জিযিয়াহ্ কর ও সন্ধি স্থাপন (৩১৫৬-৩১৮৯)
আমর (ইবন দ্বীনার) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন যায়দ ও আমর ইবন আউস সহ যমযমের সিড়ির নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, হিজরী সত্তর সনে যে বছর মুসআব ইবন যুবায়র বসরাবাসীদের নিয়ে হাজ্জ আদায় করেছিলেন। তখন বাজালাহ্ তাদের উভয়কে এ হাদীস বর্ণনা করেন, আমি আহনাফের চাচা জাযই ইবন মুআবিয়াহ-এর লেখক ছিলাম। আমাদের নিকট উমার ইবন খাত্তাব-এর পক্ষ হতে তার মৃত্যুর এক বছর আগে একখানি পত্র আসে যে, যে সব অগ্নিপূজক মাহরামদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ তাদের আলাদা করে দাও। আর উমার অগ্নিপূজকদের নিকট হতে জিযইয়াহ গ্রহণ করতেন না।
যে পর্যন্ত না আবদুর রহমান ইবন আউফ এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিলেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হাজার এলাকার অগ্নিপূজকদের নিকট হতে তা গ্রহণ করেছেন।
মিস্ওয়ার ইবন মাখরামাহ হতে বর্ণিত যে, আমর ইবন আউফ আনসারী যিনি বনী আমির ইবন লুয়াইয়ের মিত্র ছিলেন এবং বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তিনি তাকে বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আবূ উবাইদাহ ইবন জাররাহ-কে বাহরাইনের জিযইয়াহ আদায় করার জন্য পাঠালেন। আর রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বাহরাইনবাসীদের সঙ্গে সন্ধি করেছিলেন এবং আলা ইবন হাযরামী-কে তাদের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। আবূ উবাইদাহ বাহরাইন হতে অর্থ সম্পদ নিয়ে এলেন। আনসারগণ আবূ উবাইদাহর আগমন বার্তা শুনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে ফজরের সালাতে সবাই হাযির হলেন। যখন আল্লাহর রাসূল তাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করে ফিরলেন, তখন তারা তার সামনে হাযির হলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদের দেখে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, আমার মনে হয় তোমরা শুনেছ, আবূ উবাইদাহ কিছু নিয়ে এসেছেন। তারা বললেন, হ্যা, হে আল্লাহর রাসূল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, 'সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের খুশী করে তার আকাঙ্ক্ষা রাখ। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্রের ভয় করি না। কিন্তু তোমাদের ব্যাপারে এ আশঙ্কা করি যে, তোমাদের উপর দুনিয়া এরূপ প্রসারিত হয়ে পড়বে যেমন তোমাদের অগ্রবর্তীদের উপর প্রসারিত হয়েছিল। আর তোমরাও দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে, যেমন তারা আকৃষ্ট হয়েছিল। আর তা তোমাদের বিনাশ করবে, যেমন তাদের বিনাশ করেছে।'
জুবাইর ইবন হাইয়াহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন বড় বড় শহরের দিকে সৈন্য দল প্রেরণ করলেন। সে সময় হুরমযান ইসলাম গ্রহণ করে। উমার তাকে বললেন, আমি এসব যুদ্ধের ব্যাপারে তোমার পরামর্শ গ্রহণ করতে চাই। তিনি বললেন, ঠিক আছে। এ সকল দেশ এবং দেশে মুসলিমদের দুশমন যে সব লোক বাস করছে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি পাখির মত, যার একটি মাথা, দু'টি ডানা ও দু'টি পা রয়েছে। যদি একটি ডানা ভেঙ্গে দেয়া হয়, তবে সে পাখিটি উভয় পা, একটি ডানা ও মাথার ভরে উঠে দাড়াবে। যদি অপর ডানা ভেঙ্গে দেয়া হয়, তবে সে দু'টি পা ও মাথার ভরে উঠে দাড়াবে। আর যদি মাথা ভেঙ্গে দেয়া হয়, তবে উভয় পা, উভয় ডানা ও মাথা সবই অকেজো হয়ে যাবে। কিসরা শত্রুদের মাথা, কায়সার হল একটি ডানা, আর পারস্য অপর একটি ডানা। কাজেই মুসলিমগণকে এ আদেশ করুন, তারা যেন কিসরার উপর হামলা করে। বাকর ও যিয়াদ উভয়ে যুবাইর ইবন হাইয়াহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর উমার আমাদের ডাকলেন আর আমাদের উপর নুমান ইবন মুকাররিনকে আমীর নিযুক্ত করেন। আমরা যখন শত্রু দেশে পৌছলাম, কিসরার এক সেনাপতি চল্লিশ হাজার সৈন্য নিয়ে আমাদের মুকাবিলায় আসল। তখন তার পক্ষ হতে একজন দোভাষী দাড়িয়ে বলল, তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমার সঙ্গে আলোচনা করুক। তখন মুগীরাহ (ইবন শুবাহ) বললেন, যা ইচ্ছা প্রশ্ন করতে পার। সে বলল, তোমরা কারা? তিনি বললেন, আমরা আরবের লোক। দীর্ঘ দিন আমরা অতিশয় দুর্ভাগ্য এবং কঠিন বিপদে ছিলাম। ক্ষুধার জ্বালায় আমরা চামড়া ও খেজুর গুটি চুষতাম। চুল ও পশম পরিধান করতাম। বৃক্ষ ও পাথর পূজা করতাম। আমরা যখন এ অবস্থায় পতিত তখন আসমান ও যমীনের প্রতিপালক আমাদের মধ্য হতে আমাদের নিকট একজন নবী পাঠালেন। তার পিতা-মাতাকে আমরা চিনি। আমাদের নবী ও আমাদের রবের রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন, যে পর্যন্ত না তোমরা এক আল্লাহ তাআলার ইবাদাত কর কিংবা জিযইয়াহ দাও। আর আমাদের নবী আমাদের রবের পক্ষ হতে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, আমাদের মধ্য হতে যে নিহত হবে, সে জান্নাতে এমন নিয়ামাত লাভ করবে, যা কখনো দেখা যায়নি। আর আমাদের মধ্য হতে যারা জীবিত থাকবে তোমাদের গর্দানের মালিক হবে।
নুমান (মুগীরাহকে) বললেন, আপনাকে আল্লাহ তাআলা এমন যুদ্ধে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথী করেছেন আর তিনি আপনাকে লজ্জিত ও অসম্মানিত করেনি আর আমিও আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে অনেক যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। তার নিয়ম এ ছিল যে, যদি দিনের পূর্বাহ্নে যুদ্ধ শুরু না করতেন, তবে তিনি বাতাস প্রবাহিত হওয়া এবং সালাতের সময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন।
আবূ হুমাইদ সাঈদী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে তাবুক যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। তখন আয়লাহর অধিপতি নবী (ﷺ)-এর জন্য একটি সাদা রং এর খচ্চর হাদিয়া দিল আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে চাদর দান করলেন এবং এলাকা তারই জন্য লিখে দিলেন।
জুয়াইরিয়াহ ইবন কুদামাহ তামীমী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবন খাত্তাব-কে বললাম, 'হে আমীরুল মুমিনীন! আমাদের কিছু অসীয়্যাত করুন।' তিনি বললেন, 'আমি তোমাদেরকে আল্লাহর ওয়াদা রক্ষার অসিয়্যত করছি। কারণ তা হল তোমাদের নবীর ওয়াদা এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনের জীবিকা।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বাহরাইনের ভূমি লিখে দেয়ার জন্য আনসারদের ডাকলেন। তখন তারা বললেন, না, আল্লাহর কসম! আমরা সে পর্যন্ত গ্রহণ করব না, যে পর্যন্ত আপনি আমাদের ভাই কুরাইশদের জন্যও একইভাবে লিখে না দেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এ সম্পদ তো তাদের জন্য যতক্ষণ আল্লাহ তাআলা চাইবেন। কিন্তু তারা সে কথাই বলতে থাকলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, আমার পরে দেখতে পাবে যে, অন্যদেরকে তোমাদের উপর প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। তখন তোমরা আমার সঙ্গে হাওযে মিলিত হওয়া পর্যন্ত সবর করবে।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে বলেছিলেন, যদি আমার নিকট বাহরাইনের মাল আসে তবে আমি তোমাকে এ পরিমাণ, এ পরিমাণ, এ পরিমাণ দিব। পরে যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইন্তিকাল করেন আর বাহরাইনের সম্পদ এসে যায় তখন আবূ বাকর বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট যে ব্যক্তির কোন ওয়াদা থাকে, সে যেন আমার নিকট আসে। তখন আমি তার নিকট গেলাম এবং বললাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে বলেছিলেন, যদি আমার নিকট বাহরাইনের সম্পদ আসে, তবে আমি তোমাকে এ পরিমাণ, এ পরিমাণ ও এ পরিমাণ দিব। আবূ বাকর আমাকে বললেন, তুমি অঞ্জলি ভরে নাও। আমি এক অঞ্জলি উঠালাম। তিনি আমাকে বললেন, এগুলো গুণে দেখ। আমি গুণে দেখলাম যে, তাতে পাচশ রয়েছে। তখন তিনি আমাকে এক হাজার পাচশ দিলেন।
আনাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ)-এর নিকট বাহরাইনের মাল এলো। তখন তিনি বললেন, তোমরা এগুলো মসজিদে ঢেলে দাও আর এ মাল এর আগে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আসা মালের থেকে অনেক অধিক ছিল। এ সময় আব্বাস এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে দান করুন। আমি আমার এবং আকীলের মুক্তিপণ দিয়েছি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, আচ্ছা নাও। তিনি তার কাপড়ে অঞ্জলি ভরে নিতে লাগলেন। অতঃপর তা উঠাতে চাইলেন কিন্তু উঠাতে পারলেন না। তখন তিনি বললেন, কাউকে আমার উপর এ বোঝা উঠিয়ে দিতে বলুন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, না। তখন তিনি বললেন, আচ্ছা আপনিই আমার উপর উঠিয়ে দিন। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, না। তিনি তা হতে কিছু কম করলেন এবং উঠাতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু উঠাতে পারলের না। অতঃপর বললেন, কাউকে আমার উপর বোঝাটি উঠিয়ে দিতে বলুন। তিনি বললেন, না। তখন আব্বাস বললেন, আপনিই একটু আমার উপর উঠিয়ে দিন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, না। অতঃপর তিনি আবার তা হতে কমালেন, অতঃপর কাঁধে উঠিয়ে রওনা হলেন। তার এ আসক্তি দেখে বিস্ময়ের সাথে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকিয়ে থাকলেন, যতক্ষণ না তিনি আমাদের দৃষ্টির আড়াল হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে স্থানে একটি দিরহাম থাকা পর্যন্ত সেখান হতে উঠে দাড়াননি।
আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, 'যে ব্যক্তি কোন জিম্মীকে কতল করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না। যদিও জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব হতে পাওয়া যাবে।'
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা মসজিদে নববীতে উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বের হলেন এবং বললেন, তোমরা ইয়াহূদীদের কাছে চল। আমরা চললাম এবং তাদের পাঠকেন্দ্রে পৌছলাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদের উদ্দেশে বললেন, তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে নিরাপত্তা পাবে আর জেনে রাখ, পৃথিবী আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূলের। আমি ইচ্ছা করেছি, আমি তোমাদের এ দেশ হতে নির্বাসিত করব। যদি তোমাদের কেউ তাদের মালের বিনিময়ে কিছু পায়, তবে সে যেন তা বিক্রি করে ফেলে। আর জেনে রাখ, পৃথিবী আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূলের।
সাঈদ ইবন জুবাইর হতে বর্ণিত যে, তিনি ইবন আব্বাস-কে বলতে শুনেছেনঃ বৃহস্পতিবার! তুমি জান কি বৃহস্পতিবার কেমন দিন? এ বলে তিনি এমনভাবে কাঁদলেন যে, তার অশ্রুতে কঙ্কর ভিজে গেল। আমি বললাম, হে ইবন আব্বাস! বৃহস্পতিবার দিন কী হয়েছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর রোগকষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছিলেন, আমার নিকট গর্দানের হাড় নিয়ে এস, আমি তোমাদের জন্য এমন একটি লিপি লিখে দিব অতঃপর তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তখন উপস্থিত সাহাবীগণের বাদানুবাদ হল। অথচ নবীর সামনে বাদানুবাদ করা শোভনীয় নয়। সাহাবীগণ বললেন, নবী (ﷺ)-এর কী হয়েছে? তিনি কি বলতে ভুলে গেলেন? তোমরা আবার জিজ্ঞেস করে দেখ। তখন তিনি বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি যে অবস্থায় আছি, তা তোমরা আমাকে যেদিকে ডাকছ তার চেয়ে উত্তম। অতঃপর তিনি তাদের তিনটি বিষয়ে আদেশ দিলেন। (১) মুশরিকদের আরব উপদ্বীপ হতে বের করে দিবে, (২) বহিরাগত প্রতিনিধিদের সেভাবে উপঢৌকন দিবে যেভাবে আমি তাদের দিতাম। তৃতীয়টি উত্তম ছিল হয়ত তিনি সে ব্যাপারে নীরব থেকেছেন, নতুবা তিনি বলেছিলেন, আমি ভুলে গিয়েছি।