bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আযান (৬০৩-৮৭৫)

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (জামা'আতে সালাত আদায়ের জন্য) সহাবা-ই কিরাম আগুন জ্বালানো অথবা নাকূস বাজানোর কথা আলোচনা করেন। আবার এগুলোকে (যথাক্রমে) ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রথা বলে উল্লেখ করা হয়। অতঃপর বিলাল-কে আযানের বাক্য দু'বার করে ও ইকামতের বাক্য বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেয়া হয়।

নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার বলতেন যে, মুসলিমগণ যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন তারা সালাতের সময় অনুমান করে সমবেত হতেন। এর জন্য কোন ঘোষণা দেয়া হতো না। একদা তারা এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। কয়েকজন সাহাবী বললেন, নাসারাদের ন্যায় নাকূস বাজানোর ব্যবস্থা করা হোক। আর কয়েকজন বললেন, ইয়াহূদীদের শিঙ্গার ন্যায় শিঙ্গা ফোঁকানোর ব্যবস্থা করা হোক। উমার বললেন, সালাতের ঘোষণা দেয়ার জন্য তোমরা কি একজন লোক পাঠাতে পার না? তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হে বিলাল, উঠ এবং সালাতের জন্য ঘোষণা দাও।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল-কে আযানের শব্দ দু' দু'বার এবং "কড ক মাতিস সালাহ" ব্যতীত ইকামতের শব্দগুলো বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; মুসলিমগণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তারা সালাতের সময়ের জন্য এমন কোন সংকেত নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিলেন, যার সাহায্যে সালাতের সময় উপস্থিত এ কথা বুঝা যায়। কেউ কেউ বললেন, আগুন জ্বালানো হোক, কিংবা ঘণ্টা বাজানো হোক। তখন বিলাল-কে আযানের শব্দগুলো দু' দু'বার এবং ইকামাতের শব্দগুলো বেজোড় বলার নির্দেশ দেয়া হলো।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল-কে আযানের বাক্যগুলো দু' দু'বার এবং ইকামতের বাক্যগুলো বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেয়া হয়। ইসমাঈল বলেন, আমি এ হাদীস আইয়ূবের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, তবে 'কাদ্কামাতিস্ সালাতু' ছাড়া।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যখন সালাতের জন্য আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান হাওয়া ছেড়ে পলায়ন করে, যাতে সে আযানের শব্দ না শোনে। যখন আযান শেষ হয়ে যায়, তখন সে আবার ফিরে আসে। আবার যখন সালাতের জন্য ইকামত বলা হয়, তখন আবার দূরে সরে যায়। ইকামত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে এসে লোকের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং বলে এটা স্মরণ কর, ওটা স্মরণ কর, বিস্মৃত বিষয়গুলো সে মনে করিয়ে দেয়। এভাবে লোকটি এমন পর্যায়ে পৌছে যে, সে কয় রাকাত সালাত আদায় করেছে তা মনে করতে পারে না।

আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আনসারী মাযিনী হতে বর্ণিত তাকে তার পিতা সংবাদ দিয়েছেন যে, আবূ সাঈদ খুদরী তাকে বললেন, আমি দেখছি তুমি বক্রী চরানো এবং বন-জঙ্গলকে ভালোবাস। তাই তুমি যখন বক্রী নিয়ে থাক, বা বন-জঙ্গলে থাক এবং সালাতের জন্য আযান দাও, তখন উচ্চকন্ঠে আযান দাও। কেননা, জিন্, ইনসান বা যে কোন বস্তুই যতদূর পর্যন্ত মুয়ায্যিনের আওয়ায শুনবে, সে কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। আবূ সায়ীদ বলেন, একথা আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট শুনেছি।

আনাস হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখনই আমাদের নিয়ে কোনো গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যেতেন, ভোর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করতেন না বরং লক্ষ্য রাখতেন, যদি তিনি আযান শুনতে পেতেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হতে বিরত থাকতেন। আর যদি আযান শুনতে না পেতেন, তাহলে অভিযান চালাতেন। আনাস বলেন, আমরা খায়বারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম এবং রাতের বেলায় তাদের সেখানে পৌছলাম। যখন প্রভাত হলো এবং তিনি আযান শুনতে পেলেন না; তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সওয়ার হলেন। আমি আবূ তালহা-এর পিছনে সওয়ার হলাম। আমার পা, নবী (ﷺ) -এর পায়ের সাথে লেগে যাচ্ছিল। আনাস বলেন, তারা তাদের থলে ও কোদাল নিয়ে বেরিয়ে আমাদের দিকে আসলো। হঠাৎ তারা যখন নবী (ﷺ) -কে দেখতে পেলো, তখন বলে উঠল, 'এ যে মুহাম্মাদ, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ তার পঞ্চ বাহিনী সহ!' আনাস বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদের দেখে বলে উঠলেনঃ 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংস হোক। আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিণায় অবতরণ করি, তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত হয় মন্দ।'

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুআয্যিন যা বলে তোমরাও তাই বলবে।

ঈসা ইবন তালহা হতে বর্ণিত। একদা তিনি মু'আবিয়া-কে (আযানের জবাব দিতে) শুনেছেন যে, তিনি 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ' পর্যন্ত মুআযযিনের মতই বলেছেন।

ইয়াহ্ইয়া হতে এমনই বর্ণিত আছে। ইয়াহ্ইয়া বলেছেন, আমার কোনো ভাই আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মুআয্যিন যখন "হইয়া আলাছ ছলা" বলল, তখন মুআবিয়াহ "লা হাওলা ওয়ালা কুউওতা ইল্লা বিল্লাহ" বললেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের নবী (ﷺ)-কে আমরা এরূপ বলতে শুনেছি।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আযান শুনে দোয়া করেঃ 'হে আল্লাহ-এ পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের মালিক, মুহাম্মাদ (ﷺ) -কে ওয়াসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাকে সে মাকামে মাহমুদে পৌছে দিন যার অঙ্গীকার আপনি করেছেন'-কিয়ামতের দিন সে আমার শাফা'আত লাভের অধিকারী হবে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আযানে ও প্রথম কাতারে কী (ফাযীলাত) রয়েছে, তা যদি লোকেরা জানত, কুরআহর মাধ্যমে বাছাই ব্যতীত এ সুযোগ লাভ করা যদি সম্ভব না হত, তাহলে অবশ্যই তারা কুরআহর মাধ্যমে ফায়সালা করত। যুহরের সালাত আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করার মধ্যে কী (ফাযীলাত) রয়েছে, যদি তারা জানত, তাহলে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করত। আর ইশা ও ফজরের সালাত (জামা'আতে) আদায়ের কী ফাযীলাত তা যদি তারা জানত, তাহলে নিঃসন্দেহে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা হাজির হত।

আবদুল্লাহ ইবন হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার বর্ষণ মুখর দিনে ইবন আব্বাস আমাদের উদ্দেশে খুত্বাহ দিচ্ছিলেন। এদিকে মুআয্যিন আযান দিতে গিয়ে যখন "হইয়া আলাছ ছলা" -এ পৌছল, তখন তিনি তাকে এ ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দিলেন যে, 'লোকেরা যেন আবাসে সালাত আদায় করে নেয়।' এতে লোকেরা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল। তখন ইবন আব্বাস বললেন, তার চেয়ে যিনি অধিক উত্তম ছিলেন (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) তিনিই এরূপ করেছেন। অবশ্য জুমুআর সালাত ওয়াজিব। (তবে ওযরের কারণে নিজ আবাসস্থলে সালাত আদায় করার অনুমতি আছে)।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ বিলাল রাত থাকতেই আযান দেন। কাজেই ইবন উম্মে মাকতূম আযান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা (সাহরীর) পানাহার করতে পার। আবদুল্লাহ বলেন, ইবন উম্মে মাকতূম ছিলেন অন্ধ। যতক্ষণ না তাকে বলে দেওয়া হত যে, 'ভোর হয়েছে, ভোর হয়েছে'-ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না।

হাফসাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মুআযযিন সুবহে সাদিকের প্রতীক্ষায় থাকত (ও আযান দিত) এবং ভোর স্পষ্ট হত- জামা'আত দাড়ানোর পূর্বে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সংক্ষেপে দু'রাকাত সালাত আদায় করে নিতেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ফজরের আযান ও ইকামতের মাঝে দু' রাকাত সালাত সংক্ষেপে আদায় করতেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ বিলাল রাত থাকতে আযান দিয়ে থাকেন। কাজেই তোমরা (সাহরী) পানাহার করতে থাক; যতক্ষণ না ইবন উম্মে মাক্তূম আযান দেন।

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে। কেননা, সে রাত থাকতে আযান দেয়- যেন তোমাদের মধ্যে যারা তাহাজ্জুদের সালাতে রত তারা ফিরে যায় আর যারা ঘুমন্ত তাদেরকে জাগিয়ে দেয়। অতঃপর তিনি বললেনঃ ফজর বা সুবহে সদিক বলা যায় না- তিনি একবার আঙ্গুল উপরের দিকে উঠিয়ে নীচের দিকে নামিয়ে ইঙ্গিত করে বললেন, যতক্ষণ না এরূপ হয়ে যায়। বর্ণনাকারী যুহাইর তার শাহাদাত আঙ্গুলদ্বয় একটি অপরটির উপর রাখার পর তার ডানে ও বামে প্রসারিত করে দেখালেন।

আয়িশাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল রাত থাকতে আযান দিয়ে থাকেন। কাজেই, ইবন উম্মু মাকতূম যতক্ষণ আযান না দেয়, ততক্ষণ তোমরা (সাহারী) পানাহার করতে পার।

পূর্বের হাদিসের মতই (৬২২)।

আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল মুযানী হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মধ্যে সালাত রয়েছে। একথা তিনি তিনবার বললেন, (তারপর বলেন) যে চায় তার জন্য।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয্যিন যখন আযান দিতো, তখন নবী (ﷺ) -এর সাহাবীগণের মধ্যে কয়েকজন নবী (ﷺ) -এর বের হওয়া পর্যন্ত (মসজিদের) খুটির নিকট গিয়ে দাড়াতেন এবং এ অবস্থায় মাগরিবের পূর্বে দু' রাকাত সালাত আদায় করতেন। অথচ মাগরিবের আযান ও ইকামতের মধ্যে কিছু (সময়) থাকত না। উসমান ইবন জাবালাহ ও আবূ দাঊদ শুবাহ হতে বর্ণনা করেন যে, এ দু'য়ের মধ্যবর্তী ব্যবধান খুবই সামান্য হত।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মুআয্যিন ফজরের সালাতের প্রথম আযান শেষ করতেন তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দাড়িয়ে যেতেন এবং সুবহে সাদিকের পর ফজরের সালাতের পূর্বে দু'রাকাত সালাত সংক্ষেপে আদায় করতেন, অতঃপর ডান কাতে শুয়ে পড়তেন এবং ইকামতের জন্য মুআয্যিন তার নিকট না আসা পর্যন্ত শুয়ে থাকতেন।

আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করা যায়। তৃতীয়বার এ কথা বলার পর তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে।

মালিক ইবন হুয়াইরিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার গোত্রের কয়েকজন লোকের সঙ্গে নবী (ﷺ) -এর নিকট এলাম এবং আমরা তার নিকট বিশ রাত অবস্থান করলাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অত্যন্ত দয়ালু ও বন্ধু বৎসল ছিলেন। তিনি যখন আমাদের মধ্যে নিজ পরিজনের নিকট ফিরে যাওয়ার আগ্রহ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা পরিজনের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর, আর তাদের দ্বীন শিক্ষা দিবে এবং সালাত আদায় করবে। যখন সালাত উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের কেউ আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বয়সে বড় সে ইমামতি করবে।

আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। মুয়ায্যিন আযান দিতে চাইলে তিনি বললেনঃ ঠান্ডা হতে দাও। কিছুক্ষণ পর মুয়ায্যিন পুনরায় আযান দিতে চাইলে তিনি বললেন, ঠান্ডা হতে দাও। অতঃপর সে আবার আযান দিতে চাইলে তিনি আবার বললেন, ঠান্ডা হতে দাও। এভাবে বিলম্ব করতে করতে টিলাগুলোর ছায়া তার সমান হয়ে গেলো। পরে নবী (ﷺ) বললেনঃ উত্তাপের প্রখরতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের অংশ বিশেষ।

মালিক ইবন হুওয়ায়রিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু'জন লোক সফরে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করার জন্য নবী (ﷺ) -এর নিকট এল। নবী (ﷺ) তাদের বললেনঃ তোমরা উভয়ে যখন সফরে বেরুবে (সালাতের সময় হলে) তখন আযান দিবে, অতঃপর ইকামত দিবে এবং তোমাদের উভয়ের মধ্যে যে বয়সে বড় সে ইমামতি করবে।

মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সমবয়সী একদল যুবক নবী (ﷺ) -এর নিকট হাযির হলাম। বিশদিন ও বিশ রাত আমরা তার নিকট অবস্থান করলাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অত্যন্ত দয়ালু ও নরম স্বভাবের লোক ছিলেন। তিনি যখন বুঝতে পারলেন যে, আমরা আমাদের পরিজনের নিকট ফিরে যেতে চাই বা ফিরে যাওয়ার জন্য উৎসুক হয়ে পড়েছি, তখন তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, আমরা আমাদের পিছনে কাদের রেখে এসেছি। আমরা তাকে জানালাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের পরিজনের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর। আর তাদের (দ্বীন) শিক্ষা দাও, এবং (সৎ কাজের) নির্দেশ দাও। (বর্ণনাকারী বলেন) মালিক আরও কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছিলেন যা আমার মনে আছে বা মনে নেই। অতঃপর নবী (ﷺ) বলেছিলেনঃ তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে সালাত আদায় করবে। সালাতের সময় উপস্থিত হলে তোমাদের একজন যেন আযান দেয় এবং যে ব্যক্তি বয়সে বড় সে যেন তোমাদের ইমামতি করে।

নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচন্ড এক শীতের রাতে ইবন উমার যাজনান নামক স্থানে আযান দিলেন। অতঃপর তিনি ঘোষণা করলেনঃ তোমরা আবাস স্থলেই সালাত আদায় করে নাও। পরে তিনি আমাদের জানালেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সফরের অবস্থায় বৃষ্টি অথবা তীব্র শীতের রাতে মুয়ায্যিনকে আযান দিতে বললেন এবং সাথে সাথে এ কথাও ঘোষণা করতে বললেন যে, তোমরা নিজ বাসস্থলে সালাত আদায় কর।

আবূ জুহায়ফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে আবতাহ্ নামক জায়গায় দেখলাম, বিলাল তার নিকট আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে সালাতের সংবাদ দিলেন। অতঃপর বিলাল একটি বর্শা নিয়ে বের হলেন। অবশেষে আবতাহে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সামনে তা পুঁতে দিলেন, অতঃপর সালাতের ইকামত দিলেন।

আবূ জুহায়ফাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি বিলাল-কে আযান দিতে দেখেছেন। (এরপর তিনি বলেন) তাই আমি তার (বিলালের) ন্যায় আযানের মাঝে মুখ এদিক সেদিক (ডানে-বামে) ফিরাই।

আবূ কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। হঠাৎ তিনি লোকদের (আগমনের) আওয়ায শুনতে পেলেন। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন তোমাদের কী হয়েছিল? তারা বললেন, আমরা সালাতের জন্য তাড়াহুড়া করে আসছিলাম। নবী (ﷺ) বললেনঃ এরূপ করবে না। যখন সালাতে আসবে ধীরস্থিরভাবে আসবে (ইমামের সাথে) যতটুকু পাও আদায় করবে, আর যতটুকু ছুটে যায় তা (ইমামের সালাম ফিরানোর পর) পূর্ণ করবে।

আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তোমরা ইকামত শুনতে পাবে, তখন সালাতের দিকে চলে আসবে, তোমাদের উচিত স্থিরতা ও গাম্ভীর্য অবলম্বন করা। তাড়াহুড়া করবে না। ইমামের সাথে যতটুকু পাও তা আদায় করবে, আর যা ছুটে যায় তা পূর্ণ করবে।

আবূ ক্বাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতের ইকামত হলে আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাড়াবে না।

আবূ ক্বাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতের ইকামাত হলে আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাড়াবে না। ধীরস্থিরতার প্রতি লক্ষ্য রাখা তোমাদের জন্য একান্ত কর্তব্য।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নিজের কক্ষ হতে সালাতের জন্য তাশরীফ নিয়ে আসলেন। এদিকে সালাতের ইকামত দেয়া হয়েছে এবং কাতার সোজা করে নেয়া হয়েছে, এমন কি তিনি মুসাল্লায় দাড়ালেন, আমরা তাকবীরের অপেক্ষা করছি, এমন সময় তিনি ফিরে গেলেন এবং বলে গেলেন তোমরা নিজ নিজ স্থলে অপেক্ষা কর। আমরা নিজ নিজ অবস্থায় অপেক্ষা করতে থাকলাম যে পর্যন্ত না তিনি আমাদের কাছে বেরিয়ে আসলেন। তার মাথা হতে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ছিল, তিনি গোসল করেছিলেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) সালাতের ইকামত দেয়া হয়ে গেছে, লোকেরা তাদের কাতার সোজা করে নিয়েছে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বেরিয়ে আসলেন এবং সামনে এগিয়ে গেলেন, তখন তার উপর গোসল ফরজ ছিল। তিনি বললেনঃ তোমরা নিজ নিজ জায়গায় অপেক্ষা কর। অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন এবং গোসল করলেন, অতঃপর ফিরে আসলেন, তখন তার মাথা হতে পানি টপ্ টপ্ করে পড়ছিল। অতঃপর সবাইকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন উমার ইবন খাত্তাব নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি সালাত আদায় করতে পারিনি, এমন কি সূর্য ডুবতে লাগলো, [জাবির বলেন,] যখন কথা হচ্ছিলো তখন এমন সময়, যখন সওম পালনকারী ইফ্তার করে ফেলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমিও সে সালাতআদায় করিনি। অতঃপর নবী (ﷺ) 'বুতহান' নামক উপত্যকায় গেলেন, আমিও তার সঙ্গে ছিলাম। সেখানে তিনি উযূ করলেন এবং সূর্যাস্তের পরে তিনি (প্রথমে) "আসর সালাত আদায় করলেন, অতঃপর তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইকামত হয়ে গেছে তখনও নবী (ﷺ) মসজিদের এক পাশে এক ব্যক্তির সাথে একান্তে কথা বলছিলেন, অবশেষে যখন লোকদের ঘুম আসছিল তখন তিনি সালাতে দাড়ালেন।

হুমাইদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইকামত হয়ে যাবার পর কোন ব্যক্তি কথা বললে তার সম্পর্কে আমি সাবিত বুনানীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত একটি হাদীস বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন, সালাতের ইকামত দেয়া হয় এমন সময় এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর নিকট এলো এবং ইকামতের পরও তাকে কথার মধ্যে ব্যস্ত রাখল।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ! আমার ইচ্ছা হয়, জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করতে আদেশ দেই, অতঃপর সালাত কায়েমের আদেশ দেই, অতঃপর সালাতের আযান দেয়া হোক, অতঃপর এক ব্যক্তিকে লোকদের ইমামত করার নির্দেশ দেই। অতঃপর আমি লোকদের নিকট যাই এবং তাদের (যারা সালাতে শামিল হয়নি) ঘর জ্বালিয়ে দেই। যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তার কসম! যদি তাদের কেউ জানত যে, একটি গোশ্তহীন মোটা হাড় বা ছাগলের ভালো দু'টি পা পাবে তাহলে অবশ্যই সে ইশা সালাতের জামা'আতেও হাযির হতো।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ জামা'আতে সালাতের ফাযীলত একাকী আদায়কৃত সালাত অপেক্ষা সাতাশ গুণ বেশী।

আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছেন, একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে জামা'আতে সালাত আদায়ের ফাযীলাত পঁচিশ গুণ বেশী।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তির জামা'আতের সাথে সালাতের সওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত সালাতের সওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণ এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ করলো, অতঃপর একমাত্র সালাতের উদ্দেশে মসজিদে রওয়ানা করল তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, ফেরেশতাগণ তার জন্য এ বলে দোয়া করতে থাকেন - "হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।" আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছেন যে, জামা'আতের সালাত তোমাদের কারো একাকী সালাত হতে পঁচিশ গুণ অধিক সওয়াব রাখে। আর ফজরের সালাতে রাতের ও দিনের ফেরেশতাগণ একত্রিত হয়। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ্ বলতেন, তোমরা চাইলে (এর প্রমাণ স্বরূপ) "ফজরের সালাতে (ফেরেশতাগণ) উপস্থিত হয়"- (ইসরা ১৭/৭৮) এ আয়াত পাঠ কর।

শুআয়ব বলেন, আমাকে নাফি আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণনা করে শুনিয়েছেন যে, জামা'আতের সালাতে একাকী সালাত হতে সাতাশ গুণ অধিক সওয়াব হয়।

উম্মুদ দারদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ দারদা ভীষণ রাগান্বিত অবস্থায় আমার নিকট এলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কিসে তোমাকে রাগান্বিত করেছে? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর উম্মাতের মধ্যে জামা'আতে সালাত আদায় বাদ দিয়ে তার তরীকার আর কিছুই দেখছি না।

আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ (মসজিদ হতে) যে যত অধিক দূরত্ব অতিক্রম করে সালাতে আসে, তার তত অধিক পুণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, তার পুণ্য সে ব্যক্তির চেয়ে অধিক, যে একাকী সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় রাস্তায় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখতে পেয়ে তা সরিয়ে ফেলল। আল্লাহ তাআলা তার এ কাজ সাদরে কবুল করে তার গুনাহ মাফ করে দিলেন।

অতঃপর আল্লাহর রাসূল বললেনঃ শহীদ পাচ প্রকার- ১. প্লেগে মৃত ব্যক্তি ২. কলেরায় মৃত ব্যক্তি ৩. পানিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি ৪. চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং ৫. আল্লাহর পথে (জিহাদে) শহীদ। তিনি আরও বলেছেনঃ মানুষ যদি আযান দেয়া এবং প্রথম কাতারে সালাত আদায় করার কী ফাযীলাত তা জানত আর কুরআহর মাধ্যমে ফায়সালা করা ছাড়া সে সুযোগ না পেতো, তাহলে কুরআহর মাধ্যমে হলেও তারা সে সুযোগ গ্রহণ করতো।

আর আউয়াল ওয়াক্ত (যুহরের সালাতে যাওয়ার) কী ফাযীলত তা যদি মানুষ জানত, তাহলে এর জন্য তারা অবশ্যই সর্বাগ্রে যেত। আর ইশা ও ফজর সালাত (জামা'আতে) আদায়ে কী ফাযীলাত, তা যদি তারা জানত তা হলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এজন্য অবশ্যই উপস্থিত হতো।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বললেনঃ হে বানী সালিমাহ! তোমরা কি (মসজিদে আসার পথে) তোমাদের পদক্ষেপের নেকী কামনা কর না? "তাদের কর্ম ও কীর্তিসমূহ লিখে রাখি" (ইয়া সীন ৩৬/১২) তার এ বাণী সম্পর্কে মুজাহিদ বলেন।

ইবন মারইয়াম বলেন, আনাস হতে বর্ণিত। বানী সালিমা গোত্রের লোকেরা নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট এসে বসতি স্থাপন করতে চেয়েছিল। আনাস বলেন, কিন্তু মাদ্বীনার কোনো এলাকা একেবারে শূন্য হওয়াটা নবী (ﷺ) পছন্দ করেননি। তাই তিনি বলেনঃ তোমরা কি (মসজিদে আসা যাওয়ায়) তোমাদের পদচিহ্নগুলোর সওয়াব কামনা কর না? মুজাহিদ বলেন, যমীনে চলার পদচিহ্নসমূহ।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ইশার সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী সালাত আর নেই। এ দু' সালাতের কী ফাযীলাত, তা যদি তারা জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো। (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন) আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, মুয়ায্যিনকে ইকামাত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামত করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে অতঃপর যারা সালাতে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই।

মালিক ইবন হুওয়াইরিস সূত্রে নবী (ﷺ) হতে র্বর্ণিত, তিনি বলেন: সালাতের সময় হলে তোমাদের দু'জনের একজন আযান দিবে এবং ইকামত বলবে। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে বয়সে অধিক বড় সে ইমামাতি করবে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাতের স্থানে থাকে তার উযূ ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য ফেরেশতাগণ এ বলে দোয়া করেন যে, হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহম করুন। আর তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তির সালাতই তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়া হতে বিরত রাখে, সে সালাতে রত আছে বলে পরিগণিত হবে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, যে দিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তার নিজের (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। ১. ন্যায়পরায়ণ শাসক, ২. সে যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে তার প্রতিপালকের ইবাদতের মধ্যে, ৩. সে ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে, ৪. সে দু' ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালবাসে আল্লাহর ওয়াস্তে, একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য, ৫. সে ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহবান জানায়, কিন্তু সে এ বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, 'আমি আল্লাহকে ভয় করি', ৬. সে ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাত তা জানে না, ৭. সে ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকর করে, ফলে তার দু' চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে।

হুমাইদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কি আংটি ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, হ্যা। এক রাতে তিনি ইশার সালাত অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বে আদায় করলেন। সালাত শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ সালাতের জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষণ সালাতে রত ছিলে বলে গণ্য করা হয়েছে। আনাস বলেন, এ সময় আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর আংটির উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করছিলাম।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারীর ব্যবস্থা করে রাখেন।

আবদুল্লাহ্‌ ইবন মালিক ইবন বুহাইনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলেন। অন্য সূত্রে ইমাম বুখারী বলেন, আবদুর রহমান ....হাফ্‌স ইবন আসিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মালিক ইবন বুহাইনাহ নামক আয্‌দ গোত্রীয় এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ্‌ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে দু' রাকাত সালাত আদায় করতে দেখলেন। তখন ইকামত হয়ে গেছে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন সালাত শেষ করলেন, লোকেরা সে লোকটিকে ঘিরে ফেলল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে বললেন ঃ ফজর কি চার রাকাত? ফাজ্‌র কি চার রাকাত?

আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা আয়িশাহ-এর নিকট বসে নিয়মিত সালাত আদায় ও তার মর্যাদা সম্বন্ধে আলোচনা করছিলাম। আয়িশাহ বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন সালাতের সময় হলে আযান দেয়া হলো। তখন তিনি বললেন, আবূ বাকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। তাকে বলা হলো যে, আবু বাকর অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক, তিনি যখন আপনার স্থানে দাড়াবেন তখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আবার সে কথা বললেন এবং তারাও আবার তা-ই বললেন। তৃতীয়বারও তিনি সে কথা ব'লে বললেন, তোমরা ইউসুফের সাথীদের মত। আবূ বাকরকে নির্দেশ দাও যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। আবূ বাকর এগিয়ে গিয়ে সালাত শুরু করলেন। এদিকে নবী (ﷺ) নিজেকে একটু হাল্কাবোধ করলেন। দু'জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে বেরিয়ে এলেন। আয়িশাহ বলেন,) আমার চোখে এখনও স্পষ্ট ভাসছে। অসুস্থতার কারণে তার দু'পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। তখন আবূ বাকর পিছনে সরে আসতে চাইলেন। নবী (ﷺ) তাকে স্বস্থানে থাকার জন্য ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে আনা হলো, তিনি আবূ বাকর-এর পাশে বসলেন। আ'মাশকে জিজ্ঞেস করা হলোঃ তাহলে নবী (ﷺ) ইমামাত করছিলেন। আর আবূ বাকর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর অনুসরণে সালাত আদায় করছিলেন এবং লোকেরা আবু বাকর-এর সালাতের অনুসরণ করছিল। আ'মাশ মাথার ইঙ্গিতে বললেন, হ্যা। আবূ দাঊদ শু'বা সূত্রে আ'মাশ হতে হাদীসের কিয়দংশ উল্লেখ করেছেন। আবূ মুআবিয়াহ অতিরিক্ত বলেছেন, তিনি আবূ বাকর-এর বা দিকে বসেছিলেন এবং আবূ বাকর দাড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন একেবারে কাতর হয়ে গেলেন এবং তার রোগের তীব্রতা বেড়ে গেলো, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা-শুশ্রূষার জন্য তার অন্যান্য স্ত্রীগণের নিকট সম্মতি চাইলেন। তারা সম্মতি দিলেন। সে সময় দু' জন লোকের কাঁধে ভর করে (সালাতের জন্য) তিনি বের হলেন, তার দু' পা মাটিতে হেঁচড়িয়ে যাচ্ছিল। তিনি ছিলেন আব্বাস ও অপর এক সাহাবীর মাঝখানে। (বর্ণনাকারী) উবাইদুল্লাহ বলেন, আয়িশাহ-এর বর্ণিত এ ঘটনা ইবন আব্বাস-এর নিকট ব্যক্ত করি। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান, তিনি কে ছিলেন, যার নাম আয়িশাহ বলেননি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন আলী ইবন আবূ তালিব।

নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার একদা তীব্র শীত ও বাতাসের রাতে সালাতের আযান দিলেন। অতঃপর ঘোষণা করলেন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ আবাসস্থলে সালাত আদায় করে নাও, অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) প্রচন্ড শীত ও বৃষ্টির রাত হলে মুআয্যিনকে এ কথা বলার নির্দেশ দিতেন- "প্রত্যেকে নিজ নিজ আবাসস্থলে সালাত আদায় করে নাও।"

মাহমূদ ইবন রাবী 'আল-আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইত্বান ইবন মালিক তার নিজ গোত্রের ইমামাত করতেন। তিনি ছিলেন অন্ধ। একদা তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো কখনো ঘোর অন্ধকার ও বর্ষণ প্রবাহিত হয়ে পড়ে। অথচ আমি একজন অন্ধ ব্যক্তি। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার ঘরে কোন এক স্থানে সালাত আদায় করুন যে স্থানটিকে আমার সালাতের স্থান হিসেবে নির্ধারিত করবো। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার ঘরে এলেন এবং বললেনঃ আমার সালাত আদায়ের জন্য কোন জায়গাটি তুমি ভাল মনে কর? তিনি ইঙ্গিত করে ঘরের জায়গা দেখিয়ে দিলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সে স্থানে সালাত আদায় করলেন।

আবদুল্লাহ্ ইবন হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ঝড়-বৃষ্টির দিনে ইবন আব্বাস আমাদের উদ্দেশে খুত্বাহ দিচ্ছিলেন। মুয়াযযিন যখন "হইয়া আলাছ ছলা" পর্যন্ত পৌছল, তখন তিনি তাকে বললেন, ঘোষণা করে দাও যে, "সালাত যার যার আবাসস্থলে।" এ শুনে লোকেরা একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগলো- যেন তারা বিষয়টাকে অপছন্দ করলো। তিনি তাদের লক্ষ্য করে বললেন, মনে হয় তোমরা বিষয়টি অপছন্দ করছ। তবে, আমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তিনিই এরূপ করেছেন। একথা সত্য যে, জুমুআর সালাত ওয়াজিব। তবে তোমাদের অসুবিধায় ফেলা আমি পছন্দ করি না। ইবন আব্বাস হতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এ সূত্রে এমন উল্লেখ আছে, আমি তোমাদের গুনাহর অভিযোগে ফেলতে পছন্দ করি না যে, তোমরা হাটু পর্যন্ত কাদা মাড়িয়ে আসবে।

আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ খুদরী-কে (লাইলাতুল কাদর সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এক খন্ড মেঘ এসে এমনভাবে বর্ষণ শুরু করল যে, যার ফলে (মসজিদে নাববীর) ছাদ দিয়ে পানি পড়া শুরু হল। কেননা, (তখন মসজিদের) ছাদ ছিল খেজুরের ডালের তৈরি। এমন সময় সালাতের ইকামত দেয়া হলো, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে পানি ও কাদার উপর সিজদা করতে দেখলাম, এমন কি আমি তার কপালেও কাদামাটির চিহ্ন দেখলাম।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস-কে বলতে শুনেছি যে, এক আনসারী (সাহাবী) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বললেন, আমি আপনার সাথে মসজিদে এসে সালাত আদায় করতে অপারগ। তিনি ছিলেন মোটা। তিনি নবী (ﷺ) -এর জন্য কিছু খাবার তৈরি করলেন এবং তাকে বাড়িতে দাওয়াত করে নিয়ে গেলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে এর জন্য একটি চাটাই পেতে দিলেন এবং চাটাইয়ের এক প্রান্তে কিছু পানি ছিটিয়ে দিলেন। নবী (ﷺ) সে চাটাইয়ের উপর দু' রাকআত সালাত আদায় করলেন। জারূদ গোত্রের এক ব্যক্তি আনাস-কে জিজ্ঞেস করলো, নবী কি চাশ্তের সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, ঐ দিন ছাড়া আর কোন দিন তাকে এ সালাত আদায় করতে দেখিনি।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রাতের খাবার উপস্থিত করা হয়, আর সে সময় সালাতের ইকামত হয়ে যায়, তখন প্রথমে খাবার খেয়ে নাও।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ বিকেলের খাবার পরিবেশন করা হলে মাগরিবের সালাতের পূর্বে তা খেয়ে নিবে খাওয়া রেখে সালাতে তাড়াহুড়া করবে না।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারো সামনে রাতের খাবার এসে পড়ে, অপরদিকে সালাতের ইকামত হয়ে যায়। তখন পূর্বে খাবার খেয়ে নিবে। খাওয়া রেখে সালাতে তাড়াহুড়া করবে না। [নাফি বলেন] ইবন উমার-এর জন্য খাবার পরিবেশন করা হত, সে সময় সালাতের ইকামত দেয়া হত, তিনি খাবার শেষ না করে সালাতে আসতেন না। অথচ তিনি ইমামের কিরাআত শুনতে পেতেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন খাবার খেতে থাক, তখন সালাতের ইকামত হয়ে গেলেও খাওয়া শেষ না করে তাড়াহুড়া করবে না। আবূ আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী বলেন, আমাকে ইব্রাহীম ইবন মুনযির এ হাদীসটি ওয়াহ্ব ইবন উসমান হতে বর্ণনা করেছেন এবং ওয়াহ্ব হলেন মদিনা্বাসী।

আমর ইবন উমাইয়াহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে (বকরীর) সামনের রানের গোশ্ত কেটে খেতে দেখতে পেলাম, এমন সময় তাকে সালাতের জন্য ডাকা হলে তিনি ছুরি রেখে দিয়ে উঠে গেলেন ও নতুন উযূ না করেই সালাত আদায় করলেন।

আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) ঘরে থাকা অবস্থায় কী করতেন? তিনি বললেন, ঘরের কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। পরিবারবর্গের সহায়তা করতেন। আর সালাতের সময় হলে সালাতের জন্য চলে যেতেন।

আবূ কিলাবাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার মালিক ইবন হুওয়াইরিস আমাদের এ মসজিদে এলেন। তিনি বললেন, আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করবো, বস্তুত আমার উদ্দেশ্য সালাত আদায় করা নয় বরং নবী (ﷺ) -কে আমি যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি, তা তোমাদের দেখানোই আমার উদ্দেশ্য। [আইয়ূব বলেন] আমি আবূ কিলাবা-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কিরূপে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, আমাদের এই শাইখের মত আর শাইখ প্রথম রাকাতের সিজদা শেষ করে যখন মাথা উত্তোলন করতেন, তখন দাড়ানোর আগে একটু বসতেন।

আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) অসুস্থ হয়ে পড়লেন, ক্রমে তার অসুস্থতা তীব্রতর হলে তিনি বললেন, আবূ বাকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। আয়িশাহ বললেন, তিনি তো কোমল হৃদয়ের লোক, যখন আপনার স্থানে দাড়াবেন, তখন তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে পারবেন না। নবী (ﷺ) আবার বললেন, আবূ বাকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আয়িশাহ আবার সে কথা বললেন। তখন তিনি আবার বললেন, আবূ বাকর-কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। তোমরা ইউসুফের সাথী মহিলাদেরই মতোই। অতঃপর একজন সংবাদদাতা আবূ বাকর -এর নিকট সংবাদ নিয়ে আসলেন এবং তিনি নবী (ﷺ) -এর জীবদ্দশাতেই লোকদেরকে সঙ্গে নিয়ে সালাত আদায় করলেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বললেন, আবূ বাকর-কে বল সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আয়িশাহ বলেন, আমি বললাম, আবূ বাকর যখন আপনার স্থানে দাড়াবেন, তখন তার কান্নার দরুন লোকেরা তার কিছুই শুনতে পাবে না। কাজেই উমার-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিন। আয়িশাহ বলেন, আমি হাফ্সাহ-কে বললাম, তুমিও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বল যে, আবূ বাকর আপনার স্থানে দাড়ালে কান্নার জন্য লোকেরা কিছুই শুনতে পাবে না। তাই উমার-কে লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিন। হাফ্সাহ তাই করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, থাম, তোমরা ইউসুফ-এর সঙ্গী মহিলাদের মত। আবূ বাকর -কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। তখন হাফ্সাহ আয়িশাহ-কে বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও ভাল কিছু পেলাম না।

