bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সূর্যগ্রহণ (১০৪০-১০৬৬)

আবূ বাকরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর নিকট ছিলাম, এ সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। নবী (ﷺ) তখন উঠে দাড়ালেন এবং নিজের চাদর টানতে টানতে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং আমরাও প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী (ﷺ) বললেনঃ কারো মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ দেখবে তখন এ অবস্থা দূর না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে এবং দোয়া করতে থাকবে।

আবূ মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন লোকের মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন। তাই তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখবে, তখন দাড়িয়ে যাবে এবং সালাত আদায় করবে।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন। কাজেই তোমরা যখনই গ্রহণ হতে দেখবে তখনই সালাত আদায় করবে।

মুগীরাহ ইবন শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সময় যে দিন (তার পুত্র) ইবরাহীম ইন্তিকাল করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা তখন বলতে লাগল, ইব্রাহীম এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ কারো মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন তা দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দোয়া করবে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ হল। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘ সময় কিয়াম করেন, অতঃপর দীর্ঘক্ষণ রুকূ করেন। অতঃপর পুনরায় (সালাতে) তিনি উঠে দাড়ান এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকূ করেন এবং এ রুকূও দীর্ঘ করেন। তবে তা প্রথম রুকূর চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা করেন এবং সিজদাও দীর্ঘক্ষণ করেন। অতঃপর তিনি প্রথম রাকা'আতে যা করেছিলেন তার অনুরূপ দ্বিতীয় রাকা'আতে করেন এবং যখন সূর্য প্রকাশিত হয় তখন সালাত শেষ করেন। অতঃপর তিনি লোকজনের উদ্দেশে খুৎবা দান করেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা আল্লাহর নিকট দোয়া করবে। তার মহত্ব ঘোষণা করবে এবং সালাত আদায় করবে ও সদাক্বাহ প্রদান করবে। অতঃপর তিনি আরো বললেনঃ হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহর কসম, আল্লাহর কোন বান্দা যিনা করলে কিংবা কোন নারী যিনা করলে, আল্লাহর চেয়ে অধিক অপছন্দকারী কেউ নেই। হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তাহলে তোমরা অবশ্যই হাসতে কম এবং বেশী করে কাঁদতে।

আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ হলো, তখন 'আস্-সালাতু জামি'আতুন' বলে (সালাতে সমবেত হবার জন্য) আহবান জানানো হল।

নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর জীবদ্দশায় একবার সূর্যগ্রহণ হয়। তখন তিনি মসজিদে গমন করেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকেরা তার পিছনে সারিবদ্ধ হলো। তিনি তাকবীর বললেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। অতঃপর তাকবীর বললেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূতে থাকলেন। অতঃপর "সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে দাড়ালেন এবং সিজদায় না গিয়েই আবার দীর্ঘক্ষণ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চেয়ে অল্পস্থায়ী। অতঃপর তিনি 'আল্লাহু আকবার' বললেন এবং দীর্ঘ রুকূ করলেন, তবে তা প্রথম রুকূর চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি বললেনঃ "সামিআ ল-লাহু লিমান হামিদাহ রাব্বানা ওয়ালাক-লহামদ" অতঃপর সিজদায় গেলেন। অতঃপর তিনি পরবর্তী রাকাতেও অনুরূপ করলেন এবং এভাবে চার সিজদার সাথে চার রাকাত পূর্ণ করলেন। তার সালাত শেষ করার পূর্বেই সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি দাড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন এবং বললেনঃ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখনই তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখনই ভীত হয়ে সালাতের দিকে গমন করবে। তাই আমি উরওয়াহ্কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ভাই (আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র) তো মদিনায় যেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, সেদিন ফজরের সালাতের ন্যায় দু'রাকাত সালাত আদায়ের অতিরিক্ত কিছু করেননি। তিনি বললেন, তা ঠিক, তবে তিনি সুন্নাত অনুসরণ করতে ভুল করেছেন।

নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সময় সালাত আদায় করেন। তিনি দাড়িয়ে তাকবীর বললেন। অতঃপর দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ করলেন। অতঃপর মাথা তুললেন, আর "সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে পূর্বের মতই দাড়ালেন এবং দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে তা পূর্বের কিরাআতের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ করলেন, তবে এ রুকূ প্রথম রুকূর চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর তিনি শেষ রাকাতে প্রথম রাকাতের অনুরূপ করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তখন সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর লোকদের উদ্দেশে তিনি খুৎবাহ দিলেন। খুৎবায় তিনি সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে বললেন, এ হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা ভীত অবস্থায় সালাতের দিকে গমন করবে।

