bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

জুমুআহ (৮৭৬-৯৪১)

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা দুনিয়ায় (আগমনের দিক দিয়ে) সর্বশেষ, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা মর্যাদার ব্যাপারে সবার পূর্বে। ব্যতিক্রম এই যে, আমাদের পূর্বে তাদের কিতাব প্রদান করা হয়েছে। অতঃপর তাদের সে দিন যে দিন তাদের জন্য ইবাদত ফরজ করা হয়েছিল তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছে। কিন্তু সে বিষয়ে আল্লাহ আমাদের হিদায়াত করেছেন। কাজেই এ ব্যাপারে লোকেরা আমাদের পশ্চাদ্বর্তী। ইয়াহূদীদের (সম্মানীয় দিন হচ্ছে) আগামী কাল (শনিবার) এবং নাসারাদের আগামী পরশু (রোববার)।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ জুমুআহর সালাতে আসলে সে যেন গোসল করে।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। উমার ইবন খাত্তাব জুমুআহর দিন দাড়িয়ে খুত্বা দিচ্ছিলেন, এ সময় নবী (ﷺ) -এর প্রথম যুগের একজন মুহাজির সহাবা এলেন। উমার তাকে ডেকে বললেন, এখন সময় কত? তিনি বললেন, আমি ব্যস্ত ছিলাম, তাই ঘরে ফিরে আসতে পারিনি। এমন সময় আযান শুনে কেবল উযূ করে নিলাম। উমার বললেন, কেবল উযূই? অথচ আপনি জানেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) গোসলের নির্দেশ দিতেন।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ জুমুআহর দিনে প্রত্যেক সাবালকের জন্য গোসল করা ওয়াজিব।

আমর ইবন সুলাইম আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ সাঈদ খুদরী বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ জুমুআহর দিন প্রত্যেক বালিগের জন্য গোসল করা কর্তব্য। আর মিস্ওয়াক করবে এবং সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। আমর (ইবন সুলায়ম) বলেন, গোসল সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তা ওয়াজিব। কিন্তু মিস্ওয়াক ও সুগন্ধি ওয়াজিব কিনা তা আল্লাহই ভাল জানেন। তবে হাদীসে এ রকমই আছে। আবূ আবদুল্লাহ বুখারী বলেন, আবূ বাকর ইবন মুনকাদির হলেন মুহাম্মাদ ইবন মুনকাদির-এর ভাই। কিন্তু তিনি আবূ বাকর হিসেবেই পরিচিত নন। বুকায়র ইবন আশাজ্জ, সাঈদ ইবন আবূ হিলাল সহ অনেকে তার হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবন মুনকাদির-এর কুনিয়াত (উপনাম) ছিল আবূ বাকর ও আবূ আবদুল্লাহ।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআহর দিন জানাবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুত্বাহ দেয়ার জন্য বের হন তখন মালাইকাহ যিকর শ্রবণের জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। জুমুআহর দিন উমার ইবন খাত্তাব খুত্বা দিচ্ছিলেন, এ সময় এক ব্যক্তি মসজিদে আসলে উমার তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সালাতে সময় মত আসতে তোমরা কেন বাধাগ্রস্ত হও? তিনি বললেন, আযান শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমি উযূ করেছি। তখন উমার বললেন, তোমরা কি নবী (ﷺ) -কে এ কথা বলতে শোননি যে, যখন তোমাদের কেউ জুমুআহর সালাতে রওয়ানা দেয়, তখন সে যেন গোসল করে নেয়।

সালমান ফারিসী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআহর দিন গোসল করে এবং যথাসাধ্য ভালরূপে পবিত্রতা অর্জন করে ও নিজের তেল হতে ব্যবহার করে বা নিজ ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর বের হয় এবং দু' জন লোকের মাঝে ফাক না করে, অতঃপর তার নির্ধারিত সালাত আদায় করে এবং ইমামের খুৎবা দেয়ার সময় চুপ থাকে, তা হলে তার সে জুমুআহ হতে আরেক জুমুআহ পর্যন্ত সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

তাঊস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস-কে বললাম, সাহাবীগণ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জুমুআহর দিন গোসল কর এবং মাথা ধুয়ে ফেল যদিও তোমরা জুনুবী না হয়ে থাক এবং সুগন্ধি ব্যবহার কর। ইবন আব্বাস বললেন, গোসল সম্পর্কে নির্দেশ ঠিকই আছে, কিন্তু সুগন্ধি সম্পর্কে আমি জানি না।

