নামাজ সংক্ষিপ্ত করা (১০৮০-১১১৯)
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একদা সফরে ঊনিশ দিন পর্যন্ত অবস্থান কালে সালাত কসর করেন। সেহেতু আমরাও ঊনিশ দিনের সফরে থাকলে কসর করি এবং এর চেয়ে অধিক হলে পূর্ণ সালাত আদায় করি।
আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) -এর সাথে মদিনা ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি দু'রাকাত, দু'রাকাত সালাত আদায় করেছেন। (রাবী বলেন) আমি (আনাস-কে বললাম, আপনারা (হাজ্জকালীন সময়) মক্কায় কয় দিন অবস্থান করেছিলেন? তিনি বললেন, সেখানে আমরা দশ দিন অবস্থান করেছিলাম।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) আবূ বাকর এবং উমার-এর সঙ্গে মিনায় দু'রাকাত সালাত আদায় করেছি। উসমান-এর সঙ্গেও তার খিলাফতের প্রথম দিকে দু'রাকাত আদায় করেছি। অতঃপর তিনি পূর্ণ সালাত আদায় করতে লাগলেন।
হারিসাহ ইবন ওয়াহব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) নিরাপদ অবস্থায় আমাদেরকে নিয়ে মিনায় দু'রাকাত সালাত আদায় করেন।
ইব্রাহীম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ-কে বলতে শুনেছি, উসমান ইবন 'আফফান আমাদেরকে নিয়ে মিনায় চার রাকাত সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর এ সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ-কে বলা হলো, তিনি প্রথমে 'ইন্না লিল্লাহ্' পড়লেন। অতঃপর বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে মিনায় দু' রাকাত পড়েছি এবং উমার ইবন খাত্তাব-এর সঙ্গে মিনায় দু'রাকাত পড়েছি। কতই না ভাল হতো যদি চার রাকাতের পরিবর্তে দু'রাকাত মাকবূল সালাত হতো।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এবং তার সাহাবীগণ (যুল হিজ্জার) ৪র্থ তারিখ সকালে (মক্কায়) আগমন করেন এবং তারা হাজ্জের জন্য তালবীয়াহ পাঠ করতে থাকেন। অতঃপর তিনি তাদের হাজ্জকে উমরাহ্য় পরিণত করার আদেশ দেন। তবে তারা ব্যতীত যাদের নিকট হাদী (কুরবানীর পশু) ছিল। হাদীস বর্ণনায় 'আতা জাবির ইবন আবদুল্লাহ-এর অনুসরণ করেছেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন নারীই যেন মাহরামকে (একজন পুরুষ যার সাথে তার বিয়ে হতে পারে না, যেমন তার ভাই, বাবা, দাদা, ইত্যাদি বা তার নিজের স্বামী) সঙ্গে না নিয়ে তিন দিনের সফর না করে।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মহিলার সাথে কোন মাহরাম পুরুষ না থাকলে, সে যেন তিন দিনের সফর না করে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে মহিলা আল্লাহ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে কোন মাহরাম পুরুষকে সাথে না নিয়ে একদিন ও এক রাত্রির পথ সফর করা জায়িয নয়।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে মদিনায় যুহরের সালাত চার রাকাত আদায় করেছি এবং যুল-হুলাইফায় আসরের সালাত দু' রাকাত আদায় করেছি।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রথম অবস্থায় সালাত দু' রাকাত করে ফরজ করা হয় অতঃপর সফরে সালাত সেভাবেই স্থায়ী থাকে এবং মুকীম অবস্থায় সালাত পূর্ণ (চার রাকাত) করা হয়েছে। যুহরী বলেন, আমি উরওয়াহ-কে জিজ্ঞেস করলাম, (মিনায়) আয়িশাহ কেন সালাত পূর্ণ আদায় করতেন? তিনি বললেন, উসমান যে ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন, আয়িশাহ তা গ্রহণ করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে দেখেছি সফরে ব্যস্ততার কারণে তিনি মাগরিবের সালাত বিলম্বিত করেছেন, এমনকি মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেছেন। সালিম বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমার সফরের ব্যস্ততার সময় এ রকমই করতেন।
