bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আল্লাহর একত্ব (৭৩৭১-৭৫৬৩)

ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত- নবী (ﷺ) মুআয-কে ইয়ামানে প্রেরণ করেছিলেন।

ইবন আব্বাস এর মুক্ত গোলাম আবূ মাবাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস-কে বলতে শুনেছি, যখন নবী (ﷺ) মুআয ইবন জাবাল-কে ইয়ামান পাঠালেন, তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি আহলে কিতাবদের একটি কাওমের কাছে যাচ্ছ। অতএব, তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহবান হবে- তারা যেন আল্লাহর একত্ববাদকে মেনে নেয়। তারা তা জেনে নিলে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ দিনে রাতে তাদের প্রতি পাচ বার সালাত ফরজ করে দিয়েছেন। যখন তারা সালাত আদায় করবে, তখন তুমি তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের ধন-সম্পদে আল্লাহ তাদের প্রতি যাকাত ফরজ করেছেন। তা তাদেরই ধনশালীদের থেকে গ্রহণ করা হবে। আবার তাদের ফকীরদেরকে তা দেয়া হবে। যখন তারা স্বীকার করে নেবে, তখন তাদের থেকে গ্রহণ কর। তবে লোকজনের ধন-সম্পদের উত্তম অংশ গ্রহণ করা থেকে বেচে থাক।

মুআয ইবন জাবাল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বললেনঃ হে মুআয! তোমার কি জানা আছে, বান্দার উপর আল্লাহর হক কী? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ বান্দা আল্লাহর ইবাদাত করবে, তার সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না। (আবার তাকে জিজ্ঞেস করলেন) আল্লাহর উপর বান্দার হক কী তা কি তুমি জান? তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি [নবী (ﷺ)] বললেনঃ তা হল বান্দাদেরকে শাস্তি না দেয়া।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, এক লোক অন্য এক লোককে বারবার 'ইখলাস' সূরা তিলাওয়াত করতে শুনল। সকাল বেলা লোকটি নবী (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তার নিকট এ বিষয়টি উল্লেখ করল; লোকটি যেন সূরা ইখ্লাসের গুরুত্বকে কম করছিল। এই প্রেক্ষিতে নবী (ﷺ) বললেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জীবন, তার কসম করে বলছি! এ সূরাটি অবশ্যই কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক সাহাবীকে একটি মুজাহিদ দলের প্রধান করে অভিযানে পাঠালেন। সালাতে তিনি যখন তার সাথীদের নিয়ে ইমামত করতেন, তখন ইখ্লাস সূরাটি দিয়ে সালাত শেষ করতেন। তারা যখন অভিযান থেকে ফিরে আসল তখন নবী (ﷺ)-এর খেদমতে ব্যাপারটি আলোচনা করলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকেই জিজ্ঞেস করে কেন সে এ কাজটি করেছে? এরপর তারা তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিলেন, এ সূরাটির আল্লাহ তাআলার গুণাবলী রয়েছে। এ জন্য সূরাটিতে পড়তে আমি ভালোবাসি। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাকে ভালবাসেন।

জারীর ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তার প্রতি রহম করেন না, যে মানুষের প্রতি রহম করে না।

উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম। এমন সময় নবী (ﷺ)-এর কোন এক কন্যার পক্ষ থেকে একজন সংবাদবাহক এসে তাকে জানাল যে, তার মেয়ের পুত্রের মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। নবী (ﷺ) সংবাদবাহককে বলে দিলেন, তুমি ফিরে যাও এবং তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ যা নিয়ে নিয়েছেন এবং তিনি যা দিয়ে রেখেছেন সবেরই তিনি মালিক। তার কাছে প্রতিটি জিনিসের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট। কাজেই তাকে গিয়ে ধৈর্য ধরতে এবং প্রতিফল পাওয়ার আশা করতে বল। নবী (ﷺ)-এর মেয়ে আবার সংবাদ বাহককে পাঠালেন। সে এসে বলল, আপনাকে তার কাছে যাবার জন্য তিনি কসম দিয়ে বলেছেন। এরপর নবী (ﷺ) যাওয়ার জন্য দাড়ালেন, তার সঙ্গে সাদ ইবন উবাদাহ, মুআয ইবন জাবাল-ও দাড়ালেন। এরপর শিশুটিকে নবী (ﷺ)-এর নিকট দেয়া হল। তখন শিশুটির শ্বাস এভাবে দুর্বল হয়ে আসছিল, যেন তা একটি মশ্কে আছে। তখন নবী (ﷺ)-এর চোখ ভিজে গেল। সাদ ইবন উবাদাহ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (এটা কী?) তিনি বললেনঃ এটিই রহম- দয়ামায়া, যা আল্লাহ তার বান্দাদের অন্তরে সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আল্লাহ তার রহম-দিল বান্দাহদের উপরই দয়া করে থাকেন।

আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এমন কেউই নেই যে দুখঃ কষ্টদায়ক কিছু শোনার পর, সে ব্যাপারে আল্লাহর চেয়ে বেশি সবর করতে পারে। লোকেরা আল্লাহর সন্তান আছে বলে দাবী করে, কিন্তু এর পরেও তিনি তাদেরকে শান্তিতে রাখেন এবং রিযিক দেন।

উমার সূত্রে নবী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ গায়িবের চাবি পাচটি, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। (১) মায়ের পেটে কী লুকিয়ে আছে তা জানেন একমাত্র আল্লাহ। (২) আগামীকাল কী ঘটবে তাও জানেন একমাত্র আল্লাহ। (৩) বৃষ্টিপাত কখন হবে তাও আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। (৪) কে কোন ভূমিতে মারা যাবে তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। (৫) কিয়ামত কখন ঘটবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ (ﷺ) স্বীয় রবকে দেখেছেন, সে মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ বলছেন, চোখ তাকে দেখতে পায় না। আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ (ﷺ) গায়েব জানেন, সেও মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ বলেন, গায়িব জানেন একমাত্র আল্লাহ।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ)-এর পেছনে সালাত আদায় করতাম তখন আমরা বলতাম, আল্লাহর উপর সালাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তো নিজেই সালাম। হা, তোমরা বল, "আত-তাহিয়াতু লিল-লাহি ওয়াস-সালা-ওয়াতু ওয়াত্তাইয়্যিবাতু, আস-সালামু আলাইকা আইয়্যুহা-ন-নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতু-ল-লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আস-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদি-ল-লাহি আস-সালিহীন। আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়া আশ-হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।" (মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক সকল ইবাদাত একমাত্র আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বারাকাত অবতীর্ণ হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ (ﷺ) তার বান্দা ও তার রাসূল।)

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ কিয়ামতের দিন পৃথিবী আপন মুঠোয় ধারণ করবেন এবং আসমানকে তার ডান হাতে গুটিয়ে নিয়ে বলবেনঃ আমিই একমাত্র অধিপতি। দুনিয়ার বাদশাহরা কোথায়?

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ঐ কথা বলে দোয়া করতেনঃ আমি আপনার ইয্যতের আশ্রয় চাচ্ছি, আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আর আপনার কোন মৃত্যু নেই। অথচ জ্বিন ও মানুষ সবই মরণশীল।

আনাস সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ লোকদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। খালীফা ও মুতামির আনাস সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জাহান্নামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হতে থাকবে। তখন জাহান্নাম বলতে থাকবে আরো বেশি আছে কি? আর শেষে আল্লাহ রাববুল আলামীন, তার কদম জাহান্নামে রাখবেন। তখন এর এক অংশ অন্য অংশের সঙ্গে মিশে স্থির হতে থাকবে। আর বলবে আপনার ইয্যত ও করমের কসম! যথেষ্ট হয়েছে। জান্নাতের কিছু জায়গা শূন্য থাকবে। অবশেষে আল্লাহ সেই শূন্য জায়গার জন্য নতুন কিছু মাখলুক সৃষ্টি করবেন এবং জান্নাতের সেই খালি জায়গায় এদের বসতি করে দেবেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রাত্রিকালে এ দোয়া করতেনঃ হে আল্লাহ! আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আসমান এবং যমীনের প্রতিপালক! আপনারই সব প্রশংসা। আপনি সব আসমান ও যমীন এবং এগুলোর মধ্যকার সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। আপনারই সব প্রশংসা। আসমানসমূহ এবং যমীনের নূর আপনিই। আপনার বাণীই সত্য। আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য। সত্য আপনার মুলাকাত। জান্নাত সত্য। জাহান্নাম সত্য। কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আপনারই প্রতি আমি নিবেদিত। আপনার প্রতিই আমি ঈমান এনেছি। একমাত্র আপনারই ওপর ভরসা করেছি। আপনার কাছে ফিরে এসেছি। আপনারই সাহায্যে দুশমনের মুকাবিলা করেছি। (হক ও বাতিলের ফায়সালা) আপনারই উপর ন্যস্ত করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে মাফ করে দিন, মাফ করে দিন আমার আগের এবং পরের গুনাহ, যা আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে করেছি এবং আপনি আমার ইলাহ, আপনি ছাড়া আমার কোন ইলাহ নেই। সুফ্ইয়ান এ রকম বর্ণনা করেছেন। তবে এতে বর্ণিত আছে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আপনিই সত্য এবং আপনার বাণীই সত্য।

আবু মূসা থেকে বর্ণিতঃ আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সফরে ছিলাম এবং যখনই আমরা কোন উচু স্থানে উঠতাম তখনই বলতাম, 'আল্লাহু আকবার'। নবী (ﷺ) বললেন, "তোমরা নিজেদেরকে খুব বেশি কষ্ট দিও না! তোমরা বধির বা অনুপস্থিত ব্যক্তিকে ডাকছ না, বরং তোমরা এমন একজনকে ডাকছ যিনি শোনেন, দেখেন এবং খুব কাছেই আছেন।" অতঃপর তিনি আমার কাছে এলেন যখন আমি মনে মনে বলছিলাম, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াত্তা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি বা ক্ষমতা নেই)। তিনি আমাকে বললেন, "হে আবদুল্লাহ ইবনে কায়স! বলুন, 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি বা ক্ষমতা নেই), কারণ এটি জান্নাতের ভান্ডারের একটি।' অথবা বললেন, "আমি কি তোমাকে এর কথা বলব?"

আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত। আবূ বকর সিদ্দীক নবী (ﷺ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা দিয়ে আমি আমার সালাতে দোয়া করতে পারি। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি বল, 'আল্লাহহুম্মা ইন্নি....' (দোয়া মাসুরা), হে আল্লাহ! আমি আমার নফসের ওপর খুব বেশি যুলম করেছি। আপনি ব্যতীত আমার গুনাহ ক্ষমা করার কেউই নেই। কাজেই আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনিই অতি ক্ষমাপরায়ণ ও দয়াবান।

পূর্বের হাদিসের মতই (৭৩৮৭)।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জিব্রীল আমাকে ডাক দিয়ে বললেন, আল্লাহ আপনার কওমের লোকেদের কথা শুনেছেন এবং তারা আপনাকে যে জবাব দিয়েছে তাও তিনি শুনেছেন।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ সালামী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সহাবাগণকে সকল কাজে এভাবে ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি তাদের কুরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যখন কোন কাজ করার ইচ্ছা করে, তখন সে যেন দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করে নেয়। তারপর এ বলে দোয়া করে, হে আল্লাহ! আমি আপনারই ইল্মের সাহায্যে মঙ্গল তলব করছি। আর আপনারই কুদরতের সাহায্যে আমি শক্তি অন্বেষণ করছি। আর আপনারই অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। কেননা, আপনিই শক্তি রাখেন, আমি কোন শক্তি রাখি না। আপনিই সব কিছু জানেন, আমি কিছুই জানি না। গায়িবী বিষয়াদির বিশেষজ্ঞ একমাত্র আপনি। এরপর সালাত আদায়কারী মনে মনে স্বীয় উদ্দেশ্য উল্লেখ করে বলবে, হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে, এ কাজটি আমার জন্য বর্তমানে ও ভবিষ্যতে মঙ্গলজনক- বর্ণনাকারী বলেন, কিংবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ স্থানে বলেছেনঃ আমার দ্বীন-দুনিয়া ও পরিণামের ক্ষেত্রে কল্যাণকর, তাহলে আমার জন্য তা নির্ধারণ করে নিন এবং তা আমার জন্য সহজ করে দিন, আর আমার জন্য এতে বরকত দিন। হে আল্লাহ! আর যদি আপনি জানেন যে, এটি আমার দ্বীন, দুনিয়া ও পরিণামের ক্ষেত্রে অথবা আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের ব্যাপারে অমঙ্গলজনক, তবে তাথেকে অমাকে বিরত রাখুন। আর আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন যেখানেই হয় অতঃপর আমাকে সন্তুষ্ট রাখুন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) অধিকাংশ সময় কসম করতেন এ কথা বলে- না, তার কসম, যিনি অন্তরসমূহ পরিবর্তন করে দেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলার নিরানব্বইটি এক কম একশ'টি নাম আছে। যে ব্যক্তি এগুলো মুখস্থ করে রাখবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা কেউ বিছানায় গেলে তখন যেন সে তার কাপড়ের আচল দিয়ে তা তিনবার ঝেড়ে নেয়। আর বলে, হে আমার প্রতিপালক! একমাত্র তোমারই নামে আমার শরীরের পার্শ্বদেশ বিছানায় রাখলাম এবং তোমারই সাহায্যে আবার তা উঠাব। তুমি যদি আমার জীবন আটকে রাখ, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দিবে। আর যদি তা ফিরিয়ে দাও, তাহলে তোমার নেককার বান্দাদেরকে যেভাবে হিফাযত কর, সেভাবে তার হিফাযাত করবে।

হুযাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন আপন বিছানায় যেতেন, তখন বলতেন- হে আল্লাহ! আমি তোমারই নামে মৃত্যুবরণ করি, আবার তোমারই নামে জীবিত হই। আবার ভোর হলে বলতেনঃ সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর (ঘুমের) পর জীবিত করেছেন এবং তারই কাছে সমবেত হতে হবে।

আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রাতে যখন তার বিছানায় যেতেন তখন বলতেনঃ আমরা তোমারই নামে মৃত্যুবরণ করি ও জীবিত হই এবং তিনি যখন জাগতেন তখন বলতেনঃ সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবিত করেন এবং তারই কাছে সমবেত হতে হবে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন স্ত্রীর সাথে যৌন মিলন করার ইচ্ছা করে এবং সে বলে: "আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদের যা দান করবেন (সন্তান) তাথেকে শয়তানকে দূরে রাখুন। অতঃপর তাদের সন্তান হলে (সেই মিলনের কারণে) শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম- আমি আমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছেড়ে দেই। নবী (ﷺ) বললেনঃ যখন তুমি আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরগুলো ছেড়ে দাও এবং যদি সে কোন শিকার ধরে আনে, তাহলে তা খাও। আর যদি তীক্ষ্ম তীর নিক্ষেপ কর এবং এতে যদি শিকারের দেহ ফেড়ে দেয়, তবে তা খাও।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখানে এমন কতকগুলো সম্প্রদায় আছে, যারা সবে মাত্র শিরক ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তারা আমাদের জন্য গোশ্ত নিয়ে আসে। সেগুলো যবাই করার কালে তারা আল্লাহর নাম নেয় কিনা তা আমরা জানি না। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে নেবে এবং তা খাবে।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বিস্মিল্লাহ পড়ে এবং তাকবীর বলে দু'টি ভেড়া কুরবানী করেছেন।

জুনদাব ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি কুরবানীর দিন নবীর কাছে উপস্থিত ছিলেন। নবী (ﷺ) সালাত পড়লেন। অতঃপর খুত্বাহ দিলেন এবং বললেনঃ সালাত পড়ার আগে যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু জবাই করেছে, সে যেন তদস্থলে আরেকটি পশু য্বহ করে। আর যে ব্যক্তি (সালাতের আগে) জবাই করেনি সে যেন আল্লাহর নামে জবাই করে।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না। যে ব্যক্তি কসমকারী হবে সে যেন আল্লাহর নামেই কসম করে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দশজন সাহাবীর একটি দল পাঠালেন। তাদের মধ্যে খুবায়ব আনসারী-ও ছিলেন। বর্ণনাকারী ইমাম যুহরী বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবন আয়ায আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হারিসের কন্যা তাকে জানিয়েছে, যখন খুবায়ব-কে হত্যা করার জন্য তারা সবাই সমবেত হল, তখন খুবায়ব পাক-সাফ হবার জন্য তার থেকে একখানা ক্ষুর চেয়ে নিলেন। আর যখন তারা খুবায়বকে হত্যা করার জন্য হারামের বাইরে নিয়ে গেল, তখন খুবায়ব আনসারী কবিতা পাঠ করে বললেনঃ "মুসলিম হবার কারণেই যখন আমাকে হত্যা করা হচ্ছে, তখন আমার কোন আফসোস নেই। যে পার্শ্বে ঢলে পড়ি না কেন, আল্লাহর জন্যই আমার এ মৃত্যু। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আমার এ জীবন দান। যদি তিনি চান তবে আমার কর্তিত অঙ্গরাজির প্রতিটি টুকরায় তিনি বরকত দেবেন।" এরপর হারিসের ছেলে তাকে শহীদ করল। তাদের সে বিপদের খবরটি নবী (ﷺ) তার সহাবাগণকে সেদিনই জানিয়ে দিয়েছিলেন।

আবদুল্লাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন আর কেউ নেই। এই কারণেই তিনি অশ্লীলতাকে হারাম করে দিয়েছেন। এমন কেউ নেই যে, আত্মপ্রশংসা আল্লাহর চেয়ে বেশি ভালবাসে।

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ যখন মাখলূক সৃষ্টি করলেন,তখন তা তার কিতাবে লিখলেন এবং তিনি আপন সত্তা বিষয়ে লিখছেন, যা তার কাছে আরশের উপর রক্ষিত আছে, 'আমার রহমত আমার গযবকে পরাভূত করেছে।'

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ ঘোষণা করেন, আমি সে রকমই, যে রকম বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি বান্দার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে জন-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, তবে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দু' হাত এগিয়ে যাই। আর সে যদি আমার দিকে হেটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হলঃ "হে নবী আপনি বলে দিন তোমাদের উপর থেকে তোমাদের ওপর শাস্তি পাঠাতে তিনিই সক্ষম"- (আনআম ৬/৬৫)। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার সত্তার সাহায্যে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ তখন বললেনঃ "কিংবা তোমাদের পায়ের নীচ হতে; তখন নবী (ﷺ) বললেন, আমি আপনার সত্তার সাহায্যে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ বললেনঃ কিংবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে ভাগ করে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এটি অপেক্ষাকৃত সহজ।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তোমাদের কাছে গোপন থাকবেন না। আল্লাহ অন্ধ নন। এর সঙ্গে নবী (ﷺ) তার হাত দিয়ে স্বীয় চোখের দিকে ইশারা করলেন। মাসীহ দাজ্জালের ডান চোখ কানা। তার চোখটি যেন আংগুরের মত ভাসমান।

আনাস ইবন মালিক সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ এমন কোন নবী পাঠাননি যিনি তার জাতিকে কানা মিথ্যুকটির ব্যাপারে সতর্ক করেননি। সে কানা (দাজ্জাল)। আর তোমাদের প্রতিপালক কানা নন। তার দু'চোখের মাঝখানে 'কাফির' লেখা থাকবে।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বানী মুসতালিক যুদ্ধ বিষয়ে বর্ণনা করেন যে, মুসলিমগণ যুদ্ধে কতকগুলো বন্দিনী লাভ করলেন। এরপর তারা এদেরকে ভোগ করতে চাইলেন। আবার তারা যেন গর্ভবতী হয়ে না পড়ে সে ইচ্ছাও তারা করছিলেন। তাই তারা নবী (ﷺ)-কে আযল বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ এতে তোমাদের কোন লাভ নেই। কারণ আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত যত জীবন সৃষ্টি করবেন, তা সবই লিখে রেখেছেন। মুজাহিদ কাযআ-এর মাধ্যমে আবূ সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যত জীবন সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তা সৃষ্টি করবেনই।

আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদেরকে একত্রিত করবেন, তখন তারা বলবে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে কোন সুপারিশ যদি নিয়ে যেতাম তাহলে তিনি আমাদেরকে এ স্থান থেকে বের করে শান্তি প্রদান করতেন। এরপর তারা আদম-এর কাছে গিয়ে বলবে, হে আদম! আপনি কি মানুষের অবস্থা দেখছেন না? অথচ আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। আপনাকে তিনি তার ফেরেশ্তাগণ দিয়ে সিজদা করিয়েছেন। আর আপনাকে সব জিনিসের নাম শিখিয়েছেন। কাজেই আপনি আমাদের রবেবর কাছে সুপারিশ করুন, যেন এ স্থান থেকে আমাদেরকে তিনি স্বস্তি দেন। আদম তখন বলবেন, এ কাজের জন্য আমি উপযুক্ত নই। এবং আদম তাদের কাছে নিজের ভুলের কথা স্মরণ করবেন এবং বলবেন, তোমরা বরং নূহ্-এর কাছে যাও। যেহেতু তিনিই আল্লাহর প্রথম রাসূল। যাকে তিনি যমীনবাসীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। তারা নূহ্-এর কাছে আসবে। তিনিও বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই। তিনি তার কৃত ভুলের কথা মনে করে বলবেন, তোমরা বরং আল্লাহর খলীল ইব্রাহীম-এর কাছে যাও। তখন তারা ইব্রাহীম-এর কাছে আসবে। তিনিও তাদের কাছে স্বীয় ভুলের কথা উল্লেখ করে বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই। তোমরা বরং মূসা-এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা যাকে আল্লাহ তাওরাত দিয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে তিনি সরাসরি কথা বলেছিলেন। তারা তখন মূসা-এর কাছে আসবে। মূসা-ও বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের যোগ্য নই। তাদের কাছে তিনি নিজের ভুলের কথা উল্লেখ করে বলবেন, তোমরা বরং ঈসা-এর কাছে যাও। যিনি আল্লাহর বান্দা, তার রাসূল, কালেমা ও রূহ্। তখন তারা ঈসা-এর কাছে আসবে। তখন ঈসা বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই। তোমরা বরং মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা, যার আগের ও পরের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে। তারা সবাই আমার কাছে আসবে। আমি তখন আমার রবেবর কাছে অনুমতি চাইব। আমাকে এর অনুমতি দেয়া হবে। আমি আমার রববকে যখন দেখতে পাব, তখনই আমি তার সামনে সিজদায় পড়বো। আল্লাহ তার মরজী অনুসারে যতক্ষণ আমাকে সেভাবে রাখার রেখে দেবেন। তারপর আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, গ্রহণ করা হবে। তখন আমার রবেবর শিখিয়ে দেয়া প্রশংসার দ্বারা আমি তার প্রশংসা করব। তারপর আমি শাফা'আত করব। আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। এরপর আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। তারপর আমি ফিরে আসব। যখন আমি আমার প্রতিপালককে দেখতে পাব তখন তার জন্য সিজদায় পড়ে যাব। আল্লাহর মরজী মোতাবেক যতক্ষণ আমাকে এভাবে রাখতে চাইবেন রেখে দেবেন। তারপর আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, গ্রহণ করা হবে। তখন আমার রবেবর শিখিয়ে দেয়া প্রশংসার দ্বারা আমি তার প্রশংসা করব এবং সুপারিশ করব। তখনো আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা হবে। আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। তারপর আমি আবার ফিরে আসব। আমি এবারও আমার প্রতিপালককে দেখামাত্র সিজদায় পড়ে যাব। আল্লাহ তাআলা তার মরজী মোতাবেক যতক্ষণ ইচ্ছা আমাকে ঐ অবস্থায় রাখবেন। তারপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, কবুল করা হবে। তখন আমার রবেবর শেখানো প্রশংসার দ্বারা প্রশংসা করে শাফাআত করব। তখনও আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা থাকবে। আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। অতঃপর আমি তার কাছে ফিরে গিয়ে বলব, হে আমার রবব! এখন একমাত্র তারাই জাহান্নামে বাকী আছে, যাদেরকে কুরআন আটক করে রেখে দিয়েছে। এবং যাদের উপর স্থায়ীভাবে জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গিয়েছে। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পড়েছে, আর তার দিলে একটি যবের ওজন পরিমাণ ঈমান আছে, তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তারপর বের করা হবে জাহান্নাম থেকে তাদেরকেও, যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পড়েছে এবং তার দিলে একটি গমের ওযন পরিমাণ ঈমান আছে। জাহান্নাম থেকে (সর্বশেষে) তাকে বের করা হবে, যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পড়েছে এবং তার দিলে অণু পরিমাণ মাত্র ঈমান আছে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর হাত পূর্ণ, রাতদিন খরচ করলেও তাতে কমতি আসে না। তিনি আরো বলেছেনঃ তোমরা কি দেখেছ? আসমান যমীন সৃষ্টি করার পর থেকে তিনি যে কত খরচ করেছেন, তা সত্ত্বেও তার হাতে যা আছে, তাতে এতটুকু কমেনি। এবং নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তখন তার আরশ পানির উপর ছিল। তার অন্য হাতে আছে দাড়িপাল্লা, যা কখনও তিনি নিচে নামান আবার কখনও উপরে উঠান।

ইবন উমার সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ কিয়ামতের দিন পৃথিবীটা তার মুঠোতে নিয়ে নেবেন। আসমানকে তার ডান হাতে গুটিয়ে নিয়ে বলবেন; বাদশাহ্ একমাত্র আমিই।

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ যমীনকে তার মুঠোয় নিয়ে নেবেন।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, এক ইয়াহূদী নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ কিয়ামতের দিনে আসমানগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, যমীনগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, পর্বতগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, গাছগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর এবং বাকী সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলের ওপর তুলে বলবেন, বাদশাহ্ একমাত্র আমিই। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে দিলেন। এমনকি তার মাড়ির দাত পর্যন্ত প্রকাশিত হল। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ তারা আল্লাহ তাআলার যথোচিত মর্যাদা উপলব্ধি দেয়নি। (39.67)

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাবদের এক লোক নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, হে আবুল কাসিম! (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ আসমানগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, যমীনগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, বৃক্ষ ও কাদামাটিকে এক আঙ্গুলের ওপর এবং বাকি সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলের ওপর তুলে বলবেন, বাদশাহ্ একমাত্র আমিই, বাদশাহ্ একমাত্র আমিই। বর্ণনাকারী বলেন, আমি দেখতে পেলাম নবী (ﷺ) হেসে ফেললেন। এমনকি তার মাড়ির দাতগুলো প্রকাশিত হয়ে পড়ল। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ আর তারা আল্লাহ তাআলার যথাযোগ্য মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারে নি।

মুগীরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সাদ ইবন উবাদাহ বললেন, আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পুরুষকে যদি দেখি, তাকে সরাসরি তরবারি দিয়ে হত্যা করব। এ কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে পৌছলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি সাদের আত্মমর্যাদাবোধ দেখে বিস্মিত হচ্ছ? আল্লাহর শপথ! আমি তার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আর আল্লাহ আমার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আল্লাহ আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন হবার কারণে প্রকাশ্য ও গোপনীয় (যাবতীয়) অশ্লীলতাকে হারাম করে দিয়েছেন। অক্ষমতা প্রকাশকে আল্লাহর চেয়ে অধিক পছন্দ করেন এমন কেউই নেই। আর এজন্য তিনি ভীতি প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদাতাদেরকে পাঠিয়েছেন। আত্মপ্রশংসা আল্লাহর চেয়ে অধিক কারো কাছে প্রিয় নয়। তাই তিনি জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন।

সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) একজনকে বললেন, তোমার কাছে কুরআনের কোন বস্তু আছে কি? তিনি বললেন, হ্যা, অমুক সূরাহ অমুক সূরাহ। তিনি সূরাহগুলোর নাম বলেছিলেন।

ইমরান ইবন হুসায়ন হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় তার কাছে বনূ তামীম-এর গ্রোত্রটি আসল, নবী (ﷺ) তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে বনূ তামীম। তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। উত্তরে তারা বলল, আপনি আমাদেরকে শুভ সংবাদ যখন দিচ্ছেন, তাহলে কিছু দান করুন। এ সময় ইয়ামানবাসী কতিপয় লোক নবী (ﷺ)-এর সেখানে উপস্থিত হল। নবী (ﷺ) তাদেরকে বললেনঃ হে ইয়ামানবাসী! তোমাদের জন্য সুসংবাদ। বনূ তামীম তা গ্রহণ করল না। তারা বলল, আমরা গ্রহণ করলাম শুভ সংবাদ। যেহেতু আমরা আপনার কাছে এসেছি দ্বীনী জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে এবং জিজ্ঞেস করার জন্য এসেছি যে, এ দুনিয়া সৃষ্টির আগে কী ছিল? নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তখন ছিলেন, তার আগে আর কিছুই ছিল না। তার আরশ তখন পানির ওপর ছিল। অতঃপর তিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করলেন। এবং লাওহে মাফফুযে সব বস্তু সম্পর্কে লিখে রাখলেন। রাবী বলেন, এরপর আমার কাছে এক লোক এসে বলল, হে ইমরান! তোমার উটনী পালিয়ে গিয়েছে, তার খবর লও। আমি উটনীর খোজে চললাম। দেখলাম, উটনী মরীচিকার আড়ালে আছে। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি! আমার মন চাচ্ছিল উটনী চলে যায় যাক তবুও আমি মজলিস ছেড়ে যেন না উঠি।

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহর ডান হাত পূর্ণ, রাত দিনের খরচেও তা কমে না। তোমরা ভেবে দেখেছ কি? আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টির সূচনা থেকে তিনি কত খরচ করে যাচ্ছেন, তবুও তার ডান হাতের কিছুই কমেনি। তার আরশ পানির ওপর আছে। তার অন্য হাতে আছে দেয়া আর নেয়া। তা তিনি উঠান ও নামান।

আনাস থেকে বর্ণিত: যায়েদ ইবন হারিছা রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তার স্ত্রীর ব্যাপারে অভিযোগ করতে আসেন। নবী (ﷺ) বলতে থাকলেন, আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার স্ত্রীকে রেখে দাও। আয়েশা বলেন, "আল্লাহর রসূল (ﷺ) যদি (কোরআনের) কিছু গোপন করতেন তবে তিনি এই আয়াতটি লুকিয়ে রাখতেন।" জয়নব রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রীদের সামনে গর্ব করতেন এবং বলতেন, "তোমাদেরকে বিয়ে দিয়েছে তোমাদের পরিবার-পরিজন, অথচ আল্লাহ স্বয়ং আমাকে সাত আসমানের উপরে (নবীর সাথে) বিয়ে দিয়েছেন।" এবং থাবিত পাঠ করলেন, "আয়াত:- 'তুমি তোমার অন্তরে লুকিয়ে রাখছিলে যা আল্লাহ প্রকাশ করতে চান, তুমি লোকদেরকে ভয় করছিলে, অথচ আল্লাহই সবচেয়ে বেশি এ অধিকার রাখেন যে, তুমি তাকে ভয় করবে।' (33.37) জয়নব এবং যায়েদ ইবন হারিসার সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল।"

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যাইনাব বিন্ত জাহাশ-কে উপলক্ষ করে পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়। নবী (ﷺ) যায়নাবের সঙ্গে তার বিবাহ উপলক্ষে ওয়ালিমা হিসাবে সেদিন রুটি ও গোশত খাইয়েছিলেন। নবী (ﷺ) এর স্ত্রীদের উপর যাইনাব গর্ব করে বলতেন, আল্লাহ স্বয়ং আমাকে সাত আসমানের উপরে (নবীর সাথে) বিয়ে দিয়েছেন।

আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ যখন সকল মাখলূক সৃষ্টি করার কাজ শেষ করলেন, তখন তার আরশের ওপর তারই কাছে লিখে রাখলেন, 'আমার রহমত আমার গযব থেকে এগিয়ে গেছে।'

আবূ হুুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ইমান আনে, সালাত কায়িম করে, রমযান মাসের সওম পালন করে, আল্লাহ তার সম্পর্কে এ দায়িত্ব নিয়েছেন যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সে আল্লাহর রাস্তায় হিজরাত করুক কিংবা তার জন্মভূমিতে অবস্থান করুক। সাহাবীগণ বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই বিষয়টি আমরা লোকদের জানিয়ে দেব না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ অবশ্যই, জান্নাতে একশ'টি (মর্যাদার) স্তর রয়েছে। এগুলো আল্লাহ তার রাস্তায় জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। প্রতি দু'টি স্তরের মাঝে আসমান ও যমীনের দূরত্ব বিদ্যমান। কাজেই যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন ফিরদাওস জান্নাত চাইবে। কারণ, সেটি হচ্ছে সবচেয়ে প্রশস্ত ও সবচেয়ে উচ্চ জান্নাত। আর দয়ালু (আল্লাহর) আরশটি এরই ওপর অবস্থিত। এই ফিরদাওস থেকেই জান্নাতের ঝর্ণাগুলো প্রবাহিত।

আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে নাবাবীতে প্রবেশ করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন। যখন সূর্য অস্ত গেল, তিনি বললেনঃ হে আবূ যার! তোমার কি জানা আছে, এ সূর্য কোথায় যাচ্ছে? আবূ যার বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই সবচেয়ে অধিক জানেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ সূর্য যাচ্ছে এবং অনুমতি চাচ্ছে সিজদা করার জন্য। তারপর সিজদার জন্য তাকে অনুমতি দেয়া হয়। একদিন তাকে নির্দেশ দেয়া হবে, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও। তখন সে তার অস্তের জায়গা থেকে উদিত হবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিলাওয়াত করলেন, "আর সূর্য তার জন্যে নির্দিষ্ট করে দেয়া জায়গায় গতিশীল," (36.38) আবদুল্লাহ-এর কিরাআত অনুসারে।

যায়দ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর আমার কাছে লোক পাঠালেন। তাই আমি কুরআনের বিভিন্ন অংশ খোজ করতে লেগে গেলাম। শেষে সূরা তাওবার শেষের অংশ একমাত্র আবূ খুযাইমাহ আন্সারী ছাড়া আর কারো কাছে পেলাম না। আর তা হচ্ছে: "তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের নিকট একজন রসূল এসেছেন, তোমাদেরকে যা কিছু কষ্ট... (9:128-129)"

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুঃখ কষ্টের সময় নবী (ﷺ) দোয়া করতেন এ বলেঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই। যিনি সর্বজ্ঞ ও ধৈর্যশীল। তিনি ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই, তিনি মহান আরশের রব। তিনি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, তিনি আসমান-যমীনের রব এবং সম্মানিত আরশের রব।

আবূ সাঈদ খুদরী সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সব মানুষ বেহুঁশ হয়ে পড়বে। (আমার হুঁশ ফিরলে) তখন আমি মূসা-কে আরশের একটি পায়া ধরে দাড়ানো দেখতে পাব।

বর্ণনাকারী মাজিশুন আবদুল্লাহ ইবন ফাজল ও আবূ সালামাহর মাধ্যমে আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি সবচেয়ে আগে পুনরায় উঠব। তখন দেখব, মূসা আরশ ধরে আছেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কাছে রাত ও দিনে ফেরেশতারা পালাক্রমে আসে। আর তারা একত্রিত হন আসর ও ফজরের সালাতে। তারপর যারা তোমাদের মাঝে রাত কাটিয়েছেন তারা উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন- অথচ তিনি তোমাদের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত- কেমন অবস্থায় আমার বান্দাদেরকে তোমরা ছেড়ে এসেছ? তারা তখন উত্তর দেবে, আমরা ওদেরকে সালাত আদায়রত অবস্থায় রেখে এসেছি, প্রথম গিয়েও আমরা ওদেকে সালাতে পেয়েছিলাম।

খালিদ ইবন মাখলাদ ... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক তার হালাল ও পবিত্র উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণও দান করে, আল্লাহ তা তার ডান হাত দ্বারা কবূল করেন। আর পবিত্র ও হালাল বস্ত্ত ব্যতীত আল্লাহর দিকে কোন কিছু আগে গিয়ে পৌছে না। তারপর এটি তার মালিকের জন্য লালন-পালন ও পরিচর্যা করতে থাকে, তোমরা যেমন ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন পালন করতে থাক। অবশেষে তা পর্বতের মত বিরাট আকার ধারণ করে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, দুঃখ-বেদনার সময় নবী (ﷺ) এ বলে দোয়া করতেনঃ মহান ও ধৈর্যশীল আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, মহান আরশের প্রতিপালক আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, আসমানসমূহের মালিক এবং মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ)-এর নিকট অল্প কিছু সোনা পাঠানো হলে তিনি চারজনকে ভাগ করে দেন। ইসহাক ইবন নাসর .. আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আলী ইয়ামানে অবস্থানকালে নবী (ﷺ)-এর কাছে কিছু মাটি মেশানো সোনা পাঠিয়েছিলেন। নবী (ﷺ) বনূ মুজাশি গোত্রের আক্রা ইবন হাবিস হানযালী, 'উয়াইনাহ ইবন হিসন ইবন বাদ্র ফাযারী, আলক্বামাহ ইবন উলাছা আমিরী ও বনূ কিলাবের একজন এবং বনু নাবহান গোত্রের যায়দ আল খায়ল তাঈর মধ্যে তা বেটে দেন। এ কারণে কুরাইশ ও আনসারগণ অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, নবী (ﷺ) নাজদবাসী সরদারদেরকে দিচ্ছেন। আর আমাদেরকে বঞ্চিত করছেন। এ প্রেক্ষিতে নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি তাদের অন্তর জয়ের চেষ্টা করছি। তখন কোটরাগত চোখ, উচ্চ কপাল, বেশি দাড়ি, উচ্চ চোয়াল ও মুন্ডানো মাথা ওয়ালা এক লোক সামনে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহকে ভয় কর। নবী (ﷺ) বললেনঃ আমিই যদি তার নাফরমানী করি, তবে তার অনুগত হবে আর কে? আর এজন্যই তিনি আমাকে পৃথিবীর লোকের উপর আমানতদার নির্দিষ্ট করেছেন। অথচ তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না। এমন সময় দলের মধ্য থেকে একটা লোক, সম্ভবত খালিদ ইবন ওয়ালিদ, ঐ লোকটিকে হত্যা করার জন্য নবী (ﷺ)-এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে নিষেধ করলেন। সে লোকটি চলে যাওয়ার পর নবী (ﷺ) বললেনঃ এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন কিছু লোক আসবে, যারা কুরআন পড়বে, তবে কুরআন তাদের কন্ঠনালি অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেভাবে শিকারের দেহ ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। মূর্তিপূজারীদেরকে ছেড়ে তারা মুসলিমদেরকে হত্যা করবে। যদি আমি তাদেরকে পাই, তাহলে আদ জাতিকে হত্যা করার মত তাদেরকে হত্যা করব।

আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেছি, "আর সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে" আল্লাহর এ কথা সম্পর্কে। তিনি বলেছেনঃ সূর্যের নির্দিষ্ট গন্তব্য হল আরশের নিচে।

জারীর ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ)-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি পূর্ণিমার রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা শীঘ্রই তোমাদের রববকে দেখতে পাবে, যেমনি তোমরা এ চাঁদটিকে দেখতে পাচ্ছ। অথচ এটিকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধে হচ্ছে না। অতএব, তোমরা সক্ষম হলে সূর্য উঠার আগের সালাত ও সূর্য ডুবার পরের সালাত (যথাযথভাবে) আদায় করতে তোমরা যেন পরাজিত না হও। তাহলে তাই কর।

জারীর ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ অবশ্যই তোমরা তোমাদের রববকে দিব্যচক্ষে দেখতে পাবে।

