সাহু সিজদা (১২২৪-১২৩৬)
আবদুল্লাহ্ ইবন বুহায়নাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সালাতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দু'রাকাত আদায় করে না বসে দাড়িয়ে গেলেন। মুসল্লীগণ তার সঙ্গে দাড়িয়ে গেলেন। যখন তার সালাত সমাপ্ত করার সময় হলো এবং আমরা তার সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করছিলাম, তখন তিনি সালাম ফিরানোর পূর্বে তাকবীর বলে বসে বসেই দু'টি সিজদা করলেন। অতঃপর সালাম ফিরালেন।
আবদুল্লাহ্ ইবন বুহাইনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুহরের দু'রাকাত আদায় করে দাড়িয়ে গেলেন। দু'রাকাতের পর তিনি বসলেন না। সালাত শেষ হয়ে গেলে তিনি দু'টি সিজদা করলেন এবং অতঃপর সালাম ফিরালেন।
আবদুল্লাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুহরের সালাত পাচ রাকাত আদায় করলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হল, সালাত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেন, এ প্রশ্ন কেন? (প্রশ্নকারী) বললেন, আপনি তো পাচ রাকাত সালাত আদায় করেছেন। অতএব তিনি সালাম ফিরানোর পর দু'টি সিজদা করলেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের নিয়ে যুহর বা আসরের সালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তখন যুল-ইয়াদাইন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া আল্লাহর রাসূল! সালাত কি কম হয়ে গেল? নবী (ﷺ) তার সাহাবীগণকে জিজ্ঞেস করলেন, সে যা বলছে, তা কি ঠিক? তারা বললেন, হা। তখন তিনি আরও দু' রাকাত সালাত আদায় করলেন। পরে দু'টি সিজদা করলেন। সাদ বলেন, আমি উরওয়াহ ইবন যুবায়র-কে দেখেছি, তিনি মাগরিবের দু' রাকাত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন এবং কথা বললেন। পরে অবশিষ্ট সালাত আদায় করে দু'টি সাজ্দাহ্ করলেন এবং বললেন, নবী (ﷺ) এ রকম করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দু' রাকাত আদায় করে সালাত শেষ করলেন। যুল-ইয়াদাইন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত কি কম করে দেয়া হয়েছে, না কি আপনি ভুলে গেছেন? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, যুল-ইয়াদাইন কি সত্য বলেছে? মুসল্লীগণ বললেন, হা। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দাড়িয়ে আরও দু' রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং তাকবীর বললেন, পরে সিজদা করলেন, স্বাভাবিক সিজদার মতো বা তার চেয়ে দীর্ঘ। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন। সালামাহ ইবন আলক্বামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ (ইবন সীরীন)-কে জিজ্ঞেস করলাম, সিজদা সাহ্উর পর তাশাহ্হুদ আছে কি? তিনি বললেন, আবূ হুরাইরাহ্-এর হাদীসে তা নেই।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বিকালের কোন এক সালাত দু' রাকাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। মুহাম্মাদ বলেন, আমার প্রবল ধারণা, তা ছিল আসরের সালাত। অতঃপর মসজিদের একটি কাষ্ঠ খন্ডের নিকট গিয়ে দাড়ালেন এবং তার উপর হাত রাখলেন। মুসল্লীগণের ভিতরে সামনের দিকে আবূ বাকর ও উমারও ছিলেন। তারা উভয়ে তার সাথে কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলেন। তাড়াহুড়াকারী মুসল্লীগণ বেরিয়ে পড়লেন। তারা বলাবলি করতে লাগলেন, সালাত কি কমিয়ে দেয়া হয়েছে? কিন্তু এক ব্যক্তি, যাকে নবী (ﷺ) যূল ইয়াদাইন বলে ডাকতেন, জিজ্ঞেস করল আপনি কি ভুলে গেছেন, না কি সালাত কমিয়ে দেয়া হয়েছে? তিনি বললেনঃ আমি ভুলিনি আর সালাতও কম করা হয়নি। তখন তাকে বলা হল যে, আপনি ভুলে গেছেন। তখন তিনি দু'রাকাত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। অতঃপর তাকবীর বলে সাজ্দাহ্ করলেন, স্বাভাবিক সিজদার ন্যায় বা তার চেয়ে দীর্ঘ। অতঃপর মাথা উঠিয়ে আবার তাকবীর বলে মাথা রাখলেন তাকবীর বলে সিজদায় গিয়ে স্বাভাবিক সিজদার মত অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে তাকবীর বললেন।
