জানাযা (১২৩৭-১৩৯৪)
আবূ যার্ (গিফারী) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ একজন আগন্তুক [জিবরীল] আমার প্রতিপালকের নিকট হতে এসে আমাকে খবর দিলেন অথবা তিনি বলেছেন, আমাকে সুসংবাদ দিলেন, আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদিও সে যিনা করে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে? তিনি বললেন: যদিও সে যিনা করে থাকে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে।
আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: যে আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যে আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুর শির্ক না করা অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সাতটি বিষয়ে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে আমাদের নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন- ১. জানাযার অনুগমন করতে, ২. রুগ্ন ব্যক্তির খোজ-খবর নিতে, ৩. দাওয়াত দাতার দাওয়াত গ্রহণ করতে, ৪. মাযলূমকে সাহায্য করতে, ৫. কসম হতে দায়মুক্ত করতে, ৬. সালামের জবাব দিতে এবং ৭. হাচিদাতাকে (ইয়ারহামুকাল্লাহু বলে) সন্তুষ্ট করতে। আর তিনি নিষেধ করেছেন- ১. রৌপ্যের পাত্র, ২. স্বর্ণের আংটি, ৩. রেশম, ৪. দীবাজ, ৫. কাস্সী (কেস্ রেশম), ৬. ইস্তিব্রাক (তসর জাতীয় রেশম) ব্যবহার করতে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে আমি বলতে শুনেছি যে, এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক্ পাচটিঃ ১. সালামের জওয়াব দেয়া, ২. অসুস্থ ব্যক্তির খোজ-খবর নেয়া, ৩. জানাযার পশ্চাদানুসরণ করা, ৪. দাওয়াত কবূল করা এবং ৫. হাচিদাতাকে খুশী করা (আল-হামদু লিল্লাহর জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা)। আবদুর রাযযাক আমর ইবন আবূ সালামাহ-এর অনুসরণ করেছেন। আবদুর রাযযাক বলেন, আমাকে মা'মার -এরূপ অবহিত করেছেন এবং এ হাদীস সালামাহ 'উকাইল হতে রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ সালামাহ বলেন, নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী আয়িশাহ আমাকে বলেছেন, (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর মৃত্যুর খবর পেয়ে) আবূ বাকর 'সুন্হ'-এ অবস্থিত তার বাড়ি হতে ঘোড়ায় চড়ে চলে এলেন এবং নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে লোকজনের সঙ্গে কোন কথা না বলে আয়িশাহ-এর ঘরে প্রবেশ করে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি একখানি 'হিবারাহ' ইয়ামানী চাদরে আবৃত ছিলেন। আবূ বাকর নবী (ﷺ) -এর মুখমন্ডল উন্মুক্ত করে তার উপর ঝুকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, অতঃপর ক্রন্দন করতে লাগলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আল্লাহ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্র করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য অবধারিত ছিল তা তো আপনি ক্ববূল করেছেন। আবূ সালামাহ বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস আমাকে খবর দিয়েছেন যে, (তারপর) আবূ বাকর বাহিরে এলেন। তখন উমার লোকজনের সাথে বাক্যালাপ করছিলেন। আবূ বাকর তাকে বললেন, বসে পড়ুন। তিনি তা মানলেন না। আবূ বাকর তাকে বললেন, বসে পড়ুন, তিনি তা মানলেন না। তখন আবূ বাকর কালিমা-ই-শাহাদাতের দ্বারা (বক্তব্য) আরম্ভ করলেন। লোকেরা উমার-কে ছেড়ে তার দিকে আকৃষ্ট হন। আবূ বাকর বললেন.....আম্মা বা'দু, তোমাদের মাঝে যারা মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর ইবাদাত করতে, মুহাম্মাদ (ﷺ) সত্যই মারা গেছেন। আর যারা মহান আল্লাহর ইবাদাত করতে, নিশ্চই আল্লাহ চিরঞ্জীব, অমর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ (যার অর্থ) মুহাম্মাদ একজন রাসূল মাত্র আর কিছু নন। তার পূর্বেও অনেক রাসূল চলে গেছেন। অতএব যদি তিনি মারা যান অথবা নিহত হন তাহলে কি তোমরা পায়ের গোড়ালিতে ভর করে পেছনে ফিরে যাবে? আর যদি কেউ সেরূপ পেছনে ফিরেও যায়, তবে সে কখনও আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ অতি সত্বর কৃতজ্ঞদের পুরস্কার দিবেন- (আলু-ইমরানঃ ১৪৪)। আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছিল যেন আবূ বাকর-এর তিলাওয়াত করার পূর্বে লোকদের জানাই ছিল না যে, আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেছেন। এখনই যেন লোকেরা আয়াতখানি তার কাছ থেকে পেলেন। প্রতিটি মানুষকেই তখন ঐ আয়াত তিলাওয়াত করতে শোনা গেল।
পূর্বের হাদিসের মতই (১২৪১)।
আনসারী মহিলা ও নবী (ﷺ) এর নিকট বাই'আতকারী উম্মুল 'আলা হতে বর্ণিত, (মাদ্বীনায় হিজরাতের পর) লটারীর মাধ্যমে মুহাজিরদের বণ্টন করা হচ্ছিল। তাতে উসমান ইবন মায'ঊন আমাদের অংশে পড়লেন, আমরা (সাদরে) তাকে আমাদের গৃহে স্থান দিলাম। এক সময় তিনি সেই রোগে আক্রান্ত হলেন, যাতে তার মৃত্যু হল। যখন তার মৃত্যু হল এবং তাকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরানো হল, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) প্রবেশ করলেন। তখন আমি বললাম, হে আবাস্-সায়িব! আপনার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক! আপনার ব্যাপারে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করেছেন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি করে জানলে যে, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আল্লাহ আর কাকে সম্মানিত করবেন? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তার ব্যাপার তো এই যে, নিশ্চই তার মৃত্যু হচ্ছে এবং আল্লাহর কসম! আমি তার জন্য কল্যাণ কামনা করি। আল্লাহর কসম! আমি জানি না আমার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হবে, অথচ আমি আল্লাহর রাসূল। সেই আনসারী মহিলা বলেন, আল্লাহর কসম! অতঃপর এরপর হতে কোন দিন আমি কোন ব্যক্তিকে সম্বন্ধে পবিত্র বলে মন্তব্য করব না।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (উহুদ যুদ্ধে) আমার পিতা আবদুল্লাহ্ শহীদ হয়ে গেলে আমি তার মুখমন্ডল হতে কাপড় সরিয়ে ক্রন্দন করতে লাগলাম। লোকজন আমাকে নিষেধ করতে লাগল। কিন্তু নবী (ﷺ) আমাকে নিষেধ করেননি। আমার ফুফী ফাতিমাও ক্রন্দন করতে লাগলেন। এতে নবী (ﷺ) বললেন, তুমি কাঁদ বা না-ই কাঁদ (উভয় সমান) তোমরা তাকে তুলে নেয়া পর্যন্ত ফেরেশ্তাগণ তাদের ডানা দিয়ে ছায়া বিস্তার করে রেখেছেন। ইবন জুরাইজ মুহাম্মাদ ইবন মুন্কাদির সূত্রে জাবির হতে হাদীস বর্ণনায় শু'বা-এর অনুসরণ করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নাজাশী যেদিন মারা যান সেদিন-ই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার মৃত্যুর খবর দেন এবং জানাযার স্থানে গিয়ে লোকদের কাতারবন্দী করে চার তাকবীর আদায় করলেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (মূতা যুদ্ধের অবস্থা বর্ণনায়) বললেনঃ যায়দ পতাকা বহন করেছে অতঃপর শহীদ হয়েছে। অতঃপর জা'ফর (পতাকা) হাতে নিয়েছে, সেও শহীদ হয়। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (পতাকা) ধারণ করে এবং সেও শহীদ হয়। এ খবর বলছিলেন এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর দু' চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। অতঃপর খালিদ ইবন ওয়ালিদ পরামর্শ ছাড়াই (পতাকা) হাতে তুলে নেন এবং তার দ্বারাই বিজয় লাভ হয়।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মারা গেল। যার অসুস্থতার সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) খোজ-খবর রাখতেন। তার মৃত্যু হয় এবং রাতেই লোকেরা তাকে দাফন করেন। সকাল হলে তারা (এ বিষয়ে) নবী (ﷺ) -কে খবর দেন। তিনি বললেনঃ আমাকে খবর দিতে তোমাদের কিসে বাধা দিল? তারা বলল, তখন ছিল রাত এবং গাঢ় অন্ধকার। তাই আপনাকে কষ্ট দেয়া আমরা পছন্দ করিনি। তিনি ঐ ব্যক্তির কবরের নিকট গেলেন এবং তার জন্য সালাতে জানাযা আদায় করলেন।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: কোন মুসলিমের তিনটি সন্তান সাবালিগ হবার পূর্বে মারা গেলে তাদের প্রতি তার রহমত স্বরূপ অবশ্যই আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত যে, মহিলাগণ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট নিবেদন করলেন, আমাদের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করে দিন। অতঃপর তিনি একদা তাদের ওয়ায-নসীহত করলেন এবং বললেনঃ যে স্ত্রী লোকের তিনটি সন্তান মারা যায়, তারা তার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে। তখন এক মহিলা প্রশ্ন করলেন, দু'টি সন্তান মারা গেলে? তিনি বললেন, দু'টি সন্তান মারা গেলেও।
আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, আবূ হুরাইরাহ্ বলেন, যারা বালিগ হয়নি।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলিমের তিনটি (নাবালিগ) সন্তান মারা গেল, তবুও সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে, এমন হবে না। তবে কেবল কসম পূর্ণ হবার পরিমাণ পর্যন্ত। আবূ আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী বলেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: "তোমাদের প্রত্যেককেই তা অতিক্রম করতে হবে।"
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একটি কবরের নিকট উপস্থিত এক মহিলার পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে তখন ক্রন্দন করছিল। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্য ধর।
উম্মু আতিয়্যাহ্ আনসারী হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কন্যা যায়নাব ইন্তিকাল করলে তিনি (ﷺ) আমাদের নিকট এসে বললেন: তোমরা তাকে তিনবার বা পাচবার বা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পুর ব্যবহার করবে। তোমরা শেষ করে আমাকে খবর দাও। আমরা শেষ করার পর তাকে জানালাম। তখন তিনি তার চাদরখানি আমাদেরকে দিয়ে বললেন: এটি তার শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দাও।
উম্মু আতিয়্যাহ্ আনসারী হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কন্যা যায়নাব ইন্তিকাল করলে তিনি (ﷺ) আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা তাকে তিনবার বা পাচবার বা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দ্বারা গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পুর ব্যবহার করবে। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাও। আমরা শেষ করার পর তাকে জানালাম। তখন তিনি তার চাদরখানি আমাদের দিকে দিয়ে বললেনঃ এটি তার ভিতরের কাপড় হিসেবে পরিয়ে দাও। আইয়ুব বলেছেন, হাফ্সাহ আমাকে মুহাম্মাদ বর্ণিত হাদীসের ন্যায় হাদীস শুনিয়েছেন। তবে তার হাদীসে আছে যে, তাকে বিজোড় সংখ্যায় গোসল দিবে। আরও আছে, তিনবার, পাচবার অথবা সাতবার করে; তাতে আরো আছে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ "তোমরা তার ডান দিক হতে এবং তার উযূর স্থানগুলো থেকে আরম্ভ করবে।" তাতে এ কথাও আছে। (বর্ণনাকারিণী) উম্মু আতিয়্যাহ্ বলেছেন, আমরা তার চুলগুলো আচড়ে তিনটি গোছা করে দিলাম।
উম্মু আতিয়্যাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার কন্যার গোসলের ব্যাপারে ইরশাদ করেন: তোমরা তার ডান দিক হতে এবং উযূর অঙ্গসমূহ হতে শুরু করবে।
উম্মু আতিয়্যাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর কন্যা [যায়নাব]-এর গোসল দিতে যাচ্ছিলাম, গোসল দেয়ার সময় তিনি আমাদের বলেনঃ তোমরা তার ডান দিক হতে এবং উযূর স্থানগুলো হতে শুরু করবে।
উম্মু আতিয়্যাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর কন্যার ইন্তিকাল হলে তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা তাকে তিনবার, পাচবার অথবা তোমরা প্রয়োজনয় মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার গোসল দাও। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাবে। আমরা শেষ করে তাকে (ﷺ) জানালাম। তখন তিনি তার (ﷺ) কোমর হতে তার চাদর খুলে দিয়ে বললেনঃ এটি তার ভিতরের কাপড় হিসেবে পরিয়ে দাও।
উম্মু আতিয়্যাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর কন্যাগণের একজনের ইন্তিকাল হল। নবী (ﷺ) সেখানে গেলেন এবং বললেনঃ তোমরা তাকে তিনবার, পাচবার অথবা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দ্বারা গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর (অথবা তিনি বলেন) 'কিছু কর্পূর' ব্যবহার করবে। গোসল শেষ করে আমাকে জানাবে। উম্মু আতিয়্যাহ্ বলেন, আমরা শেষ করে তাকে (ﷺ) জানালাম। তখন তিনি তার চাদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেনঃ এটি তার ভিতরের কাপড় হিসেবে পরাও। আইয়ুব হাফ্সাহ-এর সূত্রে উম্মু আতিয়্যাহ্ হতে একইভাবে বর্ণনা করেন।
