পোশাক ও সাজসজ্জা (৫২৮০-৫৪৭৯)
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্ হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক রৌপ্যের বাসনে পান করে সে যেন তার পেটের ভিতরে জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করায়।
কুতাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ, আলী ইবন হুজ্র সা'দী, ইবন নুমায়র, ইবন মুসান্না, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর মুকাদ্দামী ও শাইবান ইবন ফাররূখ তারা সকলেই নাফি হতে মালিক ইবন আনাস এর সূত্রে নাফি হতে বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। তবে উবাইদুল্লাহ এর সানাদে আলী ইবন মুসহির বর্ণিত হাদীসে বাড়তি আছে, যে ব্যক্তি রৌপ্য ও স্বর্ণের পাত্রে খাবে অথবা পান করবে। ইবন মুসহির এর হাদীস ব্যতীত অন্য কারো হাদীসে স্বর্ণের পাত্রে আহার করার কথা বর্ণিত নেই।
যায়দ ইবন ইয়াযীদ আবূ মান রুক্কাশী .... উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক স্বর্ণ বা রৌপ্য দ্বারা নির্মিত বাসনে পান করে সে শুধু তার পেটে জাহান্নামের অগ্নি প্রবেশ করায়।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... মুআবিয়াহ ইবন সুওয়াইদ ইবন মুকাররিন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবন আযিব এর নিকটে গমন করেছিলাম। সে সময় আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাতটি জিনিসের আদেশ করেছেন এবং সাতটি জিনিস হতে বারণ করেছেন। তিনি আমাদের অসুস্থ ব্যক্তির খোজ-খবর নেয়া, জানাযায় শরীক হওয়া, হাচিদাতার উত্তর দেয়া, শপথ পূরণ করা কিংবা বলেছেন শপথকারীর শপথ পূরণ করা, নির্যাতিতের সাহায্য করা, দাওয়াতকারীর ডাকে (দাওয়াতে) সাড়া দেয়া এবং সালামের প্রসার করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি আমাদেরকে সোনার আংটি পরিধান করা, রূপার বাসনে পান করা, মায়াসির (এক প্রকার তুলতুলে রেশমী কাপড়) ও কাস্সী (রেশম সংমিশ্রিত এক রকম মিসরী কাপড়) পরিধান করা এবং মিহি রেশমী কাপড়, মোটা রেশমী কাপড় ও খাটি রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে বারণ করেছেন।
আবূ রাবী আতাকী .... আশআস ইবন সুলায়ম হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন। শুধু শপথ বা শপথকারীর শপথ পূরণ করার কথাটি ব্যতীত। তিনি তার হাদীসে এ কথাটি উল্লেখ করেননি। এর স্থানে তিনি 'হারানো জিনিস পেয়ে বিজ্ঞাপন দেয়ার' কথা বর্ণনা করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ও উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আশআস ইবন আবূ শা'সা হতে উল্লেখিত সানাদে যুহায়র এর হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি সন্দেহ ছাড়াই কসম পূর্ণ করার কথা উল্লেখ করেছেন। আর তিনি তার হাদীসে বাড়তি বলেছেন যে, তিনি রূপার বাসনে পান করতে বারণ করেছেন। কারণ পার্থিব জীবনে যারা এতে পান করে পরকালে এতে তারা পান করতে সক্ষম হবে না।
আবূ কুরায়ব .... আশআসা ইবন আবূ শা'সা হতে উপরোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী ইবন ইদরীস জারীর ও ইবন মুসহির এর অতিরিক্ত অংশ বর্ণনা করেননি। মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার, উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদুর রহমান ইবন বিশর আশআসা ইবন সুলায়ম হতে তাদের সূত্রে, তাদের হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী [শুবাহ] সালামের প্রসার করার কথাটি বর্ণনা করেননি। এর বিপরীতে তিনি সালামের জবাব দেয়ার কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, আমাদেরকে সোনার আংটি অথবা সোনার রিং ব্যবহার করতে তিনি বারণ করেছেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আশআসা ইবন আবূ শা'সা হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত আছে। তিনিও (সুফইয়ান) সালামের প্রসারের কথা এবং সন্দেহ ব্যতীতই স্বর্ণের আংটির কথা বর্ণনা করেছেন।
সাঈদ ইবন আমর ইবন সাহল ইবন ইসহাক ইবন মুহাম্মাদ ইবন আশআস ইবন কায়স .... আবদুল্লাহ ইবন উকায়ম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুযাইফাহ এর সাথে মাদায়িনে ছিলাম। হুযাইফাহ্ পানি পান করতে ইচ্ছা করলে গ্রাম্য এক পণ্ডিত তার কাছে রূপার বাসনে পানি নিয়ে আসলো। তিনি তা ফেলে দিয়ে বললেন, আমি তোমাদেরকে (এটি ফেলে দেয়ার কারণ) অবগত করছি। তাকে আমি বারণ করেছিলাম, সে যেন এর মধ্যে আমাকে পানি পান না করায়। কারণ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সোনা ও রূপার বাসনে পান করবে না এবং মোটা রেশমী কাপড় ও মিহি রেশমী কাপড় ব্যবহার করবে না। কারণ ইহকালে এগুলো হলো কাফিরদের জন্য। আর তোমাদের জন্য এগুলো হবে পরকালে।
ইবন আবূ উমার .... আবূ ফারওয়াহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উকায়ম কে বলতে শুনেছি যে, আমরা হুযাইফাহ্ এর সঙ্গে মাদায়িনে ছিলাম। অতঃপর রাবী উল্লেখিত বর্ণনায় হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু তিনি তার হাদীসে 'কিয়ামত দিবসে' কথাটি উল্লেখ করেননি।
আবদুল জাব্বার ইবন আলা .... ইবন উকায়ম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুযাইফাহ্ এর সঙ্গে মাদায়িনে ছিলাম। অতঃপর রাবী উল্লেখিত বর্ণনার হুবহু উল্লেখ করেন। কিন্তু তিনি 'কিয়ামত দিবসে' কথাটি বর্ণনা করেননি।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আম্বারী .... আবদুর রহমান ইবন আবূ লায়লা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাদায়িনে হুযাইফাহ্ এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি পানি পান করতে ইচ্ছা করলে জনৈক লোক রূপার বাসনে পানি নিয়ে আসলো। অতঃপর রাবী হুযাইফাহ্ এর সানাদে ইবন উকায়ম এর হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আবদুর রহমান ইবন বিশর বাহয হতে, তারা সকলে শুবাহ হতে মুআয এর হাদীস ও সানাদের হুবহু বর্ণনা করেছেন। কিন্তু শুধু মুআয ব্যতীত তাদের মাঝে অপর কেউ তার হাদীসে আমি হুযাইফাহর সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম' কথাটি বর্ণনা করেননি। তারা শুধু বলেছেন, হুযাইফাহ পানি পান করতে চাইলেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... হুযাইফাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে উপরোল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক বর্ণিত রয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবদুর রহমান ইবন আবূ লায়লা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফাহ্ পানি পান করার ইচ্ছা করলে এক অগ্নিপূজারী একটি রূপার বাসনে তাকে পানি পান করতে দিল। সে সময় তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা পাতলা রেশমী বস্ত্র ও মোটা রেশমী বস্ত্র ব্যবহার করবে না, সোনা ও রূপার বাসনে পান করবে না এবং সোনা রূপার থালায় খাবেও না। কেননা পৃথিবীতে এগুলো তাদের (কাফিরদের) জন্য।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, (একদা) উমার ইবন খাত্তাব মসজিদের ফটকের পাশে লাল রংয়ের "হুল্লা" (রেশম মিশ্রিত চাদর) প্রত্যক্ষ করে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি যদি এটি ক্রয় করে জুমুআর দিন এবং যখন কোন নেতৃস্থানীয় দল আপনার কাছে আসে তখন ব্যবহার করতেন (তবে কতই না উত্তম হতো)। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটি সে লোকই পরিধান করবে আখিরাতে যার সামান্য অংশও নেই। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ রকম কয়েকটি হুল্লা আসলে তিনি সেগুলো থেকে একটি হুল্লা উমার কে দিলেন। উমার বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এটি অধমকে পরতে দিলেন? অথচ আপনিই উতারিদ এর (এক ব্যক্তি) হুল্লা সম্বন্ধে কত কিছু বলেছেন? তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি এটি তোমাকে ব্যবহার করতে দেইনি। অতঃপর উমার সেটি তার মক্কার এক মুশরিক ভাইকে পরিধান করতে দিলেন।
