পোশাক (৫৭৮৩-৫৯৬৯)
ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ সে লোকের দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) দেখবেন না, যে অহঙ্কারের সাথে তার পরিধেয়) পোশাক টেনে চলে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অহংকার বশতঃ নিজের পোশাক ঝুলিয়ে চলবে, আল্লাহ তার প্রতি কিয়ামতের দিন (দয়ার) দৃষ্টি দিবেন না। তখন আবূ বাকর বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার লুঙ্গির এক পাশ ঝুলে থাকে, আমি তাতে গিরা না দিলে। নবী (ﷺ) বললেনঃ, যারা অহঙ্কারবশতঃ এমন করে তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও।
আবূ বাকরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী (ﷺ) এর নিকট ছিলাম, এমন সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হল। তখন তিনি ব্যস্ত হয়ে দাড়ালেন এবং কাপড় টেনে টেনে মসজিদে পৌছলেন। লোকজন একত্রিত হল। তিনি দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন। তখন সূর্য আলোকিত হয়ে গেল। এরপর আমাদের দিকে ফিরে বললেনঃ চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনগুলোর দু'টি নিদর্শন, যখন তোমরা তাতে কোন কিছু হতে দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দোয়া করতে থাকবে, যতক্ষণ না তা উজ্জ্বল হয়ে যায়।
আবূ জুহাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিলাল-কে দেখলাম, তিনি একটি বর্শা নিয়ে এলেন এবং তা মাটিতে পুঁতে দিলেন। তারপর সালাতের ইকামাত দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখলাম, (একটি হুল্লা'র) দু'টি চাদরে নিজেকে আবৃত করে বেরিয়ে আসলেন এবং বর্শার দিকে ফিরে দু'রাকআত সালাত আদায় করলেন। আর লোকজন ও পশুকে দেখলাম, তারা তার সম্মুখ দিয়ে এবং বর্শার পিছন দিয়ে চলাফেরা করছে।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইযারের বা পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশ পায়ের গোড়ালির নীচে থাকবে, সে অংশ জাহান্নামে যাবে।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ কিয়ামত দিবসে সে ব্যক্তির দিকে (দয়ার) দৃষ্টি দিবেন না, যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশতঃ ইযার বা পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে পরিধান করে।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ অথবা আবুল কাসিম বলেছেনঃ এক ব্যক্তি আকর্ষণীয় জোড়া কাপড় পরিধান করতঃ চুল আচড়াতে আচড়াতে পথ অতিক্রম করছিল; হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটির নীচে ধ্বসিয়ে দেন। কিয়ামত অবধি সে এভাবে ধ্বসে যেতে থাকবে।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক লোক তার লুঙ্গি পায়ের গোড়ালির নীচে ঝুলিয়ে পথ অতিক্রম করছিল। এমন সময় তাকে মাটির নীচে ধ্বসিয়ে দেয়া হল। কিয়ামত অবধি সে মাটির নীচে ধ্বসে যেতে থাকবে।
শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহারিব ইবন দিসারের সাথে ঘোড়ার পিঠে থাকা অবস্থায় দেখা করলাম। তখন তিনি বিচারালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন, আমি তাকে এ হাদীসটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বললেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমার-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশতঃ কাপড় ঝুলিয়ে পরবে, তার দিকে আল্লাহ কিয়ামত দিবসে তাকাবেন না। আমি বললামঃ আবদুল্লাহ ইবন উমার কি ইযারের উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি ইযার বা কামিস কোনটিই নির্দিষ্টভাবে বলেননি।
নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রিফা'আ কুরাযির স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসল। এ সময় আমি উপবিষ্ট ছিলাম এবং আবূ বাকর তার কাছে ছিলেন। স্ত্রীলোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি রিফা'আর অধীনে (বিবাহিতা) ছিলাম। তিনি আমাকে ত্বালাক দেন এবং তালাক চূড়ান্তভাবে দেন, এরপর আমি আবদুর রহমান ইবন যুবায়রকে বিয়ে করি। কিন্তু আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! তার সাথে কাপড়ের ঝালরের মত ব্যতীত কিছুই নেই। এ কথা বলার সময় স্ত্রী লোকটি তার চাদরের আচল ধরে দেখায়। খালিদ ইবন সাঈদ যাকে (ভিতরে যেতে) অনুমতি দেয়া হয়নি, দরজার কাছে থেকে স্ত্রী লোকটির কথা শোনেন। আয়িশাহ বলেন, তখন খালিদ বললঃ হে আবূ বাকর! এ মহিলাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে জোরে জোরে যে কথা বলছে, তাথেকে কেন আপনি তাকে বাধা দিচ্ছেন না? আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কেবল মুচকি হাসলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্ত্রী লোকটিকে বললেনঃ মনে হয় তুমি রিফা'আর কাছে ফিরে যেতে চাও। তা হবে না, যতক্ষণ না তোমার তার সাথে যৌন মিলন হয়। অতঃপর এটাই বিধান হয়ে যায়।
আলী বলেন, নবী (ﷺ) তার চাদর আনতে বললেন। তিনি তা পরলেন, অতঃপর হেটে চললেন। আমি ও যায়দ ইবন হারিসা তার পশ্চাতে চললাম। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি ঘরের কাছে আসেন, যে ঘরে হামযাহ ছিলেন। তিনি অনুমতি চাইলে তারা তাদের অনুমতি প্রদান করলেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম কী কাপড় পরবে? নবী (ﷺ) বললেনঃ মুহরিম জামা, পায়জামা, টুপি এবং মোজা পরবে না। তবে যদি সে জুতা না পায়, তা হলে পায়ের গোড়ালির নীচে পর্যন্ত মোজা) পরতে পারবে।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উবাইকে কবরে রাখার পর নবী (ﷺ) সেখানে এলেন। তিনি তার লাশ কবর থেকে উঠানোর নির্দেশ দিলেন। তখন লাশ কবর থেকে উঠান হল এবং তার দু'হাটুর উপর রাখা হল। তিনি তার উপর থুথু প্রদান করলেন এবং তাকে নিজের জামা পরিয়ে দিলেন। আল্লাহই বেশি জানেন।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই মারা গেল, তখন তার ছেলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসল। সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জামাটি আমাকে দিন। আমি এটা দিয়ে তাকে কাফন দিব। আর তার জানাযাহর সালাত আপনি আদায় করবেন এবং তার জন্য ইস্তিগফার করবেন। তিনি নিজের জামাটি তাকে দিয়ে দেন এবং বলেন যে, তুমি (কাফন পরানো) শেষ করে আমাকে খবর দিবে। তারপর নবী (ﷺ) তার জানাযাহর সালাত আদায় করতে এলেন। উমার তাকে টেনে ধরে বললেনঃ আল্লাহ কি আপনাকে মুনাফিকদের (জানাযাহর) সালাত আদায় করতে নিষেধ করেননি? তিনি এ আয়াতটি পড়লেনঃ 'তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর (উভয়ই সমান), তুমি তাদের জন্য সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ কক্ষনো তাদেরকে ক্ষমা করবেন না।'- (আত্-তওবা ৯/৮০)। তখন অবতীর্ণ হয়ঃ 'তাদের কেউ মারা গেলে তুমি কক্ষনো তাদের জন্য (জানাযার) সালাত পড়বে না, আর তাদের কবরের পাশে দন্ডায়মান হবে না।'- (আত্-তওবা ৯/৮৪)। এরপর থেকে তিনি তাদের জানাযার সালাত আদায় করা বর্জন করেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তিকে এমন দু'ব্যক্তির সাথে তুলনা করেন, যাদের পরনে লোহার দু'টি বর্ম আছে। তাদের দু' হাতই বুক ও ঘাড় পর্যন্ত পৌছে আছে। দানশীল ব্যক্তি যখন দান করে তখন তার বর্মটি এমনভাবে প্রশস্ত হয় যে, তার পায়ের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে এবং (প্রলম্বিত বর্মটি) পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ লোক যখন দান করতে ইচ্ছে করে, তখন তার বর্মটি শক্ত হয়ে যায় ও এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে থাকে এবং প্রতিটি অংশ আপন স্থানে থেকে যায়। আবূ হুরাইরাহ বলেনঃ আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কেতার আঙ্গুল এভাবে বুকের দিক দিয়ে খোলা অংশের মধ্যে রেখে বলতে দেখেছি, তুমি যদি তা দেখতে যে, তিনি তা প্রশস্ত করতে চাইলেন কিন্তু প্রশস্ত হল না।
মুগীরাহ ইবন শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে যান এবং তারপর ফিরে আসেন। আমি তার নিকট পানি নিয়ে পৌছি। তিনি অযু করেন। তখন তার পরনে শাম দেশীয় জুব্বা ছিল। তিনি কুলি করেন, নাক পরিষ্কার করেন এবং তার মুখমন্ডল ধৌত করেন। এরপর তিনি আস্তিন থেকে দু'হাত বের করতে থাকেন, কিন্তু আস্তিন দু'টি ছিল সরু, তাই তিনি হাত দু'টি জামার নীচ দিয়ে বের করে দু' হাত ধৌত করেন। এরপর মাথা মাসেহ করেন এবং মোজার উপর মাসেহ করেন।
মুগীরাহ ইবন শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সফরে এক রাত্রে নবী (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার সঙ্গে পানি আছে কি? আমি বললামঃ হা। তখন তিনি বাহন থেকে নামলেন এবং হেটে যেতে লাগলেন। তিনি এতদূর গেলেন যে, রাতের অন্ধকারে আমার নিকট থেকে অদৃশ্য হয়ে পড়লেন। তারপর তিনি ফিরে এলেন। আমি পাত্র থেকে তার (উযূর) পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি মুখমন্ডল ও দু'হাত ধুলেন। তিনি পশমের জামা পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তিনি তাথেকে হাত বের করতে পারলেন না, তাই জামার নীচ দিয়ে বের করে দু'হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাস্হ করলেন। তারপর আমি তার মোজা দু'টি খুলতে ইচ্ছে করলাম। তিনি বললেনঃ ছেড়ে দাও। কেননা, আমি পবিত্র অবস্থায় ও দু'টি পরেছি। তারপর ও দু'টির উপর মাস্হ করলেন।
মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েকটি কাবা বণ্টন করেন, কিন্তু মাখরামাহকে কিছুই দিলেন না। মাখরামাহ বললঃ হে আমার প্রিয় পুত্র! আমার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে চল। আমি তার সঙ্গে গেলাম। তিনি বললেনঃ ভিতরে যাও এবং আমার জন্যে নবী (ﷺ) এর কাছে আবেদন জানাও। মিসওয়ার বলেনঃ আমি তার জন্য আবেদন জানালে তিনি মাখরামাহর উদ্দেশে বের হয়ে আসলেন। তখন তার পরনে ছিল রেশমী কাবা। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এটি আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম। মিসওয়ার বলেনঃ এরপর নবী (ﷺ) তার দিকে তাকালেন এবং বললেনঃ মাখরামাহ খুশি হয়ে গেছে।
উকবাহ ইবন 'আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে একটি রেশমী কাবা হাদিয়া দেয়া হল। তিনি তা পরেন এবং তা পরে সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে তিনি তা খুব জোরে খুলে ফেললেন, যেন এটি তিনি অপছন্দ করছেন। এরপর বললেনঃ মুত্তাকীদের জন্য এটা সাজে না।