আবূ বাকরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন। কারো মৃত্যুর কারণে এ দু'টির গ্রহণ হয় না। তবে এ দিয়ে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের সতর্ক করেন। ইমাম বুখারী বলেন, আবদুল্লাহ ওয়ারিস, শু'আইব, খালিদ ইবন আবদুল্লাহ, হাম্মাদ ইবন সালাম ইউনুস হতে 'এ দিয়ে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে সতর্ক করেন' বাক্যটি বর্ণনা করেননি; আর মূসা মুবারক স্থলে হাসান হতে ইউনুস-এর অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে আবূ বাকরা নবী (ﷺ) হতে বলেন, নিশ্চই আল্লাহ এ দিয়ে তার বান্দাদেরকে সতর্ক করেন।

নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। এক ইয়াহুদী মহিলা তার নিকট কিছু জিজ্ঞেস করতে এলো। সে আয়িশাহ-কে বলল, আল্লাহ তাআলাও আপনাকে কবর আযাব হতে রক্ষা করুন। অতঃপর আয়িশাহ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করেন, কবরে কি মানুষকে আযাব দেয়া হবে? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এথেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই।

পরে কোন এক সকালে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময় ফিরে আসেন এবং কামরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাড়ালেন এবং লোকেরা তার পিছনে দাড়াল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ করেন পরে মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম পূর্বের কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ করেন, তবে এ রুকূ পূর্বের রুকূর চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং সিজদায় গেলেন। অতঃপর তিনি দাড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ করলেন। এ রুকূ প্রথম রাকাতের রুকূর চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার রুকূ করলেন এবং তা প্রথম রাকাতের রুকূর চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সিজদায় গেলেন। অতঃপর সালাত শেষ করলেন। আল্লাহর যা ইচ্ছা তিনি তা বললেন এবং কবর আযাব হতে পানাহ চাওয়ার জন্য উপস্থিত লোকেদের আদেশ করলেন।

আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সময় যখন সূর্যুগ্রহণ হয় তখন 'আস্-সালাতু জামিআতুন' বলে ঘোষণা দেয়া হয়। নবী (ﷺ) তখন এক রাকা'আতে দু'বার রুকূ করেন, অতঃপর দাড়িয়ে দ্বিতীয় রাকা'আতেও দু'বার রুকূ করেন অতঃপর বসেন আর ততক্ষণে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, আয়িশাহ বলেছেন, এ সালাত ছাড়া এত লম্বা সিজদা আমি কক্ষনো করিনি।

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী (ﷺ) -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তখন সালাত আদায় করেন এবং তিনি বাক্বারাহ পাঠ করতে যত সময় লাগে সে পরিমাণ দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ করেন। অতঃপর মাথা তুলে পুনরায় দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ করলেন। তবে তা প্রথম রুকূর চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা করেন। আবার দাড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকূ করেন, তবে তা পূর্বের রুকূর চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কিয়াম করলেন, তবে তা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ করেন, তবে তা প্রথম রুকূ অপেক্ষা অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা করেন এবং সালাত শেষ করেন। ততক্ষণে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গিয়েছে। তারপর তিনি বললেনঃ নিঃসন্দেহে সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দু'টির গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা গ্রহণ দেখবে তখনই আল্লাহকে স্মরণ করবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা দেখলাম, আপনি নিজের জায়গা হতে কি যেন ধরছেন, আবার দেখলাম, আপনি যেন পিছনে সরে এলেন। তিনি বললেনঃ আমিতো জান্নাত দেখেছিলাম এবং এক গুচ্ছ আঙ্গুরের প্রতি হাত বাড়িয়েছিলাম। আমি তা পেয়ে গেলে দুনিয়া কায়িম থাকা পর্যন্ত অবশ্য তোমরা তা খেতে পারতে। অতঃপর আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়, আমি আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য কখনো দেখিনি। আর আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা নারী। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কী কারণে? তিনি বললেনঃ তাদের কুফরীর কারণে। জিজ্ঞেস করা হল, তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরী করে? তিনি জবাব দিলেন, তারা স্বামীর অবাধ্য থাকে এবং ইহ্সান অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো প্রতি সারা জীবন সদাচরণ কর, অতঃপর সে তোমার হতে (যদি) সামান্য ত্রুটি পায়, তা হলে বলে ফেলে, তোমার কাছ থেকে কখনো ভাল ব্যবহার পেলাম না।

