নামাজ (সালাত) (৩৪৯-৫২০)
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ যার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমি মক্কায় থাকা অবস্থায় আমার গৃহের ছাদ উন্মুক্ত করা হল। অতঃপর জিবরীল অবতীর্ণ হয়ে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। আর তা যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করলেন। অতঃপর হিকমাত ও ঈমানে ভর্তি একটি সোনার পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বুকের মধ্যে ঢেলে দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। অতঃপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আকাশের দিকে নিয়ে চললেন। পরে যখন দুনিয়ার আকাশে আসলাম জিব্রীল আসমানের রক্ষককে বললেনঃ দরজা খোল। আসমানের রক্ষক বললেনঃ কে আপনি? জিবরীল বললেনঃ আমি জিব্রীল । (আকাশের রক্ষক) বললেনঃ আপনার সঙ্গে কেউ রয়েছেন কি? জিব্রীল বললেনঃ হা মুহাম্মাদ (ﷺ) রয়েছেন। অতঃপর রক্ষক বললেনঃ তাকে কি ডাকা হয়েছে? জিবরীল বললেনঃ হা। অতঃপর যখন আমাদের জন্য দুনিয়ার আসমানকে খুলে দেয়া হল আর আমরা দুনিয়ার আসমানে প্রবেশ করলাম তখন দেখি সেখানে এমন এক ব্যক্তি উপবিষ্ট রয়েছেন যার ডান পাশে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি রয়েছে আর বাম পাশে রয়েছে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি। যখন তিনি ডান দিকে তাকাচ্ছেন হেসে উঠছেন আর যখন বাম দিকে তাকাচ্ছেন কাঁদছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ স্বাগতম ওহে সৎ নবী ও সৎ সন্তান। আমি (রাসূলুল্লাহ) জিব্রীল-কে বললামঃ কে এই ব্যক্তি? তিনি জবাব দিলেনঃ ইনি হচ্ছেন আদম। আর তার ডানে বামে রয়েছে তার সন্তানদের রূহ। তাদের মধ্যে ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী আর বাম দিকের লোকেরা জাহান্নামী। ফলে তিনি যখন ডান দিকে তাকান তখন হাসেন আর যখন বাম দিকে তাকান তখন কাঁদেন। অতঃপর জিব্রীল আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে উঠলেন। অতঃপর তার রক্ষককে বললেনঃ দরজা খোল। তখন এর রক্ষক প্রথম রক্ষকের মতই প্রশ্ন করলেন। পরে দরজা খুলে দেয়া হল। আনাস বলেনঃ আবূ যার উল্লেখ করেন যে, তিনি [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)] আসমানসমূহে আদম, ইদরীস, মূসা, ঈসা এবং ইব্রাহীম ('আলাইহিমুস্ সালাম)-কে পান। কিন্তু আবূ যার তাদের স্থানসমূহ নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তবে এতটুকু উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আদম-কে দুনিয়ার আকাশে এবং ইব্রাহীম-কে ষষ্ঠ আসমানে পান। আনাস বলেনঃ জিব্রীল যখন নবী (ﷺ) কে নিয়ে ইদরীসএর নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন তখন ইদ্রীস বলেনঃ মারহাবা ওহে সৎ ভাই ও পুণ্যবান নবী। আমি (রাসূলুল্লাহ) বললামঃ ইনি কে? জিবরীল বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ইদ্রীস। অতঃপর আমি মূসা-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করাকালে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে সৎ নবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল বললেনঃ ইনি মূসা। অতঃপর আমি ঈসা-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করাকালে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে সৎ নবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ঈসা। অতঃপর আমি ইব্রাহীম-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে পুণ্যবান নবী ও নেক সন্তান। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ইব্রাহীম। ইবন শিহাব বলেনঃ ইবন হাযম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবন আব্বাস ও আবূ হাববা আল-আনসারী উভয়ে বলতেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ অতঃপর আমাকে আরো উপরে উঠানো হল অতঃপর এমন এক সমতল স্থানে এসে আমি উপনীত হই যেখানে আমি লেখার শব্দ শুনতে পাই। ইবন হায্ম ও আনাস ইবন মালিক বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অতঃপর আল্লাহ আমার উম্মাতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করে দেন। অতঃপর তা নিয়ে আমি ফিরে আসি। অবশেষে যখন মূসা -এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করি তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা আপনার উম্মাতের উপর কী ফরজ করেছেন? আমি বললামঃ পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। তিনি বললেনঃ আপনি আপনার পালনকর্তার নিকট ফিরে যান, কেননা আপনার উম্মাত তা আদায় করতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। আল্লাহ তাআলা কিছু অংশ কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা ('আ)-এর নিকট পুনরায় গেলাম আর বললামঃ কিছু অংশ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেনঃ আপনি পুনরায় আপনার রবের নিকট ফিরে যান। কারণ আপনার উম্মাত এটিও আদায় করতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। তখন আরো কিছু অংশ কমিয়ে দেয়া হলো। আবারও মূসা ('আ)-এর নিকট গেলাম, এবারও তিনি বললেনঃ আপনি পুনরায় আপনার প্রতিপালকের নিকট যান। কারণ আপনার উম্মত এটিও আদায় করতে সক্ষম হবে না। তখন আমি পুনরায় গেলাম, তখন আল্লাহ বললেনঃ এই পাচই (নেকির দিক দিয়ে) পঞ্চাশ (বলে গণ্য হবে)। আমার কথার কোন রদবদল হয় না। আমি পুনরায় মূসা ('আ)-এর নিকট আসলে তিনি আমাকে আবারও বললেনঃ আপনার প্রতিপালকের নিকট পুনরায় যান। আমি বললামঃ পুনরায় আমার প্রতিপালকের নিকট যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। অতঃপর জিব্রীল ('আ) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। আর তখন তা বিভিন্ন রঙে আবৃত ছিল, যার তাৎপর্য আমি অবগত ছিলাম না। অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলে আমি দেখতে পেলাম যে, তাতে রয়েছে মুক্তোমালা আর তার মাটি হচ্ছে কস্তুরী।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা মুকীম অবস্থায় ও সফরে দু' রাকাত করে সালাত ফরজ করেছিলেন। পরে সফরের সালাত আগের মত রাখা হয় আর মুকীম অবস্থার সালাত বাড়িয়ে দেয়া হয়।
উম্মু 'আতিয়্যাহ হতে রিওয়ায়াত হয়েছে , তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) ঈদের দিবসে ঋতুমতী এবং পর্দানশীন নারীদের বের করে আনার আদেশ দিলেন, যাতে তারা মুসলিমদের জামা'আত ও দোয়ায় অংশ গ্রহণ করতে পারে। অবশ্য ঋতুমতী নারীগণ সালাতের জায়গা হতে দূরে অবস্থান করবে। এক মহিলা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো কারো ওড়না নেই। তিনি বললেনঃ তার সাথীর উচিত তাকে নিজের ওড়না পরিয়ে দেয়া।
মুহাম্মাদ ইবন মুনকাদির হতে রিওয়ায়াত হয়েছে, তিনি বলেনঃ একদা জাবির কাঁধে লুঙ্গি বেধে সালাত আদায় করেন। আর তার কাপড় (জামা) আলনায় রাখা ছিল। তখন তাকে এক ব্যক্তি বললোঃ আপনি যে এক লুঙ্গি পরে সালাত আদায় করলেন? তিনি জবাবে বললেনঃ তোমার মত আহাম্মকদের দেখানোর জন্য আমি এমন করেছি। নবী (ﷺ) -এর যুগে আমাদের কার দু'টো কাপড় ছিল?
মুহাম্মাদ ইবন মুনকাদির হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ-কে এক কাপড়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আর তিনি বলেছেনঃ আমি নবী (ﷺ) -কে এক কাপড়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি।
উমার ইবন আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একটি মাত্র কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করেছেন, যার উভয় প্রান্ত বিপরীত দিকে রেখেছিলেন।
উমার ইবন আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) -কে উম্মু সালামাহ-এর ঘরে একটি মাত্র কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি নবী (ﷺ) সে কাপড়ের উভয় প্রান্ত নিজের উভয় কাঁধে রেখেছিলেন।
উমার ইবন আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে একটি মাত্র পোষাক জড়িয়ে উম্মু সালামাহ-এর ঘরে সালাত আদায় করতে দেখেছি, যার প্রান্তদ্বয় তার দুই কাঁধের উপর রেখেছিলেন।
উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব বলেনঃ আমি ফত্হে মক্কার বছর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট গিয়ে দেখলাম যে, তিনি গোসল করছেন আর তার মেয়ে ফাতিমা তাকে আড়াল করে রেখেছেন। তিনি বলেনঃ আমি তাকে সালাম প্রদান করলাম। তিনি জানতে চাইলেনঃ এ কে? আমি বললামঃ আমি উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব। তিনি বললেনঃ মারহাবা, হে উম্মু হানী! গোসল শেষ করে তিনি এক কাপড় জড়িয়ে আট রাকাত সালাত আদায় করলেন। সালাত সমাধা করলে তাকে আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার সহোদর ভাই [আলী ইবন আবূ তালিব] এক ব্যক্তিকে হত্যা করতে চায়, অথচ আমি তাকে আশ্রয় দিয়েছি। সে ব্যক্তিটি হুবায়রার ছেলে অমুক। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হে উম্মু হানী! তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছ, আমিও তাকে নিরাপত্তা দিলাম। উম্মু হানী বলেনঃ এ সময় ছিল চাশতের ওয়াক্ত।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে একটি কাপড়ে সালাত আদায়ের মাসআলাহ জিজ্ঞেস করল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উত্তরে বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কি দু'টি করে কাপড় আছে?
