অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (২৪৪০-২৪৮২)
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মুমিনগণ যখন জাহান্নাম হতে মুক্তি পাবে, তখন জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে এক পুলের উপর তাদের আটকে রাখা হবে। তখন পৃথিবীতে একের প্রতি অন্যের যা যা জুলুম ও অন্যায় ছিল, তার প্রতিশোধ গ্রহণের পরে যখন তারা পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে, তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। সেই সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, নিশ্চই তাদের প্রত্যেকে পৃথিবীতে তার আবাসস্থল যেরূপ চিনত, তার চেয়ে অধিক তার জান্নাতের আবাসস্থল চিনতে পারবে।
সাফওয়ান ইবন মুহরিব আল-মাযিনী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি ইবন উমার-এর সাথে তার হাত ধরে চলছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা ও তার মুমিন বান্দার একান্তে কথাবার্তা সম্পর্কে আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে কী বলতে শুনেছেন? তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা মুমিন ব্যক্তিকে নিজের কাছে নিয়ে আসবেন এবং তার উপর স্বীয় আবরণ দ্বারা তাকে ঢেকে নিবেন। তারপর বলবেন, অমুক পাপের কথা কি তুমি জান? তখন সে বলবে, হ্যা, হে আমার প্রতিপালক! এভাবে তিনি তার কাছ হতে তার পাপগুলো স্বীকার করিয়ে নিবেন। আর সে মনে করবে যে, তার ধ্বংস অনিবার্য। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমি পৃথিবীতে তোমার পাপ গোপন করে রেখেছিলাম। আর আজ আমি তা মাফ করে দিব"। তারপর তার নেকের আমলনামা তাকে দেয়া হবে। কিন্তু কাফির ও মুনাফিকদের সম্পর্কে সাক্ষীরা বলবে, এরাই তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল। সাবধান, যালিমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার উপর জুলুম করবে না এবং তাকে যালিমের হাতে সোপর্দ করবে না। যে কেউ তার ভাইয়ের অভাব পূরণ করবে,আল্লাহ তার অভাব পূরণ করবেন।যে কেউ তার মুসলিম ভাইয়ের বিপদ দুর করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহ দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে যালিম হোক অথবা মাযলুম। (যালিম ভাইকে যুলুম থেকে বিরত রাখবে এবং মাযলুম ভাইকে যালিমের হাত হতে রক্ষা করবে)।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে যালিম হোক অথবা মাযলুম। তিনি (আনাস) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মাযলুমকে সাহায্য করব, তা তো বুঝলাম। কিন্তু যালিমকে কি করে সাহায্য করব? তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি তার হাত ধরে তাকে বিরত রাখবে। (তাকে যুলুম করতে দিবে না)।
বারা ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদেরকে সাতটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। তারপর তিনি উল্লেখ করলেন, অসুস্থদের খোজখবর নেয়া, জানাযায় পিছে পিছে যাওয়া, হাচির জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ্ বলা, সালামের উত্তর দেয়া, অত্যাচারিতকে সাহায্য করা, আহবানকারীর প্রতি সাড়া দেয়া, কসমকারীকে দায়িত্ব মুক্ত করা।
