গোসল (২৪৮-২৯৩)
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তখন প্রথমে তার হাত দু'টো ধুয়ে নিতেন। অতঃপর সালাতের উযূর মত উযূ করতেন। অতঃপর তার আঙ্গুলগুলো পানিতে ডুবিয়ে নিয়ে চুলের গোড়া খিলাল করতেন। অতঃপর তার উভয় হাতের তিন আজলা পানি মাথায় ঢালতেন। তারপর তার সারা দেহের উপর পানি ঢেলে দিতেন।
মাইমূনাহ্ (নবীর স্ত্রী) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসুল (ﷺ) সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন কিন্তু তার পা ধুলেন না। তিনি তার গোপনাঙ্গ ধুয়ে ফেললেন এবং তারপর তার শরীরে পানি ঢেলে দিলেন। অতঃপর সেখান হতে সরে গিয়ে পা দু'টো ধুয়ে নেন। এই ছিল তার জানাবাতের গোসল।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ও নবী (ﷺ) একই পাত্র (কাদাহ) হতে (পানি নিয়ে) গোসল করতাম। সেই পাত্রকে ফারাক বলা হতো।
আবূ সালামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ও আয়িশাহ-এর ভাই আয়িশাহ-এর নিকট গমন করলাম। তার ভাই তাকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি প্রায় এক সা' (আড়াই কিলোগ্রাম পরিমাণ)-এর সমপরিমাণ এক পাত্র আনলেন। তারপর তিনি গোসল করলেন এবং স্বীয় মাথার উপর পানি ঢাললেন। তখন আমাদের ও তার মাঝে পর্দা ছিল।
আবূ জা'ফার হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি ও তার পিতা জাবির ইবন আবদুল্লাহ-এর নিকট ছিলেন। সেখানে আরো কিছু লোক ছিলেন। তারা তাকে গোসল সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, এক সা' তোমার জন্য যথেষ্ট। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠলঃ আমার জন্য তা যথেষ্ট নয়। জাবির বললেনঃ তোমার চেয়ে অধিক চুল যার মাথায় ছিল এবং তোমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন (আল্লাহর রাসূল (ﷺ)) তার জন্য তো এ পরিমাণই যথেষ্ট ছিল। অতঃপর তিনি এক কাপড়ে আমাদের ইমামতি করেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) ও মাইমূনাহ্ একই পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করতেন।
জুবায়র ইবন মুত'ইম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তিনবার আমার মাথায় পানি ঢালি। এই বলে তিনি উভয় হাতের দ্বারা ইঙ্গিত করেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী (ﷺ) নিজের মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন।
আবূ জা'ফার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে জাবির বলেছেন, আমার নিকট তোমার চাচাত ভাই হাসান ইবন মুহাম্মাদ ইবন হানাফিয়াহ আগমন করেছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, জানাবাতের গোসল কীভাবে করতে হয়? আমি বললাম, নবী (ﷺ) তিন আজলা পানি নিতেন এবং নিজের মাথার উপর ঢেলে দিতেন। অতঃপর নিজের সারা দেহে পানি বহিয়ে দিতেন। তখন হাসান আমাকে বললেন, আমার মাথার চুল খুব বেশি। আমি তাকে বললাম, নবী (ﷺ) -এর চুল তোমার চেয়ে অধিক ছিল।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাইমূনাহ্ বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) -এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি তার হাত দু'বার বা তিনবার ধুয়ে নিলেন। পরে তার বাম হাতে পানি নিয়ে তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর মাটিতে হাত ঘষলেন। তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তার চেহারা ও দু'হাত ধুয়ে নিলেন। অতঃপর তার সারা দেহে পানি ঢাললেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু'পা ধুয়ে নিলেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তখন হিলাবের অনুরূপ পাত্র চেয়ে নিতেন। তারপর এক আজলা পানি নিয়ে প্রথমে