bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

হাজ্জযাত্ৰা (ইহরাম) অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (১৮২১-১৮৬৬)

আবদুল্লাহ ইবন আবূ কাতাদাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা হুদাইবিয়ার বছর (শত্রুদের তথ্য অনুসন্ধানের জন্য) বের হলেন। নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণ ইহরাম বাধলেন কিন্তু তিনি ইহরাম বাধলেন না। নবী (ﷺ) -কে বলা হল, একটি শত্রুদল তার সাথে যুদ্ধ করতে চায়। নবী (ﷺ) সামনে অগ্রসর হতে লাগলেন। এ সময় আমি তার সাহাবীদের সাথে ছিলাম। হঠাৎ দেখি যে, তারা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হাসাহাসি করছে। আমি তাকাতেই একটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। অমনিই আমি বর্শা দিয়ে আক্রমণ করে তাকে ধরাশায়ী করে ফেলি। সঙ্গীদের নিকট সহযোগিতা কামনা করলে সকলে আমাকে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করল। এরপর আমরা সকলেই ঐ বন্য গাধার গোশত খেলাম। এতে আমরা নবী (ﷺ) হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার আশঙ্কা করলাম। তাই নবী (ﷺ) -এর সন্ধানে আমার ঘোড়াটিকে কখনো দ্রুত কখনো আস্তে চালাচ্ছিলাম। মাঝ রাতের দিকে গিফার গোত্রের এক লোকের সাথে সাক্ষাৎ হলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী (ﷺ) -কে কোথায় রেখে এসেছ? সে বললো, তা'হিন নামক স্থানে আমি তাকে রেখে এসেছি। এখন তিনি সুকয়া নামক স্থানে কায়লূলায় (দুপুরের বিশ্রামে) আছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাহাবীগণ আপনার প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন এবং আল্লাহর রহমত কামনা করেছেন। তারা আপনার হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাই আপনি তাদের জন্য অপেক্ষা করুন। অতঃপর আমি পুনরায় বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি বন্য গাধা শিকার করেছি। এখনো তার বাকী অংশটুকু আমার নিকট রয়েছে। নবী (ﷺ) কাওমের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমরা খাও। অথচ তারা সকলেই তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন।

আবূ কাতাদাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার বছর আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাথে যাত্রা করলাম। তার সকল সাহাবীই ইহরাম বেধেছিলেন কিন্তু আমি ইহরাম বাধিনি। এরপর আমাদেরকে গায়কা নামক স্থানে শত্রুর উপস্থিতি সম্পর্কে খবর দেয়া হলে আমরা শত্রুর অভিমুখে রওয়ানা হলাম। আমার সঙ্গী সাহাবীগণ একটি বন্য গাধা দেখতে পেয়ে একে অন্যের দিকে চেয়ে হাসতে লাগলেন। আমি সেদিকে তাকাতেই তাকে দেখে ফেললাম। সাথে সাথে আমি ঘোড়ার পিঠে চড়ে বর্শা দিয়ে গাধাটিকে আঘাত করে ঐ জায়গাতেই ফেলে দিলাম। অতঃপর তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলে তারা সকলেই সাহায্য করতে অসম্মতি প্রকাশ করলেন। তবে আমরা সবাই এর গোশত খেলাম। এরপর গিয়ে আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাথে মিলিত হলাম। (এর পূর্বে) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাবোধ করছিলাম। তাই আমি আমার ঘোড়াটি কখনো দ্রুতগতিতে আবার কখনো স্বাভাবিক গতিতে চালিয়ে যাচ্ছিলাম। মধ্যরাতে গিয়ে গিফার গোত্রীয় এক লোকের সাথে সাক্ষাৎ হলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে কোথায় রেখে এসেছেন? তিনি বললেন, আমি তা'হিন নামক স্থানে তাকে রেখে এসেছি। তিনি এখন সুকয়া নামক স্থানে বিশ্রাম করছেন। এরপর আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাথে মিলিত হলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাহাবীগণ আপনার প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন এবং রহমতের দোয়া করেছেন। শত্রুরা আপনার হতে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে এ ভয়ে তারা আতংকিত হয়ে পড়েছিলেন। সুতরাং আপনি তাদের জন্য অপেক্ষা করুন। রাসূল (ﷺ) তাই করলেন। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহ‌র রাসূল! আমরা একটি বন্য গাধা শিকার করেছি। এর অবশিষ্ট কিছু অংশ এখনও আমাদের নিকট আছে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার সাহাবীদেরকে বললেনঃ তোমরা খাও। অথচ তারা ছিলেন ইহরাম অবস্থায়।

