bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

তালাক (৫২৫১-৫৩৫০)

আবদুল্লাহ্ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, তিনি রাসূল এর যুগে তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেন। উমার ইবন খাত্তাব এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাকে নির্দেশ দাও, সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনে এবং নিজের কাছে রেখে দেয় যতক্ষণ না সে মহিলা পবিত্র হয়ে আবার ঋতুমতী হয় এবং আবার পবিত্র হয়। অতঃপর সে যদি ইচ্ছে করে, তাকে রেখে দিবে আর যদি ইচেছ করে তবে সহবাসের পূর্বে তাকে তালাক দেবে। আর এটাই তালাকের নিয়ম, যে নিয়মে আল্লাহ তা'আলা স্ত্রীদের তালাক দেয়ার বিধান দিয়েছেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, তিনি তার স্ত্রীকে হায়িয অবস্থায় তালাক দিলেন। উমার বিষয়টি নবী এর কাছে ব্যক্ত করলেন। তখন তিনি বললেনঃ সে যেন তাকে ফিরিয়ে আনে। রাবী ইব্ন সীরীন) বলেন, আমি বললাম ,তালাকটি কি গণ্য করা হবে? তিনি ইবনে উমার) বললেন, তাহলে কী? ক্বাতাদাহ ইউনুস ইবন যুবায়র থেকে, তিনি ইবন উমার থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তাকে হুকুম দাও সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনে। আমি (ইউনুস) বললামঃ তালাকটি কি পরিগণিত হবে? তিনি (ইবন উমার) বললেনঃ তুমি কি মনে কর যদি সে অক্ষম হয় এবং আহম্মকী করে?

আবূ মা'মার বলেনঃ আবদুল ওয়ারিস আইউব থেকে, তিনি সাঈদ ইবন যুবায়র থেকে, তিনি ইবন উমার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ এটিকে আমার উপর এক তালাক গণ্য করা হয়েছিল।

আওযা'ঈ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যুহরী-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) এর কোন সহধর্মিণী তার থেকে মুক্তি প্রার্থনা করেছিল? উত্তরে তিন বললেনঃ উরওয়াহ আয়িশাহ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, জাওনের কন্যাকে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর নিকট একটি ঘরে পাঠানো হল আর তিনি তার নিকটবর্তী হলেন, তখন সে বলল, আমি আপনার থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তো এক মহামহিমের কাছে পানাহ চেয়েছ। তুমি তোমার পরিবারের কাছে গিয়ে মিলিত হও।

আবূ উসায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে বের হয়ে শাওত নামক বাগানের নিকট দিয়ে চলতে চলতে দু'টি বাগান পর্যন্ত পৌছলাম এবং এ দু'টির মাঝে বসলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা এখানে বসে থাক। তিনি (ভিতরে) প্রবেশ করলেন। তখন নুমান ইব্ন শারাহীলের কন্যা উমাইমার খেজুর বাগানস্থিত ঘরে জাওনিয়াকে আনা হয়। আর তার খিদমতের জন্য ধাত্রীও ছিল। নবী (ﷺ) যখন তার কাছে গিয়ে বললেন, তুমি নিজেকে আমার কাছে সমর্পণ কর। তখন সে বললঃ কোন রাজকুমারী কি কোন বাজারিয়া ব্যক্তির কাছে নিজেকে সমর্পণ করে? রাবী বলেনঃ এরপর তিনি তার হাত প্রসারিত করলেন তার শরীরে রাখার জন্য, যাতে সে শান্ত হয়। সে বললঃ আমি আপনার থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। তিনি বললেনঃ তুমি উপযুক্ত সত্তারই আশ্রয় নিয়েছ। এরপর তিনি (ﷺ) আমাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ হে আবূ উসায়দ! তাকে দু'খানা কাতান কাপড় পরিয়ে দাও এবং তাকে তার পরিবারের নিকট পৌছিয়ে দাও।

সাহল ইবন সা'দ ও আবূ উসায়দ বর্ণনা করেন। তারা বলেন যে, নবী (ﷺ) উমাইমা বিনতু শারাহীলকে বিবাহ করেন। পরে তাকে তার কাছে আনা হলে তিনি তার দিকে হাত বাড়ালেন। সে এটি অপছন্দ করল। তাই নবী (ﷺ) আবূ উসাইদকে তার জিনিসপত্র গুটিয়ে এবং দুখানা কাতান বস্ত্র প্রদান করে তার পরিবারের নিকট পৌছে দেবার নির্দেশ দিলেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (৫২৫৬)।

আবূ গাল্লাব ইউনুস ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবন উমারকে বললামঃ এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হায়িয অবস্থায় তালাক দিয়েছে। তিনি বললেন, তুমি ইবন উমারকে চেন। ইবন উমার তার স্ত্রীকে হায়িয অবস্থায় তালাক দিয়েছিল। তখন উমার নবী এর কাছে এসে বিষয়টি তাকে জানালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য আদেশ দিলেন। পরে তার স্ত্রী পবিত্র হলে, সে যদি চায় তবে তাকে তালাক দেবে। আমি বললামঃ এতে কি তালাক গণনা করা হয়েছিল? তিনি বললেনঃ তুমি কি মনে কর যদি সে অক্ষম হয় এবং বোকামি করে।

সাহল ইবন সাদ সাঈদী হতে বর্ণিত যে, 'উওয়াইমির' আজলানী 'আসেম ইবন আদী আনসারী এর নিকট এসে বললেনঃ হে 'আসিম! যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অপর কোন পুরুষের সাথে ব্যভিচার-রত দেখতে পায় এবং সে তাকে হত্যা করে ফেলে, তাহলে তোমরা কি তাকে হত্যা করবে? আর হত্যা না করলে তবে সে কী করবে? হে 'আসিম! আমার পক্ষ হতে এ সম্পর্কে তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞেস কর। আসিম এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ(ﷺ)এ ধরনের প্রশ্নাবলী নিন্দনীয় এবং দূষণীয় মনে করলেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উক্তি শ্রবণে 'আসিম ভড়কে গেলেন। এরপর 'আসিম তার নিজ বাসায় ফিরে আসলে উওয়াইমির এসে বললেনঃ হে আসিম! রাসূলুল্লাহ(ﷺ)তোমাকে কী জবাব দিলেন? আসিম বললেনঃ তুমি কল্যাণজনক কিছু নিয়ে আমার নিকট আসনি। তোমার জিজ্ঞাসিত বিষয়কে রাসূলুল্লাহ(ﷺ)না পছন্দ করেছেন। উওয়াইমির বললেনঃ আল্লাহর কসম! উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত) এ বিষয়ে আমি তাকে জিজ্ঞেস করতেই থাকব। উওয়াইমির এসে লোকদের মাঝে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে পেলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি কেউ তার স্ত্রীর সঙ্গে পরপুরুষকে ব্যভিচার-রত দেখতে পায়, আর তাকে হত্যা করে ফেলে, তবে আপনারা কি তাকে হত্যা করবেন? আর যদি সে (স্বামী) হত্যা না করে, তবে সে কী করবে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি ও তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তুমি গিয়ে তাকে তোমার পত্নীকে নিয়ে আস। সাহল বলেন, এরপর তারা দু'জনে লি'আন করলো। আমি সে সময় অন্যান্য লোকের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ(ﷺ)-এর কাছে ছিলাম। উভয়ের লি'আন করা হয়ে গেলে উওয়াইমির বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এখন যদি আমি তাকে স্ত্রী হিসেবে রাখি তবে এটা তার উপর মিথ্যারোপ করা হবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে আদেশ দেয়ার পূর্বেই তিনি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেন। ইবন শিহাব বলেন, এটাই লি'আনকারীদ্বয়ের ব্যাপারে সুন্নাত হয়ে দাড়াল।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রিফা'আ কুরাযীর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! রিফা'আ আমাকে পূর্ণ সম্পর্কচ্ছেদের তালাক তিন তালাক দিয়েছে। পরে আমি আবদুর রহমান ইবন যুবায়র কুরাযীকে বিয়ে করি। কিন্তু তার কাছে আছে কাপড়ের পুঁটলির মত একটি জিনিস। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সম্ভবতঃ তুমি রিফা'আর নিকট ফিরে যেতে ইচ্ছে করছ। কিন্তু তা তো সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সে দ্বিতীয় স্বামী তোমার স্বাদ গ্রহণ করে এবং তুমি তার স্বাদ গ্রহণ কর।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে সে স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করল। পরে দ্বিতীয় স্বামীও তাকে তালাক দিল। নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হল মহিলাটি কি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে? তিনি বললেনঃ না, যতক্ষণ না সে দ্বিতীয় স্বামী তার স্বাদ গ্রহণ করবে, যেমন স্বাদ গ্রহণ করেছিল প্রথম স্বামী।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে দুনিয়ার সুখ শান্তি বা পরকালীন সুখ শান্তি বেছে নেয়ার ইখতিয়ার দিলে আমরা আল্লাহ ও তার রাসূলকেই গ্রহণ করলাম। আর এতে আমাদের প্রতি কিছুই তালাক সাব্যস্ত হয়নি।