মুসাদ্দাদ আমাকে বলেছেন যে, মু'তামির বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, তিনি আনাস এর (মাথার) উপর হলুদ রেশমী টুপি দেখেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম কী কী পোশাক পরবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরবে না। তবে যার জুতা নেই, সে শুধু মোজা পরতে পারবে, কিন্তু মোজা দু'টি পায়ের গোড়ালির নীচ থেকে কেটে ফেলবে। আর যা'ফরান ও ওয়ার্স রং লেগেছে, এমন কাপড় পরবে না।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোকের ইযার নেই, সে যেন পায়জামা পরে; আর যার জুতা নেই, সে যেন মোজা পরে।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যখন ইহরাম বাধি, তখন কী পোশাক পরতে আমাদেরকে নির্দেশ দেন? তিনি বললেনঃ তোমরা জামা, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরবে না। তবে যার জুতা নেই, সে পায়ের গোড়ালির নীচে পর্যন্ত মোজা পরবে। আর তোমরা এমন কোন কাপড়ই পরবে না, যাতে যা'ফরান বা ওয়ার্স রং লেগেছে।
সালিমের পিতা হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুহরিম জামা, পাগড়ী, পায়জামা ও টুপি পরতে পারবে না। যা'ফরান ও ওয়ার্স রঞ্জিত কাপড়ও নয় এবং মোজাও নয়। তবে সে ব্যক্তি ছাড়া, যার জুতা নেই। যদি সে জুতা না পায় তাহলে দু' মোজার পায়ের গোড়ালির নীচে থেকে কেটে নিবে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতক মুসলিম হাবশায় হিজরাত করেন। এ সময় আবূ বাকর হিজরাত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি একটু অপেক্ষা কর; কেননা মনে হয় আমাকেও (হিজরাতের) হুকুম দেয়া হবে। আবূ বাকর বললেনঃ আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আপনিও কি এ আশা পোষণ করেন? তিনি বললেনঃ হা। আবূ বাকর নবী (ﷺ) এর সঙ্গ লাভের আশায় নিজেকে সংবরণ করে রাখেন এবং তার অধীনস্থ দু'টি সাওয়ারীকে চার মাস যাবৎ সামূর গাছের পাতা খাওয়ান। উরওয়াহ বর্ণনা করেন, আয়িশাহ বলেছেন যে, একদিন ঠিক দুপুরের সময় আমরা আমাদের ঘরে বসে আছি। এ সময় এক লোক আবূ বাকর-কে বলল, এই যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুখমন্ডল ঢেকে এগিয়ে আসছেন। এমন সময় তিনি এসেছেন, যে সময় তিনি সাধারণতঃ আমাদের কাছে আসেন না। আবূ বাকর বললেনঃ আমার মা-বাপ তার উপর কুরবান হোক, আল্লাহর কসম! এমন সময় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই এসে থাকবেন। নবী (ﷺ) আসলেন। তিনি অনুমতি চাইলেন। তাকে অনুমতি দেয়া হল। তিনি প্রবেশ করলেন। প্রবেশের সময় আবূ বাকর-কে বললেনঃ তোমার কাছে যারা আছে তাদের হটিয়ে দাও। তিনি বললেনঃ আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, হে আল্লাহর রাসূল! এরা তো আপনারই পরিবারস্থ লোক। নবী (ﷺ) বললেনঃ আমাকে মক্কা থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আবূ বাকর বললেনঃ তাহলে আমি কি আপনার সঙ্গী হব? হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। তিনি বললেনঃ হা। আবূ বাকর বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার এ দু'টি সাওয়ারীর একটি গ্রহণ করুন। নবী (ﷺ) বললেনঃ মূল্যের বিনিময়ে (নিব)। আয়িশাহ বলেনঃ তাদের উভয়ের জন্যে সফরের জিনিসপত্র প্রস্তুত করলাম এবং সফরকালের নাস্তা তৈরী করে একটি চামড়ার থলের মধ্যে রাখলাম। আবূ বাকর -এর কন্যা আসমা তার উড়নার এক অংশ ছিঁড়ে থলের মুখ বেধে দিল। এ কারণে তাকে যাতুন নিতাক উড়না ওয়ালী) নামে ডাকা হত। এরপর নবী (ﷺ) ও আবূ বাকর 'সাওর' নামক পর্বত গুহায় পৌছেন। সেখানে তিন রাত কাটান। আবূ বাকর -এর পুত্র আবদুল্লাহ তাদের সঙ্গে রাত্রি কাটাতেন। তিনি ছিলেন সুচতুর বুদ্ধিসম্পন্ন যুবক। তিনি তাদের নিকট হতে রাতের শেষ ভাগে চলে আসতেন এবং ভোর বেলা কুরাইশদের সাথে মিশে যেতেন, যেন তাদের মধ্যেই তিনি রাত কাটিয়েছেন। তিনি কারও থেকে পার্শ্ববর্তী স্থানে কিছু শুনলে তা মনে রাখতেন এবং রাতের আধার ছড়িয়ে পড়লে দিনের সব খবর নিয়ে তিনি তাদের দু'জনের কাছে পৌছে দিতেন। আবূ বাকর -এর দাস 'আমির ইবন ফুহাইরা তাদের আশে পাশে দুধওয়ালা বকরী চরাতেন, রাতের এক ঘণ্টা পার হলে সে তাদের নিকট ছাগল নিয়ে যেত (দুধ পান করাবার জন্যে)। তারা দু'জনে ('আমির ও আবদুল্লাহ) গুহাতেই রাত কাটাতেন। ভোরে আধার থাকতেই 'আমির ইবন ফুহাইরা ছাগল নিয়ে চলে আসতেন। ঐ তিন রাতের প্রতি রাতেই তিনি এমন করতেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের বছর যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তার মাথার উপর লৌহ শিরস্ত্রাণ ছিল।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে চলছিলাম। এ সময় তার পরনে চওড়া পাড়ওয়ালা একটি নাজরানী ডোরাদার চাদর ছিল। একজন বেদুঈন তার কাছে এলো। সে তার চাদর ধরে খুব জোরে টান দিল। এমন কি আমি দেখতে পেলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ পড়ে গেছে। তারপর সে বললঃ হে মুহাম্মাদ! আপনার নিকট আল্লাহর যে সম্পদ আছে, তা থেকে আমাকে কিছু দিতে বলুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিকে ফিরে তাকিয়ে হাসলেন এবং তাকে কিছু দান করার নির্দেশ দিলেন।
সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন স্ত্রী লোক একটি বুরদাহ নিয়ে এলো। সাহল বললেনঃ তোমরা জান বুরদাহ কী? একজন উত্তর দিলঃ হা, বুরদাহ হল এমন চাদর যার পাড় কারুকার্যময়। স্ত্রী লোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি এটি আমার নিজের হাতে বুনেছি আপনাকে পরানোর জন্য। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা গ্রহণ করলেন। তখন তার এটার প্রয়োজনও ছিল। এরপর তিনি আমাদের কাছে বেরিয়ে আসলেনঃ তখন সে চাদরটি ইযার হিসেবে তার পরিধানে ছিল। দলের এক ব্যক্তি হাত দিয়ে চাদরটি স্পর্শ করল এবং বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এটি পরতে দিন। তিনি বললেনঃ হা। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মজলিসে বসলেন, যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছে ছিল, তারপরে উঠে গেলেন এবং চাদরটি ভাঁজ করে এ ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। উপস্থিত লোকেরা বললঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এটি চেয়ে তুমি ভাল করনি। তুমি তো জান যে, কোন প্রার্থীকে তিনি বঞ্চিত করেন না। লোকটি বললঃ আল্লাহর কসম! আমি কেবল এজন্যেই চেয়েছি যে, যেদিন আমার মৃত্যু হবে, সে দিন যেন এ চাদরটি আমার কাফন হয়। সাহল বলেনঃ এটি তার কাফনই হয়েছিল।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মাতের মধ্য থেকে সত্তর হাযারের একটি দল (বিনা হিসাবে) জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন তাদের মুখমন্ডল চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। 'উকাশাহ ইবন মিহ্সান তার পরিহিত রঙিন ডোরাওয়ালা চাদর উপরে তুলে ধরে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট আমার জন্য দোয়া করুন, যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! একে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তারপর আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ 'উকাশাহ তোমার অগ্রগামী হয়েছে।
ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস-কে জিজ্ঞেস করলামঃ কোন ধরনের কাপড় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট অধিক প্রিয় ছিল? তিনি বললেনঃ হিবারা-ইয়ামনী চাদর।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'হিবারা' (ইয়ামনী চাদর) পরতে অধিক পছন্দ করতেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মারা যান, তখন (ইয়ামনী চাদর) দ্বারা তাকে ঢেকে রাখা হয়।
আয়িশাহ ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত, তখন তিনি তার কারুকার্যপূর্ণ চাদর দ্বারা মুখ ঢেকে রাখেন। যখন তার শ্বাসরোধ হয়ে আসত তখন তার মুখ থেকে তা সরিয়ে নিতেন। এ অবস্থায় তিনি বলতেনঃ ইয়াহূদী ও নাসারাদের উপর আল্লাহর লানাত, তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরগুলোকে মাসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। তাদের কাজের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করছিলেন।
পূর্বের হাদিসের মতই (৫৮১৫)।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার চাদর গায়ে দিয়ে সালাত আদায় করলেন। চাদরটি ছিল কারুকার্যপূর্ণ। তিনি কারুকার্যের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকালেন, তারপর সালাম ফিরিয়ে বললেনঃ এ চাদরটি আবূ জাহমের কাছে নিয়ে যাও। কারণ, এখনই তা আমাকে সালাত থেকে অন্যমনস্ক করে দিয়েছে। আর আবূ জাহম ইবন হুযাইফার 'আনবিজানিয়্যা' (কারুকার্যবিহীন চাদর)-টি আমার জন্যে নিয়ে এসো। সে হচ্ছে আদী ইবন কা'ব গোত্রের লোক।
আবূ বুরদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ একবার একখানি কম্বল ও মোটা ইযার নিয়ে আমাদের কাছে আসেন এবং তিনি বললেনঃ এ দু'টি পরা অবস্থায় নবী (ﷺ) এর রূহ কবয করা হয়।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) 'মুলামাসাহ' ও 'মুনাবাযাহ' থেকে নিষেধ করেছেন এবং দু'সময়ে সালাত আদায় করা থেকেও ফজরের (সালাতের) পর সূর্য উপরে উঠা পর্যন্ত এবং আসরের (সালাতের) পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আরও নিষেধ করেছেন একটি মাত্র কাপড় এমনভাবে পরতে, যাতে লজ্জাস্থানের উপরে তার ও আকাশের মধ্যস্থলে আর কিছুই থাকে না। আর তিনি কাপড় মুড়ি দিয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'প্রকার কাপড় পরিধান করতে ও দু'প্রকার ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। ক্রয়-বিক্রয়ে তিনি 'মুলামাসা' ও 'মুনাবাযা' থেকে নিষেধ করেছেন। মুলামাসা হল রাতে বা দিনে একজন অপর জনের কাপড় হাত দিয়ে স্পর্শ করা। এটুকু বাদে তা আর উলট-পালট করে দেখে না। আর মুনাবাযা হল- এক লোক অন্য লোকের প্রতি তার কাপড় নিক্ষেপ করা। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিও তার কাপড় নিক্ষেপ করা এবং এর দ্বারাই তাদের ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হওয়া, দেখা ও পারস্পরিক সম্মতি ব্যতিরেকেই। আর দু'প্রকার পোশাক পরিধানের এর এক প্রকার) হল- ইশতিমালুস-সাম্মা'। সাম্মা হল এক কাঁধের উপর কাপড় এমনভাবে রাখা যাতে অন্য কাঁধ খালি থাকে, কোন কাপড় থাকে না। পোশাক পরার অন্য ধরন হচ্ছে- উপবিষ্ট অবস্থায় নিজের কাপড় দ্বারা নিজেকে এমনভাবে ঘিরে রাখা, যাতে লজ্জাস্থানের উপর কাপড়ের কোন অংশ না থাকে।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'ধরনের কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। একটি কাপড়ে পুরুষের এমনভাবে পেঁচিয়ে থাকা যে, তার লজ্জাস্থানের উপর সে কাপড়ের কোন অংশই থাকে না। আর একটি কাপড় এমনভাবে পেঁচিয়ে পরা যে, শরীরের এক অংশ খোলা থাকে। আর 'মুলামাসাহ' ও 'মুনাবাযাহ' থেকেও তিনি নিষেধ করেছেন)।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) নিষেধ করেছেন শরীরের এক পাশ খোলা রেখে অন্য পাশ ঢেকে পরতে। আর এক কাপড়ে পুরুষকে এমনভাবে ঢেকে বসতে, যাতে তার লজ্জাস্থানের উপর ঐ কাপড়ের কোন অংশ না থাকে।
