bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

দোয়াসমূহ (৬৩০৪-৬৪১১)

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীর এমন একটি দোয়া রয়েছে, যা (আল্লাহর নিকট) গৃহীত হয় আর নবী সে দোয়া করে থাকেন। আমার ইচ্ছা, আমি আমার সে দোয়ার অধিকার আখিরাতে আমার উম্মাতের শাফায়াতের জন্য মুলতবি রাখি।

আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন যে, প্রত্যেক নবীই যা চাওয়ার চেয়ে নিয়েছেন। অথবা নবী (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীকে যে দোয়ার অধিকার দেয়া হয়েছিল তিনি সে দোয়া করে নিয়েছেন এবং তা কবূলও করা হয়েছে। কিন্তু আমি আমার দোয়াকে কিয়ামতের দিনে আমার উম্মাতের শাফায়াতের জন্য রেখে দিয়েছি।

শাদ্দাদ ইবন আউস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হলো বান্দার এ দোয়া পড়া- "হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর।" যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইসতিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হবার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দোয়া পড়ে নেবে আর সে ভোর হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে।

আবূ হুরাইরাহ বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে সত্তরবারেরও অধিক ইস্তিগফার ও তওবা করে থাকি।

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ দু'টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। একটি নবী (ﷺ) থেকে আর অন্যটি তার নিজ থেকে। তিনি বলেন, ঈমানদার ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে এত বিরাট মনে করে, যেন সে একটা পর্বতের নীচে উপবিষ্ট আছে, আর সে আশঙ্কা করছে যে, সম্ভবত পর্বতটা তার উপর ধ্বসে পড়বে। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে মাছির মত মনে করে, যা তার নাকে বসে চলে যায়। এ কথাটি আবূ শিহাব নিজ নাকে হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেন। তারপর [নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন] নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মনে কর কোন এক ব্যক্তি (সফরের) কোন এক স্থানে অবতরণ করলো, সেখানে প্রাণেরও ভয় ছিল। তার সঙ্গে তার সফরের বাহন ছিল। যার উপর তার খাদ্য ও পানীয় ছিল, সে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লো এবং জেগে দেখলো তার বাহন চলে গেছে। তখন সে গরমে ও পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লো। রাবী বলেনঃ আল্লাহ যা চাইলেন তা হলো। তখন সে বললো যে, আমি যে স্থানে ছিলাম সেখানেই ফিরে যাই। এরপর সে নিজ স্থানে ফিরে এসে আবার ঘুমিয়ে পড়লো। তারপর জেগে দেখলো যে, তার বাহনটি তার পাশেই দাড়িয়ে আছে। তখন সে ব্যক্তি যতটা খুশী হলো, নিশ্চই আল্লাহ তাআলা তার বান্দার তওবা করার কারণে এর চেয়েও অনেক অধিক খুশী হন। আবূ আওয়ানাহ ও জারীর আ'মাশ থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বান্দার তওবার কারণে সেই লোকটির চেয়েও অধিক খুশী হন, যে লোকটি মরুভূমিতে তার উট হারিয়ে পরে তা পেয়ে যায়।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রাতের শেষভাগে এগার রাকাত সালাত আদায় করতেন। তারপর যখন সুবহি সাদিক হতো, তখন তিনি হালকা দু'রাকাত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি নিজের ডান পার্শ্বে কাত হয়ে বিশ্রাম নিতেন। যতক্ষণ না মুয়াযযিন এসে তাকে সালাতের খবর দিতেন।

বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে বললেনঃ যখন তুমি শোয়ার বিছানায় যেতে চাও, তখন তুমি সালাতের অযূর মত অযূ করবে। এরপর ডান পাশের উপর কাত হয়ে শুয়ে পড়বে। আর এ দোয়া পড়বে, হে আল্লাহ! আমি আমার চেহারাকে (যাবতীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে) তোমার হস্তে সমর্পণ করলাম। আর আমার সকল বিষয় তোমারই নিকট সমর্পণ করলাম এবং আমার পৃষ্ঠদেশ তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। আমি তোমার গযবের ভয়ে ভীত ও তোমার রহমতের আশায় আশান্বিত। তোমার নিকট ব্যতীত কোন আশ্রয়স্থল নেই এবং নেই মুক্তি পাওয়ার স্থান। তুমি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছ, আমি তার উপর ঈমান এনেছি এবং তুমি যে নবী পাঠিয়েছ আমি তার উপর ঈমান এনেছি। যদি তুমি এ রাতেই মরে যাও, তোমার সে মৃত্যু স্বভাবধর্ম ইসলামের উপরই গণ্য হবে। অতএব তোমার এ দোয়াগুলো যেন তোমার এ রাতের সর্বশেষ কথা হয়। রাবী বারাআ বলেন, আমি বললামঃ আমি এ কথা মনে রাখবো। আমি বললাম, 'ওয়া বিরাসুলিকা আল-লাদী আরসালতা (তোমার রাসূলে যাকে তুমি পাঠিয়েছ)।' নবী (ﷺ) বললেন, না, বরং বল: ওয়া বিনাবিয়্যিকা আল-লাদী আরসালতা (তোমার নবীর মধ্যে যাকে তুমি পাঠিয়েছ)।

হুযাইফাহ ইবন ইয়ামান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করতে যেতেন, তখন তিনি এ দোয়া পড়তেনঃ হে আল্লাহ! আপনারই নাম নিয়ে মরি আর আপনার নাম নিয়েই বাচি। আর তিনি জেগে উঠতেন তখন পড়তেনঃ যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যুদানের পর আবার আমাদের পুনর্জীবিত করেছেন। আর প্রত্যাবর্তন তার পানেই।

বারাআ ইবন আযিব বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) এক লোককে নির্দেশ দিলেন। অন্য সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে অসিয়ত করলেন যে, যখন তুমি বিছানায় ঘুমাতে যাবে, তখন তুমি এ দোয়া পড়বে 'হে আল্লাহ! আমি আমার প্রাণকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আর আমার বিষয় ন্যস্ত করলাম আপনার দিকে এবং আমার চেহারা আপনার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আপনার রহমতের আশায় এবং আপনার গযবের ভয়ে। আপনার নিকট ব্যতীত আপনার গযব থেকে পালিয়ে যাবার এবং আপনার আযাব থেকে বাচার আর কোন স্থান নেই। আপনি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার উপর দৃঢ় বিশ্বাস করছি এবং আপনি যে নবী পাঠিয়েছেন, আমি তার উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেছি। যদি তুমি এ অবস্থায়ই মরে যাও, তবে তুমি স্বভাবধর্ম ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করবে।

হুযাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রাতে নিজ বিছানায় শোয়ার সময় নিজ হাত গালের নীচে রাখতেন, তারপর বলতেনঃ হে আল্লাহ! আপনার নামেই মরি, আপনার নামেই জীবিত হই। আর যখন জাগতেন তখন বলতেনঃ সেআল্লাহর জন্য প্রশংসা, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তারই দিকে আমাদের পুনরুত্থান।

বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নিজ বিছানায় বিশ্রাম নিতে যেতেন, তখন তিনি ডান পাশের উপর নিদ্রা যেতেন এবং বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি আমার সত্তাকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আর আমার বিষয় ন্যস্ত করলাম আপনার দিকে এবং আমার চেহারা আপনারই দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আপনার রহমতের আশায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি শয়নকালে এ দোয়াগুলো পড়বে, আর এ রাতেই তার মৃত্যু হবে সে স্বভাব ধর্ম ইসলামের উপরই মরবে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি মাইমূনাহ এর ঘরে রাত্রি অতিবাহিত করলাম। তখন নবী (ﷺ) উঠে তার প্রয়োজনাদি সেরে মুখ-হাত ধুয়ে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে আবার জাগ্রত হয়ে পানির মশকের নিকট গিয়ে এর মুখ খুললেন। এরপর মাঝারি রকমের এমন অযূ করলেন যে, তাতে অধিক পানি লাগালেন না। অথচ পুরা 'উযূই করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন আমিও জেগে উঠলাম। তবে আমি কিছু বিলম্বে উঠলাম। এজন্য যে, আমি এটা পছন্দ করলাম না যে, তিনি আমার অনুসরণকে দেখে ফেলেন। যা হোক, আমি অযূ করলাম। তখনও তিনি দাড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। সুতরাং আমি গিয়ে তার বাম পার্শ্বে দাড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমার কান ধরে তার ডান দিকে আমাকে ঘুরিয়ে নিলেন। এরপর তার তেরো রাকাত সালাত পূর্ণ হলো। তারপর তিনি আবার কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাক ডাকাতেও লাগলেন। তার অভ্যাস ছিল যে, তিনি ঘুমালে নাক ডাকাতেন। এরপর বিলাল এসে তাকে জাগালেন। তখন তিনি নতুন অযূ না করেই সালাত আদায় করলেন। তার দোয়ার মধ্যে এ দোয়াও ছিলঃ "হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে, আমার চোখে, আমার কানে, আমার ডানে-বামে, আমার উপর-নীচে, আমার সামনে-পেছনে, আমার জন্য নূর দান করুন।" কুরায়ব বলেন, এ সাতটি আমার তাবূতের মত। এরপর আমি আব্বাসের জনৈক পুত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম, তিনি আমাকে এ সাতটি অঙ্গের কথা বর্ণনা করলেন এবং রগ, গোশত, চুল ও চামড়ার উল্লেখ করলেন এবং আরো দু'টির কথা উল্লেখ করেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখনি নবী (ﷺ) তাহাজ্জুদের সালাতে দাড়াতেন, তখন বলতেনঃ হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য, আপনি রক্ষক আসমান ও যমীনের এবং যা কিছু এগুলোর মধ্যে আছে, আপনিই তাদের নূর। আর যাবতীয় প্রশংসা শুধু আপনারই। আসমান যমীন এবং এ দু'এর মধ্যে যা আছে, এসব কিছুকে সুদৃঢ় ও কায়িম রাখার একমাত্র মালিক আপনিই। আর সমূহ প্রশংসা একমাত্র আপনারই। আপনিই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আখিরাতে আপনার সাক্ষাৎ লাভ করা সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, কিয়ামত সত্য, পয়গাম্বরগণ সত্য এবং মুহাম্মাদ সত্য। হে আল্লাহ! আপনারই কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমি একমাত্র আপনারই উপর ভরসা রাখি। একমাত্র আপনারই উপর ঈমান এনেছি। আপনারই দিকে ফিরে চলছি। শত্রুদের সঙ্গে আপনারই সন্তুষ্টির জন্য শত্রুতা করি। আপনারই নিকট বিচার চাই। অতএব আমার আগের পরের এবং লুক্কায়িত প্রকাশ্যগুনাহসমূহ আপনিক্ষমা করে দিন। আপনি কোন ব্যক্তিকে অগ্রসরমান করেন, আর কোন ব্যক্তিকে পশ্চাদপদ করেন, আপনি ব্যতীত সত্যিকারের কোন মাবূদ নেই।

আলী হতে বর্ণিত। একবার গম পেষার যাতা ঘুরানোর কারণে ফাতেমাহ 'র হাতে ফোস্কা পড়ে গেল। তখন তিনি একটি খাদিম চেয়ে নেয়ার উদ্দেশে নবী (ﷺ) এর কাছে এলেন। কিন্তু তিনি তাকে পেলেন না। তখন তিনি আসার উদ্দেশ্যটি আয়িশাহ এর নিকট ব্যক্ত করে গেলেন। এরপর তিনি যখন গৃহে ফিরলেন তখন আয়িশাহ এ বিষয়টি তাকে জানালেন। তারপর নবী (ﷺ) আমাদের কাছে এমন সময় আগমন করলেন যখন আমরা বিছানায় বিশ্রাম গ্রহণ করেছি। তখন আমি উঠতে চাইলে তিনি বললেনঃ নিজ স্থানেই অবস্থান কর। তারপর আমাদের মাঝখানেই তিনি এমনিভাবে বসে গেলেন যে, আমি তার দু'পায়ের শীতল স্পর্শ আমার বুকে অনুভব করলাম। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের এমন একটি আমল বলে দেব না, যা তোমাদের জন্য একটি খাদিমের চেয়েও অনেক অধিক উত্তম। যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করতে যাবে, তখন তোমরা আল্লাহু আকবার ৩৩ বার, সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আল্হামদু লিল্লাহ ৩৩ বার পড়বে। এটা তোমাদের জন্য একটি খাদিমের চেয়েও অনেক অধিক কল্যাণকর। ইবন সীরীন বলেনঃ তাসবীহ হলো ৩৪ বার।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বিছানায় যেতেন, তখন মুয়াওব্বিত(ফালাক ও নাস) পাঠ করতঃ তার দু' হাতে ফুক দিয়ে তা শরীরে মাসেহ করতেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যদি তোমাদের কোন ব্যক্তি শয্যা গ্রহণ করতে যায়, তখন সে যেন তার লুঙ্গির ভেতর দিক দিয়ে নিজ বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ, সে জানে না যে, বিছানার উপর তার অনুপস্থিতিতে পীড়াদায়ক কোন কিছু আছে কিনা। তারপর পড়বেঃ হে আমার রবব! আপনারই নামে আমার শরীরটা বিছানায় রাখলাম এবং আপনারই নামে আবার উঠবো। যদি আপনি ইতোমধ্যে আমার জান কবয করে নেন তা হলে, তার উপর রহম করবেন। আর যদি তা আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে তাকে এমনভাবে হিফাযত করবেন, যেভাবে আপনি আপনার নেক বান্দাদের হিফাযাত করে থাকেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ আমার নিকট দোয়া করবে কে? আমি তার দোয়া কবূল করবো। আমার নিকট কে চাবে? আমি তাকে দান করবো। আমার কাছে কে তার গুনাহ ক্ষমা চাবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো।

আনাস ইবন মালিক বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন, তখন তিনি বলতেনঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবায়িছ" হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে যাবতীয় পুরুষ ও স্ত্রী শয়তানদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

শাদ্দাদ ইবন আওস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হলোঃ "হে আল্লাহ! আপনিই আমার রব্ব। আপনি ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমি আপনারই গোলাম। আর আমি আমার সাধ্য মত আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর সুদৃঢ়ভাবে কায়িম আছি। আমি আমার প্রতি আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং কৃতগুনাহসমূহকে স্বীকার করছি। সুতরাং আমাকে মাফ করে দিন। কারণ আপনি ব্যতীত মাফ করার আর কেউ নেই। আমি আমার কৃতগুনাহের মন্দ ফলাফল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।" যে লোক সন্ধ্যা বেলায় এ দোয়া পড়বে, আর এ রাতেই মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। রাবী বলেন, অথবা তিনি বলেছেনঃ সে হবে জান্নাতী। আর যে লোক সকালে এ দোয়া পড়বে, আর এ দিনেই মারা যাবে সেও তেমনি জান্নাতী হবে।

হুযাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন ঘুমাতে চাইতেন, তখন বলতেনঃ "হে আল্লাহ! আমি আপনার নামেই মরি এবং জীবিত হই।" আর তিনি যখন নিদ্রা থেকে জেগে উঠতেন তখন বলতেনঃ "আল্লাহ তাআলারই সকল প্রশংসা যিনি আমাদের (নিদ্রা জাতীয়) ওফাত দেয়ার পর আবার নতুন জীবন দান করেছেন। আর সর্বশেষে তারই কাছে আমাদের পুনরুত্থান হবে।

আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন রাতে বিছানায় যেতেন তখন দোয়া পড়তেনঃ "হে আল্লাহ! আমি আপনারই নামে মরি এবং জীবিত হই।" আর যখন তিনি সজাগ হতেন তখন বলতেনঃ "সকল প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আমাদের জীবিত করেছেন, নিদ্রা স্বরূপ) মৃত্যুর পর এবং তারই কাছে অবশ্যই পুনরুত্থান সুনিশ্চিত।"

আবূ বাকর সিদ্দিক হতে বর্ণিত। একবার তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট বললেন, আপনি আমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিন, যা দিয়ে আমি সালাতে দোয়া করব। তিনি বললেন, তুমি সালাতে পড়বেঃ "হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর অনেক অধিক যুল্‌ম করেছি। আপনি ছাড়া আমার গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই। অতএব আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আর আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চই আপনি ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু।"

আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর বাণী)- "..... সালাতে স্বর উচু করবে না আর অতি ক্ষীণও করবে না .....।"(আল-ইসরাঃ ১১০) এ আয়াতটি দোয়া সম্পর্কেই অবতীর্ণ করা হয়েছে।

আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন: আমরা নামাজে বলতাম: 'আসসালাম আল্লাহর উপর, আসসালাম বর্ষিত হোক অমুকের উপর।' তাই একদিন নবী আমাদের বললেন, "আল্লাহ স্বয়ং সালাম, তোমাদের কেউ যখন তার সালাতে বসে, তখন সে যেন বলে: 'আত-তাহ, আইয়্যাতু-লি-ল-লাহি', 'আস-সালিহীন' পর্যন্ত। ' (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য... ধার্মিক ব্যক্তিদের জন্য) কারণ যখন তিনি এটি পাঠ করেন, তখন তিনি আসমান ও যমীনে উপস্থিত সমস্ত নেককার লোকদেরকে সালাম করেন। তারপর তিনি বলতে পারেন, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে কেউ নেই। আল্লাহ ব্যতীত ইবাদত করার অধিকার নেই এবং যে মুহাম্মদ তার বান্দা এবং তার রসূল, এবং তারপর তিনি (আল্লাহর) প্রশংসা উদযাপনের জন্য যা পছন্দ করেন তা বেছে নিতে পারেন।"