আনাস ইবন মালিক আনসারী যিনি নবী (ﷺ) -এর অনুসারী, খাদিম এবং সাহাবী ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অন্তিম রোগে পীড়িত অবস্থায় আবূ বাকর সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। অবশেষে যখন সোমবার এল এবং লোকেরা সালাতের জন্য কাতারে দাড়াল, তখন নবী (ﷺ) হুজরার পর্দা উঠিয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। তিনি দাড়িয়ে ছিলেন,তার চেহারা যেন কুরআনে করীমের পৃষ্ঠা (এর ন্যায় ঝলমল করছিল)। তিনি মুচকি হাসলেন। নবী (ﷺ) -কে দেখতে পেয়ে আমরা খুশীতে প্রায় আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম এবং আবূ বাকর কাতারে দাড়ানোর জন্য পিছন দিকে সরে আসছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, নবী (ﷺ) হয়তো সালাতে বেরিয়ে আসবেন। নবী (ﷺ) আমাদেরকে ইশারায় জানালেন যে, তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ করে নাও। অতঃপর তিনি পর্দা ছেড়ে দিলেন। সে দিনই তার ওফাত হয়।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রোগাক্রান্ত থাকায়) তিনদিন পর্যন্ত নবী (ﷺ) বাইরে আসেননি। এমতাবস্থায় একসময় সালাতের ইকামত দেয়া হল। আবূ বাকর ইমামাত করার জন্য অগ্রসর হচ্ছিলেন। এমন সময় নবী (ﷺ) তার ঘরের পর্দা ধরে উঠালেন। নবী (ﷺ) -এর চেহারা যখন আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তার চেহারার চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আমরা আর কখনো দেখিনি। যখন তার চেহারা আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তখন নবী (ﷺ) হাতের ইঙ্গিতে আবূ বাকর-কে (ইমামাতের জন্য) এগিয়ে যেতে বললেন এবং পর্দা ফেলে দিলেন। তারপর মৃত্যুর আগে তাকে আর দেখতে পাইনি।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর রোগ যখন খুব বেড়ে গেল, তখন তাকে সালাতের জামা'আত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, আবূ বাকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। আয়িশাহ বলেন, আমি বললাম, আবূ বাকর অত্যন্ত কোমল মনের লোক। কিরাআতের সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়বেন। তিনি বললেন, তাকেই সালাত আদায় করতে বল। আয়িশাহ সে কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনি আবার বললেন, তাকেই সালাত আদায় করতে বল। তোমরা ইউসুফ-এর সাথী মহিলাদের মত।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আবূ বাকর-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। উরওয়াহ বর্ণনা করেন, ইতোমধ্যে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একটু সুস্থতাবোধ করলেন এবং সালাতের জন্য বেরিয়ে আসলেন। তখন আবূ বাকর লোকদের ইমামাত করছিলেন। তিনি নবী (ﷺ) কে দেখে পিছিয়ে আসতে চাইলেন। নবী (ﷺ) তাকে ইঙ্গিত করলেন যে, যেভাবে আছ সেভাবেই থাক। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আবূ বাকর-এর বরাবর তার পাশে বসে গেলেন। তখন আবূ বাকর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে অনুসরণ করে সালাত আদায় করছিলেন আর লোকেরা আবূ বাকর-কে অনুসরণ করে সালাত আদায় করছিল।

সাহল ইবন সাদ সাঈদী হতে বর্ণিত যে, একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমর ইবন আওফ গোত্রের এক বিবাদ মীমাংসার জন্য সেখানে যান। ইতোমধ্যে (আসরের) সালাতের সময় হয়ে গেলে, মুয়ায্যিন আবূ বাকর-এর নিকট এসে বললেন, আপনি কি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেবেন? তা হলে ইকামত দেই? তিনি বললেন, হ্যা, আবূ বাকর সালাত আরম্ভ করলেন। লোকেরা সালাতরত অবস্থাতেই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আসলেন এবং তিনি সারিগুলো ভেদ করে প্রথম সারিতে গিয়ে দাড়ালেন। তখন সাহাবীগণ হাতে তালি দিতে লাগলেন। আবূ বাকর সালাতে আর কোন দিকে তাকাতেন না। কিন্তু সাহাবীগণ যখন অধিক করে হাতে তালি দিতে লাগলেন, তখন তিনি তাকালেন এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে দেখতে পেলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার প্রতি ইঙ্গিত করলেন- নিজের জায়গায় থাক। তখন আবু বাকর দু'হাত উঠিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নির্দেশের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে পিছিয়ে গেলেন এবং কাতারের বরাবর দাড়ালেন। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সামনে এগিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, হে আবূ বাকর! আমি তোমাকে নির্দেশ দেয়ার পর কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছিল? আবূ বাকর বললেন, আবূ কুহাফার পুত্রের জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর সামনে দাড়িয়ে সালাত আদায় করা শোভনীয় নয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাদের এক হাতে তালি দিতে দেখলাম। কারণ কী? শোন! সালাতে কারো কিছু ঘটলে সুবহানাল্লাহ্ বলবে। সুবহানাল্লাহ্ বললেই তার প্রতি দৃষ্টি দেয়া হবে। আর হাতে তালি দেয়া তো মহিলাদের জন্য।

মালিক ইবন হুওয়ায়রিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদল যুবক একদা নবী (ﷺ) -এর খেদমতে উপস্থিত হলাম এবং প্রায় বিশ রাত্রি আমরা সেখানে থাকলাম। নবী (ﷺ) ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। তাই তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা যখন নিজ দেশে ফিরে গিয়ে লোকদের দ্বীন শিক্ষা দিবে, তখন তাদের এ সময়ে অমুক সালাত আদায় করতে বলবে এবং ঐ সময়ে অমুক সালাত আদায় করতে বলবে। অতঃপর যখন সালাতের সময় হয় তখন তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়সে বড় ব্যক্তি ইমামাত করবে।

ইতবান ইবন মালিক আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (আমার গৃহে প্রবেশের) অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার ঘরের কোন জায়গাটি আমার সালাত আদায়ের জন্য তুমি পছন্দ কর। আমি আমার পছন্দ সই একটি স্থান ইঙ্গিত করে দেখালে তিনি সেখানে সালাতের জন্য দাড়ালেন, আমরা তার পিছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাড়ালাম। অতঃপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং আমরা সালাম ফিরালাম।

উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বললাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর (অন্তিম কালের) অসুস্থতা সম্পর্কে কি আপনি আমাকে কিছু শুনাবেন? তিনি বললেন, অবশ্যই। নবী (ﷺ) মারাত্মকভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল! তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি দাও। আয়িশাহ বলেন, আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। অতঃপর একটু উঠতে চাইলেন, কিন্তু বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর একটু হুঁশ ফিরে পেলে আবার তিনি জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল! তারা আপনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি রাখ। আয়িশাহ বলেন, আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। আবার উঠতে চাইলেন, কিন্তু বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আবার হুঁশ ফিরে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল! তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি রাখ। অতঃপর তিনি উঠে বসলেন, এবং গোসল করলেন। এবং উঠতে গিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আবার হুঁশ ফিরে পেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল! তারা আপনার জন্য অপেক্ষারত। ওদিকে সাহাবীগণ ইশার সালাতের জন্য নবী (ﷺ) -এর অপেক্ষায় মসজিদে বসে ছিলেন। নবী (ﷺ) আবূ বাকর-এর নিকট এ মর্মে একজন লোক পাঠালেন যে, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেন। সংবাদ বাহক আবূ বাকর-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আপনাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। আবূ বাকর অত্যন্ত কোমল মনের লোক ছিলেন, তাই তিনি উমার-কে বললেন, হে উমার! আপনি সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করে নিন। উমার বললেন, আপনিই এর অধিক যোগ্য। তাই আবূ বাকর সে কয়দিন সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী (ﷺ) একটু নিজে হাল্কাবোধ করলেন এবং দু'জন লোকের কাঁধে ভর করে যুহরের সালাতের জন্য বের হলেন। সে দু'জনের একজন ছিলেন আব্বাস। আবূ বাকর তখন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি যখন নবী (ﷺ) -কে দেখতে পেলেন, পিছনে সরে আসতে চাইলেন। নবী (ﷺ) তাকে পিছিয়ে না আসার জন্য ইঙ্গিত করলেন এবং বললেন, তোমরা আমাকে তার পাশে বসিয়ে দাও। তারা তাকে আবূ বাকর-এর পাশে বসিয়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আবু বাকর নবী (ﷺ) -এর সালাতের ইক্তিদা করে সালাত আদায় করতে লাগলেন। আর সাহাবীগণ আবূ বাকর-এর সালাতের ইক্তিদা করতে লাগলেন। নবী (ﷺ) তখন উপবিষ্ট ছিলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, নবী (ﷺ) -এর অন্তিম কালের অসুস্থতা সম্পর্কে আয়িশাহ আমাকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তা কি আমি আপনার নিকট বর্ণনা করব না? তিনি বললেন, করুন। তাই আমি তাকে সে হাদীস শুনালাম। তিনি এ বর্ণনার কোন অংশেই আপত্তি করলেন না, তবে তাকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে, আব্বাস-এর সাথে যে অপর এক সাহাবী ছিলেন, আয়িশাহ কি আপনার নিকট তার নাম বলেছেন? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি আলী।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার অসুস্থ থাকার কারণে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নিজগৃহে সালাত আদায় করেন এবং বসে সালাত আদায় করছিলেন, একদল সাহাবী তার পিছনে দাড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তিনি তাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন যে, বসে যাও। সালাত শেষ করার পর তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয় তার ইক্তিদা করার জন্য। কাজেই সে যখন রুকূ করে তখন তোমরাও রুকূ করবে এবং সে যখন রুকূ হতে মাথা উঠায় তখন তোমরাও মাথা উঠাবে, আর সে যখন বসে সালাত আদায় করে, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, একবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ঘোড়ায় সওয়ার হন অতঃপর তিনি তা হতে পড়ে যান, এতে তার ডান পাশে একটু আঘাত লাগে। তিনি কোন এক ওয়াক্তের সালাত বসে আদায় করছিলেন, আমরাও তার পিছনে বসে সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষ করার পর তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণই করা হয় তার ইক্তিদা করার জন্য। কাজেই ইমাম যখন দাড়িয়ে সালাত আদায় করে তখন তোমরাও দাড়িয়ে সালাত আদায় করবে, সে যখন রুকূ করে থাকে তোমরাও রুকূ করবে, সে যখন উঠে, তখন তোমরাও উঠবে, আর সে যখন "সামিয়া ল-লাহু-লিমান হামিদাহ" বলে তখন তোমরা "রাব্বানা ওয়া লাকা লহামদ" বলবে। আর সে যখন বসে সালাত আদায় করে, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেন, হুমাইদী বলেছেন যে, "যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করে, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর এ নির্দেশ ছিলো পূর্বে অসুস্থকালীন। অতঃপর তিনি বসে সালাত আদায় করেন এবং সাহাবীগণ তার পিছনে দাড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের বসতে নির্দেশ দেননি। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর আমলের মধ্যে সর্বশেষ আমলই গ্রহণ করতে হবে।

বারাআ হতে বর্ণিত। তিনি মিথ্যাবাদী নন তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) "সামিয়া ল-লাহু-লিমান হামিদাহ" বলার পর যতক্ষণ পর্যন্ত সিজদায় না যেতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ পিঠ বাকা করতেন না। তিনি সিজদায় যাওয়ার পর আমরা সিজদায় যেতাম।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, তোমাদের কেউ যখন ইমামের পূর্বে মাথা উঠিয়ে ফেলে, তখন সে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ তাআলা তার মাথা গাধার মাথায় পরিণত করে দিবেন, তার আকৃতি গাধার আকৃতি করে দেবেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর (মদিনায়) আগমনের পূর্বে মুহাজিরগণের প্রথম দল যখন কুবা এলাকার কোন এক স্থানে এলেন, তখন আবূ হুযাইফাহ-এর আযাদকৃত গোলাম সালিম তাদের ইমামাত করতেন। তাদের মধ্যে তিনি কুরআন সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ ছিলেন।

আনাস (ইবন মালিক) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা শোন ও আনুগত্য কর, যদিও তোমাদের উপর এমন কোন হাবশীকে নেতা নিয়োগ করা হয়-যার মাথা কিসমিসের মতো।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তারা তোমাদের ইমামাত করে। যদি তারা সঠিকভাবে আদায় করে তাহলে তার সওয়াব তোমরা পাবে। আর যদি তারা ভুল করে, তাহলে তোমাদের জন্য সওয়াব আছে, আর ভুলত্রুটির দায়িত্ব তাদের (ইমামের) উপরই বর্তাবে।

আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী বলেন, আমাকে মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ উবাইদুল্লাহ ইবন আদী ইবন খিয়ার হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উসমান ইবন 'আফফান অবরুদ্ধ থাকার সময় তার নিকট গিয়ে বললেন, আসলে আপনিই জনগণের ইমাম। আর আপনার বিপদ কী তা নিজেই বুঝতে পারছেন। আর আমাদের ইমামাত করছে বিদ্রোহীদের নেতা। ফলে আমরা গুনাহগার হবার ভয় করছি। তিনি বললেন, মানুষের আমলের মধ্যে সালাতই সর্বোত্তম। কাজেই লোকেরা যখন উত্তম কাজ করে, তখন তুমিও তাদের সাথে উত্তম কাজে অংশ নিবে, আর যখন তারা মন্দ কাজে লিপ্ত হয়, তখন তাদের মন্দ কাজ হতে বেচে থাকবে। যুবাইদী বর্ণনা করেন যে, যুহরী বলেছেন, যারা ইচ্ছে করে হিজড়া সাজে, তাদের পিছনে বিশেষ জরুরী ছাড়া সালাত আদায় করা উচিত বলে মনে করি না।

আনাস (ইবন মালিক) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) আবূ যার-কে বলেন, শোন এবং আনুগত্য কর, যদিও কোন হাবশী আমীর হয় যার মাথা কিস্মিসের মতো।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার খালা মায়মুনা-এর ঘরে রাত কাটালাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইশার সালাত আদায় করে আসলেন এবং চার রাকাত সালাত আদায় করে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর উঠে সালাতে দাড়ালেন। তখন আমিও তার বামপাশে দাড়ালাম। তিনি আমাকে তার ডানপাশে নিয়ে নিলেন এবং পাচ রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আরও দু'রাকাত সালাত আদায় করে নিদ্রা গেলেন। এমনকি আমি তার নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেলাম। তারপর তিনি (ফজরের) সালাতের জন্য বের হলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (আমার খালা) মাইমুনাহ-এর ঘরে ঘুমালাম, নবী (ﷺ) সে রাতে তার নিকট ছিলেন। তিনি (নবী (ﷺ)) উযূ করলেন। অতঃপর সালাতে দাড়ালেন। আমিও তার বামপাশে দাড়ালাম। তিনি আমাকে ধরে তার ডানপাশে নিয়ে আসলেন। আর তিনি তের রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন, এমনকি তার নাক ডাকতে শুরু করল এবং তিনি যখন ঘুমাতেন তার নাক ডাকত। অতঃপর তার নিকট মুআয্যিন এলেন, তিনি বেরিয়ে গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন এবং (নতুন) উযূ করেননি। আমর বলেন, এ হাদীস আমি বুকায়র-কে শুনালে তিনি বলেন, কুরায়ব -ও এ হাদীস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার খালা (মায়মুনা-এর নিকট রাত্রি যাপন করলাম। নবী (ﷺ) রাতের সালাতে দাড়ালেন, আমিও তার সাথে সালাত আদায় করতে দাড়ালাম। আমি তার বামপাশে দাড়িয়ে ছিলাম, তিনি আমার মাথা ধরে তার ডানপাশে দাড় করালেন।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, মুআয ইবন জাবাল নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সালাত আদায় করার পর ফিরে গিয়ে নিজ গোত্রের ইমামাত করতেন।

জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, মুআয ইবন জাবাল নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সালাত আদায় করার পর ফিরে গিয়ে নিজ গোত্রের ইমামাত করতেন। একদা তিনি ইশার সালাতে সূরাহ্‌ বাক্বারাহ পাঠ করেন। এতে এক ব্যক্তি জামা'আত হতে বেরিয়ে যায়। এজন্য মুআয তার সমালোচনা করেন। এ খবর নবী (ﷺ) -এর কাছে পৌছলে তিনি তিনবার فَتَّانٌ (ফিতনাহ সৃষ্টিকারী) অথবা فَاتِنًا (বিশৃৃংখলা সৃষ্টিকারী) শব্দটি বললেন। এবং তিনি তাকে আওসাতে মুফাস্‌সালের দু'টি সূরাহ্‌ পাঠের নির্দেশ দেন। আম্‌র বলেন, কোন‌ দু'টি সূরাহ্‌র কথা তিনি বলেছিলেন, তা আমার স্মরণ নেই।

আবূ মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সাহাবী এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি অমুকের কারণে ফজরের সালাতে অনুপস্থিত থাকি। তিনি (জামা'আতে) সালাতকে খুব দীর্ঘ করেন। আবূ মাসঊদ বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে নাসীহাত করতে গিয়ে সে দিনের ন্যায় এতো অধিক রাগান্বিত হতে আর কোনোদিন দেখিনি। তিনি বলেন, তোমাদের মাঝে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ অন্য লোক নিয়ে সালাত আদায় করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা, তাদের মধ্যে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোকও থাকে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে, তখন যেন সে সংক্ষেপ করে। কেননা, তাদের মাঝে দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ রয়েছে। আর যদি কেউ একাকী সালাত আদায় করে, তখন ইচ্ছামত দীর্ঘ করতে পারে।

আবূ মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সাহাবী এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তির জন্য আমি ফজরের সালাতে অনুপস্থিত থাকি। কেননা, তিনি আমাদের সালাত খুব দীর্ঘায়িত করেন। এ শুনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রাগান্বিত হলেন। আবূ মাসঊদ বলেন, নাসীহাত করতে গিয়ে সে দিন তিনি যেমন রাগান্বিত হয়েছিলেন, সে দিনের মত রাগান্বিত হতে তাকে আর কোন দিন দেখিনি। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে লোকেরা! তোমাদের মধ্যে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ লোকদের ইমামাত করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা, তার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোকেরা রয়েছে।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক সাহাবী দু'টি উটের পিঠে পানি নিয়ে আসছিলেন। রাতের অন্ধকার তখন ঘনীভূত হয়ে এসেছিল। এ সময় তিনি মুআয-কে সালাত আদায়রত পান, তিনি তার উট দু'টি বসিয়ে দিয়ে মুআয-এর দিকে (সালাত আদায় করতে) এগিয়ে এলেন। মুআয সূরাহ্ বাক্বারাহ বা সূরাহ্ আন-নিসা পড়তে শুরু করেন। এতে সাহাবী (জামা'আত ছেড়ে) চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন যে, মুআয এ জন্য তার সমালোচনা করেছেন। তিনি নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে মুআয-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এতে নবী (ﷺ) বললেন, হে মুআয! তুমি কি লোকদের ফিতনায় ফেলতে চাও? বা তিনি বলেছিলেন, তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তিনি একথা তিনবার বলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি "সাব্বিহ ইসমা রাব্বিকা-ল-আলা" এবং "ওয়াল-লাইলি ইযা ইআগসা" (সূরাহ্) দ্বারা সালাত আদায় করলে না কেন? কারণ, তোমার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোক সালাত আদায় করে থাকে। জাবির হতে বর্ণনা করেন যে, মুআয ইশার সালাতে সূরাহ্ বাকারাহ পাঠ করেছিলেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সালাত সংক্ষেপে এবং পূর্ণভাবে আদায় করতেন।

