ক্রয়-বিক্রয় (২০৪৭-২২৩৮)
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা বলে থাক, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে আবূ হুরাইরাহ্ বেশি বেশি হাদীস বর্ণনা করে থাকে এবং আরো বলেন, মুহাজির ও আনসারদের কী হলো যে, তারা তো আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর হাদীস বর্ণনা করে না? আমার মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত থাকত আর আমি কোন প্রকারে আমার পেটের চাহিদা মিটিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকটে পড়ে থাকতাম। তারা যখন অনুপস্থিত থাকত আমি তখন উপস্থিত থাকতাম। তারা যা ভুলে যেত আমি তা মুখস্থ করতাম। আর আমার আনসার ভাইয়েরা নিজেদের ক্ষেত-খামারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। আমি ছিলাম সুফ্ফার মিসকীনদের একজন মিসকীন। তারা যা ভুলে যেতো, আমি তা মুখস্থ রাখতাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার এক বর্ণনায় বললেন, আমার এ কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে কেউ তার কাপড় বিছিয়ে দিবে এবং পরে নিজের শরীরের সাথে তার কাপড় জড়িয়ে নেবে, আমি যা বলছি সে তা স্মরণ রাখতে পারবে। [আবূ হুরাইরাহ্ বলেন] আমি আমার গায়ের চাদরখানা বিছিয়ে দিলাম যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার কথা শেষ করলেন, পরে আমি তা আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। ফলে আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সে কথার কিছুই ভুলে যাইনি।
আবদুর রহমান ইবন আওফ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন মদ্বীনায় আসি, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার এবং সাদ ইবন রাবী'-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সৃষ্টি করে দেন। পরে সাদ ইবন রাবী' বললেন, আমি আনসারদের মধ্যে অধিক ধনাঢ্য ছিলাম। আমার অর্ধেক সম্পত্তি তোমাকে বণ্টন করে দিচ্ছি এবং আমার উভয় স্ত্রীকে দেখে যাকে তোমার পছন্দ হয়, বল আমি তাকে তোমার জন্য পরিত্যাগ করব। যখন সে (ইদ্দত পূর্ণ করবে) তখন তুমি বিবাহ করবে। আবদুর রহমান বললেন, এ সবে আমার কোন প্রয়োজন নেই। বরং (আপনি বলুন) ব্যবসা-বাণিজ্য করার মতো কোন বাজার আছে কি? তিনি বললেন, কায়নুকার বাজার আছে। পরদিন আবদুর রহমান সে বাজারে গিয়ে পনীর ও ঘি (খরিদ করে) নিয়ে আসলেন। এরপর ক্রমাগত যাওয়া-আসা করতে থাকেন। কিছুকাল পরে আবদুর রহমান-এর কাপড়ে বিয়ের হলুদ রঙের চিহ্ন দেখা গেল। এরপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ? তিনি বললেন, হ্যা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে কে? তিনি বললেন, জনৈকা আনসারী মহিলা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী পরিমাণ মাহর দিয়েছ? আবদুর রহমান বললেন, খেজুরের এক আটি পরিমাণ স্বর্ণ। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবন আওফ মদ্বীনায় আগমন করলে নবী (ﷺ) তার ও সাদ ইবন রাবী' আনসারীর মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দেন। সাদ ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আবদুর রহমান-কে বললেন, আমি তোমার উদ্দেশে আমার সম্পত্তি অর্ধেক অর্ধেক ভাগ করে নিতে চাই এবং তোমাকে বিবাহ করিয়ে দিতে চাই। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। আমাকে বাজার দেখিয়ে দাও। তিনি বাজার হতে মুনাফা করে নিয়ে আসলেন পনীর ও ঘি। এভাবে কিছুকাল কাটালেন। একদিন তিনি এভাবে আসলেন যে, তার গায়ে বিয়ের হলুদ রংয়ের চিহ্ন লেগে আছে। নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জনৈকা আনসারী মহিলাকে বিবাহ করেছি। তিনি [নবী (ﷺ)] জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে কী দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের এক আটি পরিমাণ স্বর্ণ। তিনি [নবী (ﷺ)] বললেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উকায, মাজিন্না ও যুল-মাজায জাহিলীয়্যাতের যুগে বাজার ছিল। ইসলামের আগমনের পরে লোকেরা ঐ সমস্ত বাজারে যেতে গুনাহ মনে করতে লাগল। ফলে অবতীর্ণ হলঃ "তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ তালাশে তোমাদের কোন গুনাহ নেই"- (আল-বাকারা ১৯৮)। ইবন আব্বাস (আয়াতের সঙ্গে) হাজ্জের মওসুমে কথাটুকুও পড়লেন।
নুমান ইবন বাশীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট, উভয়ের মাঝে বহু অস্পষ্ট বিষয় রয়েছে। যে ব্যক্তি গুনাহের সন্দেহযুক্ত কাজ পরিত্যাগ করে, সে ব্যক্তি যে বিষয়ে গুনাহ হওয়া সুস্পষ্ট, সে বিষয়ে অধিকতর পরিত্যাগকারী হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি গুনাহের সন্দেহযুক্ত কাজ করতে দুঃসাহস করে, সে ব্যক্তির সুস্পষ্ট গুনাহের কাজে পতিত হবার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। গুনাহসমূহ আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা, যে জানোয়ার সংরক্ষিত এলাকার চার পাশে চরতে থাকে, তার ঐ সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
উকবা ইবন হারিস হতে বর্ণিত যে, একজন কালো মেয়েলোক এসে দাবী করলো যে, সে তাদের উভয় (উকবা ও তার স্ত্রী-কে দুধপান করিয়েছে। তিনি এ কথা নবী (ﷺ) -এর নিকট বর্ণনা করলে নবী (ﷺ) তার হতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং মুচকি হেসে বললেন, কিভাবে? অথচ এমনটি বলা হয়ে গেছে। তার স্ত্রী ছিলেন আবূ ইহাব তামীমীর মেয়ে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উতবা ইবন আবূ ওয়াক্কাস তার ভাই সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস-কে ওয়াসীয়াত করে যান যে, যাম'আর বাদীর গর্ভস্থিত পুত্র আমার ঔরসজাত; তুমি তাকে (ভ্রাতুষ্পুত্র রূপে) তোমার অধীনে নিয়ে আসবে। আয়িশাহ বলেন, মক্কা বিজয়ের কালে ঐ ছেলেটিকে সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস নিয়ে নিলেন এবং বললেন, এ আমার ভাইয়ের পুত্র। তিনি আমাকে এর সম্পর্কে ওয়াসীয়াত করে গেছেন। এদিকে যাম'আর পুত্র 'আব্দ দাবী করে যে, এ আমার ভাই, আমার পিতার বাদীর পুত্র।। তার শয্যা সঙ্গিনীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে। তারপর উভয়ে নবী (ﷺ) -এর কাছে গেলেন। সাদ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার ভাইয়ের পুত্র, সে এর ব্যাপারে আমাকে ওয়াসীয়াত করে গেছে এবং 'আব্দ ইবন যাম'আ বললেন, আমার ভাই। আমার পিতার দাসীর পুত্র, তার সঙ্গে শায়িনীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে। তখন নবী (ﷺ) বললেন, হে 'আব্দ ইবন যাম'আ! এ ছেলেটি তোমার প্রাপ্য। তারপর নবী (ﷺ) বললেন, শয্যা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারী যে, বঞ্চিত সে। এরপর তিনি নবী সহধর্মিনী সাওদা বিনতে যাম'আ-কে বললেন, তুমি ঐ ছেলেটি হতে পর্দা করবে। কারণ তিনি ঐ ছেলেটির মধ্যে উতবার সাদৃশ্য দেখতে পান। ফলে মৃত্যু পর্যন্ত ঐ ছেলেটি আর সাওদাহ-কে দেখেনি।
আদী ইবন হাতিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে পার্শ্বফলা বিহীন তীর (দ্বারা শিকার) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, যদি তীরের ধারালো পার্শ্ব আঘাত করে, তবে সে (শিকারকৃত জানোয়ারের গোশত) খাবে, আর যদি এর ধারহীন পার্শ্বের আঘাতে মারা যায়, তবে তা খাবে না। কেননা তা প্রহারের মৃত যবহকৃত নয়। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি বিসমিল্লাহ পড়ে আমার (শিকারী) কুকুর ছেড়ে দিয়ে থাকি। পরে তার সাথে শিকারের কাছে (অনেক সময়) অন্য কুকুর দেখতে পাই যার উপর আমি বিসমিল্লাহ পড়িনি এবং আমি জানি না, উভয়ের মধ্যে কে শিকার ধরেছে। তিনি বললেন, তুমি তা খাবে না। তুমি তো তোমার কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ পড়েছ, অন্যটির উপর পড়নি।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) পথ অতিক্রমকালে নবী (ﷺ) পড়ে থাকা একটি খেজুর দেখে বললেন, এটা যদি সদাকার খেজুর বলে সংশয় না থাকতো, তবে আমি তা খেতাম। আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে হাম্মাম নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমার বিছানায় পড়ে থাকা খেজুর আমি পাই।
আব্বাদ ইবন তামীমের চাচা (আবদুল্লাহ ইবন যায়দ ইবন আসিম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর নিকট এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হল যে, সালাত আদায়কালে তার অযূ ভঙ্গের কিছু হয়েছে বলে মনে হয়, এতে কি সে সালাত ছেড়ে দেবে? তিনি বলেন, না, যতক্ষণ না সে আওয়াজ শোনে বা দুর্গন্ধ টের পায় নিশ্চিত না হয়। ইবন আবূ হাফসাহ্ যুহরী হতে বর্ণনা করেন, তুমি গন্ধ না পেলে অথবা আওয়াজ না শুনলে অযূ করবে না।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, কিছু সংখ্যক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! বহু লোক আমাদের কাছে গোশত নিয়ে আসে আমরা জানি না, তারা বিসমিল্লাহ পড়ে যবহ করেছিল কিনা? নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা এর উপর আল্লাহর নাম লও এবং তা খাও (ওয়াসওয়াসার শিকার হয়ো না)।
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা (নবী)-এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। তখন সিরিয়া হতে একটি ব্যবসায়ী কাফেলা খাদ্য নিয়ে আগমন করল। লোকজন সকলেই সে দিকে চলে গেলেন, নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে মাত্র বারোজন থেকে গেলেন। এ প্রসঙ্গে নাযিল হলঃ "যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুক তখন তারা সে দিকে ছুটে গেল"।
আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন এক যুগ আসবে, যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে, সে কোথা হতে সম্পদ উপার্জন করল, হালাল হতে না হারাম হতে।
আবুল মিনহাল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সোনা-রূপার ব্যবসা করতাম। এ সম্পর্কে আমি যায়দ ইবন আরকাম-এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বললেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, ফাযল ইবন ই'য়াকূব অন্য সনদে ..... আবুল মিনহাল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বারা ইবন আযিব ও যায়দ ইবন আরকাম -কে সোনা-রূপার ব্যবসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা উভয়ে বললেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর যুগে ব্যবসায়ী ছিলাম। আমরা তাকে সোনা-রূপার ব্যবসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, যদি হাতে হাতে (নগদ) হয়, তবে কোন ক্ষতি নেই; আর যদি বাকী হয় তবে জায়িয নয়।
পূর্বের হাদিসের মতই (২০৬০)।
