bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

হাজ্জ (১৫১৩-১৭৭২)

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফযল ইবন আব্বাস একই বাহনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর পিছনে আরোহণ করেছিলেন। এরপর খাশ'আম গোত্রের জনৈক মহিলা উপস্থিত হল। তখন ফযল সেই মহিলার দিকে তাকাতে থাকে এবং মহিলাটিও তার দিকে তাকাতে থাকে। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ফযলের চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিতে থাকে। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর বান্দার উপর ফার্য (ফরয)কৃত হাজ্জ আমার বয়োঃবৃদ্ধ পিতার উপর ফরজ হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের উপর স্থির থাকতে পারেন না, আমি কি তার পক্ষ হতে হাজ্জ আদায় করবো? তিনি বললেনঃ হা (আদায় কর)। ঘটনাটি বিদায় হাজ্জের সময়ের।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুল-হুলাইফা নামক স্থানে তার বাহনের উপর আরোহণ করেন, বাহনটি সোজা হয়ে দাড়াতেই তিনি তালবিয়া উচ্চারণ করতে থাকেন।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর তাল্বিয়া পাঠ যুল-হুলাইফা হতে আরম্ভ হত যখন তার বাহন তাকে নিয়ে সোজা হয়ে দাড়াতো।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আয়িশাহ-এর সাথে তার ভাই আবদুর রাহমান-কে প্রেরণ করেন। তিনি আয়িশাহকে 'তান'ঈম' নামক স্থান হতে ছোট একটি হাওদায় বসিয়ে উমরাহ করাতে নিয়ে যান। উমার বলেন, তোমরা হাজ্জে (গমনের উদ্দেশে) উটের পিঠে হাওদা মজবুত করে বাধ (সফর কর)। কেননা, হাজ্জও এক প্রকারের জিহাদ।

সুমামা ইবন আবদুল্লাহ ইবন আনাস হতে বর্ণিত যে, আনাস হাওদায় আরোহণ অবস্থায় হাজ্জে গমন করেছেন অথচ তিনি কৃপণ ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি আরো বলেন, নবী (ﷺ) হাওদায় আরোহণ করে হজ্জে গমন করেন এবং সেই উটটিই তার মালের বাহন ছিলো।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা উমরাহ করলেন, আর আমি উমরাহ করতে পারলাম না! নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আবদুর রাহমান! তোমার বোন (আয়িশা)-কে সাথে করে নিয়ে তান'ঈম হতে গিয়ে উমরাহ করিয়ে নিয়ে এসো। তিনি আয়িশাকে উটের পিঠে ছোট একটি হাওদার পশ্চাদ্ভাগে বসিয়ে দেন এবং তিনি উমরাহ আদায় করেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বলেনঃ হাজ্জ-ই-মাবরূর (মাকবূল হাজ্জ)।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জিহাদকে আমরা সর্বোত্তম আমল মনে করি। কাজেই আমরা কি জিহাদ করবো না? তিনি বললেনঃ না, বরং তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হল, হাজ্জে মাবরূর।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশে হাজ্জ করলো এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ হতে বিরত রইল, সে ঐ দিনের মত নিষ্পাপ হয়ে হাজ্জ হতে ফিরে আসবে যেদিন তাকে তার মা জন্ম দিয়েছিল।

যায়দ ইবন জুবাইর হতে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমার-এর কাছে তার অবস্থান স্থলে যান, তখন তার জন্য তাবু ও চাঁদোয়া টানানো হয়েছিল। [যায়দ বলেন] আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন স্থান হতে উমরাহ'র ইহরাম বাধা জায়িয হবে? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নাজদ্বাসীদের জন্য কারণ, মদিনাবাসীদের জন্য যুল-হুলাইফাহ ও সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা (ইহরামের মীকাত) নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ামানের অধিবাসীগণ হাজ্জে গমনকালে পাথেয় সঙ্গে নিয়ে যেতো না এবং তারা বলছিল, আমরা আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীল। কিন্তু মক্কায় উপনীত হয়ে তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচনা করে বেড়াতো। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ অবতীর্ণ করেনঃ "তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা কর, আত্মসংযমই শ্রেষ্ঠ পাথেয়"। (আল-বাকারাহঃ ১৯৭)

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ইহরাম বাধার স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, মাদ্বীনাবাসীদের জন্য যুল-হুলায়ফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহ্ফা, নজ্দবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম। হাজ্জ ও উমরাহ নিয়্যাতকারী সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং ঐ সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসী সকলের জন্য উক্ত স্থানগুলো মীকাতরূপে গণ্য এবং যারা এ সব মীকাতের ভিতরে (মক্কার নিকটবর্তী) স্থানের অধিবাসী, তারা যেখান হতে হাজ্জের নিয়্যাত করে বের হবে (সেখান হতে ইহরাম বাধবে)। এমন কি মক্কাবাসী মক্কা হতেই (হাজ্জের) ইহরাম বাধবে।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেনঃ মদিনাবাসীগণ যুল-হুলাইফাহ হতে, সিরিয়াবাসীগণ জুহ্ফা হতে ও নজদবাসীগণ ক্বারণ হতে ইহরাম বাধবে। আবদুল্লাহ বলেন, আমি (অন্যের মাধ্যমে) অবগত হয়েছি, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়ামানবাসীগণ ইয়ালামলাম হতে ইহরাম বাধবে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইহরাম বাধার স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, মদিনাবাসীদের জন্য যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহ্ফা, নজদবাসীদের জন্য ক্বারনুল-মানাযিল, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম। উল্লিখিত স্থানসমূহ হাজ্জ ও উমরাহ'র নিয়্যাতকারী সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং ঐ সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য ইহরাম বাধার স্থান এবং মীকাতের ভিতরে স্থানের লোকেরা নিজ বাড়ি হতে ইহরাম বাধবে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা হতেই ইহরাম বাধবে।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মীকাতের সীমা নির্ধারিত করেছেন।

সালিম ইবন আবদুল্লাহ তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ মদিনাবাসীদের মীকাত হলো যুল-হুলায়ফা, সিরিয়াবাসীদের মীকাত (মাহইয়া'আহ) যার অপর নাম জুহফা এবং নাজদবাসীদের মীকাত হলো ক্বার্ন। ইবন উমার বলেন, আমি শুনিনি, তবে লোকেরা বলে যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়ামানবাসীর মীকাত হলো ইয়ালামলাম।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মদিনাবাসীদের জন্য মীকাত নির্ধারণ করেন যুল-হুলায়ফাহ, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম ও নাজদবাসীদের জন্য ক্বারণ। উল্লিখিত স্থানসমূহ হাজ্জ ও উমরাহ'র নিয়্যাতকারী সে স্থানের অধিবাসী এবং সে সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য এলাকার অধিবাসীদের জন্য ইহরাম বাধার স্থান। আর যে মীকাতের ভিতরের অধিবাসী সে নিজ বাড়ি হতে ইহরাম বাধবে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা হতেই ইহরাম বাধাবে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মাদ্বীনাবহাসীদের জন্য যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহ্ফা, নাজদবাসীদের জন্য ক্বারনুল মানাযিল ও ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম মীকাত নির্ধারণ করেছেন। উক্ত মীকাতসমূহ হাজ্জ ও উমরাহ'র উদ্দেশে আগমনকারী সে স্থানের অধিবাসীদের জন্য এবং অন্য কোন এলাকার লোক ঐ সীমা দিয়ে অতিক্রম করবে তাদের জন্যও। এছাড়াও যারা মীকাতের ভিতরের অধিবাসী তারা যেখান হতে সফর আরম্ভ করবে সেখান হতেই (ইহরাম আরম্ভ করবে) এমন কি মক্কাবাসীগণ মাক্কহ হতেই।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ শহর দু'টি (কূফা ও বস্রা) বিজিত হলো, তখন সে স্থানের লোকগণ উমার-এর নিকট এসে নিবেদন করলো, হে আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নাজদবাসীগণের জন্য (মীকাত হিসেবে) সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন ক্বারণ, কিন্তু তা আমাদের পথ হতে দূরে। কাজেই আমরা ক্বারণ-সীমা অতিক্রম করতে চাইলে তা হবে আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। উমার বললেন, তা' হলে তোমরা লক্ষ্য কর তোমাদের পথে ক্বারণ-এর সম দূরত্বরেখা কোন স্থানটি? অতঃপর তিনি "যাতু 'ইরক্ব" মীকাতরূপে নির্ধারণ করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুল-হুলাইফার বাত্হা নামক উপত্যকায় উট বসিয়ে সালাত আদায় করেন। (রাবী নাফি বলেন) ইবন উমার-ও তাই করতেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (হাজ্জের সফরে) শাজারা নামক পথ দিয়ে গমন করতেন এবং মু'আররাস নামক পথ দিয়ে (মদিনায়) প্রবেশ করতেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মক্কার দিকে সফর করতেন, মাসজিদুশ-শাজারায় সালাত আদায় করতেন ও ফিরার পথে যুল-হুলাইফাহ'র বাত্নুল-ওয়াদীতে সালাত আদায় করতেন এবং সেখানে সকাল পর্যন্ত রাত যাপন করতেন।

উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আকীক উপত্যকায় অবস্থানকালে আমি নবী (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ আজ রাতে আমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে একজন আগন্তুক আমার নিকট এসে বললেন, আপনি এই বরকতময় উপত্যকায় সালাত আদায় করুন এবং বলুন, (আমার এ ইহরাম) হাজ্জের সাথে উমরাহ'রও।

আবদুল্লাহ ইবন উমার সূত্রে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে বর্ণিত যে, যুল-হুলাইফা ('আকীক) উপত্যকায় রাত যাপনকালে তাকে স্বপ্নযোগে বলা হয়, আপনি বরকতময় উপত্যকায় অবস্থান করছেন। [রাবী মূসা ইবন 'উকবা বলেন] সালিম আমাদেরকে সাথে নিয়ে উট বসিয়ে ঐ উট বসাবার স্থানটির খোজ করেন, যেখানে আবদুল্লাহ ইবন উমার উট বসিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর রাত যাপনের স্থানটি খোজ করতেন। সে স্থানটি উপত্যকায় মসজিদের নীচু জায়গায় অবতরণকারীদের ও রাস্তার একেবারে মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

সাফ্ওয়ান ইবন ই'য়ালা হতে বর্ণিত যে, ই'য়ালা উমার-কে বললেন, নবী (ﷺ) এর উপর ওয়াহী অবতরণ মুহূর্তটি আমাকে দেখাবেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) 'জি'রানা' নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন, তার সঙ্গে কিছু সংখ্যক সাহাবী ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তি সুগন্ধিযুক্ত পোশাক পরে উমরাহ'র ইহরাম বাধলে তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? নবী (ﷺ) কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। এরপর তার নিকট ওহী আসল। উমার ই'য়ালা-কে ইঙ্গিত করায় তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। তখন একখন্ড কাপড় দিয়ে নবী (ﷺ) 'র উপর ছায়া করা হয়েছিল, ই'য়ালা মাথা প্রবেশ করিয়ে দেখতে পেলেন, নবী (ﷺ) -এর মুখমন্ডল লাল বর্ণ, তিনি সজোরে শ্বাস গ্রহণ করছেন। এরপর সে অবস্থা দূর হলো। তিনি বললেনঃ উমরাহ সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? প্রশ্নকারীকে উপস্থিত করা হলে তিনি বললেনঃ তোমার শরীরের সুগন্ধি তিনবার ধুয়ে ফেল ও জুববাটি খুলে ফেল এবং হাজ্জে যা করে থাক উমরাহতেও তাই কর। (রাবী ইবন জুরাইজ বলেন) আমি আতা-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনবার ধোয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি কি উত্তমরূপে পরিষ্কার করা বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, হা, তাই।

সাঈদ ইবন জুবাইর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার (ইহরাম বাধা অবস্থায়) যায়তুন তেল ব্যবহার করতেন। (রাবী মানসুর বলেন) এ বিষয় আমি ইব্রাহীম-এর নিকট পেশ করলে তিনি বললেন, তার কথায় তোমার কী দরকার।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, ইহরাম বাধা অবস্থায় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সিঁথিতে যে সুগন্ধি তেল চকচক করছিল তা যেন আজও আমি দেখতে পাচ্ছি।

নবী সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইহরাম বাধার সময় আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর গায়ে সুগন্ধি মেখে দিতাম এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফের পূর্বে ইহরাম খুলে ফেলার সময়ও।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে চুলে আঠালো বস্তু লাগিয়ে ইহরাম বেধে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুল-হুলাইফার মসজিদের নিকট হতে ইহরাম বেধেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম ব্যক্তি কী প্রকারের কাপড় পরবে? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ সে জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরিধান করবে না। তবে কারো জুতা না থাকলে সে টাখ্নুর নিচ পর্যন্ত মোজা কেটে (জুতার ন্যায়) পরবে। তোমরা জাফরান বা ওয়ারস্ (এক প্রকার খুশবু) রঞ্জিত কোন কাপড় পরবে না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, আরাফাহ হতে মুয্দালিফা পর্যন্ত একই বাহনে নবী (ﷺ) -এর পিছনে উসামা ইবন যায়দ উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর মুযদালিফা হতে মিনা পর্যন্ত ফযল [ইবন আব্বাস]-কে তার পিছনে আরোহণ করান। ইবন আব্বাস বলেন, তারা উভয়ই বলেছেন, নবী (ﷺ) জামরা আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করছিলেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (১৫৪৩)।

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ চুল আচড়িয়ে, তেল মেখে, লুঙ্গি ও চাদর পরে (হাজ্জের উদ্দেশে) মাদ্বীনা হতে রওয়ানা হন। তিনি কোন প্রকার চাদর বা লুঙ্গি পরতে নিষেধ করেননি, তবে শরীরের চামড়া রঞ্জিত হয়ে যেতে পারে এরূপ জাফরানী রঙের কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। যুল-হুলাইফা হতে সওয়ারীতে আরোহণ করে বায়দা নামক স্থানে পৌছে তিনি ও তার সাহাবীগণ তালবিয়া পাঠ করেন এবং কুরবানীর উটের গলায় মালা ঝুলিয়ে দেন, তখন যুলকা'দা মাসের পাচদিন অবশিষ্ট ছিল। যিলহাজ্জ মাসের চতুর্থ দিনে মক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম কাবাঘরের তাওয়াফ করে সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা'য়ী করেন। তার কুরবানীর উটের গলায় মালা পরিয়েছেন বলে তিনি ইহরাম খুলেননি। অতঃপর মক্কার উচু ভূমিতে হাজূন নামক স্থানের নিকটে অবস্থান করেন, তখন তিনি হাজ্জের ইহরামের অবস্থায় ছিলেন। (প্রথমবার) তাওয়াফ করার পর আরাফাহ হতে ফিরে আসার পূর্বে আর কাবার নিকটবর্তী হননি। অবশ্য তিনি সাহাবাগণকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা'য়ী সম্পাদন করে মাথার চুল ছেঁটে হালাল হতে নির্দেশ দেন। কেননা যাদের সাথে কুরবানীর পশু নেই, এ বিধানটি কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর যার সাথে তার স্ত্রী রয়েছে তার জন্য স্ত্রী-সহবাস, সুগন্ধি ব্যবহার ও যে কোন ধরনের কাপড় পরা জায়িয।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মাদ্বীনায় চার রাকাত ও যুল-হুলাইফায় পৌছে দু' রাকাত সালাত আদায় করেন। অতঃপর ভোর পর্যন্ত সেখানে রাত যাপন করেন। এরপর যখন তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করেন এবং তা তাকে নিয়ে সোজা হয়ে দাড়ায় তখন তিনি তালবিয়া পাঠ করেন।

আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মাদ্বীনায় যোহরের সালাত চার রাকাত আদায় করেন এবং যুল-হুলাইফায় পৌছে আসরের সালাত দু' রাকাত আদায় করেন। রাবী বলেন, আমার ধারণা যে, তিনি ভোর পর্যন্ত সেখানে রাত যাপন করেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যুহরের সালাত মাদ্বীনায় চার রাকাত আদায় করলেন এবং আসরের সালাত যুল-হুলাইফায় দু' রাকাত আদায় করেন। আমি শুনতে পেলাম তারা সকলে উচ্চস্বরে হাজ্জ ও উমরাহ'র তালবিয়া পাঠ করছেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর তালবিয়া নিম্নরূপঃ (অর্থ) আমি হাযির হে আল্লাহ, আমি হাযির, আমি হাযির; আপনার কোন অংশীদার নেই, আমি হাযির। নিশ্চই সকল প্রশংসা ও সকল নি'আমত আপনার এবং কর্তৃত্ব আপনারই, আপনার কোন অংশীদার নেই।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কিভাবে তালবিয়া পাঠ করতেন তা আমি ভালরূপে অবগত (তার তালবিয়া ছিল) আমি হাযির হে আল্লাহ! আমি হাযির, আমি হাযির, আপনার কোন অংশীদার নেই, আমি হাযির, সকল প্রশংসা ও সকল নিয়ামত আপনারই।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে মাদ্বীনায় যুহরের সালাত আদায় করেন চার রাকাত এবং যুল-হুলাইফায় (পৌছে) আসরের সালাত আদায় করেন দু' রাকাত। এরপর সেখানেই ভোর পর্যন্ত রাত কাটালেন। সকালে সওয়ারীতে আরোহণ করে বায়দা নামক স্থানে উপনীত হলেন। তখন তিনি আল্লাহ‌র হামদ, তাসবীহ ও তাকবীর পাঠ করছিলেন। এরপর তিনি হাজ্জ ও উমরাহ'র তালবিয়া পাঠ করলেন। সাহাবীগণ উভয়ের তালবিয়া পাঠ করলেন। যখন আমরা (মক্কার উপকন্ঠে) পৌছলাম তখন তিনি সাহাবীগণকে (উমরা শেষ করে) হালাল হওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তারা হালাল হয়ে গেলেন। অবশেষে যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে তারা হাজ্জের ইহরাম বাধলেন। রাবী বলেন, নবী (ﷺ) নিজ হাতে কিছু সংখ্যক উট দাড়ানো অবস্থায় নহর (যবেহ্) করলেন। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মদিনায় সাদা কাল মিশ্রিত রঙ-এর দু'টি মেষ যবেহ্ করেছিলেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -কে নিয়ে তার সওয়ারী সোজা দাড়িয়ে গেলে তিনি তালবিয়া পাঠ করেন।

নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার যুল-হুলাইফায় ফজরের সালাত শেষ করে সওয়ারী প্রস্তুত করার নির্দেশ দিতেন, প্রস্তুত হলে আরোহণ করতেন। সওয়ারী তাকে নিয়ে দাড়িয়ে গেলে তিনি সোজা কিবলামুখী হয়ে হারাম শরীফের সীমারেখায় পৌছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকতেন। এরপর বিরতি দিয়ে যূ-তুওয়া নামক স্থানে পৌছে ভোর পর্যন্ত রাত যাপন করতেন এবং অতঃপর ফজরের সালাত আদায় করে গোসল করতেন এবং বলতেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এরূপই করে ছিলেন।

নাফি বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার মক্কা গমনের ইচ্ছা করলে দেহে সুগন্ধিবিহীন তেল লাগাতেন। অতঃপর যুল-হুলাইফা'র মসজিদে পৌছে সালাত আদায় করে সওয়ারীতে আরোহণ করতেন। তাকে নিয়ে সওয়ারী সোজা দাড়িয়ে গেলে তিনি ইহরাম বাধতেন। এরপর তিনি [ইবন উমার (রা)] বলতেন, আমি নবী (ﷺ) -কে এরূপ করতে দেখেছি।

মুজাহিদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবন আব্বাস-এর নিকটে ছিলাম, লোকেরা দাজ্জালের আলোচনা করে বলল যে, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তার দু' চোখের মাঝে (কপালে) কা-ফি-র লেখা থাকবে। রাবী বলেন, ইবন আব্বাস বললেন, এ সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে কিছু শুনিনি। অবশ্য তিনি বলেছেনঃ আমি যেন দেখছি মূসা নীচু ভূমিতে অবতরণকালে তালবিয়া পাঠ করছিলেন।

আয়িশাহ্ নবী (ﷺ) -এর সহধর্মিণী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের সময় নবী (ﷺ) -এর সাথে বের হয়ে উমরাহ'র নিয়্যাতে ইহরাম বাধি। নবী বললেনঃ যার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে সে যেন উমরাহ'র সাথে হাজ্জের ইহরামও বেধে নেয়। অতঃপর সে উমরাহ ও হাজ্জ উভয়টি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত হালাল হতে পারবে না। [আয়িশাহ বলেন] এরপর আমি মক্কায় ঋতুমতী অবস্থায় পৌছলাম। কাজেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা'য়ী কোনটিই আদায় করতে সমর্থ হলাম না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে আমার অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেনঃ মাথার চুল খুলে নাও এবং তা আচড়িয়ে নাও এবং হাজ্জের ইহরাম বহাল রাখ এবং উমরাহ ছেড়ে দাও। আমি তাই করলাম, হাজ্জ সম্পন্ন করার পর আমাকে নবী (ﷺ) আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকর-এর সঙ্গে তান'ঈম-এ প্রেরণ করেন। সেখান হতে আমি উমরাহ'র ইহরাম বাধি। নবী (ﷺ) বলেনঃ এ তোমার (ছেড়ে দেয়া) উমরাহ'র স্থলবর্তী। আয়িশাহ বলেন, যারা উমরাহ'র ইহরাম বেধেছিলেন, তারা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা'য়ী সমাপ্ত করে হালাল হয়ে যান এবং মিনা হতে ফিরে আসার পর দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন আর যারা হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেধেছিলেন তারা একটি মাত্র তাওয়াফ করেন।

জাবির হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আলী-কে ইহরাম বহাল রাখার আদেশ দিলেন, এরপর জাবির সুরাকাহ-এর উক্তি বর্ণনা করেন। মুহাম্মাদ ইবন বকর ইবন জুরাইজ হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; নবী (ﷺ) আলী-কে বললেনঃ হে আলী! তুমি কোন প্রকার ইহরাম বেধেছ? আলী বললেন, নবী (ﷺ) -এর ইহরামের অনুরূপ। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তাহলে কুরবানীর পশু প্রেরণ কর এবং ইহরাম অবস্থায় যেভাবে আছ সেভাবেই থাক।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইয়ামান হতে এসে নবী (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কী প্রকার ইহরাম বেধেছ? আলী বললেন, নবী (ﷺ) -এর অনুরূপ। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমার সঙ্গে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি হালাল হয়ে যেতাম।

আবূ মূসা (আশআরী) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে ইয়ামানে আমার গোত্রের নিকট পাঠিয়েছিলেন; তিনি (হাজ্জ-এর সফরে) বাত্হা নামক স্থানে অবস্থানকালে আমি (ফিরে এসে) তার নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি কোন প্রকার ইহরাম বেধেছ? আমি বললাম, নবী (ﷺ) -এর ইহরামের অনুরূপ আমি ইহরাম বেধেছি। তিনি বললেনঃ তোমার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে কি? আমি বললাম, নেই। তিনি আমাকে বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ করতে আদেশ করলেন। আমি বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সা'য়ী করলাম। পরে তিনি আদেশ করলে আমি হালাল হয়ে গেলাম। অতঃপর আমি আমার গোত্রীয় এক মহিলার নিকট আসলাম। সে আমার মাথা আচড়িয়ে দিল অথবা বলেছেন, আমার মাথা ধুয়ে দিল। এরপর উমার তার খিফাফতকালে এক উপলক্ষে আসলেন। (আমরা তাকে বিষয়টি জানালে) তিনি বললেনঃ কুরআনের নির্দেশ পালন কর। কুরআন তো আমাদেরকে হাজ্জ ও উমরাহ পৃথক পৃথকভাবে যথাসময়ে পূর্ণরূপে আদায় করার নির্দেশ দান করে। আল্লাহ বলেনঃ "তোমরা হাজ্জ ও উমরাহ আল্লাহ'র উদ্দেশে পূর্ণ কর"- (আল-বাকারাঃ ১৯৬)। আর যদি আমরা নবী (ﷺ) -এর সুন্নাতকে অনুসরণ করি, তিনি তো কুরবানীর পশু জবাই করার আগে হালাল হননি।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জ-এর মাসে, হাজ্জ-এর দিনগুলোতে, হাজ্জ-এর মৌসুমে আমরা নবী (ﷺ) -এর সাথে (হাজ্জে) বের হয়ে সারিফ নামক স্থানে আমরা অবতরণ করলাম।' আয়িশাহ বলেন, নবী (ﷺ) তার সাহাবীগণের নিকট বেরিয়ে ঘোষণা করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু নেই এবং যে এ ইহরাম উমরাহ'র ইহরামে পরিণত করতে আগ্রহী, সে তা করতে পারবে। আর যার সাথে কুরবানীর পশু আছে সে তা পারবে না। আয়িশাহ বলেন, কয়েকজন সাহাবী উমরাহ করলেন, আর কয়েকজন তা করলেন না। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ও তার কয়েকজন সাহাবী (দীর্ঘ ইহরাম রাখতে) সক্ষম ছিলেন এবং তাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল। তাই তারা (শুধু) উমরাহ করতে (ও পরে হালাল হয়ে যেতে) সক্ষম হলেন না। তিনি আরো বলেন, আমি কাঁদছিলাম, এমন সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ ওহে কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আপনি সহাবাদের যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি, কিন্তু আমার পক্ষে উমরাহ করা সম্ভব নয়। তিনি বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমি সালাত আদায় করতে পারছি না (আমি ঋতুমতী)। তিনি বললেনঃ এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই, তুমি আদম-সন্তানের এক মহিলা। সকল নারীর জন্য আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যেও তাই নির্ধারণ করেছেন। কাজেই তুমি হাজ্জ-এর ইহরাম অবস্থায় থাক। আল্লাহ তোমাকে উমরাহ করার সুযোগও দিতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা হাজ্জ-এর জন্য বের হয়ে মিনায় পৌছলাম। সে সময় আমি পবিত্র হলাম। পরে মিনা হতে ফিরে (বাইতুল্লাহ পৌছে) তাওয়াফে যিয়ারা আদায় করি। আয়িশাহ বলেন, আমি নবী (ﷺ) -এর সাথে সর্বশেষ দলে বের হলাম। তিনি মুহাস্সাব নামক স্থানে অবতরণ করেন, আমি তার সাথে অবতরণ করলাম। এখানে এসে নবী (ﷺ) আবদুর রাহমান ইবন আবূ বাকর-কে ডেকে বললেনঃ তোমার বোন (আয়িশা)-কে নিয়ে হারাম সীমারেখা হতে বেরিয়ে যাও। সেখান হতে সে উমরার ইহরাম বেধে মক্কা হতে উমরাহ সমাধা করলে তাকে নিয়ে এখানে ফিরে আসবে। আমি তোমাদের আগমণ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকব। আয়িশাহ বলেন, আমরা বের হয়ে গেলাম এবং আমি ও আমার ভাই তাওয়াফ সমাধা করে ফিরে এসে প্রভাত হওয়ার আগেই নবী (ﷺ) -এর নিকট পৌছে গেলাম। তিনি বললেনঃ কাজ সমাধা করেছ কি? আমি বললাম জী-হা। তখন তিনি রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। সকলেই মদিনার দিকে রওয়ানা করলেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে বের হলাম এবং একে হাজ্জের সফর বলেই আমরা জানতাম। আমরা যখন (মক্কায়) পৌছে বাইতুল্লাহ-এর তাওয়াফ করলাম তখন নবী (ﷺ) নির্দেশ দিলেনঃ যারা কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে আসেনি তারা যেন ইহরাম ছেড়ে দেয়। তাই যিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে আনেননি তিনি ইহরাম ছেড়ে দেন। আর নবী (ﷺ) -এর সহধর্মিণীগণ তারা ইহরাম ছেড়ে দিলেন। আয়িশাহ বলেন, আমি ঋতুমতী হয়েছিলাম বিধায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারিনি। (ফিরতি পথে) মুহাসসাব নামক স্থানে রাত যাপনকালে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই উমরাহ ও হাজ্জ উভয়টি সমাধা করে ফিরছে আর আমি কেবল হাজ্জ করে ফিরছি। তিনি বললেনঃ আমরা মক্কা পৌছলে তুমি কি সে দিনগুলোতে তওয়াফ করনি? আমি বললাম, জী-না। তিনি বললেন, তোমার ভাই-এর সাথে তান্'ঈম চলে যাও, সেখান হতে উমরাহ'র ইহরাম বাধবে। অতঃপর অমুক স্থানে তোমার সাথে সাক্ষাৎ ঘটবে। নবী (ﷺ) বললেনঃ কী বললে! তুমি কি কুরবানীর দিনগুলোতে তাওয়াফ করনি! আমি বললাম, হা করেছি। তিনি বললেনঃ তবে কোন অসুবিধা নেই, তুমি চল। আয়িশাহ বলেন, এরপর নবী (ﷺ) -এর সাথে এমতাবস্থায় আমার সাক্ষাৎ হলো যখন তিনি মক্কা ছেড়ে উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি মক্কার দিকে অবতরণ করছি। অথবা আয়িশাহ বলেন, আমি উঠছি ও তিনি অবতরণ করছেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জ্বাতুল বিদার বছর আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে বের হই। আমাদের মধ্যে কেউ কেবল উমরাহ'র ইহরাম বাধলেন, আর কেউ হাজ্জ ও 'উমষ্মাহ! উভয়টির ইহরাম বাধলেন। আর কেউ শুধু হাজ্জ-এর ইহরাম বাধলেন এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) শুধু হাজ্জের জন্য ইহরাম বাধলেন। যারা কেবল হাজ্জ বা এক সঙ্গে হাজ্জ ও উমরাহ'র ইহরাম বেধেছিলেন তাদের একজনও কুরবানী দিনের পূর্বে ইহরাম খোলেননি।

মারওয়ান ইবন হাকাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান ও আলী-কে (উসফান নামক স্থানে) দেখেছি, উসমান তামাত্তু', হাজ্জ ও উমরাহ একত্রে আদায় করতে নিষেধ করতেন। আলী এ অবস্থা দেখে হাজ্জ ও উমরাহ'র ইহরাম একত্রে বেধে তালবিয়া পাঠ করেন- "লাব্বাইকা বিউমরতও ওয়া হাজ্জাহ" (হে আল্লাহ! আমি উমরাহ ও হাজ্জ-এর ইহরাম বেধে হাযির হলাম) এবং বললেন, কারো কথায় আমি নবী (ﷺ) -এর সুন্নাত বর্জন করতে পারব না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা হাজ্জ-এর মাসগুলোতে উমরাহ করাকে দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য পাপের কাজ বলে মনে করত। তারা মুহাররম মাসের স্থলে সফর মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মনে করত। তারা বলত, উটের পিঠের যখম ভাল হলে, রাস্তার মুসাফিরের পদচিহ্ন মুছে গেলে এবং সফর মাস অতিক্রান্ত হলে উমরাহ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি উমরাহ করতে পারবে। নবী (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ হাজ্জ-এর ইহরাম বেধে (যিলহাজ্জ মাসের) চার তারিখ সকালে (মক্কায়) উপনীত হন। তখন তিনি তাদের এ ইহরামকে উমরাহ'র ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। সকলের কাছেই এ নির্দেশটি গুরুতর বলে মনে হলো (উমরাহ শেষ করে) তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য কী কী জিনিস হালাল? তিনি বললেনঃ সবকিছু হালাল (ইহরামের পূর্বে যা হালাল ছিল তার সব কিছু এখন হালাল)।

আবু মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি আমাকে (ইহরাম ভঙ্গ করে) হালাল হয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন।

নবী সহধর্মিণী হাফসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হল, তারা উমরাহ শেষ করে হালাল হয়ে গেল, অথচ আপনি উমরাহ হতে হালাল হচ্ছেন না? তিনি বললেনঃ আমি মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং কুরবানীর পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছি। কাজেই কুরবানী করার পূর্বে হালাল হতে পারি না।

আবূ জামরাহ নাসর ইবন ইমরান যুবা'য়ী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তামাত্তু' হাজ্জ করতে ইচ্ছা করলে কিছু লোক আমাকে নিষেধ করল। আমি তখন ইবন আব্বাস-এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি তা করতে আমাকে নির্দেশ দেন। এরপর আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন এক ব্যক্তি আমাকে বলছে, উত্তম হাজ্জ ও মাকবূল উমরাহ। ইবন আব্বাস-এর নিকট স্বপ্নটি বললাম। তিনি বললেন, তা নবী (ﷺ) -এর সুন্নাত। এরপর আমাকে বললেন, তুমি আমার কাছে থাক, তোমাকে আমার মালের কিছু অংশ দিব। রাবী শুবাহ্ বলেন, আমি (আবূ জামরাকে) বললাম, তা কেন? তিনি বললেন, আমি যে স্বপ্ন দেখেছি সে জন্য।

আবূ শিহাব হতে বর্ণনা করে বলেন, আমি উমরাহ'র ইহরাম বেধে হাজ্জে তামাত্তু'র নিয়্যতে তারবিয়্যাহ দিবস (আট তারিখ)-এর তিন দিন পূর্বে মক্কায় প্রবেশ করলাম, মক্কাবাসী কিছু লোক আমাকে বললেন, এখন তোমার হাজ্জের কাজ মক্কা হতে শুরু হবে। আমি বিষয়টি জানার জন্য আতা-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, জাবির ইবন আবদুল্লাহ আমাকে বলেছেন, যখন নবী (ﷺ) কুরবানীর উট সঙ্গে নিয়ে হাজ্জে আসেন তখন তিনি তার সঙ্গে ছিলেন। সাহাবীগণ ইফরাদ হাজ্জ-এর নিয়্যাতে শুধু হাজ্জের ইহরাম বাধেন। কিন্তু নবী (ﷺ) (মক্কায় পৌছে) তাদেরকে বললেনঃ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা'ঈ সমাধা করে তোমরা ইহরাম ভঙ্গ করে হালাল হয়ে যাও এবং চুল ছোট কর। এরপর হালাল অবস্থায় থাক। যখন যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ হবে তখন তোমরা হাজ্জ-এর ইহরাম বেধে নিবে, আর যে ইহরাম বেধে এসেছ তা তামাত্তু' হাজ্জের উমরাহ বানিয়ে নিবে। সাহাবীগণ বললেন, এ ইহরামকে আমরা কিরূপে উমরাহ'র ইহরাম বানাব? আমরা হাজ্জ-এর নাম নিয়ে ইহরাম বেধেছি। তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে যা আদেশ করছি তাই কর। কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে না আসলে তোমাদেরকে যা করতে বলছি, আমিও সেরূপ করতাম। কিন্তু কুরবানী করার পূর্বে (ইহরামের কারণে) নিষিদ্ধ কাজ (আমার জন্য) হালাল নয়। সাহাবীগণ সেরূপ পশু যবহ করলেন।

সাঈদ ইবন মুসায়্যাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান নামক স্থানে অবস্থানকালে আলী ও 'উস্মান-এর মধ্যে হাজ্জে তামাত্তু' করা সম্পর্কে পরস্পরে দ্বিমত সৃষ্টি হয়। আলী উসমান-কে লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যে কাজ করেছেন, আপনি কি তা হতে বারণ করতে চান? উসমান বললেন, আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দিন। আলী এ অবস্থা দেখে হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম বাধেন।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে আমরা হাজ্জের তালবিয়া পাঠ করতে করতে (মক্কায়) উপনীত হলাম। এরপর নবী (ﷺ) আমাদের নির্দেশ দিলেন, আমরা হাজ্জকে উমরাহ'তে পরিণত করলাম।