আবু ক্বাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, আমি অনেক সময় দীর্ঘ করে সালাত আদায়ের ইচ্ছা নিয়ে দাড়াই। পরে শিশুর কান্নাকাটি শুনে সালাত সংক্ষেপ করি। কারণ শিশুর মাকে কষ্টে ফেলা আমি পছন্দ করি না। বিশ্র ইবন বাকর, বাকিয়্যাহ ও ইবন মুবারাক আওযায়ী হতে হাদীস বর্ণনায় ওয়ালীদ ইবন মুসলিম-এর অনুসরণ করেছেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। আমি নবী (ﷺ) -এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ সালাত আর কোন ইমামের পিছনে আদায় করিনি। আর তা এজন্য যে, তিনি শিশুর কান্না শুনতে পেতেন এবং তার মায়ের ফিতনায় পড়ার আশংকায় সংক্ষেপ করতেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত শুরু করি। কিন্তু পরে শিশুর কান্না শুনে আমার সালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, শিশু কাঁদলে মায়ের মন যে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে তা আমি জানি।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত শুরু করি এবং শিশুর কান্না শুনে আমার সালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, আমি জানি শিশু কান্না করলে মায়ের মন খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয নবী (ﷺ) -এর সাথে সালাত আদায় করে নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে তাদের ইমামাত করতেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) অন্তিম রোগে আক্রান্ত থাকাকালে একবার বিলাল তার নিকট এসে সালাতের (সময় হওয়ার) সংবাদ দিলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ আবূ বাকরকে বল, যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। [আয়িশাহ বললেন] আমি বললাম, আবূ বাকর কোমল হৃদয়ের লোক, তিনি আপনার স্থানে দাড়ালে কেঁদে ফেলবেন এবং কিরাআত পড়তে পারবেন না। তিনি আবার বললেনঃ আবূ বাকরকে বল, সালাত আদায় করতে। আমি আবারও সেকথা বললাম। তখন তৃতীয় বা চতুর্থবারে তিনি বললেন, তোমরা তো ইউসুফের-সাথী রমণীদেরই মত। আবূ বাকর-কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আবূ বাকর লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন, ইতোমধ্যে নবী (ﷺ) দু'জন লোকের কাঁধে ভর করে বের হলেন। [আয়িশাহ বললেন] আমি যেন এখনও সে দৃশ্য দেখতে পাই, তিনি দু' পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়িয়ে যান। আবূ বাকর তাকে দেখতে পেয়ে পিছনে সরে আসতে লাগলেন। নবী (ﷺ) ইঙ্গিতে তাকে সালাত আদায় করতে বললেন, (তবুও) আবূ বাকর পিছনে সরে আসলেন। নবী (ﷺ) তার পাশে বসলেন, আবূ বাকর তাকবীর শুনাতে লাগলেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন (রোগে) পীড়িত হয়ে পড়েছিলেন, বিলাল এসে সালাতের কথা বললেন। নবী (ﷺ) বললেন, আবূ বাকরকে বল, লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বাকর অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাড়াবেন, তখন সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। যদি আপনি উমার-কে এ নির্দেশ দেন (তবে ভাল হয়)। তিনি (ﷺ) আবার বললেনঃ লোকদের নিয়ে আবূ বাকর-কে সালাত আদায় করতে বল। আমি হাফ্সাহ-কে বললাম, তুমি তাকে একটু বল যে, আবূ বাকর অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি যখন আপনার বদলে সে স্থানে দাড়াবেন, তখন সাহাবীগণকে কিছুই শোনাতে পারবেন না। যদি আপনি উমার-কে এ নির্দেশ দিতেন (তবে ভাল হতো)। এ শুনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমরা ইউসুফের সাথী নারীদেরই মতো। আবূ বাকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। আবূ বাকর লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নিজে একটু সুস্থবোধ করলেন এবং দু'জন সাহাবীর কাঁধে ভর দিয়ে উঠে দাড়িয়ে মসজিদে গেলেন। তার দু' পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। আবূ বাকর যখন তার আগমন টের পেলেন, পিছনে সরে যেতে উদ্যত হলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার প্রতি ইঙ্গিত করলেন (স্বস্থানে থাকার জন্য)। অতঃপর তিনি এসে আবূ বাকর-এর বামপাশে বসে গেলেন। অবশেষে আবূ বাকর দাড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আর সাহাবীগণ আবূ বাকর -এর সালাতের অনুসরণ করছিল।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দু' রাকাত আদায় করে সালাত শেষ করে ফেললেন। যূল-ইয়াদাইন তাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত কি কম করা হয়েছে, না আপনি ভুলে গেছেন? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (অন্যদের লক্ষ্য করে) বললেনঃ যূল-ইয়াদাইন কি ঠিক বলছে? সাহাবীগণ বললেন, হ্যা। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দাড়ালেন এবং আরও দু' রাকাত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর সালাম ফিরালেন এবং তাকবির বলে স্বাভাবিক সিজদার মতো অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা করলেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুহরের সালাত দু' রাকাত আদায় করলেন। তাকে বলা হল, আপনি দু' রাকাত সালাত আদায় করেছেন। তখন তিনি আরও দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরানোর পর দু'টি (সাহু) সিজদা করলেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (অন্তিম) রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বললেনঃ আবূ বাকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। আয়িশাহ বলেন, আমি তাকে বললাম, আবূ বাকর যখন আপনার স্থলে দাড়াবেন, তখন কান্নার কারণে সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। কাজেই উমার-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিন। তিনি (ﷺ) আবার বললেনঃ আবূ বাকরকে বল লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নিতে। আয়িশাহ বলেন, তখন আমি হাফসাহ-কে বললাম, তুমি তাকে বল যে, আবূ বাকর যখন আপনার স্থানে দাড়াবেন, তখন কান্নার কারণে সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। কাজেই উমার-কে বলুন তিনি যেন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করেন। হাফ্সা তাই করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ থামো! তোমরা ইউসুফের সাথী মহিলাদেরই মতো। আবূ বাকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। এতে হাফসাহ আয়িশাহ -কে (দুঃখ করে) বললেন, তোমার কাছ হতে আমি কখনো ভাল কিছু পাইনি।

নুমান ইবন বশীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করে নিবে, তা না হলে আল্লাহ তাআলা তোমাদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করে দিবেন।

আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা কাতার সোজা করে নিবে। কেননা, আমি আমার পিছনে তোমাদেরকে দেখতে পাই।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইকামত হচ্ছে, এমন সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের দিকে মুখ করে তাকালেন এবং বললেনঃ তোমাদের কাতারগুলো সোজা করে নাও আর মিলে দাড়াও। কেননা, আমি আমার পিছনে তোমাদেরকে দেখতে পাই।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পানিতে ডুবে, কলেরায়, প্লেগে এবং ভূমিধসে বা চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তিরা শহীদ।

যদি লোকেরা জানত যে, আওয়াল ওয়াক্তে সালাত আদায়ের কী ফাযীলাত, তাহলে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করে আগেভাগে আসার চেষ্টা করতো। আর ইশা ও ফজরের জামা'আতের কী ফাযীলাত যদি তারা জানত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হতো। এবং সামনের কাতারের কী ফাযীলাত তা যদি জানত, তাহলে এর জন্য তারা কুরআ ব্যবহার করতো।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ অনুসরণ করার জন্যই ইমাম নির্ধারণ করা হয়। কাজেই তার বিরুদ্ধাচরণ করবে না। তিনি যখন রুকূ করেন তখন তোমরাও রুকূ করবে। তিনি যখন "সামিয়াল- লাহুলিমান হামিদাহ" বলেন, তখন তোমরা "রাব্বানা-লাকাল হামদ" বলবে। তিনি যখন সিজদা করবেন তখন তোমরাও সিজদা করবে। তিনি যখন বসে সালাত আদায় করেন, তখন তোমরাও সবাই বসে সালাত আদায় করবে। আর তোমরা সালাতে কাতার সোজা করে নিবে, কেননা কাতার সোজা করা সালাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত।

আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করে নিবে, কেননা, কাতার সোজা করা সালাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। একবার তিনি (আনাস) মদিনায় আসলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর যুগের তুলনায় আপনি আমাদের সময়ের অপছন্দনীয় কী দেখতে পাচ্ছেন? তিনি বললেন, অন্য কোন কাজ তেমন অপছন্দনীয় মনে হচ্ছে না। তবে তোমরা (সালাতে) কাতার ঠিকমত সোজা কর না। 'উক্বাহ ইবন উবাইদ বুশাইর ইবন ইয়াসার হতে বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবন মালিক আমাদের নিকট মদিনায় এলেন......বাকী অংশ অনুরূপ।

আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করে নাও। কেননা, আমি আমার পিছন হতেও তোমাদের দেখতে পাই। আনাস বলেন আমাদের প্রত্যেকেই তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলাতাম।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন একরাতে আমি নবী (ﷺ) -এর সংগে সালাত আদায় করতে গিয়ে তার বামপাশে দাড়ালাম। তিনি আমার মাথার পিছনের দিক ধরে তার ডানপাশে নিয়ে আসলেন। অতঃপর সালাত আদায় করে শুয়ে পড়লেন। পরে তার নিকট মুয়ায্যিন এলে তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন, কিন্তু (নতুনভাবে) উযূ করলেন না।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমাদের ঘরে আমি ও একটি ইয়াতীম ছেলে নবী (ﷺ) -এর পিছনে দাড়িয়ে সালাত আদায় করলাম। আর আমার মা উম্মু সুলাইম আমাদের পিছনে দাড়িয়ে ছিলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একরাতে আমি সালাত আদায়ের জন্য নবী (ﷺ) -এর বামপাশে দাড়ালাম। তিনি আমার হাত বা বাহু ধরে তার ডানপাশে দাড় করালেন এবং তিনি তার হাতের ইঙ্গিতে বললেন, আমার পিছনের দিক দিয়ে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রাতের সালাত তার নিজ কামরায় আদায় করতেন। কামরার দেওয়ালটি ছিলো নীচু। ফলে একদা সাহাবীগণ নবী (ﷺ) -এর শরীর দেখতে পেলেন এবং (দেয়ালের অন্য পাশে) সাহাবীগণ দাড়িয়ে তার সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। সকালে তারা এ কথা বলাবলি করছিলেন। দ্বিতীয় রাতে তিনি (সালাতে) দাড়ালেন। সাহাবীগণ দাড়িয়ে তার সাথে সালাত আদায় করলেন। দু' বা তিন রাত তারা এরূপ করলেন। এরপরে (রাতে) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বসে থাকলেন, আর বের হলেন না। ভোরে সাহাবীগণ এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ আমার আশংকা হচ্ছিল যে, রাতের সালাত তোমাদের উপর ফরজ করে দেয়া হতে পারে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) -এর একটি চাটাই ছিল। তিনি তা দিনের বেলায় বিছিয়ে রাখতেন এবং রাতের বেলা তা দিয়ে কামরা বানিয়ে নিতেন। সাহাবীগণ তার পিছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাড়ান এবং তার পিছনে সালাত আদায় করেন।

যায়দ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রমাযান মাসে একটি ছোট কামরা বানালেন। তিনি (বুস্র ইবন সায়ীদ) বলেন, মনে হয়, যায়দ ইবন সাবিত কামরাটি চাটাই দিয়ে তৈরি ছিল বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি সেখানে কয়েক রাত সালাত আদায় করেন। আর তার সাহাবীগণের মধ্যে কিছু সাহাবীও তার সঙ্গে সালাত আদায় করেন। তিনি যখন তাদের সম্বন্ধে জানতে পারলেন, তখন তিনি বসে থাকলেন। পরে তিনি তাদের নিকট এসে বললেন, তোমাদের কার্যকলাপ দেখে আমি বুঝতে পেরেছি। হে লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঘরেই সালাত আদায় কর। কেননা, ফরজ সালাত ছাড়া লোকেরা ঘরে যে সালাত আদায় করে তা-ই উত্তম। 'আফফান যায়দ ইবন সাবিত সূত্রে নবী (ﷺ) হতে একই রকম বলেছেন।

আনাস ইবন মালিক আনসারী হতে বর্ণিত যে, একবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ঘোড়ায় চড়েন। ফলে তার ডান পাঁজরে আচড় লাগে। আনাস বলেন, এ সময় কোন এক সালাত আমাদের নিয়ে তিনি বসে আদায় করেন। আমরাও তার পিছনে বসে সালাত আদায় করি। সালাম ফিরানোর পর তিনি বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্যই। তাই তিনি যখন দাড়িয়ে সালাত আদায় করেন তখন তোমরাও দাড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর তিনি যখন রুকূ করেন তখন তোমরাও রুকূ করবে। তিনি যখন সিজদা করেন তখন তোমরাও সিজদা করবে। তিনি যখন "সামিয়াল- লাহুলিমান হামিদাহ" বলেন, তখন তোমরা "রাব্বানা-লাকাল হামদ" বলবে।

আনাস ইবন মালিক আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ঘোড়া হতে পড়ে গিয়ে আহত হন। তাই তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন। আমরাও তার সঙ্গে বসে সালাত আদায় করি। অতঃপর তিনি ফিরে বললেনঃ ইমাম অনুসরণের জন্যই বা তিনি বলেছিলেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয় তার অনুসরণের জন্য। তাই যখন তিনি তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, যখন রুকূ করেন তখন তোমরাও রুকূ করবে। যখন তিনি উঠেন তখন তোমরাও উঠবে। তিনি যখন "সামিয়াল- লাহুলিমান হামিদাহ" বলেন, তখন তোমরা "রাব্বানা-লাকাল হামদ" বলবে এবং তিনি যখন সিজদা করেন তখন তোমরাও সিজদা করবে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তার অনুসরণের জন্য। তাই যখন তিনি তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, যখন তিনি রুকূ করেন তখন তোমরাও রুকূ করবে। যখন "সামিয়াল- লাহুলিমান হামিদাহ" বলেন, তখন তোমরা "রাব্বানা-লাকাল হামদ" বলবে আর তিনি যখন সিজদা করেন তখন তোমরাও সিজদা করবে। যখন তিনি বসে সালাত আদায় করেন তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন সালাত শুরু করতেন, তখন উভয় হাত তার কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকূতে যাওয়ার জন্য তাকবীর বলতেন এবং যখন রুকূ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একইভাবে দু'হাত উঠাতেন এবং "সামিয়াল- লাহুলিমান হামিদাহ, রাব্বানা-লাকাল হামদ" বলতেন। কিন্তু সিজদার সময় এমন করতেন না।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে দেখেছি, তিনি যখন সালাতের জন্য দাড়াতেন তখন উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। এবং যখন তিনি রুকূর জন্য তাকবীর বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন রুকূ হতে মাথা উঠাতেন তখনও এমন করতেন এবং "সামিয়াল- লাহুলিমান হামিদাহ" বলতেন। তবে সিজদার সময় এ রকম করতেন না।

আবূ কিলাবাহ হতে বর্ণিত। তিনি মালিক ইবন হুওয়ায়রিস-কে দেখেছেন, তিনি যখন সালাত আদায় করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং তার দু' হাত উঠাতেন। আর যখন রুকূ করার ইচ্ছা করতেন তখনও তার উভয় হাত উঠাতেন, আবার যখন রুকূ হতে মাথা উঠাতেন তখনও তার উভয় হাত উঠাতেন এবং তিনি বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এরূপ করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে তাকবীর দিয়ে সালাত শুরু করতে দেখেছি,তিনি যখন তাকবীর বলতেন তখন তার উভয় হাত উঠাতেন এবং কাঁধ বরাবর করতেন। আর যখন রুকূর তাকবীর বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন "সামিয়াল- লাহুলিমান হামিদাহ" বলতেন, তখনও এ রকম করতেন এবং "রাব্বানা-লাকাল হামদ" বলতেন। কিন্তু সিজদায় যেতে এ রকম করতেন না। আর সিজদা হতে মাথা উঠাবার সময়ও এমন করতেন না।

নাফি বর্ণিত যে, ইবন উমার যখন সালাত শুরু করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং দু' হাত উঠাতেন আর যখন রুকূ করতেন তখনও দু' হাত উঠাতেন। অতঃপর যখন "সামিয়াল- লাহুলিমান হামিদাহ" বলতেন তখনও দু' হাত উঠাতেন এবং দু'রাকাত আদায়ের পর যখন দাড়াতেন তখনও দু'হাত উঠাতেন। এ সমস্ত আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে বর্ণিত বলে ইবন উমার বলেছেন।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেয়া হত যে, সালাতে প্রত্যেক ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে। আবূ হাযিম বলেন, সাহল এ হাদীসটি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করতেন বলেই জানি। ইসমাঈল বলেন, এ হাদীসটি নবী (ﷺ) হতেই বর্ণনা করা হতো। তবে তিনি এমন বলেননি যে, সাহল নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করতেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কি মনে কর যে, আমার কিব্লা শুধুমাত্র এদিকে? আল্লাহর শপথ, তোমাদের রুকূ তোমাদের খুশু' কোন কিছুই আমার নিকট গোপন থাকে না। আর নিঃসন্দেহে আমি তোমাদের দেখি আমার পিছন দিক হতেও।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা রুকূ ও সিজদাগুলো যথাযথভাবে আদায় করবে। আল্লাহর শপথ! আমি আমার পিছনে হতে বা রাবী বলেন, আমার পিঠের পিছনে হতে তোমাদের দেখতে পাই, যখন তোমরা রুকূ ও সিজদা কর।

আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) , আবূ বাকর এবং উমার "আল হামদু লি-লাহি রাব্বি আলামিন (সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য)" দিয়ে সালাত শুরু করতেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআতের মধ্যে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, তাকবীর ও কিরাআত এর মধ্যে চুপ থাকার সময় আপনি কী পাঠ করে থাকেন? তিনি বললেনঃ এ সময় আমি বলি- "হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দাও যেমন ব্যবধান করেছ পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র কর যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও।"

আসমা বিনত আবূ বাকর হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একবার সালাতুল কুসূফ (সূর্য গ্রহণের সালাত) আদায় করলেন। তিনি সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর রুকূতে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। অতঃপর দাড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর আবা রুকূতে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূতে থাকলেন। অতঃপর উঠলেন, পরে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় রইলেন। আবার সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। অতঃপর আবার দাড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেন। আবার রুকূতে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রকূ'তে থাকলেন। অতঃপর রুকূ হতে উঠে আবার দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেন এবং আবার রুকূতে থাকলেন। অতঃপর রুকূ হতে উঠে আবার দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেন এবং আবার রুকূতে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। অতঃপর রুকূ হতে উঠে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। অতঃপর উঠে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। অতঃপর সালাত শেষ করে ফিরে বললেনঃ জান্নাত আমার খুবই নিকটে এসে গিয়েছিল এমনকি আমি যদি চেষ্টা করতাম তাহলে জান্নাতের একগুচ্ছ আঙ্গুর তোমাদের এনে দিতে পারতাম। আর জাহান্নামও আমার একেবারে নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল। এমনকি আমি বলে উঠলাম, ইয়া রব! আমিও কি তাদের সাথে? আমি একজন স্ত্রী লোককে দেখতে পেলাম। আবূ হুরাইরাহ্ বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন, একটি বিড়াল তাকে খামচাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ স্ত্রী লোকটির এমন অবস্থা কেন? ফেরেশতাগণ জবাব দিলেন, সে একটি বিড়ালকে আটকিয়ে রেখেছিল, ফলে বিড়ালটি অনাহারে মারা যায়। উক্ত স্ত্রী লোকটি তাকে খেতেও দেয়নি এবং তাকে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে আহার করতে পারে। নাফি বলেন, আমার মনে হয়, ইবন আবূ মুলায়কাহ বর্ণনা করেছিলেন, যাতে সে যমীনের পোকা মাকড় খেতে পারে।