অপর এক সূত্রে সালিম বলেন, ইবন উমার মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। সালিম আরও বলেন, ইবন উমার তার স্ত্রী সফীয়্যাহ বিন্ত আবূ উবাইদ-এর দুঃসংবাদ পেয়ে মদিনা ফেরার সময় মাগরিবের সালাত বিলম্বিত করেন। আমি তাকে বললাম, সালাতের সময় হয়ে গেছে। তিনি বললেন, চলতে থাক। আমি আবার বললাম, সালাত? তিনি বললেন, চলতে থাক। এমনকি দুই বা তিন মাইল অগ্রসর হলেন। অতঃপর নেমে সালাত আদায় করলেন। পরে বললেন, আমি নবী (ﷺ) -কে সফরের ব্যস্ততার সময় এমনভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আবদুল্লাহ আরো বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে দেখেছি, সফরে যখনই তার ব্যস্ততা ঘটেছে, তখন তিনি মাগরিবের সালাত (দেরী করে) আদায় করেছেন এবং তা তিন রাকাতই আদায় করেছেন। মাগরিবের সালাম ফিরিয়ে অল্প দেরি করেই ইশার ইকামাত দেয়া হত এবং দু'রাকাত আদায় করে সালাম ফিরাতেন। কিন্তু ইশার পরে গভীর রাত না হওয়া পর্যন্ত (নফল) সালাত আদায় করতেন না।
আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে দেখেছি, তার সওয়ারী যে দিকেই ফিরেছে, তিনি সে দিকেই সালাত আদায় করেছেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সওয়ার অবস্থায় কিবলাহ ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে নফল সালাত আদায় করেছেন।
নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার তার সওয়ারীর উপর (নফল) সালাত আদায় করতেন এবং এর উপর বিতরও আদায় করতেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) এমন করতেন।
আবদুল্লাহ ইবন দ্বীনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমার সফরে সওয়ারী যে দিকেই ফিরেছে সে দিকেই মুখ ফিরে ইঙ্গিতে সালাত আদায় করতেন এবং আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) এমন করতেন।
আমির ইবন রাবীআহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে দেখেছি,তিনি সওয়ারীতে উপবিষ্ট অবস্থায় মাথা দিয়ে ইঙ্গিত করে সে দিকেই সালাত আদায় করতেন যে দিকে সওয়ারী ফিরত। কিন্তু আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ফরজ সালাতে এমন করতেন না।
সালিম হতে বর্ণিত। আবদুল্লাহ সফরকালে রাতের বেলায় সওয়ারীর উপর থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করতেন, কোন দিকে তার মুখ রয়েছে সে দিকে লক্ষ্য করতেন না এবং ইবন উমার বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সওয়ারীর উপর নফল সালাত আদায় করেছেন, সওয়ারী যে দিকে মুখ ফিরিয়েছে সে দিকেই এবং তার উপর বিতরও আদায় করেছেন। কিন্তু সওয়ারীর উপর ফরজ সালাত আদায় করতেন না।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) সওয়ারীর উপর পূর্ব দিকে ফিরেও সালাত আদায় করেছেন। কিন্তু যখন তিনি ফরজ সালাত আদায় করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি সওয়ারী হতে অবতরণ করতেন এবং কিবলামুখী হতেন।
আনাস ইবন সীরীন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবন মালিক যখন সিরিয়া হতে ফিরে আসছিলেন, তখন আমরা তাকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য এগিয়ে এসেছিলাম। আইনুত্ তামর (নামক) স্থানে আমরা তার সাক্ষাৎ পেলাম। তখন আমি তাকে দেখলাম গাধার পিঠে (আরোহী অবস্থায়) সামনের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন। কিবলাহর বাম দিকে মুখ করে। তখন তাকে আমি প্রশ্ন করলাম, আপনাকে তো দেখলাম কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন? তিনি বললেন, যদি আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে এমন করতে না দেখতাম, তবে আমিও তা করতাম না।