তাঊস হতে বর্ণিত। তিনি ইবন আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন, জুমুআহর দিন গোসল সম্বন্ধে নবী (ﷺ) -এর বাণীর উল্লেখ করেন তখন আমি ইবন আব্বাস-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) যখন পরিবার পরিজনের সঙ্গে অবস্থান করতেন তখনও কি তিনি সুগন্ধি বা তেল ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, আমি তা জানি না।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, উমার ইবন খাত্তাব মসজিদে নববীর দরজার নিকটে এক জোড়া রেশমী পোষাক (বিক্রি হতে) দেখে নবী (ﷺ) -কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি এটি আপনি খরিদ করতেন আর জুমুআহর দিন এবং যখন আপনার নিকট প্রতিনিধি দল আসে তখন আপনি তা পরিধান করতেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এটা তো সে ব্যক্তিই পরিধান করে, আখিরাতে যার (মঙ্গলের) কোন অংশ নেই। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট এ ধরনের কয়েক জোড়া পোষাক আসে, তখন তার এক জোড়া তিনি উমার-কে প্রদান করেন। উমার আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে এটি পরতে দিলেন অথচ আপনি উতারিদের (রেশম) পোষাক সম্পর্কে যা বলার তা তো বলেছিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাকে এটি নিজের পরার জন্য দেইনি। উমার ইবন খাত্তাব তখন এটি মক্কায় তার এক ভাইকে দিয়ে দেন, যে তখন মুশরিক ছিল।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক সালাতের সাথে তাদের মিস্ওয়াক করার হুকুম করতাম।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আমি মিস্ওয়াক সম্পর্কে তোমাদের যথেষ্ট বলেছি।

হুযাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন রাতে সালাতের জন্য উঠতেন তখন দাত মেজে মুখ পরিষ্কার করে নিতেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকর একটি মিস্ওয়াক হাতে নিয়ে দাত ঘষতে ঘষতে প্রবেশ করলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -তার দিকে তাকালেন। আমি তাকে বললাম, হে আবদুর রহমান! মিস্ওয়াকটি আমাকে দাও। সে তা আমাকে দিল। আমি ব্যবহৃত অংশ ভেঙ্গে ফেললাম এবং তা চিবিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে দিলাম। তিনি আমার বুকে হেলান দিয়ে তা দিয়ে মিস্ওয়াক করলেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) জুমুআহর দিন ফজরের সালাতে "আলিফ, লাম, মীম, তানযিল" (সুরাতাস- সাজদা # 32) এবং "হাল-আতা-আলা-ল-ইনসানী" (সূরা-আদ-দাহর #76) দু'টি সূরাহ্ তিলাওয়াত করতেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর মসজিদে জুমুআহর সালাত অনুষ্ঠিত হবার পর প্রথম জুমুআহর সালাত অনুষ্ঠিত হয় বাহরাইনে জুওয়াসা নামক স্থানে অবস্থিত আবদুল কায়স গোত্রের মসজিদে।

উমার হতে বর্ণিত যে, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল। লায়স ইবন সাদ আরো অতিরিক্ত বলেন, (পরবর্তী রাবী) ইউনুস বলেছেন, আমি একদা ইবন শিহাব-এর সঙ্গে ওয়াদিউল কুরা নামক স্থানে ছিলাম। তখন রুযাইক (ইবন হুকায়ম ইবন শিহাব-এর নিকট লিখলেন, আপনি কী মনে করেন, আমি কি (এখানে) জুমুআহর সালাত আদায় করব? রুযায়ক তখন সেখানে তার জমির কৃষি কাজের তত্ত্বাবধান করতেন। সেখানে একদল সুদানী ও অন্যান্য লোক বাস করত। রুযায়ক সে সময় আইলা শহরের (আমীর) ছিলেন। ইবন শিহাব তাকে জুমুআহ কায়িম করার নির্দেশ দিয়ে লিখেছিলেন এবং আমি তাকে এ নির্দেশ দিতে শুনলাম। সালিম তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই অধীনস্থদের (দায়িত্ব) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হবে। ইমাম একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি, তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। পুরুষ তার পরিবার বর্গের অভিভাবক, তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। নারী তার স্বামী-গৃহের কর্ত্রী, তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। খাদিম তার মনিবের ধন-সম্পদের রক্ষক, তাকেও তার মনিবের ধন-সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। ইবন উমার বলেন, আমার মনে হয়, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) আরো বলেছেনঃ পুত্র তার পিতার ধন-সম্পদের রক্ষক এবং এগুলো সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। তোমরা সবাই দায়িত্বশীল এবং সবাইকে তাদের অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, "যে ব্যক্তি জুমুআহর সালাতে আসবে সে যেন গোসল করে।"

