রুগী (৫৬৪০-৫৬৭৭)
নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর যে সকল বিপদ-আপদ আসে এর দ্বারা আল্লাহ তার পাপ দূর করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে ফুটে এর দ্বারাও।
আবূ সাঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।
পূর্বের হাদিসের মতই (৫৬৪১)।
কা'ব হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিন ব্যক্তির উদাহরণ হল শস্যক্ষেতের নরম চারা গাছের মত, যাকে বাতাস একবার কাত করে ফেলে, আরেকবার সোজা করে দেয়। আর মুনাফিকের দৃষ্টান্ত, ভূমির উপর শক্তভাবে স্থাপিত বৃক্ষ, যাকে কিছুতেই নোয়ানো যায় না। শেষে এক ঝটকায় মূলসহ তা উপড়ে যায়।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হল, শস্যক্ষেতের নরম চারাগাছের মত। যে কোন দিক থেকেই তার দিকে বাতাস আসলে বাতাস তাকে নুইয়ে দেয়। আবার যখন বাতাসের প্রবাহ বন্ধ হয় তখন তা সোজা হয়ে দাড়ায়। বালা মুসিবত মুমিনকে নোয়াতে থাকে। আর ফাসিক হল শক্ত ভূমির উপর শক্তভাবে সোজা হয়ে দাড়ানো গাছের মত, যাকে আল্লাহ যখন ইচ্ছে করেন ভেঙ্গে দেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করেন তাকে তিনি দুঃখকষ্টে পতিত করেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেয়ে বেশী রোগ যন্ত্রণা ভোগকারী অন্য কাকেও দেখিনি।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর অসুস্থ অবস্থায় তার কাছে গেলাম। এ সময় তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমি বললামঃ নিশ্চই আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। আমি এও বললাম যে, এটা এজন্য যে, আপনার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হা। যে কেউ রোগাক্রান্ত হয়, তাথেকে গুনাহসমূহ এভাবে ঝরে যায়, যেভাবে গাছ হতে তার পাতাগুলো ঝরে যায়।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম। তখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। তিনি বললেনঃ হা। তোমাদের দু'ব্যক্তি যতটুকু জ্বরে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু জ্বরে আক্রান্ত হই। আমি বললামঃ এটি এজন্য যে, আপনার জন্য আছে দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হ্যা তাই। কেননা যে কোন মুসলিম দুঃখ কষ্টে পতিত হয়, তা একটা কাঁটা কিংবা আরো ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে মুছে দেন, যেমন গাছ থেকে পাতাগুলো ঝরে পড়ে।
আবূ মূসা আশআরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, রোগীর সেবা কর এবং কষ্টে পতিতকে উদ্ধার কর।
বারাআ ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাতটি জিনিসের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের নিষেধ করেছেনঃ সোনার আংটি, মোটা ও পাতলা এবং কারুকার্য খচিত রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে এবং কাস্সী ও মীসারাহ কাপড় ব্যবহার করতে। আর তিনি আমাদের আদেশ করেছেনঃ আমরা যেন জানাযার পশ্চাতে যাই, পীড়িতের সেবা করি এবং সালামের প্রসার ঘটাই।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি ভীষণভাবে পীড়িত হয়ে গেলাম। তখন নবী (ﷺ) ও আবূ বাকর পায়ে হেটে আমার খোজ খবর নেয়ার জন্য আমার নিকট আসলেন। তারা আমাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। তখন নবী (ﷺ) অযূ করলেন। তারপর তিনি তার অবশিষ্ট পানি আমার গায়ের উপর ছিটিয়ে দিলেন। ফলে আমি জ্ঞান ফিরার পর দেখলাম, নবী (ﷺ) উপস্থিত। আমি নবী (ﷺ)-কে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পদের ব্যাপারে আমি কী করব? আমার সম্পদ সম্পর্কে কীভাবে আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব? তিনি তখন আমাকে কোন জবাব দিলেন না। শেষে মীরাসের আয়াত অবতীর্ণ হল।