উবায়দুল্লাহ ইবন উমাইর হতে বর্ণিত যে, আবূ মূসা আল-আশআরী উমার ইবন খাত্তাব-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেয়া হয়নি; সম্ভবতঃ তিনি কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই আবূ মূসা ফিরে আসেন। পরে উমার পেরেশান হয়ে বললেন, আমি কি আবদুল্লাহ ইবন কায়স (আবূ মূসার নাম)-এর আওয়াজ শুনতে পাইনি? তাকে আসতে বল। কেউ বলল, তিনি তো ফিরে চলে গেছেন। উমার তাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি (উপস্থিত হয়ে) বললেন, আমাদের এরূপই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উমার বললেন, তোমাকে এর উপর সাক্ষী পেশ করতে হবে। আবূ মূসা ফিরে গিয়ে আনসারদের এক মজলিসে পৌছে তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তারা বললেন, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ আবূ সাঈদ খুদরী-ই সাক্ষ্য দেবে। তিনি আবূ সাঈদ খুদরী-কে নিয়ে গেলেন। উমার (তার কাছ হতে সে হাদীসটি শুনে) বললেন, (কি আশ্চর্য) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নির্দেশ কি আমার কাছ হতে গোপন রয়ে গেল? (আসল ব্যাপার হল) বাজারের ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসায়ের জন্য বের হওয়া আমাকে বেখবর রেখেছে।
আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির আলোচনায় বলেন, সে নদীপথে বের হল এবং নিজের প্রয়োজন সেরে নিল। এরপর রাবী পুরা হাদীসটি বর্ণনা করেন।
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে জুমুআর দিন সালাত আদায় করছিলাম। এমন সময় এক বাণিজ্যিক কাফেলা এসে হাযির হয়, তখন বারোজন লোক ছাড়াই সকলেই সে কাফেলার দিকে ছুটে যান। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ "যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুক তখন তারা আপনাকে দাড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল"-(জুমুআ ১১)।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী বলেছেন, যখন কোন মহিলা তার ঘরের খাদ্যসামগ্রী হতে ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত খরচ করে তখন তার জন্য সাওয়াব রয়েছে তার খরচ করায়, তার স্বামীর জন্য সাওয়াব রয়েছে তার উপার্জনের এবং সংরক্ষণকারীর জন্যও অনুরূপ রয়েছে। তাদের কারো কারণে কারোর সাওয়াব কিছুই কমতি হবে না।
আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কোন মহিলা তার স্বামীর উপার্জন হতে তার অনুমতি ছাড়াই ব্যয় করবে, তখন তার জন্য অর্ধেক সাওয়াব রয়েছে।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তার মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তবে সে যেন আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ করে।
আ'মাশ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাকীতে ক্রয়ের জন্য বন্ধক রাখা সম্পর্কে আমরা ইবরাহীম-এর কাছে আলোচনা করছিলাম। তখন তিনি বলেন, আসওয়াদ আয়িশাহ হতে আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) জনৈক ইয়াহূদীর নিকট হতে নির্দিষ্ট মেয়াদে মূল্য পরিশোধের শর্তে খাদ্য ক্রয় করেন এবং তার নিকট নিজের লোহার বর্ম বন্ধক রাখেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, একবার তিনি যবের আটা ও পুরোনা গন্ধযুক্ত চর্বি নিয়ে নবী (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হলেন। রাবী বলেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, মদিনায় অবস্থান কালে তার বর্ম জনৈক ইয়াহূদীর নিকট বন্ধক রেখে তিনি নিজ পরিবারের জন্য তার হতে যব খরিদ করেন। [রাবী কাতাদাহ বলেন] আমি তাকে [আনাস-কে] বলতে শুনেছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর পরিবারের কাছে এক সা' পরিমাণ গম বা এক সা' পরিমাণ আটাও থাকত না, অথচ সে সময় তার নয়জন সহধর্মিণী ছিলেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ বকর সিদ্দীক-কে খলীফা বানানো হল, তখন তিনি বললেন, আমার জাতি জানে যে, আমার উপার্জন আমার পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য অপর্যাপ্ত ছিল না। কিন্তু এখন আমি মুসলিম জনগণের কাজে সার্বক্ষণিক ব্যাপৃত হয়ে গেছি। অতএব আবূ বকরের পরিবার এই রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে খাদ্য গ্রহণ করবে এবং আবূ বকর মুসলিম জনগণের সম্পদের তত্ত্বাবধান করবেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাহাবীগণ নিজেদের কাজ-কর্ম নিজেরা করতেন। ফলে তাদের শরীর হতে ঘামের গন্ধ বের হতো। সেজন্য তাদের বলা হল, যদি তোমরা গোসল করে নাও।
মিকদাম সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো কেউ খায় না। আল্লাহর নবী দাঊদ নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন।
আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর নবী দাঊদ নিজের হাতের উপার্জন হতেই খেতেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কারো পক্ষে এক বোঝা লাকড়ী সংগ্রহ করে পিঠে বহন করে নেয়া কারো নিকট চাওয়ার চেয়ে উত্তম। কেউ দিতেও পারে, নাও দিতে পারে।
যুবাইর ইবন আওয়াম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কারো জন্য তার রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহ করতে বের হওয়া মানুষের নিকট তার ভিক্ষা করার চেয়ে উত্তম।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ এমন ব্যক্তির প্রতি রহমত বর্ষণ করেন যে নম্রতার সাথে ক্রয়-বিক্রয় করে ও পাওনা ফিরিয়ে চায়।
হুযাইফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তির রূহের সাথে ফেরেশতা সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন নেক কাজ করেছ? লোকটি উত্তর দিল, আমি আমার কর্মচারীদের আদেশ করতাম যে, তারা যেন সচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় এবং তার উপর পীড়াপীড়ি না করে। রাবী বলেন, তিনি বলেছেন, ফেরেশতারাও তাকে ক্ষমা করে দেন। রিব্ঈ বর্ণনা করেন, আমি সচ্ছল ব্যক্তির জন্য সহজ করতাম এবং অভাবগ্রস্তকে অবকাশ দিতাম। অথবা আমি সচ্ছলকে অবকাশ দিতাম এবং অভাবগ্রস্তকে মাফ করে দিতাম। অথবা আমি সচ্ছল ব্যক্তি হতে গ্রহণ করতাম এবং অভাবগ্রস্তকে ক্ষমা করে দিতাম।
আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যবসায়ী লোকদের ঋণ দিত। কোন অভাবগ্রস্তকে দেখলে সে তার কর্মচারীদের বলত, তাকে ক্ষমা করে দাও, হয়তো আল্লাহ তাআলা আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। এর ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।
হাকীম ইবন হিযাম হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের ইখতিয়ার থাকবে (ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করা বা বাতিল করা)। যদি তারা সত্য বলে এবং অবস্থা ব্যক্ত করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে আর যদি মিথ্যা বলে এবং দোষ গোপন করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত মুছে ফেলা হয়।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মিশ্রিত খেজুর দেয়া হতো, আমরা তা দু' সা'-এর পরিবর্তে এক সা' বিক্রি করতাম। নবী (ﷺ) বললেন, এক সা'-এর পরিবর্তে দু'সা' এবং এক দিরহামের পরিবর্তে দু'দিরহাম বিক্রি করবে না।
আবূ মাসঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ শু'আইব নামক জনৈক আনসারী এসে তার কসাই গোলামকে বললেন, পাচ জনের উপযোগী খাবার তৈরী কর। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -সহ পাচজনকে দাওয়াত করতে যাই। তার চেহারায় আমি ক্ষুধার চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। তারপর সে লোক এসে দাওয়াত দিলেন। তাদের সঙ্গে আরেকজন অতিরিক্ত এলেন। নবী (ﷺ) বললেন, এ আমাদের সঙ্গে এসেছে, তুমি ইচ্ছা করলে একে অনুমতি দিতে পার আর তুমি যদি চাও সে ফিরে যাক, তবে সে ফিরে যাবে। সাহাবী বললেন, না, বরং আমি তাকে অনুমতি দিলাম।
হাকীম ইবন হিযাম হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হবে ততক্ষণ ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে। যদি তারা সত্য বলে ও যথাযথ অবস্থা বর্ণনা করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে, আর যদি পণ্যের প্রকৃত অবস্থা গোপন করে ও মিথ্যা বলে তবে ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত চলে যাবে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, মানুষের উপর এমন এক যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে মাল অর্জন করল হালাল উপায়ে না হারাম উপায়ে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সূরা আল-বাকারার শেষ আয়াতগুলো নাযিল হল, তখন নবী (ﷺ) তা মসজিদে পড়ে শোনালেন। তারপর মদের ব্যবসা হারাম বলে ঘোষণা করেন।
সামুরাহ ইবন জুনদুব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, আজ রাত্রে আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, দু'ব্যক্তি আমার নিকট আগমন করে আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেল। আমরা চলতে চলতে এক রক্তের নদীর কাছে পৌছলাম। নদীর মধ্যস্থলে এক ব্যক্তি দাড়িয়ে আছে এবং আরেক ব্যক্তি নদীর তীরে, তার সামনে পাথর পড়ে রয়েছে। নদীর মাঝখানে লোকটি যখন বের হয়ে আসতে চায় তখন তীরের লোকটি তার মুখে পাথর খন্ড নিক্ষেপ করে তাকে স্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে যতবার সে বেরিয়ে আসতে চায় ততবারই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করছে আর সে স্বস্থানে ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? সে বলল, যাকে আপনি (রক্তের) নদীতে দেখেছেন, সে হল সুদখোর।
আওন ইবন আবূ জুহাইফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতাকে দেখেছি, তিনি এক গোলাম খরিদ করেন যে শিঙ্গা লাগানোর কাজ করত। তিনি তার শিঙ্গার যন্ত্রপাতি সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন এবং তা ভেঙ্গে ফেলা হল। আমি এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, নবী (ﷺ) কুকুরের মূল্য এবং রক্তের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন, আর দেহে দাগ দেয়া ও নেয়া হতে নিষেধ করেছেন। সুদ খাওয়া ও খাওয়ানো নিষেধ করেছেন আর ছবি অঙ্কণকারীর উপর লানত করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, মিথ্যা কসম পণ্য চালু করে দেয় বটে, কিন্তু বরকত নিশ্চিহ্ন করে দেয়।
আবদুল্লাহ ইবন আবূ আওফা হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বাজারে পণ্য আমদানী করে আল্লাহর নামে কসম খেল যে, এর এত দাম বলা হয়েছে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা কেউ বলেনি। এতে তার উদ্দেশ্য সে যেন কোন মুসলিমকে পণ্যের ব্যাপারে ধোকায় ফেলতে পারে। এ প্রসঙ্গে আয়াত অবতীর্ণ হয়, "যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে"- (আলে ইমরান ৭৭)।
হুসাইন ইবন আলী হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন, আলী বলেছেন, (বদর যুদ্ধের) গনীমতের মাল হতে আমার অংশের একটি উটনী ছিল এবং নবী (ﷺ) তার খুমুস্ হতে একটি উটনী আমাকে দান করলেন। যখন আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কন্যা ফাতিমা-এর সঙ্গে বাসর রাত যাপনের ইচ্ছা করলাম সে সময় আমি কায়নুকা গোত্রের একজন স্বর্ণকারের সাথে এই চুক্তি করেছিলাম যে, সে আমার সঙ্গে (জঙ্গলে) যাবে এবং ইযখির ঘাস বহন করে আনবে এবং তা স্বর্ণকারদের নিকট বিক্রি করে তার মূল্য দ্বারা আমার বিবাহের ওয়ালীমার ব্যবস্থা করব।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মক্কা বিজয়ের দিন) বলেন, আল্লাহ তাআলা মক্কায় (রক্তপাত) হারাম করে দিয়েছেন। আমার আগেও কারো জন্য মক্কা হালাল করা হয়নি এবং আমার পরেও কারো জন্য হালাল করা হবে না। আমার জন্য শুধুমাত্র দিনের কিছু অংশে মক্কায় (রক্তপাত) হালাল হয়েছিল। মক্কার কোন ঘাস কাটা যাবে না, কোন গাছ কাটা যাবে না। কোন শিকারকে তাড়ানো যাবে না। ঘোষণাকারী ব্যতীত কেউ মক্কার জমিনে পড়ে থাকা মাল উঠাতে পারবে না। আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব বললেন, কিন্তু ইযখির ঘাস, যা আমাদের স্বর্ণকারদের ও আমাদের ঘরের ছাদের জন্য ব্যবহৃত তা ব্যতীত। নবী (ﷺ) বললেন, ইযখির ঘাস ব্যতীত। রাবী ইকরাম বলেন, তুমি জানো শিকার তাড়ানোর অর্থ কী? তা হল, ছায়ায় অবস্থিত শিকারকে তাড়িয়ে তার স্থানে নিজে বসা। আবদুল ওয়াহহাব সূত্রে বলেছেন, আমাদের স্বর্ণকারদের জন্য ও আমাদের কবরের জন্য।
