শর্তাবলী (২৭১১-২৭৩৭)
মারওয়ান ও মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সাহাবীগণ থেকে বর্ণনা করেন, সেদিন সুহাইল ইবন আমর যখন সন্ধিপত্র লিখল তখন সুহাইল ইবন আমর আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি এরূপ শর্তারোপ করল যে, আমাদের কেউ আপনার নিকট আসলে সে আপনার দ্বীন গ্রহণ করা সত্ত্বেও আপনি তাকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিবেন। আর আমাদের ও তার মধ্যে হস্তক্ষেপ করবেন না। মুমিনরা এটা অপছন্দ করলেন এবং এতে রাগান্বিত হলেন। সুহাইল এটা ব্যতীত সন্ধি করতে অস্বীকার করল। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সে শর্ত মেনেই সন্ধিপত্র লেখালেন। সেদিন তিনি আবু জানদাল-কে তার পিতা সুহাইল ইবন আমরের নিকট ফেরত দিলেন এবং সে চুক্তির মেয়াদ কালে পুরুষদের মধ্যে যেই এসেছিলো মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাকে ফেরত দিলেন। মুমিন নারীরাও হিজরাত করে আসলেন। সে সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট যারা এসেছিলেন তাদের মধ্যে উম্মু কুলসুম বিনতে উকবাহ ইবন আবু মুয়ায়ত ছিলেন। তিনি ছিলেন যুবতী। তার পরিজন তাকে তাদের নিকট ফেরত দেয়ার জন্য নবী (ﷺ)-এর কাছে দাবী জানালো। কিন্তু তাকে তিনি তাদের নিকট ফেরত দিলেন না। কেননা, সেই নারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আয়াত নাযিল করেছিলেনঃ মুমিন নারীরা হিজরত করে তোমাদের নিকট আসলে তাদের তোমরা পরীক্ষা কর। আল্লাহ তাদের ঈমান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জানতে পার যে, তারা মুমিন তাদেরকে কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাবে না-(আল-মুমতাহিনা ১০)।
পূর্বের হাদিসের মতই (২৭১১)।
উরওয়াহ বলেন, আয়িশাহ বলেছেন, তাদের মধ্যে যারা এই শর্তে রাযী হতো তাকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) শুধু এ কথা বলতেন, 'আমি তোমাকে বায়আত করলাম। আল্লাহর কসম! বায়আত গ্রহণে তার হাত কখনো কোন নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তিনি তাদের শুধু কথার মাধ্যমে বায়আত করেছেন।
যিয়াদ ইবন ইলাকা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জারীর-কে বলতে শুনেছি যে, আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করলাম। তিনি আমার উপর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণ কামনার শর্তারোপ করলেন।
জারীর ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালাত কায়িম করার, যাকাত প্রদান করার এবং প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণ কামনা করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বাই'আত করেছি।
আবদুল্লাহ্ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কেউ তাবীর করা খেজুর গাছ বিক্রি করলে তার ফল হবে বিক্রেতার, যদি ক্রেতা শর্তারোপ না করে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাহ একবার তার নিকট এসে তার চুক্তি পত্রের ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনা করল, তখন পর্যন্ত সে চুক্তির অর্থ কিছুই আদায় করেনি। আয়িশাহ তাকে বললেন, 'তুমি তোমার মালিকের নিকট ফিরে যাও। তারা যদি এটা পছন্দ করে যে, আমি তোমার পক্ষ থেকে তোমার চুক্তিপত্রের প্রাপ্য পরিশোধ করে দিব, আর তোমার 'ওয়ালা' আমার জন্য থাকবে, তাহলে আমি তাই করব।' বারীরাহ তার মালিককে সে কথা জানালে তারা অস্বীকার করে বলল, তিনি যদি তোমাকে দিয়ে সওয়াব পেতে চান তবে করুন, তোমার 'ওয়ালা' অবশ্য আমাদেরই থাকবে। আয়িশাহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সে কথা জানালে তিনি তাকে বললেন, 'তুমি তাকে কিনে নাও তারপর আযাদ করে দাও। 'ওয়ালা' তারই যে আযাদ করে।'
জাবির হতে বর্ণিত যে, তিনি তার এক উটের উপর সওয়ার হয়ে সফর করছিলেন, সেটি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন নবী (ﷺ) আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং উটটিকে (চলার জন্য) প্রহার করে সেটির জন্য দোয়া করলেন। ফলে উটটি এত জোরে চলতে লাগলো যে, কখনো তেমন জোরে চলেনি। অতঃপর তিনি বললেন, 'এক উকিয়ার বিনিময়ে এটি আমার নিকট বিক্রি কর।' আমি বললাম, না। তিনি বললেন, 'এটি আমার নিকট এক উকিয়ার বিনিময়ে বিক্রি কর।' তখন আমি সেটি বিক্রি করলাম। কিন্তু আমার পরিজনের নিকট পৌছা পর্যন্ত সওয়ার হবার অধিকার রেখে দিলাম। অতঃপর উট নিয়ে আমি তার নিকট গেলাম। তিনি আমাকে এর নগদ মূল্য দিলেন। অতঃপর আমি চলে গেলাম। তখন আমার পেছনে লোক পাঠালেন। পরে বললেন, 'তোমার উট নেয়ার ইচ্ছা আমার ছিল না। তোমার এ উট তুমি নিয়ে যাও এটি তোমারই মাল।' (বিভিন্ন বর্ণনা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাবিরের মদীনা পর্যন্ত বিক্রিত উটে চড়ার অধিকার ছিল এই শর্তের সাথে সামান্য ভিন্নতার সাথে)।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারগণ নবী (ﷺ)-কে বললেন, 'আমাদের ও আমাদের (মুহাজির) ভাইদের মধ্যে খেজুর গাছ বণ্টন করে দিন।' তিনি বললেন, না। তখন তারা বললেন, 'তোমরা আমাদের শ্রমে সাহায্য করবে আর তোমাদের আমরা ফলের অংশ দিব।' তারা [মুহাজিরগণ] বললেন, আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম।'
