সৃষ্টির সূচনা (৩১৯০-৩৩২৫)
ইমরান ইবন হুসাইন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানূ তামীমের একদল লোক নবী (ﷺ)-এর নিকট এল, তখন তিনি তাদের বললেন, হে তামীম সম্প্রদায়! সুসংবাদ গ্রহণ কর। তখন তারা বলল, আপনি তো সুসংবাদ জানিয়েছেন, এবার আমাদের দান করুন। এতে তার মুখমন্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। এমন সময় তার কাছে ইয়ামানের লোকজন এল। তখন তিনি বললেন, হে ইয়ামানবাসী! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কেননা তামীম সম্প্রদায়ের লোকেরা তা গ্রহণ করেনি। তারা বলল, আমরা গ্রহণ করলাম। তখন নবী (ﷺ) সৃষ্টির সূচনা এবং আরশ সম্পর্কে বর্ণনা করেন। এর মধ্যে জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে ইমরান! তোমার উটনীটি পালিয়ে গেছে। হায়! আমি যদি উঠে না চলে যেতাম।
ইমরান ইবন হুসাইন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার উটনীটি দরজার সঙ্গে বেধে নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তার নিকট তামীম সম্প্রদায়ের কিছু লোক এল। তিনি বললেন, হে তামীম সম্প্রদায়! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। উত্তরে তারা বলল, আপনি তো আমাদের সুসংবাদ দিয়েছেন, এবার আমাদেরকে কিছু দান করুন। একথা দু'বার বলল। অতঃপর তার নিকট ইয়ামানের কিছু লোক আসল। তিনি তাদের বললেন, হে ইয়ামানবাসী! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কারণ বানূ তামীম তা গ্রহণ করেনি। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তা গ্রহণ করলাম। তারা আরো বলল, আমরা দ্বীন সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করার জন্য আপনার খেদমতে এসেছিলাম। তখন তিনি বললেন, একমাত্র আল্লাহই ছিলেন, আর তিনি ছাড়া আর কোন কিছুই ছিল না। তার আরশ ছিল পানির উপরে। অতঃপর তিনি লাওহে মাহফুজে সব কিছু লিপিবদ্ধ করলেন এবং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। এ সময় একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করল, হে ইবন হুসাইন! আপনার উটনী পালিয়ে গেছে। তখন আমি এর খোজে চলে গেলাম। দেখলাম তা এত দূরে চলে গেছে যে, তার এবং আমার মধ্যে মরীচিকাময় ময়দান দূরত্ব হয়ে পড়েছে। আল্লাহর কসম! আমি তখন উটনীটিকে একেবারে ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছা করলাম।
তারিক ইবন শিহাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার-কে বলতে শুনেছি, একদা নবী (ﷺ) আমাদের মধ্যে দাড়ালেন। অতঃপর তিনি আমাদের সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে জ্ঞাত করলেন। অবশেষে তিনি জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীর নিজ নিজ নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করার কথাও উল্লেখ করলেন। যে ব্যক্তি এ কথাটি স্মরণ রাখতে পেরেছে, সে স্মরণ রেখেছে আর যে ভুলে যাবার সে ভুলে গেছে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, আদম সন্তান আমাকে গালি দেয় অথচ আমাকে গালি দেয়া তার উচিত নয়। আর সে আমাকে মিথ্যা জানে অথচ তার উচিত নয়। আমাকে গালি দেয়া হচ্ছে, তার এ উক্তি যে, আমার সন্তান আছে। আর তার মিথ্যা মনে করা হচ্ছে, তার এ উক্তি, যেভাবে আল্লাহ আমাকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন, সেভাবে কখনও তিনি আমাকে আবার সৃষ্টি করবেন না।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ যখন সৃষ্টির কাজ শেষ করলেন, তখন তিনি তার কিতাব লাওহে মাহ্ফুজে লিখেন, যা আরশের উপর তার নিকট আছে। নিশ্চই আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর প্রবল।
আবূ সালামাহ ইবন 'আবদির রাহমান হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন), কয়েকজন লোকের সঙ্গে একখন্ড ভূমি নিয়ে তার ঝগড়া ছিল। আয়িশাহ-এর নিকট এসে তা জানালেন। তিনি বললেন, হে আবূ সালামাহ! জমা-জমির গোলমাল হতে দূরে থাক। কেননা, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে লোক এক বিঘত পরিমাণ অন্যের জমি অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করেছে, কিয়ামতের দিন সাত তবক যমীনের হার তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে।
সালিম-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে লোক অন্যায়ভাবে কারো ভূমির সামান্যতম অংশও আত্মসাৎ করবে, কিয়ামতের দিন সাত তবক যমীনের নীচে তাকে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে।
আবূ বাকরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, আল্লাহ যে দিন আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, সে দিন হতে সময় যেভাবে আবর্তিত হচ্ছিল আজও তা সেভাবে আবর্তিত হচ্ছে। বারো মাসে এক বছর। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। যুল-কা'দাহ, যূল-হিজ্জাহ ও মুহাররাম। তিনটি মাস পরস্পর রয়েছে। আর একটি মাস হলো রজব-ই-মুযারা যা জুমাদা ও শা'বান মাসের মাঝে অবস্থিত।
সাঈদ ইবন যায়িদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইর হতে বর্ণিত। 'আরওয়া' নামক এক মহিলা এক সাহাবীর বিরুদ্ধে মারওয়ানের নিকট তার ঐ পাওনার ব্যাপারে মামলা দায়ের করল, যা তার ধারণায় তিনি নষ্ট করেছেন। ব্যাপার শুনে সাঈদ বললেন, আমি কি তার সামান্য হকও নষ্ট করতে পারি? আমি তো সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জুলুম করে অন্যের এক বিঘত যমীনও আত্মসাৎ করে, কিয়ামতের দিন সাত তবক যমীনের শিকল তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে।
আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সূর্য অস্ত যাবার সময় আবূ যার-কে বললেন, তুমি কি জান, সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, তা যেতে যেতে আরশের নীচে গিয়ে সাজ্দাহয় পড়ে যায়। অতঃপর সে আবার উদিত হবার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেয়া হয়। আর শীঘ্রই এমন সময় আসবে যে, সিজ্দা করবে কিন্তু তা কবূল করা হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে, যে পথ দিয়ে আসলে ঐ পথেই ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হয় এটাই মর্ম হল মহান আল্লাহর বাণীরঃ "আর সূর্য নিজ গন্তব্যে (অথবা) কক্ষ পথে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।"
আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন সূর্য ও চন্দ্র দু'টিকেই গুটিয়ে নেয়া হবে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না, বরং এ দু'টো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন মাত্র। কাজেই তোমরা যখন তা ঘটতে দেখবে তখন সালাত আদায় করবে।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, সূর্য এবং চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্য হতে দু'টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কাজেই তোমরা যখন তা ঘটতে দেখবে তখন আল্লাহর যিক্র করবে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, যেদিন সূর্যগ্রহণ হল, সে দিন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাতে দাড়ালেন। অতঃপর তাকবীর বললেন এবং দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকু করলেন অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন এবং বললেন, সামিআল্লাহুলিমান হামিদাহ "আল্লাহ তার কথা শোনেন যে তার প্রশংসা করে।" এবং তিনি আগের মত দাড়ালেন। আর দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন কিন্তু তা প্রথম কিরাআত থেকে কম ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘক্ষণ রুকূ করলেন কিন্তু তা প্রথম রাকাতের চেয়ে কম ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ সাজ্দাহ করলেন। তিনি শেষ রাকাতেও ঐ রকমই করলেন, পরে সালাম ফিরালেন। এ সময় সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গেছে। তখন তিনি মানুষদের উদ্দেশে খুত্বা দিলেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ সম্পর্কে বললেন, অবশ্যই এ দু'টি আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্যে দু'টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু ও জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ-চন্দ্রগ্রহণ হয় না। অতএব যখনই তোমরা তা ঘটতে দেখবে তখনই সালাতে ভয়-ভীতি নিয়ে লিপ্ত হবে।