আবূ মা'মার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কি যুহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যা। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কী করে বুঝতে পারতেন? তিনি বললেন, তার দাড়ির নড়াচড়া দেখে।

বারাআ হতে বর্ণিত। আর তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন না, তারা যখন নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন, তখন রুকূ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাড়িয়ে দেখতেন যে, নবী (ﷺ) সিজদায় গেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর যুগে একবার সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন তিনি এজন্য সালাত আদায় করেন। সহাবা-ই-কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাতে দাড়ানো অবস্থায় আপনাকে দেখলাম যেন কিছু একটা ধরতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু পরে দেখলাম, আবার পিছিয়ে এলেন। তিনি বললেন, আমাকে জান্নাত দেখানো হয় এবং তারই একটি আঙ্গুরের ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। আমি যদি তা নিয়ে আসতাম, তাহলে দুনিয়া স্থায়ী থাকা পর্যন্ত তোমরা তা হতে খেতে পারতে।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং মসজিদের কিব্লার দিকে ইশারা করে বললেন, এইমাত্র আমি যখন তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলাম তখন এ দেওয়ালের সামনের দিকে আমি জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম। আজকের মতো এত ভাল ও মন্দ আমি আর দেখিনি, একথা তিনি তিনবার বললেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ লোকদের কী হলো যে, তারা সালাতে আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকায়? এ ব্যাপারে তিনি কঠোর বক্তব্য রাখলেন; এমনকি তিনি বললেনঃ যেন তারা অবশ্যই এ হতে বিরত থাকে, অন্যথায় অবশ্যই তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়া হবে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে সালাতে এদিক ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ এটা এক ধরনের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার সালাত হতে অংশ বিশেষ ছিনিয়ে নেয়।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। একবার নবী (ﷺ) একটি নকশা করা চাদর পরে সালাত আদায় করলেন। সালাতের পরে তিনি বললেনঃ এ চাদরের কারুকার্য আমার মনকে আকর্ষিত করেছিল। এটি আবূ জাহমের নিকট নিয়ে যাও এবং এর বদলে একটি 'আম্বজানিয়্যাহ' (নকশা ছাড়া মোটা কাপড়) নিয়ে এসো।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) লোকদের সামনে দাড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় মসজিদে কিব্লার দিকে থুথু দেখতে পেয়ে তা পরিষ্কার করে ফেললেন। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করে বললেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে, তখন আল্লাহ তার সামনে থাকেন। কাজেই সালাতে থাকা অবস্থায় কেউ সামনের দিকে থুথু ফেলবে না। মূসা ইবন 'উক্বাহ ও ইবন আবূ রাওয়াদও নাফি হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিমগণ ফজরের সালাতে রত এ সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আয়িশাহ-এর হুজরার পর্দা উঠালে তারা চমকে উঠলেন। তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তারা কাতারবদ্ধ হয়ে আছেন। তা দেখে তিনি মুচকি হাসলেন। আবূ বাকর তার ইমামাতের স্থান ছেড়ে দিয়ে কাতারে শামিল হবার জন্য পিছিয়ে আসতে চাইলেন। তিনি মনে করেছিলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বের হতে চান। মুসলিমগণও সালাত ছেড়ে দিতে উদ্যত হয়েছিলেন। তিনি ইঙ্গিতে তাদের বললেন, তোমরা তোমাদের সালাত পুরো করো। অতঃপর তিনি পর্দা ফেলে দিলেন। এ দিনেরই শেষে তার ওফাত হয়।

জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কূফাবাসীরা সাদ-এর বিরুদ্ধে উমার-এর নিকট অভিযোগ করলে তিনি তাকে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেন এবং আম্মার-কে তাদের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। কূফার লোকেরা সাদ-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে এ-ও বলে যে, তিনি ভালরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না। উমার তাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, হে আবূ ইসহাক! তারা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, আপনি নাকি ভালরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না। সাদ বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সালাতের অনুরূপই সালাত আদায় করে থাকি। তাতে কোন ত্রুটি করি না। আমি ইশার সালাত আদায় করতে প্রথম দু' রাকাত একটু দীর্ঘ ও শেষের দু' রাকাত সংক্ষেপ করতাম। উমার বললেন, হে আবূ ইসহাক! আপনার সম্পর্কে আমার এ-ই ধারণা। অতঃপর উমার কূফার অধিবাসীদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সাদ-এর সঙ্গে কূফায় পাঠান। সে ব্যক্তি প্রতিটি মসজিদে গিয়ে সাদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো এবং তারা সকলেই তার ভূয়সী প্রশংসা করলেন। অবশেষে সে ব্যক্তি বনূ আব্স গোত্রের মসজিদে উপস্থিত হয়। এখানে উসামা ইবন কাতাদাহ্ নামে এক ব্যক্তি যাকে আবূ সাদাহ্ বলে ডাকা হত- দাড়িয়ে বলল, যেহেতু তুমি আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছ, সাদ কখনো সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে যান না, গানীমাতের মাল সমভাবে বণ্টন করেন না এবং বিচারে ইনসাফ করেন না। তখন সাদ বললেন, মনে রেখো, আল্লাহর কসম! আমি তিনটি দোয়া করছিঃ হে আল্লাহ! যদি তোমার এ বান্দা মিথ্যাবাদী হয়, লোক দেখানো এবং আত্মপ্রচারের জন্য দাড়িয়ে থাকে তাহলে- ১. তার হায়াত বাড়িয়ে দিন, ২. তার অভাব বাড়িয়ে দিন এবং ৩. তাকে ফিতনার সম্মুখীন করুন। পরবর্তীকালে লোকটিকে (তার অবস্থা সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করা হলে সে বলতো, আমি বয়সে বৃদ্ধ, ফিতনায় লিপ্ত। সাদ-এর দোয়া আমার উপর লেগে আছে। বর্ণনাকারী আবদুল মালিক বলেন, পরে আমি সে লোকটিকে দেখেছি, অতি বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার ভ্রু চোখের উপর ঝুলে গেছে এবং সে পথে মেয়েদের বিরক্ত করত এবং তাদের চিমটি দিত।

উবাদাহ ইবন সমিত হতে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাতে ফাতিহা পড়ল না তার সালাত হলো না।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন একজন সাহাবী এসে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি নবী (ﷺ) -কে সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, আবার গিয়ে সালাত আদায় কর। কেননা, তুমিতো সালাত আদায় করনি। তিনি ফিরে গিয়ে পূর্বের মত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর এসে নবী (ﷺ) -কে সালাম করলেন। তিনি বললেনঃ ফিরে গিয়ে আবার সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। এভাবে তিনবার বললেন। সাহাবী বললেন, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন- আমিতো এর চেয়ে সুন্দর করে সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ যখন তুমি সালাতের জন্য দাড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। অতঃপর কুরআন হতে যা তোমার পক্ষে সহজ তা পড়বে। অতঃপর রুকূতে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ করবে। অতঃপর সিজদা হতে উঠে স্থির হয়ে বসবে। আর তোমার পুরো সালাতে এভাবেই করবে।

জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত যে, সাদ বলেন, আমি তাদেরকে নিয়ে বিকালের দু' সালাত (যুহর ও আসর) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সালাতের মত সালাত আদায় করতাম। এতে কোন ত্রুটি করতাম না। প্রথম দু' রাকাতে কিরাআত দীর্ঘায়িত এবং শেষ দু' রাকাতে তা সংক্ষিপ্ত করতাম। উমার বলেন, তোমার ব্যাপারে এটাই ধারণা।

আবূ ক্বাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যুহরের প্রথম দু' রাকাতে সূরাহ্ ফাতিহার সঙ্গে আরও দু'টি সূরাহ্ পাঠ করতেন। প্রথম রাকাতে দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাত সংক্ষেপ করতেন। কখনো কোন আয়াত শুনিয়ে পড়তেন। আসরের সালাতেও তিনি সূরাহ্ ফাতিহার সাথে অন্য দু'টি সূরাহ্ পড়তেন। প্রথম রাকাত দীর্ঘ করতেন। ফজরের প্রথম রাকাতও তিনি দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সংক্ষেপ করতেন।

আবূ মা'মার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাববাব-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) কি যুহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যা। আমরা প্রশ্ন করলাম, আপনারা কী করে তা বুঝতেন? তিনি বললেন, তার দাড়ির নড়াচড়ায়।

আবূ মা'মার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাববাব ইবন আরত্-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) কি যুহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যা। আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনারা কী করে তার কিরাআত বুঝতেন? তিনি বললেন, তার দাড়ি নড়াচড়ায়।

আবূ কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যুহর ও আসরের প্রথম দু' রাকাতে ফাতিহার সাথে আর একটি করে সূরাহ্ পড়তেন। আর কখনো কখনো কোন আয়াত আমাদের শুনিয়ে পড়তেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল ফায্ল তাকে "ওয়াল মুরসালাতি উরকা" (৭৭) সুরাটি তিলাওয়াত করতে শুনে বললেন, বেটা! তুমি এ সূরাহ্ তিলাওয়াত করে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে মাগরিবের সালাতে এ সূরাহ্টি পড়তে শেষবারের মত শুনেছিলাম।

মারওয়ান ইবন হাকাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা যায়িদ ইবন সাবিত আমাকে বললেন, কী ব্যাপার, মাগরিবের সালাতে তুমি যে কেবল ছোট ছোট সুরা তিলাওয়াত কর? অথচ আমি নবী (ﷺ) কে দু'টি দীর্ঘ সূরাহর মধ্যে অধিকতর দীর্ঘটি পাঠ করতে শুনেছি।

জুবায়র ইবন মৃত'ইম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে মাগরিবের সালাতে সূরাহ্ আত-তূর পড়তে শুনেছি।

আবূ রাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবূ হুরাইরাহ্-এর সঙ্গে ইশার সালাত আদায় করলাম। সেদিন তিনি "ইযাস-সামাউ ন-শাক্বাত" (৮৪) সূরাহটি তিলাওয়াত করে সিজদা করলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি আবুল কাসিম (ﷺ) -এর পিছনে এ সিজদা করেছি, তাই তার সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এ সূরাহ্য় সিজদা করব।

আদী (ইবন সাবিত) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারাআ হতে শুনেছি যে, নবী (ﷺ) এক সফরে ইশা সালাতের প্রথম দু' রাকাতের এক রাকাতে সূরাহ্ "ওয়াত তিনি ওয়াজ ঝাই তুন" (৯৫) পাঠ করেন।

আবূ রাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ্-এর সঙ্গে ইশার সালাত আদায় করলাম। তিনি "ইযাস-সামাউ ন-শাক্বাত" (৮৪) সূরাহটি তিলাওয়াত করে সিজদা করলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এ সিজদা কেন? তিনি বলেন, আমি আবুল কাসিম (ﷺ) -এর পিছনে এ সূরাহয় সিজদা করেছি, তাই তার সঙ্গে মিলিত না হওয়া অবধি আমি এতে সিজদা করব।

বারাআ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে ইশার সালাতে "ওয়াত তিনি ওয়াজ ঝাই তুন" (৯৫) পড়তে শুনেছি। আমি তার চেয়ে কারো সুন্দর কন্ঠ অথবা কিরাআত শুনিনি।

জাবির ইবন সামুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার সাদ-কে বললেন, আপনার বিরুদ্ধে তারা (কূফাবাসীরা) সর্ব বিষয়ে অভিযোগ করেছে, এমনকি সালাত সম্পর্কেও। সাদ বললেন, আমি প্রথম দু'রাকাতে কিরাআত দীর্ঘ করে থাকি এবং শেষের দু' রাকাতে তা সংক্ষেপ করি। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর পিছনে যেমন সালাত আদায় করেছি, তেমনই সালাত আদায়ের ব্যাপারে আমি ত্রুটি করিনি। উমার বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন, আপনার ব্যাপারে ধারণা এমনই, কিংবা (তিনি বলেছিলেন) আপনার সম্পর্কে আমার এ রকমই ধারণা।

সাইয়ার ইবন সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আমার পিতা আবূ বারযা আসলামী-এর নিকট উপস্থিত হয়ে সালাতসমূহের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, নবী (ﷺ) যুহরের সালাত সুর্য ঢলে গেলেই আদায় করতেন। আর আসর (এমন সময় যে, সালাতের শেষে) কোন ব্যক্তি সূর্য সতেজ থাকাবস্থায় মদিনার প্রান্তে ফিরে আসতে পারতো। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কী বলেছিলেন, তা আমি ভুলে গেছি। আর তিনি রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ইশা বিলম্ব করতে কোন দ্বিধা করতেন না এবং ইশার পূর্বে ঘুমানো ও পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করতেন না। আর তিনি ফজর আদায় করতেন এমন সময় যে, সালাত শেষে ফিরে যেতে লোকেরা তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারতো। এর দু' রাকাতে অথবা রাবী বলেছেন, এক রাকাতে তিনি ষাট থেকে একশ আয়াত পাঠ করতেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক সালাতেই কিরাআত পড়া হয়। তবে যে সব সালাত আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের শুনিয়ে পড়েছেন, আমরাও তোমাদের শুনিয়ে পড়ব। আর যে সব সালাতে আমাদের না শুনিয়ে পড়েছেন, আমরাও তোমাদের না শুনিয়ে পড়ব। যদি তোমরা ফাতিহার উপরে আরো অধিক না পড়, সালাত আদায় হয়ে যাবে। আর যদি অধিক পড় তা উত্তম।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। আর দুষ্ট জিন্নদের উর্ধ্বলোকের সংবাদ সংগ্রহের পথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় এবং তাদের দিকে অগ্নিপিন্ড নিক্ষিপ্ত হয়। কাজেই শয়তানরা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসে। তারা জিজ্ঞেস করলো, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল, আমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা দেখা দিয়েছে এবং আমাদের দিকে অগ্নিপিন্ড ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তখন তারা বলল, নিশ্চই গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু ঘটেছে বলেই তোমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই, পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত ঘুরে দেখ, কী কারণে তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে? তাই তাদের যে দলটি তিহামার দিকে গিয়েছিল, তারা নবী (ﷺ) -এর দিকে অগ্রসর হল। তিনি তখন 'উকায বাজারের পথে নাখ্লা নামক স্থানে সাহাবীগণকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন শুনতে পেল, তখন সেদিকে মনোনিবেশ করলো। অতঃপর তারা বলে উঠলো, আল্লাহর শপথ! এটিই তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করেছে। এমন সময় যখন তারা গোত্রেরর নিকট ফিরে আসল এবং বলল হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এক আশ্চর্যজনক কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ নির্দেশ করে, আমরা এতে ঈমান এনেছি এবং কখনো আমরা আমাদের প্রতিপালকের সঙ্গে কাউকে শরীক স্থির করব না। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তাআলা তার নবী (ﷺ) -এর প্রতি "(সূরা জিন) (72): বলুন, এটি আমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে" সূরাহ্ নাযিল করেন। মূলতঃ তার নিকট জিনদের কথাবার্তাই ওয়াহীরূপে অবতীর্ণ করা হয়েছে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যেখানে কিরাআত পাঠের জন্য আদেশ পেয়েছেন, সেখানে পড়েছেন। আর যেখানে চুপ থাকতে আদেশ পেয়েছেন সেখানে চুপ থেকেছেন। (আল্লাহ তাআলার বাণীঃ) "তোমার প্রতিপালক ভুল করেন না"- (মারইয়াম ১৯/৬৪)। "নিশ্চই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (আহযাব ৩৩/২১)। আনাস হতে বর্ণিত। কুবার মসজিদে এক আনসারী ব্যক্তি তাদের ইমামাত করতেন। তিনি সশব্দে কিরা-আত পড়া হয় এমন কোন সালাতে যখনই কোন সূরাহ্ তিলাওয়াত করতেন, "কুল হুওয়াল-লাহু আহাদ" সূরাহ্ দ্বারা শুরু করতেন। তা শেষ করে অন্য একটি সূরাহ্ এর সাথে মিলিয়ে পড়তেন। আর প্রতি রাকাতেই তিনি এমন করতেন। তার সঙ্গীরা এ ব্যাপারে তার নিকট বললেন যে, আপনি এ সূরাহটি দিয়ে শুরু করেন, এটি যথেষ্ট হয় বলে আপনি মনে করেন না তাই আর একটি সূরাহ্ মিলিয়ে পড়েন। হয় আপনি এটিই পড়বেন, না হয় এটি বাদ দিয়ে অন্যটি পড়বেন। তিনি বললেন, আমি এটি কিছুতেই ছাড়তে পারব না। আমার এভাবে ইমামাত করা যদি আপনারা অপছন্দ করেন, তাহলে আমি আপনাদের ইমামাত ছেড়ে দেব। কিন্তু তারা জানতেন যে, তিনি তাদের মাঝে উত্তম। তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তাদের ইমামাত করুক এটা তারা অপছন্দ করতেন। পরে নবী যখন তাদের এখানে আগমন করেন, তারা বিষয়টি নবী (ﷺ) কে জানান। তিনি বললেন, হে, অমুক! তোমার সঙ্গীগণ যা বলেন তা করতে তোমাকে কিসে বাধা দেয়? আর প্রতি রাকাতে এ সূরাহ্টি বাধ্যতামূলক করে নিতে কিসে উদ্বুদ্ধ করছে? তিনি বললেন, আমি এ সূরাহটি ভালবাসি। নবী (ﷺ) বললেনঃ এ সূরাহর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।

আবূ ওয়াইল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবন মাসঊদ-এর নিকট এসে বলল, গতরাতে আমি মুফাস্‌সাল সূরাহগুলো এক রাকাতেই তিলাওয়াত করেছি। তিনি বললেন, তাহলে নিশ্চই কবিতার ন্যায় দ্রুত পড়েছ। নবী (ﷺ) পরস্পর সমতূল্য যে সব সূরাহ্ মিলিয়ে পড়তেন, সেগুলো সম্পর্কে আমি জানি। এ বলে তিনি মুফাসসাল সূরাহসমূহের বিশটি সূরাহ্ উল্লেখ পূর্বক বলেন, নবী (ﷺ) প্রতি রাকাতে এর দু'টি করে সূরাহ্ পড়তেন।

