bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

জন্ম উপলক্ষে কোরবানি (আক্বীকাহ) (৫৪৬৭-৫৪৭৪)

আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একটি পুত্র সন্তান জন্মালে আমি তাকে নিয়ে নবী (ﷺ) এর কাছে গেলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম। তারপর খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিলেন এবং তার জন্য বারাকাতের দোয়া করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। সে ছিল আবূ মূসার সবচেয়ে বড় ছেলে।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কাছে তাহনীক করার জন্য এক শিশুকে আনা হল, শিশুটি তার কোলে পেশাব করে দিল, তিনি তখন এতে পানি ঢেলে দিলেন।

আসমা বিনত আবূ বাকর হতে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন যুবায়রকে মক্কায় গর্ভে ধারণ করেন। তিনি বলেন, গর্ভকাল পূর্ণ হওয়া অবস্থায় আমি বেরিয়ে মদিনায় আসলাম এবং কুবায় অবতরণ করলাম। কুবাতেই আমি তাকে প্রসব করি। তারপর তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে তাকে তার কোলে রাখলাম। তিনি একটি খেজুর আনতে বললেন। তা চিবিয়ে তিনি তার মুখে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এই লালাই সর্বপ্রথম তার পেটে প্রবেশ করেছিল। তারপর তিনি খেজুর চিবিয়ে তাহনীক করলেন এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করলেন।(হিজরতের পরে) ইসলামে জন্মলাভকারী সেই ছিল প্রথম সন্তান। তাই তার জন্যে মুসলিমরা মহা আনন্দে আনন্দিত হয়েছিলেন। কারণ, তাদের বলা হত ইয়াহূদীরা তোমাদের যাদু করেছে, তাই তোমাদের সন্তান হয় না।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ ত্বলহার এক ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ল। আবূ ত্বলহা বাইরে গেলেন, তখন ছেলেটি মারা গেল। আবূ ত্বলহা ফিরে এসে জিজ্ঞেস করলেনঃ ছেলেটি কী করছে? উম্মু সুলাইম বললেনঃ সে আগের চেয়ে শান্ত। তারপর তাকে রাতের খাবার দিলেন। তিনি আহার করলেন। তারপর উম্মু সুলাইমের সঙ্গে যৌন সঙ্গম করলেন। যৌন সঙ্গম ক্রিয়া শেষে উম্মু সুলাইম বললেনঃ ছেলেটিকে দাফন করে আস। সকাল হলে আবূ ত্বলহা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে এসে তাকে এ ঘটনা বললেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ গত রাতে তুমি কি স্ত্রীর সঙ্গে রয়েছ? তিনি বললেনঃ হা! নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আল্লাহ! তাদের জন্য তুমি বারাকাত দান কর। কিছুদিন পর উম্মু সুলাইম একটি সন্তান প্রসব করল। রাবী বলেনঃ) আবূ ত্বলহা আমাকে বললেন, তাকে তুমি দেখাশোনা কর যতক্ষণ না আমি তাকে নবী (ﷺ) -এর কাছে নিয়ে যাই। অতঃপর তিনি তাকে নবী (ﷺ) -এর কাছে নিয়ে গেলেন। উম্মু সুলাইম সঙ্গে কিছু খেজুর দিয়ে দিলেন। নবী (ﷺ) তাকে (কোলে) নিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তার সঙ্গে কিছু আছে কি? তারা বললেনঃ হা, আছে। তিনি তা নিয়ে চিবালেন এবং তারপর মুখ থেকে বের করে বাচ্চাটির মুখে দিলেন। তিনি এর দ্বারাই তার তাহ্নীক করলেন এবং তার নাম রাখলেন আবদুল্লাহ।

সালমান ইবন আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সন্তানের সঙ্গে 'আক্বীক্বাহ সম্পর্কিত। সালমান ইবন আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, সন্তানের সঙ্গে 'আক্বীক্বাহ সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত ('আক্বীক্বাহর জন্তু যবহ) কর এবং তার অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও।

হাবীব ইবন শাহীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন সিরীন আমাকে নির্দেশ করলেন, আমি যেন হাসানকে জিজ্ঞেস করি তিনি 'আক্বীক্বাহর হাদীসটি কার কাছ থেকে শুনেছেন? আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ সামূরাহ ইবন জুনদুব থেকে।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, (ইসলামে) ফারা বা আতীরা নেই। ফারা হল উটের সে প্রথম বাচ্চা, যা তারা তাদের দেব-দেবীর নামে যবাহ করত। আর আতীরা হল রজবে যে জন্তু জবাই করত।

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ (ইসলামে) ফারা ও 'আতীরাহ নেই। ফারা হল উটের প্রথম বাচ্চা যা তারা তাদের দেব-দেবীর নামে যবহ দিত। আর 'আতীরাহ যা রজবে জবাই করত।