bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ধুলা বালি দিয়ে মুখ ও হাত মাসেহ করা (তায়াম্মুম) (৩৩৪-৩৪৮)

নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে কোন এক সফরে বের হয়েছিলাম যখন আমরা 'বায়যা' অথবা 'যাতুল জায়শ' নামক স্থানে পৌছলাম তখন একখানা হার হারিয়ে গেল। আল্লাহ‌র রাসূল (ﷺ)-সেখানে হারের খোজে থেমে গেলেন আর লোকেরাও তার সঙ্গে থেমে গেলেন, অথচ তারা পানির নিকটে ছিলেন না। তখন লোকেরা আবূ বক্‌র এর নিকট এসে বললেনঃ আয়িশা কী করেছেন আপনি কি দেখেন নি? তিনি রাসূলুল্লাহ‌ (ﷺ)-ও লোকদের আটকিয়ে ফেলেছেন, অথচ তারা পানির নিকটে নেই এবং তাদের সাথেও পানি নেই। আবূ বক্‌র আমার নিকট আসলেন, তখন আল্লাহ‌র রাসূল (ﷺ)-আমার উরুর উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। আবূ বক্‌র বললেনঃ তুমি আল্লাহ‌র রাসূল (ﷺ)-এর লোকদের আটকিয়ে ফেলেছ! অথচ আশেপাশে কোথাও পানি নেই। এবং তাদের সাথেও পানি নেই। আয়িশা বলেনঃ আবূ বক্‌র আমাকে খুব তিরস্কার করলেন আর, আল্লাহ‌র ইচ্ছা, তিনি যা খুশি তাই বললেন। তিনি আমার কোমরে আঘাত দিতে লাগলেন। আমার উরুর উপর আল্লাহ‌র রাসূল (ﷺ)-এর মাথা থাকায় আমি নড়তে পারছিলাম না। আল্লাহ‌র রাসূল (ﷺ)-ভোরে উঠলেন, কিন্তু পানি ছিল না। তখন আল্লাহ‌ তা'আলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন। অতঃপর সবাই তায়াম্মুম করে নিলেন। উসায়দ ইবন হুযায়্‌র বললেনঃ হে আবূ বক্‌রেরপরিবারবর্গ! এটাই আপনাদের প্রথম বরকত নয়। আয়িশা বলেনঃ তারপর আমি যে উটে ছিলাম তাকে দাড় করালে দেখি আমার হারখানা তার নীচে পড়ে আছে।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ‌ থেকে বর্ণিতঃ নবী (ﷺ)-বলেনঃ আমাকে এমন পাচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পুর্বে কাউকেও দান করা হয়নি। (১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, একমাস দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়; (২) সমস্ত যমীন আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন লোক ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে; (৩) আমার জন্য গানীমাতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি; (৪) আমাকে (ব্যাপক) শাফা'আতের অধিকার দেওয়া হয়েছে; (৫) সমস্ত নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাদের সম্প্রদায়ের জন্য, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য।

আয়িশা থেকে বর্ণিতঃ তিনি একদা (তার বোন) আসমা এর হার ধার করে নিয়ে গিয়েছিলেন। (পথিমধ্যে) হারখানা হারিয়ে গেল। আল্লাহ‌র রাসূল (ﷺ)-সেটির অনুসন্ধানে লোক পাঠালেন। তিনি হারটি এমন সময় পেলেন, যখন তাদের সালাতের সময় হয়ে গিয়েছিল অথচ তাদের কাছে পানি ছিল না। তারা সালাত আদায় করলেন। তারপর বিষয়টি তারা আল্লাহ‌র রাসূল (ﷺ)-এর নিকট বর্ণনা করেন। তখন আল্লাহ‌ তা'আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করেন। সেজন্য উসায়দ ইবন হুযায়র আয়িশা কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আল্লাহ‌ আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন। আল্লাহ‌র কসম! আপনি যে কোন অপছন্দনীয় অবস্থার মুখোমুখী হয়েছেন, তাতেই আল্লাহ‌ তা'আলা আপনার ও সমস্ত মুসলিমের জন্য মঙ্গল রেখেছেন।