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। গরীব সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ধনী লোকেরা তো উচ্চমর্যাদা ও চিরস্থায়ী নিয়ামত নিয়ে আমাদের থেকে এগিয়ে গেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তা কেমন করে? তারা বললেনঃ আমরা যে রকম সালাত আদায় করি, তারাও সে রকম সালাত আদায় করেন। আমরা যেমন জিহাদ করি, তারাও তেমন জিহাদ করেন এবং তারা তাদের অতিরিক্ত মাল দিয়ে সদাকাহ-খয়রাত করেন; কিন্তু আমাদের কাছে সম্পদ নেই। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের একটি আমল বাতলে দেব না, যে আমল দ্বারা তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের মর্যাদা লাভ করতে পারবে, আর তোমাদের পরবর্তীদের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারবে, আর তোমাদের মত আমল কেউ করতে পারবে না, কেবলমাত্র যারা তোমাদের মত আমল করবে তারা ব্যতীত। সে আমল হলো তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর ১০ বার 'সুবহানাল্লাহ', ১০ বার 'আলহামদু লিল্লাহ' এবং ১০ বার 'আল্লাহু আকবার' পাঠ করবে।

মুগীরাহ আবূ সুফ্ইয়ানের পুত্র মুআবিয়াহ-এর নিকট এক পত্রে লিখেন যে, নবী (ﷺ) প্রত্যেক সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতেনঃ আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই। তিনি একক। তার কোন শরীক নেই। মূলক্ তারই, প্রশংসা তারই। তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ! আপনি কাউকে যা দান করেন তাতে বাধা দেয়ার কেউ নেই। আর আপনি যাকে কোন কিছু দিতে বিরত থাকেন তাকে তা দেয়ার মতো কেউ নেই। ধনীর ধন তাকে তোমা হতে উপকার দিতে পারে না।

সালামাহ ইবন আকওয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে খায়বার অভিযানে বের হলাম। সেনাবাহিনীর এক ব্যক্তি বললেনঃ ওহে 'আমির! যদি আপনি আপনার ছোট ছোট কবিতা থেকে কিছুটা আমাদের শুনাতেন? তখন তিনি সওয়ারী থেকে নেমে হুদী গাইতে গাইতে বাহন হাকিয়ে নিতে শুরু করলেন। তাতে উল্লেখ করলেনঃ আল্লাহ তাআলা না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না। (রাবী বলেন) এছাড়া আরও কিছু কবিতা তিনি আবৃত্তি করলেন, যা আমি স্মরণ রাখতে পারিনি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ এ উট চালক লোকটি কে? সাথীরা বললেনঃ উনি 'আমির ইবন আকওয়া। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার উপর রহম করুন। তখন দলের একজন বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার দোয়ায় আমাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করলে ভাল হতো না? এরপর যখন মুজাহিদগণ কাতারবন্দী হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন, এ সময় 'আমির তার নিজের তলোয়ারের অগ্রভাগের আঘাতে আহত হলেন এবং এ আঘাতের ফলে তিনি মারা গেলেন। এদিন লোকেরা সন্ধ্যার পর (পাকের জন্য) বিভিন্নভাবে অনেক আগুন জ্বালালেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ এ সব আগুন কিসের? এসব আগুন দিয়ে তোমরা কী জ্বাল দিচ্ছ। তারা বললেনঃ আমরা গৃহপালিত গাধার গোশত জ্বাল দিচ্ছি। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ হাড়িতে যা আছে, তা সব ফেলে দাও এবং হাড়িগুলোও ভেঙ্গে ফেল। এক ব্যক্তি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! হাড়িতে যা আছে তা ফেলে দিলে এবং পাত্রগুলো ধুয়ে নিলে চলবে না? তিনি বললেনঃ তবে তাই কর।

ইবন আবূ আওফা বর্ণনা করতেন, যখন কেউ কোন সদাকাহ নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট আসতো তখন তিনি দোয়া করতেনঃ হে আল্লাহ! আপনি অমুকের পরিবারের উপর রহম অবতীর্ণ করেন। একবার আমার আব্বা তার কাছে কিছু সদাকাহ নিয়ে এলে তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি আবূ আওফার পরিবারের উপর দয়া করুন।

জারীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি যুল-খালাসাহকে ধ্বংস করে আমাকে চিন্তামুক্ত করবে? সেটা ছিল এক মূর্তি। লোকেরা এর পূজা করতো। সেটাকে বলা হতো ইয়ামানী কাবা। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি অশ্ব পৃষ্ঠে স্থির থাকতে পারি না। তখন তিনি আমার বুকে জোরে একটা থাবা মারলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন। তখন আমি আমারই গোত্র আহমাসের পঞ্চাশ জন যোদ্ধাসহ বের হলাম। সুফ্ইয়ান বলেন, তিনি কোন কোন সময় বলেছেনঃ আমি তোমার গোত্রের একদল যোদ্ধার মধ্যে গেলাম। তারপর আমি সেই মূর্তিটির কাছে গিয়ে সেটা জ্বালিয়ে ফেললাম। এরপর আমি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি যুল-খালাসাহ্কে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে পাচড়াযুক্ত উটের মত করে আপনার কাছে এসেছি। তখন তিনি আহমাস গোত্র ও তার যোদ্ধাদের জন্য দোয়া করলেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন উম্মু সুলায়ম নবী (ﷺ)-কে বললেনঃ আনাস তো আপনারই খাদিম। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তার সম্পদ ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দিন এবং আপনি তাকে যা কিছু দান করেছেন, তাতে বারাকাত দিন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক লোককে মসজিদে কুরআন তিলাওয়াত করতে শুনলেন। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার উপর দয়া করুন। সে আমাকে অমুক অমুক আয়াত মনে করিয়ে দিয়েছে, যা আমি অমুক অমুক সূরা থেকে ভুলে গিয়েছিলাম।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) গানীমতের মাল বণ্টন করে দিলে এক লোক মন্তব্য করলেনঃ এটা এমন বণ্টন যার মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির খেয়াল রাখা হয়নি। আমি তা নবী (ﷺ)-কে জানালে তিনি রাগান্বিত হলেন। এমনকি আমি তার চেহারার মধ্যে গোস্বার চিহ্ন দেখতে পেলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ মূসা-এর প্রতি দয়া করুন, তাকে এর চেয়ে বেশি কষ্ট দেয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তুমি প্রতি জুমুআহয় লোকেদের হাদীস শোনাবে। যদি এতে তুমি ক্লান্ত না হও তবে সপ্তাহে দু' বার। আরও অধিক করতে চাও তবে তিনবার। আরও অধিক নাসীহাত করে এ কুরআনের প্রতি মানুষের মনে বিরক্তি সৃষ্টি করো না। লোকেরা তাদের কথাবার্তায় ব্যস্ত থাকা অবস্থায় তুমি তাদের কাছে এসে তাদের নির্দেশ দেবে- আমি যেন এমন হালাতে তোমাকে না পাই। কারণ এতে তাদের কথায় বিঘ্ন সৃষ্টি হবে এবং তারা বিরক্ত হবে। বরং তুমি এ সময় নীরব থাকবে। যদি তারা আগ্রহ নিয়ে তোমাকে নাসীহাত দিতে বলে তাহলে তুমি তাদের নাসীহাত দেবে। আর তুমি দোয়ার মধ্যে ছন্দযুক্ত কবিতা বর্জন করবে। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সাহাবীগণকে তা বর্জন করতে দেখেছি।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ দোয়া করলে দোয়ার সময় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে দোয়া করবে এবং এ কথা বলবে না হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে কিছু দিন। কারণ আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কখনো এ কথা বলবে না যে, হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে দয়া করুন। বরং দৃঢ় আশা নিয়ে দোয়া করবে। কারণ আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবূল হয়ে থাকে। যদি সে তাড়াহুড়া না করে আর বলে যে, আমি দোয়া করলাম। কিন্তু আমার দোয়া তো কবূল হলো না।

অন্য এক সূত্রে আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) দু' হাত এতটুকু তুলে দোয়া করেছেন যে, আমি তার বগলের শুভ্রতা দেখতে পেয়েছি।

আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) জুমুআহর দিনে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের উপর বৃষ্টির জন্য দোয়া করুন। (তিনি দোয়া করলে) তখনই আকাশ মেঘে ছেয়ে গেল এবং এমন বৃষ্টি হলো যে, মানুষ আপন ঘরে পৌছতে পারলো না এবং পরবর্তী জুমুআহ পর্যন্ত এক নাগাড়ে বৃষ্টি হতে থাকলো। পরবর্তী জুমুআহ্য় সেই লোক অথবা অন্য এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বললোঃ আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, তিনি যেন আমাদের উপর মেঘ সরিয়ে নেন। আমরা তো ডুবে গেলাম। তখন তিনি দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাদের আশে-পাশে বর্ষণ করুন। আমাদের উপর আর) বর্ষণ করবেন না। তখন মেঘ বিক্ষিপ্ত হয়ে মদিনার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়লো। মদিনা্বাসীর উপর আর বৃষ্টি হলো না।

আবদুল্লাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী (ﷺ) ইস্তিস্কার (বৃষ্টির) সালাতের জন্য ঈদগাহে গমন করলেন এবং বৃষ্টির জন্য দোয়া করলেন। অতঃপর কিবলার দিকে মুখ করে নিজের চাদরখানা উল্টিয়ে গায়ে দিলেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আনাস আপনারই খাদিম। আপনি তার জন্য দোয়া করুন। তিনি দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করে দিন। আর তাকে আপনি যা কিছু দিয়েছেন তাতে বারাকাত দিন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বিপদের সময় এ দোয়া পড়তেনঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। যিনি মহান ও ধৈর্যশীল। আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনিই আসমান যমীনের প্রতিপালক ও মহান আরশের প্রভু।

মুসান্নাদ ... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। বিপদের সময় নবী (ﷺ) এ দোয়া পড়তেনঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, যিনি অতি উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ও অশেষ ধৈর্যশীল, আরশে আযীমের প্রভু। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই। আসমান যমীনের প্রতিপালক ও সম্মানিত আরশের মালিক। আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বালা মুসীবতের কঠোরতা, দুর্ভাগ্যে পতিত হওয়া, ভাগ্যের অশুভ পরিণতি এবং দুশমনের আনন্দিত হওয়া থেকে আশ্রয় চাইলেন। সুফ্ইয়ান-এর হাদীসে তিনটি বিষয়ের উল্লেখ আছে। একটি আমি বৃদ্ধি করেছি। জানি না তা এগুলোর কোনটি।

আয়িশাহ বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) সুস্থাবস্থায় বলতেনঃ জান্নাতের জায়গা না দেখিয়ে কোন নবীর জান কবয করা হয় না, যতক্ষণ না তাকে তার বাসস্থান দেখানো হয় এবং তাকে ইখ্তিয়ার দেয়া হয় (দুনিয়া বা আখিরাত গ্রহণ করার)। এরপর যখন তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তার মাথাটা আমার উরুর উপর ছিল। কিছুক্ষণ অজ্ঞান থাকার পর তার জ্ঞান ফিরে এলো। তখন তিনি ছাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ "আল্লাহুম্মা রাফীকাল 'আলা" হে আল্লাহ! আমি রাফীকে 'আলা (শ্রেষ্ঠ বন্ধু)-কে গ্রহণ করলাম। আমি বললামঃ এখন থেকে তিনি আর আমাদের পছন্দ করবেন না। আর এটাও বুঝতে পারলাম যে, তিনি সুস্থ অবস্থায় আমাদের নিকট যা বলতেন এটি তাই। আর তা সঠিক। আয়িশাহ বলেন, এটি ছিল তার সর্বশেষ বাক্য যা তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি শ্রেষ্ঠ বন্ধু গ্রহণ করলাম।

কায়স হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাব্বাব-এর নিকট আসলাম। তিনি লোহা গরম করে শরীরে সাতবার দাগ দিয়েছিলেন। তিনি বললেনঃ যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে মৃত্যুর জন্য দোয়া করতে নিষেধ না করতেন, তাহলে আমি এজন্য দোয়া করতাম।

কায়স বলেন, আমি খাব্বাব-এর নিকট গেলাম। তিনি তার পেটে সাতবার দাগ দিয়েছিলেন। তখন আমি তাকে বলতে শুনলামঃ নবী (ﷺ) যদি আমাদের মৃত্যুর জন্য দোয়া করতে নিষেধ না করতেন, তবে আমি এজন্য দোয়া করতাম।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কোন বিপদের কারণে মৃত্যু কামনা করবে না। আর যদি কেউ এমন অবস্থায় পড়ে যে, তাকে মৃত্যু কামনা করতেই হয়, তবে সে দোয়া করবেঃ হে আল্লাহ! যতদিন বেচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয়, ততদিন আমাকে জীবিত রাখো, আর যখন আমার জন্য মৃত্যুই কল্যাণকর হয় তখন আমার মৃত্যু দাও।

সায়িব ইবন ইয়াযীদ বর্ণনা করেন। আমার খালা আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গেলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার এ ভাগ্নেটি অসুস্থ। তিনি আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বারাকাতের দোয়া করলেন। এরপর তিনি অযূ করলে, আমি তার অযূর পানি থেকে কিছুটা পান করলাম। তারপর আমি তার পিঠের দিকে দাড়ালাম। তখন আমি তার দু' কাঁধের মাঝে মোহরে নবূওয়াত দেখতে পেলাম। তা ছিল খাটের চাঁদোয়ার ঝালরের ন্যায়।

আবূ আকীল বর্ণনা করেন। তার দাদা আবদুল্লাহ ইবন হিশাম তাকে নিয়ে বাজারের দিকে বের হতেন। সেখানে তিনি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করতেন। তখন পথে ইবন যুবায়র ও ইবন উমার এর দেখা হলে, তারা তাকে বলতেন যে, এতে আপনি আমাদেরও অংশীদার করে নিন। কারণ নবী (ﷺ) আপনার জন্য বারাকাতের দোয়া করেছেন। তখন তিনি তাদের অংশীদার করে নিতেন। তিনি বাহনের পৃষ্ঠে লাভের শস্যাদি পূর্ণরূপে পেতেন, আর তা ঘরে পাঠিয়ে দিতেন।

ইবন শিহাব বর্ণনা করেন। মাহমূদ ইবন রাবী বর্ণনা করেছেন যে, তিনিই ছিলেন সেই লোক, বাল্যাবস্থায় তাদেরই কূপ থেকে পানি মুখে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যার চেহারার উপর ছিটিয়ে দিয়েছিলেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর খিদমতে শিশুদের নিয়ে আসা হতো। তিনি তাদের জন্য দোয়া করতেন। একদা একটি শিশুকে আনা হলো। শিশুটি তার কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি কিছু পানি আনালেন এবং তা তিনি কাপড়ের উপর ছিটিয়ে দিলেন আর তা ধুলেন না।

আবদুল্লাহ ইবন সা'আলাবাহ ইবন সু'আইর, যার মাথায় (শিশুকালে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাসকে বিতরের সালাত এক রাকাত আদায় করতে দেখেছেন।

আবদুর রহমান ইবন আবূ লাইলা বর্ণনা করেন, একবার আমার সঙ্গে কা'ব ইবন উজরাহ এর দেখা হলো। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে একটি হাদিয়া দেবো না। তা হলো এইঃ একদিন নবী (ﷺ) আমাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন, তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনাকে কেমন করে সালাম দেব, আমরা আপনার উপর কীভাবে সালাত (দুরূদ) পাঠ করবো? তিনি বললেনঃ তোমরা বলবে, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর ও তার পরিবারবর্গের উপর রহমত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম আঃ)-এর পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চই আপনি প্রশংসিত, উচ্চ মর্যাদাশীল। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর ও তার পরিবারবর্গের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম আঃ)-এর পরিবারবর্গের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করেছেন নিশ্চই আপনি প্রশংসিত উচ্চ মর্যাদাশীল।

আবূ সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণনা করেন। একবার আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! এই যে 'আসসালামু 'আলাইকা' তা তো আমরা জেনে নিয়েছি। তবে আপনার উপর সালাত কীভাবে পাঠ করবো? তিনি বললেন, তোমরা পড়বেঃ হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও আপনার রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর রহমত বর্ষণ করুন। যেমন করে আপনি ইবরাহীম-এর উপর রহমত অবতীর্ণ করেছেন। আর আপনি মুহাম্মাদ ও তার পরিবারবর্গের উপর বারাকাত নাযিল করুন, যে রকম আপনি ইবরাহীম-এর উপর এবং ইবরাহীম-এর পরিবারবর্গের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করেছেন।

সুলাইমান ইবন হারব ... আবূ আওফা বর্ণনা করেন। যখন কেউ নবী (ﷺ) এর নিকট তার সদাকাহ নিয়ে আসতেন, তখন তিনি দোয়া করতেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত নাযিল করুন। আমার পিতা একদিন সদাকাহ নিয়ে তার কাছে এলে তিনি দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি আবূ আওফার পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করুন।

