bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

উপহার ও এর ফযীলত (২৫৬৬-২৬৩৬)

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, হে মুসলিম নারীগণ! কোন মহিলা প্রতিবেশিনী যেন অপর মহিলা প্রতিবেশিনীর হাদিয়া তুচ্ছ মনে না করে, এমনকি তা ছাগলের সামান্য গোশ্তযুক্ত হাড় হলেও।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি একবার উরওয়াহ-'র উদ্দেশে বললেন, ভাগ্নে! আমরা নতুন চাঁদ দেখতাম, আবার নতুন চাঁদ দেখতাম। এভাবে দু'মাসে তিনটি নতুন চাঁদ দেখতাম। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোন ঘরেই আগুন জ্বালানো হত না। [উরওয়াহ বলেন] আমি জিজ্ঞেস করলাম, খালা! আপনারা তাহলে বেচে থাকতেন কিভাবে? তিনি বললেন, দু'টি কালো জিনিস খেজুর আর পানিই শুধু আমাদের বাচিয়ে রাখত। কয়েক ঘর আনসার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতিবেশী ছিল। তাদের কিছু দুগ্ধবতী উটনী ও বকরী ছিল। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য দুধ হাদিয়া পাঠাত। তিনি আমাদের তা পান করতে দিতেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, যদি আমাকে হালাল পশুর পায়া বা হাতা খেতে ডাকা হয়, তবু তা আমি গ্রহণ করব আর যদি আমাকে পায়া বা হাতা হাদিয়া দেয়া হয়, আমি তা গ্রহণ করব।

সাহল হতে বর্ণিত যে, এক মুহাজির১ মহিলার নিকট নবী (ﷺ) লোক পাঠালেন। তার এক গোলাম ছিল কাঠ মিস্ত্রি। তিনি তাকে বললেন, তুমি তোমার গোলামকে বল, সে যেন আমাদের জন্য একটা কাঠের মিম্বার তৈরি করে। তিনি তার গোলামকে নির্দেশ দিলেন। সে গিয়ে এক রকম গাছ কেটে এনে মিম্বার তৈরী করল। কাজ শেষ হলে তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, গোলাম তার কাজ শেষ করেছে। তিনি বললেন, সেটা আমার নিকট পাঠিয়ে দাও। তখন লোকেরা তা নিয়ে এল। নবী (ﷺ) সেটা বহন করে সেখানে রাখলেন, যেখানে তোমরা দেখতে পাচ্ছ।

আবূ ক্বাতাদাহ সালামী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মক্কার পথে কোন এক মনযিলে নবী (ﷺ)-এর কয়েকজন সাহাবীর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের অগ্রবর্তী কোন স্থানে অবস্থান করছিলেন। সকলেই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। আমি শুধু ইহরাম ব্যতীত ছিলাম। তারা একটি বন্য গাধা দেখতে পেলেন। আমি তখন আমার জুতা মেরামত করছিলাম। তারা আমাকে সে সম্পর্কে জানাননি। অথচ সেটি আমি যেন দেখতে পাই তারা তা চাচ্ছিলেন। আমি হঠাৎ সেদিকে তাকালেন, সেটা আমার নযরে পড়ল। তখন আমি উঠে ঘোড়ার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং জীন লাগিয়ে তাতে সাওয়ার হলাম। কিন্তু চাবুক ও বর্শা নিতে ভুলে গেলাম। তখন তাদের বললাম, চাবুক আর বর্শাটা আমাকে তুলে দাও। কিন্তু তারা বললেন, আল্লাহর কসম! গাধা শিকার করার ব্যাপারে আমরা তোমাকে কোন সাহায্যই করব না। আমি তখন রাগ করে নেমে এলাম এবং সে দু'টি তুলে নিয়ে সাওয়ার হলাম। আর গাধাটা আক্রমণ করে আহত করলাম। তাতে সেটি মারা গেল। অতঃপর সেটাকে নিয়ে আসলাম। তারা সেই গাধার গোশত খেতে লাগলেন। পরে তাদের মনে ইহরাম অবস্থায় তা খাওয়া নিয়ে সন্দেহ দেখা দিল। আমরা যাত্রা শুরু করলাম। এক ফাকে আমি আমার নিকট গাধার একটি হাতা লুকিয়ে রেখেছিলাম। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাক্ষাৎ পেয়ে সেই গোশত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তোমাদের সঙ্গে সেটার গোশতের কিছু আছে কি? আমি বললাম, হ্যা আছে। অতঃপর হাতাখানা তাকে দিলে তিনি ইহরাম অবস্থায় তার সবটুকু খেলেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এই ঘরে আগমন করেন এবং কিছু পান করতে চাইলেন। আমরা আমাদের একটা বকরীর দুধ দোহন করে তাতে আমাদের এই কুয়ার পানি মিশালাম। অতঃপর তা সম্মুখে পেশ করলাম। এ সময় আবূ বাকর ছিলেন তার বামে, উমার ছিলেন তার সম্মুখে, আর এক বেদুঈন ছিলেন তার ডানে। তিনি যখন পান শেষ করলেন, তখন উমার বললেন, ইনি আবূ বাকর, কিন্তু রাসূল (ﷺ) বেদুঈনকে তার অবশিষ্ট পানি দান করলেন। অতঃপর বললেন, ডান দিকের ব্যক্তিদেরকেই (অগ্রাধিকার), ডান দিকের ব্যক্তিদের (অগ্রাধিকার) শোন! ডান দিক থেকেই শুরু করবে। আনাস বলেন, এটাই সুন্নাত, এটাই সুন্নাত, এটাই সুন্নাত।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মক্কার অদূরে) মার্রায্ যাহারান নামক স্থানে আমরা একটি খরগোশ তাড়া করলাম। লোকেরা সেটার পিছনে ধাওয়া করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। অবশেষে আমি সেটাকে পেয়ে গেলাম এবং ধরে আবূ ত্বলহা-এর নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি সেটাকে যব্হ করে তার পাছা অথবা রাবী বলেন, দু' উরু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে পাঠালেন। শু'বা বলেন, দু'টি উরুই এতে কোন সন্দেহ নেই। তখন নবী (ﷺ) তা গ্রহণ করেছিলেন। রাবী বলেন, আমি শু'বা-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি তা খেয়েছিলেন? তিনি বললেন, হ্যা, খেয়েছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, নবী (ﷺ) তা গ্রহণ করেছিলেন।