ইমরান ইবন হুসায়ন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর যুগে হাজ্জে তামাত্তু' করেছি, কুরআনেও তার বিধান নাযিল হয়েছে অথচ এক ব্যক্তি তার ইচ্ছামত অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, হাজ্জে তামাত্তু' সম্পর্কে তার নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন, বিদায় হাজ্জের বছর আনসার ও মুহাজির সাহাবীগণ, নবী-সহধর্মিণীগণ ইহরাম বাধলেন, আর আমরাও ইহরাম বাধলাম। আমরা মক্কায় পৌছলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমরা হাজ্জ-এর ইহরামকে উমরায় পরিণত কর। তবে যারা কুরবানীর পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছে, তাদের কথা ব্যতিক্রম (তারা ইহরাম ভঙ্গ করতে পারবে না)। আমরা বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা'য়ী করলাম। এরপর স্ত্রী-সহবাস করলাম এবং কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম। নবী (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি কুরবানীর জন্য উপস্থিত করার উদ্দেশে পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছে, পশু কুরবানীর স্থানে না পৌছা পর্যন্ত সে হালাল হতে পারে না। এরপর যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ বিকালে আমাদেরকে হাজ্জ-এর ইহরাম বাধার নির্দেশ দেন। যখন আমরা হাজ্জ-এর সকল কার্য শেষ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সা'য়ী করে অবসর হলাম, তখন আমাদের হাজ্জ পূর্ণ হল এবং আমাদের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হলো। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ "যার পক্ষে সম্ভব সে একটি কুরবানী করবে, আর যার পক্ষে সম্ভব নয় সে হাজ্জ চলাকালে তিনটি সওম পালন করবে এবং ফিরে এসে সাত দিন সওম পালন করবে নিজ দেশে ফিরে"- (আল-বাকারাঃ ১৯৬)। একটি বকরীই দম হিসেবে কুরবানীর জন্য যথেষ্ট। একই বছরে সাহাবীগণ হাজ্জ ও উমরাহ একসাথে আদায় করলেন। আল্লাহ তার কুরআনে এ বিধান নাযিল করেছেন এবং নবী (ﷺ) এ তরীকা জারী করেছেন আর মক্কাবাসী ব্যতীত অন্যদের জন্য তা বৈধ করেছেন। আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ "(হাজ্জে তামাত্তু') তাদের জন্য, যাদের পরিবার-পরিজন মসজিদে হারামের (হারামের সীমার) মধ্যে বাস করে না"- (আল-বাকারাঃ ১৯৬)। আল্লাহ তার কুরআনে হাজ্জের যে মাসগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন তা হলো ঃ শাওয়াল, যিলক্বাদ ও যিলহাজ্জ। যারা এ মাসগুলোতে তামাত্তু' হাজ্জ করবে তাদের অবশ্য দম দিতে হবে অথবা সওম পালন করতে হবে। শব্দ: 1. আর-রাফাথা মানে যৌন মিলন। 2. আল-ফাসুক মানে সব ধরনের পাপ, এবং 3. আল-জিদাল মানে বিতর্ক করা।

নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার হারামের নিকটবর্তী স্থানে পৌছলে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতেন। অতঃপর যী-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। এরপর সেখানে ফজরের সালাত আদায় করতেন ও গোসল করতেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) এরূপ করতেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ভোর পর্যন্ত যী-তুয়ায় রাত যাপন করেন, অতঃপর মক্কায় প্রবেশ করেন। (রাবী নাফি বলেন) ইবন উমার -ও এরূপ করতেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সানিয়্যাতুল 'উলয়া (হারামের উত্তর-পূর্বদিকে কাদা নামক স্থান দিয়ে) মক্কায় প্রবেশ করতেন এবং সানিয়্যা সুফলা (হারামের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কুদা নামক স্থান) দিয়ে বের হতেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বাত্হায় অবস্থিত সানিয়্যা 'উলয়ার কাদা নামক স্থান দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেন এবং সানিয়্যা সুফ্লার দিক দিয়ে বের হন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যখন মক্কায় আসেন তখন এর উচ্চ স্থান দিয়ে প্রবেশ করেন এবং নীচু স্থান দিয়ে ফিরার পথে বের হন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের বছর কাদা-র পথে (মক্কায়) প্রবেশ করেন এবং বের হন কুদা-র পথে যা মক্কার উচু স্থানে অবস্থিত।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের বছর কাদা নামক স্থান দিয়ে মক্কার উচু ভূমির দিক হতে মক্কায় প্রবেশ করেন। রাবী হিশাম বলেন, (আমার পিতা) 'উরওয়া কাদা ও কুদা উভয় স্থান দিয়ে (মক্কায়) প্রবেশ করতেন। তবে অধিকাংশ সময় কুদা দিয়ে প্রবেশ করতেন, কেননা তার বাড়ি এ পথে অধিক নিকটবর্তী ছিল।

উরওয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের বছর মক্কার উচু ভূমি কাদা দিয়ে (মক্কায়) প্রবেশ করেন। [রাবী হিশাম বলেন] 'উরওয়া অধিকাংশ সময় কুদা'র পথে প্রবেশ করতেন, কেননা তার বাড়ি এ পথের অধিক নিকটবর্তী ছিল।

উরওয়াহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের বছর কাদা-র পথে মক্কায় প্রবেশ করেন। [রাবী হিশাম বলেন] উরওয়াহ উভয় পথেই প্রবেশ করতেন, তবে কুদা-র পথে তার বাড়ি নিকটবর্তী হওয়ার কারণে সে পথেই অধিকাংশ সময় প্রবেশ করতেন। আবূ আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী] বলেন, 'কাদা' ও 'কুদা' দু'টি স্থানের নাম।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাবা ঘর পুনর্নির্মাণের সময় নবী (ﷺ) ও আব্বাস পাথর বহন করছিলেন। আব্বাস নবী (ﷺ) -কে বললেন, তোমার লুঙ্গিটি কাঁধের ওপর দিয়ে নাও। তিনি তা করলে মাটিতে পড়ে গেলেন এবং তার উভয় চোখ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল। তখন তিনি বললেনঃ আমার লুঙ্গি দাও এবং তা বেধে নিলেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি কি জান না! তোমার কওম যখন কাবা ঘরের পুনর্নির্মাণ করেছিল তখন ইব্রাহীম কর্তৃক কাবা ঘরের মূল ভিত্তি হতে তা সঙ্কুচিত করেছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি একে ইবরাহীমী ভিত্তির উপর পুনঃস্থাপন করবেন না? তিনি বললেনঃ যদি তোমার সম্প্রদায়ের যুগ কুফরীর নিকটবর্তী না হত তা হলে অবশ্য আমি তা করতাম। আবদুল্লাহ (ইবন 'উমর) বলেন, যদি আয়িশাহ নিশ্চিতরূপে তা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে শুনে থাকেন, তাহলে আমার মনে হয় যে, বায়তুল্লাহ হাতীমের দিক দিয়ে সম্পূর্ণ ইবরাহিমী ভিত্তির উপর নির্মিত না হবার কারণেই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (তওয়াফের সময়) হাতীম সংলগ্ন দু'টি কোণ স্পর্শ করতেন না।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -কে প্রশ্ন করলাম, (হাতীমের) দেয়াল কি বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত, তিনি বললেনঃ হা। আমি বললাম, তাহলে তারা বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করল না কেন? তিনি বললেনঃ তোমার গোত্রের (কুরাইশের কাবা নির্মাণের) সময় অর্থ নিঃশেষ হয়ে যায়। আমি বললাম, কাবার দরজা এত উচু হওয়ার কারণ কী? তিনি বললেনঃ তোমার কওমতো এ জন্য করেছে যে, তারা যাকে ইচ্ছা তাকে ঢুকতে দিবে এবং যাকে ইচ্ছা নিষেধ করবে। যদি তোমার কওমের যুগ জাহিলিয়াতের নিকটবর্তী না হত এবং আশঙ্কা না হত যে, তারা একে ভাল মনে করবে না, তাহলে আমি দেয়ালকে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং তার দরজা ভূমি বরাবর করে দিতাম।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে বললেনঃ যদি তোমার গোত্রের যুগ কুফরীর নিকটবর্তী না হত তা হলে অবশ্যই কাবা ঘর ভেঙ্গে ইব্রাহীম-এর ভিত্তির উপর তা পুনর্নির্মাণ করতাম। কেননা কুরায়শগণ এর ভিত্তি সঙ্কুচিত করে দিয়েছে। আর আমি আরো একটি দরজা করে দিতাম।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে বলেনঃ হে আয়িশাহ! যদি তোমার কওমের যুগ জাহিলিয়াতের নিকটবর্তী না হত তাহলে আমি কাবা ঘর সম্পর্কে নির্দেশ দিতাম এবং তা ভেঙ্গে ফেলা হত। অতঃপর বাদ দেয়া অংশটুকু আমি ঘরের অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং তা ভূমি বরাবর করে দিতাম ও পূর্ব-পশ্চিমে এর দু'টি দরজা করে দিতাম। এভাবে কাবাকে ইব্রাহীম নির্মিত ভিত্তিতে সম্পন্ন করতাম। (বর্ণনাকারী বলেন), আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর এ উক্তি কাবা ঘর ভাঙ্গতে (আবদুল্লাহ) ইবন যুবাইর-কে অনুপ্রাণিত করেছে। (রাবী) ইয়াযীদ বলেন, আমি ইবন যুবাইর-কে দেখেছি তিনি যখন কাবা ঘর ভেঙ্গে তা পুনর্নির্মাণ করেন এবং বাদ দেয়া অংশটুকু (হাতীম) তার সাথে সংযোজিত করেন এবং ইবরাহীম-এর নির্মিত ভিত্তির পাথরগুলো উটের কুঁজোর ন্যায় আমি দেখতে পেয়েছি। (রাবী) জারীর বলেন, আমি তাকে (ইয়াযীদকে) বললাম, কোথায় সেই ভিত্তি মূলের স্থান? তিনি বললেন, এখনই আমি তোমাকে দেখিয়ে দিব। আমি তার সাথে বাদ দেয়া দেয়াল বেষ্টনীতে (হাতীমে) প্রবেশ করলাম। তখন তিনি একটি স্থানের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এখানে। জরীর বলেন, দেয়াল বেষ্টিত স্থানটুকু পরিমাপ করে দেখলাম ছয় হাত বা তার কাছাকাছি।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এ (মক্কা) শহরকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন, এর একটি কাঁটাও কর্তন করা যাবে না, এতে বিচরণকারী শিকারকে তাড়া করা যাবে না, এখানে প্রচারের উদ্দেশ্য ব্যতীত পড়ে থাকা কোন বস্তু কেউ তুলে নিবে না।

উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি মক্কায় অবস্থিত আপনার বাড়ির কোন স্থানে অবস্থান করবেন? তিনি (ﷺ) বললেনঃ 'আকীল কি কোন সম্পত্তি বা ঘর-বাড়ি অবশিষ্ট রেখে গেছে? 'আকীল এবং তালিব আবূ তালিবের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন, জাফর ও আলী হননি। কেননা তারা দু'জন ছিলেন মুসলিম। 'আকীল ও তালিব ছিল কাফির। এজন্যই উমার ইবন খাত্তাব বলতেন, মুমিন কাফির-এর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না। ইবন শিহাব (যুহরী) বলেন, (পূর্ববর্তীগণ নিম্ন উদ্ধৃত আয়াতে উক্ত বিলায়াতকে উত্তরাধিকার বলে) এই তাফসীর করতেন। আল্লাহ বলেনঃ "নিশ্চই যারা ঈমান এনেছে, হিজরাত করেছে, নিজেদের ধন ও প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দান করেছে ও সাহায্য করেছে তারা একে অপরের বন্ধু। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরাত করেনি তাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তোমাদের নেই যে পর্যন্ত না তারা হিজরাত করে। আর যদি তারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাহায্য চায় তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য, কিন্তু তোমাদের সাথে যে ক্বাওমের চুক্তি রয়েছে তাদের মুকাবিলায় নয়। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা সবই দেখেন।" (আল-আনফালঃ ৭২)।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (মিনা হতে ফিরে) যখন মক্কা প্রবেশের ইচ্ছা করলেন তখন বললেনঃ আগামীকাল খায়ফ বনী কেনানায় (মুহাসসাবে) ইনশাআল্লাহ আমাদের অবস্থানস্থল হবে যেখানে তারা (বনূ খায়ফ ও কুরাইশরা) কুফরীর উপর শপথ করেছিল।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানীর দিনে মিনায় অবস্থানকালে নবী (ﷺ) বললেনঃ আমরা আগামীকাল (ইনশাআল্লাহ) খায়ফ বনী কিনানায় অবতরণ করব, যেখানে তারা কুফরীর উপরে শপথ নিয়েছিল। (রাবী বলেন) খায়ফ বনী কিনানাই হলো মুহাসসাব। কুরায়শ ও কিনানা গোত্র বনূ হাশিম ও বনূ আবদুল মুত্তালিব-এর বিরুদ্ধে এই বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, যে পর্যন্ত নবী (ﷺ) -কে তাদের হাতে সমর্পণ করবে না সে পর্যন্ত তাদের সাথে বিয়ে-শাদী ও বেচা-কেনা বন্ধ থাকবে।

আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, হাবাশার অধিবাসী পায়ের সরু নলা বিশিষ্ট লোকেরা কাবাগৃহ ধ্বংস করবে।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযানের সওম ফরজ হওয়ার পূর্বে মুসলিমগণ 'আশূরার সওম পালন করতেন। সে দিনই কাবা ঘর (গিলাফে) আবৃত করা হতো। অতঃপর আল্লাহ যখন রমাযানের সওম ফরজ করলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ 'আশূরার সওম যার ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা সে ছেড়ে দিবে।

আবূ সাঈদ খুদরী সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াজূজ ও মাজূজ বের হওয়ার পরও বাইতুল্লাহর হাজ্জ ও উমরাহ পালিত হবে। আবান ও ইমরান কাতাদাহ্ হতে হাদীস বর্ণনায় হাজ্জাজ ইবন হাজ্জাজের অনুসরণ করেছেন। আবদুর রাহমান শুবাহ্ হতে বর্ণনা করেন, "বাইতুল্লাহর হাজ্জ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না।" প্রথম রিওয়ায়াতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। আবূ আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী] বলেন, কাতাদাহ্ রিওয়ায়াতটি আবদুল্লাহ হতে এবং আবদুল্লাহ আবূ সাঈদ হতে শুনেছেন।

আবূ ওয়াইল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাবার সামনে আমি শাইবাহর সাথে কুরসীতে বসলাম। তখন তিনি বললেন, উমার এখানে বসেই বলেছিলেন, আমি কাবা ঘরে রক্ষিত সোনা ও রূপা বণ্টন করে দেয়ার ইচ্ছা করেছি। (শাইবাহ বলেন) আমি বললাম, আপনার উভয় সঙ্গী [আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ও আবূ বাকর] তো এরূপ করেননি। তিনি বললেন, তারা এমন দু' ব্যক্তিত্ব যাদের অনুসরণ আমি করব।

ইবন আব্বাস সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যেন দেখতে পাচ্ছি কালো বর্ণের বাকা পা বিশিষ্ট লোকেরা (কাবা ঘরের) একটি একটি করে পাথর খুলে এর মূল উৎপাটন করে দিচ্ছে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ হাবশার অধিবাসী পায়ের সরু নলা বিশিষ্ট লোকেরা কাবা ঘর ধ্বংস করবে।

উমার হতে বর্ণিত যে, তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তা চুম্বন করে বললেন, আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র, তুমি কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নবী (ﷺ) -কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে কখনো আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।

আবদুল্লাহ ইবন উমার (রযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এবং উসামাহ ইবন যায়দ, বিলাল ও উসমান ইবন তালহা বাইতুল্লাহর ভিতরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিলেন। যখন খুলে দিলেন তখন প্রথম আমিই প্রবেশ করলাম এবং বিলালের সাক্ষাৎ পেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কি কাবার ভিতরে সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা, ইয়ামানের দিকের দু'টি স্তম্ভের মাঝখানে।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, যখন তিনি কাবা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতেন, তখন দরজা পিছনে রেখে সোজা সম্মুখের দিকে চলে যেতেন, এতদূর অগ্রসর হতেন যে, সম্মুখের দেয়ালটি মাত্র তিন হাত পরিমাণ দূরে থাকতো এবং বিলাল আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যেখানে সালাত আদায় করেছেন বলে বর্ণনা করেছেন, সেখানে গিয়ে দাড়িয়ে তিনি সালাত আদায় করতেন। অবশ্য কাবার ভিতরে যে কোন স্থানে সালাত আদায় করাতে কোন দোষ নেই।

আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উমরাহ করতে গিয়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করলেন ও মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু' রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং তার সাথে এ সকল সাহাবী ছিলেন যারা তাকে লোকদের হতে আড়াল করে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কাবার ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন কি-না, এক ব্যক্তি আবূ আওফা-এর নিকট তা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন (মক্কা) এলেন, তখন কাবা ঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা কাবা ঘরের ভিতরে মূর্তি ছিল। তিনি নির্দেশ দিলেন এবং মূর্তিগুলো বের করে ফেলা হল। (এক পর্যায়ে) ইব্রাহীম ও ইসমাঈল-এর প্রতিকৃতি বের করে আনা হয় তাদের উভয়ের হাতে জুয়া খেলার তীর ছিল। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ! (মুশরিকদের) ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম! অবশ্যই তারা জানে যে, [ইব্রাহীম ও ইসমাঈ'ল] তীর দিয়ে অংশ নির্ধারণের ভাগ্য পরীক্ষা কখনো করেননি। এরপর নবী (ﷺ) কাবা ঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের চারদিকে তাকবীর বলেন। কিন্তু ঘরের ভিতরে সালাত আদায় করেননি।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সাহাবীগণকে নিয়ে মক্কা আগমন করলে মুশরিকরা মন্তব্য করল, এমন একদল লোক আসছে যাদেরকে ইয়াসরিব-এর (মাদ্বীনার) জ্বর দুর্বল করে দিয়েছে (এ কথা শুনে) নবী (ﷺ) সাহাবীগণকে তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে 'রামল' করতে (উভয় কাঁধ হেলে দুলে জোর কদমে চলতে) এবং উভয় রুকনের মধ্যবর্তী স্থানটুকু স্বাভাবিক গতিতে চলতে নির্দেশ দিলেন, সাহাবীদের প্রতি দয়াবশত সব ক'টি চক্করে রামল করতে আদেশ করেননি।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে মক্কায় উপনীত হয়ে তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদ ইসতিলাম (চুম্বন, স্পর্শ- করতে এবং সাত চক্করের মধ্যে প্রথম তিন চক্করে রামল করতে দেখেছি।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) হাজ্জ এবং উমরাহ'র তাওয়াফে (প্রথম) তিন চক্করে রামল করেছেন, অবশিষ্ট চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে চলেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, উমার ইবন খাত্তাব হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে! আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিতরূপে জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নবী (ﷺ) -কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। এরপর তিনি চুম্বন করলেন। পরে বললেন, আমাদের রামল করার উদ্দেশ্য কী ছিল? আমরা তো রামল করে মুশরিকদেরকে আমাদের শক্তি প্রদর্শন করেছিলাম। আল্লাহ এখন তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন। এরপর বললেন, যেহেতু এই (রামল) কাজটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) করেছেন, তাই তা পরিত্যাগ করা পছন্দ করি না।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে (তাওয়াফ করার সময়) এ দু'টি রুকন ইসতিলাম (চুমু) করতে দেখেছি, তখন হতে ভীড় থাকুক বা নাই থাকুক কোন অবস্থাতেই এ দু'-এর ইসতিলাম (চুমু) করা বাদ দেইনি। [রাবী উবাইদুল্লাহ বলেন] আমি নাফি-কে জিজ্ঞেস করলাম, ইবন উমার কি ঐ 'দু' রুকনের মধ্যবর্তী স্থানে স্বাভাবিক গতিতে চলতেন? তিনি বললেন, সহজে ইসতিলাম করার উদ্দেশে তিনি (এতদুভয়ের মাঝে) স্বাভাবিকভাবে চলতেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় নবী (ﷺ) -এর উটের পিঠে আরোহণ করে তাওয়াফ করার সময় ছড়ির মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন। দারাওয়ার্দী হাদীস বর্ণনায় ইউনুস-এর অনুসরণ করে ইবন আবিয যুহরী সূত্রে তার চাচা (যুহরী) হতে রিওয়ায়াত করেছেন।

