bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ভাগ্য (তাকদীর) (৬৫৯৪-৬৬২০)

আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সত্যবাদী ও সত্যবাদী স্বীকৃত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকেই আপন আপন মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত (শুক্র হিসেবে) জমা থাকে। তারপর ঐরকম চল্লিশ দিন রক্তপিন্ড, তারপর ঐরকম চল্লিশ দিন গোশত পিন্ডাকারে থাকে। তারপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে রিযিক, মৃত্যু, দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য- এ চারটি বিষয় লিখার জন্য আদেশ দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর কসম! তোমাদের মাঝে যে কেউ অথবা বলেছেন, কোন ব্যক্তি জাহান্নামীদের আমল করতে থাকে। এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র একহাত বা এক গজের তফাৎ থাকে। এমন সময় তাক্দীর তার ওপর প্রাধান্য লাভ করে আর তখন সে জান্নাতীদের আমল করা শুরু করে দেয়। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর এক ব্যক্তি জান্নাতীদের আমল করতে থাকে। এমন কি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত বা দু'হাত তফাৎ থাকে। এমন সময় তাক্দীর তার উপর প্রাধান্য লাভ করে আর অমনি সে জাহান্নামীদের আমল শুরু করে দেয়। ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে।

আনাস ইবন মালিক সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ রেহেমে (মাতৃগর্ভে) একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, হে প্রতিপালক! এটি বীর্য। হে প্রতিপালক! এটি রক্তপিন্ড। হে প্রতিপালক! এটি গোশতপিন্ড। আল্লাহ যখন তার সৃষ্টি পূর্ণ করতে চান, তখন ফেরেশতা বলে, হে প্রতিপালক! এটি নর হবে, না নারী? এটি দুর্ভাগা হবে, না ভাগ্যবান? তার রিযক্ কী পরিমাণ হবে? তার জীবনকাল কী হবে? তখন (আল্লাহর নির্দেশমত) তার মায়ের পেটে থাকাকালে ঐ রকমই লিখে দেয়া হয়।

ইমরান ইবন হুসায়ন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামীদের থেকে জান্নাতীদেরকে চেনা যাবে কি? তিনি বললেনঃ হ্যা। সে বলল, তাহলে আমলকারীরা আমল করবে কেন? তিনি বললেনঃ প্রতিটি লোক ঐ আমলই করে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অথবা যা তার জন্য সহজ করা হয়েছে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মুশরিকদের নাবালিগ সন্তানাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে তিনি বললেন, তারা (বাচলে) কী আমল করত এ ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে বেশি জানেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মুশরিকদের নাবালিগ সন্তানাদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ তারা যা করত এ ব্যাপারে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি জানেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন সন্তান যখন জন্ম লাভ করে, তখন স্বভাবধর্মের (ইসলামের) ওপরই জন্ম লাভ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহূদী বা নাসারা বানিয়ে দেয়। যেমন কোন চতুষ্পদ জন্তু যখন বাচ্চা প্রদান করে তখন কি কানকাটা দেখতে পাও যতক্ষণ না তোমরা তার কান কেটে দাও?

তখন সহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! নাবালিগ অবস্থায় যে মারা যায় তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেনঃ তারা যা করত এ ব্যাপারে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি জানেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন নারী নিজে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে যেন অন্য নারীর তালাক না চায়। কেননা, তার জন্য (তাকদীরে) যা নির্ধারিত আছে তাই সে পাবে।

উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি নবী (ﷺ)-এর নিকটে ছিলাম। তার সঙ্গে সাদ ইবন উবাদাহ, উবাই ইব্ন কা'ব ও মুআয ইবন জাবালও ছিলেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোন এক কন্যার পাঠানো এক লোক খবর নিয়ে এলো যে, তার পুত্র সন্তান মরণাপন্ন। তখন তিনি লোকটির মারফত কন্যাকে বলে পাঠালেন যে, আল্লাহর জন্যই- যা তিনি নিয়ে যান। আর আল্লাহর জন্যই- যা তিনি দান করেন। প্রত্যেকের জন্য একটি সময় নির্ধারিত রয়েছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সাওয়াবের আশা করে।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি একবার নবী (ﷺ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় আনসারদের এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো বাদীদের সঙ্গে সংগত হই অথচ মালকে ভালবাসি। কাজেই 'আযল'র ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কি এ কাজ কর? তোমাদের জন্য এটা করা আর না করা দুটোই সমান। কেননা, যে কোন জীবন যা পয়দা হওয়াকে আল্লাহ লিখে দিয়েছেন তা পয়দা হবেই।

হুযাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একবার আমাদের প্রতি এমন একটি ভাষণ প্রদান করলেন যাতে কিয়ামত পর্যন্ত যা সংঘটিত হবে এমন কোন কথাই বাদ দেননি। এগুলো মনে রাখা যার সৌভাগ্য হয়েছে সে স্মরণ রেখেছে আর যে ভুলে যাবার সে ভুলে গেছে। আমি ভুলে যাওয়া কোন কিছু যখন দেখতে পাই তখন তা চিনতে পারি এভাবে যেমন, কোন ব্যক্তি কাউকে হারিয়ে ফেললে আবার যখন তাকে দেখতে পায় তখন চিনতে পারে।

আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তার সঙ্গে ছিল একটুকরা খড়ি। যা দিয়ে তিনি মাটির উপর দাগ টানছিলেন। তিনি তখন বললেনঃ তোমাদের মাঝে এমন কোন লোক নেই যার ঠিকানা জাহান্নামে বা জান্নাতে লেখা হয়নি। লোকদের ভিতর থেকে এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাহলে (এর উপর) নির্ভর করব না? তিনি বললেনঃ না, তোমরা আমল কর। কেননা, প্রত্যেকের জন্য আমল সহজ করে দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ 'যে ব্যক্তি দান করে এবং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে।' (92.5)

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খায়বারের যুদ্ধে নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সঙ্গীগণের মধ্য হতে ইসলামের দাবি করছিল এমন এক ব্যক্তির ব্যাপারে বললেন যে, এই লোকটি জাহান্নামী। যখন যুদ্ধ শুরু হল, লোকটি ভীষণভাবে যুদ্ধ করল। এতে সে অত্যন্ত ক্ষতবিক্ষত হলো। তবু সে অটল রইল। সাহাবীগণের মাঝ থেকে একজন নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি যে ব্যক্তি সম্পর্কে জাহান্নামী হবে ব'লে বলেছিলেন সে তো ভীষণভাবে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করেছে এবং তাতে সে বিপুলভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তিনি বললেনঃ জেনে রাখ, সে জাহান্নামী! এতে কতক মুসলিমের মনে সন্দেহের ভাব হল। আর লোকটি ঐ অবস্থায় ছিল। হঠাৎ করে সে ক্ষতের যন্ত্রণা অনুভব করতে লাগল আর অমনিই সে স্বীয় হাতটি তীর রাখার স্থানে বাড়িয়ে দিল এবং একটি তীর বের করে আপন বক্ষে বিঁধিয়ে দিল। তখন কয়েকজন মুসলিম রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে দৌড়িয়ে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনার কথাকে সত্য করে দেখালেন। অমুক ব্যক্তি তো আত্মহত্যা করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে বিলাল! উঠ, এবং ঘোষণা কর যে, মুমিন ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।। আর আল্লাহ পাপী বান্দাকে দিয়েও এ দ্বীনের সাহায্য করে থাকেন।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে থেকে যে সমস্ত মুসলিম যুদ্ধ করেছেন তাদের মাঝে একজন ছিল ভীষণ বেগে আক্রমণকারী। নবী (ﷺ) তার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন জাহান্নামীকে দেখতে পছন্দ করে সে যেন এই লোকটার দিকে তাকায়। লোকদের ভিতর থেকে এক লোক সেই লোকটির অনুসরণ করল। আর সে তখন ভীষণভাবে মুশরিকদের সঙ্গে মুকাবিলা করছিল। সে যখম হয়ে তাড়াতাড়ি মৃত্যু কামনা করল। সে তার তরবারীর ধারালো দিকটি নিজের বুকের উপর চেপে ধরল। এমন কি দু'কাঁধের মাঝ দিয়ে তরবারী বক্ষ ভেদ করল। (তখন) লোকটি নবী (ﷺ)-এর কাছে দৌড়ে এসে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি (সত্যিই) আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী হল? লোকটি বলল, আপনি অমুক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছিলেনঃ "যে ব্যক্তি কোন জাহান্নামী লোক দেখতে পছন্দ করে সে যেন এ লোকটাকে দেখে নেয়।" অথচ লোকটি অন্যান্য মুসলিমের চেয়ে তীব্র আক্রমণকারী ছিল। তাই আমার ধারণা ছিল এ লোকটির মৃত্যু এমন অবস্থায় হবে না। যখন সে আঘাত পেল, তাড়াতাড়ি মৃত্যু কামনা করল এবং আত্মহত্যা করে দিল। নবী (ﷺ) একথা শুনে বললেনঃ নিশ্চই কোন বান্দা জাহান্নামীদের আমল করেন, কিন্তু আসলে সে জান্নাতী। আর কোন বান্দা জান্নাতের অধিবাসীর আমল করেন কিন্তু আসলে সে জাহান্নামী। নিশ্চই আমলের ভাল-মন্দ নির্ভর করে তার শেষ অবস্থার উপর।

