bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

পানি সেচ (২৩৫১-২৩৮৪)

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর নিকট একটি পিয়ালা আনা হল। তিনি তা হতে পান করলেন। তখন তার ডান দিকে ছিল একজন বয়ঃকনিষ্ঠ বালক আর বয়স্ক লোকেরা ছিলেন তার বাম দিকে। তিনি বললেন, হে বালক! তুমি কি আমাকে অবশিষ্ট (পানিটুকু) বয়স্কদেরকে দেয়ার অনুমতি দিবে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট থেকে ফাযীলাত পাওয়ার ব্যাপারে আমি আমার চেয়ে অন্য কাউকে প্রাধান্য দিব না। অতঃপর তিনি তা তাকে প্রদান করলেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর জন্য একটি বকরীর দুধ দোহন করা হল। তখন তিনি আনাস ইবন মালিক-এর ঘরে অবস্থান করছিলেন এবং সেই দুধের সঙ্গে আনাস ইবন মালিকের বাড়ীর কূয়ার পানি মেশানো হল। তারপর পাত্রটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে দেয়া হল। তিনি তা হতে পান করলেন। পাত্রটি তার মুখ হতে আলাদা করার পর তিনি দেখলেন যে, তার বা দিকে আবূ বাকর ও ডান দিকে একজন বেদুঈন রয়েছে। পাত্রটি তিনি হয়ত বেদুঈনকে দিয়ে দেবেন এ আশঙ্কায় উমার বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বাকর আপনারই পাশে, তাকে পাত্রটি দিন। তিনি বেদুঈনকে পাত্রটি দিলেন, যে তার ডান পাশে ছিল। অতঃপর তিনি বললেন, ডান দিকের লোক বেশী হাক্বদার।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ঘাস উৎপাদন হতে বিরত রাখার উদ্দেশে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি রুখে রাখা যাবে না।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, অতিরিক্ত ঘাসে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশে অতিরিক্ত পানি রুখে রাখবে না।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, খনি ও কূপে কাজ করা অবস্থায় অথবা জন্তু-জানোয়ারের আঘাতে মারা গেলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না এবং রিকায (খনিজ দ্রব্যে) পঞ্চমাংশ দিতে হবে।

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলিমদের অর্থ সম্পদ (যা তার জিম্মায় আছে) আত্মসাৎ করার উদ্দেশে মিথ্যা কসম খায়, সে আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট থাকবেন। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা নাযিল করেনঃ "যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে ---- এর শেষ পর্যন্ত"- (আলে ইমরান: ৭৭)। এরপর আশ'আস এসে বলেন, আবূ আবদুর রহমান তোমার নিকট যে হাদীস বর্ণনা করছিলেন (সে হাদীসে বর্ণিত) এ আয়াতটি তো আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আমার চাচাতো ভাইয়ের জায়গায় আমার একটি কূপ ছিল। (এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে বিবাদ হওয়ায়) নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, তোমার সাক্ষী পেশ কর। আমি বললাম, আমার সাক্ষী নেই। তিনি বললেন, তাহলে তাকে কসম খেতে হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কসম করবে। এ সময় নবী (ﷺ) এ হাদীস বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ তাআলা তাকে সত্যায়িত করে এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (২৩৫৬)।

আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর লোকের প্রতি আল্লাহ তাআলা দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এক ব্যক্তি- যার নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আছে, অথচ সে মুসাফিরকে তা দিতে অস্বীকার করে। অন্য একজন সে ব্যক্তি, যে ইমামের হাতে একমাত্র দুনিয়ার স্বার্থে বায়আত হয়। যদি ইমাম তাকে কিছু দুনিয়াবী সুযোগ দেন, তাহলে সে খুশী হয়, আর যদি না দেন তবে সে অসন্তুষ্ট হয়। অন্য একজন সে ব্যক্তি, যে আসরের সালাত আদায়ের পর তার জিনিসপত্র (বিক্রয়ের উদ্দেশে) তুলে ধরে আর বলে যে, আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া অন্য কোন মাবূদ নেই, আমার এই দ্রব্যের মূল্য এত এত দিতে আগ্রহ করা হয়েছে। (কিন্তু আমি বিক্রি করিনি) এতে এক ব্যক্তি তাকে বিশ্বাস করে (তা ক্রয় করে নেয়)। এরপর নবী (ﷺ) এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন: "যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে"- (আলে ইমরান ৭৭)।

আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আনসারী নবী (ﷺ) -এর সামনে যুবাইর-এর সঙ্গে হাররার নালার পানির ব্যাপারে ঝগড়া করল যে পানি দ্বারা খেজুর বাগান সিঞ্চন করত। আনসারী বলল, নালার পানি ছেড়ে দিন, যাতে তা (প্রবাহিত থাকে) কিন্তু যুবাইর তা দিতে অস্বীকার করেন। তারা দু'জনে নবী (ﷺ) -এর নিকটে এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুবাইর-কে বললেন, হে যুবাইর! তোমার যমীনে (প্রথমে) সিঞ্চন করে নাও। এরপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি ছেড়ে দাও। এতে আনসারী অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, সে তো আপনার ফুফাতো ভাই। এতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেল। এরপর তিনি বললেন, হে যুবাইর! তুমি নিজের জমি সিঞ্চন কর। এরপর পানি আটকিয়ে রাখ, যাতে তা বাধ পর্যন্ত পৌছে। যুবাইর বললেন, আল্লাহর কসম! আমার মনে হয়, এ আয়াতটি এ সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ "তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মুমিন হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর পত্যার্পণ না করে"- (আন-নিসাঃ ৬৫)।

পূর্বের হাদিসের মতই (২৩৫৯)।

উরওয়াহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুবাইর এক আনসারীর সঙ্গে ঝগড়া করলে নবী (ﷺ) বললেন, হে যুবাইর! জমিতে পানি সেচের পর তা ছেড়ে দাও। এতে আনসারী বলল, সে তো আপনার ফুফাতো ভাই। এ কথা শুনে তিনি (ﷺ) বললেন, হে যুবাইর! পানি বাধে পৌছা পর্যন্ত সেচ দিতে থাক। তারপর বন্ধ করে দাও। যুবাইর বলেন, আমার ধারণা এ আয়াতটি এ সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ "তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার-ভার আপনার উপর অর্পণ না করে"- (আন-নিসা ৬৫)।

উরওয়াহ ইবন যুবাইর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন আনসারী হার্রার নালার পানি নিয়ে যুবাইরের সাথে ঝগড়া করল, যে পানি দিয়ে তিনি খেজুর বাগান সেচ দিতেন। এ বিষয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হে যুবাইর! সেচ দিতে থাক। তারপর নিয়ম-নীতি অনুযায়ী তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন, তারপর তা তোমার প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দাও। এতে আনসারী বলল, সে আপনার ফুফাতো ভাই তাই। এ কথায় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর চেহারা মুবারক বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন, সেচ দাও। পানি ক্ষেতের বাধ পর্যন্ত পৌছে গেলে বন্ধ করে দাও। যুবাইরকে তিনি তার পুরা হক দিলেন। যুবাইর বলেন, আল্লাহর কসম, এ আয়াত এ সম্পর্কে নাযিল হয়ঃ "তোমার প্রতিপালকের কসম, তারা মুমিন হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার-ভার আপনার উপর অর্পণ না করে"। বর্ণনাকারী বলেন, ইবন শিহাবের বর্ণনা হচ্ছে নবী (ﷺ) -এর এ কথা পানি নেয়ার পর বাধ অবধি পৌছার পর তা বন্ধ রাখ। আনসার এবং অন্যান্য লোকেরা এর পরিমাণ করে দেখেছেন যে, তা টাখনু পর্যন্ত পৌছে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, একজন লোক রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে তার ভীষণ পিপাসা লাগল। সে কূপে নেমে পানি পান করল। এরপর সে বের হয়ে দেখতে পেল যে, একটা কুকুর হাপাচ্ছে এবং পিপাসায় কাতর হয়ে মাটি চাটছে। সে ভাবল, কুকুরটারও আমার মতো পিপাসা লেগেছে। সে কূপের মধ্যে নামল এবং নিজের মোজা ভরে পানি নিয়ে মুখ দিয়ে সেটি ধরে উপরে উঠে এসে কুকুরটিকে পানি পান করাল। আল্লাহ তাআলা তার আমল কবূল করলেন এবং আল্লাহ তার গোনাহ মাফ করে দেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! চতুষ্পদ জন্তুর উপকার করলেও কি আমাদের সাওয়াব হবে? তিনি বললেন, প্রত্যেক প্রাণীর উপকার করাতেই পুণ্য রয়েছে।