আবূ মূসা হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, এক মুমিন আর এক মুমিনের জন্য ইমারত তুল্য, যার এক অংশ আর এক অংশকে সুদৃঢ় করে। আর তিনি (ﷺ) তার এক হাতের আঙ্গুল আর এক হাতের আঙ্গুলে প্রবেশ করিয়ে দেখালেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, জুলুম কিয়ামতের দিন অনেক অন্ধকারের রূপ ধারণ করবে।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যখন মুআয-কে ইয়ামানে পাঠান এবং তাকে বলেন, মাযলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা, তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোন বিষয়ে যুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ হতে মাফ করিয়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যে দিন তার কোন দ্বীনার বা দিরহাম থাকবে না। সে দিন তার কোন সৎকর্ম না থাকলে তার যুলুমের পরিমাণ তা তার নিকট হতে নেয়া হবে আর তার কোন সৎকর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ হতে নিয়ে তা তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত, "কোন স্ত্রী যদি স্বামীর অবজ্ঞা ও উপেক্ষার ভয় করে"- (আন-নিসাঃ ১২৮) আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি (আয়িশাহ বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে বেশী যাওয়া-আসা করত না বরং তাকে পরিত্যাগ তালাক দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করত। এ অবস্থায় স্ত্রী বলল, আমি তোমাকে আমার ব্যাপারে দায়মুক্ত করে দিলাম। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।
সাহল ইবন সাদ সায়াদী হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) -এর কাছে কিছু পানীয় দ্রব্য আনা হল। তিনি (ﷺ) তা হতে কিছুটা পান করলেন। তার (ﷺ) ডান দিকে বসা ছিল একটি বালক, আর বাম দিকে ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠরা। তিনি (ﷺ) বালকটিকে বললেন, এ বয়োজ্যেষ্ঠদেরকে দেয়ার জন্য তুমি আমাকে অনুমতি দিবে কি? তখন বালকটি বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি আপনার কাছ হতে প্রাপ্য আমার অংশে কাউকে অগ্রাধিকার দিব না। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পানির পেয়ালাটা তার হাতে ঠেলে দিলেন।
সাঈদ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কারো জমির অংশ জুলুম করে কেড়ে নেয়, কিয়ামতের দিন এর সাত তবক জমিন তার গলায় লটকিয়ে দেয়া হবে।
আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, তার এবং কয়েকজন লোকের মধ্যে একটি বিবাদ ছিল। আয়িশাহ-এর কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, হে আবূ সালামাহ! জমির ব্যাপারে সতর্ক থাক। কেননা, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি এক বিঘত জমি অন্যায়ভাবে নিয়ে নেয়, (কিয়ামতের দিন) এর সাত তবক জমি তার গলায় লটকিয়ে দেয়া হবে।
সালিম-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে সামান্য পরিমাণ জমিও নিয়ে নিবে, কিয়ামতের দিন তাকে সাত তবক জমিনের নীচ পর্যন্ত ধসিয়ে দেয়া হবে।
জাবালাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মাদ্বীনায় কিছু সংখ্যক ইরাকী লোকের সাথে ছিলাম। একবার আমরা দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হই, তখন ইবন যুবাইর আমাদেরকে খেজুর খেতে দিতেন। ইবন উমার আমাদের নিকট দিয়ে যেতেন এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাউকে তার ভাইয়ের অনুমতি ব্যতীত এক সাথে দু'টো করে খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন।