আবূ কাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদিনা হতে তিন মারহালা দূরে অবস্থিত কাহা নামক স্থানে আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাথে ছিলাম। নবী (ﷺ) ও আমাদের কেউ ইহরামধারী ছিলেন আর কেউ ছিলেন ইহরামবিহীন। এ সময় আমি আমার সাথী সাহাবীদেরকে দেখলাম তারা একে অন্যকে কিছু দেখাচ্ছেন। আমি তাকাতেই একটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। (রাবী বলেন) এ সময় তার চাবুকটি পড়ে গেল। (তিনি আনিয়ে দেয়ার কথা বললে) সকলেই বললেন, আমরা মুহরিম। তাই এ কাজে আমরা তোমাকে সাহায্য করতে পারব না। অবশেষে আমি নিজেই তা উঠিয়ে নিলাম এরপর টিলার পিছন দিক হতে গাধাটির কাছে এসে তা শিকার করে সাহাবীদের কাছে নিয়ে আসলাম। তাদের কেউ বললেন, খাও, আবার কেউ বললেন, খেয়ো না। সুতরাং গাধাটি আমি নবী (ﷺ) -এর নিকট নিয়ে আসলাম। তিনি আমাদের সকলের আগে ছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ খাও, এতো হালাল। সুফইয়ান বলেন, আমাদেরকে আমর ইবন দ্বীনার বললেন, তোমরা সালিহ এবং অন্যান্যের নিকট গিয়ে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস কর। তিনি আমাদের এখানে আগমন করেছিলেন।

আবদুল্লাহ ইবন আবূ কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। তাকে তার পিতা বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হাজ্জে যাত্রা করলে তারাও সকলে যাত্রা করলেন। তাদের হতে একটি দলকে নবী (ﷺ) অন্য পথে পাঠিয়ে দেন। তাদের মধ্যে আবূ কাতাদাহ্-ও ছিলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমরা সমুদ্র তীরের রাস্তা ধরে অগ্রসর হবে আমাদের পরস্পর সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত। তাই তারা সকলেই সমুদ্র তীরের পথ ধরে চলতে থাকেন। ফিরার পথে তারা সবাই ইহরাম বাধলেন কিন্তু আবূ কাতাদা ইহরাম বাধলেন না। পথ চলতে চলতে হঠাৎ তারা কতগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলেন। আবূ কাতাদাহ গাধাগুলোর উপর হামলা করে একটি মাদী গাধাকে হত্যা করে ফেললেন। এরপর এক স্থানে অবতরণ করে তারা সকলেই এর গোশত খেলেন। অতঃপর বললেন, আমরা তো মুহরিম, এ অবস্থায় আমরা কি শিকার্য জন্তুর গোশত খেতে পারি? তাই আমরা গাধাটির অবশিষ্ট গোশত উঠিয়ে নিলাম। তারা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট পৌছে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ইহরাম বেধেছিলাম কিন্তু আবূ কাতাদাহ ইহরাম বাধেননি। এ সময় আমরা কতকগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলাম। আবূ কাতাদাহ এগুলোর উপর আক্রমণ করে একটি মাদী গাধা হত্যা করে ফেললেন। এক স্থানে অবতরণ করে আমরা সকলেই এর গোশত খেয়ে নিই। এরপর বললাম, আমরা তো মুহরিম, এ অবস্থায় আমরা কি শিকারকৃত জানোয়ারের গোশত খেতে পারি? এখন আমরা এর অবশিষ্ট গোশত নিয়ে এসেছি। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের কেউ কি এর উপর আক্রমণ করতে তাকে আদেশ বা ইঙ্গিত করেছ? তারা বললেন, না, আমরা তা করিনি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তাহলে বাকী গোশত তোমরা খেয়ে নাও।