ইবন নুমায়র, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মদ ইবন আবূ বকর মুকাদ্দামী ও সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... ইবন উমার এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে মালিক এর হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন।
শাইবান ইবন ফাররূখ .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) উমার উতারিদ তামীমীকে বাজারে লাল রং-এর হুল্লা বিক্রি করতে লক্ষ্য করলেন। ব্যক্তিটি রাজা বাদশাহদের কাছে যেত এবং তাদের নিকট হতে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতো। উমার বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি উতারিদকে বাজারে লাল রং-এর হুল্লা বেচতে দেখলাম। যদি আপনি এটি ক্রয় করতেন আর আরবের কোন নেতৃস্থানীয় দল আপনার কাছে আগমনকালে পরতেন। আমার ধারণা হয় তিনি আরো বলেছেন, এবং জুমুআর দিবসেও পরতেন, তবে কতই না ভাল হতো! সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ রেশমী কাপড় সে ব্যক্তিই পৃথিবীতে পরবে, আখিরাতে যার কোন অংশ নেই। এর একদিন পর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কিছু লাল রং-এর হুল্লা আসলে তিনি তার একটি উমার এর নিকট, একটি উসামাহ ইবন যায়দ এর নিকট প্রেরণ করলেন। আলী ইবন আবূ তালিব-কেও তিনি একটি হুল্লা দিয়ে বললেন, এটি ছিড়ে ওড়না তৈরি করে তোমরা মহিলাদের মধ্যে বিতরণ করে দাও। ইবন উমার বলেন, অতঃপর উমার তার হুল্লাটি নিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটি আপনি আমার নিকট পাঠিয়ে দিলেন অথচ গতকাল উতারিদ-এর হুল্লা সম্বন্ধে আপনি কত কিছু বলেছিলেন? তিনি বললেন, ব্যবহার করার জন্য সেটি আমি তোমার নিকটে প্রেরণ করিনি বরং আমি সেটি তোমার নিকটে পাঠিয়েছি যেন তুমি এটি বিক্রি করে লাভবান হতে পারো। অপরদিকে উসামাহ বিকাল বেলা তার হুল্লাটি পরিধান করে বের হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিকে এমনভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন যে, তিনি অনুধাবন করলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার এহেন কর্মকে পছন্দ করেননি। সে সময় তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন? আপনিই তো এটি আমার কাছে প্রেরণ করেছেন। তিনি বললেন, আমি তোমার নিকট এজন্য প্রেরণ করিনি যে, তুমি এটি ব্যবহার করবে বরং এজন্য এটি পাঠিয়েছি যে, তুমি এটি ছিড়ে ওড়না তৈরি করে তোমাদের মহিলাদেরকে দিবে।
আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... সালিম ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেছেন, উমার ইবন খাত্তাব একদিন বাজারে মোটা রেশমের প্রস্তুত একটি হুল্লা বিক্রি হতে দেখে তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এটি ক্রয় করুন। তাহলে ঈদের দিন ও প্রতিনিধি দল আসলে এটির মাধ্যমে আপনি সুসজ্জিত হতে পারবেন। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটি কেবল সে লোকেরই বস্ত্র, যার (পরকালে) কোন অংশ নেই। ইবন উমার বলেন, অতঃপর উমার আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছুক্ষণ পার করলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নিকট একটি খাটি রেশমের আলখাল্লা প্রেরণ করলেন। উমার তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটি ঐ লোকেরই বস্ত্র (আখিরাতে) যার কোন অংশ নেই, পুনরায় আপনি তা আমার নিকট প্রেরণ করলেন, সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ (আমি এজন্য পাঠিয়েছি) যেন তুমি এটি বিক্রি করে আপন প্রয়োজন সারতে পারো।
হারূন ইবন মারূফ .... ইবন শিহাব হতে উপরোক্ত সনদে অবিকল বর্ণিত হয়েছে।
যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, উমার উতারিদ পরিবারের এক লোকের কাছে একটি রেশমী কাবা' (বড় জামা) দেখতে পেয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন, আপনি যদি এটি ক্রয় করতেন। সে সময় তিনি বললেন, এটি শুধু সে লোকই পরিধান করবে (আখিরাতে) যার কোন অংশ নেই। অতঃপর লাল রং-এর একটি কুর্তা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপঢৌকন প্রেরণ করা হলে তিনি তা আমার নিকট প্রেরণ করলেন। তিনি [উমার] বলেন, আমি বললাম, আপনি এটি আমার নিকট পাঠালেন কেন? অথচ এ ধরনের বস্ত্র সম্পর্কে আপনার কথা আমার কর্ণপাত হয়েছে। তিনি বললেনঃ আমি কেবল এজন্য এটি তোমার নিকট পাঠিয়েছি যাতে তুমি এর মাধ্যমে (বিক্রি করে) উপকার হাসিল করতে পারো।
ইবন নুমায়র .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, উমার উতারিদ পরিবারের এক লোকের নিকট (একটি কাবা) লক্ষ্য করলেন। অতঃপর রাবী ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি বর্ণনা করেছেন, আমি এটি তোমার নিকট পাঠিয়েছি যাতে তুমি এর মাধ্যমে উপকার লাভ করতে পারো। পরিধান করার জন্য এটি তোমার নিকট পাঠাইনি।
ইবন মুসান্না .... ইয়াহইয়া ইবন আবূ ইসহাক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালিম ইবন আবদুল্লাহ আমাকে বললেন, ইসতাবরাক কি? আমি বললাম, মোটা ও খসখসে রেশমী বস্ত্র। তিনি বললেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন উমার কে বলতে শুনেছি, উমার জনৈক লোকের নিকট ইস্তাব্রাকের প্রস্তুত হুল্লা লক্ষ্য করে সেটি নবী (ﷺ) এর কাছে নিয়ে এলেন। অতঃপর রাবী ইয়াহইয়া উপরোল্লিখিত রাবীগণের অবিকল বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি বলেছেন, তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি এটি তোমার নিকট শুধু এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি এর মাধ্যমে কিছু সম্পদ জোগাড় করতে পারবে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আসমা বিনতু আবূ বকর এর মুক্ত দাস আবদুল্লাহ [তিনি আতা-এর বাচ্চাদের মামাও হতেন] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা আমাকে আবদুল্লাহ ইবন উমার এর কাছে এ বলে প্রেরণ করলেন যে, আমি অবগত হয়েছি তুমি নাকি তিনটি বস্তুকে নিষিদ্ধ মনে করো। কাপড়ে (রেশমের) নকশা, গাঢ় লাল রং-এর মীসারাহ (এক জাতীয় রেশমী বস্ত্র) ও রজবের গোটা মাস সাওম পালন করা। সে সময় আবদুল্লাহ আমায় বললেন, আপনি যে রজব মাসের সাওম হারামের কথা বললেন এটা ঐ লোকের ক্ষেত্রে কিভাবে সম্ভব যিনি সবসময় সাওম পালন করেন? আর আপনি যে বস্ত্রের (রেশমের) ডিজাইনের কথা বললেন, এ সম্পর্কে আমি উমার ইবন খাত্তাব কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, রেশমী কাপড় কেবল সে ব্যক্তিই পরবে (আখিরাতে) যার কোন অংশ নেই। তাই আমার সন্দেহ হলো নকশাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আর গাঢ় লাল রং-এর মীসারাহ সে তো আবদুল্লাহরই মীসারাহ। লক্ষ্য করলাম, আসলেই সেটিই গাঢ় লাল রং-এর। অতঃপর আমি আসমা এর কাছে ফিরে গেলাম এবং তাকে এ ব্যাপারে সংবাদ দিলাম। তখন তিনি বললেন, এটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জুব্বা। এ বলে তিনি কিসরাওয়ানী (ইরানী সম্রাট কিসরার প্রতি সম্পৰ্কীয়) সবুজ রং-এর একটি জুব্বা বের করলেন যার পকেটটি ছিল খাঁটি রেশমের প্রস্তুত এবং এর (হাতার) ছিদ্রদ্বয় ছিল খাটি রেশমের টুকরা দিয়ে ঢাকা। তিনি বললেন, এটি আয়িশাহর মৃত্যু পর্যন্ত তার নিকটেই ছিল। তার ওফাতের পর আমি এটি নিয়েছি। নবী (ﷺ) এটি ব্যবহার করতেন। তাই আমরা অসুস্থদের আরোগ্য লাভের জন্য এটি ধৌত করি এবং তাদেরকে সে পানি পান করিয়ে থাকি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... খলীফা ইবন কা'ব আবূ যুবয়্যান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন যুবায়রকে খুতবায় এ কথা বলতে শুনেছি যে, হুশিয়ার! তোমরা তোমাদের মহিলাদেরকে রেশমী বস্তু পরাবে না। কেননা আমি উমার ইবন খাত্তাব কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা রেশমী কাপড় পরিধান করো না। কারণ পৃথিবীতে যে লোক তা পরিধান করবে, আখিরাতে সে তা পরিধান করতে পারবে না।
আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... আবূ উসমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আজারবাইজান এ ছিলাম। এ সময় উমার আমাদের (দলনেতার) কাছে চিঠি লিখলেন, হে উতবাহ ইবন ফারকাদ! এ ধন-সম্পদ তোমার কষ্টার্জিত নয়, তোমার বাবা-মায়েরও কষ্টার্জিত নয়। তাই তুমি যেরূপে নিজ বাড়িতে পেটপুরে ভক্ষণ করো, তেমনিভাবে মুসলিমদের বাড়িতে পৌছে দিয়ে তাদেরকেও পেটপুরে ভক্ষণ করাও। আর সাবধান, মুশরিকদের ভোগ-বিলাস বেশভূষণ এবং রেশমী কাপড় পরিধান করা থেকে বিরত থাকবে। কেননা রসূলুল্লাহ (ﷺ) রেশমী কাপড় পরতে বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, তবে এ পরিমাণ বৈধ রয়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয় একসাথে করে আমাদের সম্মুখে তুলে ধরলেন।
যুহায়র ও ইবন নুমায়র .... আসিম হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে রেশমী বস্ত্র সম্পর্কে হুবহু বর্ণনা করেছেন।
ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী .... আবূ উসমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উতবাহ ইবন ফারকাদ এর সঙ্গে ছিলাম। তখন আমাদের নিকট উমার এর চিঠি আসলো। উক্ত চিঠিতে ছিল যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রেশমী বস্ত্র শুধু সে ব্যক্তিই পরবে, আখিরাতে যার কোন অংশ নেই। তবে এ পরিমাণ বৈধ রয়েছে। আবূ উসমান তার বৃদ্ধাঙ্গুল সংলগ্ন দুটি আঙ্গুল দিয়ে ইঙ্গিত করলেন। আমি সে দুটোতে তায়ালিসার বোতাম লক্ষ্য করলাম। এমন কি আমি তায়ালিসাহও (সবুজ রং এর চাদর) দেখলাম।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... আবূ উসমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উতবাহ ইবন ফারকাদ এর সঙ্গে ছিলাম। রাবী পরের অংশ জারীরের হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ উসমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উতবাহ ইবন ফারকাদ এর সঙ্গে আজারবাইজান কিংবা সিরিয়ায় ছিলাম। তখন আমাদের নিকট উমার এর কাছ থেকে এ মর্মে একটি চিঠি এলো যে, আম্মা বা'দ, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রেশমী বস্ত্র পরিধান করতে বারণ করেছেন, তবে দু' আঙ্গুল পরিমাণ হলে বৈধ হবে। আবূ উসমান বলেন, আমাদের বুঝতে দেরী হলো না যে, তিনি (এ দ্বারা) নকশী ও নকশার দিকে ইশারা করেছেন।
আবূ গাসসান মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ..... কাতাদাহ হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল বর্ণিত আছে। কিন্তু তিনি আবূ উসমান এর কথাটি বর্ণনা করেননি।
উবাইদুল্লাহ ইবন উমার আল-কাওয়ারীরী আবূ গাসসান আল-মিসমাঈ, যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... সুওয়াইদ ইবন গাফালাহ হতে বর্ণিত যে, (একদা) উমার ইবন খাত্তাব জাবিয়াহ্ নামক জায়গায় বক্তব্য প্রদানকালে বললেন, আল্লাহর নবী (ﷺ) রেশমী কাপড় পরতে বারণ করেছেন। কিন্তু যদি দু' আঙ্গুল বা তিন আঙ্গুল বা চার আঙ্গুল পরিমাণ হয়।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ রুয্যী .... কাতাদাহ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু রিওয়ায়াত করেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, ইসহাক ইবন ইবরাহীম হান্যালী, ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ও হাজ্জাজ ইবন শা'ইর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (ﷺ) খাটি রেশমের প্রস্তুতকৃত একটি কাবা গায়ে দিলেন, যা তাকে হাদিয়া (উপঢৌকন) দেয়া হয়েছিল। তারপর তিনি সেটি দ্রুত খুলে ফেললেন। অতঃপর সেটি উমার ইবন খাত্তাবের কাছে প্রেরণ করলেন। তাকে বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি দ্রুত এটি খুলে ফেললেন যে? তিনি বললেন জিবরীল আমাকে এটি পরিধান করতে বারণ করেছেন। এরপর উমার ক্ৰন্দনরত অবস্থায় তার নিকটে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি যে জিনিস পছন্দ করলেন না তা আমাকে দিলেন, আমার উপায় কি? সে সময় তিনি বললেন, আমি তোমাকে এটি পরিধান করতে দেইনি। আমি শুধু তোমাকে বিক্রয় করার জন্য দিয়েছি। পরে উমর সেটি দু'হাজার দিরহামে বেচে দিলেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একটি লাল রংয়ের হুল্লা উপঢৌকন দেয়া হলো। অতঃপর তিনি তা আমার নিকট প্রেরণ করলেন। আমি সেটি পরিধান করলে তার মুখমণ্ডলে ক্রোধ দর্শন করলাম। তিনি বললেন, আমি এটি পরিধান করার জন্য তোমার নিকট পাঠাইনি। পাঠিয়েছি শুধু এজন্য যে, তুমি এটি কেটে ওড়না হিসেবে (তোমার) স্ত্রীদের মধ্যে ভাগ করে দেবে।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... আবূ আওন হতে উপরোক্ত সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত রয়েছে। কিন্তু মুআয এর হাদীসে আছে, তারপর তার নির্দেশে আমি তা আমার স্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করে দিলাম। আর মুহাম্মাদ ইবন জাফার এর হাদীসে আছে, পরে আমি আমার মহিলাদের মধ্যে সেটি বণ্টন করে দিলাম'। তিনি রসূল (ﷺ) এর নির্দেশ দেয়ার কথা বর্ণনা করেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ আবূ কুরায়ব ও যুহায়র ইবন হারব .... আলী হতে বর্ণিত যে, দুমাহ নিবাসী উকাইদির নবী (ﷺ) কে একটি রেশম বস্ত্র উপহার দিলে তিনি তা আলী কে দিয়ে বললেন, তুমি এটি কেটে ফাতিমাদের মধ্যে বণ্টন করে দাও। আবূ বকর ও আবূ কুরায়ব এর বর্ণনায় 'ফাতিমাদের' স্থলে 'মহিলাদের' কথা উল্লেখ করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .....আলী ইবন আবূ তালিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে একটি লাল রংয়ের হুল্লা দিলেন। আমি তা পরিধান করে বের হলে তার চেহারা ভীষণ রাগাম্বিত দেখলাম। তিনি বলেন, পরে আমি তা ছিড়ে আমার স্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করে দিলাম।
শাইবান ইবন ফাররূখ ও আবূ কামিল .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উমার এর কাছে একটি রেশমী আলখাল্লা প্রেরণ করলে উমার বললেন, আপনি এটি আমার নিকটে প্রেরণ করলেন, অথচ আপনি এটি সম্পর্কে কত কিছু না বলেছেন? তিনি বললেনঃ আমি সেটা এজন্য পাঠাইনি যে, তুমি তা ব্যবহার করবে। আমি শুধু এজন্য প্রেরণ করেছি যে, তুমি এর ক্রয়কৃত অর্থ দিয়ে লাভবান হবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ও যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক ইহকালে রেশম জাতীয় বস্ত্র পরে, আখিরাতে সে তা পরিধান করতে পারবে না।