মাথার ডান পাশ এবং পরে বাম পাশ ধুয়ে ফেলতেন। দু'হাতে মাথার মাঝখানে পানি ঢালতেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, মায়মূনাহ্ বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) -এর জন্য গোসলের পানি ঢেলে রাখলাম। তিনি তার ডান হাত দিয়ে বা হাতে পানি ঢাললেন এবং উভয় হাত ধুলেন। অতঃপর তার লজ্জাস্থান ধৌত করলেন এবং মাটিতে তার হাত ঘষলেন। পরে তা ধুয়ে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর তার চেহারা ধুলেন এবং মাথার উপর পানি ঢাললেন। পরে ঐ স্থান হতে সরে গিয়ে দু' পা ধুলেন। অবশেষে তাকে একটি রুমাল দেয়া হল, কিন্তু তিনি তা দিয়ে শরীর মুছলেন না।
মাইমূনাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) অপবিত্রতার গোসল করলেন। তিনি নিজের লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর হাত দেয়ালে ঘষলেন এবং তা ধুলেন। তারপর সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন। গোসল শেষ করে তিনি তার দু'পা ধুয়ে নিলেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ও নবী (ﷺ) একই পাত্রের পানি দিয়ে এভাবে গোসল করতাম যে, তাতে আমাদের দু'জনের হাত একের পর এক পড়তে থাকতো।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জানাবাতের গোসল করার সময় প্রথমে হাত ধুয়ে নিতেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ও নবী (ﷺ) একই পাত্রের পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতাম।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ও তার স্ত্রীদের কেউ কেউ একই পাত্রের পানি নিয়ে গোসল করতেন। মুসলিম এবং ওয়াহ্ব ইবন জারীর শুবাহ হতে 'তা ফরজ গোসল ছিল' বলে বর্ণনা করেছেন।
মাইমূনাহ বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম, তিনি উভয় হাতে পানি ঢেলে দু'বার করে বা তিনবার করে তা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি ডান হাতে পানি নিয়ে বাম হাতে ঢাললেন এবং তার লজ্জাস্থান ধুয়ে নিলন। পরে তার হাত মাটিতে ঘষলেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। আর তার চেহারা ও হাত দু'টো ধুলেন। তারপর তার মাথা তিনবার ধুলেন এবং তার সারা শরীরে পানি ঢাললেন। অবশেষে সেখান হতে একটু সরে গিয়ে তার দু'পা ধুয়ে ফেললেন।
মাইমূনাহ বিনতু হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর জন্য গোসলের পানি রেখে পর্দা করে দিলাম। তিনি পানি দিয়ে দু'বার কিংবা তিনবার হাত ধুলেন। সুলায়মান বলেন, তৃতীয়বারের কথা বলেছেন কিনা আমার মনে পড়ে না। তখন তিনি ডান হাতে পানি নিয়ে বাম হাতে ঢাললেন এবং লজ্জাস্থান ধুয়ে নিলেন। তারপর তার হাত মাটিতে বা দেওয়ালে ঘষলেন। পরে তিনি কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং তার চেহারা ও দু'হাত ধুলেন এবং মাথা ধুয়ে ফেললেন। তারপর তার শরীরে পানি ঢেলে দিলেন। পরে সেখান হতে সরে গিয়ে তার দু'পা ধুয়ে নিলেন। অবশেষে আমি তাকে একখন্ড কাপড় দিলাম; কিন্তু তিনি হাতের ইঙ্গিতে নিষেধ করলেন এবং তা নিলেন না।
মুহাম্মাদ ইবন মুনতাশির তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশাহ-এর নিকট [আবদুল্লাহ ইবন উমার]-এর উক্তিটি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ আবূ আবদুর রহমানকে রহম করুন। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে সুগন্ধি লাগাতাম, তারপর তিনি তার স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হতেন। তারপর ভোরবেলায় এমন অবস্থায় ইহরাম বাধতেন যে, তার দেহ হতে খুশবু ছড়িয়ে পড়তো।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) তার স্ত্রীগণের নিকট দিনের বা রাতের কোন এক সময়ে পর্যায়ক্রমে মিলিত হতেন। তারা ছিলেন এগারজন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আনাস-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি এত শক্তি রাখতেন? তিনি বললেন, আমরা পরস্পর বলাবলি করতাম যে, তাকে ত্রিশজনের শক্তি দেয়া হয়েছে। সাঈদ ক্বাতাদাহ হতে বর্ণনা করেন, আনাস তাদের নিকট হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে (এগারজনের স্থলে) নয়জন স্ত্রীর কথা বলেছেন।
আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার অধিক মযী বের হতো। নবী (ﷺ) -এর কন্যা আমার স্ত্রী হবার কারণে আমি একজনকে নবী (ﷺ) -এর নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠালাম। তিনি প্রশ্ন করলে নবী (ﷺ) বললেনঃ উযূ কর এবং লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেল।
মুহাম্মাদ ইবন মুনতাশির তার পিতা হতে বর্ণিত। আমি আয়িশাহ-কে জিজ্ঞেস করলাম এবং আবদুল্লাহ ইবন উমার-এর উক্তি উল্লেখ করলাম,- "আমি এমন অবস্থায় ইহরাম বাধা পছন্দ করি না যাতে সকালে আমার দেহ হতে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ে।" আয়িশাহ বললেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে সুগন্ধি লাগিয়েছি, তারপর তিনি পর্যায়ক্রমে তার স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন এবং তার ইহরাম অবস্থায় সকাল হয়েছে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যেন এখনো দেখছি, নবী (ﷺ) -এর ইহরাম অবস্থায় তার সিঁথিতে খুশবুর ঔজ্জ্বল্য রয়েছে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তখন তিনি দু'হাত ধৌত করতেন এবং সালাতের উযূর মত উযূ করতেন। তারপর গোসল করতেন। পরে তার হাত দিয়ে চুল খিলাল করতেন। চামড়া ভিজেছে বলে যখন তিনি নিশ্চিত হতেন, তখন তাতে তিনবার পানি ঢালতেন। তারপর সমস্ত শরীর ধুয়ে ফেলতেন।
আয়িশাহ আরো বলেছেনঃ আমি ও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একই পাত্র হতে গোসল করতাম। আমরা একই সাথে তা হতে আজলা ভরে পানি নিতাম।
মাইমূনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জানাবাতের গোসলের জন্য পানি রাখলেন। তারপর দু'বার বা তিনবার ডান হাত দিয়ে বাম হাতের উপর পানি ঢাললেন এবং তার লজ্জাস্থান ধৌত করলেন। তারপর তার হাত মাটিতে বা দেয়ালে দু'বার বা তিনবার ঘষলেন। পরে তিনি কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং চেহারা ও দু'হাত ধৌত করলেন। তারপর তার মাথায় পানি ঢাললেন এবং তার শরীর ধুলেন। অতঃপর একটু সরে গিয়ে তার দু' পা ধৌত করলেন। মাইমূনাহ বলেনঃ অতঃপর আমি একখন্ড কাপড় দিলে তিনি তা নিলেন না, বরং নিজ হাতে পানি ঝেড়ে ফেলতে থাকলেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার সালাতের ইকামত দেয়া হলে সবাই দাড়িয়ে কাতার সোজা করছিলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের সামনে বেরিয়ে আসলেন। তিনি মুসাল্লায় দাড়ালে তার মনে হলো যে, তিনি জানাবাত অবস্থায় আছেন। তখন তিনি আমাদের বললেনঃ স্ব স্ব স্থানে দাড়িয়ে থাক। তিনি ফিরে গিয়ে গোসল করে আবার আমাদের সামনে আসলেন এবং তার মাথা হতে পানি ঝরছিল। তিনি তাকবীর (তাহরীমাহ) বাধলেন, আর আমরাও তার সাথে সালাত আদায় করলাম।
মাইমূনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) -এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম এবং কাপড় দিয়ে পর্দা করে দিলাম। তিনি দু'হাতের উপর পানি ঢেলে উভয় হাত ধুয়ে নিলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে লজ্জাস্থান ধৌত করলেন। পরে হাতে মাটি লাগিয়ে ঘষে নিলেন এবং ধুয়ে ফেললেন। অতঃপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, চেহারা ও দু' হাত (কনুই পর্যন্ত) ধৌত করলেন। তারপর মাথায় পানি ঢাললেন ও সমস্ত শরীরে পানি পৌছালেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু'পা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর আমি তাকে একটা কাপড় দিলাম কিন্তু তা নিলেন না। তিনি দু'হাত ঝাড়তে ঝাড়তে চলে গেলেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের কারও জানাবাতের গোসলের প্রয়োজন হলে সে দু'হাতে পানি নিয়ে তিনবার মাথায় ঢালত। পরে হাতে পানি নিয়ে ডান পাশে তিনবার এবং আবার অপর হাতে পানি নিয়ে বাম পাশে তিনবার ঢালত।
আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিতঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বনী ইসরাঈলের লোকেরা নগ্ন হয়ে একে অপরকে দেখা অবস্থায় গোসল করতো। কিন্তু মূসা একাকী গোসল করতেন। এতে বনী ইসরাঈলের লোকেরা বলাবলি করছিল, আল্লাহর কসম, মূসা 'কোষবৃদ্ধি' রোগের কারণেই আমাদের সাথে গোসল করেন না। একবার মূসা একটা পাথরের উপর কাপড় রেখে গোসল করছিলেন। পাথরটা তার কাপড় নিয়ে পালাতে লাগল। তখন মূসা "পাথর! আমার কাপড় দাও," "পাথর! আমার কাপড় দাও", বলে পেছনে পেছনে ছুটলেন। এদিকে বাণী ইসরাঈল মূসার দিকে তাকাল। তখন তারা বলল, আল্লাহর কসম মূসার কোন রোগ নেই। মূসা পাথর থেকে কাপড় নিয়ে পরলেন এবং পাথরটাকে পিটাতে লাগলেন। আবূ হুরায়রা বলেন, আল্লাহর কসম, পাথরটিতে ছয় কিংবা সাতটা পিটুনীর দাগ পড়ে গেল।
আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিতঃ তিনি আরো বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ এক সময় আইয়ুব বিবস্ত্রাবস্থায় গোসল করছিলেন। তখন তার উপর সোনার পঙ্গপাল বর্ষিত হচ্ছিল। আইয়ুব তার কাপড়ে সেগুলো কুড়িয়ে নিচ্ছিলেন। তখন তার রব তাকে বললেনঃ হে আইয়ুব! আমি কি তোমাকে এগুলো হতে অমুখাপেক্ষী করিনি? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যা, আপনার ইয্যতের কসম। অবশ্যই করেছেন। তবে আমি আপনার বরকত হতে বেনিয়ায নই। এভাবে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহীম আবূ হুরায়রা হতে যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ একদা আইয়ুব বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করেছিলেন।
উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি মক্কা বিজয়ের বছর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর নিকট গিয়ে তাকে গোসলরত অবস্থায় দেখলাম, ফাতিমা তাকে পর্দা করে রেখেছিলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন ইনি কে? আমি বললামঃ আমি উম্মু হানী।
মাইমূনা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) এর জন্য পর্দা করেছিলাম আর তিনি জানাবাতের গোসল করছিলেন। তিনি দু'হাত ধুলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি নিয়ে লজ্জাস্থান এবং যেখানে কিছু লেগেছিল তা ধুয়ে ফেললেন। তারপর মাটিতে বা দেয়ালে হাত ঘষলেন এবং দু'পা ছাড়া সালাতের উযূর মতই উযূ করলেন। তারপর তার সমস্ত শরীরে পানি পৌছালেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু'পা ধুলেন।
উম্মু সালামা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আবূ তালহা এর স্ত্রী উম্মু সুলায়ম আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর খিদমাতে এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা হকের ব্যাপারে লজ্জা করেন না। স্ত্রীলোকের স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করা আবশ্যক? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হ্যা, যদি সে বীর্য দেখতে পায়।
আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ তার সাথে মদ্বীনার কোন এক পথে নবী (ﷺ) এর দেখা হলো। আবূ হুরায়রা তখন জানাবাত অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলেন, আমি নিজেকে অপবিত্র মনে করে সরে পড়লাম। পরে আবূ হুরায়রা গোসল করে এলেন। পুনরায় সাক্ষাত হলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ ওহে আবূ হুরাইরা! কোথায় ছিলে? আবূ হুরায়রা বললেনঃ আমি জানাবাতের অবস্থায় আপনার সঙ্গে বসা সমীচীন মনে করিনি। তিনি বললেনঃ সুবহানাল্লাহ্! মুমিন অপবিত্র হয় না।
আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) একই রাতে পর্যায়ক্রমে তার স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হতেন। তখন তার নয়জন স্ত্রী ছিলেন।
আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমার সাথে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর সাক্ষাত হলো, তখন আমি জুনুবী ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন, আমি তার সাথে চললাম। এক স্থানে তিনি বসে পড়লেন। তখন আমি সরে পড়ে বাসস্থানে এসে গোসল করলাম। আবার তার নিকট গিয়ে তাকে বসা অবস্থায় পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন আবূ হুরায়রা! কোথায় ছিলে? আমি তাকে (ঘটনা) বললাম। তখন তিনি বললেনঃ 'সুবহানাল্লাহ্! মুমিন অপবিত্র হয় না'।
আবূ সালামা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা কে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী (ﷺ) কি জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতেন? তিনি বললেনঃ হা, তবে তিনি উযূ করে নিতেন।
উমার ইবন-খাত্তাব থেকে বর্ণিতঃ তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমাদের কেউ জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতে পারবে কি? তিনি বললেনঃ হা, উযূ করে নিয়ে জানাবাতের অবস্থায়ও ঘুমাতে পারে।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতে ইচ্ছা করতেন তখন তিনি লজ্জাস্থান ধুয়ে সালাতের উযূর মত উযূ করতেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ উমার নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমাদের কেউ জুনুবী অবস্থায় ঘুমাতে পারবে কি? তিনি বললেনঃ হা, যদি উযূ করে নেয়।
আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ উমর ইবন খাত্তাব আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বললেন, রাতে কোন সময় তার গোসল ফরয হয় (তখন কী করতে হবে?) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ উযূ করবে, লজ্জাস্থান ধুয়ে নিবে তারপর ঘুমাবে।
আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিতঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি স্ত্রীর চার শাখার মাঝে বসে তার সাথে যৌন মিলন করলে, তার উপর গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়।
যায়দ ইবন খালিদ হতে বর্ণিত। তিনি উসমান ইবন 'আফফান-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ 'কেউ যৌন মিলন করেছে, কিন্তু বীর্যপাত না হয়নি (তবে তার হুকুম কী)? উসমান বললেনঃ 'সে সালাতের ন্যায় উযূ করে নেবে এবং তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। উসমান বলেন, আমি এ কথা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) থেকে শুনেছি। (পরবর্তীতে এই আদেশ বাতিল করা হয় এবং এই ধরনের ক্ষেত্রে গোসল করা আবশ্যক হয়ে পড়ে)।
উবাই ইবন কা'ব থেকে বর্ণিতঃ তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে যৌন মিলন করে, কিন্তু বীর্যপাত না হয় (তার হুকুম কী)? তিনি বললেনঃ স্ত্রী থেকে যা লেগেছে তা ধুয়ে উযূ করবে ও সালাত আদায় করবে। (আবূ আবদুল্লাহ বলেনঃ গোসল করাই শ্রেয়, আর তা-ই সর্বশেষ হুকুম।)