আবদুল্লাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা) খায়বার ইয়াহূদীদেরকে দিলেন এ শর্তে যে, তারা তাতে কাজ করবে এবং তাতে ফসল ফলাবে, তাতে যা উৎপন্ন হবে তার অর্ধেক তারা পাবে।
উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, শর্তসমূহের মধ্যে যা পূর্ণ করার সর্বাধিক দাবী রাখে তা হল সেই শর্ত যার দ্বারা তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করেছ।
রাফি ইবন খাদীজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারদের মধ্যে আমরা অধিক শস্য ক্ষেত্রের মালিক ছিলাম। তাই আমরা জমি বর্গা দিতাম। কখনো এ অংশে ফসল হতো, আর ঐ অংশে ফসল হতো না। তখন আমাদের তা করতে নিষেধ করে দেয়া হলো। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে চাষ করতে দিতে নিষেধ করা হয়নি।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, শহরবাসী গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রয় করবে না। আর তোমরা (মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশে) দালালী করবে না। কেউ যেন তার ভাইয়ের ক্রয়ের উপরে দাম না বাড়ায় এবং কেউ যেন তার ভাইয়ের (বিবাহের) প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। আর কোন স্ত্রীলোক যেন তার বোনের (সতীনের) পাত্রের অধিকারী হওয়ার উদ্দেশে তার তালাকের চেষ্টা না করে।
আবূ হুরাইরাহ্ ও যায়দ ইবন খালিদ জুহানী হতে বর্ণিত। তারা বলেন, এক বেদুঈন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আমার বাপারে আল্লাহর কিতাব মত ফয়সালা করুন।' তখন তার প্রতিপক্ষ, যে তার তুলনায় বেশি জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন সে বলল, 'হ্যা, আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব মত ফয়সালা করুন এবং আমাকে বলার অনুমতি দিন।' আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, 'বল'। সে বলল, আমার ছেলে এর নিকট মজুর ছিলো। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করেছে। আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, আমার ছেলের প্রাপ্য দন্ড হল রাজম। তখন আমি তাকে (ছেলেকে) একশ বকরী এবং একটি বাদীর বিনিময়ে তার নিকট হতে ছাড়িয়ে এনেছি। পরে আমি আলিমদের জিজ্ঞেস করলাম। তারা আমাকে জানালেন যে, আমার ছেলের দন্ড হল একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। আর এই লোকের স্ত্রীর দন্ড হল রাজম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, 'যার হাতে আমার প্রাণ তার কসম, অবশ্যই আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করব। বাদী এবং একশ বকরী তোমাকে ফেরত দেয়া হবে। আর তোমার ছেলের শাস্তি একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। হে উনায়স! আগামীকাল সকালে এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাবে। যদি সে স্বীকার করে তাহলে তাকে রাজম করবে। রাবী বলেন, উনায়স পরদিন সকালে সে স্ত্রীলোকের নিকট গেলেন। সে অপরাধ স্বীকার করল। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নির্দেশে তাকে রাজম করা হল।
পূর্বের হাদিসের মতই (২৭২৪)।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুকাতাবা অবস্থায় বারীরা আমার নিকট এসে বলল, হে উম্মুল মুমিনীন! আপনি আমাকে কিনে নিন। কারণ আমার মালিক আমাকে বিক্রি করে ফেলবে। অতঃপর আমাকে আযাদ করে দিন। তিনি বললেন, 'ঠিক আছে, বারীরাহ বলল, 'ওয়ালা'র অধিকার মালিকের থাকবে- এ শর্ত না রেখে তারা আমাকে বিক্রি করবে না।' তিনি বললেন, তবে তোমাকে দিয়ে আমার কোন দরকার নেই। পরে নবী (ﷺ) তা শুনলেন কিংবা তার নিকট সে সংবাদ পৌছল। তখন তিনি বললেন, বারীরার খবর কী? এবং বললেন, তাকে কিনে নাও। অতঃপর তাকে আযাদ করে দাও। তারা যত ইচ্ছা শর্তারোপ করুক। আয়িশাহ বলেন, অতঃপর আমি তাকে কিনে নিলাম এবং আযাদ করে দিলাম। তার মালিক পক্ষ 'ওয়ালা'র শর্তারোপ করল। তখন নবী (ﷺ) বললেন, 'ওয়ালা' তারই হবে, যে আযাদ করবে, তারা শত শর্তারোপ করলেও।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কাউকে শহরের বাইরে গিয়ে বাণিজ্য বহরের কাফেলা থেকে মাল কিনতে নিষেধ করেছেন। আর বেদুঈনের পক্ষ হয়ে মুহাজিরদেরকে কোন কিছু বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আর কোন স্ত্রীলোক যেন তার বোনের (অপর স্ত্রীলোকের) তালাকের শর্তারোপ না করে আর কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের দামের উপর দাম না করে এবং নিষেধ করেছেন দালালী করতে, (মূল্য বাড়ানোর উদ্দেশে) এবং স্তন্যে দুধ জমা করতে (ধোকা দেয়ার উদ্দেশে)।
