ে থাকতাম। যখন আমার কোন প্রয়োজন হতো, তখন আমি তার দিকে মুখ করে উঠে দাড়ানো পছন্দ করতাম না বরং আমি শায়িত অবস্থাতেই পেছনের দিক দিয়ে কেটে পড়তাম।

আবদুল্লাহ ইবন আমর বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) এর নিকট আমার অধিক সওম পালন করার কথা উল্লেখ করা হলো। তখন তিনি আমার ঘরে আসলেন এবং আমি তার উদ্দেশে খেজুরের ছালে ভরা চামড়ার একটা বালিশ পেশ করলাম। তিনি মাটিতেই বসে গেলেন। আর বালিশটা আমার ও তার মাঝে থেকে গেল। তিনি আমাকে বললেনঃ প্রত্যেক মাসে তিনদিন সওম পালন করা কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ তা হলে পাচ দিন? আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ তবে সাতদিন? আমি আবার বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ তবে নয়দিন? আমি পুনরায় বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ তা হলে এগার দিন? আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি বললেনঃ দাউদ-এর সওমের চেয়ে অধিক কোন নাফ্ল) সওম নেই। তিনি প্রত্যেক মাসের অর্ধেক দিন সওম পালন করতেন একদিন সওম পালন করতেন আর একদিন পালন করতেন না।

ইব্রাহীম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আলক্বামাহ সিরিয়ায় গমন করলেন। তখন তিনি মসজিদে গিয়ে দু' রাকাত সালাত আদায় করে দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে একজন নেক সঙ্গী দান করুন। এরপর তিনি আবুদ্ দারদা -এর পাশে গিয়ে বসে পড়লেন। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আপনি কোন শহরের লোক? তিনি জবাব দিলেনঃ আমি কূফার অধিবাসী। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ আপনাদের মধ্যে কি সেই লোক নেই। যিনি ঐ ভেদ সম্পর্কে জানতেন, যা অপর কেউ জানতেন না? (রাবী বলেন) হুযাইফাহ। আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ আপনাদের মধ্যে কি এমন লোক নেই, অথবা আছেন, যাকে আল্লাহ তাআলা তার রাসূলের দোয়ার কারণে শয়তান থেকে পানাহ দিয়েছেন? (রাবী বলেন) আম্মার তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ আর আপনাদের মধ্যে কি সে লোক নেই যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মিস্ওয়াক ও বালিশের দায়িত্বে ছিলেন? (রাবী বলেন) আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ। আবুদ্ দারদা তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ সূরায়ে "রাতের শপথ যেভাবে তা (আলোকে) আড়াল করে?"(আল-লাইল 92)। কীভাবে পড়তেন? তিনি বললেনঃ তিনি ('ওয়ামা খালাকায যাকারা ওয়াল উনসা'র স্থলে 'ওয়ামা খালাকা' অংশটুকু বাদ দিয়ে) পড়তেন। তখন তিনি বললেনঃ এখানকার লোকেরা আমাকে এ সূরা সম্পর্কে সন্দেহে নিক্ষেপ করেছে। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ রকমই শুনেছি।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জুমুআহর সালাতের পরেই 'কা-ইলাহ' করতাম এবং দুপুরের খাদ্য গ্রহণ করতাম।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। আলী এর কাছে 'আবূ তুরাব'-এর চেয়ে প্রিয় কোন নাম ছিল না। এ নামে ডাকা হলে তিনি খুবই খুশী হতেন। কারণ একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাতেমাহ এর ঘরে আসলেন। তখন আলী-কে ঘরে পেলেন না। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার চাচাতো ভাই কোথায়? তিনি বললেনঃ আমার ও তার মাঝে কিছু ঘটে যাওয়ায় তিনি আমার সঙ্গে রাগ করে বেরিয়ে গেছেন। আমার কাছে কা-ইলাহ করেননি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক লোককে বললেনঃ দেখতো সে কোথায়? সে লোকটি এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে দেখতে পেলেন যে, তিনি কাত হয়ে শুয়ে আছেন, আর তার চাদরখানা পার্শ্ব থেকে পড়ে গেছে। ফলে তার গায়ে মাটি লেগে গেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার গায়ের মাটি ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেনঃ ওঠো, আবূ তুরাব (মাটির বাপ) ওঠো, আবূ তুরাব! এ কথাটা তিনি দু'বার বললেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু সুলায়ম নবী (ﷺ) এর জন্য চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিতেন এবং তিনি সেখানেই ঐ চামড়ার বিছানার উপর কায়লুলা করতেন। অতঃপর তিনি যখন ঘুম থেকে উঠতেন, তখন তিনি তার শরীরের কিছুটা ঘাম ও চুল সংগ্রহ করতেন এবং তা একটা বোতলের মধ্যে জমা করতেন এবং পরে 'সুক্ক' নামক সুগন্ধিতে মিশাতেন। রাবী বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবন মালিক এর মৃত্যু সন্নিকট হলে, তিনি আমাকে অসিয়ত করলেনঃ যেন ঐ সুক্ক থেকে কিছুটা তার সুগন্ধির সাথে মিলানো হয়। তাই তা তার সুগন্ধিতে মেশানো হয়েছিল।