আসমা বিনতে আবূ বাকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় আমি নবী (ﷺ) -এর সহধর্মিনী আয়িশাহ-এর নিকট গেলাম। তখন লোকজন দাড়িয়ে সালাত আদায় করছিল। তখন আয়িশাহও সালাতে দাড়িয়েছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, লোকদের কী হয়েছে? তখন তিনি হাত দিয়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন এবং 'সুবহানাল্লাহ্' বললেন। আমি বললাম, এ কি কোন নিদর্শন? তখন তিনি ইঙ্গিতে বললেন, হা। আসমা বলেন, আমিও দাড়িয়ে গেলাম। এমন কি (দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে থাকার কারণে) আমি প্রায় বেহুঁশ হয়ে পড়লাম এবং মাথায় পানি ঢালতে লাগলাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন সালাত শেষ করলেন, তখন আল্লাহর হাম্দ ও সানা বর্ণনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি এ স্থান হতে দেখতে পেলাম, যা এর পূর্বে দেখিনি, এমন কি জান্নাত এবং জাহান্নাম। আর আমার নিকট ওয়াহী পাঠান হয়েছে যে, নিশ্চই তোমাদেরকে কবরের মধ্যে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা বলেছেন তার কাছাকাছি ফিতনায় লিপ্ত করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, ('মিস্লা' ও 'কারীবান') দু'টির মধ্যে কোনটি আসমা বলেছিলেন, তা আমার মনে নেই। তোমাদের এক একজনকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে প্রশ্ন করা হবে, এ ব্যক্তি সম্পর্কে কী জান? তখন মুমিন (ঈমানদার) অথবা 'মুকিন' (বিশ্বাসী) বলবেন- বর্ণনাকারী বলেন যে, আসমা 'মুমিন' শব্দ বলেছিলেন, না 'মুকীন' তা আমার স্মরণ নেই, তিনি হলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সুস্পষ্ট দলীল ও হিদায়াত নিয়ে আমাদের নিকট এসেছিলেন এবং আমরা এতে সাড়া দিয়ে ঈমান এনেছি ও তার অনুসরণ করেছি। অতঃপর তাকে বলা হবে, তুমি পুণ্যবান বান্দা হিসেবে ঘুমিয়ে থাক। আমরা অবশ্যই জানতাম যে, নিশ্চিতই তুমি দৃঢ়বিশ্বাস স্থাপনকারী ছিলে। আর মুনাফিক কিংবা সন্দেহকারী বর্ণনাকারী বলেন, আসমা 'মুনাফিক' না 'সন্দেহকারী' বলেছিলেন তা আমার মনে নেই, সে শুধু বলবে, আমি কিছুই জানি না। আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছি এবং আমিও তাই বলেছি।

আসমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সময় গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। এক ইয়াহূদী মহিলা তার নিকট কিছু জিজ্ঞেস করতে এল। মহিলাটি বলল, আল্লাহ আপনাকে কবরের আযাব হতে পানাহ্ দিন। অতঃপর আয়িশাহ আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেন, কবরে কি মানুষকে আযাব দেয়া হবে? তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমি আল্লাহর নিকট পানাহ্ চাই কবরের আযাব হতে।

পরে একদা সকালে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি ফিরে এলেন, তখন ছিল সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময়। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার হুজরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাড়ালেন এবং লোকেরাও তার পিছনে দাড়াল। তিনি দীর্ঘ কিয়াম করলেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ করলেন। অতঃপর মাথা তুলে আবার দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম প্রথম রুকূর চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি আবার দীর্ঘ রুকূ করেন। তবে এ রুকূ প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ রুকূ করেন। তবে এ রুকূ প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর তিনি আবার দাড়িয়ে কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ করলেন, তা প্রথম রুকূর চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি আবার দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ করেন। অবশ্য এ রুকূ প্রথম রুকূর চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা করেন। এ সিজদা প্রথম সিজদার চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করেন। এরপরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আল্লাহর যা ইচ্ছা তাই বললেন। শেষে তিনি সবাইকে কবরের আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনার আদেশ করলেন।