সা'আব ইবন জাসসামাহ হতে বর্ণিত। তিনি (সা'আব ইবন জাসসামা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য একটি বন্য গাধা হাদিয়া পাঠালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আবওয়া কিংবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে ছিলেন। তিনি হাদিয়া ফেরত পাঠালেন। পরে তার বিষণ্ণ মুখ দেখে বললেন, শুন! আমরা ইহরাম অবস্থায় না থাকলে তোমার হাদিয়া ফেরত দিতাম না।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। লোকেরা তাদের হাদিয়া পাঠাবার ব্যাপারে আয়িশাহ-এর জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত। এতে তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করত।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাসের খালা উম্মু হুফায়দ একদা নবী (ﷺ)-এর খিদমাতে পনির, ঘি ও দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) হাদিয়া পাঠালেন। কিন্তু নবী (ﷺ) শুধু পনির ও ঘি খেলেন আর দব্ব অরুচিকর হওয়ায় বাদ দিলেন। ইবন আব্বাস বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দস্তরখানে (দব্ব) খাওয়া হয়েছে। তা হারাম হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দস্তরখানে খাওয়া হত না।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে কোন খাবার আনা হলে তিনি জানতে চাইতেন, এটা হাদিয়া, না সদাকাহ? যদি বলা হত সদাকাহ, তাহলে সাহাবীদের তিনি বলতেন, তোমরা খাও। কিন্তু তিনি খেতেন না। আর যদি বলা হত হাদিয়া, তাহলে তিনিও হাত বাড়াতেন এবং তাদের সঙ্গে খাওয়ায় শরীক হতেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর খিদমতে কিছু গোশত আনা হল। তখন বলা হল যে, এট আসলে বারীরার নিকট সদাকাহরূপে এসেছিল। তখন তিনি বললেন, এটা তার জন্য সদাকাহ আর আমাদের জন্য হাদিয়া।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি বারীরাহ-কে খরিদ করার ইচ্ছা করলে তার মালিক পক্ষ ওয়ালার শর্তারোপ করল। তখন বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর সামনে আলোচিত হল। নবী (ﷺ) বললেন, তুমি তাকে খরিদ করে আযাদ করে দাও। কেননা যে আযাদ করল, সেই ওয়ালা লাভ করবে। আয়িশাহ-এর জন্য কিছু গোশত হাদিয়া পাঠানো হল। নবী (ﷺ)-কে বলা হল যে, এ গোশত বারীরাকে সদাকাহ করা হয়েছিল। তখন নবী (ﷺ) বললেন, এটা তার জন্য সদাকাহ আর আমাদের জন্য হাদিয়া। তাকে (স্বামী বহাল রাখা বা পরিত্যাগ করার ব্যাপারে) স্বীয় ইচ্ছামাফিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার দেয়া হল। (রাবী) আবদুর রহমান বলেন, তার স্বামী তখন আযাদ কিংবা গোলাম ছিল। শু'বা বলেন, পরে আমি আবদুর রহমান-কে তার স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি জানি না, সে আযাদ ছিল না গোলাম ছিল।