উম্মু আতিয়্যাহ্ বলেছেন, তিনি ইরশাদ করেছিলেনঃ তাকে তিন, পাচ, সাত বা প্রয়োজনে তার চেয়ে অধিকবার গোসল দাও। হাফসাহ বলেন, উম্মু আতিয়্যাহ্ বলেন, আমরা তার মাথার চুলে তিনটি গোছা (বেনী) বানিয়ে দিলাম।
উম্মু আতিয়্যাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর কন্যার মাথার চুল তিনটি বেণী করেছেন। তারা তা খুলেছেন, অতঃপর তা ধুয়ে তিনটি বেনী করেছেন।
আইয়ূব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন সীরীন-কে বলতে শুনেছি যে, আনসারী মহিলা উম্মু আতিয়্যাহ্ আগমন করলেন, যিনি নবী (ﷺ) -এর নিকট বাই'আতকারীদের একজন। তিনি তার এক ছেলেকে দেখার জন্য সাথে বাসরায় এসেছিলেন, কিন্তু তিনি তাকে পাননি। তখন তিনি আমাদের হাদীস শুনালেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের নিকট আসলেন, তখন আমরা তার কন্যাকে গোসল দিচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা তাকে তিনবার, পাচবার অথবা প্রয়োজনে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। আর শেষবারে কর্পুর দাও। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাবে। তিনি বলেন, আমরা যখন শেষ করলাম, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার চাদর আমাদের দিকে নিক্ষেপ করে বললেনঃ এটা তার শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দাও। উম্মু আতিয়্যাহ্-এর অধিক বর্ণনা করেননি। [আইয়ূব বলেন] আমি জানি না, নবী (ﷺ) -এর কোন কন্যা ছিলেন? তিনি বলেন, অর্থ শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দাও। ইবন সীরীন মহিলা সম্পর্কে এভাবেই আদেশ করতেন যে, ভিতরের কাপড় শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দিবে, ইজারের মত ব্যবহার করবে না।
উম্মু আতিয়্যাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর কন্যার মাথার চুল বেনী পাকিয়ে দিয়েছিলাম, তিনটি বেনী। ওয়াকী' বলেন, সুফিয়ান বলেছেন, মাথার সামনে একটি বেনী এবং দু' পাশে দু'টি বেনী।
উম্মু আতিয়্যাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কন্যাগণের একজনের ইন্তিকাল হলে তিনি (ﷺ) আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা তাকে বরই পাতার পানি দিয়ে বিজোড় সংখ্যক তিনবার, পাচবার অথবা প্রয়োজনবোধ করলে আরও অধিকবার গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর অথবা তিনি বলেছিলেন কিছু কর্পুর ব্যবহার করবে। তোমরা গোসল শেষ করে আমাকে জানাবে। আমরা শেষ করে তাকে জানালাম। তখন তিনি তার (ﷺ) চাদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিলেন, আমরা তার মাথার চুলগুলো তিনটি বেনী করে পিছনের দিকে ছেড়ে দিলাম।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে তিনটি ইয়ামানী সাহুলী সাদা সূতী বস্ত্র দ্বারা কাফন দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না।
আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাতে ওয়াকূফ অবস্থায় অকস্মাৎ তার উটনী হতে পড়ে যায়। এতে তার ঘাড় মটকে গেল অথবা রাবী বলেছেন, তার ঘাড় মটকে দিল। (যাতে সে মারা গেল)। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু' কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মস্তক আবৃত করবে না। কেননা, কিয়ামতের দিবসে সে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত হবে।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে আরাফাতে ওয়াকূফ কালে অকস্মাৎ সে তার সওয়ারী হতে পড়ে যান। যার ফলে তার ঘাড় মটকে গেল অথবা রাবী বলেন, ঘাড় মটকে দিল। (যাতে তিনি মারা গেলেন)। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু' কাপড়ে তাকে কাফন দাও; তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মস্তক আবৃত করবে না। কেননা, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত করবেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তির উট তার ঘাড় মটকে দিল। (ফলে সে মারা গেল)। সে সময় আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে ছিলাম। ঐ ব্যক্তি ছিল ইহরাম অবস্থায়। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু' কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মস্তক আবৃত করো না। কেননা, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে মুলাবিব (ইহরামরত) অবস্থায় উত্থিত করবেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে আরাফাতে অবস্থান করছিলেন। সে তার সওয়ারী হতে পতিত হলেন। (পরবর্তী অংশের বর্ণনায়) আইয়ুব বলেন, তার ঘাট মট্কে দিল। আর আমর বলেন, তাকে দ্রুত মৃত্যুমুখে ঠেলে দিল। যার ফলে তিনি মারা গেলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু' কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মস্তকও আবৃত করবে না। কারণ, তাকে কিয়ামত দিবসে উত্থিত করা হবে এ অবস্থায় যে, আইয়ুব বলেছেন, 'সে তালবিয়া পাঠ করছে' আর আমর বলেন, সে তালবিয়া পাঠরত।
আবদুল্লাহ্ ইবন উমার হতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উবাই (মুনাফিক সর্দার)-এর মৃত্যু হলে তার পুত্র (যিনি সাহাবী ছিলেন) নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে বললেন, আপনার জামাটি আমাকে দান করুন। আমি সেটা দিয়ে আমার পিতার কাফন পরাতে ইচ্ছা করি। আর আপনি তার জানাযা পড়বেন এবং তার জন্য মাগফিরাত কামনা করবেন। নবী (ﷺ) নিজের জামাটি তাকে দিয়ে দিলেন এবং বললেনঃ আমাকে খবর দিও, আমি তার জানাযা আদায় করব। তিনি তাকে খবর দিলেন। যখন নবী (ﷺ) তার জানাযা আদায়ের ইচ্ছা করলেন, তখন উমার তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, আল্লাহ কি আপনাকে মুনাফিকদের জানাযা আদায় করতে নিষেধ করেননি? তিনি বললেনঃ আমাকে তো দু'টির মধ্যে কোন একটি করার ইখ্তিয়ার দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ (যার অর্থ) "আপনি তাদের (মুনাফিকদের) জন্য মাগফিরাত কামনা করুন বা মাগফিরাত কামনা না-ই করুন (একই কথা) আপনি যদি সত্তর বারও তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করেন; কখনো আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না-" (আত্তওবাঃ ৮০)। কাজেই তিনি তার জানাযা পড়লেন, অতঃপর নাযিল হলঃ (যার অর্থ) "তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে আপনি তাদের জানাযা কক্ষণও আদায় করবেন না।"
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উবাইকে দাফন করার পর নবী (ﷺ) তার (কবরের) নিকট এলেন এবং তাকে বের করলেন। অতঃপর তার উপর থুথু দিলেন, আর নিজের জামাটি তাকে পরিয়ে দিলেন।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -কে তিনখানা সুতী সাদা সাহুলী (ইয়ামানী) কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল, তার মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে তিনখানা কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিল, তাতে জামা ও পাগড়ী ছিল না। আবূ আবদুল্লাহ বলেন, আবূ নুআইম শব্দটি বলেননি। আর আবদুল্লাহ ইবন ওয়ালীদ হতে হাদীস বর্ণনায় শব্দটি বলেছেন।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে তিনখানা সাদা সাহুলী কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিল, যার মধ্যে কোন কামীস ও পাগড়ী ছিল না।
সাদ-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবদুর রহমান ইবন 'আওফ-কে খাবার দেয়া হল। তখন তিনি বললেন, মুস্'আব ইবন উমাইর শহীদ হলেন আর তিনি আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন অথচ তার কাফনের জন্য একটি চাদর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। হামযাহ বা অপর এক ব্যক্তি শহীদ হলেন, তিনিও ছিলেন আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, অথচ তার কাফনের জন্যও একটি চাদর ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি। তাই আমার ভয় হয়, আমাদের নেক আমলের বিনিময় আমাদের এ পার্থিব জীবনে পূর্বেই দেয়া হল। অতঃপর তিনি কাঁদতে লাগলেন।
ইব্রাহীম হতে বর্ণিত, একদা আবদুর রহমান ইবন 'আওফ-কে খাদ্য পরিবেশন করা হল, তখন তিনি সিয়াম পালন করছিলেন। তিনি বললেন, মুস'আব ইবন উমাইর শহীদ হলেন। তিনি ছিলেন, আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (অথচ) তাকে এমন একটি চাদর দিয়ে কাফন দেয়া হল যে, তার মাথা ঢাকলে তার দু' পা বাইরে থাকে আর দু' পা ঢাকলে মাথা বাইরে থাকে। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে পড়ে, তিনি আরও বলেছিলেন, হামযাহ শহীদ হলেন। তিনিও ছিলেন আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অতঃপর আমাদের জন্য পৃথিবীতে অত্যধিক প্রাচুর্য দেয়া হয়েছে। আশঙ্কা হয় যে, আমাদের নেক আমলগুলো (এর বিনিময়) আমাদের পূর্বেই দিয়ে দেয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি ক্রন্দন করতে লাগলেন, এমনকি খাদ্যও বর্জন করলেন।
খাব্বাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে মাদ্বীনায় হিজরত করেছিলাম, এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেছিলাম। আমাদের প্রতিদান আল্লাহর নিকটে নির্ধারিত হয়ে আছে। অতঃপর আমাদের মধ্যে অনেকে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু তারা তাদের বিনিময়ের কিছুই ভোগ করে যাননি। তাদেরই একজন মুস'আব ইবন উমাইর আর আমাদের মধ্যে অনেকে এমনও আছেন যাদের প্রতিদানের ফল পরিপক্ক হয়েছে। আর তারা তা ভোগ করছেন। মুস'আব উহুদের দিন শহীদ হয়েছিলেন। আমরা তাকে কাফন দেয়ার জন্য এমন একটি চাদর ব্যতীত আর কিছুই পেলাম না; যা দিয়ে তার মস্তক আবৃত করলে তার দু' পা বাইরে থাকে আর তার দু' পা আবৃত করলে তার মস্তক বাইরে থাকে। তখন নবী (ﷺ) তার মস্তক আবৃত করতে এবং তার দু'খানা পায়ের উপর ইয্খির (ঘাস) দিয়ে দিতে আমাদের নির্দেশ দিলেন।
সাহল হতে বর্ণিত। এক মহিলা নবী (ﷺ) -এর নিকট একখানা বুরদাহ নিয়ে এলেন যার সাথে ঝালর যুক্ত ছিল। সাহল বললেন, তোমরা জান, বুরদাহ কী? তারা বলল, চাদর। সাহল বললেন, ঠিকই। মহিলা বললেন, চাদরখানি আমি নিজ হস্তে বয়ন করেছি এবং তা আপনার পরিধানের জন্য নিয়ে এসেছি। নবী (ﷺ) তা গ্রহণ করলেন এবং তার চাদরের প্রয়োজনও ছিল। অতঃপর তিনি তা ইযার হিসেবে পরিধান করে আমাদের সম্মুখে আসলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি তার সৌন্দর্য বর্ণনা করে বললেন, বাহ! কত সুন্দর! আমাকে এটি পরিধানের জন্য দান করুন। সাহাবীগণ বললেন, তুমি ভাল করনি। নবী (ﷺ) তা তার প্রয়োজনে পরিধান করেছেন; তবুও তুমি তা চেয়ে বসলে। অথচ তুমি জান যে, তিনি কাউকে বিমুখ করেন না। ঐ ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! আমি তা পরিধানের উদ্দেশে চাইনি। আমার চাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য যেন তা দিয়ে আমার কাফন হয়। সাহল বললেন, অবশেষে তা তার কাফনই হয়েছিল।
উম্মু আতিয়্যাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জানাযার পশ্চাদানুগমণ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমাদের উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়নি।
মুহাম্মাদ ইবন সীরীন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু আতিয়্যাহ্-এর এক পুত্রের মৃত্যু হল। তৃতীয় দিবসে তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনয়ন করিয়ে ব্যবহার করলেন, আর বললেন, স্বামী ব্যতীত অন্য কারো জন্য তিন দিবসের বেশি শোক পালন করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।
যায়নাব বিনত আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সিরিয়া হতে আবূ সুফ্ইয়্যান-এর মৃত্যুর খবর পৌছল, তার তৃতীয় দিবসে উম্মু হাবীবাহ হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনয়ন করলেন এবং তার উভয় গন্ড ও বাহুতে মথিত করলেন। অতঃপর বললেন, অবশ্য আমার এর কোন প্রয়োজন ছিল না, যদি আমি নবী (ﷺ) -কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, স্ত্রীলোক আল্লাহ এবং কিয়ামতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। অবশ্য স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।
যায়নাব বিন্তু আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -এর সহধর্মিণী উম্মু হাবীবাহ-এর নিকটে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যে স্ত্রীলোক আল্লাহ এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন (বৈধ)।
