bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

পানীয় (৫৫৭৫-৫৬৩৯)

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় মদ পান করেছে অতঃপর তাথেকে তওবা করেনি, সে আখিরাতে তাথেকে বঞ্চিত থাকবে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসরা (মিরাজের) রাতে ঈলিয়া নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে শরাব ও দুধের দু'টি পেয়ালা পেশ করা হল। তিনি উভয়টির প্রতি লক্ষ্য করলেন। এরপর দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করেন। তখন জিবরীল বললেনঃ যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আপনাকে স্বভাবজাত দ্রব্যের দিকে পথ প্রদর্শন করেছেন। অথচ যদি আপনি শরাব গ্রহণ করতেন তাহলে আপনার উম্মাত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।

মুসলিম ইবন ইবরাহীম... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হতে এমন একটি হাদীস শুনেছি, যা আমি ছাড়া আর কেউ তোমাদের বর্ণনা করবে না। তিনি বলেন, কিয়ামতের কতক নিদর্শন হলঃ অজ্ঞতা প্রকাশ পাবে, ইলম (দ্বীনী) হ্রাস পাবে, ব্যভিচার প্রকাশ হতে থাকবে, মদ্যপান ব্যাপক হবে, পুরুষের সংখ্যা কমবে আর নারীদের সংখ্যা বেড়ে যাবে, এমনকি, পঞ্চাশ জন নারীর পরিচালক হবে একজন পুরুষ।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ব্যভিচারী ব্যভিচার করার সময়ে মুমিন থাকে না, মদ পানকারী মদ পান করার সময়ে মুমিন থাকে না। চোর চুরি করার সময়ে মুমিন থাকে না। ইবন শিহাব বলেনঃ আবদুল মালিক ইবন আবূ বাকর ইবন হারিস ইবন হিশাম আমাকে জানিয়েছে যে, আবূ বাকর এ হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন, আবূ বাকর উপরোক্ত হাদীসের সাথে এটিও যোগ করতেন যে, মূল্যবান জিনিস, যার দিকে লোকজন চোখ উচিয়ে তাকিয়ে থাকে, ছিনতাইকারী তা ছিনতাই করার সময়ে মুমিন থাকে না।

হাসান ইবন সাববাহ্... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদ হারাম ঘোষিত হয়েছে এমন অবস্থায় যে, মদিনায় আঙ্গুরের মদের কিছু অবশিষ্ট ছিল না।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমাদের উপর মদ হারাম হল, তখন আমরা মদিনায় আঙ্গুর থেকে তৈরী মদ খুব কম পেতাম। সাধারণভাবে আমাদের মদ ছিল কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে প্রস্তুত।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার মিম্বরের উপর দাড়িয়ে বলেনঃ অতঃপর জেনে রাখ মদ হারাম করে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আর তা তৈরী হয় পাচ রকম জিনিস থেকেঃ আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব। আর মদ হল, যা বুদ্ধিকে বিলোপ করে।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ উবাইদাহ, আবূ ত্বলহা ও উবাই ইবন কা'ব-কে কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে প্রস্তুত মদ পান করতে দিয়েছিলাম। এমন সময়ে তাদের নিকট এক আগন্তুক এসে বলল, মদ হারাম করা হয়েছে। তখন আবূ ত্বলহা বললেন, হে আনাস! দাড়াও আর এগুলো ফেলে দাও। আমি তখন তা ফেলে দিলাম।

মু'তামির তার পিতার সূত্রে আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আনাস-কে বলতে শুনেছেনঃ একটি আসরে দাড়িয়ে আমি তাদের চাচাদের 'ফাযীখ' কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে প্রস্তুত মদ পান করাচ্ছিলাম। আমি ছিলাম সবার ছোট। এমন সময় বলা হলঃ মদ হারাম করা হয়েছে। তখন তারা বললেনঃ তা ফেলে দাও। সুতরাং আমি তা ফেলে দিলাম।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, তিনি তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মদ হারাম করা হয়েছে। আর সেকালে মদ তৈরী হত কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে 'বিতা' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেনঃ সর্বপ্রকার নেশা জাতীয় পানীয় হারাম।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে 'বিতা' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। 'বিতা' হচ্ছে মধু হতে তৈরী নবীয। ইয়ামানের লোকেরা তা পান করত। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে সকল পানীয় নেশার সৃষ্টি করে তা-ই হারাম। যুহরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবন মালিক আমাকে খবর দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা দুব্বা (কদূর খোল) এর মধ্যে নবীয তৈরী করবে না, মুযাফফাত (আলকাতরা যুক্ত পাত্র)'র মধ্যেও করবে না।