আবূ মাসঊদ হতে বর্ণিত যে, আবূ শুয়াইব নামক এক আনসারীর গোশত বিক্রেতা একজন গোলাম ছিল। একদিন আবূ শুয়াইব তাকে বললেন, আমার জন্য পাচজন লোকের খাবার তৈরী কর। আমি আশা করছি যে, নবী (ﷺ) -কে দাওয়াত করব। আর তিনি উক্ত পাচজনের একজন। উক্ত আনসারী নবী (ﷺ) -এর চেহারায় ক্ষুধার ছাপ লক্ষ্য করেছিলেন। কাজেই তিনি তাকে (ﷺ) দাওয়াত করলেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে আরেকজন লোক আসলেন, যাকে দাওয়াত করা হয়নি। তখন নবী (ﷺ) (আনসারীকে) বললেন, এ আমাদের পিছে পিছে চলে এসেছে। তুমি কি তাকে অনুমতি দিচ্ছ? তিনি বললেন, হ্যা।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর নিকট সেই লোক সবচেয়ে বেশী ঘৃণিত, যে অতি ঝগড়াটে।
নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী উম্মু সালামাহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদিন তিনি (ﷺ) তার ঘরের দরজার নিকটে ঝগড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন। [তার (ﷺ) -এর কাছে বিচার চাওয়া হল] তিনি (ﷺ) বললেন, আমি তো একজন মানুষ। আমার কাছে (কোন কোন সময়) ঝগড়াকারীরা আসে। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যের চেয়ে অধিক বাকপটু। তখন আমি মনে করি যে, সে সত্য বলেছে। তাই আমি তার পক্ষে রায় দেই। বিচারে যদি আমি ভুলবশত অন্য কোন মুসলিমের হক তাকে দিয়ে থাকি, তবে তা দোযখের টুকরা। এখন সে তা গ্রহণ করুক বা ত্যাগ করুক।
আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে, সে মুনাফিক অথবা যার মধ্যে এ চারটি স্বভাবের কোন একটা থাকে, তার মধ্যেও মুনাফিকীর একটি স্বভাব থাকে, যে পর্যন্ত না সে তা পরিত্যাগ করে। ১. সে যখন কথা বলে মিথ্যা বলে। ২. যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে। ৩. যখন চুক্তি করে তা লঙ্ঘন করে। ৪. যখন ঝগড়া করে অশ্লীল বাক্যালাপ করে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন উতবাহ ইবন রবীআর কন্যা হিন্দা নবী (ﷺ) -এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! (ﷺ) (আমার স্বামী) আবূ সুফিয়ান বখিল ব্যক্তি। তার সম্পদ হতে যদি আমার সন্তানদের খেতে দেই, তাহলে আমার কোন গুনাহ হবে কি? তখন তিনি বললেন, যদি তুমি তাদেরকে ন্যায়সঙ্গতভাবে খেতে দাও তাহলে তোমার কোন গুনাহ হবে না।
উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -কে বললাম, আপনি যখন আমাদের কোন অভিযানে পাঠান, আর আমরা এমন গোত্রের কাছে অবতরণ করি, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তিনি আমাদেরকে বললেন, যদি তোমরা কোন গোত্রের কাছে অবতরণ কর এবং তোমাদের জন্য যদি উপযুক্ত মেহমানদারীর আয়োজন করা হয়, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে, আর যদি তা না করে তবে তাদের কাছ হতে মেহমানের হক আদায় করে নিবে।
উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন তার নবী (ﷺ) -কে তার সান্নিধ্যে উঠিয়ে নিলেন, তখন আনসারগণ বনূ সাঈদা গোত্রের ছায়া ছাউনীতে গিয়ে সমবেত হলেন। আমি আবূ বাকর-কে বললাম, আমাদের সঙ্গে চলুন। এরপর আমরা তাদের নিকট সাকীফাহ বনূ সাঈদাতে গিয়ে পৌছলাম।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে খুটি পুঁততে নিষেধ না করে। তারপর আবূ হুরাইরাহ বলেন, কী হল, আমি তোমাদেরকে এ হাদীস হতে উদাসীন দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহর কসম, আমি সব সময় তোমাদেরকে এ হাদীস বলতে থাকব।