আবূ মাসঊদ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু ও জন্মের কারণে হয় না। উভয়টি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে হতে দু'টি নিদর্শন। অতএব যখন তোমরা তা ঘটতে দেখবে, তখন তোমরা সালাত আদায় করবে।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, পূর্বের বাতাস দ্বারা আমাকে সাহায্য করা হয়েছে, আর পশ্চিমের বাতাস দ্বারা আদ জাতিকে হালাক করা হয়েছে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন আকাশে মেঘ দেখতেন, তখন একবার সামনে আগাতেন, আবার পেছনে সরে যেতেন। আবার কখনও ঘরে প্রবেশ করতেন, আবার বেরিয়ে যেতেন আর তার মুখমন্ডল মলিন হয়ে যেত। পরে যখন আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করত তখন তার এ অবস্থা দূর হত। আয়িশাহ-এর কারণ জানতে চাইলে নবী (ﷺ) বলেন, আমি জানি না, এ মেঘ এমন মেঘও হতে পারে যা দেখে আদ জাতি বলেছিলঃ অতঃপর যখন তারা তাদের উপত্যকার দিকে উক্ত মেঘফেরেশতাে এগোতে দেখল।
মালিক ইবন সা'সা'আ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, আমি কাবা ঘরের নিকট নিদ্রা ও জাগরণ- এ দু'অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম। অতঃপর তিনি দু'ব্যক্তির মাঝে অপর এক ব্যক্তি নিজের অবস্থা উল্লেখ করে বললেন, আমার নিকট সোনার একটি পেয়ালা নিয়ে আসা হল- যা হিকমত ও ঈমানে ভরা ছিল। অতঃপর আমার বুক হতে পেটের নীচ পর্যন্ত চিরে ফেলা হল। অতঃপর আমার পেট যমযমের পানি দিয়ে ধোয়া হল। অতঃপর তা হিকমত ও ঈমানে পূর্ণ করা হল এবং আমার নিকট সাদা রঙের চতুষ্পদ জন্তু আনা হল, যা খচ্চর হতে ছোট আর গাধা হতে বড় বোরাক। অতঃপর তাতে চড়ে আমি জিব্রাঈল সহ চলতে চলতে পৃথিবীর নিকটতম আসমানে গিয়ে পৌছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে আর কে? উত্তর দেয়া হল, মুহাম্মদ (ﷺ)। প্রশ্ন করা হল তাকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যা। বলা হল, তাকে মারহাবা, তার আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি আদম-এর নিকট গেলাম। তাকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, পুত্র ও নবী! তোমার প্রতি মারহাবা। অতঃপর আমরা দ্বিতীয় আসমানে গেলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? তিনি বললেন, আমি জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (ﷺ)। প্রশ্ন করা হল, তাকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যা। বলা হল, তাকে মারহাবা আর তার আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি ঈসা ও ইয়াহইয়া-এর নিকট আসলাম। তারা উভয়ে বললেন, ভাই ও নবী! আপনার প্রতি মারহাবা। অতঃপর আমরা তৃতীয় আসমানে পৌছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ (ﷺ)। জিজ্ঞেস করা হল, তাকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যা। বলা হল, তাকে মারহাবা আর তার আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি ইউসুফ-এর নিকট গেলাম। তাকে আমি সালাম করলাম। তিনি বললেন, ভাই ও নবী! আপনাকে মারহাবা। অতঃপর আমরা চতুর্থ আসমানে পৌছলাম। প্রশ্ন করা হল, এ কে? তিনি বললেন, আমি জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ (ﷺ)। প্রশ্ন করা হল, তাকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? জবাবে বলা হল, হ্যা। বলা হল, তাকে মারহাবা আর তার আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি ইদ্রীস-এর নিকট গেলাম। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ভাই ও নবী! আপনাকে মারহাবা। এরপর আমরা পঞ্চম আসমানে পৌছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? বলা হয় আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন হল আপনার সঙ্গে আর কে? বলা হল, মুহাম্মদ (ﷺ)। প্রশ্ন করা হল, তাকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? বলা হল, হ্যা। বললেন, তাকে মারহাবা আর তার আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমরা হারুন-এর নিকট গেলাম। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ভাই ও নবী! আপনাকে মারহাবা। অতঃপর আমরা ষষ্ঠ আসমানে পৌছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? বলা হল, আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ (ﷺ)। বলা হল, তাকে আনার জন্য পাঠানো হয়েছে? তাকে মারহাবা আর তার আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি মূসা-এর নিকট গেলাম। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ভাই ও নবী আপনাকে মারহাবা। অতঃপর আমি যখন তার কাছ দিয়ে গেলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। তাকে বলা হল, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, হে রব! এ ব্যক্তি যে আমার পরে প্রেরিত, তার উম্মাত আমার উম্মাতের চেয়ে অধিক পরিমাণে বেহেশতে যাবে। অতঃপর আমরা সপ্তম আকাশে পৌছলাম। প্রশ্ন করা হল, এ কে? বলা হল, আমি জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ (ﷺ)। বলা হল, তাকে আনার জন্য পাঠানো হয়েছে? তাকে মারহাবা। তার আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি ইব্রাহীম-এর নিকট গেলাম। তাকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, হে পুত্র ও নবী! আপনাকে মারহাবা। অতঃপর বায়তুল মা'মূরকে আমার সামনে প্রকাশ করা হল। আমি জিব্রাঈল-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটি বায়তুল মা'মূর। প্রতিদিন এখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা সালাত আদায় করেন। এরা এখান হতে একবার বাহির হলে দ্বিতীয় বার ফিরে আসেন না। এটাই তাদের শেষ প্রবেশ। অতঃপর আমাকে 'সিদ্রাতুল মুনতাহা' দেখানো হল। দেখলাম, এর ফল যেন হাজারা নামক জায়গার মটকার মত। আর তার পাতা যেন হাতীর কান। তার উৎসমূলে চারটি ঝরণা প্রবাহিত। দু'টি ভিতরে আর দু'টি বাইরে। এ সম্পর্কে আমি জিব্রাঈলকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ভিতরের দু'টি জান্নাতে অবস্থিত। আর বাইরের দু'টির একটি হল- ফুরাত আর অপরটি হল (মিশরের) নীল নদ। অতঃপর আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়। আমি তা গ্রহণ করে মূসা-এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি বললেন, কি করে এলেন? আমি বললাম, আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছে। তিনি বললেন, আমি আপনার চেয়ে মানুষ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত আছি। আমি বনী ইসরাঈলের রোগ সরানোর যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। আপনার উম্মাত এত আদায়ে সমর্থ হবে, না। অতএব আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং তা কমানোর আবেদন করুন। আমি ফিরে গেলাম এবং তার নিকট আবেদন করলাম। তিনি সালাত চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আবার তেমন ঘটল। সালাত ত্রিশ ওয়াক্ত করে দেয়া হল। আবার তেমন ঘটলে তিনি সালাত বিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আবার তেমন ঘটল। তিনি সালাতকে দশ ওয়াক্ত করে দিলেন। অতঃপর আমি মূসা-এর নিকট আসলাম। তিনি আগের মত বললেন, এবার আল্লাহ সালাতকে পাচ ওয়াক্ত ফরজ করে দিলেন। আমি মূসার নিকট আসলাম। তিনি বললেন, কী করে আসলেন? আমি বললাম, আল্লাহ পাচ ওয়াক্ত ফরজ করে দিয়েছেন। এবারও তিনি আগের মত বললেন, আমি বললাম, আমি তা মেনে নিয়েছি। তখন আওয়াজ এল, আমি আমার ফরজ জারি করে দিয়েছি। আর আমার বান্দাদের হতে হালকা করেও দিয়েছি। আমি প্রতিটি নেকির বদলে দশগুণ সওয়াব দিব।