উবাই ইবন কা'ব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল মূসা বলেন। অতঃপর তিনি পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করেন। (এ ব্যাপারে খিয্র-এর এ কথাটি উল্লেখ করেন যা তিনি মূসা-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন), আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে পারবে না? [মূসা -এর আপত্তি] প্রথমটি ছিল ভুলক্রমে, দ্বিতীয়টি শর্ত মুতাবিক, তৃতীয়টি ইচ্ছাকৃত। মূসা বললেন, আপনি আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না এবং আমার ব্যাপারে অত্যধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না। তারা উভয়ে এক বালকের সাক্ষাৎ পেলেন এবং খিয্র তাকে হত্যা করলেন। অতঃপর তারা উভয়ে পথ চলতে লাগলেন। কিছু দূর এগিয়ে তারা পতনোন্মুখ একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন। খিয্র প্রাচীরটি সোজা করে দাড় করিয়ে দিলেন। (কাহ্ফ ৭৭)
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাহ আমার নিকট এসে বলল, আমি আমার মালিকের সঙ্গে নয় উকিয়ার বিনিময়ে আমাকে স্বাধীন করার এক চুক্তি করেছি। প্রতি বছর এক উকিয়া করে পরিশোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন। আয়িশাহ বললেন, তারা যদি এ শর্তে রাযী হয় যে, আমি তাদের সমস্ত প্রাপ্য একবারে দিয়ে দিই এবং তোমার 'ওয়ালা' আমার জন্য থাকবে, তাহলে আমি তা করব। বারীরাহ তার মালিকের নিকট গিয়ে এ কথা বলল; কিন্তু তারা তাতে অস্বীকৃতি জানাল। অতঃপর বারীরাহ তাদের নিকট হতে ফিরে এল। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উপবিষ্ট ছিলেন। বারীরাহ বলল, আমি তাদের নিকট প্রস্তাবটি পেশ করেছি, 'ওয়ালা'র অধিকার তাদের জন্য না হলে, এতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নবী (ﷺ) শুনলেন এবং আয়িশাহ-ও তাকে জানালেন। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি বারীরাহ্কে নিয়ে নাও এবং তাদের জন্য 'ওয়ালা'র অধিকারের শর্ত কর। কারণ 'ওয়ালা'র অধিকার তো তারই যে মুক্ত করবে। আয়িশাহ তাই করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) লোকদের মাঝে দাড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি করে বললেন, 'লোকদের কী হল যে, তারা এমন সব শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই? আল্লাহর কিতাবের বহির্ভুত যে কোন শর্ত বাতিল, যদিও শত শর্তারোপ করা হয়। আল্লাহর হুকুম যথার্থ ও তার শর্ত সুদৃঢ়। ওয়ালা তো তারই যে মুক্ত করে।'
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন খায়বারবাসীরা আবদুল্লাহ ইবন উমার-এর হাত পা ভেঙ্গে দিল, তখন উমার ভাষণ দিতে দাড়ালেন এবং বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) খায়বারের ইয়াহূদীদের সঙ্গে তাদের মাল সম্পত্তি সম্পর্কে চুক্তি করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আল্লাহ তাআলা যতদিন তোমাদের রাখেন, ততদিন আমরাও তোমাদের রাখব। এই অবস্থায় আবদুল্লাহ ইবন উমার তার নিজ সম্পত্তি দেখাশুনা করার জন্য খায়বার গমন করলে রাতে তার উপর আক্রমণ করা হয় এবং তার দু'টি হাত পা ভেঙ্গে দেয়া হয়। সেখানে ইয়াহূদীরা ব্যতীত আমাদের আর কোন শত্রু নেই। তারাই আমাদের দুশমন। তাদের উপর আমাদের সন্দেহ হয়। অতএব আমি তাদের নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উমার যখন এ ব্যাপারে তার দৃঢ় মত প্রকাশ করলেন, তখন আবূ হুকায়ক গোত্রের এক ব্যক্তি এসে বলল, 'হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি কি আমাদেরকে খায়বার থেকে বের করে দিবেন? অথচ মুহাম্মাদ (ﷺ) আমাদেরকে এখানে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছিলেন। আর উক্ত সম্পত্তির ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে বর্গাচাষের ব্যবস্থা করেন এবং আমাদের এ শর্তে দেন।' উমার বললেন, 'তুমি কি মনে করেছ যে, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সে উক্তি ভুলে গিয়েছি, 'তোমার কী অবস্থা হবে, যখন তোমাকে খায়বার থেকে বের করে দেয়া হবে এবং তোমার উটগুলো রাতের পর রাত তোমাকে নিয়ে ছুটবে।' সে বলল, 'এটাতো আবুল কাসিমের বিদ্রূপাত্মক উক্তি ছিল'। উমার বললেন, 'হে আল্লাহর দুশমন! তুমি মিথ্যা বলছ।' অতঃপর উমার তাদের নির্বাসিত করেন এবং তাদের ফল-ফসল, মালামাল, উট, লাগাম রজ্জু ইত্যাদি দ্রব্যের মূল্য দিয়ে দেন।