আবদুল্লাহ্ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মানত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, মানত কোন জিনিসকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে না। এর দ্বারা শুধু কৃপণের কিছু মাল বের হয়ে যায়।

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ মানত আদম সন্তানকে এমন কিছু এনে দিতে পারে না যা তাক্দীরে নির্ধারিত নেই অথচ সে যে মানতটি করে তাও আমি তাক্দীরে নির্ধারিত করে দিয়েছি যাতে এর মাধ্যমে কৃপণের নিকট হতে (মাল) বের করে নেই।

আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখনই কোন উচুস্থানে আরোহণ করতাম, কোন উচুতে থাকতাম এবং কোন উপত্যকা অতিক্রম করতাম তখনই উচ্চস্বরে তাকবীর বলতাম। রাবী বলেন অতঃপর নবী (ﷺ) আমাদের নিকটবর্তী হলেন এবং বললেনঃ ওহে লোকেরা! তোমরা নিজেদের উপর রহম কর। তোমরা কোন বধির বা কোন অনুপস্থিত সত্ত্বাকে ডাকছ না বরং তোমরা ডাকছ শ্রবণকারী ও দর্শনকারী সত্ত্বাকে। এরপর তিনি বললেনঃ হে আবদুল্লাহ্ ইবন কায়স! তোমাকে আমি কি এমন একটি কথা শিখিয়ে দিব না, যা হল জান্নাতের ভান্ডারসমূহের অন্যতম? তা হল- 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।' (আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি বা ক্ষমতা নেই)।

আবূ সাঈদ খুদরী সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে কোন লোককেই খলীফা বানানো হয় তার জন্য দু'টি পরামর্শদাতা থাকে। একটা তাকে সৎকর্মের পরামর্শ দেয় এবং এর প্রতি তাকে উৎসাহিত করে। অন্যটা তাকে মন্দ কাজের পরামর্শ দেয় এবং এর প্রতি তাকে উৎসাহিত করে। নিষ্পাপ হল সেই আল্লাহ যাকে রক্ষা করেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ নবী (ﷺ) থেকে ছোট গুনাহর ব্যাপারে যা বলেছেন তার থেকে যথার্থ উপমা আমি দেখি না। [নবী (ﷺ) বলেছেন] আল্লাহ আদম সন্তানের উপর যিনার কোন না কোন হিস্সা লিখে দিয়েছেন; তা সে অবশ্যই পাবে। সুতরাং চোখের যিনা হল (যা হারাম সেদিকে) তাকানো এবং জিহ্বার যিনা হল মুখে বলা। মন কামনা ও আকাঙ্ক্ষা করে, লজ্জাস্থান তাকে সত্য করে অথবা মিথ্যা প্রমাণ করে। শাবাবা ও আবূ হুরায়রা নবী (ﷺ) থেকে এরকম বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: (আয়াত সম্পর্কে) "এবং আমরা দর্শন (জান্নাতে আরোহন "মিরাজ") দিয়েছিলাম যা আমরা আপনাকে দেখিয়েছিলাম (হে মুহাম্মদ একজন প্রকৃত প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে) কিন্তু মানবজাতির জন্য পরীক্ষা হিসাবে।' (17.60): জেরুজালেমে (এবং তারপর আসমানে) রাত্রি যাত্রার রাতে আল্লাহর রসূল প্রকৃতপক্ষে নিজের চোখ দিয়ে (যা তাকে দেখানো হয়েছিল) দেখেছিলেন। কুরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত গাছটি। 'একটি আয-যাক্কুমের বৃক্ষ।