আনাস ইবন মালিক বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) 'কুবা' এর দিকে যখন যেতেন তখন প্রায়ই উম্মু হারাম বিন্তে মিলহান -এর ঘরে প্রবেশ করতেন এবং তিনি তাকে খানা খাওয়াতেন। তিনি উবাদাহ ইবন সামিত -এর স্ত্রী ছিলেন। একদিন তিনি তার ঘরে গেলে তাকে খাবার খাওয়ালেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানেই ঘুমালেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি সজাগ হয়ে হাসতে লাগলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে কিসে হাসাচ্ছে? তিনি বললেনঃ স্বপ্নে আমাকে আমার উম্মাতের আল্লাহর পথে জিহাদকারী কিছু সংখ্যক মুজাহিদ দেখানো হয়েছে, যারা এই বিস্তীর্ণ সমুদ্রের মাঝে বাদশাহ্দের মত সিংহাসনে আসীন। তখন তিনি বললেনঃ আপনি দোয়া করুন যেন আল্লাহ তাআলা আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তিনি সে দোয়া করলেন এবং বিছানায় মাথা রেখে আবার শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার হাসতে হাসতে জাগ্রত হলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে কিসে হাসাচ্ছে? তিনি বললেনঃ স্বপ্নে) আমাকে আমার উম্মাতের আল্লাহর পথে জিহাদকারী কিছু সংখ্যক মুজাহিদ দেখানো হয়েছে, যারা এই বিস্তীর্ণ সমুদ্রের মাঝে বাদশাহ্দের মত সিংহাসনে আসীন। তখন আবার আমি বললামঃ আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে তাদের মধ্যে শামিল করে নেন। তিনি বললেনঃ তুমি প্রথম বাহিনীরই মধ্যে শামিল থাকবে। সুতরাং তিনি মুআবিয়াহ -এর আমলে সামুদ্রিক অভিযানে যান এবং অভিযান থেকে ফিরে এসে নিজের সওয়ারী থেকে পড়ে গিয়ে শাহাদাত বরণ করেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (৬২৮২)।

আবূ সাঈদ খুদরী বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) দু' রকমের লেবাস এবং দু' ধরনের বিক্রয় নিষেধ করেছেন। ইশতিমালে সম্মা (উপর-নীচ সেলাই করা ফাক বিহীন কাপড়ে শরীর এমনভাবে জড়ানো যাতে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করতে অসুবিধা হয়।) এবং এক কাপড় পরে ইহতিবা (সামনে দিকে দুই হাটু খাড়া করে রেখে পাছার ভরে বসা যাতে লজ্জাস্থান দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।) করতে নিষেধ করেছেন যাতে তার লজ্জাস্থানে কাপড়ের কোন অংশ না থাকে। এবং মুলামাসা ও মুনাবাযা- বেচাকেনা থেকেও।

