bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

মক্কা ও মদীনার মসজিদে নামাজের মর্যাদা (১১৮৮-১১৯৭)

কায'আ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ খুদরী-কে চারটি (বিষয়) বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি নবী (ﷺ) হতে শুনেছি। আবূ সাঈদ খুদরী নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে বারোটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মাসজিদুল হারাম, মাসজিদুর রাসূল এবং মাসজিদুল আকসা (বায়তুল মাক্দিস) তিনটি মাসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে (সালাতের) উদ্দেশে হাওদা বাধা যাবে না (সফর করা যাবে না)।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ মাসজিদুল হারাম ব্যতীত আমার এ মসজিদে সালাত আদায় করা অপরাপর মসজিদে এক হাজার সালাতের চেয়ে উত্তম।

নাফি হতে বর্ণিত যে, ইবন উমার দু' দিন ছাড়া অন্য সময়ে চাশ্তের সালাত আদায় করতেন না, যে দিন তিনি মক্কায় আগমন করতেন। তার অভ্যাস ছিল যে, তিনি চাশ্তের সময় মক্কায় আগমন করতেন। তিনি বাইতুল্লাহ্ ত্বওয়াফ করার পর মাকামে ইব্রাহীম-এর পিছনে দাড়িয়ে দু'রাকাত সালাত আদায় করতেন। আর যে দিন তিনি কুবা মসজিদে গমন করতেন। তিনি প্রতি শনিবার সেখানে গমন করতেন এবং সেখানে সালাত আদায় না করে বেরিয়ে আসা অপছন্দ করতেন। নাফি বলেন, তিনি (ইবন উমার হাদীস বর্ণনা করতেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কুবা মাসজিদ যিয়ারাত করতেন- কখনো সওয়ারীতে, কখনো পদব্রজে।

নাফি বলেন, তিনি (ইবন উমার তাকে আরো বলতেন, আমি আমার সাথীদেরকে যেমন করতে দেখেছি তেমন করব। আর কাউকে আমি দিন রাতের কোন সময়ই সালাত আদায় করতে বাধা দিইনা, তবে তারা যেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় (সালাতের) ইচ্ছা না করে।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) প্রতি শনিবার কুবা মসজিদে আসতেন, কখনো পদব্রজে, কখনো সওয়ারীতে। আবদুল্লাহ ইবন উমার -ও ঐরূপ করতেন।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আরোহণ করে কিংবা পায়ে হেটে কুবা মসজিদে আসতেন। ইবন নুমায়র নাফি হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) সেখানে দু' রাকাত সালাত আদায় করতেন।

আবদুল্লাহ্ ইবন যায়দ-মাযিনী হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আমার ঘর ও মিম্বার-এর মধ্যবর্তী স্থানটুকু জান্নাতের বাগানগুলোর একটি বাগান।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানগুলোর একটি বাগান আর আমার মিম্বর অবস্থিত আমার হাউয (কাউসার)-এর উপরে।

যিয়াদের আযাদকৃত দাস কাযাআহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ খুদরী-কে নবী (ﷺ) হতে চারটি বিষয় বর্ণনা করতে শুনেছি, যা আমাকে আনন্দিত ও মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেছেনঃ নারীগণ স্বামী কিংবা মাহরাম ব্যতীত দু'দিনের দূরত্বের পথে সফর করবে না। 'ঈদুল ফিতর ও 'ঈদুল আযহার দিনগুলোতে সিয়াম নেই। দু' (ফরয) সালাতের পর কোন (নফল ও সুন্নাত) সালাত নেই। ফাযরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এবং ১. মাসজিদুল হারাম, ২. মাসজিদুল আকসা এবং ৩. আমার মাসজিদ ছাড়া অন্য কোন মসজিদে (যিয়ারাতের উদ্দেশে) হাওদা বাধা যাবে না। (সফর করা যাবে না)।