আবূ জুহায়ম থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) মদ্বীনার কাছে অবস্থিত 'বি'রে জামাল' হতে আসছিলেন। পথিমধ্যে তার সাথে এক ব্যক্তির সাক্ষাত হলো। লোকটি তাকে সালাম করলো। নবী (ﷺ) জওয়াব না দিয়ে দেয়ালের নিকট অগ্রসর হয়ে তাতে (হাত মেরে) নিজের চেহারা ও হস্তদ্বয় মাস্‌হ করে নিলেন, তারপর সালামের জবাব দিলেন।

আবদুর রহমান ইবন আবযা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি 'উমর ইবন খাত্তাব-এর নিকট এসে জানতে চাইল: একবার আমার গোসলের দরকার হল অথচ আমি পানি পেলাম না। তখন আম্মার ইবন ইয়াসার 'উমর ইবন খাত্তাব-কে বললেনঃ আপনার কি সেই ঘটনা মনে আছে যে, একদা আমরা দু'জন সফরে ছিলাম এবং দু'জনেরই গোসলের প্রয়োজন দেখা দিল। আপনি তো সালাত আদায় করলেন না। আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি ঘটনাটি নবী (ﷺ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমার জন্য তো এতটুকুই যথেষ্ট ছিল- এ বলে নবী (ﷺ) দু' হাত মাটিতে মারলেন এবং দু'হাতে ফু দিয়ে তার চেহারা ও উভয় হাত মাস্‌হ করলেন।

আম্মার-ও এ কথা (যা পূর্বের হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে তা) বর্ণনা করেছেন। শুবাহ নিজের হস্তদ্বয় মাটিতে মেরে মুখের নিকট নিলেন (ফু দিলেন)। তারপর নিজের চেহারা ও উভয় হাত মাস্‌হ করলেন। নাযর শুবাহ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

ইবন আবদুর রহমান ইবন আব্‌যা তার পিতা হতে থেকে বর্ণিতঃ তিনি (আবদুর রহমান) 'উমর-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন, আর আম্মার তাকে বলছিলেনঃ আমরা এক অভিযানে গিয়েছিলাম, আমরা উভয়ই জুনুবী হয়ে পড়লাম। আমি আমার হাত থেকে ফু দিয়ে ধুলা উড়িয়ে দিলাম (এবং মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম ও তারপর নামাজ পড়লাম।)

আবদুর রহমান থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আম্মার 'উমর-কে বলছিলেনঃ আমি (তায়াম্মুমের জন্য) মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরে নবী (ﷺ)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি বলেছিলেন: চেহারা ও হাত দু'টো মাস্‌হ করাই তোমার জন্য যথেষ্ট।

আবদুর রহমান থেকে বর্ণিতঃ পূর্ববর্তী হাদীস এর মত (৩৪১)।

আম্মার থেকে বর্ণিতঃ আম্মার বলেছেনঃ নবী (ﷺ) মাটিতে হাত মারলেন এবং তার চেহারা ও হস্তদ্বয় মাস্‌হ করলেন।