আবুশ-শা'সা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কে আছে বায়তুল্লাহর কোন অংশ (কোন রুকনের ইস্তিলাম) ছেড়ে দেয়; মুআবিয়াহ (চার) রুকনের ইস্তিলাম করতেন। ইবন আব্বাস তাকে বললেন, আমরা এ দু'রুকন-এর চুম্বন করি না। তখন মুআবিয়াহ তাকে বললেন, বায়তুল্লাহর কোন অংশই বাদ দেয়া যেতে পারে না। আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর সব কয়টি রুকন ইস্তিলাম করতেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে কেবল ইয়ামানী দু' রুকনকে ইস্তিলাম করতে দেখেছি।

আসলাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবন খাত্তাব-কে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করতে দেখেছি। আর তিনি বললেন, যদি আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তাহলে আমিও তোমায় চুম্বন করতাম না।

যুবাইর ইবন 'আরাবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে ইবন 'উমর-এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে তার স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। সে ব্যক্তি বলল, যদি ভীড়ে আটকে যাই বা অপরাগ হই তাহলে (চুম্বন করা, না করা সম্পর্কে) আপনার অভিমত কী? তিনি (ইবন উমার) বললেন, আপনার অভিমত কী? এ কথাটি ইয়ামানে রেখে দাও। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উটের পিঠে (আরোহণ করে) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখনই কোন কিছু দিয়ে তার প্রতি ইঙ্গিত করতেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উটের পিঠে আরোহণ করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিন হাজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখনই কোন কিছুর দ্বারা তার দিকে ইঙ্গিত করতেন এবং তাকবীর বলতেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে তাওয়াফ সম্পন্ন করেন। (রাবী) উরওয়াহ বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর এই তাওয়াফটি উমরাহ'র তাওয়াফ ছিল না। (তিনি আরো বলেন) অতঃপর আবূ বকর ও উমার অনুরূপভাবে হাজ্জ করেছেন। এরপর আমার পিতা যুবাইর -এর সাথে আমি হাজ্জ করেছি তাতেও দেখেছি যে, সর্বপ্রথম তিনি তাওয়াফ করেছেন। এরপর মুহাজির, আনসার সকল সাহাবা-কে এরূপ করতে দেখেছি। আমার মা আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি, তার বোন এবং যুবাইর ও অমুক অমুক ব্যক্তি উমরাহ'র ইহরাম বেধেছেন, যখন তারা তাওয়াফ সমাধা করেছেন, হালাল হয়ে গেছেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (১৬১৪)।

আবদুল্লাহ ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মক্কায় উপনীত হয়ে হাজ্জ বা উমরাহ উভয় অবস্থায় সর্বপ্রথম যে তাওয়াফ করতেন, তার প্রথম তিন চক্করে রামল করতেন এবং পরবর্তী চার চক্করে স্বাভাবিকভাবে হেটে চলতেন। তাওয়াফ শেষে দু' রাকাত সালাত আদায় করে সাফা ও মারওয়ায় সা'ঈ করতেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বায়তুল্লাহ পৌছে প্রথম তাওয়াফ করার সময় প্রথম তিন চক্করে রামল করতেন এবং পরবর্তী চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হেটে চলতেন। সাফা ও মারওয়ায় সা'ঈ করার সময় উভয় টিলার মধ্যবর্তী নিচু স্থানটুকু দ্রুতগতিতে চলতেন।

[ইমাম বুখারী বলেন] আমাকে আমর ইবন আলী ..... থেকে ইবন জুরাইজ বর্ণনা করেন যে, আতা বলেছেন, ইবন হিশাম যখন মহিলাদের পুরুষের সঙ্গে তাওয়াফ করতে নিষেধ করেন, তখন আতা তাকে বললেন, আপনি তাদের কী করে নিষেধ করেছেন, অথচ নবী সহধর্মিণীগণ পুরুষদের সঙ্গে তাওয়াফ করেছেন? [ইবন জুরাইজ বলেন] আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, তা কি পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পরে, না পূর্বে? তিনি [আতা] বললেন, হা, আমার জীবনের কসম, আমি পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরের কথাই বলছি। আমি জানতে চাইলাম পুরুষগণ মহিলাদের সাথে মিলে কিভাবে তাওয়াফ করতেন? তিনি বললেন, পুরুষগণ মহিলাগণের সাথে মিশে তাওয়াফ করতেন না। আয়িশাহ বরং পুরুষদের পাশ কাটিয়ে তাওয়াফ করতেন, তাদের মাঝে মিশে যেতেন না। এক মহিলা আয়িশাহ-কে বললেন চলুন, হে উম্মুল 'মুমিনীন! আমরা তওয়াফ করে আসি। তিনি বললেন, "তোমার মনে চাইলে তুমি যাও" আর তিনি যেতে অস্বীকার করলেন। তারা রাতের বেলা পর্দা করে বের হয়ে (সম্পূর্ণ না মিশে) পুরুষদের পাশাপাশি থেকে তাওয়াফ করতেন। উম্মুল মুমিনীনগণ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে চাইলে সকল পুরুষ বের করে না দেয়া পর্যন্ত তারা দাড়িয়ে থাকতেন। আতা বলেন, উবাইদ ইবন উমাইর এবং আমি আয়িশাহ-এর কাছে গেলাম, তিনি তখন 'সবীর' পর্বতে অবস্থান করছিলেন। [ইবন জুরাইজ বলেন] আমি বললাম, তখন তিনি কি দিয়ে পর্দা করছিলেন? আতা বললেন, তখন তিনি পর্দা ঝুলান তুর্কী তাবুতে ছিলেন, এছাড়া তার ও আমাদের মাঝে অন্য কোন কিছু ছিল না। (অকস্মাৎ দৃষ্টি পড়ায়) আমি তার গায়ে গোলাপী রং-এর চাদর দেখতে পেলাম।

নবী সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেনঃ বাহনে আরোহণ করে মানুষের পেছনে পেছনে থেকে তাওয়াফ কর। আমি মানুষের পেছনে পেছনে থেকে তাওয়াফ করছিলাম, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কাবা ঘরের পার্শ্বে সালাত আদায় করছিলেন এবং এতি তিনি সূরা তুর তিলাওয়াত করেছিলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বায়তুল্লাহর তাওয়াফের সময় এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, সে চামড়ার ফিতা বা সূতা অথবা অন্য কিছু দ্বারা আপন হাত অপর এক ব্যক্তির সাথে বেধে দিয়েছিল। নবী (ﷺ) নিজ হাতে তার বাধন ছিন্ন করে দিয়ে বললেনঃ হাত ধরে টেনে নাও।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে কাবা ঘর তাওয়াফ করতে দেখতে পেলেন এ অবস্থায় যে, চাবুকের ফিতা বা অন্য কিছু দিয়ে (তাকে টেনে নেয়া হচ্ছে)। তখন তিনি তা বিছিন্ন করে দিলেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের পূর্বে যে হাজ্জে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আবূ বকর-কে আমীর নিযুক্ত করেন, সে হাজ্জে কুরবানীর দিন [আবূ বাকার] আমাকে একদল লোকের সঙ্গে পাঠালেন, যারা লোকদের কাছে ঘোষণা করবে যে, এ বছরের পর হতে কোন মুশরিক হাজ্জ করবে না এবং উলঙ্গ হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে না।

আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবন উমার-কে জিজ্ঞেস করলাম, উমরাহকারীর জন্য সাফা ও মারওয়া সা'য়ী করার পূর্বে স্ত্রী সহবাস বৈধ হবে কি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মক্কায় উপনীত হয়ে সাত চক্করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সমাপ্ত করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু' রাকাত সালাত আদায় করেন, অতঃপর সাফা ও মারওয়া সা'য়ী করেন। এরপর ইবন উমার তিলাওয়াত করেন, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে"- (আল-আহযাবঃ ২৩)।

(রাবী) আমর বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সাফা ও মারওয়া সা'য়ী করার পূর্বে স্ত্রী সহবাস বৈধ নয়।

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মক্কায় উপনীত হয়ে সাত চক্করে তাওয়াফ করে সাফা ও মারওয়া সা'ঈ করেন, এরপর (প্রথম) তাওয়াফের পরে আরাফাহ হতে ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত বাইতুল্লাহর নিকটবর্তী হননি। (তাওয়াফ করেননি)।

উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট অসুস্থতার কথা জানালাম, অন্য সূত্রে মুহাম্মাদ ইবন হারব ... নবী সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মক্কা হতে প্রস্থান করার ইচ্ছা করলে উম্মু সালামাহ-ও মক্কা ত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন, অথচ তিনি (অসুস্থতার কারণে) তখনও বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারেননি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তাকে বললেনঃ যখন ফজরের সালাতের ইকামত দেয়া হবে আর লোকেরা সালাত আদায় করতে থাকবে, তখন তোমার উটে আরোহণ করে তুমি তাওয়াফ আদায় করে নিবে। তিনি তাই করলেন। এরপর (তাওয়াফের) সালাত আদায় করার পূর্বেই মক্কা ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মক্কায় উপনীত হয়ে সাত চক্করে (বাইতুল্লাহর) তাওয়াফ সম্পন্ন করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সাফার দিকে বেরিয়ে গেলেন। [ইবন উমার বলেন] মহান আল্লাহ বলেছেনঃ "নিশ্চই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ"- (আল-আহযাবঃ ২৩)।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, কিছু লোক ফজরের সালাতের পর বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করল। অতঃপর তারা নসীহতকারীর (নসীহত শোনার জন্য) বসে গেল। অবশেষে সূর্যোদয় হলে তারা দাড়িয়ে (তাওয়াফের) সালাত আদায় করল। তখন আয়িশাহ বললেন, তারা বসে রইল আর যে সময়টিতে সালাত আদায় করা মাকরূহ তখন তারা সালাতে দাড়িয়ে গেল!

আবদুল্লাহ (ইবন উমার) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) হতে শুনেছি, তিনি সূর্যোদয়ের সময় এবং সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

আবদুল আযীয ইবন রূফাই' হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর-কে ফজরের সালাতের পর তাওয়াফ করতে এবং দু'রাকাত (তাওয়াফের) সালাত আদায় করতে দেখেছি।

আবদুল আযীয আরও বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর-কে আসরের সালাতের পর দু'রাকাত সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন আয়িশাহ তাকে বলেছেন, নবী (ﷺ) (আসরের সালাতের পরের) এই দু'রাকাত সালাত আদায় করা ব্যতীত তার ঘরে প্রবেশ করতেন না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উটের পিঠে সওয়ার হয়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখন তার হাতের বস্তু (লাঠি) দিয়ে তার দিকে ইঙ্গিত করতেন ও তাকবীর বলতেন।

উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেনঃ তুমি সওয়ার হয়ে লোকেদের পিছন দিক দিয়ে তাওয়াফ করে নাও। তাই আমি তাওয়াফ করছিলাম এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কাবার পাশে সালাত আদায় করছিলেন ও সূরা (আত্-তূর) তিলাওয়াত করছিলেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট হাজীদের পানি পান করানোর উদ্দেশে মিনায় অবস্থানের রাতগুলো মক্কায় কাটানোর অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) পানি পান করার স্থানে এসে পানি চাইলেন, আব্বাস বললেন, হে ফায্ল! তোমার মার নিকট যাও। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর জন্য তার নিকট হতে পানীয় নিয়ে এসো। নবী (ﷺ) বললেনঃ এখান হতেই পান করান। আব্বাস বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা এই পানিতে হাত রাখে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এখান হতেই দিন এবং এই পানি হতেই পান করলেন। এরপর যমযম কূপের নিকট এলেন। লোকেরা পানি তুলে (হাজীদের) পান করাচ্ছিল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কাজ করে যাও। তোমরা নেক কাজে রত আছ। এরপর তিনি বললেনঃ তোমরা পরাভূত হয়ে যাবে এ আশঙ্কা না থাকলে আমি নিজেই নেমে (বালতির) রশি এখানে নিতাম; এ বলে তিনি আপন কাঁধের প্রতি ইঙ্গিত করেন।

আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেনঃ আমি মক্কায় অবস্থানকালে ঘরের ছাদ ফাক করা হল এবং জিবরাঈল অবতরণ করলেন। এরপর তিনি আমার বক্ষ বিদারণ করলেন এবং তা যমযমের পানি দ্বারা ধুলেন, এরপর ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ একটি সোনার পেয়ালা নিয়ে এলেন এবং তা আমার বুকে ঢেলে দিয়ে জোড়া লাগিয়ে দিলেন। অতঃপর আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে দুনিয়ার আসমানে গেলেন এবং জিবরাঈল এই আসমানের তত্ত্বাবধানকারী ফেরেশ্তাকে বললেন, (দরজা) খোল। তিনি বললেন কে? তিনি বললেন, আমি জিব্রাঈল।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যমযমের পানি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট পেশ করলাম। তিনি তা দাড়িয়ে পান করলেন। (রাবী') 'আসিম বলেন, 'ইকরিমা হলফ করে বলেছেন, নবী (ﷺ) তখন উটের পিঠে আরোহী অবস্থায়ই ছিলেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে বের হলাম এবং উমরাহ'র ইহরাম বাধলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ যার সাথে হাদী-এর পশু আছে সে যেন হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেধে নেয়। অতঃপর উভয় কাজ সমাপ্ত না করা পর্যন্ত সে হালাল হবে না। আমি মক্কায় উপনীত হয়ে ঋতুমতী হলাম। যখন আমরা হাজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন নবী (ﷺ) আবদুর রাহমান-এর সঙ্গে আমাকে তান'ঈম প্রেরণ করলেন। এরপর আমি উমরাহ পালন করলাম। নবী (ﷺ) বললেনঃ এ হলো তোমার পূর্ববর্তী (অসমাপ্ত) উমরাহ'র স্থলবর্তী। ঐ হাজ্জের সময় যারা (কেবল) উমরাহ'র নিয়্যাতে ইহরাম বেধে এসেছিলেন, তারা তাওয়াফ করে হালাল হয়ে গেলেন। এরপর তারা মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন। আর যারা একসাথে উমরাহ ও হাজ্জের নিয়্যাত করেছিলেন, তারা একবার তাওয়াফ করলেন।

নাফি হতে বর্ণিত যে, ইবন উমার তার ছেলে আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ-এর নিকট গেলেন, যখন তার (হাজ্জ যাত্রার) বাহন প্রস্তুত, তখন তার ছেলে বললেন, আমার আশঙ্কা হয় এ বছর মানুষের মধ্যে লড়াই হবে, তারা আপনাকে কাবায় যেতে বাধা দিবে। কাজেই এবার নিবৃত্ত হওয়াটাই উত্তম। তখন ইবন উমার বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একদা রওনা হয়েছিলেন, কুরায়শ কাফিররা তাকে বাইতুল্লাহ যেতে বাধা দিয়েছিল। আমাকেও যদি বাইতুল্লাহ বাধা দেয়া হয়, তবে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যা করেছিলেন, আমিও তাই করব। "কেননা, নিশ্চই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ"- (আল-আহযাব ২১)। এরপর তিনি বললেন, তোমরা সাক্ষী থেকো, আমি উমরাহ'র সাথে হাজ্জ-এর সংকল্প করছি। (রাবী) নাফি বলেন, তিনি মক্কায় উপনীত হয়ে উভয়টির জন্য মাত্র একটি তাওয়াফ করলেন।

নাফি হতে বর্ণিত। যে বছর হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর-এর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য মক্কায় আসেন, ঐ বছর ইবন উমার হাজ্জের এরাদা করেন। তখন তাকে বলা হলো, (বিবদমান দু' দল) মানুষের মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে। আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে যে, আপনাকে তারা বাধা দিবে। তিনি বললেন, "নিশ্চই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে"- (আহযাব: ২১)। কাজেই এমন কিছু হলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যা করেছিলেন আমিও তাই করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি উমরাহ'র সঙ্কল্প করলাম। এরপর তিনি বের হলেন এবং বায়দার উচু অঞ্চলে পৌছার পর তিনি বললেন, হাজ্জ ও উমরাহ'র বিধান একই, আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি উমরাহ'র সঙ্গে হাজ্জেরও নিয়্যাত করলাম এবং তিনি কুদায়দ হতে ক্রয় করা একটি হাদী পাঠালেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেননি। এরপর তিনি কুরবানী করেননি এবং ইহরামও ত্যাগ করেন নি এবং মাথা মুন্ডন বা চুল ছাঁটা কোনটাই করেননি। অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী কররেন, মাথা মুন্ডালেন। তার অভিমত হলো, প্রথম তাওয়াফ-এর মাধ্যমেই তিনি হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের তাওয়াফ সেরে নিয়েছেন। ইবন উমার বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এমনই করেছেন।