যুহরী বলেন, আবূ হুরাইরাহ এগুলোর সঙ্গে হান্তাম (মাটির সবুজ পাত্র) ও নাকীর (খেজুর বৃক্ষের মূলের খোল) এর কথাও যোগ করতেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমার মিম্বরের উপর দাড়িয়ে খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, নিশ্চই মদ হারাম সম্পর্কীয় আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আর তা প্রস্তুত হয় পাচটি জিনিস থেকেঃ আঙ্গুর, খেজুর, গম, যব ও মধু। আর খামর মদ) হল তা, যা বিবেক লোপ করে দেয়। আর তিনটি এমন বিষয় আছে যে, আমি চাচ্ছিলাম যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে সেগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা না করা পর্যন্ত তিনি যেন আমাদের নিকট হতে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যান। বিষয়গুলো হল, দাদার মীরাস, কালালার ব্যাখ্যা এবং সুদের প্রকারসমূহ। রাবী আবূ হাইয়্যান বলেন, আমি বললামঃ হে আবূ আমর! এক প্রকারের পানীয় জিনিস যা সিন্ধু অঞ্চলে চাউল দিয়ে তৈরী করা হয়, তার হুকুম কী? তিনি বললেনঃ সেটি নবী (ﷺ) -এর আমলে ছিল না। কিংবা তিনি বলেছেনঃ সেটি উমার -এর আমলে ছিল না।

উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মদ প্রস্তুত করা হয় পাচটি বস্ত্ত থেকে। সেগুলো হলঃ কিসমিস, খেজুর, গম, যব ও মধু।

আবদুর রহমান ইবন গানাম আশ'আরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট আবূ আমির কিংবা আবূ মালিক আশ'আরী বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর কসম! তিনি আমার কাছে মিথ্যে কথা বলেননি। তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে। তেমনি এমন অনেক দল হবে, যারা পাহাড়ের ধারে বসবাস করবে, বিকাল বেলায় যখন তারা পশুপাল নিয়ে ফিরবে তখন তাদের নিকট কোন অভাব নিয়ে ফকীর আসলে তারা বলবে, আগামী দিন সকালে তুমি আমাদের নিকট এসো। এদিকে রাতের অন্ধকারেই আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেবেন। পর্বতটি ধ্বসিয়ে দেবেন, আর বাকী লোকদেরকে তিনি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বানর ও শূকর বানিয়ে রাখবেন।

সাহল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ উসাইদ সাঈদী এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তার বিয়ের দাওয়াত দিলেন। তখন তার স্ত্রী নববধূ তাদের মধ্যে পরিবেশনকারিণী ছিলেন। তিনি বলেন, তোমরা কি জান আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কী জিনিস পান করতে দিয়েছিলাম? তিনি বলেন) আমি রাতেই কয়েকটি খেজুর একটি পাত্রের মধ্যে ভিজিয়ে রেখেছিলাম।

জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কতগুলো পাত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। তখন আনসারগণ বললেনঃ সেগুলো ছাড়া আমাদের কোন গত্যন্তর নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে ব্যবহার করতে পার।

আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) এক রকমের পাত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেন, তখন নবী (ﷺ) -কে বলা হল, সব মানুষের নিকট তো মশক মওজুদ নেই। ফলে নবী (ﷺ) তাদের কলসীর জন্য অনুমতি দেন, তবে আলকাতরার প্রলেপ দেয়া পাত্রের জন্য অনুমতি দেননি।

আলী হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) দুব্বা ও মুযাফফাত ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।