সা'ব ইবন জাসসামাহ লায়সী হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর আবওয়া বা ওয়াদ্দান নামক জায়গায় অবস্থানের সময় তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে একটি বন্য গাধা উপঢৌকন দিলে তিনি তা ফিরিয়ে দেন। এরপর নবী (ﷺ) তার চেহারায় মনোক্ষুণ্ণ ভাব দেখে বললেনঃ ওটা আমি কখনো তোমাকে ফিরিয়ে দিতাম না যদি আমি মুহরিম না হতাম।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ পাচ প্রকার প্রাণী হত্যা করা মুহরিমের জন্য দূষণীয় নয়।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর সহধর্মিণীগণের একজন নবী (ﷺ) হতে আমার নিকট বলেন যে, মুহরিম ব্যক্তি (নির্দিষ্ট) প্রাণী হত্যা করতে পারবে।

আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেন, হাফসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ পাচ প্রকার প্রাণী যে হত্যা করবে তার কোন দোষ নেই। (যেমন) কাক, চিল, ইদুর, বিচ্ছু ও হিংস্র কুকুর।

আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ পাচ প্রকার প্রাণী এত ক্ষতিকর যে, এগুলোকে হারামের মধ্যেও হত্যা করা যেতে পারে। (যেমন) কাক, চিল, বিচ্ছু, ইদুর ও হিংস্র কুকুর।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিনাতে পাহাড়ের কোন এক গর্তে আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে অবস্থান করছিলাম। এমতাবস্থায় তার উপর সূরা ওয়াল মুরসালাত অবতীর্ণ হল। তিনি সূরাটি তিলাওয়াত করছিলেন। আর আমি তার পবিত্র মুখ হতে গ্রহণ করছিলাম। তার মুখ (তিলাওয়াতের ফলে) সিক্ত ছিল। এমতাবস্থায় আমাদের সম্মুখে একটি সাপ লাফিয়ে পড়ল। নবী (ﷺ) বললেনঃ একে হত্যা কর। আমরা দৌড়িয়ে গেলে সাপটি চলে গেল। এরপর নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের অনিষ্ট হতে সাপটি যেমন রক্ষা পেল তোমরা তেমনি রক্ষা পেলে এর ক্ষতি হতে।

নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) গিরগিটিকে ক্ষতিকর (রক্তচোষা) প্রাণী বলেছেন। কিন্তু একে হত্যা করার আদেশ দিতে আমি তাকে শুনিনি।

