bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ঈদউল-আয্হা কোরবানি (৫৫৪৫-৫৫৭৪)

বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমাদের এ দিনে আমরা সর্বাগ্রে যে কাজটি করব তা হল সালাত আদায় করব। এরপর ফিরে এসে আমরা কুরবানী করব। যে ব্যক্তি এভাবে তা আদায় করল সে আমাদের নীতি অনুসরণ করল। আর যে ব্যক্তি আগেই জবাই করল, তা এমন গোশতরূপে গণ্য যা সে তার পরিবারের জন্য আগাম ব্যবস্থা করল। এটা কিছুতেই কুরবানী বলে গণ্য নয়। তখন আবূ বুরদাহ ইবন নিয়ার দাড়ালেন, আর তিনি সালাতের) আগেই জবাই করেছিলেন। তিনি বললেনঃ আমার নিকট একটি বকরীর বাচ্চা আছে। নবী (ﷺ) বললেনঃ তাই জবাই কর। তবে তোমার পরে আর কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না। মুতাররাফ বারা' থেকে বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাতের পর জবাই করল তার কুরবানী পূর্ণ হল এবং সে মুসলিমদের নীতি গ্রহণ করল।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের পূর্বে জবাই করল সে নিজের জন্যই জবাই করল। আর যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের পর জবাই করল, তার কুরবানী পূর্ণ হল এবং সে মুসলিমদের নীতি গ্রহণ করল।

উকবাহ ইবন আমির জুহানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) তার সাহাবীগণের মধ্যে কতগুলো কুরবানীর পশু বণ্টন করলেন। তখন উকবাহ-এর অংশ পড়ল একটি বকরীর বাচ্চা। উকবাহ বলেন, তখন আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার অংশে পড়েছে একটি বকরীর বাচ্চা। তিনি বললেনঃ সেটাই কুরবানী করে নাও।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) তার কাছে প্রবেশ করলেন। অথচ মক্কা প্রবেশের পূর্বেই 'সারিফ' নামক জায়গায় তার মাসিক শুরু হয়। তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? মাসিক শুরু হয়েছে না কি? তিনি বললেনঃ হা। নবী (ﷺ) বললেনঃ এটা তো এমন এক ব্যাপার যা আল্লাহ আদম আঃ)-এর কন্যাদের উপর নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। কাজেই হাজীগণ যা করে থাকে, তুমিও তেমনি করে যাও, তবে তুমি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করবে না। এরপর আমরা যখন মিনায় ছিলাম, তখন আমার কাছে গরুর গোশ্ত নিয়ে আসা হল। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এটা কী? লোকজন উত্তর করলঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেছেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানীর দিন নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের পূর্বে জবাই করেছে, সে যেন পুনরায় জবাই করে। তখন এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! এটাতো এমন দিন যাতে গোশত খাওয়ার প্রতি ইচ্ছা জাগে। তখন সে তার প্রতিবেশীদের কথাও উল্লেখ করল এবং বললঃ আমার কাছে এমন একটি বকরীর বাচ্চা আছে যেটি গোশতের ক্ষেত্রে দু'টি বকরীর চেয়েও উত্তম। নবী (ﷺ) তাকে সেটিই কুরবানী করতে অনুমতি প্রদান করলেন। আনাস বলেনঃ আমি জানি না, এ অনুমতি এ ব্যক্তি ছাড়া অন্যের জন্যেও প্রযোজ্য কিনা? এরপর নবী (ﷺ) দু'টি ভেড়ার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং সে দু'টিকে জবাই করলেন। লোকজন ছোট একটি বকরীর পালের দিকে উঠে গেল। এরপর ওগুলোকে বণ্টন করল কিংবা তিনি বলেছেনঃ সেগুলোকে তারা জবাই করে টুকরা টুকরা করে কাটলো।