উম্মু 'আতিয়্যাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আয়িশাহ-এর ঘরে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের নিকট খাবার কিছু আছে কি? তিনি বললেন, না; উম্মে আতিয়্যা প্রেরিত বকরির কিছু গোশ্ত ছাড়া, যা আপনি তাকে সদাকাহ হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বললেন, সদাকাহ তো যথাস্থানে পৌছে গেছে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা তাদের হাদিয়া পাঠাবার ব্যাপারে আমার জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত। উম্মু সালামাহ বলেন, আমার সতীনগণ একত্রিত হলেন। ফলে উম্মু সালামাহ বিষয়টি তার নিকট উত্থাপন করলেন, কিন্তু তিনি ব্যাপারটি এড়িয়ে গেলেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর স্ত্রীগণ দু'দলে বিভক্ত ছিলেন। একদলে ছিলেন আয়িশা, হাফসাহ, সাফিয়্যাহ ও সাওদা (রাযিয়াল্লাহু আনহুন্না), অপর দলে ছিলেন উম্মু সালামাহ সহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অন্যান্য স্ত্রীগণ। আয়িশাহ-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিশেষ ভালোবাসার কথা সাহাবীগণ জানতেন। তাই তাদের মধ্যে কেউ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কিছু হাদিয়া পাঠাতে চাইলে তা বিলম্বিত করতেন। যেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশাহ-এর ঘরে অবস্থান করতেন, সেদিন হাদিয়া দাতা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আয়িশাহ-কে তারা পাঠিয়ে দিতেন। উম্মু সালামাহ-এর দল তা নিয়ে আলোচনা করলেন। উম্মু সালামাহ-কে তারা বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে আপনি আলাপ করুন। তিনি যেন লোকদের বলে দেন যে, যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাদিয়া পাঠাতে চান, তারা যেন তার নিকট পাঠিয়ে দেন, যে স্ত্রীর ঘরেই তিনি থাকুন না কেন। উম্মু সালামাহ তাদের প্রস্তাব নিয়ে তার সঙ্গে আলাপ করলেন। কিন্তু তিনি তাকে কোন জবাব দিলেন না। পরে সবাই তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি আমাকে কোন জবাব দিলেন না। তখন তারা তাকে বললেন, আপনি তার সঙ্গে আবার কথা বলুন। (আয়িশাহ) বলেন, যেদিন তিনি [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)] তার (উম্মু সালামাহ'র) ঘরে গেলেন, সেদিন তিনি আবার তার নিকট কথা তুললেন। সেদিনও তিনি তাকে কিছু বললেন না। অতঃপর তারা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তিনি বললেন, আমাকে তিনি কিছুই বলেননি। তখন তারা তাকে বললেন, তিনি কোন জবাব না দেয়া পর্যন্ত আপনি বলতে থাকুন। তিনি [নবী (ﷺ)] তার ঘরে গেলে আবার তিনি তার নিকট সে প্রসঙ্গ তুললেন। এবার তিনি তাকে বললেন, আয়িশাহ-এর ব্যাপার নিয়ে আমাকে কষ্ট দিও না। মনে রেখ, আয়িশাহ ব্যতীত আর কোন স্ত্রীর বস্ত্র তুলে থাকা অবস্থায় আমার উপর ওয়াহী নাযিল হয়নি। [আয়িশাহ] বলেন, এ কথা শুনে তিনি [উম্মু সালামাহ] বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে কষ্ট দেয়া হতে আমি আল্লাহর নিকট তওবা করছি। অতঃপর সকলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা-কে এনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এ কথা বলার জন্য পাঠালেন যে, আপনার স্ত্রীগণ আল্লাহর দোহাই দিয়ে আবূ বাকর-এর কন্যা সম্পর্কে ইনসাফের আবেদন জানালেন। [ফাতিমা] তার নিকট বিষয়টি তুলে ধরলেন। তখন তিনি বললেন, প্রিয় কন্যা! আমি যা ভালবাসি তুমি কি তাই ভালবাস না? তিনি বললেন, অবশ্যই করি। অতঃপর তাদের নিকট গিয়ে তাদেরকে (আদ্যোপান্ত) অবহিত করলেন। তারা তাকে বললেন, তুমি আবার যাও। কিন্তু এবার তিনি যেতে অস্বীকার করলেন। তখন তারা যায়নাব বিনতু জাহাশ-কে পাঠালেন। তিনি তার নিকট গিয়ে কঠোর ভাষা ব্যবহার করলেন এবং বললেন, আপনার স্ত্রীগণ আল্লাহর দোহাই দিয়ে ইবন আবূ কুহাফার [আবূ বাকর কন্যা সম্পর্কে ইনসাফের আবেদন জানাচ্ছেন। অতঃপর তিনি গলার স্বর উচু করলেন। এমনকি আয়িশাহ-কে জড়িয়েও কিছু বললেন। আয়িশাহ সেখানে বসা ছিলেন। শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশাহ-এর দিকে তাকিয়ে দেখছিলেন। তিনি কিছু বলেন কিনা। রাবী উরওয়াহ] বলেন, আয়িশাহ যায়নাব-এর কথার প্রস্তুতি বাদে কথা বলতে শুরু করলেন এবং তাকে চুপ করে দিলেন। আয়িশাহ বলেন, নবী (ﷺ) তখন আয়িশাহ-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, এ হচ্ছে আবূ বাকর-এর কন্যা।

আযরাহ ইবন সাবিত আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা সুমামাহ ইবন আবদুল্লাহ-এর নিকট গেলাম, তিনি আমাকে সুগন্ধি দিলেন এবং বললেন, আনাস কখনো সুগন্ধি দ্রব্য ফিরিয়ে দিতেন না। তিনি আরো বলেন, আর আনাস বলেছেন, নবী (ﷺ) সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না।

মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ ও মারওয়ান হতে বর্ণিত যে, তারা বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল যখন নবী (ﷺ)-এর নিকট আগমন করলেন। তখন তিনি লোকদের সামনে ভাষণ দিতে দাড়িয়ে আল্লাহ তাআলার যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, তোমার ভাইয়েরা আমাদের নিকট তওবা করে এসেছে। আমি তাদেরকে তাদের যুদ্ধবন্দীদের ফেরত দেয়া সঙ্গত মনে করছি। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে করতে চায় তারা যেন তা করে। আর যে নিজের অংশ রেখে দিতে চায়, এভাবে প্রথম যে ফায় আল্লাহ আমাদের দান করবেন সেখান হতে তার হিস্সা আদায় করে দিব। তখন সকলেই বললেন, আমরা আপনার সন্তুষ্টির জন্য তা করলাম।

পূর্বের হাদিসের মতই (২৫৮৩)।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাদিয়া গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদানও দিতেন। আবূ আবদুল্লাহ বলেন, ওয়াকী ও মুহাযির হিশাম তার পিতা সূত্রে আয়িশাহ হতে উল্লেখ করেননি।

নুমান ইবন বাশীর হতে বর্ণিত যে, তার পিতা তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এলেন এবং বললেন, আমি আমার এই পুত্রকে একটি গোলাম দান করেছি। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সব পুত্রকেই কি তুমি এরূপ দান করেছ। তিনি বললেন, না; তিনি বললেন, তবে তুমি তা ফিরিয়ে নাও।

আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নুমান ইবন বাশীর-কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি যে, আমার পিতা আমাকে কিছু দান করেছিলেন। তখন (আমার মাতা) আমরা বিনতে রাওয়াহা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সাক্ষী রাখা ব্যতীত সম্মত নই। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন, আমরা বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার পুত্রকে কিছু দান করেছি। হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে সাক্ষী রাখার জন্য সে আমাকে বলেছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সব ছেলেকেই কি এ রকম করেছ? তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তবে আল্লাহকে ভয় কর এবং আপন সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা কর। [নুমান] বলেন, অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন এবং তার দান ফিরিয়ে নিলেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ভারী হয়ে পড়লেন এবং তার কষ্ট বেড়ে গেল। তখন তিনি তার স্ত্রীগণের নিকট আমার ঘরে শুশ্রুষা পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। তারা তাকে সম্মতি দিলেন। অতঃপর একদা দু' ব্যক্তির উপর ভর করে বের হলেন, তখন তার উভয় পা মাটি স্পর্শ করছিল। তিনি আব্বাস ও আরেক ব্যক্তির মাঝে ভর দিয়ে চলছিলেন। উবায়দুল্লাহ বলেন, আয়িশাহ যা বললেন, তা আমি ইবন আব্বাস-এর নিকট আরয করলাম, তিনি তখন আমাকে বললেন, আয়িশাহ যার নাম উল্লেখ করলেন না, তিনি কে, তা জান কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি হলেন আলী ইবন আবূ তালিব।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, দান করে তা ফেরত গ্রহণকারী ঐ কুকুরের মত, যে বমি করে এরপর তার বমি খায়।

আসমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যুবায়ের আমার নিকট যে সম্পদ রাখেন, সেগুলো ছাড়া আমার নিজের কোন সম্পদ নেই। এমতাবস্থায় আমি কি সদাকাহ করব? তিনি বললেন, হ্যা সদাকাহ করতে পার। লুকিয়ে রাখবে না। তাহলে তোমার ব্যাপারে লুকিয়ে রাখা হবে।

আসমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ খরচ কর, আর হিসাব করতে যেওনা, তাহলে আল্লাহ তোমার বেলায় হিসাব করে দিবেন। লুকিয়ে রেখ না, নইলে আল্লাহও তোমার ব্যাপারে লুকিয়ে রাখবেন।

মায়মূনাহ বিনতে হারিস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ)-এর অনুমতি ব্যতীত তিনি আপন বাদীকে মুক্ত করে দিলেন। অতঃপর তার ঘরে নবী (ﷺ)-এর অবস্থানের দিন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি জানেন না আমি আমার বাদী মুক্ত করে দিয়েছি? তিনি বললেন, তুমি কি তা করেছ? মায়মূনাহ বললেন, হ্যা। তিনি বললেন, শুন! তুমি যদি তোমার মামাদেরকে এটা দান করতে তাহলে তোমার জন্য বেশি নেকির কাজ হত।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরের মনস্থ করলে স্ত্রীগণের মধ্যে কুরআর ব্যবস্থা করতেন। যার নাম আসত তিনি তাকে নিয়েই সফরে বের হতেন। এছাড়া প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য একদিন এক রাত নির্দিষ্ট করে দিতেন। তবে সাওদা বিনতে যাম'আহ নিজের দিন ও রাত নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশাহ-কে দান করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সন্তুষ্টি কামনা করতেন।

ইবন আব্বাস-এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী মায়মূনাহ তার এক বাদীকে মুক্ত করে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তাকে বললেন, তুমি যদি একে তোমার মামাদের কাউকে দিয়ে দিতে তবে তোমার অধিক পুণ্য হত।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার দু'জন প্রতিবেশী আছে। এ দু'জনের কাকে আমি হাদিয়া দিব? তিনি ইরশাদ করলেন, এ দু'জনের মাঝে যার দরজা তোমার বেশি নিকটে।

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী সা'আব ইবন জাস্সামা লাইসী-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তিনি একটি বন্য গাধা হাদিয়া দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি ইহরাম অবস্থায় আবওয়াহ কিংবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। কাজেই তিনি সেটা ফিরিয়ে দিলেন। সা'আব বলেন, যখন তিনি আমার চেহারায় হাদিয়া ফিরিয়ে দেয়ার ছাপ দেখলেন, তখন তিনি বললেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় না থাকলে তোমার হাদিয়া ফিরিয়ে দিতাম না।

আবূ হুমায়দ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আযদ গোত্রের ইবন উতবিয়া নামের এক লোককে সদাকাহ সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি ফিরে এসে বললেন, এগুলো আপনাদের আর এগুলো আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে তার বাবার ঘরে কিংবা তার মায়ের ঘরে কেন বসে থাকল না। তখন সে দেখত পেত, তাকে কেউ হাদিয়া দেয় কি দেয় না? যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম, সদাকাহর মাল হতে স্বল্প পরিমাণও যে আত্মসাৎ করবে, সে তা কাঁধে করে কিয়ামত দিবসে উপস্থিত হবে। সেটা উট হলে তার আওয়াজ করবে, আর গাভী হলে হাম্বা হাম্বা রব করবে আর বকরী হলে ভ্যা ভ্যা করতে থাকবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দু'হাত এই পরিমাণ উঠালেন যে, আমরা তার দুই বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি তিনবার বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি পৌছে দিয়েছি। হে আল্লাহ! আমি কি পৌছে দিয়েছি?

জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, বাহরাইন হতে মাল এসে পৌছলে তোমাকে আমি এভাবে তিনবার দিব, কিন্তু মাল আসার পূর্বেই নবী (ﷺ)-এর মৃত্যু হল। পরে আবূ বাকর ঘোষককে ঘোষণা করতে নির্দেশ দিলেন, নবী (ﷺ)-এর পক্ষ হতে কারো জন্য কোন প্রতিশ্রুতি থাকলে কিংবা কারো কোন ঋণ থাকলে সে যেন আমার নিকট আসে। এ ঘোষণা শুনে আমি তার নিকট গিয়ে বললাম, আমাকে নবী (ﷺ) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তখন তিনি আমাকে আজলা ভরে তিনবার দিলেন।

মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার কিছু কবা' (পোশাক বিশেষ) বণ্টন করলেন। কিন্তু মাখরামাহকে তা হতে একটিও দিলেন না। মাখরামাহ তখন (ছেলেকে) বললেন, প্রিয় বৎস! আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে নিয়ে চল। [মিসওয়ার বলেন] আমি তার সঙ্গে গেলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, যাও, ভেতরে গিয়ে তাকে আমার জন্য আহবান জানাও। [মিসওয়ার] বলেন, অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আহবান জানালাম। তিনি বেরিয়ে এলেন। তখন তার নিকট একটি কবা (জামা/আলখাল্লা) ছিল। তিনি বললেন, এটা আমি তোমার জন্য হিফাযত করে রেখে দিয়েছিলাম। মাখরামাহ সেটি তাকিয়ে দেখলেন। নবী (ﷺ) বললেন, মাখরামাহ খুশী হয়ে গেছে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এল এবং বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তা কী? সে বলল, আমি রমাযানে দিনের বেলা স্ত্রী সম্ভোগ করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন গোলাম আযাদ করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এক নাগাড়ে দু'মাস সিয়াম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে তুমি কি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। বর্ণনকারী বলেন, ইতোমধ্যে এক আনসারী এক আরক খেজুর নিয়ে আসল। আরক হল নির্দিষ্ট মাপের খেজুর মাপার পাত্র। তিনি বললেন, যাও, এটা নিয়ে গিয়ে সদাকাহ করে দাও। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের চেয়ে বেশি অভাবী এমন কাউকে সদাকাহ করে দিব? যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, তার কসম! কঙ্করময় মরুভূমির মাঝে (মদিনায়) আমাদের চেয়ে অভাবী কোন ঘর নেই। শেষে তিনি বললেন, যাও তা তোমার পরিবার-পরিজনদের খাওয়াও।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে তার পিতা শহীদ হলেন। পাওনাদাররা তাদের পাওনা আদায়ের ব্যাপারে শক্ত মনোভাব অবলম্বন করল। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে তাকে এ বিষয়ে বললাম। তখন তিনি তাদেরকে আমার বাগানের খেজুর নিয়ে আমার পিতাকে ঋণমুক্ত করতে বললেন। কিন্তু তারা অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার বাগান তাদের দিলেন না এবং তাদের ফল কাটতেও দিলেন না। বরং তিনি বললেন, আগামীকাল ভোরে আমি তোমাদের নিকট যাব। জাবির বলেন, পরদিন সকালে তিনি আমাদের নিকট আগমন করলেন এবং খেজুর বাগানে ঘুরে ঘুরে ফলের বরকতের জন্য দোয়া করলেন। অতঃপর আমি ফল কেটে এনে তাদের ঋণ পরিশোধ করলাম। অতঃপরও সেই ফলের কিছু অংশ রয়ে গেল। পরে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে তাকে সে সম্পর্কে জানালাম। তখন তিনি উপবিষ্ট ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমরকে বললেন, শোন হে উমর! তখন তিনিও সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন। উমার বললেন, আমরা কি আগে থেকেই জানি না যে, আপনি আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর নিকট কিছু পানীয় উপস্থিত করা হল। সেখান হতে কিছু তিনি নিজে পান করলেন। তার ডান পার্শ্বে ছিল এক যুবক আর বাম পার্শ্বে ছিলেন বৃদ্ধগণ। তখন তিনি যুবককে বললেন, তুমি আমাকে অনুমতি দিলে এদেরকে আমি দিতে পারি। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার (বারকাত) হতে আমার প্রাপ্য অংশের ব্যাপারে আমি অন্য কাউকে অগ্রগণ্য করতে পারি না। তখন তিনি তার হাতে পাত্রটি সজোরে রেখে দিলেন।

জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট মসজিদে উপস্থিত হলাম, তিনি আমাকে মূল্য পরিশোধ করলেন এবং আরো বেশি দিলেন।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট একটা উট বিক্রয় করলাম। মদিনায় ফিরে এসে তিনি আমাকে বললেন, মসজিদে এস, দু'রাকাত সালাত আদায় কর। অতঃপর তিনি উটের দাম ওজন করে দিলেন। রাবী শু'বা বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, অতঃপর তিনি আমাকে ওজন করে উটের দাম দিলেন এবং বলেন, তিনি ওজনে প্রাপ্যের অধিক দিলেন। হার্রা যুদ্ধের সময় সিরিয়াবাসীর ছিনিয়ে নেয়ার আগে পর্যন্ত আমার নিকট ঐ মালের কিছু অবশিষ্ট ছিল।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কিছু পানীয় উপস্থিত করা হল। তখন তার ডানপাশে ছিল এক যুবক আর বামপাশে ছিল কয়েকজন বৃদ্ধ। তিনি যুবককে বললেন, তুমি কি আমাকে এই পানীয় এদের দেয়ার অনুমতি দিবে? যুবক বলল, না, আল্লাহর কসম! আপনার বরকত হতে আমার প্রাপ্য অংশের ক্ষেত্রে আমি কাউকে অগ্রাধিকার দিব না। তখন তিনি পান পাত্র তার হাতে সজোরে রেখে দিলেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এক ব্যক্তির কিছু ঋণ ছিল। (তাগাদা করতে এসে সে অশোভনীয় কিছু শুরু করলে) সাহাবীগণ তাকে কিছু করতে চাইলেন। তিনি তাদের বললেন, তাকে ছেড়ে দাও, পাওনাদারের কিছু বলার হক আছে। তিনি তাদের আরও বললেন, তাকে এক বছর বয়সী একটি উট খরিদ করে দাও। সাহাবীগণ বললেন, আমরা তো তার দেয়া এক বছর বয়সের উটের মতো পাচ্ছি না; বরং তার চেয়ে ভালো উট পাচ্ছি। তিনি বললেন, তবে তাই কিনে তাকে দিয়ে দাও। কেননা যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে, সে তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তিদের মধ্যে। কিংবা তিনি বলেছেন, সে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।