জারীর ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা পুর্ণিমার রাতে নবী (ﷺ) আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ শীঘ্রই তোমরা তোমাদের রববকে কিয়ামতের দিন দেখতে পাবে, যেমন এ চাঁদটিকে তোমরা দেখছ এবং একে দেখতে তোমাদের অসুবিধে হচ্ছে না।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা (সহাবাগণ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের রববকে দেখতে পাব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের কি পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে অসুবিধা হয়? সবাই বলে উঠলেন, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি আবার বললেনঃ মেঘহীন আকাশে সূর্য দেখতে তোমাদের কি অসুবিধা হয়? সবাই বলে উঠলেন, না, হে আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা সেরকমই আল্লাহকে দেখতে পাবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ লোকদেরকে একত্রিত করে বলবেন, যে যার ইবাদাত করছিলে সে যেন তার অনুসরণ করে। তারপর যারা সূর্যের ইবাদাত করত, সূর্যের অনুসরণ করবে। যারা চন্দ্রের ইবাদাত করত, তারা চন্দ্রের অনুসরণ করবে। আর যারা তাগুতদের পূজা করত, তারা তাদের অনুসরণ করবে। বাকী থাকবে এই উম্মাত। এদের মধ্যে এদের সুপারিশকারীরাও থাকবে অথবা রাবী বলেছেন, মুনাফিকরাও থাকবে। এখানে বর্ণনাকারী ইবরাহীম সন্দেহ পোষণ করেছেন। তারপর আল্লাহ তাদের কাছে এসে বলবেনঃ আমিই তোমাদের রব। তখন তারা বলবে, যতক্ষণ আমাদের রব আমাদের কাছে না আসবেন, ততক্ষণ আমরা এ স্থানেই থাকব। আমাদের রব যখন আসবেন, তখন আমরা তাকে চিনতে পারব। তারপর আল্লাহ এমন এক সুরতে তাদের কাছে আসবেন, যে সুরতে তারা তাকে চিনবে। তখন তিনি বলবেন, তোমাদের রব আমিই। তারা বলে উঠবে হা, আপনিই আমাদের রব। তারপর তারা তার অনুসরণ করবে। এরপর জাহান্নামের উপর পুল কায়িম করা হবে। যারা পুল পার হবে, আমি এবং আমার উম্মাত তাদের মধ্যে প্রথম থাকব। সেদিন একমাত্র রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউই কথা বলতে পারবে না। আর রাসূলগণেরও আবেদন হবে শুধু আল্লাহুম্মা সাল্লিম, সাল্লিম (আয় আল্লাহ! নিরাপদে রাখুন, নিরাপদে রাখুন)। এবং জাহান্নামে সাদান-এর কাঁটার মত আকড়া থাকবে। তোমরা দেখেছ কি সাদান-এর কাঁটা? সহাবাগণ বললেন, জী হ্যা, হে আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ জাহান্নামের সে কাঁটাগুলো এ সাদান-এর কাঁটার মত। হ্যা, তবে সেগুলো যে কত বড় হবে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। ওসব কাঁটা মানুষকে তাদের আমলের অনুপাতে বিদ্ধ করবে। কতিপয় মানুষ থাকবে ঈমানদার, তারা তাদের আমলের কারণে নিরাপদ থাকবে। আর কেউ কেউ তার আমলের কারণে ধ্বংস হবে। কাউকে নিক্ষেপ করা হবে, আর কাউকে প্রতিদান দেয়া হবে। কিংবা সেরকমই কিছু রাবী বলেছেন। তারপর (আল্লাহ) প্রকাশিত হবেন। তিনি বান্দাদের বিচার শেষ করে যখন আপন রহমতে কতক জাহান্নামবাসীকে বের করতে চাইবেন, তখন তিনি তাদের মধ্যকার শির্ক হতে মুক্তদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দেয়ার জন্য ফেরেশ্তাদেরকে আদেশ দেবেন। তারাই হচ্ছে ওসব বান্দা যাদের উপর আল্লাহ রহমত করবেন, যারা সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। সিজদার চিহ্ন দ্বারা তাদেরকে ফেরেশ্তারা চিনতে পারবেন। সিজদার চিহ্নগুলো ছাড়া সে সব আদম সন্তানের সারা দেহ জাহান্নামের আগুন ভসমীভূত করে দেবে। সিজদার চিহ্নগুলো জ্বালিয়ে দেয়া আল্লাহ জাহান্নামের উপর হারাম করে দিয়েছেন। অতঃপর তাদেরকে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তাদের ওপর ঢালা হবে সঞ্জীবনীর পানি। এর ফলে নিম্নভাগ থেকে তারা এমনভাবে সজীব হয়ে ওঠবে, প্লাবনের পানিতে বীজ মাটি থেকে যেভাবে গজিয়ে ওঠে। এরপর আল্লাহ বান্দাদের বিচার কাজ শেষ করবেন। এদের মধ্য থেকে একজন বাকী থেকে যাবে, যে জাহান্নামের দিকে মুখ করে থাকবে। জাহান্নামীদের মধ্যে এই হচ্চে সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী। তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমার চেহারাটা জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দাও। কেননা, জাহান্নামের (দুর্গন্ধযুক্ত) হাওয়া আমাকে অস্থির করে তুলছে এবং এর শিখা আমাকে জ্বালাচ্ছে। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছা মুতাবিক তার কাছে প্রার্থনা করবে। তারপর আল্লাহ বলবেন, তোমার প্রার্থিত বস্ত্ত যদি তোমাকে দেয়া হয়, তবে অন্য কিছু চাইবে না তো? তখন সে বলবে, না, তোমার ইয্যতের শপথ করে বলছি, তা ব্যতীত আমি আর কিছু চাইব না। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছা মোতাবেক তাকে বহু অঙ্গীকার ওয়াদা দেবে। ফলে আল্লাহ তার চেহারা জাহান্নাম থেকে ফিরিয়ে দেবেন। যখন সে জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে এবং জান্নাতকে দেখবে, সে আল্লাহর ইচ্ছা মোতাবেক যতক্ষণ চুপ থাকার চুপ থেকে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতের দ্বার পর্যন্ত এগিয়ে দাও। আল্লাহ তখন তাকে বলবেন, তুমি কি বহু ওয়াদা ও অঙ্গীকার দাওনি যে তোমাকে যা দেয়া হবে, তা ব্যতীত আর কিছুই তুমি কখনো চাইবে না। সর্বনাশ তোমার, হে আদম সন্তান! কতই না ওয়াদা ভঙ্গকারী তুমি। তখন সে বলবে, হে আমার রব সে আল্লাহকে ডাকতে থাকবে। আল্লাহ তখন তাকে বলবেন, আচ্ছা, এটি যদি তোমাকে দেয়া হয়, আর কিছু তো চাইবে না? সে বলবে, তোমার ইয্যতের কসম! সেটি ব্যতীত আমি আর কিছুই চাইব না। তারপর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ওয়াদা ও অঙ্গীকার দেবে আর আল্লাহ তাকে জান্নাতের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিবেন। যখন সে জান্নাতের দরজার কাছে দাড়াবে, তখন তার জন্য জান্নাত উন্মুক্ত হয়ে যাবে, তখন সে এর মধ্যকার আরাম আয়েশ ও ভোগ বিলাসের প্রাচুর্য দেখতে পাবে। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী চুপ থেকে পরে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি কি আমাকে এই ওয়াদা ও অঙ্গীকার দাওনি যে, তোমাকে যা দেয়া হবে, সেটা ব্যতীত আর কিছুর প্রার্থনা করবে না? সর্বনাশ তোমার! হে বানী আদম! কতই না ওয়াদা ভঙ্গকারী তুমি। তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমি তোমার সৃষ্টিকুলের মধ্যে নিকৃষ্টতর হতে চাই না। তখন সে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকবে। অবশেষে আল্লাহ এতে হেসে দেবেন। আল্লাহ তার অবস্থার জন্য হেসে তাকে নির্দেশ দেবেন, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। সে জান্নাতে প্রবেশ করলে আল্লাহ তাকে বলবেনঃ এবার তুমি চাও। সে তখন রবের কাছে চাইবে এবং আকাঙ্ক্ষা জানাবে। সর্বশেষে আল্লাহ নিজে তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলবেন, এটা, ওটা চাও। এতে তার আবেদন-আকাঙ্ক্ষা শেষ হলে আল্লাহ বলবেনঃ তোমাকে ওগুলো দেয়া হল, সঙ্গে সঙ্গে সে পরিমাণ আরো দেয়া হল।

আতা ইবন ইয়াযীদ বলেন, আবূ হুরাইরাহ যখন হাদীসটির বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন আবূ সাঈদ খুদরী-ও তার সঙ্গে ছিলেন। তিনি আবূ হুরাইরাহ-এর এ বর্ণিত হাদীসের কোথাও প্রতিবাদ করলেন না। বর্ণনার শেষাংশে এসে আবূ হুরাইরাহ যখন বর্ণনা করলেন, "আল্লাহ তাকে বলবেন, ওসব তোমাকে দেয়া হলো, আরো তার সমপরিমাণ তার সঙ্গে দেয়া হল" তখন আবূ সাঈদ খুদরী প্রতিবাদ করে বললেন, হে আবূ হুরাইরাহ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তার সঙ্গে আরো দশগুণ। তখন আবূ হুরাইরাহ বললেন, আমি সংরক্ষণ করেছি এভাবে- ওসব তোমাকে দেয়া হলো, আর এ সঙ্গে আরো এক গুণ দেয়া হলো। আবূ সাঈদ খুদরী বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হতে এভাবে সংরক্ষণ করেছি- ও সবই তোমাকে দেয়া হলো, এর সঙ্গে তোমাকে দেয়া হলো আরো দশ গুণ। আবূ হুরাইরাহ বলেন, এই হচ্ছে জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কিয়ামতের দিন আমাদের রবেবর দর্শন লাভ করব কি? তিনি বললেনঃ মেঘহীন আকাশে সূর্যকে দেখতে তোমাদের অসুবিধা হয় কি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেনঃ সেদিন তোমাদের রবকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না। এতটুকু ব্যতীত যতটুকু সূর্য দেখার সময় পেয়ে থাক। সেদিন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন, যারা যে জিনিসের ইবাদাত করতে, তারা সে জিনিসের কাছে গমন কর। এরপর যারা ক্রুশপূজারী ছিল, তারা যাবে তাদের ক্রুশের কাছে। মূর্তিপূজারীরা যাবে তাদের মূর্তির সঙ্গে। সকলেই তাদের উপাস্যের সঙ্গে যাবে। বাকী থাকবে একমাত্র আল্লাহর ইবাদাতকারীরা। নেক্কার ও বদকার সকলেই এবং আহলে কিতাবের কতক লোকও থাকবে। অতঃপর জাহান্নামকে আনা হবে। সেটি তখন থাকবে মরীচিকার মত। ইয়াহূদীদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা কিসের ইবাদাত করতে? তারা উত্তর করবে, আমরা আল্লাহর পুত্র উযায়র-এর ইবাদাত করতাম। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলছ। কারণ আল্লাহর কোন স্ত্রীও নেই এবং নেই তার কোন সন্তান। এখন তোমরা কী চাও? তারা বলবে, আমরা চাই, আমাদেরকে পানি পান করান। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা পানি পান কর। এরপর তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে। তারপর নাসারাদেরকে বলা হবে, তোমরা কিসের ইবাদাত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র মসীহের ইবাদাত করতাম। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহর কোন স্ত্রীও ছিল না, সন্তানও ছিল না। এখন তোমরা কী চাও? তারা বলবে, আমাদের ইচ্ছা আপনি আমাদেরকে পানি পান করতে দিন। তাদেরকে উত্তর দেয়া হবে, তোমরা পান কর। তারপর তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে। অবশেষে বাকী থাকবে একমাত্র আল্লাহর ইবাদাতকারীগণ। তাদের নেক্কার ও বদকার সকলেই। তাদেরকে লক্ষ্য করে বলা হবে, কোন জিনিস তোমাদেরকে আটকে রেখেছে? অথচ অন্যরা তো চলে গেছে। তারা বলবে, আমরা তো সেদিন তাদের থেকে আলাদা রয়েছি, যেদিন আজকের চেয়ে তাদের অধিক প্রয়োজন ছিল। আমরা একজন ঘোষণাকারীর এ ঘোষণাটি দিতে শুনেছি যে, যারা যাদের ইবাদাত করত তারা যেন ওদের সঙ্গে যায়। আমরা অপেক্ষা করছি আমাদের রবের। নবী (ﷺ) বলেনঃ এরপর মহাক্ষমতাশালী আল্লাহ তাদের কাছে আসবেন। এবার তিনি সে সুরতে আসবেন না, যেভাবে তাকে প্রথমে ঈমানদারগণ দেখেছিলেন। এসে তিনি ঘোষণা দেবেন- আমি তোমাদের রবব, সবাই তখন বলে উঠবে আপনিই আমাদের প্রতিপালক। আর সেদিন নবীগণ ছাড়া তার সঙ্গে কেউ কথা বলতে পারবে না। আল্লাহ তাদেরকে বলবেন, তোমাদের এবং তার মাঝখানে পরিচয়ের জন্য কোন আলামত আছে কি? তারা বলবেন, পায়ের নলা। তখন পায়ের নলা খুলে দেয়া হবে। এই দেখে ঈমানদারগণ সবাই সিজদায় পড়ে যাবে। বাকি থাকবে তারা, যারা লোক-দেখানো এবং লোক-শোনানো সিজদা করেছিল। তবে তারা সিজদার মনোভাব নিয়ে সিজদা করার জন্য যাবে, কিন্তু তাদের মেরুদন্ড একটি তক্তার মত শক্ত হয়ে যাবে। এমন সময় জাহান্নামের উপর পুল স্থাপন করা হবে। সাহাবীগণ বললেন, সে পুলটি কেমন হবে হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেনঃ দুর্গম পিচ্ছিল স্থান। এর ওপর আংটা ও হুক থাকবে, শক্ত চওড়া উল্টো কাঁটা বিশিষ্ট হবে, যা নাজ্দ দেশের সাদান বৃক্ষের কাঁটার মত হবে। সে পুলের উপর দিয়ে ঈমানদারগণের কেউ পার হয়ে যাবে চোখের পলকের মতো, কেউ বিদ্যুতের মতো, কেউ বাতাসের মতো আবার কেউ দ্রুতগামী ঘোড়া ও সাওয়ারের মতো। তবে মুক্তিপ্রাপ্তরা কেউ নিরাপদে চলে আসবেন, আবার কেউ জাহান্নামের আগুনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাবে। এ কবারে শেষে অতিক্রম করবে যে লোকটি, সে হেঁচড়িয়ে কোন ভাবে পার হয়ে আসবে। এখন তোমরা হকের বিষয়ে আমার চেয়ে অধিক কঠোর নও, যতটুকু সেদিন ঈমানদারগণ আল্লাহর সম্মুখে হয়ে থাকবে, যা তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। যখন ঈমানদারগণ এ দৃশ্যটি দেখবে যে, তাদের ভাইদেরকে রেখে একমাত্র তারাই মুক্তি পেয়েছে, তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের সেসব ভাই কোথায়, যারা আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় করত, সওম পালন কত, নেক কাজ করত? তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে এক দ্বীনার পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আন। আল্লাহ তাদের মুখমন্ডল জাহান্নামের ওপর হারাম করে দিয়েছেন। এদের কেউ কেউ দু'পা ও দু'পায়ের নলার বেশি পর্যন্ত জাহান্নামের মধ্যে থাকবে। তারা যাদেরকে চিনতে পারে, তাদেরকে বের করবে। তারপর এরা আবার ফিরে আসবে। আল্লাহ আবার তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অর্ধ দ্বীনার পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা গিয়ে তাদেরকেই বের করে নিয়ে আসবে, যাদেরকে তারা চিনতে পারবে। তারপর আবার ফিরে আসবে। আল্লাহ তাদেরকে আবার বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা যাদেরকে চিনতে পারবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ খুদরী বলেন, তোমরা যদি আমাকে বিশ্বাস না কর, তাহলে আল্লাহর এ বাণীটি পড়ঃ "আল্লাহ অণু পরিমাণও যুল্ম করেন না, আর কোন পুণ্য কাজ হলে তাকে তিনি দ্বিগুণ করেন"- (আন্-নিসা ৪/৪০)। তারপর নবী (ﷺ), ফেরেশ্তা ও মুমিনগণ সুপারিশ করবে। তখন মহা পরাক্রান্ত আল্লাহ বলবেন, এখন শুধু আমার শাফাআতই বাকী রয়েছে। তিনি জাহান্নাম থেকে একমুষ্টি ভরে এমন কতগুলো কওমকে বের করবেন, যারা জ্বলে পুড়ে দগ্ধ হয়ে গিয়েছে। তারপর তাদেরকে জান্নাতের সম্মুখে অবস্থিত 'হায়াত' নামের নহরে ঢালা হবে। তারা সে নহরের দু'পার্শ্বে এমনভাবে উদগত হবে, যেমন পাথর এবং গাছের কিনারে বয়ে আনা আবর্জনায় বীজ থেকে তৃণ উদগত হয়। দেখতে পাও তার মধ্যে সূর্যের আলোর অংশের গাছগুলো সাধারণত সবুজ হয়, ছায়ার অংশেরগুলো সাদা হয়। তারা সেখান থেকে মুক্তার দানার মত বের হবে। তাদের গর্দানে মোহর লাগানো হবে। জান্নাতে তারা যখন প্রবেশ করবে, তখন অন্যান্য জান্নাতবাসীরা বলবেন, এরা হলেন রাহমান কর্তৃক আযাদকৃত যাদেরকে আল্লাহ কোন নেক আমল কিংবা কল্যাণকর কাজ ব্যতীতই জান্নাতে দাখিল করেছেন। তখন তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা যা দেখেছ, সবই তো তোমাদের, এর সঙ্গে আরো সমপরিমাণ তোমাদেরকে দেয়া হলো।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ঈমানদারদেরকে কিয়ামতের দিন আবদ্ধ করে রাখা হবে। অবশেষে তারা অস্থির হয়ে যাবে এবং বলবে, আমরা যদি আমাদের রবের নিকট কারো দ্বারা শাফাআত করাই যিনি আমাদের স্বস্তি দান করেন। তারপর তারা আদম-এর কাছে এসে বলবে, আপনিই তো সে আদম, যিনি মনুষ্য জাতির পিতা, স্বয়ং আল্লাহ আপন হাত দিয়ে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। আপনাকে বসবাসের সুযোগ দিয়েছেন তার জান্নাতে, ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা করিয়েছেন এবং আপনাকে সব জিনিসের নাম শিক্ষা দিয়েছেন। আমাদের এ জায়গা থেকে মুক্তি লাভের জন্য আপনার সেই রবের কাছে শাফাআত করুন। তখন আদম বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। নবী (ﷺ) বলেন : এরপর তিনি নিষেধকৃত গাছের ফল খাওয়ার ভুলের কথাটি উল্লেখ করবেন। তিনি বলবেন, বরং তোমরা নূহ-এর কাছে যাও, যিনি পৃথিবীবাসীদের জন্য প্রেরিত নবীগণের মধ্যে প্রথম নবী। তারপর তারা নূহ্-এর কাছে এলে তিনি তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। আর তিনি না জেনে তার রবের কাছে প্রার্থনার ভুলের কথাটি উল্লেখ করবেন এবং বলবেন বরং তোমরা রাহমানের একনিষ্ঠ বন্ধু ইবরাহীমের কাছে যাও। নবী (ﷺ) বলেনঃ অতঃপর তারা ইবরাহীম-এর কাছে আসবে। তখন ইবরাহীম বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। আর তিনি এমন তিনটি কথা উল্লেখ করবেন যেগুলো আসল ব্যাপারের উল্টো ছিল। পরে বলবেন, তোমরা বরং মূসা-এর কাছে যাও তিনি আল্লাহর এমন এক বান্দা যাকে আল্লাহ তাওরাত দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং গোপন কথাবার্তার মাধ্যমে তাকে নৈকট্য দান করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সবাই তখন মূসা-এর কাছে আসবে। তিনি ওবলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। এবং তিনি হত্যার ভুলের কথা উল্লেখ করবেন। তিনি বলবেন, তোমরা বরং ঈসা-এর কাছে যাও। যিনি আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল এবং তার রূহ ও বাণী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তারা সবাই তখন ঈসা (লা)-এর কাছে আসবে। ঈসা বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। তিনি বলবেন, তোমরা বরং মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহর এমন এক বান্দা যার আগের ও পরের ভুল তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তখন তারা আমার কাছে আসবে। আমি তখন আমার রবের কাছে তার নিকট হাযির হবার অনুমতি চাইব। আমাকে তার কাছে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। তার দর্শন লাভের সঙ্গে সঙ্গে আমি সিজদায় পড়ে যাবো। তিনি আমাকে সে হালতে যতক্ষণ চাইবেন রাখবেন। অতঃপর আল্লাহ বলবেন, মুহাম্মাদ! মাথা ওঠান; বলুন, আপনার কথা শোনা হবে, শাফাআত করুন, কবূল করা হবে, চান, আপনাকে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তখন আমি আমার মাথা ওঠাবো। তারপর আমি আমার প্রতিপালকের এমন স্তব ও স্ত্ততি করবো যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দেবেন। অতঃপর আমি সুপারিশ করবো, তবে আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। 'আমি বের হয়ে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ বলেন, আমি আনাস-কে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, আমি বের হবো এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবো এবং জান্নাতে প্রবেশ করাব। তারপর আমি ফিরে এসে আমার প্রতিপালকের নিকট হাযির হওয়ার অনুমতি চাইব। আমাকে অনুমতি দেয়া হবে। আমি তাকে দেখার পর সিজদায় পড়ে যাব। আল্লাহ যতক্ষণ চাইবেন, আমাকে সে হালাতে রাখবেন। তারপর বলবেন, মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে, শাফা'আত করুন, কবূল করা হবে, চান, দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তারপর আমি আমার মাথা উঠাবো। আমার রবের এমন স্তব ও স্তুতি করব, যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দিবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন ঃ এরপর আমি শাফাআত করব, আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা হবে। আমি বের হয়ে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ বলেন, আমি আনাস-কে বলতে শুনেছি, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তখন আমি বের হব এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করব এবং জান্নাতে প্রবেশ করাব। তারপর তৃতীয়বারের মত ফিরে আসব এবং আমার রবের নিকট প্রবেশ করার অনুমতি চাইব। আমাকে অনুমতি দেয়া হবে। আমি তাকে দেখার পর সিজদায় পড়ে যাব। আল্লাহ আমাকে সে হালাতে রাখবেন, যতক্ষণ চাইবেন। অতঃপর আল্লাহ বলবেন, মুহাম্মাদ! মাথা উঠান এবং বলুন, শোনা হবে, সুপারিশ করুন, কবূল করা হবে, চান, দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি মাথা উঠিয়ে আমার রবের এমন স্তব ও স্তুতি করব, যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দেবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এরপর আমি শাফাত করব, আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা হবে। তারপর আমি বের হয়ে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ বলেন, আমি আনাস-কে বলতে শুনেছি, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি সেখান থেকে বের হয়ে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাব। অবশেষে জাহান্নামে বাকী থাকবে কেবল তারা, কুরআন যাদেরকে আটকে রেখেছে। যাদের ওপর জাহান্নামের চিরবাস ওয়াজিব হয়ে পড়েছে। আনাস বলেন, তিনি কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ "শীঘ্রই তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন"- (ইসরা ১৭/৭৯) এবং তিনি বললেন এটিই হচ্ছে, তোমাদের নবী (ﷺ)-এর জন্য প্রতিশ্রুত 'মাকামে মাহমূদ'।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের কাছে (লোক) পাঠালেন। তাদেরকে একটা তাবুর মধ্যে সমবেত করলেন এবং তাদের বললেনঃ তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাত পর্যন্ত ধৈর্য ধরবে। কারণ আমি হাওযের (কাউসারের) নিকটেই থাকব।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রাতে যখন তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন, তখন বলতেনঃ হে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ! সব প্রশংসা একমাত্র আপনারই, আসমান ও যমীনের পরিচালক আপনিই এবং আপনারই জন্য সব স্তুতি। আসমান ও যমীন এবং এসবের মাঝের সবকিছুর প্রতিপালক আপনিই এবং আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আসমান যমীন ও এগুলোর মধ্যকার সব কিছুর নূর আপনিই। আপনি সত্য, আপনার বাণী সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাক্ষাত সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য এবং কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আপনারই জন্য আমি ইসলাম কবূল করেছি এবং আপনারই প্রতি ঈমান এনেছি, আপনারই ওপর ভরসা করেছি, আপনারই কাছে মোকদ্দমা সোপর্দ করেছি, আপনারই কাছে ফায়সালা চেয়েছি। তাই আপনি আমার আগের ও পিছের গোপন, প্রকাশ্য এবং যা আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন তা সবই ক্ষমা করে দিন। আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই।

আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে শীঘ্রই তার প্রতিপালক কথা বলবেন, তখন প্রতিপালক ও তার মাঝে কোন অনুবাদক ও আড়াল করে এমন পর্দা থাকবে না।

কায়স হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ দু'টি জান্নাত এমন হবে, সেগুলোর পানপাত্র ও তার ভিতরের সব কিছুই হবে রূপার। আর দু'টি জান্নাত এমন হবে, সেগুলোর পানপাত্র ও তার ভিতরের সবকিছুই হবে সোনার। জান্নাতে আদ্নে তাদের ও তাদের রবেবর দর্শনের মাঝে তার চেহারার উপর অহঙ্কারের চাদর ব্যতীত আর কোন কিছু আড়াল থাকবে না।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক মিথ্যা শপথ করে কোন মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করবে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন। আবদুল্লাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কথার সত্যায়নে আল্লাহর কিতাবের আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ "নিশ্চই যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের নি'আমাতের কোন অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না....." (আলে ইমরান ৩/৭৭)।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তিন রকমের মানুষ, যাদের সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না। যে লোক তার মালের উপর এ মিথ্যা কসম করে যে, একে এখন যে মূল্যে বিক্রি করা হলো এর চেয়ে অধিক মূল্যে তা বিক্রয় করা যাচ্ছিল। (২) যে লোক কোন মুসলিমের মাল আত্মসাৎ করার জন্য আসরের সালাতের পর মিথ্যা শপথ করে। (৩) এক লোক সে, যে প্রয়োজনের বেশি পানি আটকিয়ে রাখে। আল্লাহ তাকে উদ্দেশ্য করে কিয়ামতের দিন বলবেন, আজ আমি আমার অনুগ্রহ থেকে তোমাকে বঞ্চিত করব, যেমনি তুমি সেই অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করতে যা তোমার হাতে অর্জিত নয়।

আবূ বকরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ আসমান ও যমীনকে যেদিন সৃষ্টি করেছিলেন, সেদিনের অবস্থায় যামানা আবার ফিরে এসেছে। বার মাসে এক বছর হয়। তার মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাসম্পন্ন। যুলকাদা, যুলহাজ্জা ও মুহাররম- এ তিন মাস এক নাগাড়ে আসে। আর মুযার গোত্রের রজব মাস যা জুমাদা ও শা'বান মাসের মধ্যে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটি কোন মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন। এরপর নবী (ﷺ) চুপ থাকলেন যার জন্য আমরা ভেবেছিলাম, তিনি এই নামটি পাল্টিয়ে অন্য কোন নাম রাখবেন। তিনি বললেন, এটি কি যুলহাজ্জা নয়? আমরা উত্তর করলাম, হ্যা, এটি যুলহাজ্জার মাস। তিনি বললেনঃ এটি কোন শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই অধিক জানেন। তিনি নীরব রইলেনঃ আমরা ভেবেছিলাম, তিনি হয়ত শহরটির নাম বদলিয়ে অন্য কোন নাম রাখবেন। তিনি বললেনঃ এটি কি সেই শহরটি নয়? আমরা উত্তর করলাম, হ্যা। তারপর তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, আজকের এ দিনটি কোন দিন? আমরা উত্তর করলাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই অধিক জানেন। তিনি চুপ থাকলেন, যার জন্য আমরা ভাবলাম তিনি সম্ভবত এর নামটা বদলে দেবেন। তিনি বললেনঃ এটি কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা বললাম, হ্যা। নবী (ﷺ) তখন বললেনঃ তোমাদের রক্ত এবং সম্পদ বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবন সীরীন বলেছেন, আমার ধারণা হচ্ছে, আবূ বকরা 'তোমাদের ইয্যত' কথাটিও বর্ণনা করেছিলেন, ওসব এ পবিত্র দিনে, এ পবিত্র শহরে, এ পবিত্র মাসটির মত পবিত্র ও মর্যাদাসম্পন্ন। শীঘ্রই তোমরা তোমাদের রবেবর সাক্ষাত লাভ করবে। তখন তিনি তোমাদেরকে তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। সাবধান, আমার মৃত্যুর পর তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে একে অপরকে হত্যা করো না। সাবধান! উপস্থিতগণ অনুপস্থিত লোকদের কাছে (কথাগুলো) পৌছে দেবে। কেননা, হয়ত যার কাছে পৌছে দেয়া হবে, তাদের মাঝে এমন ব্যক্তিও থাকবে, যারা শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হবে। মুহাম্মাদ ইবন সীরীন যখন এ হাদীসটি বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন, নবী (ﷺ) সত্যিই বলেছিলেন। অতঃপর নবী (ﷺ) বললেনঃ জেনে রেখো, আমি পৌছিয়ে দিয়েছি কি? জেনে রেখো পৌছিয়ে দিয়েছি কি?

উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ)-এর কোন এক কন্যার এক ছেলের মৃত্যু উপস্থিত হলে তার কন্যা নবী (ﷺ)-কে যাওয়ার জন্য একজন লোক পাঠালেন। উত্তরে নবী (ﷺ) লোক পাঠিয়ে জানালেনঃ আল্লাহ যা নিয়ে নেন আর যা দেন সবই তারই জন্য। আর প্রতিটি বস্তুর জন্য একটা সময়সীমা নির্দিষ্ট আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধরে এবং অবশ্যই সওয়াবের আশা করে। তারপর নবী-কন্যা নবী (ﷺ)-কে যাওয়ার জন্য কসম দিয়ে আবার লোক পাঠালেন। তিনি যাওয়ার জন্য ওঠে দাড়ালেন। বর্ণনাকারী উসামাহ ইবন যায়দ বলেন, আমি, মুআয ইবন জাবাল, উবাই ইব্ন কা'ব, উবাদাহ ইবন সামিতও তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য ওঠে দাড়ালাম। আমরা সেখানে গিয়ে প্রবেশ করলে তখন তারা শিশুটিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে দিলেন। আর তখন বাচ্চার বুকের মধ্যে এক অস্বস্তি বোধ হচ্ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা নবী (ﷺ) তখন বলেছিলেনঃ এ তো যেন মশকের মত। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাঁদলেন। তা দেখে সাদ ইবন উবাদাহ বললেন, আপনি কাঁদছেন? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার দয়ালু বান্দাদের উরপই দয়া করেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়েই স্বীয় রবের নিকট অভিযোগ করল। জান্নাত বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার ব্যাপারটি কী যে তাতে শুধু নিঃস্ব ও নিম্ন শ্রেণীর লোকেরাই প্রবেশ করবে। এদিকে জাহান্নামও অভিযোগ করল আপনি শুধুমাত্র অহংকারীদেরকেই আমাতে প্রাধান্য দিলেন। আল্লাহ জান্নাতকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি আমার রহমত। জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব। আমি যাকে চাইব, তোমাকে দিয়ে শাস্তি পৌছাব। তোমাদের উভয়কেই পূর্ণ করা হবে। তবে আল্লাহ তার সৃষ্টির কারো উপর যুলুম করবেন না। তিনি জাহান্নামের জন্য নিজ ইচ্ছানুযায়ী নতুন সৃষ্টি করবেন। তাদেরকে যখন জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তখন জাহান্নাম বলবে, আরো অতিরিক্ত আছে কি? জাহান্নামে আরো নিক্ষেপ করা হবে, তখনো বলবে, আরো অতিরিক্ত আছে কি? এভাবে তিনবার বলবে। অবশেষে আল্লাহ তার পা জাহান্নামে প্রবেশ করিয়ে দিলে তা পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। তখন জাহান্নামের একটি অংশ অন্য অংশকে এ উত্তর করবে- আর নয়, আর নয়, আর নয়।

আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কতকগুলো সম্প্রদায় তাদের গুনাহর কারণে শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুনে পৌছবে। অতঃপর আল্লাহ নিজ রহমতে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেবেন। তাদেরকে 'জাহান্নামী' বলা হবে।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী বিদ্বান রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ কিয়ামতের দিন আসমানকে একে আঙ্গুলের ওপর, পৃথিবীকে এক আঙ্গুলের ওপর, পর্বতরাজিকে এক আঙ্গুলের ওপর, বৃক্ষলতা ও নদী-নালাকে এক আঙ্গুলের ওপর এবং সকল সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলের ওপর রেখে দেবেন। এবং নিজ হাতে ইশারা দিয়ে বলবেন, সম্রাট একমাত্র আমিই। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসলেন এবং বললেনঃ তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা উপলব্ধি করেনি- ( আনআম ৬/৯১)।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার মাইমূনাহ-এর ঘরে রাত কাটালাম। তখন নবী (ﷺ) তার কাছে ছিলেন। রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাত কেমন হয় তা দেখার জন্য। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কথা বললেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। এরপর যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ কিংবা শেষের কিছু অংশ বাকী থাকল, তিনি উঠে বসলেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে তিলাওয়াত করলেনঃ আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে.....বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য- (আলু ইমরান ৩/১৯০)। তারপর তিনি উঠে গিয়ে ওযূ ও মিস্ওয়াক করলেন। অতঃপর এগার রাকাত সালাত আদায় করলেন। বিলাল (ফজরের) সালাতের আযান দিলে তিনি দু'রাকাত সালাত পড়ে নিলেন। এরপর নবী (ﷺ) বের হয়ে সহাবাদেরকে ফজরের (দু'রাকাত) সালাত পড়িয়ে দিলেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা যখন (সৃষ্টির) কাজ সম্পন্ন করলেন, তখন তার নিকট তার আরশের ওপর লিখে দিলেন, "আমার রহমত আমার ক্রোধকে ছাড়িয়ে গেছে।"

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যিনি 'সত্যবাদী' এবং 'সত্যবাদী বলে স্বীকৃত' আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি হলো এমন বীর্য থেকে যাকে মায়ের পেটে চল্লিশ দিন কিংবা চল্লিশ রাত একত্রিত রাখা হয়। তারপর তেমনি সময়ে আলাক হয়, তারপর তেমনি সময়ে গোশতপিন্ডে পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ তার কাছে ফেরেশতা প্রেরণ করেন। এই ফেরেশতাকে চারটি বিষয় সম্পর্কে লেখার করার জন্য হুকুম দেয়া হয়। যার ফলে ফেরেশেতা তার রিযক, আমল, আয়ু এবং দুর্ভাগা কিংবা ভাগ্যবান হওয়া সম্পর্কে লিখে দেয়। তারপর তার মধ্যে প্রাণ ফুকে দেয়া হয়। এজন্যই তোমাদের কেউ জান্নাতীদের আমল করে এতটুকু এগিয়ে যায় যে, তার ও জান্নাতের মাঝে কেবল এক গজের দূরত্ব থাকতেই তার ওপর লিখিত তাক্দীর প্রবল হয়ে যায়। তখন সে জাহান্নামীদের আমল করে। শেষে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের মত আমল করে এমন পর্যায়ে পৌছে যে, তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক গজের দূরত্ব থাকতে তার উপর তাকদীরের লেখা প্রবল হয়, ফলে সে জান্নাতীদের মত আমল করে, শেষে জান্নাতেই প্রবেশ করে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করলেন, হে জিব্রীল! আপনি আমাদের সঙ্গে যে পরিমাণ সাক্ষাত করেন, তার চেয়ে বেশি সাক্ষাত করতে কিসে বাধা দেয়? এরই প্রেক্ষাপটে কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়: (ফেরেশতাগণ বলেন) আমরা আপনার প্রতিপালকের হুকুম ছাড়া অবতরণ করি না, যা আমাদের সামনে আছে, আর যা আমাদের পেছনে আছে আর এ দু'য়ের মাঝে যা আছে তা তারই, আপনার প্রতিপালক কক্ষনো ভুলে যান না। (মারইয়াম ১৯/৬৪)। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বলেন, এটি মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রশ্নের উত্তর।

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে মাদ্বীনাহ্য় একটি কৃষিক্ষেত দিয়ে চলছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন একটি খেজুরের ডালের উপর ভর দিয়ে চলছিলেন। তারপর তিনি যখন ইয়াহূদীদের এক কাওমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তারা একে অপরকে বলতে লাগল, তাকে রূহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। আবার কেউ কেউ বলল, তাকে কিছু জিজ্ঞেস করো না। শেষে তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে রূহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খেজুরের শাখার ওপর ভর দিয়ে দাড়িয়ে গেলেন। তখন আমি তার পেছনেই ছিলাম। আমি ভাবছিলাম, তার ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে। পরে তিনি বললেনঃ "তোমাকে তারা রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল, 'রূহ হচ্ছে আমার প্রতিপালকের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত (একটি হুকুম)। এ সম্পর্কে তোমাকে অতি সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে।"- (ইসরা ১৭/৮৫)। তখন তাদের একজন আরেকজনকে বলতে লাগল, বলেছিলাম তোমাদেরকে তাকে কোন প্রশ্ন করো না।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের নিয়্যতে যে লোক বের হয়, আর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এবং তার কলেমার বিশ্বাসই যদি তাকে বের করে থাকে, এমন লোকের জন্য আল্লাহ স্বয়ং যিম্মাদার হয়ে যান। হয়তো তাকে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, নচেৎ যে জায়গা থেকে সে বের হয়েছিল সওয়াব কিংবা গনীমতসহ তাকে সে জায়গায় ফিরিয়ে আনবেন।

আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, কেউ যুদ্ধ করে মর্যাদার জন্য, কেউ বীরত্বের জন্য, কেউ লোক দেখানোর জন্য। এদের কার যুদ্ধটা আল্লাহর পথে হচ্ছে? নবী (ﷺ) বললেনঃ যে লোক আল্লাহর বাণীকে উর্দ্ধে তুলে ধরার জন্য যুদ্ধ করে, সেটাই আল্লাহর পথে।

মুগীরাহ ইবন শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মাতের মধ্যে সব সময় এমন একটি দল থাকবে, যারা আল্লাহর হুকুম আসা পর্যন্ত অন্যান্য লোকের বিরুদ্ধে জয়ী থাকবে।

মুআবীয়াহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মাত হতে একটি দল সব সময় আল্লাহর হুকুমের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদেরকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করতে চাইবে কিংবা বিরোধিতা করবে, তারা এদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কিয়ামত আসা পর্যন্ত তারা এ অবস্থায় থাকবে। মালিক ইবন ইয়ুখামির বলেন, আমি মুআয-কে বলতে শুনেছি, তারা হবে সিরিয়ার লোক।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) একবার মুসায়লামার কাছে একটু অবস্থান করলেন। তখন সে তার সঙ্গীদের মধ্যে ছিল। নবী (ﷺ) তাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমি যদি আমার কাছে এ টুকরাটিও চাও, তা হলে আমি তোমাকে তাও তো দিচ্ছি না। তোমার সম্পর্কে আল্লাহ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা তুমি এড়াতে পারবে না। আর যদি তুমি ফিরে যাও, তা হলে আল্লাহ স্বয়ং তোমাকে ধ্বংস করে দেবেন।

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে মাদ্বীনাহ্য় এক কৃষিক্ষেত কিংবা অনাবাদী জায়গা দিয়ে যাচ্ছিলাম। নবী (ﷺ) নিজের সঙ্গে রাখা একটা খেজুরের শাখার উপর ভর দিয়ে চলছিলেন। তারপর আমরা একদল ইয়াহূদীকে অতিক্রম করছিলাম। তাদের একে অন্যকে বলতে লাগল, তাকে রূহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। আবার তাদের কেউ কেউ বলল, তাকে জিজ্ঞেস করো না। হয়তো তিনি এমন বিষয় উপস্থাপন করবেন, যা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় লাগবে। তা সত্ত্বেও তাদের কেউ বলে উঠল, আমরা অবশ্যই তাকে জিজ্ঞেস করব। অতঃপর তাদের একজন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে এগিয়ে প্রশ্ন করল, হে আবুল কাসিম! রূহ্ কী? এতে নবী (ﷺ) চুপ থাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন বুঝতে পেরেছিলাম, তার প্রতি ওয়াহী নাযিল হচ্ছে, এরপর তিনি পড়লেনঃ "তোমাকে তারা রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল, 'রূহ হচ্ছে আমার প্রতিপালকের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত (একটি হুকুম)। এ সম্পর্কে তোমাকে অতি সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে।"- (ইসরা ১৭/৮৫)।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদের নিয়্যত নিয়ে যে লোক বের হবে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ এবং তার কলেমার প্রতি বিশ্বাস ব্যতীত অন্য কিছু তাকে তার ঘর থেকে বের করেনি, তবে এমন লোকের জন্য আল্লাহ যামিন হয়ে যান। হয়তো তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেবেন, নইলে সে যে সওয়াব ও গনীমাত হাসিল করেছে, তা সহ তাকে তার বাসস্থানে ফিরিয়ে আনবেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবে, তখন দোয়ায় দৃঢ়সংকল্প থাকবে। তোমাদের কেউই এমন কথা বলবে না, তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে দাও। কারণ, আল্লাহকে বাধ্যকারী কেউ নেই।