মুহাম্মদ ইবন আবদুর রাহমান ইবন নাওফাল কুরাশী হতে বর্ণিত। তিনি 'উরওয়া ইবন যুবাইর-কে নবী (ﷺ)-এর হাজ্জ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, নবী (ﷺ) -এর হাজ্জ-এর বিষয়টি আয়িশাহ আমাকে এরূপে বর্ণনা দিয়েছেন যে, নবী (ﷺ) মক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন। তা উমরাহ'র তাওয়াফ ছিল না। পরে আবূ বাকার হাজ্জ করেছেন, তিনিও হাজ্জের প্রথম কাজ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতেন, তা উমরাহ'র তাওয়াফ ছিল না। তারপর উমার-ও অনুরূপ করতেন। এরপর উসমান হাজ্জ করেন। আমি তাকেও (হাজ্জের কাজ) বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতে দেখেছি, তার এই তাওয়াফও উমরাহ'র তাওয়াফ ছিল না। মু'আবিয়া এবং আবদুল্লাহ ইবন উমার (অনুরূপ করেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবাইর ইবন 'আওয়াম-এর সঙ্গে হাজ্জ করলাম। তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ হতেই শুরু করেন, আর তার এ তাওয়াফ উমরাহ'র তাওয়াফ ছিল না। মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ-কে আমি এরূপ করতে দেখেছি। তাদের সে তাওয়াফও উমরাহ'র তাওয়াফ ছিল না। সবশেষে আমি আবদুল্লাহ ইবন উমার-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি। তিনিও সে তাওয়াফ উমরাহ'র তাওয়াফ হিসেবে করেননি। ইবন 'উমর তো তাদের নিকটেই আছেন তার কাছে জেনে নিন না কেন? সাহাবীগণের মধ্যে যারা অতীত হয়ে গেছেন তাদের কেউই মসজিদে হারামে প্রবেশ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সমাধান করার পূর্বে অন্য কোন কাজ করতেন না এবং তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করতেন না। আমার মা (আসমা) ও খালা (আয়িশাহ)-কে দেখেছি, তারা উভয়ে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম তাওয়াফ সমাধা করেন, কিন্তু তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করেননি।

আমার মা আমাকে বলেছেন যে, তিনি তার বোন [আয়িশাহ] ও (আমার পিতা) যুবাইর এবং অমুক অমুক উমরাহ'র নিয়্যাতে ইহরাম বাধেন। এরপর তাওয়াফ (ও সা'য়ী) শেষে হালাল হয়ে যান।

উরওয়াহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, মহান আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? "সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। কাজেই যে কেউ কাবা ঘরে হাজ্জ বা উমরাহ সম্পন্ন করে, এ দু'টির মাঝে যাতায়াত করলে তার কোন দোষ নেই"- (আল-বাকারাঃ ১৫৮)। (আমার ধারণা যে,) সাফা-মারওয়ার মাঝে কেউ সা'ঈ না করলে তার কোন দোষ নেই। তখন তিনি [আয়িশাহ]বললেন, ওহে বোনপো! তুমি যা বললে, তা ঠিক নয়। কেননা, যা তুমি তাফসীর করলে, যদি আয়াতের মর্ম তা-ই হতো, তাহলে আয়াতের শব্দ বিন্যাস এভাবে হতো- "দু'টোর মাঝে সা'ঈ না করায় কোন দোষ নেই।" কিন্তু আয়াতটি আনসারদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুশাল্লাল নামক স্থানে স্থাপিত মানাত নামের মূর্তির পূজা করত, তার নামেই তারা ইহরাম বাধত। সে মূর্তির নামে যারা ইহরাম বাধত তারা সাফা-মারওয়া সা'ঈ করাকে দোষাবহ মনে করত। ইসলাম গ্রহণের পর তারা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! পূর্বে আমরা সাফা ও মারওয়া সা'ঈ করাকে দোষাবহ মনে করতাম (এখন কী করবো?) এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তাআলা "সত্যিই; (পর্বত) আস-সাফা ও আল-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনগুলির মধ্যে একটি।" অবতীর্ণ করেন। আয়িশাহ্ বলেন, (সাফা ও মারওয়ার মাঝে) উভয় পাহাড়ের মাঝে সা'ঈ করা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বিধান দিয়েছেন। কাজেই কারো পক্ষে এ দু'য়ের সা'ঈ পরিত্যাগ করা ঠিক নয়। (রাবী বলেন) এ বছর আবূ বাকার ইবন আবদুর রাহমান-কে ঘটনাটি জানালাম। তখন তিনি বললেন, আমি তো এ কথা শুনিনি, তবে আয়িশাহ ব্যতীত বহু 'আলিমকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, মানাতের নামে যারা ইহরাম বাধত তারা সকলেই সাফা ও মারওয়া সা'য়ী করত, যখন আল্লাহ কুরআনে বাইতুল্লাহ তাওয়াফের কথা উল্লেখ করলেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার আলোচনা তাতে হলো না, তখন সাহাবাগণ বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সাফা ও মারওয়া সা'ঈ করতাম, এখন দেখি আল্লাহ কেবল বাইতুল্লাহ তাওয়াফের কথা অবতীর্ণ করেছেন, সাফার উল্লেখ করেননি। কাজেই সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা'য়ী করলে আমাদের দোষ হবে কি? এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন- ('সত্যিই; (পর্বত) আস-সাফা ও আল-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনগুলির মধ্যে একটি।') আবূ বাকার আরো বলেন, আমি শুনতে পেয়েছি, আয়াতটি দু' প্রকার লোকদের উভয়ের প্রতি লক্ষ্য করেই অবতীর্ণ হয়েছে, যারা জাহিলী যুগে সাফা ও মারওয়া সা'ঈ করা হতে বিরত থাকতেন, আর যারা তৎকালে সা'য়ী করত বটে, কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর সা'য়ী করার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাদের দ্বিধার কারণ ছিল আল্লাহ বাইতুল্লাহ তাওয়াফের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার কথা উল্লেখ করেননি? অবশেষে বাইতুল্লাহ তাওয়াফের কথা আলোচনা করার পর আল্লাহ সাফা ও মারওয়া সা'ঈ করার কথা উল্লেখ করেন।

ইবনে উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তাওয়াফ-ই-কুদূমের সময় প্রথম তিন চক্করে রামল করতেন ও পরবর্তী চার চক্কর স্বাভাবিক গতিতে হেটে চলতেন এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা'ঈর সময় বাতনে মসীলে দ্রুত চলতেন। আমি (উবাইদুল্লাহ) নাফিকে বললাম, আবদুল্লাহ কি রুকন ইয়ামানীতে পৌছে হেটে চলতেন? তিনি বললেন, না। তবে হাজরে আসওয়াদের নিকট ভীড় হলে (একটুখানি মন্থর গতিতে চলতেন), কারণ তিনি তা চুম্বন না করে সরে যেতেন না।

আমর ইবন দ্বীনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবন উমার-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, কোন ব্যক্তি উমরাহ করতে গিয়ে শুধু বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করে, আর সাফা ও মারওয়া সা'ঈ না করে, তার পক্ষে কি স্ত্রী সহবাস বৈধ হবে? তখন তিনি বললেন, নবী (ﷺ) (মক্কায়) উপনীত হয়ে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সাত চক্করে সমাধা করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু' রাকাত সালাত আদায় করলেন, এরপরে সাত চক্করে সাফা ও মারওয়া সা'য়ী করলেন। [এতটুকু বলে ইবন উমার বলেন] "তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ"- (আল-আহযাবঃ ২১)।

আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহ-কে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, সাফা ও মারওয়ার সা'ঈ করার পূর্বে কারো পক্ষে স্ত্রী সহবাস মোটেই বৈধ হবে না।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মক্কায় উপনীত হয়ে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করলেন। এরপর দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর সাফা ও মারওয়া সা'ঈ করলেন। এরপর তিনি (ইবন উমার) তিলাওয়াত করলেনঃ "নিশ্চই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ"- (আল-আহযাবঃ ২১)।

আসিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক-কে বললাম, আপনারা কি সাফা ও মারওয়া সা'ঈ করতে অপছন্দ করতেন? তিনি বললেন, হা। কেননা তা ছিল জাহিলী যুগের নিদর্শন। অবশেষে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেনঃ "নিশ্চই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন। কাজেই হাজ্জ বা উমরাহকারীদের জন্য এ দুইয়ের মধ্যে সা'ঈ করায় কোন দোষ নেই"- (আল-বাকারাঃ ১৫৮)।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুশরিকদেরকে নিজ শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশে বাইতুল্লাহর তাওয়াফে ও সাফা ও মারওয়ার মধ্যেকার সা'ঈতে দ্রুত চলেছিলেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কায় আসার পর ঋতুমতী হওয়ার কারণে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা ও মারওয়া সা'ঈ করতে পারিনি। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট এ অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেনঃ পবিত্র হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত অন্য সকল কাজ অপর হাজীদের ন্যায় সম্পন্ন করে নাও।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ হাজ্জ-এর ইহরাম বাধেন, তাদের মাঝে কেবল নবী (ﷺ) ও তালহা ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল না। আলী ইয়ামান হতে আগমন করেন, তার সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি [আলী] বললেন, নবী (ﷺ) যেরূপ ইহরাম বেধেছেন, আমিও সেরূপ ইহরাম বেধেছি। নবী (ﷺ) সাহাবীগণের মধ্যে যাদের নিকট কুরবানীর পশু ছিল না, তাদের ইহরামকে উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দিলেন, তারা যেন তাওয়াফ করে, চুল ছেঁটে অথবা মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। তারা বলাবলি করতে লাগলেন, (যদি হালাল হয়ে যাই তা হলে) স্ত্রীর সাথে মিলনের পরপরই আমাদের পক্ষে মিনায় যাওয়াটা কেমন হবে! তা অবগত হয়ে নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি পরে যা জানতে পেরেছি তা যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে কুরবানীর পশু সাথে আনতাম না। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম। (হাজ্জ-এর সফরে) আয়িশাহ ঋতুমতী হওয়ার কারণে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হাজ্জ-এর অন্য সকল কাজ সম্পন্ন করে নেন। পবিত্র হওয়ার পর তাওয়াফ আদায় করেন, (ফিরার পথে) আয়িশাহ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই হাজ্জ ও উমরাহ উভয়টি আদায় করে ফিরছে, আর আমি কেবল হাজ্জ আদায় করে ফিরছি, তখন নবী (ﷺ) আবদুর রাহমান ইবন আবূ বাকার-কে নির্দেশ দিলেন, যেন আয়িশাহ-কে নিয়ে তান'ঈমে চলে যান, (সেখানে গিয়ে উমরাহ'র ইহরাম বাধবেন)। আয়িশাহ হাজ্জের পর উমরাহ আদায় করে নিলেন।

হাফসাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের যুবতীদেরকে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ খালীফা-এর দূর্গে এলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, তার বোন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর এক সাহাবীর সহধর্মিণী ছিলেন। যিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে বারোটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, (সেগুলোর মধ্যে) ছয়টি যুদ্ধে আমার বোনও স্বামীর সঙ্গে ছিলেন। তার বোন বলেন, আমরা আহত যোদ্ধা ও অসুস্থ সৈনিকদের সেবা করতাম। আমার বোন নবী (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমাদের মধ্যে যার (শরীর উত্তমরূপে আবৃত করার মত) চাদর নেই, সে বের না হলে অন্যায় হবে কি? নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের একজন অপরজনকে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাদরটি দিয়ে দেয়া উচিত এবং কল্যাণমূলক কাজে ও মুমিনদের দোয়ায় বের হওয়া উচিত। উম্মু 'আতিয়্যা উপস্থিত হলে এ বিষয়ে তার নিকট আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কথা ব্দপ্পব্দ" (আমার পিতা উৎসর্গ হোন) ব্যতীত কখনও উচ্চারণ করতেন না। আমি তাকে বললাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে এরূপ বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হা, অবশ্যই। আমার পিতা উৎসর্গ হোন। তিনি বললেনঃ যুবতী ও পর্দাশীলা নারীদেরও বের হওয়া উচিত। অথবা বললেনঃ পর্দাশীলা যুবতী ও ঋতুমতীদেরও বের হওয়া উচিত। তারা কল্যাণমূলক কাজে এবং মুসলিমদের দোয়ায় যথাস্থানে উপস্থিত হবে। তবে ঋতুমতী মহিলাগণ সালাতের স্থানে উপস্থিত হবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঋতুমতী মহিলাও কি? তিনি বললেনঃ (কেন উপস্থিত হবে না?) তারা কি আরাফার ময়দানে এবং অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না?

আবদুল আযীয ইবন রুফাইয়' হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) সম্পর্কে আপনি যা উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছেন তার কিছুটা বলুন। বলুন, যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে যুহর ও আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করতেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, মিনা হতে ফিরার দিন আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মুহাস্সাবে। এরপর আনাস বললেন, তোমাদের আমীরগণ যেরূপ করবে, তোমরাও অনুরূপ কর।

আবদুল আযীয হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে মিনার দিকে বের হলাম, তখন আনাস-এর সাক্ষাৎ লাভ করি, তিনি গাধার পিঠে আরোহণ করে যাচ্ছিলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এ দিনে নবী (ﷺ) কোথায় যুহরের সালাত আদায় করেছিলেন? তিনি বললেন, তুমি লক্ষ্য রাখবে যেখানে তোমার আমীরগণ সালাত আদায় করবে, তুমিও সেখানেই সালাত আদায় করবে।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মিনায় দু' রাকাত সালাত আদায় করেছেন এবং আবূ বকর, উমার-ও। আর উসমান তার খিলাফতের প্রথম ভাগেও দু' রাকাত আদায় করেছেন।

হারিসাহ ইবন ওয়াহব খুযা'য় হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের নিয়ে মিনাতে দু' রাকাত সালাত আদায় করেছেন। এ সময় আমরা আগের তুলনায় সংখ্যায় বেশি ছিলাম এবং অতি নিরাপদে ছিলাম।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (মিনায়) নবী (ﷺ) -এর সাথে দু' রাকাত সালাত আদায় করেছি। আবূ বাকর-এর সাথে দু' রাকাত এবং উমার-এর সাথেও দু' রাকাত আদায় করেছি। এরপর তোমাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে [উসমান-এর সময় হতে চার রাকাত সালাত আদায় করা শুরু হয়েছে] আহা! যদি চার রাকাতের পরিবর্তে মকবূল দু'রাকাতই আমার ভাগ্যে জুটত!

উম্মু ফাযল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আরাফার দিনে নবী (ﷺ) -এর সওমের ব্যাপারে লোকজন সন্দেহ করতে লাগলেন। তাই আমি নবী (ﷺ) -এর নিকট শরবত পাঠিয়ে দিলাম। তিনি তা পান করলেন।

মুহাম্মদ ইবন আবূ বাকার সাকাফী হতে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবন মালিক-কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তারা উভয়ে সকাল বেলায় মিনা হতে আরাফার দিকে যাচ্ছিলেন, আপনারা এ দিনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে থেকে কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়া পড়তে চাইত তারা পড়ত, তাতে বাধা দেয়া হতো না এবং যারা তাকবীর পড়তে চাইত তারা তাকবীর পড়ত, এতেও বাধা দেয়া হতো না।

সালিম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (খলীফা) আবদুল মালিক (মক্কার গভর্নর) হাজ্জাজের নিকট লিখে পাঠালেন যে, হাজ্জের ব্যাপারে ইবন উমার-এর বিরোধিতা করবে না। আরাফার দিনে সূর্য ঢলে যাবার পর ইবন উমার হাজ্জাজের তাবুর কাছে গিয়ে উচ্চস্বরে ডাকলেন। আমি তখন তার (ইবন উমারের) সাথেই ছিলাম, হাজ্জাজ হলুদ রঙের চাদর পরিহিত অবস্থায় বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন, কী ব্যাপার, হে আবূ আবদুর রহমান? ইবন উমার বললেন, যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চাও তা হলে চল। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলেন, এ মুহূর্তেই? তিনি বললেন, হা। হাজ্জাজ বললেন, সামান্য অবকাশ দিন, মাথায় পানি ঢেলে বের হয়ে আসি। তখন তিনি তার সওয়ারী হতে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর হাজ্জাজ চলতে লাগলেন, আমি ও আমার পিতার মাঝে তিনি চললেন, আমি তাকে বললাম, যদি আপনি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তা হলে খুত্বা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকূফে দ্রুত করবেন। হাজ্জাজ আবদুল্লাহর দিকে তাকাতে লাগলেন। আবদুল্লাহ যখন তাকে দেখলেন তখন বললেন, সে ঠিকই বলেছে।

উম্মু ফাযল বিনত হারিস হতে বর্ণিত যে, লোকজন তার সামনে আরাফার দিনে নবী (ﷺ) -এর সওম সম্পর্কে মতভেদ করছিলেন। কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম আবার কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম নন। অতঃপর আমি তার কাছে এক পিয়ালা দুধ পাঠিয়ে দিলাম, তিনি তখন উটের উপর উপবিষ্ট ছিলেন, তিনি তা পান করে নিলেন।

সালিম সূত্রে বর্ণনা করেন যে, যে বছর হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ ইবন যুবাইরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, সে বছর তিনি আবদুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলেন, আরাফার দিনে উকূফের সময় আমরা কিরূপে কাজ করব? সালিম বললেন, আপনি যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তাহলে আরাফার দিনে দুপুরে সালাত আদায় করবেন। আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেন, সালিম ঠিক বলেছে। সুন্নাত মুতাবিক সাহাবীগণ যুহর ও আসর এক সাথেই আদায় করতেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি সালিমকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -ও কি এরূপ করেছেন? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে তোমরা কি আল্লাহর রাসূল (স)-এর সুন্নাত ব্যতীত অন্য কারো অনুসরণ করবে?

