bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

উত্তরাধিকার আইন (৬৭২৩-৬৭৭১)

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি অসুস্থ হলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবূ বাকর আমার সেবা করলেন। তারা উভয়েই একবার পায়ে হেটে আমার কাছে উপস্থিত হলেন। আমি তখন জ্ঞানশূন্য ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অযূ করলেন এবং আমার উপর অযূর পানি ঢেলে দিলেন। আমার জ্ঞান ফিরলে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পদের ব্যাপারে কী করব। আমার সম্পদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেব? তিনি আমাকে কোন জওয়াব দিলেন না। অবশেষে উত্তরাধিকারের আয়াত অবতীর্ণ হল।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ধারণা করা হতে বেচে থাক, কারণ, ধারণা করা হচ্ছে সবচেয়ে বড় মিথ্যা। কারও দোষ অনুসন্ধান করো না, দোষ বের করার জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করো না, একে অন্যের হিংসা করো না, পরস্পরে সম্পর্কচ্ছেদ করো না। ভ্রাতৃবন্ধনে আবদ্ধ আল্লাহর বান্দাহ হয়ে যাও।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। একবার ফাতিমা ও আব্বাস আবূ বাকর সিদ্দীক-এর কাছে আসলেন তাদের ওয়ারিশ চাওয়ার জন্য। তারা তখন তাদের ফাদাকের জমি এবং খায়বারের অংশ দাবি করছিলেন।

তখন আবূ বাকর তাদেরকে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি তিনি বলেছেনঃ আমরা যা কিছু (সম্পদ) ছেড়ে যাই কেউ তার ওয়ারিশ হবে না, সবই সদাকাহ্। এ মাল থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পরিবার ভোগ করবেন। আবূ বাকর বলেন, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি এতে যেভাবে করতে দেখেছি, তা সেভাবেই করব, কোন ব্যতিক্রম করব না। রাবী বলেন, অতঃপর থেকে ফাতিমা তাকে ত্যাগ করেছিলেন, মৃত্যু পর্যন্ত তার সঙ্গে কথা বলেন নি।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা যা কিছু (সম্পদ) রেখে যাই, কেউ তার ওয়ারিশ হয় না, সব সদাকাহ।