আবূ মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ কারো মৃত্যুর ও জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। এগুলো আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে দু'টি নিদর্শন। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন সালাত আদায় করবে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। নবী (ﷺ) তখন দাড়ালেন এবং লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি কিরাআত দীর্ঘ করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ করেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলেন এবং দীর্ঘ কিরাআত পড়েন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চেয়ে স্বল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকূ করেন এবং রুকূ দীর্ঘ করেন। তবে এ রুকূ প্রথম রুকূর চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুলেন এবং দু'টি সিজদা করেন। অতঃপর তিনি দাড়ালেন এবং দ্বিতীয় রাকাতেও অনুরূপ করেন। অতঃপর তিনি দাড়িয়ে বললেনঃ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে হয় না। আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে এ হল দু'টি নিদর্শন; যা আল্লাহ তার বান্দাদের দেখিয়ে থাকেন। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন ভীত অবস্থায় সালাতের দিকে আসবে।

আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হল, তখন নবী (ﷺ) ভীত অবস্থায় উঠলেন এবং কিয়ামত সংঘটিত হবার ভয় করছিলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে আসেন এবং এর পূর্বে আমি তাকে যেমন করতে দেখেছি, তার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কিয়াম, রুকূ ও সিজদা সহকারে সালাত আদায় করলেন। আর তিনি বললেনঃ এগুলো হল নিদর্শন যা আল্লাহ পাঠিয়ে থাকেন, তা কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে তার বান্দাদের সতর্ক করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত অবস্থায় আল্লাহর যিকর, দোয়া এবং ইস্তিগ্ফারের দিকে ধাবিত হবে।

মুগীরাহ ইবন শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -(এর পুত্র) ইব্রাহীম যে দিন ইন্তিকাল করেন, সে দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা বলল, ইব্রাহীম-এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তখন বললেনঃ নিশ্চই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দু'টোর গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা এদের গ্রহণ হতে দেখবে, তখন তাদের গ্রহণ মুক্ত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর নিকট দোয়া করবে এবং সালাত আদায় করতে থাকবে।

আসমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাত শেষ করলেন আর এদিকে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি খুৎবাহ দিলেন। এতে তিনি প্রথমে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ 'আম্মা বা'দ'।

আবূ বাকরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। তখন তিনি দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন।

আবূ বাকরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। তিনি বের হয়ে তার চাদর টেনে টেনে মসজিদে পৌছলেন এবং লোকজনও তার নিকট সমবেত হল। অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে দু'রাকাত সালাত আদায় করেন। অতঃপর সূর্যগ্রহণ মুক্ত হলে তিনি বললেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন। কারো মৃত্যুর কারণে এ দু'টোর গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন গ্রহণ হবে, তা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে এবং দোয়া করতে থাকবে। এ কথা নবী (ﷺ) এ কারণেই বলেছেন যে, সেদিন তার পুত্র ইব্রাহীম-এর ওফাত হয়েছিল এবং লোকেরা সে ব্যাপারে পরস্পর বলাবলি করছিল।

আয়িশাহ‌ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সময় লোকদের নিয়ে দু'রাকাতে চার রুকূ সহ সালাত আদায় করেন। প্রথমটি (দ্বিতীয় রাকাতের চেয়ে) দীর্ঘস্থায়ী ছিল।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সালাতে তার কিরাআত সশব্দে পাঠ করেন। কিরা'আত সমাপ্ত করার পর তাকবীর বলে রুকূ করেন। যখন রুকূ হতে মাথা তুললেন, তখন বললেন, "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ রাব্বানা ওয়া লাকা ল-হামদ।" অতঃপর এ গ্রহণ-এর সালাতেই তিনি আবার কিরাআত পাঠ করেন এবং চার রুকূ ও চার সিজদাসহ দু' রাকাত সালাত আদায় করেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি একজনকে 'আস্-সালাতু জামিয়াতুন' বলে ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠান। অতঃপর তিনি অগ্রসর হন এবং চার রুকূ ও চার সিজদাসহ দু' রাকাত সালাত আদায় করেন। ওয়ালীদ বলেন, আমাকে আবদুর রহমান ইবন নামির আরো বলেন যে, তিনি ইবন শিহাব হতে অনুরূপ শুনেছেন যুহরী বলেন যে, আমি উরওয়াহ্-কে বললাম, তোমার ভাই আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র এরূপ করেননি। তিনি যখন মদিনায় গ্রহণ-এর সালাত আদায় করেন, তখন ফজরের সালাতের ন্যায় দু'রাকা'আত সালাত আদায় করেন। উরওয়াহ বললেন, হা, তিনি সুন্নাত অনুসরণে ভুল করেছেন। সুলাইমান ইবন কাসীর যুহরী হতে সশব্দে কিরাআতের ব্যাপারে ইবন কাসীর -এর অনুসরণ করেছেন।