আসমা বিনতু আবূ বাকর হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) সূর্য গ্রহণের সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেন, জাহান্নাম আমার নিকটবর্তী করা হলে আমি বললাম, হে রব! আমিও কি এই জাহান্নামীর সাথী হব? এমতাবস্থায় একজন মহিলা আমার নযরে পড়ল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা, তিনি বলেছেন, বিড়াল তাকে (মহিলা খামছাচ্ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ মহিলার কী হল? ফেরেশতারা জবাব দিলেন, সে একটি বিড়াল বেধে রেখেছিল, যার কারণে বিড়ালটি ক্ষুধায় মারা যায়।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেয়া হয়। সে বিড়ালটি বেধে রেখেছিল, অবশেষে বিড়ালটি ক্ষুধায় মারা যায়। এ কারণে মহিলা জাহান্নামে প্রবেশ করল। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি [রাসূল (ﷺ) ] বলেন, আল্লাহ ভালো জানেন, বাধা থাকাকালীন তুমি তাকে না খেতে দিয়েছিলে, না পান করতে দিয়েছিলে এবং না তুমি তাকে ছেড়ে দিয়েছিলে, তা হলে সে জমিনের পোকা-কামড় খেয়ে বেচে থাকত।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট একটি পানির পেয়ালা আনা হল। তিনি তা হতে পানি পান করলেন। তার ডানদিকে একজন বালক ছিল, সে ছিল লোকদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়স্ক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ লোকেরা তার বা দিকে ছিল। তিনি (ﷺ) বললেন, হে বৎস! তুমি কি আমাকে জ্যেষ্ঠদের এটি দিতে অনুমতি দিবে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার উচ্ছিষ্টের ব্যাপারে নিজের উপর কাউকে প্রাধান্য দিতে চাই না। এরপর তিনি তাকেই সেটি দিলেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমি নিশ্চই (কিয়ামতের দিন) আমার হাউজ (কাউসার) হতে কিছু লোকদেরকে এমনভাবে তাড়াব, যেমন অপরিচিত উট হাউজ হতে তাড়ানো হয়।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, ইসমাঈল-এর মা হাজিরা-এর উপর আল্লাহ রহম করুন। কেননা, যদি তিনি যামযামকে স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দিতেন অথবা তিনি বলেছেন, যদি তা হতে অঞ্চলে পানি না নিতেন, তা হলে তা একটি প্রবাহিত ঝরণায় পরিণত হত। জুরহাম গোত্র তার নিকট এসে বলল, আপনি কি আমাদেরকে আপনার নিকট অবস্থান করার অনুমতি দিবেন? তিনি (হাজিরা) বললেন, হ্যা। তবে পানির উপর তোমাদের কোন অধিকার থাকবে না। তারা বলল, ঠিক আছে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, তিন শ্রেণীর লোকের সাথে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি তাকাবেনও না। (এক) যে ব্যক্তি কোন মাল সামানের ব্যাপারে মিথ্যা কসম খেয়ে বলে যে, এর দাম এর চেয়ে বেশী বলেছিল কিন্তু তা সত্ত্বেও সে তা বিক্রি করেনি। (দুই) যে ব্যক্তি আসরের সালাতের পর একজন মুসলিমের মাল-সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশে মিথ্যা কসম করে। (তিন) যে ব্যক্তি তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি মানুষকে দেয় না। আল্লাহ তাআলা বলবেন (কিয়ামতের দিন) আজ আমি আমার অনুগ্রহ হতে তোমাকে বঞ্চিত রাখব যেরূপ তুমি তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি হতে বঞ্চিত রেখেছিলে অথচ তা তোমার হাতের তৈরী নয়। আলী আর সালিহ হতে বর্ণিত যে, তিনি হাদীসের সনদটি নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌছিয়েছেন।

