কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা (১০৬৭-১০৭৯)
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মক্কায় সূরাহ্ আন্-নাজম তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি সিজদা করেন এবং একজন বৃদ্ধ লোক ছাড়া তার সঙ্গে সবাই সিজদা করেন। বৃদ্ধ লোকটি এক মুঠো কঙ্কর বা মাটি হাতে নিয়ে তার কপাল পর্যন্ত উঠিয়ে বলল, আমার জন্য এ যথেষ্ট। আমি পরবর্তীতে দেখেছি যে, সে কাফির অবস্থায় নিহত হয়েছে।
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিতঃ জুমার দিন ফজরের নামাযে নবী (ﷺ) আলিফ লাম মিম "আস-সাজদা" (প্রথম রাকাতে) এবং "হাল আতা আলাল-ইনসানী" সূরা আদ-দাহর (দ্বিতীয় রাকাতে) পাঠ করতেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরাহ্ স-দ এর সিজদা অত্যাবশ্যক সিজদাসমূহের মধ্যে গণ্য নয়। তবে নবী (ﷺ) -কে আমি তা তিলাওয়াতের পর সিজদা করতে দেখেছি।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, একবার নবী (ﷺ) সূরাহ্ আন্ নাজ্ম তিলাওয়াত করেন, অতঃপর সিজদা করেন। তখন উপস্থিত লোকদের এমন কেউ বাকী ছিল না, যে তার সঙ্গে সিজদা করেনি। কিন্তু এক ব্যক্তি এক মুঠো কঙ্কর বা মাটি হাতে নিয়ে মুখমন্ডল পর্যন্ত তুলে বলল, এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। [আবদুল্লাহ বলেন] পরে আমি এ ব্যক্তিকে দেখেছি যে, সে কাফির অবস্থায় নিহত হয়েছে।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) সূরাহ্ ওয়ান্-নাজ্ম তিলাওয়াতের পর সিজদা করেন এবং তার সাথে সমস্ত মুসলিম, মুশরিক, জ্বিন ও ইনসান সবাই সিজদা করেছিল।
যায়দ ইবন সাবিত থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) -এর নিকট সূরাহ্ ওয়ান্ন নাজ্ম তিলাওয়াত করা হল কিন্তু তাতে তিনি সিজদা করেননি।
যায়দ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -এর সামনে সূরাহ্ ওয়ান্ নাজ্ম তিলাওয়াত করলাম। এতে তিনি সিজদা করেননি।
আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ হুরাইরাহ্-কে দেখলাম, তিনি "ইযাস-সামা উন-শাক্বাত" সূরাহ্ তিলাওয়াত করলেন এবং সিজদা করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ হুরাইরাহ্! আমি কি আপনাকে সিজদা করতে দেখিনি? তিনি বললেন, আমি নবী (ﷺ) -কে সিজদা করতে না দেখলে সিজদা করতাম না।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একবার আমাদের সামনে এমন এক সূরাহ্ তিলাওয়াত করলেন, যাতে সিজদার আয়াত রয়েছে। তাই তিনি সিজদা করলেন এবং আমরাও সিজদা করলাম। ফলে অবস্থা এমন দাড়াল যে, আমাদের কেউ কেউ কপাল রাখার জায়গা পাচ্ছিলেন না।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং আমরা তার নিকট থাকতাম, তখন তিনি সিজদা করতেন এবং আমরাও তার সঙ্গে সিজদা করতাম। এতে এত ভীড় হতো যে, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ সিজদা করার জন্য কপাল রাখার জায়গা পেত না।
উমার ইবন খাত্তাব হতে বর্ণিত। তিনি এক জুমুআহর দিন মিম্বরে দাড়িয়ে সুরা নাহল তিলাওয়াত করেন। এতে যখন সিজদার আয়াত এল, তখন তিনি মিম্বর হতে নেমে সিজদা করলেন এবং লোকেরাও সিজদা করল। এভাবে যখন পরবর্তী জুমুআহ এল, তখন তিনি সে সূরাহ্ পাঠ করেন। এতে যখন সিজদার আয়াত এল, তখন তিনি বললেন, হে লোক সকল! আমরা যখন সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করি, তখন যে সিজদা করবে সে ঠিকই করবে, যে সিজদা করবে না তার কোন গুনাহ নেই। তার বর্ণনায় (বর্ণনাকারী বলেন) আর উমার সিজদা করেননি। নাফি ইবন উমার হতে আরো বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সিজদা ফরজ করেননি, তবে আমরা ইচ্ছা করলে সিজদা করতে পারি।
আবূ রাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আবূ হুরাইরাহ্-এর সাথে ইশার সালাত আদায় করেছিলাম। তিনি সালাতে "ইযাস-সামা উন-শাক্বাত" সূরাহ্ তিলাওয়াত করে সিজদা করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? তিনি বললেন, এ সূরাহ্ তিলাওয়াতের সময় আবুল কাসিম (ﷺ) -এর পিছনে আমি এ সিজদা করেছিলাম। তাই তার সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এভাবে আমি সিজদা করতে থাকব।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন এমন সূরাহ্ তিলাওয়াত করতেন যাতে সিজদা আছে, তখন তিনি সিজদা করতেন এবং আমরাও তার সঙ্গে সিজদা করতাম। এমন কি (ভীড়ের কারণে) আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কপাল রাখার জায়গা পেত না।