যায়দ ইবন ওয়াহব হতে বর্ণিত। আবদুল্লাহ বলেন, সত্যবাদী হিসেবে গৃহীত আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, নিশ্চই তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান নিজ নিজ মায়ের পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত বীর্যরূপে অবস্থান করে, অতঃপর তা জমাট বাধা রক্তে পরিণত হয়। ঐভাবে চল্লিশ দিন অবস্থান করে। অতঃপর তা গোশতপিন্ডে পরিণত হয়ে (আগের মত চল্লিশ দিন) থাকে। অতঃপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন। আর তাকে চারটি বিষয়ে আদেশ দেয়া হয়। তাকে লিপিবদ্ধ করতে বলা হয়, তার আমল, তার রিযিক, তার আয়ু এবং সে কি পাপী হবে না নেককার হবে। অতঃপর তার মধ্যে আত্মা ফুকে দেয়া হয়। কাজেই তোমাদের কোন ব্যক্তি আমল করতে করতে এমন পর্যায়ে পৌছে যে, তার এবং জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত পার্থক্য থাকে। এমন সময় তার আমলনামা তার উপর জয়ী হয়। তখন সে জাহান্নামবাসীর মত আমল করে। আর একজন আমল করতে করতে এমন স্তরে পৌছে যে, তার এবং জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাত তফাৎ থাকে, এমন সময় তার আমলনামা তার উপর জয়ী হয়। ফলে সে জান্নাতবাসীর মত আমল করে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন তখন তিনি জিব্রাঈল-কে ডেকে বলেন, নিশ্চই আল্লাহ অমুক বান্দাহকে ভালবাসেন, কাজেই তুমিও তাকে ভালবাস। তখন জিব্রাঈল-ও তাকে ভালবাসেন এবং জিব্রাঈল আকাশের অধিবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ অমুক বান্দাহকে ভালবাসেন। কাজেই তোমরা তাকে ভালবাস। তখন আকাশের অধিবাসী তাকে ভালবাসতে থাকে। অতঃপর পৃথিবীতেও তাকে সম্মানিত করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, ফেরেশতামন্ডলী মেঘমালার আড়ালে অবতরণ করেন এবং আকাশের ফায়সালাসমূহ আলোচনা করেন। তখন শয়তানেরা তা চুরি করে শোনার চেষ্টা করে এবং তার কিছু শোনেও ফেলে। অতঃপর তারা সেটা গণকের নিকট পৌছে দেয় এবং তারা তার সেই শোনা কথার সঙ্গে নিজেদের আরো শত মিথ্যা মিলিয়ে বলে থাকে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, 'জুমুআর দিন মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতা এসে দাড়িয়ে যায় এবং যে ব্যক্তি প্রথম মসজিদে প্রবেশ করে, তার নাম লিখে নেয়। অতঃপর ক্রমান্বয়ে পরবর্তীদের নামও লিখে নেয়। ইমাম যখন বসে পড়েন তখন তারা এসব লেখা পুস্তিকা বন্ধ করে দেন এবং তারা মসজিদে এসে যিক্র শুনতে থাকেন।'
সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমার মসজিদে নববীতে আগমন করেন, তখন হাস্সান ইবন সাবিত কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। তখন তিনি বললেন, এখানে আপনার চেয়ে উত্তম ব্যক্তির উপস্থিতিতেও আমি কবিতা আবৃত্তি করতাম। অতঃপর তিনি আবূ হুরাইরাহ্-এর দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি; আপনি কি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, "তুমি আমার পক্ষ হতে জবাব দাও। হে আল্লাহ! আপনি তাকে রুহুল কুদুস [জিব্রাঈল] দ্বারা সাহায্য করুন।" তিনি উত্তরে বললেন, হ্যা।
বারা' হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) হাস্সান-কে বলেছেন, তুমি তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা কর অথবা তাদের কুৎসার জবাব দাও। তোমার সঙ্গে জিব্রাঈল আছেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন বানূ গানমের গলিতে উপরে উঠা ধূলা স্বয়ং দেখতে পাচ্ছি। মূসা এতটুকু বাড়িয়ে বলেছেন, জিব্রীল বাহন নিয়ে পদচারণা করেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। হারিস ইবন হিশাম নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার নিকট ওয়াহী কিভাবে আসে? তিনি বললেন, 'সব ধরনের ওয়াহী নিয়ে ফেরেশতা আসেন। কখনো কখনো ঘণ্টার আওয়াজের মত শব্দ করে। যখন আমার নিকট ওয়াহী আসা শেষ হয়ে যায়, তখন তিনি যা বলেছেন আমি তা মুখস্থ করে ফেলি। আর এভাবে শব্দ করে ওয়াহী আসাটা আমার নিকট কঠিন মনে হয়। আর কখনও কখনও ফেরেশতা আমার নিকট মানুষের আকারে আসেন এবং আমার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোন কিছু জোড়ায় জোড়ায় দান করবে, তাকে জান্নাতের পর্যবেক্ষকগণ আহবান করতে থাকবে, হে অমুক ব্যক্তি! এ দিকে আস! তখন আবূ বাকর বললেন, এমন ব্যক্তি তো সেই যার কোন ধ্বংস নেই। তখন নবী (ﷺ) বললেন, আমি আশা করি, তুমি তাদের মধ্যে একজন হবে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) তাকে বললেন, হে আয়িশা! এই যে জিব্রীল তোমাকে সালাম দিচ্ছেন। তখন তিনি বললেন, তার প্রতি সালাম, আল্লাহর রহমত এবং তার বরকত বর্ষিত হোক। আপনি এমন কিছু দেখেন যা আমি দেখতে পাই না। এর দ্বারা তিনি নবী (ﷺ)-কে বুঝিয়েছেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জিব্রাঈল-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার কাছে যতবার আসেন তার চেয়ে অধিক আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন না কেন? রাবী বলেন, তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ "(জিবরাঈল বলল:) আমি আপনার রবের আদেশ ব্যতিরেকে আসতে পারি না। তারই আয়ত্বে রয়েছে যা কিছু আমাদের সামনে আছে, যা আমাদের পশ্চাতে আছে এবং যা কিছু এর মধ্যস্থলে আছে"- (মারইয়াম ৬৪)।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, 'জিব্রীল আমাকে এক আঞ্চলিক ভাষায় কুরআন পাঠ করে শুনিয়েছেন। কিন্তু আমি সব সময় তার নিকট বেশি ভাষায় পাঠ শুনতে চাইতাম। শেষতক তা সাতটি আঞ্চলিক ভাষায় সমাপ্ত হয়।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) লোকেদের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল ছিলেন আর রমাযান মাসে যখন জিব্রীল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি আরো অধিক দানশীল হয়ে যেতেন। জিব্রীল রমাযানের প্রতি রাতে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে কুরআন পাঠ করে শুনাতেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর সঙ্গে যখন জিব্রাঈল দেখা করতেন, তখন তিনি মানুষের কল্যাণের জন্য পাঠানো বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল হতেন।
ইবন শিহাব হতে বর্ণিত। একবার উমার ইবন আবদুল আযীয আসরের সালাত কিছুটা দেরিতে আদায় করলেন। তখন তাকে উরওয়াহ বললেন, একবার জিব্রীল আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর ইমাম হয়ে সালাত আদায় করলেন। তা শুনে উমার ইবন আবদুল আযীয বললেন, হে উরওয়াহ! কি বলছ, চিন্তা কর। উত্তরে তিনি বললেন, আমি বশীর ইবন আবূ মাসঊদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, একবার জিব্রীল আসলেন, অতঃপর তিনি আমার ইমামতি করলেন এবং তার সঙ্গে সালাত আদায় করলাম। অতঃপর আমি তার সঙ্গে সালাত আদায় করলাম। অতঃপরও আমি তার সঙ্গে সালাত আদায় করলাম। অতঃপরও আমি তার সঙ্গে সালাত আদায় করলাম। এ সময় তিনি তার আঙ্গুলে পাচ ওয়াক্ত সালাত গুণছিলেন।
আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, একবার জিব্রাঈল আমাকে বললেন, আপনার উম্মাত হতে যদি এমন ব্যক্তি মারা যায় যে আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করেনি, তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে কিংবা তিনি বলেছেন, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। নবী (ﷺ) বললেন, যদিও সে যিনা করে এবং চুরি করে। জিব্রাঈল বললেন, যদিও (সে যিনা করে ও চুরি করে তবুও)।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, ফেরেশতামন্ডলী একদলের পেছনে আর একদল আগমন করেন। একদল ফেরেশতা রাতে আসেন আর একদল ফেরেশতা দিনে আসেন। তারা ফজর ও আসর সালাতে একত্রিত হয়ে থাকেন। অতঃপর যারা তোমাদের নিকট রাত্রি কাটিয়েছিলেন তারা আল্লাহর নিকট ঊর্ধ্বে চলে যান। তখন তিনি তাদেরকে মানুষের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। অথচ তিনি তাদের চেয়ে এ ব্যাপারে সবচেয়ে অধিক জ্ঞাত আছেন। তিনি বলেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কী হালতে ছেড়ে এসেছ? উত্তরে তারা বলেন, আমরা তাদেরকে সালাতরত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি। আর আমরা তাদের নিকট সালাতরত অবস্থাতেই পৌছেছিলাম।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর জন্য প্রাণীর ছবিওয়ালা একটি বালিশ তৈরি করেছিরাম। যেন তা একটি ছোট গদী। অতঃপর তিনি আমার ঘরে এসে দু' দরজার মধ্যে দাড়ালেন আর তার চেহারা মলিন হয়ে গেল। তখন আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার কী অন্যায় হয়েছে? তিনি বললেন, এ বালিশটি কেন? আমি বললাম, এ বালিশটি আপনি এর উপর ঠেস দিয়ে বসতে পারেন সে জন্য তৈরি করেছি। নবী (ﷺ) বললেন, তুমি কি জান না যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না? আর যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আকে তাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে? (আল্লাহ) বলবেন, 'বানিয়েছ, তাকে জীবিত কর।'
আবূ ত্বলহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে বাড়িতে কুকুর থাকে আর প্রাণীর ছবি থাকে সেথায় ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
আবূ ত্বলহা হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, 'যে বাড়িতে প্রাণীর ছবি থাকে সেখানে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।' বুস্র বলেন, অতঃপর যায়িদ ইবন খালিদ রোগাক্রান্ত হন। আমরা তার সেবার জন্য গেলাম। তখন আমরা তার ঘরে একটি পর্দায় কিছু ছবি দেখতে পেলাম। তখন আমি (বুস্র) উবাইদুল্লাহ খাওলানী-কে জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কি আমাদের কাছে ছবি সম্পর্কীয় হাদীস বর্ণনা করেননি? তখন তিনি বললেন, তিনি বলেছেন, প্রাণীর; তবে কাপড়ের মধ্যে কিছু অংকণ করা নিষিদ্ধ নয়, তুমি কি তা শুননি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, হ্যা, তিনি তা বর্ণনা করেছেন।