খাব্বাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলীয়্যাতের যুগে আমি কর্মকারের পেশায় ছিলাম। 'আস ইবন ওয়াইলের কাছে কিছু পাওনা ছিল আমি তার কাছে তাগাদা করতে গেলে সে বলল, যতক্ষণ তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) -কে অস্বীকার না করবে ততক্ষণ আমি তোমাকে তোমার পাওনা দিব না। আমি বললাম, আল্লাহ তোমাকে মৃত্যু দিয়ে তারপর তোমাকে পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত আমি তাকে অস্বীকার করব না। সে বলল, আমি মরে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত আমাকে অব্যাহতি দাও। শীগ্গীরই আমাকে সম্পদ ও সন্তান দেয়া হবে, তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব। এ প্রসঙ্গে এ আয়াত নাযিল হলঃ "তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই"- (মারইয়াম ৭৭-৭৮)।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক দরজী খাবার তৈরী করে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে দাওয়াত করলেন। আনাস ইবন মালিক বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সামনে রুটি এবং ঝোল যাতে লাউ ও গোশতের টুকরা ছিল, পেশ করলেন। আমি নবী (ﷺ) -কে দেখতে পেলাম যে, পেয়ালার কিনারা হতে তিনি লাউয়ের টুকরা খোজ করে নিচ্ছেন। সেদিন হতে আমি সব সময় লাউ ভালবাসতে থাকি।
সাহল ইবন সাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা একটি বুরদা আনলেন। [সাহল] বললেন, তোমরা জান বুরদা কী? তাকে বলা হয়, হ্যা, তা হল এমন চাদর, যার পাড় বুনানো। মহিলা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে পরিধান করানোর জন্য আমি এটি নিজ হাতে বুনে নিয়ে এসেছি। নবী (ﷺ) তা গ্রহণ করলেন এবং তার এটির প্রয়োজন ছিল। তারপর তিনি তা তহবন্দরূপে পরিধান করে আমাদের সামনে এলেন। উপস্থিত লোকজনের মধ্যে একজন বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা আমাকে পরিধান করতে দিন। তিনি বললেন, আচ্ছা। নবী (ﷺ) কিছুক্ষণ মজলিসে বসে পরে ফিরে গেলেন। তারপর চাদরটি ভাঁজ করে সে লোকটির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। লোকজন সে ব্যক্তিকে বললেন, তুমি ভাল করনি, তুমি তার কাছে চাদরটি চেয়ে ফেললে, অথচ তুমি জান যে, তিনি কোন যাচ্ঞাকারীকে ফিরিয়ে দেন না। সে লোকটি বললেন, আল্লাহর কসম, আমি চাদরটি এ জন্যই চেয়েছি যে, তা যাতে আমার মৃত্যুর পর আমার কাফন হয়। রাবী সাহল বলেন, সেটি তার কাফন হয়েছিল।
আবূ হাযিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু লোক সাহল ইবন সাদ-এর কাছে এসে মিম্বরে নবী (ﷺ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একজন (আনসারী) মহিলা- সাহল যার নাম উল্লেখ করেছিলেন- তার কাছে তিনি সংবাদ পাঠালেন যে, তোমার সূত্রধর গোলামকে বল, সে যেন আমার জন্য কাঠ দিয়ে একটি (মিম্বর) তৈরী করে দেয়। লোকদের সাথে কথা বলার সময় যার উপর আমি বসতে পারি। সে মহিলা তাকে গাবা নামক স্থানের কাঠ দিয়ে মিম্বর বানানোর নির্দেশ দিলেন। তারপর গোলামটি তা নিয়ে এল এবং সে মহিলা এটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তার নির্দেশত্রুমে তা স্থাপন করা হল, পরে তার উপর নবী (ﷺ) উপবেশন করলেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, একজন আনসারী মহিলা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার জন্য এমন একটি জিনিস বানিয়ে দিব না, যার উপর আপনি বসবেন? কেননা, আমার একজন কাঠমিস্ত্রি গোলাম আছে। তিনি বললেন, যদি তুমি তা চাও। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর সে মহিলা তার জন্য মিম্বার তৈরী করলেন। যখন জুমুআর দিন হলো, নবী (ﷺ) সেই তৈরী মিম্বারের উপরে বসলেন। সে সময় যে খেজুর গাছের কান্ডের উপর ভর দিয়ে তিনি খুতবা দিতেন, সেটি এমনভাবে চীৎকার করে উঠল, যেন তা ফেটে পড়বে। নবী (ﷺ) নেমে এসে তাকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলেন। তখন সেটি ফোঁপাতে লাগল, যেমন ছোট শিশুকে চুপ করানোর সময় ফোঁপায়। অবশেষে তা স্থির হয়ে গেল। (রাবী বলেন) খেজুর কান্ডটি যে যিক্র-নসীহত শুনত, তা হারানোর কারণে কেঁদেছিল।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জনৈক ইয়াহূদী হতে বাকীতে খাদ্য ক্রয় করেন এবং নিজের লৌহ বর্ম তার কাছে বন্ধক রাখেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে ছিলাম। আমার উটটি অত্যন্ত ধীরে চলছিল বরং চলতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল। এমতাবস্থায় নবী (ﷺ) আমার কাছে এলেন এবং বললেন, জাবির? আমি বললাম, জী। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার অবস্থা কী? আমি বললাম, আমার উট আমাকে নিয়ে অত্যন্ত ধীরে চলছে এবং অক্ষম হয়ে পড়ছে। ফলে আমি পিছনে পড়ে গেছি। তখন তিনি নেমে চাবুক দিয়ে উটটিকে আঘাত করতে লাগলেন। তারপর বললেন, এবার আরোহণ কর। আমি আরোহণ করলাম। এরপর অবশ্য আমি উটটিকে এমন পেলাম যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে অগ্রসর হওয়ায় বাধা দিতে হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, কুমারী না বিবাহিতা? আমি বললাম, বিবাহিতা। তিনি বললেন, তরুণী বিবাহ করলে না কেন? তুমি তার সাথে হাসি-তামাসা এবং সে তোমার সাথে পূর্ণভাবে হাসি-তামাসা করত। আমি বললাম, আমার কয়েকটি বোন রয়েছে, ফলে আমি এমন এক মহিলাকে বিবাহ করতে পছন্দ করলাম, যে তাদেরকে মিল-মহববতে রাখতে, তাদের পরিচর্যা করতে এবং তাদের উপর উত্তমরূপে কর্তৃত্ব করতে সক্ষম হয়। তিনি বললেন, শোন! তুমি তো বাড়ীতে পৌছবে? যখন তুমি পৌছবে তখন তুমি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবে। তিনি বললেন, তোমার উটটি বিক্রি করবে? আমি বললাম, হ্যা। তিনি তা এক উকীয়ার বিনিময়ে আমার নিকট হতে কিনে নিলেন। তারপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার আগে (মদ্বীনায়) পৌছলেন এবং আমি (পরের দিন) ভোরে পৌছলাম। আমি মসজিদে নাববীতে গিয়ে তাকে দরজার সামনে পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এখন এলে? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, তোমার উটটি রাখ এবং মসজিদে প্রবেশ করে দু'রাকাত সালাত আদায় কর। আমি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলাম। তারপর তিনি বিলাল-কে উকীয়া ওজন করে আমাকে দিতে বললেন। বিলাল ওজন করে দিলেন এবং আমার পক্ষে ঝুকিয়ে দিলেন। আমি রওয়ানা হলাম। যখন আমি পিছনে ফিরেছি তখন তিনি বললেন, জাবিরকে আমার কাছে ডাক। আমি ভাবলাম, এখন হয়তো উটটি আমাকে ফিরিয়ে দেবেন। আর আমার নিকট এর চেয়ে অপছন্দনীয় আর কিছুই ছিল না। তিনি বললেন, তোমার উটটি নিয়ে যাও এবং তার দামও তোমার।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, উকায, মাজান্না ও যুল-মাজায জাহিলী যুগের বাজার ছিল, ইসলামের আবির্ভাবের পরে লোকেরা তথায় ব্যবসা করা গুনাহের কাজ মনে করল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ তোমাদের উপর কোন গুনাহ নাই ....... হাজ্জের মওসুমে। ইবন আব্বাস এরূপ পড়েছেন।
আমর (ইবন দ্বীনার) বলেন, এখানে নাওওয়াস নামক এক ব্যক্তি ছিল। তার নিকট অতি পিপাসা রোগে আক্রান্ত একটি উট ছিল। ইবন উমার তার শরীকের কাছ হতে সে উটটি কিনে নেন। পরে তার শরীক তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, সে উটটি বিক্রি করে দিয়েছি। নাওওয়াস জিজ্ঞেস করলেন, কার কাছে বিক্রি করেছ? সে বলল, এমন আকৃতির এক বৃদ্ধের কাছে। নাওওয়াস বলে উঠলেন, আরে কি সর্বনাশ! তিনি তো আল্লাহর কসম ইবন উমার ছিলেন। এরপর নাওওয়াস তার নিকট এলেন এবং বললেন, আমার শরীক আপনাকে চিনতে না পেরে আপনার কাছে একটি পিপাসাক্রান্ত উট বিক্রি করেছে। তিনি বললেন, তবে উটটি নিয়ে যাও। সে যখন উটটি নিয়ে যেতে উদ্যত হলো, তখন তিনি বললেন, রেখে দাও। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর ফায়সালায় সন্তুষ্ট যে, রোগে কোন সংক্রমণ নেই।
আবূ কাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সাথে হুনাইনের যুদ্ধে গমন করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে একটি বর্ম দিয়েছিলেন। আমি সেটি বিক্রয় করে তার মূল্য দ্বারা বণূ সালিমা গোত্রের এলাকায় একটি বাগান ক্রয় করি। এ ছিল ইসলাম গ্রহণের পর আমার প্রথম স্থাবর সম্পত্তি অর্জন।
আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ মিস্ক বিক্রেতা ও কর্মকারের হাপরের ন্যায়। আতর বিক্রেতাদের থেকে শূন্য হাতে ফিরে আসবে না। হয় তুমি আতর খরিদ করবে, না হয় তার সুঘ্রাণ পাবে। আর কর্মকারের হাপর হয় তোমার ঘর অথবা তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় তুমি তার দুর্গন্ধ পাবে।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তায়বা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে শিঙ্গা লাগালেন তখন তিনি তাকে এক সা' পরিমাণ খেজুর দিতে আদেশ করলেন এবং তার মালিককে তার দৈনিক পারিশ্রমিকের হার কমিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) শিঙ্গা লাগালেন এবং যে তাকে শিঙ্গা লাগিয়েছে, তাকে তিনি মজুরী দিলেন। যদি তা হারাম হতো তবে তিনি তা দিতেন না।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উমার-এর নিকট একটি রেশমী চাদর পাঠিয়ে দেন, পরে তিনি তা তার গায়ে দেখতে পেয়ে বলেন, আমি তা তোমাকে এ জন্য দেইনি যে, তুমি তা পরিধান করবে। অবশ্য তা তারাই পরিধান করে, যার (আখিরাতে) কোন অংশ নেই। আমি তো তা তোমার কাছে এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি তা দিয়ে উপকৃত হবে তা বিক্রি করবে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি একটি ছবিওয়ালা বালিশ ক্রয় করেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তা দেখতে পেয়ে দরজায় দাড়িয়ে গেলেন, ভিতরে প্রবেশ করলেন না। আমি তার চেহারায় অসন্তুষ্টি ভাব দেখতে পেলাম। তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহ ও তার রাসূলের কাছে তওবা করছি। আমি কী অপরাধ করেছি? তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এ বালিশের কী ব্যাপার? আয়িশাহ বলেন, আমি বললাম, আমি এটি আপনার জন্য ক্রয় করেছি, যাতে আপনি টেক লাগিয়ে বসতে পারেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এই ছবি তৈরীকারীদের কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদের বলা হবে, তোমরা যা তৈরী করেছিলে, তা জীবিত কর। তিনি আরো বলেন, যে ঘরে এ সব ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বললেন, হে বানূ নাজ্জার! আমাকে তোমাদের বাগানের মূল্য বল। বাগানটিতে ঘরের ভাঙা চুরা অংশ ও খেজুর গাছ ছিল।