মালিক ইবন আউস ইবন হাদাসান হতে বর্ণিত। মুহাম্মাদ ইবন যুবায়র ইবন মুতঈম আমার কাছে (মালিক ইবন আউস ইবন হাদাসান)-এর পক্ষ থেকে একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন, আমি মালিক ইবন আউস-এর কাছে গেলাম এবং ঘটনাটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, আমি উমার-এর নিকট গিয়েছিলাম। এমন সময় তার দারোয়ান ইয়ারফা তার কাছে গিয়ে বলল, আপনি উসমান, আবদুর রাহমান, যুবায়র ও সাদ-কে ভিতরে আসার অনুমতি দিবেন কি? তিনি বললেন, হ্যা। তিনি তাদেরকে অনুমতি দিলেন। এরপর সে উমার-এর নিকট এসে বলল, আপনি আলী ও আব্বাস-কে ভিতরে আসার অনুমতি দিবেন কি? তিনি বললেন, হ্যা। আব্বাস বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমার এবং এর মাঝে মীমাংসা করে দিন। উমার বললেন, আপনাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলি-যার হুকুমে আকাশ ও যমীন প্রতিষ্ঠিত আছে- আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, আমরা কাউকে উত্তরাধিকারী করি না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকাহ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দ্বারা নিজেকেই উদ্দেশ্য করেছিলেন। দলের লোকেরা বলল, তিনি তাই বলেছেন। এরপর তিনি আলী ও আব্বাস-এর দিকে মুখ করে বললেন, আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথা বলেছিলেন? তারা উভয়ে জবাব দিলেন, তিনি তা বলেছেন। উমার বললেন, এখন আমি এ সম্পর্কে আপনাদের কাছে বর্ণনা করছি যে, এ ফায় (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত ধনসম্পদ)-এর ব্যাপারে তার রাসূলকে বিশেষত্ব প্রদান করেছেন, যা আর অন্য কাউকে করেননি। (আল্লাহ) বলেনঃ "এবং আল্লাহ তা'আলা তার রসূলকে যা দিয়েছেন (লুট) ...... সব কিছু করার জন্য... (59.6)" এবং বললেন, এটা তো ছিল বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য। আল্লাহর কসম! তিনি আপনাদের ছাড়া অন্য কারও জন্য এ মাল সংরক্ষণ করেননি। আর আপনাদের ছাড়া অন্য কাউকে এতে প্রাধান্য দেননি। এ মাল তো আপনাদেরই তিনি দিয়ে গিয়েছেন এবং আপনাদের মাঝেই বণ্টন করেছেন। শেষে এ মালটুকু বাকী ছিল। তখন তিনি তার পরিবার-পরিজনের বছরের ভরণ-পোষণের জন্য এ থেকে খরচ করতেন। এরপর যা অবশিষ্ট থাকত তা আল্লাহর মাল হিসেবে (তার রাস্তায়) খরচ করতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পূর্ণ জীবনকালেই এমন করে গেছেন। আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, এটা কি আপনারা জানেন? তারা বললেন, হ্যা। অতঃপর তিনি আলী ও আব্বাস- কে বললেন, আমি আপনাদের দু'জনকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আপনারা কি এ কথাগুলো জানেন? তারা উভয়েই বললেন, হ্যা। এরপর আল্লাহ তার নবীর (ﷺ)-মৃত্যু দিলেন তখন আবূ বাকর বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর ওলী। অতঃপর তিনি উক্ত সম্পদ হস্তগত করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে তা কাজে লাগিয়েছিলেন তিনিও তা সেভাবে কাজে লাগালেন। এরপর আল্লাহ আবূ বাকর-এর মৃত্যু দিলেন। তখন আমি বললাম, আমি আল্লাহর রাসূলের ওলীর ওলী। আমি এ সম্পদ হস্তগত করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবূ বাকর এ সম্পদ যেভাবে ব্যবহার করেছিলেন দু'বছর যাবত আমি এ সম্পদ সেভাবেই ব্যবহার করে আসছি। এরপর আপনারা দু'জন আমার কাছে আসলেন আর আপনাদের উভয়ের কথা এক এবং ব্যাপারটিও অনুরূপ। (হে আব্বাস আপনি আপনার ভাতিজার থেকে আপনার প্রাপ্য অংশ আমার কাছে চাচ্ছেন। আর আলী আমার কাছে তার স্ত্রীর অংশ যা তার পিতা থেকে তার প্রাপ্য আমার কাছে চাচ্ছেন। সুতরাং আমি বলছি, আপনারা ইচ্ছে করলে আমি আপনাদেরকে এটা দিয়ে দেব। এরপর কি আপনারা অন্য কোন ফায়সালা আমার কাছে চাইবেন? ঐ আল্লাহর কসম! যার হুকুমে আকাশ ও যমীন প্রতিষ্ঠিত আছে, আমি এ ফায়সালা ছাড়া কিয়ামত পর্যন্ত অন্য কোন ফায়সালা দিতে পারব না। আপনারা এ সম্পদের ব্যবস্থাপনায় অক্ষম হলে তা আমার কাছে ফিরিয়ে দিবেন, আপনাদের পক্ষ থেকে এ সম্পদের ব্যবস্থাপনায় আমিই যথেষ্ট।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার রেখে যাওয়া সম্পত্তির দ্বীনার বণ্টিত হবে না। আমার রেখে যাওয়া সম্পত্তি সবই সাদাকা- আমার স্ত্রীদের এবং আমার কর্মচারীদের খরচ বাদ দিয়ে।

নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ)-এর মৃত্যুর পর তার স্ত্রীগণ আবূ বাকর সিদ্দীক-এর কাছে নিজেদের প্রাপ্য উত্তরাধিকার চাওয়ার জন্য উসমান-কে পাঠানোর ইচ্ছা করলেন। তখন আয়িশাহ বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বলেননি যে, আমরা কাউকে ওয়ারিশ বানাই না, আমরা যা রেখে যাই সবই সাদাকাহ্।

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুমিনদের নিকট তাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। যে ব্যক্তি ঋণের বোঝা নিয়ে মারা যায় আর ঋণ পরিশোধ করার মত সম্পদ রেখে না যায়, তাহলে তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায়, তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য।

ইবন আব্বাস সূত্রে (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সুনির্দিষ্ট অংশের হকদারদের মীরাস পৌছে দাও। অতঃপর যা বাকী থাকবে তা (মৃতের) নিকটতম পুরুষের জন্য।

সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি মক্কায় এমন অসুস্থ হয়ে পড়লাম যে মরণের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলাম। নবী (ﷺ) আমার সেবা শুশ্রূষা করার জন্য আমার কাছে আসলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার অনেক ধন-সম্পদ আছে। আর আমার এক মেয়ে ব্যতীত আর কোন উত্তরাধিকারী নেই। আমি কি আমার মালের দু'তৃতীয়াংশ দান করে দেব? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে কি অর্ধেক দান করব? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, এক-তৃতীয়াংশ কি দান করব? তিনি বললেনঃ এক-তৃতীয়াংশ তো অনেক। তুমি তোমার সন্তানকে সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাবে সেটাই উত্তম তাকে এমন অভাবগ্রস্ত রেখে যাওয়ার চেয়ে যে অবস্থায় সে মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষে করবে। তুমি (পরিবার-পরিজনের জন্য) যা খরচ করবে তার বিনিময় তোমাকে দেয়া হবে। এমন কি যে লোকমাটি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও তারও বিনিময় দেয়া হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার হিজরাত (এর পুণ্য) থেকে পেছনে পড়ে যাব? তিনি বললেনঃ তুমি কক্ষনো আমার পেছনে পড়ে থাকবে না, তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে আমলই করবে তাতে তোমার মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি হবে। সম্ভবত তুমি আমার পরেও জীবিত থাকবে। এমন কি তোমার দ্বারা অনেক গোত্র উপকৃত হবে এবং অন্যেরা হবে ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু সাদ ইবন খাওলা-এর জন্য আফসোস! মক্কাতেই তার মৃত্যু হয়েছিল। সে কারণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। সুফ্ইয়ান বলেন, সাদ ইবন খাওলা বনূ আমির ইবন লুআই সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন।

আস্ওয়াদ ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয ইবন জাবাল আমাদের নিকট শিক্ষক অথবা আমীর হিসেবে ইয়ামানে আসলে আমরা তার কাছে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যে এক কন্যা ও এক বোন রেখে মারা গেছে। তিনি কন্যাটিকে অর্ধেক ও বোনটিকে অর্ধেক দিলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সুনির্দিষ্ট অংশের হকদারদের ওয়ারিশ পৌছে দাও। অতঃপর যা বাকী থাকবে তা (মৃতের) নিকটতম পুরুষের জন্য।

হুযায়ল ইবন শুরাহবীল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ মূসা-কে কন্যা, পুত্রের কন্যা এবং ভগ্নির (মীরাস) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তখন তিনি বললেন, কন্যার জন্য অর্ধেক আর ভগ্নির জন্য অর্ধেক। (তিনি বললেন) তোমরা ইবন মাসঊদ-এর কাছে যাও, তিনিও হয়ত আমার মতই বলবেন। অতঃপর ইবন মাসঊদ-কে জিজ্ঞেস করা হল এবং আবূ মূসা যা বলেছেন সে সম্পর্কে তাকে জানানো হল। তিনি বললেন, (ও রকম সিদ্ধান্ত দিলে) আমি তো পথভ্রষ্ট হয়ে যাব, হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকব না। আমি এ ব্যাপারে ঐ ফায়সালাই দিচ্ছি, যে ফায়সালা নবী (ﷺ) প্রদান করেছিলেন। কন্যা পাবে অর্ধাংশ আর পৌত্রী পাবে ষষ্ঠাংশ। এভাবে দু'তৃতীয়াংশ পূর্ণ হবে। বাকী এক তৃতীয়াংশ পাবে বোন। এরপর আমরা আবূ মূসা-এর কাছে আসলাম এবং ইবন মাসঊদ যা বললেন, তা তাকে জানালাম। তখন তিনি বললেনঃ এ অভিজ্ঞ মনীষী যতদিন তোমাদের মাঝে থাকবে ততদিন আমার কাছে কিছু জিজ্ঞেস করো না।