সালিম তার পিতার নিকট হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জিবরীল নবী (ﷺ)-কে ওয়াদা দিয়েছিলেন। আমরা ঐ ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে ছবি এবং কুকুর থাকে।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, (সালাতে) ইমাম যখন 'সামিআল্লাহুলিমান হামিদাহ' (আল্লাহ তার কথা শোনেন যে তার প্রশংসা করে) বলেন, তখন তোমরা বলবে 'আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ' (হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক। আপনার জন্য সকল প্রশংসা) কেননা যার এ উক্তি ফেরেশতাগণের উক্তির সঙ্গে মিলে যাবে, তার আগের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, 'তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতে রত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতাগণ এ বলে দোয়া করতে থাকে, হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দিন এবং হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করুন যতক্ষণ পর্যন্ত লোকটি সালাত ছেড়ে না দাড়ায় কিংবা তার উযু ভঙ্গ না হয়।'
সাফওয়ান ইবন ইয়া'লা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, আমি নবী (ﷺ) -কে মিম্বরে নিম্নোক্ত আয়াতটি পাঠ করতে শুনেছি: "তারা ডাকবে: হে মালি......" এবং সুফিয়ান বলেন যে, আবদুল্লাহ এটি পাঠ করেছেন: 'তারা ডাকবে: হে মালি...' (43.77))
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, একবার তিনি নবী (ﷺ)-কে জিজেস করলেন, উহুদের দিনের চেয়ে কঠিন কোন দিন কি আপনার উপর এসেছিল? তিনি বললেন, আমি তোমার ক্বওম হতে যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, তা তো হয়েছি। তাদের হতে অধিক কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, আকাবার দিন যখন আমি নিজেকে ইবন 'আবদে ইয়ালীল ইবনে 'আবদে কলালের নিকট পেশ করেছিলাম। আমি যা চেয়েছিলাম, সে তার জবাব দেয়নি। তখন আমি এমনভাবে বিষণ্ণ চেহারা নিয়ে ফিরে এলাম যে, কারনুস সাআলিবে পৌছা পর্যন্ত আমার চিন্তা দূর হয়নি। তখন আমি মাথা উপরে উঠালাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম এক টুকরো মেঘ আমাকে ছায়া দিচ্ছে। আমি সে দিকে তাকালাম। তার মধ্যে ছিলেন জিব্রাঈল। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, আপনার ক্বওম আপনাকে যা বলেছে এবং তারা উত্তরে যা বলেছে তা সবই আল্লাহ শুনেছেন। তিনি আপনার নিকট পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন। এদের সম্পর্কে আপনার যা ইচ্ছে আপনি তাকে হুকুম দিতে পারেন। তখন পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। অতঃপর বললেন, হে মুহাম্মাদ (ﷺ)! এসব ব্যাপার আপনার ইচ্ছাধীন। আপনি যদি চান, তাহলে আমি তাদের উপর আখশাবাইন১কে চাপিয়ে দিব। উত্তরে নবী (ﷺ) বললেন, বরং আশা করি মহান আল্লাহ তাদের বংশ থেকে এমন সন্তান জন্ম দেবেন যারা এক আল্লাহর ইবাদাত করবে আর তার সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না।
আবূ ইসহাক শায়বানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যির ইবন হুবাইশ-কে মহান আল্লাহর এ বাণীঃ "অবশেষে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের দূরত্ব রইল অথবা আরও কম। তখন আল্লাহ স্বীয় বান্দার প্রতি যা ওয়াহী করার ছিল, তা ওয়াহী করলেন"- (আন্-নাজম ৯-১০)। এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ইবন মাসঊদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) জিব্রাঈল-কে দেখেছেন। তার ছয়শ'টি ডানা ছিল।
আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি এ আয়াতঃ "তিনি তো স্বীয় রবের মহান নিদর্শনসমূহ দর্শন করেছেন।" (আন্-নাজম ১৮)-এর মর্মার্থে বলেন, তিনি (নবী (ﷺ)) সবুজ বর্ণের রফরফ দেখেছেন, যা আকাশের দিগন্তকে আবৃত করে রেখেছিল।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মনে করবে যে, মুহাম্মদ (ﷺ) তার রবকে দেখেছেন, সে ব্যক্তি মহা ভুল করবে। বরং তিনি জিব্রাঈল-কে তার আসল আকার ও চেহারায় দেখেছেন। তিনি আকাশের দিকচক্রবাল জুড়ে অবস্থান করছিলেন।
মাসরূক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ-কে আল্লাহর বাণীঃ "তারপর সে তার নিকটবর্তী হল এবং অতি নিকটবর্তী হল, অবশেষে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের দূরত্ব রইল অথবা আরও কম" (আন্-নাজম ৮, ৯)-এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি জিব্রাঈল ছিলেন। তিনি সাধারণত মানুষের আকার নিয়ে তার নিকট আসতেন। কিন্তু এবার তিনি নিকটে এসেছিলেন তার আসল চেহারা নিয়ে। তখন তিনি আকাশের সম্পূর্ণ দিকচক্রবাল আবৃত করে ফেলেছিলেন।
সামূরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, আজ রাতে আমি দেখেছি, দু'ব্যক্তি আমার নিকট এসেছে। তারা বলল, যে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করছিল সে হলো দোযখের তত্ত্বাবধায়ক মালিক আর আমি জিব্রাঈল এবং ইনি মীকাঈল।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কোন লোক যদি নিজ স্ত্রীকে নিজ বিছানায় আসতে ডাকে আর সে অস্বীকার করে এবং সে ব্যক্তি স্ত্রীর উপর দুঃখ নিয়ে রাত্রি যাপন করে, তাহলে ফেরেশ্তাগণ এমন স্ত্রীর উপর সকাল পর্যন্ত লানত দিতে থাকে।
জাবির ইবন 'আবদিল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। আমার নিকট হতে কিছু দিনের জন্য ওয়াহী বন্ধ হয়ে গেল। আমি পথ চলতে ছিলাম। এরই মধ্যে আকাশ হতে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। তখন আমি আকাশের দিকে দৃষ্টি তুললাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম, হেরা পাহাড়ের গুহায় আমার নিকট যে ফেরেশতা এসেছিলেন, তিনি আকাশ ও যমীনের মাঝখানে একটি কুরসীর উপর বসে আছেন। আমি তাতে ভীত হয়ে গেলাম, এমনকি মাটিতে পড়ে যাবার উপক্রম হলাম। অতঃপর আমি আমার পরিজনের নিকট এলাম এবং বললাম, আমাকে কম্বল দিয়ে আবৃত কর, আমাকে কম্বল দিয়ে আবৃত কর। তখন মহান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ হে বস্ত্রাবৃত। উঠ, সতর্ক বাণী প্রচার কর.....অপবিত্রতা হতে দূরে থাক। (আল-মুদ্দাসসিরঃ ১-৫)
নবী (ﷺ)-এর চাচাত ভাই ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, মিরাজের রাত্রে আমি মূসা-কে দেখেছি। তিনি গোধুম বর্ণের পুরুষ ছিলেন; দেহের গঠন ছিল লম্বা। মাথার চুল ছিল কোঁকড়ানো। যেন তিনি শানূআ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি। আমি ঈসা-কে দেখতে পাই। তিনি ছিলেন মধ্যম গঠনের লোক। তার দেহবর্ণ ছিল সাদা লালে মিশ্রিত। তিনি ছিলেন মধ্যম দেহ বিশিষ্ট। মাথার চুল ছিল অকুঞ্চিত। জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক মালিক এবং দজ্জালকেও আমি দেখেছি। আল্লাহ তাআলা নবী (ﷺ)-কে বিশেষ করে যে সকল নিদর্শনসমূহ দেখিয়েছেন তার মধ্যে এগুলোও ছিল। সুতরাং তার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তুমি সন্দেহ পোষণ করবে না। আনাস এবং আবূ বাকরাহ নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন, ফেরেশতামন্ডলী মদিনা্কে দাজ্জাল হতে পাহারা দিয়ে রাখবেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি মারা যায় তখন সকাল-সন্ধ্যায় তার পরকালের আবাসস্থল তার নিকট পেশ করা হয়। সে যদি জান্নাতবাসী হয় তবে তাকে জান্নাতবাসীর আবাস স্থান আর যদি সে জাহান্নামবাসী হয় তবে তাকে জাহান্নামবাসীর আবাস স্থান দেখানো হয়।
ইমরান ইবন হুসাইন হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, 'আমি জান্নাতের অধিবাসী সম্পর্কে জ্ঞাত হয়েছি। আমি জানতে পারলাম, জান্নাতে অধিকাংশ অধিবাসী হবে দরিদ্র লোক। জাহান্নামীদের সম্পর্কে জ্ঞাত হয়েছি, আমি জানতে পারলাম, এর বেশির ভাগ অধিবাসী নারী।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'এক সময় আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি বললেন, আমি নিদ্রিত ছিলাম। দেখলাম আমি জান্নাতে অবস্থিত। হঠাৎ দেখলাম এক নারী একটি দালানের পাশে উযু করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ দালানটি কার? তারা উত্তরে বললেন, উমারের। তখন তার আত্মমর্যাদার কথা আমার স্মরণ হল। আমি পেছনের দিকে ফিরে চলে আসলাম।' একথা শুনে উমার কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আপনার সম্মুখে কি আমার কোন মর্যাদাবোধ থাকতে পারে?