ইবন উমার সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হবে, ততক্ষণ তাদের বেচা-কেনার ব্যাপারে উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে। আর যদি খিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হয় (তাহলে পরেও ইখতিয়ার থাকবে)। নাফি বলেন, ইবন উমার কোন পণ্য ক্রয়ের পর তা পছন্দ হলে মালিক হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তেন।
হাকীম ইবন হিযাম সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যতক্ষণ ক্রেতা-বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হবে ততক্ষণ তাদের খিয়ারের অধিকার থাকবে।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের খিয়ার থাকবে অথবা একপক্ষ অপর পক্ষকে বলবে, গ্রহণ করে নাও। রাবী কখনো বলেছেনঃ অথবা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হলো।
হাকীম ইবন হিযাম সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা (একে অপরের সাথে) বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে। যদি তারা উভয়ে সত্য কথা বলে ও (পণ্যের দোষ-ত্রুটি) যথাযথ বর্ণনা করে তবে তাদের কেনা বেচায় বরকত হবে, আর যদি তারা মিথ্যা বলে ও (ত্রুটি) গোপন করে, তবে তাদের কেনা বেচার বরকত নষ্ট হয়ে যাবে।
ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা প্রত্যেকের একে অপরের উপর ইখতিয়ার থাকবে, যতক্ষণ তারা বিচ্ছিন্ন না হবে। তবে খিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয়ে (বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও ইখতিয়ার থাকবে)।
ইবন উমার সূত্রে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন দু' ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় করে, তখন তাদের উভয়ে যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হবে অথবা একে অপরকে ইখতিয়ার প্রদান না করবে, ততক্ষণ তাদের উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে। এভাবে তারা উভয়ে যদি ক্রয়-বিক্রয় করে তবে তা সাব্যস্ত হয়ে যাবে। আর যদি তারা উভয়ে ক্রয়-বিক্রয়ের পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তাদের কেউ যদি তা পরিত্যাগ না করে তবে ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হয়ে যাবে।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হবে, ততক্ষণ তাদের মাঝে কোন ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হবে না। অবশ্য ইখতিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হলে তা সাব্যস্ত হবে।
হাকীম ইবন হিযাম হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে উভয়ের বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত। যদি তারা উভয়ে সত্য কথা বলে এবং (পণ্যের দোষগুণ) যথাযথ বর্ণনা করে, তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত দেয়া হবে, আর যদি তারা মিথ্যা বলে এবং গোপন করে, তবে হয়তো খুব লাভ করবে এবং কিন্তু তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত মুছে যাবে।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী (ﷺ) -এর সাথে ছিলাম। আমি (আমার পিতা) উমার-এর একটি অবাধ্য জওয়ান উটের উপর সাওয়ার ছিলাম। উটটি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে সকলের আগে আগে চলে যাচ্ছিল। উমার তাকে তাড়িয়ে ফিরিয়ে আনছিলেন। তখন নবী (ﷺ) উমার -কে বললেন, এটি আমার কাছে বিক্রি করে দাও। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা আপনারই। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি এটি আমার কাছে বিক্রি কর। তখন তিনি সেটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কাছে বিক্রি করে দিলেন। নবী (ﷺ) বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবন উমার! এটি তোমার, তুমি এটি দিয়ে যা ইচ্ছা তা কর।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমীরুল মুমিনীন উসমান ইবন আফফান-এর খায়বারের জমিনের বিনিময়ে আমি ওয়াদির জমিন তার কাছে বিক্রি করলাম। আমরা যখন ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করলাম, তখন আমি পিছনের দিকে ফিরে তার ঘর হতে এই ভয়ে বের হয়ে গেলাম যে, তিনি হয়তো আমার এ বিক্রয় রদ্দ করে দিবেন। সে সময়ে এ রীতি প্রচলিত ছিল যে, বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকত। আবদুল্লাহ বললেন, যখন আমার ও তার মাঝে ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত হয়ে গেল তখন আমি চিন্তা করে দেখলাম যে, আমি এভাবে তাকে ঠকিয়েছি। আমি তাকে ছামূদ ভূখন্ডের তিন দিনের পথের দূরত্বের পরিমাণ পৌছিয়ে দিয়েছি আর তিনি আমাকে মদিনার তিন দিনের পথের দূরত্বের পরিমাণ পৌছে দিয়েছেন।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, এক সাহাবী নবী (ﷺ) -এর নিকট উল্লেখ করলেন যে, তাকে ক্রয়-বিক্রয়ে ধোকা দেয়া হয়। তখন তিনি বললেন, যখন তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে তখন বলে নিবে কোন প্রকার ধোকা নেই।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, (পরবর্তী যামানায়) একদল সৈন্য কাবা (ধ্বংসের উদ্দেশে) অভিযান চালাবে। যখন তারা বায়দা নামক স্থানে পৌছবে তখন তাদের আগের পিছের সকলকে জমিনে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। আয়িশাহ বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাদের অগ্রবাহিনী ও পশ্চাৎবাহিনী সকলকে কিভাবে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে, অথচ সে সেনাবাহিনীতে তাদের বাজারের (পণ্য-সামগ্রী বহনকারী) লোকও থাকবে এবং এমন লোকও থাকবে যারা তাদের দলভুক্ত নয়, তিনি বললেন, তাদের আগের পিছের সকলকে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। তারপরে (কিয়ামতের দিবসে) তাদের নিজেদের নিয়্যাত অনুযায়ী উত্থান করা হবে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কারো জামা'আতে সালাত আদায়ে নিজ ঘরের সালাতের চেয়ে বিশ গুণেরও অধিক মর্তবা রয়েছে। কারণ সে যখন উত্তমরূপে অযু করে মসজিদে আসে, সালাত আদায় ছাড়া অন্য কোন অভিপ্রায়ে আসে না, সালাত ছাড়া অন্য কিছুই তাকে উদ্বুদ্ধ করে না। এমতাবস্থায় তার প্রতি কদমে এক মর্তবা বৃদ্ধি করা হবে এবং একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর ফেরেশতাগণ তোমাদের সে ব্যক্তির জন্য (এ মর্মে) দোয়া করতে থাকবেন, যতক্ষণ সে যেখানে সালাত আদায় করেছে, হে আল্লাহ! আপনি তার প্রতি অনুগ্রহ করুন, তার প্রতি রহম করুন। যতক্ষণ না সে তথায় অযু ভঙ্গ করে, যতক্ষণ না সে তথায় কাউকে কষ্ট দেয়। তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের সে ব্যক্তি সালাতে রত গণ্য হবে, যতক্ষণ সে সালাতের অপেক্ষায় থাকে।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক সময় বাজারে ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, এই আবুল কাসিম! নবী (ﷺ) তার দিকে তাকালে তিনি বললেন, আমি তো তাকে ডেকেছি। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা আমার নামে নাম রাখ কিন্তু আমার কুনিয়াতে কুনিয়াত রেখ না।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সাহাবী বাকী' নামক স্থানে আবুল কাসিম বলে (কাউকে) ডাক দিলেন। তখন নবী (ﷺ) তার দিকে তাকালেন। তিনি বললেন, আমি আপনাকে উদ্দেশ্য করিনি। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার নামে নাম রাখ কিন্তু আমার কুনিয়াতে কারো কুনিয়াত রেখ না।
আবূ হুরাইরাহ্ দাওসী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দিনের এক অংশে বের হলেন, তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেননি এবং আমিও তার সঙ্গে কথা বলিনি। অবশেষে তিনি বানূ কায়নুকা বাজারে এলেন (সেখান হতে ফিরে এসে) ফাতিমা-এর ঘরের আঙিণায় বসে পড়লেন। তারপর বললেন, এখানে খোকা [হাসান] আছে কি? এখানে খোকা আছে কি? ফাতিমা তাকে কিছুক্ষণ দেরী করালেন। আমার ধারণা হল তিনি তাকে পুতির মালা সোনা-রূপা ছাড়া যা বাচ্চাদের পরানো হতো, পরাচ্ছিলেন। তারপর তিনি দৌড়িয়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং চুমু খেলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তুমি তাকেও (হাসানকে) মহববত কর এবং তাকে যে ভালবাসবে তাকেও মহববত কর। সুফইয়ান বলেন, আমার কাছে উবাইদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নাফি ইবন জুবায়রকে এক রাকাত মিলিয়ে বিতর আদায় করতে দেখেছেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, তারা নবী (ﷺ) -এর সময়ে বানিজ্যিক দলের কাছ হতে (পথিমধ্যে) খাদ্য ক্রয় করতেন। সে কারণে খাদ্য-দ্রব্য বিক্রয়ের স্থানে তা স্থানান্তর করার আগে বণিক দলের কাছ হতে ক্রয়ের স্থলে বেচা-কেনা করতে নিষেধ করার জন্য তিনি তাদের কাছে লোক পাঠাতেন।
রাবী (ইবন মুনযির) বলেন, ইবন উমার আরো বর্ণনা করেছেন, নবী (ﷺ) পূর্ণভাবে অধিকারে আনার আগে ক্রয় করা পণ্য বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।
আতা ইবন ইয়াসার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস-কে বললাম, আপনি আমাদের কাছে তাওরাতে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর গুণাবলী বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আচ্ছা। আল্লাহর কসম! কুরআনে বর্ণিত তার কিছু গুণাবলী তাওরাতেও উল্লেখ করা হয়েছেঃ "হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি" এবং উম্মীদের রক্ষক হিসাবেও। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল। আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল (আল্লাহর উপর ভরসাকারী) রেখেছি। তিনি বাজারে কঠোর রূঢ় ও নির্দয় স্বভাবের ছিলেন না। তিনি মন্দর প্রতিশোধ মন্দ দ্বারা নিতেন না বরং মাফ করে দিতেন, ক্ষমা করে দিতেন। আল্লাহ তাআলা তাকে ততক্ষণ মৃত্যু দিবেন না যতক্ষণ না তার দ্বারা বিকৃত মিল্লাতকে ঠিক পথে আনেন যতক্ষণ না তারা (আরববাসীরা) 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর ঘোষণা দিবে। আর এ কালিমার মাধ্যমে অন্ধ-চোখ, বধির-কান ও আচ্ছাদিত হৃদয় খুলে যাবে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি খাদ্য ক্রয় করবে, সে তা পুরোপুরি আয়ত্তে না এনে বিক্রি করবে না।
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমার পিতা) আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন হারাম ঋণী অবস্থায় মারা যান। পাওনাদারেরা যেন তার কিছু ঋণ ছেড়ে দেয়, এজন্য আমি নবী (ﷺ) -এর কাছে সাহায্য চাইলাম। নবী (ﷺ) তাদের কাছে কিছু ঋণ ছেড়ে দিতে বললে, তারা তা করল না। তখন নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, যাও, তোমার প্রত্যেক ধরনের খেজুরকে আলাদা আলাদা করে রাখ, আজওয়া আলাদা এবং আযকা যায়দ আলাদা করে রাখ। পরে আমাকে খবর দিও। আমি [জাবির ] তা করে নবী (ﷺ) -কে খবর দিলাম। তিনি এসে খেজুরের (স্তুপ এর) উপরে বা তার মাঝখানে বসলেন। তারপর বললেন, পাওনাদারদের মেপে দাও। আমি তাদের মেপে দিতে লাগলাম, এমনকি তাদের পাওনা পুরোপুরি দিয়ে দিলাম। আর আমার খেজুর এরূপ থেকে গেল, যেন এ হতে কিছুই কমেনি। ফিরাস শা'বী সূত্রে জাবির হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) তাদের এ পর্যন্ত মেপে দিতে থাকলেন যে, তাদের ঋণ পরিশোধ করে দিলেন। হিশাম ওহাব সূত্রে জাবির হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছিলেন গাছ থেকে খেজুর কেটে নাও এবং পুরোপুরি আদায় করে দাও।