ইবন আব্বাস সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ সুনির্দিষ্ট অংশের হকদারদের মীরাস পৌছে দাও। অতঃপর যা বাকী থাকবে তা (মৃতের) নিকটতম পুরুষের জন্য।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "আমি এ উম্মাতের কাউকে অন্তরঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করলে তাকে [আবূ বাকর]-কে গ্রহণ করতাম। কিন্তু ইসলামী বন্ধুত্বই সবচেয়ে উত্তম।" তিনি রাসূল (ﷺ) তাকে (ইবরাহীমকে) পিতৃ মর্যাদা দিয়েছেন অথবা তাকে পিতার আসনে বসিয়েছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (প্রাথমিক অবস্থায় মৃতের ছেড়ে যাওয়া) মাল ছিল সন্তানাদির জন্য আর ওসিয়াত ছিল পিতামাতার জন্য। অতঃপর আল্লাহ তাথেকে কিছু রহিত করে দিয়ে অধিকতর পছন্দনীয়টি প্রবর্তন করেছেন। পুরুষের জন্য দু'জন নারীর অংশের সমান নির্ধারণ করেছেন। আর পিতা-মাতার প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ নির্ধারণ করেছেন। স্ত্রীর জন্য নির্ধারণ করেছেন (সন্তানের বর্তমানে) এক-অষ্টমাংশ এবং (সন্তানের অবর্তমানে) এক-চতুর্থাংশ। আর স্বামীর জন্য (সন্তানের অবর্তমানে-) অর্ধেক আর (সন্তানের বর্তমানে) চার ভাগের একভাগ।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী লিহ্য়ান গোত্রের এক মহিলার গর্ভটি পতিত হয়েছিল মৃত অবস্থায়। নবী (ﷺ) একটি গোলাম বা দাসী প্রদানের নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি যে মহিলাটিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সে মারা গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফায়সালা দিলেন, তার রেখে যাওয়া সম্পদ তার পুত্রগণ ও স্বামীর জন্য। আর দিয়াত পাবে তার নিকটতম আত্মীয়গণ

আল আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয ইবন জাবাল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আমাদের মাঝে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যে, কন্যার জন্য অর্ধেক আর ভগ্নির জন্য অর্ধেক। অতঃপর (রাবী) সুলায়মান বলেন, তিনি (আল আসওয়াদ) আমাদের এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। তবে 'রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে' কথাটি উল্লেখ করেননি।

হুযায়ল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ বলেছেন, আমি এতে সেই ফায়সালাই দেব যা নবী (ﷺ) দিয়েছিলেন। অথবা তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, কন্যার জন্য অর্ধেক আর পৌত্রীর জন্য ষষ্ঠাংশ। অতঃপর যা বাকী থাকবে তা বোনের জন্য।

জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমার কাছে আসলেন আর সে সময় আমি অসুস্থ ছিলাম। তিনি অযূর পানি চাইলেন এবং অযূ করলেন। তারপর অযূর অবশিষ্ট পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন। তাতে আমি প্রাণ ফিরে পেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বোনেরা আছে। সে সময় ফারায়েজ সংক্রান্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়।

বারাআ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হল সূরা নিসার শেষ আয়াতঃ 'তারা আপনার কাছে আইনগত ফয়সালা চায় বলুন: আল্লাহ তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দেন, যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে কোনো বংশধর বা বংশধরকে রেখে যায় না...' (4.176)

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি মুমিনদের নিকট তাদের প্রাণের চেয়েও প্রিয়। তবে যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে মারা যায় তার সম্পদ তার নিকটতম আত্মীয়রা পাবে। আর যে ব্যক্তি ঋণ অথবা নাবালক সন্তানাদি রেখে মারা যায় আমিই তার অভিভাবক। তার জন্য আমাকেই যেন ডাকা হয়।

ইবন আব্বাস সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সুনির্দিষ্ট অংশের হাকদারদের মীরাস দাও। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়দের প্রাপ্য।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: পবিত্র আয়াত সম্পর্কে: 'এবং প্রত্যেকের জন্য, আমরা উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করেছি..' এবং: (4.33) 'তাদের কাছেও যাদের কাছে আপনার ডান হাত অঙ্গীকার করেছে।' (৪.৩৩) যখন হিজরতকারীরা মদিনায় আসেন, তখন আনসাররা হিজরতকারীদের উত্তরাধিকারী হতেন (এবং বিপরীতভাবে) তাদের রক্তের আত্মীয়ের পরিবর্তে (ধাউল-ল-আরহাম) এবং এটি ছিল ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের কারণে। নবী (ﷺ) তাদের মধ্যে আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু যখন ঐশী আয়াত:- 'আর প্রত্যেকের জন্য আমরা উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করেছি' (4.33) অবতীর্ণ হয়, তখন এটি অন্যটিকে বাতিল করে দেয়, আদেশ 'তাদের জন্যও, যাদের কাছে আপনার ডান হাত অঙ্গীকার করেছে।'

