শত্রুভীতির অবস্থায় নামাজ (৯৪২-৯৪৭)
শুআয়ব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যুহরী-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) কি সালাত আদায় করতেন খাওফের সালাত? তিনি বললেন, আমাকে সালিম জানিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে নাজ্দ এলাকায় যুদ্ধ করেছিলাম। সেখানে আমরা শত্রুর মুখোমুখী কাতারবন্দী হয়ে দাড়ালাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। একদল তার সঙ্গে সালাতে দাড়ালেন এবং অন্য একটি দল শত্রুর মুখোমুখী অবস্থান করলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার সংগে যারা ছিলেন তাদের নিয়ে রুকূ ও দু'টি সিজদা করলেন। অতঃপর এ দলটি যারা সালাত আদায় করেনি, তাদের স্থানে চলে গেলেন এবং তারা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর পিছনে এগিয়ে এলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদের সঙ্গে এক রুকূ ও দু' সিজদা করলেন এবং পরে সালাম ফিরালেন। অতঃপর তাদের প্রত্যেকে উঠে দাড়ালেন এবং নিজে নিজে একটি রুকূ ও দু'টি সিজদা (সহ সালাত) শেষ করলেন।
নাফি সূত্রে ইবন উমার হতে মুজাহিদ-এর বর্ণনার মতো উল্লেখ করেছেন যে, সৈন্যরা যখন পরস্পর (শত্রুমিত্র) মিলিত হয়ে যায়, 'তখন দাড়িয়ে সালাত আদায় করবে। ইবন উমার নবী (ﷺ) হতে আরো বলেছেন যে, যদি সৈন্যদের অবস্থা এর চেয়ে গুরুতর হয়ে যায়, তাহলে দাড়ানো অবস্থায় এবং আরোহী অবস্থায় সালাত আদায় করবে।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সালাতে দাড়ালেন এবং সাহাবীগণ তার পিছনে (ইক্তিদা করে) দাড়ালেন। তিনি তাকবীর বললেন, তারাও তাকবীর বললেন, তিনি রুকূ করলেন, তারাও তার সঙ্গে রুকূ করলেন। অতঃপর তিনি সিজদা করলেন এবং তারাও তার সঙ্গে সিজদা করলেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাড়ালেন, তখন যারা তার সংগে সিজদা করছিলেন তারা উঠে দাড়ালেন এবং তাদের ভাইদের পাহারা দিতে লাগলেন। তখন অপর দলটি এসে তার সঙ্গে রুকূ করলেন। এভাবে সকলেই সালাতে অংশগ্রহণ করলেন। অথচ একদল অপর দলকে পাহারাও দিলেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন উমার কুরাইশ গোত্রের কাফিরদের মন্দ বলতে বলতে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সূর্য প্রায় ডুবে যাচ্ছে, অথচ আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমিও তা এখনও আদায় করতে পারিনি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি মদিনার বুতহান উপত্যকায় নেমে উযূ করলেন এবং সূর্যাস্তের পর আসর সালাত আদায় করলেন, অতঃপর মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আহযাব যুদ্ধ হতে ফিরার পথে আমাদেরকে বললেন, বনূ কুরাইযাহ এলাকায় পৌছার পূর্বে কেউ যেন আসর সালাত আদায় না করে। কিন্তু অনেকের রাস্তাতেই আসরের সময় হয়ে গেল, তখন তাদের কেউ কেউ বললেন, আমরা সেখানে না পৌছে সালাত আদায় করব না। আবার কেউ কেউ বললেন, আমরা সালাত আদায় করে নেব, আমাদের নিষেধ করার এ উদ্দেশ্য ছিল না (বরং উদ্দেশ্য ছিল তাড়াতাড়ি যাওয়া) নবী (ﷺ) -এর নিকট এ কথা উল্লেখ করা হলে, তিনি তাদের কারোর ব্যাপারে কড়াকড়ি করেননি।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (একদিন) ফজরের সালাত অন্ধকার থাকতে আদায় করলেন। অতঃপর সওয়ারীতে আরোহণ করলেন এবং বললেনঃ আল্লাহু আক্বার, খায়বার ধ্বংস হোক! যখন আমরা কোন সম্প্রদায়ের এলাকায় অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত হয় কতই না মন্দ! তখন তারা (ইয়াহূদীরা) বের হয়ে গলির মধ্যে দৌঁড়াতে লাগল এবং বলতে লাগল, মুহাম্মাদ ও তার খামীস এসে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, খামীস হচ্ছে সৈন্য-সামন্ত। পরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদের উপর জয়লাভ করেন। তিনি যোদ্ধাদের হত্যা করলেন এবং নারী-শিশুদের বন্দী করলেন। তখন সফীয়্যাহ প্রথম দিহ্ইয়া কালবীর এবং পরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর অংশে পড়ল। অতঃপর তিনি তাকে বিয়ে করেন এবং তার মুক্তিদানকে মাহররূপে গণ্য করেন। আবদুল আযীয সাবিত-এর নিকট জানতে চাইলেন, তাকে কি মাহর দেয়া হয়েছিল? তা কি আপনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করেছিলেন? তিনি বললেন, তার মুক্তিই তার মাহর, আর মুচ্কি হাসলেন।