আয়িশাহ বর্ণনা করেন, একবার আমরা নবী (ﷺ) এর সব স্ত্রী তার নিকট জমায়েত হয়েছিলাম। আমাদের একজনও অনুপস্থিত ছিলাম না। এমন সময় ফাতেমাহ পায়ে হেটে আসছিলেন। আল্লাহর কসম! তার হাটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাটার মতই ছিল। তিনি যখন তাকে দেখলেন, তখন তিনি আমার মেয়ের আগমন শুভ হোক বলে তাকে সম্বর্ধনা জানালেন। এরপর তিনি যখন তাকে নিজের ডান পাশে অথবা (রাবী বলেন) বাম পাশে বসালেন। তারপর তিনি তার সঙ্গে কানে-কানে কিছু কথা বললেন, তিনি (ফাতেমাহ) খুব অধিক কাঁদতে লাগলেন। এরপর তাকে চিন্তিত দেখে দ্বিতীয়বার তার সঙ্গে তিনি কানে-কানে আরও কিছু কথা বললেন। তখন ফাতেমাহ হাসতে লাগলেন। তখন নবী (ﷺ) এর স্ত্রীগণের মধ্য থেকে আমি বললামঃ আমাদের উপস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিশেষ করে আপনার সঙ্গে বিশেষ কী গোপনীয় কথা কানে-কানে বললেন, যার ফলে আপনি খুব কাঁদছিলেন? এরপর যখন নবী (ﷺ) উঠে চলে গেলেন, তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, তিনি আপনাকে কানে-কানে কী বলেছিলেন? তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ভেদ (গোপনীয় কথা) ফাঁস করবো না। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মৃত্যু হল। তখন আমি তাকে বললামঃ আপনার উপর আমার যে দাবী আছে, আপনাকে আমি তার কসম দিয়ে বলছি যে, আপনি কি গোপনীয় কথাটি আমাকে জানাবেন না? তখন ফাতেমাহ বললেনঃ হা এখন আপনাকে জানাবো। সুতরাং তিনি আমাকে জানাতে গিয়ে বললেনঃ প্রথমবার তিনি আমার নিকট যে গোপন কথা বলেন, তা হলো এই যে, তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, জিবরীল প্রতি বছর এসে পূর্ণ কুরআন একবার আমার নিকট পেশ করতেন। কিন্তু এ বছর তিনি এসে তা আমার কাছে দু' বার পেশ করেছেন। এতে আমি ধারণা করছি যে, আমার চির বিদায়ের সময় সন্নিকট। সুতরাং তুমি আল্লাহকে ভয় করে চলবে এবং বিপদে ধৈর্যধারণ করবে। নিশ্চই আমি তোমার জন্য উত্তম অগ্রগমনকারী। তখন আমি কাঁদলাম যা নিজেই দেখলেন। তারপর যখন আমাকে চিন্তিত দেখলেন, তখন দ্বিতীয়বার আমাকে কানে-কানে বললেনঃ তুমি জান্নাতের মুসলিম মহিলাদের অথবা এ উম্মাতের মহিলাদের নেত্রী হওয়াতে সন্তুষ্ট হবে না? (আমি তখন হাসলাম)।

পূর্বের হাদিসের মতই (৬২৮৫)।

আবদুল্লাহ ইবন যায়দ আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মসজিদে চিত হয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছি, তখন তার এক পা অন্য পায়ের উপর রাখা ছিল।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোথাও তিনজন থাকলে তৃতীয় জনকে বাদ দিয়ে দু'জনে মিলে চুপি চুপি কথা বলবে না।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার নবী (ﷺ) আমার কাছে একটি বিষয় গোপনে বলেছিলেন। আমি তার পরেও কাউকে তা জানাইনি। এটা সম্পর্কে উম্মু সুলায়ম আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। কিন্তু আমি তাকেও বলিনি।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোথাও তোমরা তিনজনে থাকলে একজনকে বাদ দিয়ে দু'জনে কানে-কানে কথা বলবে না। এতে তার মনে দুঃখ হবে। তোমরা পরস্পর মিশে গেলে তবে তা করাতে দোষ নেই।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন কিছু মাল লোকজনকে বণ্টন করে দিলেন। তখন একজন আনসারী মন্তব্য করলেন যে, এ বাটোয়ারা এমন, যার মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়নি। তখন আমি বললাম সাবধান! আল্লাহর কসম! আমি নিশ্চই নবী (ﷺ) এর নিকট গিয়ে এ কথাটা বলে দিব। এরপর আমি তার নিকট গেলাম। কিন্তু তখন তিনি একদল সাহাবীর মধ্যে ছিলেন। তাই আমি কথাটা তাকে কানে-কানেই বললাম। তখন তিনি রেগে গেলেন। এমনকি তার চেহারার রং লাল হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরে তিনি বললেনঃ মূসা-এর উপর রহমত অবতীর্ণ হোক। তাকে এর চেয়ে অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি ধৈর্য অবলম্বন করেছেন।