আবদুল্লাহ ইবন কায়স আল-আশআরী হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, 'গুণসম্পন্ন মোতির তাবু থাকবে যার উচ্চতা ত্রিশ মাইল। এর প্রতিটি কোণে মুমিনদের জন্য এমন স্ত্রী থাকবে যাদেরকে অন্যরা কখনো দেখেনি।' আবূ 'আবদুস সামাদ ও হারিস ইবন 'উবায়দ আবূ ইমরান হতে ষাট মাইল বলে বর্ণনা করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, 'মহান আল্লাহ বলেছেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন জিনিস তৈরি করে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং যার সম্পর্কে কোন মানুষের মনে ধারণাও জন্মেনি। তোমরা চাইলে এ আয়াতটি পাঠ করতে পার, "কেউ জানে না, তাদের জন্য তাদের চোখ শীতলকারী কী জিনিস লুকানো আছে"- (আসসিজদাঃ ১৩)
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, 'যে দল প্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মত উজ্জ্বল হবে। তারা সেখানে থুথু ফেলবে না, নাক ঝাড়বে না, মলমূত্র ত্যাগ করবে না। সেখানে তাদের পাত্র হবে স্বর্ণের; তাদের চিরুণী হবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের, তাদের ধুনুচিতে থাকবে সুগন্ধি কাষ্ঠ। তাদের গায়ের ঘাম মিসকের মত সুগন্ধময় হবে। তাদের প্রত্যেকের জন্য এমন দু'জন স্ত্রী থাকবে যাদের সৌন্দর্যের কারণে গোশত ভেদ করে পায়ের নলার হাড়ের মজ্জা দেখা যাবে। তাদের মধ্যে কোন মতভেদ থাকবে না; পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের সকলের অন্তর এক অন্তরের মত হবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করতে থাকবে।'
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, 'প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল চেহারা নিয়ে প্রবেশ করবে আর তাদের পর যারা প্রবেশ করবে তারা অতি উজ্জ্বল তারার ন্যায় আকৃতি ধারণ করবে। তাদের অন্তরগুলো এক ব্যক্তির অন্তরের মত থাকবে। তাদের মধ্যে কোন রকম মতভেদ থাকবে না আর পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের প্রত্যেকের দু'জন করে স্ত্রী থাকবে। সৌন্দর্যের কারণে গোশ্ত ভেদ করে পায়ের নলার মজ্জা দেখা যাবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করবে। তারা রোগাক্রান্ত হবে না, নাক ঝাড়বে না, থুথু ফেলবে না। তাদের পাত্রসমূহ হবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের আর চিরুনীসমূহ হবে স্বর্ণের। তাদের ধুনুচিতে থাকবে সুগন্ধি কাষ্ঠ।
সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মাতের সত্তর হাজার লোক অথবা সাত লক্ষ লোক একই সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের কেউ আগে কেউ পরে এভাবে নয় আর তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল থাকবে।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-কে একটি রেশমী জুববা হাদিয়া দেয়া হল। অথচ তিনি রেশমী বস্ত্র পরতে নিষেধ করতেন; লোকেরা তা খুব পছন্দ করল। তখন তিনি বললেন, ঐ সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, অবশ্যই জান্নাতে সাদ ইবন মুআ'যের রুমাল এর থেকে বেশি সুন্দর হবে।
বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট একখানা রেশমী বস্ত্র আনা হল। লোকজন এর সৌন্দর্য এবং কমনীয়তার জন্য সেটা খুব পছন্দ করতে লাগল। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, 'অবশ্যই জান্নাতে সাদ ইবন মুআযের রুমাল এর থেকেও বেশি উত্তম হবে।
সাহল ইবন সাদ আস্সা'য়িদী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, 'জান্নাতে চাবুক পরিমাণ সামান্য জায়গাও দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা আছে তার থেকে উত্তম।'
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে এমন একটি গাছ আছে, যার ছায়ায় কোন আরোহী শত বছর পর্যন্ত চললেও তা অতিক্রম করতে পারবে না।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে যার ছায়ায় কোন আরোহী শত বছর পর্যন্ত চলতে পারবে। আর তোমরা ইচ্ছা করলে তিলাওয়াত করতে পার 'ছায়ায় দীর্ঘ প্রসারিত..' (56. 30)
আর জান্নাতে তোমাদের কারও একটি ধনুকের পরিমাণ জায়গাও ঐ জায়গা অপেক্ষা অধিক উত্তম যেখানে সূর্য উদিত হয় আর সূর্য অস্তমিত হয় (পৃথিবীর চেয়ে)।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মত উজ্জ্বল হবে আর তাদের অনুগামী দলের চেহারা আকাশের উজ্জ্বল তারকার চেয়েও অধিক সুন্দর ও উজ্জ্বল হবে। তাদের অন্তরগুলো এক ব্যক্তির অন্তরের মত হবে। তাদের মধ্যে কোন বিদ্বেষ থাকবে না, কোন হিংসা থাকবে না, তাদের প্রত্যেকের জন্য ডাগর ডাগর চোখওয়ালা দু'জন করে এমন স্ত্রী থাকবে, যাদের পদ তলের অস্থি মজ্জা ও গোশ্ত ভেদ করে দেখা যাবে।
বারাআ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, যখন নবী (ﷺ) (এর ছেলে) ইব্রাহীম ইন্তিকাল করেন, তখন তিনি বলেন, জান্নাতে এর এক ধাত্রী আছে।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, অবশ্যই জান্নাতবাসীরা তাদের উপরের বালাখানার বাসিন্দাদের এমনভাবে দেখতে পাবে, যেমন তোমরা আকাশের পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে উজ্জ্বল দীপ্তিমান নক্ষত্র দেখতে পাও। এটা হবে তাদের মধ্যে মর্যাদার পার্থক্যের কারণে। সাহাবীগণ বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! এ তো নবীগণের জায়গা। তাদের ব্যতীত অন্যরা সেখানে পৌছতে পারবে না। তিনি বললেন, হ্যা, সে সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, যেসব লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে এবং রাসূলগণকে সত্য বলে স্বীকার করবে।
সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, 'জান্নাতে আটটি দরজা। তার মধ্যে একটি দরজার নাম হবে রাইয়্যান। সাওম পালনকারী ছাড়া অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না।'
আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে, নবী (ﷺ)-এক সফরে ছিলেন, তখন তিনি বললেন, 'ঠান্ডা হতে দাও।' আবার বললেন, 'টিলাগুলোর ছায়া নীচে নেমে আসা পর্যন্ত ঠান্ডা হতে দাও।' আবার বললেন, 'সালাত ঠান্ডা হলে পরে আদায় করবে। কেননা, গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়।
আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন যে, সালাত ঠান্ডা হলে, পরে আদায় করবে। কেননা গরমের ভীষণতা জাহান্নামের উত্তাপ হতে হয়।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, 'জাহান্নাম তার রবের নিকট অভিযোগ করে বলেছে, হে রব! আমার এক অংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলেছে। তখন তিনি তাকে দু'টি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি প্রদান করেন। একটি নিঃশ্বাস শীতকালে আর একটি নিঃশ্বাস গ্রীষ্মকালে। কাজেই তোমরা গরমের তীব্রতা এবং শীতের তীব্রতা পেয়ে থাক।'
আবূ জামরাহ যুবা'য়ী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কায় ইবন আব্বাস-এর নিকট বসতাম। একবার আমি জ্বরাক্রান্ত হই। তখন তিনি আমাকে বললেন, 'তুমি তোমার গায়ের জ্বর যমযমের পানি দিয়ে ঠান্ডা কর।' কারণ, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, এটা জাহান্নামের উত্তাপ হতেই হয়ে থাকে। কাজেই তোমরা তা পানি দিয়ে ঠান্ডা কর অথবা বলেছেন, যমযমের পানি দিয়ে ঠান্ডা কর। এ বিষয়ে বর্ণনাকারী হাম্মাম সন্দেহ পোষণ করেছেন।
রাফি' ইবন খাদীজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, 'জ্বরের উৎপত্তি হয় জাহান্নামের ভীষণ উত্তাপ হতে। অতএব তোমাদের গায়ের সে তাপ পানি দ্বারা ঠান্ডা কর।'
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, 'জ্বর হয় জাহান্নামের উত্তাপ থেকে। কাজেই তোমরা তা পানি দিয়ে ঠান্ডা কর।'
ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, 'জ্বর হয় জাহান্নামের উত্তাপ থেকে, কাজেই তোমরা পানি দিয়ে তা ঠান্ডা কর।'
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের একভাগ মাত্র। বলা হল, 'হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামীদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য দুনিয়ার আগুনই তো যথেষ্ট ছিল।' তিনি বললেন, 'দুনিয়ার আগুনের উপর জাহান্নামের আগুনের তাপ আরো ঊনসত্তর গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, প্রত্যেক অংশে তার সম পরিমাণ উত্তাপ রয়েছে।'
ইয়া'লা এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-কে মিম্বারে তিলাওয়াত করতে শুনেছেন, "আর তারা ডাকবে, হে মালিক।" (যুখরুফ : ৭৭)