ইবরাহীম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আসওয়াদকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আপনি কি আয়িশাহ-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, কোন কোন পাত্রের মধ্যে 'নবীয' তৈরী করা মাকরূহ। তিনি বললেনঃ হা। আমি বলেছিলাম, হে উম্মুল মুমিনীন! কোন কোন পাত্রের মধ্যে নবী (ﷺ) নবীয তৈরী করতে নিষেধ করেছেন? তখন তিনি বললেনঃ নবী (ﷺ) আমাদের আহলে বায়তকে দুব্বা ও মুযাফফাত নামক পাত্রে নবীয তৈরী করতে নিষেধ করেছেন। (ইবরাহীম বলেন) আমি বললামঃ আয়িশাহ কি জার (মাটির কলসী) ও হানতাম (মাটির সবুজ পাত্র) এর কথা উল্লেখ করেননি? তিনি বললেনঃ আমি যা শুনেছি কেবল তাই তোমাকে বর্ণনা করেছি। আমি যা শুনিনি তাও কি আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করব?

মূসা ইবন ইসমাঈল.. আবদুল্লাহ ইবন আওফা-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সবুজ রং এর কলসী ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। আমি বললামঃ তাহলে সাদা রং এর পাত্রে (নবীয) পান করা যাবে কি? তিনি বললেনঃ না।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত যে, আবূ উসাইদ সাঈদী নবী (ﷺ)-কে তার ওলীমার দাওয়াত করেছিলেন। সেদিন তার স্ত্রী নববধু অবস্থায় সবার খিদমত করছিলেন। তিনি বললেনঃ আপনারা কি জানেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কিসের রস পান করতে দিয়েছিলাম? আমি তার জন্য রাতে কতকগুলো খেজুর পাত্রে ভিজিয়ে রেখেছিলাম।

আবুল জুওয়াইরিয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস-কে 'বাযাক' সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি উত্তর দিলেনঃ মুহাম্মাদ (ﷺ) 'বাযাক' উৎপাদনের আগে বিদায় হয়ে গেছেন। কাজেই যে বস্ত্ত নেশা জন্মায় তা-ই হারাম। তিনি বলেনঃ হালাল পানীয় পবিত্র। তিনি বলেন, হালাল ও পবিত্র পানীয় ছাড়া অন্যসব পানীয় ঘৃণ্য হারাম।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) মিষ্টি ও মধু পছন্দ করতেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ত্বলহা, আবূ দুজনা এবং সুহাইল ইবন বাইযা-কে কাঁচা ও শুকনো খেজুরের মেশানো রস পান করাচ্ছিলাম। এ সময়ে মদ হারাম করা হল, তখন আমি তা ফেলে দিলাম। আমি ছিলাম তাদের পরিবেশনকারী এবং তাদের সবার ছোট। সে সময় আমরা এটিকে মদ গণ্য করতাম।

জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কিসমিস, শুকনো খেজুর, কাঁচা ও পাকা খেজুর মিশাতে নিষেধ করেছেন।

আবূ ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) খুরমা ও আধাপাকা খেজুর এবং খুরমা ও কিসমিস একত্র করতে নিষেধ করেছেন। আর এগুলোর প্রত্যেকটিকে আলাদাভাবে ভিজিয়ে 'নবীয' তৈরী করা যাবে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ভ্রমণ করানো হয়, সে রাতে তার সামনে পেশ করা হয়েছিল দুধের একটি পেয়ালা এবং শরাবের একটি পেয়ালা।

উম্মুল ফাযল হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আরাফার দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সিয়াম পালনের ব্যাপারে লোকেরা সন্দেহ করে। তখন আমি তার নিকট দুধ ভর্তি একটি পেয়ালা পাঠালাম। তিনি তা পান করলেন। বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান অনেক সময় এভাবে বলতেন, আরাফার দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সিয়াম পালন সম্পর্কে লোকেরা সন্দেহ করছিল। তখন উম্মুল ফাযল তার কাছে দুধ পাঠিয়েছিলেন।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুমাইদ এক বাটী দুধ নিয়ে আসলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ এটিকে ঢাকলে না কেন? একটি কাঠি দিয়ে হলেও ঢেকে রাখা দরকার।

জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুমাইদ নামক এক আনসারী নাফি নামক জায়গা থেকে এক পেয়ালা দুধ নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট আসলেন। তখন নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ এটিকে ঢেকে আননি কেন? এর উপর একটি কাঠি দিয়ে হলেও ঢেকে রাখা দরকার।

বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মক্কা থেকে রওয়ানা হলেন, তখন তার সাথে ছিলেন আবূ বাকর। আবূ বাকর বলেনঃ আমরা এক রাখালের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সে সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন খুব পিপাসার্ত। আবূ বাকর বলেনঃ আমি তখন একটি পাত্রে ভেড়ার দুধ দুইলাম। তিনি তা পান করলেন, আমি খুব খুশি হলাম। এমন সময় সুরাকা ইবন জু'শুম একটি ঘোড়ার উপর চড়ে আমাদের কাছে আসলো। নবী (ﷺ) তাকে বদ দোয়া করতে চাইলে সে নবী (ﷺ) এর কাছে আরয করল, যেন তিনি তার জন্য বদ দোয়া না করেন এবং সে যেন নির্বিঘ্নে ফিরে যেতে পারে। নবী (ﷺ) তাই করলেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উত্তম সদাকাহ হল উপহার স্বরূপ দেয়া দুধেল উটনী কিংবা দুধেল বকরী, যা সকালে একটি পাত্র পূর্ণ করে আর বিকালে পূর্ণ করে আরেকটি।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুধপান করেছেন, এরপর তিনি কুলি করেছেন এবং বলেছেনঃ এর মধ্যে তৈল আছে।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার সম্মুখে 'সিদরাতুল মুনতাহা' তুলে ধরা হল। তখন দেখলাম চারটি নহর। দু'টি নহর হল যাহেরী, আর দু'টি নহর হল বাতেনী। যাহেরী দু'টি হল, নীল ও ফোরাত। আর বাতেনী দু'টি হল, জান্নাতের দু'টি নহর। আমার সম্মুখে তিনটি পেয়ালা তুলে ধরা হল, একটি পেয়ালায় আছে দুধ, একটি পেয়ালায় আছে মধু আর একটিতে শরাব। আমি দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করলাম এবং পান করলাম। তখন আমাকে বলা হল, আপনি এবং আপনার উম্মাত স্বভাবজাত বস্ত্ত গ্রহণ করেছেন। তবে তারা তিনটি পেয়ালার কথা উল্লেখ করেননি।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ ত্বলহাছিলেন মদিনার আনসারদের মধ্যে সবার চেয়ে অধিক খেজুর গাছের মালিক। আর তার নিকট তার প্রিয় সম্পত্তি ছিল 'বাইরুহা' নামক বাগানটি। সেটি ছিল মসজিদে নববীর ঠিক সামনে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ বাগানে যেতেন এবং সেখানকার উৎকৃষ্ট পানি পান করতেন।' আনাস বলেন, যখন আয়াত অবতীর্ণ হলঃ 'তোমরা তোমাদের প্রিয়বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কক্ষনো পুণ্য লাভ করবে না' (আলে ইমরান ৩/৯২)। তখন আবূ ত্বলহা দাড়িয়ে গেলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ ইরশাদ করেছেনঃ 'তোমরা তোমাদের প্রিয়বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কক্ষনো পুণ্য লাভ করবে না' - আর আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হল 'বাইরুহা' বাগান। এটিকে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে সদাকাহ করে দিলাম। আমি আল্লাহর কাছে এর সাওয়াব এবং সঞ্চয় আশা করি। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটিকে গ্রহণ করুন, আল্লাহর ইচ্ছেয় যেখানে ব্যয় করতে আপনি ভাল মনে করেন, সেখানে ব্যয় করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ খুব ভাল, এটিতো লাভজনক (কিংবা বলেছেন) মুনাফা দানকারী। কথাটিতে রাবী আবদুল্লাহ সন্দেহ পোষণ করেছেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি যা বলেছ, আমি তা শুনেছি। তবে আমি ভাল মনে করি যে, তুমি এটিকে আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করে দেবে। আবূ ত্বলহা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাই করব। এরপর আবূ ত্বলহা বাগানটি তার আত্মীয়দের মধ্যে এবং তার চাচাত ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তার বাড়ীতে এসে দুধ পান করতে দেখেন। আনাস বলেন, আমি একটি ছাগী দোহন করলাম এবং কূপের পানি মিশিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পেশ করলাম। তিনি পেয়ালাটি নিয়ে পান করেন। তার বাদিকে ছিলেন আবূ বাকর ও ডানদিকে ছিল এক বেদুঈন। তিনি বেদুঈনকে তার অতিরিক্ত দুধ দিলেন। এরপর বললেনঃ ডান দিকের আছে অগ্রাধিকার।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের এক লোকের কাছে গেলেন। তার সাথে ছিলেন তার এক সাহাবী। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারীকে বললেনঃ তোমার কাছে যদি মশকে রাখা গত রাতের পানি থাকে তাহলে আমাদের পান করাও। আর না থাকলে আমরা সামনে গিয়ে পান করব। রাবী বলেন, লোকটি তখন তার বাগানে পানি দিচ্ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে গত রাতের পানি আছে। আপনি কুটীরে চলুন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি তাদের দু'জনকে নিয়ে গেল এবং একটি পেয়ালায় পানি নিয়ে তাতে তার একটা বক্রীর দুধ দোহন করল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা পান করলেন, তার সাথে আগন্তুক লোকটিও পান করলেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় দ্রব্য ছিল মিষ্টিদ্রব্য ও মধু।

