ঋতুস্রাব (হায়েজ) (২৯৪-৩৩৩)
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা হাজ্জের উদ্দেশেই (মদিনা হতে) বের হলাম। 'সারিফ' নামক স্থানে পৌছার পর আমার হায়য আসলো। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং বললেনঃ কী হলো তোমার? তোমার হায়য এসেছে? আমি বললাম, হা। তিনি বললেনঃ এ তো আল্লাহ তাআলাই আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তুমি বাইতুল্লাহর ত্বওয়াফ ছাড়া হাজ্জের বাকী সব কাজ করে যাও। আয়িশাহ বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার স্ত্রীদের পক্ষ হতে গাভী কুরবানী করলেন।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি হায়েয অবস্থায় আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর মাথা আচড়ে দিতাম।
রওয়াহ থেকে বর্ণিতঃ তাকে ('উরওয়াহ্কে) প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ঋতুবতী স্ত্রী কি স্বামীর খিদমত করতে পারে? অথবা গোসল ফরয হওয়ার অবস্থায় কি স্ত্রী স্বামীর নিকটবর্তী হতে পারে? 'উরওয়াহ জবাব দিলেন, এ সবই আমার নিকট সহজ। এ ধরনের সকল মহিলাই স্বামীর খিদমত করতে পারে। এ ব্যাপারে কারো অসুবিধা থাকার কথা নয়। আমাকে 'আয়িশা বলেছেন যে, তিনি হায়েযের অবস্থায় আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর চুল আচড়ে দিতেন। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মু'তাফিক অবস্থায় মসজিদ হতে তার ('আয়িশার) হুজরার দিকে তার নিকট মাথাটা বাড়িয়ে দিতেন। তখন তিনি মাথার চুল আচড়াতেন অথচ তিনি ছিলেন ঋতুবতী।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আর তখন আমি হায়েযের অবস্থায় ছিলাম।
উম্মু সালামা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে একই চাদরের নীচে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমার হায়েয দেখা দিলে আমি চুপি চুপি বেরিয়ে গিয়ে হায়েযের কাপড় পরে নিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার কি নিফাস দেখা দিয়েছে? আমি বললাম, হ্যা। তখন তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি তার সঙ্গে চাদরের ভেতর শুয়ে পড়লাম।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি ও নবী (ﷺ) জানাবাত অবস্থায় একই পাত্র হতে পানি নিয়ে গোসল করতাম।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে আমি ইযার পরে নিতাম, আমার হায়েয অবস্থায় তিনি আমার সাথে মিশামিশি করতেন।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তাছাড়া তিনি ই'তিকাফ অবস্থায় মাথা বের করে দিতেন, আর আমি হায়েয অবস্থায় মাথা ধুয়ে দিতাম।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমাদের কেউ হায়েয অবস্থায় থাকলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার সাথে মিশামিশি করতে চাইলে তাকে প্রবল হায়েযে ইযার পরার নির্দেশ দিতেন। তারপর তার সাথে মিশামিশি করতেন। তিনি ['আয়িশা রাযিআল্লাহু আনহা] বলেনঃ তোমাদের মধ্যে নবী (ﷺ)-এর মত কাম-প্রবৃত্তি দমন করার শক্তি রাখে কে? খালিদ ও জারীর শায়বানী হতে এ হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
মাইমূনা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কোন স্ত্রীর সাথে হায়েয অবস্থায় মিশামিশি করতে চাইলে তাকে ইযার পরতে বলতেন। শায়বানী হতে সুফিয়ান এ বর্ণনা করেছেন।