আলী ইবন আবূ তালিব হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ও রাসূল-কন্যা ফাতিমার কাছে রাতে আসলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমরা সালাত আদায় করছ না? আলী বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জীবন তো আল্লাহর হাতে। তিনি যখন আমাদেরকে ঘুম থেকে জাগাতে চান জাগিয়ে দেন। আমি এ কথা বলার পর, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে গেলেন। কথার কোন উত্তর দিলেন না। যাওয়ার সময় তাকে উরুর ওপর হাত মেরে বলতে শুনেছি, মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই বিতর্ক প্রিয়।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঈমানদার শস্যক্ষেতের নরম ডগার মত। জোরে বাতাস বইলেই তার পাতা ঝুকে পড়ে। বাতাস শান্ত হলে, আবার সোজা হয়ে যায়। ঈমানদারদেরকে বালা-মুসিবত দিয়ে এভাবেই ঝুকিয়ে রাখা হয়। আর কাফেরের দৃষ্টান্ত দেবদারু গাছ, যা একেবারেই কঠিন ও সোজা হয়। ফলে আল্লাহ যখন চান সেটিকে মূলসহ উপড়ে ফেলেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যখন তিনি মিম্বরে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের আগের উম্মাতদের তুলনায় তোমাদের অবস্থানের সময়কাল আসরের সালাত ও সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়। তাওরাতের ধারকদেরকে তাওরাত দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক আমল করল, তবে দুপুর হলে তারা অপারগ হয়ে গেল। এ জন্য তাদেরকে এক এক কীরাত করে পারিশ্রমিক দেয়া হলো। অতঃপর ইঞ্জিলের ধারকদেরকে ইঞ্জিল দেয়া হলো, তারা সে মোতাবেক আমল করল আসরের সালাত পর্যন্ত, তারপর তারা অক্ষম হয়ে পড়লে তাদেরকে দেয়া হলো এক কীরাত এক কীরাত করে। অতঃপর তোমাদেরকে কুরআন দেয়া হলো। ফলে এ কুরআন মোতাবেক তোমরা আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমল করেছ। এ জন্য তোমাদেরকে দু'কীরাত দু'কীরাত করে পারিশ্রমিক দেয়া হয়েছে। তাওরাতের ধারকরা বললো, হে আমাদের প্রতিপালক! তারাতো আমলে সবচেয়ে কম আবার পারিশ্রমিকে সবচেয়ে অধিক। আল্লাহ তখন বললেনঃ তোমাদের পারিশ্রমিকে তোমাদের উপর কোন যুলুম করা হয়েছে কি? তারা বলল, না। তখন আল্লাহ বললেন, সেটি হচ্ছে আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে চাই তাকে দিই।

উবাদাহ ইবন সামিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদল লোকের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে বায়আত করেছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের বায়আত এ শর্তে কবূল করছি যে, তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, তোমাদের হাত ও পায়ের মধ্যবর্তী লজ্জাস্থানের ব্যাপারে কোন অপবাদ রটনা করবে না, কোন ন্যায়সঙ্গত কাজে আমার অবাধ্য হবে না। তোমাদের যারা এ সব পূর্ণ করবে, আল্লাহর কাছে তার প্রতিদান আছে। আর কেউ এ সব জিনিসের কোনটায় জড়িয়ে পড়লে তাকে যদি সে জন্য দুনিয়ায় শাস্তি দেয়া হয়, তাহলে তা হবে তার জন্য কাফ্ফারা এবং পবিত্রতা। আর যাদের দোষ আল্লাহ ঢেকে রাখেন সেটি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন, ইচ্ছা করলে ক্ষমা করবেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সুলাইমানের ষাটজন স্ত্রী ছিল। একদা সুলাইমান বললেন, আজ রাতে আমি অবশ্য অবশ্যই আমার সব স্ত্রীর কাছে যাব। যার ফলে স্ত্রীরা সবাই অবশ্যই গর্ভবতী হয়ে এক একজন অশ্বারোহী প্রসব করবে যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। অতএব সুলাইমান তার সব স্ত্রীর কাছে গেলেন, তবে তাদের একজন স্ত্রী ব্যতীত আর কেউ গর্ভবতী হলো না। সেও প্রসব করলো একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান। নবী (ﷺ) বললেনঃ যদি সুলাইমান ইনশা-আল্লাহ বলতেন, তাহলে অবশ্যই স্ত্রীরা সবাই গর্ভবতী হত এবং এমন সন্তান প্রসব করতো যারা অশ্বারোহী হয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করত।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক বেদুঈনের কাছে প্রবেশ করলেন তার রোগের খোজখবর নিতে। তিনি বললেনঃ তোমার চিন্তার কোন কারণ নেই। ইনশা আল্লাহ তুমি সুস্থ হয়ে যাবে। বেদুঈন করল সুস্থতা? না, বরং এটি এমন জ্বর যা একজন বেশি বুড়োকে সিদ্ধ করছে, ফলে তাকে কবরে নিয়ে ছাড়বে। নবী (ﷺ) বললেনঃ হ্যা, তবে তাই।

আবূ ক্বাতাদাহ তার পিতা হতে বর্ণিত। যখন তারা সালাত থেকে ঘুমিয়ে ছিলেন তখন নবী (ﷺ) বলেছিলেনঃ আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন তোমাদের রূহ্কে নিয়ে নেন, আর যখন ইচ্ছা ফিরিয়ে দেন। এরপর তারা তাদের প্রয়োজন সারলেন এবং ওযূ করলেন। এতে সূর্য উঠে সাদা রং হয়ে গেল। নবী (ﷺ) উঠলেন, সালাত আদায় করলেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার একজন মুসলিম ও একজন ইয়াহূদী পরস্পর গালাগালি করল। মুসলিম লোকটি বলল, সে মহান সত্তার কসম! যিনি জগতসমূহের ওপর মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে মনোনীত করেছেন। এরপর ইয়াহূদীটিও বলল, সে মহান সত্তার কসম! যিনি জগতসমূহের ওপর মূসা-কে মনোনীত করেছেন। এরপরই মুসলিম লোকটি হাত উঠিয়ে ইয়াহূদীকে চড় মারল। তখন ইয়াহূদী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেল এবং তার ও মুসলিম লোকটির মধ্যে যা ঘটেছে তা জানাল। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা আমাকে মূসার উপর প্রাধান্য দিও না। কেননা, সব মানুষ (শিঙ্গায় ফুৎকারে) অজ্ঞান হয়ে যাবে। তখন সর্বপ্রথম আমি জ্ঞান ফিরে পাব। পেয়েই দেখব, মূসা আরশের একপাশ ধরে আছেন। অতএব আমি জানি না, তিনি কি অজ্ঞান হয়ে আমার আগেই জ্ঞান ফিরে পেয়ে গেলেন, নাকি তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে আল্লাহ অজ্ঞান হওয়া থেকে মুক্ত রেখেছেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাজ্জাল মাদ্বীনাহর দিকে আসবে, তখন সে দেখতে পাবে ফেরেশতাগণ মাদ্বীনাহকে পাহারা দিয়ে রেখেছে। কাজেই দাজ্জাল ও প্লেগ মাদ্বীনাহর নিকটেও আসতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীর জন্য একটি (খাস) দোয়া আছে। আমার সে দোয়াটি কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতের শাফাআতের জন্য লুকিয়ে রাখার ইচ্ছা করছি ইনশাআল্লাহ।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম এমন অবস্থায় আমাকে একটি কূপের কাছে দেখতে পেলাম। অতঃপর আমি সে কূপ থেকে আল্লাহর ইচ্ছায় পানি উঠালাম। তারপর আবূ কুহাফার পুত্র (আবূ বকর) তা নিলেন এবং তিনি এক বা দু' বালতি উঠালেন। তার উঠানোতে দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। তারপর উমার তা নিলেন। তখন তা বিরাট একটি বালতিতে রূপ ধারণ করল। আমি লোকের মধ্যে কোন বাহাদুরকে তার মত পানি তুলতে আর দেখিনি। এমনকি লোকেরা কূপের চারপাশ একেবারে ভিজিয়ে ফেলল।

আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর অভ্যাস ছিল, তার কাছে কোন যাচ্ঞাকারী কিংবা অভাবী লোক এলে তিনি সাহাবীদের বলতেন, তোমরা তার জন্য সুপারিশ কর, এর প্রতিদান পাবে। আর আল্লাহ তার রাসূলের মুখ দিয়ে তাই প্রকাশ করেন, যা তিনি চান।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ এভাবে দোয়া করো না, হে আল্লাহ! তুমি চাইলে আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমি চাইলে আমার প্রতি রহম কর। তুমি চাইলে আমাকে রিযক দাও। বরং দোয়া প্রার্থী খুবই দৃঢ়তার সঙ্গে দোয়া করবে কেননা, তিনি যা চান তাই করেন। তাকে বাধ্য করার কেউ নেই।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি এবং হুর ইবন কায়স ইবন হিস্‌ন ফাযারী মূসা-এর সঙ্গীর ব্যাপারে দ্বিমত করছিলেন যে, তিনি কি খাযির ছিলেন? এমন সময় তাদের পাশ দিয়ে উবায় ইবন কা'ব আনসারী যাচ্ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস তাকে ডেকে বললেন, আমি এবং আমার এ বন্ধু মূসা-এর সঙ্গী সম্পর্কে বিতর্ক করেছি মূসা যার সঙ্গে সাক্ষাতের পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তার সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যা। অবশ্যই আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তার ব্যাপারে উল্লেখ করে বলতে শুনেছি যে, এক সময় মূসা বনী ইসরাঈলের একদল লোকের মাঝে ছিলেন। এমন সময় এক লোক তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, মূসা! আপনি কি জানেন, আপনার চেয়ে বেশি জ্ঞানী কেউ আছেন? মূসা বললেন, না। তারপর মূসা-এর কাছে ওয়াহী নাযিল হল যে, হ্যা আছেন, আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা তার সঙ্গে দেখা করার পথ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। সুতরাং আল্লাহ সেজন্য একটি মাছকে নির্দেশ হিসেবে ঠিক করলেন এবং তাকে বলা হল, মাছটিকে যখন হারিয়ে ফেলবে, তখন সেদিকে ফিরে যাবে, তবে তুমি তার দেখা পাবে। এরই প্রেক্ষাপটে মূসা সাগরে মাছের চিহ্ন ধরে খোজ করতে থাকলে মূসার সঙ্গীটি বলল, 'আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখন্ডে (বসে) ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। সেটার কথা আপনাকে বলতে শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল- (কাহাফ ১৮/৬৩)। মূসা বলল, 'এটাই তো সে জায়গা যেটা আমরা খুজছি।' কাজেই তারা তাদের পায়ের চিহ্ন ধরে ফিরে গেল। তখন তারা পেল- (কাহাফ ১৮/৬৪-৬৫)। তাদের এ দু'জনের ঘটনা যা ঘটেছিল, আল্লাহ তারই বর্ণনা দিয়েছেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা আগামী কল্য বানী কিনানা উপত্যকায় অবস্থান করব ইনশা-আল্লাহ, যেখানে কাফিররা কুফরীর উপর দৃঢ় থাকার শপথ নিয়েছিল। তিনি (এ কথার দ্বারা) মুহাস্সাবকে উদ্দেশ্য করছিলেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তায়েফবাসীদেরকে অবরোধ করলেন। তবে তা জয় করতে পারলেন না। তখন তিনি বললেনঃ আমরা ইন্শা-আল্লাহ ফিরে যাব। মুসলিমগণ বলে উঠল, আমরা ফিরে যাবো? কিন্তু জয় তো হলো না।"। নবী (ﷺ) বললেনঃ আগামীকাল সকালে লড়াই কর। পরদিন তারা লড়াই করল। অনেক লোক আহত হল। নবী (ﷺ) আবার বললেনঃ আমরা ইন্শা আল্লাহ আগামীকাল সকালে ফিরে যাব। এবার কথাটি যেন মুসলিমদেরকে আনন্দ দিল। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসলেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা যখন আসমানে কোন নির্দেশ জারি করেন, ফেরেশ্তারা তার নির্দেশের প্রতি বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশের জন্য স্বীয় পাখাসমূহ হেলাতে থাকেন। তাদের পাখা হেলানোর শব্দটি যেন পাথরের উপর শিকলের ঝনঝনির ধ্বনি। বর্ণনাকারী বলেন, আলী এ ক্ষেত্রে শব্দটিকে সাফাওয়ান এবং অন্যরা সাফওয়ান পড়েছেন। এরপর ফেরেশ্তাদের অন্তর থেকে যখন ভীতি দূর করা হয় তখন তারা একে অপরকে বলতে থাকে, তোমাদের প্রতিপালক কী হুকুম জারি করেছেন? তারা বলেন, "তিনি বলেছেন, সত্য। তিনি মহান ও সর্বোচ্চ।" (34.23)

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তার কোন এক নবী থেকে (মধুর সুরে) যেভাবে কুরআন শুনেছেন, সেভাবে আর কিছুই তিনি শোনেননি। আবূ হুরাইরাহ-এর এক সঙ্গী বলেছেন, আবূ হুরাইরাহ উচ্চস্বরে কুরআন পড়া বোঝাতেন।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা আদমকে বলবেন, হে আদম! আদম জবাবে বলবেন, হে আল্লাহ! তোমাদের নিকটে আমি হাযির, তোমার প্রতি আমি বহু ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অতঃপর আল্লাহ তাকে এ শব্দে ডাকবেন, আল্লাহ তোমাকে নির্দেশ করছেন, তোমার সন্তানদের মধ্য থেকে জাহান্নামে পাঠানোর জন্য একটি দলকে তুমি বের কর।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন নারীর ব্যাপারে আমি এত হিংসা করিনি, যতটা খাদিজাহ-এর ব্যাপারে করেছি। আর তার কারণ এই যে, নবী (ﷺ)-এর রব্ব তাকে আদেশ দিয়েছেন যে, খাদিজাহ-কে জান্নাতের একটি ঘরের খোশ খবর পৌছে দিন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন তিনি জিবরীলকে ডেকে বলেন, আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তাই তুমিও তাকে ভালবাস। কাজেই জিবরীল তাকে ভালবাসেন। অতঃপর জিবরীল আসমানে এ ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তোমরাও তাকে ভালবাস। তখন তাকে আসমানবাসীরা ভালবাসে এবং পৃথিবীবাসীদের মধ্যেও তাকে গ্রহণীয় করা হয়।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে ফেরেশতাগণ আসেন, একদল রাতে আর একদল দিনে। তারা আবার একত্রিত হন আসরের সালাতে ও ফজরের সালাতে। তারপর তোমাদের মাঝে যারা রাতে ছিলেন তারা উপরের জগতে চলে যান। তখন আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, অথচ তিনি সবচেয়ে অধিক জানেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কী অবস্থায় রেখে এসেছ? তখন তারা বলেন, আমরা তাদেরকে সালাতরত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি আর যখন আমরা তাদের কাছে গিয়েছিলাম, তখনও তারা সালাতের হালাতেই ছিল।

আবূ যার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার কাছে জিবরীল এসে এ খোশখবর দিল যে, আল্লাহর সঙ্গে শারীক না করে কেউ মারা গেলে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদি সে চুরি ও যিনা করে তবুও কি? নবী (ﷺ) বললেনঃ যদিও সে চুরি করে ও যিনা করে।

বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার বলেছেনঃ হে অমুক! যখন তুমি তোমার বিছানায় যাবে তখন বলবে, হে আল্লাহ! আমি আমার নিজেকে তোমারই কাছে সোপর্দ করছি। আমার চেহারাকে তোমার দিকে ফিরাচ্ছি! আমার কর্ম তোমার কাছে সোপর্দ করছি। আমার নির্ভরতা তোমারই প্রতি আশা ও ভয় উভয় হালাতেই। তোমার নিকট ব্যতীত আর কোথাও আশ্রয় ও মুক্তির জায়গা নেই। আমি ঈমান এনেছি তোমার কিতাবের প্রতি যা তুমি নাযিল করেছ এবং তোমার নবীর প্রতি যাকে তুমি পাঠিয়েছ। অতঃপর এ রাতে যদি তোমার মওত হয়, তাহলে ফিত্রাতের ওপর তোমার মওত হবে। আর যদি (জীবিত থেকে) তোমার ভোর হয়, তুমি প্রতিদান পাবে।

আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আহযাবের দিনে বলেছেনঃ কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ তুমি দলগুলোকে পরাজিত কর এবং তাদেরকে প্রকম্পিত কর।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি কুরআনের আয়াতঃ "তুমি সালাতে স্বর উচু করবে না এবং খুবই ক্ষীণও করবে না...." (ইসরা ১৭/১১০)- এর তাফসীরে তিনি বলেন, এ আয়াতটি তখন নাযিল হয়, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় লুকিয়ে ছিলেন। সুতরাং যখন তিনি তার স্বর উচু করতেন তাতে মুশরিকরা শুনে গালমন্দ করত কুরআনকে, কুরআন নাযিলকারীকে এবং যার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তাকে। এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ বললেনঃ (হে নবী) তুমি সালাতে তোমার স্বর উচ্চ করবে না, যাতে মুশরিকরা শুনতে পায়। আর তা অতি ক্ষীণও করবে না যাতে তোমার সঙ্গীরাও শুনতে না পায়। এই দু'য়ের মধ্যপথ গ্রহণ কর। তুমি স্বর উচ্চ করবে না, তারা শুনে এভাবে পাঠ করবে যেন তারা তোমা হতে কুরআন শিখতে পারে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, আমাকে আদম সন্তান কষ্ট দেয়। কারণ তারা সময়কে গালি দেয়। পক্ষান্তরে আমিই দাহর বা কাল। কেননা আমার হাতেই সকল বিষয়। আমিই রাত ও দিনের বিবর্তন ঘটাই।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ ঘোষণা করেন যে, সওম আমার জন্যই, আর আমিই এর প্রতিদান দেব। যেহেতু সে আমারই সন্তোষ অর্জনের জন্য তার প্রবৃত্তি, তার আহার ও তার পান ত্যাগ করেছে। আর সওম হল ঢাল। সওম পালনকারীর জন্য আছে দু'টি আনন্দ। এক আনন্দ হলো যখন সে ইফ্তার করে, আর এক আনন্দ হলো, যখন সে তার রবেবর সঙ্গে মিলিত হবে। আল্লাহর কাছে সওমকারীর মুখের গন্ধ মিস্কের সুগন্ধি হতেও উত্তম।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ একদা আইউব বস্ত্রহীন অবস্থায় গোসল করছিলেন। তখন সোনার একদল পঙ্গপাল তার ওপর পড়লে তিনি তা তার কাপড়ে ভরতে থাকেন। তখন তার রব ডেকে বললেনঃ হে আইউব! তুমি যা দেখছ, তাথেকে তোমাকে কি আমি অভাবহীন করি নি? আইউব বললেন, হ্যা হে আমার রবব! তবে তোমার বরকত থেকে আমি অভাবহীন নই।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাদের রব্ব প্রত্যেক রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকী থাকে তখন পৃথিবীর আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন, আমার কাছে যে দোয়া করবে, আমি তার দোয়া কবূল করব। আমার কাছে যে চাইবে, আমি তাকে দেব। আমার কাছে যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাকে আমি ক্ষমা করে দেব।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন। আমরা (পৃথিবীতে) সর্বশেষে আগমনকারী, তবে কিয়ামতের দিন অগ্রগামী।

হাদীসটির এ সনদে আরো আছে যে, আল্লাহ বলেনঃ তুমি খরচ কর, তাহলে আমিও তোমার ওপর খরচ করব।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। জিব্রীল নবী (ﷺ)-কে বললেন, এই তো খাদীজাহ আপনার জন্য একটি পাত্রে খাবার নিয়ে এসেছেন। বর্ণনাকারী সন্দেহে বলেছেন, অথবা পাত্র নিয়ে এসেছেন, অথবা পানীয় নিয়ে এসেছেন। আপনি তাকে তার রবের পক্ষ থেকে সালাম বলুন। আর তাকে এমন একটি মোতির তৈরি প্রাসাদের খোশখবর দিন, যেখানে চেঁচামেচি বা কষ্ট থাকবে না।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ ঘোষণা করলেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি, কোন মানুষের কল্পনায়ও আসেনি।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রাতে যখন তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন তখন এ দোয়া করতেনঃ হে আল্লাহ! সব প্রশংসা একমাত্র তোমারই, তুমিই আসমান ও যমীনের জ্যোতি। তোমারই সমস্ত প্রশংসা, তুমিই আসমান ও যমীনের একমাত্র পরিচালক। তোমারই সব প্রশংসা, তুমিই আসমান ও যমীন এবং এ দু'য়ের মধ্যে যা আছে সব কিছুর রব। তুমি মহাসত্য। তোমার প্রতিশ্রুতি সত্য। তোমার বাণী সত্য। তোমার সাক্ষাৎ সত্য। জান্নাত সত্য। জাহান্নাম সত্য। নবীগণ সত্য। কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! তোমারই জন্য আনুগত্য স্বীকার করি। তোমারই প্রতি ঈমান আনি। তোমারই ওপর ভরসা করি এবং তোমারই দিকে ফিরি। তোমারই জন্য বিতর্ক করি। তোমার কাছেই আমি সিদ্ধান্ত চাই। কাজেই আমার আগের ও পরের গোপনীয় ও প্রকাশ্য যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দাও। তুমিই আমার একমাত্র মাবূদ। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই।