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আবূ তালহার বাড়িতে লোকজনকে শরাব পান করাচ্ছিলাম। সে সময় লোকেরা ফাযীখ শরাব ব্যবহার করতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন, যেন সে এ মর্মে ঘোষণা দেয় যে, সাবধান! শরাব এখন হতে হারাম করে দেয়া হয়েছে। আবূ তালহা আমাকে বললেন, বাইরে যাও এবং সমস্ত শরাব ঢেলে দাও। আমি বাইরে গেলাম এবং সমস্ত শরাব রাস্তায় ঢেলে দিলাম। আনাস বলেন, সে দিন মাদ্বীনার অলিগলিতে শরাবের প্লাবন বয়ে গিয়েছিল। তখন কেউ কেউ বলল, একদল লোক নিহত হয়েছে, অথচ তাদের পেটে শরাব ছিল। তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ "যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারা পূর্বে যা কিছু পানাহার করেছে তার জন্য তাদের কোন গুনাহ হবে না"- (আল-মা-য়িদাহ ৯৩)।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, তোমরা রাস্তার উপর বসা ছেড়ে দাও। লোকজন বলল, এ ছাড়া আমাদের কোন পথ নেই। কেননা, এটাই আমাদের উঠাবসার জায়গা এবং এখানেই আমরা কথাবার্তা বলে থাকি। নবী (ﷺ) বলেন, যদি তোমাদের সেখানে বসতেই হয়, তবে রাস্তার হক আদায় করবে। তারা বলল, রাস্তার হক্ব কী? তিনি (ﷺ) বললেন, দৃষ্টি অবনমিত রাখা, কষ্ট দেয়া হতে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেয়া, সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অন্যায় কাজে নিষেধ করা।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, একদিন এক ব্যক্তি রাস্তায় চলার পথে অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত হল। তারপর একটি কূয়া দেখতে পেয়ে তাতে সে নেমে পড়ল এবং পানি পান করল। উপরে উঠে এসে সে দেখতে পেল একটা কুকুর হাপাচ্ছে আর পিপাসার দরুন ভিজে মাটি চেটে খাচ্ছে। লোকটি (মনে মনে) বলল, এ কুকুরটির তেমনি পিপাসা পেয়েছে, যেমনি আমার পিপাসা পেয়েছিল। তারপর সে কূয়ার মধ্যে নামল এবং নিজের মোজা পানি ভর্তি করে এনে কুকুরটিকে পান করাল। আল্লাহ তার এ কাজ কবূল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। সাহাবীগণ বলল, হে আল্লাহর রাসূল! পশুদের ব্যাপারেও কি আমাদের জন্য পুণ্য রয়েছে? তিনি (ﷺ) বললেন, প্রাণী মাত্রের সেবার মধ্যেই পুণ্য রয়েছে।
উসামা ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (ﷺ) মদ্বীনার এক টিলার উপর উঠে বললেন, আমি যা দেখছি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ যে তোমাদের ঘরগুলোতে বৃষ্টি বর্ষণের মতো ফিতনা বর্ষিত হচ্ছে।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -এর সহধর্মিণীদের মধ্যে ঐ দু'সহধর্মিণী সম্পর্কে উমার-এর কাছে জিজ্ঞেস করতে সব সময় আগ্রহী ছিলাম, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ "যদি তোমরা দু'জনে তাওবা কর (তাহলে সেটাই হবে কল্যাণকর)। কেননা, তোমাদের অন্তর বাকা হয়ে গেছে"- (তাহরীমঃ ৪)। একবার আমি তার [উমার-এর] সঙ্গে হাজ্জে রওয়ানা করলাম। তিনি রাস্তা হতে সরে গেলেন। আমিও একটি পানির পাত্র নিয়ে তার সঙ্গে গতি পরিবর্তন করলাম। তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরে এলেন। আমি পানির পাত্র হতে তার দু'হাতে পানি ঢাললাম, তিনি অযু করলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আমীরুল মুমিনীন! নবী (ﷺ) -এর সহধর্মিণীদের মধ্যে দু'সহধর্মিণী কারা ছিলেন, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ "যদি তোমরা দু'জন তওবা কর (তবে সেটাই হবে তোমাদের জন্য কল্যাণকর) কেননা, তোমাদের অন্তর বাকা হয়ে গেছে"- (তাহরীমঃ ৪)। তিনি বললেন, হে ইবন আব্বাস! এটা তোমার জন্য তাজ্জবের বিষয় যে, তুমি তা জান না। তারা দু'জন হলেন, আয়িশাহ ও হাফসা অতঃপর উমার পুরো ঘটনা বলতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, আমি ও আমার এক আনসারী প্রতিবেশী মাদ্বীনার অদূরে বনূ উমাইয়া ইবন