নাযযাল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কূফা মসজিদের ফটকে আলী-এর নিকট পানি আনা হলে তিনি দাড়িয়ে তা পান করলেন। এরপর তিনি বললেনঃ লোকজনের মধ্যে কেউ কেউ দাড়িয়ে পান করাকে মাকরূহ মনে করে, অথচ আমি নবী (ﷺ)-কে দেখেছি, তোমরা আমাকে যেমনভাবে পান করতে দেখলে তিনিও তেমনি করেছেন।

নাযযাল ইবন সাবরা হতে বর্ণিত। তিনি আলী ইবন আবূ তালিব-এর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যুহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি মানুষের নানান প্রয়োজনে কূফা মসজিদের চত্বরে বসে পড়লেন। অবশেষে আসরের সালাত আদায়ের সময় হয়ে গেল। তখন পানি আনা হল। তিনি পানি পান করলেন এবং নিজের মুখমন্ডল ও উভয় হাত ধৌত করলেন। বর্ণনাকারী আদম এখানে তার মাথা ও দু' পায়ের কথা উল্লেখ করেন। অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন এরপর আলী দাড়ালেন এবং তিনি দাড়ানো অবস্থায় অযূর উদ্বৃত্ত পানি পান করে নিলেন। এরপর তিনি বললেনঃ লোকজন দাড়িয়ে পান করাকে ঘৃণা করে, অথচ আমি যেমন করেছি নবী (ﷺ)-ও তেমন করেছেন।

আবূ নুআইম ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দাড়ানো অবস্থায় যমযমের পানি পান করেছেন।

উম্মুল ফাযল বিনতু হারিস হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে এক পেয়ালা দুধ পাঠিয়ে ছিলেন। তখন নবী (ﷺ) আরাফাতে বিকালে অবস্থান করছিলেন। তিনি তার হাত দিয়ে পেয়ালাটি নিলেন এবং তা পান করলেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে পানি মেশানো দুধ পেশ করা হল। তার ডান পার্শ্বে ছিল এক বেদুঈন ও বাম পার্শ্বে ছিলেন আবূ বাকর। নবী (ﷺ) দুধ পান করলেন। তারপর বেদুঈন লোকটিকে তা দিয়ে বললেনঃ ডানের লোকের অধিকার আগে। এরপর তার ডানের লোকের।

