bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

চিকিৎসা (৫৬৭৮-৫৭৮২)

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ এমন কোন রোগ পাঠাননি যার আরোগ্যের ব্যবস্থা দেননি।

রুবায়ঈ বিন্ত মু'আওয়ায ইবন আফরা হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিতাম। তখন আমরা লোকজনকে পানি পান করাতাম, তাদের সেবা-শুশ্রুষা করতাম এবং নিহত ও আহতদের মাদ্বীনায় নিয়ে যেতাম।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তিনটি জিনিসের মধ্যে রোগমুক্তি আছে। মধু পানে, শিঙ্গা লাগানোতে এবং আগুন দিয়ে দাগ লাগানোতে। আমার উম্মাতকে আগুন দিয়ে দাগ দিতে নিষেধ করছি।

ইবন আব্বাস-এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রোগমুক্তি আছে তিনটি জিনিসে। শিঙ্গা লাগানোতে, মধু পানে এবং আগুন দিয়ে দাগ দেয়াতে। আমার উম্মাতকে আগুন দিয়ে দাগ দিতে নিষেধ করছি।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) মিষ্টান্ন দ্রব্য ও মধু অধিক পছন্দ করতেন।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের ঔষধসমূহের কোনটির মধ্যে যদি কল্যাণ থাকে তাহলে তা আছে শিঙ্গাদানের মধ্যে কিংবা মধু পানের মধ্যে কিংবা আগুন দিয়ে ঝলসানোর মধ্যে। রোগ অনুসারে। আমি আগুন দিয়ে দাগ দেয়া পছন্দ করি না।

আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললঃ আমার ভাইয়ের পেটে অসুখ হয়েছে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। এরপর লোকটি দ্বিতীয়বার আসলে তিনি বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। অতঃপর তৃতীয়বার আসলে তিনি বললেন তাকে মধু পান করাও। এরপর লোকটি এসে বললঃ আমি অনুরূপই করেছি। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ সত্য বলেছেন, কিন্তু তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলছে। তাকে মধু পান করাও। অতঃপর সে তাকে পান করাল। এবার সে রোগমুক্ত হল।

আনাস হতে বর্ণিত। কতক লোক রোগে আক্রান্ত হয়েছিল, তারা বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের আশ্রয় দিন এবং আমাদের খাদ্য দিন। অতঃপর যখন তারা সুস্থ হল, তখন তারা বললঃ মদিনা'র বায়ু ও আবহাওয়া অনুকূল নয়। তখন তিনি তাদেরকে তার কতগুলো উট নিয়ে 'হাররা' নামক জায়গায় থাকতে দিলেন। এরপর তিনি বললেনঃ তোমরা এগুলোর দুধ পান কর। যখন তারা আরোগ্য হল তখন তারা নবী (ﷺ) -এর রাখালকে হত্যা করে ফেলল এবং তার উটগুলোকে হাকিয়ে নিয়ে চলল। তিনি তাদের পশ্চাতে ধাওয়াকারীদের পাঠালেন। এরপর তিনি তাদের হাত পা কেটে দেন এবং তাদের চোখগুলোকে ফুড়ে দেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি তাদের এক ব্যক্তিকে দেখেছি। সে নিজের জিভ দিয়ে মাটি কামড়াতে থাকে, অবশেষে মারা যায়।

আনাস হতে বর্ণিত। কতকগুলো লোক মাদ্বীনায় তাদের প্রতিকূল আবহাওয়া অনুভব করল। তখন নবী (ﷺ) তাদের হুকুম দিলেন, তারা যেন তার রাখাল তার উটগুলোর নিকট গিয়ে থাকে এবং উটের দুগ্ধ ও প্রস্রাব পান করে। তারা রাখালের সাথে গিয়ে মিলিত হল এবং উটের দুধ ও পেশাব পান করতে লাগল। অবশেষে তাদের শরীর সুস্থ হলে তারা রাখালটিকে হত্যা করে ফেলে এবং উটগুলো হাকিয়ে নিয়ে যায়। নবী (ﷺ) -এর নিকট এ খবর পৌছলে তিনি তাদের খোজে লোক পাঠান। এরপর তাদের ধরে আনা হল। এরপর তিনি তাদের হাত পা কেটে দেন এবং তাদের চোখ ফুড়ে দেন।

খালিদ ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (যুদ্ধের অভিযানে) বের হলাম। আমাদের সঙ্গে ছিলেন গালিব ইবন আবজার। তিনি পথে অসুস্থ হয়ে গেলেন। এরপর আমরা মদিনায় ফিরলাম তখনও তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাকে দেখাশুনা করতে আসেন ইবন আবূ 'আতীক। তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা এ কালো জিরা সাথে রেখ। এথেকে পাচটি কিংবা সাতটি দানা নিয়ে পিষে ফেলবে, তারপর তন্মধ্যে যাইতুনের কয়েক ফোঁটা তৈল ঢেলে দিয়ে তার নাকের এ দিক-ওদিকের ছিদ্র দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে প্রবিষ্ট করাবে। কেননা, আয়িশাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ এই কালো জিরা 'সাম' ছাড়া সব রোগের ঔষধ। আমি বললামঃ 'সাম' কী? তিনি বললেনঃ মৃত্যু।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ কালো জিরা 'সাম' ছাড়া যাবতীয় রোগের ঔষধ।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি রোগীকে এবং কারো মৃত্যুজনিত শোকাহত ব্যক্তিকে তরল জাতীয় খাদ্য খাওয়ানোর আদেশ করতেন। তিনি বলতেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, 'তালবীনা' রোগীর কলিজা মযবূত করে এবং নানাবিধ দুশ্চিন্তা দূর করে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি তালবীনা খেতে আদেশ দিতেন এবং বলতেনঃ এটি হল অপছন্দনীয়, তবে উপকারী।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) শিঙ্গা লাগিয়েছেন এবং যে ব্যক্তি শিঙ্গা লাগিয়ে দেয় তাকে পারিশ্রমিক দিয়েছেন আর তিনি নাকে ঔষধ টেনে নিয়েছেন।

উম্মু কায়স বিনত মিহসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা ভারতীয় এই চন্দন কাঠ ব্যবহার করবে। কেননা তাতে সাতটি আরোগ্য রয়েছে। শ্বাসনালীর ব্যথার জন্য এর (ধোয়া) নাক দিয়ে টেনে নেয়া যায়, পাঁজরের ব্যথা বা পক্ষাঘাত রোগ দূর করার জন্যও তা ব্যবহার করা যায়।

বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) এর কাছে আমার এক শিশু পুত্রকে নিয়ে এলাম, সে খাবার খেতে চাইত না। এ সময় সে তার কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি পানি চেয়ে পাঠালেন। তারপর কাপড়ে পানি ছিটিয়ে দিলেন।

বনু আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) সওমরত অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ইহরামের অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন।

আনাস হতে বর্ণিত যে, তাকে শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক দেয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শিঙ্গা লাগিয়েছেন। আবূ তাইবা তাকে শিঙ্গা লাগায়। এরপর তিনি তাকে দু সা' খাদ্যবস্তু প্রদান করেন। সে তার মালিকের সঙ্গে এ সম্পর্কে কথা বললে, তারা তার থেকে পারিশ্রমিক কমিয়ে দেয়। নবী (ﷺ) আরো বলেনঃ তোমরা যে সব জিনিস দিয়ে চিকিৎসা কর, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হল শিঙ্গা লাগানো এবং সামুদ্রিক চন্দন কাঠ। তিনি আরো বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের বাচ্চাদের জিহবা, তালু টিপে কষ্ট দিও না। বরং তোমরা চন্দন কাঠ দিয়ে চিকিৎসা কর।

আসিম ইবন উমার ইবন ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত যে, জাবির ইবন আবদুল্লাহ অসুস্থ মুকান্নাকে দেখতে যান। এরপর তিনি বলেনঃ আমি হটব না, যতক্ষণ না তুমি শিঙ্গা লাগাবে। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ নিশ্চই এতে আছে নিরাময়।