উরওয়াহ ইবন যুবায়র, সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব, আলক্বামাহ ইবন ওয়াক্কাস ও 'উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশাহ-এর ঘটনার ব্যাপারে বর্ণনা করেন। যখন অপবাদ রটনাকারীরা তার ব্যাপারে যা বলার তা বলল, তখন আল্লাহ তাদের অপবাদ থেকে তাকে পবিত্র বলে ঘোষণা দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আয়িশাহ থেকে বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকে হাদীসটির কিছু কিছু অংশ আমাকে বর্ণনা করেছেন। আয়িশাহ বলেন, কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি ধারণাও করিনি যে, আল্লাহ আমার পবিত্রতার পক্ষে এমন ওয়াহী নাযিল করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। আমার মান-সম্মান আমার কাছে এর চেয়ে কম ছিল যে, আল্লাহ আমার ব্যাপারে এমন কালাম করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। তবে আমি আশা করতাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বপ্নে এমন কিছু দেখবেন, যা দ্বারা আল্লাহ আমার পবিত্রতা ঘোষণা করবেন। কিন্তু আল্লাহ নাযিল করলেনঃ যারা অপবাদ রটনা করেছে .... থেকে দশটি আয়াত (আন্-নূর ১০/২১)।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা কোন গুনাহর কাজ করতে চাইলে তা না করা পর্যন্ত তার গুনাহ লেখো না। আর যদি তা করেই ফেলে, তাহলে তা সমপরিমাণ লেখো। আর যদি আমার (মাহাত্ম্যের) কারণে তা ত্যাগ করে, তাহলে তার পক্ষে একটি নেকী লেখো এবং যদি বান্দা কোন ভাল কাজের ইচ্ছা করল কিন্তু তা না করে, তবুও তোমরা তার জন্য একটি নেকী লেখো। তারপর যদি তা করে, তবে তোমরা তার জন্য কাজটির দশ গুণ থেকে সাত'শ গুণ পর্যন্ত লেখো।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ সৃষ্টিকে পয়দা করলেন। তারপর যখন তিনি এর থেকে অবসর হলেন তখন 'রাহীম' (আত্মীয়তার বন্ধন) উঠে দাড়াল। আল্লাহ সেটিকে বললেন, তুমি থাম। 'আত্মীয়তার বন্ধন' তখন বলল, আমাকে ছিন্নকারী থেকে আশ্রয় চাওয়ার জায়গা এটা। এতে আল্লাহ ঘোষণা করলেন, তুমি কি এতে রাযী নও যে, লোক তোমার সঙ্গে সৎভাব রাখবে আমিও তার সঙ্গে সৎভাব রাখব আর যে তোমাকে ছিন্ন করবে, আমিও তাকে ছিন্ন করব? সে বলল, আমি এতে সন্তুষ্ট, হে আমার প্রতিপালক! আল্লাহ বললেনঃ তা-ই তোমার জন্য। তারপর আবূ হুরাইরাহ তিলাওয়াত করলেনঃ ক্ষমতা পেলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে আর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। (মুহাম্মাদ ৪৭/২২)।

যায়দ ইবন খালিদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর সময় একবার বৃষ্টি হলো। তিনি বললেনঃ আল্লাহ বলছেন, (বৃষ্টি হওয়ার ব্যাপার নিয়ে) আমার বান্দাদের কতক আমার সঙ্গে কুফরী করছে, আর কতক ঈমান এনেছে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার সাক্ষাত পছন্দ করলে আমিও তার সাক্ষাত পছন্দ করি। আর সে আমার সাক্ষাত অপছন্দ করলে, আমিও তার সাক্ষাত অপছন্দ করি।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ বলেনঃ আমার সম্পর্কে আমার বান্দার ধারণার মতই ব্যবহার করে থাকি।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক লোক কোন ভাল আমল করেনি। মৃত্যুর সময় সে বলল, মারা যাওয়ার পর তোমরা তাকে পুড়িয়ে ফেল। আর অর্ধেক স্থলে আর অর্ধেক সাগরে ছড়িয়ে দাও। সে আরো বলল, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ যদি তাকে পেয়ে যান তাহলে অবশ্য অবশ্যই তাকে এমন শাস্তি দেবেন, যা তামাম জগতের আর কাউকে দেবেন না। তারপর আল্লাহ সাগরকে হুকুম দিলে সাগর তাতে যা ছিল তা একত্রিত করল। স্থলকে হুকুম দিলে সেও তাতে যা ছিল তা একত্রিত করল। তারপর আল্লাহ বললেনঃ তুমি কেন এরকম করলে? সে উত্তর করল, তোমার ভয়ে। আর তুমি অধিক জান। এ কারণে আল্লাহ তাকে মাফ করে দিলেন।

আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিতঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, কেউ যদি পাপ করে, তারপর বলে, 'হে আমার রব! আমি পাপ করেছি, আমাকে ক্ষমা করুন!' এবং তার রব বলেন, 'আমার বান্দা জানে যে তার একজন প্রভু আছেন যিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং এর জন্য শাস্তি দেন, তাই আমি আমার বান্দাকে (তার পাপ) ক্ষমা করে দিয়েছি।' অতঃপর সে কিছুক্ষণ কোনো পাপ না করেই থাকে এবং আবার অন্য পাপ করে এবং বলে, 'হে আমার রব, আমি আরেকটি পাপ করেছি, আমাকে ক্ষমা করুন' এবং আল্লাহ বলেন, 'আমার বান্দা জেনেছে যে তার একজন প্রভু আছেন। পাপ ক্ষমা করেন এবং এর জন্য শাস্তি দেন, তাই আমি আমার বান্দাকে (তার গুনাহ) ক্ষমা করে দিয়েছি। তারপর সে কিছুক্ষণের জন্য আর কোনো পাপ না করে থাকে এবং তারপর (তৃতীয়বার) আরেকটি পাপ করে এবং বলে, হে আমার পালনকর্তা, আমি আরেকটি পাপ করেছি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন, এবং আল্লাহ বলেন, 'আমার বান্দা জানে যে তার একজন প্রভু আছেন যিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং এর জন্য শাস্তি দেন তাই আমি আমার বান্দাকে (তার পাপ) ক্ষমা করে দিয়েছি, সে যা খুশি করতে পারে।

আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত: নবী (ﷺ) অতীতের বা আপনার পূর্ববর্তীদের একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। নবী (ﷺ) একটি বাক্য বললেন যার অর্থঃ আল্লাহ তাকে সম্পদ ও সন্তান দান করেছেন। যখন তার মৃত্যু ঘনিয়ে এলো, তখন তিনি তার ছেলেদের বললেন, আমি তোমাদের কেমন পিতা ছিলাম? তারা উত্তর দিল, "আপনি একজন ভাল পিতা ছিলেন।" সে তাদের বলেছিল যে, সে আল্লাহর সামনে কোনো নেক আমল পেশ করেনি, আল্লাহ তাকে পাকড়াও করলে তাকে শাস্তি দেবেন।' "তাহলে দেখুন!" তিনি আরও বলেন, "যখন আমি মরে যাব, আমাকে পুড়িয়ে দিও, এবং যখন আমি কয়লায় পরিণত হব, আমাকে চূর্ণ করে দিও, এবং যখন বাতাসের দিন আসে, তখন আমার ছাই বাতাসে ছড়িয়ে দিও।" রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেন, "অতঃপর আল্লাহর কসম, তিনি তা করার জন্য তার সন্তানদের কাছ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন এবং তারা তা করেছিল। (তার মৃত্যুর পর তারা তাকে পুড়িয়ে ফেলেছিল) এবং একটি বাতাসের দিনে তার ছাই নিক্ষেপ করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তার ছাইকে আদেশ দিলেন। "হও," এবং দেখ! সে মানুষ হয়ে দাড়িয়ে গেল! আল্লাহ বললেন, "হে আমার বান্দা! কিসে তোমাকে তা করতে বাধ্য করেছিল?" তিনি উত্তর দিলেন, "তোমার ভয়ে।" তখন আল্লাহর রহমত ছাড়া আর কিছুই তাকে রক্ষা করেনি (অতএব আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন)।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন যখন আমাকে সুপারিশ করার অনুমতি দেয়া হবে তখন আমি বলব, হে আমার রবব! যার অন্তরে এক সরিষা পরিমাণ ঈমান আছে, তাকে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করাও। তারপর তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। তারপর আমি বলব, তাকেও জান্নাতে প্রবেশ করাও, যার অন্তরে সামান্য ঈমানও আছে। আনাস বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতের আঙুলগুলো যেন এখনো দেখছি।

মাবাদ ইবন হিলাল আল আনাযী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বসরাবাসী কিছু লোক একত্রিত হয়ে আনাস ইবন মালিক-এর কাছে গেলাম। আমাদের সঙ্গে সাবিত-কে নিলাম, যাতে তিনি আমাদের কাছে আনাস হতে বর্ণিত শাফাআত সম্পর্কিত হাদীস জিজ্ঞেস করেন। আমরা তাকে তার মহলেই চাশতের সালাতরত পেলাম। তার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন। তখন তিনি তার বিছানায় উপবিষ্ট অবস্থায় আছেন। অতঃপর আমরা সাবিত-কে অনুরোধ করলাম, তিনি যেন শাফাআতের হাদীসটি জিজ্ঞেস করার পূর্বে অন্য কিছু জিজ্ঞেস না করেন। তখন সাবিত বললেন, হে আবূ হামযাহ! এরা বস্রাবাসী আপনার ভাই, তারা শাফাআতের হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছে। অতঃপর আনাস বললেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ (ﷺ) হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, কিয়ামতের দিন মানুষ সমুদ্রের ঢেউয়ের মত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তাই তারা আদম-এর কাছে এসে বলবে, আমাদের জন্য আপনার রবেবর নিকট সুপারিশ করুন। তিনি বলবেনঃ এ কাজের জন্য আমি নই। বরং তোমরা ইব্রাহীম-এর কাছে যাও। কারণ, তিনি হলেন আল্লাহর খলীল। তখন তারা ইব্রাহীম-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি এ কাজের জন্য নই। তবে তোমরা মূসা-এর কাছে যাও। কারণ তিনি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছেন। তখন তারা মূসা- এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো এ কাজের জন্য নই। তোমরা ঈসা-এর কাছে যাও। কারণ তিনিই আল্লাহর রূহ ও বাণী। তারা তখন ঈসা-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো এ কাজের জন্য নই। তোমরা বরং মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কাছে যাও। এরপর তারা আমার কাছে আসবে। আমি বলব, আমিই এ কাজের জন্য। আমি তখন আমার রবেবর নিকট অনুমতি চাইব। আমাকে অনুমতি দেয়া হবে। আমাকে প্রশংসাসূচক বাক্য ইলহাম করা হবে যা দিয়ে আমি আল্লাহর প্রশংসা করব, যেগুলো এখন আমার জানা নেই। আমি সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে প্রশংসা করব এবং সিজদায় পড়ে যাব। তখন আমাকে বলা হবে, ইয়া মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। তুমি বল, তোমার কথা শোনা হবে। চাও, দেয়া হবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হবে। তখন আমি বলবো, হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মাত! আমার উম্মাত! বলা হবে, যাও, যাদের হৃদয়ে যবের দানা পরিমাণ ঈমান আছে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দাও। আমি গিয়ে এমনই করব। তারপর আমি ফিরে আসব এবং পুনরায় সেসব প্রশংসা বাক্য দ্বারা আল্লাহর প্রশংসা করবো এবং সিজদায় পড়ে যাবো। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। তোমার কথা শোনা হবে। চাও, দেয়া হবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হবে। তখনো আমি বলব, হে আমার রবব! আমার উম্মাত! আমার উম্মাত! তখন বলা হবে, যাও, যাদের এক অণু কিংবা সরিষা পরিমাণ ঈমান আছে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের কর। আমি গিয়ে তাই করব। আমি আবার ফিরে আসব এবং সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করবো। আর সিজদায় পড়ে যাবো। আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। বল, তোমার কথা শোনা হবে। চাও, দেয়া হবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হবে। আমি তখন বলবো, হে আমার রবব, আমার উম্মাত! আমার উম্মাত! এরপর আল্লাহ বলবেন, যাও, যাদের অন্তরে সরিষার দানার চেয়েও অতি ক্ষুদ্র পরিমাণও ঈমান আছে, তাদেরকেও জাহান্নাম থেকে বের করে আন। আমি যাবো এবং তাই করবো। আমরা যখন আনাস-এর নিকট থেকে বের হয়ে আসছিলাম, তখন আমি আমার সঙ্গীদের কোন একজনকে বললাম, আমরা যদি আবূ খলীফার বাড়িতে নিজেকে গোপনে রাখা হাসান বস্রীর কাছে গিয়ে আনাস ইবন মালিক-এর বর্ণিত হাদীসটি তার কাছে বর্ণনা করতাম। এরপর আমরা হাসান বস্রীর কাছে এসে তার কাছে অনুমতি চাওয়ার সালাম দিলাম। তিনি আমাদেরকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। আমরা তাকে বললাম, হে আবূ সাঈদ! আমরা আপনারই ভাই আনাস ইবন মালিক-এর নিকট হতে আপনার কাছে আসলাম। শাফাআত বিষয়ে তিনি যেমন বর্ণনা দিয়েছেন, তেমন বর্ণনা করতে আমরা আর কাউকে দেখিনি। তিনি বললেন, আমার কাছে সেটি বর্ণনা কর। আমরা তাকে হাদীসটি বর্ণনা করে শোনালাম। এরপর আমরা শেষখানে এসে বর্ণনা শেষ করলাম। তিনি বললেন, আরো বর্ণনা কর। আমরা বললাম, তিনি তো এর অধিক আমাদের কাছে বর্ণনা দেননি। তিনি বললেন, জানি না, তিনি কি ভুলেই গেলেন, না তোমরা নির্ভরশীল হয়ে পড়বে বলে বাকীটুকু বর্ণনা করতে অপছন্দ করলেন। বিশ বছর আগে যখন তিনি শক্তি সামর্থ্যে ও স্মরণশক্তিতে দৃঢ় ছিলেন, তখন আমার কাছেও হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন। আমরা বললাম, হে আবূ সাঈদ! আমাদের কাছে হাদীসটি বর্ণনা করুন। তিনি হাসলেন এবং বললেন, মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে, খুব বেশি সত্বরতা প্রিয় করে। আমি তো বর্ণনার উদ্দেশেই তোমাদের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন, আমার কাছেও তা বর্ণনা করেছেন, তবে পরে এটুকুও বলেছিলেন, আমি চতুর্থবার ফিরে আসবো এবং সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করব এবং সিজদায় পড়ে যাবো। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। বল, তোমার কথা শোনা হবে। চাও, দেয়া হবে। শাফাআত কর, গ্রহণ করা হবে। আমি বলব, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাদের সম্পর্কে শাফাআত করার অনুমতি দান কর, যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে। তখন আল্লাহ বলবেন, আমার ইয্যত, আমার পরাক্রম, আমার বড়ত্ব ও আমার মহত্ত্বের শপথ! যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করব।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সবশেষে জান্নাতে প্রবেশকারী এবং জাহান্নাম থেকে সর্বশেষে পরিত্রাণ পাওয়া লোকটি জাহান্নাম থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে আসবে। তার রব্ব তাকে বলবেন, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলবে, হে আমার রব্ব! জান্নাত তো পরিপূর্ণ! আল্লাহ এভাবে তাকে তিনবার বলবেন। প্রত্যেকবারই সে উত্তর দেবে, জান্নাত তো পরিপূর্ণ। পরিশেষে আল্লাহ তাকে বলবেন, তোমার জন্য আছে এ পৃথিবীর চেয়ে দশ গুণ (বড়)।

আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তার রব অতি সত্বর কথা বলবেন। তার ও আল্লাহর মাঝখানে কোন তর্জমাকারী থাকবে না। এরপর সে তাকাবে ডান দিকে, তখন তার আগের আমল ব্যতীত সে আর কিছু দেখবে না। আবার তাকাবে বাম দিকে, তখনো আগের আমল ব্যতীত আর কিছু সে দেখবে না। আর সামনে তাকাবে তখন সে জাহান্নাম ব্যতীত আর কিছুই দেখতে পাবে না। কাজেই জাহান্নামকে ভয় কর এক টুকরো খেজুরের বিনিময়ে হলেও।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী বিদ্বান নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বললো, কিয়ামতের দিন আল্লাহ আসমানসমূহকে এক আঙ্গুলে, পৃথিবীকে এক আঙ্গুলে, পানি ও কাদামাটি এক আঙ্গুলে এবং বাকী সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলে উঠিয়ে ঝাঁকুনি দিয়ে বলবেন, আমিই রাজাধিরাজ, আমিই রাজাধিরাজ। আমি তখন নবী (ﷺ)-কে দেখলাম, তিনি তার কথার সমর্থনে তাজ্জব হয়ে এমনভাবে হাসলেন যে, তার মাড়ির দাতগুলো প্রকাশিত হয়ে পড়ল। অতঃপর নবী (ﷺ) কুরআনের বাণী পড়লেনঃ "তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা উপলব্ধি করেনি"- (আনআম ৬/৯১)। "কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী তার হাতের মুষ্ঠিতে থাকবে, আর আকাশমন্ডলী থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তার ডান হাতে। মাহাত্ম্য তারই, তারা যাদেরকে তার শারীক করে তিনি তাদের বহু ঊর্ধ্বে।"- (আয্ যুমার ৩৯/৬৭)।