আবূ কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যুহরের প্রথম দু'রাকাতে ফাতিহা ও দু'টি সূরাহ্ পড়তেন এবং শেষ দু'রাকাতে ফাতিহা পাঠ করতেন এবং তিনি কোন কোন আয়াত আমাদের শোনাতেন, আর তিনি প্রথম রাকাতে যত দীর্ঘ করতেন, দ্বিতীয় রাকাতে তত দীর্ঘ করতেন না। আসরে এবং ফজরেও এ রকম করতেন।

আবূ মা'মার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কি যুহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যা। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, কী করে বুঝলেন? তিনি বললেন, তার দাড়ি নড়াচড়া দেখে।

আবূ কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যুহর ও আসরের সালাতের প্রথম দু' রাকাতে সূরাহ্ ফাতিহার সাথে আরেকটি সুরা পড়তেন। কখনো কোন কোন আয়াত আমাদের শুনিয়ে পড়তেন এবং তিনি প্রথম রাকাতে কিরাআত দীর্ঘ করতেন।

আবূ কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যুহরের সালাতের প্রথম রাকাতে কিরাআত দীর্ঘ করতেন ও দ্বিতীয় রাকাতে সংক্ষিপ্ত করতেন এবং এ রকম করতেন ফজরের সালাতেও।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইমাম যখন 'আমীন' বলেন, তখন তোমরাও 'আমীন' বলো। কেননা, যার 'আমীন' (বলা) ও মালাইকাহর 'আমীন' (বলা) এক হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মা'ফ করে দেয়া হয়। ইবন শিহাব বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ও 'আমীন' বলতেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ (সালাতে) 'আমীন' বলে, আর আসমানে মালাইকাহ্ 'আমীন' বলেন এবং উভয়ের 'আমীন' একই সময় হলে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

আবু হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ ইমাম "গাইরিল-মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ-দাল্লিন পড়লে" তোমরা 'আমীন' বলো। কেননা, যার এ (আমীন) বলা ফেরেশতাগণের (আমীন) বলার সাথে একই সময় হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

আবূ বাকরাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) -এর নিকট এমন অবস্থায় পৌছলেন যে, নবী (ﷺ) তখন রুকূতে ছিলেন। তখন কাতার পর্যন্ত পৌছার পূর্বেই তিনি রুকূতে চলে যান। এ ঘটনা নবী (ﷺ) -এর নিকট ব্যক্ত করা হলে, তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা তোমার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিন। তবে এ রকম আর করবে না।

ইমরান ইবন হুসায়ন হতে বর্ণিত। তিনি বসরায় আলী-এর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, ইনি [আলী] আমাকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে আদায়কৃত সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আর তিনি উল্লেখ করেন যে, নবী (ﷺ) প্রতিবার (মাথা) উঠাতে ও নামাতে তাকবীর বলতেন।

আবূ সালামাহ ... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, তিনি তাদের সঙ্গে সালাত আদায় করতেন এবং প্রতিবার উঠা বসার সময় তাকবীর বলতেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে আমার সালাতই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।

মুতাররিফ ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ইমরান ইবন হুসায়ন আলী ইবন তালিব-এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন সিজদায় গেলেন তখন তাকবীর বললেন, সিজদা হতে যখন মাথা উঠালেন তখনও তাকবীর বললেন, আবার দু' রাকাতের পর যখন দাড়ালেন তখনও তাকবীর বললেন। তিনি যখন সালাত শেষ করলেন তখন ইমরান ইবন হুসায়ন আমার হাত ধরে বললেন, ইনি [আলী] আমাকে মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর সালাত স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বা তিনি বলেছিলেন, আমাদের নিয়ে মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করেছেন।

ইকরিমাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাকামে (ইব্রাহীমের নিকট) এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে, প্রতিবার উঠা ও ঝুকার সময় এবং দাড়ানো ও বসার সময় তাকবীর বলছেন। আমি ইবন আব্বাস-কে এ কথা জানালে তিনি আমাকে উপদেশ দিয়ে বললেন, এটা কি রাসূল (ﷺ) -এর সালাত নয়?

ইকরিমাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কায় এক শেখের পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি বাইশবার তাকবীর বললেন। আমি ইবন আব্বাস-কে বললাম, লোকটি তো আহাম্মক। ইবনে আব্বাস আমাকে উপদেশ দিয়ে বললেন, এ তো আবুল কাসিম [মুহাম্মদ (ﷺ)]-এর সুন্নাত।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাত আরম্ভ করার সময় দাড়িয়ে তাকবীর বলতেন। অতঃপর রুকূতে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন, আবার যখন রুকূ হতে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ," বলতেন, অতঃপর দাড়িয়ে "রাব্বানা লাকা-ল-হামদ" [আল-লাইত বলেছেন, "(রাসূল (ﷺ)) বলেছেন, 'ওয়া লাকা-ল-হামদ'] বলতেন। অতঃপর সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। এবং যখন মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। আবার (দ্বিতীয়) সিজদায় যেতে তাকবীর বলতেন এবং পুনরায় মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। এভাবেই তিনি পুরো সালাত শেষ করতেন। আর দ্বিতীয় রাকাতের বৈঠক শেষে যখন (তৃতীয় রাকাতের জন্য) দাড়াতেন তখনও তাকবীর বলতেন।

মুস'আব ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি আমার পিতার পাশে দাড়িয়ে সালাত আদায় করলাম। এবং (রুকূর সময়) দু' হাত জোড় করে উভয় উরুর মাঝে রাখলাম। আমার পিতা আমাকে এমন করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, আগে আমরা এমন করতাম; পরে আমাদেরকে এ হতে নিষেধ করা হয়েছে এবং হাত হাটুর উপর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

যায়দ ইবন ওয়াহব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফা এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে রুকূ ও সিজদা ঠিকমত আদায় করছে না। তিনি তাকে বললেন, তোমার সালাত হয়নি। যদি তুমি (এই অবস্থায়) মারা যাও, তাহলে আল্লাহ মুহাম্মাদ (ﷺ) -কে যে আদর্শ দিয়েছেন সে আদর্শ হতে বিচ্যুত অবস্থায় তুমি মারা যাবে।

বারাআ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে দাড়ানো ও বসা অবস্থা ছাড়া নবী (ﷺ) -এর রুকূ, সিজদা এবং দু' সিজদার মধ্যবর্তী সময় এবং রুকূ হতে উঠে দাড়ানো, এগুলো প্রায় সমপরিমাণ ছিল।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। একসময়ে নবী (ﷺ) মসজিদে তাশরীফ আনলেন, তখন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলো। অতঃপর সে নবী (ﷺ) -কে সালাম করলো। নবী (ﷺ) তার সালামের জবাব দিয়ে বললেনঃ তুমি ফিরে গিয়ে সালাত আদায় কর, কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। লোকটি আবার সালাত আদায় করল এবং আবার এসে নবী (ﷺ) -কে সালাম দিল। তিনি বললেনঃ আবার গিয়ে সালাত আদায় কর, কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। এভাবে তিনবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। অতঃপর লোকটি বলল, সে মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি এর চেয়ে সুন্দর সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই, আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন তিনি বললেনঃ যখন তুমি সালাতে দাড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। অতঃপর কুরআন হতে যতটুকু তোমার পক্ষে সহজ ততটুকু পড়বে। অতঃপর রুকূতে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ আদায় করবে। অতঃপর রুকূ হতে উঠে সোজা হয়ে দাড়াবে। ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে। অতঃপর সিজদা হতে উঠে স্থিরভাবে বসবে এবং পুনরায় সিজদায় গিয়ে স্থিরভাবে সিজদা করবে। অতঃপর পুরো সালাত এভাবে আদায় করবে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রুকূ ও সিজদায় এ দোয়া পড়তেন- "সুবহানাকাল-লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফিরলি" "হে আমাদের রব আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন"।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন "সামিয়াললা হুলিমান হামিদাহ", বলে (রুকূ হতে উঠতেন) তখন "আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া-লাকা হামদ" বলতেন, আর তিনি যখন রুকূতে যেতেন এবং রুকূ হতে মাথা উঠাতেন, তখন তাকবীর বলতেন এবং উভয় সিজদা হতে যখন দাড়াতেন, তখন তাকবীর বলতেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ ইমাম যখন "সামিয়াললা হুলিমান হামিদাহ" বলেন, তখন তোমরা "আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া-লাকা হামদ" বলবে। কেননা, যার এ উক্তি মালাইকাহর উক্তির সঙ্গে একই সময়ে উচ্চারিত হয়, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

আবূ হুরায়রাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অবশ্যই নবী (ﷺ) -এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করব। আবূ হুরাইরাহ্ যুহর, ইশা ও ফজরের সালাতের শেষ রাকাতে "সামিয়াললা হুলিমান হামিদাহ" বলার পর কুনূত পড়তেন। এতে তিনি মুমিনগণের জন্য দোয়া করতেন এবং কাফিরদের প্রতি অভিসম্পাত করতেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সময়ে) কুনূত ফজর ও মাগরিবের সালাতে পড়া হত।

রিফা'আহ ইবন রাফি' যুরাকী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (ﷺ) এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন রুকূ হতে মাথা উঠিয়ে "সামিয়াললা হুলিমান হামিদাহ" বললেন, তখন পিছন হতে এক সহাবা "রাব্বানা ওয়া লাকা এল-হামদ, হামদান কাসিরান তাইয়্যিবান মুবারাকান ফিহি" বললেন। সালাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে এরূপ বলেছিল? সে সাহাবী বললেন, আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি দেখলাম ত্রিশ জনের অধিক মালাইকাহ এর সওয়াব কে পূর্বে লিখবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন।

সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবন মালিক আমাদেরকে নবী (ﷺ) এর সালাতের বর্ণনা দিলেন। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করে দেখালেন। তিনি যখন রুকূ হতে মাথা উঠালেন, তখন (এতক্ষণ) দাড়িয়ে রইলেন যে, আমরা মনে করলাম, তিনি (সিজদার কথা) ভুলে গেছেন।

বারাআ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর রুকূ ও সিজদা এবং তিনি যখন রুকূ হতে মাথা উঠাতেন, এবং দু' সিজদার মধ্যবর্তী সময় সবই প্রায় সমান হত।

আবূ কিলাবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালিক ইবন হুওয়াইরিস নবী (ﷺ) এর সালাত কেমন ছিল তা আমাদের দেখালেন। তখন সালাতের কোন ওয়াক্ত ছিল না। তিনি সালাতে দাড়ালেন এবং পুর্ণাঙ্গরূপে কিয়াম করলেন। অতঃপর রুকূতে গেলেন এবং ধিরস্থিরভাবে রকূ' আদায় করলেন; অতঃপর তার মাথা উঠালেন এবং কিছুক্ষণ সোজা হয়ে দাড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে আমাদের এই শায়খ আবূ বুরাইদ-এর ন্যায় সালাত আদায় করলেন। আর আবূ বুরাইদ দ্বিতীয় সিজদা হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসতেন, অতঃপর দাড়াতেন।

আবূ বাকর ইবন আবদুর রহমান ও আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান হতে বর্ণিত যে, আবূ হুরাইরাহ্ রমাযান মাসের সালাত বা অন্য কোন সময়ের সালাত ফরজ হোক বা অন্য কোন সালাত হোক, দাড়িয়ে শুরু করার সময় তাকবীর বলতেন, আবার রুকূতে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। অতঃপর (রুকূ হতে উঠার সময়) "সামিয়াললা হুলিমান হামিদাহ" বলতেন, সিজদায় যাওয়ার পূর্বে "রাব্বানা ওয়া-লাকা হামদ" বলতেন। অতঃপর সিজদার জন্য অবনত হবার সময় আল্লাহু আকবার বলতেন। আবার সিজদা হতে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলতেন। অতঃপর (দ্বিতীয়) সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন এবং সিজদা হতে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলতেন। দু' রাকাত আদায় করে দাড়ানোর সময় আবার তাকবীর বলতেন। সালাত শেষ করা পর্যন্ত প্রতি রাকাতে এরূপ করতেন। সালাত শেষে তিনি বলতেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! তোমাদের মধ্য হতে আমার সালাত আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দুনিয়া হতে বিদায় নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নবী (ﷺ) -এর সালাত এ রকমই ছিল।

আবূ হুরাইরাহ্ বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন রুকূ হতে মাথা উঠাতেন তখন "সামিয়াললা হুলিমান হামিদাহ" বলতেন। আর কতিপয় লোকের নাম উল্লেখ করে তাদের জন্য দোয়া করতেন। দোয়ায় তিনি বলতেন, হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবন ওয়ালীদ, সালামাহ ইবন হিশাম, আইয়্যাস ইবন আবূ রাবীআ এবং অপরাপর দুর্বল মুসলিমদেরকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর আপনার পাকড়াও কঠোর করুন, ইউসুফ (আ)-এর যুগে যেমন খাদ্য সংকট ছিল তাদের জন্যও তেমন খাদ্য সংকট সৃষ্টি করে দিন। (রাবী বলেন) এ যুগে পূর্বাঞ্চলের অধিবাসী মুদার গোত্রের লোকেরা নবী (ﷺ) -এর বিরোধী ছিল।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ঘোড়া হতে পড়ে যান। ফলে তার ডান পাঁজর আহত হয়ে পড়ে। আমরা তার শুশ্রূষা করার জন্য সেখানে গেলাম। এ সময় সালাতের ওয়াক্ত হলো। তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করলেন, আমরাও বসেই আদায় করলাম। সুফ্ইয়ান আর একবার বলেছেন, আমরা বসে সালাত আদায় করলাম। সালাতের পর নবী (ﷺ) বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাকে ইক্তিদা করার জন্য। তিনি যখন তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, তিনি যখন রুকূ করেন তখন তোমরাও রুকূ করবে। তিনি যখন রুকূ হতে উঠেন তখন তোমরাও উঠবে, তিনি যখন "সামিয়াললা হুলিমান হামিদাহ" বলেন, তখন তোমরা "রাব্বানা ওয়া লাকা এল-হামদ" বলবে। তিনি যখন সিজদা করেন, তখন তোমরাও সিজদা করবে। সুফিয়ান মা'মার ইবনে জুরাইজ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করে বলেন, নবী (ﷺ) -এর ডান পায়ের নলা যখম হয়েছিল।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, সাহাবীগণ নবী (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পাব? তিনি বললেনঃ মেঘমুক্ত পুর্ণিমার রাতের চাঁদকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কি সন্দেহ পোষণ কর? তারা বললেন, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখার ব্যাপারে কি তোমাদের কোন সন্দেহ আছে? সবাই বললেন, না। তখন তিনি বললেনঃ নিঃসন্দেহে তোমরাও আল্লাহকে তেমনিভাবে দেখতে পাবে। কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, যে যার উপাসনা করতে সে যেন তার অনুসরণ করে। তাই তাদের কেউ সূর্যের অনুসরণ করবে, কেউ চন্দ্রের অনুসরণ করবে, কেউ তাগুতের অনুসরণ করবে। আর বাকী থাকবে শুধুমাত্র উম্মাহ্, তবে তাদের সাথে মুনাফিকরাও থাকবে। তাদের মাঝে এ সময় আল্লাহ তাআলা আগমন করবেন এবং বলবেনঃ "আমি তোমাদের রব।" তখন তারা বলবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের রবের আগমন না হবে, ততক্ষণ আমরা এখানেই থাকব। আর তার যখন আগমন হবে তখন আমরা অবশ্যই তাকে চিনতে পারব। তখন তাদের মাঝে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা আগমন করবেন এবং বলবেন, "আমি তোমাদের রব।" তারা বলবে, হা, আপনিই আমাদের রব। আল্লাহ তাআলা তাদের ডাকবেন। আর জাহান্নামের উপর একটি সেতু স্থাপন করা হবে। রাসূলগণের মধ্যে আমিই সবার আগে আমার উম্মাত নিয়ে এ পথ অতিক্রম করব। সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না। আর রাসূলগণের কথা হবেঃ (আল্লাহুম্মা সাল্লিম সাল্লিম) হে আল্লাহ! রক্ষা করুন, রক্ষা করুন। আর জাহান্নামে বাকা লোহার বহু শলাকা থাকবে; সেগুলো হবে সাদান কাঁটার মতো। তোমরা কি সাদান কাঁটা দেখেছ? তারা বলবে, হা, দেখেছি। তিনি বলবেন, সেগুলো দেখতে সাদান কাঁটার মতোই। তবে সেগুলো কত বড় হবে তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। সে কাঁটা লোকের আমল অনুযায়ী তাদের তড়িৎ গতিতে ধরবে। তাদের কিছু লোক ধ্বংস হবে আমলের কারণে। আর কারোর পায়ে যখম হবে, কিছু লোক কাঁটায় আক্রান্ত হবে, অতঃপর নাজাত পেয়ে যাবে। জাহান্নামীদের হতে যাদের প্রতি আল্লাহ তাআলা রহমত করতে ইচ্ছা করবেন, তাদের ব্যাপারে মালাইকাহ্কে নির্দেশ দেবেন যে, যারা আল্লাহর ইবাদাত করতো, তাদের যেন জাহান্নাম হতে বের করে আনা হয়। মালাইকাহ তাদের বের করে আনবেন এবং সিজদার চিহ্ন দেখে তারা তাদের চিনতে পারবেন। কেননা, আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের জন্য সিজদার চিহ্নগুলো মিটিয়ে দেয়া হারাম করে দিয়েছেন। ফলে তাদের জাহান্নাম হতে বের করে আনা হবে। কাজেই সিজদার চিহ্ন ছাড়া আগুন বানী আদমের সব কিছুই গ্রাস করে ফেলবে। অবশেষে, তাদেরকে অঙ্গারে পরিণত অবস্থায় জাহান্নাম হতে বের করা হবে। তাদের উপর 'আবে-হায়াত' ঢেলে দেয়া হবে ফলে তারা স্রোতে বাহিত ফেনার উপর গজিয়ে উঠা উদ্ভিদের মত সঞ্জীবিত হয়ে উঠবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বান্দাদের বিচার কাজ সমাপ্ত করবেন কিন্তু একজন লোক জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে থেকে যাবে। তার মুখমন্ডল তখনও জাহান্নামের দিকে ফেরানো থাকবে। জাহান্নামবাসীদের মধ্যে জান্নাতে প্রবেশকারী সেই শেষ ব্যক্তি। সে তখন নিবেদন করবে, হে আমার রব! জাহান্নাম হতে আমার চেহারা ফিরিয়ে দিন। এর দূষিত হাওয়া আমাকে বিষিয়ে তুলছে, এর লেলিহান শিখা আমাকে যন্ত্রণা দিচ্ছে। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমার নিবেদন গ্রহণ করা হলে, তুমি এছাড়া আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, না, আপনার ইয্যতের শপথ! সে তার ইচ্ছামত আল্লাহ তাআলাকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিবে। কাজেই আল্লাহ তাআলা তার চেহারাকে জাহান্নামের দিক হতে ফিরিয়ে দিবেন। অতঃপর সে যখন জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে, তখন সে জান্নাতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সে চুপ করে থাকবে। অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আপনি জান্নাতের দরজার নিকট পৌছে দিন। তখন আল্লাহ তাআলা তাকে বলবেন, তুমি পূর্বে যা চেয়েছিলে, তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না বলে তুমি কি অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দাওনি? তখন সে বলবে, হে আমার রব! তোমার সৃষ্টির সবচাইতে হতভাগ্য আমি হতে চাই না। আল্লাহ তারক্ষণিক বলবেন, তোমার এটি পূরণ করা হলে তুমি এ ছাড়া কিছু চাইবে না তো? সে বলবে না, আপনার ইযয্তের কসম! এছাড়া আমি আর কিছুই চাইব না। এ ব্যাপারে সে তার ইচ্ছানুযায়ী অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দেবে। সে যখন জান্নাতের দরজায় পৌছবে তখন জান্নাতের অনাবিল সৌন্দর্য ও তার আভ্যন্তরীণ সুখ শান্তি ও আনন্দঘন পরিবেশ দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করবেন, সে চুপ করে থাকবে। অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও! তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলবেনঃ হে আদম সন্তান, কি আশ্চর্য! তুমি কত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী! তুমি কি আমার সঙ্গে অঙ্গীকার করনি এবং প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে, তাছাড়া আর কিছু চাইবে না? তখন সে বলবে, হে আমার রব! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আমাকে সবচাইতে হতভাগ্য করবেন না। এতে আল্লাহ হেসে দেবেন। অতঃপর তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিবেন এবং বলবেন, চাও। সে তখন চাইবে, এমন কি তার চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ফুরিয়ে যাবে। তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলবেনঃ এটা চাও, ওটা চাও। এভাবে তার রব তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকবেন। অবশেষে যখন তার আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ এ সবই তোমার, এ সাথে আরো সমপরিমাণ (তোমাকে দেয়া হল)। আবূ সাঈদ খুদরী আবূ হুরাইরাহ্-কে বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছিলেন যে, আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ এ সবই তোমার, তার সাথে আরও দশগুণ (তোমাকে দেয়া হল)। আবূ হুরাইরাহ বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে শুধু এ কথাটি স্মরণ রেখেছি যে, এ সবই তোমার এবং এর সাথে সমপরিমাণ। আবূ সাঈদ বললেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, এসব তোমার এবং এর সাথে আরও দশগুণ।