আবূ বাকরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) বর্ণিত যে, নবী বলেছেনঃ কাল আবর্তিত হয়েছে তার সেই অবস্থানের উপর, যেভাবে আল্লাহ আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। বছর বার মাসের। তার মাঝে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি পরপরঃ যুল কা'দা, যুল-হাজ্জাহ্ ও মুহাররম। আরেকটি মুদার গোত্রের রজব মাস, সেটি জুমাদা ও শা'বানের মাঝখানে। (এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ) এটি কোন মাস? আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তার রাসূল অধিক জানেন। তখন তিনি নীরব রইলেন। এমন কি আমরা ভাবলাম যে, তিনি এটিকে অন্য নামে নাম দিবেন। তিনি বললেনঃ এটি কি যুল-হাজ্জ মাস নয়? আমরা বললামঃ হা। তিনি আবার বললেনঃ এটি কোন শহর? আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তার রাসূল অধিক জানেন। তিনি নীরব রইলেন, এমনকি আমরা ভাবতে লাগলাম, হয়ত তিনি এটির অন্য কোন নাম দিবেন। তিনি বললেনঃ এটি কি মক্কা নগর নয়? আমরা বললামঃ হা। তিনি বললেনঃ এটি কোন দিন? আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তার রাসূল অধিক জানেন। তিনি নীরব রইলেন। এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, হয়ত তিনি এর নামের পরিবর্তে অন্য নাম দিবেন। তিনি বললেনঃ এটা কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা উত্তর করলামঃ হা। এরপর তিনি বললেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ, বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ বলেন, সম্ভবতঃ আবূ বাকরাহ বলেছেন, "এবং তোমাদের ইয্যত তোমাদের পরস্পরের উপর এমন সম্মানিত, যেমন সম্মানিত তোমাদের এই দিন, তোমাদের এই শহর, তোমাদের এই মাস। শীঘ্রই তোমরা তোমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাত করবে। তখন তিনি তোমাদের সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করবেন। সাবধান! আমার পরে তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে ফিরে যেয়ো না। তোমাদের কেউ যেন কাউকে হত্যা না করে। মনে রেখ, উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (আমার বাণী) পৌছে দেয়। হয়ত যাদের কাছে পৌছানো হবে তাদের কেউ কেউ বর্তমানে যারা শুনেছে তাদের কারো চেয়ে বেশি সংরক্ষণকারী হবে। রাবী মুহাম্মাদ যখন এ হাদীস উল্লেখ করতেন, তখন বলতেনঃ নবী (ﷺ) সত্যই বলেছেন। এরপর নবী (ﷺ) বললেনঃ দেখ, আমি কি পৌছে দিয়েছি? দেখ, আমি কি পৌছে দিয়েছি?

নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ কুরবানী করার জায়গায় কুরবানী করতেন। উবাইদুল্লাহ বলেনঃ নবী (ﷺ) এর কুরবানী করার জায়গায়।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদগাহে জবাই করতেন এবং নহর করতেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) দু'টি মেষ দিয়ে কুরবানী আদায় করতেন। আমিও কুরবানী আদায় করতাম দু'টি মেষ দিয়ে।

আনাস হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'টি সাদা কালো রং এর শিংওয়ালা ভেড়ার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং নিজ হাত দিয়ে সে দু'টিকে জবাই করলেন।

আমর ইবন খালিদ উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কুরবানীর পশু হিসাবে সাহাবীদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়ার জন্য তাকে এক পাল বকরী দান করেন। তাথেকে একটি বক্রীর বাচ্চা বাকী থেকে গেলে তিনি নবী (ﷺ) -এর নিকট তা ব্যক্ত করেন। নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি নিজে তা কুরবানী করে নাও।

বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বুরদাহ নামীয় আমার এক মামা সালাত আদায়ের আগেই কুরবানী করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তোমার বকরী কেবল গোশতের বকরী হল। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে একটি ঘরে পোষা বকরীর বাচ্চা রয়েছে। নবী (ﷺ) বললেনঃ সেটাকে কুরবানী করে নাও। তবে তা তুমি ছাড়া অন্য কারো জন্য ঠিক হবে না। এরপর তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের আগে জবাই করেছে, সে নিজের জন্যই জবাই করেছে, আর যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের পর জবাই করেছে, সে তার কুরবানী পূর্ণ করেছে। আর সে মুসলিমদের নিয়ম নীতি অনুসারেই করেছে।

বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ বুরদাহ সালাত আদায়ের পূর্বে জবাই করেছিলেন। তখন নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ এটার বদলে আরেকটি জবাই কর। তিনি বললেনঃ আমার কাছে একটি ছয়-সাত মাসের বকরীর বাচ্চা ছাড়া কিছুই নেই। শুবাহ বলেন, আমার ধারণা তিনি আরো বলেছেন যে, বকরীর বাচ্চাটি পূর্ণ এক বছরের বকরীর চেয়ে উত্তম। নবী (ﷺ) বললেনঃ তার স্থলে এটিকেই জবাই কর। কিন্তু তোমার পরে অন্য কারো জন্য কখনো এ অনুমতি থাকবে না।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দু'টি সাদা-কালো রং এর ভেড়া দ্বারা কুরবানী করেছেন। তখন আমি তাকে দেখতে পেলাম তিনি ভেড়া দু'টোর পার্শ্বে পা রেখে 'বিস্‌মিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার' পড়ে তার নিজ হাতে সে দু'টোকে জবাই করেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সারিফ নামক জায়গায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে এলেন। সে সময় আমি কাঁদছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার কী হলো? তুমি কি ঋতুমতী হয়ে পড়েছ? আমি বললামঃ হা। তিনি বললেনঃ এটাতো এমন এক ব্যাপার যা আল্লাহ আদমের কন্যাদের উপর নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। অতএব হাজীরা যে সকল কাজ আদায় করে তুমিও তা আদায় কর। তবে তুমি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করবে না। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেন।

বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে খুত্বা দেয়ার সময় বলতে শুনেছিঃ আমাদের আজকের এ দিনে সর্বপ্রথম আমরা যে কাজটি করব তা হল সালাত আদায়। অতঃপর আমরা ফিরে গিয়ে কুরবানী করব। যে ব্যক্তি এভাবে করবে সে আমাদের সুন্নাতকে অনুসরণ করবে। আর যে ব্যক্তি পূর্বেই জবাই করল, তা তার পরিবার পরিজনের জন্য অগ্রিম গোশত প্রেরণ, তা কিছুতেই কুরবানী নয়। তখন আবূ বুরদাহ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি সালাত আদায়ের পূর্বেই জবাই করে ফেলেছি এবং আমার কাছে একটি বকরীর বাচ্চা আছে, যেটি পূর্ণ এক বছরের বকরীর চেয়ে উৎকৃষ্ট। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি সেটির জায়গায় এটিকে কুরবানী কর। তোমার পরে এ নিয়ম আর কারো জন্য নয় কিংবা তিনি বলেছেনঃ আদায়যোগ্য হবে না।

আনাস নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের পূর্বে জবাই করেছে সে যেন আবার জবাই করে। তখন একব্যক্তি দাড়িয়ে বললঃ এটাতো এমন দিন যে দিন গোশ্ত খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগে। সে তার প্রতিবেশীদের অভাবের কথাও উল্লেখ করল। নবী (ﷺ) যেন তার ওজর উপলব্ধি করলেন। লোকটি বললঃ আমার কাছে এমন একটি ছাগলের বাচ্চা আছে যেটি দু'টি গোশতবহুল বকরীর চেয়ে উৎকৃষ্ট। নবী (ﷺ) তখন তাকে সেটি কুরবানী করার অনুমতি দান করলেন। (বর্ণনাকারী বলেনঃ) আমি জানি না, এ অনুমতি অন্যদের জন্যেও কিনা। তারপর নবী (ﷺ) ভেড়া দু'টির দিকে ঝুকলেন তিনি সে দু'টিকে জবাই করলেন। এরপর লোকেরা ছাগলের ছোট একটি ক্ষুদ্র পালের দিকে গেল এবং সেগুলোকে জবাই করল।