সালিম ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, (খলীফা) আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান (মক্কার গভর্নর) হাজ্জাজকে লিখে পাঠালেন, তিনি যেন হাজ্জের ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবন উমার-কে অনুসরণ করেন। যখন আরাফার দিন হল, তখন সূর্য ঢলে যাওয়ার পর ইবন উমার আসলেন এবং আমিও তার সঙ্গে ছিলাম। তিনি তার তাবুর কাছে এসে উচ্চস্বরে ডাকলেন ও কোথায়? হাজ্জাজ বেরিয়ে আসলেন। ইবন উমার বললেন, চল। হাজ্জাজ বললেন, এখনই? তিনি বললেন, হা। হাজ্জাজ বললেন, আমাকে একটু অবকাশ দিন, আমি গায়ে একটু পানি ঢেলে নিই। তখন ইবন উমার তার সওয়ারী হতে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর তিনি আমার ও আমার পিতার মাঝে চলতে লাগলেন। আমি বললাম, আজ আপনি যদি সঠিকভাবে সুন্নাত মুতাবিক কাজ করতে চান তাহলে খুত্বা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকূফে দ্রুত করবেন। ইবন উমার বললেন, সে (সালিম) ঠিকই বলেছে।

জুবাইর ইবন মুত'য়িম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার একটি উট হারিয়ে আরাফার দিনে তা তালাশ করতে লাগলাম। তখন আমি নবী (ﷺ) -কে আরাফায় উকূফ করতে দেখলাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম! তিনি তো কুরায়শ বংশীয়। এখানে তিনি কী করছেন?

উরওয়াহ হতে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে হুমস ব্যতীত অন্য লোকেরা উলঙ্গ অবস্থায় (বাইতুল্লাহর) তাওয়াফ করত। আর হুমস্ হলো কুরায়শ এবং তাদের ঔরসজাত সন্তান-সন্ততি। হুমসরা লোকেদের সেবা করে সওয়াবের আশায় পুরুষ পুরুষকে কাপড় দিত এবং সে তা পরে তাওয়াফ করত। আর স্ত্রীলোক স্ত্রীলোককে কাপড় দিত এবং এ কাপড়ে সে তাওয়াফ করত। হুমসরা যাকে কাপড় না দিত সে উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করত। সব লোক আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করত আর হুমসরা প্রত্যাবর্তন করত মুযদালিফা হতে। রাবী হিশাম বলেন, আমার পিতা আমার নিকট আয়িশাহ হতে বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি হুমস সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ (এরপর যেখান হতে অন্য লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান হতে প্রত্যাবর্তন করবে) রাবী বলেন, তারা মুযদালিফা হতে প্রত্যাবর্তন করত, এতে তাদের আরাফাহ পর্যন্ত যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হল।

উরওয়াহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসামাহ-কে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন আমি সেখানে উপবিষ্ট ছিলাম, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন আরাফা হতে ফিরতেন তখন তার চলার গতি কেমন ছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দ্রুতগতিতে চলতেন এবং যখন পথ মুক্ত পেতেন তখন তার চাইতেও দ্রুতগতিতে চলতেন।

উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যখন আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করছিলেন তখন তিনি একটি গিরিপথের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটিয়ে উযূ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেনঃ সালাত তোমার আরো সামনে।

নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমার মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার সালাত এক সাথে আদায় করতেন। এছাড়া তিনি সেই গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করতেন যে দিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গিয়েছিলেন। আর সেখানে প্রবেশ করে তিনি ইসতিনজা করতেন এবং উযূ করতেন কিন্তু সালাত আদায় করতেন না। অবশেষে তিনি মুযদালিফায় পৌছে সালাত আদায় করতেন।

উসামাহ ইবন যায়েদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরাফা হতে সওয়ারীতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর পেছনে আরোহণ করলাম। মুযদালিফার নিকটবর্তী বামপার্শ্বের গিরিপথে পৌছলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার উটটি বসালেন। এরপর পেশাব করে আসলেন। আমি তাকে উযূর পানি ঢেলে দিলাম। আর তিনি হালকাভাবে উযূ করে নিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত? তিনি বললেনঃ সালাত তোমার আরো সামনে। এ কথা বলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সওয়ারীতে আরোহণ করে মুযদালিফা আসলেন এবং সালাত আদায় করলেন। মুযদালিফার ভোরে ফযল [ইবন আব্বাস] আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর পিছনে আরোহণ করলেন।

কুরাইব বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস ফযল হতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জামরায় পৌছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, তিনি আরাফার দিনে নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে ফিরে আসছিলেন। তখন নবী (ﷺ) পিছনের দিকে খুব হাকডাক ও উট পিটানোর শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের চাবুক দিয়ে ইঙ্গিত করে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা ধীরস্থিরতা অবলম্বন কর। কেননা, উট দ্রুত হাকানোর মধ্যে কোন কল্যাণ নেই।

উসামাহ ইবন যায়েদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আরাফা হতে ফেরার সময় গিরিপথে অবতরণ করে পেশাব করলেন এবং উযূ করলেন। তবে পূর্ণাঙ্গ উযূ করলেন না। আমি তাকে বললাম, সালাত? তিনি বললেন, সালাত তো তোমার সামনে। অতঃপর তিনি মুযদালিফায় এসে উযূ করলেন এবং পূর্ণাঙ্গ উযূ করলেন। অতঃপর সালাতের ইকামত হলে তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। এরপর প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে নিজ নিজ উট দাড় করিয়ে রাখার পর সালাতের ইকামত দেয়া হলো। নবী (ﷺ) ইশার সালাত আদায় করলেন। ইশা ও মাগরিবের মধ্যে তিনি আর কোন সালাত আদায় করেননি।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা এক সাথে আদায় করেন। প্রত্যেকটির জন্য আলাদা ইকামত দেয়া হয়। তবে উভয়ের মধ্যে বা পরে তিনি কোন নফল সালাত আদায় করেননি।

আবূ আইয়ুব আনসারী হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বিদায় হাজ্জের সময় মুযদালিফায় মাগরিব এবং ইশা একত্রে আদায় করেছেন।

আবদুর রাহমান ইবন ইয়াযিদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ হাজ্জ আদায় করলেন। তখন ইশার আযানের সময় বা তার কাছাকাছি সময় আমরা মুযদালিফায় পৌছলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে আদেশ দিলেন। সে আযান দিল এবং ইকামত বলল। তিনি মাগরিব আদায় করলেন এবং এরপর আরো দু' রাকাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি রাতের খাবার আনালেন এবং তা খেয়ে নিলেন। (রাবী বলেন) অতঃপর তিনি একজনকে আদেশ দিলেন। আমার মনে হয়, লোকটি আযান দিল এবং ইকামত বলল। আমর বলেন, আমার বিশ্বাস এ সন্দেহ যুহাইর হতেই হয়েছে। অতঃপর তিনি দু' রাকাত ইশার সালাত আদায় করলেন। ফজর হওয়া মাত্রই তিনি বললেনঃ এ সময়, এ দিনে, এ স্থানে, এ সালাত ব্যতীত নবী (ﷺ) আর কোন সালাত আদায় করেননি। আবদুল্লাহ বলেন, এ দু'টি সালাত তাদের প্রচলিত ওয়াক্ত হতে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই লোকেরা মুযদালিফা পৌছার পর মাগরিব আদায় করেন এবং ফজরের সময় হওয়া মাত্র ফজরের সালাত আদায় করেন। আবদুল্লাহ বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে এরূপ করতে দেখেছি।

সালিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমার তার পরিবারের দুর্বল লোকদের আগেই পাঠিয়ে দিয়ে রাতে মুযদালিফাতে মাশ'আরে হারামের নিকট উকূফ করতেন এবং সাধ্যমত আল্লাহর যিকর করতেন। অতঃপর ইমাম (মুযদালিফায়) উকূফ করার ও রওয়ানা হওয়ার আগেই তারা (মিনায়) ফিরে যেতেন। তাদের মধ্যে কেউ মিনাতে আগমন করতেন ফজরের সালাতের সময় আর কেউ এরপরে আসতেন, মিনাতে এসে তারা কঙ্কর মারতেন। ইবন উমার বলতেন, তাদের জন্য রাসূল (ﷺ) কড়াকড়ি শিথিল করে সহজ করে দিয়েছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে রাতে মুযদালিফা হতে পাঠিয়েছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মুযদালিফার রাতে তার পরিবারের যে সব লোককে এখানে পাঠিয়েছিলেন, আমি তাদের একজন।

আসমা হতে বর্ণিত যে, তিনি মুযদালিফার রাতে মুযদালিফার কাছাকাছি স্থানে পৌছে সালাতে দাড়ালেন এবং কিছুক্ষণ সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, হে বৎস! চাঁদ কি অস্তমিত হয়েছে? আমি বললাম, না। তিনি আরো কিছুক্ষণ সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, হে বৎস! চাঁদ কি ডুবেছে? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, চল। আমরা রওয়ানা হলাম এবং চললাম। পরিশেষে তিনি জামরায় কঙ্কর মারলেন এবং ফিরে এসে নিজের অবস্থানের জায়গায় ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আমি তাকে বললাম, হে মহিলা! আমার মনে হয়, আমরা বেশি অন্ধকার থাকতেই আদায় করে ফেলেছি। তিনি বললেন, বৎস! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মহিলাদের জন্য এর অনুমতি দিয়েছেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সওদা মুযদালিফার রাতে (মিনা যাওয়ার জন্য) নবী (ﷺ) -এর নিকট অনুমতি চাইলেন, তিনি তাকে অনুমতি দেন। সওদাহ ছিলেন ভারী ও ধীরগতিসম্পন্না নারী।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মুযদালিফায় অবতরণ করলাম। মানুষের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হওয়ার জন্য সওদা নবী (ﷺ) -এর কাছে অনুমতি চাইলেন। আর তিনি ছিলেন ধীরগতি মহিলা। নবী (ﷺ) তাকে অনুমতি দিলেন। তাই তিনি লোকের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হলেন। আর আমরা সকাল পর্যন্ত সেখানেই রয়ে গেলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রওয়ানা হলেন, আমরা তার সঙ্গে রওয়ানা হলাম। সওদার মত আমিও যদি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট অনুমতি চেয়ে নিতাম তাহলে তা আমার জন্য হতে অধিক সন্তুষ্টির ব্যাপার হতো।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে দু'টি সালাত ব্যতীত আর কোন সালাত তার নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত আদায় করতে দেখিনি। তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছেন এবং ফজরের সালাত তার ওয়াক্তের আগে আদায় করেছেন।

আব্দুর রাহমান ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ-এর সঙ্গে মক্কা রওয়ানা হলাম। এরপর আমরা মুযদালিফায় পৌছলাম। তখন তিনি পৃথক পৃথক আযান ও ইকামতের সাথে উভয় সালাত (মাগরিব ও ইশা) আদায় করলেন এবং এ দু' সালাতের মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিলেন। অতঃপর ফজর হতেই তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন। কেউ কেউ বলছিল যে, ফজরের সময় হয়ে গেছে, আবার কেউ বলছিল যে, এখনো ফজরের সময় আসেনি। এরপর 'আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, এ দু' সালাত মাগরিব ও ইশা এ স্থানে তাদের নিজ সময় হতে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই ইশার ওয়াক্তের আগে কেউ যেন মুযদালিফায় না আসে। আর ফজরের সালাত এই মুহূর্তে। এরপর তিনি ফর্সা হওয়া পর্যন্ত সেখানে উকূফ করেন। এরপর বললেন, আমীরুল মুমিনীন যদি এখন রওয়ানা হন তাহলে তিনি সুন্নাত মুতাবিক কাজ করলেন। (রাবী বলেন) আমার জানা নেই, তার কথা দ্রুত ছিল, না উসমান-এর রওয়ানা হওয়াটা। এরপর তিনি তালবিয়া পাঠ করতে থাকলেন, কুরবানীর দিন জামরায়ে 'আকাবাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত।

আমর ইবন মায়মূন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার-এর সাথে ছিলাম। তিনি মুযদালিফাতে ফজরের সালাত আদায় করে (মাশ'আরে হারামে) উকূফ করলেন এবং তিনি বললেন, মুশরিকরা সূর্য না উঠা পর্যন্ত রওয়ানা হত না। তারা বলত, হে সাবীর! আলোকিত হও। নবী (ﷺ) তাদের বিপরীত করলেন এবং তিনি সূর্য উঠার আগেই রওয়ানা হলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ফাযল-কে তার সওয়ারীর পেছনে বসিয়েছিলেন। সেই ফাযল বলেছেন, নবী (ﷺ) জামরায় পৌছে কঙ্কর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করছিলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, আরাফা হতে মুযদালিফা আসার পথে নবী (ﷺ) -এর সওয়ারীর পেছনে উসামাহ উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর মুযদালিফা হতে মিনার পথে তিনি (ﷺ) ফাযলকে সওয়ারীর পেছনে বসালেন। ইবন আব্বাস বলেন, তারা উভয়েই বলেছেন, নবী (ﷺ) জামরায়ে 'আকাবাতে কঙ্কর না মারা পর্যন্ত অনবরত তালবিয়া পাঠ করছিলেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (১৬৮৬)।

আবূ জামরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস-কে তামাত্তু' হাজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে তা আদায় করতে আদেশ দিলেন। এরপর আমি তাকে কুরবানী সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তামাত্তু'র কুরবানী হলো একটি উট, গরু বা বকরী অথবা এক কুরবানীর পশুর মধ্যে শরীকানা এক অংশ। আবূ জামরাহ বলেন, লোকেরা তামাত্তু' হাজ্জকে যেন অপছন্দ করত। একদা আমি ঘুমালাম তখন দেখলাম, একটি লোক যেন (আমাকে লক্ষ্য করে) ঘোষণা দিচ্ছে, উত্তম হাজ্জ এবং মাকবূল তামাত্তু'। এরপর আমি ইবন আব্বাস-এর কাছে এসে স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করে বললেন, এটাই তো আবুল কাসিম (ﷺ) -এর সুন্নাত। আদম, ওয়াহাব ইবন জারীর এবং গুনদার শুবাহ্ হতে মাকবূল উমরাহ এবং উত্তম হাজ্জ বলে উল্লেখ করেছেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এর পিঠে সওয়ার হয়ে চল। এবারও লোকটি বলল, এ-তো কুরবানীর উট। এরপরও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর, তোমার সর্বনাশ! এ কথাটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারে বলেছেন।

আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। লোকটি বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হাজ্জ ও উমরাহ একসাথে পালন করেছেন। তিনি হাদী পাঠান যুল-হুলাইফা হতে কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে নেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) প্রথমে উমরাহ'র ইহরাম বাধেন, এরপর হাজ্জের ইহরাম বাধেন। সাহাবীগণ তার সঙ্গে উমরাহ'র ও হাজ্জের নিয়্যাতে তামাত্তু' করলেন। সাহাবীগণের কতেক হাদী সাথে নিয়ে চললেন, আর কেউ কেউ হাদী সাথে নেননি। এরপর নবী (ﷺ) মক্কা পৌছে সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছ, তাদের জন্য হাজ্জ সমাপ্ত করা পর্যন্ত কোন নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে আসনি, তারা বাইতুল্লাহর এবং সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবে। এরপর হাজ্জের ইহরাম বাধবে। তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা হাজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সওম পালন করবে। নবী (ﷺ) মক্কা পৌছেই তাওয়াফ করলেন। প্রথমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং তিন চক্কর রামল করে আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেটে তাওয়াফ করলেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন, সালাম ফিরিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সা'ঈ করলেন। হাজ্জ সমাধান করা পর্যন্ত তিনি যা কিছু হারাম ছিল তা হতে হালাল হয়নি। তিনি কুরবানীর দিনে হাদী কুরবানী করলেন, সেখান হতে এসে তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। অতঃপর তার উপর যা হারাম ছিল সে সব কিছু হতে তিনি হালাল হয়ে গেলেন। সাহাবীগণের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তারা সেরূপ করলেন, যেরূপ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) করেছিলেন।

উরওয়া আয়িশাহ হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) হাজ্জের সাথে উমরাহ পালন করেন এবং তার সঙ্গে সাহাবীগণও তামাত্তু' করেন, যেমনি বর্ণনা করেছেন সালিম ইব্ন উমার সূত্রে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে।

নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমার-এর পুত্র আবদুল্লাহ তার পিতাকে বললেন, আপনি (এবার বাড়িতেই) অবস্থান করুন। কেননা, বাইতুল্লাহ হতে আপনার বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। আবদুল্লাহ বললেন, তাহলে আমি তাই করব যা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) করেছিলেন। তিনি আরো বলেন, "নিশ্চই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ"- (আহযাবঃ ২১)। সুতরাং আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, (এবার) উমরাহ আদায় করা আমি আমার উপর ওয়াজিব করে নিয়েছি। তাই তিনি উমরাহ'র জন্য ইহরাম বাধলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি রওয়ানা হলেন, যখন বায়দা নামক স্থানে পৌছলেন তখন তিনি হাজ্জ এবং উমরাহ উভয়টির জন্য ইহরাম বেধে বললেন, হাজ্জ এবং উমরাহ'র ব্যাপার তো একই। এরপর তিনি কুদাইদ নামক স্থান হতে কুরবানীর পশু কিনলেন এবং মক্কা পৌছে (হাজ্জ ও উমরাহ) উভয়টির জন্য একটি তাওয়াফ করলেন। উভয়ের সব কাজ শেষ করা পর্যন্ত তিনি ইহরাম খুললেন না।

মিসওয়ার ইবন মাখরামা ও মারওয়ান হতে বর্ণিত। তারা উভয়েই বলেছেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির পর নবী (ﷺ) এক হাজারেরও অধিক সাহাবী নিয়ে মাদ্বীনা হতে বের হয়ে যুল-হুলাইফা পৌছে কুরবানীর পশুটিকে কিলাদা পরালেন এবং ইশ'আর করলেন। এরপর তিনি উমরাহ'র ইহরাম বাধলেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (১৬৯৪)।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে নবী (ﷺ) -এর কুরবানীর (হাদী) পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি তাকে কিলাদা পরিয়ে ইশ'আর করার পর পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং তার জন্য যা হালাল ছিল এতে তা হারাম হয়নি।

হাফসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হল তারা হালাল হয়ে গেল আর আপনি হালাল হলেন না? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমি তো আমার মাথার তালবিদ করেছি এবং আমার কুরবানীর পশুকে কিলাদা পরিয়ে দিয়েছি, তাই হাজ্জ সমাধা না করা পর্যন্ত আমি হালাল হতে পারি না।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মাদ্বীনা হতে কুরবানীর পশু পাঠাতেন, আমি তার গলায় কিলাদার মালা পাকিয়ে দিতাম। এরপর মুহরিম যে কাজ বর্জন করে, তিনি তার কিছু বর্জন করতেন না।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -এর কুরবানীর (হাদী) পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিলাম। এরপর তিনি তার ইশ'আর করলেন এবং তাকে তিনি কিলাদা পরিয়ে দিলেন অথবা আমি একে কিলাদা পরিয়ে দিলাম। এরপর তিনি তা বাইতুল্লাহর দিকে পাঠালেন এবং নিজে মাদ্বীনায় থাকলেন এবং তার জন্য যা হালাল ছিল তা হতে কিছুই তার জন্য হারাম হয়নি।