সাহল ইবন সা'দ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে শরবত পেশ করা হল, তিনি তা থেকে পান করলেন। তার ডানে ছিল একটি বালক, আর বামে ছিলেন কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। তখন নবী (ﷺ) বালকটিকে বললেনঃ তুমি কি আমাকে অনুমতি দেবে যে, আমি ঐ বয়স্ক লোকদের আগে পান করতে দেই? বালকটি বললঃ আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট হতে আমার ভাগ পাওয়ার ব্যাপারে আমি কাউকে আমার উপর অগ্রাধিকার দেব না। রাবী বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন পেয়ালাটি তার হাতে তুলে দিলেন।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) আনসারদের এক লোকের নিকট গেলেন। তার সাথে ছিল তার এক সাহাবী। নবী (ﷺ) ও তার সাহাবী সালাম দিলে লোকটি সালামের জবাব দিল। এরপর সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য আমার পিতা ও মাতা কুরবান! এটি ছিল প্রচন্ড গরমের সময়। এ সময় লোকটি তার বাগানে পানি দিচ্ছিল। নবী (ﷺ) বললেনঃ যদি তোমার কাছে গতরাতের মশ্কে রাখা পানি থাকে তাহলে আমাদের পান করাতে পার। তা নাহলে আমরা আমাদের সামনের পানি থেকে পান করে নেব। তখন লোকটি বাগানে পানি দিচ্ছিল। এরপর লোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে গতরাতে মশ্কে রাখা পানি আছে। এরপর সে নবী (ﷺ)-কে কুটীরে নিয়ে গেল। একটি পাত্রে কিছু পানি ঢেলে তাতে ঘরে পোষা বকরীর দুধ দোহন করল। নবী (ﷺ) তা পান করলেন। এরপর সে আবার দোহন করল। তখন তার সঙ্গে যিনি এসেছিলেন তিনি তা পান করলেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার বংশের লোকদের মধ্যে দাড়িয়ে তাদেরকে আমার চাচাদেরকে 'ফাযীখ' নামক শরাব পান করাচ্ছিলাম। আমি ছিলাম তাদের মাঝে সবার চেয়ে ছোট। এমন সময় বলা হলঃ শরাব হারাম হয়ে গেছে। তারা বললেনঃ এ শরাবগুলো ঢেলে দাও। আমি তা ঢেলে দিলাম। বর্ণনাকারী (সুলাইমান তাইমী) বলেন, আমি আনাস-কে জিজ্ঞেস করলামঃ তাদের শরাব কী দিয়ে তৈরী ছিল? তিনি বললেনঃ কাঁচা ও পাকা খেজুরের তৈরী। আনাস-এর পুত্র আবূ বাকর বললেন, এটিই ছিল তাদের যুগের শরাব। তাতে আনাস কোন অসম্মতি ব্যক্ত করেননি।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন সন্ধ্যা হয়, তখন তোমাদের সন্তানদের ঘরে আটকে রাখ। কেননা এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাতের কিছু অংশ অতিক্রম করলে তখন তাদের ছেড়ে দিতে পার। আর ঘরের দরজা বন্ধ করবে। কেননা, শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। আর তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাদের মশকের মুখ বন্ধ করবে এবং আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাদের পাত্রগুলোকে ঢেকে রাখবে, কমপক্ষে পাত্রগুলোর উপর কোন বস্ত্ত আড়াআড়ি করে রেখেও। আর (শয্যা গ্রহণের সময়) তোমরা তোমাদের প্রদীপগুগুলো নিভিয়ে দেবে।

জাবির হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যখন ঘুমাবে তখন বাতি নিভিয়ে দেবে, দরজাগুলো বন্ধ করবে, মশকের মুখ বন্ধ করবে, খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যাদি ঢেকে রাখবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি আরো বলেছেন, কমপক্ষে একটি কাঠ আড়াআড়ি করে পাত্রের উপর রেখে দেবে।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মশকের মুখ খুলে, তাতে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।

আবূ সাইদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে 'ইখ্তিনাসিল আসকিয়া' মশ্কের মুখ খুলে তাতে মুখ লাগিয়ে পান করা) হতে নিষেধ করতে শুনেছি।

আইউব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইকরামাহ আমাদের বললেন, আমি তোমাদের সংক্ষিপ্ত এমন কতকগুলো কথা জানাব কি যেগুলো আমাদের কাছে আবূ হুরাইরাহ বর্ণনা করেছেন? (তা হল) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বড় কিংবা ছোট মশকের মুখে পানি পান করতে এবং প্রতিবেশীকে তার দেয়ালের উপর খুটি গাড়ার ব্যাপারে বাধা দিতে নিষেধ করেছেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মশকের মুখ থেকে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মশকের মুখ থেকে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।

