বিতর (৯৯০-১০০৪)
ইবন উমার হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর নিকট রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ রাতের সালাত দু' দু' (রাকাত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজর হবার আশঙ্কা করে, সে যেন এক রাকাত সালাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সালাত আদায় করল, তা তার জন্য বিতর হয়ে যাবে।
নাফি হতে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন উমার বিত্র সালাতের এক ও দু' রাকাতের মাঝে সালাম ফিরাতেন (দুই রাকাত পড়ে সালাম ফেরাতেন অতঃপর আরো এক রাকাত পড়তেন)। অতঃপর কাউকে কোন প্রয়োজনীয় কাজের নির্দেশ দিতেন।
ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি তার খালা মাইমূনাহ-এর ঘরে রাত কাটান। (তিনি বলেন) আমি বালিশের প্রস্থের দিক দিয়ে শয়ন করলাম এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ও তার পরিবার সেটির দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে শয়ন করলেন। নবী (ﷺ) রাতের অর্ধেক বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ঘুমালেন। অতঃপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং চেহারা হতে ঘুমের রেশ দূর করলেন। পরে তিনি সূরাহ ইমরানের (শেষ) দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একটি ঝুলন্ত মশ্কের নিকট গেলেন এবং উত্তমরূপে উযূ করলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাড়ালেন। আমিও তার মতই করলাম এবং তার পাশেই দাড়ালাম। তিনি তার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার কান ধরলেন। অতঃপর তিনি দু' রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু' রাকাত, অতঃপর দু' রাকা'আত, অতঃপর দু' রাকাত, অতঃপর দু' রাকাত, অতঃপর দু' রাকাত। অতঃপর বিতর আদায় করলেন। অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুআয্যিন তার নিকট এলো। তখন তিনি দাড়িযে দু' রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বের হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ রাতের সালাত দু' দু' রাকাত করে। অতঃপর যখন তুমি সালাত শেষ করতে চাইবে, তখন এক রাকাত আদায় করে নিবে। তা তোমার পূর্ববর্তী সালাতকে বিতর করে দিবে। ক্বাসিম বলেন, আমরা সাবালক হয়ে লোকদের তিন রাকাত বিতর আদায় করতে দেখেছি। উভয় নিয়মেরই অবকাশ রয়েছে। আমি আশা করি এর কোনটিই দূষণীয় নয়।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এগার রাকাত সালাত আদায় করতেন। এ ছিল তার রাত্রিকালীন সালাত। এতে তিনি এমন দীর্ঘ সিজদা করতেন যে, তার মাথা উঠাবার পূর্বে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারে এবং ফজরের সালাতের পূর্বে তিনি আরো দু' রাকাত পড়তেন। অতঃপর তিনি ডান কাতে শুয়ে বিশ্রাম করতেন, সালাতের জন্য মুআয্যিনের আসা পর্যন্ত।
আনাস ইবন সীরীন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমার-কে বললাম, ফজরের পূর্বের দু' রাকআতে আমি কিরাআত দীর্ঘ করব কি-না, এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) রাতে দু' দু' রাকাত করে সালাত আদায় করতেন এবং এক রাকাত বিতর আদায় করতেন। অতঃপর ফজরের সালাতের পূর্বে তিনি দু' রাকাত এমনভাবে আদায় করতেন যেন ইকামতের শব্দ তার কানে আসছে। রাবী হাম্মাদ বলেন, তাড়াতাড়ি।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রাতের সকল অংশে (বিভিন্ন রাতে বিভিন্ন সময়ে) বিতর আদায় করতেন আর (জীবনের) শেষ দিকে সাহরির সময় তিনি বিতর আদায় করতেন।
আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) (রাতে) সালাত আদায় করতেন, তখন আমি তার বিছানায় আড়াআড়িভাবে ঘুমিয়ে থাকতাম। অতঃপর তিনি যখন বিতর পড়ার ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগিয়ে দিতেন এবং আমিও বিতর আদায় করে নিতাম।
আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত করবে।
সাঈদ ইবন ইয়াসার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমার-এর সঙ্গে মক্কার পথে সফর করছিলাম। সাঈদ বলেন, আমি যখন ফজর হয়ে যাবার ভয় করলাম, তখন সওয়ারী হতে নেমে পড়লাম এবং বিতরের সালাত আদায় করলাম। অতঃপর তার সঙ্গে মিলিত হলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবন উমার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায় ছিলে? আমি বললাম, ভোর হয়ে যাবার ভয়ে নেমে বিতর আদায় করেছি। তখন আবদুল্লাহ ইবন উমার বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর মধ্যে কি তোমার জন্য উত্তম আদর্শ নেই? আমি বললাম, হ্যা, আল্লাহর কসম! তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উটের পিঠে বিতরের সালাত আদায় করতেন।
ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সফরে ফরজ সালাত ব্যতীত তার সওয়ারী হতেই ইঙ্গিতে রাতের সালাত আদায় করতেন সওয়ারী যে দিকেই ফিরুক না কেন। আর তিনি বাহনের উপরেই বিতর আদায় করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন সীরীন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবন মালিক-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ফজরের সালাতে কি নবী (ﷺ) কুনূত পড়েছেন? তিনি বললেন, হ্যা। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো তিনি কি রুকূর পূর্বে কুনূত পড়েছেন? তিনি বললেন, কিছু সময় রুকূর পরে পড়েছেন।
'আসিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক-কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, কুনূত অবশ্যই পড়া হত। আমি জিজ্ঞেস করলাম রুকূর পূর্বে না পরে? তিনি বললেন, রুকূর পূর্বে। 'আসিম বললেন, অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার বরাত দিয়ে বলেছেন যে, আপনি বলেছেন, রুকূর পরে। তখন আনাস বলেন, সে ভুল বলেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকূর পরে এক মাস ব্যাপী কুনূত পাঠ করেছেন। আমার জানা মতে, তিনি সত্তর জন সাহাবীর একটি দল, যাদের কুর্রা (অভিজ্ঞ ক্বারীগণ) বলা হতো মুশরিকদের কোন এক কওমের উদ্দেশে পাঠান। এরা সেই কাউম নয়, যাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বদ্ দোয়া করেছিলেন। বরং যাদের সাথে তার চুক্তি ছিল (এবং তারা চুক্তি ভঙ্গ করে ক্বারীগণকে হত্যা করেছিল) তিনি এক মাস ব্যাপী কুনূতে সে সব কাফিরদের জন্য অভিসম্পাত করেছিলেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মাস ব্যাপী নবী (ﷺ) রি'ল ও যাক্ওয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে কুনূতে দোয়া পাঠ করেছিলেন।
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাগরিব ও ফজরের সালাতে কুনূত পড়া হত।