জুনদুব ইবন সুফ্ইয়ান বাজালী হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি কুরবানীর দিন নবী (ﷺ) এর নিকট হাজির ছিলাম। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের আগে জবাই করেছে, সে যেন এর স্থলে আবার জবাই করে। আর যে ব্যক্তি জবাই করেনি, সে যেন জবাই করে নেয়।

বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করে বললেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের মত সালাত আদায় করে, আমাদের কিবলাকে কিবলা বলে গ্রহণ করে সে যেন ঈদের সালাত) শেষ না করা পর্যন্ত জবাই না করে। তখন আবূ বুরদাহ ইবন নিয়ার দাড়িয়ে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমিতো জবাই করে ফেলেছি। তিনি উত্তর দিলেনঃ এটি এমন জিনিস হল যা তুমি তাড়াহুড়ো করে ফেলেছ। আবূ বুরদাহ বললেনঃ আমার কাছে একটি অল্প বয়সের ছাগলআছে। সেটি পূর্ণ বয়স্ক দু'টি ছাগলের চেয়ে উৎকৃষ্ট। আমি কি সেটি জবাই করতে পারি? তিনি উত্তর দিলেনঃ হা। তবে তোমার পরে আর কারো জন্য তা জবাই করা যথেষ্ট হবে না। 'আমির বলেনঃ এটি হল তার উৎকৃষ্ট কুরবানী।

আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) দু'টি শিংওয়ালা সাদা-কালো রঙের ভেড়া কুরবানী করতেন। তিনি পশুগুলোর পার্শ্ব তার পায়ে চেপে ধরে সেগুলোকে নিজ হাতে জবাই করতেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দু'টি সাদা-কালো রং এর শিং ওয়ালা ভেড়া কুরবানী করেন। তিনি ভেড়া দু'টির পার্শ্বে তার পা রেখে 'বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার' বলে স্বহস্তেসেই দু'টিকে জবাই করেন।

মাসরূক হতে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ-এর কাছে এসে তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে উম্মুল মুমিনীন! কোন ব্যক্তি যদি কাবার উদ্দেশে হাদী কুরবানীর পশু) পাঠিয়ে দেয় এবং নিজে আপন শহরে অবস্থান করে নির্দেশ দেয় যে, তার হাদীকে যেন মালা পরিয়ে নেয়া হয়, তাহলে সেদিন থেকে লোকদের হালাল হওয়া পর্যন্ত কি সে ব্যক্তির ইহরামের হালাতে থাকতে হবে? মাসরূক বলেনঃ তখন আমি পর্দার আড়াল থেকে তার [আয়িশাহ] হাতের উপর হাত মারার শব্দ শুনলাম। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীর কুরবানীর পশু) গলায় রশি পাকিয়ে পরিয়ে দিতাম। এরপর তিনি হাদীকে কাবার উদ্দেশে প্রেরণ করতেন। তখন স্বামী-স্ত্রীর বৈধ কাজ, লোকেরা ফিরে আসা পর্যন্ত নবী (ﷺ) এর উপর হারাম হত না।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর যুগে আমরা মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত কুরবানীর গোশত সঞ্চয় করে রাখতাম।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি (দীর্ঘদিন) বাইরে ছিলেন। পরে ফিরে আসলে তার সম্মুখে গোশত পেশ করা হল। তিনি বললেনঃ এটি কি আমাদের কুরবানীর গোশত? এরপর তিনি বললেনঃ এটি সরিয়ে দাও, আমি তা খাব না। তিনি বলেন, এরপর আমি উঠে গেলাম এবং বেরিয়ে গিয়ে আমার ভাই আবূ ক্বাতাদাহ ইবন নুমান-এর নিকট এলাম। আবূ ক্বাতাদাহ ছিলেন তার বৈপিত্রেয় ভাই এবং তিনি ছিলেন বাদরী সাহাবী। (তিনি বলেন) অতঃপর বিষয়টি আমি তাকে জানালে তিনি বললেনঃ তোমার অনুপস্থিতির সময় এরূপ বিধান চালু হয়েছে।