মিকদাম ইবন মা'দীকারিব সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের খাদ্য মেপে নিবে, তাতে তোমাদের জন্য বরকত হবে।
আবদুল্লাহ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, ইবরাহীম মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন ও তার জন্য দোয়া করেছেন। আমি মদিনা্কে হারাম ঘোষণা করেছি, যেমন ইবরাহীম মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন এবং আমি মদিনার মুদ ও সা' এর জন্য দোয়া করেছি। যেমন ইবরাহীম মক্কার জন্য দোয়া করেছিলেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের মাপের পাত্রে বরকত দিন এবং তাদের সা' ও মুদ-এ বরকত দিন মদিনা্বাসীদের।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যারা অনুমানে (না মেপে) খাদ্য ক্রয় করে নিজের স্থানে পৌছানোর আগেই তা বিক্রি করত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সময়ে আমি দেখেছি যে, তাদেরকে মারা হতো।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) খাদ্য (ক্রয় করে) পুরোপুরি আয়ত্বে না এনে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। [রাবী তাউস বলেন,] আমি ইবন আব্বাস-কে জিজ্ঞেস করলাম, এ কিভাবে হয়ে থাকে? তিনি বললেন, এ এভাবে হয়ে থাকে যে, দিরহাম এর বিনিময়ে আদান-প্রদান হয় অথচ পণ্যদ্রব্য অনুপস্থিত থাকে।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, খাদ্য ক্রয় করে কেউ যেন তা হাতে আসার পূর্বে বিক্রি না করে।
মালিক ইবন আওস হতে বর্ণিত। তিনি ঘোষণা দিলেন যে, কে সারফ এর বেচা-কেনা (দিরহাম এর বিনিময়ে দ্বীনার এর বেচা-কেনা) করবে? তালহা বললেন, আমি করব। অবশ্য আমার পক্ষের বিনিময় প্রদানে আমার হিসাবরক্ষক গা'বা (এলাকা) হতে ফিরে আসা পর্যন্ত দেরি হবে। (বর্ণনাকারী) সুফইয়ান বলেন, আমি যুহরী হতে এটুকু মনে রেখেছি, এর হতে বেশী নয়। এরপর যুহরী বলেন, মালিক ইবন আওস আমাকে বলেছেন যে, তিনি উমার ইবন খাত্তাব-কে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, নগদ হাতে হাতে বিনিময় ছাড়া সোনার বদলে সোনা বিক্রি, গমের বদলে গম বিক্রি, খেজুরের বদলে খেজুর বিক্রি, যবের বদলে যব বিক্রি করা সুদ হিসাবে গণ্য।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যা নিষেধ করেছেন, তা হল অধিকারে আনার পূর্বে খাদ্য বিক্রয় করা। ইবন আব্বাস বলেন, আমি মনে করি, প্রত্যেক পণ্যের ব্যাপারে অনুরূপ নির্দেশ প্রযোজ্য হবে।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, খাদ্য ক্রয় করে পুরোপুরি মেপে না নিয়ে। রাবী 'ইসমাঈল আরো বলেন, খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে নিজের অধিকারে না এনে কেউ যেন তা বিক্রি না করে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর সময়ে দেখেছি যে, লোকেরা খাদ্য আনুমানিক পরিমাণের ভিত্তিতে বেচা-কেনা করত, পরে তা সেখানেই নিজেদের ঘরে তুলে নেয়ার আগেই বিক্রি করলে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হতো।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন দিন খুব কমই গিয়েছে, যে দিন সকালে বা বিকালে নবী (ﷺ) (আমার পিতা) আবূ বকর-এর ঘরে আসেননি। যখন তাকে (আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে) মাদ্বীনার উদ্দেশে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হল, তখন তিনি একদিন দুপুরের সময় আগমন করায় আমরা শঙ্কিত হয়ে পড়লাম। আবূ বকর-কে এ সংবাদ জানানো হলে তিনি বলে উঠলেন, নবী (ﷺ) বিশেষ কোন ঘটনার কারণেই অসময়ে আগমন করেছেন। যখন নবী (ﷺ) প্রবেশ করলেন তখন তিনি আবূ বকর-কে বললেন, যারা তোমার কাছে আছে তাদের সরিয়ে দাও। আবূ বকর বললেন হে আল্লাহর রাসূল! এরা তো আমার দুই কন্যা আয়িশাহ ও আসমা। তিনি বললেন, তুমি কি জান আমাকে তো বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে? আপনার সফরসঙ্গী হওয়া আমার কাম্য হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, হ্যা, তুমি আমার সফরসঙ্গী হবে। আবূ বকর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে দু'টি উটনী রয়েছে, যা আমি হিজরতের জন্য প্রস্তুত রেখেছি। এর একটি আপনি গ্রহণ করুন। তিনি বললেন, আমি মূল্যের বিনিময়ে তা গ্রহণ করলাম।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয় না করে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসী কর্তৃক বিক্রয় করা হতে নিষেধ করেছেন এবং তোমরা প্রতারণামূলক দালালী করবে না। কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে। কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। কোন মহিলা যেন তার বোনের (সতীনের) তালাকের দাবী না করে, যাতে সে তার পাত্রে যা কিছু আছে, তা নিজেই নিয়ে নেয়। (বর্তমান স্ত্রীর হক নষ্ট করে নিজে তা ভোগ করার জন্য)
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরে তার গোলাম আযাদ হবে বলে ঘোষণা দিল। তারপর সে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ল। নবী (ﷺ) গোলামটিকে নিয়ে নিলেন এবং বললেন, কে একে আমার নিকট হতে ক্রয় করবে? নু'আঈম ইবন আবদুল্লাহ (তার কাছ হতে) সেটি এত এত মূল্যে ক্রয় করলেন। তিনি গোলামটি তার হাওয়ালা করে দিলেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) প্রতারণামূলক দালালী হতে নিষেধ করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) গর্ভস্থিত বাচ্চার গর্ভের প্রসবের মেয়াদের উপর বিক্রি নিষেধ করেছেন। এ এক ধরনের বিক্রয়, যা জাহিলিয়াতের যুগে প্রচলিত ছিল। কেউ এ শর্তে উটনী ক্রয় করত যে, এই উটনীটি প্রসব করবে পরে ঐ শাবক তার গর্ভ প্রসব করার পর তার মূল্য দেয়া হবে।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুনাবাযা পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। তা হল, বিক্রয়ের উদ্দেশে ক্রেতা কাপড়টি উল্টানো পাল্টানো অথবা দেখে নেয়ার আগেই বিক্রেতা কর্তৃক তা ক্রেতার দিকে নিক্ষেপ করা। আর তিনি মুলামাসা পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় করতেও নিষেধ করেছেন। মুলামাসা হল কাপড়টি না দেখে স্পর্শ করা (এতেই বেচা-কেনা সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হতো)।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুই ধরনের পোশাক পরিধান করা হতে নিষেধ করা হয়েছে। তা হলো একটি কাপড় শরীরে জড়িয়ে তার এক পার্শ্ব কাঁধের উপর তুলে দেয়া এবং দুই ধরনের বেচা-কেনা হতে নিষেধ করা হয়েছে; স্পর্শের এবং নিক্ষেপের বেচা-কেনা।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) স্পর্শ ও নিক্ষেপের পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন।
আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দু' ধরনের পোশাক পরিধান এবং স্পর্শ ও নিক্ষেপ এরূপ দু'ধরনের (পদ্ধতিতে) বেচা-কেনা নিষেধ করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তোমরা উটনী ও বকরীর দুধ (স্তন্যে) আটকিয়ে রেখ না। যে ব্যক্তি এরূপ পশু ক্রয় করে, সে দুধ দোহনের পরে দু'টি অধিকারের যেটি তার পক্ষে ভাল মনে করবে তাই করতে পারবে। যদি সে ইচ্ছা করে তবে ক্রীত পশুটি রেখে দিবে আর যদি ইচ্ছা করে তবে তা ফেরত দিবে এবং এর সাথে এক সা' পরিমাণ খেজুর দিবে। আবূ সালিহ্ মুজাহিদ, ওয়ালীদ ইবন রাবাহ ও মূসা ইবন ইয়াসার আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে এক সা' খেজুরের কথা উল্লেখ রয়েছে। কেউ কেউ ইবন সীরীন সূত্রে এক সা' খাদ্যের কথা বলেছেন এবং ক্রেতার জন্য তিন দিনের ইখতিয়ার থাকবে। আর কেউ কেউ ইবন সীরীন সূত্রে এক সা' খেজুরের কথা বলেছেন, তবে তিন দিনের কথা উল্লেখ করেননি।
আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি (স্তন্যে) দুধ আটকিয়ে রাখা বকরী ক্রয় করে তা ফেরত দিতে চায়, সে যেন এর সঙ্গে এক সা' পরিমাণ খেজুরও দেয়। আর নবী (পণ্য ক্রয় করার জন্য) বণিক দলের সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে পথিমধ্যে) সাক্ষাৎ করতে নিষেধ করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমরা (পণ্যবাহী) কাফেলার সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে) সাক্ষাৎ করবে না তোমাদের কেউ যেন কারো ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে। তোমরা প্রতারণামূলক দালালী করবে না। শহরবাসী তোমাদের কেউ যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রয় না করে। তোমরা বকরীর দুধ আটকিয়ে রাখবে না। যে এরূপ বকরী ক্রয় করবে, সে দুধ দোহনের পরে এ দু'টির মধ্যে যেটি ভাল মনে করবে, তা করতে পারে। সে যদি এতে সন্তুষ্ট হয় তবে বকরী রেখে দিবে, আর যদি সে তা অপছন্দ করে তবে ফেরত দিবে এবং এক সা' পরিমাণ খেজুর দিবে।
মুহাম্মাদ ইবন আমর আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি (স্তনে) দুধ আটকিয়ে রাখা বকরী ক্রয় করে, তবে দোহনের পরে যদি ইচ্ছা করে তবে সেটি রেখে দেবে আর যদি অপছন্দ করে তবে দুহিত দুধের বিনিময়ে এক সা' খেজুর দিবে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, যদি বাদী ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হয়, তবে তাকে বেত্রাঘাত করবে। আর তিরস্কার করবে না। তারপর যদি আবার ব্যভিচার করে তবে তাকে বিক্রি করে দিবে; যদিও পশমের রশির (ন্যায় সামান্য বস্তুর) বিনিময়েও হয়।
আবূ হুরাইরাহ্ ও যায়দ ইবন খালিদ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে অবিবাহিতা দাসী যদি ব্যভিচার করে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যদি সে ব্যভিচার করে, তবে তাকে বেত্রাঘাত কর। আবার যদি সে ব্যভিচার করে আবার বেত্রাঘাত কর। এরপর যদি ব্যভিচার করে তবে তাকে রশির বিনিময়ে হলেও বিক্রি করে দাও। রাবী ইবন শিহাব বলেন, একথা তৃতীয় বারের না চতুর্থ বারের পর বলেছেন, তা আমার সঠিক জানা নাই।
পূর্বের হাদিসের মতই (২১৫৩)।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন তখন আমি তার নিকট (বারীরাহ্ নাম্নী দাসীর ক্রয় সংক্রান্ত ঘটনা) উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, তুমি ক্রয় কর এবং আযাদ করে দাও। কেননা, যে আযাদ করবে 'ওয়ালা' (আযাদ সূত্রে উত্তরাধিকার) তারই। তারপর নবী (ﷺ) বিকালের দিকে (মসজিদে নাববীতে) দাড়িয়ে আল্লাহ তাআলার যথাযথ প্রশংসা বর্ণনা করেন তারপর বললেন, লোকদের কী হলো যে, তারা এরূপ শর্তারোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই। কোন ব্যক্তি যদি এমন শর্তারোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তা বাতিল, যদিও সে শত শত শর্তারোপ করে। আল্লাহর শর্তই সঠিক ও সুদৃঢ়।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আয়িশাহ বারীরার দরদাম করেন। নবী (ﷺ) সালাতের উদ্দেশে বের হয়ে যান। যখন ফিরে আসেন তখন আয়িশাহ তাকে বললেন যে, তারা (মালিক পক্ষ) ওয়ালা এর শর্ত ছাড়া বিক্রি করতে রাযী নয়। নবী (ﷺ) বললেন, ওয়ালা তো তারই, যে আযাদ করে। রাবী হাম্মাম বলেন, আমি নাফি-কে জিজ্ঞেস করলাম, বারীরার স্বামী আযাদ ছিল, না দাস? তিনি বললেন, আমি কি করে জানব?
জারীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর হাতে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ- এ কথার সাক্ষ্য দেয়ার, সালাত কায়িম করার, যাকাত দেয়ার, আমীরের কথা শুনার ও মেনে চলার এবং প্রত্যেক মুসলিমের হিত কামনা করার উপর বায়আত করেছিলাম।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমরা পণ্যবাহী কাফেলার সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে সস্তায় পণ্য খরিদের উদ্দেশে) সাক্ষাৎ করবে না এবং শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রয় না করে। রাবী তাউস বলেন, আমি ইবন আব্বাস-কে জিজ্ঞেস করলাম, শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রয় না করে, তার এ কথার অর্থ কী? তিনি বললেন, তার হয়ে যেন সে প্রতারণামূলক দালালী না করে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীর বিক্রয় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নিষেধ করেছেন। ইবন আব্বাস-ও অনুরূপ কথাই বলেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কেউ যেন তার ভাইয়ের কেনা-বেচার উপরে ক্রয় না করে। আর তোমরা প্রতারণামূলক দালালী করবে না এবং শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রি না করে।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীর বিক্রি করা হতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, শহরে প্রবেশের পূর্বে বণিক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীর বিক্রি করা হতে নবী (ﷺ) নিষেধ করেছেন।
তাউস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস-কে গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসী বিক্রয় করবে না, এ উক্তির অর্থ কী, তা জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তার পক্ষে দালালী করবে না।
আবদুল্লাহ (ইবন মাসঊদ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি স্তনে দুধ আটকিয়ে রাখা (বকরী-গাভী) উটনী ক্রয় করে (তা ফেরত দিলে) সে যেন তার সাথে এক সা' (খেজুরও) ফেরত দেয়। তিনি আরো বলেন, নবী (ﷺ) বণিক দলের সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে) সাক্ষাৎ করতে নিষেধ করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, তোমাদের কেউ কারো ক্রয়-বিক্রয়ের উপর যেন ক্রয়-বিক্রয় না করে এবং তোমরা পণ্য ক্রয় করো না তা বাজারে হাজির না করা পর্যন্ত।
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বণিক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের হতে খাদ্য ক্রয় করতাম। নবী (ﷺ) খাদ্যের বাজারে পৌছানোর পূর্বে আমাদের তা ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। আবূ আবদুল্লাহ (বুখারী) বলেন, তা হল বাজারের প্রান্ত সীমা। উবায়দুল্লাহ-এর হাদীসে এ বর্ণনা রয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বাজারের প্রান্ত সীমায় খাদ্য ক্রয় করে সেখানেই বিক্রি করে দিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) স্থানান্তর না করে সেখানেই বিক্রি করতে তাদের নিষেধ করেছেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাহ্ আমার কাছে এসে বলল, আমি আমার মালিক পক্ষের সাথে নয় উকিয়া দেয়ার শর্তে মুকাতাবা করেছি- প্রতি বছর যা হতে এক উকিয়া করে দেয়া হবে। আপনি (এ ব্যাপারে) আমাকে সাহায্য করুন। আমি বললাম, যদি তোমার মালিক পক্ষ পছন্দ করে যে, আমি তাদের একবারেই তা পরিশোধ করব এবং তোমার ওয়ালা-এর অধিকার আমার হবে, তবে আমি তা করব। তখন বারীরাহ্ তার মালিকদের নিকট গেল এবং তাদের তা বলল। তারা তা অস্বীকার করল। বারীরাহ্ তাদের নিকট হতে (আমার কাছে) এল। আর তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সে বলল, আমি (আপনার) সে কথা তাদের কাছে পেশ করেছিলাম। কিন্তু তারা নিজেদের জন্য ওয়ালার অধিকার সংরক্ষণ ছাড়া রাযী হয়নি। নবী (ﷺ) তা শুনলেন, আয়িশাহ নবী (ﷺ) -কে তা সবিস্তারে জানালেন। তিনি বললেন, তুমি তাকে নিয়ে নাও এবং তাদের জন্য ওয়ালার শর্ত মেনে নাও। কেননা, ওয়ালা এর হক তারই, যে আযাদ করে। আয়িশাহ তাই করলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জনসমক্ষে দাড়িয়ে আল্লাহর হাম্দ ও সানা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, লোকদের কী হলো যে, তারা এমন শর্তারোপ করে যা আল্লাহর বিধানে নেই। আল্লাহর বিধানে যে শর্তের উল্লেখ নেই, তা বাতিল বলে গণ্য হবে, শত শর্ত হলেও। আল্লাহর ফায়সালাই সঠিক, আল্লাহর শর্তই সুদৃঢ়। ওয়ালার হাক্ব তো তারই, যে মুক্ত করে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আয়িশাহ একটি দাসী ক্রয় করে তাকে আযাদ করার ইচ্ছা করেন। দাসীটির মালিক পক্ষ বলল, দাসীটি এ শর্তে বিক্রি করব যে, তার ওয়ালার হক আমাদের থাকবে। তিনি এ কথা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর কাছে উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, এতে তোমার বাধা হবে না। কেননা, ওয়ালা তারই, যে মুক্ত করে।
উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, হাতে হাতে (নগদ নগদ) ছাড়া গমের বদলে গম বিক্রি করা সুদ, নগদ নগদ ছাড়া যবের বদলে যব বিক্রয় সুদ, নগদ নগদ ব্যতীত খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রয় সুদ।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুযাবানা নিষেধ করেছেন। তিনি (ইবন উমার) বলেন, মুযাবানা হলো তাজা খেজুর শুকনো খেজুরের বদলে ওজন করে বিক্রি করা এবং কিসমিস তাজা আঙ্গুরের বদলে ওজন করে বিক্রি করা।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মুযাবানা নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, মুযাবানা হলো- শুকনো খেজুর তাজা খেজুরের বিনিময়ে ওজন করে বিক্রি করা, বেশি হলে তা আমার প্রাপ্য, কম হলে তা পূরণ করা আমার দায়িত্ব।
রাবী বলেন, আমাকে যায়দ ইবন সাবিত বলেন যে, নবী (ﷺ) অনুমান করে আরায়া এর অনুমতি দিয়েছেন।
মালিক ইবন আওস হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একশ দ্বীনারের বিনিময় সারফ এর জন্য লোক সন্ধান করছিলেন। তখন তালহা ইবন উবাইদুল্লাহ আমাকে ডাক দিলেন। আমরা বিনিময় দ্রব্যের পরিমাণ নিয়ে আলোচনা করতে থাকলাম। অবশেষে তিনি আমার সঙ্গে সারফ করতে রাজী হলেন এবং আমার হতে স্বর্ণ নিয়ে তার হাতে নাড়া-চাড়া করতে করতে বললেন, আমার খাযাঞ্চী গাবা (নামক স্থান) হতে আসা পর্যন্ত (আমার জিনিস পেতে) দেরী করতে হবে। ঐ সময়ে উমার আমাদের কথা-বার্তা শুনছিলেন। তিনি বলে উঠলেন, আল্লাহর কসম! তার জিনিস গ্রহণ না করা পর্যন্ত তুমি তার হতে বিচ্ছিন্ন হতে পারবে না। কারণ, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, নগদ নগদ না হলে স্বর্ণের বদলে স্বর্ণের বিক্রয় (সুদ) হবে। নগদ নগদ ছাড়া গমের বদলে গমের বিক্রয় সুদ হবে। নগদ নগদ ছাড়া যবের বদলে যবের বিক্রয় রিবা হবে। নগদ নগদ না হলে খেজুরের বদলে খেজুরের বিক্রয় সুদ হবে।
আবূ বাকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, সমান সমান ছাড়া তোমরা সোনার বদলে সোনা বিক্রয় করবে না। অনুরূপ রূপার বদলে রূপা সমান সমান ছাড়া (বিক্রি করবে না)। রূপার বদলে সোনা এবং সোনার বদলে রূপা যেভাবে ইচ্ছে, কেনা বেচা করতে পার।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আবূ সাঈদ খুদরী আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে (আবূ বাকরার হাদীসের) অনুরূপ একটি হাদীস তার কাছে বর্ণনা করেন। আবদুল্লাহ ইবন উমার তার [আবূ সাঈদ-এর] সঙ্গে দেখা করে বললেন, হে আবূ সাঈদ! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে আপনি কী হাদীস বর্ণনা করে থাকেন? আবূ সাঈদ সার্ফ (মুদ্রার বিনিময়) সম্পর্কে বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে আমি বলতে শুনেছি যে, সোনার বদলে সোনার বিক্রয় সমান পরিমাণ হতে হবে। রূপার বদলে রূপার বিক্রয় সমান হতে হবে।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, সমান পরিমাণ ছাড়া তোমরা সোনার বদলে সোনা বিক্রি করবে না, একটি অপরটি হতে কম-বেশী করবে না। সমান ছাড়া তোমরা রূপার বদলে রূপা বিক্রি করবে না ও একটি অপরটি হতে কম-বেশী করবে না। আর নগদ মুদ্রার বিনিময়ে বাকী মুদ্রা বিক্রি করবে না।
আবূ সালিহ যায়য়্যাত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ খুদরী-কে বলতে শুনলাম, দ্বীনারের বদলে দ্বীনার এবং দিরহামের বদলে দিরহাম (সমান সমান বিক্রি করবে)। এতে আমি তাকে বললাম, ইবন আব্বাস তো তা বলেন না? উত্তরে আবূ সাঈদ বলেন, আমি তাকে (ইবন আব্বাসকে) জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, আপনি তা নবী (ﷺ) -এর নিকট হতে শুনেছেন না আল্লাহর কিতাবে পেয়েছেন? তিনি বললেন, এর কোনটি বলিনি। আপনারাই তো আমার চেয়ে নবী (ﷺ) সম্পর্কে বেশী জানেন। অবশ্য আমাকে উসামা [ইবন যায়দ] জানিয়েছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, বাকী বিক্রয় ব্যতীত 'রিবা' হয় না। আবূ আবদুল্লাহ (বুখারী) বলেন, আমি সুলায়মান ইবন হার্ব-কে বলতে শুনেছি, বাকী বিক্রয় ব্যতীত 'রিবা' হয় না, এ কথার অর্থ আমাদের মতে এই যে, সোনা-রূপার বিনিময়ে, গম যবের বিনিময়ে কম-বেশী বেচা-কেনা করাতে দোষের কিছু নেই যদি নগদ হয়, কিন্তু বাকী বেচা-কেনাতে কোন কল্যাণ নেই।
পূর্বের হাদিসের মতই (২১৭৮)।
আবূ মিনহাল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবন আযিব ও যায়দ ইবন আরকাম-কে সার্ফ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম। তারা উভয়ে (একে অপরের সম্পর্কে) বললেন, ইনি আমার চেয়ে উত্তম। এরপর উভয়েই বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বাকীতে রূপার বিনিময়ে সোনা কেনা বেচা করতে বারণ করেছেন।
পূর্বের হাদিসের মতই (২১৮০)।
আবূ বাকরা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সমান সমান ছাড়া রূপার বদলে রূপার ক্রয়-বিক্রয় এবং সোনার বদলে সোনার ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি রূপার বিনিময়ে সোনার বিক্রয়ে এবং সোনার বিনিময়ে রূপার বিক্রয়ে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী অনুমতি দিয়েছেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, উপযোগিতা প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত তোমরা ফল বিক্রি করবে না এবং শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করবে না।
রাবী সালিম বলেন, আবদুল্লাহ যায়দ ইবন সাবিত সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর পরে তাজা বা শুকনো খেজুরের বিনিময়ে আরিয়্যা বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন। আরিয়্যা ব্যতীত অন্য কিছুতে এরূপ বিক্রির অনুমতি প্রদান করেননি।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুযাবানা হতে নিষেধ করেছেন। মুযাবানার অর্থ হলো মেপে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর এবং মেপে কিসমিসের বিনিময়ে আঙ্গুর ক্রয় করা।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুযাবানা ও মুহাকালা বারণ করেছেন। মুযাবানার অর্থ- শুকনো খেজুরের বিনিময়ে গাছের মাথায় অবস্থিত তাজা খেজুর ক্রয় করা।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মুহাকালা ও মুযাবানা নিষেধ করেছেন।
যায়দ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আরিয়্যা এর মালিককে তা অনুমানে বিক্রি করার অনুমতি প্রদান করেছেন।
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উপযোগী হওয়ার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। (এবং এ-ও বলেছেন যে,) এর কিছুই দ্বীনার ও দিরহাম এর বিনিময় ব্যতীত বিক্রি করা যাবে না, তবে আরায়্যার হুকুম এর ব্যতিক্রম।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুল ওহহাব বলেন যে, আমি মালিকের কাছে শুনেছি, উবায়দুল্লাহ ইবন রাবী' তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আবূ সুফিয়ান সূত্রে আবূ হুরাইরাহ্ হতে দাঊদ এই হাদীস কি আপনার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) পাচ ওসাক অথবা পাচ ওসাকের কম পরিমাণে আরিয়্যা বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যা।
সাহল ইবন আবূ হাসমা হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করতে বারণ করেছেন এবং আরিয়্যা-এর ক্ষেত্রে অনুমতি প্রদান করেছেন। তা হল তাজা ফল অনুমানে বিক্রি করা, যাতে (ক্রেতা) তাজা খেজুর খাওয়ার সুযোগ লাভ করতে পারে। রাবী সুফইয়ান আর একবার এভাবে বর্ণনা করেছেন, অবশ্য তিনি [আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ] আরিয়্যা এর ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন যে, ফলের মালিক অনুমানে তাজা খেজুর বিক্রয় করে, যাতে তারা (ক্রেতাগণ) তাজা খেজুর খেতে পারে। রাবী বলেন, এ কথা পূর্বের কথা একই এবং সুফইয়ান বলেন, আমি তরুণ বয়সে (আমার উস্তাদ) ইয়াহইয়া [ইবন সাইদ ]-কে বললাম, মক্কাবাসীগণ তো বলে, নবী (ﷺ) আরায়্যা-এর ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বললেন, মক্কাবাসীদের তা কিসে অবহিত করল? আমি বললাম, তারা জাবির হতে বর্ণনা করে থাকেন। এতে তিনি নীরব হয়ে গেলেন। সুফইয়ান বলেন, আমার কথার মর্ম এই ছিল যে, জাবির মদিনাবাসী। সুফইয়ান -কে জিজ্ঞেস করা হল, এ হাদীসে এ কথাটুকু নাই যে, উপযোগিতা প্রকাশের পূর্বে ফল বিক্রি নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, না।
যায়দ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আরাইয়ার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন যে, ওযনকৃত খেজুরের বিনিময়ে গাছের অনুমানকৃত খেজুর বিক্রি করা যেতে পারে। মূসা ইবন 'উকবা বলেন, আরাইয়া বলা হয়, বাগানে এসে কতগুলো নির্দিষ্ট গাছের খেজুর (শুকনা খেজুরের বদলে) ক্রয় করে নেয়া।
লাইস ... যাইদ ইবন সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর সময়ে লোকেরা (গাছের) ফলের বেচা-কেনা করত। আবার যখন লোকদের ফল পাড়ার এবং তাদের মূল্য দেয়ার সময় হত, তখন ক্রেতা ফলে পোকা ধরেছে, নষ্ট হয়ে গিয়েছে, শুকিয়ে গিয়েছে এসব অনিষ্টকারী আপদের কথা উল্লেখ করে ঝগড়া করত। তখন এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকটে অনেক অভিযোগ পেশ হতে লাগল, তখন তিনি বললেন, তোমরা যদি এ ধরনের বেচা কেনা বাদ দিতে না চাও তবে ফলের উপযোগিতা প্রকাশ পাবার পর তার বেচা কেনা করবে। অনেক অভিযোগ উত্থাপিত হবার কারণে তিনি এ কথাটি পরামর্শ স্বরূপ বলেছেন। রাবী বলেন, খারিজা ইবন যায়দ আমাকে বলেছেন যে, যাইদ ইবন সাবিত সুরাইয়া তারকা উদিত হবার পর ফলের হলুদ ও লালচে রঙের পূর্ণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তার বাগানের ফল বিক্রি করতেন না।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ফলের উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে নিষেধ করেছেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) খেজুর ফল পোখতা হওয়ার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আবূ আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী ] বলেন, লালচে হওয়ার আগে।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ফলের রং পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তা খাওয়ার যোগ্য না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ফলের উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং খেজুরের রং ধরার আগে (বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন)। জিজ্ঞেস করা হল, রং ধরার অর্থ কী? তিনি বলেন, লাল বর্ণ বা হলুদ বর্ণ ধারণ করা।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রং ধারণ করার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। জিজ্ঞেস করা হল, রং ধারণ করার অর্থ কী? তিনি বললেন, লাল বর্ণ ধারণ করা। পরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, দেখ, যদি আল্লাহ তাআলা ফল ধরা বন্ধ করে দেন, তবে তোমাদের কেউ (বিক্রেতা) কিসের বদলে তার ভাইয়ের মাল (ফলের মূল্য) নিবে?