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -বলেছেনঃ প্রত্যেক সাবালকের জন্য জুমুআহর দিন গোসল করা ওয়াজিব।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা দুনিয়ায় (আগমনের দিক দিয়ে) সর্বশেষে। কিন্তু কিয়ামতের দিন মর্যাদার দিক দিয়ে সবার পূর্বে। তবে তাদের কিতাব দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে এবং আমাদের তা দেয়া হয়েছে তাদের পরে। অতঃপর এই দিন (শুক্রবার নির্ধারণ) সম্বন্ধে তাদের মধ্যে মতানৈক্য হয়েছে। আল্লাহ আমাদের এ শুক্রবার সম্পর্কে হিদায়াত দান করেছেন। পরের দিন (শনিবার) ইয়াহূদীদের এবং তারপরের দিন (রোববার) নাসারাদের। অতঃপর কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন।

অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন প্রত্যেক মুসলিমের উপর হাক্ব রয়েছে যে, প্রতি সাত দিনের এক দিন সে গোসল করবে, তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর আল্লাহর হক রয়েছে যে, প্রতি সাত দিনে একবার সে যেন গোসল করে।

ইবন উমার সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা মহিলাদেরকে রাতে (সালাতের জন্য) মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দিবে।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার-এর স্ত্রী (আতিকাহ্ বিনত যায়দ) ফজর ও ইশার সালাতের জামা'আতে মসজিদে হাযির হতেন। তাকে বলা হল, আপনি কেন (সালাতের জন্য) বের হন? অথচ আপনি জানেন যে, উমার তা অপছন্দ করেন এবং মর্যাদা হানিকর মনে করেন। তিনি জবাব দিলেন, তা হলে কিসে বাধা দিচ্ছে যে, উমার স্বয়ং আমাকে নিষেধ করছেন না? বলা হল, তাকে বাধা দেয় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর বাণীঃ আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে বারণ করো না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি তার মুয়ায্যিনকে এক প্রবল বর্ষণের দিনে বললেন, যখন তুমি (আযানে) 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলবে, তখন 'হাইয়া আলাস্ সালাহ্' বলবে না, বলবে, "সাল্লু ফী বুয়ুতিকুম" (তোমরা নিজ নিজ বাসগৃহে সালাত আদায় কর)। তা লোকেরা অপছন্দ করল। তখন তিনি বললেনঃ আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিই (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) তা করেছেন। জুমুআহ নিঃসন্দেহে জরুরী। আমি অপছন্দ করি তোমাদেরকে মাটি ও কাদার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করার অসুবিধায় ফেলতে।

নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন তাদের বাড়ি ও উচু এলাকা হতেও জুমুআহর সালাতের জন্য পালাক্রমে আসতেন। আর যেহেতু তারা ধুলো-বালির মধ্য দিয়ে আগমন করতেন, তাই তারা ধূলি মলিন ও ঘর্মাক্ত হয়ে যেতেন। তাদের দেহ হতে ঘাম বের হত। একদা তাদের একজন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট আসেন। তখন নবী (ﷺ) আমার নিকট ছিলেন। তিনি তাকে বললেনঃ যদি তোমরা এ দিনটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে।

ইয়াহ্ইয়া ইবন সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি আমরাহ-কে জুমুআহর দিনে গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। আমরাহ বলেন, আয়িশাহ বলেছেন যে, লোকজন নিজেদের কাজকর্ম নিজেরাই করতেন। যখন তারা দুপুরের পরে জুমুআহর জন্য যেতেন তখন সে অবস্থায়ই চলে যেতেন। তাই তাদের বলা হল, যদি তোমরা গোসল করে নিতে।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জুমুআহর সালাত আদায় করতেন, যখন সূর্য হেলে যেতো।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রথম ওয়াক্তেই জুমুআহর সালাতে যেতাম এবং জুমুআহর পরে কাইলূলা (দুপুরের বিশ্রাম) করতাম।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) প্রচন্ড শীতের সময় প্রথম ওয়াক্তেই সালাত আদায় করতেন। আর তীব্র গরমের সময় ঠান্ডা করে (বিলম্ব করে- সালাত আদায় করতেন। জুমুআহর সালাত। ইউনুস ইবন বুকায়র আমাদের বলেছেন, আর তিনি সালাত শব্দের উল্লেখ করেছেন, জুমুআহ শব্দের উল্লেখ করেননি। আর বিশ্র ইবন সাবিত বলেন, আমাদের নিকট আবূ খালদাহ বর্ণনা করেছেন যে, জুমুআহর ইমাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। অতঃপর তিনি আনাস-কে বলেন, নবী (ﷺ) যুহরের সালাত কিরূপে আদায় করতেন?