যায়দের মহল্লায় বসবাস করতাম। আমরা দু'জন পালাক্রমে নবী (ﷺ) -এর নিকট হাযির হতাম। একদিন তিনি যেতেন, আরেকদিন আমি যেতাম, আমি যে দিন যেতাম সে দিনের খবর (ওয়াহী) ইত্যাদি বিষয় তাকে অবহিত করতাম। আর তিনি যে দিন যেতেন, তিনিও অনুরূপ করতেন। আর আমরা কুরাইশ গোত্রের লোকেরা মহিলাদের উপর কর্তৃত্ব করতাম। কিন্তু আমরা যখন মাদ্বীনায় আনসারদের কাছে আসলাম তখন তাদেরকে এমন পেলাম, যাদের নারীরা তাদের উপর কর্তৃত্ব করে থাকে। ধীরে ধীরে আমাদের মহিলারাও আনসারী মহিলাদের রীতিনীতি গ্রহণ করতে লাগল। একদিন আমি আমার স্ত্রীকে ধমক দিলাম। সে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিউত্তর করল। আর এই প্রতিউত্তর আমার পছন্দ হল না। তখন সে আমাকে বলল, আমার প্রতিউত্তরে তুমি অসন্তুষ্ট হও কেন? আল্লাহর কসম! নবী (ﷺ) -এর সহধর্মিণীরাওতো তার কথার প্রতিউত্তর করে থাকেন এবং তার কোন কোন সহধর্মিণী রাত পর্যন্ত পুরো দিন তার কাছ হতে আলাদা থাকেন। এ কথা শুনে আমি ঘাবড়ে গেলাম। বললাম, যিনি এরূপ করেছেন তিনি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারপর আমি জামা-কাপড় পরে (আমার মেয়ে) হাফসাহ-এর কাছে গিয়ে বললাম, হে হাফসা! তোমাদের কেউ কেউ নাকি রাত পর্যন্ত পুরো দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে অসন্তুষ্ট রাখে। সে বলল, হ্যা। আমি বললাম, তবে তো সে বরবাদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তোমার কি ভয় হয় না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসন্তুষ্ট হলে আল্লাহও অসন্তুষ্ট হবেন। এর ফলে তুমি বরবাদ হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সঙ্গে বাড়াবাড়ি করো না এবং তার কোন কথার প্রতিউত্তর দিও না এবং তার হতে পৃথক থেক না। তোমার কোন কিছুর দরকার হয়ে থাকলে আমাকে বলবে। আর তোমার প্রতিবেশী তোমার চেয়ে অধিক সুন্দরী এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর অধিক প্রিয় এ যেন তোমাকে ধোকায় না ফেলে। তিনি উদ্দেশ্য করেছেন আয়িশাহ-কে। সে সময় আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল যে, গাস্সানের লোকেরা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ঘোড়াগুলিকে প্রস্তুত করছে। একদিন আমার সাথী তার পালার দিন নবী (ﷺ) -এর কাছে গেলেন এবং ঈশার সময় এসে আমার দরজায় খুব জোরে করাঘাত করলেন এবং বললেন, তিনি [উমার] কি ঘুমিয়েছেন? তখন আমি ঘাবড়িয়ে তার কাছে বেরিয়ে এলাম। তিনি বললেন, সাংঘাতিক ঘটনা ঘটে গেছে। আমি বললাম, সেটা কী? গাস্সানের লোকেরা কি এসে গেছে? তিনি বললেন, না, বরং তার চেয়েও বড় ঘটনা ও বিরাট ব্যাপার। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সহধর্মিণীদেরকে তালাক দিয়েছেন। উমার বললেন, তাহলে তো হাফসার সর্বনাশ হয়েছে এবং সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার তো ধারণা ছিল যে, এমন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। আমি কাপড় পরে বেরিয়ে এসে নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষে নবী (ﷺ) তার কোঠায় প্রবেশ করে একাকী বসে থাকলেন। তখন আমি হাফসাহ-এর কাছে গিয়ে দেখি সে কাঁদছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কাঁদছ কেন? আমি কি তোমাকে আগেই সতর্ক করে দেইনি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি তোমাদেরকে তালাক দিয়েছেন? সে বলল, আমি জানি না। তিনি তার ঐ কোঠায় আছেন। আমি বের হয়ে মিম্বরের কাছে আসলাম, দেখি যে লোকজন মিম্বরের চারপাশ জুড়ে বসে আছেন