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ এক কাপড় পরে এমনভাবে যেন সালাত আদায় না করে যে, তার উভয় কাঁধে এর কোন অংশ নেই।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এক কাপড়ে সালাত আদায় করে, সে যেন কাপড়ের দু' প্রান্ত বিপরীত পাশে রাখে।
সাঈদ ইবন হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহ-কে একটি কাপড়ে সালাত আদায় করা সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বললেনঃ আমি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে কোন এক সফরে বের হয়েছিলাম। এক রাতে আমি কোন দরকারে তার নিকট গেলাম। দেখলাম, তিনি সালাতে রত আছেন। তখন আমার শরীরে মাত্র একখানা কাপড় ছিল। আমি কাপড় দিয়ে শরীর জড়িয়ে নিলাম আর তার পার্শ্বে সালাতে দাড়ালাম। তিনি সালাত শেষ করে জিজ্ঞেস করলেনঃ জাবির! রাতের বেলা আসার কারণ কী? তখন আমি তাকে আমার প্রয়োজনের কথা জানালাম। আমার কাজ শেষ হলে তিনি বললেনঃ এ কিরূপ জড়ানো অবস্থায় তোমাকে দেখলাম? আমি বললামঃ কাপড় একটিই ছিল (তাই এভাবে করেছি)। তিনি বললেনঃ কাপড় যদি বড় হয়, তাহলে শরীরে জড়িয়ে পরবে। আর যদি ছোট হয় তাহলে লুঙ্গি হিসেবে ব্যবহার করবে।
সাহল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা শিশুদের মত নিজেদের লুঙ্গি কাঁধে বেধে সালাত আদায় করতেন। আর মহিলাদের প্রতি নির্দেশ ছিল যে, তারা যেন পুরুষদের ঠিকমত বসে যাওয়ার পূর্বে সিজদা হতে মাথা না উঠায়।
মুগীরাহ ইবন শু'বা হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি কোন এক সফরে নবী (ﷺ) -এর সাথে ছিলাম। তিনি বললেনঃ হে মুগীরাহ! বদনাটি নাও। আমি তা নিলাম। তিনি আমার দৃষ্টির অগোচরে গিয়ে প্রয়োজন সারলেন। তখন তার শরীরে ছিল শামী জুববা। তিনি জুববার আস্তিন হতে হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু আস্তিন সংকীর্ণ হবার ফলে তিনি নীচের দিক দিয়ে হাত বের করলেন। আমি পানি ঢেলে দিলাম এবং তিনি সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন। আর তার উভয় মোজার উপর মাস্হ করলেন ও পরে সালাত আদায় করলেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (নবুওয়াতের পূর্বে) কুরাইশদের সাথে কাবার (মেরামতের) জন্যে পাথর তুলে দিচ্ছিলেন। তার পরিধানে ছিল লুঙ্গি। তার চাচা আব্বাস তাকে বললেনঃ ভাতিজা! তুমি লুঙ্গি খুলে কাঁধে পাথরের নীচে রাখলে ভাল হত। জাবির বলেনঃ তিনি লুঙ্গি খুলে কাঁধে রাখলেন এবং তৎক্ষণাৎ বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। এরপর তাকে আর কখনো নগ্ন অবস্থায় দেখা যায়নি।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট দাড়িয়ে এক কাপড়ে সালাত আদায়ের হুকুম জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের নিকট কি দু'খানা করে কাপড় আছে? অতঃপর এক ব্যক্তি উমার-কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ যখন তোমাদের সামর্থ্য দিয়েছেন তখন তোমরাও নিজেদের সামর্থ্য প্রকাশ কর। লোকেরা যেন পুরো পোশাক একত্রে পরিধান করে মানুষ লুঙ্গি ও চাদর, লুঙ্গি ও জামা, লুঙ্গি ও কাবা, পায়জামা ও চাদর, পায়জামা ও জামা, পায়জামা ও কাবা, জাঙ্গিয়া ও কাবা, জাঙ্গিয়া ও জামা পরে সালাত আদায় করে। আবূ হুরাইরাহ্ বলেন যে, আমার মনে হয় উমার জাঙ্গিয়া ও চাদরের কথাও বলেছিলেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করলো, ইহরামকারী কী পরিধান করবে? তিনি বললেন, সে জামা পরবে না, পায়জামা পরবে না, টুপি পরবে না, যাফরান বা ওয়ার্স রঙের রঞ্জিত কাপড় পরবে না। আর জুতা না পেলে মোজা পরবে। তবে তা কর্তন করে পায়ের গিরার নীচ পর্যন্ত নেবে। নাফি, ইবন উমার-সূত্রে নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে রিওয়ায়াত হয়েছে, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইশতিমালে সম্মা (১) এবং এক কাপড়ে ইয়াহতিবা (২) করতে নিষেধ করেছেন যাতে তার লজ্জাস্থানে কাপড়ের কোন অংশ না থাকে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) দু'ধরনের ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। তা হল লিমাস (৩) ও নিবায (৪) আর ইশতিমালে সাম্মা এবং এক কাপড়ে ইহতিবা করতে নিষেধ করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে আবূ বাকর [যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর পক্ষ হতে তাকে হাজ্জের আমীর বানানো হয়েছিল] কুরবানীর দিন ঘোষকদের সাথে মিনায় এ ঘোষণা করার জন্যে পাঠালেন যে, এ বছরের পরে কোন মুশরিক বায়তুল্লাহর হাজ্জ করতে পারবে না। আর কোন উলঙ্গ লোকও বায়তুল্লাহ তওয়াফ করতে পারবে না। হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান বলেনঃ অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আলী-কে আবূ বাকর-এর পেছনে প্রেরণ করেন আর তাকে সূরাহ্ বারা'আতের (প্রথম অংশের) ঘোষণা করার নির্দেশ দেন। আবূ হুরাইরাহ্ বলেনঃ তখন আমাদের সঙ্গে আলী কুরবানীর দিন মিনায় ঘোষণা দেন যে, এ বছরের পর হতে আর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না এবং কোন উলঙ্গ ব্যক্তিও আর ত্বওয়াফ করতে পারবে না।
মুহাম্মাদ ইবন মুনকাদির হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ-এর নিকট গিয়ে দেখি তিনি একটি মাত্র কাপড় নিজের শরীরে জড়িয়ে সালাত আদায় করছেন অথচ তার একটা চাদর সেখানে রাখা ছিল। সালাতের পর আমরা বললামঃ হে আবূ আবদুল্লাহ। আপনি সালাত আদায় করছেন, অথচ আপনার চাদর তুলে রেখেছেন? তিনি বললেন, হা, তোমাদের মত নির্বোধদের দেখানোর জন্যে আমি এমন করেছি। আমি নবী (ﷺ) -কে এভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) খায়বার অভিযানে বের হয়েছিলেন। সেখানে আমরা খুব ভোরে ফজরের সালাত আদায় করলাম। অতঃপর নবী (ﷺ) সওয়ার হলেন। আবূ তালহা-ও সওয়ার হলেন, আর আমি আবূ তালহার পিছনে উপবিষ্ট ছিলাম। নবী (ﷺ) তার সওয়ারীকে খায়বরের পথে চালিত করলেন। আমার হাটু নবী (ﷺ) -এর ঊরুতে লাগছিল। অতঃপর নবী (ﷺ) -এর ঊরু হতে ইযার সরে গেল। এমনকি নবী (ﷺ) -এর ঊরুর উজ্জ্বলতা যেন এখনো আমি দেখছি। তিনি যখন নগরে প্রবেশ করলেন তখন বললেনঃ আল্লাহু আকবার। খায়বর ধ্বংস হোক। আমরা যখন কোন কওমের প্রাঙ্গণে অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃতদের ভোর হবে কতই না মন্দ! এ কথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন। আনাস বলেনঃ খায়বারের অধিবাসীরা নিজেদের কাজে বেরিয়েছিল। তারা বলে উঠলঃ মুহাম্মাদ (ﷺ)! আবদুল আযীয বলেনঃ আমাদের কোন কোন সাথী "পূর্ণ বাহিনীসহ" (ওয়াল খামীস) শব্দও যোগ করেছেন। পরে যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা খায়বর জয় করলাম। তখন যুদ্ধবন্দীদের সমবেত করা হলো। দিহ্য়া এসে বললেনঃ হে আল্লাহর নবী! বন্দীদের হতে আমাকে একটি দাসী দিন। তিনি বললেন যাও, তুমি একটি দাসী নিয়ে যাও। তিনি সাফিয়্যাহ বিনত হুয়াই-কে নিলেন। তখন এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে বললঃ ইয়া নবীয়াল্লাহ! বনূ কুরাইযা ও বনূ নাযীরের অন্যতম নেত্রী সাফিয়্যাহ বিনত হুয়াইকে আপনি দিহ্য়াকে দিচ্ছেন? তিনি তো একমাত্র আপনারই যোগ্য। তিনি বললেনঃ দিহ্য়াকে সাফিয়্যাহসহ ডেকে আন। তিনি সাফিয়্যাহসহ উপস্থিত হলেন। যখন নবী (ﷺ) সাফিয়্যাহ -কে দেখলেন তখন (দিহ্য়াকে) বললেনঃ তুমি বন্দীদের হতে অন্য একটি দাসী দেখে নাও। রাবী বলেনঃ নবী (ﷺ) সাফিয়্যাহ-কে আযাদ করে দিলেন এবং তাকে বিয়ে করলেন। রাবী সাবিত আবূ হামযা (আনাস)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ নবী (ﷺ) তাকে কি মাহর দিলেন? আনাস জওয়াব দিলেনঃ তাকে আযাদ করাই তার মাহর। এর বিনিময়ে তিনি তাকে বিয়ে করেছেন। অতঃপর পথে উম্মু সুলায়ম সাফিয়্যাহ-কে সাজিয়ে রাতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর খিদমতে পেশ করলেন। নবী (ﷺ) বাসর রাত যাপন করে ভোরে উঠলেন। তিনি ঘোষণা দিলেনঃ যার নিকট খাবার কিছু আছে সে যেন তা নিয়ে আসে। এ বলে তিনি একটা চামড়ার দস্তরখান বিছালেন। কেউ খেজুর নিয়ে আসলো, কেউ ঘি আনলো। আবদুল আযীয বলেনঃ আমার মনে হয় আনাস ছাতুর কথাও উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তারা এসব মিশিয়ে খাবার তৈরি করলেন। এ-ই ছিল রাসূল (ﷺ) -এর ওয়ালীমাহ।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ফজরের সালাত আদায় করতেন আর তার সঙ্গে অনেক মুমিন মহিলা চাদর দিয়ে গা ঢেকে শরীক হতো। অতঃপর তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতো। আর তাদেরকে কেউ চিনতে পারতো না।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একদা একটি কারুকার্য খচিত চাদর গায়ে দিয়ে সালাত আদায় করলেন। আর সালাতে সে চাদরের কারুকার্যের প্রতি তার দৃষ্টি পড়ল। সালাত শেষে তিনি বললেনঃ এ চাদরখানা আবূ জাহমের নিকট নিয়ে যাও, আর তার কাছ হতে আমবিজানিয়্যাহ (কারুকার্য ছাড়া মোটা চাদর) নিয়ে আস। এটা তো আমাকে সালাত হতে অমনোযোগী করে দিচ্ছিল। হিশাম ইবন উরওয়াহ তার পিতা হতে এবং তিনি আয়িশাহ হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি সালাত আদায়ের সময় এর কারুকার্যের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ে। তখন আমি আশংকা করছিলাম যে, এটা আমাকে ফিতনায় ফেলে দিতে পারে।
আনাস হতে বর্ণিত। আয়িশাহ-এর নিকট একটা বিচিত্র রঙের পাতলা পর্দার কাপড় ছিল। তিনি তা ঘরের এক দিকে পর্দা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ আমার সামনে থেকে তোমার এই পর্দা সরিয়ে নাও। কারণ সালাত আদায়ের সময় এর ছবিগুলো আমার সামনে ভেসে ওঠে।
উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) -কে একটা রেশমী জুববা হাদিয়া হিসেবে দেয়া হয়েছিল। তিনি তা পরিধান করে সালাত আদায় করলেন। কিন্তু সালাত শেষ হবার সাথে সাথে দ্রুত তা খুলে ফেললেন, যেন তিনি তা পরা অপছন্দ করছিলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ মুত্তাকীদের জন্যে এই পোশাক সমীচীন নয়।
আবূ জুহাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে চামড়ার একটি লাল তাবুতে দেখলাম এবং তার জন্য উযূর পানি নিয়ে বিলাল-কে উপস্থিত দেখলাম। আর লোকেরা তার উযূর পানির জন্যে প্রতিযোগিতা করছে। কেউ সামান্য পানি পাওয়া মাত্র তা দিয়ে শরীর মুছে নিচ্ছে। আর যে পায়নি সে তার সাথীর ভিজা হাত হতে নিয়ে নিচ্ছে। অতঃপর বিলাল রাসূলূল্লাহ (ﷺ) -এর একটি লৌহফলকযুক্ত ছড়ি নিয়ে এসে তা মাটিতে পুঁতে দিলেন। নবী (ﷺ) একটা লাল ডোরাযুক্ত পোশাক পরে বের হলেন, তার তহবন্দ কিঞ্চিৎ উচু করে পরা ছিল। সে ছড়িটি সামনে রেখে লোকদের নিয়ে দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন। আর মানুষ ও জন্তু-জানোয়ার ঐ ছড়িটির বাইরে চলাফেলা করছিলো।
আবূ হাযিম হতে বর্ণিত যে, লোকেরা সাহল ইবন সাদ-কে জিজ্ঞেস করল (নবী (ﷺ) এর) মিম্বার কিসের তৈরি ছিল? তিনি বললেনঃ এ বিষয়ে আমার চেয়ে বেশি জ্ঞাত আর কেউ নেই। তা ছিল গাবা নামক স্থানের ঝাউগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি। অমুক মহিলার আযাদকৃত দাস অমুক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর জন্যে তা তৈরি করেছিল। তা পুরোপুরি তৈরি ও স্থাপিত হবার পর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার উপর দাড়িয়ে কিবলার দিকে মুখ করে তাকবীর বললেন। লোকেরা তার পেছনে দাড়িয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি কিরাআত পড়লেন ও রুকূতে গেলেন। সকলেই তার পেছনে রুকূতে গেলেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে পেছনে সরে গিয়ে মাটিতে সিজদা করলেন। পুনরায় মিম্বারে ফিরে আসলেন এবং কিরাআত পড়ে রুকূতে গেলেন। অতঃপর তার মাথা তুললেন এবং পেছনে সরে গিয়ে মাটিতে সিজদা করলেন। এ হলো মিম্বারের ইতিহাস। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেনঃ আলী ইবন আবদুল্লাহ বলেছেন যে, আমাকে আহমদ ইবন হাম্বাল এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ আমার ধারণা, নবী (ﷺ) সবচাইতে উচু স্থানে ছিলেন। সুতরাং ইমামের মুক্তাদীদের চেয়ে উচু স্থানে দাড়ানোতে কোন দোষ নেই। আলী ইবন আবদুল্লাহ বলেনঃ আমি আহমাদ ইবন হাম্বল-কে বললামঃ সুফইয়ান ইবন 'উয়াইনাহ-কে এ বিষয়ে বহুবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে, আপনি তার নিকট এ বিষয়ে কিছু শোনেননি? তিনি জবাব দিলেনঃ না।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একদা ঘোড়া হতে পড়ে গেলেন, এতে তিনি পায়ের 'গোছায়' অথবা (রাবী বলেছেন) 'কাঁধে' আঘাত পান। তিনি তার স্ত্রীদের হতে এক মাসের জন্যে পৃথক হয়ে থাকেন। তখন তিনি ঘরের উপরের কক্ষে অবস্থান করেন যার সিড়ি ছিল খেজুর গাছের কান্ডের তৈরি। সাহাবীগণ তাকে দেখতে এলেন, তিনি তাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করলেন, আর তারা ছিলেন দাড়ানো। সালাম ফিরিয়ে তিনি বললেনঃ ইমাম এজন্যে যে, মুক্তাদীরা তার অনুসরণ করবে। সুতরাং ইমাম তাকবীর বললে তোমরাও তাকবীর বলবে, তিনি রুকূ করলে তোমরাও রুকূ করবে। তিনি সিজদা করলে তোমরাও সিজদা করবে। ইমাম দাড়িয়ে সালাত আদায় করলে তোমরাও দাড়িয়ে সালাত আদায় করবে। অতঃপর ঊনত্রিশ দিন পূর্ণ হলে তিনি নেমে আসলেন। তখন লোকেরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো এক মাসের শপথ করেছিলেন। তিনি বললেনঃ এ মাস ঊনত্রিশ দিনের।
মাইমূনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন সালাত আদায় করতেন তখন হায়েয অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও আমি তার বরাবর বসে থাকতাম। কখনো কখনো তিনি সিজদা করার সময় তার কাপড় আমার গায়ে লাগতো। আর তিনি ছোট চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, তার দাদী মুলাইকাহ্ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে খাওয়ার দাওয়াত দিলেন, যা তার জন্যই তৈরি করেছিলেন। তিনি তা হতে খেলেন, অতঃপর বললেনঃ উঠ, তোমাদের নিয়ে আমি সালাত আদায় করি। আনাস বলেনঃ আমি আমাদের একটি চাটাই আনার জন্য উঠলাম, তা অধিক ব্যবহারে কালো হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি সেটা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাতের জন্যে দাড়ালেন। আর আমি এবং একজন ইয়াতীম বালক (যুমাইরাহ) তার পেছনে দাড়ালাম আর বৃদ্ধা দাদী আমাদের পেছনে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের নিয়ে দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি চলে গেলেন।
মাইমূনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) ছোট চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন।
নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সামনে ঘুমাতাম, আমার পা দু'খানা তার কিবলার দিকে ছিল। তিনি সিজদায় গেলে আমার পায়ে মৃদু চাপ দিতেন, তখন আমি পা দু'খানা গুটিয়ে নিতাম। আর তিনি দাড়িয়ে গেলে আমি পা দু'খানা প্রসারিত করতাম। তিনি বলেনঃ সে সময় ঘরগুলোতে বাতি ছিল না।
আয়িশাহ উরওয়াহ-কে বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাত আদায় করতেন আর তিনি [আয়িশাহ] আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ও তার কিবলার মধ্যে পারিবারিক বিছানার উপর জানাযার মত আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতেন।
উরওয়াহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) সালাত আদায় করতেন, আর আয়িশাহ তার ও কিবলাহর মাঝখানে তাদের বিছানায় যাতে তারা ঘুমাতেন আড়াআড়ি ভাবে শুয়ে থাকতেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা নবী (ﷺ) -এর সাথে সালাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ কেউ সিজদা কালে বেশী গরমের কারণে কাপড়ের প্রান্ত সিজদার স্থানে রাখতো।
আবূ মাসলামাহ সাঈদ ইবন ইয়াযীদ আল-আযদী বলেনঃ আমি আনাস ইবন মালিক-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, নবী (ﷺ) কি তার না'লাইন (চপ্পল) পরে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হা।
হাম্মাম ইবন হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জারীর ইবন আবদুল্লাহ-কে দেখলাম যে, তিনি পেশাব করলেন। অতঃপর উযূ করলেন আর উভয় মোজার উপরে মাসেহ করলেন। অতঃপর তিনি দাড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ আমি নবী (ﷺ) -কেও এরূপ করতে দেখেছি। ইবরাহীম বলেনঃ এ হাদীস মুহাদ্দিসীনের নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয়। কারণ জারীর ছিলেন নবী (ﷺ) -এর শেষ সময়ে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে একজন।
মুগীরাহ ইবন শুবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) -কে উযূ করিয়েছি। তিনি (উযূর সময়) মোজা দু'টির উপর মাসহ(মাসেহ) করলেন ও সালাত আদায় করলেন।
হুযাইফাহ হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার রুকু-সিজদা পুরোপুরি আদায় করছিল না। সে যখন সালাত শেষ করলো তখন তাকে হুযাইফাহ বললেনঃ তোমার সালাত ঠিক হয়নি। রাবী বলেনঃ আমার মনে হয় তিনি (হুযাইফাহ) এ কথাও বলেছেন, (এ অবস্থায়) তোমার মৃত্যু হলে তা মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর তরীকার বাইরে হবে।
আবদুল্লাহ ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) সালাতের সময় উভয় বাহু পৃথক রাখতেন। এমনকি তার বগলের শুভ্রতা দেখা যেতো।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ন্যায় সালাত আদায় করে, আমাদের কিবলা মুখী হয় আর আমাদের যবেহ করা প্রাণী খায়, সে-ই মুসলিম, যার জন্য আল্লাহ ও তার রাসূল যিম্মাদার। সুতরাং তোমরা আল্লাহর যিম্মাদারীতে বিশ্বাসঘাতকতা করো না।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেনঃ আমাকে লোকের বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা "লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ" স্বীকার করবে। যখন তারা তা স্বীকার করে নেয়, আমাদের মত সালাত আদায় করে, আমাদের কিবলা মুখী হয় এবং আমাদের যবহ করা প্রাণী খায়, তখন তাদের জান-মালসমূহ আমাদের জন্যে হারাম হয়ে যায়। অবশ্য রক্তের বা সম্পদের দাবীর কথা ভিন্ন। আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট।
আলী ইবন আবদুল্লাহ হুমায়দ হতে সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মায়মূন ইবন সিয়াহ আনাস ইবন মালিক-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আবূ হামযাহ! কিসে মানুষের জান-মাল হারাম হয়? তিনি জবাব দিলেন, যে ব্যক্তি 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ'র সাক্ষ্য দেয়, আমাদের কিবলা মুখী হয়, আমাদের মত সালাত আদায় করে, আর আমাদের যবেহ করা প্রাণী খায়, সেই মুসলিম। অন্য মুসলিমের মতই তার অধিকার রয়েছে। আর অন্য মুসলিমদের মতই তাকে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে।
আবূ আইয়ূব আনসারী হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা পায়খানা করতে যাও, তখন কিবলা দিকে মুখ করবে না কিংবা পিঠও দিবে না, বরং তোমরা পূর্ব দিকে অথবা পশ্চিম দিকে ফিরে বসবে। আবূ আইয়ূব আনসারী বলেনঃ আমরা যখন সিরিয়ায় এলাম তখন পায়খানাগুলো কিবলা মুখী বানানো পেলাম। আমরা কিছুটা ঘুরে বসতাম এবং আল্লাহ তাআলার নিকট তওবা ইসতিগফার করতাম।
আমর ইবন দ্বীনার বলেনঃ আমরা ইবন উমার-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম- যে ব্যক্তি উমরাহর ন্যায় বাইতুল্লাহর ত্বওয়াফ করেছে কিন্তু সাফা-মারওয়ায় সা'ঈ করে নি, সে কি তার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করতে পারবে? তিনি জবাব দিলেন, নবী (ﷺ) এসে সাতবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন, মাকামে ইবরাহীমের নিকট দু'রাকাত সালাত আদায় করেছেন আর সাফা-মারওয়ায় সা'ঈ করেছেন। তোমাদের জন্যে আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।
আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহ-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি বলেছেনঃ সাফা-মারওয়ায় সা'ঈ করার আগ পর্যন্ত স্ত্রীর নিকটবর্তী (সহবাস) হবে না।
মুজাহিদ হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি ইবন উমার-এর নিকট এলেন, এবং বললেনঃ ইনি হলেন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) , তিনি কাবা ঘরে প্রবেশ করেছেন। ইবন উমার বলেনঃ আমি সেদিকে এগিয়ে গেলাম এবং দেখলাম যে, নবী (ﷺ) কাবা হতে বেরিয়ে পড়েছেন। আমি বিলাল-কে দুই কপাটের মাঝখানে দাড়ানো দেখে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) কি কাবা ঘরের অভ্যন্তরে সালাত আদায় করেছেন? তিনি জবাব দিলেন, হা, কাবায় প্রবেশ করার সময় তোমার বা দিকের দুই স্তম্ভের মাঝখানে দু' রাকাত সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি বের হলেন এবং কাবার সামনে দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন নবী (ﷺ) কাবায় প্রবেশ করেন, তখন তার সকল দিকে দোয়া করেছেন, সালাত আদায় না করেই বেরিয়ে এসেছেন এবং বের হবার পর কাবার সামনে দু'রাকাত সালাত আদায় করেছেন, এবং বলেছেন, এটাই কিবলাহ।
বারাআ 'ইবন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বায়তুল মুকাদ্দাসমুখী হয়ে ষোল বা সতের মাস সালাত আদায় করেছেন। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কাবার দিকে কিবলাহ করা পছন্দ করতেন। মহান আল্লাহ নাযিল করেনঃ "আকাশের দিকে আপনার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করছি"- ( আল-বাক্বারাহ ২/১৪৪)। অতঃপর তিনি কাবার দিকে মুখ করেন। আর নির্বোধ লোকেরা- তারা ইয়াহুদী- বলতো, "তারা এ যাবত যে কিবলাহ অনুসরণ করে আসছিলো, তা হতে কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল? বলুনঃ (হে নবী) পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন"- (বাক্বারাহ ২/১৪২)। তখন নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে এক ব্যক্তি সালাত আদায় করলেন এবং বেরিয়ে গেলেন। তিনি আসরের সালাতের সময় আনসারগণের এক গোত্রের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ (তিনি নিজেই) সাক্ষী যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর সঙ্গে তিনি সালাত আদায় করেছেন, আর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাবার দিকে মুখ করেছেন। তখন সে গোত্রের লোকজন ঘুরে কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) নিজের সওয়ারীর উপর (নফল) সালাত আদায় করতেন- সওয়ারী তাকে নিয়ে যে দিকেই মুখ করত না কেন। কিন্তু যখন ফরজ সালাত আদায়ের ইচ্ছা করতেন, তখন নেমে পড়তেন এবং কিবলা মুখী হতেন।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) সালাত আদায় করলেন। রাবী ইব্রাহীম বলেনঃ আমার জানা নেই, তিনি বেশী করেছেন বা কম করেছেন। সালাম ফিরানোর পর তাকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! সালাতের মধ্যে নতুন কিছু হয়েছে কি? তিনি বললেনঃ তা কী? তারা বললেনঃ আপনি তো এরূপ এরূপ সালাত আদায় করলেন। তিনি তখন তার দু'পা ঘুরিয়ে কিবলা মুখী হলেন। আর দু'টি সিজদা আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরলেন। পরে তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেনঃ যদি সালাত সম্পর্কে নতুন কিছু হতো, তবে অবশ্যই তোমাদের তা জানিয়ে দিতাম। কিন্তু আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুল করে থাক, আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই। আমি কোন সময় ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। তোমাদের কেউ সালাত সম্বন্ধে সন্দেহে পতিত হলে সে যেন নিঃসন্দেহ হবার চেষ্টা করে এবং সে অনুযায়ী সালাত পূর্ণ করে। অতঃপর যেন সালাম ফিরিয়ে দু'টি সিজদা দেয়।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে আমার অভিমত আল্লাহর ওয়াহীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাতে পারতাম! তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ "তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাও"- (বাক্বারাহ ২/১২৫)। (দ্বিতীয়) পর্দার আয়াত, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আপনার সহধর্মিণীগণকে পর্দার আদেশ করতেন! কেননা, সৎ ও অসৎ সবাই তাদের সাথে কথা বলে। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হয়। আর একবার নবী (ﷺ) -এর সহধর্মিণীগণ অভিমান সহকারে একত্রে তার নিকট উপস্থিত হন। তখন আমি তাদেরকে বললামঃ "আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যদি তোমাদের তালাক দেন, তাহলে তার রব তাকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম অনুগত স্ত্রী দান করবেন"- (তাহরীম ৬৬/৫)। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা লোকেরা কুবা নামক স্থানে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় তাদের নিকট এক ব্যক্তি এসে বললেন যে, এ রাতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হয়েছে। আর তাকে কাবামুখী হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজেই তোমারা কাবার দিকে মুখ কর। তখন তাদের চেহারা ছিল শামের (বায়তুল মুকাদ্দাসের) দিকে। একথা শুনে তারা কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
আবদুল্লাহ (ইবন মাসঊদ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) যুহরের সালাত পাচ রাকাত আদায় করেন। তখন মুসল্লীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ সালাতে কি কিছু বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ তা কী? তারা বললেনঃ আপনি যে পাচ রাকাত সালাত আদায় করেছেন। রাবী বলেন, তিনি নিজের পা ঘুরিয়ে কিবলা মুখী হয়ে দু' সিজদা (সিজদা সাহু) করে নিলেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কিবলার দিকে (দেয়ালে) 'কফ' দেখলেন। এটা তার নিকট কষ্টদায়ক মনে হলো। এমনকি তার চেহারায় তা ফুটে উঠলো। তিনি উঠে গিয়ে তা হাত দিয়ে পরিষ্কার করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাড়ায় তখন সে তার রবের সাথে একান্তে কথা বলে। অথবা বলেছেন, তার ও কিবলার মাঝখানে তার রব আছেন। কাজেই, তোমাদের কেউ যেন কিবলার দিকে থুথু না ফেলে। বরং সে যেন তার বাম দিকে অথবা পায়ের নীচে তা ফেলে। অতঃপর চাদরের আচল নিয়ে তাতে তিনি থুথু ফেললেন এবং তার এক অংশকে অন্য অংশের উপর ভাঁজ করলেন এবং বললেনঃ অথবা সে এমন করবে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কিবলার দিকের দেওয়ালে থুথু দেখে তা পরিষ্কার করে দিলেন। অতঃপর লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। কেননা, সে যখন সালাত আদায় করে তখন তার সামনের দিকে আল্লাহ তাআলা থাকেন।
উম্মুল 'মুমিনীন আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কিবলার দিকের দেয়ালে নাকের শ্লেষ্মা, থুথু কিংবা কফ দেখলেন এবং তা পরিষ্কার করলেন।