আবায়া ইবন রিফা'আহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জুমুআহর সালাতে যাবার কালে আবূ আবস্-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি যে, যার দু'পা আল্লাহর পথে ধূলি ধূসরিত হয়, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যখন সালাত শুরু হয়, তখন দৌড়িয়ে গিয়ে সালাতে যোগদান করবে না, বরং হেটে গিয়ে সালাতে যোগদান করবে। সালাতে ধীর-স্থিরভাবে যাওয়া তোমাদের জন্য অপরিহার্য। কাজেই জামা'আতের সাথে সালাত যতটুকু পাও আদায় কর, আর যা ছুটে গেছে, পরে তা পূর্ণ করে নাও।

আবূ ক্বাতাদাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত সালাতে দাড়াবে না। তোমাদের জন্য ধীর-স্থির থাকা অত্যাবশ্যক।

সালমান ফারিসী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআহর দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, অতঃপর তেল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর (মসজিদে) যায়, আর দু'জনের মধ্যে ফাক করে না এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ সালাত আদায় করে। আর ইমাম যখন (খুৎবাহর জন্য) বের হন তখন চুপ থাকে।তার এ জুমুআহ এবং পরবর্তী জুমুআহর মধ্যবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) নিষেধ করেছেন, যেন কেউ তার ভাইকে স্বীয় বসার স্থান হতে উঠিয়ে দিয়ে নিজে সে জায়গায় না বসে। ইবন জুরাইজ বলেন, আমি নাফি-কে জিজ্ঞেস করলাম, এ কি শুধু জুমুআহর ব্যাপারে? তিনি বললেন, জুমুআহ ও অন্যান্য (সালাতের) ব্যাপারেও।

সায়িব ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আবূ বাকর এবং উমর-এর সময় জুমুআহর দিন ইমাম যখন মিম্বরের উপর বসতেন, তখন প্রথম আযান দেয়া হত। পরে যখন উসমান খলীফাহ হলেন এবং লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি 'যাওরাহ' হতে তৃতীয় আযান বৃদ্ধি করেন। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেন, 'যাওরাহ' হল মাদ্বীনার অদূরে বাজারের একটি স্থান।

সায়িব ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। মদিনার অধিবাসীদের সংখ্যা যখন বৃদ্ধি পেল, তখন জুমুআহর দিন তৃতীয় আযান যিনি বৃদ্ধি করলেন, তিনি হলেন, উসমান ইবন 'আফ্ফান। নবী (ﷺ) -এর সময় (জুমুআহর জন্য) একজন ব্যতীত মুয়ায্যিন ছিল না এবং জুমুআহর দিন আযান দেয়া হত যখন ইমাম বসতেন মিম্বরের উপর খুৎবাহর পূর্বে।

মুআবিয়াহ ইবন আবূ সুফ্ইয়ান হতে বর্ণিত। তিনি মিম্বারে বসা অবস্থায় মুয়ায্যিন আযান দিলেন। মুয়ায্যিন বললেন, "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার" মুআবিয়াহ বললেন, "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।" মুয়ায্যিন বললেন, "আশ্হাদু আল্ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ" তিনি বললেন এবং আমিও (বলছি "আশ্হাদু আল্ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ)। মুয়ায্যিন বললেন, "আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" তখন মুআবিয়াহ বললেন এবং আমিও বললাম। যখন (মুয়ায্যিন) আযান শেষ করলেন, তখন মুআবিয়াহ বললেন, হে লোক সকল! তোমরা আমার হতে যে বাক্যগুলো শুনেছ, তা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে মুয়ায্যিনের আযানের সময় এ মজলিসে বাক্যগুলো বলতে আমি শুনেছি।

সায়িব ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে মুসল্লীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে, উসমান জুমুআহর দিন দ্বিতীয় আযানের নির্দেশ দেন। অথচ (ইতোপূর্বে) জুমুআহর দিন ইমাম যখন (মিম্বারের উপর) বসতেন, তখন আযান দেয়া হতো।