সা'ব ইবন জাসসামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, চারণভূমি সংরক্ষিত করা আল্লাহ ও তার রাসূল (ﷺ) ছাড়া আর কারো অধিকারে নেই। তিনি (রাবী) বলেন, আমাদের নিকট রিওয়ায়াত পৌছেছে যে, নবী (ﷺ) নাকী'র চারণভূমি (নিজের জন্য) সংরক্ষিত করেছিলেন, আর উমার সারাফ ও রাবাযার চারণভূমি সংরক্ষণ করেছিলেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ঘোড়া একজনের জন্য সাওয়াব, একজনের জন্য ঢাল এবং আরেকজনের জন্য পাপ। সাওযাব হয় তার জন্য, যে আল্লাহর রাস্তায় তা জিহাদের উদ্দেশে বেধে রাখে এবং সে ঘোড়ার রশি চারণভূমি বা বাগানে লম্বা করে দেয়। এমতাবস্থায় সে ঘোড়া চারণভূমি বা বাগানে তার রশির দৈর্ঘ্য পরিমাণ যতটুকু চরবে, সে ব্যক্তির জন্য সে পরিমাণ সাওয়াব হবে। যদি তার রশি ছিঁড়ে যায় এবং সে একটি কিংবা দু'টি টিলা অতিক্রম করে, তাহলে তার প্রতিটি পদচিহ্ন ও তার গোবর মালিকের জন্য সাওয়াব হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা কোন নহরের পাশ দিয়ে যায় এবং মালিকের ইচ্ছা ব্যতিরেকে সে তা হতে পানি পান করে, তাহলে এ জন্য মালিক সাওয়াব পাবে। আর ঢাল স্বরূপ সে লোকের জন্য, যে পরমুখাপেক্ষিতা ও ভিক্ষাবৃত্তি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য তাকে বেধে রাখে। তারপর এর পিঠে ও গর্দানে আল্লাহর নির্ধারিত হক আদায় করতে ভুল করে না। গুনাহর কারণ সে লোকের জন্য, যে তাকে অহঙ্কার ও লোক দেখাবার কিংবা মুসলিমদের প্রতি শত্রুতার উদ্দেশে বেধে রাখে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার প্রতি কোন আয়াত নাযিল হয়নি। তবে এ ব্যাপারে একটি পরিপূর্ণ ও অন্যান্য আয়াত রয়েছে। (তা হলো আল্লাহ তাআলার এ বাণী) "কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তাও দেখতে পাবে"- (যিলযালঃ ৭-৮)।

যায়দ ইবন খালিদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট এসে পড়ে থাকা জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, থলেটি এবং তার মুখের বন্ধনটি চিনে রাখ। তারপর এক বছর পর্যন্ত তা ঘোষণা করতে থাক। যদি তার মালিক এসে যায় তো ভাল। তা না হলে সে ব্যাপারে তুমি যা ভাল মনে কর তা করবে। সে আবার জিজ্ঞেস করল, হারানো বকরি কী করব? তিনি বললেন, সেটি হয় তোমার, না হয় তোমার ভাইয়ের, না হয় নেকড়ে বাঘের। সে আবার জিজ্ঞেস করল, হারানো উট হলে কী করব? তিনি বললেন, তাতে তোমার প্রয়োজন কী? তার সঙ্গে তার মশ্ক ও খুর রয়েছে। সে জলাশয়ে উপস্থিত হবে এবং গাছপালা খাবে, শেষ পর্যন্ত তার মালিক তাকে পেয়ে যাবে।

যুবাইর ইবন আওয়াম হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ রশি নিয়ে খড়ির আটি বেধে তা বিক্রি করে, এতে আল্লাহ তাআলা তার সম্মান রক্ষা করেন, এটা তার জন্য মানুষের কাছে ভিক্ষা করার চেয়ে উত্তম! লোকজনের নিকট এমন চাওয়ার চেয়ে, যে চাওয়ায় কিছু পাওয়া যেতে পারে বা নাও পারে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কারো নিকট সাওয়াল করা, যাতে সে তাকে কিছু দিতেও পারে, আবার নাও দিতে পারে, এর চেয়ে পিঠে বোঝা বহন করা (তা বিক্রি করা) উত্তম।