মাসরূক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ-কে ইখতিয়ার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম এতে তালাক হবে কিনা। তিনি উত্তর দিলেনঃ নবী (ﷺ)আমাদেরকে ইখ্তিয়ার দিয়েছিলেন। তাহলে সেটা কি তালাক ছিল? মাসরূক বলেনঃ তবে সে স্ত্রী আমাকে গ্রহণ করার পর আমি তাকে একবার ইখতিয়ার দিই বা একশ'বার দিই তাতে কিছু যায় আসে না।

লায়স নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবন উমার-কে তিন তালাক প্রদানকারী সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলতেনঃ যদি তুমি একবার বা দু'বার দিতে! কেননা নবী (ﷺ) আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে সে হারাম হয়ে যাবে, যতক্ষণ না সে স্ত্রী তোমাকে ছাড়া অন্য স্বামীকে বিয়ে করে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিলে সে স্ত্রী অন্য স্বামীকে বিবাহ করে। পরে সেও তাকে তালাক দেয়। তার লিঙ্গ ছিল কাপড়ের কিনারা সদৃশ। সুতরাং মহিলা তার থেকে নিজের মনস্কামনা পূর্ণ করতে পারল না। দ্বিতীয় স্বামী অবিলম্বে তালাক দিলে সে মহিলা নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রথম স্বামী আমাকে তালাক দিলে আমি অন্য স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হই। এরপর সে আমার সঙ্গে সঙ্গত হয়। কিন্তু তার সঙ্গে কাপড়ের কিনারা সদৃশ বৈ কিছুই নেই। তাই সে একবারের অধিক আমার নিকটস্থ হল না এবং আপন মনস্কামনা সিদ্ধ করতে সক্ষম হল না। এরূপ অবস্থায় আমি আমার প্রথম স্বামীর জন্য বৈধ হব কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামী তোমার কিছু স্বাদ উপভোগ করে, আর তুমিও তার কিছু স্বাদ আস্বাদন কর।

সাঈদ ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি ইবন আব্বাস-কে বলতে শুনেছেন যে, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হারাম বলে ঘোষণা দেয় সে ক্ষেত্রে কিছু তালাক হয় না। তিনি আরও বলেনঃ "নিশ্চই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (আল-আহযাবঃ ২১)

আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যাইনাব বিনত জাহাশের নিকট কিছু বেশী সময় অবস্থান করতেন এবং সেখানে তিনি মধু পান করতেন। আমি ও হাফসাহ পরামর্শ করে ঠিক করলাম যে, আমাদের মধ্যে যার নিকটই নবী (ﷺ) প্রবেশ করবেন, সেই যেন বলি- আমি আপনার নিকট হতে মাগাফীর-এর গন্ধ পাচ্ছি। আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন। এরপর তিনি তাদের একজনের নিকট প্রবেশ করলে তিনি তাকে সেরূপ বললেন। তিনি বললেনঃ আমি তো যাইনাব বিনত জাহাশের নিকট মধু পান করেছি। আমি পুনরায় এ কাজ করব না। এ প্রসঙ্গেই অবতীর্ণ হয় মহান আল্লাহর বাণীঃ "হে নবী! আল্লাহ যা তোমার জন্য হালাল করেছেন তা তুমি কেন হারাম করছ?.... তোমরা দু'জন যদি অনুশোচনাভরে আল্লাহর দিকে ফিরে আস তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম" (সূরাহ)আত-তাহরীম ৬৬ ঃ ১-৪) পর্যন্ত। এখানে আয়িশাহ ও হাফসাহ-কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। আর আল্লাহর বাণী "যখন নবী (ﷺ) তার স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন"- 'বরং আমি মধু পান করেছি'-এ কথার প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মধু ও হালুয়া (মিষ্টি) পছন্দ করতেন। আসর সালাত শেষে তিনি তার স্ত্রীদের নিকট যেতেন। এরপর তাদের একজনের ঘনিষ্ঠ হতেন। একদা তিনি হাফসাহ বিন্ত উমারের নিকট গেলেন এবং অন্যান্য দিনের চেয়ে অধিক সময় কাটালেন। এতে আমি ঈর্ষা বোধ করলাম। পরে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম যে, তার হাফসাহর) গোত্রের এক মহিলা তাকে এক পাত্র মধু উপঢৌকন দিয়েছিল। তা থেকেই তিনি নবী (ﷺ)-কে কিছু পান করিয়েছেন। আমি বললামঃ আল্লাহর কসম! আমরা এজন্য একটা মতলব আটব। এরপর আমি সাওদাহ বিন্ত যাম'আহ্কে বললাম, তিনি [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)] তো এখনই তোমার কাছে আসছেন, তিনি তোমার নিকটবর্তী হলেই তুমি বলবে, আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? তিনি নিশ্চই তোমাকে বলবেন "না"। তখন তুমি তাকে বলবে, তবে আমি কিসের গন্ধ পাচ্ছি? তিনি বলবেনঃ হাফসাহ আমাকে কিছু মধু পান করিয়েছে। তুমি তখন বলবে, এর মৌমাছি মনে হয় 'উরফুত নামক বৃক্ষ থেকে মধু সংগ্রহ করেছে। আমিও তাই বলব। সফীয়্যাহ! তুমিও তাই বলবে। আয়িশাহ বলেনঃ সাওদা বললেন, আল্লাহর কসম! তিনি দরজার নিকট আসতেই আমি তোমার ভয়ে তোমার আদিষ্ট কাজ পালনে প্রস্তুত হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তার নিকটবর্তী হলেন, তখন সাওদা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? তিনি বললেনঃ না। সাওদা বললেন, তবে আপনার নিকট হতে এ কিসের গন্ধ পাচ্ছি? তিনি বললেন হাফসাহ আমাকে কিছু মধু পান করিয়েছে। সাওদা বললেন, এ মধু মক্ষিকা 'উরফুত' নামক গাছ থেকে সংগ্রহ করেছে। এরপর তিনি ঘুরে যখন আমার নিকট এলেন, তখন আমিও ঐরকম বললাম। তিনি সফীয়্যাহর নিকট গেলে তিনিও তেমনই কথা বললেন। পরদিন যখন তিনি হাফসাহর কাছে গেলেনঃ তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে মধু পান করাব কি? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার এর কোন দরকার নেই। আয়িশাহ বর্ণনা করেন, সাওদা বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমরা তাকে বিরত রেখেছি। আমি বললামঃ চুপ কর।

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ আমার উম্মতের হৃদয়ে যে খেয়াল জাগ্রত হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কার্যে পরিণত করে বা মুখে উচ্চারণ করে।

জাবির হতে বর্ণিত যে, আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট এলো; তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। সে বললঃ সে ব্যভিচার করেছে। নবী (ﷺ) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। নবী (ﷺ) যেদিক মুখ ফিরিয়ে ছিলেন, সেদিকে এসে সে লোকটি নিজের সম্পর্কে বারবার ব্যভিচারের সাক্ষ্য দিল। তিনি লোকটিকে ডেকে বললেন, তুমি কি পাগল হয়েছ? তুমি কি বিবাহিত? সে বলল হা, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ঈদগাহে নিয়ে রজম করার আদেশ দিলেন। পাথরের আঘাত যখন তাকে অতিষ্ঠ করে তুলল, তখন সে পালিয়ে গেল। অবশেষে তাকে হাররা নামক স্থানে ধরা হলো এবং হত্যা করা হলো।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এল, তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। লোকটি তাকে ডেকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হতভাগা ব্যভিচার করেছে। সে এ কথা দিয়ে নিজেকে বোঝাতে চাইল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তিনি যেদিকে ফিরলেন সে সেদিকে গিয়ে আবার বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হতভাগা ব্যভিচার করেছে। তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর সেও সে দিকে গেল যে দিকে তিনি মুখ ফিরালেন এবং আবার সে কথা বলল। তিনি চতুর্থবার মুখ ফিরিয়ে নিলে সেও সেদিকে গেল। যখন সে নিজের ব্যাপারে চারবার সাক্ষী দিল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি কি পাগল হয়েছ? সে বলল, না। নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে নিয়ে যাও এবং রজম কর। লোকটি ছিল বিবাহিত।