আবদুল্লাহ ইবন মালিক যিনি ইবন বুহাইনা তার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যখন সালাত আদায় করতেন, তখন উভয় হাত এমন ফাক করতেন যে, তার উভয় বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত।

হুযাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে রুকূ ও সিজদা পূর্ণরূপে আদায় করছে না। সে যখন তার সালাত শেষ করা, তখন হুযাইফাহ তাকে বললেন, তুমি তো সালাত আদায় করনি। আবূ ওয়াইল বলেন, আমার মনে হয়, তিনি এও বলেছিলেন যে, এভাবে সালাত আদায় করে তুমি যদি মারা যাও, তাহলে মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর তরীকা হতে বিচ্যুত হয়ে মারা যাবে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে নির্দেশিত হয়েছিলেন। (অঙ্গ সাতটি হল) কপাল দু' হাত, দু' হাটু ও দু' পা।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে নির্দেশিত হয়েছি।

বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত- যিনি অবশ্যই মিথ্যাবাদী ছিলেন না। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর পশ্চাতে সালাত আদায় করতাম। তিনি "সামিয়াললা হুলিমান হামিদাহ" বলার পর যতক্ষণ না কপাল মাটিতে স্থাপন করতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ সিজদার জন্য পিঠ ঝুকাত না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ইরশাদ করেছেনঃ আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। কপাল দ্বারা এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, আর দু' হাত, দু' হাটু এবং দু' পায়ের আঙ্গুলসমূহ দ্বারা। আর আমরা যেন চুল ও কাপড় গুটিয়ে না নেই।

আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ খুদরী-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমাদের সঙ্গে খেজুর বাগানে চলুন, (হাদীস সংক্রান্ত) আলাপ আলোচনা করব। তিনি বেরিয়ে আসলেন। আবূ সালামাহ বলেন, আমি তাকে বললাম, 'লাইলাতুল কাদর' সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে যা শুনেছেন, তা আমার নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রমাযানের প্রথম দশ দিন 'ইতিকাফ করলেন। আমরাও তার সঙ্গে ই'তিকাফ করলাম। জিবরীল এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। অতঃপর তিনি মধ্যবর্তী দশদিন ই'তিকাফ করলেন, আমরাও তার সঙ্গে ই'তিকাফ করলাম। পুনরায় জিবরীল এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। অতঃপর রমাযানের বিশ তারিখ সকালে নবী (ﷺ) খুত্বা দিতে দাড়িয়ে বললেন, যারা আল্লাহর নবীর সঙ্গে ই'তিকাফ করেছেন, তারা যেন ফিরে আসেন (আবার ই'তিকাফ করেন) কেননা, আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কাদ্র' অবগত করানো হয়েছে। তবে আমাকে তা (নির্ধারিত তারিখটি) ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় তারিখে। স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কাদা ও পানির উপর সিজদা করছি। তখন মসজিদের ছাদ খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত ছিল। আমরা আকাশে কোন কিছুই (মেঘ) দেখিনি, একখন্ড হালকা মেঘ আসল এবং আমাদের উপর (বৃষ্টি) বর্ষিত হল। নবী (ﷺ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এমন কি আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। এভাবেই তার স্বপ্ন সত্যে রূপ লাভ করল।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন। কিন্তু ইযার বা লুঙ্গী ছোট হবার কারণে তা গলার সাথে বেধে নিতেন। আর নারীদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল, তোমরা সিজদা হতে মাথা উঠাবে না যে পর্যন্ত পুরুষগণ ঠিকমত না বসবে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করতে এবং সালাতের মধ্যে চুল একত্র না করতে এবং কাপড় টেনে না ধরতে নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি সাত অঙ্গে সিজদা করতে, সালাতের মধ্যে চুল একত্র না করতে এবং কাপড় টেনে না ধরতে নির্দেশিত হয়েছি।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তার রুকূ ও সিজদায় অধিক পরিমাণে "সুবহানাকা ল-লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মা গফির লি" "হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন" পাঠ করতেন। এতে তিনি পবিত্র কুরআনের নির্দেশ পালন করতেন।

আবূ কিলাবাহ হতে বর্ণিত যে, মালিক ইবন হুয়াইরিস তার সাথীদের বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সালাত সম্পর্কে আমি কি তোমাদের অবহিত করব না? (রাবী) আবূ কিলাবাহ বলেন, এ ছিল সালাতের সময় ছাড়া অন্য সময়। অতঃপর তিনি (সালাতে) দাড়ালেন, অতঃপর রুকূ করলেন, এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন আর কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর সিজদায় গেলেন এবং সিজদা হতে মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ বসে পুনরায় সিজদা করলেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন। এভাবে তিনি আমাদের এ শায়খ আমর ইবন সালিমাহর সালাতের মত সালাত আদায় করলেন। আইয়ুব বলেন, আমর ইবন সালিমাহ এমন কিছু করতেন যা অন্যদের করতে দেখিনি। তা হল তিনি তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাকাতে বসতেন।

মালিক ইবন হুয়াইরিস বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে কিছুদিন অবস্থান করলাম। তিনি আমাদের বললেন, তোমরা তোমাদের পরিবার পরিজনদের মধ্যে ফিরে যাবার পর অমুক সালাত অমুক সময়, অমুক সালাত অমুক সময় আদায় করবে। সময় হলে তোমাদের কেউ আযান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ইমামাত করবে।

বারাআ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর সিজদা, রুকূ এবং দু' সিজদার মধ্যে বসা প্রায় সমান (সময়ের) হতো।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে যেভাবে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি, কমবেশি না করে আমি তোমাদের সেভাবেই সালাত আদায় করে দেখাব। সাবিত বলেন, আনাস ইবন মালিক এমন কিছু করতেন যা তোমাদের করতে দেখিনা। তিনি রুকূ হতে মাথা তুলে দাড়িয়ে এত বিলম্ব করতেন যে, কেউ বলত, তিনি (সিজ্দাহর কথা) ভুলে গেছেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সিজদায় (অঙ্গ প্রত্যঙ্গের) সামঞ্জস্য রক্ষা কর এবং তোমাদের মধ্যে কেউ যেন দু' হাত বিছিয়ে না দেয়, যেমন কুকুর বিছিয়ে দেয়।

মালিক ইবন হুয়াইরিস লাইসী হতে বর্ণিত, তিনি নবী (ﷺ) -কে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি তার সালাতের বেজোড় রাকাতে (সাজ্দাহ হতে) উঠে না বসে দাড়াতেন না।

আবু কিলাবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন হুয়াইরিস এসে আমাদের এ মসজিদে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। এখন আমার সালাত আদায়ের কোন ইচ্ছা ছিল না, তবে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি তা তোমাদের দেখাতে চাই। আইয়ুব বলেন, আমি আবূ কিলাবাহ-কে জিজ্ঞেস করলাম, তার [মালিক ইবন হুয়াইরিস-এর] সালাত কীরূপ ছিল? তিনি [আবূ কিলাবাহ ] বলেন, আমাদের এ শায়খ আমর ইবন সালিমাহ-এর সালাতের মতো। আইয়ুব বললেন, শায়খ তাকবীর পূর্ণ বলতেন এবং যখন দ্বিতীয় সিজদা হতে মাথা উঠাতেন তখন বসতেন, অতঃপর মাটিতে ভর দিয়ে দাড়াতেন।

সাঈদ ইবন হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ সাঈদ সালাতে আমাদের ইমামাত করেন। তিনি প্রথম সিজদা হতে মাথা উঠানোর সময়, দ্বিতীয় সিজদাকরার সময়, দ্বিতীয় সিজদা হতে মাথা উঠানোর সময় এবং দু' রাকাত শেষে (তাশাহ্হুদের বৈঠকের পর) দাড়ানোর সময় সশব্দে তাকবীর বলেন। তিনি বলেন, আমি এভাবেই নবী (ﷺ) -কে (সালাত আদায় করতে) দেখেছি।

মুতাররিফ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও ইমরান একবার আলী ইবন আবূ তালিব-এর পিছনে সালাত আদায় করি। তিনি সিজদা করার সময় তাকির বলেছেন। উঠার সময় তাকির বলেছেন এবং দু' রাকাত শেষে দাড়ানোর সময় তাকির বলেছেন। সালাম ফিরানোর পর ইমরান আমার হাত ধরে বললেন, ইনি তো (আলী) আমাকে মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর সালাত স্মরণ করিয়ে দিলেন।

আবদুল্লাহ‌ ইবন আবদুল্লাহ‌ হতে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ‌ ইবন উমার-কে সালাতে আসন পিঁড়ি করে বসতে দেখেছেন। আবদুল্লাহ‌ ইবন আবদুল্লাহ‌ বলেন, আমি সে সময় অল্প বয়স্ক ছিলাম। আমিও এমন করলাম। আবদুল্লাহ‌ ইবন উমার আমাকে নিষেধ করলেন এবং তিনি বললেন, সালাতে (বসার) সুন্নাত তরীকা হল তুমি ডান পা খাড়া রাখবে এবং বা পা বিছিয়ে রাখবে। তখন আমি বললাম, আপনি এমন করেন? তিনি বললেন, আমার দু'পা আমার ভার বহন করতে পারে না।

মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন আতা হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) -এর একদল সাহাবীর সঙ্গে বসা ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর সালাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন আবূ হুমাইদ সাঈদী বলেন, আমিই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সালাত সম্পর্কে অধিক স্মরণ রেখেছি। আমি তাকে দেখেছি (সালাত শুরু করার সময়) তিনি তাকবীর বলে দু' হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকূ করতেন তখন দু' হাত দিয়ে হাটু শক্ত করে ধরতেন এবং পিঠ সমান করে রাখতেন। অতঃপর রুকূ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাড়াতেন যাতে মেরুদন্ডের হাড়গুলো স্ব-স্ব স্থানে ফিরে আসতো। অতঃপর যখন সিজদা করতেন তখন দু' হাত সম্পূর্ণভাবে মাটির উপর বিছিয়ে দিতেন না, আবার গুটিয়েও রাখতেন না। এবং তার উভয় পায়ের আঙ্গুলির মাথা কিবলামুখী করে দিতেন। যখন দু'রাকআতের পর বসতেন তখন বাম পা-এর উপর বসতেন আর ডান পা খাড়া করে দিতেন এবং যখন শেষ রাকাতে বসতেন তখন বা পা এগিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসতেন।

বানূ আবদুল মুত্তালিবের আযাদকৃত দাস এবং রাবী কোন সময়ে বলেছেন রাবীয়া ইবন হারিসের আদাকৃত দাস, আবদুর রহমান ইবন হুরমুয হতে বর্ণিত যে, বনূ 'আব্দ মানাফের বন্ধু গোত্র আয্দ শানআর লোক আবদুল্লাহ ইবন বুহাইনাহ যিনি নবী (ﷺ) -এর সাহাবীগণের অন্যতম। তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) তাদের নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন। তিনি প্রথমে দু' রাকাআত পড়ার পর না বসে দাড়িয়ে গেলেন। মুক্তাদীগণ তার সঙ্গে দাড়িয়ে গেলেন। এভাবে সালাতের শেষভাবে মুক্তাদীগণ সালামের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু নবী (ﷺ) বসাবস্থায় তাকবীর বললেন এবং সালাম ফিরানোর পূর্বে দু'বার সিজদা করলেন, এরপর সালাম ফিরালেন।

আবদুল্লাহ ইবন মালিক- যিনি ইবন বুহাইনা- হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন। দু' রাকাত পড়ার পর তিনি দাড়িয়ে গেলেন অথচ তার বসা জরুরী ছিল। অতঃপর সালাতের শেষভাগে বসে তিনি দু'টো সিজদা করলেন।

শাকীক ইবন সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (ইবন মাসঊদ) বলেন, আমরা যখন নবী (ﷺ) -এর পিছনে সালাত আদায় করতাম, তখন আমরা বলতাম, "আস্সালামু আলা জিব্রীল ওয়া মিকাইল এবং আস্সালামু আলা ফুলান ওয়া ফুলান।" তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ আল্লাহ নিজেই তো সালাম, তাই যখন তোমরা কেউ সালাত আদায় করবে, তখন সে যেন বলে- "আত-তাহিয়াতু লি ল-লাহি ওয়া সাসালাওয়াতু ওয়া তা-তাইয়্যিবাত। আস-সালামু 'আলালিকা আইয়ুহা ন-নাবিয়ু ওয়া রাহমাতু ল-লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদি ল-লাহি স-সালিহীন। আশ-হাদু আল-লা ইলাহা ইল্লা-লা-লাহ, ওয়া আশ-হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ" "সকল মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদাত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মাবূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চই মুহাম্মাদ (ﷺ) তার বান্দা ও রাসূল।" কেননা, যখন তোমরা এ বলবে তখন আসমান ও যমীনের আল্লাহর সকল নেক বান্দার নিকট পৌছে যাবে।

উরওয়াহ ইবন যুবাইর হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) -এর স্ত্রী আয়িশাহ তাকে বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাতে এ বলে দোয়া করতেনঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন আযাবিল-কবর, ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল-মাসিহিদ-দাজ্জাল, ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল-মাহিয়া ওয়া ফিতনাতিল-মামাত। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল-মা'সামি ওয়াল-মাগরাম"। "কবরের আযাব হতে, মাসীহে দাজ্জালের ফিতনা হতে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা হতে ইয়া আল্লাহ! আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! গুনাহ ও ঋণগ্রস্ততা হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই।" তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, কেন আপনি এত বার বার ঋণগ্রস্ততা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান? রাসূল (ﷺ) বললেনঃ যখন কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন কথা বলার সময় মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে।

উরওয়াহ ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত। আয়িশাহ বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার সালাতে দাজ্জালের ফিতনা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।

আবূ বাকর সিদ্দীক হতে বর্ণিত। একদা তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট আরয করলেন, আমাকে সালাতে পাঠ করার জন্য একটি দোয়া শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, এ দোয়াটি বলবে- "আল্লাহুম্মা ইন্নি জালুমতু নাফসি জুলমান কাসিরান, ওয়ালা ইয়াগফিরুয-যুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলি মাগফিরাতান মিন ঈন্দিকা, ওয়ার-হামনি, ইন্নাকা আনতাল-গাফুরুর-রাহিম" -"হে আল্লাহ! আমি নিজের উপর অধিক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আপনার পক্ষ হতে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।"

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের অবস্থা এ ছিল যে, যখন আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সালাতে থাকতাম, তখন আমরা বলতাম, বান্দার পক্ষ হতে আল্লাহর প্রতি সালাম। সালাম অমুকের প্রতি, সালাম অমুকের প্রতি। এতে নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর প্রতি সালাম, তোমরা এরূপ বল না। কারণ আল্লাহ নিজেই সালাম। বরং তোমরা বল- "আত-তাহিয়াতু লি ল-লাহি ওয়া সাসালাওয়াতু ওয়া তা-তাইয়্যিবাত। আস-সালামু 'আলালিকা আইয়ুহা ন-নাবিয়ু ওয়া রাহমাতু ল-লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদি ল-লাহি স-সালিহীন। আশ-হাদু আল-লা ইলাহা ইল্লা-লা-লাহ, ওয়া আশ-হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ" "সকল মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদাত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মাবূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চই মুহাম্মাদ (ﷺ) তার বান্দা ও রাসূল।" অতঃপর যে দোয়া তার পছন্দ হয় তা সে বেছে নিবে এবং পড়বে।

আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সায়ীদ খুদরী-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি। এমন কি তার কপালে কাদামাটির চিহ্ন লেগে থাকতে দেখেছি।

উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন সালাম ফিরাতেন, তখন সালাম শেষ হলেই মহিলাগণ দাড়িয়ে পড়তেন। তিনি (ﷺ) দাড়ানোর পূর্বে কিছুক্ষণ বসে অপেক্ষা করতেন। ইবন শিহাব বলেন, আল্লাহই ভাল জানেন, আমার মনে হয়, তার এ অপেক্ষা এ কারণে যাতে মুসাল্লীগণ হতে যে সব পুরুষ ফিরে যান তাদের পূর্বেই মহিলারা নিজ অবস্থানে পৌছে যেতে পারেন।

ইতবান ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি। তিনি যখন সালাম ফিরান তখন আমরাও সালাম ফিরাই।

মাহমূদ ইবন রাবী' হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কথা তার স্পষ্ট মনে আছে, যে তাদের বাড়িতে রাখা একটি বালতির (পানি নিয়ে) নবী (ﷺ) কুল্লি করেছেন।