আবূ হুমায়দ সাঈদ বর্ণনা করেন। একবার লোকেরা বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার উপর কীভাবে সালাত পাঠ করবো? তিনি বললেনঃ তোমরা পড়বে, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের ও তার স্ত্রী এবং তার সন্তান-সন্ততি উপর রহমত অবতীর্ণ করুন। যেমন করে আপনি ইবরাহীম-এর পরিবারবর্গের উপর রহমত অবতীর্ণ করেছেন। আর আপনি মুহাম্মাদ, তার স্ত্রী এবং তার সন্তানদের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করুন, যেমনিভাবে আপনি ইবরাহীম-এর পরিবারবর্গের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করেছেন। আপনি অতি প্রশংসিত এবং উচ্চ মর্যাদাশীল।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-কে এ দোয়া করতে শুনেছেনঃ হে আল্লাহ! যদি আমি কোন মুমিন লোককে খারাপ বলে থাকি, তবে আপনি সেটাকে কিয়ামতের দিন তার জন্য আপনার নৈকট্য অর্জনের উপায় বানিয়ে দিন।

আনাস হতে বর্ণিত। একবার লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে লাগল, এমনকি প্রশ্ন করে তাকে বিরক্ত করে ফেললো। এতে তিনি রাগান্বিত হলেন এবং মিম্বারে আরোহণ করে বললেনঃ আজ তোমরা যত প্রশ্ন করবে আমি তোমাদের সকল প্রশ্নেরই ব্যাখ্যা সহকারে জবাব দিব। এ সময় আমি ডানে ও বামে তাকাতে লাগলাম এবং দেখলাম যে, প্রতিটি লোকই নিজের কাপড় দিয়ে মাথা পেচিয়ে কাঁদছেন। এমন সময় একজন লোক, যাকে লোকের সঙ্গে বিবাদের সময় তার বাপের নাম নিয়ে ডাকা হতো না, সে প্রশ্ন করলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ হুযাইফাহ। তখন উমার বলতে লাগলেনঃ আমরা আল্লাহর রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) -কে রাসূল হিসেবে গ্রহণ করেই সন্তুষ্ট। আমরা ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি ভাল মন্দের যে দৃশ্য আজ দেখলাম, তা আর কখনও দেখিনি। জান্নাত ও জাহান্নামের দৃশ্য আমাকে এত পরিষ্কারভাবে দেখানো হয়েছে যে, যেন এ দু'টি এ দেয়ালের পশ্চাতেই অবস্থিত। রাবী ক্বাতাদাহ এ হাদীস উল্লেখ করার সময় এ আয়াতটি পড়তেন- (অর্থ) হে মুমিনগণ! তোমরা সে সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে।

আনাস ইবন মালিক বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ ত্বলহা-কে বললেনঃ তুমি তোমাদের ছেলেদের ভিতর থেকে আমার খিদমাত করার উদ্দেশে একটি ছেলে খুজে নিয়ে এসো। আবূ ত্বলহা গিয়ে আমাকে তার সাওয়ারীর পিছনে বসিয়ে নিয়ে এলেন। তখন থেকে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমাত করে আসছি। যখনই কোন বিপদ দেখা দিত, তখন আমি তাকে অধিক করে এ দোয়া পড়তে শুনতামঃ হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা, পেরেশানী, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, ঋণের বোঝা এবং মানুষের আধিপত্য থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি সর্বদা তার খিদমাত করে আসছি, এমনকি যখন আমরা খাইবার থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলাম, তখন তিনি সফীয়্যাহ বিনতু হুয়াইকে সঙ্গে নিয়ে আসলেন। তিনি তাকে গনীমতের সম্পদ থেকে নিজের জন্য বেছে নিয়েছিলেন। তখন আমি তাকে দেখছিলাম যে, তিনি তাকে একখানা চাদর অথবা একখানা কম্বল দিয়ে ঢেকে নিজের পেছনে বসিয়েছিলেন। যখন আমরা সবাই সাহ্বা নামক স্থানে পৌছলাম, তখন আমরা 'হাইস' নামীয় খাবার তৈরী করে একটি চর্মের দস্তরখানে রাখলাম। তিনি আমাকে পাঠালে আমি গিয়ে কয়েকজনকে দাওয়াত করলাম। তারা এসে আহার করে গেলেন। এটি ছিল সফীয়্যাহর সঙ্গে তার বাসর যাপন। অতঃপর তিনি রওয়ানা হলে উহুদ পর্বত তার সামনে দেখা গেল। তখন তিনি বললেনঃ এ এমন একটি পর্বত যা আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি। তারপর যখন মদিনার কাছে পৌছলেন, তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি মদিনার দু'টি পর্বতের মধ্যবর্তী জায়গাকে হারাম (ঘোষণা) করছি, যে রকম ইবরাহীম মক্কাকে হারাম (ঘোষণা) করেছিলেন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের মুদ্দ ও সা'তে বারাকাত দান করুন।

মূসা ইবন উকবাহ বর্ণনা করেছেন। উম্মু খালিদ বিন্তু খালিদ বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে কবরের আযাব হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি।

মুস'আব বর্ণনা করেন, সাদ পাচটি জিনিস হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিতেন এবং তিনি এগুলো নবী (ﷺ) হতে উল্লেখ করতেন। তিনি এগুলো থেকে আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে এ দোয়া পড়তে নির্দেশ দিতেনঃ হে আল্লাহ! আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আমি কাপুরুষতা হতে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি অবহেলিত বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আর আমি দুনিয়ার ফিতনা দাজ্জালের ফিতনা থেকেও আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আমি কবরের আযাব হতেও আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমার কাছে মদিনার দু'জন ইয়াহূদী বৃদ্ধা মহিলা আসলেন। তারা আমাকে বললেন যে, কবরবাসীদের তাদের কবরে আযাব দেয়া হয়ে থাকে। তখন আমি তাদের এ কথা মিথ্যা বলে জানালাম। আমার বিবেক তাদের কথাটিকে সত্য বলে সায় দিল না। তারা দু'জন বেরিয়ে গেলেন। আর নবী (ﷺ) আমার নিকট এলেন। আমি তাকে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট দু'জন বৃদ্ধা এসেছিলেন। অতঃপর আমি তাকে তাদের কথা জানালাম। তখন তিনি বললেনঃ তারা দু'জন ঠিকই বলেছে। নিশ্চই কবরবাসীদেরকে এমন আযাব দেয়া হয়, যা সকল চতুষ্পদ জীবজন্তু শুনে থাকে। এরপর থেকে আমি তাকে সব সময় প্রতি সালাতে কবরের আযাব হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতে দেখেছি।

আনাস ইবন মালিক বলেছেন যে, নবী (ﷺ) প্রায়ই বলতেনঃ হে আল্লাহ! নিশ্চই আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা এবং অত্যধিক বার্ধক্য থেকে। আরও আশ্রয় প্রার্থনা করছি, কবরের আযাব হতে। আর আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা হতে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলতেনঃ হে আল্লাহ! নিশ্চই আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি অলসতা, অতিশয় বার্ধক্য, গুনাহ আর ঋণ থেকে, আর কবরের ফিতনা এবং কবরের শাস্তি হতে। আর জাহান্নামের ফিতনা এবং এর শাস্তি থেকে, আর ধনশালী হবার পরীক্ষার খারাপ পরিণতি থেকে। আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি দারিদ্রের অভিশাপ হতে। আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি মসীহ দাজ্জালের ফিতনা হতে। হে আল্লাহ! আমার গুনাহ-এর দাগগুলো থেকে আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে দিন এবং আমার অন্তরকে সমস্ত গুনাহ এর ময়লা থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে আপনি শুভ্র বস্ত্রকে ময়লা থেকে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করে থাকেন। আর আমার ও আমার গুনাহগুলোর মধ্যে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যতটা দূরত্ব আপনি দুনিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম দিকের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলতেনঃ হে আল্লাহ! নিশ্চই আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই- দুশ্চিন্তা, পেরেশানী, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণভার ও মানুষের প্রভাবাধীন হওয়া থেকে।

সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত। তিনি পাচটি কার্য থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তা নবী (ﷺ) থেকেই বর্ণনা করতেন। তিনি দোয়া করতেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কৃপণতা থেকে, আমি আশ্রয় চাচ্ছি কাপুরুষতা থেকে, আমি আশ্রয় চাচ্ছি অবহেলিত বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে, আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি দুনিয়ার বড় ফিতনা দাজ্জালের ফিতনা) থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের শাস্তি হতে।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি অলসতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি এবং আমি আপনার কাছে কাপুরুষতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আপনার কাছে আরও আশ্রয় চাচ্ছি বার্ধক্যের আতিশয্য থেকে এবং আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দোয়া করতেনঃ হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে মক্কাকে আমাদের জন্য প্রিয় করে দিয়েছেন, মদিনাকেও সেভাবে অথবা এর চেয়েও অধিক আমাদের কাছে প্রিয় করে দিন। আর মদিনার জ্বর 'জুহফা'র দিকে সরিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মাপের ও ওযনের পাত্রে বারাকাত দান করুন।

সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস বর্ণনা করেন, বিদায় হাজ্জের সময় আমি রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে পড়ছিলাম। নবী (ﷺ) সে সময় আমাকে দেখতে এলেন। তখন আমি বললামঃ আমি যে রোগাক্রান্ত, তাতো আপনি দেখছেন। আমি একজন বিত্তবান লোক। আমার এক মেয়ে ব্যতীত কোন ওয়ারিস নেই। তাই আমি কি আমার দু' তৃতীয়াংশ মাল সদাকাহ করে দিতে পারি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ তবে অর্ধেক মাল? তিনি বললেনঃ না। এক তৃতীয়াংশ অনেক। তোমার ওয়ারিশদের মানুষের কাছে ভিক্ষার হাত বাড়ানোর মত অভাবী রেখে যাবার চেয়ে তাদের বিত্তবান রেখে যাওয়া তোমার জন্য অনেক উত্তম। আর তুমি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যা কিছুই ব্যয় করবে নিশ্চই তার প্রতিদান দেয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লুকমাটি তুলে দিয়ে থাকো, তোমাকে এর প্রতিদান দেয়া হবে। আমি বললামঃ তা হলে আমার সঙ্গীগণের পরেও কি আমি বেচে থাকবো? তিনি বললেনঃ নিশ্চই তুমি এদের পরে বেচে থাকলে তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যা কিছু নেক আমল করো না কেন, এর বদলে তোমার মর্যাদা ও সম্মান আরও বেড়ে যাবে। আশা করা যায় যে, তুমি আরও কিছু দিন বেচে থাকবে। এমনকি তোমার দ্বারা অনেক কাওম উপকৃত হবে। আর অনেক সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারপর তিনি দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি আমার সাহাবীগণের হিজরাতকে বহাল রাখুন। আর তাদের পেছনে ফিরে যেতে দেবেন না। কিন্তু সাদ ইবন খাওলাহ এর দুর্ভাগ্য (কারণ তিনি বিদায় হাজ্জের সময় মক্কায় মারা যান) সাদ বলেনঃ মক্কায় তার মৃত্যু হওয়ায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন।

সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস বলেন, নবী (ﷺ) যে সব বাক্য দিয়ে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতেন, সে সব দ্বারা তোমরাও আশ্রয় প্রার্থনা কর। তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি কাপুরুষতা থেকে, আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আমি বার্ধক্যের অসহায়ত্ব থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আর আমি দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) দোয়া করতেনঃ হে আল্লাহ! আমি আলস্য, অতি বার্ধক্য, ঋণ আর পাপ থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নামের শাস্তি, জাহান্নামের ফিতনা, কবরের শাস্তি, প্রাচুর্যের ফিতনার কুফল, দারিদ্রের ফিতনার কুফল এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ! আপনি আমার যাবতীয় গুনাহ বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে দিন। আমার অন্তর যাবতীয় পাপ থেকে পরিচ্ছন্ন করুন, যেভাবে শুভ্র বস্ত্র ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। আমার ও আমার গুনাহসমূহের মধ্যে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন যতটা দূরত্ব আপনি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে করেছেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নামের ফিতনা, জাহান্নামের শাস্তি হতে। আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি কবরের ফিতনা হতে এবং আপনার আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব হতে। আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি প্রাচুর্যের ফিতনা হতে, আর আমি আশ্রয় চাচ্ছি অভাবের ফিতনা হতে। আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এ দোয়া পাঠ করতেনঃ হে আল্লাহ! নিশ্চই আমি আপনার কাছে জাহান্নামের সংকট, জাহান্নামের শাস্তি, কবরের সংকট, কবরের শাস্তি, প্রাচুর্যের ফিতনা ও অভাবের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধৌত করুন। আর আমার অন্তর গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে আপনি শুভ্র বস্ত্রের ময়লা পরিষ্কার করে থাকেন এবং আমাকে আমার গুনাহ থেকে এতটা দূরে সরিয়ে রাখুন, পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তকে পশ্চিম প্রান্ত থেকে যত দূরে রেখেছেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি অলসতা, গুনাহ এবং ঋণ হতে।

উম্মু সুলায়ম হতে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আনাস আপনার খাদিম, আপনি আল্লাহর নিকট তার জন্য দোয়া করুন। তিনি দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তার মাল ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন, আর আপনি তাকে যা কিছু দিয়েছেন তাতে বারাকাত দান করুন।

পূর্বের হাদিসের মতই (৬৩৭৮)।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু সুলায়ম বলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আনাস আপনার খাদিম। তখন তিনি দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তার মাল ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন এবং আপনি তাকে যা দিয়েছেন তাতে বারাকাত দান করুন।

পূর্বের হাদিসের মতই (৬৩৮০)।

জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের সকল কাজের জন্য ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন, যেমনভাবে তিনি কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। (বলতেন) যখন তোমাদের কারো কোন বিশেষ কাজ করার ইচ্ছে হয়, তখন সে যেন দু' রাকাত সালাত আদায় করে এরূপ দোয়া করে। (অর্থ) হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের দ্বারা আমার উদ্দিষ্ট কাজের মঙ্গলামঙ্গল জানতে চাই এবং আপনার ক্ষমতা বলে আমি কাজে সক্ষম হতে চাই। আর আমি আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। কারণ, আপনি ক্ষমতাবান আর আমার কোন ক্ষমতা নেই এবং আপনি জানেন আর আমি জানি না। আপনিই গায়িব সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। হে আল্লাহ! যদি আপনার জ্ঞানে এ কাজটিকে আমার দ্বীনের ব্যাপারে, আমার জীবন ধারণে ও পরিণামে- রাবী বলেন, কিংবা তিনি বলেছেন- আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক দিয়ে মঙ্গলজনক বলে জানেন তাহলে তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন। আর যদি আমার এ কাজটি আমার দ্বীনের ব্যাপারে, জীবন ধারণে ও পরিণামে- রাবী বলেন, কিংবা তিনি বলেছেন- দুনিয়ায় আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক দিয়ে আপনি আমার জন্য অমঙ্গলজনক মনে করেন, তবে আপনি তা আমা হতে ফিরিয়ে নিন। আমাকেও তা হতে ফিরিয়ে রাখুন। আর যেখানেই হোক, আমার জন্য মঙ্গলজনক কাজ নির্ধারিত করে দিন। তারপর আমাকে আপনার নির্ধারিত কাজের প্রতি তৃপ্ত রাখুন। রাবী বলেন, সে যেন এ সময় তার প্রয়োজনের নির্দিষ্ট বিষয়ের কথা উল্লেখ করে।

আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একবার পানি আনিয়ে অযূ করলেন। তারপর উভয় হাত তুলে দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি উবায়দ আবূ আমরকে মাফ করে দিন। আমি তখন তার বগলের শুভ্রতা দেখলাম। আরও দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তাকে কিয়ামতের দিন আপনার সৃষ্ট অধিকাংশ অনেক লোকের উপর স্থান দান করুন।

আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক সফরে আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। যখন আমরা উচু স্থানে আরোহণ করতাম তখন উচ্চস্বরে 'আল্লাহু আকবার' বলতাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ হে লোকেরা! তোমরা নিজেদের জানের উপর দয়া করো। কারণ তোমরা কোন বধির অথবা অনুপস্থিতকে আহবান করছ না বরং তোমরা আহবান জানাচ্ছ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টাকে। কিছুক্ষণ পর তিনি আমার কাছে এলেন, তখন আমি মনে মনে পড়ছিলামঃ 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ'। তখন তিনি বলেন, হে আবদুল্লাহ ইবন কায়স! তুমি পড়বে 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ'। কারণ এ দোয়া হলো জান্নাতের রত্ন ভান্ডারগুলোর একটি। অথবা তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে এমন একটি কথার সন্ধান দেব না যে কথাটি জান্নাতের রত্ন ভান্ডার? তাথেকে একটি রত্নভান্ডার হলো 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ'।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন যুদ্ধ, হাজ্জ কিংবা উমরাহ থেকে ফিরতেন, তখন প্রত্যেক উচু স্থানের উপর তিনবার 'আল্লাহু আকবার' বলতেন। তারপর বলতেনঃ "আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তার কোন শরীক নেই। রাজত্ব, হামদও তারই জন্য, তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবা্কারী, ইবাদাতকারী, আপন প্রতিপালকের প্রশংসাকারী, আল্লাহ তাআলা স্বীয় ওয়াদা রক্ষা করেছেন। তিনি তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন, আর শত্রু দলকে তিনি একাই প্রতিহত করেছেন।"