আবূ সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিতঃ একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে মহিলা সমাজ! তোমার সদাক্বাহ করতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তারা জিজ্ঞেস করলেনঃ কী কারণে, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমানে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও। বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চেয়ে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি। তারা বললেনঃ আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেনঃ একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তারা উত্তর দিলেন, 'হ্যা'। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়েয অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম হতে বিরত থাকে না? তারা বললেন, হ্যা। তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের দ্বীনের ত্রুটি।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে হজ্জের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম। আমরা 'সারিফ' নামক স্থানে পৌছেলে আমি ঋতুবতী হই। এ সময় নবী (ﷺ) এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললামঃ আল্লাহর শপথ! এ বছর হজ্জ না করাই আমার জন্য পছন্দনীয়। তিনি বললেনঃ সম্ভবত তুমি ঋতুবতী হয়েছ। আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেনঃ এটাতো আদম-কন্যাদের জন্যে আল্লাহ নির্ধারিত করেছেন। তুমি পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য হাজীদের মত সমস্ত কাজ করে যাও, কেবল কাবার তাওয়াফ করবে না।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনতু আবূ হুবায়শ আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি কখনও পবিত্র হই না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত ছেড়ে দেব? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এ হলো এক ধরনের বিশেষ রক্ত, হায়েযের রক্ত নয়। যখন তোমার হায়েয শুরু হয় তখন তুমি সালাত ছেড়ে দাও। আর হায়েয শেষ হলে রক্ত ধুয়ে সালাত আদায় কর।
আসমা বিন্ত আবূ বক্র সিদ্দীক থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ এক মহিলা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো কাপড়ে হায়েযের রক্ত লাগলে কী করবে? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের কারো কাপড়ে হায়েযের রক্ত লাগলে সে তা রগড়িয়ে, তারপর পানিতে ধুয়ে নেবে এবং সে কাপড়ে সালাত আদায় করবে।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমাদের কারো হায়েয হলে, পবিত্র হওয়ার পর রক্ত রগড়িয়ে কাপড় পানি দিয়ে ধুয়ে সেই কাপড়ে তিনি সালাত আদায় করতেন।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে তার কোন এক স্ত্রী ইস্তিহাযার অবস্থায় ই'তিকাফ করেন। তিনি রক্ত দেখতেন এবং স্রাবের কারণে প্রায়ই তার নীচে একটি পাত্র রাখতেন। রাবী বলেনঃ 'আয়িশা হলুদ রঙের পানি দেখে বলেছেন, এ যেন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর অমুক স্ত্রীর ইস্তিহাযার রক্ত।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে তার কোন একজন স্ত্রী ই'তিকাফ করেছিলেন। তিনি রক্ত ও হলদে পানি বের হতে দেখতেন আর তার নীচে একটা পাত্র বসিয়ে রাখতেন এবং সে অবস্থায় সালাত আদায় করতেন।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ উম্মুল-মুমিনীনের একজন ইস্তিহাযা অবস্থায় ইতিকাফ করেছিলেন।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমাদের কারো একটির অধিক কাপড় ছিল না। তিনি হায়েয অবস্থায়ও এই কাপড়খানিই ব্যবহার করতেন, তাতে রক্ত লাগলে থুথু দিয়ে ভিজিয়ে নখ দ্বারা খুটিয়ে নিতেন।