তিনি বলেছেন, আমি 'ইতবান ইবন মালিক আনসারী যিনি বনূ সালিম গোত্রের একজন, তাকে বলতে শুনেছি, আমি নবী (ﷺ) -এর নিকট গিয়ে বললাম, আমার দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে গেছে এবং আমার বাড়ি হতে আমার কাওমের মাসজিদ পর্যন্ত পানি বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। আমার একান্ত ইচ্ছা আপনি আমার বাড়িতে এসে এক জায়গায় সালাত আদায় করবেন যেটা আমি সালাত আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট করে নিব। নবী (ﷺ) বললেনঃ ইন্শা আল্লাহ, আমি তা করব। পরদিন রোদের তেজ বৃদ্ধি পেলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এবং আবূ বাকর আমার বাড়িতে এলেন। নবী (ﷺ) প্রবেশের অনুমতি চাইলে আমি তাকে দিলাম। তিনি না বসেই বললেনঃ তোমার ঘরের কোন স্থানে তুমি আমার সালাত আদায় পছন্দ কর? তিনি পছন্দ মত একটি স্থান নবী (ﷺ) -কে সালাত আদায়ের জন্য ইঙ্গিত করে দেখালেন। অতঃপর তিনি দাড়ালেন আমরাও তার পিছনে কাতারে দাড়ালাম। অবশেষে তিনি সালাম ফিরালেন, আমরাও তার সালামের সময় সালাম ফিরালাম।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) -এর সময় মুসল্লীগণ ফরজ সালাত শেষ হলে উচ্চস্বরে যিকর করতেন। ইবন আব্বাস বলেন, আমি এরূপ শুনে বুঝতাম, মুসল্লীগণ সালাত শেষ করেছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাকবীর শুনে আমি বুঝতে পারতাম সালাত শেষ হয়েছে। আলী বলেন, সুফ্ইয়ান সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আবূ মাবাদ ইবন আব্বাস-এর আযাদকৃত দাসসমূহের মধ্যে অধিক সত্যবাদী দাস ছিলেন। আলী বলেন, তার নাম ছিল নাফিয।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দরিদ্রলোকেরা নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, সম্পদশালী ও ধনী ব্যক্তিরা তাদের সম্পদের দ্বারা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী আবাস লাভ করছেন, তারা আমাদের মত সালাত আদায় করছেন, আমাদের মত সিয়াম পালন করছেন এবং অর্থের দ্বারা হাজ্জ, উমরাহ, জিহাদ ও সদাক্বাহ করার মর্যাদাও লাভ করছেন। এ শুনে তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু কাজের কথা বলব, যা তোমরা করলে, যারা নেক কাজে তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছে, তাদের পর্যায়ে পৌছতে পারবে। তবে যারা পুনরায় এ ধরনের কাজ করবে তাদের কথা স্বতন্ত্র। তোমরা প্রত্যেক (ফরজ) নামাজের পর তেত্রিশ বার করে 'সুবহানাল্লাহ্', 'আলহামদুল্লিল্লাহ্' এবং 'আল্লাহুআকবার' পাঠ করবে। (এ নিয়ে) আমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হলো। কেউ বলল, আমরা তেত্রিশ বার 'সুবহানাল্লাহ্' তেত্রিশ বার 'আলহামদুল্লিল্লাহ্' আর চৌত্রিশ বার আল্লাহুআকবার' পড়ব। অতঃপর আমি নবী (ﷺ) এর নিকট ফিরে গেলাম। তিনি বললেন, "সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার" বলবে, যাতে সবগুলোই তেত্রিশবার করে হয়ে যায়।

মুগীরাহ ইবন শুবাহ-এর কাতিব ওয়ার্রাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরাহ ইবন শুবাহ আমাকে দিয়ে মুআবিয়াহ-কে একখানা পত্র লিখালেন যে, নবী (ﷺ) প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর বলতেনঃ "লা ইলাহা ইল্লা ল-লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল-মুলকু ওয়া লাহু ল-হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। আল্লাহুম্মা লা মানিআ লিমা আ'তাইতা, ওয়া লা মু'তিয়া লিমা মানা তা, ওয়া লা ইয়ানফাউ জাল-জাদ্দি মিনকাল-জাদ্দ" -"এক আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তারই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তারই জন্য, তিনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই, এবং কোন সংগ্রামীর প্রচেষ্টা আপনার বিরুদ্ধে কাজে আসে না।" এবং আল-হাসান বলেছেন, "আল-জাদ্দ' অর্থ সম্পদ।"

সামুরাহ ইবন জুনদুব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন সালাত শেষ করতেন, তখন আমাদের দিকে মুখ ফিরাতেন।

যায়দ ইবন খালিদ জুহানী হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রাতে বৃষ্টি হবার পর হুদায়বিয়াতে আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ তোমরা কি জান, তোমাদের পরাক্রমশালী ও মহিমাময় প্রতিপালক কি বলেছেন? তারা বললেনঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশি জানেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ (রব) বলেন, আমার বান্দাদের মধ্য কেউ আমার প্রতি মুমিন হয়ে গেল এবং কেউ কাফির। যে বলেছে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হল আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী হয়েছে।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অর্ধরাত পর্যন্ত সালাত বিলম্ব করলেন। এরপর তিনি আমাদের সামনে বের হয়ে এলেন। সালাত শেষে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের অপেক্ষায় থাকবে ততক্ষণ তোমরা যেন সালাতে রত থাকবে।

নাফি হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ইবন উমার যে স্থানে দাড়িয়ে ফরজ সালাত আদায় করতেন সেখানে দাড়িয়ে অন্য সালাত আদায় করতেন। এরূপ ক্বাসিম আমল করেছেন। আবূ হুরাইরাহ্ হতে মারফূ' হাদীস বর্ণনা করা হয়ে থাকে যে, ইমাম তার জায়গায় দাড়িয়ে নফল সালাত আদায় করবেন। [ইমাম বুখারী বলেন] এ হাদীসটি মারফূ' হিসেবে রিওয়ায়াত করা ঠিক নয়।

উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) সালাম ফিরানোর পর নিজ জায়গায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন। ইবন শিহাব বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর বসে থাকার কারণ আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। তবে আমার মনে হয় সালাতের পর মহিলাগণ যাতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান।

ইবনে শিহাব বলেন, আমি মনে করি (এবং আল্লাহই ভালো জানেন) যে, তিনি নামায পড়া মহিলাদের বিদায়ের জন্য অপেক্ষা করতেন। ইবনে শিহাব লিখেছেন যে তিনি হিন্দ বিনতে আল-হারিস আল-ফিরাসিয়া থেকে এবং সে উম সালামা থেকে শুনেছিলেন, যিনি [হিন্দ ছিলেন নবীর স্ত্রী উম্মু সালামার বান্ধবী] বলেন, "নবী (ﷺ) যখন তাসলিমের সাথে সালাত শেষ করতেন, তখন মহিলারা চলে যেতেন এবং আল্লাহর রসূল চলে যাওয়ার আগে তাদের ঘরে প্রবেশ করতেন।

উকবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদিনায় নবী (ﷺ) -এর পিছনে আসরের সালাত আদায় করলাম। সালাম ফিরানোর পর তিনি তাড়াতাড়ি দাড়িয়ে যান এবং মুসল্লীগণকে ডিঙ্গিয়ে তার সহধর্মিণীগণের কোন একজনের কক্ষে গেলেন। তার এই দ্রুততায় মুসল্লীগণ ঘাবড়িয়ে গেলেন। নবী (ﷺ) তাদের নিকট ফিরে এলেন এবং দেখলেন যে, তার দ্রুততার কারণে তারা বিস্মিত হয়ে গেছেন। তাই তিনি বললেনঃ আমাদের নিকট রাখা কিছু স্বর্ণের কথা মনে পড়ে যায়। তা আমার জন্য বাধা হোক, তা আমি পছন্দ করি না। তাই আমি সেটার বণ্ঠনের নির্দেশ দিলাম।

আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (ইবন মাসঊদ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন স্বীয় সালাতের কোন কিছু শয়তানের জন্য না করে। তা হল, কেবল ডান দিকে ফিরানো আবশ্যক মনে করা। আমি নবী (ﷺ)-কে অধিকাংশ সময়ই বাম দিকে ফিরতে দেখেছি।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) খায়বারের যুদ্ধের সময় বলেন, যে ব্যক্তি এই জাতীয় বৃক্ষ হতে কাঁচা রসুন খায় সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদে না আসে।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি এ জাতীয় গাছ হতে খায়, তিনি এ দ্বারা রসুন বুঝিয়েছেন, সে যেন আমাদের মসজিদে না আসে। (রাবী আতা বলেন) আমি জাবির কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) -এর দ্বারা কী বুঝিয়েছেন (জাবির বলেন, আমার ধারণা যে, নবী (ﷺ) -এর দ্বারা কাঁচা রসুন বুঝিয়েছেন এবং মাখ্লাদ ইবন ইয়াযীদ ইবন জুরাইজ হতে দুর্গন্ধযুক্ত হবার কথা উল্লেখ করেছেন।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রসুন বা পিঁয়াজ খায় সে যেন আমাদের হতে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মাসজিদ হতে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে। (উক্ত সানাদে আরো বর্ণিত আছে যে,) নবী (ﷺ) -এর নিকট একটি পাত্র যার মধ্যে শাক-সবজি ছিল আনা হলো। নবী (ﷺ) -এর গন্ধ পেলেন এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তাকে সে পাত্রে রক্ষিত শাক-সবজি সম্পর্কে জানানো হলো, তখন একজন সহাবা [আবূ আইয়ুব ]-কে উদ্দেশ্য করে বললেন, তার নিকট এগুলো পৌছে দাও। কিন্তু তিনি তা খেতে অপছন্দ করলেন, এ দেখে নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি খাও। আমি যার সাথে গোপনে আলাপ করি তার সাথে তুমি আলাপ কর না (মালাইকাহর সাথে আমার আলাপ হয়, তারা দুর্গন্ধকে অপছন্দ করেন)।

আবদুল আযীয হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আনাস ইবন মালিক-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি নবী (ﷺ) -কে রসুন খাওয়া সম্পর্কে কী বলতে শুনেছেন? তখন আনাস বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এ জাতীয় গাছ হতে খায় সে যেন অবশ্যই আমাদের নিকট না আসে এবং আমাদের সাথে সালাত আদায় না করে।

শা'বী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন এক ব্যক্তি আমাকে খবর দিয়েছেন, যিনি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে একটি পৃথক কবরের নিকট গেলেন। নবী (ﷺ) সেখানে লোকদের ইমামাত করেন। লোকজন কাতারবন্দী হয়ে তার পিছনে দাড়িয়ে গেল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ আমর! কে আপনাকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, ইবন আব্বাস (রাযি আল্লাহু তাআলা 'আনহু)।

আবূ সাঈদ খুদরী সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,জুমুআহর দিন প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত (মুসলিমের) গোসল করা ওয়াজিব।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে আমার খালা মাইমূনাহ এর নিকট রাত্র কাটালাম। সে রাতে নবী (ﷺ) -ও সেখানে নিদ্রা যান। রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলে তিনি উঠলেন এবং একটি ঝুলন্ত মশ্ক হতে পানি নিয়ে হাল্কা উযূ করলেন। আমর (বর্ণনাকারী) এটাকে হাল্কা এবং অতি কম বুঝলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাড়ালেন। ইবন আব্বাস বলেন, আমি উঠে তার মতই সংক্ষিপ্ত উযূ করলাম, অতঃপর এসে নবী (ﷺ) -এর বামপাশে দাড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমাকে ঘুরিয়ে তার ডানপাশে করে দিলেন। অতঃপর যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সালাত আদায় করলেন, অতঃপর বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়ায হতে লাগল, অতঃপর মুআয্যিন এসে সালাতের কথা জানালে তিনি উঠে তার সালাতের জন্য চলে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। কিন্তু (নতুন) উযূ করলেন না। সুফ্ইয়ান বলেন, আমি আমর-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, লোকজন বলে থাকেন, নবী (ﷺ) -এর চোখ নিদ্রায় যেত কিন্তু তার কাল্ব (হৃদয়) জাগ্রত থাকত। আমর বললেন, 'উবায়দ ইবন উমার-কে আমি বলতে শুনেছি যে, নিশ্চই নবীগণের স্বপ্ন ওয়াহী। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন [ইব্রাহীম, ইসমাঈল-কে বললেন] "আমি স্বপ্ন দেখলাম, তোমাকে কুরবানী করছি।" (আস্ -সাফ্ফাত ৩৭/১০২)।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। ইসহাক-এর দাদী মুলাইকা খাদ্য তৈরি করে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে দাওয়াত করলেন। তিনি তার তৈরি খাবার খেলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা উঠে দাড়াও, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। আনাস বলেন, আমি একটি চাটাইয়ে দাড়ালাম যা অধিক ব্যবহারের কারণে কালো হয়ে গিয়েছিল। আমি এতে পানি ছিটিয়ে দিলাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাতে দাড়ালেন, আমার সঙ্গে একটি ইয়াতীম বাচ্চাও দাড়াল এবং বৃদ্ধা আমাদের পিছনে দাড়ালেন। আমাদের নিয়ে তিনি দু' রাকাত সালাত আদায় করলেন।

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি গাধার উপর আরোহণ করে অগ্রসর হলাম। তখন আমি প্রায় বয়ঃপ্রাপ্ত। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিনায় প্রাচীর ব্যতীত অন্য কিছু সামনে রেখে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি কোন এক কাতারের সম্মুখ দিয়ে অগ্রসর হয়ে এক জায়গায় নেমে গেলাম এবং গাধাটিকে চরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দিলাম। অতঃপর আমি কাতারে ঢুকে পড়লাম। আমার এ কাজে কেউ আপত্তি করলেন না।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইশার সালাত আদায়ে দেরি করলেন। অবশেষে উমার তাকে আহবান করে বললেন, নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। আয়িশাহ বলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বের হয়ে বললেনঃ তোমরা ছাড়া পৃথিবীতে কেউ আর এ সালাত আদায় করে না। (রাবী বলেন,) সে সময় মাদ্বীনাবাসী ছাড়া আর কেউ সালাত আদায় করতো না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল, আপনি নবী (ﷺ) -এর সাথে কখনো 'ঈদের মাঠে গমন করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা, গেছি। তবে তার নিকট আমার যে মর্যাদা ছিল তা না থাকলে আমি অল্প বয়ষ্ক হবার কারণে সেখানে যেতে পারতাম না। তিনি কাসীর ইবন সালাতের বাড়ির নিকট যে নিশানা ছিল সেখানে আসলেন (সালাত আদায়ের) পরে খুত্বা দিলেন। অতঃপর মহিলাদের নিকট গিয়ে তিনি তাদের ওয়ায ও নাসীহাত করেন। এবং তাদের সদাক্বাহ করতে নির্দেশ দেন। ফলে মহিলারা তাদের হাতের আংটি খুলে বিলাল-এর কাপড়ের মধ্যে নিক্ষেপ করতে থাকলেন। অতঃপর নবী ও বিলাল বাড়ি পৌছলেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইশার সালাত আদায়ে দেরি করলেন। ফলে উমার (রা,) তাকে আহবান করে বললেন, মহিলা ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তখন নবী (ﷺ) বেরিয়ে এসে বললেনঃ এ সালাতের জন্য পৃথিবীতে অন্য কেউ অপেক্ষারত নেই। সে সময় মদিনা্বাসী ছাড়া অন্য কোথাও সালাত আদায় করা হতো না। তারা সুর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশের লালিমা অদৃশ্য হবার সময় হতে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ইশা সালাত আদায় করতেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যদি তোমাদের স্ত্রীরা রাতের বেলা মসজিদে আসতে চায় তাহলে তাদের অনুমতি দিবে।

হিন্দ বিনত হারিস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী সালামাহ তাকে জানিয়েছেন, নারীরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সময় ফরজ সালাতের সালাম ফিরানোর সাথে সাথে উঠে যেতেন এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-ও তার সঙ্গে সালাত আদায়কারী পুরুষগণ, আল্লাহ যতক্ষণ ইচ্ছা করেন অবস্থান করতেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল উঠলে পুরুষরাও উঠে যেতেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন ফজরের সালাত শেষ করতেন তখন নারীরা চাদরে সর্বাঙ্গ আচ্ছাদিত করে ঘরে ফিরতেন। অন্ধকারের দরুণ তখন তাদেরকে চেনা যেতো না।

আবূ কাতাদাহ্ আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আমি সালাতে দাড়িয়ে তা দীর্ঘায়িত করব বলে ইচ্ছা করি, অতঃপর শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে আমি সালাত সংক্ষিপ্ত করি এ আশংকায় যে, তার মা কষ্ট পাবে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জানতেন যে, নারীরা কী অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তাহলে বনী ইসরাঈলের নারীদের যেমন বারণ করা হয়েছিল, তেমনি এদেরও মসজিদে আসা নিষেধ করে দিতেন। (রাবী) ইয়াহ্ইয়া ইবন সাঈদ বলেন,) আমি আমরাহ্-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাদের কি নিষেধ করা হয়েছিল? তিনি বললেন, হা।

উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন সালাম ফিরাতেন, তখন মহিলারা তার সালাম শেষ করার পর উঠে যেতেন। নবী (ﷺ) দাড়ানোর পূর্বে স্বীয় স্থানে কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন। রাবী যুহরী বলেন, আমাদের মনে হয়, তা এজন্য যে, অবশ্য আল্লাহ ভাল জানেন, যাতে পুরুষদের যাবার পূর্বেই নারীরা চলে যেতে পারে।

আনাস (ইবন মালিক) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উম্মু সুলাইম-এর ঘরে সালাত আদায় করেন। আমি এবং একটি ইয়াতীম তার পিছনে দাড়ালাম আর উম্মু সুলাইম আমাদের পিছনে দাড়ালেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অন্ধকার থাকতেই ফজরের সালাত আদায় করতেন। অতঃপর মুমিনদের স্ত্রীগণ চলে যেতেন, অন্ধকারের জন্য তাদের চেনা যেতনা অথবা বলেছেন, অন্ধকারের জন্য তারা একে অপরকে চিনতেন না।

আবদুল্লাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কারো স্ত্রী যদি (সালাতের জন্য মসজিদে যাবার) অনুমতি চায় তাহলে তার স্বামী তাকে যেন বাধা না দেয়।

আনাস (ইবন মালিক) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উম্মু সুলাইম-এর ঘরে সালাত আদায় করেন। আমি এবং একটি ইয়াতীম তার পিছনে দাড়ালাম আর উম্মু সুলাইম আমাদের পিছনে দাড়ালেন।

উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন সালাম ফিরাতেন, তখন মহিলারা তার সালাম শেষ করার পর উঠে যেতেন। নবী (ﷺ) দাড়ানোর পূর্বে স্বীয় স্থানে কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন। রাবী যুহরী বলেন, আমাদের মনে হয়, তা এজন্য যে, অবশ্য আল্লাহ ভাল জানেন, যাতে পুরুষদের যাবার পূর্বেই নারীরা চলে যেতে পারে।