আত্বা ইবন আবূ রাবাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস আমাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে একজন জান্নাতী মহিলা দেখাব না? আমি বললামঃ অবশ্যই। তখন তিনি বললেনঃ এই কালো রঙের মহিলাটি, সে নবী (ﷺ) এর নিকট এসেছিল। তারপর সে বললঃ আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত হই এবং এ অবস্থায় আমার লজ্জাস্থান খুলে যায়। সুতরাং আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি যদি চাও, ধৈর্য ধারণ করতে পার। তোমার জন্য আছে জান্নাত। আর তুমি যদি চাও, তাহলে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন তোমাকে অরোগ্য করেন। স্ত্রীলোকটি বললঃ আমি ধৈর্য ধারণ করব। সে বললঃ ঐ অবস্থায় আমার লজ্জাস্থান খুলে যায়, কাজেই আল্লাহর নিকট দোয়া করুন যেন আমার লজ্জাস্থান খুলে না যায়। নবী (ﷺ) তার জন্য দোয়া করলেন। আত্বা হতে বর্ণিত যে, তিনি সেই উম্মু যুফার -কে দেখেছেন কাবার গিলাফ ধরা অবস্থায়। সে ছিল দীর্ঘ দেহী কৃষ্ণ বর্ণের এক মহিলা।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ বলেছেনঃ আমি যদি আমার কোন বান্দাকে তার অতি প্রিয় দু'টি বস্ত্ত সম্পর্কে পরীক্ষায় ফেলি, আর সে তাতে ধৈর্য ধরে, তাহলে আমি তাকে সে দু'টির বিনিময়ে জান্নাত দান করব। আনাস বলেন, দু'টি প্রিয় বস্ত্ত হল সে ব্যক্তির চোখদ্বয়। এরকম বর্ণনা করেছেন আশ্'আস ইবন জাবির ও আবূ যিলাল আনাস -এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদিনায় আসলেন, তখন আবূ বাকর ও বিলাল জ্বরে আক্রান্ত হলেন। তিনি বলেনঃ আমি তাদের কাছে গেলাম এবং বললামঃ হে আব্বাজান! আপনাকে কেমন লাগছে? হে বিলাল, আপনাকে কেমন লাগছে? আবূ বাকর-এর অবস্থা ছিল, তিনি যখন জ্বরে আক্রান্ত হতেন তখন তিনি আওড়াতেনঃ "সব মানুষ সুপ্রভাত ভোগ করে আপন পরিবার পরিজনের মধ্যে, আর মৃত্যু অপেক্ষা করে তার জুতার ফিতার চেয়ে নিকটে।" বিলাল -এর জ্বর যখন থামত তখন তিনি বলতেনঃ "হায়! আমি যদি লাভ করতাম একটি রাত কাটানোর সুযোগ, এমন উপত্যকায় যে আমার পাশে আছে ইযখির ও জালীল ঘাস। যদি আমার অবতরণ হতো কোন দিন মাজিন্নার কূপের কাছে। হায়! আমি কি কখনো দেখা পাব শামাহ্ ও ত্বফীলের।" আয়িশাহ বলেন, এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে তাকে এদের অবস্থা অবগত করলাম। তখন তিনি দোয়া করে বললেনঃ হে আল্লাহ! মদিনাকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দাও, যেমন তুমি আমাদের কাছে মক্কা প্রিয় করে দিয়েছিলে কিংবা সে অপেক্ষা আরো অধিক প্রিয় করে দাও। হে আল্লাহ! আর মদিনাকে উপযোগী করে দাও এবং মদিনার মুদ্দ ও সা' এর ওযনে বারাকাত দান কর। আর এখানকার জ্বরকে সরিয়ে দাও জুহ্ফা এলাকায়।
উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর এক কন্যা (যাইনাব) তার কাছে খবর দিয়েছেন, এ সময় উসামাহ, সাদ ও সম্ভবতঃ উবাই নবী (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলেন। খবর এই ছিল যে, (যায়নাব বলেছেন) আমার এক শিশুকন্যা মৃত্যুর দুয়ারে উপনীত। কাজেই আপনি আমাদের এখানে আসুন। তখন নবী (ﷺ) তার কাছে সালাম পাঠিয়ে বলে দিলেনঃ আল্লাহ যা চান নিয়ে নেন, যা চান দিয়ে যান। তার কাছে সব কিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই তুমি ধৈর্য ধর এবং উত্তম বিনিময়ের আশা পোষণ কর। অতঃপর পুনরায় তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে কসম ও তাগিদ দিয়ে প্রেরণ করলে নবী (ﷺ) উঠে দাড়ালেন। আমরাও দাড়িয়ে গেলাম। এরপর শিশুটিকে নবী (ﷺ) এর কোলে তুলে দেয়া হল। এ সময় তার নিঃশ্বাস দ্রুত উঠানামা করছিল। নবী (ﷺ) এর দু'চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। সাদ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এটা কী? তিনি উত্তর দিলেনঃ এটা হল রহমত। আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছে করেন তার হৃদয়ে এটি দিয়ে দেন। আর আল্লাহ তার দয়াদ্র বান্দাদের প্রতিই দয়া করে থাকেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক বেদুঈনের নিকট গিয়েছিলেন, তার রোগ সম্পর্কে জানার জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, আর নবী (ﷺ) এর নিয়ম ছিল, তিনি যখন কোন রোগীকে দেখতে যেতেন তখন তাকে বলতেনঃ কোন ক্ষতি নেই। ইনশাআল্লাহ তুমি তোমার গুনাহসমূহ থেকে পবিত্রতা লাভ করবে। তখন বেদুঈন বললঃ আপনি বলেছেন, এটা গুনাহ থেকে পবিত্র করে দেবে? কক্ষনো না, বরং এটা এমন এক জ্বর যা এক অতি বৃদ্ধকে গরম করছে কিংবা সে বলেছে উত্তপ্ত করছে, যা তাকে কবরে পৌছাবে। নবী (ﷺ) বললেনঃ হা, তাহলে তেমনই।
আনাস হতে বর্ণিত যে, এক ইয়াহূদীর ছেলে নবী (ﷺ) এর সেবা করত। ছেলেটির অসুখ হলে নবী (ﷺ) তার অসুখের খোজ নিতে এলেন। এরপর তিনি বললেনঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। সে ইসলাম গ্রহণ করল। সাঈদ ইবন মুসায়্যাব তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ তালিব মারা গেলে নবী (ﷺ) তার কাছে এসেছিলেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর অসুস্থতার সময় লোকজন তাকে দেখার জন্য তার কাছে আসলে তিনি তাদের নিয়ে বসা অবস্থায় সালাত আদায় করেন। লোকজন দাড়িয়ে সালাত শুরু করেছিল, ফলে তিনি তাদের ইঙ্গিত করলেন, বসে যাও। সালাত শেষ করে তিনি বলেনঃ ইমাম হল এমন ব্যক্তি যাকে অনুসরণ করতে হয়। সে রুকু করলে তোমরাও রুকু করবে। সে যখন মাথা উঠাবে, তোমরাও মাথা উঠাবে। সে যখন বসে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে। হুমাইদী বলেছেনঃ এ হাদীসটি রহিত হয়ে গেছে। আবূ আবদুল্লাহ বুখারী বলেন, কেননা, নবী (ﷺ) জীবনে শেষ যে সালাত আদায় করেন তাতে তিনি নিজে বসে সালাত আদায় করেন আর লোকজন তার পেছনে দাড়ানো অবস্থায় ছিল।
আয়িশাহ বিনত সাদ হতে বর্ণিত যে, তার পিতা বলেছেন, আমি যখন মক্কায় ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন নবী (ﷺ) আমাকে দেখার জন্য আসেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী! আমি সম্পদ রেখে যাচ্ছি। আর আমার একটি মাত্র কন্যা ব্যতীত আর কেউ নেই। এ অবস্থায় আমি কি আমার দু'তৃতীয়াংশ সম্পদ অসীয়ত করে এক-তৃতীয়াংশ রেখে যাব? তিনি উত্তর দিলেনঃ না। আমি বললামঃ তা হলে অর্ধেক রেখে দিয়ে আর অর্ধেক অসীয়ত করে যেতে পারি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ তাহলে দু'তৃতীয়াংশ রেখে দিয়ে এক-তৃতীয়াংশ অসীয়ত করে যেতে পারি? তিনি উত্তর দিলেনঃ এক-তৃতীয়াংশ পার, তবে এক-তৃতীয়াংশও অনেক। তারপর তিনি আমার কপালের উপর তার হাত রাখলেন এবং আমার চেহারা ও পেটের উপর তার হাত বুলিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ, সাদকে তুমি আরোগ্য কর। তার হিজরাত পূর্ণ করে দাও। আমি তার হাতের শীতল স্পর্শ এখনও পাচ্ছি এবং মনে করি আমি তা কিয়ামত পর্যন্ত পাব।
আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি ভয়ানক জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তার গায়ে আমার হাত বুলিয়ে দিলাম এবং বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যা আমি এমন কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হই, যা তোমাদের দু'জনের হয়ে থাকে। আমি বললামঃ এটা এজন্য যে, আপনার জন্য বিনিময়ও দ্বিগুণ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যা! এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যে কোন মুসলিমের উপর কোন কষ্ট বা রোগ-ব্যাধি হলে আল্লাহ তার গুনাহগুলো ঝরিয়ে দেন, যেমনভাবে গাছ তার পাতাগুলো ঝরিয়ে দেয়।
আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর অসুস্থতার সময় তার কাছে এলাম। এরপর তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলাম। এ সময় তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি বললামঃ আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত এবং এটা এজন্য যে, আপনার জন্য আছে দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হা! কোন মুসলিমের উপর কোন কষ্ট আপতিত হলে তাথেকে গুনাহগুলো এমনভাবে ঝরে যায়, যেভাবে গাছ হতে পাতা ঝরে যায়।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক রোগীকে দেখার জন্য তার কাছে প্রবেশ করলেন। তখন তিনি বলেনঃ কোন ক্ষতি নেই, ইনশাআল্লাহ গুনাহ থেকে তুমি পবিত্রতা লাভ করবে। রোগী বলে উঠলঃ কক্ষনো না বরং এটি এমন জ্বর, যা এক অতি বৃদ্ধের শরীরে টগবগ করে ফুটছে যেন তাকে কবরে পৌছাবে। নবী (ﷺ) বললেনঃ হা, তবে তাই।
উসামাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একটি গাধার পিঠে আরোহণ করলেন। গাধাটির পিঠে ছিল 'ফাদক' এলাকায় তৈরী চাদর মোড়ানো একটি গদি। তিনি নিজের পেছনে উসামাহ -কে বসিয়ে অসুস্থ সাদ ইবন উবাদাহ -কে দেখতে গিয়েছিলেন। এটা বাদ্র যুদ্ধের পূর্বেকার ঘটনা। নবী (ﷺ) চলতে চলতে এক পর্যায়ে এক মজলিসের পার্শ্ব অতিক্রম করতে লাগলেন। সেখানে ছিল আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালূল। এ ঘটনা ছিল আবদুল্লাহর ইসলাম গ্রহণের আগের। মজলিসটির মধ্যে মুসলিম, মুশরিক, মূর্তিপূজক ও ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের লোকও ছিল। আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা-ও সে মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। সাওয়ারী জানোয়ারটির পায়ের ধূলা-বালু যখন মজলিসের লোকদের মাঝে উড়তে লাগল, তখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই তার চাদর দিয়ে নিজের নাক চেপে ধরল এবং বললঃ আমাদের উপর ধূলাবালু উড়াবেন না। নবী (ﷺ) সালাম দিলেন এবং নীচে অবতরণ করে তাদের আল্লাহর প্রতি আহবান জানালেন। এরপর তিনি তাদের সামনে কুরআন পাঠ করলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই তাকে বললঃ জনাব, আপনি যা বলেছেন আমার কাছে তা পছন্দনীয় নয়। যদি এসব কথা সত্য হয়, তাহলে আপনি এ মজলিসে আমাদের কষ্ট দিবেন না। বরং আপনি নিজের বাড়ীতে চলে যান এবং সেখানে যে আপনার কাছে যাবে, তার কাছে এসব বিবরণ প্রকাশ করবেন। ইবন রাওয়াহা বলে উঠলেনঃ অবশ্য, হে আল্লাহর রাসূল! এসব কথাবার্তা নিয়ে আমাদের মজলিসে আসবেন। আমরা এগুলো পছন্দ করি। এরপর মুসলিম, মুশরিক ও ইয়াহূদীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়ে গেল, এমনকি তারা পরস্পর