bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ইচ্ছাপত্র বা উইল (ওয়াসিয়াত) (২৭৩৮-২৭৮১)

আবদুল্লাহ্ ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির উচিত নয় যে, তার অসীয়াতযোগ্য কিছু (সম্পদ) রয়েছে, সে দু'রাত কাটাবে অথচ তার নিকট তার অসীয়াত লিখিত থাকবে না।

আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর শ্যালক জুওয়াইরিয়া বিনতু হারিসের ভাই আমর ইবন হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার মৃত্যুকালে তার সাদা খচ্চরটি, তার হাতিয়ার এবং সে জমি যা তিনি সদাকাহ করেছিলেন, তাছাড়া কোন স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা, কোন দাস-দাসী কিংবা কোন জিনিস রেখে যাননি।

ত্বলহা ইবন মুসাররিফ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আবী আওফা-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) কি অসীয়াত করেছিলেন? তিনি বলেন, না। আমি বললাম, তাহলে কিভাবে লোকদের উপর অসীয়াত ফরজ করা হলো, কিংবা ওয়াসিয়াতের নির্দেশ দেয়া হলো? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আল্লাহর কিতাব মুতাবিক আমল করার জন্য অসীয়াত করেছেন।

আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ আয়িশাহ-এর নিকট আলোচনা করলেন যে, আলী নবী (ﷺ) এর ওয়াসী ছিলেন। আয়িশাহ বললেন, 'তিনি কখন তার প্রতি অসীয়াত করলেন? অথচ আমি তো আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে আমার বুকে অথবা বলেছেন আমার কোলে হেলান দিয়ে রেখেছিলাম। তখন তিনি পানির তস্তুরি চাইলেন, অতঃপর আমার কোলে ঢলে পড়লেন। আমি বুঝতেই পারিনি যে, তিনি ইন্তিকাল করেছেন। অতএব তার প্রতি কখন অসীয়াত করলেন?'

সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একবার আমাকে রোগাক্রান্ত অবস্থায় দেখতে আসেন। সে সময় আমি মক্কায় ছিলাম। কোন ব্যক্তি যে স্থান থেকে হিজরত করে, সেখানে মৃত্যুবরণ করাকে তিনি অপছন্দ করতেন। এজন্য তিনি বলতেন, আল্লাহ রহম করুন ইবন আফ্রা-র উপর। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি কি আমার সমুদয় মালের ব্যবহারের অসীয়াত করে যাব? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে অর্ধেক? তিনি ইরশাদ করলেন, না। আমি বললাম, তবে এক তৃতীয়াংশ? তিনি ইরশাদ করলেন, (হ্যা) এক তৃতীয়াংশ আর এক তৃতীয়াংশও অনেক। ওয়ারিসগণকে দরিদ্র পরমুখাপেক্ষী করে রেখে যাবার চেয়ে ধনী অবস্থায় রেখে যাওয়া উত্তম। তুমি যখনই কোন খরচ করবে, তা সদাকাহরূপে গণ্য হবে। এমনকি সে লোকমাও যা তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে। হয়ত আল্লাহ তাআলা তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং লোকেরা তোমার দ্বারা উপকৃত হবেন, আবার কিছু ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে সময় তার একটি মাত্র কন্যা ব্যতীত কেউ ছিল না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা যদি এক চতুর্থাংশে নেমে আসত। কেননা, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, এক তৃতীয়াংশ এবং তৃতীয়াংশই বিরাট অথবা তিনি বলেছেন বেশী।

আমির ইবন সাদ-এর পিতা সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী (ﷺ) আমাকে দেখতে আসেন। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন আমাকে পেছন দিকে ফিরিয়ে না নেন।১ তিনি বললেন, 'আশা করি আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তোমার দ্বারা লোকদের উপকৃত করবেন।' আমি বললাম, 'আমি অসীয়াত করতে চাই। আমার তো একটি মাত্র কন্যা রয়েছে।' আমি আরো বললাম, 'আমি অর্ধেক অসীয়াত করতে চাই।' তিনি বললেন, অর্ধেক অনেক অধিক। আমি বললাম, এক তৃতীয়াংশ। তিনি বললেন, আচ্ছা এক তৃতীয়াংশ এবং এক তৃতীয়াংশও অধিক বা তিনি বলেছেন বিরাট। সাদ বলেন, অতঃপর লোকেরা এক তৃতীয়াংশ অসীয়াত করতে লাগল। আর তা-ই তাদের জন্য জায়িয হয়ে গেল।

নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উত্বা ইবন আবূ ওয়াক্কাস তার ভাই সাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস-কে এই বলে অসীয়াত করেন যে, যাম'আর দাসীর ছেলেটি আমার ঔরসজাত। তাকে তুমি তোমার অধিকারে আনবে। মক্কা বিজয়ের বছর সাদ তাকে নিয়ে নেন এবং বলেন, সে আমার ভাতিজা, আমাকে এর ব্যাপারে ওয়াসিয়াত করে গেছেন। আব্দ ইবন যাম'আহ দাড়িয়ে বললেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর পুত্র। আমার পিতার বিছানায় তার জন্ম হয়েছে। তারা উভয়ই আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আসেন। সাদ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে আমার ভাইয়ের পুত্র এবং তিনি আমাকে তার সম্পর্কে ওয়াসিয়াত করে গেছেন। 'আব্দ ইবন যাম'আহ বললেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর পুত্র। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হে আব্দ ইবন যাম'আহ! সে তোমারই প্রাপ্য। কেননা যার বিছানায় সন্তান জন্মেছে, সে-ই সন্তানের অধিকারী। ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর। অতঃপর তিনি সাওদ বিন্তু যাম'আহ-কে বললেন, 'তুমি এই ছেলেটি থেকে পর্দা কর।' কেননা তিনি ছেলেটির সঙ্গে উত্বা-র সদৃশ্য দেখতে পান। ছেলেটির আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত সে কখনো সাওদাহ-কে দেখেনি।

আনাস হতে বর্ণিত। এক ইয়াহূদী একটি মেয়ের মাথা দু'টি পাথরের মাঝে রেখে তা থেঁতলে ফেলে। তাকে জিজ্ঞেস করা হল, কে তোমাকে এমন করেছে? কি অমুক, না অমুক ব্যক্তি? অবশেষে যখন সেই ইয়াহূদীর নাম বলা হল তখন মেয়েটি মাথা দিয়ে ইশারা করল, হ্যা। অতঃপর সেই ইয়াহূদীকে নিয়ে আসা হল এবং তাকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে সে স্বীকার করল। নবী (ﷺ) তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন। তখন পাথর দিয়ে তার মাথা থেঁতলিয়ে দেয়া হলো।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পদ পেতো সন্তান আর পিতা-মাতার জন্য ছিল অসীয়াত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তার পছন্দ মত এ বিধান রহিত করে ছেলের অংশ মেয়ের দ্বিগুণ, পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য এক ষষ্ঠাংশ, স্ত্রীর জন্য এক অষ্টমাংশ, এক চতুর্থাংশ, স্বামীর জন্য অর্ধেক, এক চতুর্থাংশ নির্ধারণ করেন।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! উত্তম সদাকাহ কোনটি? তিনি বলেন, সুস্থ এবং সম্পদের প্রতি অনুরাগ থাকা অবস্থায় দান খয়রাত করা, যখন তোমার ধনী হবার আকাঙ্ক্ষা থাকে এবং তুমি দারিদ্রের আশংকা কর, আর তুমি এভাবে অপেক্ষায় থাকবে না যে, যখন তোমার প্রাণ কন্ঠাগত হবে, তখন তুমি বলবে, অমুকের জন্য এতটুকু, অমুকের জন্য এতটুকু অথচ তা অমুকের জন্য হয়েই গেছে।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি কথা বললে মিথ্যা বলে, আমানত রাখলে খেয়ানত করে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে।