আবূ শুরায়হ 'আদাবী হতে বর্ণিত, তিনি আমর ইবন সাঈদ-কে বললেন, যখন আমর ইবন সাঈদ মক্কায় সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন, হে আমীর (মদিনার গভর্নর)! আমাকে অনুমতি দিন। আমি আপনাকে এমন কথা শুনাব যা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মক্কা বিজয়ের পরের দিন ইরশাদ করেছিলেন। আমার দু'টি কান ঐ কথাগুলো শুনেছে, হৃদয় সেগুলোকে ধারণ করে রেখেছে এবং আমার চোখ দু'টো তা প্রত্যক্ষ করেছে। যখন তিনি কথাগুলো বলেছিলেন, তখন তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া করার পর বললেনঃ আল্লাহ তাআলা মক্কাকে হারাম (মহাসম্মানিত) করেছেন। কোন মানুষ তাকে মহাসম্মানিত করেনি। সুতরাং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মানুষের জন্য মক্কায় রক্তপাত করা বা এর কোন গাছ কাটা বৈধ নয়। আল্লাহর রাসূল কর্তৃক লড়াই পরিচালনার কারণে যদি (হারামের ভিতরে) কেউ যুদ্ধ করার অনুমতি দেয় তা'হলে তাকে তোমরা বলে দিও, আল্লাহ তার রাসূল (ﷺ) -কে তো অনুমতি দিয়েছিলেন। তোমাদেরকে তো আর তিনি অনুমতি দেননি। আর এ অনুমতিও কেবল শুধু আমাকে দিনের কিছু সময়ের জন্য দেয়া হয়েছিল। আজ পুনরায় তার নিষিদ্ধতা পুনর্বহাল হয়েছে যেমনিভাবে অতীতে ছিল। অতএব প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তি এ কথা যেন প্রত্যেক অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌছিয়ে দেয়। আবূ শুরায়হ-কে জিজ্ঞেস করা হল, আপনাকে আমর কি জবাব দিয়েছিলেন? তিনি বললেন, আমর বলেছিলেন, হে আবূ শুরায়হ! এর বিষয়টি আমি তোমার থেকে ভাল জানি। হারাম কোন অপরাধীকে, হত্যা করে পলাতক ব্যক্তিকে এবং চুরি করে পলায়নকারী ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয় না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা মক্কাকে হারাম (সম্মানিত) করেছেন। সুতরাং তা আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল ছিল না এবং আমার পরেও কারো জন্য হালাল হবে না। তবে আমার জন্য কেবল দিনের কিছু সময়ের জন্য হালাল করে দেয়া হয়েছিল। তাই এখানকার ঘাস, লতাপাতা কাটা যাবে না ও গাছ কাটা যাবে না। কোন শিকার্য জন্তুকে তাড়ানো যাবে না এবং কোন হারানো বস্তুকেও হস্তগত করা যাবে না। অবশ্য ঘোষণাকারী ব্যক্তি এ নিয়মের ব্যতিক্রম। আব্বাস বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! স্বর্ণকার এবং আমাদের কবরে ব্যবহারের জন্য ইযখির ঘাসগুলোকে বাদ রাখুন। তিনি বললেনঃ হা ইযখিরকে বাদ দিয়েই। খালিদ 'ইকরিমা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, হারামের শিকার্য জানোয়ারকে তাড়ান যাবে না, এর অর্থ তুমি কি জান? এর অর্থ হল ছায়া হতে তাকে তাড়িয়ে তার স্থানে নামিয়ে দেয়া।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী (ﷺ) বলেছিলেনঃ এখন হতে আর হিজরত নেই, রয়েছে কেবল জিহাদ এবং নিয়ত। সুতরাং যখন তোমাদেরকে জিহাদের জন্য ডাকা হবে, এ ডাকে তোমরা সাড়া দিবে। আসমান-যমীন সৃষ্টির দিন হতেই আল্লাহ তাআলা এ শহরকে হারাম (মহাসম্মানিত) করে দিয়েছেন। আল্লাহ কর্তৃক সম্মানিত করার কারণেই কিয়ামত পর্যন্ত এ শহর থাকবে মহাসম্মানিত হিসেবে। এ শহরে লড়াই করা আমার পূর্বেও কারো জন্য বৈধ ছিল না এবং আমার জন্যও দিনের কিছু অংশ ব্যতীত বৈধ হয়নি। আল্লাহ কর্তৃক সম্মানিত করার কারণে তা থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত মহাসম্মানিত হিসেবে। এর কাঁটা উপড়িয়ে ফেলা যাবে না, তাড়ানো যাবে না এর শিকার্য জানোয়ারকে, ঘোষণা করার উদ্দেশ্য ব্যতীত কেউ এ স্থানে পড়ে থাকা কোন বস্তুকে উঠিয়ে নিতে পারবে না এবং কর্তন করা যাবে না এখানকার কাঁচা ঘাস ও তরুলতাগুলোকে। আব্বাস বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইযখির বাদ দিয়ে। কেননা এ তো তাদের কর্মকারদের জন্য এবং তাদের ঘরে ব্যবহারের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (ﷺ) বললেনঃ হা, ইযখির বাদ দিয়ে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় রক্তমোক্ষম (সিঙ্গা) লাগিয়েছিলেন।