সাফওয়ান ইবন মুহরিয হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক ইবন উমার-কে জিজ্ঞেস করল, আল্লাহর সঙ্গে বান্দার গোপন কথাবার্তা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আপনি কী বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, তোমাদের কেউ তার রবেবর নিকটবর্তী হলে তিনি তার ওপর রহমতের ছায়া বিস্তার করে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি কি এ কাজ করেছ? সে বলল, হ্যা। আল্লাহ আবারো জিজ্ঞেস করবেন, তুমি কি এ কাজ করেছ? সে তখনো বলবে, হ্যা। আল্লাহ এভাবে তার স্বীকারোক্তি নেবেন। তারপর আল্লাহ বলবেন, আমি দুনিয়ায় তোমার ওসব কাজ গোপন রেখেছিলাম। আমি আজকেও তোমার জন্য তা ক্ষমা করে দিলাম।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আদম ও মূসা বিতর্ক করলেন। মূসা বললেন, আপনি সেই আদম, যিনি নিজ সন্তানদের জান্নাত থেকে বের করে দিলেন। আদম বললেন, আপনি হচ্ছেন সেই মূসা, যাকে আল্লাহ রিসালাত দিয়ে সম্মানিত করলেন এবং যার সঙ্গে কথা বলে তার মর্যাদাকে বাড়িয়ে দিলেন। আপনি এমন একটি ব্যাপারে কেন আমাকে অভিযুক্ত করছেন, আমাকে পয়দা করারও আগে যেটি নির্ধারিত হয়ে গেছে। এভাবে আদম মূসা-এর ওপর বিজয়ী হলেন।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন ঈমানদারদেরকে একত্রিত করা হবে। তখন তারা বলবে, আমরা যদি আমাদের রবেবর কাছে সুপারিশ নিয়ে যাই তাহলে তিনি আমাদেরকে এ জায়গাটি থেকে স্বস্তি দিবেন। তখন তারা আদম-এর কাছে এসে আবেদন জানাবে, আপনি মানব বংশের পিতা আদম। আল্লাহ আপনাকে সৃষ্টি করেছেন আপন হাতে। এবং তার ফেরেশ্তাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা করিয়েছেন। আর সব জিনিসের নাম আপনাকে শিখিয়েছেন। তাই আপনি আমাদের রবেবর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন, তিনি যেন আমাদের স্বস্তি দেন। তখন আদম তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। তারপর তিনি তাদের কাছে নিজের সে ভুলের কথা বলবেন, যা তিনি করেছিলেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এক রাতে কাবার মাসজিদ থেকে সফর করানো হয়। বিবরণটি হচ্ছে, নবী (ﷺ)-এর কাছে এ বিষয়ে ওয়াহী পাঠানোর আগে তার কাছে তিনজন ফেরেশতার একটা জামা'আত আসল। অথচ তখন তিনি মাসজিদুল হারামে ঘুমিয়ে ছিলেন। এদের প্রথম জন বলল, তিনি কে? মধ্যের জন বলল, তিনি এদের সব চেয়ে ভাল লোক। সর্বশেষ জন বলল, তা হলে তাদের সব চেয়ে ভাল লোকটিকেই নিয়ে চল। সে রাতের ঘটনা এতটুকুই। এ জন্য তিনি আর তাদেরকে দেখেননি। শেষে তারা অন্য এক রাতে আসলেন, যা তিনি অন্তর দ্বারা দেখছিলেন। তার চোখ ঘুমায়, অন্তর ঘুমায় না। সে রকম অন্য নবীগণের চোখ ঘুমিয়ে থাকে, অন্তর ঘুমায় না। এ রাতে তারা তার সঙ্গে কোন কথা না বলে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যমযম কূপের কাছে রাখলেন। জিবরীল তার সাথীদের থেকে নবী (ﷺ)-এর দায়িত্ব নিলেন। জিবরীল তার গলায় নিচ হতে বুক পর্যন্ত বিদীর্ণ করলেন এবং তার বুক ও পেট থেকে সবকিছু নেড়েচেড়ে যমযমের পানি দ্বারা নিজ হাতে ধৌত করেন। সেগুলোকে পরিস্কার করলেন, তারপর সোনার একটি তশ্তরী আনা হল। এবং তাতে ছিল একটি সোনার পাত্র যা পরিপূর্ণ ছিল ঈমান ও হিক্মাতে। তার বুক ও গলার রগগুলো এর দ্বারা পূর্ণ করলেন। তারপর সেগুলো যথাস্থানে রেখে বন্ধ করে দিলেন। তারপর তাকে নিয়ে পৃথিবীর আসমানের দিকে উঠলেন। আসমানের দরজাগুলো হতে একটি দরজাতে নাড়া দিলেন। ফলে আসমানবাসীগণ তাকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এ কে? তিনি উত্তরে বললেন, জিব্রীল। তারা আবার জিজ্ঞেস করলেন, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, আমার সঙ্গে মুহাম্মাদ (ﷺ)। জিজ্ঞেস করলেন, তার কাছে কি দূত পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যা। তখন তারা বললেন, মারহাবান ওয়া আহলান (আপনাকে ধন্যবাদ, আপনি আপনজনের মধ্যে এসেছেন)। তার আগমনে আসমানবাসীরা খুবই আনন্দিত। আল্লাহ যমীনে কী করতে চাচ্ছেন, তা আসমানবাসীদেরকে না জানানো পর্যন্ত তারা জানতে পারে না। দুনিয়ার আসমানে তিনি আদম-কে পেলেন। জিবরীল তাকে দেখিয়ে বললেন, তিনি আপনার পিতা, তাকে সালাম দিন। নবী (ﷺ) তাকে সালাম দিলেন। আদম তার সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, মারহাবান ওয়া আহলান হে আমার পুত্র! তুমি আমার কতইনা উত্তম পুত্র। নবী (ﷺ) দু'টি প্রবহমান নদী দুনিয়ার আসমানে দেখলেন। জিজ্ঞেস করলেন, এ নদী দু'টি কোন নদী হে জিবরীল! জিবরীল বললেন, এ দু'টি হলো নীল ও ফুরাতের মূল। এরপর জিবরীল নবী (ﷺ)-কে সঙ্গে নিয়ে এ আসমানে ঘুরে বেড়ালেন। তিনি আরো একটি নদী দেখলেন। এর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল মোতি ও জাবারজাদের তৈরি একটি প্রাসাদ। নবী (ﷺ) নদীতে হাত মারলেন। সেটা ছিল অতি উন্নতমানের মিস্ক। তিনি বললেন, হে জিব্রীল! এটি কী? জিবরীল বললেন, হাউযে কাউসার। যা আপনার রব আপনার জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন। তারপর তিনি নবী (ﷺ)-কে সঙ্গে করে দ্বিতীয় আসমানে গেলেন। প্রথম আসমানের ফেরেশ্তাগণ তাকে যা বলেছিলেন এখানেও তা বললেন। তারা জানতে চাইল, তিনি কে? তিনি বললেন, জিবরীল! তারা বললেন, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (ﷺ)। তারা বললেন, তার কাছে কি দূত পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যা। তারা বললেন, মারহাবান ওয়া আহলান। তারপর নবী (ﷺ)-কে সঙ্গে করে তিনি তৃতীয় আসমানের দিকে গেলেন। প্রথম ও দ্বিতীয় আসমানের ফেরেশতারা যা বলেছিলেন, তৃতীয় আসমানের ফেরেশতারাও তাই বললেন। তারপর তাকে সঙ্গে করে তিনি চতুর্থ আসামনের দিকে গেলেন। তারাও তাকে আগের মতই বললেন। তারপর তাকে নিয়ে তিনি পঞ্চম আসমানে গমন করলেন। তারাও পূর্বের মতো বললেন। এরপর তিনি তাকে নিয়ে ষষ্ঠ আসমানের দিকে গেলেন। সেখানেও ফেরেশতারা আগের মতই বললেন। সর্বশেষে তিনি নবী (ﷺ)-কে নিয়ে সপ্তম আসমানে গেলে সেখানেও ফেরেশ্তারা তাকে আগের ফেরেশতাদের মতো বললেন। প্রত্যেক আসমানেই নবীগণ রয়েছেন। নবী (ﷺ) নাম উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে আমি সংরক্ষিত করেছি যে, দ্বিতীয় আসমানে ইদরীস, চতুর্থ আসমানে হারুন, পঞ্চম আসমানে অন্য একজন নবী, যার নাম আমি স্মরণ রাখতে পারি নি। ষষ্ঠ আসমানে রয়েছে ইব্রাহীম এবং আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার মর্যাদার কারণে মূসা আছেন সপ্তম আসমানে। সে সময় মূসা বললেন, হে আমার রবব। আমি তো ধারণা করিনি আমার ওপর কাউকে উচ্চমর্যাদা দান করা হবে। তারপর নবী (ﷺ)-কে এত উপরে উঠানো হলো, যে ব্যাপারে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউই জানে না। শেষে তিনি 'সিদরাতুল মুনতাহায়' পৌছলেন। এখানে প্রবল পরাক্রমশালী আল্লাহ তার নিকটবর্তী হলেন। অতি নিকটবর্তীর ফলে তাদের মাঝে দু'ধনুকের ফারাক রইল অথবা তারও কম। তখন আল্লাহ তার প্রতি ওয়াহী পাঠালেন। তার উম্মাতের উপর রাত ও দিনে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের কথা ওয়াহীযোগে পাঠানো হলো। তারপর নবী (ﷺ) নামলেন। আর মূসার কাছে আসলে মূসা তাকে আটকিয়ে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনার রব আপনাকে কী নির্দেশ দিলেন? নবী (ﷺ) বললেন, রাত ও দিনে পঞ্চাশ বার সালাত আদায়ের। তখন মূসা বললেন, আপনার উম্মাত তা আদায় করতে পারবে না। কাজেই আপনি ফিরে যান, তাহলে আপনার রব আপনার এবং আপনার উম্মাত হতে এ আদেশটি সহজ করে দেবেন। তখন নবী (ﷺ) জিবরীল এর দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন তিনি এ ব্যাপারে তার থেকে পরামর্শ চাচ্ছিলেন। জিবরাঈল তাকে ইশারায় বললেন হ্যা, আপনি ইচ্ছে করলে তা হতে পারে। তাই তিনি নবী (ﷺ)-কে নিয়ে প্রথমে আল্লাহর কাছে গেলেন। তারপর নবী (ﷺ) যথাস্থানে থেকে বললেন, হে আমার রবব! আমার উম্মাত এটি আদায় করতে পারবে না। তখন আল্লাহ দশ ওয়াক্ত সালাত কমিয়ে দিলেন। এরপর মূসা-এর কাছে ফিরে আসলে তিনি তাকে থামালেন। এভাবেই মূসা তাকে তার রবেবর কাছে পাঠাতে থাকলেন। শেষে পাচ ওয়াক্ত বাকী থাকল। পাচ সংখ্যায়ও মূসা তাকে থামিয়ে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি আমার বনী ইসরাঈল কাওমের কাছে এটা হতেও সামান্য কিছু পেতে চেয়েছি। তবু তারা দুর্বল হয়েছে এবং পরিত্যাগ করেছে। অথচ আপনার উম্মাত শারীরিক, মানসিক, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি সব দিক দিয়ে আরো দুর্বল। কাজেই আপনি আবার যান এবং আপনার রব থেকে আদেশটি আরো সহজ করে আনুন। প্রতিবারই নবী (ﷺ) পরামর্শের জন্য জিবরাঈলের দিকে তাকাতেন। পঞ্চমবারেও জিবরীল তাকে নিয়ে যাত্রা করলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আমার রবব! আমার উম্মাতের শরীর, মন, শ্রবণশক্তি ও দেহ খুবই দুর্বল। তাই আদেশটি আমাদের থেকে আরো সহজ করে দিন। এরপর পরাক্রমশালী আল্লাহ বললেনঃ মুহাম্মাদ! নবী (ﷺ) বললেন, আমি আপনার নিকট উপস্থিত, বারবার উপস্থিত। আল্লাহ বললেন, আমার কথার কোন পরিবর্তন পরিবর্ধন হয় না। আমি তোমাদের উপর যা ফরজ করেছি তা 'উম্মুল কিতাব' তথা লাওহে মাহ্ফুযে সংরক্ষিত আছে। প্রতিটি নেক আমলের দশটি নেকী রয়েছে। উম্মুল কিতাবে সালাত পঞ্চাশ ওয়াক্তই লেখা আছে। তবে আপনার ও আপনার উম্মাতের জন্য তা পাচ ওয়াক্ত করা হলো। এরপর নবী (ﷺ) মূসার কাছে ফিরে আসলে মূসা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কী ব্যবস্থা নিয়ে এসেছেন? নবী (ﷺ) বললেন, আল্লাহ আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে প্রতিটি নেক আমলের বদলে দশটি সাওয়াব নির্ধারিত করেছেন। তখন মূসা বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি বনী ইসরাঈলের নিকট হতে এর চেয়েও অল্প জিনিসের আশা করেছি। কিন্তু তারা তাও আদায় করেনি। আপনার রবেবর কাছে আপনি আবার ফিরে যান, যেন তিনি আরো একটু কমিয়ে দেন। এবার নবী (ﷺ) বললেন, হে মূসা, আল্লাহর শপথ! আমি আমার রবেবর কাছে বারবার গেছি। আবার যেতে লজ্জাবোধ করছি, যেন তার সঙ্গে মতভেদ করছি। এরপর মূসা বললেন, নামতে পারেন আল্লাহর নামে। এ সময় নবী (ﷺ) জাগ্রত হলেন, দেখলেন, তিনি মসজিদে হারামে আছেন।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ জান্নাতবাসীদেরকে বলবেন, হে জান্নাতীগণ! তখন জান্নাতীগণ বলবেন, হে আমাদের রবব! আমরা উপস্থিত, আপনার কাছে উপস্থিত হতে পেরে আমরা ভাগ্যবান। আপনার হাতেই কল্যাণ। আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট? তারা বললেন, হে আমাদের রবব! আমরা কেন সন্তুষ্ট হব না? আপনি আর কোন সৃষ্টিকে যা দান করেননি, তা আমাদেরকে দান করেছেন। তখন আল্লাহ বলবেন, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম বস্ত্ত দান করব না? তারা বলবেন, হে রবব! এর চেয়ে উত্তম বস্তু কোনটি? আল্লাহ বলবেন, তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টি বিধিবদ্ধ করলাম। অতঃপর আমি তোমাদের উপর কক্ষনো অসন্তুষ্ট হবো না।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একবার আলোচনায় রত ছিলেন। তখন তার নিকট একজন গ্রাম্য লোকও উপস্থিত ছিল। নবী (ﷺ) বলছিলেন, একজন জান্নাতবাসী অনুমতি চাইবে কৃষিকাজ করার জন্য। আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি যা চাও তা কি পাওনি? সে বলবে, হ্যা, পেয়েছি। তবে আমি কৃষিকাজ করতে ভালবাসি। অতি সত্বর ব্যবস্থা করা হবে। এই বীজ বোনা হবে। তক্ষুণি নিমিষে চারা গজাবে, সোজা হয়ে দাড়াবে এবং তা কাটা হবে আর তা পাহাড় সমান স্ত্তপ করা হবে। আল্লাহ তখন বলবেন, হে আদম সন্তান! লও। কারণ, তোমাকে কোন কিছুই পরিতৃপ্ত করবে না। তখন বেদুঈন লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ লোকটিকে আপনি কুরাইশী কিংবা আনসারী পাবেন। কারণ, তারা হলেন কৃষিজীবী। আর আমরা কৃষিজীবী নই! এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে দিলেন।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে কোন গুনাহটি সবচেয়ে বড়? তিনি বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে শারীক করা। অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এটি অবশ্যই বড় গুনাহ। এরপর কোনটি? তিনি বললেনঃ তোমার সন্তান তোমার সঙ্গে খাবে এ ভয়ে তাকে হত্যা করা। আমি বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করা।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন বায়তুল্লাহর নিকট একত্রিত হলো দু'জন সাকাফী ও একজন কুরাইশী অথবা দু'জন কুরাইশী ও একজন সাকাফী। তাদের পেটে চর্বি ছিল বেশি, কিন্তু তাদের অন্তরে বুঝার ক্ষমতা ছিল কম। তাদের একজন বলল, তোমাদের অভিমত কী? আমরা যা বলছি আল্লাহ কি সবই শুনতে পান? দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, হ্যা শোনেন, যদি আমরা উচ্চস্বরে বলি। আমরা চুপি চুপি বললে তিনি শোনেন না। তৃতীয় জন বলল, যদি তিনি উচ্চস্বরে বললে শোনেন, তবে নিচু স্বরে বললেও শুনবেন। এরই প্রক্ষিতে আল্লাহ নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করলেনঃ "(দুনিয়ায় নিজেদের শরীরের অংশগুলোকে তোমরা) এই ভেবে গোপন করতে না যে, না তোমাদের কান, না তোমাদের চোখ আর না তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে...." (ফুস্সিলাত ৪১/২২)।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা আহলে কিতাবদেরকে তাদের কিতাব সম্পর্কে কেমন করে প্রশ্ন করতে পার? অথচ তোমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব আছে যা অন্যান্য আসমানী কিতাবের তুলনায় আল্লাহর নিকট অগ্রগণ্য, যা তোমরা (হর-হামেশা) পাঠ করছ, যা পরিপূর্ণ খাঁটি, যাতে ভেজালের লেশ মাত্র নেই।

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে মুসলিম সমাজ! তোমরা কী করে আহলে কিতাবদেরকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস কর? অথচ তোমাদের যে কিতাব যেটি আল্লাহ তোমাদের নবীর ওপর নাযিল করেছেন, তা আল্লাহর কিতাবগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা উপযোগী। যা সনাতন ও নির্ভেজাল। অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে বলে দিয়েছেন, আহলে কিতাবগণ আল্লাহর কিতাবগুলোকে বদলে ফেলেছে, পাল্টে দিয়েছে এবং এরা নিজ হাতে লিখে দাবি করছে এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এর দ্বারা তারা তুচ্ছ সুবিধা লুটতে চায়। তোমাদের কাছে যে ইল্ম আছে, তা কি তোমাদেরকে তাদের কাছে কিছু জিজ্ঞেস করা থেকে বাধা দিচ্ছে না? আল্লাহর শপথ! তাদের কাউকে তোমাদের ওপর নাযিলকৃত বিষয় সম্পর্কে কখনো জিজ্ঞেস করতে আমি দেখি না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ "কুরআনের কারণে আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না', এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, ওয়াহী নাযিল হওয়া শুরু হলে নবী (ﷺ) খুবই কষ্টের অবস্থার সম্মুখীন হতেন, যে কারণে তিনি তার ঠোঁট দুটি নাড়াতেন। বর্ণনাকারী বলেন, ইবন আব্বাস আমাকে বললেন, আমি তোমাকে বোঝানোর জন্য ঠোঁট দু'টি সেভাবে নাড়ছি, যেভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে দু'টো নেড়েছিলেন। এরপর বর্ণনাকারী সাঈদ বললেন, আমিও ঠোঁট দু'টি তেমনি নেড়ে দেখাচ্ছি, যেমনি ইবন আব্বাস নেড়ে আমাকে দেখিয়েছিলেন। তিনি তার ঠোঁট দু'টি নাড়লেন। এ অবস্থায় আল্লাহ নাযিল করলেনঃ "তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহবা দ্রুততার সঙ্গে চালিত করো না, এর সংরক্ষণ ও পাঠ করাবার দায়িত্ব আমারই"- (আল-কিয়ামহ ৭৫/১৬-১৭)। তিনি বলেন, এর অর্থ আপনার বুকে এভাবে সংরক্ষণ করা, যেন পরে তা পড়তে সক্ষম হন। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তুমি সে পাঠের অনুসরণ কর- (আল-কিয়ামাহ ৭৫/১৮)। এর অর্থ হচ্ছে আপনি তা শুনুন এবং চুপ থাকুন। এরপর আপনি কুরআন পাঠ করবেন সে দায়িত্ব আমাদের উপর। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ)-এর কাছে জিব্রীল যখন আসতেন, তিনি তখন মনোযোগ সহকারে তা শুনতেন। জিব্রীল চলে গেলে তিনি ঠিক তেমনি পাঠ করতেন, যেমনি তাকে পাঠ করানো হয়েছিল।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণীঃ তোমার সালাতে স্বর উচ্চ করো না, আর তা খুব নীচুও করো না..... (ইসরা ১৭/১১০)। এ প্রসঙ্গে বলেন, এ আদেশ যখন নাযিল হল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় গোপনে অবস্থান করতেন। অথচ তিনি যখন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন, কুরআন উচ্চস্বরে পড়তেন। মুশরিকরা এ কুরআন শুনলে কুরআন, কুরআনের নাযিলকারী আর যিনি এনেছেন সবাইকে গালমন্দ করত। এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তার নবী (ﷺ)-কে বলে দিলেন, আপনার সালাতকে এমন উচ্চস্বরে করবেন না আপনার কিরাআতকে। তাহলে মুশরিকরা শুনতে পেয়ে কুরআন সম্পর্কে গালমন্দ করবে। আর এ কুরআন আপনার সাহাবীদের কাছে এত ক্ষীণ শব্দেও পড়বেন না, যাতে আপনার কিরাআত তারা শুনতে না পায়। বরং এ দু'য়ের মাঝামাঝি পথ অবলম্বন করুন। (17.110)

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "তোমার সালাতে স্বর উচ্চ করো না, আর তা খুব নীচুও করো না" এ আয়াতটি দোয়া সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক সুন্দর আওয়াজে কুরআন পড়ে না, সে আমাদের নয়। আবূ হুরাইরাহ ব্যতীত অন্যরা 'উচ্চস্বরে কুরআন পড়ে না' কথাটুকু বৃদ্ধি করেছেন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দু'টি বিষয় ব্যতীত হিংসা করা যায় না। এক ব্যক্তি হচ্ছে, আল্লাহ যাকে কুরআন দান করেছেন, আর সে দিনরাত তা তিলাওয়াত করে। অন্য লোকটি বলে, এ লোকটিকে যা দেয়া হয়েছে, আমাকে যদি তেমন দেয়া হতো, তাহলে আমিও তেমন করতাম, সে যেমন করছে। আরেক লোক হচ্ছে সে, যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন। ফলে সে তা যথাযথভাবে ব্যয় করছে। তখন অন্য লোক বলে, একে যা দেয়া হয়েছে, আমাকেও যদি তেমন দেয়া হতো, আমিও তাই করতাম, যা সে করছে।

সালিম তার পিতা সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একমাত্র দু'টি বিষয়েই হিংসা করা যায়। একজন হচ্ছে, যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন, আর সে তা রাতদিন তিলাওয়াত করে, আরেকজন হল, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন আর সে রাতদিন তা ব্যয় করে।