আবদুল্লাহ ইবন বুহাইনা হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরাম বাধা অবস্থায় মক্কার পথে 'লাহয়ী জামাল' নামীয় জায়গায় তার মাথার মাঝখানে শিঙ্গা লাগান।

আনসারী হিশাম ইবন হাসসান ইকরামার সূত্রে ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার মাথায় শিঙ্গা লাগান।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, মাথার ব্যথায় নবী (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় 'লাহয়ী জামাল' নামের একটি কুয়োর ধারে মাথায় শিঙ্গা লাগান।

ইবন আব্বাস বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরামের অবস্থায় আধ কপালির কারণে তার মাথায় শিঙ্গা লাগান।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যদি তোমাদের ঔষধগুলোর কোনটিতে কল্যাণই থাকে, তাহলে তা আছে মধুপানে কিংবা শিঙ্গা লাগানোতে কিংবা আগুন দিয়ে দাগ লাগানোতে। তবে আমি দাগ দেয়া পছন্দ করি না।

কা'ব ইবন উজরা হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হুদাইবিয়ার সফরকালে নবী (ﷺ) আমার কাছে আসলেন। আমি তখন পাতিলের নীচে আগুন দিতেছিলাম, আর আমার মাথা থেকে তখন উকুন ঝরছিল। তিনি বললেনঃ তোমার উকুনগুলো তোমাকে কি খুব কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললামঃ হ্যা। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি মাথা মুড়িয়ে নাও এবং তিন দিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীন) কে খাদ্য দাও, কিংবা একটি কুরবানীর পশু জবাই করে নাও।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যদি তোমাদের চিকিৎসাসমূহে কোনটির মধ্যে আরোগ্য থাকে, তাহলে তা আছে শিঙ্গা লাগানোতে কিংবা আগুন দ্বারা দাগ লাগানোতে, তবে আমি আগুন দিয়ে দাগ দেয়া পছন্দ করি না।

ইমরান ইবন হুসাইন হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বদ-নযর কিংবা বিষাক্ত দংশন ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে ঝাড়ফুক নেই। বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর এ হাদীস আমি সাঈদ ইবন যুবায়র-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ আমাদের নিকট ইবন আব্বাস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার সামনে সকল উম্মাতকে পেশ করা হয়েছিল। তখন আমি দেখেছি) দু'একজন নবী পথ চলতে লাগলেন এমতাবস্থায় যে, তাদের সঙ্গে রয়েছে লোকজনের ছোট ছোট দল। কোন কোন নবী এমনও আছেন যার সঙ্গে একজনও নেই। অবশেষে আমার সামনে তুলে ধরা হল বিশাল দল। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এটা কী? এ কি আমার উম্মাত? উত্তর দেয়া হলঃ না, ইনি মূসা আঃ) এবং তার কওম। আমাকে বলা হলঃ আপনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে তাকান। তখন দেখলামঃ বিশাল একটি দল যা দিগন্তকে ঢেকে রেখেছে। তারপর আমাকে বলা হলঃ আকাশের দিগন্তসমূহ ঢেকে দিয়েছে এমন একটি বিশাল দলের প্রতি লক্ষ্য করুন। তখন বলা হলঃ এরা হল আপনার উম্মাত। আর তাদের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারপর নবী (ﷺ) ঘরে চলে গেলেন। উপস্থিতদের কাছে কথাটির কোন ব্যাখ্যা প্রদান করলেন না। যে বিনা হিসাবের লোক কারা হবে?) ফলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তর্ক বিতর্ক শুরু হল। তারা বললঃ আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তার রাসূল (ﷺ) -এর অনুসরণ করে থাকি। সুতরাং আমরাই তাদের অন্তর্ভুক্ত। কিংবা তারা হল আমাদের সে সকল সন্তান-সন্ততি যারা ইসলামের যুগে জন্মগ্রহণ করেছে। আর আমাদের জন্ম হয়েছে জাহিলী যুগে। নবী (ﷺ) এর কাছে এ সংবাদ পৌছলে তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তারা হল সে সব লোক যারা মন্ত্র পাঠ করে না, পাখির মাধ্যমে কোন কাজের ভাল-মন্দ নির্ণয় করে না এবং আগুনের সাহায্যে দাগ লাগায় না। বরং তারা তো তাদের রবের উপরই ভরসা করে থাকে। তখন উক্কাশা ইবন মিহসান বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তাদের মধ্যে কি আমি আছি? তিনি বললেনঃ হ্যা। তখন আরেকজন দাড়িয়ে বললঃ তাদের মধ্যে কি আমিও আছি? তিনি বললেনঃ 'উক্কাশাহ এ সুযোগ তোমার আগেই নিয়ে নিয়েছে।

উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত যে, এক মহিলার স্বামী মারা গেলে তার চোখে অসুখ দেখা দেয়। লোকজন নবী (ﷺ) এর কাছে মহিলার কথা উল্লেখ করতঃ সুরমা ব্যবহারের কথা আলোচনা করল এবং তার চোখ সংকটাপন্ন বলে জানাল। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের একেকটি মহিলার অবস্থাতো এমন ছিল যে, তার ঘরে তার সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাপড়ে সে থাকত কিংবা তিনি বলেছেনঃ সে তার কাপড়ে আচ্ছাদিত হয়ে তার সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঘরে (বছরের পর বছর) অবস্থান করত। অতঃপর যখন কোন কুকুর হেটে যেত, তখন সে কুকুরটির দিকে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করে (বেরিয়ে আসার অনুমতি পেত)। অতএব, সে চোখে সুরমা লাগাবে না বরং চার মাস দশ দিন সে অপেক্ষা করবে।

আফফান বলেন, সালীম ইবন হাইয়ান, আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রোগের কোন সংক্রমণ নেই, কুলক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, সফর মাসের কোন অশুভ নেই। কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাক।

সাঈদ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ ছত্রাক এক প্রকারের শিশির থেকে হয়ে থাকে। আর এর রস চোখের আরোগ্যকারী।

ইবন আব্বাস ও আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, আবূ বাকর নবী (ﷺ) এর মৃতদেহে (এর কপালে) চুমু দিয়েছেন।

পূর্বের হাদিসের মতই (৫৭০৯)।

পূর্বের হাদিসের মতই (৫৭০৯)।

বর্ণনাকারী বলেন, আয়িশাহ আরো বলেন, নবী (ﷺ) এর অসুখের সময় আমরা তার মুখে ঔষধ ঢেলে দিলাম। তখন তিনি আমাদের ইঙ্গিত দিতে থাকলেন যে, তোমরা আমার মুখে ঔষধ ঢেল না। আমরা মনে করলাম, এটা ঔষধের প্রতি একজন রোগীর স্বভাবজাত অনীহা প্রকাশ মাত্র। এরপর তিনি যখন সুস্থবোধ করলেন তখন বললেনঃ আমি কি তোমাদের আমার মুখে ঔষধ ঢেলে দিতে নিষেধ করিনি? আমরা বললামঃ আমরাতো ঔষধের প্রতি রোগীর স্বভাবজাত অনীহা ভেবেছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমি এখন যাদেরকে এ ঘরে দেখতে পাচ্ছি তাদের সবার মুখে ওষুধ ঢালা হবে। আব্বাস ছাড়া কেউ বাদ যাবে না। কেননা, তিনি তোমাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন না।

উম্মু কায়স হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট গেলাম। ছেলেটির আলাজিহ্বা ফোলার কারণে আমি তা দাবিয়ে দিয়েছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ এ রকম রোগ-ব্যাধি দমনে তোমরা নিজেদের সন্তানদের কেন কষ্ট দিয়ে থাক? তোমরা ভারতীয় চন্দন কাঠ ব্যবহার কর। কেননা, তাতে সাত রকমের নিরাময় আছে। তার মধ্যে পাঁজরের ব্যথা বা পক্ষাঘাত রোগ অন্যতম। আলাজিহবা ফোলার কারণে এটির ধোয়া নাক দিয়ে টেনে নেয়া যায়। পাঁজরের ব্যথার রুগী বা পক্ষাঘাত রুগীকে তা সেবন করানো যায়।

নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বয়স বেড়ে গেল এবং রোগ-যন্ত্রণা তীব্র আকার ধারণ করল, তখন তিনি তার স্ত্রীদের কাছে অনুমতি চাইলেন যে, তিনি যেন আমার গৃহে অসুস্থ কালীন সময় অবস্থান করতে পারেন। এরপর তারা অনুমতি দিলে তিনি দু'ব্যক্তি আব্বাস ও আরেকজনের সাহায্যে এভাবে বেরিয়ে আসলেন যে, মাটির উপর তার দু'পা হেঁচড়াতে ছিল। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি ইবন আব্বাস-কে হাদীসটি জানালে তিনি বলেনঃ আপনি কি জানেন, আরেক ব্যক্তি- যার নাম আয়িশাহ উল্লেখ করেননি, তিনি কে ছিলেন? আমি উত্তর দিলামঃ না। তিনি বললেনঃ তিনি বলেন আলী। আয়িশাহ বলেনঃ যখন তার রোগ-যন্ত্রণা আরো তীব্র হল তখন তিনি বললেন, যে সব মশ্কের মুখ এখনো খোলা হয়নি এমন সাত মশ্ক পানি আমার গায়ে ঢেলে দাও। আমি লোকজনের কাছে কিছু অসীয়ত করে আসার ইচ্ছে পোষণ করছি। তিনি বলেন, তখন আমরা তাকে তার স্ত্রী হাফসা্ -এর একটি কাপড় কাচার জায়গায় নিয়ে গিয়ে বসালাম। এরপর তার গায়ের উপর সেই মশকগুলো থেকে পানি ঢালতে লাগলাম। অবশেষে তিনি আমাদের দিকে ইশারা দিলেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ করেছ। তিনি বলেনঃ এরপর তিনি লোকজনের দিকে বেরিয়ে গেলেন। আর তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তাদের সম্মুখে খুত্বা দিলেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। আসাদ গোত্রের আসাদে খুযাইমা গোত্রের উম্মু কায়স বিন্ত মিহসান আসাদিয়া ছিলেন প্রথম যুগের হিজরাতকারীদের অন্তর্ভুক্ত, যারা নবী (ﷺ) এর নিকট বাই'আত গ্রহণ করেছিলেন। আর তিনি ছিলেন 'উকাশাহ-এর বোন। তিনি বলেছেন যে, তিনি তার এক ছেলেকে নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট এসেছিলেন। ছেলেটির আলাজিহ্বা ফুলে যাওয়ার কারণে তিনি তা দাবিয়ে দিয়েছিলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা এ সব রোগ দমনে তোমাদের সন্তানদের কেন কষ্ট দাও? তোমরা এই ভারতীয় চন্দন কাঠ সংগ্রহ করে রেখে দিও। কেননা এতে সাত রকমের আরোগ্য আছে। তার মধ্যে একটি হল পাঁজর ব্যথা। এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন কোস্ত। আর কোস্ত হল ভারতীয় চন্দন কাঠ।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল যে, আমার ভাইয়ের পেট খারাপ হয়েছে। নবী (ﷺ) বললেন, তাকে মধু পান করাও। সে তাকে মধু সেবন করাল। এরপর বলল, আমি তাকে মধু পান করিয়েছি কিন্তু অসুখ আরো বাড়ছে। তিনি বললেনঃ আল্লাহ সত্য বলেছেন, কিন্তু তোমার ভাইয়ের পেট তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চায়।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রোগের কোন সংক্রমণ নেই, সফরের কোন অশুভ আলামত নেই, পেঁচার মধ্যেও কোন অশুভ আলামত নেই। তখন এক বেদুঈন বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমার উটের এ অবস্থা কেন হয়? সেগুলো যখন চারণ ভূমিতে থাকে তখন সেগুলো যেন মুক্ত হরিণের পাল। এমন অবস্থায় চর্মরোগাগ্রস্ত উট এসে সেগুলোর পালে ঢুকে পড়ে এবং এগুলোকেও চর্ম রোগে আক্রান্ত করে ফেলে। নবী (ﷺ) বললেনঃ তাহলে প্রথমটিকে চর্ম রোগাক্রান্ত কে করেছে?

উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, উম্মু কায়স বিন্ত মিহসান, তিনি ছিলেন প্রথম কালের হিজরাতকারিণী 'উকাশাহ ইবন মিহসান -এর বোন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট বাই'আত গ্রহণকারিণী মহিলা সাহাবী। তিনি বলেছেনঃ তিনি তার এক ছেলেকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে আসেন। ছেলেটির আলাজিহবা ফুলে গিয়েছিল। তিনি তা দাবিয়ে দিয়েছিলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহকে ভয় কর, কেন তোমরা তোমাদের সন্তানদের তালু দাবিয়ে কষ্ট দাও। তোমরা এই ভারতীয় চন্দন কাঠ ব্যবহার কর। কেননা, এতে রয়েছে সাত প্রকারের চিকিৎসা। তন্মধ্যে একটি হল পাঁজরের ব্যথা।

আনাস হতে বর্ণিত যে, আবূ ত্বালহা ও আনাস ইবন নাযর তাকে আগুন দিয়ে দাগ দিয়েছেন। আর আবূ ত্বালহা তাকে নিজ হাতে দাগ দিয়েছেন।

আব্বাদ ইবন মানসূর বলেন, আইউব আবূ কিলাবাহ ... আনাস ইবন মালিক সূত্রে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের এক পরিবারের লোকদের বিষাক্ত দংশন ও কান ব্যথার কারণে ঝাড়ফুক গ্রহণ করার জন্য অনুমতি দেন।

আনাস বলেনঃ আমাকে পাঁজর ব্যথা রোগের কারণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবিত কালে আগুন দিয়ে দাগ দেয়া হয়েছিল। তখন আমার নিকট উপস্থিত ছিলেন আবূ ত্বালহা, আনাস ইবন নাযর এবং যায়দ ইবন সাবিত (রাযিয়াল্লাহু 'আনহুম)। আর আবূ ত্বালহা আমাকে দাগ দিয়েছিলেন।

সাহল ইবন সাদ সাঈদী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) এর মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ চূর্ণ করে দেয়া হল, আর তার মুখমন্ডল রক্তাক্ত হয়ে গেল এবং তার রুবাঈ দাত ভেঙ্গে গেল, তখন আলী ঢাল ভর্তি করে পানি দিতে থাকলেন এবং ফাতিমা এসে তার চেহারা থেকে রক্ত ধুয়ে দিতে লাগলেন। ফাতিমা যখন দেখলেন যে, পানি ঢালার পরেও অনেক রক্ত ঝরে চলছে, তখন তিনি একটি চাটাই নিয়ে এসে তা পুড়ালেন এবং নবী (ﷺ) এর যখমের উপর ছাই লাগিয়ে দিলেন। ফলে রক্ত বন্ধ হয়ে গেল।

ইবন উমার এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়। কাজেই তাকে পানি দিয়ে নিভাও। নাফি বলেন, আবদুল্লাহ তখন বলতেনঃ আমাদের উপর থেকে শাস্তিকে হালকা কর।

ফাতিমা বিনত্ মুনযির হতে বর্ণিত যে, আসমা বিনত আবূ বাকর-এর নিকট যখন কোন জ্বরে আক্রান্ত স্ত্রীলোকদেরকে দোয়ার জন্য নিয়ে আসা হত , তখন তিনি পানি হাতে নিয়ে সেই স্ত্রীলোকটির জামার ফাক দিয়ে তার গায়ে ছিটিয়ে দিতেন এবং বলতেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নির্দেশ করতেন, আমরা যেন পানির সাহায্যে জ্বরকে ঠান্ডা করি।