এবং কেউ কেউ কাঁদছেন। আমি তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসলাম। তারপর আমার ঔৎসুক্য প্রবল হল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে কোঠায় ছিলেন, আমি সে কোঠার কাছে আসলাম। আমি তার এক কালো গোলামকে বললাম, উমারের জন্য অনুমতি গ্রহণ কর। সে প্রবেশ করে নবী (ﷺ) -এর সাথে আলাপ করে বেরিয়ে এসে বলল, আমি আপনার কথা তার কাছে উল্লেখ করেছি, কিন্তু তিনি নীরব রইলেন। আমি ফিরে এলাম এবং মিম্বরের পাশে বসা লোকদের কাছে গিয়ে বসে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর আমার আবার উদ্বেগ প্রবল হল। তাই আমি আবার এসে গোলামকে বললাম। (উমারের জন্য অনুমতি গ্রহণ কর) এবারও সে আগের মতোই বলল। তারপর যখন আমি ফিরে আসছিলাম, গোলাম আমাকে ডেকে বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন। এখন আমি তার নিকট প্রবেশ করে দেখি, তিনি খেজুরের পাতায় তৈরী ছোবড়া ভর্তি একটা চামড়ার বালিশে হেলান দিয়ে খালি চাটাই এর উপর কাত হয়ে শুয়ে আছেন। তার শরীর ও চাটাই এর মাঝখানে কোন ফরাশ ছিল না। ফলে তার শরীরের পার্শ্বদেশে চাটাইয়ের দাগ পড়ে গেছে। আমি তাকে সালাম করলাম এবং দাড়িয়ে আবার আরয করলাম, আপনি কি আপনার সহধর্মিণীদেরকে তালাক দিয়েছেন? তখন তিনি আমার দিকে চোখ তুলে তাকালেন এবং বললেন, না। তারপর আমি (থমথমে ভাব কাটিয়ে) অনুকূল ভাব সৃষ্টির জন্য দাড়িয়ে থেকেই বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (ﷺ) দেখুন, আমরা কুরাইশ গোত্রের লোকেরা নারীদের উপর কর্তৃত্ব করতাম। তারপর যখন আমরা এমন একটি সম্প্রদায়ের নিকট এলাম, যাদের উপর তাদের নারীরা কর্তৃত্ব করছে। তিনি এ ব্যাপারে আলোচনা করলেন। এতে নবী (ﷺ) মুচকি হাসলেন। তারপর আমি বললাম, আপনি হয়তো লক্ষ্য করছেন যে, আমি হাফসার ঘরে গিয়েছি এবং তাকে বলেছি, তোমাকে এ কথা যেন ধোকায় না ফেলে যে, তোমার প্রতিবেশিনী (সতীন) তোমার চেয়ে অধিক আকর্ষণীয় এবং নবী (ﷺ) -এর অধিক প্রিয়। এ কথা দ্বারা তিনি আয়িশাহ-কে বুঝিয়েছেন। নবী (ﷺ) আবার মুচকি হাসলেন। তাকে একা দেখে আমি বসে পড়লাম। তারপর আমি তার (ﷺ) ঘরের ভিতর এদিক সেদিক দৃষ্টি করলাম। কিন্তু তার (ﷺ) ঘরে তিনটি কাঁচা চামড়া ব্যতীত দৃষ্টিপাত করার মতো আর কিছুই দেখতে পেলাম না, তখন আমি আরয করলাম, আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করুন, তিনি যেন আপনার উম্মাতকে পার্থিব স্বচ্ছলতা দান করেন। কেননা, পারস্য ও রোমের অধিবাসীদেরকে স্বচ্ছলতা দান করা হয়েছে এবং তাদেরকে পার্থিব (অনেক প্রাচুর্য) দেয়া হয়েছে, অথচ তারা আল্লাহর ইবাদত করে না। তিনি (ﷺ) তখন হেলান দিয়ে ছিলেন। তিনি বললেন, হে ইবন খাত্তাব! তোমার কি এতে সন্দেহ রয়েছে যে, তারা তো এমন এক জাতি, যাদেরকে তাদের ভালো কাজের প্রতিদান দুনিয়ার জীবনেই দিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য ক্ষমার দোয়া করুন। হাফসাহ আয়িশাহ-এর কাছে এ কথা প্রকাশ করলেই নবী (ﷺ) সহধর্মিণীদের হতে আলাদা হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর কসম! আমি এক মাস তাদের কাছে যাব না। তাদের উপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর ভীষণ রাগের কারণে তা হয়েছিল। যেহেতু আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যখন ঊনত্রিশ দিন কেটে গেল, তিনি সর্বপ্রথম আয়িশাহ-এর কাছে এলেন। আয়িশাহ তাকে বললেন, আপনি কসম করেছেন যে, এক মাসের মধ্যে আমাদের কাছে আসবেন না। আর এ পর্যন্ত আমরা ঊনত্রিশ রাত অতিবাহিত করেছি, যা আমি ঠিক ঠিক গণনা করে