bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

মুনাফিকদের বিবরণ ও তাদের বিধানাবলী (৬৯১৮-৬৯৩৮)

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ..... যায়দ ইবন আরকাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে কোন এক সফরে আমরা বের হলাম। এ সফরে মানুষজন অনেক কষ্টে পড়ে। সে সময় আবদুল্লাহ ইবন উবাই তার সাখীদেরকে বলল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথীদের জন্যে তোমরা কিছু ব্যয় করো না, যাতে তারা তার কাছ হতে দূরে চলে যায়। যুহায়র বলেন, এ হলো ঐ লোকের তিলাওয়াত যে, শক্তিশালীগণ বেশি দুর্বলগণকে বহিষ্কার করে দিবে। আর সে এটাও বলল, আমরা মদীনায় ফিরে আসলে সেখান থেকে নিশ্চয়ই বেশি দুর্বলকে বহিষ্কৃত করবে শক্তিশালী ব্যক্তি। এ কথা শুনে আমি রসূলুল্লাহ(ﷺ) এর কাছে এসে তার এ কথাবার্তার ব্যাপারে তাকে জানালাম। তখন তিনি আবদুল্লাহ ইবন উবাইকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলেন। সে জোরদার শপথ করে বলল যে, সে এমন কর্ম করেনি। আর বলল, যায়দ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে। যায়দ বলেন, তাদের এ কথায় আমি মনে কঠিন কষ্ট পেলাম। তখন আল্লাহ তাআলা আমার সততার পক্ষে অবতীর্ণ করেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে এজন্য আহ্বান করলে যে, তিনি তাদের জন্যে মার্জনা প্রার্থনা করবেন। তিনি বলেন, তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নিল। আল্লাহ তাআলা তাদের ব্যাপারে বলেছেন, তারা দেয়ালে ভর দেয়া কাঠের স্তম্ভ সরূপ। যায়দ বলেন, বাহ্যিকভাবে তারা ছিল খুবই সুন্দর মানুষ।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব ও আহমাদ ইবন আবদাল্লাহ আয যাব্বী .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর কবরের কাছে আসলেন এবং তাকে তার কবর থেকে উঠিয়ে নিজ হাটুর উপর রাখলেন এবং তিনি তার উপর থুথু দিলেন এবং তাকে নিজ জামা পরিয়ে দিলেন। আল্লাহই এ ব্যাপারে পূর্ণ অবগত।

আহমাদ ইবন ইউসুফ আল আযদী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উবাইকে কবরে ঢুকানোর পর নবী (ﷺ) তার কাছে আসছেন। হাদীসের পরবর্তী অংশটুকু সুফইয়ান এর হুবহু বর্ণনা করেছেন।

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর মৃত্যুর পর তার সন্তান আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসলেন এবং তার পিতার কাফনের জন্যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জামাটি চাইলেন। তিনি তাকে জামাটি দিয়ে দিলেন। তারপর তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার পিতার সালাতে জানাযা আদায়ের জন্যে অনুরোধ করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযার সালাত আদায়ের জন্য দাড়ালেন। এমতাবস্থায় উমর দাড়িয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাপড় টেনে ধরে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তার জানাযা কি আপনি আদায় করাবেন? আর আল্লাহ তাআলা তার সালাতে জানাযা আদায় করাতে আপনাকে বারণ করেছেন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ ব্যাপারে তো আল্লাহ তাআলা আমাকে এ কথা বলে স্বাধীনতা দিয়েছেন যে, আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন অথবা তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা না করুন- উভয়ই সমান, আপনি সত্তরবারও যদি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন- সবই সমান। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি সত্তরের উপরে বাড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব। উমর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সে তো কপট ছিল। এরপরও রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সালাতে জানাযা আদায় করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন- "তাদের মাঝে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার জন্যে জানাযার সালাত আদায় করবেন না এবং তার কবরের পাশেও দণ্ডায়মান হবেন না"(আত তওবা্ ৯ঃ ৮৪)।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... উবাইদুল্লাহ হতে উক্ত সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে বর্ধিত রয়েছে যে, তারপর হতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুনাফিকদের সালাতে জানাযা আদায় করা পরিপূর্ণরূপে পরিত্যাগ করলেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবু উমার মাক্কী .... ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাইতুল্লাহর কাছে তিন লোক একত্রিত হলো। এদের দু'জন কুরাইশী এবং একজন সাকাফী অথবা দু'জন সাকাফী এবং একজন কুরাইশী ছিল। তাদের অন্তরে সূক্ষ্মজ্ঞান খুব কমই ছিল। তবে পেটে অনেক চর্বি ছিল। তাদের একজন বলল, আমরা যা বলি আল্লাহ সব শুনেন, এ কথা কি তোমরা মনে করো? তখন দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, আমরা উচ্চ আওয়াজে কথা বললে আল্লাহ তা শুনে থাকেন। তবে নিম্নস্বরে কথা বললে আল্লাহ তা শুনেন না। তখন তৃতীয় ব্যক্তি বলল, উচ্চ আওয়াজে কথা বললে যদি তিনি শুনে থাকেন তবে নিম্নস্বরে কথা বললেও তিনি তা শুনতে পাবেন। এ প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন, "তোমরা গোপন করতে পারবে না এজন্য যে, তোমাদের কান, চোখ এবং ত্বক তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে"(ফুসসিলাত ৪১ঃ ২২)।