মারামারি করতে উদ্যত হলো। নবী (ﷺ) তাদের শান্ত ও নীরব করার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। অবশেষে সবাই শান্ত হলে নবী (ﷺ) সাওয়ারীর উপর আরোহণ করেন এবং সাদ ইবন উবাদাহ -এর বাড়ীতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি তাকে সাদ -কে বললেনঃ তুমি কি শুনতে পাওনি আবূ হুবাব আবদুল্লাহ ইবন উবাই কী উক্তি করেছে? সাদ উত্তর দিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তাকে ক্ষমা করুন এবং উপেক্ষা করুন। আল্লাহ আপনাকে যে মর্যাদা দান করার ইচ্ছে করেছেন তা দান করেছেন। আমাদের এ উপ-দ্বীপ এলাকার লোকজন একমত হয়েছিল তাকে রাজমুকুট পরিয়ে দেয়ার জন্য এবং তাকে নেতৃত্ব দান করার জন্য। এরপর যখন আপনাকে আল্লাহ যে হক ও সত্য দান করেছেন তখন এর দ্বারা তার ইচ্ছে বরবাদ হয়ে গেল। এতে সে ভীষণ মনোক্ষুণ্ণ হল। আর আপনি তার যে ব্যবহার দেখলেন, এটিই তার কারণ।
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমার অসুস্থতা দেখার জন্য আমার কাছে এসেছিলেন। এ সময় তিনি গাধার পিঠে আরোহী ছিলেন না, ঘোড়ার পিঠেও ছিলেন না।
কা'ব ইবন উজরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) পথ অতিক্রম করছিলেন, এ সময় আমি হাড়ির নীচে লাকড়ি জ্বালাচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার মাথার উকুন কি তোমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। আমি বললামঃ জ্বি, হ্যা। তখন তিনি নাপিত ডাকলেন। সে মাথা মুড়িয়ে দিল। তারপর নবী (ﷺ) আমাকে 'ফিদ্ইয়া' আদায় করার নির্দেশ দিলেন।
কাসিম ইবন মুহাম্মাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ বলেছিলেন 'হায় যন্ত্রণায় আমার মাথা গেল'। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি এমনটি হয় আর আমি জীবিত থাকি তাহলে আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, তোমার জন্য দোয়া করব। আয়িশাহ বললেনঃ হায় আফসোস, আল্লাহর শপথ। আমার ধারণা আপনি আমার মৃত্যুকে পছন্দ করেন। আর তা হলে আপনি পরের দিনই আপনার অন্যান্য স্ত্রীদের সঙ্গে রাত কাটাতে পারবেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ বরং আমি আমার মাথা গেল বলার অধিক যোগ্য। আমি তো ইচ্ছে করেছিলাম কিংবা বলেছেন, আমি ঠিক করেছিলামঃ আবূ বাকর ও তার ছেলের নিকট সংবাদ পাঠাব এবং অসীয়ত করে যাব, যেন লোকদের কিছু বলার অবকাশ না থাকে কিংবা আকাঙ্ক্ষাকারীদের কোন আকাঙ্ক্ষা করার অবকাশ না থাকে। তারপর ভাবলাম। আল্লাহ আবূ বাকর ছাড়া অন্যের খলীফা হওয়া) তা অপছন্দ করবেন, মুমিনগণ তা বর্জন করবেন। কিংবা তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা প্রতিহত করবেন এবং মুমিনগণ তা অপছন্দ করবেন।
ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর কাছে গেলাম। তখন তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তার গায়ে আমার হাত দিলাম এবং বললামঃ আপনি কঠিন জ্বরে আক্রান্ত। তিনি বললেনঃ হ্যা, যেমন তোমাদের দু'জনকে ভুগতে হয়। ইবন মাসঊদ বললেনঃ আপনার জন্য আছে দ্বিগুণ সওয়াব। তিনি বললেনঃ হ্যা, কোন মুসলিম কষ্ট বা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে কিংবা অন্য কোন যন্ত্রণায় পতিত হলে, আল্লাহ তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন, যেমনভাবে বৃক্ষ তার পাতাগুলো ঝরিয়ে দেয়।