মারওয়ান ইবন হাকাম ও মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণের পর প্রতিনিধি হিসাবে নবী (ﷺ)-এর নিকট এল এবং তাদের সম্পদ ও যুদ্ধবন্দী ফিরিয়ে দেয়ার আবেদন জানাল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেন, তোমরা দেখছ আমার সঙ্গে আরো লোক আছে। আমার নিকট সত্য কথা হল অধিক প্রিয়। তোমরা যুদ্ধবন্দী অথবা সম্পদ এ দুয়ের একটি বেছে নাও। আমি তো তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। (রাবী বলেন) নবী (ﷺ) তায়েফ হতে ফিরে প্রায় দশ রাত তাদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নবী (ﷺ) দু'টির যে কোন একটিই শুধু তাদের ফিরিয়ে দিবেন, তখন তারা বলল, তবে তো আমরা আমাদের বন্দীদেরই পছন্দ করব। অতঃপর তিনি মুসলিমদের সামনে দাড়ালেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করে বললেন, আম্মাবাদ। তোমাদের এই ভাইয়েরা তাওবা করে আমাদের নিকট এসেছে, আর আমি তাদেরকে তাদের বন্দী ফিরিয়ে দেয়া সঠিক মনে করছি, কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া পছন্দ করে, তারা যেন তা করে। আর যারা নিজেদের অংশ পেতে পছন্দ করে এরূপভাবে যে, আল্লাহ আমাকে প্রথমে যে ফায় সম্পদ দান করবেন, তা হতে তাদের প্রাপ্য অংশ আদায় করে দিব, তারা যেন তা করে। সকলেই তখন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা প্রসন্নচিত্তে তা মেনে নিলাম। তিনি তাদের বললেন, তোমাদের মধ্যে কারা অনুমতি দিলে আর কারা দিলে না, তা-তো আমি বুঝতে পারলাম না। কাজেই তোমরা ফিরে যাও। তোমাদের নেতারা তোমাদের মতামত আমার নিকট পেশ করবে। অতঃপর লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের নেতারা তাদের সঙ্গে আলোচনা করল। পরে তারা নবী (ﷺ)-এর নিকট ফিরে এসে তাকে জানাল যে, প্রসন্নচিত্তে অনুমতি দিয়েছে। হাওয়াযিনের বন্দী সম্পর্কে আমাদের নিকট এতটুকুই পৌছেছে। আবূ আবদুল্লাহ বলেন, এই শেষ অংশটুকুই ইমাম যুহরী-এর বক্তব্য।

পূর্বের হাদিসের মতই (২৬০৭)।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) নির্দিষ্ট বয়সের একটি উট ধার নিয়েছিলেন। কিছুদিন পর উটের মালিক এসে তাগাদা দিল। সাহাবীগণও তাকে কিছু বললেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, পাওনাদারদের কিছু বলার হক আছে। অতঃপর তিনি তাকে তার উটের চেয়ে উত্তম উট পরিশোধ করলেন এবং বললেন, ভালভাবে ঋণ পরিশোধকারী ব্যক্তিই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে তিনি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলেন এবং তখন ইবন উমার উমার একটি বেয়াড়া উটে সাওয়ার ছিলেন। উটটি বারবার নবী (ﷺ)-এর আগে যাচ্ছিল। আর তার পিতা উমার তাকে বলছিলেন, হে আবদুল্লাহ! নবী (ﷺ)-এর আগে চলা কারো জন্য উচিত নয়। তখন নবী (ﷺ) উমার-কে বললেন, এটা আমার নিকট বিক্রি কর। উমার বললেন, এটাতো আপনার। তখন তিনি সেটা ক্রয় করে বললেন, হে আবদুল্লাহ! এটা তোমার। কাজেই এটা দিয়ে তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম আর আমি (আমার পিতার) একটি বেয়াড়া উটের উপর সাওয়ার ছিলাম। তখন নবী (ﷺ) উমরকে বললেন, এটা আমার নিকট বেচে দাও। তিনি তা বেচে দিলেন। অতঃপর নবী (ﷺ) তাকে বললেন, হে আবদুল্লাহ, এটা তোমার।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার মসজিদের দ্বার প্রান্তে একজোড়া রেশমী বস্ত্র দেখে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা যদি আপনি ক্রয় করে নেন এবং তা জুমুআর দিনে ও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পরিধান করতেন। তখন তিনি বললেন, এ তো সে-ই পরিধান করে, আখিরাতে যার কোন অংশ নেই। পরে কিছু রেশমী জোড়া আসলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে থেকে উমার-কে এক জোড়া দান করলেন। তখন উমার বললেন, আপনি এটা আমাকে পরিধান করতে দিলেন অথচ (আগে) রেশমী কাপড় সম্পর্কে আপনি যা বলার বলেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তো এটা তোমাকে পরিধানের জন্য দেইনি। তখন উমার তা মক্কার তার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একদা ফাতিমার ঘরে গেলেন। কিন্তু ভিতরে প্রবেশ করলেন না। আলী ঘরে এলে ফাতিমা তাকে ঘটনা জানালেন। তিনি আবার নবী (ﷺ)-এর নিকট বিষয়টি নিবেদন করলেন। তখন তিনি বললেন, আমি তার দরজায় নকশা করা পর্দা ঝুলতে দেখেছি। দুনিয়ার চাকচিক্যের সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক? আলী ফাতিমার নিকট এসে ঘটনা খুলে বললেন। ফাতিমা বললেন, তিনি আমাকে এ সম্পর্কে যা ইচ্ছা নির্দেশ দিন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, অমুক পরিবারের অমুকের নিকট এটা পাঠিয়ে দাও; তাদের প্রয়োজন আছে।

আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে একজোড়া রেশমী কাপড় দিলেন। আমি তা পরিধান করলাম। তার মুখমন্ডলে গোস্বার ভাব দেখতে পেয়ে আমি আমার মহিলাদের মাঝে তা ভাগ করে দিয়ে দিলাম।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-কে একটি রেশমী জুববা হাদিয়া দেয়া হল। অথচ তিনি রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। এতে সাহাবীগণ খুশী হলেন। তখন তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, জান্নাতে সাদ ইবন মুআযের রুমালগুলো এর চেয়ে উৎকৃষ্ট।

আনাস হতে বর্ণিত, দুমার উকাইদির নবী (ﷺ)-কে হাদিয়া দিয়েছিলেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী মহিলা নবী (ﷺ)-এর খিদমতে বিষ মিশানো বকরী নিয়ে এল। সেখান হতে কিছু অংশ তিনি খেলেন, অতঃপর মহিলাকে হাযির করা হল। তখন বলা হল, আপনি কি একে হত্যা করবেন না? তিনি বললেন, না। আনাস বলেন, নবী (ﷺ)-এর তালুতে আমি বরাবরই বিষক্রিয়ার আলামত দেখতে পেতাম।

আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরে নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে আমরা একশ ত্রিশজন ব্যক্তি ছিলাম। সে সময় নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কারো সঙ্গে কি খাবার আছে? দেখা গেল, এক ব্যক্তির সঙ্গে এক সা' কিংবা তার কমবেশী পরিমাণ খাদ্য আছে। সে আটা গোলানো হল। অতঃপর দীর্ঘ দেহী এলোমেলো চুলওয়ালা এক মুশরিক এক পাল বকরী হাকিয়ে নিয়ে এল। নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন- বিক্রি করবে, না উপহার দিবে? সে বললঃ না, বরং বিক্রি করব। নবী (ﷺ) তার নিকট হতে একটা বকরী কিনে নিলেন। সেটাকে যব্হ করা হল। নবী (ﷺ) বকরীর কলিজা ভুনা করার আদেশ দিলেন। আল্লাহর কসম! একশ ত্রিশজনের প্রত্যেককে নবী (ﷺ) সেই কলিজার কিছু কিছু করে দিলেন। উপস্থিতদের হাতে দিলেন; আর অনুপস্থিত ছিল তার জন্য তুলে রাখলেন। অতঃপর দু'টি পাত্রে তিনি গোশত ভাগ করে রাখলেন। সবাই পরিতৃপ্ত হয়ে খেল। আর উভয় পাত্রে কিছু উদ্বৃত্ত রয়ে গেল। সেগুলো আমরা উটের পিঠে উঠিয়ে নিলাম। অথবা রাবী যা বললেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার এক ব্যক্তিকে রেশমী বস্ত্র বিক্রি করতে দেখে নবী (ﷺ)-কে বললেন, এ জোড়াটি খরিদ করে নিন। জুমুআর দিনে এবং যখন আপনার নিকট কোন প্রতিনিধি দল আসে, তখন তা পরিধান করবেন। তিনি বললেন, এসব তো তারাই পরিধান করে, যাদের আখিরাতে কোন হিস্সা নেই। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কয়েক জোড়া রেশমী কাপড় এল। সেগুলো হতে একটি জোড়া তিনি উমার-এর নিকট পাঠালেন। তখন উমার বলেন, এটা আমি কিভাবে পরিধান করব। অথচ এ সম্পর্কে আপনি যা বলার বলেছেন। এতে তিনি বললেন, এটা তোমাকে আমি পরিধান করার জন্য দেইনি। হয় এটা বিক্রয় করে দিবে, নতুবা কাউকে দিয়ে দিবে। তখন উমার সেটা মক্কার বাসিন্দা তার এক ভাইকে ইসলাম গ্রহণের আগে হাদিয়া পাঠালেন।

আসমা বিনতে আবূ বাকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আমার আম্মা মুশরিক অবস্থায় আমার নিকট এলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ফাতওয়া চেয়ে বললাম, তিনি আমার প্রতি খুবই আকৃষ্ট, এমতাবস্থায় আমি কি তার সঙ্গে সদাচরণ করব? তিনি বললেন, হ্যা, তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে সদাচরণ কর।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, দান করার পর যে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ লোকের মত, যে বমি করে তা আবার খায়।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, খারাপ উপমা দেয়া আমাদের জন্য শোভনীয় নয় তবু যে দান করে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মতো, যে বমি করে তা আবার খায়।

উমার ইবন খাত্তাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোককে আমি আমার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় আরোহণের জন্য দান করলাম। ঘোড়াটি যার নিকট ছিল, সে তার চরম অযত্ন করল। তাই সেটা আমি তার নিকট হতে কিনে নিতে চাইলাম। আমার ধারণা ছিল যে, সে তা কম দামে বিক্রি করবে। এ সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এক দিরহামের বিনিময়েও যদি সে তোমাকে তা দিতে রাজী হয় তবু তুমি তা ক্রয় কর না। কেননা, সদাকাহ করার পর যে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মত, যে বমি করে আবার তা খায়।

আবদুল্লাহ ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন আবূ মুলায়কা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন জুদ'আনের আযাদকৃত গোলাম সুহাইবের সন্তান দু'টি ঘর ও একটি কামরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুহায়ব-কে দান করেছিলেন বলে দাবী জানান। (মদিনার গভর্নর) মারওয়ান তখন বললেন, এ ব্যাপারে তোমাদের পক্ষে কে সাক্ষী দিবে? তারা বলল, ইবন উমার। মারওয়ান তখন ইবন উমার-কে ডেকে পাঠালেন। তিনি এ মর্মে সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুহায়ব-কে দু'টি ঘর ও একটি কামরা দান করেছিলেন। তাদের স্বপক্ষে ইবন উমারের সাক্ষ্য অনুযায়ী মারওয়ান ফায়সালা করলেন।

জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উমরাহ (বস্তু) সম্পর্কে ফায়সালা দিয়েছেন যে, যাকে দান করা হয়েছে, সে-ই সেটার মালিক হবে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, উমরাহ বৈধ। 'আতা বলেন, জাবির আমাকে নবী (ﷺ) হতে একই রকম হাদীস শুনিয়েছেন।

ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস-কে বলতে শুনেছি, মদিনায় একবার শত্রুর আক্রমণের ভয় ছড়িয়ে পড়ল। নবী (ﷺ) তখন আবূ ত্বলহা -এর নিকট হতে একটি ঘোড়া ধার নিলেন এবং তাতে সাওয়ার হলেন। ঘোড়াটির নাম ছিল মানদূব। অতঃপর তিনি ঘোড়াটিতে টহল দিয়ে ফিরে এসে বললেন, কিছুই তো দেখতে পেলাম না, তবে এই ঘোড়াটিকে আমি সমুদ্রের তরঙ্গের মতো পেয়েছি।