সালামাহ ইবন আকওয়া' হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের যে লোক কুরবানী করেছে, সে যেন তৃতীয় দিনে এমন অবস্থায় সকাল অতিবাহিত না করে যে, তার ঘরে কুরবানীর গোশ্ত কিছু থেকে যায়। পরবর্তী বছর আসলে, সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তেমন করব, যেমন গত বছর করেছিলাম? তখন তিনি বললেনঃ তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখ, কারণ গত বছর মানুষের মধ্যে ছিল অনটন। তাই আমি চেয়েছিলাম, তোমরা তাতে সহযোগিতা কর।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদিনায় অবস্থান কালে আমরা কুরবানীর গোশতের মধ্যে লবণ মিশিয়ে রেখে দিতাম। এরপর তা নবী (ﷺ) এর সম্মুখে পেশ করতাম। তিনি বলতেনঃ তোমরা তিন দিনের বেশি খাবে না। তবে এটি বড় ব্যাপার নয়। বরং তিনি তাথেকে অন্যদেরকেও খাওয়াতে চেয়েছেন। আল্লাহই বেশি জানেন।

ইবন আযহাবের আযাদকৃত দাস আবূ উবায়দ হতে বর্ণিত যে, তিনি উমার ইবন খত্তাব-এর সঙ্গে কুরবানীর ঈদের দিন ঈদগাহে হাযির ছিলেন। উমার খুতবার পূর্বে সালাত আদায় করেন। এরপর উপস্থিত জনতার সামনে খুতবা দেন। তখন তিনি বলেনঃ হে লোক সকল! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু' ঈদের দিনে সিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন। তার মধ্যে একটি হল, তোমাদের সিয়াম ভঙ্গ করার দিন (ঈদুল ফিতর)। আর অন্যটি হল, এমন দিন যেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর পশুর গোশত খাবে।

আবূ উবায়দ বলেনঃ এরপর আমি উসমান ইবন আফফান এর সময়ও হাযির হয়েছি। সেদিন ছিল জুমুআহর দিন। তিনি খুতবা দানের আগে সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি খুতবাহ্ দিতে গিয়ে দাড়িয়ে বললেনঃ হে লোক সকল! এটি এমন দিন, যে দিন তোমাদের জন্য দু'টি ঈদ একত্র হয়ে গেছে। কাজেই তোমাদের মধ্যে আওয়ালী মদিনার চার মাইল পূর্বে অবস্থিত) এলাকার যে ব্যক্তি জুমুআর সালাতের অপেক্ষা করতে চায়, সে যেন অপেক্ষা করে। আর যে ফিরে যেতে চায়, তার জন্য আমি অনুমতি প্রদান করলাম।

আবূ উবায়দ বলেনঃ এরপর ঈদগাহে উপস্থিত হয়েছি আলী ইবন আবূ তালিব-এর সময়ে। তিনি খুতবার আগে সালাত আদায় করেন। এরপর লোকজনের উদ্দেশে খুতবাহ দেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের কুরবানীর পশুর গোশত তিন দিনের বেশি সময় খেতে নিষেধ করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুরবানীর গোশত থেকে তোমরা তিন দিন পর্যন্ত খাও। আবদুল্লাহ মিনা থেকে প্রত্যাবর্তন কালে কুরবানীর গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকার কারণে যায়তুন খাদ্য গ্রহণ করতেন।