সায়িব ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আবূ বাকর এবং উমার-এর যুগে জুমুআহর দিন ইমাম যখন মিম্বারের উপর বসতেন, তখন প্রথম আযান দেয়া হত। অতঃপর যখন উসমান-এর খিলাফাতের সময় এল এবং লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন জুমুআহর দিন তৃতীয় আযানের নির্দেশ দেন। 'যাওরা' নামক স্থান হতে এ আযান দেয়া হয়, পরে এ আযানের সিলসিলা চলতে থাকে।

আবূ হাযিম ইবন দ্বীনার হতে বর্ণিত যে, (একদিন) কিছু লোক সাহল ইবন সাদ সাঈদীর নিকট আগমন করে এবং মিম্বরটি কোন কাঠের তৈরি ছিল, এ নিয়ে তাদের মনে প্রশ্ন জেগে ছিল। তারা এ সম্পর্কে তার নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি সম্যকরূপে অবগত আছি যে, তা কিসের ছিল। প্রথম যেদিন তা স্থাপন করা হয় এবং প্রথম যে দিন এর উপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বসেন তা আমি দেখেছি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আনসারদের অমুক মহিলার (বর্ণনাকারী বলেন, সাহল তার নামও উল্লেখ করেছিলেন) নিকট লোক পাঠিয়ে বলেছিলেন, তোমার কাঠমিস্ত্রি গোলামকে আমার জন্য কিছু কাঠ দিয়ে এমন জিনিস তৈরি করার নির্দেশ দাও, যার উপর বসে আমি লোকদের সাথে কথা বলতে পারি। অতঃপর সে মহিলা তাকে আদেশ করেন এবং সে (মদিনা হতে নয় মাইল দূরবর্তী) গাবা'র ঝাউ কাঠ দ্বারা তা তৈরি করে নিয়ে আসে। মহিলাটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট তা পাঠিয়েছেন। নবী (ﷺ) -এর আদেশে এখানেই তা স্থাপন করা হয়। অতঃপর আমি দেখেছি, এর উপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাত আদায় করেছেন। এর উপর উঠে তাকবীর দিয়েছেন এবং এখানে (দাড়িয়ে) রুকূ করেছেন। অতঃপর পিছনের দিকে নেমে এসে মিম্বারের গোড়ায় সিজদা করেছেন এবং (এ সিজদা) পুনরায় করেছেন, অতঃপর সালাত শেষ করে সমবেত লোকদের দিকে ফিরে বলেছেনঃ হে লোক সকল! আমি এটা এ জন্য করেছি যে, তোমরা যেন আমার অনুসরণ করতে এবং আমার সালাত শিখে নিতে পার।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মসজিদে নাববীতে) এমন একটি (খেজুর গাছের) খুটি ছিল যার সাথে হেলান দিয়ে নবী (ﷺ) দাড়াতেন। অতঃপর যখন তার জন্য মিম্বর স্থাপন করা হল, আমরা তখন খুটি হতে দশ মাসের গর্ভবতী উট্নীর মত ক্রন্দন করার শব্দ শুনতে পেলাম। এমনকি নবী (ﷺ) মিম্বার হতে নেমে এসে খুটির উপর হাত রাখলেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে মিম্বারের উপর হতে খুৎবাহ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআহর সালাতে আসে সে যেন গোসল করে নেয়।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দাড়িয়ে খুৎবাহ দিতেন। অতঃপর বসতেন এবং পুনরায় দাড়াতেন। যেমন তোমরা এখন করে থাক।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একদা মিম্বারের উপর বসলেন এবং আমরা তার চারদিকে (মুখ করে) বসলাম।