আবূ বকর ইবন খাল্লাদ আল বাহিলী ও ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ থেকে অবিকল বর্ণনা করেছেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... যায়দ ইবন সাবিত থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের জন্যে বের হলেন। এমন সময় কতক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সফরসঙ্গী হয়েও ফিরে আসলো। তাদের সম্পর্কে নবী (ﷺ) এর সাহাবাগণ দু'দলে ভাগ হয়ে গেল। কেউ বলল, আমরা তাদেরকে হত্যা করে ফেলব; আর কেউ বলল, আমরা তাদের হত্যা করব না। তখন অবতীর্ণ হলো, "তোমাদের কি হলো যে, তোমরা মুনাফিকদের ব্যাপারে দু'দলে ভাগ হয়ে গেলে?"(আন নিসা ৪ঃ ৮৮)।

যুহায়র ইবন হারব ও আবু বকর ইবন নাফি ..... শুবাহ হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী ও মুহাম্মাদ ইবন সাহল আত তামীমী .... আবূ সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবিতাবস্থায় কতক মুনাফিক লোকের অভ্যাস এই ছিল যে, নবী (ﷺ) যখন যুদ্ধের জন্যে বের হতেন তখন তারা পিছনে গা ঢাকা দিয়ে থাকতো এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিরুদ্ধে অবস্থান করাতেই তারা উচ্ছাস প্রকাশ করত। এরপর যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে আসতেন তখন তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে বিভিন্ন অজুহাত পেশ করত, কসম করত এবং প্রত্যাশা করত যেন তারা প্রশংসিত হয় এমন কার্যের উপর যা তারা করেনি। তখন অবতীর্ণ হলোঃ "যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দোল্লাস করে এবং যা নিজেরা করেনি এমন কর্মের জন্য প্রশংসিত হতে পছন্দ করে, তারা আযাব থেকে রেহাই পাবে- আপনি কক্ষনো এমন মনে করবেন না। তাদের জন্যে আছে কঠিন আযাব" (ইমরান ৩ঃ ১৮৮)।

যুহায়র ইবন হারব ও হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান ইবন আওফ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মারওয়ান তার দারোয়ান রাফিকে বললেন, তুমি ইবন আব্বাস এর কাছে যাও এবং বলো, নিজে যা করেছে তাতে খুশী হয় এবং যা করেনি তাতে প্রশংসিত হতে চেয়ে আমাদের মধ্যে কেউ যদি আযাব পায় তবে আমরা সবাই আযাবে পড়ব। ইবন আব্বাস বললেন, এ আয়াতের সঙ্গে তোমাদের কি সম্পর্ক? এ আয়াত তো আহলে কিতাব সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। এরপর ইবন আব্বাস এ আয়াত পাঠ করলেন- "স্মরণ করো, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল। আল্লাহ তাদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন- তোমরা মানুষের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না।" তারপর ইবন আব্বাস পড়লেন, "যারা নিজের যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং যা নিজেরা করেনি তার জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শাস্তি হতে মুক্তি পাবে, এরূপ আপনি কক্ষনো মনে করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে মর্মম্ভদ আযাব।" তারপর ইবন আব্বাস বলেন, নবী (ﷺ) কিতাবীদের নিকট কোন ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা তা গোপন করলো এবং তার উত্তরে ভিন্ন কথা বলে দিল। তারপর তারা এমন ভনিতা করে বের হলো যে, জিজ্ঞাসিত বিষয়ের যথাযথ জবাব তারা নবী (ﷺ) কে দিয়েছে। তারা এতে নবী (ﷺ) এর কাছে প্রশংসা কামনা করেছিল এবং জিজ্ঞাসিত বিষয়টি গোপন করার মাধ্যমে তারা খুবই আনন্দিত হয়েছিল।