আনাস বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) আবদুর রহমান ইবন আওফের গায়ে হলুদ রং দেখে জিজ্ঞেস করলেনঃ ব্যাপার কী? তিনি বললেনঃ আমি এক নারীকে বিয়ে করেছি এক টুকরো স্বর্ণের বিনিময়ে। তিনি দোয়া করলেনঃ আল্লাহ তোমাকে বারাকাত দান করুন। একটা ছাগল দ্বারা হলেও তুমি ওয়ালীমা দাও।

জাবির বলেন, আমার আব্বা সাত অথবা নয়জন মেয়ে রেখে মারা যান। তারপর আমি এক নারীকে বিয়ে করি। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি বিয়ে করেছ। আমি বললামঃ হা। নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, সে নারী কুমারী না অকুমারী? আমি বললামঃ অকুমারী। তিনি বললেন, তুমি একজন কুমারী বিয়ে করলে না কেন? তা হলে তুমি তার সঙ্গে ক্রীড়া কৌতুক করতে এবং সেও তোমার সঙ্গে ক্রীড়া কৌতুক করত। আর তুমি তার সঙ্গে এবং সেও তোমার সঙ্গে হাসি-তামাশা করতো। আমি বললামঃ আমার পিতা সাত অথবা নয়জন মেয়ে রেখে মারা গেছেন। কাজেই আমি এটা পছন্দ করলাম না যে, তাদের মত কুমারী বিয়ে করে আনি। এজন্য আমি এমন একজন নারীকে বিয়ে করেছি যে তাদের তত্ত্বাবধান করতে পারবে। তখন তিনি দোয়া করলেনঃ আল্লাহ! তোমাকে বারাকাত দান করুন। ইবন 'উয়াইনাহ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম, আমর থেকে 'আল্লাহ তোমাকে বারাকাত দিন" কথাটি বলেননি।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গত হতে চাইলে সে বলবেঃ আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদেরকে যা দান করেন তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন। তারপর তাদের এ মিলনের মাঝে যদি কোন সন্তান নির্ধারিত থাকে তা হলে শয়তান এ সন্তানকে কক্ষনো ক্ষতি করতে পারবে না।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) অধিকাংশ সময়ই এ দোয়া পড়তেনঃ হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দাও এবং আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে রক্ষা কর।(আল-বাকারাহ ২/২০১)

সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যেভাবে লেখা শিখানো হতো ঠিক তেমনিভাবে আমাদেরকে নবী (ﷺ) এ দোয়া শিখাতেনঃ হে আল্লাহ! আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আর আমি ভীরুতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আর আপনার আশ্রয় চাচ্ছি আমাদেরকে বার্ধক্যের আতিশয্যের দিকে ফিরিয়ে দেয়া থেকে। আর আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি দুনিয়ার ফিতনা এবং কবরের শাস্তি হতে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর যাদু করা হলো। অবস্থা এমন হল যে, তার খেয়াল হতো যে, তিনি একটা কাজ করেছেন, অথচ তিনি তা করেননি। সেজন্য তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। এরপর তিনি [আয়িশাহ ]-কে বললেনঃ তুমি জেনেছ কি? আমি যে বিষয়টা আল্লাহর নিকট হতে জানতে চেয়েছিলাম, তা তিনি আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। আয়িশাহ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তা কী? তিনি বললেনঃ (স্বপ্নের মধ্যে) আমার নিকট দু'জন লোক আসলেন এবং একজন আমার মাথার কাছে, আরেক জন আমার দু' পায়ের কাছে বসলেন। তারপর একজন তার সাথীকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ লোকের রোগটা কী? তখন অপরজন বললেনঃ তিনি যাদুগ্রস্ত। আবার তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তাকে কে যাদু করেছে? অপরজন বললেনঃ লাবীদ ইবন আ'সাম। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তা কিসের মধ্যে করেছে। তিনি বললেন, চিরুনী, ছেঁড়া চুল ও কাঁচা খেজুর গাছের খোসার মধ্যে। আবার তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এটা কোথায়? তিনি বললেনঃ যুরাইক গোত্রের 'যারওয়ান' কূপের মধ্যে। আয়িশাহ বর্ণনা করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে গেলেন (তা বের করিয়ে নিয়ে) আয়িশাহর কাছে ফিরে এসে বললেনঃ আল্লাহর কসম! সেই কূপের পানি যেন মেন্দি তলানি পানি এবং এর খেজুর গাছগুলো ঠিক যেন শয়তানের মাথা। আয়িশাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে এসে তার কাছে কূপের বিস্তারিত বর্ণনা দিলেন। তখন আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এ বিষয়টি লোকেদের মাঝে প্রকাশ করে দিলেন না কেন? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা তো আমাকে রোগমুক্ত করেছেন। সুতরাং আমি লোকজনের মাঝে উত্তেজনা ছড়ানো পছন্দ করি না। ঈসা ইবন ইউনুস ও লায়স .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ)-কে যাদু করা হলে তিনি বারবার দোয়া করলেন, এভাবে পূর্ণ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

ইবন আবূ আওফা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (খন্দকের যুদ্ধে) শত্রু বাহিনীর উপর বদ দোয়া করেছেনঃ হে আল্লাহ! হে কিতাব নাযিলকারী! হে ত্বরিৎ হিসাব গ্রহণকারী! আপনি শত্রু বাহিনীকে পরাস্ত করুন। তাদের পরাস্ত করুন এবং তাদের প্রকম্পিত করে দিন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এশার সালাতের শেষ রাকাতে যখন 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ্' বলতেন তখন কুনূতে (নাযিলা) পড়তেনঃ হে আল্লাহ! আইয়্যাশ ইবন আবূ রাবীআহকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবন ওয়ালীদকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! সালামাহ ইবন হিশামকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! আপনি দুর্বল মুমিনদের মুক্ত করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুযার গোত্রকে ভয়াবহ শাস্তি দিন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের উপর ইউসুফ-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের বছরের মত দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিন।

আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) একটা সারীয়্যা (ক্ষুদ্র বাহিনী) প্রেরণ করলেন। তাদের কুররা বলা হতো। তাদের হত্যা করা হলো। আমি নবী (ﷺ)-কে এদের ব্যাপারে যেরূপ রাগান্বিত দেখেছি অন্য কারণে তেমন রাগান্বিত দেখিনি। এজন্য তিনি ফজরের সালাতে এক মাস ধরে কুনূত পড়লেন। তিনি বলতেনঃ উসায়্যা গোত্র আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের লোকেরা নবী (ﷺ)-কে সালাম করার সময় বলতো 'আসসামু 'আলাইকা' (ধ্বংস তোমার প্রতি)। আয়িশাহ তাদের এ কথার খারাপ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে বললেনঃ 'আলাইকুমুসসাম ওয়াল্লানত' (ধ্বংস তোমাদের প্রতি ও লানত)। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ আয়িশাহ থামো! আল্লাহ তাআলা সকল বিষয়েই নম্রতা পছন্দ করেন। আয়িশাহ বললেনঃ তারা কী বলেছে আপনি কি তা শুনেননি? তিনি বললেন, আমি তাদের কথার জওয়াবে 'ওয়া'আলাইকুম' বলেছি- তা তুমি শুননি? আমি বলেছি, তোমাদের উপরও।

আলী ইবন আবূ তালিব বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তাদের গৃহ এবং কবরকে আগুন দিয়ে ভর্তি করে দিন। কারণ তারা আমাদেরকে 'সালাতুল উস্‌তা' থেকে বারিত করে রেখেছে। এমনকি সূর্য ডুবে গেল। আর 'সালাতুল উস্তা' হলো আসর সালাত।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তুফাইল ইবন আমর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললেনঃ দাওস গোত্র বিরুদ্ধাচরণ করেছে ও অবাধ্য হয়েছে এবং ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। সুতরাং আপনি তাদের উপর বদ দোয়া করুন। সাহাবীগণ ভাবলেন যে, তিনি তাদের উপর বদ দোয়াই করবেন। কিন্তু তিনি (তাদের জন্য) দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি দাওস গোত্রকে হিদায়াত দান করুন। আর তাদের মুসলিম করে নিয়ে আসুন।