আবদুল্লাহ্ ইবন বুহাইনাহ আসাদী যিনি বানূ আবদুল মুত্তালিবের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তিবদ্ধ ছিলেন তার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুহরের সালাতে (দু'রাকাত আদায় করার পর) না বসে দাড়িয়ে গেলেন। সালাত পূর্ণ করার পর সালাম ফিরাবার পূর্বে তিনি বসা অবস্থায় ভুলে যাওয়া বৈঠকের স্থলে দু'টি সিজদা সম্পূর্ণ করলেন, প্রতি সিজদায় তাকবীর বললেন। মুসল্লীগণও তার সঙ্গে এ দু'টি সিজদা করল।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যখন সালাতের জন্য আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে আযান শুনতে না পায় আর তার পশ্চাদ-বায়ু সশব্দে নির্গত হতে থাকে। আযান শেষ হয়ে গেলে সে এগিয়ে আসে। আবার সালাতের জন্য ইকামত দেওয়া হলে সে পিঠ ফিরিয়ে পালায়। ইকামত শেষ হয়ে গেলে আবার ফিরে আসে। এমনকি সে সালাত আদায়রত ব্যক্তির মনে ওয়াস্ওয়াসা সৃষ্টি করে এবং বলতে থাকে, অমুক অমুক বিষয় স্মরণ কর, যা তার স্মরণে ছিল না। এভাবে সে ব্যক্তি কত রাকাত সালাত আদায় করেছে তা স্মরণ করতে পারে না। তাই, তোমাদের কেউ তিন রাকাত বা চার রাকাত সালাত আদায় করেছে, তা মনে রাখতে না পারলে বসা অবস্থায় দু'টি সিজদা করবে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে দাড়ালে শয়তান এসে তাকে সন্দেহে ফেলে, এমনকি সে বুঝতে পারে না যে, সে কত রাকাত সালাত আদায় করেছে। তোমাদের কারো এ অবস্থা হলে সে যেন বসা অবস্থায় দু'টি সিজদা করে।
কুরায়ব হতে বর্ণিত। ইবন আব্বাস, মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ এবং আবদুর রহমান ইবন আযহার তাকে আয়িশাহ-এর নিকট পাঠালেন এবং বলে দিলেন, তাকে আমাদের সকলের তরফ হতে সালাম পৌছিয়ে আসরের পরের দু'রাকাত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে। তাকে একথাও বলবে যে, আমরা খবর পেয়েছি যে, আপনি সে দু'রাকাত আদায় করেন, অথচ আমাদের নিকট পৌছেছে যে, নবী (ﷺ) সে দু'রাকাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ইবন আব্বাস সংবাদে আরও বললেন যে, আমি উমার ইবন খাত্তাব-এর সাথে এ সালাতের কারণে লোকদের মারধোর করতাম। কুরায়ব বলেন, আমি আয়িশাহ-এর নিকট গিয়ে তাকে তাদের পয়গাম পৌছিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, উম্মু সালামাহ্-কে জিজ্ঞেস কর। [কুরায়ব বলেন] আমি সেখান হতে বের হয়ে তাদের নিকট গেলাম এবং তাদেরকে আয়িশাহ-এর কথা জানালাম। তখন তারা আমাকে আয়িশাহ-এর নিকট যে বিষয় নিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তা নিয়ে পুনরায় উম্মু সালামাহ-এর নিকট পাঠালেন। উম্মু সালামাহ্ বললেন, আমিও নবী করীম (ﷺ) -কে তা নিষেধ করতে শুনেছি। অথচ অতঃপর তাকে আসরের সালাতের পর তা আদায় করতেও দেখেছি। একদা তিনি আসরের সালাতের পর আমার ঘরে আসলেন। তখন আমার নিকট বনূ হারাম গোত্রের আনসারী কয়েকজন মহিলা উপস্থিত ছিলেন। আমি বাদীকে এ বলে তার নিকট পাঠালাম যে, তার পাশে গিয়ে দাড়িয়ে তাকে বলবে, উম্মে সালামাহ আপনার নিকট জানতে চেয়েছেন, আপনাকে (আসরের পর সালাতের) দু'রাকাত নিষেধ করতে শুনেছি; অথচ দেখছি, আপনি তা আদায় করছেন? যদি তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করেন, তাহলে পিছনে সরে থাকবে, বাদী তা-ই করল। তিনি ইঙ্গিত করলেন, সে পিছনে সরে থাকল। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, হে আবূ উমায়্যার কন্যা! আসরের পরের দু'রাকাত সালাত সম্পর্কে তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করেছ। আবদুল কায়স গোত্রের কিছু লোক আমার নিকট এসেছিল। তাদের কারণে যুহরের পরের দু'রাকা'আত আদায় করতে না পেরে (তাদেরকে নিয়ে) ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। এ দু'রাকাত সে দু'রাকাত।