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ)-এর সময়ে এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর উপর লি'আন করেছিল। এবং তার সন্তানটিকেও অস্বীকার করল। তখন নবী (ﷺ) তাদের দু'জনকে বিচ্ছেদ করে দিলেন এবং সন্তানটি মহিলাকে দিয়ে দিলেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, 'উত্বাহ তার ভাই সাদকে ওসীয়্যত করল যে, যামাআ নামক বাদীর গর্ভের সন্তানটি আমার। তাই তুমি তাকে তোমার অধিকারে নিয়ে নাও। মক্কা বিজয়ের বছর সাদ তাকে নিজের অধিকারে নিলেন এবং বললেন যে, এ আমার ভাতিজা। আমার ভাই এর সম্পর্কে ওসীয়্যত করে গিয়েছিলেন। তখন আবদ ইবন যাম'আহ উত্থান করল এবং বললো, এ তো আমার ভাই। কারণ, এ হল আমার পিতার দাসীর পুত্র। এবং আমার পিতার বিছানায় তার জন্ম হয়েছে। উভয়েই তাদের বিবাদ নবী (ﷺ) এর কাছে উত্থাপন করলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আবদ ইবন যা'মআ, এ ছেলে তুমিই পাবে। কেননা, শয্যা যার, সন্তান তার। আর ব্যভিচারীর জন্য হল পাথর। এরপর তিনি সাওদা বিন্ত যাম'আহকে বললেনঃ এ ছেলে থেকে তুমি পর্দা পালন করবে। কারণ, তিনি ছেলেটির মাঝে উতবার সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছিলেন। কাজেই সে মৃত্যু পর্যন্ত সাওদা-কে দেখতে পায়নি।

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ সন্তান হল শয্যাধিপতির।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারীরা (নামক এক দাসীকে)-কে কিনতে চাইলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি তাকে কিনে নাও। কারণ, তার পরিত্যক্ত সম্পদের মালিকানা তার হবে যে তাকে আযাদ করবে। বারীরাকে (একদা একটি বকরী) সদাকাহ দেয়া হল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটি তার জন্য সদাকাহ আর আমাদের জন্য হাদিয়া বা উপঢৌকন। হাকাম বলেন, বারীরার স্বামী ছিল একজন আযাদ ব্যক্তি। ইবন আব্বাস বলেন, আমি তাকে (বারীরার স্বামীকে) গোলামরূপে দেখেছি।

ইবন উমার সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ দাস-দাসীর পরিত্যক্ত সম্পদের মালিক হবে যে তাকে আযাদ করবে।

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামের ধারক বাহকরা সায়বা বানায় না। জাহিলী যুগের লোকেরা সায়বা বানাত।

আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ সিদ্দিকা বারীরাকে আযাদ করার উদ্দেশে ক্রয় করলেন। তখন তার মনিব শর্ত করল যে বারীরার পরিত্যক্ত সম্পদের মালিকানা বিক্রয়কারীর থাকবে। তখন আয়িশাহ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি বারীরাকে আযাদ করার উদ্দেশে কিনতে চাই। কিন্তু তার মনিবরা তার ওয়ালা তাদের কাছে রাখার শর্ত করছে। তিনি বললেনঃ তাকে (কিনে) আযাদ কর। কারণ, ওয়ালা হল তার যে আযাদ করে। অথবা তিনি বললেনঃ তার মূল্য দিয়ে দাও। রাবী বলেন, তখন তিনি তাকে ক্রয় করলেন এবং আযাদ করে দিলেন। রাবী আরও বললেন, তাকে তার (স্বামীর সঙ্গে) থাকা না থাকার ব্যাপারে যে কোন একটি গ্রহণ করার স্বাধীনতা দেয়া হল। স্বামীর সঙ্গ থেকে নিজের মুক্তিকেই সে গ্রহণ করল এবং বলল, আমাকে যদি এত এত কিছু দেয়াও হয় তবুও আমি তার সাথী হব না। আসওয়াদ বলেন, তার স্বামী আযাদ ছিল। আবূ আবদুল্লাহ [বুখারী] বলেন, আসওয়াদ-এর বক্তব্য সূত্র ছিন্ন। ইবন আব্বাস-এর বক্তব্য 'আমি তাকে (বারীরার স্বামীকে) গোলামরূপে দেখেছি' অধিকতর শুদ্ধ।