অতঃপর যায়নাব বিনতু জাহশ-এর ভ্রাতার মৃত্যু হলে আমি তার নিকট গেলাম। তখন তিনি কিছু সুগন্ধি আনয়ন করিয়ে তা ব্যবহার করলেন। অতঃপর বললেন, সুগন্ধি ব্যবহারের আমার কোন প্রয়োজন নেই, তবু যেহেতু আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এমন কোন স্ত্রীলোকের পক্ষে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন (শোক পালন করবে)।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক মহিলার পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি কবরের পার্শ্বে ক্রন্দন করছিলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্য ধারণ কর। মহিলাটি বললেন, আমার নিকট থেকে প্রস্থান করুন। আপনার উপর তো আমার মত বিপদ উপস্থিত হয়নি। তিনি নবী (ﷺ) -কে চিনতে পারেননি। পরে তাকে বলা হল, তিনি তো নবী (ﷺ)। তখন তিনি নবী (ﷺ) -এর দরজায় উপস্থিত হলেন, তার কাছে কোন প্রহরী ছিল না। তিনি নিবেদন করলেন, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। তিনি বললেনঃ ধৈর্য তো বিপদের প্রাথমিক অবস্থাতেই (ধারণ করতে হয়)।
উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর জনৈকা কন্যা (যায়নাব) তার (ﷺ) নিকট লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের নিকট আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, (তাকে) সালাম দিবে এবং বলবেঃ আল্লাহরই অধিকারে যা কিছু তিনি নিয়ে যান আর তারই অধিকারে যা কিছু তিনি দান করেন। তার নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সাওয়াবের অপেক্ষায় থাকে। তখন তিনি তার কাছে কসম দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আগমন করেন। তখন তিনি দন্ডায়মান হলেন এবং তার সাথে ছিলেন সা'দ ইবন উবাদাহ, মুআয ইবন জাবাল, উবাই ইবন কা'ব, যাইদ ইবন সাবিত এবং আরও কয়েকজন। তখন শিশুটিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে তুলে দেয়া হল। তখন সে ছটফট করছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা যে, তিনি এ কথা বলেছিলেন, যেন তার শ্বাস মশকের মত (শব্দ হচ্ছিল)। আর নবী (ﷺ) -এর দু' চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। সা'দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! একি? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে রহমত, যা আল্লাহ তার বান্দার অন্তরে গচ্ছিত রেখেছেন। আর আল্লাহ তো তার দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর এক কন্যা [উম্মু কুলসুম (রা.)]-এর জানাযায় উপস্থিত হলাম। আল্লাহর রাসূল কবরের পার্শ্বে উপবিষ্ট ছিলেন। আনাস বলেন, তখন আমি তার চোখ হতে অশ্রু ঝরতে দেখলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে আজ রাতে স্ত্রী মিলন করোনি? আবূ তালহা বললেন, আমি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তা হলে তুমি (কবরে) অবতরণ কর। রাবী বলেন, তখন তিনি আবূ তালহা তার কবরে অবতরণ করলেন।
আবদুল্লাহ্ ইবন উবাইদুল্লাহ ইবন আবূ মুলাইকাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কায় উসমান-এর জনৈকা কন্যার মৃত্যু হল। আমরা সেখানে (জানাযায়) অংশগ্রহণ করার জন্য গেলাম। ইবন উমার এবং ইবন আব্বাস-ও সেখানে উপস্থিত হলেন। আমি তাদের দু'জনের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলাম, অথবা তিনি বলেছেন, আমি তাদের একজনের পার্শ্বে গিয়ে উপবেশন করলাম, পরে অন্যজন আগমন করে আমার পার্শ্বে উপবেশন করলেন। (ক্রন্দনের শব্দ শুনে) ইবন উমার আমর ইবন উসমানকে বললেন, তুমি কেন ক্রন্দন করতে নিষেধ করছ না? কেননা, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ 'মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনদের কান্নার কারণে আযাব দেয়া হয়।'
তখন ইবন আব্বাস বললেন, উমার-ও এমন কিছু বলতেন। অতঃপর ইবন আব্বাস বর্ণনা করলেন, উমার-এর সাথে মক্কা থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলাম। আমরা বাইদা (নামক স্থানে) উপস্থিত হলে উমার বাবলা বৃক্ষের ছায়ায় একটি কাফিলা দর্শন করতঃ আমাকে বললেন, গিয়ে দেখো এ কাফিলা কার? ইবন আব্বাস বলেন, আমি গিয়ে দেখলাম সেখানে সুহাইব আছেন। আমি তাকে তা অবহিত করলাম। তিনি বললেন, তাকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে এসো। আমি সুহাইব-এর নিকটে আবার গেলাম এবং বললাম, চলুন, আমীরুল মুমিনীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন। অতঃপর যখন উমার (ঘাতকের আঘাতে) আহত হলেন, তখন সুহাইব তার কাছে আগমন করতঃ এ বলে ক্রন্দন করতে লাগলেন, হায় আমার ভাই! হায় আমার বন্ধু! এতে উমার তাকে বললেন, তুমি আমার জন্য ক্রন্দন করছো? অথচ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির জন্য তার আপন জনের কোন কোন কান্নার কারণে অবশ্যই তাকে আযাব দেয়া হয়।
ইবন আব্বাস বলেন, উমার-এর মৃত্যুর পর আয়িশাহ-এর নিকট আমি উমার-এর এ উক্তি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ উমার-কে রহম করুন। আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এ কথা বলেননি যে, আল্লাহ ঈমানদার (মৃত) ব্যক্তিকে তার পরিজনের কান্নার কারণে আযাব দিবেন। তবে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা কাফিরদের আযাব বাড়িয়ে দেন তার পরিজনের কান্নার কারণে। অতঃপর আয়িশাহ বললেন, (এ ব্যাপারে) আল্লাহর কুরআনই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। (ইরশাদ হয়েছে)ঃ 'বোঝা বহনকারী কোন ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না'- (আনআম ১৬৪)। তখন ইবন আব্বাস বললেন, আল্লাহই (বান্দাকে) হাসান এবং কাঁদান। রাবী ইবন আবূ মুলাইকাহ বলেন, আল্লাহর কসম! (এ কথা শুনে) ইবন উমার কোন মন্তব্য করলেন না।
নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোকের (কবরের) পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যার পরিবারের লোকেরা তার জন্য ক্রন্দন করছিল। তখন তিনি বললেন: তারা তো তার জন্য ক্রন্দন করছে। অথচ তাকে কবরে আযাব দেয়া হচ্ছে।
আবূ বুরদাহর পিতা (আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উমার আহত হলেন, তখন সুহাইব হায়! আমার ভাই! বলতে লাগলেন। উমার বললেন, তুমি কি অবহিত নও যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জীবিতদের কান্নার কারণে অবশ্যই মৃতদের আযাব দেয়া হয়?
মুগীরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি যে, আমার প্রতি মিথ্যারোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যারোপ করার মত নয়। যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে সে যেন অবশ্যই তার ঠিকানা জাহান্নামে করে নেয়। [মুগীরাহ আরও বলেছেন,] আমি নবী (ﷺ) -কে আরও বলতে শুনেছি, যে (মৃত) ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে বিলাপকৃত বিষয়ের উপর আযাব দেয়া হবে।
উমার সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য কৃত বিলাপের বিষয়ের উপর কবরে শাস্তি দেয়া হয়। আবদুল আ'লা.....কাতাদাহ হতে বর্ণনায় আবদান-এর অনুসরণ করেছেন। আদম শুবাহ্ হতে বর্ণনা করেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য জীবিতদের কান্নার কারণে আযাব দেয়া হয়।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন আমার পিতাকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তিত অবস্থায় নিয়ে এসে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সামনে রাখা হল। তখন একখানি বস্ত্র দ্বারা তাকে আবৃত রাখা হয়েছিল। আমি তার উপর হতে আবরণ উন্মোচন করতে আসলে আমার কাওমের লোকেরা আমাকে নিষেধ করল। পুনরায় আমি আবরণ উন্মুক্ত করতে থাকলে আমার কাওমের লোকেরা (আবার) আমাকে নিষেধ করল। পরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নির্দেশে তাকে উঠিয়ে নেয়া হল। তখন তিনি (রাসূল (ﷺ)) এক ক্রন্দনকারিণীর শব্দ শুনে জিজ্ঞেস করলেন, এ কে? লোকেরা বলল, আমরের মেয়ে অথবা (তারা বলল,) আমরের বোন। তিনি বললেন, ক্রন্দন করছো কেন? অথবা বলেছেন, ক্রন্দন করো না। কেননা, তাকে উঠিয়ে নেয়া পর্যন্ত ফেরেশ্তাগণ তাদের পক্ষ বিস্তার করে তাকে ছায়া দিয়ে রেখেছিলেন।
আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যারা (মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশে) গন্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে এবং জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।
সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জে একটি কঠিন রোগে আমি আক্রান্ত হলে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার খোজ খবর নেয়ার জন্য আসতেন। একদা আমি তার কাছে নিবেদন করলাম, আমার রোগ চরমে পৌছেছে আর আমি সম্পদশালী। একমাত্র কন্যা ছাড়া কেউ আমার উত্তরাধিকারী নেই। তবে আমি কি আমার সম্পদের দু' তৃতীয়াংশ সদাকাহ করতে পারি? তিনি বললেন, না। আমি আবার নিবেদন করলাম, তাহলে অর্ধেক। তিনি বললেন, না। অতঃপর তিনি বললেন, এক তৃতীয়াংশ আর এক তৃতীয়াংশও বিরাট পরিমাণ অথবা অধিক। তোমার ওয়ারিসদের অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া, তাদেরকে খালি হাতে পরমুখাপেক্ষী অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তুমি যে কোন ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার বিনিময় প্রদান করা হবে। এমনকি যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে (তারও প্রতিদান পাবে)। আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আফসোস) আমি আমার সাথীদের হতে পিছনে থেকে যাব? তিনি বললেন, তুমি যদি পিছনে থেকে নেক আমল করতে থাক, তাহলে তাতে তোমার মর্যাদা ও উন্নতি বৃদ্ধিই পেতে থাকবে। তাছাড়া, সম্ভবত, তুমি পিছনে (থেকে যাবে)। যার ফলে তোমার দ্বারা অনেক কাওম উপকার লাভ করবে। আর অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহ! আমার সাহাবীগণের হিজরত বলবৎ রাখুন। পশ্চাতে ফিরিয়ে দিবেন না। কিন্তু আফসোস! সাদ ইবন খাওলার জন্য (এ বলে) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার জন্য শোক প্রকাশ করছিলেন, যেহেতু মক্কায় তার মৃত্যু হয়েছিল।
আবূ বুরদাহ ইবন আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা আশআরী কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেন। এমনকি তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। তখন তার মাথা তার পরিবারভুক্ত কোন এক মহিলার কোলে ছিল। তিনি তাকে কোন জবাব দিতে পারছিলেন না। জ্ঞান ফিরে পেলে তিনি বললেন, সে সব লোকের সঙ্গে আমি সম্পর্ক রাখি না যাদের সাথে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সে সব নারীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের কথা প্রকাশ করেছেন- যারা চিৎকার করে ক্রন্দন করে, যারা মস্তক মুন্ডন করে এবং যারা জামা কাপড় ছিন্ন করে।
আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: যারা শোকে গন্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে ও জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।