ইবন বুহাইনা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় 'লাহইয়ে জামাল' নামক স্থানে তার মাথার মধ্যখানে সিঙ্গা লাগিয়েছিলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত রয়েছে, নবী (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় মায়মূনাহ-কে বিবাহ করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইহরাম অবস্থায় আপনি আমাদেরকে কী ধরনের কাপড় পরতে আদেশ করেন? নবী (ﷺ) বললেনঃ জামা, পায়জামা, পাগড়ী ও টুপী পরিধান করবে না। তবে কারো যদি জুতা না থাকে তাহলে সে যেন মোজা পরিধান করে তার গিরার নীচ হতে এর উপরের অংশটুকু কেটে নিয়ে তোমরা যাফরান এবং ওয়ারস্ লাগানো কোন কাপড় পরিধান করবে না। মুহরিম মহিলাগণ মুখে নেকাব এবং হাতে হাত মোজা পরবে না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মুহরিম ব্যক্তিকে তার উষ্ট্রী ফেলে দেয়, ফলে তার ঘাড় ভেঙ্গে যায় এবং মারা যায়। তাকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট আনা হয়। তিনি বললেনঃ তোমরা তাকে গোসল করাও এবং কাফন পরাও। তবে তার মাথা ঢেকে দিও না এবং সুগন্ধি লাগিও না। তাকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় কিয়ামতের ময়দানে উঠানো হবে।

আবদুল্লাহ ইবন হুনায়ন তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবাওয়া নামক জায়গায় আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস এবং মিসওয়ার ইবন মাখরামা -এর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিল। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বললেন, মুহরিম ব্যক্তি তার মাথা ধুতে পারবে আর মিসওয়ার বললেন, মুহরিম তার মাথা ধুতে পারবে না। এরপর আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস আমাকে আবূ আইউব আনসারী-এর নিকট প্রেরণ করলেন। আমি তাকে কুয়া হতে পানি উঠানো চরকার দু' খুটির মধ্যে কাপড় ঘেরা অবস্থায় গোসল করতে দেখতে পেলাম। আমি তাকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, কে? বললাম, আমি আবদুল্লাহ ইব্ন হুনায়ন। মুহরিম অবস্থায় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কিভাবে তার মাথা ধুতেন, এ বিষয়টি জিজ্ঞেস করার জন্য আমাকে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস আপনার নিকট প্রেরণ করেছেন। এ কথা শুনে আবূ আইউব তার হাতটি কাপড়ের উপর রাখলেন এবং সরিয়ে দিলেন। ফলে তার মাথাটি আমি সুস্পষ্টভাবে দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তিকে, যে তার মাথায় পানি ঢালছিল, বললেন, পানি ঢাল। সে তার মাথায় পানি ঢালতে থাকল। অতঃপর তিনি দু' হাত দিয়ে মাথা নাড়া দিয়ে হাত দু'খানা একবার সামনে আনলেন আবার পেছনের দিকে টেনে নিলেন। এরপর বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে এরকম করতে দেখেছি।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে মুহরিমদের উদ্দেশে আরাফাতে ভাষণ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ যার চপ্পল নেই সে মোজা পরিধান করবে আর যার লুঙ্গি নেই সে পায়জামা পরিধান করবে।

আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, মুহরিম ব্যক্তি কোন কাপড় পরিধান করবে এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ি, পায়জামা, টুপী এবং যাফরান কিংবা ওয়ারস্ দ্বারা রঞ্জিত কাপড় ব্যবহার করতে পারবে না। যদি তার জুতা না থাকে তা হলে মোজা পরবে, তবে মোজা দু'টি পায়ের গিরার নিচ হতে কেটে নিবে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আরাফার ময়দানে আমাদেরকে লক্ষ্য করে তার ভাষণে বললেনঃ (মুহরিম অবস্থায়) যার লুঙ্গি নেই সে যেন পায়জামা পরিধান করে এবং যার জুতা নেই সে যেন মোজা পরিধান করে।

বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যুল-কা'দা মাসে উমরাহ আদায় করার নিয়তে রওয়ানা হলে মক্কাবাসী লোকেরা তাকে মক্কা প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে তিনি তাদের সাথে এই শর্তে চুক্তি করেন যে, সশস্ত্র অবস্থায় নয় বরং তলোয়ার কোষবদ্ধ অবস্থায় তিনি মক্কা প্রবেশ করবেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মদিনা্বাসীদের জন্য 'যুল-হুলাইফা, নাজদবাসীদের জন্য 'কারনুল মানাযিল' এবং ইয়ামানবাসীদের জন্য 'ইয়ালামলাম' নামক জায়গাকে ইহরামের জন্য মীকাত নির্ধারণ করেছেন। এ জায়গাগুলোর অধিবাসীদের জন্য এবং হাজ্জ ও উমরাহ্'র নিয়্যাত করে বাইরে হতে আগত যাত্রী, যারা এ জায়গা দিয়ে অতিক্রম করবে, তাদের জন্য এ স্থানগুলো মীকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর মীকাতের ভেতরে অবস্থানকারী লোকদের জন্য তারা যেখান হতে যাত্রা করবে সেটাই তাদের ইহরাম বাধার জায়গা। এমনকি মক্কাবাসী লোকেরা মক্কা হতেই ইহরাম বাধবে।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় (মক্কা) প্রবেশ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) শিরস্ত্রাণটি মাথা হতে খোলার পর এক ব্যক্তি এসে তাকে বললেন, ইবন খাতাল কাবার গিলাফ ধরে আছে। তিনি বললেনঃ তাকে তোমরা হত্যা কর।

সফওয়ান ইবন ইয়া'লা তার পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে ছিলাম। এমতাবস্থায় হলুদ বা অনুরূপ রঙ্গের চিহ্ন বিশিষ্ট জামা পরিহিত এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর নিকট আসলেন। আর উমার আমাকে বললেন, নবী (ﷺ) -এর প্রতি যখন ওয়াহী নাযিল হয় সে মুহূর্তে তুমি কি তাকে দেখতে চাও? এরপর (ঐ সময়ে) নবী (ﷺ) -এর প্রতি ওয়াহী নাযিল হল। অতঃপর এ অবস্থার পরিবর্তন হলে তিনি (প্রশ্নকারীকে) বললেনঃ হাজ্জে তুমি যা কর উমরাতেও তাই কর।

এক ব্যক্তি অন্য একজনের হাত কামড়িয়ে ধরলে তার সামনের দু'টি দাত উৎপাটিত হয়ে যায়, এ সংক্রান্ত নালিশ নবী (ﷺ) বাতিল করে দেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাত ময়দানে নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে উকূফ (অবস্থান) করছিলেন। হঠাৎ তিনি তার সওয়ারী হতে পড়ে যান এবং তার ঘাড় ভেঙ্গে যায় অথবা সাওয়ারীটি তার ঘাড় ভেঙ্গে দেয়। এরপর নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে কুলগাছের পাতা দিয়ে সিদ্ধ পানি দ্বারা গোসল করাও এবং দুই কাপড়ে অথবা বলেন তার পরিধেয় দু'টি কাপড়ে কাফন দাও। তবে তার মাথা ঢেকে দিও না এবং হানূত নামক সুগন্ধিও ব্যবহার কর না। কেননা আল্লাহ তাআলা তাকে কিয়ামতের দিনে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাতের মাঠে নবী (ﷺ) -এর সাথে অবস্থান করছিলেন, অকস্মাৎ তিনি তার সওয়ারী হতে পড়ে গেলে তার ঘাড় ভেঙ্গে যায় অথবা সওয়ারীটি তার ঘাড় ভেঙ্গে দেয়। (ফলে তিনি মারা যান)। এরপর নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তাকে কুলগাছের পাতা দিয়ে সিদ্ধ পানি দ্বারা গোসল করাও এবং দুই কাপড়ে কাফন দাও। তবে তার শরীরে সুগন্ধি মাখাবে না আর তার মাথা ঢাকবে না এবং হানূতও লাগাবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা তাকে কিয়ামতের ময়দানে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহরাম অবস্থায় এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর সাথে ছিলেন। হঠাৎ তার সাওয়ারী তার ঘাড় ভেঙ্গে দেয়। ফলে তিনি মারা যান। এরপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তাকে কুলগাছের পাতা দিয়ে সিদ্ধ পানি দ্বারা গোসল দাও এবং তার দু' কাপড়ে কাফন দাও। তবে তার শরীরে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা ঢাকবে না; কেননা কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় তার উত্থান হবে।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুহাইনা গোত্রের একজন মহিলা নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে বললেন, আমার আম্মা হাজ্জের মানৎ করেছিলেন তবে তিনি হাজ্জ আদায় না করেই ইন্তিকাল করেছেন। আমি কি তার পক্ষ হতে হাজ্জ করতে পারি? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তার পক্ষ হতে তুমি হাজ্জ আদায় কর। তুমি এ ব্যাপারে কি মনে কর যদি তোমার আম্মার উপর ঋণ থাকত তা হলে কি তুমি তা আদায় করতে না? সুতরাং আল্লাহর হক আদায় করে দাও। কেননা আল্লাহ‌র হকই সবচেয়ে বেশী আদায়যোগ্য।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: খাতআম গোত্রের এক মহিলা (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হজ্জত-আল-ওয়াদা) সালে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতার উপর আল্লাহর হজ্জের দায়িত্ব এসেছে। কিন্তু সে অনেক বৃদ্ধ এবং ঠিকভাবে বসতে পারে না। আমি তার পক্ষ থেকে হজ করলে কি ফরজ পূরণ হবে? নবী (ﷺ) ইতিবাচক জবাব দিলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, বিদায় হজ্জের বছর খাস'আম গোত্রের একজন মহিলা এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর তরফ হতে বান্দার উপর যে হাজ্জ ফরজ হয়েছে তা আমার বৃদ্ধ পিতার উপর এমন সময় ফরজ হয়েছে যখন তিনি সওয়ারীর উপর ঠিকভাবে বসে থাকতে সক্ষম নন। আমি তার পক্ষ হতে হাজ্জ আদায় করলে তার হাজ্জ আদায় হবে কি? তিনি বললেনঃ হা (নিশ্চই আদায় হবে)।

