বন্ধক (২৫০৮-২৫১৬)
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যবের বিনিময়ে তার বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন। আমি একবার নবী (ﷺ) -এর খিদমতে যবের রুটি এবং দুর্গন্ধ যুক্ত চর্বি নিয়ে গেলাম, তখন তাকে বলতে শুনলাম, মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর পরিবার পরিজনের কাছে কোন সকাল বা সন্ধ্যায় এক সা' এর অতিরিক্ত (কোন খাদ্য) দ্রব্য থাকে না। [আনাস বলেন] সে সময়ে তারা মোট নয় ঘর (নয় পরিবার) ছিলেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) জনৈক ইয়াহূদীর কাছ হতে নির্দিষ্ট মেয়াদে খাদ্য শস্য খরিদ করেন এবং নিজের বর্ম তার কাছে বন্ধক রাখেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কা'ব ইবন আশরাফকে হত্যা করার দায়িত্ব কে নিতে পারবে? আল্লাহ ও তার রাসূলকে সে তো কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামাহ তখন বললেন, আমি। পরে তিনি তার কাছে গিয়ে বললেন, আমরা তোমার কাছে এক ওয়াসাক অথবা বলেছেন, দু'ওয়াসাক (খাদ্য) ধার চাচ্ছি। সে বলল, তোমাদের মহিলাদেরকে আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, তুমি হলে আরবের সেরা সুন্দর ব্যক্তি। তোমার কাছে কিভাবে মহিলাদেরকে বন্ধক রাখতে পারি? সে বলল, তাহলে তোমাদের সন্তানদের আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, কিভাবে সন্তানদেরকে তোমার কাছে বন্ধক রাখি। পরে এই বলে তাদের নিন্দা করা হবে যে, দু' এক ওয়াসাকের জন্য তারা বন্ধক ছিল, এটা আমাদের জন্য হবে বিরাট কলঙ্ক। তার চেয়ে বরং আমরা তোমার কাছে আমাদের অস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি। তারপর তিনি তাকে পরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং (পরে এসে) তারা তাকে হত্যা করলেন এবং নবী (ﷺ) -এর কাছে এসে সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করলেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, বন্ধকী প্রাণীর উপর তার খরচ পরিমাণ আরোহণ করা যাবে। তদ্রূপ দুধেল প্রাণী বন্ধক থাকলে (খরচ পরিমাণ) তার দুধ পান করা যাবে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, বাহনের পশু বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে তাতে আরোহণ করা যাবে। তদ্রূপ দুধেল প্রাণী বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে দুধ পান করা যাবে। (মোট কথা) আরোহণকারী এবং দুধ পানকারীকেই খরচ বহন করতে হবে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক ইয়াহূদী হতে কিছু খাদ্যদ্রব্য কিনেছিলেন এবং তার কাছে নিজের বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন।
ইবন আবূ মুলাইকা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস-এর নিকট আমি (একবার বাদী বিবাদীর মতবিরোধ সম্পর্কে) লিখে পাঠালাম। তার জবাবে তিনি আমাকে লিখলেন, নবী (ﷺ) এই ফায়সালা দিয়েছেন যে, (বাদী সাক্ষী পেশ করতে ব্যর্থ হলে) কসম করা বিবাদীর কর্তব্য।
আবদুল্লাহ (ইবন মাসঊদ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিথ্যা কসম করে যে ব্যক্তি অর্থ-সম্পদ হস্তগত করে সে (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। তারপর আল্লাহ তাআলা [নবী (ﷺ) -এর] উক্ত বাণী সমর্থন করে আয়াত নাযিল করলেনঃ "নিশ্চই যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, তারা পরকালে কোন অংশ পাবে না আর কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাদের সাথে কথাও বলবেন না এবং তাদের প্রতি দৃষ্টিপাতও করবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না, আর তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে"- (আলে ইমরান ৭৭)। (রাবী বলেন) পরে আশ'আস ইবন কায়স আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আবূ আবদুর রহমান (ইবন মাসঊদ) তোমাদের কী হাদীস শুনালেন (রাবী বলেন), আমরা তাকে হাদীসটি শুনালে তিনি বললেন, তিনি নির্ভুল হাদীস শুনিয়েছেন। আমাকে কেন্দ্র করেই তো আয়াতটি নাযিল হয়েছিল। কুয়া (এর মালিকানা) নিয়ে আমার সাথে এক লোকের ঝগড়া চলছিল। পরে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর খিদমতে(বিরোধটি উত্থাপন করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (আমাকে) বললেন, তুমি দু'জন সাক্ষী উপস্থিত করবে, নতুবা সে হলফ করবে। আমি বললাম, তবে তো সে নির্দ্বিধায় হলফ করে বসবে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা হলফ করে অর্থ-সম্পদ হস্তগত করবে, সে (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। তিনি (আশ'আস) বলেন, তখন আল্লাহ তাআলা এর সমর্থনে আয়াত নাযিল করলেন। অতঃপর তিনি (আশ'আস) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন: "নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর অঙ্গীকারের বিনিময়ে সামান্য লাভ ক্রয় করে এবং তাদের শপথ... (প্রতি) ... তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি!' (আল ইমরান 3.77)
পূর্বের হাদিসের মতই (২৫১৫)।