আবূ ওয়াইল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসামাহ-কে বলা হল, কত ভাল হত! যদি আপনি ঐ ব্যক্তির (উসমান-এর নিকট যেতেন এবং তার সঙ্গে আলোচনা করতেন। উত্তরে তিনি বললেন, আপনারা মনে করছেন যে আমি তার সঙ্গে আপনাদেরকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলব। অথচ আমি তার সঙ্গে (দাঙ্গা দমনের ব্যাপারে) গোপনে আলোচনা করছি, যেন আমি একটি দ্বার খুলে না বসি। আমি দ্বার উন্মুক্তকারীর প্রথম ব্যক্তি হতে চাই না। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট হতে কিছু শুনেছি, যার পরে আমি কোন ব্যক্তিকে যিনি আমাদের আমীর নির্বাচিত হয়েছেন এ কারণে তিনি আমাদের সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি এ কথা বলতে পারি না। লোকেরা তাকে বলল, আপনি তাকে কী বলতে শুনেছেন? উসামাহ বললেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন আগুনে পুড়ে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। এ সময় সে ঘুরতে থাকবে যেমন গাধা তার চাকা নিয়ে তার চারপাশে ঘুরতে থাকে। তখন জাহান্নামবাসীরা তার নিকট একত্রিত হয়ে তাকে বলবে, হে অমুক ব্যক্তি! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি না আমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করতে আর অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করতে? সে বলবে, আমি তোমাদেরকে সৎ কাজে আদেশ করতাম বটে, কিন্তু আমি তা করতাম না আর আমি তোমাদেরকে অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করতাম, অথচ আমিই তা করতাম।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-কে যাদু করা হয়েছিল। লায়স বলেন, আমার নিকট হিশাম পত্র লিখেন, তাতে লেখা ছিল যে, তিনি তার পিতার সূত্রে আয়িশাহ হতে হাদীস শুনেছেন এবং তা ভালভাবে মুখস্থ করেছেন। আয়িশাহ বলেন, নবী (ﷺ) কে যাদু করা হয়। এমনকি যাদুর প্রভাবে তার খেয়াল হতো যে, তিনি স্ত্রীগণের বিষয়ে কোন কাজ করে ফেলেছেন অথচ তিনি তা করেননি। শেষ পর্যন্ত একদা তিনি রোগ আরোগ্যের জন্য বারবার দোয়া করলেন, অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি জান আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন, যাতে আমার রোগের আরোগ্য আছে? আমার নিকট দু'জন লোক আসল। তাদের একজন মাথার নিকট বসল আর অপরজন আমার পায়ের নিকট বসল। অতঃপর একজন অন্যজনকে জিজ্ঞেস করল, এ ব্যক্তির রোগটা কী? জিজ্ঞাসিত লোকটি জবাব দিল, তাকে যাদু করা হয়েছে। প্রথম লোকটি বলল, তাকে যাদু কে করল? সে বলল, লবীদ ইবন আ'সাম। প্রথম ব্যক্তি বলল, কিসের দ্বারা? দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, তাকে যাদু করা হয়েছে, চিরুনি, সুতার তাগা এবং খেজুরের খোসায়। প্রথম ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, এগুলো কোথায় আছে? দ্বিতীয় ব্যক্তি জবাব দিল, যারওয়ান কূপে। তখন নবী (ﷺ) সেখানে গেলেন এবং ফিরে আসলেন, অতঃপর তিনি আয়িশাহ-কে বললেন, কূপের কাছের খেজুর গাছগুলো যেন এক একটা শয়তানের মাথা। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি সেই যাদু করা জিনিসগুলো বের করতে পেরেছেন? তিনি বলেন, না। তবে আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দিয়েছেন। আমার আশংকা হয়েছিল এসব জিনিস বের করলে মানুষের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি হতে পারে। অতঃপর সেই কূপটি বন্ধ করে দেয়া হল।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, 'তোমাদের কেউ যখন নিদ্রা যায় তখন শয়তান তার মাথার শেষভাগে তিনটি করে গিরা দিয়ে দেয়। প্রত্যেক গিরার সময় এ কথা বলে কুমন্ত্রণা দেয় যে, এখনো রাত অনেক রয়ে গেছে, কাজেই শুয়ে থাক। অতঃপর সে লোক যদি জেগে উঠে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে তখন একটি গিরা খুলে যায়। অতঃপর যদি সে উযূ করে, তবে দ্বিতীয় গিরাও খুলে যায়। আর যদি সে সালাত আদায় করে তবে সব কয়টি গিরাই খুলে যায়। আর খুশীর সঙ্গে পবিত্র মনে তার সকাল হয়, অন্যথায় অপবিত্র মনে আলস্যের সাথে তার সকাল হয়।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর নিকট এমন এক লোকের ব্যাপারে উল্লেখ করা হল, যে সারা রাত এমনকি ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিল। তখন তিনি বললেন, সে এমন লোক যার উভয় কানে অথবা তিনি বললেন, তার কানে শয়তান পেশাব করেছে।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দেখ, তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর কাছে আসে, আর তখন বলে, বিসমিল্লাহ। হে আল্লাহ! আমাদেরকে শয়তানের প্রভাব থেকে দূরে রাখ। আর আমাদেরকে যে সন্তান দান করবে তাকেও শয়তানের প্রভাব থেকে বাচিয়ে রাখ। অতঃপর তাদেরকে যে সন্তান দেয়া হবে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যখন সূর্যের এক কিনারা উদিত হবে, তখন তা পরিষ্কারভাবে উদিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত আদায় বন্ধ রাখ। আবার যখন সূর্যের এক কিনারা অস্ত যাবে তখন তা সম্পূর্ণ অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত আদায় বন্ধ রাখ।
আর তোমরা সূর্যোদয়ের সময়কে এবং সূর্যাস্তের সময়কে তোমাদের সালাতের জন্য নির্ধারিত করো না। কেননা তা শয়তানের দু' শিং-এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয়। বর্ণনাকারী বলেন, হিশাম 'শয়তান' বলেছেন না 'আশ-শয়তান' বলেছেন তা আমি জানি না।
আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, সালাত আদায়ের সময় তোমাদের কারো সম্মুখ দিয়ে যখন কেউ চলাচল করবে তখন সে তাকে অবশ্যই বাধা দিবে। সে যদি অমান্য করে তবে আবারো তাকে বাধা দিবে। অতঃপরও যদি সে অমান্য করে তবে অবশ্যই তার সঙ্গে লড়াই করবে। কেননা সে শয়তান।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে রমাযানের যাকাত (সদাকাতুল ফিত্রের) হিফাযতের দায়িত্ব প্রদান করলেন। অতঃপর আমার নিকট এক আগন্তুক আসল। সে তার দু'হাতের আজলা ভরে খাদ্যশস্য গ্রহণ করতে লাগল। তখন আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, আমি অবশ্যই তোমাকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে যাব। তখন সে একটি হাদীস উল্লেখ করল এবং বলল, যখন তুমি বিছানায় শুতে যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী পড়বে। তাহলে সর্বদা আল্লাহর পক্ষ হতে তোমার জন্য একজন হিফাযতকারী থাকবে এবং সকাল হওয়া অবধি তোমার নিকট শয়তান আসতে পারবে না। তখন নবী (ﷺ) বললেন, সে তোমাকে সত্য বলেছে, অথচ সে মিথ্যাচারী এবং শয়তান ছিল।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কারো নিকট শয়তান আসতে পারে এবং সে বলতে পারে, এ বস্তু কে সৃষ্টি করেছে? ঐ বস্তু কে সৃষ্টি করেছে? এরূপ প্রশ্ন করতে করতে শেষ পর্যন্ত বলে বসবে, তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে? যখন ব্যাপারটি এ স্তরে পৌছে যাবে তখন সে যেন অবশ্যই আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায় এবং বিরত হয়ে যায়।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যখন রমাযান মাস আরম্ভ হয়, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে শিকলে বেধে রাখা হয়।
উবাই ইবন কা'ব হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, "মূসা তার সঙ্গীকে বললেনঃ আমাদের নাশতা আন এ সফরে আমরা অবশ্যই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। সঙ্গী বললঃ আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন প্রস্তর খন্ডের কাছে বিশ্রাম করছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই আমাকে এ কথা স্মরণ রাখতে ভুলিয়ে দিয়েছিল"- (কাহ্ফ ৬২-৬৩)। আল্লাহ তাআলা মূসা-কে যে স্থানটি সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি সে স্থানটি অতিক্রম করা পর্যন্ত কোন প্রকার ক্লান্তি অনুভব করেননি।
আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে দেখেছি, তিনি পূর্ব দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, সাবধান! ফিতনা এখানেই। সাবধান! ফিতনা এখানেই। যেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে।
জাবির হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, 'সূর্যাস্তের পরপরই যখন রাত শুরু হয় অথবা বলেছেন, যখন রাতের অন্ধকার নেমে আসে তখন তোমরা তোমাদের শিশুদেরকে ঘরে আটকে রাখবে। কারণ এ সময় শয়তানেরা ছড়িয়ে পড়ে। অতঃপর যখন রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হবে তখন তাদের ছেড়ে দিতে পার আর তুমি তোমার ঘরের দরজা বন্ধ করে দাও এবং আল্লাহর নাম স্মরণ কর। তোমাদের ঘরের বাতি নিভিয়ে দাও এবং আল্লাহর নাম স্মরণ কর। তোমার পানি রাখার পাত্রের মুখ ঢেকে রাখ এবং আল্লাহর নাম স্মরণ কর। তোমার বাসনপত্র ঢেকে রাখ এবং আল্লাহর নাম স্মরণ কর। সামান্য কিছু হলেও তার ওপর দিয়ে রেখে দাও।
সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ই'তিকাফ অবস্থায় ছিলেন। আমি রাতে তার সঙ্গে দেখা করতে আসলাম। অতঃপর তার সঙ্গে কিছু কথা বললাম। অতঃপর আমি ফিরে আসার জন্য দাড়ালাম। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-ও আমাকে পৌছে দেয়ার জন্য আমার সঙ্গে উঠে দাড়ালেন। আর তার বাসস্থান ছিল উসামাহ ইবন যায়দের বাড়িতে। এ সময় দু'জন আনসারী সে স্থান দিয়ে অতিক্রম করল। তারা যখন নবী (ﷺ)-কে দেখল তখন তারা শীঘ্র চলে যেতে লাগল। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা একটু থাম। এ সাফিয়্যা বিন্তে হুয়াই। তারা বললেন, সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, মানুষের রক্তধারায় শয়তান প্রবাহমান থাকে। আমি শংকাবোধ করছিলাম, সে তোমাদের মনে কোন খারাপ ধারণা অথবা বললেন অন্য কিছু সৃষ্টি করে না কি।
সুলাইমান ইবন সুরাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন দু'জন লোক গালাগালি করছিল। তাদের এক জনের চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল এবং তার রগগুলো ফুলে গিয়েছিল। তখন নবী (ﷺ) বললেন, আমি এমন একটি দু'আ জানি, যদি এ লোকটি তা পড়ে তবে তার রাগ দূর হয়ে যাবে। সে যদি পড়ে আ'ঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তান"-আমি শয়তান হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তবে তার রাগ চলে যাবে। তখন তাকে বলল, নবী (ﷺ) বলেছেন, তুমি আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় চাও। সে বলল, আমি কি পাগল হয়েছি?