আবদুল্লাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এরশাদ করেছেনঃ যারা শোকে গন্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে ও জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (মুতা-র যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে) নবী (ﷺ) -এর খিদমতে (যায়দ) ইবন হারিসা, জাফর ও ইবন রাওয়াহা-এর শাহাদাতের খবর পৌছল, তখন তিনি (এমনভাবে) বসে পড়লেন যে, তার মধ্যে দুঃখের চিহ্ন ফুটে উঠেছিল। আমি (আয়িশাহ] দরজার ফাক দিয়ে তা প্রত্যক্ষ করছিলাম। এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে জাফর-এর পরিবারের মহিলাদের কান্নাকাটির কথা উল্লেখ করলেন। নবী (ﷺ) ঐ ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন তাদেরকে (কান্নাকাটি করতে) নিষেধ করেন, লোকটি চলে গেলো এবং দ্বিতীয়বার এসে (বলল) তারা তার কথা মানেনি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তাদেরকে নিষেধ করো। ঐ ব্যক্তি তৃতীয়বার এসে বললেন, আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! তারা আমাদের হার মানিয়েছে। আয়িশাহ বলেন, আমার মনে হয়, তখন নবী (ﷺ) বিরক্তির সাথে বললেনঃ তাহলে তাদের মুখে মাটি নিক্ষেপ কর। আয়িশাহ বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ তোমার নাকে ধূলি মিলিয়ে দেন। তুমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নির্দেশ পালন করতে পারনি। অথচ তুমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বিরক্ত করতেও দ্বিধা করোনি।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বীর-ই মাউনার ঘটনায়) ক্বারী (সাহাবীগণের) শাহাদাতের পর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (ফজরের সালাতে) একমাস যাবৎ কুনুত-ই নাযিলা পাঠ করেছিলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে আমি আর কখনো এর চেয়ে অধিক শোকাভিভূত হতে দেখিনি।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহাহ্-এর এক পুত্র অসুস্থ হয়ে পড়ল। বর্ণনাকারী বলেন, তার মৃত্যু হলো। তখন আবূ তালহাহ্ বাড়ির বাইরে ছিলেন। তার স্ত্রী যখন দেখলেন যে, ছেলেটি মারা গেছে, তখন তিনি কিছু প্রস্তুতি নিলেন এবং ছেলেটিকে ঘরের এক কোণে রেখে দিলেন। আবূ তালহাহ্ বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ছেলের অবস্থা কেমন? স্ত্রী জওয়াব দিলেন, তার আত্মা শান্ত হয়েছে এবং আশা করি সে এখন আরাম পাচ্ছে। আবূ তালহাহ্ ভাবলেন, তার স্ত্রী সত্য বলেছেন। রাবী বলেন, তিনি রাত যাপন করলেন এবং ভোরে গোসল করলেন। তিনি বাইরে যেতে উদ্যত হলে স্ত্রী তাকে জানালেন, ছেলেটি মারা গেছে। অতঃপর তিনি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে (ফজরের) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী (ﷺ) -কে তাদের রাতের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করলেনঃ আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা তোমাদের এ রাতে বারকাত দিবেন। সুফইয়ান বলেন, এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, আমি আবূ তালহাহ্ দম্পতির নয় জন সন্তান দেখেছি, তারা সবাই কুরআন পাঠ করেছে।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, বিপদের প্রথম অবস্থায়ই প্রকৃত সবর।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে আবূ সায়ফ্ কর্মকারের নিকট গেলাম। তিনি ছিলেন (নবী-তনয়) ইব্রাহীম -এর দুধ সম্পর্কীয় পিতা। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইব্রাহীম-কে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন এবং নাকে-মুখে লাগালেন। অতঃপর (আরেক বার) আমরা তার (আবূ সায়ফ্-এর) বাড়িতে গেলাম। তখন ইব্রাহীম মুমূর্ষু অবস্থায়। এতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর উভয় চোখ হতে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন আবদুর রহমান ইবন 'আওফ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আর আপনিও? (ক্রন্দন করছেন?) তখন তিনি বললেনঃ অশ্রু প্রবাহিত হয় আর হৃদয় হয় ব্যথিত। তবে আমরা মুখে তা-ই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন। আর হে ইব্রাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোকসন্তপ্ত।
আবদুল্লাহ্ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলে, সাদ ইবন উবাদাহ রোগাক্রান্ত হলেন। নবী (ﷺ) আবদুর রাহমান ইবন 'আওফ' সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস এবং আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ-কে সঙ্গে নিয়ে তাকে দেখতে আসলেন। তিনি তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে পরিজনের মাঝে দেখতে পেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তার কি মৃত্যু হয়েছে! তারা বললেন, না। হে আল্লাহর রাসূল! তখন নবী (ﷺ) কেঁদে ফেললেন। নবী (ﷺ) -এর কান্না দেখে উপস্থিত লোকেরা কাঁদতে লাগলেন। তখন তিনি ইরশাদ করলেনঃ শুনে রাখ! নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা চোখের পানি ও অন্তরের শোক-ব্যথার কারণে আযাব দিবেন না। তিনি আযাব দিবেন এর কারণে (এ বলে) জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করলেন। অথবা এর কারণেই তিনি রহম করে থাকেন। আর নিশ্চই মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনের বিলাপের কারণে আযাব দেয়া হয়। উমার এ (ধরনের কান্নার) কারণে লাঠি দ্বারা আঘাত করতেন, কঙ্কর নিক্ষেপ করতেন বা মুখে মাটি পুরে দিতেন।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মুতার যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে) যায়দ ইবন হারিসাহ, জাফর এবং আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা-এর শাহাদাতের খবর পৌছলে নবী (ﷺ) বসে পড়লেন; তার মধ্যে শোকের আলামত প্রকাশ পেল। আমি [আয়িশাহ] দরজার ফাক দিয়ে ঝুকে তা দেখছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তার নিকট এসে সম্বোধন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! জাফর-এর (পরিবারের) মহিলাগণ কান্নাকাটি করছে। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য তাকে আদেশ করলেন। সেই ব্যক্তি চলে গেলেন। পরে এসে বললেন, আমি তাদের নিষেধ করেছি। তিনি উল্লেখ করলেন যে, তারা তাকে মানেনি। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য দ্বিতীয়বার তাকে নির্দেশ দিলেন। তিনি চলে গেলেন এবং আবার এসে বললেন, আল্লাহর কসম! অবশ্যই তারা আমাকে (বা বলেছেন আমাদেরকে) হার মানিয়েছে। আয়িশাহ বলেন, নবী (ﷺ) বললেন, তা হলে তাদের মুখে মাটি ছুঁড়ে মারো। [আয়িশাহ বলেন] আমি বললাম, আল্লাহ তোমার নাক ধূলি মিশ্রিত করুন। আল্লাহর কসম! তোমাকে যে কাজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা করতে পারছ না আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বিরক্ত করতেও ছাড়ছ না।
উম্মু আতিয়্যাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বাই'আত গ্রহণকালে আমাদের কাছ হতে এ অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, আমরা (কোন মৃতের জন্য) বিলাপ করব না। ....আমাদের মধ্য হতে পাচজন মহিলা উম্মু সুলাইম, উম্মুল 'আলা, আবূ সাব্রাহর কন্যা মুআযের স্ত্রী, আরো দু'জন মহিলা বা মুআযের স্ত্রী ও আরেকজন মহিলা ব্যতীত কোন নারীই সে ওয়াদা রক্ষা করেনি।
আমির ইবন রাবীআহ নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা জানাযা দেখলে তা তোমাদের পিছনে ফেলে যাওয়া পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকবে। হুমাইদী আরও উল্লেখ করেছেন, তা তোমাদের পশ্চাতে ফেলে যাওয়া বা মাটিতে নামিয়ে রাখা পর্যন্ত।
আমির ইবন রাবীআহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ জানাযা যেতে দেখলে যদি সে তার সহযাত্রী না হয়, তবে ততক্ষণ সে দাড়িয়ে থাকবে, যতক্ষণ না সে ব্যক্তি জানাযা পিছনে ফেলে বা জানাযা তাকে পিছনে ফেলে যায় অথবা পিছনে ফেলে যাওয়ার পূর্বে তা (মাটিতে) নামিয়ে রাখা হয়।
সাঈদ মাকবুরী-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একটি জানাযায় শরীক হলাম। (সেখানে) আবূ হুরাইরাহ্ মারওয়ানের হাত ধরলেন এবং তারা জানাযা নামিয়ে রাখার পূর্বেই বসে পড়লেন। তখন আবূ সাঈদ এগিয়ে এসে মারওয়ানের হাত ধরে বললেন, দাড়িয়ে পড়ুন! আল্লাহর কসম! ইনি [আবূ হুরাইরাহ্ ] তো জানেন যে, নবী (ﷺ) ঐ কাজ করতে (জানাযা নামিয়ে রাখার পূর্বে বসতে) নিষেধ করেছেন। তখন আবূ হুরাইরাহ্ বললেন, তিনি ঠিকই বলেছেন।
আবূ সাঈদ খুদরী সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন কোন জানাযা যেতে দেখবে, যদি সে তার সহযাত্রী না হয় তাহলে সে ততক্ষণ দাড়িয়ে থাকবে, যতক্ষণ না তা চলে যায় অথবা নামিয়ে না রাখা হয়।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ব দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। নবী (ﷺ) তা দেখে দাড়িয়ে গেলেন। আমরাও দাড়িয়ে গেলাম এবং নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ তো ইয়াহুদীর জানাযা। তিনি বললেনঃ তোমরা যে কোন জানাযা দেখলে দাড়িয়ে যাবে।
আবদুর রহমান ইবন আবূ লাইলাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল ইবন হুনাইফ ও কায়স ইবন সাদ কাদিসিয়াতে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন লোকেরা তাদের সামনে দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাচ্ছিল। (তা দেখে) তারা দাড়িয়ে গেলেন। তখন তাদের বলা হল, এটা তো এ দেশীয় জিম্মী ব্যক্তির (অমুসলিমের) জানাযা। তখন তারা বললেন, (একদা) নবী (ﷺ) -এর সামনে দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাড়িয়ে গেলে তাকে বলা হল, এটা তো এক ইয়াহূদীর জানাযা। তিনি এরশাদ করলেনঃ সে কি মানুষ নয়?
ইবন আবূ লায়লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল এবং কায়স-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তারা দু'জন বললেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে ছিলাম। যাকারিয়া সূত্রে ইবন আবূ লায়লাহ হতে বর্ণনা করেন, আবূ মাস'উদ ও কায়স জানাযা যেতে দেখলে দাড়িয়ে যেতেন।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যখন জানাযা খাটে রাখা হয় এবং পুরুষরা তা কাঁধে বহন করে নেয়, তখন সে সৎ হলে বলতে থাকে, আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাও। আর সৎ না হলে সে বলতে থাকে, হায় আফসোস! তোমরা এটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? মানব জাতি ব্যতীত সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষ তা শুনলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলত।
আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা জানাযা নিয়ে দ্রুতগতিতে চলবে। কেননা, সে যদি পুণ্যবান হয়, তবে এটা উত্তম, যার দিকে তোমরা তাকে এগিয়ে দিচ্ছ আর যদি সে অন্য কিছু হয়, তবে সে একটি আপদ, যাকে তোমরা তোমাদের ঘাড় হতে জলদি নামিয়ে ফেলছ।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেনঃ যখন জানাযা (খাটিয়ায়) রাখা হয় এবং পুরুষ লোকেরা তা তাদের কাঁধে তুলে নেয়, সে পুণ্যবান হলে তখন বলতে থাকে, আমাকে সামনে এগিয়ে দাও। আর পুণ্যবান না হলে সে আপন পরিজনকে বলতে থাকে, হায় আফসোস! এটা নিয়ে তোমরা কোথায় যাচ্ছ? মানুষ জাতি ব্যতীত সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষ যদি তা শুনতে পেত তবে অবশ্যই অজ্ঞান হয়ে যেত।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (আবিসিনিয়ার বাদশাহ্) নাজাশীর জানাযা আদায় করেন। আমি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় কাতারে ছিলাম।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তার সাহাবীগণকে নাজাশীর মৃত্যু খবর শোনালেন, পরে তিনি সম্মুখে অগ্রসর হলেন এবং সাহাবীগণ তার পিছনে কাতারবন্দী হলে তিনি চার তাকবীরে (জানাযার সালাত) আদায় করলেন।
শা'বী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন এক সাহাবী যিনি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, তিনি আমাকে খবর দিয়েছেন যে, নবী (ﷺ) একটি পৃথক কবরের নিকট গমন করলেন এবং লোকেদের কাতারবন্দী করে চার তাকবীরের সঙ্গে (জানাযার সালাত) আদায় করলেন। [শাইবানী বলেন] আমি শা'বী -কে জিজ্ঞেস করলাম, এ হাদীস আপনাকে কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, ইবন আব্বাস।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বললেনঃ আজ হাবাশা দেশের (আবিসিনিয়ার) একজন পুণ্যবান লোকের মৃত্যু হয়েছে, তোমরা এসো তার জন্য (জানাযার) সালাত আদায় কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তখন কাতারবন্দী হয়ে দাড়ালে নবী (ﷺ) (জানাযার) সালাত আদায় করলেন, আমরা ছিলাম কয়েক কাতার। আবূ যুবাইর জাবির হতে বর্ণনা করেন, জাবির বলেছেন, আমি দ্বিতীয় কাতারে ছিলাম।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এক (ব্যক্তির) কবরের পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, যাকে রাতের বেলা দাফন করা হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, একে কখন দাফন করা হল? সাহাবীগণ বললেন, গত রাতে। তিনি বললেনঃ তোমরা আমাকে জানালে না কেন? তারা বললেন, আমরা তাকে রাতের আধারে দাফন করেছিলাম, তাই আপনাকে জাগানো পছন্দ করিনি। তখন তিনি (সেখানে) দাড়িয়ে গেলেন। আমরাও তার পিছনে কাতারবন্দী হয়ে দাড়ালাম। ইবন আব্বাস বলেন, আমিও তাদের মধ্যে ছিলাম। তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন।
শা'বী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন এক সাহাবী আমাকে খবর দিয়েছেন, যিনি তোমাদের নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে একটি পৃথক কবরের পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি (নবী (ﷺ)) ইমামত করলেন, আমরা তার পিছনে কাতারবন্দী হলাম এবং সালাত আদায় করলাম। [শাইবানী বলেন,] আমরা (শা'বীকে) জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ আমর! আপনাকে এ হাদীস কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, ইবন আব্বাস।
নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার-এর নিকট বর্ণনা করা হল যে, আবূ হুরাইরাহ্ বলে থাকেন, যিনি জানাযার পশ্চাদে গমন করবেন তিনি এক কীরাত সাওয়াবের অধিকারী হবেন। তিনি বললেন, আবূ হুরাইরাহ্ আমাদের বেশি বেশি হাদীস শোনান।
তবে আয়িশাহ এ বিষয়ে আবূ হুরাইরাহ-কে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমিও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে এ হাদীস বলতে শুনেছি। ইবন উমার বললেন, তা হলে তো আমরা অনেক কীরাত (সাওয়াব) হারিয়ে ফেলেছি।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃতের জন্য সালাত আদায় করা পর্যন্ত জানাযায় উপস্থিত থাকবে, তার জন্য এক কীরাত, আর যে ব্যক্তি মৃতের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দু' কীরাত। জিজ্ঞেস করা হল দু' কীরাত কী? তিনি বললেন, দু'টি বিশাল পর্বত সমতুল্য (সাওয়াব)।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ্ (ﷺ) একটি কবরের নিকট আসলেন। সাহাবাগণ বললেন, একে গত রাতে দাফন করা হয়েছে। ইবন আব্বাস বলেন, তখন আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর পিছনে কাতারবন্দী হলাম। অতঃপর তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নাজাশীর মৃত্যুর দিনই আমাদের তার মৃত্যু খবর জানান এবং ইরশাদ করেনঃ তোমরা তোমাদের ভাই-এর (নাজাশীর) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর।
আবু হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তাদের নিয়ে মুসাল্লায় কাতার করলেন, অতঃপর চার তাকবীর আদায় করলেন।
আবদুল্লাহ্ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) -এর নিকট ইয়াহূদীরা তাদের এক পুরুষ ও এক স্ত্রীলোককে হাযির করল, যারা ব্যাভিচার করেছিল। তখন তিনি তাদের উভয়কে রজমের (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) নির্দেশ দেন। মসজিদের পাশে জানাযার স্থানের নিকটে তাদের দু'জনকে রজম করা হল।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর যে রোগে মৃত্যু হয়েছিল, সে রোগাবস্থায় তিনি বলেছিলেনঃ ইয়াহূদী ও নাসারা সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। আয়িশাহ বলেন, সে আশঙ্কা না থাকলে তার (নবী (ﷺ) -এর) কবরকে উন্মুক্ত রাখা হত, কিন্তু আমি আশঙ্কা করি যে, (উন্মুক্ত রাখা হলে) একে মসজিদে পরিণত করা হবে।
সামুরাহ ইবন জুন্দাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর পশ্চাতে আমি এমন এক স্ত্রীলোকের জানাযার সালাত আদায় করেছিলাম, যে নিফাসের অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি (ﷺ) তার (স্ত্রীলোকটির) মাঝ বরাবর দাড়িয়েছিলেন।
সামুরাহ ইবন জুনদাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর পশ্চাতে আমি এমন এক স্ত্রীলোকের জানাযার সালাত আদায় করেছিলাম, যে নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন। তিনি তার (স্ত্রীলোকটির) মাঝ বরাবর দাড়িয়েছিলেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নাজাশীর মৃত্যুর দিন তার মৃত্যু খবর জানালেন এবং সাহাবীবর্গকে সঙ্গে নিয়ে জানাযার সালাতের স্থানে গেলেন এবং তাদেরকে সারিবদ্ধ করে চার তাকবীরে জানাযার সালাত আদায় করলেন।
জাবির হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) আসহামা নাজাশীর জানাযার সালাত আদায় করলেন, তাতে তিনি চার তাকবীর দিলেন।
ত্বলহাহ্ ইবন আবদুল্লাহ ইবন 'আওফ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস-এর পিছনে জানাযার সালাত আদায় করলাম। তাতে তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন এবং (সালাত শেষে) বললেন, (আমি সূরা ফাতিহা পাঠ করলাম) যাতে লোকেরা জানতে পারে যে, এটা সুন্নাত।
শা'বী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে এমন এক সাহাবী বর্ণনা করেছেন, যিনি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে একটি পৃথক কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাদের ইমামত করলেন এবং তারা তার পিছনে জানাযার সালাত আদায় করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি শা'বীকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ আমর! আপনার নিকট এ হাদীস কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, ইবন আব্বাস।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, কালো এক পুরুষ বা এক মহিলা মসজিদে ঝাড়ৃ দিত। সে মারা গেল। কিন্তু নবী (ﷺ) তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেননি। একদা তার কথা উল্লেখ করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ লোকটির কী হল? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো মারা গেছে। তিনি বললেনঃ তোমরা আমাকে জানাওনি কেন? সে ছিল এমন এমন বলে তারা তার ঘটনা উল্লেখ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারা তার মর্যাদাকে খাটো করে দেখলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি তার কবরের কাছে আসলেন এবং তার জানাযার সালাত আদায় করলেন।
আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তাকে পিছনে রেখে তার সাথীরা চলে যায় (এতটুকু দূরে যে,) তখনও সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়, এমন সময় তার নিকট দু'জন ফেরেশ্তা এসে তাকে বসিয়ে দেন। অতঃপর তারা প্রশ্ন করেন, এই যে মুহাম্মাদ (ﷺ)! তার সম্পর্কে তুমি কী বলতে? তখন সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তার রাসূল। তখন তাকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানের জায়গাটি দেখে নাও, যার পরিবর্তে আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য জান্নাতে একটি স্থান নির্ধারিত করেছেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ তখন সে দু'টি স্থান একই সময় দেখতে পাবে। আর যারা কাফির বা মুনাফিক, তারা বলবে, আমি জানি না। অন্য লোকেরা যা বলত আমিও তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, না তুমি নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। অতঃপর তার দু' কানের মাঝখানে লোহার মুগুর দিয়ে এমন জোরে মারা হবে, যাতে সে চিৎকার করে উঠবে, তার আশেপাশের সবাই তা শুনতে পাবে মানুষ ও জ্বীন ছাড়া।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফেরেশতাুল মাওতকে মূসা-এর নিকট পাঠানো হল। তিনি তার নিকট আসলে, মূসা তাকে চপেটাঘাত করলেন। (যার ফলে তার চোখ বেরিয়ে গেল।) তখন ফেরেশতাুল মাওত তার প্রতিপালকের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না। তখন আল্লাহ তার চোখ ফিরিয়ে দিয়ে হুকুম করলেন, আবার গিয়ে তাকে বল, তিনি একটি ষাঁড়ের পিঠে তার হাত রাখবেন, তখন তার হাত যতটুকু আবৃত করবে, তার সম্পূর্ণ অংশের প্রতিটি পশমের বিনিময়ে তাকে এক বছর করে আয়ু দান করা হবে। মূসা এ শুনে বললেন, হে আমার রব! অতঃপর কী হবে? আল্লাহ বললেনঃ অতঃপর মৃত্যু। মূসা বললেন, তা হলে এখনই হোক। তখন তিনি একটি পাথর নিক্ষেপ করলে যতদূর যায় বাইতুল মাক্বদিসের ততটুকু নিকটবর্তী স্থানে তাকে পৌছিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে নিবেদন করলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আমি সেখানে থাকলে অবশ্যই পথের পাশে লাল বালুর টিলার নিকটে তার কবর তোমাদের দেখিয়ে দিতাম।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে রাত্রিকালে দাফন করার পর তার জানাযার সালাত আদায় করার জন্য নবী (ﷺ) ও তার সাহাবীণগ গিয়ে দাড়ালেন। তখন তিনি লোকটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেন, এ লোকটি কে? তারা জবাব দিলেন, অমুক, গতরাতে তাকে দাফন করা হয়েছে। তখন তারা তার জানাযার সালাত আদায় করলেন।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর অসুস্থতার সময় তার এক সহধর্মিণী হাবাশা দেশে তার দেখা 'মারিয়া' নামক একটি গীর্জার কথা বললেন। উম্মু সালামাহ এবং উম্মু হাবীবাহ হাবাশায় গিয়েছিলেন। তারা দু'জন ঐ গীর্জাটির সৌন্দর্য এবং তার ভিতরের চিত্রকর্মের বিবরণ দিলেন। তখন নবী (ﷺ) তার মাথা তুলে বললেনঃ সে সব দেশের লোকেরা তাদের কোন নেক্কার ব্যক্তি মারা গেলে তার কবরে মাসজিদ নির্মাণ করত এবং তাতে ঐ সব চিত্রকর্ম অংকণ করত। তারা হলো, আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট সৃষ্টি।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর এক কন্যার দাফনে হাযির ছিলাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কবরের পাশেই বসেছিলেন। আমি দেখলাম, তার দু'চোখে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে আজ রাতে স্ত্রী মিলনে লিপ্ত হয়নি? আবূ তালহাহ বলেন, আমি। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তার কবরে নেমে পড়, তখন তিনি তার কবরে নেমে গেলেন এবং তাকে দাফন করলেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উহুদের শহীদগণের দু' দু' জনকে একই কাপড়ে (কবরে) একত্র করতেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করতেন, তাদের উভয়ের মধ্যে কে কুরআন সম্পর্কে অধিক জানত? দু' জনের মধ্যে এক জনের দিকে ইঙ্গিত করা হলে তাকে কবরে পূর্বে রাখতেন এবং বললেন, আমি কিয়ামতের দিন এদের ব্যাপারে সাক্ষী হব। তিনি রক্ত-মাখা অবস্থায় তাদের দাফন করার নির্দেশ দিলেন, তাদের গোসল দেয়া হয়নি এবং তাদের (জানাযার) সালাতও আদায় করা হয়নি।
উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একদা বের হলেন এবং উহুদে পৌছে মৃতের জন্য যেরূপ (জানাযার) সালাত আদায় করা হয় উহুদের শহীদানের জন্য অনুরূপ সালাত আদায় করলেন। অতঃপর ফিরে এসে মিম্বারে তাশরীফ রেখে বললেনঃ আমি হবো তোমাদের জন্য অগ্রে প্রেরিত এবং তোমাদের জন্য সাক্ষী। আল্লাহর কসম! এ মুহূর্তে আমি অবশ্যই আমার হাউয (হাউয-ই-কাউসার) দেখছি। আর অবশ্যই আমাকে পৃথিবীর ভান্ডারসমূহের চাবিগুচ্ছ প্রদান করা হয়েছে। অথবা (বর্ণনাকারী বলেছেন) পৃথিবীর চাবিগুচ্ছ আর আল্লাহর কসম! তোমরা আমার পরে শির্ক করবে এ আশঙ্কা আমি করি না। তবে তোমাদের ব্যাপারে আমার আশঙ্কা যে, তোমরা পার্থিব সম্পদ লাভে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি খবর দিয়েছেন যে, নবী (ﷺ) উহুদের শহীদগণের দু' দু'জনকে একত্র করে দাফন করেছিলেন।
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তাদেরকে তাদের রক্ত সহ দাফন কর। উহুদের যুদ্ধের দিন শহীদগণের সম্পর্কে (কথাটি বলেছিলেন) আর তিনি তাদের গোসলও দেননি।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উহুদের শহীদগণের দু' দু'জনকে একই কাপড়ে (কবরে) একত্রে দাফন করার ব্যবস্থা করে জিজ্ঞেস করলেন। তাদের মধ্যে কে কুরআন সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত? যখন তাদের একজনের দিকে ইঙ্গিত করা হত, তখন তিনি তাকে প্রথম কবরে। রাখতেন, আর বলতেনঃ আমি তাদের জন্য সাক্ষী হব (কিয়ামতে)। তিনি তাদের রক্ত-মাখা অবস্থায় দাফন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাদের জানাযার সালাতও আদায় করেননি। তাদের গোসলও দেননি।
রাবী আওযায়ী যুহরী সূত্রে জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লাহ্ (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের শহীদগণের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন, তাদের মাঝে কুরআন সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞাত? কোন একজনের দিকে ইঙ্গিত করা হলে, তিনি তাকে তার সঙ্গীর পূর্বে কবরে রাখতেন। জাবির বলেন, আমার পিতা ও চাচাকে একখানি পশমের তৈরি নক্শা করা কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল।