ইমরান থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। আমরা রাতে চলতে চলতে শেষরাতে এক স্থানে ঘুমিয়ে পড়লাম। মুসাফিরের জন্য এর চেয়ে মধুর ঘুম আর হতে পারে না। (আমরা এমন ঘোর নিদ্রায় নিমগ্ন ছিলাম যে,) সূর্যের উত্তাপ ছাড়া অন্য কিছু আমাদের জাগাতে পারেনি। সর্বপ্রথম জাগলেন অমুক, তারপর অমুক, তারপর অমুক। (রাবী) আবূ রাজা' তাদের সবার নাম নিয়েছিলেন কিন্তু 'আওফ তাদের নাম মনে রাখতে পারেন নি। চতুর্থবারের জেগে ওঠা ব্যক্তি ছিলেন 'উমর ইবন খাত্তাব। নবী (ﷺ) ঘুমালে আমরা তাকে কেউ জাগাতাম না, যতক্ষণ না তিনি নিজেই জেগে উঠতেন। কারণ নিদ্রাবস্থায় তার উপর কী অবতীর্ণ হচ্ছে তা তো আমাদের জানা নেই। 'উমর জেগে মানুষের অবস্থা দেখলেন, আর তিনি ছিলেন দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তি – উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে আরম্ভ করলেন। তিনি ক্রমাগত উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে থাকলেন। এমন কি তার শব্দে নবী (ﷺ) জেগে উঠলেন। তখন লোকেরা তার নিকট ওজর পেশ করলো। তিনি বললেনঃ কোন ক্ষতি নেই বা বললেনঃ কোন ক্ষতি হবে না। এখান হতে চল। তিনি চলতে লাগলেন। কিছু দূর গিয়ে থামলেন। উযূর পানি আনালেন এবং উযূ করলেন। সালাতের আজান দেয়া হলো। তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে দেখলেন, একলোক আলাদা দাড়িয়ে আছেন। তিনি লোকদের সাথে সালাত আদায় করেন নি। নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে অমুক! তোমাকে লোকদের সাথে সালাত আদায় করতে কিসে বিরত রাখলো? তিনি বললেন আমার উপর গোসল ফরয হয়েছে। অথচ পানি নেই। তিনি বললেনঃ পবিত্র মাটি নাও (তায়াম্মুম কর), এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। নবী (ﷺ) পুনরায় সফর শুরু করলেন। লোকেরা তাকে পিপাসার কষ্ট জানালো। তিনি অবতরন করলেন, তারপর অমুক ব্যক্তিকে ডাকলেন। (রাবী) আবূ রাজা' তার নাম উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু 'আওফ তা ভুলে গেছেন। তিনি আলী-কেও ডাকলেন। তারপর উভয়কেই পানি খুজে আনতে বললেন। তারা পানির খোজে বের হলেন। তারা পথে এক মহিলাকে দুই মশক পানি উটের উপর করে নিতে দেখলেন। তারা তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ পানি কোথায়? গতকাল এ সময়ে আমি পানির নিকটে ছিলাম। আমার গোত্র পিছনে রয়ে গেছে। তারা বললেনঃ এখন আমাদের সঙ্গে চলো। সে বললো: কোথায়? তারা বললেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট। সে বললো: সেই লোকটির নিকট যাকে সাবি' (ধর্ম পরিবর্তনকারী) বলা হয়? তারা বললেনঃ হ্যা, তোমরা যাকে এই বলে থাক। আচ্ছা, এখন চলো। তারা তাকে নিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এলেন এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন। ইমরান বললেনঃ লোকেরা স্ত্রীলোকটিকে তার উট হতে নামালেন। তারপর নবী (ﷺ) একটি পাত্র আনতে বললেন এবং উভয় মশকের মুখ খুলে তাতে পনি ঢাললেন এবং সেগুলোর মুখ বন্ধ করে দিলেন। তারপর সে মশকের নীচের মুখ খুলে দিয়ে লোকদের মধ্যে পানি পান করার ও জন্তু-জানোয়ারকে পানি পান করানোর ঘোষণা দিয়ে দিলেন। তাদের মধ্যে যার ইচ্ছা পানি পান করলেন ও জন্তুকে পান করালেন। অবশেষে যে ব্যক্তির গোসল দরকার ছিল, তাকেও এক পাত্র পানি দিয়ে নবী (ﷺ) বললেনঃ এ পানি নিয়ে যাও এবং গোসল সার। ঐ মহিলা দাড়িয়ে দেখছিল যে, তার পানি নিয়ে কী করা হচ্ছে। আল্লাহ‌র কসম! যখন তার হতে পানি নেয়া শেষ হল তখন আমাদের মনে হল, মশকগুলো পূর্বাপেক্ষা অধিক ভর্তি। তারপর নবী (ﷺ) বললেনঃ মহিলার জন্য কিছু একত্র কর। লোকরা মহিলার জন্যে আজওয়া (বিশেষ খেজুর), আটা ও ছাতু এনে একত্র করলেন। যখন তারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী জমা করলেন, তখন একটা কাপড়ে বেধে মহিলাকে উটের উপর সওয়ার করালেন এবং তার সামনে কাপড়ে বাধা গাঁঠরিটি রেখে দিলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তুমি জান যে, আমরা তোমার পানি মোটেই কম করিনি; বরং আল্লাহ তা'আলাই আমাদের পানি পান করিয়েছেন। অতঃপর সে তার পরিজনের নিকট ফিরে গেল। তার বেশ দেরী হয়েছিল। পরিবারের লোকজন তাকে জিজ্ঞেস করলো, হে অমুক! তোমার এত দেরী হল কেন? উত্তরে সে বলল: একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা! দু'জন লোকের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। তারা আমাকে সেই লোকটির কাছে নিয়ে গিয়েছিল, যাকে সাবি' বলা হয়। আর সেখানে সে এসব করল। এ বলে সে মধ্যমা এবং তর্জনী আঙুল দিয়ে আসমান ও জমিনের দিকে ইঙ্গত করে বলল, আল্লাহ‌র কসম! সে এ দুটির মধ্যে সবচেয়ে বড় জাদুকর নয় তো সে বস্তবিকই আল্লাহ‌র রাসূল। এ ঘটনার পর মুসলিমরা ঐ মহিলার গোত্রের আশপাশের মুশরিকদের উপর হামলা করতেন কিন্তু মহিলার সাথে সম্পর্কযুক্ত গোত্রের কোন ক্ষতি করতেন না। একদা মহিলা নিজের গোত্রকে বলল: আমার মনে হয়, তারা ইচ্ছা করে আমাদের নিস্কৃতি দিচ্ছে। এসব দেখে কি তোমরা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হবে না? তারা সবাই মহিলাটির কথা মেনে নিল এবং ইসলামে দাখিল হয়ে গেল।