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর নিকট গমন করে এবং বলে, "হে আল্লাহ! আমাকে শয়তান হতে রক্ষা কর আর আমাকে এর মাধ্যমে যে সন্তান দিবে তাকেও শয়তান থেকে হিফাজত কর। তাহলে যদি তাদের কোন সন্তান জন্মায়, তবে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না এবং তার উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, শয়তান আমার সামনে এসেছিল। সে আমার সালাত নষ্ট করার বহু চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার উপর বিজয়ী করেন। অতঃপর পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি উল্লেখ করেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, যখন সালাতের জন্যে আযান দেয়া হয় তখন শয়তান সশব্দে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালাতে থাকে। আযান শেষ হলে সামনে এগিয়ে আসে। আবার যখন ইকামাত দেয়া হয় তখন আবার পালাতে থাকে। ইকামাত শেষ হলে আবার সামনে আসে এবং মানুষের মনে খটকা সৃষ্টি করতে থাকে আর বলতে থাকে ওটা ওটা মনে কর। এমনকি সে ব্যক্তি আর মনে রাখতে পারে না যে, সে কি তিন রাকাত পড়ল না চার রাকআত পড়ল। এ রকম যদি কারো হয়ে যায়, সে মনে রাখতে পারে না তিন রাকা'আত পড়েছে না কি চার রাকআত তখন সে যেন দু'টি সাহু সাজ্দাহ করে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তানের জন্মের সময় তার পার্শ্বদেশে শয়তান তার দুই আঙ্গুল দ্বারা খোচা মারে। ঈসা ইবন মরয়াম-এর ব্যতিক্রম। সে তাকে খোচা মারতে গিয়েছিল। তখন সে পর্দার ওপর খোচা মারে।
আলকামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গেলাম, লোকেরা বলল, ইনি আবূ দারদা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমাদের মধ্যে কি সে ব্যক্তি আছে, যাকে নবী (ﷺ)-এর মৌখিক দোয়ায় আল্লাহ শয়তান হতে রক্ষা করেছেন?' মুগীরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তার নবী (ﷺ)-এর মৌখিক দোয়ায় শয়তান হতে রক্ষা করেছেন, তিনি হলেন, আম্মার।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, 'ফেরেশতামন্ডলী মেঘের মাঝে এমন সব বিষয় আলোচনা করেন, যা পৃথিবীতে ঘটবে। তখন শয়তানেরা দু' একটি কথা শুনে ফেলে এবং তা জ্যোতিষদের কানে এমনভাবে ঢেলে দেয় যেমন বোতলে পানি ঢালা হয়। তখন তারা এ সত্য কথার সঙ্গে শত রকমের মিথ্যা বাড়িয়ে বলে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, হাই তোলা শয়তানের পক্ষ হতে হয়ে থাকে। কাজেই তোমাদের কারো যখন হাই আসবে তখন যথাসম্ভব তা রোধ করবে। কারণ তোমাদের কেউ হাই তোলার সময় যখন 'হা' বলে, তখন শয়তান হাসতে থাকে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন যখন মুশরিকরা পরাজিত হলো, তখন ইব্লীস চীৎকার করে বলল, হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা তোমাদের পেছনের লোকদের থেকে সতর্ক হও। কাজেই সামনের লোকেরা পেছনের লোকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ফলে উভয় দলের মধ্যে নতুনভাবে লড়াই শুরু হল। হুযাইফাহ হঠাৎ তার পিতা ইয়ামানকে দেখতে পেলেন। তখন তিনি (হুযাইফাহ) বললেন, হে আল্লাহর বান্দারা! আমার পিতা! আমার পিতা! কিন্তু আল্লাহর কসম, তারা বিরত হয়নি। শেষ পর্যন্ত তারা তাকে হত্যা করে ফেলল। তখন হুযায়ফা বললেন, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। উরওয়াহ বলেন, আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হওয়া পর্যন্ত হুযায়ফা দোয়া ও ইস্তিগফার করতে থাকেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে সালাতের ভিতর মানুষের এদিক-ওদিক তাকানোর বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তা হল শয়তানের এক ধরনের ছিনতাই, যা সে তোমাদের এক জনের সালাত হতে ছিনিয়ে নেয়।
আবূ ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, সৎ ও ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে হয়ে থাকে। আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের তরফ হতে হয়ে থাকে। কাজেই তোমাদের কেউ যখন ভয়ানক মন্দ স্বপ্ন দেখে তখন সে যেন তার বাম দিকে থুথু ফেলে আর শয়তানের ক্ষতি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায়। তা হলে এমন স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে লোক একশ'বার এ দোয়াটি পড়বেঃ "আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদাত পাওয়ার অধিকার নেই, তিনিই এক যার কোন শরীক নেই, রাজত্ব তারই এবং সকল প্রশংসা তারই এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান"। আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই; রাজত্ব একমাত্র তারই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তারই জন্য, আর তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। তাহলে দশটি গোলাম আযাদ করার সমান সাওয়াব তার হবে। তার জন্য একশটি সাওয়াব লেখা হবে এবং আর একশটি গুনাহ মিটিয়ে ফেলা হবে। ঐদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান হতে মাহফুজ থাকবে। কোন লোক তার চেয়ে উত্তম সাওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যা, ঐ ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে ঐ দোয়াটির আমল বেশি পরিমাণ করবে।
সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা উমার আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। তখন তার সঙ্গে কয়েকজন কুরায়শ নারী কথাবার্তা বলছিল। তারা খুব উচ্চস্বরে কথা বলছিল। অতঃপর যখন উমার অনুমতি চাইলেন, তারা উঠে শীঘ্র পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। তখন তিনি মুচকি হাসছিলেন। তখন উমার বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে সর্বদা সহাস্য রাখুন।' তিনি বললেন, আমার নিকট যে সব মহিলা ছিল তাদের ব্যাপারে আমি আশ্চর্যান্বিত হয়েছি। তারা যখনই তোমার আওয়াজ শুনল তখনই দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেল। উমার বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকেই তাদের বেশি ভয় করা উচিত ছিল।' অতঃপর তিনি মহিলাদের উদ্দেশ্য করে বললেন, হে আত্মশত্রু মহিলাগণ! তোমরা আমাকে ভয় করছ অথচ আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে ভয় করছ না? তারা জবাব দিল, হ্যা, কারণ তুমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর চেয়ে অধিক কর্কশ ভাষী ও কঠোর হৃদয়ের লোক। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, 'শপথ ঐ সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ, তুমি যে পথে চল শয়তান কখনও সে পথে চলে না বরং সে তোমার পথ ছেড়ে অন্য পথে চলে।'
আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'তোমাদের কেউ যখন ঘুম হতে উঠল এবং উযূ করল তখন তার উচিত নাক তিনবার ঝেড়ে ফেলা। কারণ, শয়তান তার নাকের ছিদ্রে রাত কাটিয়েছে।'
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান-কে বলেছেন, 'আমি তোমাকে দেখছি তুমি বকরির পাল ও মরুভূমি পছন্দ করছ। অতএব, তুমি যখন তোমার বকরির পাল নিয়ে মরুভূমিতে অবস্থান করবে, সালাতের সময় হলে আযান দিবে, আযানে তোমার স্বর উচ্চ করবে। কেননা মুআয্যিনের কন্ঠস্বর জ্বিন, মানুষ ও যে কোন বস্তু শুনে, তারা কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে।' আবূ সাঈদ বলেন, আমি এ হাদীসটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট হতে শুনেছি।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-কে মিম্বারের উপর ভাষণ দানের সময় বলতে শুনেছেন, 'সাপ মেরে ফেল। বিশেষ করে মেরে ফেল ঐ সাপ, যার মাথার উপর দু'টো সাদা রেখা আছে এবং লেজ কাটা সাপ। কারণ এ দু' প্রকারের সাপ চোখের জ্যোতি নষ্ট করে দেয় ও গর্ভপাত ঘটায়।'
আবদুল্লাহ বললেন, একদা আমি একটি সাপ মারার জন্য তার পিছু ধাওয়া করছিলাম। এমন সময় আবূ লুবাবা আমাকে ডেকে বললেন, সাপটি মেরো না। তখন আমি বললাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সাপ মারার জন্য আদেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন, এরপরে নবী (ﷺ) যে সাপ ঘরে বাস করে যাকে 'আওয়ামির' বলা হয় এমন সাপ মারতে নিষেধ করেছেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। আবু লুবাবা ও যায়েদ ইবন খাত্তাব আমাকে দেখেছিলেন।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, সে সময় অতি নিকটে যখন একজন মুসলিমের সবচেয়ে উত্তম সম্পদ হবে ছাগ-পাল। তা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় এবং বৃষ্টির এলাকায় চলে যাবে; সে ফিতনা হতে নিজের দ্বীনকে রক্ষার জন্য পলায়ন করবে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, 'কুফরীর মূল পূর্বদিকে, গর্ব এবং অহংকার ঘোড়া এবং উটের মালিকদের মধ্যে এবং বেদুইনদের মধ্যে যারা তাদের উটের পাল নিয়ে ব্যস্ত থাকে, আর শান্তি বকরির পালের মালিকদের মধ্যে।'
উকবাহ ইবন আমর আবূ মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নিজ হাতের দ্বারা ইয়ামানের দিকে ইশারা করে বললেন, ঈমান এদিকে। দেখ কঠোরতা এবং অন্তরের কাঠিন্য ঐ সব বেদুইনদের মধ্যে যারা তাদের উট নিয়ে ব্যস্ত থাকে যেখান থেকে শয়তানের শিং দু'টি উদয় হয় রাবীয়াহ ও মুযার গোত্রদ্বয়ের মধ্যে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, 'যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে তখন তোমরা আল্লাহর নিকট তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করে দোয়া কর। কেননা এ মোরগ ফিরিশতাদের দেখে আর যখন গাধার আওয়াজ শুনবে তখন শয়তান হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইবে, কেননা এ গাধাটি শয়তান দেখেছে।'
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, 'যখন রাতের আধার নেমে আসবে অথবা বলেছেন, যখন সন্ধ্যা হয়ে যাবে তখন তোমরা তোমাদের শিশুদেরকে আটকিয়ে রাখবে। কেননা এ সময় শয়তানেরা ছড়িয়ে পড়ে। আর যখন রাতের কিছু অংশ অতিক্রান্ত হবে তখন তাদেরকে ছেড়ে দিতে পার। তোমরা ঘরের দরজা বন্ধ করবে এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করবে। কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, বনী ইসরাঈলের একদল লোক নিখোজ হয়েছিল। কেউ জানে না তাদের কী হলো আর আমি তাদেরকে ইদুর বলেই মনে করি। কেননা তাদের সামনে যখন উটের দুধ রাখা হয়, তারা তা পান করে না, আর যখন তাদের সামনে ছাগী দুগ্ধ রাখা হয় তখন তারা তা পান করে। [আবূ হুরাইরাহ্ বলেন] আমি এ হাদীসটি কা'বের নিকট বললাম, তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি এটা নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন? আমি বললাম, হ্যা। অতঃপর তিনি কয়েকবার আমাকে এ কথাটি জিজ্ঞেস করলেন। তখন আমি বললাম, আমি কি তাওরাত কিতাব পড়েছি?