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন খায়বার বিজিত হয়, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে একটি (ভুনা) বকরী হাদিয়া দেয়া হয়; যাতে বিষ ছিল। নবী (ﷺ) আদেশ দিলেন যে, এখানে যত ইয়াহূদী আছে, সকলকে একত্র কর। তাদের সকলকে তার সামনে একত্র করা হল। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের একটি প্রশ্ন করব। তোমরা কি আমাকে তার সত্য উত্তর দিবে?' তারা বলল, 'হ্যা, সত্য উত্তর দিব।' নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমাদের পিতা কে?' তারা বলল, 'অমুক।' আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, 'তোমরা মিথ্যা বলেছ, বরং তোমাদের পিতা অমুক।' তারা বলল, 'আপনিই ঠিক বলেছেন।' তখন তিনি বললেন, 'আমি যদি তোমাদের একটি প্রশ্ন করি, তোমরা কি তার সঠিক উত্তর দিবে?' তারা বলল, 'হ্যা, দিব, হে আবুল কাসিম! আর যদি আমরা মিথ্যা বলি, তবে আপনি আমাদের মিথ্যা ধরে ফেলবেন, যেমন আমাদের পিতা সম্পর্কে আমাদের মিথ্যা ধরে ফেলেছেন।' তখন তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, 'কারা জাহান্নামবাসী?' তারা বলল, আমরা তথায় অল্প কিছু দিন অবস্থান করব, অতঃপর আপনারা আমাদের পেছনে সেখানে থেকে যাবেন।' নবী (ﷺ) বললেন, 'দূর হও, তোমরাই সেখানে থাকবে। আল্লাহর কসম! আমরা কখনো তাতে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হব না।' অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, 'আমি যদি তোমাদের একটি প্রশ্ন করি, তোমরা কি তার সঠিক উত্তর দিবে?' তারা বলল, 'হ্যা, হে আবুল কাসিম!' আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি এ বকরীটিতে বিষ মিশিয়েছ? তারা বলল, 'হ্যা।' তিনি বললেন, 'কিসে তোমাদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করল?' তারা বলল, আমরা চেয়েছি আপনি যদি মিথ্যাচারী হন, তবে আমরা আপনার নিকট হতে স্বস্তি লাভ করব। আর আপনি যদি নবী হন তবে তা আপনার কোন ক্ষতি করবে না।
আসিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস-কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রুকুর আগে। আমি বললাম, অমুক তো বলে যে, আপনি রুকুর পরে বলেছেন। তিনি বললেন, সে মিথ্যা বলেছে। অতঃপর তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এক মাস পর্যন্ত রুকুর পরে কুনূত পড়েন। তিনি বানূ সুলাইম গোত্রসমূহের বিরুদ্ধে দোয়া করেছিলেন। আনাস বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) চল্লিশজন কিংবা সত্তর জন ক্বারী কয়েকজন মুশরিকের কাছে পাঠালেন। তখন বানূ সুলাইমের লোকেরা তাদের হামলা করে তাদের হত্যা করে। অথচ তাদের এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর মধ্যে সন্ধি ছিল। আনাস বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে এ ক্বারীদের জন্য যতটা ব্যথিত দেখেছি আর কারো জন্য এতখানি ব্যথিত দেখিনি।
উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট গেলাম। তখন তাকে এমন অবস্থায় পেলাম যে, তিনি গোসল করছিলেন এবং তার মেয়ে ফাতিমা তাকে পর্দা করছিলেন। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ইনি কে? আমি বললাম, আমি উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব। তখন তিনি বললেন, মারহাবা হে উম্মু হানী! যখন তিনি গোসল হতে ফারেগ হলেন, একখানি কাপড়ে শরীর ঢেকে দাড়িয়ে আট রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সহোদর ভাই আলী হুবাইরার অমুক পুত্রকে হত্যা করার সংকল্প করেছে, আর আমি তাকে আশ্রয় দিয়েছি। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হে উম্মু হানী! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছো, আমিও তাকে আশ্রয় দিয়েছি। উম্মু হানী বলেন, এটা চাশ্তের সময় ছিল।
ইব্রাহীম তাইমী-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন এবং বললেন, আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব ও এই সহীফায় যা আছে, এছাড়া অন্য কোন কিতাব নেই, যা আমরা পাঠ করে থাকি। তিনি বলেন, এ সাহীফায় রয়েছে, যখমের দন্ড বিধান, উটের বয়সের বিবরণ এবং আইর পর্বত থেকে সওর পর্যন্ত মদিনা্ হারাম হবার বিধান। যে ব্যক্তি এর মধ্যে বিদ্'আত উদ্ভাবণ করে কিংবা বিদ্আতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। আল্লাহ তার কোন নফল ও ফরজ ইবাদাত কবূল করেন না। আর যে নিজ মাওলা ব্যতীত অন্যকে মাওলা হিসেবে গ্রহণ করে, তার উপর একই রকম লানত। আর নিরাপত্তা দানের ক্ষেত্রে সর্বস্তরের মুসলিমগণ একইভাবে দায়িত্বশীল এবং যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের চুক্তি ভঙ্গ করে তার উপরও তেমনি অভিসম্পাত।
সাহল ইবন আবূ হাসমাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন সাহল ও মুহায়্যিসাহ ইবন মাসঊদ ইবন যায়দ খায়বারের দিকে গেলেন। তখন খায়বারের ইয়াহূদীদের সঙ্গে সন্ধি ছিল। পরে তারা উভয়ে আলাদা হয়ে গেলেন। অতঃপর মুহায়্যিসাহ আবদুল্লাহ ইবন সাহলের নিকট আসেন এবং বলেন যে, তিনি মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। তখন মুহাইয়িসাহ তাকে দাফন করলেন। অতঃপর মদিনায় এলেন। আবদুর রহমান ইবন সাহল ও মাস'উদের দুই পুত্র মুহায়্যিসাহ ও হুওয়ায়্যিসাহ নবী (ﷺ)-এর নিকট গেলেন। আবদুর রহমান কথা বলার জন্য এগিয়ে এলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, বড়কে আগে বলতে দাও, বড়কে আগে বলতে দাও। আর আবদুর রহমান ইবন সাহল ছিলেন বয়সে সবচেয়ে ছোট। এতে তিনি চুপ রইলেন এবং মুহায়্যিসাহ ও হুওয়ায়্যিসাহ উভয়ে কথা বললেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা কি শপথ করে বলবে এবং তোমাদের হত্যাকারীর অথবা বলেছেন, তোমাদের সঙ্গীর রক্ত পণের অধিকারী হবে? তারা বললেন, আমরা কিভাবে শপথ করব? আমরা তো উপস্থিত ছিলাম না এবং স্বচক্ষে দেখিনি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, তবে ইয়াহূদীরা পঞ্চাশটি শপথের মাধ্যমে তোমাদের নিকট হতে অব্যাহতি লাভ করবে। তারা বললেন, তারা তো কাফির সম্প্রদায়। আমরা কিরূপে তাদের শপথ গ্রহণ করতে পারি? তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নিজের পক্ষ হতে আবদুর রাহমানকে তার ভাইয়ের দীয়াত পরিশোধ করলেন।
আবূ সুফ্ইয়ান ইবন হারব ইবন উমায়্যাহ হতে বর্ণিত যে, হিরাকল তাকে ডেকে পাঠালেন, কুরাইশদের সেই কাফেলাসহ যারা সিরিয়ায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। এটা কুরাইশ কাফিরদের সাথে নবী (ﷺ) এর চুক্তি থাকাকালীন ঘটনা।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ)-কে যাদু করা হয়েছিল। ফলে তিনি ধারণা করতেন যে, তিনি এ কাজ করেছেন অথচ তিনি তা করেননি।