আবূ ওয়াইল থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আবূ মূসা আবদুল্লাহ‌ ইবন মাস'ঊদ-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ (অপবিত্র ব্যক্তি) পানি না পেলে কি সালাত আদায় করবে না? আবদুল্লাহ‌ বললেনঃ হা, আমি একমাসও যদি পানি না পাই তবে সালাত আদায় করবো না। এ ব্যাপারে যদি লোকদের অনুমতি দেই তা হলে তারা একটু শীত বোধ করলেই এরূপ করতে থাকবে। তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে। আবূ মূসা বললেনঃ তাহলে 'উমর-এর সামনে আম্মার -এর কথার তাৎপর্য কী হবে? তিনি উত্তরে বললেনঃ 'উমর আম্মার-এর কথায় সন্তুষ্ট হয়েছেন বলে আমি মনে করি না।

শাক্বীক ইবন সালামা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ‌ ইবন মাস'ঊদ ও আবূ মূসা-এর নিকট ছিলাম। তাকে আবূ মূসা বললেনঃ হে আবূ আবদুর রহমান। কেউ অপবিত্র হলে যদি পানি না পায় তবে কী করবে? তখন আবদুল্লাহ‌ বললেনঃ পানি না পাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে না। আবূ মূসা বললেনঃ তা হলে আম্মার-এর কথার উত্তরে আপনি কী বলবেন? তাকে যে নবী (ﷺ) বলেছিলেন (তায়াম্মুম করে নেয়া) তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল। আবদুল্লাহ‌ (ইবন মাস'ঊদ) বললেনঃ তুমি দেখ না 'উমর আম্মারের এই কথায় সন্তুষ্ট ছিলেন না? আবূ মূসা পুনরায় বললেন আম্মারের কথা বাদ দিলেও তায়াম্মুমের আয়াতের কী ব্যাখ্যা করবেন? আবদুল্লাহ‌ এর কোন উত্তর দিতে পারলেন না। তিনি তবুও বললেনঃ আমরা যদি লোকদের তার অনুমতি দিয়ে দেই তাহলে আশঙ্কা হয়, কারো নিকট পানি ঠাণ্ডা মনে হলেই তায়াম্মুম করবে। রাবী আ'মাশ বলেনঃ আমি শাক্বীক-কে প্রশ্ন করলাম, "আবদুল্লাহ্‌ এ কারণে কি তায়াম্মুম অপছন্দ করেছিলেন?" তিনি বললেনঃ হ্যা।