উম্মু আতিয়্যা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ কোন মৃত ব্যক্তির জন্যে আমাদের তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হতে নিষেধ করা হতো। কিন্তু স্বামীর ক্ষেত্রে চার মাস দশদিন (শোক পালনের অনুমতি ছিল)। আমরা তখন সুরমা লাগাতাম না, সুগন্ধি ব্যবহার করতাম না, ইয়েমেনের তৈরি রঙিন কাপড় ছাড়া অন্য কোন রঙিন কাপড় পরিধান করতাম না। তবে হায়েয হতে পবিত্রতার গোসলে আজফারের খোশবু মিশ্রিত বস্ত্রখন্ড ব্যবহারের অনুমতি ছিল। আর আমাদের জানাযার পেছনে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। এই বর্ণনা হিশাম ইবন হাস্সান হাফসা হতে, তিনি উম্মে আতিয়্যা হতে এবং তিনি নবী (ﷺ) হতে বিবৃত করেছেন।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ এক মহিলা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে হায়েযের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাকে গোসলের নিয়ম বলে দিলেন যে, এক টুকরা কস্তুরী লাগানো নেকড়া নিয়ে পবিত্রতা হাসিল কর। মহিলা বললেনঃ কীভাবে পবিত্রতা হাসিল করব? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তা দিয়ে পবিত্রতা হাসিল কর। মহিলা (তৃতীয়বার) বললেনঃ কীভাবে? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! তা দিয়ে তুমি পবিত্রতা হাসিল কর। 'আয়িশা বলেনঃ তখন আমি তাকে টেনে আমার নিকট নিয়ে আসলাম এবং বললামঃ তা দিয়ে রক্তের চিহ্ন বিশেষভাবে মুছে ফেল।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ একজন আনসারী মহিলা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি কীভাবে হায়েযের গোসল করবো? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এক টুকরো কস্তুরীযুক্ত নেকড়া লও এবং তিনবার ধুয়ে নাও। নবী (ﷺ) অতঃপর লজ্জাবশত অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন এবং বললেনঃ তা দিয়ে তুমি পবিত্র হও। 'আয়িশা বলেনঃ আমি তাকে নিজের দিকে টেনে নিলাম। তারপর তাকে নবী (ﷺ)-এর কথার মর্ম বুঝিয়ে দিলাম।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)- এর সঙ্গে বিদায় হজ্জের ইহরাম বেধেছিলাম। আমিও তাদেরই একজন ছিলাম যারা তামাত্তুর নিয়্যত করেছিল এবং সঙ্গে কুরবানীর পশু নেয়নি। তিনি বলেনঃ তার হায়েয শুরু হয় আর আরাফা এর রাত পর্যন্ত তিনি পাক হননি। 'আয়িশা বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আজ তো আরাফার রাত, আর আমি হজ্জের সঙ্গে উমরারও নিয়্যত করেছি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে বললেনঃ মাথার বেণী খুলে ফেল, চুল আচড়াও আর উমরা হতে বিরত থাক। আমি তাই করলাম। হজ্জ সমাধা করার পর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আবদুর কে 'হাসবায়' অবস্থানের রাতে (আমাকে উমরা করানোর) নির্দেশ দিলেন। তিনি তানঈম হতে আমাকে উমরা করালেন, যেখান হতে আমি উমরার ইহরাম বেধেছিলাম।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার সময় নিকটবর্তী হলে বেরিয়ে পড়লাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ যে উমরার ইহরাম বাধতে চায় সে তা করতে পারে। কারণ, আমি সাথে কুরবানীর পশু না আনলে উমরার ইহরামই বাধতাম। তারপর কেউ উমরার ইহরাম বাধলেন, আর কেউ হজ্জের ইহরাম বাধলেন। আমি ছিলাম উমরার ইহরামকারীদের মধ্যে। আরাফার দিনে আমি ঋতুবতী ছিলাম। আমি নবী (ﷺ) এর নিকট আমার অসুবিধার কথা বললাম। তিনি বললেনঃ তোমার উমরা ছেড়ে দাও, মাথার বেণী খুলে চুল আচড়াও, আর হজ্জের ইহরাম বাধ। আমি তাই করলাম। 'হাসবা' নামক স্থানে অবস্থানের রাতে নবী (ﷺ) আমার সাথে আমার ভাই আবদুর রহমান ইবন আবূ বক্র কে পাঠালেন। আমি তানঈমের দিকে বের হলাম। সেখানে পূর্বের উমরার পরিবর্তে ইহরাম বাধলাম। হিশাম বলেনঃ এসব কারণে কোন দম (কুরবানী), সওম বা সদকা দিতে হয়নি।
আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা মাতৃগর্ভের জন্য একজন মালাইকা নির্ধারণ করেছেন। তিনি (পর্যায়ক্রমে) বলতে থাকেন, হে রব! এখন বীর্য-আকৃতিতে আছে। হে রব! এখন জমাট রক্তে পরিণত হয়েছে। হে রব! এখন গোশতপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা যখন তার সৃষ্টি পূর্ণ করতে চান, তখন জিজ্ঞেস করেনঃ পুরুষ, না স্ত্রী? সৌভাগ্যবান, না দুর্ভাগা? রিয্ক ও বয়স কত? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তার মাতৃগর্ভে থাকতেই তা লিখে দেয়া হয়।
'আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে বিদায় হজ্জের সময় বের হয়েছিলাম। আমাদের কেউ ইহরাম বেধেছিল উমরার আর কেউ বেধেছিল হজ্জের। আমরা মক্কায় এসে পৌছলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ যারা উমরার ইহরাম বেধেছে কিন্তু কুরবানীর পশু সাথে আনেনি, তারা যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আর যারা উমরার ইহরাম বেধেছে ও কুরবানীর পশু সাথে এনেছে, তারা যেন কুরবানী করা পর্যন্ত ইহরাম না খোলে। আর যারা হজ্জের ইহরাম বেধেছে তারা যেন হজ্জ পূর্ণ করে। 'আয়িশা বলেনঃ অতঃপর আমার হায়েয শুরু হয় এবং আরাফার দিনেও তা বহাল থাকে। আমি শুধু উমরার ইহরাম বেধেছিলাম। নবী (ﷺ) আমাকে মাথার বেণী খোলার, চুল আচড়ে নেয়ার এবং উমরার ইহরাম ছেড়ে হজ্জের ইহরাম বাধার নির্দেশ দিলেন। আমি তাই করলাম। পরে হজ্জ সমাধা করলাম। অতঃপর আবদুর রহমান ইবন আবূ বক্র কে আমার সাথে পাঠালেন। তিনি আমাকে তান'ঈম হতে পূর্বের পরিত্যক্ত উমরার পরিবর্তে উমরা পালনের আদেশ করলেন।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনতে আবূ হুবায়শ এর ইস্তিহাযা হতো। তিনি এ বিষয়ে নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এ হচ্ছে রগের রক্ত, হায়েযের রক্ত নয়। সুতরাং হায়েয শুরু হলে সালাত ছেড়ে দেবে। আর হায়েয শেষ হলে গোসল করে সালাত আদায় করবে।
মু'আযাহ থেকে বর্ণিতঃ জনৈকা মহিলা 'আয়িশা কে বললেনঃ হায়েযকালীন কাযা সালাত পবিত্র হওয়ার পর আদায় করলে আমাদের জন্য চলবে কি-না? 'আয়িশা বললেনঃ তুমি কি হারূরিয়্যাহ? (খারিজীদের একদল) [১] আমরা নবী (ﷺ)-এর সময়ে ঋতুবতী হতাম কিন্তু তিনি আমাদের সালাত কাযার নির্দেশ দিতেন না। অথবা তিনি ['আয়িশা বলেনঃ আমরা তা কাযা করতাম না।
উম্মু সালামা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে একই চাদরের নীচে শায়িত অবস্থায় আমার হায়েয দেখা দিল। তখন আমি চুপিসারে বেরিয়ে এসে হায়েযের কাপড় পরে নিলাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে ডেকে নিয়ে তার চাদরের নীচে স্থান দিলেন। বর্ণনাকারী যায়নাব বলেনঃ আমাকে উম্মু সালামা এও বলেছেন যে, নবী (ﷺ) রোযা রাখা অবস্থায় তাকে চুমু খেতেন। [উম্মে সালামা আরও বলেন] আমি ও নবী (ﷺ) একই পাত্র হতে পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতাম।
উম্মু সালামা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ এক সময় আমি ও নবী (ﷺ) একই চাদরের নীচে শুয়েছিলাম। আমার হায়েয শুরু হলো। তখন আমি গোপনে বেরিয়ে গিয়ে হায়েযের কাপড় পরে নিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কি হায়েয আরম্ভ হয়েছে? আমি বললামঃ হ্যা। তিনি আমাকে ডেকে নিলেন এবং আমি তার সঙ্গে একই চাদরের নীচে শুয়ে পড়লাম।