ইবরাহীম ইবন মূসা আর রাযী ... আবূ উমামাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক পৃথিবীতে রেশম জাতীয় বস্ত্র পরে আখিরাতে সে তা পরিধান করতে পারবে না।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... উকবাহ ইবন আমির হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে রেশমের তৈরি একটি শেরওয়ানী উপহার দেয়া হলে তিনি তা পরলেন। অতঃপর তাতেই তিনি নামাজ আদায় করলেন। যখন নামাজ শেষ করলেন, তখন সেটি খুব তাড়াতাড়ি খুলে ফেললেন। তিনি যেন ওটা অপছন্দ করেছেন। অতঃপর তিনি বললেন, মুত্তাকীদের জন্য এটা ব্যবহার করা অনুচিত।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইয়াযীদ ইবন আবূ হাবীব হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আব্দুর রহমান ইবন আওফ ও যুবায়র ইবন আওওয়াম কে তাদের চর্ম বা এলাৰ্জি জাতীয় রোগ বা অন্য কোন রোগের দরুন সফরে রেশমী পোশাক পরিধানের অনুমতি দিয়েছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ..... সাঈদ হতে উপরোক্ত সূত্রেও হাদীসটি বর্ণিত রয়েছে। তবে তিনি [মুহাম্মাদ ইবন বিশর] 'সফরে' কথাটি উল্লেখ করেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যুবায়র ইবন আওওয়াম ও আবদুর রহমান ইবন আওফ কে তাদের চর্ম (এলাৰ্জি) রোগের দরুন রেশমী বস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছেন। কিংবা তিনি বলেন, তাদের অনুমতি দেয়া হয়েছিল।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার মুহাম্মাদ ইবন জা'ফার এর সানাদে শুবাহ হতে উপরোক্ত সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বর্ণিত যে, আবদুর রহমান ইবন আওফ ও যুবায়র ইবন আওওয়াম নবী (ﷺ) এর কাছে (শরীরে) উকুনের অভিযোগ করলে তিনি তাদেরকে এক যুদ্ধে রেশমী কামিস (জামা) পরার অনুমতি দিয়েছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পরিধানে হলুদ রংয়ের (জাফরান রঙে) দুটি বস্ত্র দেখে বললেন, এগুলো কাফিরদের বস্ত্র। অতএব তুমি এসব পরবে না।
যুহায়র ইবন হারব ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসীর হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেন। কিন্তু তারা উভয়ে খালিদ ইবন মাদান এর থেকে বর্ণনা করেছেন।
দাউদ ইবন রুশায়দ .... আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমার গায়ে হলুদ রংয়ের দুটি বস্ত্র প্রত্যক্ষ করে বললেন, তোমার মা কি তোমাকে এ কাজে নির্দেশ দিয়েছেন? আমি বললাম, এ দু'টি ধুয়ে ফেলি? তিনি বললেন, বরং দুটিকেই পুড়ে ফেল।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আলী ইবন আবূ তালিব হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কাসসী (এক প্রকার রেশমী বস্ত্র) ও মুআসফার হলুদ রংয়ের বস্ত্র পরিধান করতে, স্বর্ণের আংটি পরিধান করতে এবং রুকূতে কুরআন পাঠ করতে বারণ করেছেন।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে রুকূ অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে, সোনা ও হলুদ রংয়ের বস্ত্র পরিধান করতে বারণ করেছেন।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আলী ইবন আবূ তালিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে সোনার আংটি পরিধান করতে, কাসসী বস্ত্র পরিধান করতে, রুকূ ও সিজদায় কুরআন পাঠ করতে এবং হলুদ রংয়ের বস্ত্র পরতে বারণ করেছেন।
হাদ্দাব ইবন খালিদ .... কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আনাস ইবন মালিক-কে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও আকর্ষণীয় পোশাক কি ছিল? তিনি বললেনঃ হিবারাহ নামক ইয়ামানী চাদর।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বস্ত্র ছিল হিবারাহ নামক ইয়ামানী চাদর।
শাইবান ইবন ফাররূখ .... আবূ বুরদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ্ এর কাছে গেলে তিনি আমাদের সম্মুখে ইয়ামানের প্রস্তুত করা মোটা কাপড়ের একটি লুঙ্গি ও মুলাববাদাহ্ নামক একটি চাদর বের করলেন। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি (আয়িশাহ) আল্লাহর কসম করে বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দুটি বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
আলী ইবন হুজর সাদী, মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম .... আবূ বুরদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ্ আমাদের সম্মুখে একটি লুঙ্গি ও একটি তালি বিশিষ্ট চাদর বের করে বললেন, এর মধ্যেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুতুবরণ করেন। ইবন হাতিম তার হাদীসে মোটা লুঙ্গির কথা বলেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আইয়্যুব হতে উল্লেখিত সানাদে অনুরূপ বৰ্ণিত আছে। তিনিও মোটা ইযারের (লুঙ্গি) কথা বলেছেন।
সুরায়জ ইবন ইউনুস, ইবরাহীম ইবন মূসা ও আহমাদ ইবন হাম্বাল .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) (ঘর থেকে) একটি চাদর শরীরে জড়িয়ে বের হয়েছিলেন- যার মধ্যে কালো পশম দ্বারা উটের হাওদার আবৃত নকশা অঙ্কিত ছিল।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে বালিশের উপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) হেলান দিতেন সেটি ছিল চর্মের। এর অভ্যন্তরে খেজুর গাছের ছাল ছিল।
আলী ইবন হুজর সা'দী .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যাতে ঘুমাতেন, সেটি চামড়ার তৈরি ছিল এবং তার অভ্যন্তরে ভরা ছিল খেজুর গাছের ছাল।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম হিশাম হতে উল্লেখিত সানাদে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেন। তবে তারা দু'জন 'ফিরাশ' এর স্থলে 'যিজা' বলেছেন। আর আবূ মুআবিয়াহ্ এর হাদীসে আছে 'যার উপর তিনি ঘুমাতেন'।
কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ আমর আন নাকিদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিবাহ করলে আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি বিছানার শাল প্রস্তুত করেছ? আমি বললাম, আমরা বিছানার শাল পাব কোথায়? তিনি বললেন, শীঘ্রই এর ব্যবস্থা হবে।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন বিবাহ করলাম, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তুমি কি বিছানার চাদর প্রস্তুত করেছ? আমি বললাম, আমরা বিছানার চাদর পাব কোথায়? তিনি বললেন, অচিরেই এর ব্যবস্থা হবে। জাবির বলেন, আমার সহধর্মিণীর নিকট একটি বিছানার শাল ছিল। আমি বললাম, তুমি এটিকে আমার কাছ থেকে সরিয়ে ফেল। সে বলল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই এর ব্যবস্থা হবে।
হাম্মদ ইবন মুসান্না ... সুফইয়ান হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত আছে।
আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ.... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেছেন, একটি শয্যা পুরুষের, দ্বিতীয় শয্যা তার স্ত্রীর, তৃতীয়টি অতিথির জন্য আর চতুর্থটি (যদি প্রয়োজনীতিরিক্ত হয়) শয়তানের জন্য।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক দম্ভ করে তার বস্ত্র (পায়ের গিরার নীচে) বুলিয়ে রাখে, আল্লাহ তার প্রতি (রহমতের দৃষ্টিতে) লক্ষ্য করবেন না।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন নুমায়র, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ, আবূ রাবী, আবূ কামিল, যুহায়র ইবন হারব, কুতাইবাহ, ইবন রুমহ ও হারূন আইলী ..... ইবন উমার এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে মালিক এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তারা 'কিয়ামত দিবসে' উক্তিটি অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন।
আবূ তাহির .... আবদুল্লাহ ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অহমিকাবশতঃ তার কাপড়গুলো (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে দেবে, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তার প্রতি (রহমতের নযরে) দৃষ্টি দিবেন না।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন মুসান্না .... ইবন উমার সানাদে নবী (ﷺ) থেকে উল্লেখিত রাবীদের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