হাফস ইবন 'আসিম হতে বর্ণিত যে, ইবন উমার একবার সফর করেন এবং বলেন, আমি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে থেকেছি, সফরে তাকে নফল সালাত আদায় করতে দেখিনি এবং আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ "নিশ্চই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (আহযাব ৩৩/২১১)
হাফস ইবন 'আসিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার-কে বলতে শুনেছি যে, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে ছিলাম, তিনি সফরে দু' রাকাতের অধিক আদায় করতেন না। আবূ বাকর, উমার ও উসমান-এর এ রীতি ছিল।
ইবন আবূ লায়লাহ হতে বর্ণিত। উম্মু হানী ব্যতীত অন্য কেউ নবী (ﷺ) -কে সালাতুয্ যুহা (পূর্বাহ্নের সালাত) আদায় করতে দেখেছেন বলে আমাদের জানাননি। তিনি [উম্মু হানী] বলেন, নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন তার ঘরে গোসল করার পর আট রাকাত সালাত আদায় করেছেন। আমি তাকে এর চেয়ে সংক্ষিপ্তভাবে কোন সালাত আদায় করতে দেখিনি, তবে তিনি রুকূ ও সিজদা পূর্ণভাবে আদায় করেছিলেন।
আমির ইবন রাবীআহ থেকে বর্ণিত। তিনি (ﷺ) -কে রাতের বেলা সফরে বাহনের পিঠে বাহনের গতিপথ অভিমুখী হয়ে নফল সালাত আদায় করতে দেখেছেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (সফরে) তার বাহনের পিঠে এর গতিপথ অভিমুখী হয়ে মাথার দ্বারা ইঙ্গিত করে নফল সালাত আদায় করতেন। আর ইবন উমারও তা করতেন।
সালিম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন দ্রুত সফর করতেন, তখন মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরে দ্রুত চলার সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুহর ও আসরের সালাত একত্রে আদায় করতেন আর মাগরিব ইশা একত্রে আদায় করতেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সফরকালে মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করতেন এবং আলী ইবন মুবারাক ও হারব ....আনাস হতে হাদীস বর্ণনায় হুসায়ন-এর অনুসরণ করেছেন যে, নবী (ﷺ) একত্রে আদায় করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ) -কে দেখেছি যখন সফরে তাকে দ্রুত পথ অতিক্রম করতে হত, তখন মাগরিবের সালাত এত বিলম্বিত করতেন যে মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। সালিম বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমারও দ্রুত সফরকালে ঐ রকমই করতেন। তখন ইকামতের পর মাগরিব তিন রাকাত আদায় করতেন এবং সালাম ফিরাতেন। অতঃপর অল্প সময় অপেক্ষা করেই ইশা-এর ইকামাত দিয়ে তা দু'রাকাত আদায় করে সালাম ফিরাতেন। এ দু'য়ের মাঝখানে কোন নফল সালাত আদায় করতেন না এবং ইশার পরেও না। অতঃপর মধ্যরাতে (তাহাজ্জুদের জন্য) উঠতেন।
আনাস হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সফরে এ দু' সালাত একত্রে আদায় করতেন মাগরিব ও ইশা।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে সফর শুরু করলে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত যুহর বিলম্বিত করতেন এবং উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন। আর (সফর শুরুর আগেই) সূর্য ঢলে গেলে যুহর আদায় করে নিতেন। অতঃপর সওয়ারীতে উঠতেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে সফর শুরু করলে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত যুহরের সালাত বিলম্বিত করতেন। অতঃপর অবতরণ করে দু' সালাত একসাথে আদায় করতেন। আর যদি সফর শুরু করার