হাফসা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা আমাদের যুবতীদের ঈদের সালাতে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ কালাফের মহলে এসে পৌছলেন এবং তিনি তার বোন হতে বর্ণনা করলেন। তার ভগ্নীপতি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে বারটি গায্ওয়াহ (বড় যুদ্ধ) –এ অংশ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেনঃ আমার বোনও তার সঙ্গে ছয়টি গায্ওয়ায় শরীক ছিলেন। সেই বোন বলেনঃ আমরা আহতদের পরিচর্যা ও অসুস্থদের সেবা করতাম। তিনি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমাদের কারো ওড়না না থাকার কারণে বের না হলে কোন অসুবিধা আছে কি? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তার সাথীর ওড়না তাকে পরিয়ে দেবে, যাতে সে ভাল মজলিস ও মুমিনদের দাওয়াতে শরীক হতে পারে। যখন উম্মু আতিয়্যা আসলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি নবী (ﷺ) হতে এরূপ শুনেছেন? উত্তরে তিনি বললেনঃ আমার পিতা তার জন্য কুরবান হোক। হ্যা, তিনি এরূপ বলেছিলেন। নবীর কথা আলোচিত হলেই তিনি বলতেন, "আমার পিতা তার জন্য কুরবান হোক।" আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, যুবতী, পর্দানশীন ও ঋতুবতী মহিলারা বের হবে এবং ভাল স্থানে ও মুমিনদের দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করবে। অবশ্য ঋতুবতী মহিলা ঈদগাহ হতে দূরে থাকবে। হাফসা বলেনঃ আমি জিজ্ঞেস করলাম ঋতুবতীও কি বেরুবে? তিনি বললেনঃ সে কি আরাফাতে ও অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না?
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনতু আবূ হুবায়শ নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমার ইস্তিহাযা হয়েছে এবং পবিত্র হচ্ছি না। আমি কি সালাত পরিত্যাগ করবো? নবী (ﷺ) বললেনঃ না, এ হলো রগ থেকে বের হওয়া রক্ত। তবে এরূপ হওয়ার পূর্বে যতদিন হায়েয হতো সে কয়দিন সালাত অবশ্যই পরিত্যাগ করো। তারপর গোসল করে নিবে ও সালাত আদায় করবে।
উম্মু আতিয়্যা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা মেটে ও হলুদ রং হায়েযের মধ্যে গণ্য করতাম না।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ উম্মু হাবীবাহ সাত বছর পর্যন্ত ইস্তিহাযায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাকে গোসলের নির্দেশ দিলেন এবং বললেনঃ এ রগ থেকে বের হওয়া রক্ত। অতঃপর উম্মু হাবীবা প্রতি সালাতের জন্য গোসল করতেন।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! সফিয়্যাহ বিনতু হুয়াইয়ের হায়েয শুরু হয়েছে। তিনি বললেনঃ সে তো আমাদেরকে আটকিয়ে রাখবে। সে কি তোমাদের সঙ্গে তাওয়াফে-যিয়ারত করেনি? তারা জবাব দিলেন, হ্যা করেছেন। তিনি বললেনঃ তা হলে বের হও।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ (তাওয়াফে যিয়ারতের পর) মহিলার হায়েয হলে তার চলে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে।
এর পূর্বে ইবন উমার বলতেনঃ সে যেতে পারবে না। তারপর তাকে বলতে শুনেছি যে, সে যেতে পারে। কারণ, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদের জন্য (যাওয়ার) অনুমতি দিয়েছিলেন।
আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ হায়েয দেখা দিলে সালাত ছেড়ে দাও আর হায়েযের সময় শেষ হয়ে গেলে রক্ত ধুয়ে নাও এবং সালাত আদায় কর।
সামুরাহ ইবন জুনদুব থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ একজন প্রসূতি মহিলা মারা গেলে নবী (ﷺ) তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। সালাতে তিনি মহিলার দেহের মাঝ বরাবর দাড়িয়েছিলেন।
আবদুল্লাহ ইবন শাদ্দাদ থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি আমার খালা নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী মাইমূনা হতে শুনেছি যে, তিনি হায়েয অবস্থায় সালাত আদায় করতেন না; তখন তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর সালাতের সিজদার জায়গায় সোজাসুজি শুয়ে থাকতেন। নবী (ﷺ) তার চাটাইয়ে সালাত আদায় করতেন। সিজদা করার সময় তার কাপড়ের অংশ আমার (মাইমূনাহ্র) শরীর স্পর্শ করতো।