মিস্ওয়ার ইবন মাখরামাহ ও মারওয়ান হতে বর্ণিত। তাদের উভয়ের একজনের বর্ণনা অপরজনের বর্ণনার সমর্থন করে তারা বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হুদাইবিয়ার সময় বের হলেন। যখন সাহাবীগণ রাস্তার এক জায়গায় এসে পৌছলেন, তখন নবী (ﷺ) বললেন, 'খালিদ ইবন ওয়ালিদ কুরাইশদের অশ্বারোহী অগ্রবর্তী বাহিনী নিয়ে গোমায়ম নামক স্থানে অবস্থান করছে। তোমরা ডান দিকের রাস্তা ধর।' আল্লাহর কসম! খালিদ মুসলিমদের উপস্থিতি টেরও পেলো না, এমনকি যখন তারা মুসলিম সেনাবাহিনীর পশ্চাতে ধূলিরাশি দেখতে পেল, তখন সে কুরাইশদের সাবধান করার জন্য ঘোড়া দৌঁড়িয়ে চলে গেল। এদিকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অগ্রসর হয়ে যখন সেই গিরিপথে উপস্থিত হলেন, যেখান থেকে মক্কার সোজা পথ চলে গিয়েছে, তখন নবী (ﷺ)-এর উটনী বসে পড়ল। লোকজন (তাকে উঠাবার জন্য) 'হাল-হাল' বলল, কাস্ওয়া ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, কাসওয়া ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, 'কাসওয়া ক্লান্ত হয়নি এবং তা তার স্বভাবও নয় বরং তাকে তিনিই আটকিয়েছেন যিনি হস্তি বাহিনীকে আটকিয়ে ছিলেন।' অতঃপর তিনি বললেন, 'সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! কুরাইশরা আল্লাহর সম্মানিত বিষয় সমূহের মধ্যে যে কোন বিষয়ের সম্মান দেখানোর জন্য কিছু চাইলে আমি তা পূরণ করব।' অতঃপর তিনি তার উষ্ট্রীকে ধমক দিলে সে উঠে দাড়াল। রাবী বলেন, নবী (ﷺ) তাদের পথ ত্যাগ করে হুদায়বিয়ার শেষ সীমায় অল্প পানি বিশিষ্ট কুপের নিকট অবতরণ করেন। লোকজন সেখান থেকে অল্প অল্প করে পানি নিচ্ছিল। এভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকজন পানি শেষ করে ফেলল এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট পিপাসার অভিযোগ পেশ করা হলো। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার কোষ থেকে একটি তীর বের করলেন এবং সে তীরটি সেই কূপে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। আল্লাহর কসম, তখন পানি উথলে উঠতে লাগল, এমনকি সকলেই তৃপ্তি সহকারে তা থেকে পানি পান করলেন। এমন সময় বুদায়ল ইবন ওয়ারকা খুযাঈ তার খুযাআ গোত্রের কতিপয় ব্যক্তিদের নিয়ে আসল। তারা তিহামাবাসীদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর প্রকৃত হিতাকাঙ্ক্ষী ছিল। বুদাইল বলল, আমি কা'ব ইবন লুওয়াই ও আমির ইবন লুওয়াইকে রেখে এসেছি। তারা হুদাইবিয়ার প্রচুর পানির নিকট অবস্থান করছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে বাচ্চাসহ দুগ্ধবতী অনেক উষ্ট্রী। তারা আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ও বাইতুল্লাহ্ যিয়ারতে বাধা দেয়ার জন্য প্রস্তুত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, 'আমি তো কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসিনি; বরং উমরাহ করতে এসেছি। যুদ্ধ অবশ্যই কুরাইশদের দুর্বল করে দিয়েছে, কাজেই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের সঙ্গে সন্ধি করতে পারি আর তারা আমার ও কাফিরদের মধ্যকার বাধা তুলে নিবে। যদি আমি তাদের উপর বিজয় লাভ করি তাহলে অন্যান্য ব্যক্তি ইসলামে যেভাবে প্রবেশ করেছে, তারাও ইচ্ছে করলে তা করতে পারবে। আর না হয়, তারা এ সময়ে শান্তিতে থাকবে। কিন্তু তারা যদি আমার প্রস্তাব অস্বীকার করে, তাহলে সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, আমার গর্দান আলাদা না হওয়া পর্যন্ত আমরা এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। আর অবশ্যই আল্লাহ তাআলা তার দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।' বুদায়ল বলল, 'আমি আপনার কথা তাদের নিকট পৌছিয়ে দিব। অতঃপর বুদায়ল কুরাইশদের নিকট এসে বলল, আমি সেই ব্যক্তিটির কাছ থেকে এসেছি এবং তার নিকট কিছু কথা শুনে এসেছি। তোমরা যদি চাও, তাহলে তোমাদের তা শোনাতে পারি।' তাদের মধ্যে নির্বোধ লোকেরা বলল, 'তার পক্ষ থেকে আমাদের নিকট তোমার কিছু বলার দরকার নাই।' কিন্তু তাদের জ্ঞানসম্পন্ন লোকেরা বলল, 'তুমি তাকে যা বলতে শুনেছ, তা বল।' তারপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যা যা বলেছিলেন, বুদায়ল সব তাদের শুনাল। অতঃপর উরওয়াহ ইবন মাসঊদ উঠে দাড়িয়ে বলল, 'হে লোকেরা! আমি কি তোমাদের পিতৃতুল্য নই?' তারা বলল, 'হ্যা, নিশ্চই।' উরওয়াহ বলল, 'তোমরা কি আমার সন্তান তুল্য নও?' তারা বলল, 'হ্যা অবশ্যই।' উরওয়াহ বলল, 'আমার ব্যাপারে তোমাদের কি কোন অভিযোগ আছে?' তারা বলল, না। উরওয়াহ বলল, তোমরা কি জান না যে, আমি তোমাদের সাহায্যের জন্য উকাযবাসীদের নিকট আবেদন করেছিলাম এবং তারা আমাদের ডাকে সাড়া দিতে অস্বীকার করলে আমি আমার আত্মীয়-স্বজন, সন্তান-সন্ততি ও আমার অনুগত লোকদের নিয়ে তোমাদের নিকট এসেছিলাম? তারা বলল, হ্যা, জানি। উরওয়াহ বলল, এই ব্যক্তিটি তোমাদের নিকট একটি ভাল প্রস্তাব পেশ করেছেন। তোমরা তা গ্রহণ কর এবং আমাকে তার নিকট যেতে দাও। তারা বলল, আপনি তার নিকট যান। অতঃপর উরওয়াহ নবী (ﷺ)-এর নিকট এল এবং তার সঙ্গে কথা শুরু করল। নবী (ﷺ) তার সঙ্গে কথা বললেন, যেমনিভাবে বুদায়লের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। উরওয়াহ তখন বলল, হে মুহাম্মদ, আপনি কি চান যে, আপনার কওমকে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন, আপনি কি আপনার পূর্বে আরববাসীদের