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফযল (ইবন আব্বাস) নবী (ﷺ) -এর সওয়ারীতে তার পেছনে বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় খাস'আম কবিলার এক মহিলা আগমন করলেন। ফযল মহিলার দিকে তাকাতে লাগলেন এবং মহিলাও তার দিকে তাকাতে লাগলেন। আর নবী (ﷺ) ফযল-এর মুখটি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে লাগলেন। এ সময় মহিলাটি বললেন, বৃদ্ধ অবস্থায় আমার পিতার উপর আল্লাহর পক্ষ হতে এমন সময় হাজ্জ ফরজ হয়েছে, যখন তিনি সওয়ারীর উপর বসে থাকতে পারছেন না। আমি কি তার পক্ষ হতে হাজ্জ আদায় করতে পারি? তিনি বললেনঃ হা। এ ছিল বিদায় হজ্জের সময়কার ঘটনা।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে মালপত্রের সাথে মুযদালিফা হতে রাত্রিকালে প্রেরণ করেছিলেন।

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার গাধীর পিঠে আরোহণ করে (মিনায়) আগমন করলাম। তখন আমি সাবালক হওয়ার নিকটবর্তী ছিলাম। ঐ সময়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মিনায় দাড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি চলতে চলতে প্রথম কাতারের কিছু অংশ অতিক্রম করে চলে যাই। এরপর সওয়ারী হতে নিচে অবতরণ করি। গাধীটি চরে খেতে লাগল। আর আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর পেছনে লোকদের সাথে কাতারে শামিল হয়ে যাই। ইউনুস ইবন শিহাব সূত্রে তার বর্ণনায় "মিনা" শব্দের পর "বিদায় হাজ্জের সময়" কথাটি বর্ণনা করেছেন।

সায়িব ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সাত বছর বয়সে আমাকে নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে হাজ্জ করানো হয়েছে।

উমার ইবন আবদুল আযীয হতে বর্ণিত। তিনি সায়িব ইবন ইয়াযীদ সম্পর্কে বলতেন, সায়িবকে নবী (ﷺ) -এর সফর সামগ্রীর কাছে বসিয়ে হাজ্জ করানো হয়েছে।