যুহরী বলেন, জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী থেকে যিনি শুনেছেন, তিনি আমাকে বলেছেন, রজমকারীদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। আমরা মদিনার মুসল্লায় ঈদগাহে) তাকে রজম করলাম। পাথর যখন তাকে অতিষ্ঠ করে তুলল, সে তখন পালিয়ে গেল। হাররায় আমরা তাকে পাকড়াও করলাম এবং রজম করলাম। অবশেষে সে মৃত্যু বরণ করলো।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, সাবিত ইবন কায়স এর স্ত্রী নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! চরিত্রগত বা দ্বীনী বিষয়ে সাবিত ইবন কায়সের উপর আমি দোষারোপ করছি না। তবে আমি ইসলামের ভিতরে থেকে কুফরী করা স্বামীর সঙ্গে অমিল) পছন্দ করছি না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দেবে? সে বললঃ হ্যা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি বাগানটি গ্রহণ কর এবং মহিলাকে এক তালাক দিয়ে দাও।

আবদুল্লাহ ইবন উবায়র বোন হতেও উক্ত হাদীসটি বর্ণিত। তাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দেবে? মহিলা বললঃ হা। পরে সে বাগানটি ফেরত দিল, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে তালাক দেয়ার জন্য তার স্বামীকে নির্দেশ দিলেন। ইবরাহীম ইবন তাহমান খালিদ থেকে, তিনি ইকরামাহ থেকে তিনি নবী (ﷺ) থেকে "তাকে তালাক দাও" কথাটিও বর্ণনা করেছেন।

অন্য বর্ণনায় ইবন আবূ তামীমা ইকরামাহ সূত্রে ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ সাবিত ইবন কায়স-এর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! সাবিতের দ্বীনদারী ও চরিত্রের ব্যাপারে আমি কোন দোষারোপ করছি না, তবে আমি তার সঙ্গে সংসার জীবন নির্বাহ করতে পারছি না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তার বাগানটি কি ফিরিয়ে দেবে? সে বললঃ হা।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাবিত ইবন কায়স ইবন শাম্মাস-এর স্ত্রী নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি সাবিতের দ্বীন ও চরিত্রের ব্যাপারে কোন দোষ দিচ্ছি না। তবে আমি কুফরীর আশঙ্কা করছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত আছ? সে বললঃ হা। অতঃপর সে বাগানটি তাকে (স্বামীকে) ফিরিয়ে দিল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার স্বামীকে নির্দেশ দিলেন, সে মহিলাকে পৃথক করে দিল।

ইকরামাহ হতে বর্ণিত যে, জামীলা সাবিতের স্ত্রী এরপর উক্ত হাদীসটি উল্লেখ করেন।

মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, বনু মুগীরাহর লোকেরা তাদের মেয়েকে 'আলী যেন বিয়ে করেন এ অনুমতি চেয়েছিল, আমি এর অনুমতি দিতে পারি না।

নবী সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার মাধ্যমে তিনটি বিধান জানা গেছে। এক. তাকে আযাদ করা হলো, এরপর তাকে তার স্বামীর সঙ্গে থাকা বা না থাকার ইখতিয়ার দেয়া হলো। দুই. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আযাদকারী আযাদকৃত গোলামের পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক হবে। তিন. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করলেন, দেখতে পেলেন হাড়িতে গোশত ফুটছে। তার কাছে রুটি ও ঘরের অন্য তরকারী নিয়ে আসা হলো। তখন তিনি বললেনঃ গোশতের পাত্র দেখছি না যে যাতে গোশ্ত ছিল? লোকেরা জবাব দিল, হা, কিন্তু সে গোশত বারীরাহ্কে সদাকাহ হিসাবে দেয়া হয়েছে। আর আপনি তো সদাকাহ খান না? তিনি বললেনঃ তার জন্য সদাকাহ, আর আমাদের জন্য এটা উপঢৌকন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাকে বারীরার স্বামীকে ক্রীতদাস অবস্থায় দেখেছি।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অমুক গোত্রের গোলাম এই মুগীস বারীরার স্বামী; আমি যেন তাকে এখনও মদিনার অলিতে গলিতে কেঁদে কেঁদে বারীরার পিছে পিছে ঘুরতে দেখছি।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বারীরার স্বামী কালো গোলাম ছিল। তাকে মুগিস নামে ডাকা হত। সে অমুক গোত্রের গোলাম ছিল। আমি যেন এখনো দেখছি সে মদিনার অলিতে গলিতে বারীরার পিছে পিছে ঘুরছে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, বারীরার স্বামী ক্রীতদাস ছিল। মুগীস নামে তাকে ডাকা হত। আমি যেন এখনও তাকে দেখছি সে বারীরার পিছে কেঁদে কেঁদে ঘুরছে, আর তার দাড়ি বেয়ে অশ্রু ঝরছে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আব্বাস! বারীরার প্রতি মুগীসের ভালবাসা এবং মুগীসের প্রতি বারীরার অনাসক্তি দেখে তুমি কি আশ্চর্যান্বিত হওনা? এরপর নবী (ﷺ) বললেনঃ বারীরা) তুমি যদি তার কাছে আবার ফিরে যেতে! সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে হুকুম দিচ্ছেন? তিনি বললেনঃ আমি কেবল সুপারিশ করছি। সে বললঃ তাকে দিয়ে আমার কোন প্রয়োজন নেই।

আসওয়াদ হতে বর্ণিত যে, আয়িশাহ বারীরাকে কিনতে চাইলেন। কিন্তু তার মালিকগণ ওলী'র অভিভাবকত্বের অধিকার শর্ত ব্যতীত বিক্রয় করতে অসম্মতি জানাল। তিনি বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর কাছে জানালেন। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে কিনে নাও এবং মুক্ত করে দাও। কেননা, ওলী'র অধিকারী হল সে, যে আযাদ করে। নবী (ﷺ)-এর নিকট কিছু গোশ্ত আনা হল এবং বলা হল এ গোশত বারীরাহকে সদাকাহ করা হয়েছে। তিনি বললেনঃ সেটা তার জন্য সদাকাহ আর আমাদের জন্য হাদিয়া। আদম বর্ণনা করেন, শুবাহ আমাদের কাছে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাতে আরও বলা হয়েছে, স্বামীর সঙ্গে থাকা বা না থাকার ব্যাপারে তাকে এখতিয়ার দেয়া হয়েছিল।

নাফি হতে বর্ণিত যে, ইবন উমারকে কোন খৃষ্টান বা ইয়াহূদী নারীর বিবাহ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উপর মুশরিক নারীদের বিবাহ হারাম করে দিয়েছেন। আর এর চেয়ে ভয়ানক শির্ক কী হতে পারে যে মহিলা বলে, আমার প্রভু ঈসা। অথচ তিনিও আল্লাহর বান্দাগণের মধ্যে একজন বান্দাহ।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ)ও মুমিনদের ব্যাপারে মুশরিকরা দু' দলে বিভক্ত ছিল। একদল ছিল হারবী মুশরিক, তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন এবং তারাও তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত। অন্যদল ছিল চুক্তিবদ্ধ মুশরিক। তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করতেন না এবং তারাও তার সাথে যুদ্ধ করত না। হারবীদের কোন মহিলা যদি হিজরাত করে (মুসলিমদের) কাছে চলে আসত, তাহলে সে ঋতুমতী হয়ে পুনরায় পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হতো না। পবিত্র হওয়ার পর তার সাথে বিবাহ বৈধ হত। তবে যদি বিয়ের পূর্বেই তার স্বামী হিজরাত করত, তাহলে মহিলাকে তার কাছেই ফিরিয়ে দিতে হত। আর যদি তাদের কোন দাস বা দাসী হিজরাত করত, তাহলে তারা আযাদ হয়ে যেত এবং মুহাজিরদের সমান অধিকার লাভ করত। এরপর বর্ণনাকারী (আতা) চুক্তিবদ্ধ মুশরিকদের সম্পর্কে মুজাহিদের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। যদি চুক্তিবদ্ধ মুশরিকদের কোন দাস বা দাসী হিজরাত করে আসত, তাহলে তাদেরকে পুনরায় পাঠিয়ে দেয়া হতো না। তবে তাদের মূল্য ফিরিয়ে দেয়া হতো।

আত্বা ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আবূ উমাইয়্যার কন্যা করীবাহা উমার ইবন খাত্তাবের সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ ছিল। তিনি তাকে তালাক দিলে মুআবিয়াহ ইবন আবূ সুফ্ইয়ান তাকে বিয়ে করেন। আর আবূ সুফ্ইয়ানের কন্যা উম্মুল হাকাম ইয়ায ইবন গান্ম ফিহরীর সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ ছিল। তিনি তাকে তালাক দিলে আবদুল্লাহ ইবন উসমান সাকাফী তাকে বিয়ে করেন।