হাকীম ইবন হিযাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আমি সওয়াল করলাম, তিনি আমাকে দান করলেন। আবার সওয়াল করলাম, তিনি আমাকে দান করলেন। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, 'হে হাকীম! এই ধন সম্পদ সবুজ-শ্যামল, মধুর। যে ব্যক্তি দানশীলতার মনোভাব নিয়ে তা গ্রহণ করবে, তাতে তার বরকত হবে। আর যে ব্যক্তি প্রতীক্ষা কাতর অন্তরে তা গ্রহণ করবে, তাতে তার বরকত হবে না। সে ঐ ব্যক্তির মত যে খায়; কিন্তু তৃপ্ত হয় না। উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম।' হাকীম বলেন, অতঃপর আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আপনার পরে আমি দুনিয়া থেকে বিদায়ের আগে আর কারো কাছে কিছু চাইব না। অতঃপর আবূ বাকর কিছু দান করার জন্য হাকীমকে আহবান করেন, কিন্তু হাকীম তার নিকট হতে কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। অতঃপর উমার-ও হাকীম-কে কিছু দান করার জন্য ডেকে পাঠান, কিন্তু তার কাছ থেকেও কিছু গ্রহণ করতে তিনি অস্বীকার করেন। তখন উমার বলেন, হে মুসলিম সমাজ! আমি আল্লাহ প্রদত্ত গনীমতের মাল থেকে প্রাপ্য তার অংশ তার সামনে পেশ করেছি, কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকার করেছেন; হাকীম তার মৃত্যু পর্যন্ত নবী (ﷺ)-এর পরে আর কারো নিকট কিছু চাননি।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্ববান এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। শাসক হলেন দায়িত্ববান, তার দায়িত্ব সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্ববান এবং তাকে তার দায়িত্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের সম্পদের দায়িত্ববান, তার সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। গোলাম তার মালিকের ধন-সম্পদের দায়িত্ববান, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এও বলেছেন যে, পুত্র তার পিতার সম্পদের দায়িত্ববান।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আবূ ত্বলহা-কে বলেন আমার মত হলো, তোমার বাগানটি তোমার আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে দাও। আবূ ত্বলহা বলেন, আমি তা-ই করব হে আল্লাহর রাসূল! তাই আবূ ত্ব্র, হে বানূ আদী! তোমরা সতর্ক হও। আবূ হুরাইরাহ্ বলেন যে, যখন কুরআনের এই লহা তার বাগানটি তার আত্মীয়-স্বজন ও চাচাত ভাইয়ের মধ্যে ভাগ করে দেন। ইবন আব্বাস বলেন, যখন এই আয়াতটি নাযিল হলঃ "(হে মুহাম্মাদ) আপনার নিকট আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দেন"- (শু'আরা ১৪)। তখন নবী (ﷺ) কুরায়শ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোত্রদের ডেকে বললেন, হে বানূ ফিহআয়াত নাযিল হলোঃ "আপনি আপনার নিকটাত্মীদেরকে সতর্ক করে দিন"- (শু'আরা ২১৪)। তখন নবী (ﷺ) বললেন, হে কুরায়শ সম্প্রদায়।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আল্লাহ তাআলা কুরআনের এই আয়াতটি নাযিল করলেন, "আপনি আপনার নিকটাত্মীদেরকে সতর্ক করে দিন" (শু'আরা ২১৪) তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দাড়ালেন এবং বললেন, 'হে কুরায়শ সম্প্রদায়! কিংবা অনুরূপ শব্দ বললেন, তোমরা আত্মরক্ষা কর। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে বানূ আব্দ মানাফ! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না। হে সাফিয়্যাহ! আল্লাহর রাসূলের ফুফু, আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না। হে ফাতিমা বিন্তে মুহাম্মদ! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না।

আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একদা দেখতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি কুরবানীর উট হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ব্যক্তিটিকে বললেন, এর উপর সওয়ার হও। সে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো কুরবানীর উট। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তৃতীয়বার বা চতুর্থবার তাকে বললেন, তার উপর সওয়ার হয়ে যাও, দুর্ভোগ তোমার জন্য কিংবা বললেন, তোমার জন্য আফসোস।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন যে, সে একটি কুরবানীর উট হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে বললেন, এর উপর সওয়ার হও। লোকটি বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো কুরবানীর উট।' তিনি দ্বিতীয়বার কিংবা তৃতীয়বার বললেন, এর উপর সওয়ার হও, দুর্ভোগ তোমার জন্য।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, সাদ ইবন উবাদাহ-এর মা মারা গেলেন এবং তিনি সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা আমার অনুপস্থিতিতে মারা যান। আমি যদি তার পক্ষ থেকে কিছু সদাকাহ করি, তাহলে কি তার কোন উপকারে আসবে?' তিনি বললেন, 'হ্যা।' সাদ বললেন, 'তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করছি আমার মিখরাফ্ নামক বাগানটি তার জন্য সদাকাহ করলাম।'

কা'ব ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার তাওবা হিসেবে আমি আমার যাবতীয় মাল আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের উদ্দেশে সদাকাহ করে মুক্ত হতে চাই। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, কিছু মাল নিজের জন্য রেখে দাও, তা তোমার জন্য উত্তম। আমি বললাম, 'তাহলে আমি আমার খায়বারের অংশটি নিজের জন্য রেখে দিলাম।

ইসমাঈল আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন নাযিল হলো, "তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত কখনো পুণ্য লাভ করতে পারবে না"- (আলে ইমরান ৯২)। তখন আবূ ত্বলহা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আল্লাহ তার কিতাবে বলেছেন, "তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত কখনো পুণ্য লাভ করতে পারবে না" এবং আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হলো বায়রূহা। আনাস বলেন, এটি সে বাগান যেখানে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাশরীফ নিয়ে ছায়ায় বসতেন এবং এর পানি পান করতেন। আবূ ত্বলহা বলেন, এটি আল্লাহ ও তার রাসূলের উদ্দেশে দান করলাম। আমি এর বিনিময়ে সাওয়াব ও আখিরাতের সঞ্চয়ের আশা রাখি। হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে যেখানে ব্যয় করার নির্দেশ দেন সেখানে তা ব্যয় করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, বেশ, হে আবূ ত্বলহা! এটি লাভজনক সম্পদ। আমি তোমার নিকট হতে তা গ্রহণ করলাম এবং তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম। তা তুমি তোমার আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বণ্টন করে দাও। অতঃপর আবূ ত্বলহা তা আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে সদাকাহ করে দিলেন। আনাস বলেন যে, এদের মধ্যে উবাই এবং হাস্সানও ছিলেন। হাস্সান তার অংশ মুআবিয়াহ-এর নিকট বিক্রি করে দেন। জিজ্ঞেস করা হলো, তুমি কি আবূ ত্বলহা এর সদাকাহকৃত সম্পদ বিক্রি করে দিচ্ছ? হাসসান বলেন, আমি কি এক সা' দিরহামের বিনিময়ে এক সা' খেজুর বিক্রি করবো না? আনাস বলেন, বাগানটি ছিল বনু হুদায়লা প্রাসাদের জায়গায় অবস্থিত, যা মুআবিয়াহ নির্মাণ করেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের ধারণা উক্ত আয়াতটি মানসূখ হয়ে গেছে; কিন্তু আল্লাহর কসম। আয়াতটি মানসূখ হয়নি; বরং লোকেরা এর উপর আমল করতে অনীহা প্রকাশ করছে। আত্মীয় দু' ধরনের- এক, আত্মীয় যারা ওয়ারিস হয়, এবং তারা উপস্থিতদের কিছু দিবে। দুই, এমন আত্মীয় যারা ওয়ারিস নয়, তারা উপস্থিতদের সঙ্গে সদালাপ করবে এবং বলবে, তোমাদেরকে কিছু দেয়ার ব্যাপারে আমাদের কোন অধিকার নেই।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে বললেন, আমার মা হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার ধারণা হয় যে, যদি তিনি কথা বলতে পারতেন তবে সদাকাহ্ করতেন। আমি কি তার পক্ষ হতে সদাকাহ্ করব? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যা, তার পক্ষ হতে সদাকাহ্ করতে পার।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। সাদ্ ইবন উবাদাহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জানতে চাইলেন যে, আমার মা মারা গেছেন এবং তার উপর মানৎ ছিল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ কর।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, বানু সাঈদাহ'র নেতা সাদ ইবন উবাদাহ-এর মা মারা গেলেন। তখন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। অতঃপর নবী (সা) এর নিকট এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা আমার অনুপস্থিতিতে মারা গেছেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদাকাহ্ করি, তবে তা কি তার কোন উপকারে আসবে? তিনি বলেন, হ্যা। সাদ বললেন, 'তাহলে আপনাকে সাক্ষী করে আমি আমার মিখরাফের বাগানটি তার উদ্দেশ্যে সদাকাহ করলাম।