আবূ হুরাইরাহ্ ও আবূ সাঈদ (খুদরী) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মসজিদের দেয়ালে কফ দেখে কাঁকর নিয়ে তা মুছে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যেন সামনের দিকে অথবা ডান দিকে কফ না ফেলে, বরং সে যেন তা তার বাম দিকে অথবা তার বাম পায়ের নীচে ফেলে।
পূর্বের হাদিসের মতই (৪০৮)।
আবূ হুরাইরাহ্ ও আবূ সাঈদ (খুদরী) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মসজিদের দেয়ালে কফ দেখলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কিছু কাঁকর নিলেন এবং তা মুছে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ কফ ফেললে তা যেন সে সামনে অথবা ডানে না ফেলে। বরং সে বাম দিকে কিংবা বাম পায়ের নীচে ফেলে।
পূর্বের হাদিসের মতই (৪১০)।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার সামনে বা ডানে থুথু নিক্ষেপ না করে; বরং তার বামে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলে।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিন যখন সালাতে থাকে, তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে নিভৃতে কথা বলে। কাজেই সে যেন তার সামনে, ডানে থুথু না ফেলে, বরং তার বাম দিকে অথবা (বাম) পায়ের নীচে ফেলে।
আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একদা মসজিদের কিবলার দিকের দেয়ালে কফ দেখলেন, তখন তিনি কাঁকর দিয়ে তা মুছে দিলেন। অতঃপর সামনের দিকে অথবা ডান দিকে থুথু ফেলতে নিষেধ করলেন। কিন্তু (প্রয়োজনে) বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলতে বললেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহের কাজ, আর তার কাফফারাহ (প্রতিকার) হচ্ছে তা দাবিয়ে দেয়া (মুছে ফেলা)।
আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে দাড়ালে সে তার সামনের দিকে থুথু ফেলবে না। কেননা সে যতক্ষণ তার মুসল্লায় থাকে, ততক্ষণ মহান আল্লাহর সাথে চুপে চুপে কথা বলে। আর ডান দিকেও ফেলবে না। তার ডান দিকে থাকেন ফেরেশতা। সে যেন তার বাম দিকে অথবা পায়ের নীচে থুথু ফেলে এবং পরে তা দাবিয়ে দেয়।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কিবলার দিকে (দেয়ালে) কফ দেখে তা নিজ হাতে মুছে ফেললেন আর তার চেহারায় অসন্তোষ প্রকাশ পেল। বা সে কারণে তার চেহারায় অসন্তোষ প্রকাশ পেলো এবং এর প্রতি তার ক্ষোভ প্রকাশ পেল। তিনি বললেনঃ যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে চুপে চুপে কথা বলে। অথবা (বলেছেন) তখন তার প্রতিপালক, কিবলা ও তার মাঝখানে থাকেন। কাজেই সে যেন কিবলার দিকে থুথু না ফেলে, বরং (প্রয়োজনে) তার বাম দিকে বা পায়ের নীচে ফেলবে। অতঃপর তিনি চাদরের কোণ ধরে তাতে থুথু ফেলে এক অংশের উপর অপর অংশ ভাঁজ করে দিলেন এবং বললেনঃ অথবা এমন করবে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কি মনে কর যে, আমার দৃষ্টি কেবল কিবলার দিকে? আল্লাহর কসম! আমার নিকট তোমাদের খূশু' (বিনয়) ও রুকূ কিছুই গোপন থাকে না। অবশ্যই আমি আমার পেছন হতেও তোমাদের দেখতে পাই।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ নবী (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি মিম্বারে উঠলেন এবং ইরশাদ করলেনঃ তোমাদের সালাতে ও রুকূতে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আমার পেছন হতে দেখে থাকি, যেমন এখন তোমাদেরকে দেখতে পাচ্ছি।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুদ্ধের জন্যে তৈরি ঘোড়াকে 'হাফ্য়া' (নামক স্থান) হতে 'সানিয়াতুল ওয়াদা' পর্যন্ত দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। আর যে ঘোড়া যুদ্ধের জন্যে তৈরি নয়, সে ঘোড়াকে 'সানিয়া' হতে যুরাইক গোত্রের মাসজিদ পর্যন্ত দৌঁড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। আর এই প্রতিযোগিতায় আবদুল্লাহ ইবন উমার অগ্রগামী ছিলেন।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) -এর নিকট বাহরাইন হতে কিছু সম্পদ এলো। তিনি বললেনঃ এগুলো মসজিদে রেখে দাও। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট এ যাবত যত সম্পদ আনা হয়েছে তার মধ্যে এ সম্পদই ছিল পরিমাণে সবচে' বেশী। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাতে চলে গেলেন এবং এর দিকে দৃষ্টি দিলেন না। সালাত শেষ করে তিনি এসে সম্পদের নিকট গিয়ে বসলেন। তিনি যাকেই দেখলেন, কিছু সম্পদ দিয়ে দিলেন। ইতোমধ্যে আব্বাস এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকেও কিছু দিন। কারণ আমি নিজের ও 'আকীলের (এ দু'জন বদরের যুদ্ধে মুসলিমদের কয়েদী ছিলেন) পক্ষ হতে মুক্তিপণ দিয়েছি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে বললেনঃ নিয়ে যান। তিনি তা কাপড়ে ভরে নিলেন। অতঃপর তা উঠাতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু পারলেন না। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! কাউকে বলুন, যেন আমাকে এটি উঠিয়ে দেয়। তিনি বললেন না। আব্বাস বললেনঃ তাহলে আপনি নিজেই তা তুলে দিন। তিনি বললেনঃ না। অতঃপর আব্বাস তা হতে কিছু সম্পদ রেখে দিলেন। অতঃপর পুনরায় তা তুলতে চেষ্টা করলেন। (এবারও তুলতে না পেরে) তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! কাউকে আদেশ করুন যেন আমাকে তুলে দেয়। তিনি বললেনঃ না। আব্বাস বললেনঃ তাহলে আপনিই আমাকে তুলে দিন। তিনি বললেনঃ না। অতঃপর আব্বাস আরো কিছু সম্পদ নামিয়ে রাখলেন। এবার তিনি উঠাতে পারলেন এবং তা নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার এই লোভ দেখে এতই বিস্মিত হয়েছিলেন যে, তিনি আব্বাসের দিকে তাকিয়ে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি চোখের আড়াল হলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সেখানে একটি দিরহাম অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত উঠলেন না।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) -কে মসজিদে পেলাম আর তার সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন সাহাবী। আমি দাড়িয়ে গেলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তোমাকে কি আবূ তালহা পাঠিয়েছেন? আমি বললামঃ জী হা। তিনি বললেনঃ খাবার জন্য? আমি বললামঃ জী, হা। তখন তার আশেপাশে যারা ছিলেন, তিনি তাদেরকে বললেনঃ উঠ। অতঃপর তিনি চলতে শুরু করলেন। (রাবী বলেন) আর আমি তাদের সামনে সামনে অগ্রসর হলাম।
সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! কেউ তার স্ত্রীর সাথে অন্য ব্যক্তিকে দেখতে পেলে কি তাকে হত্যা করবে? পরে মসজিদে সে ও তার স্ত্রী একে অন্যকে 'লি'আন' (মিথ্যা বললে নিজের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত করা) করল। তখন আমি তা প্রত্যক্ষ করলাম।
'ইতবান ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) তার ঘরে এলেন এবং বললেনঃ তোমার ঘরের কোন জায়গায় আমার সালাত আদায় করা তুমি পছন্দ কর? তিনি বলেনঃ তখন আমি তাকে একটি স্থানের দিকে ইঙ্গিত করলাম। নবী (ﷺ) তাকবীর বললেন। আমরা তার পেছনে কাতার করে দাড়ালাম। তিনি দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন।
মাহমূদ ইবন রাবী' আনসারী হতে বর্ণিত যে, 'ইতবান ইবন মালিক, যিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে বদরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী আনসারগণের অন্যতম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট হাযির হয়ে আরয করলেন হে আল্লাহর রাসূল! আমার দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেয়েছে। আমি আমার গোত্রের লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করি। কিন্তু বৃষ্টি হলে আমার ও তাদের বাসস্থানের মধ্যবর্তী নিম্নভূমিতে পানি জমে যাওয়াতে তা পার হয়ে তাদের মসজিদে পৌছতে এবং তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করতে সমর্থ হই না। আর হে আল্লাহর রাসূল! আমার একান্ত ইচ্ছা যে, আপনি আমার ঘরে এসে কোন এক স্থানে সালাত আদায় করেন এবং আমি সেই স্থানকে সালাতের জন্য নির্দিষ্ট করে নিই। রাবী বলেনঃ তাকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ ইনশাআল্লাহ অচিরেই আমি তা করব। 'ইতবান বলেনঃ পরদিন সূর্যোদয়ের পর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ও আবূ বাকর আমার ঘরে তাশরীফ আনেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে আমি তাকে অনুমতি দিলাম। ঘরে প্রবেশ করে তিনি না বসেই জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার ঘরের কোন স্থানে সালাত আদায় করা পছন্দ কর? তিনি বলেনঃ আমি তাকে ঘরের এক প্রান্তের দিকে ইঙ্গিত করলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দাড়ালেন এবং তাকবীর বললেন। তখন আমরাও দাড়ালাম এবং কাতারবন্দী হলাম। তিনি দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরালেন। তিনি ('ইতবান) বলেনঃ আমরা তাকে কিছুক্ষণের জন্য বসালাম এবং তার জন্য তৈরি 'খাযীরাহ' নামক খাবার তার সামনে পেশ করলাম। রাবী বলেনঃ এ সময় মহল্লার কিছু লোক ঘরে ভীড় জমালেন। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বলে উঠলেন, 'মালিক ইবন দুখাইশিন' কোথায়? অথবা বললেনঃ 'ইবন দুখশুন' কোথায়? তখন তাদের একজন জওয়াব দিলেন, সে মুনাফিক। সে মহান আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলকে ভালবাসে না। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এরূপ বলো না। তুমি কি দেখছ না যে, সে আল্লাহর সন্তোষ লাভের জন্যে 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ" বলেছে? তখন সে ব্যক্তি বললেনঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। আমরা তো তার সম্পর্ক ও নাসীহাত কামনা মুনাফিকদের সাথেই দেখি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তাআলা তো এমন ব্যক্তির প্রতি জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' বলে। রাবী' ইব্ন শিহাব বলেনঃ অতঃপর আমি মাহমূদ ইব্ন রাবী'-এর হাদীস সম্পর্কে হুসায়ন ইবন মুহাম্মাদ আনসারী-কে জিজ্ঞেস করলাম, যিনি বানূ সালিম গোত্রের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এ হাদীস সমর্থন করলেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) নিজের সমস্ত কাজে যথাসম্ভব ডানদিক হতে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন। তাহারাত অর্জন, মাথা আচড়ানো এবং জুতা পরার সময়ও।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, উম্মু হাবীবাহ ও উম্মু সালামাহ হাবশায় তাদের দেখা একটা গির্জার কথা বলেছিলেন, যাতে বেশ কিছু মূর্তি ছিল। তারা উভয়ে বিষয়টি নবী (ﷺ) -এর নিকট বর্ণনা করলেন। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তাদের অবস্থা ছিল এমন যে, কোন সৎ লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর মাসজিদ বানাতো। আর তার ভিতরে ঐ লোকের মূর্তি তৈরি করে রাখতো। কিয়ামত দিবসে তারাই আল্লাহর নিকট সবচাইতে নিকৃষ্ট সৃষ্টজীব বলে পরিগণিত হবে।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) মদিনায় পৌছে প্রথমে মদিনার উচ্চ এলাকায় অবস্থিত বানূ আমর ইবন 'আওফ নামক গোত্রে উপনীত হন। তাদের সঙ্গে নবী (ﷺ) চৌদ্দ দিন (অপর বর্ণনায় চবিবশ দিন) অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বানূ নাজ্জারকে ডেকে পাঠালেন। তারা কাঁধে তলোয়ার ঝুলিয়ে উপস্থিত হলো। আমি যেন এখনো সে দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি যে, নবী (ﷺ) ছিলেন তার বাহনের উপর, আবূ বাকর সে বাহনেই তার পেছনে আর বানূ নাজ্জারের দল তার আশেপাশে। অবশেষে তিনি আবূ আয়্যূব আনসারী-র ঘরের সাহানে অবতরণ করলেন। নবী (ﷺ) যেখানেই সালাতের ওয়াক্ত হয় সেখানেই সালাত আদায় করতে পছন্দ করতেন এবং তিনি ছাগল-ভেড়ার খোয়াড়েও সালাত আদায় করতেন। এখন তিনি মাসজিদ তৈরি করার নির্দেশ দেন। তিনি বানূ নাজ্জারকে ডেকে বললেনঃ হে বানূ নাজ্জার! তোমরা আমার কাছ হতে তোমাদের এই বাগিচার মূল্য নির্ধারণ কর। তারা বললোঃ না, আল্লাহর কসম, আমরা এর দাম নেব না। এর দাম আমরা একমাত্র আল্লাহর নিকটই আশা করি। আনাস বলেনঃ আমি তোমাদের বলছি, এখানে মুশরিকদের কবর এবং ভগ্নাবশেষ ছিল। আর ছিল খেজুর গাছ। নবী (ﷺ) -এর নির্দেশে মুশরিকদের কবর খুড়ে ফেলা হলো, অতঃপর ভগ্নাবশেষ সমতল করে দেয়া হলো, খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হলো অতঃপর মসজিদের কিবলায় সারিবদ্ধ করে রাখা হলো এবং তার দুই পাশে পাথর বসানো হলো। সাহাবীগণ পাথর তুলতে তুলতে ছন্দোবদ্ধ কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। আর নবী (ﷺ) -ও তাদের সাথে ছিলেন। তিনি তখন বলছিলেনঃ "হে আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণ ব্যতীত (প্রকৃত) আর কোন কল্যাণ নেই। তুমি আনসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা কর।"
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) ছাগল থাকার স্থানে সালাত আদায় করেছেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি আনাস-কে বলতে শুনেছি যে, মাসজিদ নির্মাণের পূর্বে নবী (ﷺ) ছাগলের খোয়াড়ে সালাত আদায় করেছেন।
নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইবন উমার-কে তার উটের দিকে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আর ইবন উমার বলেছেনঃ আমি দেখেছি নবী (ﷺ) এমন করতেন।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার সূর্য গ্রহণ হলো। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেনঃ আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়েছে। আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য ইতোপূর্বে কখনো দেখিনি।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের ঘরেও কিছু সালাত আদায় করবে এবং ঘরকে তোমরা কবর বানিয়ে নিও না।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা এসব আযাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের লোকালয়ে ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতীত প্রবেশ করবে না। কান্না না আসলে সেখানে প্রবেশ করো না, যেন তাদের উপর যা আপতিত হয়েছিল তা তোমাদের প্রতিও আসতে না পারে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। উম্মু সালামাহ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট তার হাবশায় দেখা মারিয়া নামক একটা গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। তিনি সেখানে যে সব প্রতিচ্ছবি দেখেছিলেন, সেগুলোর বর্ণনা দিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এরা এমন সম্প্রদায় যে, এদের মধ্যে কোন সৎ বান্দা অথবা বলেছেন কোন সৎ লোক মারা গেলে তার কবরের উপর তারা মাসজিদ বানিয়ে নিত। আর তাতে ঐ সব ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি স্থাপন করতো। এরা আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম সৃষ্টজীব।
উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবাহ হতে বর্ণিত। আয়িশাহ ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস বলেছেনঃ নবী (ﷺ) -এর মৃত্যু পীড়া শুরু হলে তিনি তার একটা চাদরে নিজ মুখমন্ডল আবৃত করতে লাগলেন। যখন শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হলো, তখন মুখ হতে চাদর সরিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। (এ বলে) তারা যে (বিদ'আতী) কার্যকলাপ করত তা হতে তিনি সতর্ক করেছিলেন।
পূর্বের হাদিসের মতই (৪৩৫)।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা ইয়াহূদীদের ধ্বংস করুন। কেননা তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরকে মাসজিদ বানিয়ে নিয়েছে।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমাকে এমন পাচটি বিষয় প্রদান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কোন নবীকে দেয়া হয়নি। (১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যা একমাসের দূরত্ব পর্যন্ত অনুভূত হয়। (২) সমস্ত যমীন আমার জন্যে সালাত আদায়ের স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের উপায় করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কেউ যেখানে সালাতের ওয়াক্ত হয় (সেখানেই) যেন সালাত আদায় করে নেয়। (৩) আমার জন্যে গানীমাত হালাল করা হয়েছে। (৪) অন্যান্য নবী নিজেদের বিশেষ গোত্রের প্রতি প্রেরিত হতেন আর আমাকে সকল মানবের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে। (৫) আমাকে সার্বজনীন সুপারিশের অধিকার প্রদান করা হয়েছে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। কোন আরব গোত্রের একটা কালো দাসী ছিল। তারা তাকে আযাদ করে দিল। অতঃপর সে তাদের সাথেই থেকে গেল। সে বলেছে যে, তাদের একটি মেয়ে গলায় লাল চামড়ার উপর মূল্যবান পাথর খচিত হার পরে বাইরে গেল। দাসী বলেছেঃ সে হারটা হয়তো নিজে কোথাও রেখে দিয়েছিল, অথবা কোথাও পড়ে গিয়েছিল। তখন একটা চিল তা পড়ে থাকা অবস্থায় গোশ্তের টুকরা মনে করে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল। দাসী বলেছেঃ অতঃপর গোত্রের লোকেরা বেশ খোজাখুজি করতে লাগলো। কিন্তু তারা তা পেল না। তখন তারা আমার উপর এর দোষ চাপাল। সে বলেছেঃ তারা আমার উপর তল্লাশী শুরু করলো, এমন কি আমার লজ্জাস্থানেও। দাসীটি বলেছেঃ আল্লাহর কসম! আমি তাদের সাথে সেই অবস্থায় দাড়ানো ছিলাম, এমন সময় চিলটি উড়ে যেতে যেতে হারটি ফেলে দিল। সে বলেছেঃ তাদের সামনেই তা পড়লো। তখন আমি বললামঃ তোমরা তো এর জন্যেই আমার উপর দোষ চাপিয়েছিলে। তোমরা আমার সম্পর্কে সন্দেহ করেছিলে অথচ আমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্দোষ। এই তো সেই হার! সে বলেছেঃ অতঃপর সে রাসসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট এসে ইসলাম গ্রহণ করলো। আয়িশাহ বলেনঃ তার জন্যে মসজিদে (নাবাবীতে) একটা তাবু অথবা ছাপড়া করে দেয়া হয়েছিল। আয়িশাহ বলেনঃ সে (দাসীটি) আমার নিকট আসতো আর আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলতো। সে আমার নিকট যখনই বসতো তখনই বলতোঃ "সেই হারের দিনটি আমার প্রতিপালকের আশ্চর্য ঘটনা বিশেষ। জেনে রাখুন সে ঘটনাটি আমাকে কুফরের শহর হতে মুক্তি দিয়েছে।" আয়িশাহ বলেন, আমি তাকে বললামঃ কি ব্যাপার, তুমি আমার নিকট বসলেই যে এ কথাটা বলে থাক? আয়িশাহ বলেনঃ সে তখন আমার নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করল।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি মসজিদে নববীতে ঘুমাতেন। তিনি ছিলেন অবিবাহিত যুবক। তার কোন পরিবার-পরিজন ছিল না।
সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ফাতিমা-এর গৃহে এলেন, কিন্তু আলী-কে ঘরে পেলেন না। তিনি ফাতিমা -কে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার চাচাত ভাই কোথায়? তিনি বললেনঃ আমার ও তার মধ্যে বাদানুবাদ হওয়ায় তিনি আমার সাথে রাগ করে বাইরে চলে গেছেন। আমার নিকট দুপুরের বিশ্রামও করেননি। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এক ব্যক্তিকে বললেনঃ দেখ তো সে কোথায়? সে ব্যক্তি খুজে এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল, তিনি মসজিদে শুয়ে আছেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এলেন, তখন আলী কাত হয়ে শুয়ে ছিলেন। তার শরীরের এক পাশের চাদর পড়ে গিয়েছে এবং তার শরীরে মাটি লেগেছে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার শরীরের মাটি ঝেড়ে দিতে দিতে বললেনঃ উঠ, হে আবূ তুরাব! উঠ, হে আবূ তুরাব!
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সত্তরজন আসহাবে সুফফাকে দেখেছি, তাদের কারো গায়ে বড় চাদর ছিল না। হয়ত ছিল কেবল লুঙ্গি কিংবা ছোট চাদর, যা তারা ঘাড়ে বেধে রাখতেন। (নীচের দিকে) কারো নিস্ফে সাক বা হাটু পর্যন্ত আর কারো টাখনু পর্যন্ত ছিল। তারা লজ্জাস্থান দেখা যাবার ভয়ে কাপড় হাত দিয়ে ধরে রাখতেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) -এর নিকট আসলাম। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। রাবী মিস'আর বলেনঃ আমার মনে পড়ে রাবী মুহারিব চাশতের সময়ের কথা বলেছেন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি দু' রাকাত সালাত আদায় কর। জাবির বলেনঃ নবী (ﷺ) -এর নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি তা আদায় করে দিলেন বরং কিছু বেশী দিলেন।
আবূ কাতাদাহ্ সালামী হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার পূর্বে দু'রাকাত সালাত আদায় করে নেয়।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে সালাতের পরে হাদাসের পূর্ব পর্যন্ত যেখানে সে সালাত আদায় করেছে সেখানে যতক্ষণ বসে থাকে ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তার জন্যে দোয়া করতে থাকেন। তারা বলেনঃ হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা কর। হে আল্লাহ! তার উপর রহম কর।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সময়ে মাসজিদ তৈরি হয় কাঁচা ইট দিয়ে, তার ছাদ ছিল খেজুরের ডালের, খুটি ছিল খেজুর গাছের। আবূ বাকর এতে কিছু বাড়ান নি। অবশ্য উমার বাড়িয়েছেন। আর তার ভিত্তি তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর যুগে যে ভিত্তি ছিল তার উপর কাঁচা ইট ও খেজুরের ডাল দিয়ে নির্মাণ করেন এবং তিনি খুটিগুলো পরিবর্তন করে কাঠের (খুটি) লাগান। অতঃপর উসমান তাতে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অনেক বৃদ্ধি করেন। তিনি দেয়াল তৈরি করেন নক্শী পাথর ও চুন-সুরকি দিয়ে। খুটিও দেন নক্শা করা পাথরের, আর ছাদ বানিয়েছিলেন সেগুন কাঠের।
ইকরিমাহ বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ইবন আব্বাস আমাকে ও তার ছেলে আলী-কে বললেনঃ তোমরা উভয়ই আবূ সাঈদ-এর নিকট যাও এবং তার হতে হাদীস শুনে আস। আমরা গেলাম। তখন তিনি এক বাগানে কাজ করছেন। তিনি আমাদেরকে দেখে চাদরে হাটু মুড়ি দিয়ে বসলেন এবং পরে হাদীস বর্ণনা শুরু করলেন। শেষ পর্যায়ে তিনি মসজিদে নাববী নির্মাণ আলোচনায় আসলেন। তিনি বললেনঃ আমরা একটা একটা করে কাঁচা ইট বহন করছিলাম আর আম্মার দু'টো দুটো করে কাঁচা ইট বহন করছিলেন। নবী (ﷺ) তা দেখে তার দেহ হতে মাটি ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেনঃ আম্মারের জন্য আফসোস, তাকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে। সে তাদেরকে আহবান করবে জান্নাতের দিকে আর তারা তাকে আহবান করবে জাহান্নামের দিকে। আবূ সাঈদ বলেনঃ তখন আম্মার বললেনঃ "আমি ফিতনাহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।"
সাহাল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জনৈকা মহিলার নিকট লোক পাঠিয়ে বললেনঃ তুমি তোমার গোলাম কাঠমিস্ত্রীকে বল, সে যেন আমার জন্য কাঠের মিম্বার বানিয়ে দেয় যাতে আমি বসতে পারি।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। জনৈকা মহিলা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার বসার জন্যে কিছু তৈরি করে দিব? আমার এক কাঠমিস্ত্রী গোলাম আছে। তিনি বললেনঃ তোমার ইচ্ছে হলে সে যেন একটি মিম্বার বানিয়ে দেয়।
উবাইদুল্লাহ খাওলানী হতে বর্ণিত। তিনি উসমান ইবন 'আফ্ফান-কে বলতে শুনেছেন, তিনি যখন মসজিদে নাববী নির্মাণ করেছিলেন তখন লোকজনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছিলেনঃ তোমরা আমার উপর অনেক বাড়াবাড়ি করছ অথচ আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মাসজিদ নির্মাণ করে, বুকায়র বলেনঃ আমার মনে হয় রাবী 'আসিম তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে, আল্লাহ তাআলা তার জন্যে জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করে দেবেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি তীর সাথে করে মসজিদে নাববী অতিক্রম করছিল। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে বললেনঃ এর ফলাগুলো হাত দিয়ে ধরে রাখ।
আবূ বুরদাহ-এর পিতা আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তীর নিয়ে আমাদের মাসজিদ অথবা বাজার দিয়ে চলে সে যেন তার ফলা হাত দিয়ে ধরে রাখে, যাতে করে তার হাতে কোন মুসলিম আঘাতপ্রাপ্ত না হয়।
আবূ সালামাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন 'আওফ হতে বর্ণিত। হাসসান ইবন সাবিত আনসারী আবূ হুরাইরাহ্-কে আল্লাহর কসম দিয়ে এ কথার সাক্ষ্য চেয়ে বলেনঃ আপনি কি নবী (ﷺ) -কে এ কথা বলতে শুনেছেন, হে হাস্সান! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর পক্ষ হতে (কবিতার মাধ্যমে মুশরিকদের) জবাব দাও। হে আল্লাহ! হাসসানকে রুহুল কুদুস (জিব্রীল) দ্বারা সাহায্য কর। আবূ হুরাইরাহ্ বললেনঃ হা।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে আমার ঘরের দরজায় দেখলাম। তখন হাবশার লোকেরা মসজিদে (বর্শা দ্বারা) খেলা করছিল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার চাদর দিয়ে আমাকে আড়াল করে রাখছিলেন। আমি ওদের খেলা অবলোকন করছিলাম।
পূর্বের হাদিসের মতই (৪৫৪)।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাহ তার নিকট এসে কিতাবাতের দেনা পরিশোধের জন্য সাহায্য চাইলেন। তখন তিনি বললেনঃ তুমি চাইলে আমি (তোমার মূল্য) তোমার মালিককে দিয়ে দিব এ শর্তে যে, উত্তরাধিকার স্বত্ব থাকবে আমার। তার মালিক আয়িশাহ-কে বললোঃ আপনি চাইলে বাকী মূল্য বারীরাকে দিতে পারেন। রাবী সুফইয়ান আর একবার বলেছেনঃ আপনি চাইলে তাকে আযাদ করতে পারেন, তবে উত্তরাধিকার স্বত্ব থাকবে আমাদের। যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আসলেন তখন আমি তার নিকট ব্যাপারটি বললাম। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দাও। কারণ উত্তরাধিকার স্বত্ব থাকে তারই, যে আযাদ করে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মিম্বারের উপর দাড়ালেন। সুফইয়ান আর একবার বলেনঃ অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মিম্বারে আরোহণ করে বললেনঃ লোকদের কী হলো? তারা এমন সব শর্ত করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই। কেউ যদি এমন শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তার সে শর্তের কোন মূল্য নেই। এমনকি এরূপ শর্ত একশবার আরোপ করলেও।