আবদুর রহমান ইবন 'আওফ হতে বর্ণিত। যে বছর উমার শেষবারের মত হাজ্জ আদায় করেন সে বছর তিনি নবী (ﷺ) এর সকল স্ত্রীকে হাজ্জ আদায় করার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তাদের সাথে উসমান ইবন 'আফফান এবং আবদুর রহমান ইবন 'আওফ-কে প্রেরণ করেছিলেন।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনাদের সঙ্গে যুদ্ধ ও জিহাদে অংশগ্রহণ করব না? তিনি বললেন, তোমাদের জন্য উত্তম ও উৎকৃষ্ট জিহাদ হল হাজ্জ, মাকবূল হাজ্জ। আয়িশাহ বললেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে এ কথা শোনার পর আমি আর কখনো হাজ্জ ছাড়ব না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ মেয়েরা মাহরাম (যার সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ) ব্যতীত অন্য কারো সাথে সফর করবে না। মাহরাম কাছে নেই এমতাবস্থায় কোন পুরুষ কোন মহিলার নিকট গমন করতে পারবে না। এ সময় এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক অমুক সেনাদলের সাথে জিহাদ করার জন্য যেতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার স্ত্রী হাজ্জ করতে যেতে চাচ্ছে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তুমি তার সাথেই যাও।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) হাজ্জ হতে ফিরে এসে উম্মে সিনান নাম্নী এক আনসারী মহিলাকে বললেনঃ হাজ্জ আদায় করাতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন, অমুকের আববা তার স্বামী, কারণ পানি টানার জন্য আমাদের মাত্র দু'টি উট আছে। একটিতে সাওয়ার হয়ে তিনি হাজ্জ আদায় করতে গিয়েছেন। আর অন্যটি আমাদের জমিতে পানি সিঞ্চনের কাজ করছে। নবী (ﷺ) বললেন, রমাযান মাসে একটি উমরাহ আদায় করা একটি ফরজ হাজ্জ আদায় করার সমান অথবা বলেছেনঃ আমার সাথে একটি হাজ্জ আদায় করার সমান।

যিয়াদের আযাদকৃত গোলাম কাযাআহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ-কে যিনি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে বারোটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, বলতে শুনেছি, চারটি বিষয় যা আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে শুনেছি (অথবা) তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে বর্ণনা করতেন। আবূ সাঈদ বলেন, এ বিষয়গুলো আমাকে আশ্চর্যান্বিত করে দিয়েছে এবং চমৎকৃত করে ফেলেছে। (তা হল এই), স্বামী কিংবা মাহরাম ব্যতীত কোন মহিলা দু'দিনের পথ সফর করবে না। 'ঈদুল ফিত্র এবং 'ঈদুল আযহা- এ দুই দিন কেউ সওম পালন করবে না। আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের পর সূর্য উদয় পর্যন্ত কেউ কোন সালাত আদায় করবে না। আর মসজিদে হারাম (কাবা), আমার মাসজিদ (মসজিদে নাববী) এবং মসজিদে আকসা (বাইতুল মাকদিস)- এ তিন মাসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদের জন্য সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে না।

আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে তার দুই ছেলের উপর ভর করে হেটে যেতে দেখে বললেনঃ তার কী হয়েছে? তারা বললেন, তিনি পায়ে হেটে হাজ্জ করার মানত করেছেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ লোকটি নিজেকে কষ্ট দিক আল্লাহ তাআলার এর কোন দরকার নেই। অতঃপর তিনি তাকে সওয়ার হয়ে চলার জন্য আদেশ করলেন।

উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বোন পায়ে হেটে হাজ্জ করার মানত করেছিল। আমাকে এ বিষয়ে নবী (ﷺ) হতে ফাতাওয়া আনার নির্দেশ করলে আমি নবী (ﷺ) -কে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ পায়ে হেটেও চলুক, সওয়ারও হোক। ইয়াযীদ ইবন আবূ হাবীব বলেন, আবুল খায়ের 'উক্বাহ হতে কখনো বিচ্ছিন্ন হতেন না।