আয়মান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ-এর নিকট আমি হাযির হলাম। তার গায়ে তখন পাচ দিরহাম মূল্যের মোটা কাপড়ের কামিজ ছিল। তিনি আমাকে বললেন, আমার এ বাদীটার দিকে তাকাও, ঘরের ভিতরে এটা পরতে সে অপছন্দ করে। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় মদিনার মেয়েদের মধ্যে আমারই শুধু একটি কামিজ ছিল। মদিনায় কোন মেয়েকে বিয়ের সাজে সাজাতে গেলেই আমার নিকট কাউকে পাঠিয়ে ঐ কামিজটি চেয়ে নিত।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মানীহা হিসাবে অধিক দুগ্ধবতী উটনী ও অধিক দুগ্ধবতী বকরী কতই না উত্তম, যা সকাল বিকাল পাত্র ভর্তি দুধ দেয়।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা হতে মদিনায় হিজরাতের সময় মুহাজিরদের হাকে কোন কিছু ছিল না। অন্যদিকে আনসারগণ ছিলেন জমি ও ভূসম্পত্তির অধিকারী। তাই আনসারগণ এই শর্তে মুহাজিরদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিলেন যে, প্রতি বছর তারা (আনসারগণ)-এর উৎপন্ন ফল ও ফসলের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ তাদের (মুহাজিরগণের) দিবেন আর তারা এ কাজে শ্রম দিবে ও দায়-দায়িত্ব নিবে। আনাসের মা উম্মু সুলাইম ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন আবূ ত্বলহার মা। আনাসের মা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে (ফল ভোগ করার জন্য) কয়েকটি খেজুর গাছ দিয়েছিলেন। আর নবী (ﷺ) সেগুলো তার আযাদকৃত বাদী উসমান ইবন যায়দের মা উম্মু আয়মানকে দান করে দিয়েছিলেন। ইবন শিহাব বলেন, আনাস আমাকে বলেছেন যে, নবী (ﷺ) খায়বারে ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষে মদিনায় ফিরে এলে মুহাজিরগণ আনসারদেরকে তাদের দানের সম্পত্তি ফিরিয়ে দিলেন; যেগুলো ফল ও ফসল ভোগ করার জন্য তারা মুহাজিরদের দান করেছিলেন। নবী (ﷺ)-ও তার (আনাসের) মাকে তার খেজুর গাছগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু আয়মানকে ঐ গাছগুলোর পরিবর্তে নিজ বাগানের কিছু অংশ দান করলেন।

আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, চল্লিশটি স্বভাবের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হল দুধ পান করার জন্য কাউকে বকরী দেয়া। কোন বান্দা যদি সওয়াবের আশায় এবং পুরস্কার দানের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস রেখে উক্ত চল্লিশ স্বভাবের যে কোন একটির উপরে আমল করে তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। হাস্সান বলেন, দুধেল বকরী মানহি দেয়া ব্যতীত আর যে কয়টি স্বভাব আমরা গণনা করলাম, সেগুলো হল সালামের উত্তর দেয়া, হাচি দাতার হাচির উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা, পথ হতে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ইত্যাদি। কিন্তু আমরা পনেরটি স্বভাবের অধিক গণনা করতে পারলাম না।

জাবির হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কিছু লোকের অতিরিক্ত ভূসম্পত্তি ছিল।। তারা পরস্পর পরামর্শ করে ঠিক করল যে, এগুলো তারা তিন ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ বা অর্ধেক হিসাবে ইজারা দিবে। এ কথা শুনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, কারো অতিরিক্ত জমি থাকলে হয় সে নিজেই চাষ করবে, কিংবা তার ভাইকে তা (চাষ করতে) দিবে। আর তা না করতে চাইলে তা নিজের কাছেই রেখে দিবে।

আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে হিজরাত সম্পর্কে জানতে চাইল। তিনি তাকে বললেন, থাম! হিজরাতের ব্যাপার বড় কঠিন। বরং তোমার কি উট আছে? সে বলল, হ্যা আছে। তিনি বললেন, তুমি কি এর সদাকাহ আদায় করে থাক? সে বলল, হ্যা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি দুধ পানের জন্য এগুলো মানীহা হিসাবে দিয়ে থাক? সে বলল, হ্যা। আবার তিনি প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা! পানি পান করানোর উটগুলো দোহন কর কি? সে বলল, হ্যা। তখন তিনি ইরশাদ করলেন, এ যদি হয় তাহলে সাগরের ওপারে হলেও তুমি যেখানে থাক আমল করতে থাক। আল্লাহ তোমার আমলের প্রতিদানে কম করবেন না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একবার এক জমিতে গেলেন, যার ফসলগুলো আন্দোলিত হচ্ছিল। তিনি জানতে চাইলেন, কার জমি? লোকেরা বলল, অমুক ব্যক্তি এটি ইজারা নিয়েছে। তিনি বললেন, জমিটার নির্দিষ্ট ভাড়া গ্রহণ না করে সে যদি তাকে সাময়িকভাবে তা দিয়ে দিত তবে সেটাই হত তার জন্য উত্তম।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর বর্ণিত গ্রন্থ হতে বলেছেন, ইবরাহীম সারাকে সঙ্গে নিয়ে হিজরাত করলেন। লোকেরা সারার উদ্দেশে হাজিরাকে হাদিয়া দিলেন। তিনি ফিরে এসে (ইবরাহীমকে) বললেন, আপনি কি জেনেছেন, কাফিরকে আল্লাহ পরাস্ত করেছেন এবং সেবার জন্য একটি বালিকা দান করেছেন।

উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি জনৈক ব্যক্তিকে আল্লাহর পথে বাহন হিসাবে একটি ঘোড়া দিলাম। পরে তা বিক্রি হতে দেখে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, এটা ক্রয় করো না এবং সদাকাহ করা মাল ফিরিয়ে নিও না।