যিয়াদ ইবন আবূ সুফ্ইয়ান হতে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশাহ-এর নিকট পত্র লিখলেন যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু (হাদী) (মক্কা) পাঠায় তা যবহ না করা পর্যন্ত তার জন্য ঐ সমস্ত কাজ হারাম হয়ে যায়, যা হাজীদের জন্য হারাম। (বর্ণনাকারিণী) আমরাহ বলেন, আয়িশাহ বললেন, ইবন আব্বাস যেমন বলেছেন, ব্যাপার তেমন নয়। আমি নিজ হাতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কুরবানীর পশুর (হাদী) কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি আর তিনি নিজ হাতে তাকে কিলাদা পরিয়ে দেন। এরপর আমার পিতার সঙ্গে তা পাঠান। সে পশু যবহ করা পর্যন্ত আল্লাহ কর্তৃক হালাল করা কোন বস্তুই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর প্রতি হারাম হয়নি।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) কুরবানীর জন্য বকরী পাঠালেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -এর (কুরবানীর [হাদী] পশুর) কিলাদাগুলো পাকিয়ে দিতাম আর তিনি তা বকরীর গলায় পরিয়ে দিতেন। এরপর তিনি নিজ পরিবারে হালাল অবস্থায় থেকে যেতেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -এর বকরীর কিলাদা পাকিয়ে দিতাম আর তিনি সেগুলো পাঠিয়ে দিয়ে হালাল অবস্থায় থেকে যেতেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -এর কুরবানীর (হাদী) পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি, তার ইহরাম বাধার আগে।

[আয়িশাহ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে যে পশম ছিল আমি তা দিয়ে কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে একটি কুরবানীর উট হাকিয়ে নিতে দেখে বললেনঃ এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। লোকটি বলল, এটি কুরবানীর উট। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। বর্ণনাকারী বলেন, আমি লোকটিকে দেখেছি যে, সে ঐ পশুটির পিঠে চড়ে নবী (ﷺ) -এর সাথে সাথে চলছিল আর পশুটির গলায় জুতার মালা ঝুলানো ছিল। মুহাম্মাদ ইবন বাশ্শার এ বর্ণনার অনুসরণ করেছেন। উসমান ইবন উমার...আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন।

আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে যবেহকৃত কুরবানীর উটের পৃষ্ঠের আবরণ এবং তার চামড়া সদাকাহ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন যুবাইরের খিলাফতকালে খারিজীদের হাজ্জ আদায়ের বছর ইবন উমার হাজ্জ পালন করার ইচ্ছা করেন। তখন তাকে বলা হল, লোকেদের মাঝে পরস্পর লড়াই সংঘটিত হতে যাচ্ছে, আর তারা আপনাকে বাধা দিতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করি। ইবন উমার বললেন, (আল্লাহ তাআলা বলেছেন) "নিশ্চই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যেই রয়েছে উত্তম আদর্শ"- (আল-আহযাবঃ ২১)। কাজেই আমি সেরূপ করব যেরূপ করেছিলেন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী করে বলছি, আমি আমার উপর উমরাহ ওয়াজিব করে ফেলেছি। এরপর বায়দার উপকন্ঠে পৌছে তিনি বললেন, হাজ্জ এবং উমরাহ'র ব্যাপার তো একই। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী করে বলছি, উমরাহ'র সাথে আমি হাজ্জকেও একত্রিত করলাম। এরপর তিনি কিলাদা পরিহিত কুরবানীর পশু নিয়ে চললেন, যেটি তিনি আসার পথে কিনেছিলেন। অতঃপর তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা'ঈ করলেন। তাছাড়া অতিরিক্ত কিছু করেননি এবং সে সব বিষয় হতে হালাল হননি যেসব বিষয় তার উপর হারাম ছিল- কুরবানীর দিন পর্যন্ত। তখন তিনি মাথা মুড়ালেন এবং কুরবানী করলেন। তার মতে প্রথম তাওয়াফ দ্বারা হাজ্জ ও উমরাহ'র তাওয়াফ সম্পন্ন হয়েছে। এ সব করার পর তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এরূপই করেছেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিল-কা'দাহ মাসের পাচ দিন বাকী থাকতে আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হাজ্জ আদায় করা ব্যতীত আমাদের অন্য কোন ইচ্ছা ছিল না। যখন আমরা মক্কার কাছাকাছি পৌছলাম, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আদেশ করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু নেই সে যেন বাইতুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার সা'ঈ করে হালাল হয়ে যায়। আয়িশাহ বলেন, কুরবানীর দিন আমাদের কাছে গরুর গোশ্ত আনা হলে আমি বললাম, এ কী? তারা বলল, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার স্ত্রীদের পক্ষ হতে কুরবানী করেছেন। ইয়াহইয়া বলেন, উক্ত হাদীসখানা কাসিমের নিকট আলোচনা করলে তিনি বললেন, সঠিকভাবেই তিনি হাদীসটি তোমার কাছে বর্ণনা করেছেন।

নাফি হতে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ কুরবানীর স্থানে কুরবানী করতেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কুরবানীর স্থানে।

নাফি হতে বর্ণিত যে, ইবন উমার মুযদালিফা হতে শেষ রাতের দিকে হাজীদের সাথে, যাদের মধ্যে আযাদ ও ক্রীতদাস থাকত, নিজ কুরবানীর পশু পাঠিয়ে দিতেন, যাতে তা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কুরবানীর স্থানে পৌছে যায়।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) নিজ হাতে সাতটি উট দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় কুরবানী করেন এবং মদ্বীনাতেও হৃষ্টপুষ্ট শিং বিশিষ্ট সুন্দর দু'টি দুম্বা তিনি কুরবানী করেছেন। এখানে হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে।

যিয়াদ ইবন জুবাইর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমার-কে দেখেছি যে, তিনি আসলেন এমন এক ব্যক্তির নিকট, যে তার নিজের উটটিকে নহর করার জন্য বসিয়ে রেখেছিল। ইবন উমার বললেন, সেটি উঠিয়ে দাড়ানো অবস্থায় বেধে নাও। (এ) মুহাম্মদ (ﷺ) -এর সুন্নাত।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মদিনা্তে যোহর চার রাকাত এবং যুল হুলাইফাতে আসর দু'রাকাত আদায় করলেন এবং এখানেই রাত যাপন করলেন। ভোর হলে তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করে তাহ্লীল ও তাসবীহ পাঠ করতে লাগলেন। এরপর বায়দায় যাওয়ার পর তিনি হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের জন্য তালবিয়া পাঠ করেন এবং মক্কায় প্রবেশ করে তিনি সহাবাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। আর (সে হাজ্জে) নবী (ﷺ) সাতটি উট দাড় করিয়ে নিজ হাতে কুরবানী করেন আর মদ্বীনাহ্তে হৃষ্টপুষ্ট শিং বিশিষ্ট সুন্দর দু'টি ভেড়া কুরবানী দেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মদিনা্তে যুহর চার রাকাত এবং যুল-হুলাইফাতে আসর দু' রাকাত আদায় করেন। আইয়ূব এক ব্যক্তির মাধ্যমে আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণনা করেন, এরপর তিনি সেখানে রাত যাপন করেন। ভোর হলে তিনি ফজরের সালাত আদায় করার পর সওয়ারীতে আরোহণ করেন। সওয়ারী বায়দায় পৌছে সোজা হয়ে দাড়ালে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের জন্য তালবিয়া পাঠ করেন।

আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে পাঠালেন, আমি কুরবানীর পশুর পাশে গিয়ে দাড়ালাম, অতঃপর তিনি আমাকে আদেশ করলেন। আমি ওগুলোর গোশ্ত বণ্টন করে দিলাম। এরপর তিনি আমাকে আদেশ করলেন। আমি এর পিঠের আবরণ এবং চামড়াগুলোও বিতরণ করে দিলাম। আলী আরও বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে আদেশ করলেন কুরবানীর পশুর পাশে দাড়াতে এবং এর হতে পারিশ্রমিক হিসেবে কসাইকে কিছু না দিতে।

আলী হতে বর্ণিত যে, তাকে নবী (ﷺ) তার নিজের কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাড়াতে আর এগুলোর সমুদয় গোশ্ত, চামড়া এবং পিঠের আবরণসমূহ বিতরণ করতে নির্দেশ দেন এবং তা হতে যেন কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছুই না দেয়া হয়।

আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কুরবানীর একশ উট পাঠান এবং আমাকে গোশত সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন। আমি তা বণ্টন করে দিলাম। এরপর তিনি তার পিঠের আবরণ সম্বন্ধে আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি তা বণ্টন করে দিলাম। অতঃপর তিনি আমাকে চামড়া সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন, আমি তা বণ্টন করে দিলাম।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কুরবানীর গোশ্ত মিনা'র তিন দিনের বেশি খেতাম না। এরপর নবী (ﷺ) আমাদের অনুমতি দিলেন এবং বললেনঃ খাও এবং সঞ্চয় করে রাখ। তাই আমরা খেলাম এবং সঞ্চয়ও করলাম। রাবী বলেন, আমি আতা-কে বললাম, জাবির কি বলেছেন আমরা মদ্বীনায় আসা পর্যন্ত? তিনি বললেন, না।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুল-কা'দার পাচ দিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হাজ্জ ব্যতীত আমরা অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি, অবশেষে আমরা যখন মক্কার নিকটে পৌছলাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আদেশ করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই সে যেন বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করে হালাল হয়ে যায়। আয়িশাহ বলেন, এরপর কুরবানীর দিন আমাদের কাছে গরুর গোশত পাঠানো হল। আমি বললাম, এ কী? বলা হল, নবী (ﷺ) তার স্ত্রীদের তরফ হতে কুরবানী করেছেন। ইয়াহ্ইয়া বলেন, আমি কাসিম-এর নিকট হাদীসটি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আমরাহ্ হাদীসটি ঠিক ভাবেই তোমার নিকট বর্ণনা করেছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -কে সে ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল, যে মাথা কামানোর আগে কুরবানী অথবা অনুরূপ কোন কাজ করেছে। তিনি বললেনঃ এতে কোন দোষ নেই, এতে কোন দোষ নেই।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সাহাবী নবী (ﷺ) -কে বললেন, আমি কঙ্কর মারার আগেই তাওয়াফে যিয়ারা করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। সাহাবী পুনরায় বললেন, আমি যবহ করার আগেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। সাহাবী আবারও বললেন, আমি কঙ্কর মারার আগেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। আবদুর রহীম ইবন সুলাইমান রাযী, কাসিম ইবন ইয়াহইয়া ও 'আফ্ফান....ইবন আব্বাস সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। হাম্মাদ...জাবির সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করা হল, সন্ধ্যার পর আমি কঙ্কর মেরেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। সে আবার বলল, কুরবানী করার আগেই আমি মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ এতো কোন দোষ নেই।

আবূ মূসা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাতহা নামক স্থানে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট গেলাম। তিনি বললেনঃ হাজ্জ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হা। তিনি বললেনঃ কিসের জন্য ইহরাম বেধেছিলে? আমি বললাম, নবী (ﷺ) -এর মত ইহরাম বেধে আমি তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেনঃ ভালই করেছ। যাও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর এবং সাফা-মারওয়ার সা'য়ী কর। এরপর আমি বনূ কায়স গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম। তিনি আমার মাথার উকুন বেছে দিলেন। অতঃপর আমি হাজ্জের ইহরাম বাধলাম। (তখন হতে) উমার-এর খিলাফতকাল পর্যন্ত এ ভাবেই আমি লোকদের (হাজ্জ এবং উমরাহ সম্পর্কে) ফতোয়া দিতাম। অতঃপর তার সঙ্গে আমি এ বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করি তাহলে তা আমাদের পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর যদি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সুন্নতের অনুসরণ করি তাহলে তো (দেখি যে), আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কুরবানীর জানোয়ার যথাস্থানে পৌছার আগে হালাল হননি।

হাফসা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! লোকদের কী হল যে, তারা উমরাহ করে হালাল হয়ে গেল অথচ আপনি উমরাহ হতে হালাল হননি! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমি তো আমার মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং পশুর গলায় কিলাদা ঝুলিয়েছি। তাই কুরবানী না করে আমি হালাল হতে পারি না।

নাফি হতে বর্ণিত যে, ইবন উমার বলতেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হাজ্জের সময় তার মাথা কামিয়েছিলেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা মাথার চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। এবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। লায়স বলেন, আমাকে নাফি বলেছেন, আল্লাহ মাথা মুন্ডনকারীদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, এ কথাটি তিনি একবার অথবা দু'বার বলেছেন। রাবী বলেন, উবায়দুল্লাহ নাফি হতে বর্ণনা করেন, চতুর্থবার বলেছেনঃ চুল যারা ছোট করেছে তাদের প্রতিও।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদের ক্ষমা করুন। সাহাবীগণ বললেন, যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদেরকে ক্ষমা প্রদর্শন করুন। সাহাবীগণ বললেন, যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কথাটি তিনবার বলেন, এরপর বললেনঃ যারা চুল ছোট করেছে তাদের উপরও।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মাথা কামালেন এবং সাহাবীদের একদলও। আর অন্য একটি দল চুল ছোট করলেন।

ইবন আব্বাস ও মু'আবিয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি কাঁচি দিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর চুল ছোট ছোট করে দিয়েছিলাম।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মক্কায় এসে সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন বাইতুল্লাহ এবং সাফা ও মারওয়ার তাওয়াফ করে। এরপর মাথার চুল মুড়িয়ে বা চুল ছেঁটে হালাল হয়ে যায়।

ইবন উমার হতে বর্ণিত, তিনি একদা তাওয়াফ করলেন, এরপর কায়লুলা করেন এবং অতঃপর মিনায় আসেন কুরবানীর দিন। আবদুর রাযযাক এটি মারফূ' হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমার নিকট উবাইদুল্লাহ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে হাজ্জ আদায় করে কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারাহ্ করলাম। এ সময় সাফিয়্যাহ-এর ঋতু দেখা দিল। তখন নবী (ﷺ) তার সঙ্গে তা ইচ্ছা করছিলেন যা একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে ইচ্ছা করে থাকে। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো ঋতুমতী। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তবে তো সে আমাদের আটকিয়ে ফেলবে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সাফিয়্যাহ তো কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারা করে নিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তবে রওয়ানা হও। কাসিম, 'উরওয়া ও আসাদ সূত্রে আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, সাফিয়্যা কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারাহ্ আদায় করেছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) -কে যবহ করা, মাথা কামান ও কঙ্কর মারা এবং (এ কাজগুলো) আগে-পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -কে মিনাতে কুরবানীর দিন (বিভিন্ন বিষয়ে) জিজ্ঞেস করা হত, তখন তিনি বলতেনঃ কোন দোষ নেই। তাকে এক সাহাবী জিজ্ঞেস করে বললেন, আমি যবহ (কুরবানী) করার আগেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ যবহ করে নাও, এতে দোষ নেই। সাহাবী আরো বললেন, আমি সন্ধ্যার পর কঙ্কর মেরেছি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ কোন দোষ নেই।

আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত যে, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (সাওয়ারীতে) অবস্থান করছিলেন, তখন সাহাবীগণ তাকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেনঃ একজন জিজ্ঞেস করলেন, আমি জানতাম না, তাই কুরবানী করার আগেই (মাথা) কামিয়ে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তুমি কুরবানী করে নাও, কোন দোষ নেই। অতঃপর অপর একজন এসে বললেন, আমি না জেনে কঙ্কর মারার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ কঙ্কর মেরে নাও, কোন দোষ নেই। সেদিন যে কোন কাজ আগে পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই।

আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন 'আস হতে বর্ণিত যে, কুরবানীর দিন নবী (ﷺ) -এর খুতবা দেওয়ার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন এক সাহাবী দাড়িয়ে বললেন, আমার ধারণা ছিল অমুক কাজের আগে অমুক কাজ। এরপর অপর এক সাহাবী দাড়িয়ে বললেন, আমার ধারণা ছিল অমুক কাজের আগে অমুক কাজ, আমি কুরবানী করার আগে মাথা কামিয়ে ফেলেছি। আর কঙ্কর মারার আগে কুরবানী করে ফেলেছি। এরূপ অনেক কথা জিজ্ঞেস করা হয়। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই। সব কটির জবাবে তিনি এ কথাই বললেন। সেদিন তাকে যা-ই জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, উত্তরে তিনি বলেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই।

আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন 'আস হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তার উটনীর উপর অবস্থান করছিলেন। অতঃপর হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। যুহরী হতে এ হাদীস বর্ণনায় মা'মার সালিহ-এর অনুসরণ করেছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কুরবানীর দিন লোকদের উদ্দেশে একটি খুৎবাহ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! আজকের এ দিনটি কোন দিন? সকলেই বললেন, সম্মানিত দিন। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ শহরটি কোন শহর? তারা বললেন, সম্মানিত শহর। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ মাসটি কোন মাস? তারা বললেনঃ সম্মানিত মাস। তিনি বললেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের ইয্যত-সম্মান তোমাদের জন্য তেমনি সম্মানিত, যেমন সম্মানিত তোমাদের এ দিনটি, তোমাদের এ শহরে এবং তোমাদের এ মাস। এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। পরে মাথা উঠিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি কি (আপনার পয়গাম) পৌছিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌছিয়েছি? ইবন আব্বাস বলেন, সে সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চই এ কথাগুলো ছিল তার উম্মতের জন্য অসীয়ত। [নবী (ﷺ) আরো বলেনঃ] উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌছিয়ে দেয়। আমার পরে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী (ﷺ) -কে আরাফাত ময়দানে খুত্বা দিতে শুনেছি।