মুগীরাহ বলেন। আমাদের নবী (ﷺ) আমাদেরকে আমাদের রবেবর বার্তা সম্পর্কে জানিয়েছেন যে আমাদের মধ্য থেকে যে, নিহত হবে, সে জান্নাতে চলে যাবে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাকে যে বলবে, নবী (ﷺ) (ওয়াহীর) কিছু বিষয় গোপন করেছেন। মুহাম্মাদ বলেন ... আয়িশাহ বলেছেন, যে লোক তোমার কাছে বলে নবী (ﷺ) ওয়াহীর কোন কিছু গোপন করেছেন, তাকে তুমি সত্যবাদী মনে করো না। আল্লাহ বলেনঃ হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার কর- (আল-মায়িদাহ ৫/৬৭)।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে কোন গুনাহটি সব চেয়ে বড়? তিনি বললেনঃ আল্লাহর বিপরীতে কাউকে ডাকা অথচ তিনিই (আল্লাহ) তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সে বলল, এরপর কোনটি? তিনি বললেনঃ এরপর তোমার সঙ্গে আহার করবে এ ভয়ে (তোমার) সন্তানকে হত্যা করা। সে বলল, এরপর কোনটি? তিনি বললেনঃ এরপর তোমাদের প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করা। এরই সমর্থনে আল্লাহ নাযিল করলেনঃ তারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডাকে না। আর যথার্থতা ব্যতীত কোন প্রাণ হত্যা করে না যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন আর তারা ব্যভিচার করে না। আর যে এগুলো করে সে শাস্তির সাক্ষাৎ লাভ করবে। তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে .... (আল-ফুরক্বান ২৫/৬৮)।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পূর্বের উম্মাতদের তুলনায় তোমাদের অবস্থানকালের দৃষ্টান্ত হচ্ছে, আসরের সালাত এবং সূর্যাস্তের মাঝের সময়টুকু। তাওরাতধারীদেরকে তাওরাত দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক আমল করল। এ ভাবে দুপুর হয়ে গেল এবং তারাও দুর্বল হয়ে পড়ল। তাদেরকে এক কীরাত করে মজুরী দেয়া হল। তারপর ইঞ্জিল ধারীদেরকে ইঞ্জিল দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক আমল করল। এ অবস্থায় আসরের সালাত আদায় করা হল। তারাও ক্লান্ত হয়ে গেল। তারপর তাদেরকেও এক কীরাত করে দেয়া হল। শেষে তোমাদেরকে কুরআন দেয়া হয়। তোমরা সে মোতাবেক আমল করেছ। এ অবস্থায় সূর্য ডুবে গেল। আর তোমাদেরকে দেয়া হল দু'কীরাত করে। ফলে কিতাবীগণ বলল, এরা তো আমাদের তুলনায় কাজ করল কম, অথচ মজুরী পেল বেশী। এতে আল্লাহ বললেন, তোমাদের হকের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কোন যুলুম করা হয়েছে কি? এরা বলবে, না। আল্লাহ বললেনঃ এটা আমার অনুগ্রহ, তা আমি যাকে চাই তাকে দিয়ে থাকি।

ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। এক লোক (সাহাবী) নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেনঃ যথা সময়ে সালাত আদায় করা, মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা, অতঃপর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।

আমর ইবন তাগলিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর কাছে কিছু মাল এল। এ থেকে তিনি এক দলকে দিলেন। অন্য দলটিকে দিলেন না। অতঃপর তার কাছে এ খবর পৌছল যে, যারা পেলো না তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে। এতে তিনি বললেনঃ আমি একজনকে দেই আবার অন্য জনকে দেই না। কিন্তু যাকে আমি দেই না, সে-ই আমার কাছে বেশী প্রিয় যাকে দেই তার থেকে। এমন কিছু কাওমকে আমি দেই, যাদের হৃদয়ে আছে অস্থিরতা ও দ্বনদ্ব। আর কিছু কাওমকে আমি মাল না দিয়ে তাদের হৃদয়ে আল্লাহ যে অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যাণ রেখেছেন তার উপর সোপর্দ করি। এদেরই একজন হলেন, আমর ইবন তাগলিব। আমর বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ কথার বিনিময়ে আমি একপাল লাল রং এর উটের মালিক হওয়াও অধিক পছন্দ করি না।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তার প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমার বান্দা যখন আমার দিকে এক বিঘত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হই। আর সে যখন আমার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে দু'হাত নিকটবর্তী হই। সে যদি আমার দিকে হেটে আসে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একাধিকবার বর্ণনা করেছেন যে, (আল্লাহ বলেন) : আমার বান্দা যদি আমার দিকে এক বিঘত নিকটবর্তী হয়, আমি তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হই। আর সে যদি আমার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয়, আমি তার দিকে দু হাত নিকটবর্তী হই।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) তোমাদের প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ প্রতিটি আমলের কাফ্ফারা রয়েছে, সে সব আমলের ত্রুটি দূর করার জন্য। কিন্তু সওম আমার জন্যই, এতে লোক দেখানোর কিছু নেই, তাই আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। সওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিস্‌কের চেয়েও বেশি সুগন্ধময়।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তার প্রতিপালকের নিকট হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ বলেনঃ কোন বান্দার জন্য এ দাবী করা শোভনীয় নয় যে, সে ইউনুস ইবন মাত্তার চেয়ে ভাল। এখানে ইউনুস-কে তার পিতার দিকে সম্পর্কযুক্ত করা হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল আলমুযানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তার উটনীর উপর বসা অবস্থায় সূরাহ ফাত্হ কিংবা সূরা ফাতহের কিছু অংশ পড়তে দেখেছি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তারজীসহ তা পাঠ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, মু'আবিয়া ইবন মুগাফ্ফালের কিরাআত নকল করে পড়ছিলেন। তিনি বললেন, যদি তোমাদের কাছে লোকের ভিড় করার ভয় না হত, তাহলে আমিও তারজী করে ঠিক ঐভাবে পাঠ করতাম, যেভাবে ইবন মুগাফফাল নবী (ﷺ)-এর কিরাআত নকল করে তারজীসহ পাঠ করেছিলেন। তারপর আমি মুআবীয়াহ-কে বললাম, তার তারজী কেমন ছিল? তিন বললেন, আ, আ, আ, তিনবার।

ইবন আব্বাস বলেন, আবূ সুফ্ইয়ান ইবন হারব আমাকে এ খবর দিয়েছেন, হিরাক্লিয়াস তার তর্জমাকারীকে ডাকলেন। তারপর তিনি নবী (ﷺ)-এর চিঠিখানা আনার জন্য হুকুম করলেন এবং তা পড়লেন। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম- আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে হিরাক্লিয়াসের প্রতি এ চিঠি পাঠানো হল। তাতে আরও লেখা ছিল: হে আহলে কিতাব! এমন এক কথার দিকে আসো, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই। (3:64)

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাব তাওরাত হিব্রু ভাষায় পাঠ করত, আর মুসলিমদের জন্য আরবী ভাষায় এর ব্যাখ্যা করত। এ প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কিতাবধারীদেরকে তোমার বিশ্বাস করো না আবার তাদেরকে মিথ্যেবাদী সাব্যস্তও করো না। বরং তোমরা বল, 'আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে।' (বাকারাহ ২/১৩৬)

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু'জন ইয়াহূদী নারী-পুরুষকে নবী (ﷺ)-এর কাছে আনা হলো। তারা যিনা করেছিল। এরপর নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা ইয়াহূদীর এদের সাথে কী আচরণ করে থাক? তারা বলল, আমরা এদের মুখ কালো করি ও লাঞ্ছিত করি। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তাওরাত নিয়ে এসো, এবং তা পাঠ কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা তাওরাত নিয়ে আসল এবং তাদেরই ইচ্ছেমত এক লোককে ডেকে বলল, হে আওয়ার! তুমি পাঠ কর। সে পাঠ করতে লাগল, শেষে এক স্থানে এসে সে তাতে আপন হাত রেখে দিল। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমার হাতটি উঠাও। সে হাত উঠাল। তখন যিনার শাস্তি পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা আয়াতটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। তিলাওয়াতকারী বলল, হে মুহাম্মাদ! এদের মাঝে শাস্তি আসলে রজমই, কিন্তু আমরা তা গোপন করছিলাম। নবী (ﷺ) তাদেরকে রজম করার হুকুম দিলে তাদেরকে রজম করা হল। বর্ণনাকারী বলেন, যিনাকারী পুরুষটিকে স্ত্রী লোকটির উপর ঝুকে পড়ে তাকে পাথর থেকে রক্ষার চেষ্টা করতে দেখেছি।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ উচ্চস্বরে সুমধুর কন্ঠে কুরআন তিলাওয়াতকারী নবীর প্রতি যত সন্তোষ প্রকাশ করেন, অন্য কোন কিছুর প্রতি তত সন্তোষ প্রকাশ করেন না।

ইবন শিহাব হতে বর্ণিত। অপবাদকারীরা যখন তার উপর অপবাদ দিয়েছিল। ইবন শিহাব বলেন, বর্ণনাকারীদের একেকজন সে সম্পর্কে আমার কাছে হাদীসের একেক অংশের বর্ণনা দিয়েছেন। আয়িশাহ বলেন, এর ফলে আমি আমার বিছানায় শুয়ে পড়লাম। অথচ আমি তখন জানি, আমি নির্দোষ পবিত্র এবং আল্লাহ আমাকে নির্দোষ বলে প্রমাণ করবেন। আল্লাহর শপথ! কিন্তু আমার মর্যাদা আমার কাছে এমন যোগ্য ছিল না যে, এ ব্যাপারে ওয়াহীই অবতীর্ণ করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। আমার মর্যাদা আমার কাছে এর চেয়ে তুচ্ছ ছিল যে, আল্লাহ আমার সম্পর্কে এমন কোন কালাম করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ নাযিল করলেনঃ যারা এমন জঘন্য অপবাদ এনেছে ..... পুরো দশটি আয়াত(আন্-নূর ২৪/১১-২০)।

বারাআ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে এশার সালাতে 'সূরা আত-তিন' পড়তে শুনেছি। স্বর কিংবা কিরআতের দিক থেকে তার চেয়ে সুন্দর আমি আর কাউকে দেখিনি।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মক্কায় লুকিয়ে থাকতেন। আর তিনি উচ্চস্বরে (তিলাওয়াত) করতেন। যখন তা মুশরিক্রা শুনল, তারা কুরআন ও তার বাহককে গালমন্দ করল। এ অবস্থায় আল্লাহ তার নবী (ﷺ) কে জানিয়ে দিলেন, আপনি আপনার সালাতে কুরআন উচ্চস্বরেও পড়বেন না এবং খুব চুপে চুপেও পড়বেন না। (17.110)

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবূ স'স'আহ-কে বললেন, আমি তোমাকে দেখেছি, তুমি বক্রীপাল ও ময়দানকে ভালবাস। সুতরাং তুমি যখন বক্রীর পাল কিংবা ময়দানে থাকবে, তখন সালাতের জন্য উচ্চস্বরে আযান দেবে। কারণ মুআয্যিনের আযানের স্বর যতদূর পৌছবে, তত দূরের জ্বিন, ইনসান, অন্যান্য জিনিস যারাই শুনবে, কিয়ামতের দিন তারা তার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেবে। আবূ সাঈদ বলেন, আমি এটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন কুরআন পড়তেন তখন তার মাথা থাকত আমার কোলে যদিও আমি থাকতাম ঋতুমতী।

মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ ও আবদুর রহমান ইবন আবদুল ক্বারী হতে বর্ণিত। তারা উভয়ে উমার ইবন খাত্তাব-কে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবিত অবস্থায় আমি হিশাম ইবন হাকীম-কে (সালাতে) সূরায়ে ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনেছি। আমি একাগ্রমনে তার তিলাওয়াত শুনছিলাম। তিনি এমন অনেকগুলো শব্দ তিলাওয়াত করছিলেন, যেগুলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তিলাওয়াত করাননি। এতে আমি তাকে সালাতের অবস্থায় ধরে ফেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সালাম ফেরানো অবধি আমি ধৈর্য ধরলাম। তারপর আমি তার চাদর দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলাম। আর বললাম, আমি তোমাকে যে সূরা পাঠ করতে শুনলাম, তা তোমাকে কে শিখিয়েছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। আমি বললাম, তুমি মিথ্যে বলেছ, তিনি আমাকে শিখিয়েছেন, তবে তোমার কিরাআতের মত নয়। তারপর আমি তাকে টেনে টেনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে চললাম। এরপর আমি বললাম, আমি শুনলাম একে ভিন্ন শব্দ দ্বারা সূরাহ ফুরকান পাঠ করতে, যা আপনি আমাকে শিখাননি। নবী (ﷺ) বললেনঃ আচ্ছা, তাকে ছেড়ে দাও। তুমি পড়, হে হিশাম! এরপর আমি যেমন কিরাআত শুনেছিলাম তিনি তেমন কিরাআত পড়লেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ কুরআন এভাবেই নাযিল হয়েছে। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে উমার! তুমি পড়। আমি সেভাবে পড়লাম যেভাবে আমাকে শিখানো হয়েছিল। নবী (ﷺ) বললেনঃ এভাবেই নাযিল হয়েছে। এ কুরআন সাত হরফে (কিরাআতে) নাযিল করা হয়েছে। কাজেই যেভাবে সহজ হয়, সেভাবে তা পাঠ কর।

ইমরান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমলকারীরা কিসে আমল করছে? তিনি বললেন, যাকে যে কাজ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ করা সহজ করে দেয়া হয়।

আলী নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একবার কোন জানাযায় ছিলেন। তারপর তিনি একটি কাঠের টুকরা হাতে নিয়ে তা দিয়ে মাটি খোচাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, তোমাদে র মধ্যে এমন কেউ নেই যার ঠিকানা জাহান্নাম কিংবা জান্নাতে নির্দিষ্ট করা হয়নি। সাহাবীগণ বললেন, তা হলে আমরা কি এর উপর নির্ভর করব না? তিনি বললেনঃ তোমরা আমল করতে থাক। প্রত্যেকের জন্য সহজ করে দেয়া হয়। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে.....। (92.5)

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ যখন তার মাখলূকাত সৃষ্টি করলেন, তার কাছে একটি কিতাব লিপিবদ্ধ রাখলেন। আমার গযবের উপর আমার রহমত অগ্রগামী হয়েছে' এটি তার কাছে আরশের ওপর আছে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার আগে একটি লেখা লিখে রেখেছেন। তা হলো "আমার গযবের উপর আমার রহমত অগ্রগামী হয়েছে", এটি তারই নিকটে আরশের ওপর লেখা আছে।

যাহদাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জারমের এ কাওমটির সঙ্গে আশআরী কাওমের গভীর ভালবাসা ও ভ্রাত্বভাব ছিল। এক সময় আমরা আবূ মূসা আশআরী-এর কাছে ছিলাম। তার কাছে খাদ্য আনা হল। এতে মুরগীর গোশতও ছিল। এ সময় তার নিকট বানী তায়মুল্লাহর এক লোক ছিল। সে (দেখতে) যেন আযাদকৃত গোলাম। তাকেও আবূ মূসা খেতে ডাকলেন। সে বলল, আমি এ মুরগীকে এমন কিছু জিনিস খেতে দেখেছি, যার ফলে এটি খেতে আমি ঘৃণা করি। এ জন্য শপথ করেছি, আমি তা খাব না। আবূ মূসা বললেন, তুমি এদিকে এসো, এ ব্যাপারে আমি তোমাকে একটি হাদীস শোনাব। আমি এক সময় আশ'আরী কওমের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে নবী (ﷺ)-এর কাছে বাহন চাওয়ার জন্য গেলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের বাহন দেব না। আর তোমাদের দেয়ার মত আমার কাছে বাহন নেই। তারপর নবী (ﷺ)-এর কাছে গনীমতের কিছু উট আনা হলে তিনি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেন, আশআরীদের দলটি কোথায়? তারপর তিনি পাচটি মোটা তাজা ও উৎকৃষ্ট উট আমাদের দেয়ার জন্য হুকুম করলেন। আমরা এগুলো নিয়ে রওনা দেয়ার সময় বললাম, আমরা কী কর্মটি করলাম! নবী (ﷺ) শপথ করে বললেন, আমাদের বাহন দেবেন না এবং তার কাছে দেয়ার মত বাহন নেই। তারপরও তো তিনি আমাদের বাহন দিয়ে দিলেন। হয়ত আমরা তাকে তার শপথ সম্পর্কে বেখেয়াল করে দিয়েছি। আল্লাহর শপথ! আমরা কক্ষনো সফলকাম হবো না। তাই আমরা তার কাছে আবার গেলাম এবং তা তাকে বললাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে বাহন দেইনি, বরং দিয়েছেন আল্লাহ। আল্লাহর শপথ! আমি কোন বিষয়ে শপথ করি আর যদি তার বিপরীতে কল্যাণ দেখতে পাই, তবে তাতেই ফিরে আসি এবং (কাফ্ফারা আদায় করে) তা বৈধ করে নেই।

আবূ জামরাহ দুবায়ী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস-কে বললাম। তিনি বললেন, আবদুল কায়সের প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, আমাদের এবং আপনাদের মাঝখানে মুযার গোত্রের মুশরিকরা আছে। সে কারণে আমরা সম্মানিত মাস (আশহুরে হুরুম) ব্যতীত আর কোন সময় আপনার কাছে আসতে পারি না। কাজেই আমাদেরকে সংক্ষিপ্ত কিছু বিষয়ের হুকুম দিন, যার উপর আমল করলে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব এবং আমরা যাদের রেখে এসেছি তাদেরও এ পথে আহবান জানাতে পারব। নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের হুকুম করছি। আর চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছি। আমি তোমাদেরকে হুকুম দিচ্ছি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার। আর তোমরা জান কি, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কাকে বলে? তা হলো, সাক্ষ্য দেয়া যে আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া, গনীমতের মালের এক পঞ্চমাংশ দেয়া। তোমাদের চারটি বিষয় হতে নিষেধ করছি, লাউয়ের খোল দিয়ে তৈরি পাত্রে, খেজুর গাছের মূল খোদাই করে তৈরি পাত্রে, আলকাত্রা ইত্যাদি দিয়ে প্রলেপ দেয়া পাত্রে, এবং মাটির সবুজ ঘটিতে তোমরা পান করবে না।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এসব ছবি নির্মাতাদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তখন তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে তোমরা যা বানিয়েছ, তা জীবিত কর।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এসব ছবি নির্মাতাদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা সৃষ্টি করেছ, তাকে জীবিত কর।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ বলেছেনঃ তাদের চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে যে আমার সৃষ্টির মত সৃষ্টি করার জন্য প্রস্তুত হয়েছে? তা হলে তারা একটা অণু কিংবা শস্যদানা কিংবা যব তৈরি করুক।

আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কুরআন তিলাওয়াতকারী ঈমানদারের দৃষ্টান্ত উত্রুজ্জার (কমলালেবু) মত। এর স্বাদও উৎকৃষ্ট এবং সুগন্ধও উৎকৃষ্ট। আর যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে না তার দৃষ্টান্ত যেন খেজুরের মত। এটি খেতে সুস্বাদু বটে, তবে তার কোন সুঘ্রাণ নেই। কুরআন তিলাওয়াতকারী পাপী ব্যক্তিটি সুগন্ধি ফুলের মত। এর সুগন্ধ আছে বটে, তবে স্বাদে তিক্ত। আর যে অতি পাপী হয়ে আবার কুরআনও তিলাওয়াত করে না সে মাকাল ফলের মত। এ ফল স্বাদেও তিক্ত আর এর কোন সুগন্ধ নেই।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা নবী (ﷺ)-কে জ্যোতিষদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, তারা কিছুই নয়। তারা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো কখনো তারা তো এমন কিছুও বলে যা সত্য হয়। এতে নবী (ﷺ) বললেনঃ ওগুলো সত্য কথার অর্ন্তভূক্ত। জ্বিনেরা এসব ছোঁ মেরে শোনে, পরে তাদের বন্ধুদের কানে মুরগির মত করকর করে নিক্ষেপ করে দেয়। এরপর এসব জ্যোতিষী এতে শত মিথ্যা মিশিয়ে দেয়।

আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পূর্ব এলাকা থেকে একদল লোক উত্থিত হবে। তারা কুরআন পড়বে, কিন্তু তাদের এ পাঠ তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেভাবে ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তারা আর ফিরে আসবে না, যে পর্যন্ত তীর ধনুকের ছিলায় ফিরে না আসে। বলা হল, তাদের চিহ্ন কী? তিনি বললেন, তাদের চিহ্ন হল মাথা মুন্ডন।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ দু'টি কালিমাহ আছে, যেগুলো দয়াময়ের কাছে অতি প্রিয়, মুখে উচ্চারণ করা খুবই সহজ, দাড়িপাল্লায় অত্যন্ত ভারী। (বাণী দু'টো হচ্ছে), সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহান্নাল্লাহিল আযীম;- আমরা আল্লাহর প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, মহান আল্লাহ (যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে) অতি পবিত্র।