আসমা বিনত আবূ বাকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (একদিন) আয়িশাহ-এর নিকট গেলাম। লোকজন তখন সালাত আদায় করছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, লোকদের কী হয়েছে? তখন তিনি মাথা দিয়ে আকাশের দিকে ইঙ্গিত করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি কোন নিদর্শন? তিনি মাথা দিয়ে ইঙ্গিত করে, হ্যা বললেন। (এরপর আমিও তাদের সঙ্গে সালাত যোগ দিলাম) অতঃপর রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) সালাত এত দীর্ঘায়িত করলেন যে, আমি প্রায় অজ্ঞান হতে যাচ্ছিলাম। আমার পার্শ্বেই একটি চামড়ার মশকে পানি রাখা ছিল। আমি সেটা খুললাম এবং আমার মাথায় পানি দিতে লাগলাম। অতঃপর যখন সূর্য উজ্জ্বল হয়ে উঠলো তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাত সমাপ্ত করলেন এবং লোকজনের উদ্দেশ্যে খুৎবা পেশ করলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, আম্মা বা'দু। আসমা বলেন, তখন কয়েকজন আনসারী মহিলা শোরগোল করছিলেন। তাই আমি চুপ করাবার উদ্দেশে তাদের প্রতি ঝুকে পড়লাম। অতঃপর আয়িশাহ-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি নবী (ﷺ) কী বললেন? আয়িশাহ বললেন, তিনি বলেছেন, এমন কোন জিনিস নেই যা আমাকে দেখানো হয়নি আমি এ জায়গা হতে সব কিছুই দেখেছি। এমন কি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলাম। আমার নিকট ওয়াহী পাঠান হয়েছে যে, তোমাদেরকে কবরে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা তিনি বলেছেন, সে ফেতনার কাছাকাছি ফিতনায় ফেলা হবে। (তোমাদেরকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হবে) তোমাদের প্রত্যেককে (কবরে) উঠানো এবং প্রশ্ন করা হবে, এ ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ) সম্পর্কে তুমি কী জান? তখন মুমিন অথবা মুকিন (নবী (ﷺ) এ দু'টোর মধ্যে কোন শব্দটি বলেছিলেন এ ব্যাপারে বর্ণনাকারী হিশামের মনে সন্দেহ রয়েছে) বলবে, তিনি হলেন, আল্লাহর রাসূল, তিনি মুহাম্মাদ (ﷺ) , তিনি আমাদের নিকট সুস্পষ্ট দালীল ও হিদায়াত নিয়ে এসেছিলেন। অতঃপর আমরা ঈমানএনেছি, তার আহবানে সাড়া দিয়েছি, তার আনুগত্য করেছি এবং তাকে সত্য বলে গ্রহণ করেছি। তখন তাকে বলা হবে, তুমি ঘুমিয়ে থাক, যেহেতু তুমি নেককার। তুমি যে তার প্রতি ঈমান এনেছ তা আমরা অবশ্যই জানতাম। আর মুনাফিক বা মুরতাব (সন্দেহ পোষণকারী) (এ দু'টোর মধ্যে কোন শব্দটি বলেছিলেন এ সম্পর্কে বর্ণনাকারী হিশামের মনে সন্দেহ রয়েছে)-কেও প্রশ্ন করা হবে যে, এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী জান? উত্তরে সে বলবে, আমি কিছুই জানি না। অবশ্য মানুষকে তার সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলতাম। হিশাম বলেন, ফাতিমা আমার নিকট যা বলেছেন, তা সবটুকু আমি উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছি। তবে তিনি ওদের প্রতি যে কঠোরতা করা হবে তাও উল্লেখ করেছেন।

আমর ইবন তাগলিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট কিছু মাল বা কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী উপস্থিত করা হলে তিনি তা বণ্টন করে দিলেন। বণ্টনের সময় কিছু লোককে দিলেন এবং কিছু লোককে বাদ দিলেন। অতঃপর তার নিকট সংবাদ পৌছলো যে, যাদের তিনি দেননি, তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আল্লাহর প্রশংসা করলেন ও তার মহিমা বর্ণনা করলেন, অতঃপর বললেনঃ আম্মা বা'দ। আল্লাহর শপথ! আমি কোন লোককে দেই আর কোন লোককে দেই না। যাকে আমি দেই না, সে যাকে আমি দেই তার চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়। তবে আমি এমন লোকদের দেই যাদের অন্তরে অধৈর্য ও মালের প্রতি লিপ্সা দেখতে পাই; আর কিছু লোককে আল্লাহ যাদের অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যাণ রেখেছেন, তাদের সে অবস্থার উপর ন্যস্ত করি। তাদের মধ্যে আমর ইবন তাগলিব একজন। বর্ণনাকারী আমর ইবন তাগলিব বলেন, আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর এ বাণীর পরিবর্তে আমি লাল উটও পছন্দ করি না।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কোন এক রাতের মধ্যভাগে বের হলেন এবং মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করলেন। তার সঙ্গে সাহাবীগণও সালাত আদায় করলেন, সকালে তারা এ নিয়ে আলোচনা করলেন। ফলে (দ্বিতীয় রাতে) এর চেয়ে অধিক সংখ্যক সহাবা একত্রিত হলেন এবং তার সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। পরের দিন সকালেও তারা এ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। ফলে তৃতীয় রাতে মসজিদে লোকসংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি পেল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বের হলেন এবং সাহাবীগণ তার সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। চতুর্থ রাতে মসজিদে মুসল্লীগণের স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। অবশেষে তিনি ফজরের সালাতের জন্য বের হলেন এবং ফজরের সালাত শেষ করে লোকদের দিকে ফিরলেন। অতঃপর আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেনঃ আম্মা বা'দ (তারপর বক্তব্য এই যে) এখানে তোমাদের উপস্থিতি আমার নিকট গোপন ছিল না, কিন্তু আমার আশংকা ছিল, তা তোমাদের জন্য ফরজ করে দেয়া হয় আর তোমরা তা আদায় করতে অপারগ হয়ে পড়।