উরওয়াহ ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়িশাহ বলেন, ঈমানদার নারী যখন হিজরাত করে নবী (ﷺ)-এর কাছে আসত, তখন তিনি আল্লাহরএ নির্দেশঃ- "হে মুমিনগণ! ঈমানদার নারীরা যখন তোমাদের কাছে হিজরাত করে আসে তখন তাদেরকে পরখ করে দেখ" অনুসারে তাদেরকে পরখ করতেন। (তারা সত্যিই ঈমান এনেছে কি না)....... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।" সূরাহ (আল-মুমতাহিনাহ ৬০ ঃ ১০) আয়িশাহ বলেনঃ ঈমানদার নারীদের মধ্যে যারা আয়াতে উল্লেখিত শর্তাবলী মেনে নিত, তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হত। তাই যখনই তারা এ সম্পর্কে মুখে স্বীকারোক্তি করত তখনই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বলতেন যাও, আমি তোমাদের বাই'আত গ্রহণ করেছি। আল্লাহর কসম! কথার দ্বারা বাই'আত গ্রহণ ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাত কখনো কোন নারীর হাত স্পর্শ করেনি। আল্লাহর কসম! তিনি কেবল সেসব বিষয়েই বাই'আত গ্রহণ করতেন, যে সব বিষয়ে বাই'আত গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাই'আত গ্রহণ শেষে তিনি বলতেনঃ আমি কথা দ্বারা তোমাদের বাই'আত গ্রহণ করলাম।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার তার স্ত্রীদের ব্যাপারে ঈলা কাছে না যাওয়ার শপথ করলেন। সে সময় তার পা মচকে গিয়েছিল। তিনি তার কক্ষের মাচায় ঊনত্রিশ দিন অবস্থান করেন। অতঃপর সেখান থেকে নেমে আসেন। লোকেরা বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো এক মাসের শপথ করেছিলেন। তিনি বললেনঃ ঊনত্রিশ দিনেও মাস হয়।

নাফি হতে বর্ণিত যে, ইবন উমার যে 'ঈলার কথা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন সে সম্পর্কে বলতেন, সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার পরে প্রতেক্যেরই উচিত হয় স্ত্রীকে সততার সাথে গ্রহণ করবে, না হয় তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিবে, যেমনভাবে আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন।

ইসমাঈল আমাকে আরও বলেছেন, মালিক নাফি এর সূত্রে ইবন উমার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, চার মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলে তালাক দেয়া পর্যন্ত তাকে আটকে রাখা হবে। আর তালাক না দেয়া পর্যন্ত তালাক প্রযোজ্য হবে না। উসমান, আলী , আবুদ্ দারদা, আয়িশাহ এবং আরও বারজন সাহাবী থেকেও অনুরূপ উল্লেখ করা হয়।

মুনবাইস-এর আযাদকৃত গোলাম ইয়াযীদ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ)-কে হারানো বকরীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ ওটাকে ধরে নাও। কেননা, ওটা হয় তোমার জন্য, না হয় তোমার (অন্য) ভাইয়ের জন্য অথবা নেকড়ের জন্য। তাকে হারানো উটের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি রেগে গেলেন এবং তার উভয় গন্ডদেশ লাল হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেনঃ ওটা নিয়ে তোমার চিন্তা কেন? তার সঙ্গে চলার (জন্য) পায়ের তলায় ক্ষুর ও পানাহারের (জন্য) পেটে মশক আছে। সে পানি পান করতে থাকবে এবং বৃক্ষ-লতা খেতে থাকবে, আর এর মধ্যে মালিক তার সন্ধান লাভ করবে। তাকে লুকাতা (হারানো প্রাপ্তি) সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ প্রাপ্ত বস্তুর থলে ও মাথার বন্ধনটা চিনে নাও এবং এক বছর পর্যন্ত এর ঘোষণা দিতে থাক। যদি এর শনাক্তকারী (মালিক) আসে, তবে ভালো কথা, নচেৎ এটাকে তোমার মালের সাথে মিলিয়ে নাও। সুফ্ইয়ান বলেনঃ আমি রাবীআ ইবন আবূ আবদুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে উল্লিখিত কথাগুলো ছাড়া আর কিছুই পাইনি। আমি বললামঃ হারানো প্রাণীর ব্যাপারে মুনবাইস এর আযাদকৃত গোলাম ইয়াযীদের হাদীসটি কি যায়দ ইবন খালিদ হতে বর্ণিত? তিনি বললেন, হা। ইয়াহইয়া বলেন, রাবীআ বলতেনঃ হাদীসটি মুনবাইস-এর আযাদকৃত গোলাম ইয়াযীদ-এর মাধ্যমে যায়দ ইবন খালিদ হতে বর্ণনাকৃত। সুফ্ইয়ান বললেনঃ আমি রাবীআর সঙ্গে দেখা করে এ সম্পর্কে আলোচনা করলাম।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উটে চড়ে তাওয়াফ করলেন। তিনি যখনই 'রুকনের' কাছে আসতেন, তখনই এর প্রতি ইঙ্গিত করতেন এবং "আল্লাহু আকবার" বলতেন। যাইনাব বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ "ইয়াজুজ ও মাজূজ" এদের দরজা এভাবে খুলে গেছে; এই বলে তিনি (তার আঙ্গুলকে) নব্বই এর মত করলেন। (শাহাদাত অঙ্গুলের মাথা বৃদ্ধাঙ্গুলির গোড়ায় রাখলেন।)

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবুল কাসিম (ﷺ) বলেছেনঃ জুমুআহর দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যে মুহূর্তে কোন মুসলিম দাড়িয়ে সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে যে কোন কল্যাণ চায় আল্লাহ অবশ্যই তা মঞ্জুর করে থাকেন। তিনি নিজ হাত দ্বারা ইশারা করেন এবং তার আঙ্গুলগুলো মধ্যমা ও কনিষ্ঠা আঙ্গুলের পেটে রাখেন। আমরা বললামঃ তিনি স্বল্পতা বুঝাতে চাচ্ছেন।

উওয়ায়সী বলেনঃ ইবরাহীম ইবন সা'দ শুবাহ ইবন হাজ্জাজ থেকে, তিনি হিশাম ইবন যায়দ থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে এক ইয়াহূদী একটি বালিকার উপর নির্যাতন করে তার অলঙ্কারাদি ছিনিয়ে নেয়। আর পাথর দ্বারা) তার মস্তক চূর্ণ করে। সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পূর্ব মুহূর্তে তার পরিবারের লোকেরা তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে আসে। তখন সে চুপচাপ ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক নির্দোষ ব্যক্তির নাম (ধরে) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাকে কি অমুক হত্যা করেছে? সে মাথার ইশারায় বললঃ না। তিনি অন্য এক নিরপরাধ লোকের নাম ধরে বললেন, তবে কি অমুক? সে ইশারায় জানাল, না। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হত্যাকারীর নাম ধরে বললেনঃ তবে অমুক ব্যক্তি মেরেছে কি? সে মাথা হেলিয়ে বললঃ জি, হ্যা। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশত্রুমে উক্ত ব্যক্তির মাথা দু'পাথরের মাঝে রেখে চূর্ণ করা হলো।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ফিতনা বিপর্যয়) এদিক থেকে আসবে। তিনি পূর্ব দিকে ইশারা করলেন।

আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। সূর্য অস্তমিত হলে তিনি এক ব্যক্তি (বিলাল)-কে বললেনঃ নেমে যাও, আমার জন্য ছাতু প্রস্তুত কর। সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি সন্ধ্যা নাগাদ অপেক্ষা করতেন। (তাহলে সওম পূর্ণ হত)। তিনি পুনরায় বললেনঃ নেমে গিয়ে ছাতু মাখ। সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি সন্ধ্যা হতে দিতেন! এখনো তে দিন রয়ে গেছে। তিনি আবার বললেনঃ যাও, গিয়ে ছাতু প্রস্তুত কর। তৃতীয়বার আদেশ দেয়ার পর সে নামল এবং তার জন্য ছাতু প্রস্তুত করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা খেলেন। এরপর তিনি পূর্বদিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ যখন তোমরা ওদিক থেকে রাত্রি নেমে আসতে দেখবে, তখন সওমকারী ইফতার করবে।

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বিলালের আহবান বা তার আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহরী থেকে বিরত না রাখে। কারণ, সে আযান দেয়, যাতে তোমাদের রাত্রি জাগরণকারীরা কিছু আরাম করতে পারে। সকাল বা ফজর হয়েছে এটা বুঝানো তার উদ্দেশ্য নয়। ইয়াযীদ তার হাত দু'টি সামনে বিস্তার করে দু'দিকে ছড়িয়ে দিলেন। সুব্হে সাদিক কিভাবে উদ্ভাসিত হয় তা দেখানোর জন্য।