আনাস ইবন মালিক বর্ণনা করেন। একবার সালাতের ইকামত হয়ে গেলো, তখনও একজন লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে কানে-কানে কথা বলছিলেন এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে তিনি এভাবে আলাপ করতে থাকলেন। এমনকি তার সঙ্গীগণ ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তারপর তিনি দাড়িয়ে সালাত আদায় করলেন।

সালিম তার পিতা থেকে, তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ যখন তোমরা ঘুমাবে তখন তোমাদের ঘরে আগুন রেখে ঘুমাবে না।

আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাত্রি কালে মদিনার এক ঘরে আগুন লেগে ঘরের লোকজনসহ পুড়ে গেল। এদের অবস্থা নবী (ﷺ)-কে অবহিত করা হল। তিনি বললেনঃ এ আগুন নিঃসন্দেহে তোমাদের চরম শত্রু। সুতরাং তোমরা যখন ঘুমাতে যাবে, তখন তা নিভিয়ে দিবে।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের পানাহারের পাত্রগুলো ঢেকে রাখবে। আর ঘুমাবার সময় (ঘরের) দরজাগুলো বন্ধ করবে এবং বাতিগুলো নিভিয়ে ফেলবে। কারণ প্রায়ই দুষ্ট ইদুরগুলো জ্বালানো বাতির ফিতাগুলো টেনে নিয়ে যায় এবং ঘরের লোকজনকে পুড়িয়ে মারে।

জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ রাতে যখন তোমরা ঘুমাতে যাবে, তখন বাতি নিভিয়ে দেবে, দরজা বন্ধ করবে, খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যাদি ঢেকে রাখবে এবং মশকের মুখ বেধে রাখবে। হাম্মাম বলেনঃ এক টুকরা কাঠ দিয়ে হলেও।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের স্বভাবগত বিষয় হলো পাচটিঃ খাত্না করা, নাভির নীচের পশম কামানো, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, গোঁফ ছাঁটা এবং (অতিরিক্ত) নখ কাটা।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইব্রাহীম আশি বছর বয়সের পর 'কাদূম' নামক স্থানে নিজেই নিজের খাত্না করেন।

তিনি [সাঈদ ইবন যুবায়র] আরও বলেনঃ তাদের নিয়ম ছিল যে, সাবালক না হওয়া পর্যন্ত তারা খাত্না করতেন না।

সাঈদ ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, নবী (ﷺ) এর ওফাতের সময় আপনি বয়সে কার মত ছিলেন? তিনি বললেনঃ আমি তখন খাত্নাকৃত ছিলাম।

আবূ হুরাইরাহ বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি শপথ করে এবং তার শপথে বলে লাত ও উযযার শপথ, তা হলে সে যেন "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলে, আর যে তার বন্ধুকে বলেঃ এসো আমি তোমার সাথে জুয়া খেলবো সে যেন সদাকাহ করে।

ইবন উমার বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) এর যুগে আমার খেয়াল হলো যে, আমি নিজ হাতে আল্লাহর কোন সৃষ্টির সাহায্য ব্যতীত এমন একটা ঘর বানিয়ে নেই, যা আমাকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করবে এবং আমাকে রোদ থেকে ছায়া দিবে।

ইবন উমার বর্ণনা করেন। আল্লাহর কসম! আমি নবী (ﷺ) এর পর থেকে এ পর্যন্ত কোন ইটের উপর ইট রাখিনি। (পাকা ঘর নির্মাণ করিনি) আমি কোন খেজুরের চারা লাগাইনি। সুফ্ইয়ান (রাবী) বর্ণনা করেন, আমি এ হাদীসটি তার পরিবারের এক লোকের কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! তিনি তো নিশ্চই পাকা ঘর বানিয়েছেন। সুফ্ইয়ান বলেন, তখন আমি বললাম, তা হলে সম্ভবতঃ এ হাদীসটি তার পাকা ঘর বানানোর আগেকার হবে।