ইবরাহীম তামীমীর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী বলেছেন, কিতাবুল্লাহ্ ছাড়া আমাদের কাছে আর কোন কিতাব তো নেই যা আমরা পাঠ করতে পারি। অবশ্য এ লিপিখানা আছে। রাবী বলেন, এরপর তিনি তা বের করলেন। দেখা গেল যে, তাতে যখম ও উটের বয়সের ব্যাপারে লেখা আছে। রাবী বলেন, তাতে আরও লিপিবদ্ধ ছিল যে, (মাদ্বীনার) আইর থেকে নিয়ে অমুক স্থানের মধ্যবর্তী স্থান হারাম (বা সম্মানিত)। এখানে যে বিদআত করবে বা বিদআতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা, মানুষ এবং সকলের লানত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোন ফরজ আমল এবং কোন নফল কবূল করবেন না। যে ব্যক্তি মনিবের অনুমতি ব্যতীত কোন গোলামকে আশ্রয় প্রদান করে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশ্তা এবং সমস্ত মানুষের লানত। তার কোন ফরজ বা নফল কিয়ামতের দিন কবুল করা হবে না। সমস্ত মুসলিমের দায়িত্ব-কর্তব্য-অঙ্গীকার এক, একজন সাধারণ মুসলিমও তা মেনে চলবে। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের আশ্রয় প্রদানকে বানচাল করে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লানত। কিয়ামতের দিন তার কোন ফরজ ও নফল কবূল করা হবে না।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ওয়ালা (গোলামের পরিত্যক্ত সম্পদের মালিকানা) বিক্রয় এবং হেবা করতে নিষেধ করেছেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আয়িশাহ একটি বাদী ক্রয় করলেন এবং তাকে মুক্ত করলেন। তখন তার মালিকরা তাকে বলল যে, আমরা এ বাদী আপনার কাছে এ শর্তে বিক্রি করতে পারি যে, ওয়ালা আমাদের থাকবে। তিনি ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেনঃ এটা তোমার জন্য বাধা হবে না। কারণ, ওয়ালা তার যে আযাদ করে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরা বাদীকে আমি ক্রয় করলাম। তখন তার মালিকেরা তার ওয়ালার শর্ত করল (যে ওয়ালার মালিক তারাই থাকবে)। ব্যাপারটি আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তাকে আযাদ করে দাও। কেননা, ওয়ালা তার যে মূল্য প্রদান করে। আয়িশাহ বলেনঃ আমি তাকে আযাদ করে দিলাম। তিনি বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারীরাকে ডাকলেন এবং তার স্বামীর (স্ত্রী হয়ে থাকা বা না থাকার) ব্যাপারে তাকে স্বাধীনতা দিলেন। তখন সে বলল, সে যদি আমাকে এত এত মালও দেয় তবুও আমি তার সঙ্গে রাত্রি যাপন করব না এবং সে নিজেকেই স্বাধীন করে নিল। রাবী বলেন, তার স্বামী স্বাধীন ব্যক্তি ছিল।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ বারীরাকে কিনতে চাইলেন। তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে বললেন যে, ওয়ালা তাদেরই থাকবে বলে শর্ত করছে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি তাকে কিনে নাও। কারণ, ওয়ালা তার, যে আযাদ করে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ওয়ালা হল ঐ ব্যক্তির জন্য যে রৌপ্য (মূল্য) প্রদান করে। আর সে নিয়ামতের অধিকারী হয়।

আনাস ইবন মালিক সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন কাওমের (আযাদকৃত) গোলাম তাদেরই অন্তর্ভুক্ত অথবা এ জাতীয় কোন কথা বলেছেন।

আনাস সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন কাওমের বোনের পুত্র সে কাওমেরই অন্তর্ভুক্ত।

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ রেখে মারা যায় সে ধন-সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের জন্য। আর যে ঋণ রেখে (মারা) যায় তা (আদায় করা) আমার যিম্মায়।

উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিম কাফেরের উত্তরাধিকারী হয় না আর কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হয় না।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস ও আবদু ইবন যাম'আহ একটি ছেলের ব্যাপারে পরস্পরে কথা কাটাকাটি করেন। সাদ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ছেলেটি আমার ভাই উতবা ইবন আবূ ওয়াক্কাস-এর পুত্র। তিনি আমাকে ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন যে, এ ছেলেটি তার পুত্র। আপনি তার চেহারার দিকে চেয়ে দেখুন। আবদ ইবন যাম'আহ বললো, এ আমার ভাই, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার পিতার বাদীর গর্ভে জন্মেছে। তখন নবী (ﷺ) তার চেহারার দিকে নযর করলেন এবং উতবার চেহারার সঙ্গে তার আকৃতির প্রকাশ্য মিল দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, হে আবদ! এ ছেলে তুমি পাবে। কেননা সন্তান হল যার বিছানা তারই, আর ব্যভিচারীর জন্য পাথর। আর হে সাওদা বিন্ত যাম'আহ! তুমি তার থেকে পর্দা কর। আয়িশাহ বলেন, অতঃপর সে কখনও সাওদাকে দেখা দেয়নি।

সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবি করে অথচ সে জানে যে সে তার পিতা নয়, জান্নাত তার জন্য হারাম।

রাবী বলেন, আমি এ কথাটি আবূ বাকর-এর নিকটে উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন, আমার দু'টো কান তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছে এবং আমার অন্তর তা সংরক্ষণ করে রেখেছে।

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না (অস্বীকার করো না)। কারণ যে লোক নিজের পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় (পিতাকে অস্বীকার করে) তা কুফরী।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দু'জন স্ত্রীলোকের সাথে তাদের দু'টো ছেলে ছিল। বাঘ এসে তাদের একজনের ছেলেকে নিয়ে গেল। এক মহিলা তার সঙ্গিণীকে বলল, বাঘ তোমার ছেলেকে নিয়ে গেছে। অন্যজন বলল, বাঘ তোমার ছেলেকে নিয়ে গেছে। তারা দু'জন দাউদ-এর কাছে তাদের মামলা পেশ করল। তিনি বড় স্ত্রীলোকটির পক্ষে রায় দিলেন। তারপর তারা বেরিয়ে দাউদ-এর ছেলে সুলায়মান-এর কাছে গেল আর তারা দু'জনেই তাকে তাদের ঘটনা জানালো। তখন তিনি বললেন, আমার কাছে একটি ছুরি আন কেটে দু'জনের মধ্যে ভাগ করে দেব। তখন ছোট স্ত্রীলোকটি বলল, আপনি এমন করবেন না, আল্লাহ আপনার উপর দয়া করুন। এ ছেলেটি তারই। তখন তিনি ছেলেটি ছোট মহিলার ব'লে রায় দিলেন। আবূ হুরাইরাহ বলেন, আল্লাহর কসম! আমি "সাক্কিন" শব্দটি ঐ দিনের পূর্বে কখনও শুনিনি। পূর্বে তো আমরা একে "মুদিয়া" বলতাম।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে এমন হাসিখুশি অবস্থায় আসলেন যে, তার চেহারার রেখাগুলো চমকাচ্ছিল। তিনি বললেনঃ তুমি কি দেখনি যে, মুজাযযিয (চিহ্ন দেখে বংশ নির্ধারণকারী) যায়দ ইবন হারিসাহ এবং উসামাহ ইবন যায়দ-এর দিকে অনসন্ধানের দৃষ্টিতে লক্ষ্য করেছে। এরপর সে বলেছে, তাদের দু'জনের পাগুলো পরস্পর থেকে (এসেছে)।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে আসলেন। তিনি ছিলেন হাসি-খুশি। তিনি বললেনঃ হে আয়িশাহ! (চিহ্ন দেখে বংশ নির্ধারণকারী) মুদলিজী এসেছে তা কি তুমি দেখেছ? সে উসামাহ এবং যায়দ-এর দিকে লক্ষ্য করেছে। তাদের দু'জনের গায়ে চাদর ছিল যা দিয়ে তাদের মাথা ঢেকে রাখা হয়েছিল। আর তাদের পাগুলো ছিল খোলা। তখন সে বলল, এদের পাগুলো একে অপর থেকে।