আবদুল্লাহর পিতা আবূ ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি যখন পানি পান করবে সে যেন তখন পানির পাত্রে নিঃশ্বাস না ফেলে। আর তোমাদের কেউ যখন প্রস্রাব করে, সে যেন ডান হাতে তার লজ্জাস্থান স্পর্শ না করে এবং তোমাদের কেউ যখন শৌচ কার্য করে তখন সে যেন ডান হাতে তা না করে।

সুমামাহ ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনাস-এর নিয়ম ছিল, তিনি দুই কিংবা তিন নিঃশ্বাসে পাত্র হতে পানি পান করতেন। তিনি মনে করতেন যে, নবী (ﷺ) তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করতেন।

ইবন আবূ লাইলা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফা মাদায়েন অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি পানি পান করতে চাইলেন। তখন এক গ্রামবাসী একটি রূপার পাত্রে পানি এনে তাকে দিল। তিনি পানি সহ পেয়ালাটি ছুঁড়ে মারলেন। এরপর তিনিবললেনঃ আমি এটি ছুঁড়ে ফেলতাম না, কিন্তু আমি তাকে নিষেধ করার পরও সে তাথেকে বিরত হয়নি। অথচ নবী (ﷺ) আমাদের নিষেধ করেছেন মোটা ও পাতলা রেশমের কাপড় পরতে, স্বর্ণ ও রৌপ্যের পান-পাত্র ব্যবহার করতে। তিনি আরো বলেছেনঃ উল্লেখিত বস্ত্তগুলো হল দুনিয়াতে কাফির সম্প্রদায়ের জন্য; আর আখিরাতে তোমাদের জন্য।

ইবন আবূ লাইলা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুযাইফা-এর সঙ্গে বাইরে বের হলাম। এ সময় তিনি নবী (ﷺ) এর কথা আলোচনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা স্বর্ণ ও রৌপ্য পাত্রে পান করবে না। আর মোটা বা পাতলা রেশম বস্ত্র পরিধান করবে না। কেননা, এগুলো দুনিয়াতে তাদের (অমুসলিমদের) জন্য ভোগ্যবস্তু। আর তোমাদের জন্য হল আখিরাতের ভোগ্য বস্ত্ত।

নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রৌপ্য পাত্রে পান করে সে তো তার উদরে জাহান্নামের অগ্নি প্রবিষ্ট করায়।

বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাতটি বিষয়ের হুকুম দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের হুকুম দিয়েছেনঃ রোগীর সেবা শুশ্রুষা করতে, জানাযার পেছনে যেতে, হাচি প্রদানকারীর জবাব দিতে, দাওয়াতদাতার দাওয়াত গ্রহণ করতে, সালামের প্রসার ঘটাতে, অত্যাচারিতকে সাহায্য করতে এবং শপথকারীকে শপথ রক্ষার সুযোগ করে দিতে। আর আমাদের তিনি নিষেধ করেছেনঃ স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করতে, কিংবা তিনি বলেছেন, রৌপ্য পাত্রে পানি পান করতে, মায়াসির এক প্রকার নরম ও মসৃন রেশমী কাপড় কালসী রেশম মিশ্রিত কাপড় ব্যবহার করতে এবং পাতলা কিংবা মোটা এবং অলঙ্কার খচিত রেশমী বস্ত্র পরিধান করতে।