ইবন নুমায়র .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক দম্ভভরে তার বস্ত্র (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে রাখবে, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তার দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দিবেন না।
ইবন নুমায়র .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। রাবী উপরোক্ত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, তিনি এক লোককে তার লুঙ্গি (টাখনুর নিচে) ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে বললেন, তুমি কোন্ কওমের লোক? সে তার বংশ পরিচয় দিল। বোঝা গেল সে বানী লায়স সম্প্রদায়ের লোক। তাকে তিনি চিনতে পারলেন। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমার এ দুটি কানে বলতে শুনেছি, যে লোক তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলাফেরা করে আর এর মাধ্যমে শুধু অহঙ্কার প্রকাশ করতে চায় তাহলে কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তার প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দিবেন না।
ইবন নুমায়র, উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয ও ইবন আবূ খালাফ .... ইবন উমার এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু রিওয়ায়াত করেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম, হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও ইবন আবূ খালাফ .... মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ইবন জা'ফার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমার এর কাছে এ কথা জানার জন্য নাফি ইবন আবদুল হারিস এর মুক্তকৃত দাস মুসলিম ইবন ইয়াসারকে নির্দেশ প্রদান করলাম যে, আপনি কি নবী (ﷺ) থেকে সে লোক সম্পর্কে কিছু শুনেছেন, যে লোক দম্ভভরে তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলে? তখন আমি তাদের উভয়ের মাঝেই উপস্থিত ছিলাম। তিনি [ইবন উমার] বললেন, আমি তাকে (নবী (ﷺ) কে) বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তার দিকে (রহমতের) দৃষ্টিপাত করবেন না।
আবূ তাহির .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার লুঙ্গিটি একটু ঝুলানো অবস্থায় ছিল। তিনি বললেন, হে আবদুল্লাহ! তোমার ইযারটি (লুঙ্গি বা পায়জামা) উপরে উঠও। সে সময় আমি তা উপরে উঠালে তিনি আবার বললেনঃ আরো উপরে। আমি আরো উপরে তুললাম। তখন থেকেই সব সময় আমি এর ব্যাপারে সজাগ থাকি। উপবিষ্ট লোকদের একজন বলল, কত উপরে (তুলেছিলেন)? তিনি বললেন (নিস্ফ সাক) অর্ধ গোছা পর্যন্ত।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... মুহাম্মাদ ইবন যিয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ কে বলতে শুনেছি- (তিনি বাহরাইনের গভর্নর ছিলেন), একবার তিনি লক্ষ্য করলেন, এক লোক লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলছে আর নিজ পা মাটিতে মেরে বলছেঃ গভর্নর এসেছেন, গভর্নর এসেছেন ..... রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ সে ব্যক্তির প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে দেখবেন না, যে তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলে অহংকার বশে।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও ইবন মুসান্না শুবাহ .... থেকে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে ইবন জাফার এর হাদীসে রয়েছে মারওয়ান আবূ হুরাইরাহ কে তার স্থলাভিষিক্ত করেন। আর ইবন মুসান্না এর হাদীসে রয়েছে "আবূ হুরাইরাহ মদীনায় গভর্নর ছিলেন।"
আবদুর রহমান ইবন সাল্লাম জুমাহী .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক (রাস্তায়) চলাফেরা করছিল। তার মাথার চুল ও দু'টি চাদর তাকে পুলকিত করে তুলছিল। এমন সময় তাকে জমিনে দাবিয়ে দেয়া হলো। সে কিয়ামত অবধি মাটির নিচে দাবতে থাকবে।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয, মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও ইবন মুসান্না .... আবূ হুরাইরাহ সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু বর্ণনা করেছেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জনৈক লোক তার দুটি চাদর পরিধান করে অহংকারের সাথে চলাফেরা করছিল। আপন ব্যক্তিত্বকে সে ভাল মনে করছিল। অকস্মাৎ আল্লাহ তাকে জমিনে ধসে দিলেন। কিয়ামত অবধি সে মাটির জমিনে ধসতে থাকবে।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হাদীসগুলো আবূ হুরাইরাহ্ আমাদেরকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি কতিপয় হাদীস বর্ণনা করলেন। (তার মধ্যে একটি অন্যতম হলো), রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জনৈক লোক তার দু' চাদর পরিধান করে দাম্ভিকতার সাথে রাস্তায় চলছিল। অতঃপর হাম্মাম উল্লেখিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণের কোন এক লোক হুল্লা পরিধান করে অহংকারের সাথে পথ চলছিল। অতঃপর রাবী আবূ রাফি তাদের হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত যে, তিনি স্বর্ণের আংটি পরিধান করতে বারণ করেছেন।
(মুহাম্মদ) ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার, মুহাম্মাদ ইবন জা'ফার-এর সানাদে শুবাহ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইবন মুসান্না-এর হাদীসে রয়েছে, আমি নাযর ইবন আনাস হতে শুনেছি।
মুহাম্মাদ ইবন সাহল তামীমী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক লোকের হাতে একটি সোনার আংটি লক্ষ্য করে সেটি খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন, তোমাদের মাঝে কেউ কেউ আগুনের টুকরা জোগাড় করে তার হাতে রাখে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) সে স্থান ত্যাগ করলে ব্যক্তিটিকে বলা হলো, তোমার আংটিটি উঠিয়ে নাও। এটি দিয়ে উপকার হাসিল করো। সে বলল, না। আল্লাহর কসম! আমি কক্ষনো ওটা নেব না। কারণ রসূলুল্লাহ (ﷺ) তো ওটা ফেলে দিয়েছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামিমী ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ্ ও কুতাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সোনার একটি আংটি প্রস্তুত করলেন। তিনি যখন এটি পরিধান করতেন এর মোহরাংশটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন। লোকেরাও এ রকম প্রস্তুত করে নিল। অতঃপর একদা তিনি মিম্বারে বসে সেটি খুলে ফেললেন এবং বললেনঃ আমি এ আংটিটি পরিধান করতাম আর এর মোহরটি ভেতরের দিকে রাখতাম। অতঃপর তিনি তা ছুড়ে ফেললেন। তারপর বললেন, আল্লাহর শপথ আমি এটি আর কক্ষনো পরিধান করবো না। সে সময় লোকেরাও তাদের স্ব স্ব আংটিগুলো ছুড়ে ফেলে দিল।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব, ইবন মুসান্না ও সাহল ইবন উসমান ইবন উমার এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে স্বর্ণের আংটি সম্বন্ধে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু রাবী উকবাহ ইবন খালিদ এর হাদীসে এ কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন- "তিনি এটি তার ডান হাতে ব্যবহার করতেন।"