আবূ বাকরা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানীর দিন নবী (ﷺ) আমাদের খুত্বা দিলেন এবং বললেনঃ তোমরা কি জান আজ কোন দিন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূল (ﷺ) সব চেয়ে বেশি জানেন। নবী (ﷺ) নীরব হয়ে গেলেন। আমরা ধারণা করলাম সম্ভবতঃ নবী (ﷺ) এর নাম পাল্টিয়ে অন্য নামে নামকরণ করবেন। তিনি বললেনঃ এটা কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা বললাম, হা। তিনি বললেনঃ এটি কোন মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূল (ﷺ) -ই সবচেয়ে বেশি জানেন। তিনি নীরব হয়ে গেলেন। আমরা মনে করতে লাগলাম, হয়ত তিনি এর নাম পাল্টিয়ে অন্য কোন নামে নামকরণ করবেন। তিনি বললেনঃ এ কি যিলহজ্জের মাস নয়? আমরা বললাম, হা। অতঃপর তিনি বললেনঃ এটি কোন শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূল (ﷺ) -ই সবচেয়ে বেশি জানেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নীরব হয়ে গেলেন। ফলে আমরা ভাবতে লাগলাম, হয়ত তিনি এর নাম বদলিয়ে অন্য নামকরণ করবেন। তিনি বললেনঃ এ কি সম্মানিত শহর নয়? আমরা বললাম, নিশ্চই। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের জান এবং তোমাদের মাল তোমাদের জন্য তোমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত এমন সম্মানিত যেমন সম্মান রয়েছে তোমাদের এ দিনের, তোমাদের এ মাসের এবং তোমাদের এ শহরের। নবী (ﷺ) সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললেনঃ শোন! আমি কি পৌছিয়েছি তোমাদের কাছে? সাহাবীগণ বললেন, হা (হে আল্লাহর রাসূল)। অতঃপর তিনি বললেনঃ প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (আমার দাওয়াত) পৌছিয়ে দেয়। কেননা, যাদের কাছে পৌছানো হবে তাদের মধ্যে অনেক ব্যক্তি এমন থাকে যে, শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী। তোমরা আমার পরে পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মিনায় অবস্থানকালে বললেনঃ তোমরা কি জান, এটি কোন দিন? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূল (ﷺ) সবচেয়ে বেশি জানেন। তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত দিন। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কি জান এটি কোন শহর? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূল (ﷺ) সবচেয়ে বেশি জানেন। তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত শহর। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কি জান এটি কোন মাস? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত মাস। নবী (ﷺ) বললেনঃ এ মাস, এ শহর, এ দিনটি তোমাদের জন্য যেমন সম্মানিত, তেমনিভাবে আল্লাহ তাআলা তোমাদের জান, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের ইয্যত-আবরুকে তোমাদের পরস্পরের জন্য সম্মানিত করে দিয়েছেন। হিশাম ইবন গায নাফি-এর মাধ্যমে ইবন উমার হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) তার হাজ্জ আদায়কালে কুরবানীর দিন জামারাতের মধ্যবর্তী স্থলে দাড়িয়ে এ কথাগুলো বলেছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন যে, এটি হল হাজ্জে আকবারের দিন। এরপর নবী (ﷺ) বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক। এরপর তিনি সাহাবীগণকে বিদায় জানালেন। তখন সাহাবীগণ বললেন, এটি-ই বিদায় হাজ্জ।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, [আব্বাস পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থানের ব্যাপারে নবী (ﷺ) -এর নিকট অনুমতি চাইলে] তিনি তাকে অনুমতি দিলেন।

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত: যে নবী (ﷺ) মিনার রাতে হাজীদের পানি সরবরাহকারী লোকদের মক্কায় থাকার অনুমতি দিয়েছেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আব্বাস পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থানের ব্যাপারে নবী (ﷺ) -এর নিকট অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন।

ওয়াবারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমার-কে জিজ্ঞেস করলাম, কখন কঙ্কর নিক্ষেপ করব? তিনি বললেন, তোমার ইমাম যখন কঙ্কর নিক্ষেপ করবে, তখন তুমিও নিক্ষেপ করবে। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, আমরা সময়ের অপেক্ষা করতাম, যখন সূর্য ঢলে যেত তখনই আমরা কঙ্কর নিক্ষেপ করতাম।

আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বাতন ওয়াদী হতে কঙ্কর মারেন। তখন আমি তাকে বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান! লোকেরা তো এর উচ্চস্থান হতে কঙ্কর মারে। তিনি বললেন, সে সত্তার কসম! যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, এটা সে স্থান, যেখানে সূরা আল-বাকারাহ নাযিল হয়েছে।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি জামরাতুল কুবরা বা বড় জামরার কাছে গিয়ে বায়তুল্লাহকে বামে ও মিনাকে ডানে রেখে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। আর বলেন, যার প্রতি সূরা আল-বাকারাহ নাযিল হয়েছে তিনিও এরূপ কঙ্কর মেরেছেন।

আবদুর রাহমান ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, তিনি ইবন মাসঊদ-এর সঙ্গে হাজ্জ আদায় করলেন। তখন তিনি বাইতুল্লাহকে নিজের বামে রেখে এবং মিনাকে ডানে রেখে বড় জামরাকে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে দেখেছেন। এরপর তিনি বললেন, এ তার দাড়াবার স্থান যার প্রতি সূরা বাকরা নাযিল হয়েছে।

আ'মাশ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজকে মিম্বরের উপর এরূপ বলতে শুনেছি, যে সূরার মধ্যে বাকারাহ'র উল্লেখ রয়েছে, সে সূরার মধ্যে আলে ইমরানের উল্লেখ রয়েছে এবং যে সূরার মধ্যে নিসা-এর উল্লেখ রয়েছে সে সূরা আল-বাকারাহ, সূরা আলে ইমরান ও সূরা আন-নিসা বলা পছন্দ করতো না। বর্ণনাকারী আ'মাশ বলেন, এ ব্যাপারটি আমি ইবরাহীম-কে বললাম। তিনি বললেন, আমার কাছে আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ বর্ণনা করেছেন যে, জামারায়ে 'আকাবাতে কংকর মারার সময় তিনি ইবন মাসঊদ-এর সঙ্গে ছিলেন। ইবন মাসঊদ বাতনে ওয়াদীতে গাছটির বরাবর এসে জামরাকে সামনে রেখে দাড়ালেন এবং তাকবীর সহকারে কঙ্কর মারলেন। এরপর বললেন, সে সত্তার কসম যিনি ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, এ স্থানেই দাড়িয়ে ছিলেন তিনি, যার উপর নাযিল হয়েছে সুরা বাকারাহ(বাকারাহ বলা বৈধ)।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, তিনি প্রথম জামরায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন। তারপর সামনে অগ্রসর হয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাড়াতেন এবং উভয় হাত তুলে দোয়া করতেন। অতঃপর মধ্যবর্তী জামরায় কঙ্কর মারতেন এবং একটু বা দিকে চলে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী দাড়িয়ে উভয় হাত উঠিয়ে দোয়া করতেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকতেন। এরপর বাতন ওয়াদী হতে জামরায়ে 'আকাবায় কঙ্কর মারতেন। এর কাছে তিনি বিলম্ব না করে ফিরে আসতেন এবং বলতেন, আমি নবী (ﷺ) -কে এরূপ করতে দেখেছি।

সালিম ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবন উমার নিকটবর্তী জামরায় সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন। এরপর সামনে এগিয়ে গিয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলা মুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দোয়া করতেন। অতঃপর মধ্যবর্তী জামরায় অনুরূপভাবে কঙ্কর মারতেন। এরপর বা দিক হয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলা মুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাড়াতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দোয়া করতেন। অতঃপর বাতন ওয়াদী হতে জামরায়ে 'আকাবায় কঙ্কর মারতেন এবং এর কাছে তিনি দেরী করতেন না। তিনি বলতেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে আমি অনুরূপ করতে দেখেছি।

যুহরী হতে বর্ণিত যে, মসজিদে মিনার দিক হতে প্রথমে অবস্থিত জামরায় যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কঙ্কর মারতেন, সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রত্যেকটি কঙ্কর মারার সময় তিনি তাকবীর বলতেন। এরপর সামনে এগিয়ে গিয়ে কিবলামুখী হয়ে দাড়িয়ে উভয় হাত উঠিয়ে দোয়া করতেন এবং এখানে অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকতেন। অতঃপর দ্বিতীয় জামরায় এসে সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর মারার সময় তিনি তাকবীর বলতেন। অতঃপর বা দিকে মোড় নিয়ে ওয়াদীর কাছে এসে কিবলামুখী হয়ে দাড়াতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দোয়া করতেন। অবশেষে আকাবার কাছে জামরায় এসে তিনি সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর মারার সময় তাকবীর বলতেন। এরপর ফিরে যেতেন, এখানে বিলম্ব করতেন না। যুহরী বলেন, সালিম ইবন আবদুল্লাহ-কে তার পিতার মাধ্যমে নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি। (রাবী বলেন) ইবন উমার-ও তাই করতেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার এ দু' হাত দিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে খুশবু লাগিয়েছি, যখন তিনি ইহরাম বাধার ইচ্ছা করেছেন এবং তাওয়াফে যিয়ারাহর পূর্বে যখন তিনি ইহরাম খুলে হালাল হয়েছেন। এ কথা বলে তনি তার উভয় হাত প্রসারিত করলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেদের আদেশ দেয়া হয় যে, তাদের শেষ কাজ যেন হয় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ। তবে এ হুকুম ঋতুমতী মহিলাদের জন্য শিথিল করা হয়েছে।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করে উপত্যকায় কিছুক্ষণ শুয়ে থাকেন। অতঃপর সওয়ারীতে আরোহণ করে বাইতুল্লাহর দিকে এসে তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করেন। লায়স...আনাস ইবন মালিক-এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) হতে এ হাদীস বর্ণনায় আমর ইবন হারিস-এর অনুসরণ করেছেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) -এর সহধর্মিণী সাফিয়্যা বিনত হুয়াই ঋতুমতী হলেন এবং পরে এ কথাটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে অবগত করানো হয়। তখন তিনি বললেনঃ সে কি আমাদের যাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে? তারা বললেন, তিনি তো তাওয়াফে যিয়ারাহ্ সমাধা করে নিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তাহলে তো আর বাধা নেই।

ইকরিমা হতে বর্ণিত যে, তাওয়াফে যিয়ারাহর পর ঋতু এসেছে এমন মহিলা সম্পর্কে মদিনা্বাসী ইবন আব্বাস-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাদের বললেন, সে রওয়ানা হয়ে যাবে। তারা বললেন, আমরা আপনার কথা গ্রহণ করব না এবং যায়দের কথাও বর্জন করব না। তিনি বললেন, তোমরা মদিনায় ফিরে গিয়ে জিজ্ঞেস করে নেবে। তারা মদিনায় এসে জিজ্ঞেস করলেন যাদের কাছে তারা জিজ্ঞেস করেছিলেন তাদের মধ্যে উম্মে সুলাইম-ও ছিলেন। তিনি তাদের সাফিয়্যা -এর ঘটনাটি বর্ণনা করলেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (১৭৫৮)।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাওয়াফে যিয়ারাহ্ আদায় করার পর ঋতুমতী মহিলাকে রওয়ানা হয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বর্ণনাকারী বলেন, আমি ইবন উমার-কে বলতে শুনেছি যে, সে মহিলা রওয়ানা হতে পারবে না। পরবর্তীতে তাকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, নবী (ﷺ) তাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে বের হলাম। হাজ্জই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। নবী (ﷺ) মক্কায় পৌছে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা ও মারওয়ার সা'য়ী করলেন। তবে ইহরাম খুলেননি। তার সঙ্গে কুরবানীর জানোয়ার ছিল। তার সহধর্মিণী ও সাহাবীগণের মধ্যে যারা তার সঙ্গে ছিলেন তারাও তাওয়াফ করলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল না, তারা হালাল হয়ে গেলেন। এরপর আয়িশাহ ঋতুমতী হয়ে পড়লেও (বর্ণনাকারী বলেন) আমরা হাজ্জের সমুদয় হুকুম-আহকাম আদায় করলাম। এরপর যখন লায়লাতুল-হাসবা রওয়ানা হওয়ার রাত হল, তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি ব্যতীত আপনার সকল সাহাবী তো হাজ্জ ও উমরাহ করে ফিরছেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমরা যে রাতে এসেছি সে রাতে তুমি কি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করনি? আমি বললাম, না। অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে তান'ঈম (নামক স্থানে) চলে যাও এবং সেখান হতে উমরাহ'র ইহরাম বেধে নাও। আর অমুক অমুক স্থানে তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের ওয়াদা থাকল। আয়িশাহ বলেন, এরপর আমি আবদুর রাহমান-এর সঙ্গে তান'ঈমের দিকে গেলাম এবং উমরাহ'র ইহরাম বাধলাম। আর সাফিয়্যা বিনত হুয়াই-এর ঋতু দেখা দিল। নবী (ﷺ) তা শুনে বিরক্ত হয়ে বলেনঃ তুমি তো আমাদেরকে আটকিয়ে ফেললে। তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? তিনি বললেন, হা। নবী (ﷺ) বললেনঃ তাহলে কোন বাধা নেই, রওয়ানা হও। [আয়িশাহ বলেন] আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে মিলিত হলাম। এমতাবস্থায় যে, তিনি মক্কার উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি নিচের দিকে নামছিলাম। অথবা আমি উঠছিলাম আর তিনি নামছিলেন।

আবদুল আযীয ইবন রুফা'য় হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক-কে বললাম, নবী (ﷺ) হতে মনে রেখেছেন এমন কিছু কথা আমাকে বলুন, তারবিয়ার দিন নবী (ﷺ) যোহরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মিনাতে। আমি বললাম, প্রত্যাবর্তনের দিন আসরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, আবতাহ নামক স্থানে। (তারপর বললেন,) তুমি তাই কর, যেভাবে তোমার শাসকগণ করেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সালাত আদায়ের পর মুহাস্সাবে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকেন, পরে সওয়ার হয়ে বাইতুল্লাহর দিকে গেলেন এবং বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তা হল একটি মানযিল মাত্র, যেখানে নবী (ﷺ) অবতরণ করতেন, যাতে বেরিয়ে যাওয়া সহজতর হয় এর দ্বারা আবতাহ বুঝানো হয়েছে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাস্সাবে অবতরণ করা হজ্জের- কিছুই নয়। এ তো শুধু একটি মানযিল, যেখানে নবী (ﷺ) অবতরণ করেছিলেন।

নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার দু' পাহাড়ের মধ্যস্থিত যু-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। এরপর মক্কার উচু গিরিপথের দিক হতে প্রবেশ করতেন। হাজ্জ বা উমরাহ আদায়ের জন্য মক্কা আসলে তিনি মসজিদে হারামের দরজার সামনে ব্যতীত কোথাও উট বসাতেন না। অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে হাজারে আসওয়াদের কাছে আসতেন এবং সেখান হতে তাওয়াফ আরম্ভ করতেন এবং সাত চক্কর তাওয়াফ করতেন। তিনবার দ্রুতবেগে আর চারবার স্বাভাবিক গতিতে। এরপর ফিরে এসে দু' রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং নিজের মানযিলে ফিরে যাওয়ার আগে সাফা-মারওয়ার মধ্যে সা'য়ী করতেন। আর যখন হাজ্জ বা উমরাহ হতে ফিরতেন তখন যুল-হুলাইফা উপত্যকার বাতহা নামক স্থানে অবতরণ করতেন, যেখানে নবী (ﷺ) অবতরণ করেছিলেন।

খালিদ ইবন হারিস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উবায়দুল্লাহ-কে মুহাসসাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি নাফি হতে আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) , উমার ও ইবন উমার সেখানে অবতরণ করেছেন। নাফি হতে আরো বর্ণিত রয়েছে যে, ইবন উমার মুহাসসাবে যোহর ও আসরের সালাত আদায় করতেন। আমার মনে হচ্ছে, তিনি মাগরিবের কথাও বলেছেন, খালিদ বলেন, ঈসা সম্পর্কে আমার কোন সন্দেহ নেই এবং তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নিদ্রা যেতেন।

ইবন উমার বর্ণিত যে, তিনি যখনই মক্কা আসতেন তখনই যু-তুয়া উপত্যকায় রাত যাপন করতেন। আর সকাল হলে (মক্কায়) প্রবেশ করতেন। ফিরার সময়ও তিনি যু-তুয়ার দিকে যেতেন এবং সেখানে ভোর পর্যন্ত অবস্থান করতেন। ইবন উমার বলতেন যে, নবী (ﷺ) এরূপ করতেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগে যুল-মাজায ও 'উকায লোকেদের ব্যবসা কেন্দ্র ছিল। ইসলাম আসার পর মুসলিমগণ যেন তা অপছন্দ করতে লাগল, অবশেষে এ আয়াত নাযিল হলঃ 'হাজ্জের মৌসুমে তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই'- (আল-বাকারাঃ ১৯৮)।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যাবর্তনের দিন সাফিয়্যা-এর ঋতু দেখা দিলে তিনি বললেন, আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাদেরকে আটকিয়ে ফেললাম। নবী (ﷺ) তা শুনে "আকরা', 'হালকা' বলে বিরক্তি প্রকাশ করলেন এবং বললেনঃ সে কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছে? বলা হল, হা। তিনি বললেনঃ তবে চল।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হাজ্জ আদায় করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা (মক্কায়) আসলাম, তখন আমাদের হালাল হওয়ার নির্দেশ দেন। অতঃপর প্রত্যাবর্তনের রাত এলে সাফিয়্যাহ বিন্তু হুয়াই-এর ঋতু আরম্ভ হল। নবী (ﷺ) 'হালকা' 'আকরা', বলে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেনঃ আমার ধারণা, সে তোমাদের আটকিয়েই ফেলবে। অতঃপর বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? সাফিয়্যাহ বললেন, হা। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তবে চল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো (উমরা আদায় করে) হালাল হইনি। তিনি বললেনঃ তাহলে এখন তুমি তান'ঈম হতে উমরাহ আদায় করে নাও। অতঃপর তার সঙ্গে তার ভাই [আবদুর রাহমান ইবন আবূ বাকর] গেলেন। আয়িশাহ বলেন, (উমরা আদায় করার পর) নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, যখন তিনি শেষ রাতে (বিদায়ী তওয়াফের জন্য) যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ অমুক স্থানে তোমরা সাক্ষাৎ করবে।