কা'ব হতে বর্ণিত। তিনি মসজিদের ভিতরে ইবন আবূ হাদরাদ-এর নিকট তার পাওনা ঋণের তাগাদা করলেন। দু'জনের মধ্যে এ নিয়ে বেশ উচ্চস্বরে কথাবার্তা হলো। এমনকি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার ঘর হতেই তাদের কথার আওয়ায শুনলেন এবং তিনি পর্দা সরিয়ে তাদের নিকট বেরিয়ে গেলেন। আর ডাক দিয়ে বললেনঃ হে কা'ব! কা'ব উত্তর দিলেন, লাববায়ক রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমার পাওনা ঋণ হতে এতটুকু ছেড়ে দাও। আর হাতে ইঙ্গিত করে বোঝালেন, অর্ধেক পরিমাণ। তখন কা'ব বললেনঃ আমি তাই করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি ইবন আবূ হাদরাদকে বললেনঃ উঠ আর বাকীটা দিয়ে দাও।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। একজন কালো বর্ণের পুরুষ অথবা বলেছেন কালো বর্ণের মহিলা মাসজিদ ঝাড়ু দিত। সে মারা গেল। নবী (ﷺ) তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সাহাবীগণ বললেন, সে মারা গেছে। তিনি বললেনঃ তোমরা আমাকে খবর দিলে না কেন? আমাকে তার কবরটা দেখিয়ে দাও। অতঃপর তিনি তার কবরের নিকট গেলেন এবং তার জানাযার সালাত আদায় করলেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সুদ সম্পর্কীয় সূরাহ্ বাকারাহর আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হলে নবী (ﷺ) মসজিদে গিয়ে সে সব আয়াত সাহাবীগণকে পাঠ করে শুনালেন। অতঃপর তিনি মদের ব্যবসা হারাম করে দিলেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। একজন পুরুষ অথবা বলেছেন একজন মহিলা মাসজিদ ঝাড় দিত। [রাবী সাবিত বলেনঃ] আমার মনে হয় তিনি বলেছেন একজন মহিলা। অতঃপর তিনি নবী (ﷺ) -এর হাদীস বর্ণনা করে বলেনঃ নবী (ﷺ) তার কবরে জানাযার সালাত আদায় করেছেন।
আবূ হুরায়রাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ গত রাতে একটা অবাধ্য জিন হঠাৎ আমার সামনে প্রকাশ পেল। রাবী বলেন, অথবা তিনি অনুরূপ কোন কথা বলেছেন, যেন সে আমার সালাতে বাধা সৃষ্টি করে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার উপর ক্ষমতা দিলেন। আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, তাকে মসজিদের খুটির সাথে বেধে রাখি, যাতে ভোর বেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখন আমার ভাই সুলায়মান-এর এই উক্তি আমার স্মরণ হলো, "হে প্রভু! আমাকে এমন রাজত্ব দান কর, যার অধিকারী আমার পরে আর কেউ না হয়"- (সোয়াদ ৩৮/৩৫)। (বর্ণনাকারী) রাওহ্ বলেনঃ নবী (ﷺ) সেই শয়তানটিকে অপমানিত করে ছেড়ে দিলেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) কয়েকজন অশ্বারোহী মুজাহিদকে নজদের দিকে পাঠালেন। তারা বানূ হানীফা গোত্রের সুমামাহ ইবন উসাল নামক এক ব্যক্তিকে নিয়ে এসে তাকে মসজিদের খুটির সাথে বেধে রাখলেন। নবী (ﷺ) তার নিকট গেলেন এবং বললেনঃ সুমামাকে ছেড়ে দাও। (ছাড়া পেয়ে) তিনি মসজিদে নাবাবীর নিকট এক খেজুর বাগানে গিয়ে সেখানে গোসল করলেন, অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে বললেনঃ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল।"
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খন্দকের যুদ্ধে সাদ-এর হাতের শিরা যখম হয়েছিল। নবী (ﷺ) মসজিদে (তার জন্য) একটা তাবু স্থাপন করলেন, যাতে নিকট হতে তার দেখাশুনা করতে পারেন। মসজিদে বানূ গিফারেরও একটা তাবু ছিল। সাদ-এর প্রচুর রক্ত তাদের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে তাবুর লোকেরা! তোমাদের তাবু হতে আমাদের দিকে কী প্রবাহিত হচ্ছে? তখন দেখা গেল যে, সাদের যখম হতে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। অবশেষে এতেই তিনি মারা গেলেন।
উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর নিকট (বিদায় হজ্জে) আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেনঃ সওয়ার হয়ে লোকদের হতে দূরে থেকে ত্বওয়াফ কর। আমি ত্বওয়াফ করলাম। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বাইতুল্লাহর পাশে "ওয়াত-তুর ওয়া কিতাবিন মাস্তুর" তিলাওয়াত করে সালাত আদায় করছিলেন।
আনাস হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) -এর দু'জন সাহাবী নবী (ﷺ) -এর নিকট হতে অন্ধকার রাতে বের হলেন। (তাদের একজন 'আবক্বাদ ইবন বিশর আর দ্বিতীয় জন সম্পর্কে আমার ধারণা যে, তিনি ছিলেন উসায়দ ইবন হুযায়র আর উভয়ের সাথে চেরাগ সদৃশ কিছু ছিল, যা তাদের সামনের দিকটাকে আলোকিত করছিল। তারা উভয়ে যখন আলাদা হয়ে গেলেন, তখন প্রত্যেকের সাথে একটা করে (আলো) রয়ে গেল। অবশেষে এভাবে তারা নিজেদের বাড়িতে পৌছলেন।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) এক ভাষণে বললেনঃ আল্লাহ তাআলা তার এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা আছে- এ দুয়ের মধ্যে একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দিলেন। তিনি আল্লাহর নিকট যা আছে-তা গ্রহণ করলেন। তখন আবূ বাকর কাঁদতে লাগলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, এই বৃদ্ধকে কোন বস্তুটি কাঁদাচ্ছে? আল্লাহ তার এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা রয়েছে- এ দুয়ের একটা গ্রহণ করার ইখতিয়ার দিলে তিনি আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা গ্রহণ করেছেন (এতে কাঁদার কী আছে?)। মূলতঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -ই ছিলেন সেই বান্দা। আর আবূ বাকর ছিলেন আমাদের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আবূ বাকর, তুমি কাঁদবে না। নিজের সাহচর্য ও সম্পদ দিয়ে আমাকে যিনি সবচেয়ে অধিক ইহসান করেছেন তিনি আবূ বাকর। আমার কোন উম্মাতকে যদি আমি খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) রূপে গ্রহণ করতাম, তবে তিনি হতেন আবূ বাকর। কিন্তু তার সাথে রয়েছে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য। আবূ বাকরের দরজা ব্যতীত মসজিদের কোন দরজাই রাখা হবে না, সবই বন্ধ করা হবে।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অন্তিম রোগের সময় এক টুকরা কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে বাইরে এসে মিম্বারে বসলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও সানা সিফাত বর্ণনার পর বললেনঃ জান-মাল দ্বারা আবূ বাকর ইবন আবূ কুহাফার চেয়ে অধিক কেউ আমার প্রতি ইহসান করেনি। আমি কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে অবশ্যই আবূ বাকরকে গ্রহণ করতাম। তবে ইসলামের বন্ধুত্বই উত্তম। আবূ বাকরের দরজা ব্যতীত এই মসজিদের ছোট দরজাগুলো সব বন্ধ করে দাও।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যখন মক্কায় আসেন তখন উসমান ইবন তালহা-কে ডাকলেন। তিনি দরজা খুলে দিলে নবী (ﷺ) , বিলাল, উসামাহ ইবন যায়দ ও উসমান ইবন ত্বলহাহ ভিতরে গেলেন। অতঃপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। অতঃপর সকলেই বের হলেন। ইবন উমার বলেনঃ আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে বিলাল-কে (সালাতের কথা) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ নবী (ﷺ) ভিতরে সালাত আদায় করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ কোন স্থানে? তিনি বললেন, দুই স্তম্ভের মাঝামাঝি। ইবন উমার বলেনঃ কয় রাকাত আদায় করেছেন তা জিজ্ঞেস করতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কতিপয় অশ্বারোহী সৈন্য নজদ অভিমুখে পাঠালেন। তারা বানূ হানীফা গোত্রের সুমামা ইবন উসাল নামক এক ব্যক্তিকে নিয়ে এলেন। অতঃপর তাকে মসজিদের একটি খুটির সাথে বেধে রাখলেন।
সায়িব ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মসজিদে নাববীতে দাড়িয়েছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমার দিকে একটা কাঁকর নিক্ষেপ করলো। আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে, তিনি উমার ইবন খাত্তাব। তিনি বললেনঃ যাও, এ দু'জনকে আমার নিকট নিয়ে এস। আমি তাদের নিয়ে তার নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কারা? অথবা তিনি বললেনঃ তোমরা কোন স্থানের লোক? তারা বললোঃ আমরা তায়েফের অধিবাসী। তিনি বললেনঃ তোমরা যদি মদিনার লোক হতে, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের কঠোর শাস্তি দিতাম। তোমরা দু'জনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলছো!
কা'ব ইবন মালিক হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর যুগে তিনি ইবন আবূ হাদরাদের নিকট তার প্রাপ্য সম্পর্কে মসজিদে নাববীতে তাগাদা করেন। এতে উভয়ের আওয়ায উচু হয়ে গেল। এমন কি সে আওয়ায আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার ঘর হতে শুনতে পেলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার ঘরের পর্দা সরিয়ে তাদের দিকে বের হয়ে এলেন এবং কা'ব ইবন মালিককে ডেকে বললেনঃ হে কা'ব! উত্তরে কা'ব বললেনঃ লাববায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন নবী (ﷺ) হাতে ইঙ্গিত করলেন যে, তোমার প্রাপ্য হতে অর্ধেক ছেড়ে দাও। কা'ব বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাই করলাম। তখন আল্লাহর রাসূল ইবন আবূ হাদরাদ-কে বললেনঃ উঠ এবার (বাকী) ঋণ পরিশোধ কর।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -কে প্রশ্ন করলেন, তখন তিনি মিম্বারে ছিলেন- আপনি রাতের সালাত কীভাবে আদায় করতে বলেন? তিনি বলেনঃ দু'রাকাত দু'রাকাত করে আদায় করবে। যখন তোমাদের কারো ভোর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তখন সে আরো এক রাকাত আদায় করে নিবে। আর এটি তার পূর্ববর্তী সালাতকে বিত্র করে দেবে। [নাফি বলেন] ইবন উমার বলতেনঃ তোমরা বিতরকে রাতের শেষ সালাত হিসেবে আদায় কর। কেননা নবী (ﷺ) এ নির্দেশ দিয়েছেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর নিকট এমন সময় আসলেন যখন তিনি খুত্বাহ দিচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ রাতের সালাত কীভাবে আদায় করতে হয়? নবী (ﷺ) বললেনঃ দু'রাকাত দু'রাকাত করে আদায় করবে। আর যখন ভোর হবার আশঙ্কা করবে, তখন আরো এক রাকাত আদায় করে নিবে। সে রাকাত তোমার পূর্বের সালাতকে বিত্র করে দিবে। ওয়ালীদ ইব্ন কাসীর বলেনঃ উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ আমার নিকট বলেছেন যে, ইবন উমার তাদের বলেছেনঃ এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -কে সম্বোধন করে বললেন, তখন তিনি মসজিদে ছিলেন।
আবূ ওয়াকিদ লায়সী হতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মসজিদে ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনজন লোক এলেন। তাদের দু'জন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট এগিয়ে এলেন আর একজন চলে গেলেন। এ দু'জনের একজন হালকায় খালি স্থান পেয়ে সেখানে বসে পড়লেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি তাদের পেছনে বসলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কথাবার্তা হতে অবসর হয়ে বললেনঃ আমি কি তোমাদের ঐ তিন ব্যক্তি সম্পর্কে খবর দেব? এক ব্যক্তি তো আল্লাহর দিকে অগ্রসর হলো। আল্লাহও তাকে আশ্রয় দিলেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি লজ্জা করলো, আর আল্লাহ তাআলাও তাকে (বঞ্চিত করতে) লজ্জাবোধ করলেন। তৃতীয় ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিল, কাজেই আল্লাহও তার হতে ফিরে থাকলেন।
'আব্বাদ ইবন তামীম তার চাচা হতে বর্ণনা করেন, তিনি (তার চাচা) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে মসজিদে চিত হয়ে এক পায়ের উপর আরেক পা রেখে শুয়ে থাকতে দেখেছেন। ইবন শিহাব সাঈদ ইবন মুসায়্যাব হতে বর্ণনা করেন যে, উমার ও উসমান (রাযি... 'আনহুমা) এমন করতেন।
উরওয়াহ ইবন যুবাইর সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমার জ্ঞানমতে আমি আমার মাতা-পিতাকে সব সময় দ্বীনের অনুসরণ করতে দেখেছি। আর আমাদের এমন কোন দিন যায়নি যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সে দিনের উভয় প্রান্তে সকাল-সন্ধ্যায় আমাদের নিকট আসেননি। অতঃপর আবূ বাকর-এর মাসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিল। তিনি তার ঘরের আঙ্গিণায় একটি মাসজিদ তৈরি করলেন। তিনি এতে সালাত আদায় করতেন ও কুরআন তিলাওয়াত করতেন। মুশরিকদের মহিলা ও ছেলেমেয়েরা সেখানে দাড়াতো এবং এতে তারা বিস্মিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকতো। আবূ বাকর ছিলেন একজন অধিক ক্রন্দনকারী ব্যক্তি। তিনি কুরআন পড়া শুরু করলে অশ্রু সংবরণ করতে পারতেন না। তার এ অবস্থা নেতৃস্থানীয় মুশরিক কুরাইশদের নেতৃবৃন্দকে শঙ্কিত করে তুলল।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জামা'আতের সাথে সালাত আদায় করলে ঘর বা বাজারে সালাত আদায় করার চেয়ে পঁচিশ গুণ সওয়াব বৃদ্ধি পায়। কেননা, তোমাদের কেউ যদি ভাল করে উযূ করে কেবল সালাতের উদ্দেশেই মসজিদে আসে, সে মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত যতবার কদম রাখে তার প্রতিটির বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা ক্রমান্বয়ে উন্নীত করবেন এবং তার এক-একটি করে গুনাহ মাফ করবেন। আর মসজিদে প্রবেশ করে যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ তাকে সালাতেই গণ্য করা হয়। আর সালাত শেষে সে যতক্ষণ ঐ স্থানে থাকে ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তার জন্যে এ বলে দু'আ করেনঃ হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তাকে রহম করুন- যতক্ষণ সে কাউকে কষ্ট না দেয়, উযূ ভেঙ্গে যাওয়ার কোন কাজ সেখানে না করে।
ইবন উমার বা ইবন আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) এক হাতের আঙ্গুল আর এক হাতের আঙুলে প্রবেশ করান।
পূর্বের হাদিসের মতই (৪৭৮)।
'আসিম ইবন আলী হতে বর্ণিত। 'আসিম ইবন মুহাম্মাদ বলেনঃ আমি এ হাদীস আমার পিতা হতে শুনেছিলাম, কিন্তু আমি তা স্মরণ রাখতে পারিনি। পরে এ হাদীসটি আমাকে ঠিকভাবে বর্ণনা করেন ওয়াকিদ তার পিতা হতে। তিনি বলেনঃ আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, আবদুল্লাহ ইবন আমর বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ হে আবদুল্লাহ ইবন আমর! যখন তুমি নিকৃষ্ট লোকদের সাথে অবস্থান করবে, তখন তোমার কী অবস্থা হবে?