উম্মু খালিদ হতে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কিছু কাপড় নিয়ে আসা হয়। তার মধ্যে কিছু কালো নকশীদার ছোট চাদর ছিল। তিনি বললেনঃ আমরা এগুলো পরব, তোমাদের মত কী? উপস্থিত সকলে চুপ থাকল। তারপর তিনি বললেনঃ উম্মু খালিদকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তাকে বহন করে আনা হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের হাতে একটি চাদর নিলেন এবং তাকে পরিয়ে দিলেন। এরপর বললেনঃ (এটি) তুমি পুরাতন কর ও ছিঁড়ে ফেল (তুমি বহুদিন বাচ)। ঐ চাদরে সবুজ অথবা হলুদ রঙের নকশী ছিল। তিনি বললেনঃ হে খালিদের মা! এটি কত সুন্দর! হাবশী ভাষায় সানাহ্ অর্থ সুন্দর।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উম্মু সুলাইম যখন একটি সন্তান প্রসব করলেন তখন আমাকে জানালেন, হে আনাস! শিশুটিকে দেখ, যেন সে কিছু না খায়, যতক্ষণ না তুমি একে নবী (ﷺ) এর নিকট নিয়ে যাও, তিনি এর তাহনীক করবেন। আমি তাকে নিয়ে গেলাম। দেখলাম, তিনি একটি বাগানে আছেন, আর তার পরনে হুরাইসিয়া নামের চাদর আছে। তিনি যে উটে করে মক্কা বিজয়ের দিনে অভিযানে গিয়েছিলেন তার পিঠে ছিলেন।
ইকরামাহ হতে বর্ণিত। রিফা'আ তার স্ত্রীকে ত্বালাক দেয়। পরে আবদুর রহমান কুরাযী তাকে বিবাহ করে। আয়িশাহ বলেন, তার গায়ে একটি সবুজ রঙের উড়না ছিল। সে আয়িশাহ-এর নিকট অভিযোগ করল এবং (স্বামীর প্রহারজনিত) স্বীয় গাত্রের চামড়ার সবুজ বর্ণ দেখালো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এলেন, আর স্ত্রীগণ একে অন্যের সহযোগিতা করে থাকে, তখন আয়িশাহ বললেনঃ কোন মুমিন মহিলাকে এমনভাবে প্রহার করতে আমি কখনও দেখিনি। মহিলাটির চামড়া তার কাপড়ের চেয়ে বেশি সবুজ হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেনঃ আবদুর রহমান শুনতে পেল যে, তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসেছে। সুতরাং সেও তার অন্য স্ত্রীর দু'টি ছেলে সাথে করে এলো। স্ত্রী লোকটি বললঃ আল্লাহর কসম! তার উপর আমার এ ব্যতীত আর কোন অভিযোগ নেই যে, তার কাছে যা আছে তা আমাকে এ জিনিসের চেয়ে অধিক তৃপ্তি দেয় না। এ বলে তার কাপড়ের আচল ধরে দেখাল। আবদুর রহমান বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! সে মিথ্যা বলছে, আমি তাকে ধোলাই করি চামড়া ধোলাই করার ন্যায় দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গম করি)। কিন্তু সে অবাধ্য স্ত্রী, রিফা'আর কাছে ফিরে যেতে চায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ব্যাপার যদি তাই হয় তাহলে রিফা'আ তোমার জন্য হালাল হবে না, অথবা তুমি তার যোগ্য হতে পার না, যতক্ষণ না আবদুর রহমান তোমার সুধা আস্বাদন করবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবদুর রহমানের সাথে তার পুত্রদ্বয়কে দেখে বললেন, এরা কি তোমার পুত্র? সে বললঃ হ্যা। তিনি বললেনঃ এই আসল ঘটনা, যে জন্য স্ত্রী লোকটি এমন করেছে। আল্লাহর কসম! কাকের সাথে কাকের যেমন মিল থাকে, তার চেয়েও বেশি মিল আছে ওদের সাথে এর (আবদুর রহমানের সাথে তার পুত্রদের)।
সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উহুদের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ডানে ও বামে দু'জন পুরুষ লোককে দেখলাম। তাদের পরনে সাদা পোশাক ছিল। তাদের এর আগেও দেখিনি, আর পরেও দেখিনি।
আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর নিকট আসলাম। তার পরনে তখন সাদা পোশাক ছিল। তখন তিনি ছিলেন নিদ্রিত। কিছুক্ষণ পর আবার এলাম, তখন তিনি জেগে গেছেন। তিনি বললেনঃ যে কোন বান্দা 'লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' বলবে এবং এ অবস্থার উপরে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললামঃ সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে? তিনি বললেনঃ যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে তবুও? তিনি বললেনঃ হ্যা, সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে তবুও। আমি বললামঃ যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও? তিনি বললেনঃ যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও। আবূ যারের নাক ধূলি ধুসরিত হলেও। আবূ যার যখনই এ হাদীস বর্ণনা করতেন তখন আবূ যারের নাসিকা ধূলাচ্ছন্ন হলেও বাক্যটি বলতেন। আবূ আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী বলেনঃ এ কথা প্রযোজ্য হয় মৃত্যুর সময় বা তার পূর্বে যখন সে তওবা করে ও লজ্জিত হয় এবং বলে 'লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ', তখন তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।
ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ উসমান নাহদী এর থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আমাদের কাছে উমার-এর পক্ষ থেকে এক পত্র আসে, এ সময় আমরা উতবাহ ইবন ফারকাদের সঙ্গে আযারবাইজানে অবস্থান করছিলাম। (পত্রে লেখা ছিলঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রেশম ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন, তবে এটুকু এবং ইঙ্গিত দিলেন বুড়ো আঙ্গুলের সাথে মিলিত দু'আঙ্গুল দ্বারা (বর্ণনাকারী বলেনঃ) আমরা বুঝতে পারলাম যে (কতটুকু জায়িয তা) জানিয়ে তিনি পাড় ইত্যাদি বুঝাতে চেয়েছেন।
আবূ উসমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আযারবাইজানে অবস্থান করছিলাম। এ সময় উমার আমাদের কাছে লিখে পাঠান যে, নবী (ﷺ) রেশমী কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন; কিন্তু এটুকু এবং নবী (ﷺ) তার দু'আঙ্গুল দিয়ে এর পরিমাণ আমাদের বলে দিয়েছেন। যুহাইর মধ্যমা ও শাহাদাত আঙ্গুল তুলে দেখিয়েছেন।
আবূ উসমান হতে বর্ণিত যে, আমরা উকবার সাথে ছিলাম। উমার তার কাছে লিখে পাঠান যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যাকে আখিরাতে রেশম পরানো হবে না, সে ব্যতীত অন্য কেউ দুনিয়ায় রেশম পরবে না। আবূ উসমান তার দু'আঙ্গুল শাহাদাত ও মধ্যমা দ্বারা ইশারা করলেন।
ইবন আবূ লাইলা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফাহ মাদাইনে অবস্থান করছিলেন। তিনি পানি পান করতে চাইলেন। এক গ্রাম্য লোক একটি রৌপ্য পাত্রে কিছু পানি নিয়ে আসল। হুযাইফাহ তা ছুঁড়ে ফেললেন এবং বললেনঃ আমি ছুঁড়ে ফেলতাম না; কিন্তু আমি তাকে নিষেধ করেছি, সে নিবৃত হয়নি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ স্বর্ণ, রৌপ্য, পাতলা ও মোটা রেশম তাদের (কাফিরদের জন্য) দুনিয়ায় এবং তোমাদের (মুসলিমদের) জন্য আখিরাতে।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। শুবাহ বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এ কথা কি নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত? তিনি জোর দিয়ে বললেনঃ হ্যা। নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, সে আখিরাতে তা কখনও পরতে পারবে না।
খালীফাহ ইবন কা'ব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন যুবাইরকে খুতবায় বলতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, আখিরাতে সে তা পরতে পারবে না।
উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, আখিরাতে সে তা পরতে পারবে না।
ইমরান ইবন হিত্তান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ -এর নিকট রেশম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ ইবন আব্বাস-এর নিকট যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম; তিনি বললেন, ইবন উমারের নিকট জিজ্ঞেস কর। ইবন উমারকে জিজ্ঞেস করলাম; তিনি বললেন, আবূ হাফস উমার ইবন খাত্তাব বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুনিয়ায় যে ব্যক্তিই রেশমী কাপড় পরবে, তার আখিরাতে কোন অংশ নেই। আমি বললামঃ তিনি সত্য বলেছেন। আবূ হাফস রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর মিথ্যারোপ করেননি।
বারাআ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী (ﷺ) এর জন্যে একখানা রেশমী বস্ত্র উপহার পাঠানো হয়। আমরা তা স্পর্শ করলাম এবং বিস্ময় প্রকাশ করলাম। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা এতে বিস্ময় প্রকাশ করছো? আমরা বললামঃ হ্যা। তিনি বললেনঃ জান্নাতে সাদ ইবন মুআযের রুমাল এর চেয়ে উৎকৃষ্ট হবে।
হুযাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি মোটা ও চিকন রেশমী বস্ত্র পরিধান করতে ও তাতে উপবেশন করতে নিষেধ করেছেন।
বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের লাল বর্ণের মীসারা ও কাসসী পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যুবায়র ও আবদুর রহমান-কে তাদের চর্মরোগের কারণে রেশমী কাপড় পরিধান করার অনুমতি প্রদান করেছিলেন।
আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে একটি রেশমী হুল্লা পরতে দেন। আমি তা পরে বের হই। কিন্তু তার [নবী (ﷺ)] মুখমন্ডলে গোস্বার ভাব আমি লক্ষ্য করি। কাজেই আমি তা টুকরো করে আমার পরিবারের মহিলাদের মধ্যে বেটে দেই।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। উমার একটি রেশমী হুল্লা বিক্রি হতে দেখে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এটি কিনতেন, তাহলে কোন প্রতিনিধি দল আপনার কাছে আসলে এবং জুমুআর দিনে পরিধান করতে পারতেন। তিনি বললেনঃ এটা সে ব্যক্তিই পরতে পারে যার আখিরাতে কোন হিস্যা নেই। পরবর্তী সময়ে নবী (ﷺ) উমার-এর নিকট ডোরাকাটা রেশমী হুল্লা পাঠান। তিনি কেবল তাকেই পরতে দেন। উমার বললেনঃ আপনি আমাকে পরিধান করতে দিয়েছেন, অথচ এ ব্যাপারে যা বলার তা আমি আপনাকে বলতে শুনেছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমার কাছে এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি এটি বিক্রি করে দিবে অথবা কাউকে পরতে দিবে।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা উম্মে কুলসূমের পরনে হালকা নকশা করা রেশমী চাদর দেখেছেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক বছর যাবৎ অপেক্ষায় ছিলাম যে, উমার-এর কাছে সে দু'টি মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবো যারা নবী (ﷺ) এর বিরুদ্ধে জোট বদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু আমি তাকে খুব ভয় করে চলতাম। একদিন তিনি কোন এক স্থানে নামলেন এবং (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে) আরাক গাছের নিকট গেলেন। যখন তিনি বেরিয়ে এলেন, আমি তাকে (সে সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ (তারা হলেন) আয়িশাহ ও হাফসাহ। এরপর তিনি বললেনঃ জাহিলী যুগে আমরা নারীদের কোন কিছু বলে গণ্যই করতাম না। যখন ইসলাম আবির্ভূত হলো এবং (কুরআনে) আল্লাহ তাদের (মর্যাদার কথা) উল্লেখ করলেন, তাতে আমরা দেখলাম যে, আমাদের উপর তাদের হক আছে এবং এতে আমাদের হস্তক্ষেপ করা চলবে না। একদা আমার স্ত্রী ও আমার মধ্যে কিছু কথাবার্তা হচ্ছিল। সে আমার উপর শক্ত ভাষা ব্যবহার করলো। আমি তাকে বললামঃ তুমি তো সে স্থানেই। স্ত্রী বললেনঃ তুমি আমাকে এমন বলছ, অথচ তোমার কন্যা নবী (ﷺ) -কে কষ্ট দিচ্ছে। এরপর আমি হাফসাহর কাছে এলাম এবং বললামঃ আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের নাফরমানী করা থেকে আমি তোমাকে সতর্ক করে দিচ্ছি। নবী (ﷺ) -কে কষ্ট দেয়ায় আমি হাফসার কাছেই প্রথমে আসি। এরপর আমি উম্মু সালামাহ -এর কাছে এলাম এবং তাকেও তেমনি বললাম। তিনি বললেনঃ তোমার প্রতি আমার বিস্ময় হে উমার! তুমি আমার সকল ব্যাপারেই হস্তক্ষেপ করছ, কিছুই বাকী রাখনি, এমনকি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার স্ত্রীদের ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করছ। এ কথা বলে তিনি (আমাকে) প্রত্যাখ্যান করলেন। এক লোক ছিলেন আনসারী। তিনি যখন রসুলল্লাহ (ﷺ) -এর মজলিস থেকে দূরে থাকতেন এবং আমি উপস্থিত থাকতাম, যা কিছু হতো সে সব আমি তাকে গিয়ে জানাতাম। আর আমি যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর মজলিস থেকে অনুপস্থিত থাকতাম, আর তখন তিনি উপস্থিত থাকতেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর এখানে যা কিছু ঘটতো তা এসে আমাকে জানাতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর চারপাশে যারা (রাজা-সম্রাট) ছিল তাদের উপর রাসূলের কর্তৃত্ব কায়িম হয়েছিল। কেবল বাকী ছিল শামের (সিরিয়ার) গাসসান শাসক। তার আক্রমণের আমরা আশঙ্কা করতাম। হঠাৎ আনসারী যখন বললঃ এক বড় ঘটনা ঘটে গেছে। আমি তাকে বললামঃ কী সে ঘটনা! গাসসানী কি এসে পড়েছে? তিনি বললেনঃ এর চেয়েও ভয়াবহ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সকল স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। আমি সেখানে গেলাম। দেখলাম সকল কক্ষ থেকে কান্নার শব্দ আসছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কক্ষের কুঠুরিতে অবস্থান করছেন। প্রবেশ দ্বারে অল্প বয়স্ক একজন খাদিম বসে আছে। আমি তার কাছে গেলাম এবং বললামঃ আমার জন্যে অনুমতি চাও। অনুমতি পেয়ে আমি ভিতরে ঢুকলাম। দেখলাম, নবী (ﷺ) একটি চাটাইয়ের উপর শুয়ে আছেন, যাতে তার পার্শ্বদেশে দাগ পড়ে গেছে। তার মাথার নীচে চামড়ার একটি বালিশ, তার ভেতরে রয়েছে খেজুর গাছের ছাল। কয়েকটি চামড়া ঝুলানো রয়েছে এবং বিশেষ গাছের পাতা। এরপর হাফসাহ ও উম্মু সালামাকে আমি যা বলেছিলাম এবং উম্মু সালামাহ আমাকে যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, সে সব আমি তার কাছে ব্যক্ত করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসলেন। তিনি ঊনত্রিশ রাত সেখানে থাকার পর নামলেন।
উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন। তখন তিনি বলছিলেনঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, কত যে ফিতনা এ রাতে অবতীর্ণ হয়েছে। আরও কত যে ফিতনা অবতীর্ণ হয়েছে, কে আছে এমন যে, এ কক্ষবাসীগণকে ঘুম থেকে জাগ্রত করবে। পৃথিবীতে এমন অনেক পোশাক পরিহিতা মহিলাও আছে যারা কিয়ামতের দিন বিবস্ত্র থাকবে। যুহরী বলেন, হিন্দ বিন্ত হারিস-এর জামার আস্তিনদ্বয়ের বুতাম লাগানো ছিল।
খালিদের কন্যা উম্মু খালিদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কিছু কাপড় আনা হয়। তাতে একটি নকশাওয়ালা কালো চাদর ছিল। তিনি বললেনঃ আমি এ চাদরটি কাকে পরাব এ সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? সবাই চুপ থাকল। তিনি বললেনঃ উম্মু খালিদকে আমার কাছে নিয়ে এসো। সুতরাং তাকে নবী (ﷺ) এর কাছে নিয়ে আসা হলো। তিনি নিজ হাতে তাকে ঐ চাদর পরিয়ে দিয়ে বললেনঃ পুরাতন কর ও দীর্ঘদিন ব্যবহার কর। তারপর তিনি চাদরের নক্শার দিকে তাকাতে লাগলেন এবং হাতের দ্বারা আমাকে ইশারা করে বলতে থাকলেনঃ হে উম্মু খালিদ! এ সানা। হাবশী ভাষায় 'সানা' অর্থ সুন্দর। ইসহাক বলেনঃ আমার পরিবারের এক স্ত্রীলোক আমাকে বলেছে, সে ঐ চাদর উম্মু খালিদের পরনে দেখেছে।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) পুরুষদের জাফরানী রং-এর কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন, মুহরিম যেন ওয়ারস্ ঘাসের কিংবা জাফরানের রং দ্বারা রঙানো কাপড় না পরে।
বারাআ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) ছিলেন মাঝারি আকৃতির। আমি তাকে লাল হুল্লা পরা অবস্থায় দেখেছি। তার চেয়ে অধিক সুন্দর আর কিছু আমি দেখিনি।
বারাআ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের সাতটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেনঃ রোগীর শুশ্রুষা, জানাযায় শরীক হওয়া এবং হাচিদাতার জবাব দান। আর তিনি আমাদের সাতটি হতে নিষেধ করেছেনঃ রেশমী বস্ত্র, মিহিন রেশমী বস্ত্র, রেশম মিশ্রিত কাতান বস্ত্র, মোটা বস্ত্র এবং লাল 'মীসারা' বস্ত্র পরিধান করতে।
আবূ মাসলামা সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস-কে জিজ্ঞেস করেছি, নবী (ﷺ) 'না'লাই' পায়ে রেখে সালাত আদায় করেছেন কি? তিনি বলেছেনঃ হ্যা।
'উবায়দ ইবন জুরাইজ হতে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমার-কে বলেনঃ আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখেছি, যা আপনার সঙ্গীদের মধ্যে কাউকে করতে দেখিনি। তিনি বললেনঃ সেগুলো কী, হে ইবন জুরাইজ? তিনি বললেনঃ আমি দেখেছি আপনি তাওয়াফ করার সময় (কাবার) রু'কনগুলোর মধ্য হতে ইয়ামানী দু'টো রুকন ব্যতীত অন্যগুলোকে স্পর্শ করেন না। আমি দেখেছি, আপনি পশমহীন চামড়ার জুতা পরিধান করেন। আমি দেখেছি আপনি হলুদ রঙের কাপড় পরেন এবং যখন আপনি মক্কায় ছিলেন তখন দেখেছি, অন্য লোকেরা (যিলহাজ্জের) চাঁদ দেখেই ইহরাম বাধতো, আর আপনি তালবিয়ার দিন (আট তারিখ) না আসা পর্যন্ত ইহরাম বাধতেন না। আবদুল্লাহ ইবন উমার তাকে বললেনঃ আরকান সম্পর্কে কথা এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ইয়ামানী দু'টি রুকন ছাড়া অন্য কোনটি স্পর্শ করতে দেখিনি। আর পশমহীন চামড়ার জুতার ব্যাপার হলো, আমি দেখেছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন জুতা পরতেন, যাতে কোন পশম থাকতো না এবং তিনি জুতা পরা অবস্থাতেই অযূ করতেন (পা ধুতেন)। তাই আমি সে রকম জুতা পরতেই পছন্দ করি। আর হলুদ বর্ণের কথা হলো, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ রং দিয়ে রঙিণ করতে দেখেছি। সুতরাং আমিও এর দ্বারাই রং করতে ভালবাসি। আর ইহরাম সম্পর্কে কথা এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তার বাহনে হাজ্জের কাজ আরম্ভ করার জন্যে উঠার আগে ইহরাম বাধতে দেখিনি।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন, ইহরাম বাধা ব্যক্তি যেন জাফরান কিংবা ওয়ার্স ঘাস দ্বারা রং করা কাপড় না পরে। তিনি বলেছেনঃ যার জুতা নেই, সে যেন মোজা পরে এবং পায়ের গোড়ালির নীচ থেকে (মোজার উপরের অংশ) কেটে ফেলে।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ (মুহরিম অবস্থায়) যে লোকের ইযার নেই, সে যেন পায়জামা পরে, আর যার জুতা নেই, সে যেন মোজা পরে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) পবিত্রতা লাভ করতে, মাথা আচড়াতে ও জুতা পায়ে দিতে ডান দিক থেকে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ জুতা পরে তখন সে যেন ডান দিক থেকে শুরু করে, আর যখন খোলে তখন সে যেন বাম দিকে শুরু করে, যাতে পরার সময় উভয় পায়ের মধ্যে ডান পা প্রথমে হয় এবং খোলার সময় শেষে হয়।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন এক পায়ে জুতা পরে না হাটে। হয় দু'পা-ইখোলা রাখবে অথবা দু' পায়ে পরবে।
আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর চপ্পলে দু'টো করে ফিতা ছিল।
ঈসা ইবন তাহমান হতে বর্ণিত। একবার আনাস ইবন মালিক এমন দু'টো চপ্পল আমাদের কাছে আনলেন যার দু'টো করে ফিতা ছিল। তখন সাবিত বুনানী বললেনঃ এটি নবী (ﷺ) এর চপ্পল ছিল।
আওনের পিতা (ওয়াহব ইবন আবদুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) এর কাছে এলাম। তখন তিনি একটি লাল রঙের চামড়ার তাবুতে ছিলেন। আর বিলালকে দেখলাম তিনি নবী (ﷺ) এর অযুর পানি উঠিয়ে দিচ্ছেন এবং লোকজন অযুর পানি নেয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছে। যে তাথেকে কিছু পায়, সে তা মেখে নেয়। আর যে সেখান হতে কিছু পায় না, সে তার সাথীর ভিজা হাত হতে কিছু গ্রহণ করে।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) আনসারদের নিকট সংবাদ প্রেরণ করেন এবং তাদের চামড়ার একটি তাবুতে জমায়েত করেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) রাতের বেলা চাটাই দিয়ে ঘেরাও দিয়ে সালাত আদায় করতেন। আর দিনের বেলা তা বিছিয়ে তার উপর বসতেন। লোকজন নবী (ﷺ) এর নিকট একত্রিত হয়ে তার সঙ্গে সালাত আদায় করতে লাগল। এমনকি বহু লোক একত্রিত হল। তখন নবী (ﷺ) তাদের উদ্দেশে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা আমল করতে থাক তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী। কারণ, আল্লাহ তাআলা ক্লান্ত হন না, বরং তোমরাই ক্লান্ত হয়ে পড়বে। আর আল্লাহর নিকট ঐ আমল সবচেয়ে প্রিয়, যা সর্বদা করা হয়, তা কম হলেও।
মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তার পিতা মাখরামাহ একদা) তাকে বললেনঃ হে প্রিয় বৎস! আমার কাছে খবর এসেছে যে, নবী (ﷺ) এর নিকট কিছু কাবা এসেছে। তিনি সেগুলো বণ্টন করছেন। চলো আমরা তার কাছে যাই। আমরা গেলাম এবং নবী (ﷺ)-কে তার বাসগৃহে পেলাম। আমাকে (আমার পিতা) বললেনঃ বৎস! নবী (ﷺ)-কে আমার কাছে ডাক। আমার নিকট কাজটি অতি কঠিন বলে মনে হল। আমি বললামঃ আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ডাকবো? তিনি বললেনঃ বৎস, তিনি তো কঠোর স্বভাবের লোক নন। যা হোক, আমি তাকে ডাকলাম। তিনি বেরিয়ে এলেন। তার গায়ে তখন স্বর্ণের বোতাম লাগান মিহি রেশমী কাপড়ের কাবা ছিল। তিনি বললেনঃ হে মাখরামাহ! এটা আমি তোমার জন্যে সংরক্ষণ করেছিলাম। এরপর তিনি ওটা তাকে দিয়ে দিলেন।
বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের সাতটি জিনিস থেকে নিষেধ করেছেনঃ স্বর্ণের আংটি বা তিনি বলেছেন, স্বর্ণের বলয়, মিহি রেশম, মোটা রেশম ও রেশম মিশ্রিত কাপড়, রেশম এর তৈরী লাল রঙের হাওদা, রেশম মিশ্রিত কিস্সী কাপড় ও রৌপ্য পাত্র। আর তিনি আমাদের সাতটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেনঃ রোগীর শুশ্রূষা, জানাযার অনুসরণ করা, হাচির উত্তর দেয়া, সালামের জবাব দেয়া, দাওয়াত গ্রহণ করা, শপথকারীর শপথ পূরণে সাহায্য করা এবং মাযলূম ব্যক্তির সাহায্য করা।
আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বর্ণের একটি আংটি ব্যবহার করেন। আংটির মোহর হাতের তালুর দিকে ঘুরিয়ে রাখেন। লোকেরা ঐ রকমই আংটি) ব্যবহার করা শুরু করল। নবী (ﷺ) স্বর্ণের আংটিটি ফেলে দিয়ে রৌপ্যের আংটি বানিয়ে নিলেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বর্ণের একটি আংটি পরেন। আংটিটির মোহর হাতের তালুর ভিতরের দিকে ঘুরিয়ে রাখেন। তাতে তিনি "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" খোদাই করেছিলেন। লোকেরাও এ রকম আংটি ব্যবহার করতে শুরু করেন। যখন তিনি দেখলেন যে, তারাও ঐ রকম আংটি ব্যবহার করছে, তখন তিনি তা ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং বলেনঃ আমি আর কখনও এটা ব্যবহার করব না। এরপর তিনি একটি রূপার আংটি ব্যবহার করেন। লোকেরাও রূপার আংটি পরা শুরু করে। ইবন উমার বলেনঃ নবী (ﷺ) এর পরে আবূ বাকর, তারপর উমার ও তারপর উসমান তা ব্যবহার করেছেন। শেষে উসমান-এর (হাত) থেকে আংটিটি 'আরীস নামক কূপের মধ্যে পড়ে যায়।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) স্বর্ণের একটি আংটি ব্যবহার করতেন। এরপর তা বাদ দেন এবং বলেনঃ আমি আর কক্ষনো সেটা ব্যবহার করব না। লোকেরাও তাদের আংটি খুলে ফেলে দেয়।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে রৌপ্যের একটি আংটি দেখেছেন। তারপর লোকেরাও রৌপ্যের আংটি তৈরি করে এবং ব্যবহার করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পরে তার আংটি বর্জন করেন। লোকেরাও তাদের আংটি বর্জন করে।
হুমাইদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস-এর নিকট জিজ্ঞেস করা হয় যে, নবী (ﷺ) আংটি পরেছেন কিনা? তিনি বললেনঃ নবী (ﷺ) এক রাতে এশার সালাত আদায় করতে অর্ধরাত পর্যন্ত দেরী করেন। এরপর তিনি আমাদের মাঝে আসলেন। আমি যেন তার আংটির ঔজ্জ্বল্য দেখতে লাগলাম। তিনি বললেনঃ লোকজন সালাত আদায় করে শুয়ে গেছে। আর যতক্ষণ থেকে তোমরা সালাতের জন্য অপেক্ষারত আছ, ততক্ষণ তোমরা সালাতের ভিতরেই আছ।
আনাস হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (ﷺ) এর আংটি ছিল রৌপ্যের। আর তার নাগিনাটিও ছিল রৌপ্যের।
সাহল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললঃ আমি নিজেকে হিবা করে দেয়ার জন্যে এসেছি। এ কথা বলে সে দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকল। তিনি তাকালেন ও মাথা নীচু করে রাখলেন। মহিলাটির দাড়িয়ে থাকা দীর্ঘ হলে এক ব্যক্তি বললঃ আপনার যদি প্রয়োজন না থাকে, তবে একে আমার সঙ্গে বিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তোমার কাছে মাহর দেয়ার মত কিছু আছে কি? সে বললঃ না। তিনি বললেনঃ খুজে দেখ। সে চলে গেল। কিছু সময় পর ফিরে এসে বললঃ আল্লাহর কসম! আমি কিছুই পেলাম না। তিনি বললেনঃ আবার যাও এবং খোজ করো, একটি লোহার আংটি হলেও (আন)। সে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললঃ কসম আল্লাহর! কিছুই পেলাম না, একটি লোহার আংটিও না। তার পরনে ছিল একটি মাত্র লুঙ্গি, তার উপর চাদর ছিল না। সে আরয করলঃ আমি এ লুঙ্গিটি তাকে দান করে দেব। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমার লুঙ্গি যদি সে পরে তবে তোমার পরনে কিছুই থাকে না। আর যদি তুমি পর, তবে তার গায়ে এর কিছুই থাকে না। এরপর লোকটি একটু দূরে সরে গিয়ে বসে পড়ল। এরপর নবী (ﷺ) দেখলেন যে, সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তখন তিনি তাকে ডাকার জন্যে হুকুম দিলেন। তাকে ডেকে আনা হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কি কুরআনের কিছু মুখস্থ আছে? সে বললঃ অমুক অমুক সূরা। সে সূরাগুলোকে গণনা করে শুনাল। তিনি বললেনঃ তোমার কাছে কুরআনের যা কিছু মুখস্থ আছে, তার পরিবর্তে মেয়ে লোকটিকে তোমার অধীনে দিয়ে দিলাম।
আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। আল্লাহর নবী (ﷺ) অনারব একটি দলের কাছে বা কিছু লোকের কাছে পত্র লিখতে চাইলেন। তখন তাকে বলা হল যে, তারা এমন পত্র গ্রহণ করে না যার উপর মোহরাঙ্কিত থাকে না। তখন নবী (ﷺ) রৌপ্যের একটি আংটি তৈরী করেন। তাতে অঙ্কিত ছিল "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" [বর্ণনাকারী আনাস বলেন] আমি যেন (এখনও) নবী (ﷺ) এর আঙ্গুলে বা তার হাতে সে আংটির ঔজ্জ্বল্য প্রত্যক্ষ করছি।
ইবন উমার হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রৌপ্যের একটি আংটি তৈরী করেন। সেটি তার হাতে ছিল। এরপর তা আবূ বাকর-এর হাতে আসে। অতঃপর তা উমার-এর হাতে আসে। অতঃপর তা উসমান-এর হাতে আসে। শেষ পর্যন্ত তা 'আরীস নামক এক কূপের মধ্যে পড়ে যায়। তাতে অঙ্কিত ছিল "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ"।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একটি আংটি তৈরী করেন। তারপর তিনি বলেনঃ আমি একটি আংটি তৈরী করেছি এবং তাতে একটি নকশা করেছি। সুতরাং কেউ যেন নিজের আংটিতে নকশা না করে। তিনি (আনাস) বলেনঃ আমি যেন তার কনিষ্ঠ আঙ্গুলে আংটিটির ঔজ্জ্বল্য প্রত্যক্ষ করছি।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন রোম সম্রাটের নিকট পত্র লিখতে মনস্থ করেন, তখন তাকে বলা হল, আপনার পত্র যদি মোহরাঙ্কিত না হয়, তবে তারা তা পাঠ করে না। এরপর তিনি রৌপ্যের একটি আংটি বানান এবং তাতে "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ"। খোদাই করা ছিল। [আনাস বলেন] আমি যেন (এখনও) তার হাতে সে আংটির শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করছি।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) স্বর্ণের একটি আংটি তৈরী করেন। যখন তিনি তা পরিধান করতেন, তখন তার নাগিনা হাতের তালুর দিকে রাখতেন। লোকেরাও স্বর্ণের আংটি তৈরী শুরু করল। এরপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণাবলী প্রকাশ করার পর বলেনঃ আমি এ আংটি তৈরী করেছিলাম। কিন্তু তা আর পরিধান করব না। এরপর তিনি তা ছুঁড়ে ফেলেন। লোকেরাও (তাদের আংটি) ছুঁড়ে ফেলল। জুওয়ায়রিয়াহ বলেনঃ 'আমার ধারণা যে, বর্ণনাকারী (নাফি) এ কথাও বলেছেন যে, আংটিটি তার ডান হাতে ছিল।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রৌপ্যের একটি আংটি তৈরী করেন। তাতে "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" এর নকশা অঙ্কন করেন। এরপর তিনি বলেনঃ আমি একটি রৌপ্যের আংটি বানিয়েছি এবং তাতে "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" এর নকশা অঙ্কন করেছি। সুতরাং কেউ যেন তার আংটিতে এ নকশা অঙ্কণ না করে।
আনাস হতে বর্ণিত। আবূ বাকর যখন খলীফা নির্বাচিত হন, তখন তিনি তার [আনাস-এর] কাছে (যাকাতের পরিমাণ সম্পর্কে) একটি পত্র লেখেন। আংটিটির নকশা তিন লাইনে ছিল। এক লাইনে ছিল 'মুহাম্মদ' এক লাইনে ছিল, 'রাসূল' আর এক লাইনে ছিল 'আল্লাহ'।
আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেনঃ আহমাদের সূত্রে আনাস থেকে এ কথা অতিরিক্ত বর্ণিত আছে। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) এর আংটি (তার জীবদ্দশায়) তার হাতেই ছিল। তার (মৃত্যুর) পরে তা আবূ বাকর-এর হাতে থাকে। আবূ বাকর-এর (ইন্তিকালের) পরে তা উমার-এর হাতে থাকে। যখন উসমান-এর কাল আসল, তখন (একবার) তিনি ঐ আংটি হাতে নিয়ে 'আরীস নামক কূপের উপর বসেন। আংটিটি বের করে নাড়াচাড়া করছিলেন। হঠাৎ তা (কূপের মধ্যে) পড়ে যায়। আনাস বলেন, আমরা তিনদিন যাবৎ উসমান-এর সাথে তালাশ করলাম, কূপের পানি ফেলে দেয়া হলো, কিন্তু আংটিটি আর পেলাম না।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে এক ঈদে হাজির ছিলাম। তিনি খুতবার আগেই সালাত আদায় করলেন। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেনঃ ইবন ওয়াহ্ব, ইবন জুরায়জ থেকে এতটুকু অধিক বর্ণনা করেছেন যে, এরপর তিনি স্ত্রীলোকেদের নিকট আসেন। তারা (সদাকাহ হিসেবে) বিলাল -এর কাপড়ে মালা ও আংটি ফেলতে লাগল।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) ঈদের দিনে বের হলেন এবং (ঈদের) দু'রাকআত সালাত আদায় করলেন। তার পূর্বে এবং পরে আর কোন নফল সালাত আদায় করেননি। তারপর তিনি মহিলাদের নিকট আসেন এবং তাদের সদাকাহ করার জন্যে নির্দেশ দেন। মহিলারা তাদের হার ও মালা সদাকাহ করতে থাকল।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার কোন এক সফরে) আসমার একটি হার (আমার নিকট থেকে) হারিয়ে যায়। নবী (ﷺ) কয়েকজন পুরুষ লোককে তার খোজে পাঠান। এমন সময় সালাতের সময় উপস্থিত হয়। তাদের কারও অযু ছিল না এবং তারা পানিও পেল না। কাজেই অযু ছাড়াই তারা সালাত আদায় করে নিলেন। (ফিরে এসে) তারা নবী (ﷺ) এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন। ইবন নুমায়র হিশামের সূত্রে এ কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, ঐ হার আয়িশাহ আসমা থেকে ধার নিয়েছিলেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) (একবার) ঈদের দিনে দু'রাকআত সালাত আদায় করেন। না এর আগে তিনি কোন সালাত আদায় করেন, না এর পরে। অতঃপর তিনি মহিলাদের কাছে আসেন, তখন তার সাথে ছিলেন বিলাল তিনি মহিলাদেরকে সদাকাহ করার নির্দেশ প্রদান করেন। তারা নিজেদের কানের দুল নিক্ষেপ করতে লাগল।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মদিনার কোন এক বাজারে ছিলাম। তিনি (বাজার থেকে) ফিরলেন। আমিও ফিরলাম। তিনি বললেনঃ ছোট শিশুটি কোথায়? এ কথা তিনবার বললেন। হাসান ইবন আলীকে ডাক। দেখা গেল হাসান ইবন আলী হেটে চলেছে। তার গলায় ছিল মালা। নবী (ﷺ) এভাবে তার হাত উঠালেন। হাসানও এভাবে নিজের হাত উঠালো। তারপর তিনি তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আমি একে ভালবাসি, আপনিও তাকে ভালবাসুন এবং যে ব্যক্তি তাকে ভালবাসে, তাকেও আপনি ভালবাসুন। আবূ হুরাইরাহ বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ কথা বলার পর থেকে হাসান ইবন আলীর চেয়ে অন্য কেউ আমার কাছে অধিকতর প্রিয় হয়নি।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ঐ সব পুরুষকে লানত করেছেন যারা নারীর বেশ ধরে এবং ঐসব নারীকে যারা পুরুষের বেশ ধরে।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) পুরুষ হিজড়াদের উপর এবং পুরুষের বেশধারী মহিলাদের উপর লানত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ ওদেরকে ঘর থেকে বের করে দাও। ইবন আব্বাস বলেছেনঃ নবী (ﷺ) অমুককে বের করেছেন এবং উমার অমুককে বের করে দিয়েছেন।
উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একদা তার ঘরে ছিলেন। তখন ঐ ঘরে এক হিজড়া ছিল। সে উম্মু সালামাহর ভাই আবদুল্লাহকে বললঃ হে আবদুল্লাহ! আগামীকাল তায়েফের উপর যদি তোমরা জয়ী হও, তবে আমি তোমাকে বিন্ত গাইলানকে দেখাব। সে সামনের দিকে আসলে, (তার পেটে) চার ভাঁজ দেখা যায়। আর যখন সে পিছনের দিকে যায়, তখন (তার পিঠে) আট ভাঁজ দেখা যায়। নবী (ﷺ) বললেনঃ ওরা যেন তোমাদের কাছে কক্ষনো না আসে।
ইবন উমার সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ গোঁফ কেটে ফেলা ফিতরাত স্বভাবের) অন্তর্ভুক্ত।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ ফিতরাত (মানুষের জন্মগত স্বভাব) পাচটিঃ খাত্না করা, ক্ষুর ব্যবহার করা (নাভির নিম্নে), বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ খাটো করা।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নাভির নীচের পশম কামানো, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা মানুষের স্বভাব।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি- ফিতরাত পাচটিঃ খাত্না করা, (নাভির নীচে) ক্ষুর ব্যবহার করা, গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা ও বগলের পমশ উপড়ে ফেলা।
ইবন উমার সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবে- দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে। ইবন উমার যখন হাজ্জ বা উমরাহ করতেন, তখন তিনি তার দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা গোঁফ অধিক ছোট করবে এবং দাড়ি ছেড়ে দিবে (বড় রাখবে)।
মুহাম্মাদ ইবন সীরীন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী (ﷺ) কি খিযাব লাগিয়েছেন? তিনি বললেনঃ বার্ধক্য তাকে অতি অল্পই পেয়েছিল।
সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস-কে নবী (ﷺ) এর খিযাব লাগানোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেনঃ নবী (ﷺ) খিযাব লাগানোর অবস্থা পর্যন্ত পৌছেননি। আমি তার সাদা দাড়িগুলো গুণতে চাইলে, সহজেই গুণতে পারতাম।
আবদুল্লাহ ইবন মাওহাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার পরিবারের লোকেরা এক পেয়ালা পানিসহ উম্মু সালামাহর কাছে পাঠাল। (উম্মু সালামাহর কাছে রক্ষিত) একটি পানির পাত্র হতে (আনাসের পুত্র) ইসরাঈল তিনটি আঙ্গুল দিয়ে কিছু পানি তুলে নিল। ঐ পাত্রের মধ্যে নবী (ﷺ) এর কয়েকটি চুল ছিল। কারো চোখ লাগলে কিংবা কোন রোগ দেখা দিলে, উম্মু সালামাহর নিকট হতে পানি আনার জন্য একটি পাত্র পাঠিয়ে দিত। আমি সে পাত্রের মধ্যে একবার তাকালাম, দেখলাম লাল রং-এর কয়েকটি চুল।
আবদুল্লাহ ইবন মাওহাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) আমি উম্মু সালামাহ-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি নবী (ﷺ) এর কয়েকটি চুল বের করলেন, যাতে খিযাব লাগানো ছিল।
আবূ নুআম .... ইবন মাওহাবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মু সালামাহ তাকে (ইবন মাওহাবকে) নবী (ﷺ) এর লাল রং এর চুল দেখিয়েছেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াহূদ ও নাসারারা (চুল ও দাড়িতে) রং লাগায় না। কাজেই তোমরা তাদের উল্টো কর।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) না অতিরিক্ত লম্বা ছিলেন, না বেটে ছিলেন; না ধবধবে সাদা ছিলেন, আর না ফ্যাকাশে সাদা ছিলেন; চুল অতিশয় কোঁকড়ানোও ছিল না, আর সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না। চল্লিশ বছর বয়সে আল্লাহ তাকে নবুওত দান করেন। এরপর মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন। ষাট বছর বয়সকালে আল্লাহ তাকে মৃত্যু দান করেন। এ সময় তার মাথায় ও দাড়িতে বিশটি চুলও সাদা হয়নি।
বারাআ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লাল জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় নবী (ﷺ) থেকে অন্য কাউকে আমি অধিক সুন্দর দেখিনি। (ইমাম বুখারী বলেন) আমার জনৈক সঙ্গী মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) এর মাথার চুল প্রায় তার কাঁধ পর্যন্ত পৌছত। আবূ ইসহাক বলেনঃ আমি বারাআ-কে কয়েককবার এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। যখনই তিনি এ হাদীস বর্ণনা করতেন, তখনই হাসতেন। শুবাহ বলেছেনঃ নবী (ﷺ) এর চুল তার উভয় কানের লতি পর্যন্ত পৌছতো।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি এক রাত্রিতে স্বপ্নে কাবা ঘরের সন্নিকটে এক গেরুয়া রঙের পুরুষ লোক দেখতে পেলাম। এমন সুন্দর গেরুয়া লোক তুমি কখনও দেখনি। তার মাথার চুল ছিল কাঁধ পর্যন্ত। কাঁধ পর্যন্ত লম্বা এমন সুন্দর চুল তুমি কখনও দেখনি। লোকটি চুল আচড়িয়েছে, আর তাথেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরছে। সে দু'জন লোকের উপর ভর দিয়ে কিংবা দু'জন লোকের স্কন্ধে ভর করে কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এ লোকটি কে? জবাব দেয়া হলোঃ ইনি মরিয়মের পুত্র ঈসা) মাসীহ! অন্য আরেকজন লোক দেখলাম, যার চুল ছিল খুবই কোঁকড়ান, ডান চোখ টেরা, ফুলে উঠা আঙ্গুর যেন। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এ লোকটি কে? বলা হলোঃ ইনি মাসীহ দাজ্জাল।
আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর মাথার চুল (কখনও) কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হতো।
আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর চুল (কখনও) কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হতো।
ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চুল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চুল মধ্যম ধরনের ছিল- না একেবারে সোজা, না বেশি কোঁকড়ানো। আর তা ছিল দু'কান ও দু'কাঁধের মাঝ পর্যন্ত।
আনাস হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাত গোশতে পূর্ণ ছিল। তার পরে আমি কোন লোককে এমন দেখিনি। আর নবী (ﷺ) এর চুল ছিল মাঝারি রকমের, অধিক কোঁকড়ানোও না, অধিক সোজাও না।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর মাথা ও দু' পা ছিল গোশতপূর্ণ। তার আগে ও তার পরে আমি তার মত অপর (কাউকে এত অধিক সুন্দর) দেখিনি। তার হাতের তালু ছিল চওড়া।
আনাস ও আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর দু' পা ছিল গোশতপূর্ণ। চেহারা ছিল সুন্দর। আমি তার পরে তার মত কাউকে দেখিনি।
পূর্বের হাদিসের মতই (৫৯০৮)।
আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, নবী (ﷺ) এর দু' পা ও হাতের দু' কব্জা গোশতবহুল ছিল।
আনাস অথবা জাবির ইবন আবদুল্লাহ বর্ণনা করেনঃ নবী (ﷺ) এর দু'টি কব্জি ও দু'টি পা গোশতপূর্ণ ছিল। আমি তার পরে তার মত কাউকে দেখিনি।
পূর্বের হাদিসের মতই (৫৯১১)।
মুজাহিদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার ইবন আব্বাস এর কাছে ছিলাম। তখন লোকজন দাজ্জালের কথা আলোচনা করল। একজন বললঃ তার দু'চোখের মাঝে লেখা থাকবে 'কাফির'। ইবন আব্বাস বললেনঃ আমি এমন কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনিনি। তবে তিনি বলেছেনঃ তোমরা যদি ইবরাহীম -কে দেখতে চাও, তা হলে তোমাদের সঙ্গী নবী (ﷺ) এর দিকে তাকাও। আর মূসা হচ্ছেন শ্যাম রঙের মানুষ, কোঁকড়ানো চুলের অধিকারী, নাকে লাগাম পরান লাল বর্ণের উষ্ট্রে আরোহণকারী। আমি যেন তাকে লক্ষ্য করছি তিনি তালবিয়া (লাব্বাইকা.......) পাঠরত অবস্থায় (মক্কা) উপত্যকায় নামছেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উমার-কে বলতে শুনেছি- যে লোক চুলে জট পাকায়, সে যেন তা মুড়ে ফেলে। আর তোমরা মাথার চুলে তালবীদকারীদের মত চুলে জট পাকিও না। ইবন উমার বলতেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে চুল তালবীদ করা অবস্থায় দেখেছি।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে চুল জট করা অবস্থায় মুহরিম হয়ে উচ্চস্বরে তাল্বিয়া পাঠ করতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ লাব্বাইকা আমি হাযির, হে আল্লাহ! আমি হাযির, আমি হাযির, আপনার কোন শরীক নেই। আমি হাযির, নিশ্চই প্রশংসা এবং দয়া কেবল আপনারই, আর রাজত্বও। এতে আপনার কোন শরীক নেই। এ শব্দগুলো থেকে বাড়িয়ে তিনি অতিরিক্ত কিছু বলেননি।