ইবন আব্বাস সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা মক্কাকে হারাম (সম্মানিত বা নিষিদ্ধ এলাকা) সাব্যস্ত করেছেন। আমার পূর্বে তা, কারো জন্য হালাল (বৈধ ও উন্মুক্ত এলাকা) ছিল না এবং আমার পরেও কারো জন্য তা হালাল হবে না। আমার জন্য একটি দিনের (মক্কা বিজয়ের দিন) কিছু সময় হালাল করা হয়েছিল। কাজেই তার ঘাস উৎপাটন করা যাবে না, তার গাছ কাটা যাবে না, শিকারকে তাড়িয়ে দেয়া যাবে না। সেখানে পড়ে থাকা (হারানো) বস্তু উঠিয়ে নেয়া যাবে না, তবে হারানো প্রাপ্তির ঘোষণা প্রদানকারীর জন্য (অনুমতি থাকবে)। তখন আব্বাস বললেন, তবে ইয্খির ঘাস, আমাদের স্বর্ণকারদের জন্য এবং আমাদের কবরগুলোর জন্য প্রয়োজন। তখন তিনি বললেনঃ ইয্খির ব্যতীত। আবূ হুরাইরাহ্ নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, আমাদের কবর ও বাড়ি ঘরের জন্য। আর আবান ইবন সালিহ্ সাফিয়্যা বিন্ত শায়বাহ্ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -কে আমি অনুরূপ বলতে শুনেছি আর মুজাহিদ ইবন আব্বাস সূত্রে বলেন, তাদের কর্মকার ও ঘর-বাড়ির জন্য।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উবাই (মুনাফিক সর্দারকে) কবর দেয়ার পর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার (কবরের) নিকট আসলেন এবং তিনি তাকে বের করার নির্দেশ দিলে তাকে (কবর হতে) বের করা হল। তখন তিনি তাকে তার (নিজের) দু' হাটুর উপরে রাখলেন, নিজের (মুখের) লালা (তার উপরে ফুকে) দিলেন এবং নিজের জামা তাকে পরিয়ে দিলেন। আল্লাহ সমধিক অবগত। সে আব্বাস-কে একটি জামা পরতে দিয়েছিল। আর সুফইয়ান বলেন, আবূ হুরাইরাহ বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর পরিধানে তখন দু'টি জামা ছিল। আবদুল্লাহ (ইবন উবাই)-এর পুত্র (আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার (পবিত্র) দেহের সাথে জড়িয়ে থাকা জামাটি আমার পিতাকে পরিয়ে দিন। সুফইয়ান বলেন, তারা মনে করেন যে, নবী (ﷺ) তার জামা আবদুল্লাহ (ইবন উবাই)-কে পরিয়ে দিয়েছিলেন, তার কৃত (ইহসানের) বিনিময় স্বরূপ।
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উহুদ যুদ্ধের সময় উপস্থিত হল, তখন রাতের বেলা আমার পিতা আমাকে ডেকে বললেন, আমার মনে হয় যে, নবী (ﷺ) -এর সাহাবীগণের মধ্যে যারা প্রথমে শহীদ হবেন, আমি তাদের মধ্যে একজন হব। আর আমি আমার (মৃত্যুর) পরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ব্যতীত তোমার চেয়ে অধিকতর প্রিয় কাউকে রেখে যাচ্ছি না। আমার যিম্মায় করয রয়েছে। তুমি তা পরিশোধ করবে। তোমার বোনদের ব্যাপারে সদুপদেশ গ্রহণ করবে। জাবির বলেন, পরদিন সকাল হলে (আমরা দেখলাম যে) তিনিই প্রথম শহীদ। তার কবরে আর একজন সাহাবীকে তার সাথে দাফন করা হয়েছিল। কিন্তু পরে অন্য একজনের সাথে (একই) কবরে তাকে রাখা আমার মনে ভাল লাগল না। তাই ছয় মাস পর আমি তাকে (কবর হতে) বের করলাম এবং দেখলাম যে, তার কানে সামান্য চিহ্ন ব্যতীত তিনি সেই দিনের মতই (অক্ষত ও অবিকৃত) রয়েছেন, যে দিন তাকে (কবরে) রেখেছিলাম।
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতার সাথে আরেকজন শহীদকে দাফন করা হলে আমার মন তাতে তুষ্ট হতে পারল না। অবশেষে আমি তাকে (কবর হতে) বের করলাম এবং একটি পৃথক কবরে তাকে দাফন করলাম।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উহুদের শহীদগণের দু' দু'জনকে একত্র করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তাদের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞাত? দু'জনের কোন একজনের দিকে ইঙ্গিত করা হলে প্রথমে তাকে কবরে রাখতেন। অতঃপর ইরশাদ করেনঃ কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য সাক্ষী হব। তিনি রক্ত-মাখা অবস্থায়ই তাদের দাফন করার আদেশ করলেন এবং তাদের গোসলও দেননি।
ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, উমার নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে একটি দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে ইবন সাইয়াদ-এর (বাড়ির) দিকে গেলেন। তারা তাকে (ইবন সাইয়াদকে) বনূ মাগালা দূর্গের পাশে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলাধূলারত পেলেন। তখন ইবন সাইয়াদ বালিগ হবার নিকটবর্তী হয়েছিল। সে নবী (ﷺ) -এর আগমন অনুভব করার পূর্বেই নবী (ﷺ) তার হাত ধরে ফেললেন। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রাসূল? ইবন সাইয়াদ তার দিকে দৃষ্টি করে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের রাসূল। অতঃপর সে নবী (ﷺ) -কে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দিবেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? তখন নবী (ﷺ) তাকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ আমি আল্লাহর প্রতি এবং তার রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি। অতঃপর তিনি তাকে (ইবন সাইয়াদকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কী দেখে থাক? ইবন সাইয়াদ বলল, আমার নিকট সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী আগমন করে থাকে। নবী (ﷺ) ইরশাদ করলেনঃ ব্যাপারটি তোমার নিকট বিভ্রান্তিকর করা হয়েছে। অতঃপর নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ আমি একটি বিষয় তোমার হতে (আমার মনের মধ্যে) গোপন রেখেছি। বলতো সেটি কী?) ইবন সাইয়াদ বলল, তা হচ্ছে الدُّخٌّ। তখন তিনি ইরশাদ করলেনঃ তুমি লাঞ্ছিত হও! তুমি কখনো তোমার (জন্য নির্ধারিত) সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। তখন উমার বললেন, আমাকে অনুমতি দিন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী (ﷺ) ইরশাদ করলেন: যদি সে সে-ই (মাসীহ দাজ্জাল) হয়ে থাকে, তাহলে তাকে কাবূ করার ক্ষমতা তোমাকে দেয়া হবে না। আর যদি সে-ই (দাজ্জাল) না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করার মধ্যে তোমার কোন কল্যাণ নেই।
রাবী সালিম বলেন, আমি ইবন উমার-কে বলতে শুনেছি, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এবং উবাই ইবন কা'ব ঐ খেজুর বাগানের দিকে গমন করলেন যেখানে ইবন সাইয়াদ ছিল। ইবন সাইয়াদ তাকে দেখে ফেলার পূর্বেই ইবন সাইয়াদের কিছু কথা তিনি শুনে নিতে চাচ্ছিলেন। নবী (ﷺ) তাকে একটি চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন। যার ভিতর হতে তার গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। ইবন সাইয়াদের মা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে দেখতে পেল যে, তিনি খেজুর (গাছের) কান্ডের আড়ালে আত্মগোপন করে চলছেন। সে তখন ইবন সাইয়াদকে ডেকে বলল, ও সাফ! (এটি ইবন সাইয়াদের ডাক) নাম। এই যে, মুহাম্মাদ! তখন ইবন সাইয়াদ লাফিয়ে উঠল। নবী (ﷺ) ইরশাদ করলেনঃ সে (ইবন সাইয়াদের মা) তাকে (যথাবস্থায়) থাকতে দিলে (ব্যাপারটি) স্পষ্ট হয়ে যেত।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী বালক নবী (ﷺ) -এর খিদমাত করত, সে একবার অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী (ﷺ) তাকে দেখার জন্য আসলেন। তিনি তার মাথার নিকট বসে তাকে বললেনঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ কর, সে তখন তার পিতার দিকে তাকাল, সে তার নিকটই ছিল, পিতা তাকে বলল, আবুল কাসিম (নবী (ﷺ) -এর কুনিয়াত) এর কথা মেনে নাও, তখন সে ইসলাম গ্রহণ করল। নবী (ﷺ) সেখান হতে বের হয়ে যাওয়ার সময় ইরশাদ করলেনঃ যাবতীয় প্রশংসা সে আল্লাহর, যিনি তাকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দিলেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার মা (লুবাবাহ্ বিনত হারিস) মুসতায'আফীন (দুর্বল, অসহায়) এর অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমি ছিলাম না-বালিগ শিশুদের মধ্যে আর আমার মা ছিলেন মহিলাদের মধ্যে।
শু'আইব হতে বর্ণিত যে, ইবন শিহাব বলেছেন, নবজাত শিশু মারা গেলে তাদের প্রত্যেকের জানাযার সালাত আদায় করা হবে। যদিও সে কোন ভ্রষ্টা মায়ের সন্তানও হয়। এ কারণে যে, সে সন্তানটি ইসলামী ফিত্রাহর (তাওহীদ) এর উপর জন্মলাভ করেছে। তার পিতামাতা ইসলামের দাবীদার হোক বা বিশেষভাবে তার পিতা। যদিও তার মা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের অনুসারী হয়। নবজাত শিশু সরবে কেঁদে থাকলে তার জানাযার সালাত আদায় করা হবে। আর যে শিশু না কাঁদবে, তার জানাযার সালাত আদায় করা হবে না। কেননা, সে অপূর্ণাঙ্গ সন্তান। কারণ, আবূ হুরাইরাহ্ হাদীস বর্ণনা করতেন যে, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ প্রতিটি নবজাতকই জন্ম লাভ করে ফিতরাতের (তাওহীদের) উপর। অতঃপর তার মা-বাপ তাকে ইয়াহূদী বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু নিখুত বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোন কান কাটা দেখতে পাও? (বরং মানুষরাই তার নাক কান কেটে দিয়ে বা ছিদ্র করে তাকে বিকৃত করে থাকে। অনুরূপ ইসলামের ফিতরাহ্তে ভূমিষ্ট সন্তানকে মা-বাপ তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবন ধারায় প্রবাহিত করে ভ্রান্ত ধর্মী বানিয়ে ফেলে) পরে আবূ হুরাইরাহ্ তিলাওয়াত করলেনঃ "আল্লাহর দেয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর যে ফিত্রাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন ..... (রূমঃ ৩০)।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ প্রত্যেক নবজাতকই ফিত্রাতের উপর জন্মলাভ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহূদী, নাসারা বা মাজূসী (অগ্নিপূজারী) রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে কোন (জন্মগত) কানকাটা দেখতে পাও? অতঃপর আবূ হুরাইরাহ্ তিলাওয়াত করলেনঃ (যার অর্থ) "আল্লাহর দেয়া ফিত্রাতের অনুসরণ কর, যে ফিত্রাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, এটাই সরল সুদৃঢ় দ্বীন"- (রুমঃ ৩০)।
সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালিব এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার নিকট আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহল ইবন হিশাম ও আবদুল্লাহ ইবন আবূ উমায়্যা ইবন মুগীরাকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। (রাবী বলেন) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আবূ তালিবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ চাচাজান! 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' কালিমা পাঠ করুন, তা হলে এর অসীলায় আমি আল্লাহর সমীপে আপনার জন্য সাক্ষ্য দিতে পারব। আবূ জাহল ও আবদুল্লাহ ইবন আবূ উমায়্যা বলে উঠল, ওহে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম হতে বিমুখ হবে? অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার নিকট কালিমাহ পেশ করতে থাকেন, আর তারা দু'জনও তাদের উক্তি পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। অবশেষে আবূ তালিব তাদের সামনে শেষ কথাটি যা বলল, তা এই যে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর অবিচল রয়েছে, সে 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' বলতে অস্বীকার করল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! তবুও আমি আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকব, যতক্ষণ না আমাকে তা হতে নিষেধ করা হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন: (নবীর জন্য সঙ্গত নয়....- (আত্-তওবাঃ ১১৩)।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এমন দু'টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে কবর দু'টির বাসিন্দাদের আযাব দেয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেনঃ এদের দু' জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে অথচ তাদের এমন গুনাহর জন্য আযাব দেয়া হচ্ছে না (যা হতে বিরত থাকা) দুরূহ ছিল। তাদের একজন পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না, আর অপরজন চোগলখুরী করে বেড়াত। অতঃপর তিনি খেজুরের একটি তাজা ডাল নিয়ে তা দু'ভাগে বিভক্ত করলেন, অতঃপর প্রতিটি কবরে একটি করে পুঁতে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন এরূপ করলেন? তিনি বললেনঃ ডাল দু'টি না শুকানো পর্যন্ত আশা করি তাদের আযাব হাল্কা করা হবে।
আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বাকী'উল গারক্বাদ (কবরস্থানে) এক জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। নবী (ﷺ) আমাদের নিকট আগমন করলেন। তিনি উপবেশন করলে আমরাও তার চারদিকে বসে পড়লাম। তার হাতে একটি ছড়ি ছিল। তিনি নীচের দিকে তাকিয়ে তার ছড়িটি দ্বারা মাটি খুড়তে লাগলেন। অতঃপর বললেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, অথবা বললেনঃ এমন কোন সৃষ্ট প্রাণী নেই, যার জন্য জান্নাত ও জাহান্নামে জায়গা নির্ধারিত করে দেয়া হয়নি আর এ কথা লিখে দেয়া হয়নি যে, সে দুর্ভাগা হবে কিংবা ভাগ্যবান। তখন এক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! তা হলে কি আমরা আমাদের ভাগ্যলিপির উপর ভরসা করে আমল করা ছেড়ে দিব না? কেননা, আমাদের মধ্যে যারা ভাগ্যবান তারা অচিরেই ভাগ্যবানদের আমলের দিকে ধাবিত হবে। আর যারা দুর্ভাগ্য তারা অচিরেই দুর্ভাগাদের আমলের দিকে ধাবিত হবে। তিনি বললেনঃ যারা ভাগ্যবান, তাদের জন্য সৌভাগ্যের আমল সহজ করে দেয়া হয় আর ভাগ্যাহতদের জন্য দুর্ভাগ্যের আমল সহজ করে দেয়া হয়। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ "কাজেই যে দান করে এবং তাক্ওয়া অবলম্বন করে আর ভাল কথাকে সত্য বলে বুঝেছে"- (লাইলঃ ৫)।