এমন কারো কথা শুনেছেন যে, সে নিজ কওমের মূলোৎপাটন করতে উদ্যত হয়েছিল? আর যদি অন্য রকম হয়, (তখন আপনার কি অবস্থা হবে?) আল্লাহর কসম! আমি কিছু চেহারা দেখছি এবং বিভিন্ন ধরনের লোক দেখতে পাচ্ছি যারা পালিয়ে যাবে এবং আপনাকে পরিত্যাগ করবে। তখন আবূ বাকর তাকে বললেন, তুমি লাত দেবীর লজ্জাস্থান চেটে খাও। আমরা কি তাকে ছেড়ে পালিয়ে যাব। উরওয়াহ বলল, সে কে? লোকজন বললেন, আবূ বাকর। উরওয়াহ বলল, যার হাতে আমার প্রাণ, আমি তার কসম করে বলছি, আমার উপর যদি আপনার ইহসান না থাকত, যার প্রতিদান আমি দিতে পারিনি, তাহলে নিশ্চই আপনার কথার জবাব দিতাম। রাবী বলেন, উরওয়াহ পুনরায় নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল। কথা বলার ফাকে ফাকে সে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর দাড়িতে হাত দিত। তখন মুগীরাহ ইবন শুবা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর শিয়রে দাড়িয়ে ছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিল একটি তরবারী ও মাথায় ছিল লৌহ শিরস্ত্রাণ। উরওয়াহ যখনই আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর দাড়ির দিকে তার হাত বাড়াতো মুগীরাহ তার তরবারীর হাতল দিয়ে তার হাতে আঘাত করতেন এবং বলতেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর দাড়ি থেকে তোমার হাত হটাও। উরওয়াহ মাথা তুলে বলল, এ কে? লোকজন বললেন, মুগীরাহ ইবন শুবাহ। উরওয়াহ বলল, হে গাদ্দার! আমি কি তোমার গাদ্দারীর পরিণতি থেকে তোমাকে উদ্ধারের চেষ্টা করিনি? মুগীরাহ জাহেলী যুগে কিছু লোকদের সঙ্গে ছিলেন। একদা তাদের হত্যা করে তাদের সহায় সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। নবী (ﷺ) বললেন, আমি তোমার ইসলাম মেনে নিলাম, কিন্তু যে মাল তুমি নিয়েছ, তার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। অতঃপর উরওয়াহ চোখের কোণ দিয়ে সাহাবীদের দিকে তাকাতে লাগল। সে বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কখনো থুথু ফেললে তা সাহাবীদের হাতে পড়তো এবং তা তারা গায়ে মুখে মেখে ফেলতেন। তিনি তাদের কোন আদেশ দিলে তা তারা সঙ্গে সঙ্গে পালন করতেন। তিনি ওযু করলে তার ওযুর পানির জন্য তার সাহাবীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হত। তিনি যখন কথা বলতেন, তখন তারা নীরবে তা শুনতেন এবং তার সম্মানার্থে সাহাবীগণ তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতেন না। অতঃপর উরওয়াহ তার সঙ্গীদের নিকট ফিরে গেল এবং বলল, হে আমার কওম, আল্লাহর কসম! আমি অনেক রাজা-বাদশাহর নিকটে প্রতিনিধিত্ব করেছি। কায়সার, কিসরা ও নাজাশী সম্রাটের নিকটে দূত হিসেবে গিয়েছি; কিন্তু আল্লাহর কসম করে বলতে পারি যে, কোন রাজা বাদশাহকেই তার অনুসারীদের মত এত সম্মান করতে দেখিনি, যেমন মুহাম্মাদের অনুসারীরা তাকে করে থাকে। আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যদি থুথু ফেলেন, তখন তা কোন সাহাবীর হাতে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে তারা তা তাদের গায়ে মুখে মেখে ফেলেন। তিনি কোন আদেশ দিলে তারা তা সঙ্গে পালন করেন; তিনি ওযু করলে তার ওযুর পানি নিয়ে সাহাবীগণের মধ্যে প্রতিযোগতিা শুরু হয়; তিনি কথা বললে, সাহাবীগণ নিশ্চুপ হয়ে শুনেন। এমনকি তার সম্মার্থে তারা তার চেহারার দিকেও তাকান না। তিনি তোমাদের নিকট একটি ভালো প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, তোমরা তা মেনে নাও। তা শুনে কিনানা গোত্রের এক ব্যক্তি বলল, আমাকে তার নিকট যেতে দাও। লোকেরা বলল, যাও। সে যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ও সাহাবীগণের নিকট এল তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এ হলো অমুক ব্যক্তি এবং এমন গোত্রের লোক, যারা কুরবানীর পশুকে সম্মান করে থাকে। তোমরা তার নিকট কুরবানীর পশু নিয়ে আস। অতঃপর তার নিকট তা নিয়ে আসা হলো এবং লোকজন তালবিয়া পাঠ করতে করতে তার সামনে এলেন। তা দেখে ব্যক্তিটি বলল, সুবহানাল্লাহ্! এমন সব লোকদেরকে কাবা যিয়ারত থেকে বাধা দেয়া সঙ্গত নয়। অতঃপর সে তার সঙ্গীদের নিকট ফিরে গিয়ে বলল, আমি কুরবানীর পশু দেখে এসেছি, সেগুলোকে কিলাদা পরানো হয়েছে ও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই তাদের কাবা যিয়ারতে বাধা প্রদান সঙ্গত মনে করি না। তখন তাদের মধ্য থেকে মিকরায ইবন হাফ্স নামক এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বলল, আমাকে তার নিকট যেতে দাও। তারা বলল, তার নিকট যাও। অতঃপর সে যখন মুসলিমদের নিকটবর্তী হল, নবী (ﷺ) বললেন, এ হল মিকরায আর সে দুষ্ট ব্যক্তি। সে নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে কথা বলছিল, এমন সময় সুহায়ল ইবন আমর এল। মা'মার বলেন, 'ইকরিমাহ সূত্রে আইয়ুব আমাকে বলেছেন যে, যখন সুহায়ল এল তখন নবী (ﷺ) বললেন, 'তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ সহজ হয়ে গেল।' মা'মার বলেন, যুহরী তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন যে, সুহায়ল ইবন আমর এসে বলল, আসুন আমাদের ও আপনাদের মধ্যে একটি চুক্তিপত্র লিখি। অতঃপর নবী (ﷺ) একজন লেখককে ডাকলেন। অতঃপর নবী (ﷺ) বললেন, (লিখ) "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" এতে সুহায়ল বলল, আল্লাহর কসম! রাহমান কে-? আমরা তা জানি না, বরং পূর্বে আপনি যেমন লিখতেন, লিখুন "বিসমিকা আল্লাহুম্মা", মুসলিমগণ বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" ব্যতীত আর কিছু লিখব না। তখন নবী (ﷺ) বললেন, লিখ "বিসমিকা আল্লাহুম্মা" অতঃপর বললেন, এটা যার উপর চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ)। তখন সুহায়ল বলল, আল্লাহর কসম! আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রাসূল বলেই বিশ্বাস করতাম, তাহলে আপনাকে কাবা যিয়ারত থেকে বাধা দিতাম না এবং আপনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে উদ্যত হতাম না। বরং আপনি লিখুন, আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মাদ (এর তরফ থেকে)। তখন নবী (ﷺ) বললেন, 'নিশ্চই আমি আল্লাহর রাসূল; যদিও তোমরা আমাকে মিথ্যাবাদী মনে কর। (হে ফাতির!) লিখ, আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ।' যুহরী বলেন, এটি এজন্য যে, তিনি বলেছিলেন, তারা যদি আল্লাহর পবিত্র বস্তুগুলোর সম্মান করার কোন কথা দাবী করে তাহলে আমি তাদের সে দাবী মেনে নিব। অতঃপর নবী (ﷺ) বললেন, এ চুক্তি কর যে, তারা আমাদের ও কাবা শরীফের মধ্যে কোন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে না, যাতে আমরা (নির্বিঘ্নে) তাওয়াফ করতে পারি। সুহায়ল বলল, আল্লাহর কসম! আরববাসীরা যেন একথা বলার সুযোগ না পায় যে, এ প্রস্তাব গ্রহণে আমাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে। বরং আগামী বছর তা হতে পারে। অতঃপর লেখা হলো। সুহায়ল বলল, এও লিখা হউক যে, আমাদের কোন ব্যক্তি যদি আপনার নিকট চলে আসে এবং সে যদিও আপনার দ্বীন গ্রহণ করে থাকে, তবুও তাকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিবেন। মুসলিমগণ বললেন, সুবহানাল্লাহ্! যে ইসলাম গ্রহণ করে আমাদের নিকট এসেছে, তাকে কেমন করে মুশরিকদের নিকট ফেরত দেয়া হতে পারে? এমন সময় আবূ জানদাল ইবন সুহায়ল ইবন আমর সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি বেড়ী পরিহিত অবস্থায় ধীরে ধীরে চলছিলেন। তিনি মক্কার নিম্নাঞ্চল থেকে বের হয়ে এসে মুসলিমদের সামনে নিজেকে পেশ করলেন। সুহায়ল বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনার সঙ্গে আমার চুক্তি হয়েছে, সে অনুযায়ী প্রথম কাজ হলো তাকে আমার নিকট ফিরিয়ে দিবেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এখনো তো চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। সুহায়ল বলল, আল্লাহর কসম! তাহলে আমি আপনাদের সঙ্গে আর কখনো সন্ধি করব না। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, কেবল এ ব্যক্তিটিকে আমার নিকট থাকার অনুমতি দাও। সে বলল, না, এ অনুমতি আমি দেব না। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যা, তুমি এটা কর। সে বলল, আমি তা করব না। মিকরায বলল, আমরা তাকে আপনার নিকট থাকার অনুমতি দিলাম। আবূ জানদাল বলেন, হে মুসলিম সমাজ, আমাকে মুশরিকদের নিকট ফিরিয়ে দেয়া হবে, অথচ আমি মুসলিম হয়ে এসেছি। আপনারা কি দেখছেন না, আমি কত কষ্ট পাচ্ছি। আল্লাহর পথে তাকে অনেক নির্যাতিত করা হয়েছে। উমার ইবন খাত্তাব বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এলাম এবং বললাম, আপনি কি আল্লাহর সত্য নবী নন? তিনি বললেন, হ্যা। আমি বললাম, তা হলে দ্বীনের ব্যাপারে কেন আমরা এত হেয় হবো? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, 'আমি অবশ্যই রাসূল; অতএব আমি তার অবাধ্য হতে পারি না, অথচ তিনিই আমার সাহায্যকারী।' আমি বললাম, আপনি কি আমাদের বলেন নাই যে, আমরা শীঘ্রই বায়তুল্লাহ্ যাব এবং তাওয়াফ করব। তিনি বললেন, হ্যা, আমি কি এ বছরই আসার কথা বলেছি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই কাবা গৃহে যাবে এবং তাওয়াফ করবে। উমার বলেন, অতঃপর আমি আবূ বাকর-এর নিকট গিয়ে বললাম, 'হে আবূ বাকর। তিনি কি আল্লাহর সত্য নবী নন?' আবূ বাকর বললেন, 'অবশ্যই।' আমি বললাম, আমরা কি সত্যের উপর নই এবং আমাদের দুশমনরা কি বাতিলের উপর নয়? আবূ বাকর বললেন, নিশ্চই। আমি বললাম, তবে কেন এখন আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে এত হীনতা স্বীকার করব? আবূ বাকর বললেন, 'ওহে! নিশ্চই তিনি আল্লাহর রাসূল এবং তিনি তার রবের নাফরমানী করতে পারেন না। তিনিই তার সাহায্যকারী। তুমি তার অনুসরণকে আকড়ে ধরো। আল্লাহর কসম! তিনি সত্যের উপর আছেন।' আমি বললাম, তিনি কি বলেননি যে, আমরা অচিরেই বায়তুল্লাহ্ যাব এবং তার তাওয়াফ করব? আবূ বাকর বললেন, অবশ্যই। কিন্তু তুমি এবারই যে যাবে একথা কি তিনি বলেছিলেন? আমি বললাম, না। আবূ বাকর বললেন, 'তবে নিশ্চই তুমি সেখানে যাবে এবং তার তাওয়াফ করবে।' যুহরী বলেন যে, উমার বলেছেন, আমি এর জন্য (ধৈর্যহীনতার কাফ্ফারা হিসেবে) অনেক নেক আমল করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, সন্ধিপত্র লেখা শেষ হলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সাহাবাদেরকে বললেন, 'তোমরা উঠ এবং কুরবানী কর ও মাথা কামিয়ে ফেল।' রাবী বলেন, 'আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল তিনবার তা বলার পরও কেউ উঠলেন না।' তাদের কাউকে উঠতে না দেখে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উম্মু সালামাহ-এর নিকট এসে লোকদের এই আচরণের কথা বলেন। উম্মু সালামাহ বললেন, 'হে আল্লাহর নবী, আপনি যদি তাই চান, তাহলে আপনি বাইরে যান ও তাদের সঙ্গে কোন কথা না বলে আপনার উট আপনি কুরবানী করুন এবং ক্ষুরকার ডেকে মাথা মুড়িয়ে নিন।' সেই অনুযায়ী আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বেরিয়ে গেলেন এবং কারো সঙ্গে কোন কথা না বলে নিজের পশু কুরবানী দিলেন এবং ক্ষুরকার ডেকে মাথা মুড়ালেন। তা দেখে সাহাবীগণ উঠে দাড়ালেন ও নিজ নিজ পশু কুরবানী দিলেন এবং একে অপরের মাথা কামিয়ে দিলেন। অবস্থা এমন হল যে, ভীড়ের কারণে একে অপরের উপর পড়তে লাগলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট কয়েকজন মুসলিম মহিলা এলেন। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ "হে মুমিনগণ! মুমিন মহিলারা তোমাদের নিকট হিজরত করে আসলে,...........কাফির নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না।" (আল-মুমতাহিনাহঃ ১০)। সেদিন উমার দু'জন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিলেন, তারা ছিল মুশরিক থাকাকালে তার স্ত্রী। তাদের একজনকে মুআবিয়াহ ইবন আবূ সুফ্ইয়ান এবং অপরজনকে সাফওয়ান ইবন উমাইয়া বিয়ে করেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মদিনায় ফিরে আসলেন। তখন আবূ বাসীর নামক কুরাইশ গোত্রের এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এলেন। মক্কার কুরাইশরা তার তালাশে দু'জন লোক পাঠাল। তারা (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে) বলল, আপনি আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছেন (তা পূর্ণ করুন)। তিনি তাকে ঐ দুই ব্যক্তির হাওয়ালা করে দিলেন। তারা তাকে নিয়ে বেরিয়ে গেল এবং যুল-হুলায়ফায় পৌছে অবতরণ করল আর তাদের সঙ্গে যে খেজুর ছিল তা খেতে লাগল। আবূ বাসীর তাদের একজনকে বললেন, আল্লাহর কসম! হে অমুক, তোমার তরবারিটি খুবই চমৎকার দেখছি। সে ব্যক্তিটি তরবারীটি বের করে বলল, হ্যা, আল্লাহর কসম! এটি একটি উৎকৃষ্ট তরবারী। আমি একাধিক বার তার পরীক্ষা করেছি। আবূ বাসীর বললেন, তলোয়ারটি আমি দেখতে চাই আমাকে তা দেখাও। অতঃপর ব্যক্তিটি আবূ বাসীরকে তলোয়ারটি দিল। আবূ বাসীর সেটি দ্বারা তাকে এমন আঘাত করলেন যে, তাতে সে মরে গেল। অতঃপর অপর সঙ্গী পালিয়ে মদিনায় এসে পৌছল এবং দৌড়িয়ে মসজিদে প্রবেশ করল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে দেখে বললেন, এই ব্যক্তিটি ভীতিজনক কিছু দেখে এসেছে। ইতোমধ্যে ব্যক্তিটি নবী (ﷺ)-এর নিকট পৌছে বলল, আল্লাহর কসম! আমার সঙ্গীকে হত্যা করা হয়েছে, আমিও নিহত হতাম। এমন সময় আবূ বাসীর-ও সেখানে উপস্থিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর! আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনার দায়িত্ব সম্পূর্ণ করে দিয়েছেন। আমাকে তার নিকট ফেরত দিয়েছেন; এ ব্যাপারে আল্লাহ আমাকে তাদের কবল থেকে নাজাত দিয়েছেন। নবী (ﷺ) বললেন, সর্বনাশ! এতো যুদ্ধের আগুন প্রজ্জ্বলিতকারী, কেউ যদি তাকে বিরত রাখত। আবূ বাসীর যখন এ কথা শুনলেন, তখন বুঝতে পারলেন যে, তাকে আবার তিনি কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাবেন। তাই তিনি বেরিয়ে নদীর তীরে এসে পড়লেন। রাবী বলেন, এ দিকে আবূ জানদাল ইবন সুহায়ল কাফিরদের কবল থেকে পালিয়ে এসে আবূ বাসীরের সঙ্গে মিলিত হলেন। অতঃপর থেকে কুরাইশ গোত্রের যে-ই ইসলাম গ্রহণ করতো, সে-ই আবূ বাসীরের সঙ্গে এসে মিলিত হতো। এভাবে তাদের একটি দল হয়ে গেল। আল্লাহর কসম! তারা যখনই শুনতে যে, কুরাইশদের কোন বাণিজ্য কাফিলা সিরিয়া যাবে, তখনই তারা তাদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেন আর তাদের হত্যা করতেন ও তাদের মাল সামান কেড়ে নিতেন। তখন কুরাইশরা নবী (ﷺ)-এর নিকট লোক পাঠাল। আল্লাহ ও আত্মীয়তার ওয়াসীলাহ দিয়ে আবেদন করল যে, আপনি আবূ বাসীরের নিকট এথেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ পাঠান। এখন থেকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট কেউ এলে সে নিরাপদ থাকবে (কুরাইশদের নিকট ফেরত পাঠাতে হবে না)। অতঃপর নবী (ﷺ) তাদের নিকট নির্দেশ পাঠালেন। এ সময় আল্লাহ তাআলা নাযিল করেনঃ "তিনি তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে বিরত রেখেছেন ..... জাহিলী যুগের অহমিকা পর্যন্ত" (আল-ফাত্হঃ ২৬)। তাদের অহমিকা এই ছিল যে, তারা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে আল্লাহর নবী বলে স্বীকার করেনি এবং "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" মেনে নেইনি; বরং বায়তুল্লাহ্ ও মুসলিমদের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল।