শাক্বীক থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ‌ (ইবন মাস'ঊদ) ও আবূ মূসা আশ'আরী-এর সঙ্গে বসা ছিলাম। আবু মূসা আবদুল্লাহ‌ -কে বললেনঃ কোন ব্যক্তি জুনুবী হলে সে যদি এক মাস পর্যন্ত পানি না পায়, তা হলে কি সে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে না? শাক্বীকবলেন, আবদুল্লাহ‌ বললেনঃ এক মাস পানি না পেলেও সে তায়াম্মুম করবে না। তখন তাকে আবূ মূসা বললেনঃ তাহলে সূরা মায়িদাহ্‌র এ আয়াত সম্পর্কে কী করবেন যে, "পানি না পেলে পাক মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে"-(আল-মায়িদা ৫/৬)। আবদুল্লাহ্‌ জওয়াব দিলেন, মানুষকে সেই অনুমতি দিলে অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছার সম্ভাবনা রয়েছে যে, সামান্য ঠান্ডা লাগলেই লোকেরা মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে। আমি বললাম আপনারা এ জন্যেই কি তা অপছন্দ করেন? তিনি জবাব দিলেন, হা। আবূ মূসা বললেনঃ আপনি কি 'উমর ইবন খাত্তাব–এর সম্মুখে আম্মার-এর এ কথা শোনেননি যে, আমাকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একটা প্রয়োজনে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। সফরে আমি জুনুবী হয়ে পড়লাম এবং পানি পেলাম না। এজন্য আমি জন্তুর মত মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)–এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য তো এটুকুই যথেষ্ট ছিল- এই বলে তিনি দু' হাত মাটিতে মারলেন, তারপর তা ঝেড়ে নিলেন এবং তা দিয়ে তিনি বাম হাতে ডান হাতের পিঠ মাস্‌হ করলেন কিংবা রাবী বলেছেন, বাম হাতের পিঠ ডান হাতে মাস্‌হ করলেন। তারপর হাত দু'টো দিয়ে তার মুখমন্ডল মাস্‌হ করলেন। আবদুল্লাহ‌ বললেনঃ আপনি দেখেন নি যে, 'উমর আম্মার-এর কথায় সন্তুষ্ট হননি? ইয়া'লা আ'মাশ হতে এবং তিনি শাক্বীক হতে আরো বলেছেন যে, তিনি বললেনঃ আমি আবদুল্লাহ‌ ও আবূ মূসা–এর নিকট হা্যির ছিলামঃ আবূ বলছিলেনঃ আপনি 'উমর হতে আম্মারের এ কথা শোনেননি যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে ও আপনাকে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। তখন আমি জুনুবী হয়ে গিয়ে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়েছিলাম। তারপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) –এর নিকট এসে এ বিষয় তাকে জানালাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এই যথেষ্ট ছিল- এ বলে তিনি তার মুখমন্ডল ও দু' হাত একবার মাস্‌হ করলেন?

ইমরান ইবন হুসায়ন আল-খু্যা'ঈ থেকে বর্ণিতঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এক ব্যাক্তিকে জামা'আতে সালাত আদায় না করে পৃথক দাড়িয়ে থাকতে দেখলেন। তিনি লোকটিকে ডেকে বললেনঃ হে অমুক! তুমি জামা'আতে সালাত আদায় করলে না কেন? লোকটি বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার গোসলের প্রয়োজন হয়েছিল, কিন্তু পানি নেই। তিনি বললেনঃ তুমি পবিত্র মাটির ব্যবহার (তায়াম্মুম) করবে। তা-ই তোমার জন্য যথেষ্ট।