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... কায়স থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আম্মার কে প্রশ্ন করলাম, তোমরা আমাকে সে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করো যা তোমরা আলী এর ব্যাপারে গ্রহণ করেছে। একি তোমাদের সিদ্ধান্ত না এ সম্পর্কে রসূল (ﷺ) তোমাকে কোন আদেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বসাধারণকে যে কথা বলেননি, এমন কোন কথা তিনি আমাদেরকেও বলে যাননি। তবে হুযাইফাহ্ আমাকে বলেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার সাহাবাদের মাঝে বারোজন মুনাফিক লোক আছে। এদের আটজনের জান্নাতে প্রবেশ করা এমনিভাবে অসম্ভব যেমনিভাবে সূচের ছিদ্র দিয়ে উষ্ট্রের প্রবেশ করা অসম্ভব। দুবাইলাহ (এক প্রকার বড় ধরনের ফোড়া) আটজন লোককে শেষ করে দিবে। আসওয়াদ বলেন, বাকী চার লোক সম্বন্ধে শুবাহ কি বলেছেন, আমার তা মনে নেই।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না এবং মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... কায়স ইবন উবাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আম্মার কে প্রশ্ন করলাম, আপনাদের এ সংগ্রামের ব্যাপারে বলুন তো, তা কি আপনাদের স্বীয় মতের ভিত্তিতে? যা ভুলও হতে পারে, সঠিকও হতে পারে। কিংবা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক্ষেত্রে বিশেষভাবে আপনাদের আদেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বসাধারণকে যে আদেশ দেননি, এমন কিছু তিনি বিশেষভাবে আমাদেরকেও বলেননি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে বর্ণনাকারী শুবাহ বলেন, আমার মনে হয়, তিনি (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মাতের মাঝে বারোজন মুনাফিক হবে। তাদের জান্নাতে ঢুকা এবং জান্নাতের ঘ্রাণও পাওয়া তেমন অসম্ভব যেমন সূচের ছিদ্রপথে উষ্ট্রের ঢুকা অসম্ভব। তাদের মাঝে আটজনের (ধ্বংসের) জন্য দুবাইলাহা যথেষ্ট হবে। দুবাইলাহ হলো অগ্নিশিখা, যা কাঁধের মাঝে প্রকাশ পেয়ে অন্তঃকরণকে ছেয়ে ফেলবে।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু তুফায়ল (বাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আকাবায় উপস্থিত এক ব্যক্তির সাথে হুযাইফাহ্ এর মাঝে মানুষের মধ্যে যেমন মনোমালিন্য হয়ে থাকে তেমন কিছু ছিল। সে তাকে জিজ্ঞেস করল, তোমাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, বলো, আকাবায় উপস্থিত লোকেদের সংখ্যা কত ছিল? হুযইফাহ্ কে লোকেরা অনুরোধ করল, সে যেহেতু প্রশ্ন করেছে, তাই আপনি বলে দিন। তিনি বললেন, আমাদের অবহিত করা হয়েছে যে, তাদের সংখ্যা ছিল চোদ্দ। আর যদি তুমিও তাদের মধ্যে হয়ে থাকো, তবে তাদের সংখ্যা হবে পনের। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যে, এদের বারোজন দুনিয়া এবং আখিরাতের জীবনে আল্লাহ এবং তার রসূল (ﷺ) এর শত্রু। বাকী তিনজন অজুহাত পেশ করে বলল, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘোষকের আওয়াজ শুনিনি এবং কওমের লোকেদের প্রয়াসও আমাদের জানা ছিল না। আল্লাহ ও তার রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রস্তরময় মাঠে ছিলেন। অতঃপর তিনি সেখান থেকে এগিয়ে চললেন এবং বললেন, (আমাদের গন্তব্যস্থলের) পানি অতি সামান্য। কেউ আমার পূর্বে সেখানে যাবে না। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে দেখলেন যে, কতক লোক তার আগমনের পূর্বেই চলে এসেছে। সেদিন তিনি তাদের প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুরার টিলাতে কে আরোহণ করবে? যে আরোহণ করে, তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, যেমনভাবে বনী ইসরাঈলকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছিল। জাবির বলেন, প্রথমে ঐ টিলাতে আরোহণ করল আমাদের বানী খাযরাজের ঘোড়াগুলো। তারপর অন্য লোকেরা তাদের পিছনে আসল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের সকলকেই ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, লাল উষ্ট্রের মালিক ছাড়া। তখন আমরা ঐ লোকটির নিকট গিয়ে বললাম, এসো, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমার জন্য ক্ষমা কামনা করবেন। সে বলল, আমি যদি আমার হারানো উটটি পেয়ে যাই তবে তা অবশ্য আমার জন্য তোমাদের সঙ্গীর দোয়া থেকে উত্তম। জাবির বলেন, এ লোকটি তার হারানো উষ্ট্রির সন্ধানে ছিল।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কে আরোহণ করবে মুরার টিলাতে? পরবর্তী অংশটুকু মুআয এর হাদীসের অনুরূপ। তবে এতে বর্ধিত রয়েছে যে, তখন তিনি এক বেদুঈনকে দেখলেন, সে তার হারানো উট সন্ধান করে আসছে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানী নাজ্জার এর এক লোক আমাদের সাথে ছিল। সে বাকারাহ এবং সূরাহ ইমরান তিলাওয়াত করেছিল। সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ থেকে কাতিবে ওয়াহীর দায়িত্ব পালন করত। পরে পালিয়ে গিয়ে সে কিতাবীদের সাথে মিলে যায়। রাবী বলেন, তারা তাকে খুব সমাদর করল এবং বলল, এ ব্যক্তিটি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর কাতিব ছিল। এতে তারা খুবই আনন্দিত হলো। এরপর বেশি দেরী হয়নি, আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝেই তাকে ধ্বংস করে দিলেন। তারপর তারা তার জন্য গর্ত করে তাকে ঢেকে দিলো। সকালে দেখা গেল যে, জমিন তার লাশ বের করে উপরে ফেলে দিয়েছে। তারপর আবার তারা গর্ত করে তাকে পুতে দিলো। সকালে দেখা গেল যে, জমিন তার লাশটি বের করে উপরে ফেলে দিয়েছে। তারপর পুনরায় তারা তার জন্য গর্ত করে তাকে তাতে পুঁতে বালু সকলে দেখা গেল, এবারও জমিন তার লাশ বের করে মাটির উপর ফেলে দিয়েছে। কাজেই তারা তাকে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় পরিত্যাগ করলো।