আহমাদ ইবন আবদাহ্, মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক মুসাইয়্যাবী, মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ও হারূন আইলী ..... ইবন উমার সানাদে তিনি নবী (ﷺ) থেকে স্বর্ণের আংটির ব্যাপারে লায়স এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও ইবন নুমায়র .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) রৌপ্যের একটি আংটি প্রস্তুত করেছিলেন। এটি (সর্বদা) তার হাতেই থাকত। অতঃপর আবূ বকর এর হাতে, পর্যায়ক্রমে উমার এর হাতে, অতঃপর উসমান এর হাতে ছিল এবং তার হাতে থেকেই সেটি আরীস নামক কূপে পড়ে গেল। তাতে খোদিত ছিল "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ"। ইবন নুময়র বলেন, পরিশেষে সেটি কুয়ায় পতিত হল তবে 'তার হাত হতে পড়েছে' এ কথা তিনি বলেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ, মুহাম্মদ ইবন আব্বাস ও ইবন আবূ উমার .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) স্বর্ণের একটি আংটি প্রস্তুত করে কয়েকদিন পর তা ফেলে দিলেন। অতঃপর একটি রূপার আংটি বানিয়ে তাতে "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" কথাটি খোদাই করলেন। তিনি বললেন, আমার এ আংটির খোদাইয়ের মতো কেউ যেন অবিকল খোদাই না করে। তিনি যখন এটি পরতেন, এর মোহরটি হাতের তালু-মুখী করে রাখতেন। মুআইকীব হতে আরীস নামক কূপে সেটা পড়ে গিয়ে ছিল।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, খালাফ ইবন হিশাম ও আবূ রাবী আতাকী .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) রূপার একটি আংটি বানালেন এবং তাতে "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" কথাটি খোদাই করলেন। তিনি মানুষদের বললেন, আমি একটি রূপার আংটি বানিয়েছি এবং তাতে "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" কথাটি খোদাই করেছি। অতএব কেউ যেন এর হুবহু খোদাই না করে।
আহমাদ ইবন হাম্বাল, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব ... আনাস সানদে নবী (ﷺ) হতে হাদীসটি বর্ণিত আছে। কিন্তু রাবী হাদীসে "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" কথাটি বর্ণনা করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) রোমে (সম্রাটের কাছে) চিঠি প্রেরণ করতে চাইলেন সে সময় সাহাবাগণ বললেন, তারা তো মোহরাঙ্কিত চিঠি ব্যতীত ভিন্ন কোন চিঠি পড়ে না। তিনি (আনাস) বলেন, পরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) রূপার একটি আংটি তৈরি করলেন। এখনো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে আমি যেন এর স্বচ্ছতা দেখতে পাচ্ছি। এতে "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" কথাটি খোদিত ছিল।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (ﷺ) যখন অনারবদের (বাদশাহদের) কাছে চিঠি দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন। তাকে বলা হলো, অনারবরা তো শুধু মোহরাংকিত চিঠি গ্রহণ করে। সে সময় তিনি একটি রূপার আংটি তৈরি করে নিলেন। আনাস বলেন, আমি এখনো যেন তার হাতে সেটির স্বচ্ছতা লক্ষ্য করছি।
নাসর ইবন আলী জাহযামী .... আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) (পারস্য সম্রাট) কিসরা, (রোম বাদশা) কায়সার ও (আবিসিনিয়ার সম্রাট) নাজাশীর কাছে চিঠি লেখার আকাজক্ষা করলে তাকে বলা হলো তারা তো সিলমোহর ছাড়া পত্র গ্রহণ করে না। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) রূপার একটি আংটি তৈরি করলেন এবং এতে "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" কথাটি খোদাই করলেন।
আবূ ইমরান মুহাম্মাদ ইবন জাফর ইবন যিয়াদ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে একদা রূপার একটি আংটি লক্ষ্য করলেন। তিনি বলেন, লোকেরাও রূপার আংটি তৈরি করে ব্যবহার করতে লাগল। অতঃপর নবী (ﷺ) তার আংটিটি নিক্ষেপ করলে লোকেরাও তাদের আংটিগুলো নিক্ষেপ করে দিল।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে একদা রূপার একটি আংটি লক্ষ্য করলেন, এরপর লোকেরাও রূপার আংটি তৈরি করে পরিধান করতে লাগলো। অতঃপর নবী (ﷺ) তার আংটিটি নিক্ষেপ করলে লোকেরাও তাদের আংটিগুলো নিক্ষেপ করে ফেলে দিল।
উকবাহ ইবন মুকরাম আম্মী .... ইবন জুরায়জ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আংটিটি ছিল রূপার প্রস্তুতকৃত। এর মোহরটি ছিল হাবশী।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও আব্বাদ ইবন মূসা .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ডান হাতে রূপার একটি আংটি পরিধান করেছেন। তাতে হাবশী মোহর ছিল। তিনি এর মোহরটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন।
যুহায়র ইবন হারব .... ইউনুস ইবন ইয়াযীদ উপরোল্লিখিত সূত্রে তালহাহ ইবন ইয়াহইয়া এর হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ বকর ইবন খাল্লাদ বাহিলী .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর আংটি ছিল এ আঙ্গুলে- এ কথা বলে তিনি বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুলের দিকে ইঙ্গিত করেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আবূ কুরায়ব .... আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে বারণ করেছেন, আমি যেন এ আঙ্গুলে অথবা এ আঙ্গুলে আমার আংটি পরিধান না করি। আসিম এর জানা নেই দু'টির কোনটি হবে এবং তিনি আমাকে কাসসী জামা পরিধান করতে এবং "মায়াসির" এর উপর বসতে বারণ করেছেন। কাসসী হলো ডোরাদার কাপড়- যা মিসর ও সিরিয়া হতে আমদানি করা হতো, তাতে এমন এমন নকশা থাকতো। আর মায়াসির হলো- সে (নরম রেশমজাত) কাপড় যা মহিলারা তাদের স্বামীদের জন্য হাওদায় বিছিয়ে দেয়, বিছানার লাল শালের মতো।
ইবন আবূ উমার .... আবূ মূসা এর এক ছেলে সন্তান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী কে বলতে শুনেছি। অতঃপর রাবী নবী (ﷺ) হতে অবিকলভাবে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।
ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আলী ইবন আবূ তালিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে বারণ করেছেন অথবা নিষেধ করেছেন। অতঃপর রাবী হুবহু বর্ণনা করেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ বুরদাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বারণ করেছেন, আমি আমার এ আঙ্গুল অথবা এ আঙ্গুলে যেন আংটি পরিধান না করি। এ বলে তিনি তার মধ্যমা ও তার (ডান) আঙ্গুলের দিকে ইশারা করলেন।
সালামাহ্ ইবন শাবীব .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে এক জিহাদে বলতে শুনেছি- তোমরা অধিকাংশ (সময়) জুতা পরে থাকবে। কারণ মানুষ যে পর্যন্ত জুতা পরিহিত থাকে, সে পর্যন্ত সে সওয়ার থাকে।
আব্দুর রহমান ইবন সাল্লাম জুমাহী .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ জুতা পরবে, তখন প্রথমে ডান পায়ে পরবে। আর যে সময় খুলবে, সে সময় আগে বাম পায়ের জুতা খুলবে। আর হয় দু'খানাই পায়ে দিবে, অথবা দু'খানাই খুলে ফেলবে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ এক পায়ে জুতা পরিধান করে যেন চলাফেরা না করে। হয়তো দু'খানাই পায়ে দিবে; অথবা দু'খানাই খুলে ফেলবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আবূ রাযীন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ আমাদের নিকট আসলেন এবং নিজ হাত কপালে চাপড়ে বললেন, তোমরা কি বলাবলি কর যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর মিথ্যারোপ করি? যাতে তোমরা তোমাদের হিদায়াতপ্রাপ্ত হবার দাবি করতে পারো আর আমি পথভ্রষ্ট প্রতীয়মান হই? শোন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে সময় তোমাদের কারো একটি জুতার ফিতা ছিড়ে যায়, তখন সেটি ঠিক না করা পর্যন্ত সে যেন অন্য জুতাটি পায়ে দিয়ে চলাচল না করে।