আয়িশাহ হতে বর্ণিত নবী (ﷺ) গিরগিটি বা রক্তচোষা টিকটিকিকে নিকৃষ্টতম ফাসিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে একে হত্যা করার আদেশ দিতে শুনিনি। আর সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস বলেন, নবী (ﷺ) একে হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন।
সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব হতে বর্ণিত যে, উম্মু শারীক তাকে খবর দিয়েছেন যে, নবী (ﷺ) তাকে গিরগিটি বা রক্তচোষা জাতীয় টিকটিকি হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, 'পিঠে দু'টি সাদা রেখাওয়ালা সাপকে হত্যা কর। কেননা এ জাতীয় সাপ দৃষ্টিশক্তি বিনষ্ট করে আর গর্ভপাত ঘটায়।'
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) লেজকাটা সাপকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর বলেছেন, এ ধরনের সাপ দৃষ্টিশক্তি বিনষ্ট করে এবং গর্ভপাত ঘটায়।
ইবন আবূ মুলায়কাহ্ হতে বর্ণিত যে, ইবন উমার প্রথমে সাপ মেরে ফেলতেন। পরে মারতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) একবার তার একটি দেয়াল ভেঙ্গে ফেলেন। তাতে তিনি সাপের খোলস দেখতে পান। তখন তিনি বললেন, দেখ! কোথায় সাপ আছে? লোকেরা দেখল তিনি বললেন, একে মেরে ফেল। এ কারণে আমি সাপ মেরে ফেললাম।
অতঃপর আবূ লুবাবার সঙ্গে আমার দেখা হল। তিনি আমাকে জানালেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, পিঠের উপর দু'টি রেখাওয়ালা এবং লেজকাটা সাপ ছাড়া অন্য কোন সাপকে তোমরা মেরো না। কেননা ওগুলো গর্ভপাত ঘটায় এবং চোখের জ্যোতি নষ্ট করে দেয়। তাই এ জাতীয় সাপ মেরে ফেল।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি সাপ হত্যা করতেন।
অতঃপর আবূ লুবাবাহ তাকে একটি হাদীস শুনালেন যে, নবী (ﷺ) ঘরে বসবাসকারী সাপ হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। ফলে তিনি সাপ মারা বন্ধ করে দেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, পাচ প্রকার প্রাণী অধিক ক্ষতিকারক। এদেরকে হারামেও (সীমানার মধ্যে) হত্যা করা যায়। এগুলো হল বিচ্ছু, ইদুর, চিল, কাক ও পাগলা কুকুর।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, পাচ প্রকারের ক্ষতিকারক প্রাণী যাদেরকে কেউ ইহরাম অবস্থায়ও যদি মেরে ফেলে, তাহলে তার কোন গুনাহ নেই। এগুলো হল বিচ্ছু, ইদুর, পাগলা কুকুর, কাক এবং চিল।
জাবির হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, 'তোমরা পাত্রগুলো ঢেকে রেখো, পান করার পাত্রগুলো বন্ধ করে রেখো, ঘরের দরজাগুলো বন্ধ করে রেখো আর সাঁঝের বেলায় তোমাদের বাচ্চাদেরকে ঘরে আটকে রেখো। কারণ এ সময় জ্বিনেরা ছড়িয়ে পড়ে এবং কোন কিছুকে দ্রুত পাকড়াও করে। আর নিদ্রাকালে বাতিগুলো নিভিয়ে দেবে। কেননা অনেক সময় ছোট ছোট ক্ষতিকারক ইদুর প্রজ্জ্বলিত সলতেযুক্ত বাতি টেনে নিয়ে যায় এবং গৃহবাসীকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়।' ইবন জুরাইজ এবং হাবীব আতা হতে "কেননা এ সময় জ্বিনেরা ছড়িয়ে পড়ে" এর স্থলে "শয়তানেরা ছড়িয়ে পড়ে" বর্ণনা করেছেন।
আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে এক গুহায় ছিলাম। তখন ওয়াল "মুরসালাতি গারকা" সূরাটি অবতীর্ণ হয়। আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর মুখ হতে সূরাটি শিখে নিচ্ছিলাম। এমন সময় একটা সাপ বেরিয়ে এল তার গর্ত হতে। আমরা তাকে মারার জন্য দৌঁড়ে যাই। কিন্তু সে আমাদের আগেই গিয়ে গর্তে ঢুকে পড়ে। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, সে তোমাদের অনিষ্ট হতে যেমন রক্ষা পেয়েছে, তোমরাও তেমন তার অনিষ্ট হতে বেচে গেছ।
ইবন উমার সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক নারী একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে গিয়েছিল, সে তাকে বেধে রেখেছিল। সে তাকে খাবারও দেয়নি, ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে যমীনের পোকা মাকড় খেতে পারত। আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রেও নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, নবীগণের মধ্যে কোন এক নবী একটি গাছের নীচে অবতরণ করেন। অতঃপর তাকে একটি পিঁপড়ায় কামড় দেয়। তিনি তার আসবাবপত্রের ব্যাপারে আদেশ দেন। এগুলো গাছের নীচ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলে পিঁপড়ার বাসা আগুন দিতে জ্বালিয়ে দেয়া হল। তখন আল্লাহ তার প্রতি ওয়াহী নাযিল করলেন, 'তুমি একটি মাত্র পিঁপড়াকে শাস্তি দিলে না কেন?'
উবাইদ ইবন হুনায়ন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ্-কে বলতে শুনেছি, নবী (ﷺ) বলেছেন, 'তোমাদের কারো পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়লে সেটাকে তাতে ডুবিয়ে দেবে। অতঃপর তাকে উঠিয়ে ফেলবে। কেননা তার এক ডানায় রোগ থাকে আর অপর ডানায় থাকে রোগের প্রতিষেধক।'
আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'এক ব্যভিচারিণীকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। সে একটি কুকুরের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন সে দেখতে পেল কুকুরটি একটি কূপের পাশে বসে হাপাচ্ছে। রাবী বলেন, পানির পিপাসা তাকে মুমূর্ষু করে দিয়েছিল। তখন সেই নারী তার মোজা খুলে তার উড়নার সঙ্গে বাধল। অতঃপর সে কূপ হতে পানি তুলল (এবং কুকুরটিকে পানি পান করালো) এ কারণে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হল।
আবূ ত্বলহা সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'যে বাড়িতে কুকুর এবং প্রাণীর ছবি থাকে তাতে ফেরেশতামন্ডলী প্রবেশ করেন না।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। 'রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুকুর মেরে ফেলতে আদেশ করেছেন।'
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি কুকুর প্রতিপালন করবে, প্রত্যেক দিন তার আমলনামা হতে এক ক্বীরাত করে সাওয়াব কমতে থাকবে। তবে ক্ষেত খামার কিংবা পশুপাল পাহারা দেয়ার কাছে নিযুক্ত শিকারী কুকুর ছাড়া।
সায়িব ইবন ইয়াযীদ সুফইয়ান ইবন আবূ যুহাইর শানাভির-এর নিকট হতে, তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি কুকুর লালন পালন করে, যা দ্বারা না কৃষির উপকার হয়, না পশুপালনের, তার আমল হতে প্রত্যহ এক কিরাত আমল কমে যায়। সায়িব জিজ্ঞেস করেন, আপনি নিজেই কি তা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে শুনেছেন? তিনি বললেন, এই কিবলার (কাবার) প্রতিপালকের শপথ!, অবশ্যই।