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... জাবির থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক ভ্রমণ থেকে প্রত্যাগমন করে মদীনার সন্নিকটবর্তী স্থানে পৌছলে এমনভাবে প্রচণ্ডবেগে বায়ু প্রবাহিত হয় যে, মনে হচ্ছিল যেন আরোহীকে ধূলায় ঢেকে ফেলবে। রাবী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কোন মুনাফিকের মৃত্যুর কারণে এ বায়ু প্রবাহিত হয়েছে। যখন তিনি মদীনায় পৌছলেন, তখন দেখা গেল, একজন বড় মুনাফিকের মৃত্যু ঘটেছে।

আব্বাস ইবন আবদুল আযীম আল আম্বারী .... ইয়াস বলেন যে, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে জ্বরে আক্রান্ত এক লোকের সেবা-শুশ্রুষা করতে গেলাম। আমি আমার হাত তার শরীরে রেখে বললাম, আল্লাহর শপথ! আজকের মতো এমন তাপে আক্রান্ত আর কোন লোক আমি দেখিনি। এ কথা শুনে নবী (ﷺ) বললেনঃ কিয়ামতের দিন এর থেকেও অধিক তাপে আক্রান্ত লোকের খবর আমি কি তোমাদের দিব না? তারা ঐ দু'জন আরোহী যারা ঘাড় ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। এ কথা তিনি বললেন, সে সময়কার তার সাথীদের মধ্য থেকে দু'জনের দিকে লক্ষ্য করে।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইবন উমর এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুনাফিকের দৃষ্টান্ত ঐ বকরীর মতো, যা দু' পালের মধ্যে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরপাক করে। একবার এদিকে আবার অন্যদিকে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এতে রয়েছে, একবার আসে এ পালে আবার যায় অন্য পালে।