সাহল ইবন সাদ সাঈদী হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর নিকট সংবাদ পৌছে যে, বানূ আমর ইবন আওফ-এ কিছু ঘটেছে। তাদের মধ্যে আপোষ করে দেয়ার উদ্দেশে তিনি কয়েকজন সাহাবীসহ বেরিয়ে গেলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সেখানে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েন। ইতোমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেল। বিলাল আবূ বাকর -এর নিকট এসে বললেন, হে আবূ বাকর! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এদিকে সালাতের সময় হয়ে গেছে, আপনি কি সালাতে লোকদের ইমামাত করতে প্রস্তুত আছেন? তিনি বললেন, হা, যদি তুমি চাও। তখন বিলাল ইকামত বললেন এবং আবূ বাকর সামনে এগিয়ে গিয়ে লোকদের জন্য তাকবীর বললেন। এদিকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আসলেন এবং কাতারের ভিতর দিয়ে হেটে (প্রথম) কাতারে এসে দাড়িয়ে গেলেন। মুসল্লীগণ তখন হাততালি দিতে লাগলেন। আবূ বাকর-এর অভ্যাস ছিল যে, সালাতে এদিক সেদিক তাকাতেন না। মুসল্লীগণ যখন অধিক পরিমাণে হাততালি দিতে লাগলেন, তখন তিনি সেদিকে তাকালেন এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে দেখতে পেলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে ইঙ্গিত করে সালাত আদায় করতে থাকার নির্দেশ দিলেন। আবূ বাকর দু'হাত তুলে আল্লাহর হামদ বর্ণনা করলেন এবং পিছনের দিকে সরে গিয়ে কাতারে দাড়ালেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সামনে এগিয়ে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে মুসল্লীগণের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, হে লোক সকল! তোমাদের কী হয়েছে, সালাতে কোন ব্যাপার ঘটলে তোমরা হাততালি দিতে থাক কেন? হাততালি তো মেয়েদের জন্য। কারো সালাতের মধ্যে কোন সমস্যা দেখা দিলে সে যেন 'সুবহানাল্লাহ্' বলে। কারণ, কেউ অন্যকে 'সুবহানাল্লাহ্' বলতে শুনলে অবশ্যই সেদিকে লক্ষ্য করবে। অতঃপর তিনি বললেন, হে আবূ বাকর! তোমাকে আমি ইঙ্গিত করা সত্ত্বেও কিসে তোমাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বাধা দিল? আবূ বাকর বললেন, কুহাফার ছেলের জন্য এ সমীচীন নয় যে, সে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সম্মুখে দন্ডায়মান হয়ে সালাত আদায় করবে।
আসমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ-এর নিকট গেলাম, তখন তিনি দাড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, আর লোকেরাও সালাতে দাড়ানো ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, লোকদের অবস্থা কী? তখন তিনি তার মাথা দ্বারা আকাশের দিকে ইঙ্গিত করলেন। আমি বললাম, এটা কি নিদর্শন? তিনি আবার তার মাথার ইঙ্গিতে বললেন, হা।
নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার অসুস্থ অবস্থায় তার ঘরে বসে সালাত আদায় করছিলেন। একদল সাহাবী তার পিছনে দাড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তিনি তাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন, বসে যাও। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুসরণ করার জন্য। কাজেই তিনি রুকূ করলে তোমরা রুকূ করবে; আর তিনি মাথা উঠালে তোমরাও মাথা উঠাবে।