আমির ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় আমার রোগ কঠিন আকার ধারণ করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে আসলেন। আমি বললামঃ (মৃত্যু) আমার সন্নিকটে এসে গেছে যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন অথচ আমি একজন বিত্তবান ব্যক্তি। একটি মাত্র কন্যা ব্যতীত আমার কোন ওয়ারিশ নেই। এখন আমি আমার সম্পদের দু'তৃতীয়াংশ সদাক্বাহ করতে পারি কি? তিনি উত্তর দিলেনঃ না। আমি বললামঃ তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ এক তৃতীয়াংশ। তিনি বললেনঃ এও অনেক অধিক। নিশ্চই তোমার ওয়ারিশদের স্বাবলম্বী রেখে যাওয়াই শ্রেয় তাদের নিঃস্ব ও মানুষের দ্বারস্থ করে যাবার চেয়ে। আর তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে যে ব্যয়ই কর না কেন, তার বিনিময়ে তোমাকে সাওয়াব দেয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে আহার তুলে দাও, তাতেও।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকালের সময় আগত হল, তখন ঘরের মধ্যে অনেক মানুষের জমায়েত ছিল। যাদের মধ্যে উমার ইবন খত্তাব-ও ছিলেন। তখন নবী (ﷺ) (রোগ কাতর অবস্থায়) বললেনঃ লও, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দেব, যাতে পরবর্তীতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। তখন উমার বললেনঃ নবী (ﷺ) এর উপর রোগ যন্ত্রণা তীব্র হয়ে উঠেছে, আর তোমাদের কাছে কুরআন মাওজুদ। আর আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এ সময়ে আহলে বাইতের মধ্যে মতানৈক্যের সৃষ্টি হল। তারা বাদানুবাদে প্রবৃত্ত হলেন, তন্মধ্যে কেউ কেউ বলতে লাগলেনঃ নবী (ﷺ) এর কাছে কাগজ পৌছে দাও এবং তিনি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দেবেন, যাতে পরবর্তীতে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট না হও। আবার তাদের মধ্যে উমার যা বললেন, তা বলে যেতে লাগলেন। এভাবে নবী (ﷺ) এর কাছে তাদের বাকবিতন্ডা ও মতভেদ বেড়ে চলল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা উঠে যাও। উবাইদুল্লাহ বলেনঃ ইবন আব্বাস বলতেন, বড় মুসীবত হল লোকজনের সেই মতভেদ ও তর্ক-বিতর্ক, যা নবী (ﷺ) ও তার সেই লিখে দেয়ার মধ্যে বাধা হয়ে দাড়িয়েছিল।
সায়িব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে গেলেন। এরপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার বোনের ছেলে পীড়িত। তখন নবী (ﷺ) আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বারাকাতের দোয়া করলেন। এরপর তিনি অযূ করলেন। আমি তার অযূর বেচে যাওয়া পানি পান করলাম এবং তার পৃষ্ঠের পশ্চাতে গিয়ে দাড়ালাম। তখন আমি মোহরে নবুওয়াতের পানে চেয়ে দেখলাম। সেটি তার দু'স্কন্ধের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং খাটিয়ার গোলাকৃতি ঘুন্টির মত।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ দুঃখ কষ্টে পতিত হবার কারণে যেন মৃত্যু কামনা না করে। যদি কিছু করতেই চায়, তা হলে সে যেন বলেঃ হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখ, যতদিন আমার জন্য বেচে থাকা কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দাও, যখন আমার জন্য মরে যাওয়া কল্যাণকর হয়।
কায়স ইবন আবূ হাযিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা অসুস্থ খব্বাব-কে দেখতে গেলাম। এ সময় চিকিৎসার জন্য তাকে) সাতবার দাগ লাগানো হয়েছিল। তখন তিনি বললেনঃ আমাদের সাথীরা ইন্তিকাল করেছেন। তারা এমন অবস্থায় চলে গেছেন যে, দুনিয়া তাদের আমলের সাওয়াবে কোন রকম কমতি করতে পারেনি। আর আমরা এমন জিনিস লাভ করেছি, যা মাটি ভিন্ন অন্য কোথাও রাখার জায়গা পাচ্ছি না। যদি নবী (ﷺ) আমাদের মৃত্যুর জন্য দোয়া কামনা করতে নিষেধ না করতেন, তবে আমি মৃত্যুর জন্য দোয়া করতাম। অতঃপর আমরা আরেকবার তার কাছে এসেছিলাম। তখন তিনি তার বাগানের দেয়াল তৈরী করছিলেন। তিনি বললেনঃ মুসলিমকে তার যাবতীয় ব্যয়ের জন্য সাওয়াব দান করা হয়, তবে এ মাটিতে স্থাপিত জিনিসের কথা আলাদা।