আয়িশাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জ্বর হয় জাহান্নামের তাপ থেকে। কাজেই তোমরা পানি দিয়ে তা ঠান্ডা কর।

রাফি ইবন খাদীজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ জ্বর হয় জাহান্নামের তাপ থেকে। কাজেই তোমরা তা পানি দিয়ে ঠান্ডা কর।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, উকল ও উরাইনাহ গোত্রের কতগুলি মানুষ কিংবা তিনি বলেছেন, কতিপয় পুরুষ লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট আগমন ক'রে ইসলাম সম্পর্কে কথাবার্তা বলল। এরপর তারা বললঃ হে আল্লাহর নবী! আমরা ছিলাম পশু পালন এলাকার অধিবাসী, আমরা কখনো কৃষি কাজের লোক ছিলাম না। কাজেই মদিনায় বাস করা তাদের জন্য প্রতিকূল হল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের জন্য কিছু উট ও একজন রাখাল দেয়ার নির্দেশ প্রদান করলেন এবং তাদের হুকুম দিলেন যেন এগুলো নিয়ে যায় এবং এগুলোর দুগ্ধ ও প্রস্রাব পান করে। এরপর তারা রওয়ানা হয়ে যখন 'হাররা' এলাকার নিকটবর্তী হল, তখন তারা ইসলাম ত্যাগ করে কুফরী অবলম্বন করল এবং তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর রাখালকে হত্যা করে উটগুলো নিয়ে গেল। নবী (ﷺ) -এর নিকট সংবাদ পৌছল। তিনি তাদের পশ্চাতে সন্ধানী দল পাঠালেন। তারা ধৃত হলে) নবী (ﷺ) তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত আদেশ দিলেন। কাজেই সাহাবীগণতাদের চোখ ফুড়ে দিলেন, তাদের হাত কেটে দিলেন এবং তাদের হার্রা এলাকায় ফেলে রাখা হল। শেষ পর্যন্ত তারা ঐ অবস্থাতেই মারা গেল।

উসামাহ ইবন যায়দ থেকে, তিনি সা'দ-এর কাছে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখন তোমরা কোন অঞ্চলে প্লেগের বিস্তারের সংবাদ শোন, তখন সেই এলাকায় প্রবেশ করো না। আর তোমরা যেখানে অবস্থান কর, সেখানে প্লেগের বিস্তার ঘটলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না। বর্ণনাকারী (হাবীব ইবন আবূ সাবিত বলেন) আমি জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি উসামাহ-কে এ হাদীস সা'দ-এর কাছে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি (সা'দ) তাতে কোন অসম্মতি জ্ঞাপন করেননি? ইবরাহীম ইবন সা'দ বলেনঃ হা।

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, উমার ইবন খাত্তাব সিরিয়ার দিকে রওনা করেছিলেন। শেষে তিনি যখন সারগ এলাকায় গেলেন, তখন তার সঙ্গে সৈন্য বাহিনীর প্রধানগণ তথা আবূ উবাইদাহ ইবন জার্রাহ ও তার সঙ্গীগণ সাক্ষাৎ করেন। তারা তাকে জানালেন যে, সিরিয়া এলাকায় প্লেগের বিস্তার ঘটেছে। ইবন আব্বাস বলেন, তখন উমার বললঃ আমার নিকট প্রবীণ মুহাজিরদের ডেকে আন। তখন তিনি তাদের ডেকে আনলেন। উমার তাদের সিরিয়ার প্লেগের বিস্তার ঘটার কথা জানিয়ে তাদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। তখন তাদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হল। কেউ বললেনঃ আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বের হয়েছেন; কাজেই তা থেকে প্রত্যাবর্তন করা আমরা পছন্দ করি না। আবার কেউ কেউ বললেনঃ বাকী লোক আপনার সঙ্গে রয়েছেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণ। কাজেই আমরা সঠিক মনে করি না যে, আপনি তাদের এই প্লেগের মধ্যে ঠেলে দিবেন। উমার বললেনঃ তোমরা আমার নিকট থেকে চলে যাও। এরপর তিনি বললেনঃ আমার নিকট আনসারদের ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে আনলাম। তিনি তাদের কাছে পরামর্শ চাইলে তারাও মুহাজিরদের পথ অবলম্বন করলেন এবং তাদের মতই মতপার্থক্য করলেন। উমার বললেনঃ তোমরা উঠে যাও। এরপর আমাকে বললেনঃ এখানে যে সকল বয়োজ্যেষ্ঠ কুরাইশী আছেন, যারা মক্কা জয়ের বছর হিজরাত করেছিলেন, তাদের ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে আনলাম, তখন তারা পরস্পরে মতভেদ করলেন না। তারা বললেনঃ আপনার লোকজনকে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করা এবং তাদের প্লেগের মধ্যে ঠেলে না দেয়াই আমরা ভাল মনে করি। তখন উমার লোকজনের মধ্যে ঘোষণা দিলেন যে, আমি ভোরে সাওয়ারীর পিঠে আরোহণ করব (ফিরার জন্য)। অতএব তোমরাও সকালে সওয়ারীর পিঠে আরোহণ করবে। আবূ উবাইদাহ বললেনঃ আপনি কি আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর থেকে পালানোর জন্য ফিরে যাচ্ছেন? উমার বললেনঃ হে আবূ উবাইদাহ! যদি তুমি ব্যতীত অন্য কেউ কথাটি বলত! হা, আমরা আল্লাহর, এক তাকদীর থেকে আল্লাহর আরেকটি তাকদীরের দিকে ফিরে যাচ্ছি। তুমি বলত, তোমার কিছু উটকে যদি তুমি এমন কোন উপত্যকায় নিয়ে যাও যেখানে আছে দু'টি মাঠ। তন্মধ্যে একটি হল সবুজ শ্যামল, আর অন্যটি হল শুষ্ক ও ধূসর। এবার বল ব্যাপারটি কি এমন নয় যে, যদি তুমি সবুজ মাঠে চরাও তাহলে তা আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ীই চরিয়েছ। আর যদি শুষ্ক মাঠে চরাও, তাহলে তাও আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ীই চরিয়েছ। বর্ণনাকারী বলেন, এমন সময় আবদুর রহমান ইবন 'আওফ আসলেন। তিনি এতক্ষণ যাবৎ তার কোন প্রয়োজনের কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে আমার নিকট একটি তথ্য আছে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা যখন কোন এলাকায় প্লেগের) বিস্তারের কথা শোন, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি কোন এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব নেমে আসে, আর তোমরা সেখানে থাক, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না। বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর উমার আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তারপর প্রত্যাবর্তন করলেন।

আবদুল্লাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত আছে যে, উমার সিরিয়া যাবার জন্য বের হলেন। এরপর তিনি 'সারগ' নামক স্থানে পৌছলে তার কাছে খবর এল যে সিরিয়া এলাকায় মহামারী দেখা দিয়েছে। তখন আবদুর রহমান ইবন 'আওফ তাকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা কোন স্থানে এর বিস্তারের কথা শোন, তখন সে এলাকায় প্রবেশ করো না; আর যখন এর বিস্তার ঘটে, আর তোমরা সেখানে অবস্থান কর, তাহলে তাথেকে পালিয়ে যাওয়ার নিয়তে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মাদ্বীনায় ঢুকতে পারবে না মাসীহ দাজ্জাল, আর না প্লেগ মহামারী।

হাফসাহ বিনত সীরীন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আনাস ইবন মালিক জিজ্ঞেস করলেন, ইয়াহ্ইয়া কী রোগে মারা গেছে? আমি বললামঃ প্লেগ রোগে। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্লেগ রোগে মারা গেলে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য তা শাহাদাত হিসাবে গণ্য।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ উদরাময় রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ, আর প্লেগ রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ।

নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তখন আল্লাহর নবী (ﷺ) তাকে জানান যে, এটি হচ্ছে এক রকমের আযাব। আল্লাহ যার উপর তা পাঠাতে ইচ্ছে করেন, পাঠান। কিন্তু আল্লাহ এটিকে মুমিনদের জন্য রহমত বানিয়ে দিয়েছেন। অতএব প্লেগ রোগে কোন বান্দা যদি ধৈর্য ধরে, এ বিশ্বাস নিয়ে আপন শহরে অবস্থান করতে থাকে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ছাড়া আর কোন বিপদ তার উপর আসবে না; তাহলে সেই বান্দার জন্য থাকবে শহীদের সাওয়াবের সমান সাওয়াব।

ইবরাহীম ইবন মূসা..আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যে রোগে ওফাত পান সেই রোগের সময়ে তিনি নিজ দেহে 'মু'আব্বিযাত' পড়ে ফুক দিতেন। অতঃপর যখন রোগের তীব্রতা বেড়ে গেল, তখন আমি সেগুলো পড়ে ফুক দিতাম। আর আমি তার নিজের হাত তার দেহের উপর বুলিয়ে দিতাম। কেননা, তার হাতে বারাকাত ছিল। রাবী বলেনঃ আমি যুহরীকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কীভাবে ফুক দিতেন? তিনি বললেনঃ তিনি তার দু' হাতের উপর ফুক দিতেন, অতঃপর সেই দু' হাত দিয়ে আপন মুখমন্ডল বুলিয়ে নিতেন।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর সাহাবীদের কতক সাহাবী আরবের এক গোত্রের নিকট আসলেন। গোত্রের লোকেরা তাদের কোন আতিথেয়তা করল না। তারা সেখানে থাকতেই হঠাৎ সেই গোত্রের নেতাকে সর্প দংশন করল। তখন তারা এসে বললঃ আপনাদের কাছে কি কোন ঔষধ আছে কিংবা আপনাদের মধ্যে ঝাড়-ফুককারী লোক আছেন কি? তারা উত্তর দিলেনঃ হা। তবে তোমরা আমাদের কোন আতিথেয়তা করনি। কাজেই আমাদের জন্য কোন পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট না করা পর্যন্ত আমরা তা করব না। ফলে তারা তাদের জন্য এক পাল বক্রী পারিশ্রমিক দিতে রাযী হল। তখন একজন সাহাবী উম্মুল কুরআন(আল-ফাতিহা) পড়তে লাগলেন এবং মুখে থুথু জমা করে সে ব্যক্তির গায়ে ছিটিয়ে দিলেন। ফলে সে রোগমুক্ত হল। এরপর তারা বকরীগুলো নিয়ে এসে বলল, আমরা নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করার পূর্বে এটি স্পর্শ করব না। এরপর তারা এ বিষয়ে নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। নবী (ﷺ) শুনে হেসে দিলেন এবং বললেনঃ তোমরা কীভাবে জানলে যে, এটি রোগ সারায়? ঠিক আছে বকরীগুলো নিয়ে যাও এবং তাতে আমার জন্যও এক ভাগ রেখে দিও।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণের একটি দল একটি কূয়ার পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। কূপের পাশে অবস্থানকারীদের মধ্যে ছিল সাপে কাটা এক ব্যক্তি কিংবা তিনি বলেছেন, দংশিত এক ব্যক্তি। তখন কূপের কাছে বসবাসকারীদের একজন এসে তাদের বললঃ আপনাদের মধ্যে কি কোন ঝাড়-ফুককারী আছেন? কূপ এলাকায় একজন সাপ বা বিচ্ছু দংশিত লোক আছে। তখন সাহাবীদের মধ্যে একজন সেখানে গেলেন। এরপর কিছু বক্রী দানের বিনিময়ে তিনি সূরা ফাতিহা পড়লেন। ফলে লোকটির রোগ সেরে গেল। এরপর তিনি ছাগলগুলো নিয়ে তার সাথীদের নিকট আসলেন, কিন্তু তারা কাজটি পছন্দ করলেন না। তারা বললেনঃ আপনি আল্লাহর কিতাবের উপর পারিশ্রমিক নিয়েছেন। অবশেষে তারা মাদ্বীনায় পৌছে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি আল্লাহর কিতাবের উপর পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যে সকল জিনিসের উপর তোমরা বিনিময় গ্রহণ করে থাক, তন্মধ্যে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার সবচেয়ে বেশি হক রয়েছে আল্লাহর কিতাবের।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে আদেশ করেছেন কিংবা তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) আদেশ করেছেন, নযর লাগার জন্য ঝাড়ফুক করতে।

উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) তার ঘরে একটি মেয়েকে দেখলেন যে, তার চেহারা মলিন। তখন তিনি বললেনঃ তাকে ঝাড়ফুক করাও, কেননা তার উপর নযর লেগেছে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বদ নযর লাগা সত্য। আর তিনি উলকি অংকন করতে নিষেধ করেছেন।

আবদুর রহমান ইবন আসওয়াদের পিতা আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ-কে বিষাক্ত প্রাণীর দংশনের কারণে ঝাড়-ফুক করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) সকল প্রকার বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে ঝাড়-ফুক করার অনুমতি দিয়েছেন।

আবদুল আযীয হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও সাবিত একবার আনাস ইবন মালিক-এর নিকট গেলাম। সাবিত বললেন, হে আবূ হামযা! আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। তখন আনাস বললেনঃ আমি কি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা দিয়ে ঝাড়-ফুক করেছিলেন তা দিয়ে ঝাড়-ফুক করে দেব? তিনি বললেনঃ হা। তখন আনাস পড়লেন- হে আল্লাহ! তুমি মানুষের রব, রোগ নিরাময়কারী, আরোগ্য দান কর, তুমি আরোগ্য দানকারী। তুমি ব্যতীত আর কেউ আরোগ্য দানকারী নেই। এমন আরোগ্য দাও, যা কোন রোগ অবশিষ্ট রাখে না।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তার কোন কোন স্ত্রীকে সূরা নাস ও সূরা ফালাক পড়ে ডান হাত দিয়ে বুলিয়ে দিতেন এবং পড়তেনঃ হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর, তুমিই আরোগ্য দানকারী, তোমার আরোগ্য ছাড়া অন্য কোন আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দাও, যা কোন রোগ অবশিষ্ট থাকে না।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঝাড়-ফুক করতেন। আর এ দোয়া পাঠ করতেনঃ ব্যথা দূর করে দাও, হে মানুষের পালনকর্তা। আরোগ্যদানের ক্ষমতা কেবল তোমারই হাতে। এ ব্যথা তুমি ছাড়া আর কেউ দূর করতে পারে না।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) রোগীর জন্য (মাটিতে ফু দিয়ে) এ দোয়া পড়তেনঃ আল্লাহর নামে আমাদের দেশের মাটি এবং আমাদের কারও থুথু, আমাদের প্রতিপালকের নির্দেশে আমাদের রোগীকে আরোগ্য দান করে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ঝাড়-ফুকে পড়তেনঃ আমাদের দেশের মাটি এবং আমাদের কারও থুথুতে আমাদের প্রতিপালকের নির্দেশে আমাদের রোগী আরোগ্য লাভ করে।

আবূ ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, আর মন্দ স্বপ্ন হয় শয়তানের তরফ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু স্বপ্ন দেখে যা তার কাছে খারাপ লাগে, তা হলে সে যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে তখন সে যেন তিনবার থুথু ফেলে এবং এর ক্ষতি থেকে আশ্রয় চায়। কেননা, তা হলে এটা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আপন বিছানায় আসতেন, তখন তিনি তার দু' হাতের তালুতে সূরা ইখলাস এবং মুআওব্বিযাতায়ন পড়ে ফুক দিতেন। তারপর উভয় তালু দ্বারা আপন চেহারা ও দু'হাত শরীরের যতদূর পৌছায় মাসাহ্ করতেন। আয়িশাহ রাঃ)বলেনঃ এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন অসুস্থ হন, তখন তিনি আমাকে ঐ রকম করার নির্দেশ দিতেন।

আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একদল সাহাবী একবার এক সফরে যান। অবশেষে তারা আরবের গোত্রগুলোর মধ্যে এক গোত্রের নিকট এসে মেহমান হতে চান। কিন্তু সে গোত্র তাদের মেহমানদারী করতে প্রত্যাখ্যান করে। ঘটনাচক্রে সে গোত্রের সর্দারকে সাপে দংশন করে। তারা তাকে সুস্থ করার জন্য সবরকম চেষ্টা করে, কিন্তু কোন ফল হয় না। তখন তাদের কেউ বললঃ তোমরা যদি ঐ দলের কাছে যেতে যারা তোমাদের মাঝে এসেছিল। হয়ত তাদের কারও কাছে কোন ঔষধ থাকতে পারে। তখন তারা সে দলের কাছে এসে বললঃ হে দলের লোকেরা! আমাদের সর্দারকে সাপে দংশন করেছে। আমরা তার জন্য সব রকমের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোন ফল হয়নি। তোমাদের কারও নিকট কি কোন তদবীর আছে? একজন বললেনঃ হা। আল্লাহর কসম, আমি ঝাড়-ফুক করি। তবে আল্লাহর কসম! আমরা তোমাদের নিকট মেহমান হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তোমরা আমাদের মেহমানদারী করনি। তাই আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঝাড়-ফুক করব না, যতক্ষণ না তোমরা আমাদের জন্য মজুরী নির্ধারণ করবে। তখন তারা তাদের একপাল ছাগল দিতে রাজী হল। তারপর সে সাহাবী সেখানে গেলেন এবং আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন সূরা ফাতিহা) পড়ে ফুক দিতে থাকলেন। অবশেষে সে ব্যক্তি এমন সুস্থ হল, যেন বন্ধন থেকে মুক্তি পেল। সে চলাফেরা করতে লাগল, যেন তার কোন রোগই নেই। রাবী বলেনঃ তখন তারা যে মজুরীর চুক্তি করেছিল, তা আদায় করল। এরপর সাহাবীদের মধ্যে একজন বললেনঃ এগুলো বণ্টন করে দাও। এতে যিনি ঝাড়-ফুক করেছিলেন তিনি বললেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট গিয়ে যতক্ষণ না এসব ঘটনা জানাব এবং তিনি আমাদের কী আদেশ দেন তা না জানব, ততক্ষণ তোমরা তা ভাগ করো না। তারপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট এসে ঘটনা জানাল। তিনি বললেনঃ তুমি কী করে জানলে যে, এর দ্বারা ঝাড়-ফুক করা যায়? তোমরা ঠিকই করেছ। তোমরা এগুলো বণ্টন করে নাও এবং আমার জন্যে একটা ভাগ রাখ।

আবদুল্লাহ ইবন আবূ শাইবাহ আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তাদের কাউকে ঝাড়ার সময় ডান হাত দিয়ে মাসাহ্ করতেন (এবং বলতেন) হে মানুষের প্রতিপালক! তুমি রোগ দূর করে দাও এবং আরোগ্য দান কর। তুমিই তো আরোগ্যদানকারী, তোমার আরোগ্য ভিন্ন আর কোন আরোগ্য নেই, এমন আরোগ্য দাও, যারপর কোন রোগ থাকে না।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যে রোগে মারা যান, সে রোগে তিনি সূরা নাস ও সূরা ফালাক্ব পড়ে নিজের উপর ফুক দিতেন। যখন রোগ বেড়ে গেল, তখন আমি সেগুলো পড়ে ফুক দিতাম এবং তার হাত বুলিয়ে দিতাম বারাকাতের আশায়। বর্ণনাকারী [মা'মার] বলেন, আমি ইবন শিহাবকে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী (ﷺ) কীভাবে ফুক দিতেন? তিনি বললেনঃ নিজের দু' হাতে ফুক দিতেন, তারপর তা দিয়ে চেহারা মুছে নিতেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক দিন নবী (ﷺ) আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেনঃ আমার সামনে (পূর্ববর্তী নবীগণের) উম্মাতদের পেশ করা হল। (আমি দেখলাম) একজন নবী যাচ্ছেন, তার সাথে আছে মাত্র একজন লোক এবং আর একজন নবী যার সঙ্গে আছে দু'জন লোক। অন্য এক নবীকে দেখলাম, তার সঙ্গে আছে একটি দল, আর একজন নবী, তার সাথে কেউ নেই। আবার দেখলাম, একটি বিরাট দল যা দিগন্ত জুড়ে আছে। আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, এ বিরাট দলটি যদি আমার উম্মাত হত। বলা হলঃ এটা মূসা ও তার কওম। এরপর আমাকে বলা হলঃ দেখুন। দেখলাম, একটি বিশাল জামাআত দিগন্ত জুড়ে আছে। আবার বলা হলঃ এ দিকে দেখুন। ও দিকে দেখুন। দেখলাম বিরাট বিরাট দল দিগন্ত জুড়ে ছেয়ে আছে। বলা হলঃ ঐ সবই আপনার উম্মাত এবং ওদের সাথে সত্তর হাজার লোক এমন আছে যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এরপর লোকজন এদিক ওদিক চলে গেল। নবী (ﷺ) আর তাদের (সত্তর হাজারের) ব্যাখ্যা করে বলেননি। নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণ এ নিয়ে নানান কথা শুরু করে দিলেন। তারা বলাবলি করলেনঃ আমরা তো শির্কের মাঝে জন্মেছি, পরে আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর ঈমান এনেছি। বরং এরা আমাদের সন্তানরাই হবে। নবী (ﷺ) -এর কাছে এ কথা পৌছলে তিনি বলেনঃ তারা (হবে) ঐ সব লোক যারা অবৈধভাবে মঙ্গল অমঙ্গল নির্ণয় করে না, ঝাড়-ফুক করে না এবং আগুনে পোড়ানো লোহার দাগ লাগায় না, আর তারা তাদের প্রতিপালকের উপর একমাত্র ভরসা রাখে। তখন 'উকাশাহ ইবন মিহসান দাড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাদের মধ্যে আছি? তিনি বললেনঃ হ্যা। তখন আর একজন দাড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাদের মধ্যে আছি? তিনি বললেনঃ এ বিষয়ে 'উকাশাহ তোমাকে ছাড়িয়ে গেছে।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ছোঁয়াচে ও শুভ-অশুভ বলতে কিছু নেই। অমঙ্গল তিন বস্তুর মধ্যে স্ত্রীলোক, গৃহ ও পশুতে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, শুভ-অশুভ নির্ণয়ে কোন লাভ নেই, বরং শুভ আলামত গ্রহণ করা ভাল। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ শুভ আলামত কী? তিনি বললেনঃ ভাল কথা, যা তোমাদের কেউ শুনে থাকে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ শুভ-অশুভ বলে কিছু নেই এবং এর কল্যাণই হল শুভ আলামত। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! শুভ আলামত কী? তিনি বললেনঃ ভাল কথা, যা তোমাদের কেউ (বিপদের সময়) শুনে থাকে।

আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ রোগের সংক্রমণ ও শুভ-অশুভ বলতে কিছু নেই। শুভ আলামতই আমার নিকট পছন্দনীয়, আর তা হল উত্তম বাক্য।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ রোগে সংক্রমণ নেই; শুভ-অশুভ আলামত বলে কিছু নেই। পেঁচায় অশুভ আলামত নেই এবং সফর মাসে অকল্যাণ নেই।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার হুযাইল গোত্রের দু'জন মহিলার মধ্যে বিচার করেন। তারা উভয়ে মারামারি করেছিল। তাদের একজন অন্যজনের উপর পাথর নিক্ষেপ করে। পাথর গিয়ে তার পেটে লাগে। সে ছিল গর্ভবতী। ফলে তার পেটের বাচ্চাকে সে হত্যা করে। তারপর তারা নবী (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ দায়ের করে। তিনি ফায়সালা দেন যে, এর পেটের সন্তানের বদলে একটি পূর্ণদাস অথবা দাসী দিতে হবে। জরিমানা আরোপকৃত মহিলার অভিভাবক বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! এমন সন্তানের জন্য আমার উপর জরিমানা কেন হবে, যে পান করেনি, খাদ্য খায়নি, কথা বলেনি এবং কান্নাকাটিও করেনি। এ অবস্থায় জরিমানা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এ তো দেখছি গণকদের ভাই।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। দু'জন মহিলার একজন অন্যজনের প্রতি পাথর নিক্ষেপ করে। এতে সে তার গর্ভপাত ঘটায়। নবী (ﷺ) এ ঘটনার বিচারে গর্ভস্থ শিশুর বদলে একটি দাস বা দাসী দেয়ার ফয়সালা দেন।

সাঈদ ইবন মুসায়্যিব এর সূত্রে বর্ণিত যে, যে গর্ভস্থ শিশুকে মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় হত্যা করা হয়, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি দাস বা দাসী প্রদানের ফয়সালা দেন। যার বিপক্ষে এ ফয়সালা দেয়া হয়, সে বলেঃ আমি কীভাবে এমন শিশুর জরিমানা আদায় করি, যে পানাহার করেনি, কথা বলেনি এবং কান্নাকাটিও করেনি। এ রকম হত্যার জরিমানা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এ তো দেখছি গণকদের ভাই।

আবূ মাসঊদ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কুকুরের মূল্য, যিনাকারিণীর পারিশ্রমিক ও গণকের পারিশ্রমিক দিতে নিষেধ করেছেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতকগুলো লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গণকদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এ কিছুই নয়। তারা বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! ওরা কখনও কখনও আমাদের এমন কথা শোনায়, যা সত্য হয়ে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে কথা সত্য। জিনেরা তা ছোঁ মেরে নেয়। পরে তাদের বন্ধু (গণক) এর কাণে ঢেলে দেয়। তারা এর সাথে শত মিথ্যা মিলায়।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যুরাইক গোত্রের লাবীদ ইবন আ'সাম নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে যাদু করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মনে হতো যেন তিনি একটি কাজ করেছেন, অথচ তা তিনি করেননি। একদিন বা একরাত্রি তিনি আমার কাছে ছিলেন। তিনি বার বার দোয়া করতে থাকেন। তারপর তিনি বলেনঃ হে আয়িশাহ! তুমি কি বুঝতে পেরেছ যে, আমি আল্লাহর কাছে যা জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। (স্বপ্নে দেখি) আমার নিকট দু'জন লোক আসেন। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অপরজন দু'পায়ের কাছে বসেন। একজন তার সঙ্গীকে বলেনঃ এ লোকটির কী ব্যথা? তিনি বলেনঃ যাদু করা হয়েছে। প্রথম জন বলেনঃ কে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বলেন, লাবীদ ইবন আ'সাম। প্রথম জন জিজ্ঞেস করেনঃ কিসের মধ্যে? দ্বিতীয় জন উত্তর দেনঃ চিরুনী, মাথা আচড়ানোর সময় উঠা চুল এবং এক পুং খেজুর গাছের 'জুব'-এর মধ্যে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েকজন সাহাবী সাথে নিয়ে সেখানে যান। পরে ফিরে এসে বলেনঃ হে আয়িশাহ! সে কূপের পানি মেহদীর পানির মত লাল) এবং তার পাড়ের খেজুর গাছের মাথাগুলো শয়তানের মাথার মত। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি এ কথা প্রকাশ করে দিবেন না? তিনি বললেনঃ আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেছেন, আমি মানুষকে এমন বিষয়ে প্ররোচিত করতে পছন্দ করি না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিলে সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেচে থাক। আর তা হল আল্লাহর সাথে শরীক স্থির করা ও যাদু করা।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর একবার যাদু করা হয়। এমন অবস্থা হয় যে, তার মনে হতো তিনি বিবিগণের কাছে এসেছেন, অথচ তিনি আদৌ তাদের কাছে আসেননি। সুফ্ইয়ান বলেনঃ এ অবস্থা যাদুর চরম প্রতিক্রিয়া। বর্ণনাকারী বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম থেকে জেগে উঠেন এবং বলেনঃ হে আয়িশাহ! তুমি জেনে নাও যে, আমি আল্লাহর কাছে যে বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম তিনি আমাকে তা বলে দিয়েছেন। স্বপ্নে দেখি) আমার নিকট দু'জন লোক এলেন। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং আরেকজন আমার পায়ের নিকট বসলেন। আমার কাছের লোকটি অন্যজনকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ লোকটির কী অবস্থা? দ্বিতীয় লোকটি বললেনঃ একে যাদু করা হয়েছে। প্রথম জন বললেনঃ কে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বললেনঃ লাবীদ ইবন আ'সাম। এ ইয়াহূদীদের মিত্র যুরায়ক্ব গোত্রের একজন, সে ছিল মুনাফিক। প্রথম ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেনঃ কিসের মধ্যে যাদু করা হয়েছে? দ্বিতীয় ব্যক্তি উত্তর দিলেনঃ চিরুনী ও চিরুনী করার সময় উঠে যাওয়া চুলের মধ্যে। প্রথম ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেনঃ সেগুলো কোথায়? উত্তরে দ্বিতীয়জন বললেনঃ পুং খেজুর গাছের জুবের মধ্যে রেখে 'যারওয়ান' কূপের ভিতর পাথরের নীচে রাখা আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত কূপের নিকট এসে সেগুলো বের করেন এবং বলেনঃ এইটিই সে কূপ, যা আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। এর পানি মেহদী মিশ্রিত পানির তলানীর মত, আর এ কূপের পার্শ্ববর্তী) খেজুর গাছের মাথাগুলো দেখতে) শয়তানের মাথার ন্যায়। বর্ণনাকারী বলেনঃ সেগুলো তিনি সেখান থেকে বের করেন। আয়িশাহ বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি এ কথা প্রকাশ করে দিবেন না? তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম, তিনি আমাকে আরোগ্য দান করেছেন; আর আমি মানুষকে এমন বিষয়ে প্ররোচিত করতে পছন্দ করি না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর যাদু করা হয়। এমনকি তার মনে হত তিনি কাজটি করেছেন অথচ তা তিনি করেননি। শেষে একদিন তিনি যখন আমার নিকট ছিলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট বার বার দোয়া করলেন। তারপর ঘুম থেকে জেগে বললেনঃ হে আয়িশাহ! তুমি কি বুঝতে পেরেছ? আমি যে বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তিনি তা আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! তা কী? তিনি বললেনঃ আমার নিকট দু'জন লোক এলেন। তাদের একজন আমার মাথার নিকট এবং আরেকজন আমার পায়ের নিকট বসলেন। তারপর একজন অন্যজনকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ লোকটির কী ব্যথা? তিনি উত্তর দিলেনঃ তাকে যাদু করা হয়েছে। প্রথম জন বললেনঃ কে তাকে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বললেনঃ যুরাইক গোত্রের লাবীদ ইবন আ'সাম নামক ইয়াহূদী। প্রথম জন জিজ্ঞেস করলেনঃ যাদু কী দিয়ে করা হয়েছে? দ্বিতীয় জন বললেনঃ চিরুনী, চিরুনী আচড়াবার সময়ে উঠে আসা চুল ও নর খেজুর গাছের 'জুব' এর মধ্যে। তখন নবী (ﷺ) তার সাহাবীদের কয়েকজনকে নিয়ে ঐ কূপের নিকট গেলেন এবং তা ভাল করে দেখলেন। কূপের পাড়ে ছিল খেজুর গাছ। তারপর তিনি আয়িশাহ -এর নিকট ফিরে এসে বললেনঃআল্লাহর কসম! কূপটির পানি রঙ) মেহদী মিশ্রিত পানির তলানীর ন্যায়। আর পার্শ্ববর্তী খেজুর গাছের মাথাগুলো শয়তানের মাথার ন্যায়। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সেগুলো বের করবেন না? তিনি বললেনঃ না, আল্লাহ আমাকে আরোগ্য ও শিফা দান করেছেন, মানুষের উপর এ ঘটনা থেকে মন্দ ছড়িয়ে দিতে আমি শঙ্কোচ বোধ করি। এরপর তিনি যাদুর দ্রব্যগুলোর ব্যাপারে নির্দেশ দিলে সেগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার পূর্ব অঞ্চল (নজদ এলাকা) থেকে দু'জন লোক এল এবং দু'জনই ভাষণ দিল। লোকজন তাদের ভাষণে বিস্মিত হয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কোন কোন ভাষণ অবশ্যই যাদুর মত।

সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস বলেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যহ সকালবেলায় কয়েকটি আজ্ওয়া খুরমা খাবে, ঐ দিন রাত অবধি কোন বিষ ও যাদু তার কোন ক্ষতি করবে না। অন্যান্য বর্ণনাকারীরা বলেছেনঃ সাতটি খুরমা।

সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সকালবেলায় সাতটি আজ্ওয়া মাদ্বীনায় উৎপন্ন উৎকৃষ্ট খুরমা) খেজুর খাবে, সে দিন কোন বিষ বা যাদু তার কোন ক্ষতি করবে না।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ রোগের মধ্যে কোন সংক্রমণ নেই, সফর মাসের মধ্যে অকল্যাণের কিছু নেই এবং পেঁচার মধ্যে কোন অশুভ আলামত নেই। তখন এক বেদুঈন বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে যে উট পাল মরুভূমিতে থাকে, হরিণের মত তা সুস্থ ও সবল থাকে। উটের পালে একটি চর্মরোগওয়ালা উট মিশে সবগুলোকে চর্মরোগগ্রস্ত করে দেয়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তবে প্রথম উটটির মধ্যে কীভাবে এ রোগ সংক্রামিত হল?

আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরাইরাহ-কে বলতে শুনেছেন নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যেন কখনও রোগাক্রান্ত উট সুস্থ উটের সাথে না রাখে।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রোগের সংক্রমণ বলতে কিছু নেই, অশুভ কেবল ঘোড়া,নারী ও ঘর এ তিন জিনিসের মধ্যেই রয়েছে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ সংক্রমণ বলতে কিছু নেই।

আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ থেকে শুনেছি, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ রোগাক্রান্ত উট নীরোগ উটের সাথে মিশ্রিত করবে না।

যুহরী সূত্রে আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রমণ বলতে কিছু নেই। তখন এক বেদুঈন দাড়িয়ে বললঃ এ সম্পর্কে আপনার কী অভিমত যে, হরিণের মত সুস্থ উট যে মরুভূমির পালের মাঝে থাকে। পরে কোন চর্মরোগগ্রস্ত উট সেগুলোর সাথে মিশে গিয়ে সবগুলোকে চর্মরোগে আক্রান্ত করে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তা হলে প্রথমটিকে কে রোগাক্রান্ত করেছিল?

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ রোগের সংক্রমণ বলতে কিছু নেই এবং পাখি উড়াতে কোন শুভ-অশুভ নেই আর আমার নিকট 'ফাল' পছন্দনীয়। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ 'ফাল' কী? তিনিবললেনঃ ভাল কথা।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার যখন বিজয় হয়, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হাদীয়া স্বরূপ একটি (ভুনা) বকরী পাঠানো হয়। এর মধ্যে ছিল বিষ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এখানে যত ইয়াহূদী আছে আমার কাছে তাদের একত্রিত কর। তার কাছে সকলকে একত্র করা হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের উদ্দেশে বললেনঃ আমি তোমাদের নিকট একটি ব্যাপারে জানতে চাই, তোমরা কি সে বিষয়ে আমাকে সত্য কথা বলবে? তারা বললঃ হা, সে আবুল কাসিম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের পিতা কে? তারা বললঃ আমাদের পিতা অমুক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা মিথ্যে বলেছ বরং তোমাদের পিতা অমুক। তারা বললঃ আপনি সত্য বলেছেন ও সঠিক বলেছেন। এরপর তিনি বললেনঃ আমি যদি তোমাদের নিকট আর একটি প্রশ্ন করি, তাহলে কি তোমরা সেক্ষেত্রে আমাকে সত্য বথা বলবে? তারা বললঃ হা, হে আবুল কাসিম যদি আমরা মিথ্যে বলি তবে তো আপনি আমাদের মিথ্যা জেনে ফেলবেন, যেমনিভাবে জেনেছেন আমাদের পিতার ব্যাপারে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বললেনঃ জাহান্নামী কারা? তারা বললঃ আমরা সেখানে অল্প কয়দিনের জন্যে থাকব। তারপর আপনারা আমাদের স্থানে যাবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরাই সেখানে অপমানিত হয়ে থাকবে। আল্লাহর কসম! আমরা কখনও সেখানে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হবো না। এরপর তিনি তাদের বললেনঃ আমি যদি তোমাদের কাছে আর একটি বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে কি তোমরা সে বিষয়ে আমার কাছে সত্য কথা বলবে? তারা বললঃ হা। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কি এ ছাগলের মধ্যে বিষ মিশিয়েছ? তারা বললঃ হা। তিনি বললেনঃ কিসে তোমাদের এ কাজে প্রেরণা যুগিয়েছে? তারা বললঃ আমরা চেয়েছি, যদি আপনি মিথ্যাচারী হন, তবে আমরা আপনার থেকে রেহাই পেয়ে যাব। আর যদি আপনি সত্য) নবী হন, তবে এ বিষয় আপনার কোন ক্ষতি করবে না।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরকাল সে জাহান্নামের ভিতর ঐভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে লোক বিষপানে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে। যে লোক লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনের ভিতর সে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তা দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে।

সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ভোরবেলা সাতটি আজ্ওয়া খুরমা খেয়ে নিবে, সে দিন বিষ কিংবা যাদু তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

আবূ সা'লাবা খুশানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাবতীয় নখরবিশিষ্ট হিংস্র প্রাণী খেতে নিষেধ করেছেন। যুহরী বলেন, আমি সিরিয়ায় চলে আসা অবধি এ হাদীস শুনিনি।

লায়স আরো বলেছেন যে, ইউনুস ইবন শিহাব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন যে, আমি এ হাদীসের বর্ণনাকারী (আবূ ইদরীস)-কে জিজ্ঞেস করেছি যে, গাধীর দুগ্ধ, হিংস্র প্রাণীর পিত্তের রস এবং উটের পেশাব পান করা বা তা দিয়ে অযু বৈধ কিনা? তিনি বলেছেনঃ আগেকার মুসলিমগণ উটের প্রস্রাবের সাহায্যে চিকিৎসার কাজ করতেন এবং এটা তারা কোন পাপ মনে করতেন না। আর গাধীর দুগ্ধ সম্পর্কে কথা হলোঃ গাধার গোশত খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা আমাদের কাছে পৌছেছে, কিন্তু তার দুগ্ধের ব্যাপারে আদেশ বা নিষেধ কিছুই আমাদের কাছে পৌছেনি। আর হিংস্র প্রাণীর পিত্তরস সম্পর্কে ইবন শিহাব আবূ ইদরীস খাওলানী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাবতীয় নখরওয়ালা হিংস্র প্রাণী খেতে নিষেধ করেছেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারও কোন খাবার পাত্রে মাছি পড়ে, তখন তাকে পুরোপুরি ডুবিয়ে দিবে, তারপরে ফেলে দিবে। কারণ, তার এক ডানায় থাকে আরোগ্য, আর আরেক ডানায় থাকে রোগ।