bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

রোযা (সাওম) (১৮৯১-২০০৭)

তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, এলোমেলো চুলসহ একজন গ্রাম্য আরব আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট এলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বলুন, আল্লাহ তাআলা আমার উপর কত সালাত ফরজ করেছেন? তিনি বললেনঃ পাচ (ওয়াক্ত) সালাত; তবে তুমি যদি কিছু নফল আদায় কর তা স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন, বলুন, আমার উপর কত সিয়াম আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ রমাযান মাসের সওম; তবে তুমি যদি কিছু নফল সিয়াম আদায় কর তা হল স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন, বলুন, আল্লাহ আমার উপর কী পরিমাণ যাকাত ফরজ করেছেন? রাবী বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে ইসলামের বিধান জানিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আল্লাহ আমার উপর যা ফরজ করেছেন, আমি এর মাঝে কিছু বাড়াব না এবং কমাবও না। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করল কিংবা বলেছেন, সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করল।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) 'আশূরার দিন সিয়াম পালন করেছেন এবং এ সিয়ামের জন্য আদেশও করেছেন। পরে যখন রমাযানের সিয়াম ফরজ হল তখন তা ছেড়ে দেওয়া হয়। আবদুল্লাহ এ সিয়াম পালন করতেন না, তবে মাসের যে দিনগুলোতে সাধারণত সিয়াম পালন করতেন, তার সাথে মিল হলে করতেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে কুরায়শগণ 'আশূরার দিন সওম পালন করত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -ও পরে এ সওম পালনের নির্দেশ দেন। অবশেষে রমাযানের সিয়াম ফরজ হলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ যার ইচ্ছা 'আশূরার সিয়াম পালন করবে এবং যার ইচ্ছা সে সওম পালন করবে না।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুই বার বলে, আমি সওম পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই সওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের সুগন্ধির চাইতেও উৎকৃষ্ট, সে আমার জন্য আহার, পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে। সিয়াম আমারই জন্য। তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ গুণ।

হুযাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমার বললেন, ফিতনা সম্পর্কিত নবী (ﷺ) -এর হাদীসটি কার মুখস্থ আছে? হুযাইফাহ বললেন, আমি নবী (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি যে, পরিবার, ধন-সম্পদ এবং প্রতিবেশীই মানুষের জন্য ফিতনা। সালাত, সিয়াম এবং সদকা এর কাফফারা হয়ে যায়। উমার বললেন, এ ফিতনা সম্পর্কে আমি প্রশ্ন করছি না, আমি তো প্রশ্ন করেছি ঐ ফিতনা সম্পর্কে, যা সমুদ্রের ঢেউয়ের ন্যায় আন্দোলিত হতে থাকবে। হুযাইফাহ বললেন, এ ফিতনার সামনে বন্ধ দরজা আছে। উমার বললেন, এ দরজা কি খুলে যাবে, না ভেঙ্গে যাবে? হুযাইফাহ বললেন, ভেঙ্গে যাবে। উমার বললেন, তাহলে তো তা কিয়ামত পর্যন্ত বন্ধ হবে না। আমরা মাসরূক-কে বললাম, হুযাইফাহ-কে জিজ্ঞেস করুন, উমার কি জানতেন, কে সেই দরজা? তিনি বললেন, হা, তিনি এরূপ জানতেন যেরূপ কালকের দিনের পূর্বে আজকের রাত।

সাহল হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতে রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সওম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাদের ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেয়া হবে, সওম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাড়াবে। তারা ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। যাতে করে এ দরজাটি দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে কেউ আল্লাহর পথে জোড়া জোড়া ব্যয় করবে তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ হতে ডাকা হবে, হে আল্লাহর বান্দা! এটাই উত্তম। অতএব যে সালাত আদায়কারী, তাকে সালাতের দরজা হতে ডাকা হবে। যে মুজাহিদ, তাকে জিহাদের দরজা হতে ডাকা হবে। যে সিয়াম পালনকারী, তাকে রাইয়্যান দরজা হতে ডাকা হবে। যে সদাকাহ দানকারী, তাকে সদাকাহর দরজা হতে ডাকা হবে। এরপর আবূ বাকর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক, সকল দরজা হতে কাউকে ডাকার কোন প্রয়োজন নেই, তবে কি কাউকে সব দরজা হতে ডাকা হবে? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হা। আমি আশা করি তুমি তাদের মধ্যে হবে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রমাযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলতেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ রমাযান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানগুলোকে শিকলবন্দী করে দেয়া হয়।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা তা (চাঁদ) দেখবে তখন সওম রাখবে, আবার যখন তা দেখবে তখন ইফ্তার করবে। আর যদি আকাশ মেঘলা থাকে তবে সময় হিসাব করে (ত্রিশ দিন) পূর্ণ করবে। ইয়াহইয়া ইবন বুকায়র ব্যতীত অন্যরা লায়স হতে 'উকায়ল এবং ইউনুস সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) কথাটি বলেছেন রমাযানের চাঁদ সম্পর্কে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদ্রে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদাত করে, তার পিছনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমাযানে সিয়াম পালন করবে, তারও অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করা হবে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ধন-সম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সকলের চেয়ে দানশীল ছিলেন। রমাযানে জিবরাঈল যখন তার সঙ্গে সাক্ষাত করতেন, তখন তিনি আরো অধিক দান করতেন। রমাযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাতেই জিবরাঈল তার সঙ্গে একবার সাক্ষাত করতেন। আর নবী (ﷺ) তাকে কুরআন শোনাতেন। জিবরাঈল যখন তার সঙ্গে সাক্ষাত করতেন তখন তিনি রহমতসহ প্রেরিত বায়ুর চেয়ে অধিক ধন-সম্পদ দান করতেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তার এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, সওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। যার কবজায় মুহাম্মাদের প্রাণ, তার শপথ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিস্কের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধি। সায়িমের জন্য রয়েছে দু'টি খুশী যা তাকে খুশী করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশী হয় এবং যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে।

আলকামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ-এর সঙ্গে চলতে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাথে ছিলাম, তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে চোখকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংযত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম পালন করে। সওম তার প্রবৃত্তিকে দমন করে।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রমাযানের কথা আলোচনা করে বললেনঃ চাঁদ না দেখে তোমরা সওম পালন করবে না এবং চাঁদ না দেখে ইফ্তার বন্ধ করবে না। যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে তার সময় (ত্রিশ দিন) পরিমাণ পূর্ণ করবে।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ মাস ঊনত্রিশ রাত বিশিষ্ট হয়। তাই তোমরা চাঁদ না দেখে সওম শুরু করবে না। যদি আকাশ মেঘাবৃত থাকে তাহলে তোমরা ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) (দু'হাতের অঙ্গুলি তুলে ইঙ্গিত করে) বলেনঃ মাস এত এত দিনে হয় এবং তৃতীয় বার বৃদ্ধাঙ্গুলিটি বন্ধ করে নিলেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) অথবা বলেন, আবুল কাসিম (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম আরম্ভ করবে এবং চাঁদ দেখে ইফতার করবে। আকাশ যদি মেঘে ঢাকা থাকে তাহলে শা'বানের গণনা ত্রিশ দিন পুরা করবে।

উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক মাসের মত তার স্ত্রীদের সাথে ঈলা করলেন। ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সকালে বা সন্ধ্যায় তিনি তাদের নিকট গমন করলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি তো এক মাস পর্যন্ত না আসার শপথ করেছিলেন? তিনি বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তার স্ত্রীদের সাথে ঈলা করলেন। এ সময় তার পা মচকে গিয়েছিল। তখন তিনি উপরের কামরায় ঊনত্রিশ রাত অবস্থান করেন। এরপর তিনি নেমে আসলে সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো এক মাসের জন্য ঈলা করেছিলেন। তিনি বললেনঃ মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে।

আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকরা হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, দু'টি মাস কম হয় না। তা হল ঈদের দু'মাস- রমাযানের মাস ও যুলহাজ্জের মাস। আবূ আবদুল্লাহ বলেছেন, আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, রমাযান ঘাটতি হলে যুলহাজ্জ পূর্ণ হবে। আর যুলহাজ্জ ঘাটটি হলে রমাযান পূর্ণ হবে। আবুল হাসান বলেন, ইসহাক ইবন রাহওয়াই বলেন, ফাযীলতের দিক হতে এ দু' মাসে কোন ঘাটতি নেই, মাস ঊনত্রিশ দিনে হোক বা ত্রিশ দিনে হোক।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ আমরা উম্মী জাতি। আমরা লিখি না এবং হিসাবও করি না। মাস এরূপ কখনও ঊনত্রিশ দিনের আবার কখনো ত্রিশ দিনের হয়ে থাকে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কেউ রমাযানের একদিন কিংবা দু'দিন আগে হতে সওম শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এ সময় সিয়াম পালনে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে সেদিন সওম পালন করতে পারবে।

বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর সাহাবীগণের অবস্থা এই ছিল যে, যদি তাদের কেউ সওম পালন করতেন তাহলে ইফ্তারের সময় হলে ইফ্তার না করে নিদ্রা গেলে সে রাত্রে এবং পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই খেতেন না। কায়স ইবন সিরমা আনসারী সওম করেছিলেন। ইফ্তারের সময় তিনি তার স্ত্রীর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু খাবার আছে কি? তিনি বললেন, না, তবে আমি যাচ্ছি, দেখি আপনার জন্য কিছু খোজ করে আনি। তিনি দিনে কাজে নিয়োজিত থাকতেন। তাই ঘুমে তার দু'চোখ বুজে গেল। এরপর তার স্ত্রী এসে যখন তাকে দেখলেন, তখন তাকে বললেন, হায়, তুমি বঞ্চিত হয়ে গেলে! পরদিন দুপুর হলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। এ ঘটনাটি নবী (ﷺ) -এর নিকট উল্লেখ করা হলে কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়- "সিয়ামের রাতে তোমাদের স্ত্রী সম্ভোগ হালাল করা হয়েছে"- (আল-বাকারাহ্ঃ ১৮৭)। এর হুকুম সম্বন্ধে অবহিত হয়ে সাহাবীগণ খুবই খুশি হলেন। এরপর নাযিল হলঃ "আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায়"- (আল-বাকারাহ্ঃ ১৮৭)।

আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলোঃ "তোমরা পানাহার কর (রাত্রির) কাল রেখা হতে (ভোরের) সাদা রেখা যতক্ষণ স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়" তখন আমি একটি কাল এবং একটি সাদা রশি নিলাম এবং উভয়টিকে আমার বালিশের নিচে রেখে দিলাম। রাতে আমি এগুলোর দিকে বারবার তাকাতে থাকি। কিন্তু আমার নিকট পার্থক্য প্রকাশিত হলো না। তাই সকালেই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট গিয়ে এ বিষয় বললাম। তিনি বললেনঃ এতো রাতের আধার এবং দিনের আলো।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলঃ"তোমরা পানাহার কর, যতক্ষণ কাল রেখা হতে সাদা রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়।" কিন্তু তখনো 'ভোরের' কথাটি নাযিল হয়নি। তখন সওম পালন করতে ইচ্ছুক লোকেরা নিজেদের দুই পায়ে একটি কাল এবং একটি সাদা সুতলি বেধে নিতেন এবং সাদা কাল এই দু'টির মধ্যে পার্থক্য না দেখা পর্যন্ত তারা পানাহার করতে থাকতেন। এরপর আল্লাহ তাআলা- 'ভোরের' শব্দটি নাযিল করলে সকলেই বুঝতে পারলেন যে, এ দ্বারা উদ্দেশ্য হল রাত (-এর আধার) এবং দিন (-এর আলো)।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল রাতে আযান দিতেন। তাই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ ইবন উম্মু মাকতূম আযান না দেয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার কর। কেননা ফজর না হওয়া পর্যন্ত সে আযান দেয় না।

কাসিম বলেন, এদের উভয়ের আযানের মাঝে শুধু এতটুকু ব্যবধান ছিল যে, একজন নামতেন এবং অন্যজন উঠতেন।

সাহল ইবন 'সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পরিবার-পরিজনের মাঝে সাহরী খেতাম। এরপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাথে সালাতে অংশ গ্রহণ করার জন্য জলদি করতাম।

যায়দ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে সাহরী খাই এরপর তিনি সালাতের জন্য দাড়ান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আযান ও সাহরীর মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমাণ।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) একটানা সওম পালন করতে থাকলে লোকেরাও একটানা সওম পালন করতে শুরু করে। এ কাজ তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাড়াল। নবী (ﷺ) তাদের নিষেধ করলেন। তারা বলল, আপনি যে এক নাগাড়ে সওম পালন করছেন? তিনি বললেনঃ আমি তো তোমাদের মত নই। আমাকে খাওয়ানো হয় ও পান করানো হয়।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাও, কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে।

সালমা ইবন আকওয়া' হতে বর্ণিত যে, 'আশূরার দিন নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে এ বলে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠালেন যে, যে ব্যক্তি খেয়ে ফেলেছে সে যেন পূর্ণ করে নেয় অথবা বলেছেন, সে যেন সওম আদায় করে নেয় আর যে এখনো খায়নি সে যেন আর না খায়।

আয়িশাহ্ এবং উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। অনেক সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার স্ত্রীদের সাথে সহবাসের পর সকালে জুনূবী অবস্থায় উঠতেন। এরপর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (১৯২৫)।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সওমের অবস্থায় চুমু খেতেন এবং গায়ে গা লাগাতেন। তবে তিনি তার প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে তোমাদের চেয়ে অধিক সক্ষম ছিলেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সায়িম অবস্থায় নবী (ﷺ) তার কোন কোন স্ত্রীকে চুমু খেতেন। (এ কথা বলে) আয়িশাহ হেসে দিলেন।

উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে একই চাদরে আমি ছিলাম। এমন সময় আমার ঋতু শুরু হল। তখন আমি আমার হায়যের কাপড় পরিধান করলাম। তিনি বললেন: তোমার কী হলো? তোমার কি ঋতু দেখা দিয়েছে? আমি বললাম, হা; অতঃপর আমি আবার তার সঙ্গে চাদরের ভিতর ঢুকে পড়লাম। আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি পাত্র থেকে গোসল করতাম এবং তিনি রোযা অবস্থায় আমাকে চুমু দিতেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযান মাসে নবী (ﷺ) -এর ভোর হয়ে যেত ইহ্তিলাম (স্বপ্নদোষ) ব্যতীত (জুনুবী অবস্থায়)। তখন তিনি গোসল করতেন এবং সওম পালন করতেন।

আবূ বাকর ইবন আবদুর রহমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে রওয়ানা হয়ে আয়িশাহ-এর নিকট পৌছলাম। তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি স্বপ্নদোষ ব্যতীত স্ত্রী সহবাসের কারণে জুনুবী অবস্থায় সকাল পর্যন্ত থেকেছেন এবং এরপর সওম পালন করেছেন।

অতঃপর আমরা উম্মু সালামাহ-এর নিকট গেলাম। তিনিও অনুরূপ কথাই বললেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সওম পালনকারী ভুলক্রমে যদি আহার করে বা পান করে ফেলে, তাহলে সে যেন তার সওম পুরা করে নেয়। কেননা আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন।

হুমরান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান-কে উযূ করতে দেখেছি। তিনি তিনবার হাতের উপর পানি ঢাললেন। এরপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন। অতঃপর তিনবার চেহারা (মুখমন্ডল) ধুলেন। এরপর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন এবং বামহাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। এরপর তিনি মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর ডান পা তিনবার ধুলেন অতঃপর বাম পা তিনবার ধুলেন। এরপর বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে উযূ করতে দেখেছি আমার এ উযূর মতই। এরপর তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ উযূর মত উযূ করে দু'রাকাত সালাত আদায় করবে এবং এতে মনে মনে কোন কিছুর চিন্তা-ভাবনায় লিপ্ত হবে না, তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর কাছে এসে বলল যে, সে তো জ্বলে গেছে। তিনি বললেনঃ তোমার কি হয়েছে? লোকটি বলল, রমাযানে আমি স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি। এ সময় নবী (ﷺ) -এর কাছে (খেজুর ভর্তি) ঝুড়ি এল, যাকে 'আরাক (১৫ সা' পরিমাণ) বলা হয়। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ অগ্নিদগ্ধ লোকটি কোথায়? লোকটি বলল, আমি। নবী (ﷺ) বললেনঃ এ গুলো সদাকাহ করে দাও।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? সে বলল, আমি সায়িম অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আযাদ করার মত কোন ক্রীতদাস তুমি পাবে কি? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি একাধারে দু'মাস সওম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। এরপর তিনি বললেনঃ ষাটজন মিসকীন খাওয়াতে পারবে কি? সে বলল, না। রাবী বলেন, তখন নবী (ﷺ) থেমে গেলেন, আমরাও এ অবস্থায় ছিলাম। এ সময় নবী (ﷺ) -এর কাছে এক 'আরাক পেশ করা হল যাতে খেজুর ছিল। 'আরাক হল ঝুড়ি। নবী (ﷺ) বললেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়? সে বলল, আমি। তিনি বললেনঃ এগুলো নিয়ে সদাকাহ করে দাও। তখন লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার চাইতেও বেশি অভাবগ্রস্তকে সদাকাহ করব? আল্লাহর শপথ, মাদ্বীনার উভয় লাবা উভয় প্রান্তের মধ্যে আমার পরিবারের চেয়ে অভাবগ্রস্ত কেউ নেই। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হেসে উঠলেন এবং তার দাত (আনইয়াব) দেখা গেল। অতঃপর তিনি বললেনঃ এগুলো তোমার পরিবারকে খাওয়াও।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর কাছে এসে বলল, এই হতভাগা স্ত্রী সহবাস করেছে রমাযানে। তিনি বললেনঃ তুমি কি একটি গোলাম আযাদ করতে পারবে? লোকটি বলল, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি ক্রমাগত দু' মাস সিয়াম পালন করতে পারবে? লোকটি বলল, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি ষাটজন মিসকীন খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। এমতাবস্থায় নবী (ﷺ) -এর নিকট এক 'আরাক এক ঝুড়ি খেজুর এল। নবী (ﷺ) বললেনঃ এগুলো তোমার তরফ হতে লোকদেরকে আহার করাও। লোকটি বলল, আমার চাইতেও অধিক অভাবগ্রস্ত কে? অথচ মাদ্বীনার উভয় লাবার হাররার মধ্যবর্তী স্থলে আমার পরিবারের চেয়ে অধিক অভাবগ্রস্ত কেউ নেই। নবী (ﷺ) বললেনঃ তা হলে তুমি স্বীয় পরিবারকেই খাওয়াও।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মুহরিম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন এবং সায়িম অবস্থায়ও শিঙ্গা লাগিয়েছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সায়িম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন।

সাবিত আল-বুনানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবন মালিক-কে প্রশ্ন করা হল, আপনারা কি সায়িমের শিঙ্গা লাগানো (রক্তমোক্ষম) অপছন্দ করতেন? তিনি বললেন, না। তবে দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে অপছন্দ করতাম।

ইবন আবূ আওফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে ছিলাম। নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে বললেনঃ সওয়ারী হতে নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সূর্য এখনো অস্ত যায়নি। তিনি বললেনঃ সওয়ারী হতে নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সূর্য এখনো ডুবেনি। তিনি বললেনঃ সওয়ারী হতে নামো এবং আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। অতঃপর সে সওয়ারী হতে নেমে ছাতু গুলিয়ে আনলে তিনি তা পান করলেন এবং হাতের ইঙ্গিতে বললেনঃ যখন দেখবে রাত এদিক হতে ঘনিয়ে আসছে তখন বুঝবে, সওম পালনকারী ব্যক্তির ইফতারের সময় হয়েছে। জারীর এবং আবূ বাকর ইবন 'আইয়াশ...ইবন আবূ আওফা হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে ছিলাম।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। হামযাহ ইবন আমর আসলামী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একাধারে সিয়ামব্রত পালন করছি।

নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, হামযাহ ইবন আমর আসলামী অধিক সওম পালনে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি নবী (ﷺ) -কে বললেন, আমি সফরেও কি সওম পালন করতে পারি? তিনি বললেনঃ ইচ্ছা করলে তুমি সওম পালন করতে পার, আবার ইচ্ছা করলে নাও করতে পার।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সওমের অবস্থায় কোন এক রমাযানে মক্কার পথে যাত্রা করলেন। কাদীদ নামক স্থানে পৌছার পর তিনি সওম ভঙ্গ করে ফেললে লোকেরা সকলেই সওম ভঙ্গ করলেন। আবূ আবদুল্লাহ বলেন, 'উসফান ও কুদায়দ নামক দুই স্থানের মধ্যে কাদীদ একটি ঝর্ণা।

আবু দারদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে প্রচন্ড গরমের দিনে আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে যাত্রা করলাম। গরম এত প্রচন্ড ছিল যে, প্রত্যেকেই আপন আপন হাত মাথার উপর তুলে ধরেছিলেন। এ সময় নবী (ﷺ) এবং ইবনে রাওয়াহা ব্যতীত আমাদের কেউই সিয়ামরত ছিলেন না।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এক সফরে ছিলেন, হঠাৎ তিনি লোকের জটলা এবং ছায়ার নিচে এক ব্যক্তিকে দেখে জিজ্ঞেস করলেনঃ এর কী হয়েছে? লোকেরা বলল, সে সায়িম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ সফরে সওম পালনে কোন সওয়াব নেই।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সফরে যেতাম। সায়িম ব্যক্তি গায়ের সায়িমকে (যে সওম পালন করছে না) এবং গায়ের সায়িম ব্যক্তি সায়িমকে দোষারোপ করত না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মদিনা হতে মক্কায় রওয়ানা হলেন। তখন তিনি সওম পালন করছিলেন। 'উসফানে পৌছার পর তিনি পানি আনার জন্য আদেশ করলেন। অতঃপর তিনি লোকদেরকে দেখানোর জন্য পানি হাতের উপর উচু করে ধরে সওম ভঙ্গ করলেন এবং এ অবস্থায় মক্কায় পৌছলেন। এ ছিল রমাযান মাসে। তাই ইবন আব্বাস বলতেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সওম পালন করেছেন এবং সওম ভঙ্গ করেছেন। যার ইচ্ছা সওম পালন করতে পারে আর যার ইচ্ছা সওম ভঙ্গ করতে পারে।

নাফি বর্ণনা করেছেন: ইবনে উমর আয়াতটি পাঠ করলেন: "তাদের রোজা রাখা বা প্রতিদিন একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে খাওয়ানোর বিকল্প ছিল এবং বলেছিল যে এই আয়াতের আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার উপর রমাযানের যে কাযা হয়ে যেত তা পরবর্তী শা'বান ব্যতীত আমি আদায় করতে পারতাম না। ইয়াহ্ইয়া বলেন, নবী (ﷺ) -এর ব্যস্ততার কারণে কিংবা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে ব্যস্ততার কারণে।

আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এ কথা কি ঠিক নয় যে, ঋতু শুরু হলে মেয়েরা সালাত আদায় করে না এবং সওমও পালন করে না। এ হল তাদের দ্বীনেরই ত্রুটি।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: সওমের কাযা যিম্মায় রেখে যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় তাহলে তার অভিভাবক তার পক্ষ হতে সওম আদায় করবে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা এক মাসের সওম যিম্মায় রেখে মারা গেছেন, আমি কি তার পক্ষ হতে এ সওম কাযা করতে পারি? তিনি বলেনঃ হা, আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করাই হল অধিক যোগ্য। সুলায়মান বলেন, হাকাম এবং সালামাহ বলেছেন, মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করার সময় আমরা সকলেই একসাথে উপবিষ্ট ছিলাম। তারা উভয়ই বলেছেন যে, ইবন আব্বাস হতে মুজাহিদ-কে এ হাদীস বর্ণনা করতে আমরা শুনেছি। আবূ খালিদ আহমার....ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা নবী (ﷺ) -কে বলল, আমার বোন মারা গেছে। ইয়াহইয়া ও আবূ মু'আবিয়া....ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত, জনৈকা মহিলা নবী (ﷺ) -কে বলল, আমার মা মারা গেছেন। উবায়দুল্লাহ....ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত, এক মহিলা নবী (ﷺ) -কে বলল, আমার মা মারা গেছে, অথচ তার যিম্মায় মানতের সওম রয়েছে। আবূ হারীয....ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত, এক মহিলা নবী (ﷺ) -কে বলল, আমার মা মারা গেছে, অথচ তার যিম্মায় পনের দিনের সওম রয়ে গেছে।

উমার ইবন খাত্তাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রাত্র সে দিক হতে ঘনিয়ে আসে ও দিন এ দিক হতে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন সায়িম ইফতার করবে।

আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাথে ছিলাম। আর তিনি ছিলেন সওমের অবস্থায়। যখন সূর্য ডুবে গেল তখন তিনি দলের কাউকে বললেনঃ হে অমুক! উঠ। আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। সে বলল, সন্ধ্যা হলে ভাল হতো। তিনি বললেনঃ নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সন্ধ্যা হলে ভাল হতো। তিনি বললেনঃ নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। সে বলল, দিন তো এখনো রয়ে গেছে। তিনি বললেনঃ তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। অতঃপর সে নামল এবং তাদের জন্য ছাতু গুলে আনল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তা পান করলেন, অতঃপর বললেনঃ যখন তোমরা দেখবে, রাত একদিক হতে ঘনিয়ে আসছে, তখন সওম পালনকারী ইফতার করবে।

আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে রওয়ানা দিলাম এবং তিনি সওমরত ছিলেন। সূর্য অস্ত যেতেই তিনি বললেনঃ তুমি সওয়ারী হতে নেমে আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আর একটু সন্ধ্যা হতে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখনো তো আপনার সামনে দিন রয়েছে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তুমি নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। অতঃপর তিনি সওয়ারী হতে নামলেন এবং ছাতু গুলে আনলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আঙ্গুল দ্বারা পূর্বদিকে ইঙ্গিত করে বললেনঃ যখন তোমরা দেখবে যে, রাত এদিক হতে আসছে, তখনই সওম পালনকারীর ইফতারের সময় হয়ে গেল।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ লোকেরা যতদিন শীঘ্র ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে।

ইবন আবূ আওফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত সওম পালন করেন। এরপর এক ব্যক্তিকে বললেনঃ সওয়ারী হতে নেমে ছাতু গুলে আন। লোকটি বলল, আপনি যদি (পূর্ণ সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত) অপেক্ষা করতেন। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) পুনরায় বললেনঃ নেমে আমার জন্য ছাতু গুলে আন। [তারপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন] যখন তুমি এদিক (পূর্বদিক) হতে রাত্রির আগমন দেখতে পাবে তখন সওম পালনকারী ইফতার করবে।