সাবিত ইবন যাহহাক সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের (অনুসারী হবার) ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা হলফ করে সে যেমন বলল, তেমনই হবে আর যে ব্যক্তি কোন ধারালো লোহা দিয়ে আত্মহত্যা করে, তাকে তা দিয়েই জাহান্নামে আযাব দেয়া হবে।
হাজ্জাজ ইবন মিনহাল বলেন, জারীর ইবন হাযিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান হতে, তিনি বলেন, জুনদাব এই মসজিদে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আর তা আমরা ভুলে যাইনি এবং আমরা এ আশঙ্কাও করিনি যে, জুনদাব নবী (ﷺ) -এর নামে মিথ্যা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তির (দেহে) যখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাব) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে আর যে ব্যক্তি বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) বর্শা বিদ্ধ হতে থাকবে।
উমার ইবন খাত্তাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মুনাফিক সর্দার) আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালূল মারা গেলে তার জানাযার সালাতের জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে আহবান করা হল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (সালাত আদায়ের উদ্দেশে) দাড়ালে আমি দ্রুত তার নিকট গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ইবন উবাই'র জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার শানে এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে। এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুণেগুণে পুনরাবৃত্তি করলাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, উমার, সরে যাও! আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, আমাকে (তার সালাত আদায় করার ব্যাপারে) ইখ্তিয়ার দেয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তর বারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে তা হলে আমি অবশ্যই তার চেয়ে অধিক বার মাফ চাইতাম। উমার বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার জানাযার সালাত আদায় করেন এবং ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারাআতের এ দু'টি আয়াত নাযিল হল: "তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে তারা ফাসিক- [আত্তওবা ৯: ৮৪]। রাবী বলেন, আল্লাহর রাসূল-এর সামনে আমার ঐ দিনের দুঃসাহসিক আচরণ করায় আমি বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ এবং তার রাসূলই সমধিক অবগত।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক সাহাবী একটি জানাযার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তারা তার প্রশংসা করলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেল। একটু পরে অপর একটি জানাযা অতিক্রম করলেন। তখন তারা তার নিন্দাসূচক মন্তব্য করলেন। (এবারও) নবী (ﷺ) বললেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেলে। তখন উমার ইবন খাত্তাব আরয করলেন, (হে আল্লাহর রাসূল!) কি ওয়াজিব হয়ে গেল? তিনি বললেনঃ এ (প্রথম) ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা উত্তম মন্তব্য করলে, তাই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। আর এ (দ্বিতীয়) ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা নিন্দাসূচক মন্তব্য করায় তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেল। তোমরা তো পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী।
আবুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাদ্বীনায় আসলাম, তখন সেখানে একটি রোগ (মহামারী আকারে) ছড়িয়ে পড়েছিল। আমি উমার ইবন খাত্তাব -এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তাদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা অতিক্রম করল। তখন জানাযার লোকটি সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। উমার বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেলে। অতঃপর অপর একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, তখন সে লোকটি সম্পর্কেও প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। (এবারও) তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, লোকটি সম্বন্ধে নিন্দাসূচক মন্তব্য করা হল। তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। আবুল আসওয়াদ বলেনঃ আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! কি ওয়াজিব হয়ে গেল। তিনি বললেন, আমি তেমনই বলেছি, যেমন নবী (ﷺ) বলেছিলেন, যে কোন মুসলিম সম্পর্কে চার ব্যক্তি ভাল বলে সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। উমার বলেনঃ তখন আমরা বলেছিলাম, তিনজন হলে? তিনি বললেন, তিনজন হলেও। আমরা বললাম, দু'জন হলে? তিনি বললেন, দু'জন হলেও। অতঃপর আমরা একজন সম্পর্কে আর তাকে জিজ্ঞেস করিনি।
বারাআ ইবন আযিব সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিন ব্যক্তিকে যখন তার কবরে বসানো হয় তখন উপস্থিত করা হয় ফেরেশতাগণকে। অতঃপর (ফেরেশ্তাগণের প্রশ্নের উত্তরে) সে সাক্ষ্য প্রদান করে যে, "আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই আর মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল।" এটা আল্লাহর কালামঃ (যার অর্থ) "আল্লাহ পার্থিব জীবনে ও আখিরাতে অবিচল রাখবেন সে সকল লোককে যারা ঈমান এনেছে, প্রতিষ্ঠিত বাণীতে"- (ইব্রাহীম ২৭)।
ইবন উমার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) (বদরে নিহত) গর্তবাসীদের দিকে ঝুকে দেখে বললেনঃ "তোমাদের সাথে তোমাদের রব যে ওয়াদা করেছিলেন, তা তোমরা বাস্তবে পেয়েছো তো?"- (আল-আরাফ (৭): ৪৪)। তখন তাকে বলা হল, আপনি মৃতদের ডেকে কথা বলছেন? (ওরা কি শুনতে পায়?) তিনি বললেনঃ "তোমরা তাদের চেয়ে অধিক শুনতে পাও না, তবে তারা জবাব দিতে পারছে না"।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন যে, নিশ্চই তারা এখন ভালভাবে জানতে (ও বুঝতে) পেরেছে যে, (কবর আযাব প্রসঙ্গে) আমি তাদের যা বলতাম তা বাস্তব। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেনঃ "আপনি (হে নবী!) নিশ্চিতই মৃতদের (কোন কথা) শোনাতে পারেন না"- (আন্-নামালঃ ৮০)।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোক আয়িশাহ-এর কাছে এসে কবর আযাব সম্পর্কে আলোচনা করে তাকে (দোয়া করে) বলল, আল্লাহ আপনাকে কবর আযাব হতে রক্ষা করুন! পরে আয়িশাহ কবর আযাব সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেনঃ হা, কবর আযাব (সত্য)। আয়িশাহ বলেন, এরপর থেকে নবী (ﷺ) -কে এমন কোন সালাত আদায় করতে আমি দেখিনি, যাতে তিনি কবর আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেননি। [এ হাদীসের বর্ণনায়] গুণদার অধিক উল্লেখ করেছেন যে, 'কবর আযাব একেবারে বাস্তব'।
উরওয়া ইবন যুবাইর সূত্রে বর্ণিত। তিনি আসমা বিনত আবূ বাকর-কে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (একবার) দাড়িয়ে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন তাতে তিনি কবরে মানুষ যে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, তার বর্ণনা দিলে মুসলিমগণ ভয়ার্ত চিৎকার করতে লাগলেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথীরা এতটুকু মাত্র দূরে যায় যে, সে তখনও তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। এ সময় দু'জন ফেরেশ্তা তার নিকট এসে তাকে বসান এবং তারা বলেন, এ ব্যক্তি মুহাম্মাদ (ﷺ) সম্পর্কে তুমি কী বলতে? তখন মুমিন ব্যক্তি বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তার রাসূল। তখন তাকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থান স্থলটির দিকে নযর কর, আল্লাহ তোমাকে তার বদলে জান্নাতের একটি অবস্থান স্থল দান করেছেন। তখন সে দু'টি স্থলের দিকেই দৃষ্টি করে দেখবে। কাতাদাহ বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে ব্যক্তির জন্য তার কবর প্রশস্ত করে দেয়া হবে। অতঃপর তিনি (কাতাদাহ) পুনরায় আনাস-এর হাদীসের বর্ণনায় ফিরে আসেন। তিনি [(আনাস)] বলেন, আর মুনাফিক বা কাফির ব্যক্তিকেও প্রশ্ন করা হবে তুমি এ ব্যক্তি (মুহাম্মাদ (ﷺ) সম্পর্কে কী বলতে? সে উত্তরে বলবে, আমি জানি না। লোকেরা যা বলত আমি তা-ই বললাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি না নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। আর তাকে লোহার মুগুর দ্বারা এমনভাবে আঘাত করা হবে, যার ফলে সে এমন বিকট চিৎকার করে উঠবে যে, দু' জাতি (মানুষ ও জ্বিন) ছাড়া তার আশপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে।
আবূ আইয়ুব [আনসারী (রা.)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) সূর্য ডুবে যাওয়ার পর নবী (ﷺ) বের হলেন। তখন তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে বলেনঃ ইয়াহূদীদের কবরে আযাব দেয়া হচ্ছে। (এটা আযাব দেয়ার বা আযাবের ফেরেশ্তাগণের বা ইয়াহূদীদের আওয়ায।) [ইমাম বুখারী বলেন] নযর.....আবূ আইয়ুব সূত্রে নবী (ﷺ) হতে (অনুরূপ) বলেছেন।
খালিদ ইবন সাঈদ ইবন 'আস হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-কে কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দোয়া করতেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার সমীপে পানাহ চাচ্ছি কবরের শাস্তি হতে, জাহান্নামের শাস্তি হতে, জীবন ও মরণের ফিতনা হতে এবং মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা হতে।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) নবী (ﷺ) দু'টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন ঐ দু'জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে আর কোন কঠিন কাজের কারণে তাদের আযাব দেয়া হচ্ছে না। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেনঃ হা (আযাব দেয়া হচ্ছে) তবে তাদের একজন পরনিন্দা করে বেড়াত, অন্যজন তার পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না। (রাবী বলেন) অতঃপর তিনি একটি তাজা ডাল নিয়ে তা দু'খন্ডে ভেঙ্গে ফেললেন। অতঃপর সে দু' খন্ডের প্রতিটি এক এক কবরে পুঁতে দিলেন। অতঃপর বললেনঃ আশা করা যায় যে এ দু'টি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের উভয়ের আযাব হালকা করা হবে।
আবদুল্লাহ্ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মারা গেলে অবশ্যই তার সামনে সকাল ও সন্ধ্যায় তার অবস্থান স্থল উপস্থাপন করা হয়। যদি সে জান্নাতী হয়, তবে (অবস্থান স্থল) জান্নাতীদের মধ্যে দেখানো হয়। আর সে জাহান্নামী হলে, তাকে জাহান্নামীদের (অবস্থান স্থল দেখানো হয়) আর তাকে বলা হয়, এ হচ্ছে তোমার অবস্থান স্থল, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তোমাকে পুনরুত্থিত করা অবধি।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে খাটিয়ায় রেখে লোকেরা যখন কাঁধে বহন করে নিয়ে যায় তখন সে নেক্কার হলে বলতে থাকে, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চল, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চল; আর সে নেক্কার না হলে বলতে থাকে হায় আফসোস! এটাকে নিয়ে তোমরা কোথায় যাচ্ছ? মানুষ ব্যতীত সব কিছুই তার এ আওয়াজ শুনতে পায়। মানুষেরা তা শুনতে পেলে অবশ্যই অজ্ঞান হয়ে পড়ত।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম ব্যক্তির এমন তিনটি (সন্তান) মারা যাবে, যারা বালিগ হয়নি, আল্লাহ তাদের প্রতি তার রহমতের ফযলে সে ব্যক্তিকে (মা-বাপকে) জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
বারাআ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (নবী তনয়) ইব্রাহীম-এর মৃত্যু হলে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তার জন্য তো জান্নাতে একজন দুধ-মা রয়েছেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে মুশরিকদের শিশু সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাদের সৃষ্টি লগ্নেই তাদের ভবিষ্যৎ আমল সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -কে মুশরিকদের নাবালক সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বলেনঃ আল্লাহ তাদের ভবিষ্যৎ আমল সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ প্রত্যেক নবজাতক ফিত্রাতের উপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার মাতাপিতা তাকে ইয়াহূদী বা নাসারা অথবা অগ্নি উপাসক করে, যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে (জন্মগত) কানকাটা দেখেছ?