আউফ ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাবুক যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এলাম। তিনি তখন একটি চামড়ার তৈরি তাবুতে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, কিয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শন গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, অতঃপর তোমাদের মধ্যে ঘটবে মহামারী, বকরীর পালের মহামারীর মত, সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে একশ দ্বীনার দেয়ার পরেও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। অতঃপর এমন এক ফিতনা আসবে যা আরবের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে। অতঃপর যুদ্ধ বিরতির চুক্তি-যা তোমাদের ও বানী আসফার বা রোমকদের মধ্যে সম্পাদিত হবে। অতঃপর তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকা উড়িয়ে তোমাদের বিপক্ষে আসবে; প্রত্যেক পতাকার নীচে থাকবে বার হাজার সৈন্য।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বাকর আমাকে সে সকল লোকের সঙ্গে পাঠান যারা মিনায় কুরবানীর দিন এ ঘোষণা দিবেনঃ এ বছরের পর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না আর বায়তুল্লাহ শরীফে কোন নগ্ন ব্যক্তি তাওয়াফ করতে পারবে না আর কুরবানীর দিনই হল হজ্জে আকবারের দিন। একে আকবার এ জন্য বলা হয় যে, লোকেরা (উমরাহ্কে) হজ্জে আসগার (ছোট) বলে। আবূ বাকর সে বছর মুশরিকদের চুক্তি রহিত করে দেন। কাজেই হুজ্জাতুল বিদার বছর যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হাজ্জ করেন, তখন কোন মুশরিক হাজ্জ করেনি।
আবদুল্লাহ্ ইবন আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে খালিস মুনাফিক বলে গণ্য হবে। যে ব্যক্তি কথা বলার সময় মিথ্যা বলে, আর অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে, প্রতিশ্রুতি দিলে বিশ্বাসঘাতকতা করে, যখন ঝগড়া করে গালাগালি করে। যার মধ্যে এগুলোর কোন একটি স্বভাব পাওয়া যাবে, তার মধ্যে নিফাকের একটি স্বভাব পাওয়া গেল, যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে।
আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে কুরআন এবং এ কাগজে যা লিখা আছে তা ছাড়া কোন কিছু লিপিবদ্ধ করিনি। নবী (ﷺ) বলেছেন, আয়ির পর্বত হতে এ পর্যন্ত মদিনার হরম এলাকা। যে কেউ দ্বীনের ব্যাপারে বিদ্'আত উদ্ভাবণ করে কিংবা কোন বিদ্'আতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ তাআলা, ফেরেশতা ও সকল মানুষের লানত। তার কোন ফরজ কিংবা নফল ইবাদাত গৃহীত হবে না। আর সকল মুসলিমের পক্ষ হতে নিরাপত্তা একই স্তরের। সাধারণ মুসলিম নিরাপত্তা দিলে সকলকে তা রক্ষা করতে হবে। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দেয়া নিরাপত্তা বাধাগ্রস্ত করবে তার উপর আল্লাহ তাআলার লানত এবং ফেরেশতামন্ডলী ও সকল মানুষের। তার কোন নফল কিংবা ফরজ ইবাদাত গৃহীত হবে না। আর যে স্বীয় মনিবের অনুমতি ব্যতীত অন্যদের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি করে, তার উপর আল্লাহ তাআলার লানত এবং ফেরেশতামন্ডলী ও সকল মানুষের। তার কোন নফল কিংবা ফরজ ইবাদাত কবূল হবে না।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অমুসলিমদের নিকট হতে (জিযইয়াহ স্বরূপ) একটি দ্বীনার বা দিরহামও তোমরা পাবে না, তখন তোমাদের কী অবস্থা হবে? তাকে বলা হল, হে আবূ হুরাইরাহ্ আপনি কিভাবে মনে করেন যে, এমন অবস্থা দেখা দিবে, তিনি বললেন, হ্যা, শপথ সে মহান সত্তার যার হাতে আবূ হুরাইরাহর প্রাণ, যিনি সত্যবাদী ও সত্যবাদী বলে স্বীকৃত তার উক্তি থেকে আমি বলছি। লোকেরা বলল, কী কারণে এমন হবে? তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূল (ﷺ)-এর দেয়া নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করা হবে। ফলে আল্লাহ তাআলা জিম্মীদের হৃদয়কে কঠিন করে দিবেন; তারা তাদের হাতের সম্পদ দিবে না।