পূর্বের হাদিসের মতই (২৭৩১)।
উকাইল যুহরী থেকে বর্ণনা করেন যে, উরওয়াহ বলেন যে, আমার নিকট আয়িশাহ বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুসলিম নারীদের পরীক্ষা করতেন এবং আমাদের নিকট এ বর্ণনা পৌছেছে যে, যখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন, মুসলিমগণ যেন মুশরিক স্বামীদের সে সব খরচ আদায় করে দেয়, যা তারা তাদের হিজরাতকারী স্ত্রীদের জন্য ব্যয় করেছে এবং মুসলিমদের নির্দেশ দেন যেন তারা কাফির স্ত্রীদের আটকিয়ে না রাখে। তখন উমার তার দুই স্ত্রী কুরাইবাহ বিন্তু আবূ উমায়্যাহ ও বিনতে জারওয়াল খুযায়ীকে তালাক দিয়ে দেন। অতঃপর কুরাইবাহকে মুআবিয়াহ ও অপরজনকে আবূ জাহাম বিয়ে করে নেয়। অতঃপর কাফিররা যখন মুসলিমদের তাদের স্ত্রীদের জন্য খরচকৃত অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকার করল, তখন নাযিল হলঃ "তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাত ছাড়া হয়ে কাফিরদের কাছে চলে যায়, তবে তোমরা তার বদলা নিবে"- (আল-মুমতাহিনাহঃ ১১)। বদলা হলঃ কাফিরদের স্ত্রী যারা হিজরত করে চলে আসে, তাদের কাফির স্বামীকে মাহর মুসলিমদের যা দিতে হয়, এ সম্বন্ধে নবী (ﷺ) নির্দেশ দেন যে, তারা যেন মুসলিমদের যে সব স্ত্রী চলে গেছে ঐ অর্থ তাদের মুসলিম স্বামীদেরকে দিয়ে দেয়। [যুহরী আরো বলেন] এমন কোন মুহাজির নারীর কথা আমাদের জানা নেই, যে ঈমান আনার পর মুরতাদ হয়ে চলে গেছে। আমাদের কাছে এ বর্ণনা পৌছেছে যে, আবূ বাসীর ইবন আসীদ সাকাফী ঈমান এনে চুক্তির মেয়াদের মধ্যে নবী (ﷺ)-এর নিকট হিজরত করে চলে আসলেন। তখন আখনাস ইবন শারীক আবূ বাসীর-কে ফেরত চেয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট পত্র লিখল।
আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তির উল্লেখ করে বলেন যে, সে বানূ ইসরাঈলের এক ব্যক্তির নিকট এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা ধার চাইলে সে তাকে নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধের শর্তে তা দিল। ইবনে উমার এবং আতা বলেন, ঋণের ব্যাপারে সময় নির্ধারিত করা হলে তা জায়িয।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরা তার কিতাবাতের ব্যাপারে তার নিকট সাহায্যের আবেদন নিয়ে এল। তিনি বললেন, তুমি চাইলে আমি (কিতাবাতের সমুদয় প্রাপ্য) তোমার মালিককে দিয়ে দিতে পারি এবং 'ওয়ালা'র অধিকার হবে আমার। অতঃপর যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এলেন, তিনি তার নিকট বিষয়টি উল্লেখ করেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তুমি তাকে কিনে মুক্ত করে দাও। কেননা 'ওয়ালা'র অধিকার তারই, যে মুক্ত করে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মিম্বারে দাড়িয়ে বললেন, 'লোকদের কী হয়েছে যে, তারা এমন সব শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই! যে এমন শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, সে তার অধিকারী হবে না যদিও শত শর্তারোপ করে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর নিরানব্বই এক কম একশ'টি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি তা মনে রাখবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, উমার ইবন খাত্তাব খায়বারে কিছু জমি লাভ করেন। তিনি এ জমির ব্যাপারে পরামর্শের জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এলেন এবং বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি খায়বারে এমন উৎকৃষ্ট কিছু জমি লাভ করেছি যা ইতিপূর্বে আর কখনো পাইনি। আপনি আমাকে এ ব্যাপারে কী আদেশ দেন? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, 'তুমি ইচ্ছা করলে জমির মূলসত্ত্ব ওয়াক্ফে রাখতে এবং উৎপন্ন বস্তু সদাকাহ করতে পার।' ইবন উমার বলেন, উমার এ শর্তে তা সদাকাহ (ওয়াক্ফ) করেন যে, তা বিক্রি করা যাবে না, তা দান করা যাবে না এবং কেউ এর উত্তরাধিকারী হবে না।' তিনি সদাকাহ করে দেন এর উৎপন্ন বস্তু অভাবগ্রস্ত, আত্মীয়-স্বজন, দাসমুক্তি, আল্লাহর রাস্তায়, মুসাফির ও মেহমানদের জন্য। (রাবী আরও বললেন) যে এর মুতাওয়াল্লী হবে তার জন্য সম্পদ সঞ্চয় না করে ন্যায়সঙ্গতভাবে খাওয়া ও খাওয়ানোতে কোন দোষ নেই। অতঃপর আমি ইবন সীরীন-এর নিকট হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বলেন, মাল জমা না করে।