আসমা বিনত আবূ বাকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর যুগে একদা মেঘাচ্ছন্ন দিনে আমরা ইফতার করলাম, এরপর সূর্য দেখা যায়। বর্ণনাকারী হিশামকে জিজ্ঞেস করা হল, তাদের কি কাযা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল? হিশাম বললেন, কাযা ব্যতীত উপায় কী? (অপর বর্ণনাকারী) মা'মার বলেন, আমি হিশামকে বলতে শুনেছি, তারা কাযা করেছিলেন কি না তা আমি জানি না।

রুবায়্যি' বিনতু মু'আব্বিয হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আশূরার সকালে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আনসারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেনঃ যে ব্যক্তি সওম পালন করেনি সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যার সওম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন সওম পূর্ণ করে। তিনি (রুবায়্যি') বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন সওম পালন করতাম এবং আমাদের শিশুদের সওম পালন করাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত।

আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমরা সওমে বিসাল পালন করবে না। লোকেরা বলল, আপনি যে সওমে বিসাল করেন? তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মত নই। আমাকে পানাহার করানো হয় (অথবা বললেন) আমি পানাহার অবস্থায় রাত অতিবাহিত করি।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সওমে বেসাল হতে নিষেধ করলেন। লোকেরা বললো, আপনি যে সওমে বেসাল পালন করেন! তিনি বললেন: আমি তোমাদের মত নই, আমাকে পানাহার করানো হয়।

আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছেন যে, তোমরা সওমে বিসাল পালন করবে না। তোমাদের কেউ সওমে বিসাল করতে চাইলে সে যেন সাহরীর সময় পর্যন্ত করে। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যে সওমে বিসাল পালন করেন? তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মত নই, আমি রাত্রি যাপন করি এরূপ অবস্থায় যে, আমার জন্য একজন খাদ্য পরিবেশনকারী থাকেন যিনি আমাকে আহার করান এবং একজন পানীয় পরিবেশনকারী আমাকে পান করান।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) লোকদের উপর দয়াপরবশ হয়ে তাদেরকে সওমে বেসাল হতে নিষেধ করলে তারা বলল, আপনি যে সওমে বেসাল করে থাকেন! তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মত নই, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বিরতিহীন সওম (সওমে বিসাল) পালন করতে নিষেধ করলে মুসলিমদের এক ব্যক্তি তাকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যে বিরতিহীন (সওমে বিসাল) সওম পালন করেন? তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে আমার অনুরূপ কে আছ? আমি এমনভাবে রাত যাপন করি যে, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান। এরপর যখন লোকেরা সওমে বিসাল করা হতে বিরত থাকল না তখন তিনি তাদেরকে নিয়ে দিনের পর দিন (লাগাতার) সওমে বিসাল করতে থাকলেন। এরপর লোকেরা যখন চাঁদ দেখতে পেল তখন তিনি বললেন: যদি চাঁদ উঠতে আরো দেরী হত তবে আমি তোমাদেরকে নিয়ে আরো বেশী দিন সওমে বিসাল করতাম। এ কথা তিনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান স্বরূপ বলেছিলেন, যখন তারা বিরত থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা সওমে বেসাল পালন করা হতে বিরত থাক (বাক্যটি তিনি) দু'বার বললেন। তাকে বলা হল, আপনি তো সওমে বেসাল করেন। তিনি বললেনঃ আমি এভাবে রাত যাপন করি যে, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করিয়ে থাকেন। তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী আমল করার দায়িত্ব গ্রহণ করো।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছেন যে, তোমরা সওমে বিসাল করবে না। তোমাদের কেউ যদি সওমে বিসাল করতে চায়, তবে যেন সাহরীর সময় পর্যন্ত করে। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো সওমে বিসাল পালন করেন? তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মত নই। আমি এভাবে রাত যাপন করি যে, আমার জন্য একজন আহারদাতা রয়েছেন যিনি আমাকে আহার করান, একজন পানীয় দানকারী আছেন যিনি আমাকে পান করান।

আবূ জুহায়ফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সালমান ও আবুদ দারদা-এর মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দেন। (একদা) সালমান আবূদ দারদা-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে এসে উম্মুদ দারদা-কে মলিন কাপড় পরিহিত দেখতে পান। তিনি এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে উম্মুদ দারদা বললেন, আপনার ভাই আবুদ দারদার পার্থিব কোন কিছুরই প্রতি মোহ নেই। কিছুক্ষণ পরে আবূদ দারদা এলেন। অতঃপর তিনি সালমান-এর জন্য খাদ্য প্রস্তুত করান এবং বলেন, আপনি খেয়ে নিন, আমি সাওম পালন করছি। সালমান বললেন, আপনি না খেলে আমি খাবো না। এরপর আবূদ দারদা সালমান-এর সঙ্গে খেলেন। রাত হলে আবূদ দারদা (সালাত আদায়ে) দাড়াতে গেলেন। সালমান বললেন, এখন ঘুমিয়ে পড়েন। আবূদ দারদা ঘুমিয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে আবূদ দারদা আবার সালাতে দাড়াতে উদ্যত হলেন, সালমান বললেন, ঘুমিয়ে পড়েন। যখন রাতের শেষ ভাগ হলো, সালমান আবূদ দারদা -কে বললেন, এখন উঠুন। এরপর তারা দু'জনে সালাত আদায় করলেন। পরে সালমান তাকে বললেন, আপনার প্রতিপালকের হাক্ব আপনার উপর আছে। আপনার নিজেরও হাক্ব আপনার উপর রয়েছে। আবার আপনার পরিবারেরও হাক্ব রয়েছে। প্রত্যেক হাক্বদারকে তার হাক্ব প্রদান করুন। এরপর আবূদ দারদা নবী (ﷺ) -এর নিকট হাজির হয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ সালমান ঠিকই বলেছে।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একাধারে (এত অধিক) সওম পালন করতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর সওম পরিত্যাগ করবেন না। (আবার কখনো এত বেশি) সওম পালন না করা অবস্থায় একাধারে কাটাতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর (নফল) সওম পালন করবেন না। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে রমাযান ব্যতীত কোন পুরা মাসের সওম পালন করতে দেখিনি এবং শা'বান মাসের চেয়ে কোন মাসে অধিক (নফল) সওম পালন করতে দেখিনি।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) শা'বান মাসের চাইতে বেশি (নফল) সওম কোন মাসে পালন করতেন না। তিনি (প্রায়) পুরা শা'বান মাসই সওম রাখতেন এবং তিনি বলতেনঃ তোমাদের মধ্যে যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকু (নফল) আমল কর, কারণ তোমরা (আমল করতে করতে) পরিশ্রান্ত হয়ে না পড়া পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা (সাওয়াব দান) বন্ধ করেন না। নবী (ﷺ) -এর কাছে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় সালাত ছিল তাই- যা যথাযথ নিয়মে সর্বদা আদায় করা হত, যদিও তা পরিমাণে কম হত এবং তিনি যখন কোন (নফল) সালাত আদায় করতেন পরবর্তীতে তা অব্যাহত রাখতেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রমাযান ব্যতীত কোন মাসে পুরা মাসের সওম পালন করেননি। তিনি এমনভাবে (নফল) সওম পালন করতেন যে, কেউ বলতে চাইলে বলতে পারতো, আল্লাহর কসম! তিনি আর সওম পালন পরিত্যাগ করবেন না। আবার এমনভাবে (নফল) সওম ছেড়ে দিতেন যে, কেউ বলতে চাইলে বলতে পারতো আল্লাহর কসম! তিনি আর সওম পালন করবেন না।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কোন মাসে এভাবে সওম ছেড়ে দিতেন যে, আমরা মনে করতাম, তিনি এ মাসে আর সওম পালন করবেন না। আবার কোন মাসে এভাবে সওম পালন করতেন যে, আমরা মনে করতাম তিনি এ মাসে আর সওম ছাড়বেন না। আর তুমি যদি তাকে রাতে সালাত আদায়রত অবস্থায় দেখতে চাইতে তবে তা দেখতে পেতে, আবার যদি তুমি তাকে ঘুমন্ত দেখতে চাইতে তবে তাও দেখতে পেতে। সুলায়মান হুমাইদ সূত্রে বলেন যে, তিনি আনাস-কে সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছেন।

হুমাইদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস-কে নবী (ﷺ) -এর (নফল) সওমের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, যে কোন মাসে আমি তাকে সওম পালনরত অবস্থায় দেখতে চেয়েছি, তাকে সে অবস্থায় দেখেছি, আবার তাকে সওম পালন না করা অবস্থায় দেখতে চাইলে তাও দেখতে পেয়েছি। রাতে যদি তাকে সালাত আদায়রত অবস্থায় দেখতে চেয়েছি, তা প্রত্যক্ষ করেছি। আবার ঘুমন্ত দেখতে চাইলে তাও দেখতে পেয়েছি। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর হাত মুবারক হতে নরম কোন পশমী বা রেশমী কাপড় স্পর্শ করি নাই। আর আমি তার (শরীরের) ঘ্রাণ হতে অধিক সুগন্ধযুক্ত কোন মিশক বা আম্বর পাইনি।

আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন 'আস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার কাছে এলেন। এরপর তিনি [আবদুল্লাহ] হাদীসটি বর্ণনা করেন "তোমার উপর মেহমানের হাক্ব আছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হাক্ব আছে।" আমি জিজ্ঞেস করলাম, সওমে দাঊদ ('আ) কি? তিনি বললেন, "অর্ধেক বছর" (-এর সওম পালন করা)।

আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন 'আস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে বললেনঃ হে আবদুল্লাহ! আমি এ সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি প্রতিদিন সওম পালন কর এবং সারা রাত সালাত আদায় করে থাক। আমি বললাম, ঠিক (শুনেছেন) হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ এরূপ করবে না (বরং মাঝে মাঝে) সওম পালন কর আবার ছেড়েও দাও। (রাতে) সালাত আদায় কর আবার ঘুমাও। কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হাক্ব রয়েছে, তোমার চোখের হাক্ব রয়েছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হাক্ব আছে, তোমার মেহমানের হাক্ব আছে। তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সওম পালন কর। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকী। এভাবে সারা বছরের সওম হয়ে যায়। আমি (বললাম) আমি এর চেয়েও কঠোর আমল করতে সক্ষম। তখন আমাকে আরও কঠিন আমলের অনুমতি দেয়া হল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আরো বেশি শক্তি রাখি। তিনি বললেনঃ তবে আল্লাহর নবী দাঊদ-এর সওম পালন কর, এর হতে বেশি করতে যেয়ো না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নবী দাঊদ-এর সওম কেমন? তিনি বললেনঃ অর্ধেক বছর। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ বৃদ্ধ বয়সে বলতেন, আহা! আমি যদি নবী (ﷺ) প্রদত্ত রুখসত (সহজতর বিধান) কবূল করে নিতাম!

আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট আমার সম্পর্কে এ কথা পৌছে যায় যে, আমি বলেছি, আল্লাহর কসম, আমি যতদিন বেচে থাকব ততদিন সওম পালন করব এবং রাতভর সালাত আদায় করব। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করায় আমি বললাম, আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হোন! আমি এ কথা বলেছি। তিনি বললেনঃ তুমি তো এরূপ করতে সক্ষম হবে না। বরং তুমি সওম পালন কর ও ছেড়েও দাও, (রাতে) সালাত আদায় কর ও নিদ্রাও যাও। তুমি মাসে তিন দিন করে সওম পালন কর, কারণ নেক কাজের ফল তার দশগুণ; এভাবেই সারা বছরের সওম পালন হয়ে যাবে। আমি বললাম, আমি এর হতে বেশি করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে একদিন সওম পালন কর এবং দু'দিন ছেড়ে দাও। আমি বললাম, আমি এর হতে বেশি করার শক্তি রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে একদিন সওম পালন কর আর একদিন ছেড়ে দাও। এ হল দাঊদ-এর সওম এবং এ হল সর্বোত্তম (সওম)। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে বেশি করার সামর্থ্য রাখি। নবী (ﷺ) বললেনঃ এর চেয়ে উত্তম সওম (রাখার পদ্ধতি) আর নেই।

আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) -এর নিকট এ সংবাদ পৌছে যে, আমি একটানা সওম পালন করি এবং রাতভর সালাত আদায় করি। এরপর হয়ত তিনি আমার কাছে লোক পাঠালেন অথবা আমি তার সঙ্গে সাক্ষাত করলাম। তিনি বললেনঃ আমি কি এ কথা ঠিক শুনিনি যে, তুমি সওম পালন করতে থাক আর ছাড় না এবং তুমি (রাতভর) সালাত আদায় করতে থাক আর ঘুমাও না? (আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন)ঃ তুমি সওম পালন কর এবং মাঝে মাঝে তা ছেড়েও দাও। রাতে সালাত আদায় কর এবং নিদ্রাও যাও। কেননা তোমার উপর তোমার চোখের হক রয়েছে এবং তোমার নিজের শরীরের ও তোমার পরিবারের হক তোমার উপর আছে। আবদুল্লাহ বললেন, আমি এর চেয়ে বেশি শক্তি রাখি। তিনি [আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ] বললেনঃ তাহলে তুমি দাঊদ-এর সিয়াম পালন কর। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ বললেন, তা কিভাবে? তিনি বললেনঃ দাঊদ একদিন সওম পালন করতেন, একদিন ছেড়ে দিতেন এবং তিনি (শত্রুর) সম্মুখীন হলে পলায়ন করতেন না। আবদুল্লাহ বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমাকে এ শক্তি কে যোগাবে? বর্ণনাকারী আতা বলেন, (এ হাদীসে) কিভাবে সব সময়ের সিয়ামের প্রসঙ্গ আসে সে কথাটুকু আমার মনে নেই (অবশ্য) এতটুকু মনে আছে যে, নবী (ﷺ) দু'বার এ কথাটি বলেছেন, সব সময়ের সওম কোন সওম নয়।

আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি প্রতি মাসে তিন দিন সওম পালন কর। আবদুল্লাহ বললেন, আমি এর চেয়ে বেশি করার শক্তি রাখি। এভাবে তিনি বৃদ্ধির আবেদন করতে লাগলেন, অবশেষে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ একদিন সওম পালন কর আর একদিন ছেড়ে দাও এবং আরো বললেনঃ প্রতি মাসে (এক খতম) কুরআন পাঠ কর। তিনি বললেন, আমি এর চেয়ে বেশি শক্তি রাখি। এভাবে বলতে লাগলেন, অবশেষে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তাহলে তিন দিনে (পাঠ কর)।

আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন 'আস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি সব সময় সওম পালন কর এবং রাতভর সালাত আদায় করে থাক? আমি বললাম, জী হা। তিনি বললেনঃ তুমি এরূপ করলে চোখ বসে যাবে এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে। যে সারা বছর সওম পালন করে সে যেন সওম পালন করে না। মাসে তিন দিন করে সওম পালন করা সারা বছর সওম পালনের সমতুল্য। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে বেশি করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি দাঊদী সওম পালন কর, তিনি একদিন সওম পালন করতেন আর একদিন ছেড়ে দিতেন এবং যখন শত্রুর সম্মুখীন হতেন তখন পলায়ন করতেন না।

আবদুল্লাহ ইবন আমর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট আমার সওমের (সওম পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে) আলোচনা করায় তিনি আমার এখানে আগমন করেন। আমি তার জন্য খেজুরের গাছের ছালে পরিপূর্ণ চামড়ার বালিশ (হেলান দিয়ে বসার জন্য) উপস্থিত করলাম। তিনি মাটিতে বসে পড়লেন। বালিশটি তার ও আমার মাঝে পড়ে থাকল। তিনি বললেনঃ প্রতি মাসে তুমি তিন দিন সওম পালন করলে হয় না? আবদুল্লাহ বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আরো করতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ সাত দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আরো করতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ নয় দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আরো করতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ এগারো দিন। এরপর নবী (ﷺ) বললেন, দাঊদ ('আ)-এর সওমের চেয়ে উত্তম সওম আর হয় না- (তা হচ্ছে) অর্ধেক বছর, একদিন সওম পালন কর ও একদিন ছেড়ে দাও।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু (ﷺ) আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি মাসে তিন দিন করে সওম পালন করা এবং দু'রাকাত সালাতুয-যুহা এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করা।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) (আমার মাতা) উম্মু সুলাইম-এর ঘরে আগমন করলেন। তিনি তার সামনে খেজুর ও ঘি পেশ করলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের ঘি মশকে এবং খেজুর তার বরতনে রেখে দাও। কারণ আমি সায়িম। এরপর তিনি ঘরের এক পাশে গিয়ে নফল সালাত আদায় করলেন এবং উম্মু সুলাইম ও তার পরিজনের জন্য দোয়া করলেন। উম্মু সুলাইম আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি ছোট ছেলে আছে। তিনি বললেনঃ কে সে? উম্মু সুলাইম বললেন, আপনার খাদেম আনাস। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণের দোয়া করলেন। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাল ও সন্তান-সন্ততি দান কর এবং তাকে বরকত দাও। আনাস বলেন, আমি আনসারগণের মধ্যে অধিক সম্পদশালীদের একজন। এবং আমার কন্যা উমায়না আমাকে জানিয়েছে যে, হাজ্জাজ (ইবন ইউসুফ) বসরায় আগমনের পূর্ব পর্যন্ত একশত বিশের অধিক আমার নিজের সন্তান মারা গেছে। হুমায়দ আনাস-কে নবী (ﷺ) হতে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন।

ইমরান ইবন হুইায়ন হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাকে অথবা (রাবী বলেন) অন্য এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন এবং ইমরান তা শুনছিলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে অমুকের পিতা!! তুমি কি এ মাসের শেষভাগে সওম পালন করনি? (রাবী) বলেন, আমার মনে হয় (আমার ওস্তাদ) বলেছেন, রমাযান। লোকটি উত্তর দিল, হে আল্লাহর রাসূল! না। তিনি বললেনঃ যখন সওম পালন শেষ করবে তখন দু'দিন সওম পালন করে নিবে।

মুহাম্মাদ ইবন 'আব্বাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী (ﷺ) কি জুমুআর দিনে (নফল) সওম পালন করতে নিষেধ করেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, হা। আবূ 'আসিম ব্যতীত অন্যেরা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, পৃথকভাবে জুমুআর দিনের সওম পালন (-কে নিষেধ করেছেন)।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ যেন শুধু জুম'আর দিনে সওম পালন না করে কিন্তু তার পূর্বে একদিন অথবা পরের দিন (যদি পালন করে তবে জুমুআর দিনে সওম পালন করা যায়)।

জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) জুমুআর দিনে তার নিকট প্রবেশ করেন তখন তিনি (জুয়াইরিয়া) সওম পালনরত ছিলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি গতকাল সওম পালন করেছিলে? তিনি বললেন, না। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি আগামীকাল সওম পালনের ইচ্ছা রাখ? তিনি বললেন, না। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তাহলে সওম ভেঙ্গে ফেল। হাম্মাদ ইবন জা'দ স্বীয় সূত্রে জুয়াইরিয়া হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে আদেশ দেন এবং তিনি সওম ভঙ্গ করেন।

আলকামা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কি কোন দিন কোন কাজের জন্য নির্দিষ্ট করে নিতেন? উত্তরে তিনি বললেন, না, বরং তার আমল স্থায়ী হতো এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যে সব আমল করার শক্তি-সামর্থ্য রাখতেন তোমাদের মধ্যে কে আছে যে সে সবের সামর্থ্য রাখে?

উম্মুল ফাযল বিনত হারিস সূত্রে বর্ণনা করেন যে, কিছু সংখ্যক লোক আরাফাতের দিনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সওম পালন সম্পর্কে তার কাছে সন্দেহ প্রকাশ করে। তাদের কেউ বলল, তিনি সওম পালন করেছেন। আর কেউ বলল, না, তিনি করেননি। এতে উম্মুল ফাযল এক পেয়ালা দুধ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন এবং তিনি তা পান করে নিলেন। এ সময় তিনি উটের পিঠে (আরাফাতে) উকূফ অবস্থায় ছিলেন।

মায়মূনাহ হতে বর্ণিত যে, কিছু সংখ্যক লোক আরাফাতের দিনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সওম পালন সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করলে তিনি স্বল্প পরিমাণ দুধ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট পাঠিয়ে দিলে তিনি তা পান করলেন ও লোকেরা তা প্রত্যক্ষ করছিল। তখন তিনি (আরাফাতে) অবস্থান স্থলে ওকূফ করছিলেন।