পূর্বেই সূর্য ঢলে পড়তো তাহলে যুহরের সালাত আদায় করে নিতেন। অতঃপর সওয়ারীতে চড়তেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার ঘরে সালাত আদায় করলেন, তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাই তিনি বসে বসে সালাত আদায় করছিলেন এবং এক দল সাহাবী তার পিছনে দাড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন তিনি বসে পড়ার জন্য তাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর সালাত শেষ করে তিনি বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণ করার উদ্দেশে। কাজেই তিনি রুকূ করলে তোমরা রুকূ করবে এবং তিনি মাথা তুললে তোমরাও মাথা তুলবে।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ঘোড়া হতে পড়ে গেলেন। এতে আঘাত লেগে তার ডান পাশের চামড়া ছিলে গেল। আমরা তার রোগের খোজ-খবর নেয়ার জন্য তার নিকট গেলাম। ইতোমধ্যে সালাতের সময় হলে তিনি বসে সালাত আদায় করলেন। আমরাও বসে সালাত আদায় করলাম। পরে তিনি বললেনঃ ইমাম তো নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্যে। কাজেই তিনি তাকবীর বললে, তোমরাও তাকবীর বলবে, রুকূ করলে তোমরাও রুকূ করবে, তিনি মাথা তুললে তোমরাও মাথা তুলবে। তিনি যখন "সামিয়া ল-লাহু লিমান হামিদাহ" (আল্লাহ শোনেন যে কেউ তার প্রশংসা করে) বলে তখন তোমরা বলবে: "রাব্বানা ওয়ালাকাল-হামদ" (হে আমাদের পালনকর্তা! সমস্ত প্রশংসা আপনার জন্য)।
ইমরান ইবন হুসায়ন হতে বর্ণিত। তিনি ছিলেন অর্শরোগী। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বসে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ যদি কেউ দাড়িয়ে সালাত আদায় করে তবে তা-ই উত্তম। আর যে ব্যক্তি বসে সালাত আদায় করবে, তার জন্য দাড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব আর যে শুয়ে আদায় করবে তার জন্য বসে আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব।
ইমরান ইবন হুসায়ন হতে বর্ণিত। তিনি অর্শরোগী ছিলেন, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে বসে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি দাড়িয়ে সালাত আদায় করল সে উত্তম আর যে ব্যক্তি বসে সালাত আদায় করল তার জন্য দাড়ান ব্যক্তির অর্ধেক সওয়াব আর যে শুয়ে সালাত আদায় করল, তার জন্য বসে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব।
ইমরান ইবন হুসাইন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অর্শরোগ ছিল। তাই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর খিদমতে সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম, তিনি বললেনঃ দাড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তা না পারলে বসে; যদি তাও না পার তাহলে শুয়ে।
আয়িশাহ বলেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -কে অধিক বয়সে পৌছার পূর্বে কখনো রাতের সালাত বসে আদায় করতে দেখেননি। (বার্ধক্যের) পরে তিনি বসে কিরাআত পাঠ করতেন। যখন তিনি রুকূ করার ইচ্ছা করতেন, তখন দাড়িয়ে যেতেন এবং প্রায় ত্রিশ কিংবা চল্লিশ আয়াত তিলাওয়াত করে রুকূ করতেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বসে সালাত আদায় করতেন। বসেই তিনি কিরা'আত পাঠ করতেন। যখন তার কিরা'আতের প্রায় ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকত, তখন তিনি দাড়িয়ে যেতেন এবং দাড়িয়ে তা তিলাওয়াত করতেন, অতঃপর রুকূ করতেন; পরে সিজদা করতেন। দ্বিতীয় রাকাতেও তেমনই করতেন। সালাত শেষ করে তিনি লক্ষ্য করতেন, আমি জেগে থাকলে আমার সাথে কথা বলতেন আর ঘুমিয়ে থাকলে তিনিও শুয়ে পড়তেন।