আ'মাশ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ওয়াইল-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি সিফ্ফীনের যুদ্ধে হাযির ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যা, আমি সাহল ইবন হুনাইফ-কে বলতে শুনেছি, তোমরা নিজ মতামতকে বিশুদ্ধ মনে করো না। আমি নিজেকে আবূ জান্দালের দিন দেখেছি। আমি যদি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর আদেশ রদ করতে পারতাম, তবে তা নিশ্চই রদ করতাম। আসলে আমরা যখনই কোন ভয়ানক অবস্থায় আমাদের স্কন্ধে তলোয়ার তুলে নিয়েছি, তখন তা আমাদের জন্য সহজ করে দেয়া হয়েছে এমনভাবে যা আমরা উপলব্ধি করেছি। কিন্তু বর্তমান অবস্থা অন্যরূপ।
আবূ ওয়ায়িল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সিফফীন যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। সে সময় সাহল ইবন হুনাইফ দাড়িয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজ মতামতকে সঠিক মনে করো না। আমরা হুদায়বিয়ার দিন রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। যদি আমরা যুদ্ধ করা সঠিক মনে করতাম, তবে আমরা যুদ্ধ করতাম। পরে উমার ইবন খাত্তাব এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি হকের উপর নই এবং তারা বাতিলের উপর নয়? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যা। অতঃপর তিনি বললেন, আমাদের নিহত ব্যক্তিগণ কি জান্নাতী নন এবং তাদের নিহত ব্যক্তিরা জাহান্নামী নয়? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যা, আমাদের নিহতগণ অবশ্যই জান্নাতী। উমার বললেন, তবে কী কারণে আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে হীনতা স্বীকার করব? আমরা কি ফিরে যাব? অথচ আল্লাহ তাআলা আমাদের ও তাদের মধ্যে কোন ফায়সালা করেননি? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হে ইবন খাত্তাব! আমি নিশ্চই আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আমাকে কখনো হেয় করবেন না। অতঃপর উমার আবূ বাকর-এর নিকট গেলেন এবং নবী (ﷺ)-এর নিকট যা বলেছিলেন, তা তার নিকট বললেন। তখন আবূ বাকর বললেন, তিনি আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তাআলা কখনও তাকে অপদস্থ করবেন না। অতঃপর সূরা ফাত্হ নাযিল হয়। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তা শেষ পর্যন্ত উমার-কে পাঠ করে শোনান। উমার বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি বিজয়? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যা।
আসমা বিনতে আবূ বাকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মা, যিনি মুশরিক ছিলেন, তার পিতার সঙ্গে আমার নিকট এলেন, যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে কুরাইশরা চুক্তি করেছিল। তখন আসমা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা আমার কাছে এসেছেন। তিনি ইসলামের প্রতি আসক্ত নন। আমি কি তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করব?' আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, 'হ্যা, তার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর।'
বারাআ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যখন উমরাহ করার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি মক্কায় আগমনের অনুমতি চেয়ে মক্কায় কাফিরদের নিকট লোক পাঠান। তারা শর্ত দেয় যে, তিনি সেখানে তিন রাতের বেশি থাকবেন না এবং অস্ত্রকে কোষে আবদ্ধ না করে প্রবেশ করবেন না। আর মক্কাবাসীদের কাউকে ইসলামের দাওয়াত দিবে না। বারাআ বলেন, এ সকল শর্ত আলী ইবন আবূ তালিব লেখা শুরু করলেন এবং সন্ধিপত্রে লিখলেন, "এটা সে সন্ধিপত্র যার উপর আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ ফায়সালা করেছেন।" তখন কাফিররা বলল, আমরা যদি এ কথা মেনে নিতাম যে, আপনি আল্লাহর রাসূল, তবে তো আমরা আপনাকে বাধাই দিতাম না এবং আপনার হাতে বায়আত করে নিতাম। কাজেই এভাবে লিখুন, এটি সেই সন্ধিপত্র যার উপর মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ফায়সালা করেছেন।' তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ এবং আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল। বারাআ বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) লিখতেন না। তাই তিনি আলী-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ মুছে ফেল। আলী বললেন, আল্লাহর কসম! আমি কখনো তা মুছব না। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, তবে আমাকে দেখিয়ে দাও। তখন আলী তাকে তা দেখিয়ে দিলেন এবং আল্লাহর নবী (ﷺ) তা স্বহস্তে মুছে ফেললেন। অতঃপর যখন তিনি মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং সে দিনগুলো অতীত হয়ে গেল, তখন তারা আলী-এর নিকট এসে বলল, তোমার সঙ্গীকে বল, যেন তিনি চলে যান। আলী আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে তা বললেন। তিনি বললেন, ঠিক আছে। অতঃপর তিনি যাত্রা করলেন।
আবদুল্লাহ্ (ইবন মাসঊদ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সিজদারত ছিলেন, তার আশে-পাশে কুরাইশ মুশরিকদের কিছু লোক ছিল। এ সময় উকবাহ ইবন আবূ মুআইত উটনীর ভুঁড়ি এনে নবী (ﷺ)-এর পিঠে ফেলে দেয়। ফলে তিনি তার মাথা উঠাতে পারলেন না। অবশেষে ফাতিমা এসে তার পিঠ হতে তা সরিয়ে দেন আর যে ব্যক্তি এ কাজ করেছে তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! কুরাইশদের এ দলের বিচার আপনার উপর ন্যস্ত করলাম। হে আল্লাহ! আপনি শাস্তি দিন আবূ জাহ্ল ইবন হিশাম, উত্বাহ ইবন রাবীআহ, শায়বাহ ইবন রাবীআহ, উকবাহ ইবন আবূ মুআইত ও উমাইয়াহ ইবন খালফ (অথবা রাবী বলেছেন), উবাই ইবন খালফকে। (ইবন মাসঊদ বলেন), আমি দেখেছি, তারা সবাই বাদ্র যুদ্ধে নিহত হয়। তাদের সবাইকে কূপে নিক্ষেপ করা হয়, উমাইয়াহ অথবা উবাই ছাড়া। কেননা, সে ছিল মোটা দেহের। যখন তার লাশ টানা হচ্ছিল, তখন কূপে নিক্ষেপ করার পূর্বেই তার জোড়াগুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আনাস হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক ওয়াদা ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামতের দিন একটি পতাকা হবে। একজন রাবী বলেছেন, পতাকাটি স্থাপিত হবে অপরজন বলেছেন, কিয়ামতের দিন প্রদর্শন করা হবে এবং তা দিয়ে তার পরিচয় দেয়া হবে।
পূর্বের হাদিসের মতই (৩১৮৬)।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, (কিয়ামতের দিন) ওয়াদা ভঙ্গের নিদর্শন হিসেবে প্রত্যেক ওয়াদা ভঙ্গকারীর জন্য একটি পতাকা স্থাপন করা হবে।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন বললেন, হিজরাত নেই কিন্তু জিহাদ ও নিয়্যাত রয়েছে আর যখন তোমাদের জিহাদে যাবার জন্য আহবান করা হবে তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে। আর তিনি মক্কা বিজয়ের দিন আরো বলেন, এ নগরীকে আল্লাহ তাআলা আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন থেকে সম্মানিত করেছেন। কাজেই তা আল্লাহর দেয়া সম্মানের দ্বারা কিয়ামত অবধি সম্মানিত থাকবে। আমার আগে এখানে যুদ্ধ করা কারও জন্য হালাল ছিল না আর আমার জন্যও তা দিনের কেবল কিছু সময়ের জন্যই হালাল করা হয়েছিল। অতএব আল্লাহর দেয়া সম্মানের দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত তা সম্মানিত থাকবে। এখানকার কাঁটা কর্তন করা যাবে না; শিকারকে তাড়ানো যাবে না আর পথে পড়ে থাকা জিনিস কেউ উঠাবে না। তবে সে ব্যক্তি উঠাতে পারবে, যে তা ঘোষণা করবে। এখানকার ঘাস কাটা যাবে না।' তখন আব্বাস বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইযখির ছাড়া। কেননা, তা কর্মকারের ও ঘরের কাজে লাগে।' তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, 'ইযখির ছাড়া।'