সামুরাহ ইবন জুনদুব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) (ফজর) সালাত শেষে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন এবং জিজ্ঞেস করতেন, তোমাদের কেউ গত রাতে কোন স্বপ্ন দেখেছ কি? (বর্ণনাকারী) বলেন, কেউ স্বপ্ন, দেখে থাকলে তিনি তা বিবৃত করতেন। তিনি তখন আল্লাহর মর্যী মুতাবিক তাবীর বলতেন। একদা আমাদেরকে প্রশ্ন করলেন, তোমাদের কেউ কি কোন স্বপ্ন দেখেছ? আমরা বললাম, জী না। নবী (ﷺ) বললেনঃ গত রাতে আমি দেখলাম, দু'জন লোক এসে আমার দু'হাত ধরে আমাকে পবিত্র ভূমির দিকে নিয়ে চললো। হঠাৎ দেখতে পেলাম, এক ব্যক্তি বসে আছে আর এক ব্যক্তি লোহার আকড়া হাতে দাড়িয়ে। [ইমাম বুখারী বলেন] আমাদের এক সাথী মু'সা বর্ণনা করেছেন যে, দাড়ানো ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তির (এক পাশের) চোয়ালটা এমনভাবে আকড়া বিদ্ধ করছিল যে, তা (চোয়াল বিদীর্ণ করে) মস্তকের পিছনের দিক পর্যন্ত পৌছে যাচ্ছিল। অতঃপর অপর চোয়ালটিও আগের মত বিদীর্ণ করল। ততক্ষণে প্রথম চোয়ালটা জোড়া লেগে যাচ্ছিল। আকড়াধারী ব্যক্তি পুনরায় সেরূপ করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী হচ্ছে? সাথীদ্বয় বললেন, (পরে বলা হবে এখন) চলুন। আমরা চলতে চলতে চিৎ হয়ে শায়িত এক ব্যক্তির পাশে এসে উপস্থিত হলাম, তার মাথার নিকট পাথর হাতে এক ব্যক্তি দাড়িয়ে পাথর দিয়ে তার মাথা চূর্ণ করে দিচ্ছিল। নিক্ষিপ্ত পাথর দূরে গড়িয়ে যাওয়ার ফলে তা তুলে নিয়ে শায়িত ব্যক্তির নিকট ফিরে আসার পূর্বেই বিচূর্ণ মাথা আগের মত জোড়া লেগে যাচ্ছিল। সে পুনরায় মাথার উপরে পাথর নিক্ষেপ করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, লোকটি কে? তারা বললেন, চলুন। আমরা অগ্রসর হয়ে তন্দুরের ন্যায় এক গর্তের নিকট উপস্থিত হলাম। গর্তের উপরিভাগ ছিল সংকীর্ণ ও নীচের অংশ প্রশস্ত এবং এর তলদেশ হতে আগুন জ্বলছিল। আগুন গর্তের মুখের নিকটবর্তী হলে সেখানের লোকগুলোও উপরে চলে আসে যেন তারা গর্ত হতে বের হয়ে যাবে। আগুন ক্ষীণ হয়ে গেলে তারাও (তলদেশে) ফিরে যায়। গর্তের মধ্যে বহুসংখ্যক উলঙ্গ নারী-পুরুষ ছিল। জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তারা বললেন, চলুন। আমরা চলতে চলতে একটি রক্ত প্রবাহিত নদীর কাছে হাযির হলাম। নদীর মাঝখানে এক ব্যক্তি দাড়ানো ছিল। নদীর তীরে অপর এক ব্যক্তি যার সামনে ছিল পাথর। নদীর মাঝখানের লোকটি নদী হতে বের হয়ে আসার জন্য অগ্রসর হলেই তীরে দাড়ানো লোকটি সে ব্যক্তির মুখ বরাবর পাথর নিক্ষেপ করছিল, এতে সে পূর্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছিল। এমনভাবে যতবার সে তীরে উঠে আসতে চেষ্টা করে ততবার সে ব্যক্তি তার মুখ বরাবর পাথর নিক্ষেপ করে পূর্বস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য করে। আমি জানতে চাইলাম, এ ঘটনার কারণ কী? তারা বললেন, চলতে থাকুন। আমরা চলতে চলতে একটি সবুজ বাগানে উপস্থিত হলাম। এতে একটি বড় গাছ ছিল। গাছটির গোড়ায় এক বৃদ্ধ ও বেশ কিছু বালক-বালিকা ছিল। হঠাৎ দেখি যে, গাছটির সন্নিকটে জনৈক ব্যক্তি আগুন জ্বালাচ্ছে। সাথীদ্বয় আমাকে নিয়ে গাছে আরোহণ করে এমন একটি বাড়িতে প্রবেশ করলেন যার চেয়ে সুদৃশ্য বাড়ি ইতিপূর্বে কখনো দেখিনি। বাড়িতে বহু সংখ্যক বৃদ্ধ, যুবক, নারী এবং বালক-বালিকা ছিল। অতঃপর তারা আমাকে সেখান হতে বের করে নিয়ে গাছে আরো উপরে আরোহণ করে অপর একটি বাড়িতে প্রবেশ করালেন। এটা পূর্বাপেক্ষা অধিক সুদৃশ্য ও মনোরম। বাড়িটিতে ছিল কতিপয় বৃদ্ধ ও যুবক। আমি বললাম, আজ রাতে আপনারা আমাকে (বহুদূর পর্যন্ত) ভ্রমণ করালেন। এবার বলুন, যা দেখলাম তার তাৎপর্য কী? তারা বললেন, না, আপনি যে ব্যক্তির চোয়াল বিদীর্ণ করার দৃশ্য দেখলেন সে মিথ্যাবাদী; মিথ্যা কথা বলে বেড়াতো, তার বিবৃত মিথ্যা বর্ণনা ক্রমাগত বর্ণিত হয়ে দূর দূরান্তে পৌছে যেতো। কিয়ামত পর্যন্ত তার সঙ্গে এ ব্যবহার করা হবে। আপনি যার মাথা চূর্ণ করতে দেখলেন, সে এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআনের শিক্ষা দান করেছিলেন, কিন্তু রাতের বেলায় সে কুরআন হতে বিরত হয়ে নিদ্রা যেতো এবং দিনের বেলায় কুরআন অনুযায়ী আমল করতো না। তার সাথে কিয়ামত পর্যন্ত এরূপই করা হবে। গর্তের মধ্যে যাদেরকে আপনি দেখলেন, তারা ব্যভিচারী। (রক্ত প্রবাহিত) নদীতে আপনি যাকে দেখলেন, সে সুদখোর। গাছের গোড়ায় যে বৃদ্ধ ছিলেন তিনি ইব্রাহীম এবং তার চারপাশের বালক-বালিকারা মানুষের সন্তান। যিনি আগুন জ্বালাচ্ছিলেন তিনি হলেন, জাহান্নামের খাযিন-মালিক নামক ফেরেশ্তা। প্রথম যে বাড়িতে আপনি প্রবেশ করলেন তা সাধারণ মুমিনদের বাসস্থান। আর এ বাড়িটি হলো শহীদগণের আবাস। আমি (হলাম) জিব্রাঈল আর ইনি হলেন মীকাঈল। (এরপর জিব্রাঈল আমাকে বললেন) আপনার মাথা উপরে উঠান। আমি উঠিয়ে মেঘমালার মত কিছু দেখলাম। তারা বললেন, এটাই হলো আপনার আবাসস্থল। আমি বললাম, আমাকে ছেড়ে দিন আমি আমার আবাসস্থলে প্রবেশ করি। তারা বললেন, এখনো আপনার আয়ু কিছু সময়ের জন্য রয়ে গেছে, যা এখনো পূর্ণ হয়নি। অবশিষ্ট সময় পূর্ণ হলে অবশ্যই আপনি স্বীয় আবাসে চলে আসবেন।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ বাকর-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কয় খন্ড কাপড়ে তোমরা নবী (ﷺ) -কে কাফন দিয়েছিলে? আয়িশাহ বললেন, তিন খন্ড সাদা সাহুলী (স্থানের নাম) কাপড়ে, যার মধ্যে জামা ও পাগড়ী ছিল না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কোন দিন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইনতিকাল করেন? আয়িশাহ বলেন, সোমবার। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আজ কী বার? তিনি (আয়িশাহ বললেন, আজ সোমবার। তিনি (আবূ বাকর বললেন, আমি আশা করি এখন হতে আগত রাতের মধ্যে (আমার মৃত্যু হবে)। অতঃপর অসুস্থকালীন নিজের পরিধেয় কাপড়ের প্রতি লক্ষ্য করে তাতে জাফরানী রং এর চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, আমার এ কাপড়টি ধুয়ে তার সাথে আরো দু'খন্ড কাপড় বৃদ্ধি করে আমার কাফন দিবে। আমি (আয়িশাহ) বললাম, এটা (পরিধেয় কাপড়টি) পুরাতন। তিনি বললেন, মৃত ব্যক্তি অপেক্ষা জীবিতদের নতুন কাপড়ের প্রয়োজন অধিক। আর কাফন হলো বিগলিত শবদেহের জন্য। তিনি মঙ্গলবার রাতের সন্ধ্যায় ইন্তিকাল করেন, ভোর হবার পূর্বেই তাকে দাফন করা হয়েছিল।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -কে বললেন, আমার মায়ের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে, কিন্তু আমার বিশ্বাস তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) কথা বলতে সক্ষম হলে কিছু সদাকাহ করে যেতেন। এখন আমি তার পক্ষ হতে সদাকাহ করলে তিনি এর প্রতিফল পাবেন কি? তিনি [নবী (ﷺ) ] বললেন, হ্যা।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রোগশয্যায় (স্ত্রীগণের নিকট অবস্থানের) পালার সময় কাল জানতে চাইতেন। আমার অবস্থান আজ কোথায় হবে? আগামীকাল কোথায় হবে? আয়িশাহ-এর পালা বিলম্বিত হচ্ছে বলে ধারণা করেই এ প্রশ্ন করতেন। [আয়িশাহ বলেন] যে দিন আমার পালা আসলো, সেদিন আল্লাহ তাকে আমার কণ্ঠদেশ ও বক্ষের মাঝে (হেলান দেয়া অবস্থায়) রূহ্ কবয করলেন এবং আমার ঘরে তাকে দাফন করা হয়।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অন্তিম রোগশয্যায় বলেন, ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষিত হোক। কারণ, তারা তাদের নবীগণের কবরকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে। (রাবী উরওয়াহ বলেন) এরূপ আশঙ্কা না থাকলে রসুলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর কবরকে (ঘরের বেষ্টনীতে সংরক্ষিত না রেখে) খোলা রাখা হতো। কিন্তু তিনি (নবী (ﷺ)) আশংকা করেন বা আশঙ্কা করা হয় যে, পরবর্তীতে একে মসজিদে পরিণত করা হবে। রাবী হিলাল বলেন, 'উরওয়া আমাকে (আবূ আমর) কুনিয়াতে ভূষিত করেন আর তখন পর্যন্ত আমি কোন সন্তানের পিতা হইনি। সুফইয়ান তাম্মার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি নবী (ﷺ) -এর কবর উটের কুজের ন্যায় (উচু) দেখেছেন। উরওয়াহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ওয়ালীদ ইবন আবদুল মালিক-এর শাসনামলে যখন (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর রাওযার) বেষ্টনী দেয়াল ধসে পড়ে, তখন তারা সংস্কার করতে আরম্ভ করলে একটি পা প্রকাশ পায়, তা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কদম মুবারক বলে ধারণা করার কারণে লোকেরা খুব ঘাবড়ে যায়। সনাক্ত করার মত কাউকে তারা পায়নি। অবশেষে উরওয়াহ তাদের বললেন, আল্লাহর কসম এ নবী (ﷺ) -এর পা নয় বরং এতো উমার-এর পা।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর-কে অসিয়্যত করেছিলেন, আমাকে তাদের (নবী (ﷺ) ও তার দু' সাহাবী) পাশে দাফন করবে না। বরং আমাকে আমার সঙ্গিনীদের সাথে বাকী'তে দাফন করবে যাতে আমি চিরকালের জন্য প্রশংসিত হতে না থাকি।
আমর ইবন মায়মুন আওদী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার-কে দেখলাম তিনি নিজের ছেলে আবদুল্লাহ-কে ডেকে বললেন, তুমি উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ-এর নিকট গিয়ে বল, উমার ইবন খাত্তাব আপনাকে সালাম বলেছেন। অতঃপর আমাকে আমার দু'জন সাথী (নবী (ﷺ) ও আবূ বাকর)-এর পাশে দাফন করতে তিনি রাযী আছেন কি না? আয়িশাহ বললেন, আমি পূর্ব হতেই নিজের জন্য এর আশা পোষণ করতাম, কিন্তু আজ উমার-কে নিজের উপর অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আবদুল্লাহ ফিরে এলে উমার তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি বার্তা নিয়ে এলে? তিনি বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! তিনি [আয়িশা] আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন। উমার বললেন, সেখানে শয্যা লাভই ছিল আমার নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার মৃত্যুর পর আমাকে বহন করে [আয়িশাহ-এর নিকট উপস্থিত করে] তাকে সালাম জানিয়ে বলবে, উমার ইবন খাত্তাব (পুনরায়) আপনার অনুমতি চাইছেন। তিনি অনুমতি দিলে, আমাকে সেখানে দাফন করবে। অন্যথায় আমাকে মুসলিমদের কবরস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।অতঃপর উমার বলেন, এ কয়েকজন ব্যক্তি যাদের উপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মৃত্যু পর্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন, তাদের অপেক্ষা অন্য কাউকে আমি এ খিলাফতের (দায়িত্ব পালনে) অধিক যোগ্য বলে মনে করি না। তাই আমার পর তারা (তাদের মধ্য হতে) যাকে খালীফা মনোনীত করবেন তিনি খালীফা হবেন। তোমরা সকলেই তার আদেশ মেনে চলবে, তার আনুগত্য করবে। এ বলে তিনি উসমান, আলী, তালহা, যুবাইর, আবদুর রাহমান ইবন আওফ ও সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস-এর নাম উল্লেখ করলেন। এ সময়ে এক আনসারী যুবক উমার-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, হে আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহ প্রদত্ত সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি ইসলামের ছায়াতলে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করার সৌভাগ্য লাভ করেছেন যা আপনিও জানেন। অতঃপর আপনাকে খলীফা নিযুক্ত করা হয় এবং আপনি ন্যায়বিচার করেছেন। সর্বোপরি আপনি শাহাদাত লাভ করছেন। উমার বললেন, হে ভাতিজা! যদি তা আমার জন্য লাভ লোকসানের না হয়ে বরাবর হয়, তবে কতই না ভাল হবে। (তিনি বললেন) আমার পরবর্তী খলীফাকে ওয়াসিয়্যাত করে যাচ্ছি, তিনি যেন প্রথম দিকের মুহাজিরদের ব্যাপারে যত্নবান হন, তাদের হক আদায় করে চলেন, যেন তাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন। আমি তাকে আনসারদের সাথেও সদাচারের উপদেশ দেই, যারা ঈমান ও মাদ্বীনাকে আকড়ে ধরে রয়েছেন, যেন তাদের মধ্যকার সৎকর্মপরায়ণদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান করা হয় এবং তাদের মধ্যকার (লঘু) অপরাধীকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। সর্বশেষে আল্লাহ ও তার রাসূল (ﷺ) -এর দায়িত্বভুক্ত (সর্বস্তরের মুমিনদের সম্পর্কে) সতর্ক করে দিচ্ছি যেন মুমিনদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করা হয়, তাদের রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা হয় এবং সাধ্যের বাইরে কোন দায়িত্ব তাদের উপর অর্পণ করা না হয়।
আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা মৃতদের গালি দিও না। কারণ, তারা স্বীয় কর্মফল পর্যন্ত পৌছে গেছে। [ইমাম বুখারী বলেন] আবদুল্লাহ ইবন আবদুল কুদ্দুস ও মুহাম্মাদ ইবন আনাস আ'মাশ হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আলী ইবন জা'দ, ইবন আর'আরা ও ইবন আবূ আদী শুবাহ হতে হাদীস বর্ণনায় আদম-এর অনুসরণ করেছেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ লাহাব লানাতুল্লাহি 'আলাইহি নবী (ﷺ) -কে লক্ষ্য করে বললো, সারা দিনের জন্য তোমার অনিষ্ট হোক! (তার এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে) নাযিল হয়ঃ (যার অর্থ) "আবূ লাহাবের হাত দু'টো ধ্বংস হোক এবং সেও ধ্বংস হোক"- (আল-মাসাদঃ ১)।