রেখেছি। তখন নবী (ﷺ) বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়। আর মূলত এ মাসটি ঊনত্রিশ দিনেরই ছিল। আয়িশাহ বলেন, যখন ইখতিয়ারের আয়াত নাযিল হল, তখন তিনি তার সহধর্মিণীদের মধ্যে সর্বপ্রথম আমার কাছে আসলেন এবং বললেন, আমি তোমাকে একটি কথা বলতে চাই, তবে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে এর জওয়াবে তুমি তাড়াহুড়ো করবে না। আয়িশাহ বলেন, নবী (ﷺ) এ কথা জানতেন যে, আমার পিতা-মাতা তার (ﷺ) হতে আলাদা হওয়ার পরামর্শ আমাকে কখনো দিবেন না। তারপর নবী (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ "হে নবী! আপনি আপনার সহধর্মিণীদের বলুন। তোমরা যদি পার্থিব জীবন এবং তার চাকচিক্য কামনা কর, তবে আস; আমি তোমাদেরকে কিছু সম্বল প্রদান করি আর তোমাদেরকে সদ্ভাবে বিদায় করে দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ তাআলাকে (এবং) তার রাসূলকে চাও এবং কামনা কর পরলোক, তবে তোমার অন্তর্গত সৎকর্মশীলদের জন্য আল্লাহ তাআলা মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন"- (আহযাবঃ ২৮-২৯)। আমি বললাম, এ ব্যাপারে আমি আমার পিতা-মাতার কাছে কী পরামর্শ নিব? আমি তো আল্লাহ ও তার রাসূলের সন্তুষ্টি এবং পরকালীন (সাফল্য) পেতে চাই। তারপর তিনি (ﷺ) তার অন্য সহধর্মিণীদেরকেও ইখতিয়ার দিলেন এবং প্রত্যেকে সে একই জবাব দিলেন, যা আয়িশাহ দিয়েছিলেন।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মাস তার সহধর্মিণীদের কাছে যাবেন না বলে কসম করেন। এ সময় তার পা মচ্কে গিয়েছিল। তাই তিনি (ﷺ) একটি চিলেকোঠায় অবস্থান করেন। একদিন উমার এসে বললেন, আপনি কি আপনার সহধর্মিণীদেরকে তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেন, না, তবে আমি একমাস তাদের কাছে যাবো না বলে কসম করেছি। তিনি ঊনত্রিশ দিন সেখানে অবস্থান করেন এরপর তিনি অবতরণ করেন এবং নিজের সহধর্মিণীদের কাছে আসেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করলেন। আমি উটটাকে মসজিদের উঠানের পাশে বেধে রেখে তার কাছে গেলাম এবং বললাম, এটা আপনার উট। তিনি বেরিয়ে এলেন এবং উটের পাশে ঘুরাফিরা করতে লাগলেন। তারপর বললেন, উট ও তার মূল্য দু'টোই তোমার।
হুযাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে দেখেছি। (রাবী বলেন) অথবা তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) এলেন লোকেদের ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে এরপর তিনি দাড়িয়ে পেশাব করলেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় কাঁটাদার গাছের একটি ডাল রাস্তায় পেল, তখন সেটাকে রাস্তা হতে অপসারণ করল, আল্লাহ তার এ কাজকে কবূল করলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মালিকেরা রাস্তার ব্যাপারে পরস্পরে বিবাদ করল, তখন নবী (ﷺ) রাস্তার জন্য সাত হাত জমি ছেড়ে দেয়ার ফয়সালা দেন।
আদী ইবন সাবিত-এর নানা আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ আনসারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) লুটতরাজ করতে এবং জীবকে বিকলাঙ্গ করতে নিষেধ করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, কোন ব্যভিচারী মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না এবং কোন মদ্যপায়ী মুমিন অবস্থায় মদ পান করে না। কোন চোর মুমিন অবস্থায় চুরি করে না। কোন লুটতরাজকারী মুমিন অবস্থায় এরূপ লুটতরাজ করে না যে, যখন সে লুটতরাজ করে তখন তার প্রতি লোকজন চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে।