ইবন আবূ মূসা তার পিতা হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এরূপ দোয়া করতেনঃ হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার কাজের সকল বাড়াবাড়ি এবং আমার যেসব গুনাহ আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটি, আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ ও আমার অজ্ঞতা এবং আমার উপহাসমূলক গুনাহ আর এ রকম গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন যেসব গুনাহ আমি আগে করেছি। আপনিই অগ্রবর্তী করেন, আপনিই পশ্চাদবর্তী করেন এবং আপনিই সব বিষয়োপরি সর্বশক্তিমান।

আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) দোয়া করতেনঃ হে আল্লাহ! আপনিক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটিজনিত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার বাড়াবাড়ি এবং আর যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার হাসি-ঠাট্টামূলক গুনাহ, আমার প্রকৃত গুনাহ, আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ এবং ইচ্ছাকৃত গুনাহ, আর এসব গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে।

আবূ হুরাইরাহ বর্ণনা করেন, আবুল কাসিম (ﷺ) বলেন, জুমুআহর দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যদি সে মুহূর্তটিতে কোন মুসলিম দাড়িয়ে সালাত আদায় করে, আল্লাহর কাছে কোন কল্যাণের জন্য দোয়া করলে তা আল্লাহ তাকে দান করবেন। তিনি এ হাদীস বর্ণনার সময় আপন হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলে আমরা বললাম (বুঝলাম) যে, মুহূর্তটির সময় খুবই স্বল্প।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। একবার একদল ইয়াহূদী নবী (ﷺ) এর নিকট এসে সালাম দিতে গিয়ে বললোঃ 'আস্‌সামু 'আলাইকা'। তিনি বললেনঃ 'ওয়াআলাইকুম'। কিন্তু আয়িশাহ বললেনঃ 'আসসামু 'আলাইকুম ওয়া লা'য়ানাকুমুল্লাহ ওয়া গাযিবা 'আলাইকুম' (তোমরা ধ্বংস হও, আল্লাহ তোমাদের উপর লানত করুন, আর তোমাদের উপর গযব অবতীর্ণ করুন)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আয়িশাহ তুমি থামো! তুমি নম্রতা অবলম্বন করো, আর তুমি কঠোরতা বর্জন করো। আয়িশাহ বললেনঃ তারা কী বলেছে আপনি কি শুনেননি? তিনি বললেনঃ আমি যা বলেছি, তা কি তুমি শুননি? আমি তো তাদের কথাটা তাদের উপরই ফিরিয়ে দিলাম। কাজেই তাদের উপর আমার বদ্ দোয়া কবূল হয়ে যাবে। কিন্তু আমার ব্যাপারে তাদের বদ্ দোয়া কবূল হবে না।

আলী ইবন আবদুল্লাহ আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী বলেছেন, যখন ক্বারী 'আমীন' বলবে তখন তোমরাও আমীন বলবে। কারণ এ সময় ফেরেশতা আমীন বলে থাকেন। সুতরাং যার আমীন বলা ফেরেশতার আমীন বলার সঙ্গে মিলে যাবে, তার পূর্বের সব গুনাহক্ষমা করে দেয়া হবে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনের মধ্যে একশ বার পড়বে 'আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই। রাজত্ব একমাত্র তারই, প্রশংসা তারই, তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।' সে দশটি গোলাম মুক্ত করার সাওয়াব লাভ করবে এবং তার জন্য একশ'টি নেকী লেখা হবে, আর তার একশ'টি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হবে। আর সে দিন সন্ধ্যা অবধি এটা তার জন্য রক্ষাকবচ হবে এবং তার চেয়ে অধিক ফাযীলাতপূর্ণ আমল আর কারো হবে না। তবে সে ব্যক্তি ছাড়া যে ব্যক্তি এ আমল তার চেয়েও অধিক করবে।

আমর ইবন মাইমূন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক (এ কথাগুলো) দশবার পড়বে সে ঐ লোকের সমান হয়ে যাবে, সে লোক ইসমাঈল -এর বংশ থেকে একটা গোলাম মুক্ত করে দিয়েছে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক প্রতিদিন একশ'বার সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ বলবে তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ দু'টি বাক্য এমন যা মুখে উচ্চারণ করা অতি সহজ, পাল্লায় অতি ভারী, আর আল্লাহর নিকট অতি প্রিয়। তা হলোঃ সুবহানাল্লাহিল আযীম, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ।

আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে তার প্রতিপালকের যিকর করে, আর যে যিকর করে না, তাদের উপমা হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তি।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর একদল ফেরেশতা আছেন, যারা আল্লাহর যিকরে রত লোকেদের খোজে পথে পথে ঘুরে বেড়ান। যখন তারা কোথাও আল্লাহর যিকরে রত লোকেদের দেখতে পান, তখন ফেরেশতারা পরস্পরকে ডাক দিয়ে বলেন, তোমরা আপন আপন কাজ করার জন্য এগিয়ে এসো। তখন তারা তাদের ডানাগুলো দিয়ে সেই লোকদের ঢেকে ফেলেন নিকটবর্তী আকাশ পর্যন্ত। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন (যদিও ফেরেশতাদের চেয়ে তিনিই অধিক জানেন) আমার বান্দারা কী বলছে? তখন তারা বলে, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দিচ্ছে, তারা আপনার গুণগান করছে এবং তারা আপনার মাহাত্ম্যপ্রকাশ করছে। তখন তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? তখন তারা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার শপথ! তারা আপনাকে দেখেনি। তিনি বলবেন, আচ্ছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত? তারা বলবেন, যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে তারা আরও অধিক পরিমাণে আপনার ইবাদাত করত, আরো অধিক আপনার মাহাত্ম্য ঘোষণা করত, আরো অধিক পরিমাণে আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহ বলবেন, তারা আমার কাছে কী চায়? তারা বলবে, তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলবেন, না। আপনার সত্তার কসম! হে রব! তারা তা দেখেনি। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, যদি তারা দেখত তবে তারা কী করত? তারা বলবে, যদি তারা তা দেখত তাহলে তারা জান্নাতের আরো অধিক লোভ করত, আরো বেশি চাইত এবং এর জন্য আরো বেশি বেশি আকৃষ্ট হত। আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করবেন, তারা কী থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়? ফেরেশতাগণ বলবেন, জাহান্নাম থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তারা জবাব দেবে, আল্লাহর কসম! হে প্রতিপালক! তারা জাহান্নাম দেখেনি। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, যদি তারা তা দেখত তখন তাদের কী হত? তারা বলবে, যদি তারা তা দেখত, তাহলে তারা তাথেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং একে অত্যন্ত বেশি ভয় করত। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদেরক্ষমা করে দিলাম। তখন ফেরেশতাদের একজন বলবে, তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে, যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোন প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তারা এমন উপবেশনকারী যাদের মাজলিসে উপবেশনকারী বিমুখ হয় না।

আবূ মূসা আল আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী (ﷺ) একটি গিরিপথ দিয়ে অথবা বর্ণনাকারী বলেন, একটি চূড়া হয়ে যাচ্ছিলেন, যখন তার উপর উঠলেন তখন এক ব্যক্তি উচ্চকণ্ঠে বলল, 'লা ইলাহা ইলাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার'। বর্ণনাকারী বলেনঃ তখন রাসূল (ﷺ) তার খচ্চরের উপরে ছিলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা তো কোন বধির কিংবা কোন অনুপস্থিত কাউকে ডাকছো না। তারপর তিনি বললেনঃ হে আবূ মূসা, অথবা বললেনঃ হে আবদুল্লাহ্। আমি কি তোমাকে জান্নাতের ধন ভান্ডারের একটি বাক্য বলে দেব না? আমি বললাম, হ্যা, বলে দিন। তিনি বললেনঃ তা হচ্ছে'লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ্'।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলার নিরানব্বই নাম আছে, এক কম একশত নাম। যে ব্যক্তি এ (নাম) গুলোর হিফাযাত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ বিজোড়। তিনি বিজোড় পছন্দ করেন।

শাক্বীক্ব হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ-এর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় ইয়াযিদ ইবন মুআবিয়াহ এসে পড়লেন। তখন আমরা তাকে বললাম, আপনি কি বসবেন না? তিনি বললেন, না, বরং আমি ভেতরে যাব এবং আপনাদের নিকট আপনাদের সঙ্গীকে নিয়ে আসব। নইলে আমি ফিরে এসে বসব। সুতরাং আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ তার হাত ধরে বেরিয়ে এলেন। তিনি আমাদের সামনে দাড়িয়ে বললেন, আমি তো আপনাদের মাঝে উপস্থিত হবার কথা অবহিত ছিলাম। কিন্তু আপনাদের নিকট বেরিয়ে আসার ব্যাপারে আমাকে বাধা দিচ্ছিল এ কথাটা যে, নবী (ﷺ) ওয়ায নাসীহাত করতে আমাদের বিরতি দিতেন, যাতে আমাদের বিরক্তি বোধ না হয়।