আবূ হুরাইরাহ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কোন ব্যক্তিকে তার নেক আমল জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। লোকজন প্রশ্ন করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকেও নয়? তিনি বললেনঃ আমাকেও নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে তার করুণা ও দয়া দিয়ে আবৃত না করেন। কাজেই মধ্যমপন্থা গ্রহণ কর এবং নৈকট্য লাভের চেষ্টা চালিয়ে যাও। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কেননা, সে ভাল লোক হলে (বয়স দ্বারা) তার নেক আমল বৃদ্ধি হতে পারে। আর খারাপ লোক হলে সে তওবা করার সুযোগ পাবে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-কে আমার পায়ের উপর হেলান দেয়া অবস্থায় বলতে শুনেছিঃ হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আর আমাকে মহান বন্ধুর সঙ্গে মিলিত কর।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিয়ম ছিল, তিনি যখন কোন রোগীর কাছে আসতেন কিংবা তার নিকট যখন কোন রোগীকে আনা হত, তখন তিনি বলতেনঃ কষ্ট দূর করে দাও। হে মানুষের রব, আরোগ্য দান কর, তুমিই একমাত্র আরোগ্যদানকারী। তোমার আরোগ্য ছাড়া অন্য কোন আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দান কর যা সামান্যতম রোগকেও অবশিষ্ট না রাখে।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন আমি পীড়িত ছিলাম। তিনি অযূ করলেন। অতঃপর আমার গায়ের উপর অযূর পানি ছিটিয়ে দিলেন। কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেনঃ এরপর তিনি উপস্থিত লোকদের বলেছেনঃ তার গায়ে পানি ছিটিয়ে দাও। এতে আমি সংজ্ঞা ফিরে পেলাম। আমি বললামঃ কালালাহ্ (পিতাও নেই, সন্তানও নেই) ছাড়া আমার কোন ওয়ারিশ নেই। কাজেই আমার রেখে যাওয়া সম্পদ কীভাবে বণ্টন করা হবে? তখন ফারায়েয সম্বন্ধীয় আয়াত অবতীর্ণ হয়।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) (মদিনা) আসলেন, তখন আবূ বাকর ও বিলাল জ্বরে আক্রান্ত হলেন। তিনি বলেনঃ আমি তাদের নিকট বললামঃ আব্বাজান, আপনি কেমন অনুভব করছেন? হে বিলাল! আপনি কেমন অনুভব করছেন? তিনি বলেনঃ আবূ বাকর যখন জ্বরে আক্রান্ত হতেন তখন তিনি আবৃত্তি করতেন, "সব মানুষ সুপ্রভাত ভোগ করে আপন পরিবার পরিজন নিয়ে, আর মৃত্যু অপেক্ষা করে তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটে।" আর বিলাল -এর নিয়ম ছিল যখন তার জ্বর ছেড়ে যেত, তিনি তখন উচ্চ আওয়াজে বলতেনঃ হায়! আমি যদি পেতাম একটি রাত অতিবাহিত করার সুযোগ এমন উপত্যকায় যেখানে আমার পাশে আছে ইয্খির ও জালীল ঘাস। যদি আমার অবতরণ হত কোন দিন মাযিন্না এলাকার কূপের কাছে, যদি আমার চোখে ভেসে উঠত শামা ও তাফীল। আয়িশাহ বলেন, এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম এবং তাকে সংবাদ দিলাম। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের কাছে মদিনাকে প্রিয় করে দাও, যেভাবে আমাদের কাছে প্রিয় ছিল মক্কা এবং মদিনা্কে স্বাস্থ্যকর বানিয়ে দাও। আর মদিনার মুদ্দ ও সা'তে বরকত দাও এবং মদিনার জ্বরকে স্থানান্তরিত কর 'জুহ্ফা' এলাকায়।