লায়স বলেন, জা'ফর ইবন রাবীআ, আবদুর রহমান ইবন হুরমুয থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবূ হুরাইরাহ-এর কাছে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বখিল ও দাতা ব্যক্তির উদাহরণ হচ্ছে এমন দু'ব্যক্তির মত, যাদের পরিধানে বুক থেকে গলার হাড় পর্যন্ত লৌহ-নির্মিত পোশাক রয়েছে। দানকারী যখনই কিছু দান করে, তখনই তার শরীরের পোশাকটি বড় ও প্রশস্ত হতে থাকে, এমনকি এটা তার আঙ্গুল ও অন্যান্য অঙ্গগুলোকে ঢেকে ফেলে। অন্যদিকে, বখিল যখনই দান করার ইচ্ছা করে, তখনই তার পোশাকে তার কণ্ঠনালীর প্রতিটি অংশ সংকুচিত হয়ে যায়। সে প্রশস্ত করার চেষ্টা করলেও সেটা প্রশস্ত হয় না। এ কথা বলে তিনি নিজের আঙ্গুল দ্বারা কণ্ঠনালীর প্রতি ইশারা করলেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদের বলব কি, আনসারদের সব চেয়ে উত্তম গোত্র কোনটি? তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! হা বলুন। তিনি বললেনঃ তারা বনূ নাজ্জার। এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী বনূ আবদুল আশহাল, এরপর তাদের নিকটবর্তী যারা বনূ হারিস ইবন খাযরাজ। এরপর তাদের সন্নিকটে বনূ সাঈদা। এরপর তিনি হাত দ্বারা ইশারা করলেন। হাতের আঙ্গুলগুলোকে সঙ্কুচিত করে আবার তা সম্প্রসারিত করলেন। যেমন কেউ কিছু হাতের দ্বারা নিক্ষেপ করার সময় করে থাকে। এরপর বলেনঃ আনসারদের প্রতিটি গোত্রেই কল্যাণ নিহিত আছে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী সাহল ইবন সা'দ-সাঈদী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার আগমন এবং কিয়ামতের মাঝে দূরত্ব এ আঙ্গুল থেকে এ আঙ্গুলের দূরত্বের মত। কিংবা তিনি বলেনঃ এ দু'টির দূরত্বের মত। এই বলে তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুল দু'টি মিলিত করলেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মাস এত, এত এবং এত দিনে হয়, ত্রিশ দিনে। তিনি আবার বললেনঃ মাস এত, এত ও এত দিনেও হয়। ঊনত্রিশ দিনে। তিনি বলতেনঃ কখনও ত্রিশ দিনে আবার কখনও ঊনত্রিশ দিনে মাস হয়।

আবূ মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) নিজ হাত দিয়ে ইয়ামানের দিকে ইঙ্গিত করে দু'বার বললেনঃ ঈমান ওখানে। জেনে রেখ! অন্তরের কঠোরতা ও কাঠিন্য উট পালনকারীদের মধ্যে (কৃষকদের মাঝে)। যে দিকে শয়তানের দু'টি শিং উদিত হবে তাহলো (কঠোর হৃদয়) রাবীআ গোত্র ও মুযার গোত্র।

সাহল হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ও ইয়াতীমের প্রতিপালনকারী জান্নাতে এমনিভাবে নিকটে থাকবে। এই বলে তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুল দু'টি দ্বারা ইঙ্গিত করলেন এবং এ দু'টির মাঝে কিঞ্চিত ফাক রাখলেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি কালো সন্তান জন্মেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কিছু উট আছে কি? সে জবাব দিল হা। তিনি বললেনঃ সেগুলোর রং কেমন? সে বললঃ লাল। তিনি বললেনঃ সেগুলোর মধ্যে কোনটি ছাই বর্ণের আছে কি? সে বললঃ হ্যা। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তাহলে সেটিতে এমন রং কোথেকে এলো। লোকটি বললঃ সম্ভবত পূর্ববর্তী বংশের কারণে এমন হয়েছে। তিনি বললেনঃ তাহলে হতে পারে, তোমার এ সন্তানও বংশগত কারণে এমন হয়েছে।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, আনসারদের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অপবাদ দিল। নবী (ﷺ) দু'জনকেই শপথ করালেন এবং তাদেরকে পৃথক করে দিলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, হিলাল ইবন উমাইয়্যা তার স্ত্রীকে যিনার অপবাদ দেয়। তিনি এসে সাক্ষ্য দিলেন। নবী (ﷺ) বলতে লাগলেনঃ আল্লাহ তাআলা অবশ্যই জানেন তোমাদের দু'জনের একজন তো মিথ্যাচারী। অতএব কে তোমাদের দু'জনের মধ্যে তওবা করতে প্রস্তুত আছ? এরপর স্ত্রী লোকটি দাড়াল এবং নিজের (দোষমুক্তির) সাক্ষ্য দিল।

সাহল ইবন সাদ সাঈদী হতে বর্ণিত যে, উওয়াইমির আজলানী 'আসিম ইবন আদী আনসারী-এর কাছে এসে বললেনঃ হে আসিম! কী বল, যদি কেউ তার স্ত্রীর সঙ্গে অপর লোককে (ব্যভিচার-রত অবস্থায়) পায়, তবে সে কি তাকে হত্যা করবে? আর এতে তোমরাও কি তাকে হত্যা করবে? (যদি সে হত্যা না করে) তাহলে কী করবে? হে আসিম! তুমি আমার এ ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস কর। এরপর আসিম এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ অপছন্দ করলেন এবং অশোভনীয় মনে করলেন। এমন কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আসিম যা শুনলেন, তাতে তার খুব খারাপ লাগল। আসিম বাড়ি ফিরলে উওয়াইমির এসে জিজ্ঞেস করলঃ হে আসিম?! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে কী উত্তর দিলেন? আসিম উওয়াইমিরকে বললেনঃ তুমি আমার কাছে কোন ভাল কাজ নিয়ে আসনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ধরনের জিজ্ঞাসাকে অপছন্দ করেছেন, সে সম্বন্ধে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি। উওয়াইমির বললেন, আল্লাহর শপথ! তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস না করে ক্ষান্ত হব না। এরপর উওয়াইমির রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাকে লোকদের মাঝে পেলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! কী বলেন, কেউ যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য লোককে (ব্যভিচার-রত) দেখতে পায়, সে কি তাকে হত্যা করবে? আর আপনারাও কি তাকে হত্যার বদলে হত্যা করবেন? না হলে সে কী করবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার ও তোমার স্ত্রীর সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যাও তাকে নিয়ে এসো। সাহল বলেন, তারা উভয়ে লি'আন করল। যে সময় আমি লোকদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে ছিলাম। উভয়ে লি'আন করা শেষ করলে উওয়াইমির বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি তাকে (স্ত্রী হিসাবে) রাখি, তবে আমি তার উপর মিথ্যারোপ করেছি বলে প্রমাণিত হবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে নির্দেশ দেয়ার আগেই তিনি স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেন। ইবন শিহাব বলেনঃ উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দেয়াই পরবর্তীতে লি'আনকারীদ্বয়ের সম্পর্কিত বিধান প্রচলিত হয়ে গেল হিসাবে পরিগণিত হলো।