উম্মুল ফাযল হতে বর্ণিত যে, লোকজন 'আরাফাহ'র দিনে নবী (ﷺ) এর সিয়াম পালন সম্পর্কে সন্দেহ করল। তখন আমি তার নিকট একটি পেয়ালায় কিছু দুধ পাঠালাম। তিনি তা পান করলেন।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কাছে আরবের এক মহিলার কথা আলোচনা করা হলে, তিনি আবূ উসাইদ সাঈদী-কে আদেশ দিলেন, সেই মহিলার নিকট কাউকে পাঠাতে। তখন তিনি তার নিকট একজনকে পাঠালে সে আসলো এবং সায়িদা গোত্রের দূর্গে অবতরণ করল। এরপর নবী (ﷺ) বেরিয়ে এসে তার কাছে গেলেন। নবী (ﷺ) দূর্গে তার কাছে প্রবেশ করে দেখলেন, এক স্ত্রীলোক মাথা ঝুকিয়ে বসে আছে। নবী (ﷺ) যখন তার সঙ্গে কথাবার্তা বললেন, তখন সে বলে উঠল, আমি আপনার থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাকে পানাহ দিলাম। তখন লোকেরা তাকে বলল, তুমি কি জান ইনি কে? সে বললঃ না। তারা বললঃ ইনি তো আল্লাহর রাসূল। তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে এসেছিলেন। সে বলল, এ মর্যাদা থেকে আমি চিরদিনের জন্য বঞ্চিতা। এরপর সেই দিনই নবী (ﷺ) এগিয়ে গেলেন এবং তিনি ও তার সাহাবীগণ অবশেষে বানী সায়িদার চত্বরে এসে বসে পড়লেন। এরপর বললেনঃ হে সাহল! আমাদের পানি পান করাও। সাহল বলেন, তখন আমি তাদের জন্য এ পেয়ালাটিই বের করে আনি এবং তা দিয়ে তাদের পান করাই। বর্ণনাকারী বলেন, সাহল তখন আমাদের কাছে সেই পেয়ালা বের করে আনলে আমরা তাতে করে পানি পান করি। তিনি বলেছেনঃ পরবর্তীতে উমার ইবন আবদুল আযীয তার নিকট হতে সেটি দান হিসাবে পেতে চাইলে, তিনি তাকে তা হেবা করে দেন।

আসিম আহওয়াল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক-এর কাছে নবী (ﷺ) কর্তৃক ব্যবহৃত একটি পেয়ালা দেখেছি। সেটি ফেটে গিয়েছিল। এরপর তিনি তা রূপা দিয়ে জোড়া দেন। বর্ণনাকারী আসিম বলেন, সেটি ছিল উৎকৃষ্ট, চওড়া ও নুযর কাঠের তৈরী। আসিম বলেন, আনাস বলেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে এ পেয়ালায় বহুবার পানি পান করিয়েছি। আসিম বলেন, ইবন সীরীন বলেছেনঃ পেয়ালাটিতে বৃত্তাকারে লোহা বসানো ছিল। তাই আনাস ইচ্ছে করেছিলেন, লোহার বৃত্তের জায়গায় সোনা বা রূপার একটি বৃত্ত বসাতে। তখন আবূ ত্বলহা তাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে বানিয়েছেন, তাতে কোন পরিবর্তন করো না। ফলে তিনি তার ইচ্ছে পরিত্যাগ করলেন।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম, তখন আসরের ওয়াক্ত। অথচ আমাদের সাথে বেচে যাওয়া অল্প পানি ছাড়া কিছুই ছিল না। তখন সেটুকু একটি পাত্রে রেখে পাত্রটি নবী (ﷺ) এর সামনে পেশ করা হল। তিনি পাত্রটির মধ্যে নিজের হাত প্রবেশ করালেন এবং আঙ্গুলগুলো ছড়িয়ে দিলেন। এরপর বললেনঃ এসো, যাদের অযূর দরকার আছে। বারাকাত তো আসে আল্লাহর নিকট হতে। জাবির বলেন, তখন আমি দেখলাম, নবী (ﷺ) এর আঙ্গুলগুলোর ফাক থেকে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। লোকজন অযূ করল এবং পানি পান করল। আমিও আমার পেটে যতটুকু সম্ভব ছিল ততটুকু পান করতে কসুর করলাম না। কেননা, আমি জানতাম এটি বারাকাতের পানি। রাবী বলেন, আমি জাবির-কে বললামঃ সে দিন আপনারা কত জন ছিলেন? তিনি বললেনঃ এক হাজার চারশ' জন। সালিম, জাবিরের সূত্রের মাধ্যমে হুসাইন ও আমর ইবন মুররা চৌদ্দশ'র জায়গায় পনেরশ'র কথা বলেছেন।