আবূ মূসা হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ একজন মুমিন আরেকজন মুমিনের জন্যে ইমারতস্বরূপ, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে থাকে। এ ব'লে তিনি তার হাতের আঙুলগুলো একটার মধ্যে আরেকটা প্রবেশ করালেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একদা আমাদের বিকালের এক সালাতে ইমামতি করলেন। ইবন সীরীন বলেনঃ আবূ হুরাইরাহ্ সালাতের নাম বলেছিলেন, কিন্তু আমি তা ভুলে গেছে। আবূ হুরাইরাহ্ বলেনঃ তিনি আমাদের নিয়ে দু'রাকাত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। অতঃপর মসজিদে রাখা এক টুকরা কাঠের উপর ভর দিয়ে দাড়ালেন। তাকে রাগান্বিত মনে হচ্ছিল। তিনি তার ডান হাত বা হাতের উপর রেখে এক হাতের আঙুল অপর হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করালেন। আর তার ডান গাল বাম হাতের পিঠের উপর রাখলেন। যাদের তাড়া ছিল তারা মসজিদের দরজা দিয়ে বাইরে চলে গেলেন। সাহাবীগণ বললেনঃ সালাত কি সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে? উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আবূ বাকর এবং উমার-ও ছিলেন। কিন্তু তারা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেলেন। আর লোকজনের মধ্যে লম্বা হাত বিশিষ্ট এক ব্যক্তি ছিলেন, যাকে 'যুল-ইয়াদাইন' বলা হতো, তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি সালাত সংক্ষেপ করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ আমি ভুলিনি এবং সালাত সংক্ষেপও করা হয়নি। অতঃপর (অন্যদের) জিজ্ঞেস করলেনঃ যুল-ইয়াদাইনের কথা কি ঠিক? তারা বললেনঃ হা। অতঃপর তিনি এগিয়ে এলেন এবং সালাতের বাদপড়া অংশটুকু আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরালেন ও তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সিজদা'র মতো বা একটু দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে তার মাথা উঠালেন। পরে পুনরায় তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সিজদা'র মত বা একটু দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে তার মাথা উঠালেন। লোকেরা প্রায়ই ইবন সীরীন-কে জিজ্ঞেস করতো, "পরে কি তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন?" তখন ইবন সীরীন বলতেনঃ আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, ইমরান ইবন হুসাইন আমাকে খবর দিয়েছেন যে, অতঃপর তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন।
সা ইবন উকবাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সালিম ইবন আবদুল্লাহ-কে রাস্তার বিশেষ বিশেষ স্থান অনুসন্ধান করে সে সব স্থানে সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং তিনি বর্ণনা করতেন যে, তার পিতাও এসব স্থানে সালাত আদায় করতেন। আর তিনিও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে এসব স্থানে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। মূসা ইবন উকবাহ বলেনঃ নাফি-ও আমার নিকট ইবন উমার হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সেসব স্থানে সালাত আদায় করতেন। অতঃপর আমি সালিম-কে জিজ্ঞেস করি। আমার জানামতে তিনিও সেসব স্থানে সালাত আদায়ের ব্যাপারে নাফি-এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; তবে 'শারাফুর-রাওহা' নামক স্থানের মাসজিদটির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উমারাহ ও হাজ্জের জন্যে রওয়ানা হলে 'যুল-হুলায়ফা'য় অবতরণ করতেন, বাবলা গাছের নীচে 'যুল হুলায়ফা'র মসজিদের স্থান। আর যখন কোন যুদ্ধ হতে অথবা হাজ্জ বা উমারাহ করে সেই পথে ফিরতেন, তখন উপত্যকার মাঝখানে অবতরণ করতেন। যখন উপত্যকার মাঝখান হতে উপরের দিকে আসতেন, তখন উপত্যকার তীরে অবস্থিত পূর্ব নিম্নভূমিতে উট বসাতেন। সেখানে তিনি শেষ রাত হতে ভোর পর্যন্ত বিশ্রাম করতেন। এ স্থানটি পাথরের উপর নির্মিত মসজিদের নিকট নয় এবং যে মাসজিদ টিলার উপর, তার নিকটেও নয়। এখানে ছিল একটি ঝিল, যার পাশে আবদুল্লাহ সালাত আদায় করতেন। এর ভিতরে কতগুলো বালির স্তূপ ছিল। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এখানেই সালাত আদায় করতেন। অতঃপর নিম্নভূমিতে পানির প্রবাহ হয়ে আবদুল্লাহ যে স্থানে সালাত আদায় করতেন তা সমান করে দিয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার [নাফি-কে] বলেছেনঃ নবী (ﷺ) 'শারাফুর-রাওহা'র মসজিদের নিকট ছোট মসজিদের স্থানে সালাত আদায় করেছিলেন। নবী (ﷺ) যেখানে সালাত আদায় করেছিলেন, আবদুল্লাহ সে স্থানের পরিচয় দিতেন এই বলে যে, যখন তুমি মসজিদে সালাতে দাড়াবে তখন তা তোমার ডানদিকে। আর সেই মাসজিদটি হলো যখন তুমি (মদ্বীনা হতে) মক্কা যাবে তখন তা ডানদিকের রাস্তার এক পাশে থাকবে। সে স্থান ও বড় মসজিদের মাঝখানে ব্যবধান হলো একটি ঢিল নিক্ষেপ পরিমাণ অথবা তার কাছাকাছি।
আর ইবন উমার 'রাওহা'র শেষ মাথায় 'ইরক' (ছোট পাহাড়)-এর নিকট সালাত আদায় করতেন। সেই 'ইরক'-এর শেষ প্রান্ত হলো রাস্তার পাশে মসজিদের কাছাকাছি মক্কা যাওয়ার পথে রাওহা ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে একটি মাসজিদ নির্মিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবন উমার এই মসজিদে সালাত আদায় করতেন না, বরং সেটাকে তিনি বামদিকে ও পেছনে ফেলে অগ্রসর হয়ে 'ইরক'-এর নিকটে সালাত আদায় করতেন। আর আবদুল্লাহ রাওহা হতে বেরিয়ে ঐ স্থানে পৌছার পূর্বে যুহরের সালাত আদায় করতেন না। সেখানে পৌছে যোহর আদায় করতেন। আর মক্কা হতে আসার সময় এ পথে ভোরের এক ঘণ্টা পূর্বে বা শেষ রাতে আসলে সেখানে অবস্থান করে ফজরের সালাত আদায় করতেন।
আবদুল্লাহ আরো বর্ণনা করেনঃ নবী (ﷺ) 'রুওয়ায়ছা'র নিকটে রাস্তার ডানদিকে রাস্তা সংলগ্ন প্রশস্ত সমতল ভূমিতে একটা বিরাট গাছের নীচে অবস্থান করতেন। অতঃপর তিনি 'রুওয়ায়ছা'র ডাকঘরের দু'মাইল দূরে ঢিলার পাশ দিয়ে রওয়ানা হতেন। বর্তমানে গাছটির উপরের অংশ ভেঙে গিয়ে মাঝখানে ঝুকে গেছে। গাছের কান্ড এখনো দাড়িয়ে আছে। আর তার আশেপাশে অনেকগুলো বালির স্তূপ বিস্তৃত রয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার আরো বর্ণনা করেছেনঃ 'আরজু' গ্রামের পরে পাহাড়ের দিকে যেতে যে উচ্চভূমি আছে, তার পাশে নবী (ﷺ) সালাত আদায় করেছেন। এই মসজিদের পাশে দু'তিনটি কবর আছে। এসব কবরে পাথরের বড় বড় খন্ড পড়ে আছে। রাস্তার ডান পাশে গাছের নিকটেই তা অবস্থিত। দুপুরের পর সূর্য ঢলে পড়লে আবদুল্লাহ 'আর্জ'-এর দিক হতে এসে গাছের মধ্য দিয়ে যেতেন এবং ঐ মসজিদে যুহরের সালাত আদায় করতেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার আরো বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে রাস্তার বা দিকে বিরাট গাছগুলোর নিকট অবতরণ করেন যা 'হারশা' পাহাড়ের নিকটবর্তী নিম্নভূমির দিকে চলে গেছে। সেই নিম্নভূমিটি 'হারশা'-এর এক প্রান্তের সাথে মিলিত। এখান হতে সাধারণ সড়কের দূরত্ব প্রায় এক তীর নিক্ষেপের পরিমাণ। আবদুল্লাহ ইবন উমার সেই গাছগুলোর মধ্যে একটির নিকট সালাত আদায় করতেন, যা ছিল রাস্তার নিকটে এবং সবচেয়ে উচু।
আবদুল্লাহ ইবন উমার আরো বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) অবতরণ করতেন 'মাররুয যাহরান' উপত্যকার শেষ প্রান্তে নিম্নভূমিতে, যা মাদ্বীনার দিকে যেতে ছোট পাহাড়গুলোর নীচে অবস্থিত। তিনি সে নিম্নভূমির মাঝখানে অবতরণ করতেন। এটা মক্কা যাওয়ার পথে বাম পাশে থাকে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর মনযিল ও রাস্তার মাঝে দূরত্ব এক পাথর নিক্ষেপ পরিমাণ।
আবদুল্লাহ ইবন উমার তাকে আরও বলেছেন যে, নবী (ﷺ) 'যূ-তুওয়া'য় অবতরণ করতেন এবং এখানেই রাত যাপন করতেন আর মক্কায় আসার পথে এখানেই ফজরের সালাত আদায় করতেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সালাত আদায়ের সেই স্থানটা ছিল একটা বড় টিলার উপরে। যেখানে মাসজিদ নির্মিত হয়েছে সেখানে নয় বরং তার নীচে একটা বড় টিলার উপর।
আবদুল্লাহ ইবন উমার তার নিকট আরও বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) পাহাড়ের দু'টো প্রবেশপথ সামনে রাখতেন যা তার ও দীর্ঘ পাহাড়ের মাঝখানে কাবার দিকে রয়েছে। বর্তমানে সেখানে যে মাসজিদ নির্মিত হয়েছে, সেটিকে তিনি [ইবন উমার] টিলার প্রান্তের মাসজিদটির বাম পাশে রাখতেন। কিন্তু নবী (ﷺ) -এর সালাতের জায়গা ছিল এর নীচের কাল টিলার উপরে। এটি প্রথম টিলা হতে প্রায় দশ হাত দূরে। অতঃপর যে পাহাড়টি তোমার ও কাবার মাঝখানে পড়বে তার দু'প্রবেশ দ্বারের দিকে মুখ করে তুমি সালাত আদায় করবে।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একটা মাদী গাধার উপর সওয়ার হয়ে এলাম, তখন আমি ছিলাম সাবালক হবার নিকটবর্তী। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সামনে দেয়াল ব্যতীত অন্য কিছুকে সুতরাহ বানিয়ে মিনায় লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। কাতারের কিছু অংশ অতিক্রম করে আমি সওয়ারী হতে অবতরণ করলাম। গাধীটিকে চরাতে দিয়ে আমি কাতারে শামিল হয়ে গেলাম। আমাকে কেউই এ কাজে বাধা দেয়নি।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ঈদের দিন যখন বের হতেন তখন তার সম্মুখে ছোট নেযা (বল্লম) পুঁতে রাখতে নির্দেশ দিতেন। সেদিকে মুখ করে তিনি সালাত আদায় করতেন। আর লোকজন তার পেছনে দাড়াতো। সফরেও তিনি তাই করতেন। এ হতে শাসকগণও এ পন্থা অবলম্বন করেছেন।
'আওন ইবন আবূ জুহাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, নবী (ﷺ) সাহাবীগণকে নিয়ে 'বাতহা' নামক স্থানে যুহরের দু' রাকাত ও আসরের দু' রাকাত সালাত আদায় করেন। তখন তার সামনে বল্লম পুঁতে রাখা হয়েছিল। তার সম্মুখ দিয়ে (সুত্রার বাইরে) নারী ও গাধা চলাচল করতো।
সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সালাতের স্থান ও দেয়ালের মাঝখানে একটা বকরী চলার মত ব্যবধান ছিল।
সালামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মসজিদের দেয়াল ছিল মিম্বারের এত নিকট যে, মাঝখান দিয়ে একটা বকরীরও চলাচল কঠিন ছিল।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) -এর সামনে বর্শা পুঁতে রাখা হতো, আর তিনি সেদিকে সালাত আদায় করতেন।
'আওন ইবন আবূ জুহাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতার কাছ হতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ একদা দুপুরে আমাদের সামনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাশরীফ আনলেন। তাকে উযূর পানি দেয়া হলো। তিনি উযূ করলেন এবং আমাদের নিয়ে যুহর ও আসরের সালাত আদায় করলেন। সালাতের সময় তার সামনে ছিল বল্লম, যার বাইরের দিক দিয়ে নারী ও গাধা চলাচল করতো।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হতেন, তখন আমি ও একজন বালক তার পিছনে যেতাম। আর আমাদের সাথে থাকতো একটা লাঠি বা একটা ছড়ি অথবা একটা ছোট নেযা, আরো থাকতো একটা পানির পাত্র। তিনি তার প্রয়োজন সেরে নিলে আমরা তাকে ঐ পাত্রটি দিতাম।