বনূ আযহারের আযাদকৃত গোলাম আবূ উবাইদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা ঈদে উমার ইবন খাত্তাব-এর সাথে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এই দুই দিনে সওম পালন করতে নিষেধ করেছেন। (ঈদুল ফিত্রের দিন) যে দিন তোমরা তোমাদের সওম ছেড়ে দাও। আরেক দিন, যেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর গোশত্ খাও। আবূ আবদুল্লাহ বলেন, ইবন 'উয়ায়নাহ বলেন, যিনি ইবন আযহারের মাওলা বলে উল্লেখ করেছেন, তিনি ঠিক বর্ণনা করেছেন; আর যিনি আবদুর রহমান ইবন 'আওফ-এর মাওলা বলেছেন, তিনিও ঠিক বর্ণনা করেছেন।

আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নিষেধ করেছেন ঈদুল ফিতরের দিন এবং কুরবানীর ঈদের দিন সওম পালন করা হতে, 'সাম্মা' ধরনের কাপড় পরিধান করতে, এক কাপড় পরিধানরত অবস্থায় দুই হাটু তুলে নিতম্বের উপর বসতে (কেননা এতে সতর প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে)।

এবং নবী (ﷺ) ফজর ও আসরের পরে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু' (দিনের) সওম ও দু' (প্রকারের) ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করা হয়েছে, ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর (দিনের) সওম এবং মুলামাসা ও মুনাবাযা (পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়) হতে। (এই দুই ধরনের বিক্রয় প্রাক-ইসলামী জাহেলিয়াতের যুগে প্রচলিত ছিল; মুলামাসা মানে আপনি যখন বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শিত কিছু স্পর্শ করেন তখন আপনাকে তা কিনতে হবে; মুনাবাযা মানে যখন বিক্রেতা আপনাকে কিছু ছুঁড়ে দেয় তখন আপনাকে এটা কিনতে হবে।)

যিয়াদ ইবন জুবাইর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি এসে (আবদুল্লাহ) ইবন উমার-কে বলল যে, এক ব্যক্তি কোন এক দিনের সওম পালন করার মানৎ করেছে, আমার মনে হয় সে সোমবারের কথা বলেছিল। ঘটনাক্রমে ঐ দিন ঈদের দিন পড়ে যায়। ইবন উমার বললেন, আল্লাহ তাআলা মানৎ পুরা করার নির্দেশ দিয়েছেন আর নবী (ﷺ) এই (ঈদের) দিনে সওম পালন করতে নিষেধ করেছেন।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। যিনি নবী (ﷺ) -এর সাথে বারোটি যুদ্ধে শরীক ছিলেন, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) হতে চারটি কথা শুনেছি, যা আমার খুব ভালো লেগেছে। তিনি বলেছেন, স্বামী অথবা মাহরাম (যার সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ) পুরুষ ব্যতীত কোন নারী যেন দুই দিনের দূরত্বের সফর না করে। ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর দিনে সওম নেই। ফজরের সালাতের পরে সূর্যোদয় এবং আসরের সালাতের পরে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন সালাত নেই। মসজিদে হারাম, মসজিদে আকসা ও আমার এই মাসজিদ ছাড়া অন্য কোন মসজিদের উদ্দেশে কেউ যেন সফর না করে।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ... হিশাম সূত্রে বর্ণিত যে, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আয়িশাহ মিনাতে (অবস্থানের) দিনগুলোতে সওম পালন করতেন। আর তার পিতাও সে দিনগুলোতে সওম পালন করতেন।

আয়িশাহ্ ও ইবন উমার হতে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, যার নিকট কুরবানীর পশু নেই তিনি ব্যতীত অন্য কারও জন্য আইয়্যামে তাশরীকে সওম পালন করার অনুমতি দেয়া হয়নি।

পূর্বের হাদিসের মতই (১৯৯৭)।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি একই সঙ্গে হাজ্জ ও উমরাহ পালনের সুযোগ লাভ করল সে আরাফাত দিবস পর্যন্ত সওম পালন করবে। সে যদি কুরবানী না করতে পারে এবং সওমও পালন না করে থাকে তবে মিনার দিনগুলোতে সওম পালন করবে।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ 'আশূরার দিনে কেউ ইচ্ছা করলে সওম পালন করতে পারে।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) প্রথমে 'আশূরার দিনে সওম পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, পরে যখন রমাযানের সওম ফরজ করা হলো তখন যার ইচ্ছা ('আশূরার) সওম পালন করত আর যার ইচ্ছা করত না।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে কুরাইশগণ 'আশূরার সওম পালন করত এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -ও এ সওম পালন করতেন। যখন তিনি মাদ্বীনায় আগমন করেন তখনও এ সওম পালন করেন এবং তা পালনের নির্দেশ দেন। যখন রমাযানের সওম ফরজ করা হল তখন 'আশূরার সওম ছেড়ে দেয়া হলো, যার ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা পালন করবে না।

হুমাইদ ইবন আবদুর রাহমান হতে বর্ণিত। যে বছর মুআবিয়াহ হাজ্জ করেন সে বছর 'আশূরার দিনে (মসজিদে নাববীর) মিম্বরে তিনি (রাবী) তাকে বলতে শুনেছেন যে, হে মাদ্বীনাবাসিগণ! তোমাদের 'আলিমগণ কোথায়? আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি যে, আজকে 'আশূরার দিন, আল্লাহ তাআলা এর সওম তোমাদের উপর ফরজ করেননি বটে, তবে আমি (আজ) সওম পালন করছি। যার ইচ্ছা সে সওম পালন করুক, যার ইচ্ছা সে পালন না করুক।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মাদ্বীনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইয়াহুদীগণ 'আশূরার দিনে সওম পালন করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কি ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে সওম পালন কর কেন?) তারা বলল, এ অতি উত্তম দিন, এ দিনে আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হতে নাজাত দান করেন, ফলে এ দিনে মূসা সওম পালন করেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী, এরপর তিনি এ দিনে সওম পালন করেন এবং সওম পালনের নির্দেশ দেন।

আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আশূরার দিনকে ইয়াহূদীগণ 'ঈদ (উৎসবের দিন) মনে করত। নবী (ﷺ) (সাহাবীগণকে) বললেনঃ তোমরাও এ দিনের সওম পালন কর।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে 'আশূরার দিনের সওমের উপরে অন্য কোন দিনের সওমকে প্রাধান্য প্রদান করতে দেখিনি এবং এ মাস রমাযান মাস (এর উপর অন্য মাসের গুরুত্ব প্রদান করতেও দেখিনি)।

সালামাহ ইবন আকওয়া' হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে লোকজনের মধ্যে এ মর্মে ঘোষণা দিতে আদেশ করলেন যে, যে ব্যক্তি খেয়েছে, সে যেন দিনের বাকি অংশে সওম পালন করে, আর যে খায়নি, সেও যেন সওম পালন করে। কেননা আজকের দিন 'আশূরার দিন।