আবূ হুমায়দ সাঈদ হতে বর্ণিত। এক সন্ধ্যায় সালাতের পর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দাড়ালেন এবং শাহাদাত বাণী পাঠ করলেন। আর যথাযথভাবে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, 'আম্মা বা'দ'।

মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দাড়ালেন। অতঃপর আমি তাকে তাওহীদের সাক্ষ্য বাণী পাঠান্তে বলতে শুনলাম, 'আম্মা বা'দ'।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মিম্বরের উপর আরোহণ করলেন। এ ছিল তার জীবনের শেষ মাজলিস। তিনি বসেছিলেন, তার দু' কাঁধের উপর বড় চাদর জড়ানো ছিল এবং মাথায় বাধা ছিল কালো পট্টি। তিনি আল্লাহর গুণকীর্তন করলেন এবং তার মহিমা বর্ণনা করলেন, অতঃপর বললেন, হে লোক সকল! তোমরা আমার নিকট আস। লোকজন তার নিকট একত্র হলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ 'আম্মা বা'দ'। শুনে রাখ, এ আনসার গোত্র সংখ্যায় কমতে থাকবে এবং অন্য লোকেরা সংখ্যায় বাড়তে থাকবে। কাজেই যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর উম্মাতের কোন বিষয়ের কর্তৃত্ব লাভ করবে এবং সে এর সাহায্যে কারো ক্ষতি বা উপকার করার সুযোগ পাবে, সে যেন এই আনসারদের সৎ লোকদের ভাল কাজগুলো গ্রহণ করে এবং তাদের মন্দ কাজগুলো মাফ করে দেয়।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দু' খুৎবাহ দিতেন আর দু' খুৎবাহর মধ্যখানে বসতেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, জুমুআহর দিন মসজিদের দরজায় মালাইকাহ অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে পূর্বে আগমণকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার পূর্বে সে আসে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানী করে। অতঃপর যে আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি গাভী কুরবানী করে, অতঃপর মেষ কুরবানী করার ন্যায়। অতঃপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগী দানকারীর ন্যায়। অতঃপর আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। অতঃপর ইমাম যখন বের হন তখন মালাইকাহ তাদের খাতা বন্ধ করে দিয়ে মনোযোগ সহকারে খুৎবাহ শ্রবণ করতে থাকে।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কোন এক) জুমুআহর দিন নবী (ﷺ) লোকদের সামনে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি আসলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তুমি কি সালাত আদায় করেছ? সে বলল, না; তিনি বললেন, উঠ, সালাত আদায় করে নাও।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক জুমুআহর দিন নবী (ﷺ) খুৎবাহ দেয়ার সময় এক ব্যক্তি প্রবেশ করলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সালাত আদায় করেছ কি? সে বলল, না; তিনি বললেনঃ উঠ, দু' রাকাত সালাত আদায় কর।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক জুমুআহর দিন নবী (ﷺ) খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! (পানির অভাবে) ঘোড়া মরে যাচ্ছে, ছাগল বকরীও মরে যাচ্ছে। কাজেই আপনি দু'আ করুন, যেন আল্লাহ আমাদেরকে বৃষ্টি দান করেন। তখন তিনি দু' হাত প্রসারিত করলেন এবং দোয়া করলেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর যুগে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সে সময় কোন এক জুমুআহর দিন নবী (ﷺ) খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। তখন এক বেদুইন উঠে দাড়াল এবং আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! (বৃষ্টির অভাবে) সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পরিবার পরিজনও অনাহারে রয়েছে। তাই আপনি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য দোয়া করুন। তিনি দু' হাত তুললেন। সে সময় আমরা আকাশে এক খন্ড মেঘও দেখিনি। যার হাত আমার প্রাণ, তার শপথ (করে বলছি)! (দোয়া শেষে) তিনি দু' হাত (এখনও) নামান নি, এমন সময় পাহাড়ের ন্যায় মেঘের বিরাট বিরাট খন্ড উঠে আসল। অতঃপর তিনি মিম্বার হতে নীচে নামেননি, এমন সময় দেখতে পেলাম তার দাড়ির উপর ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে। সে দিন আমাদের এখানে বৃষ্টি হল। এর পরে ক্রমাগত দু'দিন এবং পরবর্তী জুমুআহ পর্যন্ত প্রত্যেক দিন। (পরবর্তী জুমুআহর দিন) সে বেদুইন অথবা অন্য কেউ উঠে দাড়াল এবং আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! (বৃষ্টির কারণে) এখন আমাদের বাড়ি ঘর ধ্বসে পড়ছে, সম্পদ ডুবে যাচ্ছে। তাই আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। তখন তিনি দু' হাত তুললেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় (বৃষ্টি দাও), আমাদের উপর নয়। (দোয়ার সময়) তিনি মেঘের এক একটি খন্ডের দিকে ইশারা করছিলেন, আর সেখানকার মেঘ কেটে যাচ্ছিল। এর ফলে চতুর্দিকে মেঘ পরিবেষ্টিত অবস্থায় ঢালের ন্যায় মদিনার আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলে এবং কানাত উপত্যকার পানি একমাস ধরে প্রবাহিত হতে লাগল, তখন (মদিনার) চারপাশের যে কোন অঞ্চল হতে যে কেউ এসেছে, সে এ প্রবল বৃষ্টির কথা আলোচনা করেছে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ জুমুআহর দিন যখন তোমার পাশের মুসল্লীকে চুপ থাক বলবে, অথচ ইমাম খুৎবাহ দিচ্ছেন, তা হলে তুমি একটি অনর্থক কথা বললে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জুমুআহর দিন সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন, এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাড়িয়ে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দিয়ে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে (জুমুআহর) সালাত আদায় করছিলাম। এমন সময় খাদ্য দ্রব্য বহণকারী একটি উটের কাফিলা হাযির হল এবং তারা (মুসল্লীগণ) সে দিকে এত অধিক মনোযোগী হলেন যে, নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে মাত্র বারোজন মুসল্লী অবশিষ্ট ছিলেন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ "এবং যখন তারা ব্যবসা বা খেল তামাশা দেখতে পেল তখন সে দিকে দ্রুত চলে গেল এবং আপনাকে দাড়ানো অবস্থায় রেখে গেল"- (জুমুআহ ৬২/১১)।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুহরের পূর্বে দু' রাকাত ও পরে দু' রাকাত, মাগরিবের পর নিজের ঘরে দু' রাকাত এবং ইশার পর দু' রাকাত সালাত আদায় করতেন। আর জুমুআহর দিন নিজের ঘরে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না। (ঘরে গিয়ে) দু' রাকাত সালাত আদায় করতেন।