আবূ জুহাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা দুপুরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের সামনে তাশরীফ আনলেন। তিনি 'বাতহা' নামক স্থানে যোহর ও আসরের সালাত দু'-দু'রাকাত করে আদায় করলেন। তখন তার সামনে একটা লৌহযুক্ত ছড়ি পুঁতে রাখা হয়েছিল। তিনি যখন উযূ করছিলেন, তখন সাহাবীগণ তার উযূর পানি নিজেদের শরীরে (বরকতের জন্য) মাসেহ করতে লাগলো।
ইয়াযীদ ইবন আবূ 'উবায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সালামাহ ইবন আকওয়া'-এর নিকট আসতাম। তিনি সর্বদা মসজিদে নাববীর সেই স্তম্ভের নিকট সালাত আদায় করতেন যা ছিল মাসহাফের নিকটবর্তী। আমি তাকে বললামঃ হে আবূ মুসলিম! আমি আপনাকে সর্বদা এই স্তম্ভ খুজে বের করে সামনে রেখে সালাত আদায় করতে দেখি (এর কারণ কী?) তিনি বললেনঃ আমি নবী (ﷺ) -কে এটি খুজে বের করে এর নিকট সালাত আদায় করতে দেখেছি।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) -এর বিশিষ্ট সাহাবীদের পেয়েছি। তারা মাগরিবের সময় দ্রুত স্তম্ভের নিকট যেতেন। শুবাহ আমর সূত্রে আনাস হতে (এ হাদীসে) অতিরিক্ত বলেছেনঃ 'নবী (ﷺ) বেরিয়ে আসা পর্যন্ত।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বাইতুল্লাহ-এ প্রবেশ করেছিলেন। আর তার সঙ্গে ছিলেন উসামা ইবন যায়দ, উসমান ইবন ত্বলহা এবং বিলাল। তিনি অনেকক্ষণ ভিতরে ছিলেন। অতঃপর বের হলেন। আর আমিই প্রথম ব্যক্তি যে তার পরে প্রবেশ করেছে। আমি বিলাল-কে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী (ﷺ) কোথায় সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেনঃ সামনের দুই খুটির মধ্যখানে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আর উসামা ইবন যায়দ, বিলাল এবং উসমান ইবন তালহা হাজাবী কাবায় প্রবেশ করলেন। নবী (ﷺ) -এর প্রবেশের সাথে সাথে উসমান কাবার দরজা বন্ধ করে দিলেন। তারা কিছুক্ষণ ভিতরে ছিলেন। বিলাল বের হলে আমি তাকে বললামঃ নবী (ﷺ) কী করলেন? তিনি বললেনঃ একটা খুটি বাম দিকে, একটা খুটি ডান দিকে আর তিনটা খুটি পেছনে রাখলেন। আর তখন বায়তুল্লাহ ছিল ছয়টি খুটি বিশিষ্ট। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। [ইমাম মালিক বলেছেন যে, তার (নবীর) ডান পাশে দু'টো স্তম্ভ ছিল।]
নাফি হতে বর্ণিত। আবদুল্লাহ যখন কাবা শরীফে প্রবেশ করতেন তখন সামনের দিকে চলতে থাকতেন এবং দরজা পেছনে রাখতেন। এভাবে এগিয়ে গিয়ে যেখানে তার ও দেওয়ালের মাঝে প্রায় তিন হাত পরিমাণ ব্যবধান থাকতো, সেখানে তিনি সালাত আদায় করতেন। তিনি সে স্থানেই সালাত আদায় করতে চাইতেন, যেখানে নবী (ﷺ) সালাত আদায় করেছিলেন বলে বিলাল তাকে খবর দিয়েছিলেন। তিনি বলেনঃ কাবা ঘরে যে-কোন প্রান্তে ইচ্ছা, সালাত আদায় করাতে আমাদের কারো কোন দোষ নেই।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তার উটনীকে সামনে রেখে সালাত আদায় করতেন। [রাবী নাফি বলেন] আমি [আবদুল্লাহ ইবন উমার কে] জিজ্ঞেস করলামঃ যখন সওয়ারী নড়াচড়া করতো তখন (তিনি কী করতেন?) তিনি বলেনঃ তিনি তখন হাওদা নিয়ে সোজা করে নিজের সামনে রাখতেন, আর তার শেষাংশের দিকে সালাত আদায় করতেন। [নাফি বলেন]: ইবন উমার-ও তা করতেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুর, গাধার সমান করে ফেলেছ! আমি নিজে এ অবস্থায় ছিলাম যে, আমি চৌকির উপর শুয়ে থাকতাম আর নবী (ﷺ) এসে চৌকির মাঝ বরাবর দাড়িয়ে সালাত আদায় করতেন। এভাবে আমি সামনে থাকা পছন্দ করতাম না। তাই আমি চৌকির পায়ের দিকে সরে গিয়ে চুপি চুপি নিজের লেপ হতে বেরিয়ে পড়তাম।
আবূ মা'মার ও আদম ইবন আবূ ইয়াস .... আবূ সালেহ সাম্মান হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ সাঈদ খুদরী-কে দেখেছি। তিনি জুমুআর দিন লোকদের জন্য সুতরা হিসেবে কোন কিছু সামনে রেখে সালাত আদায় করছিলেন। আবু মু'আইত গোত্রের এক যুবক তার সামনে দিয়ে যেতে চাইল। আবূ সাঈদ খুদরী তার বুকে ধাক্কা মারলেন। যুবকটি লক্ষ্য করে দেখলো যে, তার সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। এজন্যে সে পুনরায় তার সামনে দিয়ে যেতে চাইল। এবারে আবূ সাঈদ খুদরী প্রথমবারের চেয়ে জোরে ধাক্কা দিলেন। ফলে আবূ সাঈদ-কে তিরস্কার করে সে মারওয়ানের নিকট গিয়ে আবূ সাঈদ -এর ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করল। এদিকে তার পরপরই আবূ সাঈদ-ও মারওয়ানের নিকট গেলেন। মারওয়ান তাকে বললেনঃ হে আবূ সাঈদ! তোমার এই ভাতিজার কী ঘটেছে? তিনি জবাব দিলেনঃ আমি নবী (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ যদি লোকদের জন্য সামনে সুতরা রেখে সালাত আদায় করে, আর কেউ যদি তার সামনে দিয়ে যেতে চায়, তাহলে যেন সে তাকে বাধা দেয়। সে যদি না মানে, তবে সে ব্যক্তি (মুসল্লী) যেন তার সাথে লড়াই করে, কেননা সে শয়তান।
বুসর ইবন সাঈদ হতে বর্ণিত যে, যায়দ ইবন খালিদ তাকে আবূ জুহায়ম-এর নিকট পাঠালেন, যেন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন যে, মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীর সম্পর্কে তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে কী শুনেছেন। তখন আবূ জুহায়ম বললেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যদি মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী জানতো এটা তার কত বড় অপরাধ, তাহলে সে মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (দিন/মাস/বছর) দাড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করতো। আবুন-নাযর বলেনঃ আমার জানা নেই তিনি কি চল্লিশ দিন বা মাস কিংবা চল্লিশ বছর বলেছেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। একবার তার সামনে সালাত নষ্টকারী জিনিসের আলোচনা করা হল। লোকেরা বললোঃ কুকুর, গাধা ও মহিলা সালাত নষ্ট করে দেয়। আয়িশাহ বললেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুরের সমান করে দিয়েছ! আমি নবী (ﷺ) -কে দেখেছি, সালাত আদায় করছেন আর আমি তার ও কিবলাহর মাঝে চৌকির উপর কাত হয়ে শুয়ে থাকতাম। কোন কোন সময় আমার বের হবার দরকার হতো এবং তার সামনের দিকে যাওয়া অপছন্দ করতাম। এজন্যে আমি চুপে চুপে সরে পড়তাম। আ'মাশ আয়িশাহ হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) সালাত আদায় করতেন আর আমি তখন তার বিছানায় আড়াআড়িভাবে ঘুমিয়ে থাকতাম। বিতর পড়ার সময় তিনি আমাকেও জাগাতেন, তখন আমিও বিতর পড়তাম।
নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সামনে শুয়ে থাকতাম আর আমার পা দু'টো থাকত তার কিবলার দিকে। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন আমাকে টোকা দিতেন, আর আমি আমার পা সরিয়ে নিতাম। তিনি দাড়িয়ে গেলে পুনরায় পা দু'টো প্রসারিত করে দিতাম।আয়িশাহ বলেনঃ তখন ঘরে কোন বাতি ছিল না।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তার সামনে সালাত নষ্টকারী কুকুর, গাধা ও নারী সম্বন্ধে আলোচনা চলছিল।আয়িশাহ বললেনঃ তোমরা আমাদেরকে গাধা ও কুকুরের সাথে তুলনা করছ? আল্লাহর কসম! আমি নবী (ﷺ) -কে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তখন আমি চৌকির উপরে তার ও কিবলাহর মাঝখানে শুয়ে ছিলাম। আমার প্রয়োজন হলে আমি তার সামনে বসা খারাপ মনে করতাম। তাতে নবী (ﷺ) -এর কষ্ট হতে পারে। আমি তার পায়ের পাশ দিয়ে চুপিসারে বের হয়ে যেতাম।
নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রাতে উঠে সালাতে দাড়াতেন আর আমি তার ও কিবলাহর মাঝখানে আড়াআড়িভাবে তার পরিজনদের বিছানায় শুয়ে থাকতাম।
আবূ কাতাদাহ্ আনসারী হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার মেয়ে যয়নবের গর্ভজাত ও আবুল আস ইবন রাবীআহ ইবন 'আবদ শামস-এর ঔরসজাত কন্যা উমামাহ-কে কাঁধে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যখন সিজদায় যেতেন তখন তাকে রেখে দিতেন আর যখন দাড়াতেন তখন তাকে তুলে নিতেন।
মাইমূনাহ বিনতু হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার বিছানা নবী (ﷺ) -এর মুসাল্লার বরাবর ছিল। আর আমি আমার বিছানায় থাকা অবস্থায় কোন কোন সময় তার কাপড় আমার গায়ের উপর এসে পড়তো।
মাইমূনাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) সালাত আদায় করতেন আর আমি তার পাশে শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন তার কাপড় আমার গায়ের উপর পড়তো। সে সময় আমি ঋতুমতী ছিলাম।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুর ও গাধার সমান করে বড়ই খারাপ করেছ। অথচ আমি নিজেকে এ অবস্থায় দেখেছি যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাত আদায়ের সময় আমি তার ও কিবলাহর মাঝখানে শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন সিজদা করার ইচ্ছা করতেন তখন আমার পা দু'টোতে টোকা মারতেন আর আমি আমার পা গুটিয়ে নিতাম।
আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কাবার নিকটে দাড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আর কুরাইশের একদল তাদের মাজলিসে উপবিষ্ট ছিল। তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বললঃ তোমরা কি এই রিয়াকারকে লক্ষ করছ না? তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে অমুক গোত্রের উট জবাই করার স্থান পর্যন্ত যেতে পার? সেখান হতে গোবর, রক্ত ও নাড়িভুড়ি নিয়ে এসে অপেক্ষা করবে। যখন তিনি সাজদায় যাবেন, তখন এগুলো তার দুই কাঁধের মাঝখানে রেখে দিবে। এ কাজের জন্য তাদের চরম দুর্ভাগা ব্যক্তি ('উক্ববাহ ইবন আবূ মু'আইত) উঠে দাড়াল (এবং তা নিয়ে আসলো)। যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সাজদায় গেলেন তখন সে তার দু'কাঁধের মাঝখানে সেগুলো রেখে দিল। নবী (ﷺ) সিজদায় স্থির রয়ে গেলেন। এতে তারা পরস্পর হাসাহাসি করতে লাগলো। এমনকি হাসতে হাসতে একজন আরেকজনের গায়ের উপর লুটোপুটি করতে লাগল। (এ অবস্থা দেখে) এক ব্যক্তি ফাতিমা-এর নিকট গেলেন। তখন তিনি ছিলেন ছোট বালিকা। তিনি দৌড়ে চলে এলেন। তখনও নবী (ﷺ) সিজদায় স্থির ছিলেন। অবশেষে তিনি [ফাতিমা] সেগুলো তার উপর হতে ফেলে দিলেন এবং মুশরিকদের লক্ষ্য করে তিরস্কার করতে লাগলেন। যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাত শেষ করলেন তখন তিনি বললেনঃ "হে আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর। " হে আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর।" "আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর।" অতঃপর তিনি নাম নিয়ে বললেন, "হে আল্লাহ! তুমি 'আমার ইবন হিশাম, 'উত্বাহ ইবন রাবীআহ, শায়বাহ ইবন রাবীআহ, ওয়ালীদ ইবন 'উত্বাহ, উমায়্যাহ ইবন খালাফ, উকবাহ ইবন আবূ মু'আইত এবং উমারাহ ইবন ওয়ালীদকে ধ্বংস কর।" আবদুল্লাহ [ইবন মাসঊদ] বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি এদের সকলকেই বদরের দিন নিহত লাশ হয়ে পড়ে থাকতে দেখেছি। অতঃপর তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে বাদ্র কূপে নিক্ষেপ করা হয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলতেনঃ এই কুয়াবাসীদের উপর চিরস্থায়ী অভিসম্পাত।