ইবন জুরাইজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে ইবন শিহাব লি'আন ও তার হুকুম সম্বন্ধে সা'দ গোত্রের সাহল ইবন সাদ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন যে, আনসারদের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কী বলেন, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য লোককে দেখতে পায়, তবে কি সে তাকে হত্যা করবে? অথবা কী করবে? এরপর আল্লাহ তাআলা তার ব্যাপারে কুরআনে উল্লেখিত লি'আনের বিধান অবতীর্ণ করেন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তোমার ও তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছেন। রাবী বলেনঃ আমি উপস্থিত থাকতেই তারা উভয়ে মসজিদে লি'আন করল। উভয়ের লি'আন করা শেষ হলে সে ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি তাকে স্ত্রী হিসাবে রেখে দেই; তবে তার উপর মিথ্যারোপ করেছি বলে গণ্য হবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে নির্দেশ দেয়ার আগেই সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনেই সে তার থেকে পৃথক হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ এই সম্পর্কচ্ছেদই প্রত্যেক লি'আনকারীদ্বয়ের জন্য বিধান। ইবন জুরাইজ বলেন, ইবন শিহাব বলেছেনঃ তাদের পর লি'আনকারীদ্বয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর হুকুম চালু হয়। মহিলাটি ছিল গর্ভবতী। তার বাচ্চাকে মায়ের পরিচয়ে ডাকা হত। বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর ওয়ারিশের ব্যাপারেও হুকুম জারি হল যে, মহিলা সন্তানের ওয়ারিশ হবে এবং সন্তানও তার ওয়ারিশ হবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করেছেন। ইবন জুরাইজ, ইবন শিহাবের সূত্রে সাহল ইবন সা'দ সাঈদী থেকে এ হাদীস সম্পর্কে বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যদি ঐ স্ত্রীলোকটি ওহরার (এক রকম ছোট প্রাণী)র মতো লাল ও বেটে সন্তান জন্ম দেয়, তবে বুঝব মহিলাই সত্য বলেছে, আর লোকটি তার উপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। আর যদি সে কালো চোখ বিশিষ্ট বড় নিতম্বযুক্ত সন্তান জন্ম দেয়, তবে বুঝব, লোকটি সত্যই বলেছে। উক্ত মহিলা অপসন্দনীয় আকৃতির বাচ্চা প্রসব করে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ)-এর কাছে লি'আন করার ব্যাপারটি আলোচিত হল। 'আসিম ইবন আদী এ ব্যাপারে একটি কথা জিজ্ঞেস করে চলে গেলেন। এরপর তার গোত্রের এক ব্যক্তি তার কাছে এসে অভিযোগ করল যে, সে তার স্ত্রীর সাথে অন্য এক লোককে পেয়েছে। 'আসিম বললেনঃ অযথা জিজ্ঞাসার কারণেই আমি এ ধরনের বিপদে পড়তাম। এরপর তিনি লোকটিকে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর কাছে গেলেন এবং অভিযোগকারীর ব্যাপারটি তাকে জানালেন। লোকটি ছিল হলদে শীর্ণকায় ও সোজা চুল বিশিষ্ট। আর ঐ লোকটি যাকে তার স্ত্রীর কাছে পেয়েছে বলে সে অভিযুক্ত করে সে ছিল প্রায় কালো, স্থুল দেহের অধিকারী। নবী (ﷺ) বলেনঃ হে আল্লাহ! সমস্যাটি সমাধান করে দিন। এরপর মহিলা ঐ লোকটির আকৃতি বিশিষ্ট সন্তান জন্ম দিল, যাকে তার স্বামী তার কাছে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছিল। নবী (ﷺ) তাদের স্বামী-স্ত্রী উভয়কে লি'আন করালেন। একব্যক্তি ইবন আব্বাস-কে সে মজলিসেই জিজ্ঞেস করলঃ এ মহিলা সম্বন্ধেই কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন? "আমি যদি কাউকে বিনা প্রমাণে রজম করতাম, তবে একেই রজম করতাম।" ইবন আব্বাস বললেনঃ না, সে ছিল এক মহিলা, যে মুসলিম সমাজে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকত।

সাঈদ ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমারকে জিজ্ঞেস করলাম, এক লোক তার স্ত্রীকে অপবাদ দিল- (তার বিধান কী?) তিনি বললেন, নবী (ﷺ) বনূ 'আজলানের স্বামী-স্ত্রীর দু'জনকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেনঃ আল্লাহ তাআলা জানেন তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাচারী। কাজেই তোমাদের কেউ তওবা করতে রাযী আছ কি? তারা দু'জনেই অস্বীকার করল। তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তাআলা অবহিত আছেন তোমাদের একজন মিথ্যাচারী, সুতরাং কেউ তওবা করতে প্রস্তুত আছ কি? তারা আবারও অস্বীকার করল। তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তাআলা অবহিত আছেন তোমাদের একজন মিথ্যাচারী সুতরাং কেউ তওবা করতে প্রস্তুত আছ কি? তারা আবারও অস্বীকার করল। এরপর তিনি তাদেরকে পৃথক করে দেন। আইয়ুব বলেনঃ আমাকে আমর ইবন দ্বীনার বললেন, এ হাদীসে আরও কিছু কথা আছে, তোমাকে তা বর্ণনা করতে দেখছি না কেন? তিনি বলেন, লোকটি বললঃ আমার (দেয়া) মালের কী হবে? তাকে বলা হল, তোমার মাল ফিরে পাবে না। যদি তুমি সত্যবাদী হও, (তবুও পাবে না)। (কেননা) তুমি তার সঙ্গে সহবাস করেছ। আর যদি তুমি মিথ্যাচারী হও, তবে তা পাওয়া তো বহু দূরের ব্যাপার।

সাঈদ ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি লি'আনকারীদ্বয় সম্পর্কে ইবন উমারকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেনঃ নবী (ﷺ) লি'আনকারীদ্বয়কে লক্ষ্য করে বলেছিলেনঃ তোমাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব আল্লাহরই। তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাচারী। স্ত্রীর উপর তোমার কোন অধিকার নেই। লোকটি বললঃ তবে আমার মালের কী হবে? তিনি বললেনঃ তুমি কোন মাল পাবে না। যদি তুমি সত্যবাদী হও তাহলে এর বদলে তুমি তার লজ্জাস্থানকে হালাল করে নিয়েছিলে। আর যদি তার উপর মিথ্যারোপ করে থাক, তবে তা তো বহুদূরের ব্যাপার। সুফ্ইয়ান বলেনঃ আমি এ হাদীস আমর-এর নিকট হতে মুখস্থ করেছি। আইয়ুব বলেন, আমি সাঈদ ইবন যুবায়র-এর কাছে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইবন উমার-কে জিজ্ঞেস করলামঃ এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে লি'আন করল এখন তাদের বিধান কী? তিনি তার দু'আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বললেন, সুফ্ইয়ান তার তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল ফাক করে বললেন নবী (ﷺ) বনূ 'আজলানের এক দম্পতির বৈবাহিক সম্পর্ক এভাবে ছিন্ন করে দেন এবং বলেনঃ আল্লাহ তাআলা জানেন যে, তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাচারী। সুতরাং কেউ তওবা করতে প্রস্তুত আছ কি? এভাবে তিনি তিনবার বললেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, জনৈক পুরুষ তার স্ত্রীকে অপবাদ দিলে, নবী (ﷺ) উভয়কে শপথ করান, এরপর বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক আনসার ও তার স্ত্রীকে লি'আন করান এবং তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক লোক ও তার স্ত্রীকে লি'আন করালেন এবং সন্তানের পৈতৃক সম্পর্ক ছিন্ন করে উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। আর সন্তান মহিলাকে দিয়ে দিলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লি'আনকারী দম্পতিদ্বয় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্মুখে আলোচনা হচ্ছিল। ইতোমধ্যে আসিম ইবন আদী এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করে চলে গেলেন। এরপর তার গোত্রের এক লোক তার কাছে এসে জানাল যে, সে তার স্ত্রীর সঙ্গে এক লোককে পেয়েছে। আসিম বললেন, অযথা জিজ্ঞাসাবাদের দরুনই আমি এ বিপদে পড়লাম। এরপর তিনি তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলেন এবং যে লোকটিকে সে তার স্ত্রীর সঙ্গে পেয়েছে, তার সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জানালেন। অভিযোগকারী ছিলেন হলদে শীর্ণকায় ও সোজা চুল বিশিষ্ট। আর তার স্ত্রীর কাছে পাওয়া লোকটি ছিল মোটা ধরনের স্থুলকায় ও খুব কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সত্য প্রকাশ করে দিন। এরপর মহিলা ঐ লোকটির আকৃতির একটি সন্তান জন্ম দেয়, যাকে তার স্বামী তার সঙ্গে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উভয়কেই লি'আন করালেন। এক ব্যক্তি ইবন আব্বাস-কে সেই মজলিসেই জিজ্ঞেস করল, ঐ মহিলা সম্বন্ধেই কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেনঃ আমি যদি বিনা প্রমাণে কাউকে রজম করতাম তাহলে একে রজম করতাম? ইবন আব্বাস বলেনঃ না, সে ছিল অন্য এক মহিলা সে মুসলিম সমাজে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকত।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, রিফা'আহ কুরাযী এক স্ত্রীলোককে বিয়ে করে পরে তালাক দেয়। এরপর স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ করে। পরে সে নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে তাকে জানালো যে, সে (স্বামী) তার কাছে আসে না, আর তার কাছে কাপড়ের কিনারার মত বস্ত্ত ছাড়া কিছুই নেই। তিনি বললেনঃ তা হবে না, যে পর্যন্ত তুমি তার কিছু মধু আস্বাদন না করবে, আর সেও তোমার কিঞ্চিত মধু আস্বাদন না করবে ততক্ষণ প্রথম স্বামীর কাছে যাওয়া যাবে না।

নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী সালামাহ হতে বর্ণিত যে, আসলাম গোত্রের সুবায়আ নামের এক স্ত্রীলোককে তার স্বামী গর্ভাবস্থায় রেখে মারা যায়। এরপর আবূ সানাবিল ইবন বাকাক তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মহিলা তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। সে আবূ সানাবিল) বললঃ আল্লাহর শপথ! দু'টি মেয়াদের মধ্যে দীর্ঘতর মেয়াদ অনুসারে ইদ্দাত পালন না করা পর্যন্ত তোমার জন্য অন্যত্র বিয়ে করা জায়িয হবে না। এর প্রায় দশ দিনের মধ্যেই সে সন্তান প্রসব করে। এরপর সে নবী (ﷺ)-এর কাছে আসলে তিনি বললেনঃ এখন তুমি বিয়ে করতে পার।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি ইবন আরকামের নিকট একটি পত্র লিখলেন যে, তুমি সুবায়আ আস্লামীয়াকে জিজ্ঞেস কর, নবী (ﷺ) তাকে কী প্রকারের ফতোয়া দিয়েছিলেন? সে বললঃ তিনি আমাকে সন্তান প্রসব করার পর বিয়ে করার ফতোয়া দিয়েছেন।

মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ হতে বর্ণিত যে, সুবায়আ আসলামীয়া তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েকদিন পর সন্তান প্রসব করে। এরপর সে নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বিয়ে করার অনুমতি প্রার্থনা করে, তিনি তাকে অনুমতি দেন। তখন সে বিয়ে করে।

কাসিম ইবন মুহাম্মাদ ও সুলাইমান ইবন ইয়াসার হতে বর্ণিত যে, ইয়াহ্ইয়া ইবন সাঈদ ইবন আস আবদুর রহমান ইবন হাকাম এর কন্যাকে তালাক দিলে আবদুর রহমান তাকে আয়িশাহ-এর কাছে নিয়ে গেলে, তিনি মদিনা্র শাসনকর্তা মারওয়ানের কাছে বলে পাঠালেনঃ আল্লাহকে ভয় কর, আর তাকে তার ঘরে ফিরিয়ে দাও। মারওয়ান বলেন, সুলাইমানের বর্ণনায় আবদুর রহমান আমাকে যুক্তিতে হারিয়ে দিয়েছে। কাসিম ইবন মুহাম্মাদের বর্ণনায় তিনি বলেন, ফাতিমা বিন্ত কায়সের ঘটনা কি আপনার কাছে পৌছেনি? তিনি বললেনঃ (আয়িশাহ) ফাতিমা বিনত কায়সের ঘটনা মনে না রাখলে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। মারওয়ান বললেনঃ যদি মনে করেন ফাতিমাকে বের করার পিছনে তার মন্দ আচরণ কাজ করেছে, তবে বলব, এখানে সে মন্দ আচরণ বিদ্যমান আছে।

পূর্বের হাদিসের মতই (৫৩২১)।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাতিমার কী হল? সে কেন আল্লাহকে ভয় করছে না তার এ কথায় যে, তালাকপ্রাপ্তা নারী (তার স্বামীর থেকে) খাদ্য ও বাসস্থান কিছুই পাবে না।

পূর্বের হাদিসের মতই (৫৩২৩)।

কাসিম হতে বর্ণিত। উরওয়াহ ইবন যুবায়র আয়িশাহ-কে জিজ্ঞেস করলঃ আপনি কি জানেন না, হাকামের কন্যা অমুককে তার স্বামী তিন তালাক দিলে, সে তার পিত্রালয়ে চলে গিয়েছিল। আয়িশাহ বললেনঃ সে মন্দ কাজ করেছে। উরওয়াহ বললেনঃ আপনি কি ফাতিমার কথা শোনেননি, তিনি বললেনঃ এ হাদীস বর্ণনায় তার কোন কল্যাণ নেই। ইবন আবুয্যিনাদ হিশাম সূত্রে তার হিশামের) পিতা থেকে আরও বর্ণনা করেন যে, আয়িশাহ এ কথাকে অত্যন্ত দূষণীয় মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ফাতিমা একটা ভীতিকর স্থানে থাকত, তার উপর ভয়ভীতির আশঙ্কা থাকায় নবী (ﷺ) তাকে স্থান পরিবর্তনের রুখসত দেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (৫৩২৫)।

উরওয়াহ হতে বর্ণিত যে, আয়িশাহ ফাতিমার কথাকে অগ্রাহ্য করেছেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (৫৩২৭)।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হাজ্জ শেষে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রওয়ানা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন সফীয়্যাহ দুঃখিত হয়ে স্বীয় তাবুর দরজায় দাড়িয়ে গেলেন। তিনি তাকে বললেনঃ বড় সমস্যায় ভুগছি, তুমি তো আমাদের আটকে রাখবে। আচ্ছা তুমি কি তাওয়াফে যিয়ারা সম্পন্ন করেছ? বললেনঃ হা। তিনি বললেনঃ তা হলে এখন বেরিয়ে পড়।

হাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মা'কাল তার বোনকে বিয়ে দিয়েছিল, অতঃপর তার স্বামী তাকে এক তালাক দেয়।

হাসান হতে বর্ণিত যে, মা'কাল ইবন ইয়াসারের বোন এক ব্যক্তির বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিল। সে তাকে তালাক দিল। পুনরায় ফিরিয়ে আনল না, এভাবে তার ইদ্দাত শেষ হয়ে গেলে সে আবার তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিল। মা'কাল এতে রাগান্বিত হলেন, তিনি বললেন, সময় মতফিরিয়ে নিল না, এখন আবার প্রস্তাব দিচ্ছে। তিনি তাদের মাঝে বিয়ের ব্যাপারে বাধা হয়ে দাড়ালেন। এরপর আল্লাহ তাআলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেনঃ তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দাও এবং তারা তাদের ইদ্দাত পূর্ণ করে, তখন তারা নিজেদের স্বামীদেরকে বিবাহ করতে চাইলে তোমরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করো না .... (আল-বাক্বারাহ ২/২৩২)। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডাকলেন এবং তার সম্মুখে আয়াতটি পাঠ করলেন। তিনি তার অহমিকা পরিত্যাগ করতঃ আল্লাহর আদেশের আনুগত্য করেন।

নাফি হতে বর্ণিত যে, ইবন উমার তার স্ত্রীকে ঋতুমতী অবস্থায় এক তালাক দেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে আদেশ দিলেন, তিনি যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনেন এবং মহিলা পবিত্র হয়ে আবার ঋতুমতী হয়ে পরবর্তী পবিত্রা অবস্থা আসা পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রাখেন। পবিত্র অবস্থায় যদি তাকে তালাক দিতে চায় তবে সঙ্গমের পূর্বে তালাক দিতে হবে। এটাই ইদ্দাত, যে সময় স্ত্রীদেরকে তালাক দেয়ার জন্য আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন। আবদুল্লাহকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তাদের বলেনঃ তুমি যদি তাকে তিন তালাক দিয়ে দাও, তবে স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করা পর্যন্ত তোমার জন্য হারাম হয়ে যাবে। অন্য বর্ণনায় ইবন উমার বলতেন, 'তুমি যদি এক বা দু' তালাক দিতে', কারণ নবী (ﷺ) আমাকে এরকমই নির্দেশ দিয়েছেন।

ইউনুস ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমারকে (হায়িয অবস্থায় তালাক দেয়া সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ ইবন উমার তার স্ত্রীকে হায়িয অবস্থায় তালাক দিলে, উমার নবী (ﷺ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য তাকে নির্দেশ দেন। এরপর বলেনঃ ইদ্দাতের সময় আসলে সে তালাক দিতে পারে। রাবী বলেন, আমি বললাম, এ তালাক কি হিসাবে গণ্য করা হবে? ইবন উমার বললেনঃ তবে কি মনে করছ, যদি সে অক্ষম হয় বা বোকামি করে। (তাহলে দায়ী কে?)

যাইনাব বিনত আবূ সালামাহ বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ'র পিতা আবূ সুফ্ইয়ান ইবন হারব মারা গেলে আমি তার কাছে হাজির হলাম। উম্মু হাবীবাহ যা'ফরান ইত্যাদি মিশ্রিত হলদে রং এর খুশবু নিয়ে আসতে বললেন। তিনি এক বালিকাকে এ থেকে কিছু মাখালেন। এরপর তার নিজের চেহারার উভয় দিকে কিছু মাখলেন। এরপর বললেনঃ আল্লাহর কসম! খুশবু মাখার কোন দরকার আমার নেই। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন নারীর জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল হবে না। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।

যাইনাব বলেনঃ যাইনাব বিন্ত জাহশের ভাই মৃত্যুবরণ করলে আমি তার (যায়নাবের) নিকট গেলাম। তিনিও খুশবু আনিয়ে কিছু ব্যবহার করলেন। এরপর বললেনঃ আল্লাহর কসম! খুশবু ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন আমার নেই। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন নারীর জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল হবে না তবে তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে পারবে।

যাইনাব বলেনঃ আমি উম্মু সালামাহকে বলতে শুনেছি: এক নারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার মেয়ের স্বামী মারা গেছে। তার চোখে অসুখ। তার চোখে কি সুরমা লাগাতে পারবে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু' অথবা তিন বার বললেন, না। তিনি আরও বললেনঃ এতো মাত্র চার মাস দশ দিনের ব্যাপার। অথচ জাহিলী যুগে এক মহিলা এক বছরের মাথায় বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত।