উরওয়াহ ইবন যুবাইর হতে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশাহ-কে জিজ্ঞেস করেনঃ "যদি আশংকা কর যে, তাদের মধ্যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের স্বত্বাধীন ক্রীতদাসীকে"- (আন-নিসা ৩)। আয়াতটির অর্থ কী? আয়িশাহ বললেন, এখানে সেই ইয়াতীম মেয়েদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যে তার অভিভাবকের লালন-পালনে থাকে। অতঃপর সে অভিভাবক তার রূপ-লাবণ্য ও ধন-সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে, তার সম মানের মেয়েদের প্রচলিত মাহর থেকে কম দিয়ে তাকে বিয়ে করতে চায়। অতএব যদি মাহর পূর্ণ করার ব্যাপারে এদের প্রতি ইনসাফ করতে না পারে তবে ঐ অভিভাবকদেরকে নিষেধ করা হয়েছে এদের বিবাহ করতে এবং নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের ব্যতীত অন্য মেয়েদের তোমরা বিবাহ করবে। আয়িশাহ বলেন, অতঃপর লোকেরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ "আর লোকেরা আপনার কাছে নারীদের সম্বন্ধে বিধান জানতে চায়। বলুনঃ আল্লাহ তাদের সম্বন্ধে তোমাদের ব্যবস্থা দিচ্ছেন"- (আন-নিসা ১২৭)। আয়িশাহ বলেন, আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে বর্ণনা করেন যে, ইয়াতীম মেয়েরা সুন্দরী ও সম্পদশালীনী হলে অভিভাবকরা তাদের বিয়ে করতে আগ্রহী হয়, কিন্তু পূর্ণ মাহর প্রদান করে না। আবার ইয়াতীম মেয়েরা গরীব হলে এবং সুশ্রী না হলে তাদের বিয়ে করতে চায় না বরং অন্য মেয়ে তালাশ করে। আয়িশাহ বলেন যে, আকর্ষণীয়া না হলে তারা যেমন ইয়াতীম মেয়েদের পরিত্যাগ করে, তেমনি আকর্ষণীয়া মেয়েদেরও তারা বিয়ে করতে পারবে না, যদি তাদের ইনসাফের ভিত্তিতে পূর্ণ মাহর প্রদান এবং তাদের হক ন্যায়সঙ্গতভাবে আদায় না করে।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সময়ে উমার নিজের কিছু সম্পত্তি সদাকাহ করেছিলেন, তা ছিল, ছামাগ নামে একটি খেজুর বাগান। উমার বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি সম্পদ পেয়েছি, যা আমার নিকট খুবই পছন্দনীয়। আমি সেটি সদাকাহ করতে চাই।' নবী (ﷺ) বলেন, 'মূল সম্পদটি এ শর্তে সদাকাহ কর যে তা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং কেউ ওয়ারিস হবে না, বরং তার ফল দান করা হবে। অতঃপর উমার সেটি এভাবেই সদাকাহ করলেন। তার এ সদাকাহ ব্যয় হবে আল্লাহর রাস্তায়, দাস মুক্তির ব্যাপারে, মিসকীন, মেহমান, মুসাফির ও আত্মীয়দের জন্য। এর যে মুতাওয়াল্লী হবে তার জন্য তা থেকে সঙ্গত পরিমাণ আহার করলে কিংবা বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ালে কোন দোষ নেই। তবে তা সঞ্চয় করা যাবে না।

আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আল্লাহ তাআলার বাণীঃ) যে বিত্তবান সে যেন বিরত থাকে আর যে বিত্তহীন সে যেন সংগত পরিমাণ ভোগ করে (৪ঃ৬)। আয়াতটি ইয়াতীমের অভিভাবক সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। অভিভাবক যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তাহলে ন্যায়সঙ্গতভাবে ইয়াতীমের সম্পত্তি থেকে খেতে পারবে।

আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেন, (১) আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা (২) যাদু (৩) আল্লাহ তাআলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়ত সম্মত কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করা (৪) সুদ খাওয়া (৫) ইয়াতীমের মাল গ্রাস করা (৬) রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং (৭) সরল স্বভাবা সতী-সাধ্বী মুমিনাদের অপবাদ দেয়া।

নাফি হতে বর্ণিত। ইবন উমার কখনো কারো অসীয়াত প্রত্যাখ্যান করেননি। ইবন সীরীন-এর নিকট ইয়াতীমের মাল সম্পর্কে সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ছিল, অভিভাবক ও শুভাকাঙক্ষীদের একত্রিত হওয়া, যাতে তারা তার কল্যাণের কথা বিবেচনা করে। তাউস-এর নিকট ইয়াতীমের ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করা হলে তিনি পাঠ করতেনঃ "আল্লাহ জানেন কে হিতকারী আর কে অনিষ্টকারী।" (আল-বাকারাহঃ ২২০) আতা বলেন, ইয়াতীম ছোট হোক কিংবা বড়, অভিভাবক তার অংশ থেকে প্রত্যেকের জন্য পরিমাণ মত ব্যয় করতে পারবে।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন মদিনায় এলেন, তখন তার কোন খাদিম ছিল না। আবূ ত্বলহা আমার হাত ধরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আমাকে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আনাস একজন বুদ্ধিমান ছেলে। সে আপনার খেদমত করবে।' অতঃপর সফরে ও আবাসে আমি তার খেদমত করেছি। আমার কোন কাজ সম্পর্কে তিনি কখনো বলেননি, তুমি এরূপ কেন করলে? কোন কাজ না করলে তিনি বলেননি, তুমি এটি এরকম কেন করলে না?

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, মদিনায় আনসারদের মধ্যে আবূ ত্বলহার খেজুর বাগান-সম্পদ সবচেয়ে অধিক ছিল। আর সকল সম্পদের মধ্যে তার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ ছিল মসজিদের সামনে অবস্থিত বায়রুহা বাগানটি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সে বাগানে যেতেন এবং এর সুস্বাদু পানি পান করতেন। আনাস বলেন, যখন নাযিল হলঃ "তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা নেকী হাসিল করতে পারবে না।" আবূ ত্বলহা দাড়িয়ে বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ বলেছেনঃ "তোমরা যা ভালবাস, তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো নেকী হাসিল করতে পারবে না।" আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হলো বায়রুহা। সেটি আল্লাহর নামে সদাকাহ। আমি আল্লাহর নিকট এর সওয়াব ও কিয়ামতের সঞ্চয়ের আশা করি। আল্লাহর মর্জি অনুযায়ী আপনি তা ব্যয় করুন।' আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, 'ভাল কথা! এটি লাভজনক সম্পদ অথবা (বললেন), অস্থায়ী সম্পদ।' ইবন মাসলামা সন্দেহ পোষণ করেন। [রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন] তুমি যা বলেছ, আমি তা শুনেছি। আমার মতে তুমি তা তোমার আত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করে দাও। আবূ ত্বলহা বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা-ই করব।' অতঃপর তিনি তা তার আত্মীয় ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, এক সাহাবী আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বললেন যে, তার মা মারা গেছেন। তার পক্ষ থেকে যদি আমি সদাকাহ করি তাহলে তা কি তার উপকারে আসবে? তিনি বললেন, হ্যা। সাহাবী বললেন, আমার একটি বাগান আছে, আপনাকে সাক্ষী রেখে আমি তার পক্ষ থেকে সদাকাহ করলাম।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মাসজিদ তৈরির নির্দেশ দিলেন। অতঃপর বললেন, হে বানূ নাজ্জার! তোমরা এই বাগানটির মূল্য নির্ধারণ করে আমার নিকট বিক্রি কর। তারা বলল, না। আল্লাহর কসম! আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে এর মূল্য চাই না।

ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার খায়বারের কিছু জমি লাভ করেন। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, আমি এমন ভাল একটি জমি পেয়েছি, যা ইতোপূর্বে কখনো পাইনি। আপনি এ সম্পর্কে আমাকে কী নির্দেশ দেন? তিনি বলেন, তুমি ইচ্ছা করলে আসল জমিটি ওয়াক্ফ করে তার উৎপন্ন সদাকাহ করতে পার। উমার এটি গরীব, আত্মীয়-স্বজন, গোলাম আযাদ, আল্লাহর পথে, মেহমান ও মুসাফিরদের জন্য এ শর্তে সদাকাহ করলেন যে, আসল জমি বিক্রি করা যাবে না, কাউকে দান করা যাবে না, কেউ এর ওয়ারিস হবে না। তবে যে এর মুতাওয়াল্লী হবে তার জন্য তা থেকে সঙ্গত পরিমাণ খেতে বা বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ানোতে কোন দোষ নেই। তবে এ থেকে সঞ্চয় করা যাবে না।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, উমার খায়বারে কিছু সম্পদ লাভ করেন এবং নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে তাকে অবহিত করেন। তিনি বললেন, তুমি ইচ্ছা করলে সেটি সদাকাহ করতে পার। অতঃপর তিনি সেটি অভাবগ্রস্ত, মিসকীন, আত্মীয়-স্বজন ও মেহমানদের মধ্যে সদাকাহ করে দিলেন।

আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন মদিনায় এলেন তখন মাসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিলেন এবং তিনি বললেন, 'হে বানূ নাজ্জার! মূল্য নির্ধারিত করে তোমাদের এ বাগানটি আমার নিকট বিক্রি করে দাও।' তারা বলল, না, আল্লাহর কসম! মহান আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে আমরা এর মূল্য চাই না।'

ইবন উমার হতে বর্ণিত। উমার এক ব্যক্তিকে তার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দেন, যেটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে আরোহণ করার জন্য দিয়েছিলেন, তিনি এক ব্যক্তিকে তা আরোহণ করার জন্য দিলেন। উমার-কে জানান হলো যে, ঘোড়াটি সে ব্যক্তি বিক্রির জন্য রেখে দিয়েছে। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে সেটি ক্রয় করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, 'তুমি তা ক্রয় করবে না এবং যা সদাকাহ করে দিয়েছ তা আর ফিরিয়ে নিও না।

আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, 'আমার উত্তরাধিকারীরা কোন স্বর্ণ মুদ্রা এবং রৌপ্য মুদ্রা ভাগাভাগি করবে না, বরং আমি যা কিছু রেখে গেলাম তা থেকে আমার স্ত্রীদের খরচ এবং কর্মচারীদের পারিশ্রমিক দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সদাকাহ।

ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, উমার তার ওয়াক্ফে এই শর্তারোপ করেন যে, মুতাওয়াল্লী তা থেকে নিজে খেতে পারবে এবং বন্ধু-বান্ধবকেও খাওয়াতে পারবে, তবে সম্পদ জমা করতে পারবে না।

আবদুর রহমান হতে বর্ণিত যে, উসমান অবরুদ্ধ হলে তিনি উপর থেকে সাহাবীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বললেন, আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আর আমি নবী (ﷺ)-এর সাহাবীদেরকেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনারা কি জানেন না যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছিলেন, যে ব্যক্তি রূমার কুপটি খনন করে দিবে সে জান্নাতী এবং আমি তা খনন করে দিয়েছি। আপনারা কি জানেন না যে, তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি তাবূকের যুদ্ধে সেনাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেবে, সে জান্নাতী এবং আমি তা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবীগণ তার কথা সত্য বলে স্বীকার করলেন। উমার তার কথা সম্পর্কে বলেছিলেন, মুতওয়াল্লীর জন্য তা থেকে আহার করতে কোন দোষ নেই। ওয়াক্ফকারী কখনো নিজে মুতওয়াল্লী হয় আবার কখনো অপর ব্যক্তি হয়। এ ব্যাপারে সকলের জন্য প্রশস্ততা রয়েছে।

আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী (ﷺ) বললেন, হে বানূ নাজ্জার! তোমাদের বাগানটি মূল্য নির্ধারণ করে আমার নিকট বিক্রি করে দাও। তারা বলল, আমরা এর মূল্য একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে চাই না।

ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহম গোত্রের এক ব্যক্তি তামীম দারী ও আদী ইবন বাদ্দা-এর সঙ্গে সফরে বের হন এবং সাহম গোত্রের ব্যক্তিটি এমন এক স্থানে মারা যান, যেখানে কোন মুসলিম ছিল না। তারা দু'জন তার পরিত্যক্ত জিনিস পত্র নিয়ে ফিরে আসলে মৃতের আত্মীয়-স্বজন তার মধ্যে স্বর্ণ খচিত একটি রূপার পেয়ালা পেলেন না। এ সম্পর্কে তাদের দু'জনকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কসম করালেন। অতঃপর পেয়ালাটি মক্কায় পাওয়া গেল। (যাদের নিকট পাওয়া গেল) তারা বলল, আমরা এটি তামীম ও আদী-এর নিকট থেকে খরিদ করেছি। অতঃপর মৃতের আত্মীয়দের মধ্য থেকে দু'ব্যক্তি দাড়িয়ে কসম করে বলে, এ দু'জনের সাক্ষ্য থেকে আমাদের সাক্ষ্য অধিক গ্রহণীয়। নিশ্চই এ পেয়ালাটি তাদের আত্মীয়ের। বর্ণনাকারী বলেন, তাদের সম্বন্ধে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়ঃ 'হে ঈমানদারগণ! মৃত্যু যখন তোমাদের কারো নিকটবর্তী হয়...' (আল-মায়িদাহঃ ১০৬)।

জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী হতে বর্ণিত যে, তার পিতাকে উহুদের যুদ্ধে শহীদ করা হয়। তিনি ছ'টি কন্যা সন্তান রেখে যান আর তার উপর ঋণও রেখে যান। খেজুর কাটার সময় হলে আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি জানেন যে, আমার পিতাকে উহুদের যুদ্ধে শহীদ করা হয়েছে আর তিনি অনেক ঋণ রেখে গেছেন। আমার মনে চায় যে, পাওনাদাররা আপনার সঙ্গে দেখা করুক। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি যাও। এক এক রকম খেজুর এক এক স্থানে জমা কর। আমি তা-ই করলাম। অতঃপর তাকে অনুরোধ করে নিয়ে এলাম। পাওনাদাররা যখন তাকে দেখল, তখন তারা আমার নিকট জোর তাগাদা করতে লাগল। তিনি তাদের এরূপ করতে দেখে খেজুরের বড় স্তুপটির চারদিকে তিনবার ঘুরলেন, অতঃপর তার উপর বসে পড়লেন। অতঃপর বললেন, তোমার পাওনাদারদের ডাক। তিনি মেপে মেপে তাদের পাওনা আদায় করতে লাগলেন এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার পিতার সমস্ত ঋণ আদায় করে দিলেন। আর আল্লাহর কসম, আমি এতেই সন্তুষ্ট যে, আমার পিতার ঋণ আল্লাহ পরিশোধ করে দেন এবং আমি আমার বোনদের নিকট একটি খেজুরও নিয়ে না ফিরি। কিন্তু আল্লাহর কসম! সমস্ত স্ত্তপই যেমন ছিল তেমন রয়ে গেল। আমি সেই স্তুপটির দিকে বিশেষভাবে তাকিয়ে ছিলাম, যার উপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বসেছিলেন। মনে হলো যে, তা থেকে একটি খেজুরও কমেনি।