নবী (ﷺ) -এর স্ত্রী হাফসাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হলো, তারা তাদের উমরাহর ইহরাম খুলে ফেলেছে, অথচ আপনি এখনও আপনার ইহরাম খুলেননি। তিনি বললেনঃ আমি আমার মাথার চুল জড়ো করে রেখেছি এবং আমার সঙ্গী (কুরবানীর পশু)-কে কিলাদাহ পরিয়েছি। তাই তা যব্হ করার আগে আমি ইহরাম খুলব না।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সে সব বিষয়ে আহলে কিতাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে চলা পছন্দ করতেন, যে সব বিষয়ে তাকে (কুরআনে) কোন সুস্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়নি। আর আহলে কিতাবরা তাদের চুল ঝুলিয়ে রাখত এবং মুশরিকরা তাদের মাথার চুলে সিঁথি কাটতো। নবী (ﷺ) তার চুল ঝুলিয়েও রাখতেন, সিঁথিও কাটতেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) মুহরিম অবস্থায় সিঁথিতে যে খুশবু ব্যবহার করতেন, আমি যেন তার ঔজ্জ্বল্য এখনও দেখতে পাচ্ছি।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি আমার খালা মাইমূনাহ বিন্ত হারিসের নিকট রাত কাটাচ্ছিলাম। ঐ রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও তার কাছে ছিলেন। ইবন আব্বাস বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে রাতের সালাত আদায় করতে লাগলেন। আমি তার বাম পার্শ্বে গিয়ে দাড়ালাম। তখন তিনি আমার চুলের ঝুটি ধরে আমাকে তার ডান পাশে নিয়ে দাড় করালেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলূল্লাহ (ﷺ)-কে 'কাযা থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। রাবী উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ 'কাযা কী? তখন আবদুল্লাহ আমাদের ইঙ্গিতে দেখিয়ে বললেনঃ শিশুদের যখন চুল কামানো হয়, তখন এখানে ওখানে চুল রেখে দেয়। এ কথা বলার সময় উবাইদুল্লাহ তার কপাল ও মাথার দু'পাশে দেখালেন। উবাইদুল্লাহকে আবার জিজ্ঞেস করা হলঃ বালক ও বালিকার জন্য কি একই নির্দেশ? তিনি বললেনঃ আমি জানি না। এভাবে তিনি বালকের কথা বলেছেন। উবাইদুল্লাহ বলেনঃ আমি এ কথা আবার জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ পুরুষ শিশুর মাথার সামনের ও পিছনের দিকের চুল কামানো দূষণীয় নয়। আর (অন্য এক ব্যাখ্যা মতে) 'কাযা বলা হয়- কপালের উপরে কিছু চুল রেখে বাকী মাথার কোথাও চুল না রাখা। তেমনিভাবে মাথার চুল একপাশ থেকে অথবা অপর পাশ থেকে কাটা।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'কাযা থেকে নিষেধ করেছেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে তার মুহরিম অবস্থায় নিজ হাতে খুশ্বু লাগিয়ে দিয়েছি এবং মিনাতেও সেখান থেকে রওনা হবার আগে তাকে আমি খুশবু লাগিয়েছি।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যত উৎকৃষ্ট খুশবু পেতাম, তা নবী (ﷺ)-কে লাগিয়ে দিতাম। এমন কি সে খুশবুর ঔজ্জ্বল্য তার মাথায় ও দাড়িতে দেখতে পেতাম।
সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত যে, একলোক একটি ছিদ্র দিয়ে নবী (ﷺ) এর ঘরে উকি মারে। নবী (ﷺ) তখন চিরুনী দিয়ে মাথা আচড়াচ্ছিলেন। তিনি বললেনঃ আমি যদি জানতাম যে, তুমি ছিদ্র দিয়ে তাকিয়ে দেখছ, তা হলে এ (চিরুনী) দিয়ে আমি তোমার চোখ বিঁধিয়ে দিতাম। দৃষ্টি থেকে বাচার জন্যই তো অনুমতি গ্রহণ করার বিধি রাখা হয়েছে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হায়িয অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথা আচড়ে দিয়েছি।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) চিরুনী দিয়ে আচড়াতে ও অযু করতে যথাসাধ্য ডান দিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন।
আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ বানী আদমের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্যেই- সওম ব্যতীত। তা আমার জন্য, আমি নিজেই তার পুরস্কার দেব। আর সাওম পালনকারীদের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিস্কের ঘ্রাণের চেয়ে অধিক সুগন্ধযুক্ত।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যে সব সুগন্ধি পেতাম, তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট সুগন্ধটি নবী (ﷺ)-কে তার মুহরিম অবস্থায় লাগিয়ে দিতাম।
আনাস হতে বর্ণিত যে, (কেউ তাকে খুশবু হাদিয়া দিলে) তিনি (সে) খুশবু ফিরিয়ে দিতেন না এবং বলতেন, নবী (ﷺ) খুশবু প্রত্যাখ্যান করতেন না।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বিদায় হাজ্জে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নিজ হাতে যারীরা নামের সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়েছি, হালাল অবস্থাতেও এবং ইহরাম অবস্থাতেও।
আবদুল্লাহ (ইবন মাসঊদ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক সে সব নারীদের উপর যারা শরীরে উল্কি অঙ্কণ করে এবং যারা অঙ্কণ করায়, আর সে সব নারীদর উপর যারা চুল, ভ্রূ তুলে ফেলে এবং সে সব নারীদের উপর যারা সৌন্দর্যের জন্যে সম্মুখের দাত কেটে সরু করে, দাতের মধ্যে ফাক তৈরি করে, যা আল্লার সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে। রাবী বলেনঃ আমি কেন তার উপর অভিশাপ করব না, যাকে নবী (ﷺ) অভিশাপ করেছেন? আর আল্লাহর কিতাবে আছেঃ রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর।" (আল-হাশর (৫৯ঃ৭)
হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান ইবন 'আওফ হতে বর্ণিত। তিনি হাজ্জ করার সময় মুআবিয়াহ ইবন সুফ্ইয়ান-কে মিম্বরে দাড়িয়ে বলতে শুনেছেন। ঐ সময় তিনি এক দেহরক্ষীর হাত থেকে এক গুচ্ছ চুল নিজ হাতে নিয়ে বলেনঃ তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ রকম করা থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি বলতেনঃ বনী ইসরাঈল তখনই ধ্বংস হয়েছে, যখন তাদের নারীরা এরূপ করা আরম্ভ করে।
ইবন আবূ শাইবাহ আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। আল্লাহ তাআলা লানত করেন সে সব নারীদেরকে যারা নিজে পরচুলা লাগায় এবং যারা অন্যদেরকে তা লাগিয়ে দেয়, যারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি আকে এবং অন্যকে করিয়ে দেয়।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। এক আনসারী নারী বিয়ে করে। এরপর সে রোগে আক্রান্ত হয়। ফলে তার সব চুল পড়ে যায়। লোকজন তাকে পরচুলা লাগিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। আর তারা নবী (ﷺ) এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ লানত করেছেন ঐসব নারীকে যারা নিজেরা পরচুলা লাগায় এবং যারা অন্যদেরকে তা লাগিয়ে দেয়।
আসমা বিনত আবূ বাকর হতে বর্ণিত। এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললঃ আমি আমার একটি মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। এরপর সে রোগাক্রান্ত হয়, ফলে তার মাথার চুল পড়ে যায়। তার স্বামী এর কারণে আমাকে তিরস্কার করে। আমি কি তার মাথায় পরচুলা লাগিয়ে দিব? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে পরচুলা লাগায় এবং যে তা অন্যকে লাগিয়ে দেয়, তাদের নিন্দা করলেন।
আসমা বিনতু আবূ বাকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে মহিলা পরচুলা লাগায়, আর যে অপরকে পরচুলা লাগিয়ে দেয়, নবী (ﷺ) তাদের উপর লানত করেছেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ ঐ নারীর উপর লানত করেন, যে পরচুলা লাগায়, আর অপরকে পরচুলা লাগিয়ে দেয়। আর যে নারী উল্কি অঙ্কণ করে এবং যে তা করায়। নাফি বলেনঃ উল্কি অঙ্কণ হয় উচু গোশতের উপরে।
সাঈদ ইবন মুসায়্যাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুআবীয়াহ শেষবারের মত যখন মাদ্বীনায় আসেন, তখন তিনি আমাদের সামনে খুৎবাহ দেন। তিনি এক গোছা চুল বের করে বললেন, আমি ইয়াহূদী ছাড়া অন্য কাউকে এ জিনিস ব্যবহার করতে দেখিনি। নবী (ﷺ) একে পরচুলা ব্যবহারকারী নারীকে প্রতারক বলেছেন।
আলক্বামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সৌন্দর্যের উদ্দেশে যে সব নারী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি আকে, যে সব নারী ভ্রূ উপড়ে ফেলে এবং যেসব নারী দাত সরু করে দাতের মাঝে ফাক করে- যা আল্লাহর সৃষ্টিকে বদলে দেয়, তাদের উপর আবদুল্লাহ (ইবন মাসঊদ) লানত করেছেন। উম্মু ইয়াকূব বললঃ এ কেমন কথা? আবদুল্লাহ বললেনঃ আমি কেন তাকে লানত করব না, যাকে আল্লাহর রাসূল লানত করেছেন এবং আল্লাহর কিতাবও। উম্মু ইয়াকূব বললঃ আল্লাহর কসম! আমি পূর্ণ কুরআন পাঠ করেছি, কিন্তু এ কথা তো কোথাও পাইনি। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! তুমি যদি তা পড়তে, তবে অবশ্যই পেতেঃ "রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর তোমাদেরকে যাথেকে নিষেধ করে তাথেকে বিরত থাক"- (হাশর ৫৯/৭)।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ পরচুলা লাগার পেশাধারী নারী, যে নিজের মাথায় পরচুলা লাগায়, উল্কি অঙ্কণকারী নারী এবং যে অঙ্কণ করে, আল্লাহর নবী (ﷺ) তাদের লানত করেছেন।
আসমা (বিন্ত আবূ বকর) হতে বর্ণিত। এক মহিলা নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার এক মেয়ের বসন্ত রোগ হয়ে মাথার চুল পড়ে গেছে। আমি তাকে বিয়ে দিয়েছি। তার মাথায় কি পরচুলা লাগাব? তিনি বললেনঃ পরচুলা লাগিয়ে দেয় ও পরচুলা লাগিয়ে নেয় এমন নারীকে আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) থেকে শুনেছি অথবা বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ উল্কি অঙ্কণকারী এবং পেশাধারী নারী এবং পরচুলা ব্যবহারকারী পরচুলা লাগানোর পেশাধারী নারীকে নবী (ﷺ) লানত করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সৌন্দর্যের জন্যে উল্কি অঙ্কণকারী ও উল্কি গ্রহণকারী, ভ্রূ উত্তোলনকারী নারী এবং দাত সরু করে মাঝে ফাক সৃষ্টিকারী নারী, যা আল্লাহর সৃষ্টিকে বদলে দেয়, তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। (রাবী বলেন) আমি কেন তাকে অভিশাপ করব না, যাকে আল্লাহর রাসূল অভিশাপ করেছেন এবং তা আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নযরলাগা প্রকৃত সত্য এবং তিনি উল্কি অঙ্কণ করা থেকে নিষেধ করেছেন।
আওন ইবন আবূ জুহাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি- নবী (ﷺ) রক্তের মূল্য ও কুকুরের মূল্য নিতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি সুদ গ্রহীতা, সুদ দাতা, উল্কি অঙ্কনকারী উল্কি গ্রহণকারী নারীদের উপর লানত করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার-এর নিকট এক মহিলাকে আনা হয়। সে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি আকতো। তিনি দাড়ালেন এবং বললেন, আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি (তোমাদের মধ্যে) এমন কে আছে যে উল্কি আকার ব্যাপারে নবী (ﷺ) থেকে কিছু শুনেছে? আবূ হুরাইরাহ বলেন, আমি দাড়িয়ে বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি শুনেছি। তিনি বললেন, কী শুনেছ? আবূ হুরাইরাহ বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, মহিলারা যেন উল্কি না আকে এবং উল্কি না আকিয়ে নেয়।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) পরচুলা ব্যবহারকারী এবং এ পেশাধারী এবং উল্কি অঙ্কনকারী এবং তা গ্রহণকারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন।
আবদুল্লাহ (ইবন মাসঊদ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য যে নারী উল্কি আকে ও আকায়, যে নারী ভ্রূ উপড়ে ফেলে এবং যে নারী দাত কেটে চিকন করে দাতের মাঝখানে ফাক করে- যে কাজগুলো দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে রূপান্তর ঘটে, এদের উপর আল্লাহ অভিশাপ বর্ষণ করুন। আমি কেন তার উপর অভিশাপ করব না, যাদের উপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অভিশাপ করেছেন এবং মহান আল্লাহর কিতাবেই তা বিদ্যমান আছে।
আবূ ত্বলহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ফেরেশতা ঐ ঘরে প্রবেশ করে না, যে ঘরে কুকুর থাকে এবং ঐ ঘরেও না, যে ঘরে ছবি থাকে।
মুসলিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (একবার) মাসরূকের সাথে ইয়াসার ইবন নুমাইরের ঘরে ছিলাম। মাসরূক ইয়াসারের ঘরের আঙিনায় কতগুলো মূর্তি দেখতে পেয়ে বললেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ থেকে শুনেছি এবং তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, (কিয়ামতের দিন) মানুষের মধ্যে সব থেকে শক্ত শাস্তি হবে তাদের, যারা ছবি তৈরি করে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যারা এ জাতীয় (প্রাণীর) ছবি তৈরী করে, কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দেয়া হবে। তাদের বলা হবেঃ তোমরা যা বানিয়েছিলে তাতে জীবন দাও।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) নিজের ঘরের এমন কিছুই না ভেঙ্গে ছাড়তেন না, যাতে কোন (প্রাণীর) ছবি থাকত।
আবূ যুর'আ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ-এর সাথে মদিনার এক ঘরে প্রবেশ করি। ঘরের উপরে এক ছবি নির্মাতাকে তিনি ছবি তৈরী করতে দেখলেন। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি- (আল্লাহ বলেছেন) ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশি অত্যাচারী আর কে, যে আমার সৃষ্টি সদৃশ কোন কিছু সৃষ্টি করতে যায়? তা হলে তারা একটি দানা সৃষ্টি করুক অথবা একটি অণু পরিমাণ কণা সৃষ্টি করুক! তারপর তিনি একটি পানির পাত্র চেয়ে আনলেন এবং ('উযূ করতে গিয়ে) বগল পর্যন্ত দু'হাত ধুলেন। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আবূ হুরাইরাহ! আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ ব্যাপারে) কিছু শুনেছেন কি? তিনি বললেনঃ (হা) অলঙ্কার পরার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত (ধোয়া উত্তম)।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (তাবূক যুদ্ধের) সফর থেকে ফিরে আসলেন। আমি আমার কক্ষে পাতলা কাপড়ের পর্দা টাঙিয়েছিলাম। তাতে ছিল প্রাণীর) অনেকগুলো ছবি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এটা দেখলেন, তখন তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেনঃ কিয়ামতের দিন সে সব লোকের সব থেকে শক্ত আযাব হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির (প্রাণীর) সদৃশ তৈরী করবে। আয়িশাহ বলেনঃ এরপর আমরা ওটা দিয়ে একটি বা দু'টি বসার আসন তৈরী করি।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক সফর থেকে ফিরে আসলেন। সে সময় আমি নকশাওয়ালা (প্রাণীর) ছবিযুক্ত কাপড় দিয়ে পর্দা লটকিয়ে ছিলাম। আমাকে তিনি তা খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তখন আমি খুলে ফেললাম।
আর আমি ও নবী (ﷺ) একই (পাত্র থেকে পানি নিয়ে) গোসল করতাম।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি একবার ছবিওয়ালা গদি ক্রয় করেন। নবী (ﷺ) (তা দেখে) দরজার কাছে দাড়িয়ে থাকলেন, প্রবেশ করলেন না। আমি বললামঃ যে পাপ আমি করেছি তা থেকে আল্লাহর কাছে তওবা করছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এ গদি কিসের জন্যে? আমি বললামঃ আপনি এতে বসবেন ও টেক লাগাবেন। তিনি বললেনঃ এসব ছবির প্রস্তুতকারীদের কিয়ামতের দিন আযাব দেয়া হবে। তাদের বলা হবে, যা তোমরা তৈরী করেছিলে সেগুলো জীবিত কর। আর যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথী আবূ ত্বলহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। এ হাদীসের (এক রাবী) বুসর বলেনঃ যায়দ একবার অসুস্থ হয়ে পড়ল। আমরা তার সেবা শুশ্রূষার জন্যে গেলাম। তখন তার ঘরের দরজাতে ছবিওয়ালা পর্দা দেখতে পেলাম। আমি নবী সহধর্মিণী মাইমূনাহ-এর পালিত উবাইদুল্লাহর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, ছবির ব্যাপারে প্রথম দিনই যায়দ আমাদের কি জানায়নি? তখন উবাইদুল্লাহ বললেন, তিনি যখন বলেছিলেন, তখন কি তুমি শোননি যে, কারুকাজ করা কাপড় বাদে?
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ-এর নিকট কিছু পর্দার কাপড় ছিল, তা দিয়ে তিনি ঘরের এক দিকে পর্দা করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ আমার থেকে এটা সরিয়ে নাও, কেননা এর ছবিগুলো সালাতের মধ্যে আমাকে বাধা দেয়।
সালিমের পিতা আবদুল্লাহ (ইবন উমার) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জিবরীল (একবার) নবী (ﷺ) এর নিকট (আগমনের) ওয়াদা করেন। কিন্তু তিনি আসতে দেরী করেন। এতে নবী (ﷺ) এর খুবই কষ্ট হচ্ছিল। এরপর নবী (ﷺ) বের হয়ে পড়লেন। তখন জিবরীলের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটল। তিনি যে মনোকষ্ট পেয়েছিলেন সে বিষয়ে তার কাছে বর্ণনা করলেন। তখন জিবরীল বললেনঃ যে ঘরে ছবি বা কুকুর থাকে সে ঘরে আমরা কক্ষনো প্রবেশ করি না।
নবী সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, (একবার) তিনি ছবিওয়ালা গদি খরিদ করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তা দেখতে পেলেন, তখন দরজার উপর দাড়িয়ে গেলেন। প্রবেশ করলেন না। [আয়িশাহ] নবী (ﷺ) এর চেহারায় অসন্তুষ্টি বুঝতে পারলেন। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ ও তার রাসূলের নিকট এ গুনাহ থেকে তওবা করছি। নবী (ﷺ) বললেনঃ এ গদি কোথেকে আসলো? আয়িশাহ বললেনঃ আপনার উপবেশন ও হেলান দেয়ার জন্য আমি এটি ক্রয় করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেনঃ এসব ছবির নির্মাতাদের কিয়ামতের দিন আযাব দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যা বানিয়েছিলে তা জীবিত কর। তিনি আরো বললেনঃ যে ঘরে (প্রাণীর) ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
আবূ জুহাইফাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য ও যিনাকারীর উপার্জন গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি অঙ্কণকারী আর যে তা করায় এবং ছবি নির্মাতাকে অভিশাপ করেছেন।
ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস-এর নিকট ছিলাম। আর লোকজন তার কাছে নানান কথা জিজ্ঞেস করছিল। কিন্তু জবাবে তিনি নবী (ﷺ) এর (হাদীস) উল্লেখ করছিলেন না। অবশেষে তাকে ছবির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেনঃ আমি মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন প্রাণীর ছবি তৈরি করে, কিয়ামতের দিন তাকে কঠোরভাবে হুকুম দেয়া হবে ঐ ছবির মধ্যে জীবন দান করার জন্যে। কিন্তু সে জীবন দান করতে পারবে না।
উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একবার) গাধার পিঠে চড়েন। পিঠের উপরে ফাদাকের তৈরী মোটা গদি ছিল। উসামাহকে তিনি তার পশ্চাতে উপবিষ্ট করেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যখন মক্কায় আসেন, তখন আবদুল মুত্তালিব গোত্রের তরুণরা তাকে অভ্যর্থনা জানায়। তাদের একজনকে তিনি তার সম্মুখে এবং অন্য একজনকে তার পশ্চাতে উঠিয়ে নেন।
আইউব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খারাপ তিন লোকের কথা ইকরামার কাছে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মক্কায় আসেন তখন তিনি কুসামকে তার সওয়ারীর) সম্মুখে ও ফায্লকে পশ্চাতে উপবিষ্ট করেন। অথবা কুসামকে পশ্চাতে ও ফায্লকে সম্মুখে উপবিষ্ট করেন। তবে কে তাদের মধ্যে মন্দ অথবা কে তাদের মধ্যে ভাল?
মুআয ইবন জাবাল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী (ﷺ) এর পশ্চাতে উপবিষ্ট ছিলাম। আমার ও তার মাঝে লাগামের রশি ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না। তিনি বললেনঃ মুআয! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহর রাসূল! তারপর কিছুক্ষণ চললেন। আবার বললেনঃ হে মুআয! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহর রাসূল! তারপর আরও কিছুক্ষণ চললেন। আবার বললেনঃ হে মুআয ইবন জাবাল! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ তুমি জান, বান্দার উপর আল্লাহর কী হক? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশি জানেন। তিনি বললেনঃ বান্দার উপর আল্লাহর হক এই যে, তারা একমাত্র তারই ইবাদাত করবে, অন্য কিছুকে তার অংশীদার গণ্য করবে না। এরপর কিছু সময় চললেন। তারপর বললেনঃ হে মুআয ইবন জাবাল! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ বান্দারা যখন তাদের দায়িত্ব পালন করে, তখন আল্লাহর প্রতি বান্দার অধিকার কী, তা জান কি? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই অধিক জানেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর উপর বান্দার অধিকার এই যে, তিনি তাদের আযাব দিবেন না।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে খাইবার থেকে (মদিনায়) প্রত্যাবর্তন করছিলাম। আমি আবূ ত্বলহার সাওয়ারীর উপর পশ্চাতে উপবিষ্ট ছিলাম, আর তিনি সাওয়ারী চালাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর এক সহধর্মিণী তার সাওয়ারীর পশ্চাতে উপবিষ্ট ছিলেন। হঠাৎ উষ্ট্রী হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। আমি বললামঃ মহিলা, এরপর আমি নেমে পড়লাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইনি তোমাদের মা। আমি হাওদাটি শক্ত করে বেধে দিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাওয়ারীতে উঠলেন। যখন তিনি মদিনার নিকটবর্তী হলেন, কিংবা রাবী বলেছেন, তিনি যখন (মদিনা) দেখতে পেলেন, তখন বললেনঃ আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, আমাদের প্রতিপালকের ইবাদাতকারী, তার) প্রশংসাকারী।
আববাদ ইবন তামীম এর চাচা (আবদুল্লাহ ইবন যায়দ) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ)-কে মসজিদের ভিতর চিৎ হয়ে শয়ন করতে দেখেছেন যখন তার এক পা অন্য পায়ের উপর উঠানো ছিল।