সাহল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে বসবাসকারিণী জনৈকা মহিলা একটি ছোট নহরের পাশে ক্ষেতে বীটের চাষ করতেন। জুমুআহর দিনে সে বীটের মূল তুলে এনে রান্নার জন্য ডেগে চড়াতেন এবং এর উপর এক মুঠো যবের আটা দিয়ে রান্না করতেন। তখন এ বীট মূলই এর গোশ্ত (গোশতের বিকল্প) হয়ে যেত। আমরা জুমুআহর সালাত হতে ফিরে এসে তাকে সালাম দিতাম। তিনি তখন খাদ্য আমাদের সামনে রাখতেন এবং আমরা তা খেতাম। আমরা সে খাদ্যের আশায় জুমুআর দিন উদগ্রীব থাকতাম।

সাহল ইবন সাদ হতে এ হাদীস বর্ণিত, তিনি আরো বলেছেন, জুমুআহ (সালাতের) পরই আমরা কায়লূলাহ (দুপুরের শয়ন ও হাল্কা নিদ্রা) এবং দুপুরের আহার্য গ্রহণ করতাম।

হুমাইদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস বলেছেনঃ আমরা সকাল সকাল জুমুআহ্য় যেতাম অতঃপর (সালাত শেষে) কায়লূলাহ করতাম।

সাহল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে জুমুআহর সালাত আদায় করতাম। অতঃপর দুপুরের বিশ্রাম ও হালকা নিদ্রা যেতাম।