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আদম ও মূসা (পরস্পরে) বাদানুবাদ করেন। মূসা বলেন, হে আদম, আপনি আমাদের পিতা। আপনি আমাদেরকে বঞ্চিত করেছেন এবং জান্নাত থেকে আমাদেরকে বের করেছেন। আদম তাকে বললেন, হে মূসা! আল্লাহ আপনাকে তো নিজ কথার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং আপনার জন্য নিজ হাত দ্বারা লিখেছেন। অতএব আপনি কি আমাকে এমন একটি কাজের ব্যাপারে তিরস্কার করছেন যা আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর পূর্বেই আল্লাহ নির্ধারিত করে রেখেছেন। তখন আদম মূসা-এর উপর বিতর্কে জয়ী হলেন। এ কথাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনবার বলেছেন।

মুগীরাহ ইবন শুবাহ-এর আযাদকৃত গোলাম ওয়ার্রাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার মুআবিয়াহ মুগীরাহ ইবন শুবাহ-এর নিকট লিখলেন যে, নবী (ﷺ) সালাতের পর যা পাঠ করতেন এ সম্পর্কে তুমি যা শুনেছ আমার কাছে লিখে পাঠাও। তখন মুগীরাহ আমাকে তা লিখে দেয়ার দায়িত্ব দিলেন। তিনি বললেন, আমি নবী (ﷺ)-কে সালাতের পরে বলতে শুনেছি "আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তার কোন শরীক নেই। হে আল্লাহ! তুমি যা দাও তা রোধকারী কেউ নেই। আর তুমি যা রোধ কর তা দানকারী কেউ নেই। তুমি ব্যতীত ধনীর ধন কোন ফল দিতে পারবে না।"

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা ভয়ানক বিপদ, দুর্ভাগ্যের অতল তল, মন্দ পরিণতি এবং শত্রুর আনন্দ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।

আবদুল্লাহ্ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) অধিকাংশ সময় এ ব'লে কসম খেতেনঃ কসম অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারীর।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ইবন সাইয়্যাদকে বললেনঃ আমি (একটি কথা) তোমার জন্য গোপন রেখেছি। সে বললো, তা হচ্ছে (কল্পনার) ধোয়া মাত্র। নবী (ﷺ) বললেনঃ দূর হও, তুমি তো তোমার তাক্দীরকে কক্ষনো অতিক্রম করতে পারবে না। তখন উমার বললেন, আমাকে অনুমতি দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেনঃ ছাড় একে, এ যদি সেই হয় তবে তুমি (তাকে হত্যা করতে) সক্ষম হবে না। আর যদি সে (দাজ্জাল) না হয় তবে তাকে হত্যা করায় তোমার কোন কল্যাণ নেই।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেনঃ এটা একটা আযাব। আল্লাহ যার উপর ইচ্ছে তা পাঠান। আল্লাহ এটা মুসলিমের জন্য রহমত করে দিয়েছেন। প্লেগে আক্রান্ত শহরে কোন বান্দা যদি ধৈর্য ধরে বিশ্বাসের সাথে অবস্থান করে, সেখান থেকে বের না হয়, আল্লাহ তার জন্য যা লিখেছেন তা ছাড়া কিছুই তাকে স্পর্শ করবে না, সে অবস্থায় সে শহীদের সাওয়াব পাবে।

বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খন্দকের যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ)-কে দেখেছি, তিনি আমাদের সাথে মাটি বহন করেছেন এবং বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! তিনি যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন তবে আমরা পথ পেতাম না। সওমও পালন করতাম না, আর সালাতও আদায় করতাম না। কাজেই আমাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ করুন। আর যদি আমরা শত্রুর মুকাবিলা করি তবে আমাদেরকে সুদৃঢ় রাখুন। আর মুশরিকরা আমাদের উপর বিদ্রোহী হয়েছে। তারাই আমাদেরকে ফিতনায় (যুদ্ধে) ফেলতে চেয়েছে, যা আমরা চাইনি।