ইবন শিহাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি যদি ফলের উপযুক্ততা প্রকাশের পূর্বে তা ক্রয় করে, পরে তাতে মড়ক দেখা দেয়, তবে যা নষ্ট হবে তা মালিকের উপর বর্তাবে। [যুহরী] বলেন, আমার নিকট সালিম ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার পূর্বে তোমরা ফল ক্রয় করবে না এবং শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করবে না।
আ'মাশ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবরাহীম-এর কাছে বন্ধক রেখে বাকীতে ক্রয় করার ব্যাপারে আলোচনা করলাম। তিনি বললেন, এতে কোন দোষ নেই। এরপর তিনি আসওয়াদ সূত্রে আয়িশাহ হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) নির্দিষ্ট মেয়াদে (মূল্য বাকী রেখে) জনৈক ইয়াহূদীর নিকট হতে খাদ্য ক্রয় করেন এবং তার বর্ম বন্ধক রাখেন।
আবূ সাঈদ খুদরী ও আবু হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এক ব্যক্তিকে খায়বারে তহসীলদার নিযুক্ত করেন। সে জানীব নামক (উত্তম) খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, খায়বারের সব খেজুর কি এ রকমের? সে বলল, না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! এরূপ নয়, বরং আমরা দু' সা' এর পরিবর্তে এ ধরনের এক সা' খেজুর নিয়ে থাকি এবং তিন সা' এর পরিবর্তে এক দু' সা'। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এরূপ করবে না। বরং মিশ্রিত খেজুর দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিরহাম দিয়ে জানীব খেজুর ক্রয় করবে।
পূর্বের হাদিসের মতই (২২০১)।
ইবন উমার-এর আযাদকৃত গোলাম নাফি হতে বর্ণিত যে, তাবীরকৃত খেজুর গাছ ফলের উল্লেখ ব্যতীত বিক্রি করলে যে তাবীর করেছে সে ফলের মালিক হবে। তেমনি গোলাম ও জমির ফসলও মালিকেরই থাকবে। রাবী নাফি এই তিনটিরই উল্লেখ করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কেউ তাবীর করার পরে খেজুর গাছ বিক্রি করলে সে ফলের মালিক থাকবে, অবশ্য ক্রেতা যদি (ফল লাভের) শর্ত করে, তবে সে পাবে।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুযাবানা নিষেধ করেছেন, আর তা হলো বাগানের ফল বিক্রয় করা। খেজুর হলে মেপে শুকনো খেজুরের বদলে, আঙ্গুর হলে মেপে কিসমিসের বদলে, আর ফসল হলে মেপে খাদ্যের বদলে বিক্রি করা। তিনি এসব বিক্রি নিষেধ করেছেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি খেজুর গাছে তাবীর করার পরে মূল গাছ বিক্রি করল, সে গাছের ফল যে তাবীর করেছে তারই থাকবে, অবশ্য ক্রেতা যদি ফলের শর্ত করে (তবে সে পাবে)।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুহাকালা, মুখাদারা, মুলামাসা, মুনাবাযা ও মুযাবানা নিষিদ্ধ করেছেন।
আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) পাকার পূর্বে ফল বিক্রি নিষেধ করেছেন। (রাবী বলেন) আমরা আনাস-কে জিজ্ঞেস করলাম, ফল পাকার অর্থ কী? তিনি বললেন, লালচে বা হলদে হওয়া। [আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন] বলত, আল্লাহ তাআলা যদি ফল নষ্ট করে দেন, তবে কিসের বদলে তোমার ভাইয়ের মাল গ্রহণ করবে?
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -এর কাছে ছিলাম, তিনি সে সময়ে খেজুরের মাথি খাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, গাছের মধ্যে এমনও গাছ আছে, যা মুমিন ব্যক্তির সদৃশ। আমি বলতে ইচ্ছা করলাম যে, তা হল খেজুর গাছ। কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম যে, আমি সকলের মাঝে বয়ঃকনিষ্ঠ (তাই লজ্জায় বলি নাই, কেউ উত্তর না দেয়ায়) তিনি বললেন, তা খেজুর গাছ।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তায়বা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে শিঙ্গা লাগালেন। তিনি এক সা' খেজুর দিতে বললেন এবং তার উপর হতে দৈনিক আয়কর কমানোর জন্য তার মালিককে আদেশ দিলেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, মু'আবিয়া-এর মা হিন্দা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বলেন, আবূ সুফিয়ান একজন কৃপণ ব্যক্তি। এমতাবস্থায় আমি যদি তার মাল হতে গোপনে কিছু গ্রহণ করি, তাতে কি আমার গুনাহ হবে? তিনি বললেন, তুমি তোমার ও সন্তানদের প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায়ভাবে গ্রহণ করতে পার।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনের আয়াতঃ "যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে অভাবগ্রস্ত সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে"- (আন-নিসা ৬)। ইয়াতীমের ঐ অভিভাবক সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়, যে তার তত্ত্বাবধান করে ও তার সম্পত্তির পরিচর্যা করে, সে যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তা হতে নিয়মমাফিক খেতে পারবে।
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা হয়নি, নবী (ﷺ) তাতে শুফ'আ এর অধিকার প্রদান করেছেন। যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং রাস্তা ভিন্ন করা হয়, তখন আর শুফ'আ এর অধিকার থাকবে না।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যে সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি, তার মধ্যে শুফ'আ লাভের ফায়সালা প্রদান করেছেন। তারপর যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং স্বতন্ত্র করা হয় তখন আর শু'ফআ এর অধিকার থাকবে না। আবদুর রাযযাক বলেছেন, যে সম্পদ ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি, সে সব সম্পদেই (শুফ'আ রয়েছে)।
ইবন উমার সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিন ব্যক্তি হেটে চলছিল। এমন সময় প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় প্রবেশ করে। হঠাৎ একটি পাথর গড়িয়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দেয়। তাদের একজন আরেকজনকে বলল; তোমরা যে সব আমল করেছ, তার মধ্যে উত্তম আমলের ওয়াসীলা করে আল্লাহর কাছে দোয়া কর। তাদের একজন বলল, ইয়া আল্লাহ! আমার অতিবৃদ্ধ পিতামাতা ছিলেন, আমি (প্রত্যহ সকালে) মেষ চরাতে বের হতাম। তারপর ফিরে এসে দুধ দোহন করতাম এবং এ দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার নিকট উপস্থিত হতাম ও তারা তা পান করতেন। তারপরে আমি শিশুদের, পরিজনদের এবং স্ত্রীকে পান করতে দিতাম। একরাত্রে আমি আটকা পড়ে যাই। তারপর আমি যখন এলাম তখন তারা দু'জনে ঘুমিয়ে পড়েছেন। সে বলল, আমি তাদের জাগানো পছন্দ করলাম না। আর তখন শিশুরা আমার পায়ের কাছে (ক্ষুধায়) চীৎকার করছিল। এ অবস্থায়ই আমার এবং পিতা-মাতার ফজর হয়ে গেল। ইয়া আল্লাহ! তুমি যদি জান তা আমি শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় করেছিলাম তা হলে তুমি আমাদের গুহার মুখ এতটুকু ফাক করে দাও, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন একটু ফাকা হয়ে গেল। আরেকজন বলল, ইয়া আল্লাহ! তুমি জান যে, আমি আমার এক চাচাতো বোনকে এত ভালবাসতাম, যা একজন পুরুষ নারীকে ভালবেসে থাকে। সে বলল, তুমি আমা হতে সে মনস্কামনা সিদ্ধ করতে পারবে না, যতক্ষণ আমাকে একশত দ্বীনার না দেবে। আমি চেষ্টা করে তা সংগ্রহ করি। তারপর যখন আমি তার পদদ্বয়ের মাঝে উপবেশন করি, তখন সে বলে "আল্লাহকে ভয় কর"। বৈধ অধিকার ছাড়া মাহরকৃত বস্তুর সীল ভাঙবে না। এতে আমি তাকে ছেড়ে উঠে পড়ি। (হে আল্লাহ) তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশে করেছি, তবে আমাদের হতে আরো একটু ফাক করে দাও। তখন তাদের হতে (গুহার মুখের) দুই-তৃতীয়াংশ ফাক হয়ে গেল। অপরজন বলল, হে আল্লাহ! তুমি জান যে, এক ফারাক (পরিমাণ) শস্য দানার বিনিময়ে আমি একজন মজুর রেখেছিলাম। আমি তাকে তা দিতে গেলে সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। তারপর আমি সে এক ফারাক শস্য দানা দিয়ে চাষ করে ফসল উৎপন্ন করি এবং তা দিয়ে গরু ক্রয় করি এবং রাখাল নিযুক্ত করি। কিছুকাল পরে সে মজুর এসে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! আমাকে আমার পাওনা দিয়ে দাও। আমি বললাম, এই গরুগুলো ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলল, তুমি কি আমার সাথে উপহাস করছ? আমি বললাম, আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না বরং এসব তোমার। হে আল্লাহ! তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টির উদ্দেশে করেছি, তবে আমাদের হতে (গুহার মুখ) উন্মুক্ত করে দাও। তখন তাদের হতে গুহার মুখ উন্মুক্ত হয়ে গেল।
আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। সে সময়ে এলোমেলো লম্বা লম্বা চুল বিশিষ্ট এক মুশরিক ব্যক্তি তার বকরী হাকিয়ে উপস্থিত হলো। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, এটা কি বিক্রির জন্য, না দান হিসেবে, অথবা তিনি বললেন, না হেবা হিসেবে? সে বলল, বিক্রির জন্য। তখন তিনি তার নিকট হতে একটি বকরী কিনে নিলেন।
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, ইবরাহীম সারাকে সঙ্গে নিয়ে হিজরত করলেন এবং এমন এক জনপদে প্রবেশ করলেন, যেখানে এক বাদশাহ ছিল, অথবা বললেন, এক অত্যাচারী শাসক ছিল। তাকে বলা হলো যে, ইবরাহীম (নামক এক ব্যক্তি) এক পরমা সুন্দরী নারীকে নিয়ে (আমাদের এখানে) প্রবেশ করেছে। সে তখন তার নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করল, হে ইবরাহীম, তোমার সঙ্গে এ নারী কে? তিনি বললেন, আমার বোন। অতঃপর তিনি সারার নিকট ফিরে এসে বললেন, তুমি আমার কথা মিথ্যা মনে করো না। আমি তাদেরকে বলেছি যে, তুমি আমার বোন। আল্লাহর শপথ! দুনিয়াতে (এখন) তুমি আর আমি ব্যতীত আর কেউ মুমিন নেই। সুতরাং আমি ও তুমি দ্বীনী ভাই বোন। এরপর ইবরাহীম (বাদশাহর নির্দেশে) সারাকে বাদশাহর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। বাদশাহ তার দিকে অগ্রসর হল। সারা উযূ করে সালাত আদায়ে দাড়িয়ে গেলেন এবং এ দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! আমিও তোমার উপর এবং তোমার রাসূলের উপর ঈমান এনেছি এবং আমার স্বামী ব্যতীত সকল হতে আমার লজ্জাস্থানের সংরক্ষণ করেছি। তুমি এই কাফিরকে আমার উপর ক্ষমতা দিও না। তখন বাদশাহ বেহুঁশ হয়ে পড়ে মাটিতে পায়ের আঘাত করতে লাগলো। তখন সারা বললেন, আয় আল্লাহ! এ যদি মারা যায় তবে লোকে বলবে, স্ত্রীলোকটি একে হত্যা করেছে। তখন সে সংজ্ঞা ফিরে পেল। এভাবে দু'বার বা তিনবারের পর বাদশাহ বলল, আল্লাহর শপথ! তোমরা তো আমার নিকট এক শয়তানকে পাঠিয়েছ। একে ইবরাহীমের নিকট ফিরিয়ে দাও এবং তার জন্য হাজেরাকে হাদিয়া স্বরূপ দান কর। সারাহ ইবরাহীম-এর নিকট ফিরে এসে বললেন, আপনি জানেন কি, আল্লাহ তাআলা কাফিরকে লজ্জিত ও নিরাশ করেছেন এবং সে এক বাদী হাদিয়া হিসেবে দিয়েছে।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস ও 'আব্দ ইবন যাম্'আ উভয়ে এক বালকের ব্যাপারে বিতর্ক করেন। সাদ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এতো আমার ভাই উৎবা উবনু আবী ওয়াক্কাসের পুত্র। সে তার পুত্র হিসাবে আমাকে ওয়াসিয়্যত করে গেছে। আপনি ওর সাদৃশ্যের প্রতি লক্ষ্য করুন। 'আব্দ ইবন যাম'আ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার ভাই, আমার পিতার দাসীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করে। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন যে, উত্বার সাথে তার পরিষ্কার সাদৃশ্য রয়েছে। তিনি বললেন, এ ছেলেটি তুমি পাবে, হে আব্দ ইবন যাম'আ! বিছানা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে বঞ্চনা। হে সাওদাহ বিনতু যাম'আ! তুমি এর হতে পর্দা কর। ফলে সাওদাহ কখনও তাকে দেখেননি।