আবূ হুরাইরাহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি (ﷺ) বলেছেন, ইবন মারইয়াম [ঈসা] তোমাদের মাঝে ন্যায়বিচারক হয়ে অবতরণ না করা পর্যন্ত কিয়ামত হবে না। তিনি এসে ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং জিয্য়া কর তুলে দিবেন। তখন ধন-সম্পদের এত প্রাচুর্য হবে যে, তা গ্রহণ করার মতো কেউ থাকবে না।
সালামাহ ইবন আকওয়া হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) খায়বার যুদ্ধে আগুন প্রজ্বলিত দেখে জিজ্ঞেস করলেন, এ আগুন কেন জ্বালানো হচ্ছে? সাহাবীগণ বললেন, গৃহপালিত গাধার গোশত রান্না করার জন্য। তিনি (ﷺ) বললেন, পাত্রটি ভেঙ্গে দাও এবং গোশত ফেলে দাও। তারা বললেন, আমরা গোশত ফেলে দিয়ে পাত্রটা ধুয়ে নিব কি? তিনি বললেন, ধুয়ে নাও।
আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন (বিজয়ীর বেশে) মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন কাবা শরীফের চারপাশে তিনশ' ষাটটি মূর্তি ছিল। নবী (ﷺ) নিজের হাতের লাঠি দিয়ে মূর্তিগুলোকে আঘাত করতে থাকেন আর বলতে থাকেনঃ "সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)"- (বনী ইসরাঈল/ইসরাঃ ৮১)।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি তার (কামরার) তাকের সম্মুখে একটি পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন, যাতে ছিল প্রাণীর ছবি। নবী (ﷺ) তা ছিঁড়ে ফেললেন। এরপর আয়িশাহ তা দিয়ে দু'খানা গদি তৈরী করেন। এই গদি দু'খানা ঘরেই ছিল। নবী (ﷺ) তার উপর বসতেন।
আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহীদ।
আনাস হতে বর্ণিত যে, একদিন নবী (ﷺ) তার কোন এক সহধর্মিণীর কাছে ছিলেন। উম্মুল মুমিনীনদের অপর একজন খাদিমের মারফত এক পাত্রে খাবার পাঠালেন। তিনি তার হাতের আঘাতে পাত্রটি ভেঙ্গে ফেলেন। তখন নবী (ﷺ) তা জোড়া লাগিয়ে তাতে খাবার রাখলেন এবং (সাথীদেরকে) বললেন, তোমরা খাও। যে পর্যন্ত তারা খাওয়া শেষ না করলেন, সে পর্যন্ত নবী (ﷺ) পাত্রটি ও প্রেরিত খাদেমকে আটকিয়ে রাখলেন। তারপর তিনি ভাঙ্গা পাত্রটি রেখে দিয়ে একটি ভাল পাত্র ফেরত দিলেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, বনী ইসরাঈলের মধ্যে জুরাইজ নামক একজন লোক ছিলেন। একদিন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় তার মা তাকে ডাকলেন। কিন্তু তিনি তার ডাকে সাড়া দিলেন না। তিনি বললেন, সালাত আদায় করব, না কি তার জবাব দেব। তারপর মা তার কাছে এলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! তাকে মৃত্যু দিও না যে পর্যন্ত তুমি তাকে কোন বেশ্যার মুখ না দেখাও। একদিন জুরাইজ তার ইবাদত খানায় ছিলেন। এমন সময় এক মহিলা বললেন, আমি জুরাইজকে ফাঁসিয়ে ছাড়ব। তখন সে তার নিকট গেল এবং তার সাথে কথাবার্তা বলল। কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানালেন। তারপর সে মহিলা এক রাখালের কাছে এসে স্বেচ্ছায় নিজেকে তার হাতে সঁপে দিল। তার কিছুদিন পর সে একটি ছেলে প্রসব করল। তখন সে বলে বেড়াতে লাগল যে, এ ছেলে জুরাইজের! এ কথা শুনে লোকেরা জুরাইজের নিকট এল এবং তার ইবাদতখানা ভেঙ্গে তাকে বের করে দিল এবং তাকে গালিগালাজ করল। এরপর তিনি (জুরাইজ) অযু করলেন এবং সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি ছেলেটির কাছে এসে বললেন, হে ছেলে! তোমার পিতা কে? সে জবাব দিল, রাখাল। তখন লোকেরা বলল, আমরা তোমার ইবাদতখানাটি সোনা দিয়ে তৈরী করে দিব। জুরাইজ বললেন, না মাটি দিয়েই তৈরী করে দাও (যেমনটা পূর্বে ছিল)।