হুমায়দ বলেন, আমি যাইনাবকে জিজ্ঞেস করলাম, এক বছরের মাথায় বিষ্ঠা নিক্ষেপের অর্থ কী? তিনি বলেন, সে যুগে কোন স্ত্রীর স্বামী মারা গেলে সে অতি ক্ষুদ্র একটি প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করতো এবং নিকৃষ্ট কাপড় পরত, কোন খুশবু ব্যবহার করতে পারত না। এভাবে এক বছর পার হলে তার কাছে চতুষ্পদ জন্তু যথা- গাধা, বকরী অথবা গাভী আনা হতো। আর সে তার গায়ে হাত বুলাতো। হাত বুলাতে বুলাতে অনেক সময় সেটা মরেও যেত। এরপর সে স্ত্রীলোকটি বেরিয়ে আসতো। তাকে বিষ্ঠা দেয়া হতো এবং তা তাকে নিক্ষেপ করতে হতো। অতঃপর সে ইচ্ছা করলে খুশবু অথবা অন্য কিছু ব্যবহার করতে পারত।

উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত আছে যে, এক মহিলার স্বামী মারা গেলে তার পরিবারের লোকেরা তার চোখদুটো নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় করল। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে তার সুরমা ব্যবহারের অনুমতি প্রার্থনা করল। তিনি বললেনঃ সুরমা ব্যবহার করতে পারবে না। তোমাদের অনেকেই (জাহিলী যুগে) তার নিকৃষ্ট কাপড় বা নিকৃষ্ট ঘরে অবস্থান করত। যখন এক বছর পেরিয়ে যেত, আর কোন কুকুর সে দিকে যেত, তখন সে বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত। কাজেই চার মাস দশ দিন পার না হওয়া পর্যন্ত সুরমা ব্যবহার করতে পারবে না।

আমি যাইনাবকে উম্মু হাবীবাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মুসলিম নারীর জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।

মুহাম্মাদ ইবন সীরীন হতে বর্ণিত যে, উম্মু আতিয়্যাহ বলেছেন, স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যু হলে তিন দিনের বেশী শোক পালন করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।

উম্মু আতিয়্যাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হতে আমাদেরকে নিষেধ করা হত। তবে স্বামী মারা গেলে চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে হবে এবং আমরা যেন সুরমা খুশবু ব্যবহার না করি আর রঙিন কাপড় যেন না পরি তবে হালকা রঙের ছাড়া। আমাদের কেউ যখন হায়িয শেষে গোসল করে পবিত্র হয়, তখন (দুর্গন্ধ দূর করার জন্য) আযফার নামক স্থানের সুগন্ধি ব্যবহার করার আমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আমাদেরকে জানাযার অনুসরণ করতে নিষেধ করা হতো।

উম্মু আতিয়্যাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মহিলার জন্য স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল হবে না।। সুরমা ও রঙিন কাপড়ও ব্যবহার করতে পারবে না। তবে সূতাগুলো একত্রে বেধে হালকা রং লাগিয়ে তা দিয়ে কাপড় বুনলে তা ব্যবহার করা যাবে।

উম্মু আতিয়্যাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) নিষেধ করেছেন শোক পালনকারিণী যেন সুগন্ধি না মাখে। তবে হায়িয থেকে পবিত্র হলে (দুর্গন্ধ দূর করার জন্য) কাফূরের 'কুস্ত' ও 'আযফার' সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারে।

মুজাহিদ হতে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ "তোমাদের মধ্যে যারা বিবিদেরকে রেখে মারা যাবে" (আল-বাক্বরাহ ২ঃ২৪০) তিনি এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, স্বামীর বাড়ীতে অবস্থান করে এ ইদ্দাত পালন করা মহিলার জন্য ওয়াজিব ছিল। পরে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেনঃ "তোমাদের মধ্যে যারা বিবিদেরকে রেখে মারা যাবে, তারা বিবিদের জন্য অসিয়ত করবে যেন এক বৎসরকাল সুযোগ-সুবিধা পায় এবং গৃহ হতে বের করে দেয়া না হয়, তবে যদি তারা নিজেরাই বের হয়ে যায়, তবে তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই তারা নিজেদের ব্যাপারে বৈধভাবে কিছু করলে।" (আল-বাক্বরাহ ২ঃ ২৪০)। মুজাহিদ বলেনঃ আল্লাহ তাআলা সাত মাস বিশ রাতকে তার জন্য পূর্ণ বছর সাব্যস্ত করেছেন। মহিলা ইচ্ছা করলে ওসিয়ত অনুসারে থাকতে পারে, আবার চাইলে চলেও যেতে পারে। এ কথাই আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ "বের না করে, তবে যদি স্বেচ্ছায় বের হয়ে যায় তবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই" তাই মহিলার উপর ইদ্দাত পালন করা যথারীতি ওয়াজিব আছে। আবূ নাজীহ এ কথাগুলো মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আতা বলেন, ইবন আব্বাস বলেছেনঃ এ আয়াতটি স্বামীর বাড়ীতে ইদ্দাত পালন করার নির্দেশকে রহিত করে দিয়েছে। অতএব, সে যেখানে ইচ্ছা ইদ্দাত পালন করতে পারে। আতা বলেনঃ ইচ্ছা হলে ওয়াসিয়াত অনুযায়ী সে স্বামীর পরিবারে অবস্থান করতে পারে। আবার ইচ্ছা হলে অন্যত্রও ইদ্দাত পালন করতে পারে। কেননা, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ "তারা নিজেদের জন্য বিধিমত যা করবে, তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই।" আত্বা বলেন, এরপর মিরাসের আয়াত অবতীর্ণ হলে 'বাসস্থান দেয়ার' হুকুমও রহিত হয়ে যায়। এখন সে যেখানে মনে চায় ইদ্দাত পালন করতে পারে, তাকে বাসস্থান দেয়া জরুরী নয়।

উম্মু হাবীবাহ বিনত আবূ সুফ্ইয়ান হতে বর্ণিত। যখন তার কাছে তার পিতার মৃত্যু সংবাদ পৌছল, তখন তিনি সুগন্ধি আনিয়ে তার উভয় হাতে লাগালেন এবং বললেনঃ সুগন্ধি ব্যবহারে কোন দরকার আমার নেই। কিন্তু যেহেতু আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন নারীর জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হালাল হবে না। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে হবে।

আবূ মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কুকুরের মূল্য, গণকের পারিশ্রমিক এবং পতিতার উপার্জন গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

আওন ইবন আবূ জুহাইফাহ এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) লানত করেছেন উল্কি অঙ্কণকারিণী, উল্কি গ্রহণকারিণী, সুদ গ্রহিতা ও সুদ দাতাকে। তিনি কুকুরের মূল্য ও পতিতার উপার্জন ভোগ করতে নিষেধ করেছেন। চিত্রাঙ্কণকারীদেরকেও তিনি লানত করেছেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত, দাসীর অবৈধ উপার্জন ভোগ করতে নবী (ﷺ) নিষেধ করেছেন।

সাঈদ ইবন যুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমারকে জিজ্ঞেস করলামঃ যদি কেউ তার স্ত্রীকে অপবাদ দেয়? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) আজলান গোত্রের এক দম্পতির বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ জানেন তোমাদের দু'জনের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমাদের কেউ কি তওবা করবে? তারা উভয়ে অস্বীকার করল। তিনি আবার বললেনঃ আল্লাহ জানেন তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। কাজেই তোমাদের মধ্যে তওবা করতে কে প্রস্তুত? তারা কেউ রাযী হল না। এরপর তিনি তাদের মধ্য বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন। আইয়ূব বলেনঃ আমর ইবন দ্বীনার আমাকে বললেন, হাদীসে আরো কিছু কথা আছে, আমি তা তোমাকে বর্ণনা করতে দেখছি না। রাবী বলেন, লোকটি তখন বলল, আমার মাল প্রদত্ত মাহর ফেরত পাব না? তিনি বললেনঃ তুমি কোন মাল পাবে না। যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে তো তুমি তার সাথে সহবাস করেছ। আর যদি মিথ্যাচারী হও, তাহলে মাল ফেরত পাওয়া তো বহু দূরের ব্যাপার।

ইবন উমার হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) লি'আনকারী স্বামী-স্ত্রীকে বলেছিলেন, আল্লাহই তোমাদের হিসাব নিবেন। তোমাদের একজন মিথ্যাবাদী। তার মহিলার উপর তোমার কোন অধিকার নেই। সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাল? তিনি বললেনঃ তোমার জন্যে কোন মাল নেই। তুমি যদি সত্যি কথা বলে থাক, তাহলে এ মাল তার লজ্জাস্থানকে হালাল করার বিনিময়ে হবে। আর যদি মিথ্যা বলে থাক, তবে এটা তুমি মোটেই চাইতে পার না, তুমি তো তার থেকে অনেক দূরে।