আবদুর রহমান ইবন আওফ হতে বর্ণিত। তিনি সুহাইব-কে বলেন, আল্লাহকে ভয় কর। তুমি নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবী করো না। এর উত্তরে সুহাইব বলেন, আমি এতে আনন্দবোধ করব না যে, এত এত সম্পদ হোক আর আমি আমার পিতৃত্বের দাবী অন্যের প্রতি আরোপ করি, বরং (আসল ব্যাপার) আমাকে শৈশবে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
হাকীম ইবন হিযাম হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বলুন, আমি জাহিলিয়্যা যুগে দান, খায়রাত, গোলাম আযাদ ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার ইত্যাদি যে সব নেকীর কাজ করেছি, এতে কি আমি সাওয়াব পাব? হাকীম বলেন, রাসূলল্লাহ (ﷺ) বললেন, অতীতের সৎকর্মসহ তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছ তুমি যে সব নেকী করেছ, তার সম্পূর্ণ পুণ্য অর্জন করবে।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এক মৃত বকরীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা এর চামড়া কাজে লাগাও না কেন? তারা বললেন, এতো মৃত। তিনি বললেন, শুধু তার গোশত খাওয়া হারাম করা হয়েছে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, শপথ সেই সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ। অচিরেই তোমাদের মাঝে ন্যায় বিচারকরূপে মারইয়ামের পুত্র [ঈসা] অবতরণ করবেন। তারপর তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিয্য়া রহিত করবেন এবং ধন-সম্পদের এরূপ প্রাচুর্য হবে যে, কেউ তা গ্রহণ করবে না।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন খাত্তাব-এর নিকট সংবাদ পৌছল যে, অমুক ব্যক্তি শরাব বিক্রি করেছে। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা অমুকের বিনাশ করুন। সে কি জানে না যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ইয়াহূদীদের সর্বনাশ করুন, তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল; কিন্তু তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ইয়াহূদীদের বিনাশ করুন। তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছে। তারা তা (গলিয়ে) বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে।
সাঈদ ইবন আবুল হাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমন সময়ে তার কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আবূ আববস! আমি এমন ব্যক্তি যে, আমার জীবিকা হস্তশিল্পে। আমি এসব ছবি তৈরী করি। ইবন আব্বাস তাকে বলেন, (এ বিষয়ে) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে আমি যা বলতে শুনেছি, তাই তোমাকে শোনাব। তাকে আমি বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন ছবি তৈরী করে আল্লাহ তাআলা তাকে শাস্তি দিবেন, যতক্ষণ না সে তাতে প্রাণ সঞ্চার করে। আর সে তাতে কখনো প্রাণ সঞ্চার করতে পারবে না। (এ কথা শুনে) লোকটি ভীষণভাবে ভয় পেয়ে গেল এবং তার চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। এতে ইবন আব্বাস বললেন, আক্ষেপ তোমার জন্য, তুমি যদি এ কাজ না-ই ছাড়তে পার, তবে এ গাছপালা এবং যে সকল জিনিসে প্রাণ নেই, তা তৈরী করতে পার। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেন, সাঈদ বলেছেন, আমি নযর ইবন আনাস হতে শুনেছি তিনি বলেছেন, ইবন আব্বাস হাদীস বর্ণনা করার সময় আমি তার কাছে ছিলাম। ইমাম বুখারী আরো বলেন, সাঈদ ইবন আবূ আরুবাহ একমাত্র এ হাদীসটি নযর ইবন আনাস হতে শুনেছেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সূরা আল-বাকারার শেষ আয়াতগুলো নাযিল হলো, তখন নবী বের হয়ে বললেন, শরাবের ব্যবসা হারাম করা হয়েছে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, কিয়ামতের দিবসে আমি নিজে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো। এক ব্যক্তি, যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করল। আরেক ব্যক্তি, যে কোন আযাদ মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করল। আর এক ব্যক্তি, যে কোন মজুর নিয়োগ করে তার হতে পুরো কাজ আদায় করে এবং তার পারিশ্রমিক দেয় না।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাফিয়্যাহ বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি দিহ্য়া কালবী-এর ভাগে পড়েন, এর পরে তিনি নবী (ﷺ) -এর অধীনে এসে যান।
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, একদা তিনি নবী (ﷺ) -এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা বন্দী দাসীর সাথে সঙ্গত হই। কিন্তু আমরা তাদের (বিক্রয় করে) মূল্য হাসিল করতে চাই। এমতাবস্থায় আযল- (নিরুদ্ধ সঙ্গম করা) সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন, আর তোমরা কি এরূপ করে থাক! তোমরা যদি তা (আযল) না কর তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারণ আল্লাহ তাআলা যে সন্তান জন্ম হওয়ার ফায়সালা করে রেখেছেন, তা অবশ্যই জন্ম নিবে।
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মুদাববার গোলাম বিক্রি করেছেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মুদাববার বিক্রি করেছেন।
যায়দ ইবন খালিদ ও আবূ হুরাইরাহ্ বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে অবিবাহিত ব্যভিচারিণী দাসী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তাকে বলতে শুনেছেন যে, ব্যভিচারিণীকে বেত্রাঘাত কর। সে আবার ব্যভিচার করলে আবার বেত্রাঘাত কর। এরপর তাকে বিক্রি করে দাও তৃতীয় বা চতুর্থবারের পরে।
পূর্বের হাদিসের মতই (২২৩২)।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -কে আমি বলতে শুনেছি, তোমাদের কোন দাসী ব্যভিচার করলে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হলে তাকে 'হদ' স্বরূপ বেত্রাঘাত করবে এবং তাকে ভৎর্সনা করবে না। এরপর যদি সে আবার ব্যভিচার করে তাকে 'হদ' হিসাবে বেত্রাঘাত করবে কিন্তু তাকে ভৎর্সনা করবে না। তারপর সে যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হয় তবে তাকে বিক্রি করে দেবে, যদিও তা চুলের রশির (তুচ্ছ মূল্যের) বিনিময়ে হয়।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) খায়বার গমন করেন। যখন আল্লাহ তাআলা তার দুর্গের বিজয় দান করেন, তখন তার সামনে সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়ায়্যি ইবন আখতাব এর সৌন্দর্যের আলোচনা করা হয়। তার স্বামী নিহত হয় এবং তিনি তখন ছিলেন নব-বিবাহিতা। অবশেষে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে নিজের জন্য গ্রহণ করে নেন। তিনি তাকে নিয়ে রওয়ানা হন। যখন আমরা সাদ্দা রাওহা নামক স্থানে উপনীত হলাম, তখন সাফিয়্যাহ পবিত্র হলেন! তখন নবী (ﷺ) তার সঙ্গে মিলিত হন। তারপর চামড়ার ছোট দস্তরখানে হায়েস (খেজুরের ছাতু ও ঘি মিশ্রিত খাদ্য) তৈরী করে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, তোমরা আশেপাশের লোকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য খবর দিয়ে দাও। এই ছিল সাফিয়্যাহ-এর বিবাহে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কর্তৃক ওয়ালিমাহ। এরপর আমরা মদ্বীনার উদ্দেশে রওয়ানা হই। আনাস বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে দেখতে পেলাম যে, তাকে নিজের আবা' দিয়ে ঘেরাও করে দিচ্ছেন। তারপর তিনি তার উটের পাশে বসে হাটু সোজা করে রাখলেন, পরে সাফিয়্যাহ তার হাটুর উপর পা দিয়ে ভর করে আরোহণ করলেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় অবস্থানকালে বলতে শুনেছেনঃ আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূল শরাব, মৃত জন্তু, শূকর ও মূর্তি কেনা-বেচা হারাম করে দিয়েছেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! মৃত জন্তুর চর্বি সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তা দিয়ে তো নৌকায় প্রলেপ দেয়া হয় এবং চামড়া তৈলাক্ত করা হয় আর লোকে তা দ্বারা চেরাগ জ্বালিয়ে থাকে। তিনি বললেন, না, তাও হারাম। তারপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তাআলা ইয়াহূদীদের বিনাশ করুন। আল্লাহ যখন তাদের জন্য মৃতের চর্বি হারাম করে দেন, তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে মূল্য ভোগ করে। আবূ আসিম ....... আতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবির-কে (হাদীসটি) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করতে শুনেছি।
আবূ মাসঊদ আনসারী হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিতোষিক (গ্রহণ করা) হতে নিষেধ করেছেন।
আউন ইবন আবূ জুহায়ফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে দেখেছি যে, তিনি একটি শিঙ্গা লাগানেওয়ালা গোলাম কিনলেন। তিনি তার শিঙ্গা লাগানোর যন্ত্র ভেঙ্গে ফেলতে নির্দেশ দিলে তা ভেঙ্গে ফেলা হলে। আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য, দাসীর (ব্যভিচারের মাধ্যমে) উপার্জন করা হতে বারণ করেছেন। আর তিনি শরীরে উলকি অঙ্কনকারী ও উলকি গ্রহণকারী, সুদগ্রহীতা ও সুদ দাতার উপর এবং (জীব জানোয়ারের) ছবি অঙ্কনকারীর উপর অভিসম্পাত করেছেন।