আলী ইবন আবূ তালিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে আমি গনীমতের মাল হিসাবে একটি উট লাভ করি। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে আরো একটি উট দেন। একদিন আমি উট দু'টিকে একজন আনসারীর ঘরের দরজায় বসাই। আমার ইচ্ছা ছিল এদের উপর ইযখির (এক ধরনের ঘাস) চাপিয়ে তা বিক্রি করতে নিয়ে যাব। আমার সাথে বনূ কায়নুকার একজন স্বর্ণকার ছিল। আমি এর (ইযখির বিক্রি লব্ধ টাকা) দ্বারা ফাতিমা-এর ওলীমাহ করতে সমর্থ হব। সে ঘরে হামযাহ ইবন আবদুল মুত্তালিব শরাব পান করছিলেন। আর তার সাথে একজন গায়িকাও ছিল। সে বলল, হে হামযাহ! তৈরী হও, মোটা উটগুলোর উদ্দেশে। এরপর হামযাহ উট দু'টোর দিকে তরবারি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাদের কুজ দু'টিও কেটে নিলেন এবং পেট ফেড়ে উভয়ের কলিজা বের করে নিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ইবন শিহাব-কে জিজ্ঞেস করি, কুজ কি করা হল? তিনি বলেন, সেটি কেটে নিয়ে গেলেন। ইবন শিহাব বলেন, আলী বলেছেন, এই দৃশ্য দেখলাম এবং তা আমাকে ঘাবড়িয়ে দিল। এরপর আমি নবী (ﷺ) -এর নিকট আসলাম। তার নিকট তখন যায়দ ইবন হারিসাহ উপস্থিত ছিলেন। আমি তাকে খবর বললাম। তিনি বের হলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন যায়দ। আমিও তার সঙ্গে গেলাম। তিনি হামযা-এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং তার প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করলেন। হামযাহ দৃষ্টি উচু করে তাদের দিকে তাকালেন। আর বললেন, তোমরা আমার বাপ-দাদার দাস বটে। হামযাহ-এর এ অবস্থা দেখে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) পিছনে সরে তাদের নিকট হতে চলে আসলেন। ঘটনাটি শরাব হারাম হওয়ার পূর্বের।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আনসারদেরকে বাহরাইনে কিছু জায়গীর দিতে চাইলেন। তারা বলল, আমাদের মুহাজির ভাইদেরও আমাদের মতো জায়গীর না দেয়া পর্যন্ত আমাদের জন্য জায়গীর দিবেন না। তিনি বলেন, আমার পরে শীঘ্রই তোমরা দেখবে, তোমাদের উপর অন্যদেরকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। তখন তোমরা সবর করবে, যে পর্যন্ত না তোমরা আমার সঙ্গে মিলিত হও।

আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) আনসারদেরকে বাহরাইনে জায়গীর দেয়ার জন্য ডাকলেন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি তা করেন, তা হলে আমাদের কুরাইশ ভাইদের জন্যও অনুরূপ জায়গীর লিখে দেন। কিন্তু নবী (ﷺ) -এর নিকট তখন তা ছিল না। তারপর তিনি বলেন, আমার পর শীঘ্রই দেখবে, তোমাদের উপর অন্যদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। তখন তোমরা সবর করবে, আমার সঙ্গে মিলিত হওয়া (মৃত্যু) পর্যন্ত।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, উটের হক্ব হচ্ছে, পানির কাছে তার দুধ দোহন করা।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি খেজুর গাছ তা'বীর করার পর গাছ বিক্রয় করে, তার ফল বিক্রেতার। কিন্তু ক্রেতা শর্ত করলে তা তারই। আর যদি কেউ গোলাম বিক্রয় করে এবং তার সম্পদ থাকে তবে সে সম্পদ যে বিক্রি করল তার। কিন্তু যদি ক্রেতা শর্ত করে তাহলে তা হবে তার। মালিক ...... উমার হতে গোলাম বিক্রয়ের ব্যাপারে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

যায়দ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) অনুমান করে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে আরায়্যা করার অনুমতি দিয়েছেন।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মুখাবারা, মুহাকালা ও শুকনো খেজুরের বিনিময়ে গাছের খেজুর বিক্রি করতে এবং ফল উপযুক্ত হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। গাছে থাকা অবস্থায় ফল দ্বীনার এবং দিরহামের বিনিময়ে ছাড়া যেন বিক্রি করা না হয়। তবে আরায়্যার অনুমতি দিয়েছেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) অনুমান করে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে পাচ ওসাক কিংবা তার চেয়ে কম আরায়্যার বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন। বর্ণনাকারী দাউদ এ বিষয়ে সন্দেহ করেছেন।

রাফি ইবন খাদীজ ও সাহল ইবন আবূ হাসমা হতে বর্ণিত। তারা উভয়ে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুযাবানা গাছে ফল থাকা অবস্থায় তা শুকনো ফলের বিনিময়ে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু যারা আরায়্যা করে, তাদের জন্য তিনি এর অনুমতি দিয়েছেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (২৩৮৩)।