আলী ইবন হুজর .... আবূ হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণিত আছে।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... জাবির হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন লোকের বাম হাতে খাবার খাওয়া, এক পায়ে জুতা পরিধান করে চলাফেরা করা, এক কাপড়ে সারা শরীরে জড়িয়ে রাখা ও লজ্জাস্থান উন্মুক্ত রেখে- এক কাপড়ে গুটি মেরে উপবিষ্ট হতে বারণ করেছেন।
আহমাদ ইবন ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন অথবা তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, যখন তোমাদের কারো একটি জুতার ফিতা ছিড়ে যায়, তখন সে যেন এক জুতা পায়ে না চলে। যে পর্যন্ত সে তার ফিতাটি ঠিক না করে। আর কেউ যেন এক মোজা পায়ে দিয়ে না চলে, বাম হাতের খাবার না খায়, এক কাপড়ে গুটি মেরে না বসে এবং এক কাপড়ে সারা দেহে জড়িয়ে না রাখে।
কুতাইবাহ ও রুমহ .... জাবির হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক কাপড়ে সারা দেহে জড়িয়ে রাখা, এক কাপড়ে গুটি মেরে বসা এবং চিৎ হয়ে ঘুমানো অবস্থায় এক পায়ের উপর অপর পা উঠিয়ে রাখতে বারণ করেছেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এক জুতা (এক পায়ে) পরিধান করে হাটবে না, এক লুঙ্গি গুটি মেরে বসবে না, বাম হাতে খাদ্য খাবে না, এক কাপড়ে সারা দেহে জড়িয়ে রাখবে না এবং চিত হয়ে ঘুমানো অবস্থায় এক পায়ের উপর অপর পা তুলবে না।
ইসহাক ইবন মানসূর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন চিৎ হয়ে শুয়ে এক পায়ের উপর অপর পা না উঠায়।
ইয়াহ্ইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আব্বাদ ইবন তামীম এর চাচা হতে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মসজিদে চিৎ হয়ে ঘুমানো অবস্থায় এক পায়ের উপর অপর পা উঠিয়ে রাখতে দেখেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন নুমায়র, যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, আবূ তাহির, হারমালাহ ও আবদ ইবন হুমায়দ যুহরী হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ রাবী ও কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) জাফরানী রংয়ের কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। কুতাইবাহ বলেন, হাম্মাদ বলেছেন, পুরুষদেরকে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন্ নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব, ইবন নুমায়র ও আবূ কুরায়ব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) পুরুষদেরকে জাফরানী রং-এর কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মক্কাহ) বিজয়ের বৎসর অথবা (রাবী বলেছেন, বর্ণনা সংশয়) (মক্কাহ) বিজয়ের দিবসে (আবূ বকর এর আব্বা) আবূ কুহাফাহ্ কে পেশ করা হলো অথবা (বর্ণনা সংশয়, বর্ণনাকারী বলেছেন-) তিনি (নিজেই) এলেন। তার মাথার চুল ও দাড়ি সাগাম বা সাগামাহ-এর ন্যায় (শুভ্র) ছিল। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে তার গৃহের নারীদের নিকট নিয়ে যেতে নির্দেশ করলেন, অথবা (বর্ণনা সন্দেহ, বর্ণনাকারী বলেছেন) তাকে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেয়া হলো এবং তিনি বললেন, এ (সাদা রং) টিকে কোন কিছু দিয়ে পাল্টিয়ে দাও।
আবূ তাহির জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কাহ বিজয়ের দিবসে আবূ কুহাফাহ্ কে নিয়ে আসা হলো; তার চুল-দাড়ি ছিল সাগামার ন্যায় শুভ্র। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, একে একটা কিছু দিয়ে পাল্টে দাও; তবে কালো রং থেকে বিরত থাকবে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারারা খিযাব লাগায় না। অতএব তোমরা তাদের বিপরীত করবে।
সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিবরীল কোন এক নির্দিষ্ট সময়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসার অঙ্গীকার করলেন। তবে ঠিক সময়ে তিনি আসলেন না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে একটি লাঠি ছিল তিনি তা হাত থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন, আল্লাহ তো তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না; তার রসূলগণও না। তারপর তিনি ভালভাবে তার খাটের তলায় একটি কুকুর সাবক লক্ষ্য করলেন। সে সময় তিনি বললেন, হে আয়িশাহ! কুকুর (ছানা)টি এখানে প্রবেশ করলো কখন? আয়িশাহ বললেন, আল্লাহর শপথ আমি এ ব্যাপারে অজ্ঞাত। সে সময় তিনি নির্দেশ দিলেন সেটিকে বের করে দেয়া হলো। এমন সময় জিবরীল আসলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আপনি আমাকে অঙ্গীকার করেছিলেন, তাই আমি আপনার অপেক্ষায় বসেছিলাম কিন্তু আপনি আসলেন না। তিনি বললেন, আপনার গৃহে (অবস্থানরত) কুকুরটি আমার জন্য বাধা স্বরূপ ছিল। কেননা যে গৃহে কোন ছবি অথবা কুকুর থাকে, সে গৃহের ভিতরে আমরা (রহমতের ফেরেশতারা) যাই না।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী .... আবূ হাযিম হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে বর্ণনা করেন যে, জিব্রীল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসার অঙ্গীকার করেছিলেন। .... অতঃপর তিনি হাদীস শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি রাবী আবদুল আযীয ইবন আবূ হাযিম বর্ণিত হাদীসের মতো তার বর্ণনা এত লম্বা করেননি।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাইমূনাহ্ আমাকে বলেছেন যে, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিমৰ্ষ অবস্থায় সকালে উঠলেন। তখন মাইমূনাহ্ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আজকে আপনার চেহারা মুবারক বিষন্ন দেখছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ জিবরীল আজ রাত্রে আমার সাথে সাক্ষাৎ করার অঙ্গীকার করেছিলেন, কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। জেনে রাখো, আল্লাহর কসম! তিনি (কক্ষনো) আমার সঙ্গে ওয়াদা খিলাফ করেননি। পরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সে দিনটি এভাবেই কাটালেন। এরপর আমাদের পর্দা (ঘেরা খাট)-এর নিচে একটি কুকুর ছানার কথা তার স্মরণ হলো। তিনি নির্দেশ করলে সেটি বের করে দেয়া হলো। অতঃপর তিনি তার হাতে সামান্য পানি নিয়ে তা ঐ (কুকুর শাবক বসার) স্থানে ছিটিয়ে দিলেন। অতঃপর সূর্যাস্ত হলে জিবরীল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। সে সময় তিনি তাকে বললেন, আপনি তো গত রাত্রে আমার সাথে সাক্ষাৎ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি বললেন, হ্যা। তবে আমরা (ফেরেশতারা) সে সকল গৃহে প্রবেশ করি না যে সকল গৃহে কোন কুকুর থাকে। অথবা কোন (প্রাণীর) ছবি থাকে। অতঃপর নবী (ﷺ) সেদিন সকাল বেলায় কুকুর নিধনের নির্দেশ দিলেন। এমনকি তিনি ছোট বাগানের (পাহারাদার) কুকুরও মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং বড় বড় বাগানের কুকুরগুলোকে মুক্তি দিয়েছিলেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ আমর আন নাকিদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ তালহাহ্-এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ফেরেশতাগণ সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কোন কুকুর অথবা কোন (প্রাণীর) ছবি থাকে।
আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ তালহাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, ফেরেশতারা এমন কোন গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কুকুর অথবা (প্রাণীর) ছবি থাকে।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে ইউনুস বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী আবূ তালহাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ফেরেশতারা সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কোন ছবি থাকে। বর্ণনাকারী বুস্র বলেন, এরপর যায়দ পীড়িত হয়ে পড়লে আমরা তাকে দেখতে গেলাম। লক্ষ্য করলাম তার দরজায় একটি পর্দা রয়েছে, যাতে ছবি রয়েছে। আমি সে সময় নবী (ﷺ) এর স্ত্রী মাইমূনাহ্ এর পালিত সন্তান উবাইদুল্লাহ খাওলানী কে বললাম (পূর্বে এক দিন) ছবির বিষয়ে কি যায়দ আমাদের নিকট হাদীস উল্লেখ করেছেন (আর এখন তার পর্দায় ছবি!)? উবাইদুল্লাহ বললেন, তুমি কি তার এ কথাটি শোননি। তিনি এটাও বলেছেন যে, কোন কাপড়ে আকা ছবি এর আওতাভুক্ত নয়।
আবূ তাহির .... আবূ তালহাহ্ থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ফেরেশতারা সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কোন ছবি রয়েছে। রাবী বুস্র বলেন, যায়দ ইবন খালিদ পীড়িত হলে, আমরা তাকে দেখতে গেলাম। সে সময় আমরা তার ঘরে একটি পর্দায় অনেক ছবি আছে দেখতে পেলাম। সে সময় আমি উবাইদুল্লাহ খাওলানী কে বললাম, তিনি কি ছবির ব্যাপারে আমাদের কাছে হাদীস উল্লেখ করেননি? উত্তরে বললেন, তিনি বলেছিলেন তবে কাপড়ে আকা ছবি। তুমি কি তা শুনতে পাওনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, অবশ্যই তিনি বলেছিলেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ তালহাহ্ আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, ফেরেশতারা সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কোন কুকুর অথবা কোন মূর্তি থাকে।
রাবী [যায়দ ইবন খালিদ] বলেন, অতঃপর আমি আয়িশাহ এর কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলাম, ইনি (আবূ তালহাহ) আমাকে বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ফেরেশতারা সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কোন কুকুর অথবা মূর্তি থাকে। আপনি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, না। কিন্তু আমি যা করতে তাকে দেখেছি, তার বর্ণনা তোমাদের নিকটে দিচ্ছি। আমি তাকে লক্ষ্য করেছি, তিনি (কোন) জিহাদে বেরিয়ে গেলেন। সে সময় আমি একটি পাতলা নরম শাল জোগাড় করলাম এবং তা দ্বারা দরজার পর্দা তৈরি করলাম। তিনি প্রত্যাবর্তন করে যখন চাদরটি প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তার চেহারায় আমি বিমৰ্ষভাব লক্ষ্য করলাম। তিনি তা টেনে নামিয়ে ফেললেন; এমনকি তা ছিড়ে ফেললেন কিংবা টুকরা টুকরা করে ফেললেন। আর বললেন, মহান আল্লাহ আমাদেরকে পাথর অথবা মাটিকে বস্ত্র পরানোর নির্দেশ দেননি। আয়িশাহ বলেন, আমরা চাদরটি কেটে দুটি বালিশ তৈরি করলাম এবং সে দুটির অভ্যন্তরে খেজুর বৃক্ষের আশ ঢুকিয়ে দিলাম। তাতে তিনি আমাকে আর দোষারোপ করলেন না।
যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের একটি পর্দা ছিল। এতে পাখীর ছবি ছিল। আর (গৃহে) প্রবেশকারীর প্রবেশের সময় তা তার সম্মুখে পড়ত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, এটি দূরে রেখ। কারণ যতবার আমি প্রবেশ করি এবং তা দেখি ততবার আমি ইহকাল স্মরণ করেছি। আয়িশাহ বলেন, আর আমাদের একটি পশমী চাদর ছিল। আমরা দেখতাম যে, এটির কারুকার্য ছিল রেশমের। আমরা সেটি ব্যবহার করতাম।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন আবূ আদী ও আবদুল আ'লা হতে উক্ত সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু ইবন মুসান্না বলেছেন, এ সূত্রে তিনি আবদুল আ'লা বর্ধিত করে বলেছেন, "রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের তা কর্তন করার নির্দেশ দেননি।"
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন। আমি দরজায় একটি আচলযুক্ত মসৃণ পর্দা ঝুলিয়ে দিলাম, তাতে পাখাযুক্ত ঘোড়া (এর ছবি) ছিল। তিনি আমাকে নির্দেশ করলেন। সে সময় আমি তা খুলে ফেললাম।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ও আবূ কুরায়ব .... ওয়াকী হতে উপরোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আবদার হাদীসে 'সফর হতে ফিরে আসলেন' কথাটি নেই।
মানসুর ইবন আবূ মুযাহিম .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট (হুজরায়) আসলেন। সে সময় আমি একটি মসৃণ বস্ত্রের পর্দা লাগিয়ে রেখেছিলাম, যাতে কোন ছবি ছিল। যার দরুন তার চেহারা বিমর্ষ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি পর্দাটি হাতে নিয়ে তা ছিড়ে ফেললেন; তারপরে বললেনঃ কিয়ামতের দিবসে ভয়ঙ্কর শাস্তি ভোগকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ওরাও থাকবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির সাথে তুলনা কার্যে অগ্রসর হয়।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার [আয়িশাহ-এর] ঘরে ঢুকলেন .... পরবর্তী অংশ ইবরাহীম ইবন সা'দ এর হাদীসের অবিকল। তবে ইউনুস বলেছেন, তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্দার দিকে ঝুকলেন এবং তার হাত দ্বারা তা টুকরো টুকরো করে ফেললেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে বর্ণনা করছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট আসলেন, সে সময় আমি আমার একটি তাক পর্দা দিয়ে ঢেকে রেখেছিলাম, যার মধ্যে ছবি ছিল। তিনি সেটি দেখতে পেয়ে ছিড়ে ফেললেন এবং তার চেহারা বিমর্ষ হয়ে গেল। তিনি বললেন, হে আয়িশাহ! কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট ঐ সমস্ত ব্যক্তি ভয়ঙ্কর শাস্তি আস্বাদন করবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির অনুরূপ সৃষ্টি করে। আয়িশাহ্ বলেন, আমরা সে সময় সেটি কেটে ফেললাম এবং সেটা দ্বারা একটা বা দু'টো বালিশ তৈরি করলাম।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, তার এক টুকরো কাপড় ছিল, যার মধ্যে নানা রকম ছবি ছিল এবং তা একটা তাকের উপরে ঝুলানো ছিল। নবী (ﷺ) সেদিকে নামাজ আদায় করতেন। সে সময় তিনি বললেন, এটি আমার সম্মুখ হতে সরিয়ে নাও। আয়িশাহ বলেন, সে সময় আমি সেটি সরিয়ে ফেললাম এবং (পরে) সেটি দ্বারা কয়েকটি বালিশ তৈরি করে নিলাম।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও উকবাহ ইবন মুকরাম সাঈদ ইবন আমির হতে; অন্য সানাদে ইসহাক ইবন ইবরাহীম আবূ আমির আকাদী হতে, দু'জনে শুবাহ হতে উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার গৃহে প্রবেশ করলেন। আমি সে সময় একটা মসৃণ চাদর দ্বারা পর্দা তৈরি করেছিলাম, যাতে অনেক ছবি ছিল। তিনি সেটি সরিয়ে ফেললেন। পরে আমি তা দিয়ে দুটি বালিশ তৈরি করলাম।
হারূন ইবন মারূফ .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, তিনি একটি পর্দা লটকালেন, তাতে বহু ছবি ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রবেশ করে তা ছিড়ে ফেলে দিলেন। তিনি [আয়িশাহ] বলেন, আমি সেটি টুকরো টুকরো করে দু'টি বালিশ তৈরি করলাম। সে সময় বানু যুহরার মাওলা, রাবীআহ ইবন আতা নামে পরিচিত সভায় উপবিষ্ট জনৈক লোক বললেন, আপনি কি আবূ মুহাম্মাদকে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেননি যে, আয়িশাহ বলেছেন, তারপরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সে (বালিশ) দুটিতে হেলান দিতেন। ইবন কাসিম বললেন, না। তবে আমি কাসিম ইবন মুহাম্মাদ এর নিকটেই এ কথা শুনেছি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি একটি বসার গদি ক্রয় করলেন, তাতে বহু ছবি ছিল। তা দেখে রসূলুল্লাহ (ﷺ) দরজায় (ঘরে না ঢুকে) দাড়িয়ে রইলেন। আমি তার মুখমণ্ডলে অপছন্দের বিষণ্ণতা দেখলাম- অথবা বর্ণনাকারী বলেছেন, তার অবয়বে বিমৰ্ষতার সাদৃশ্য প্রত্যক্ষ হলো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি আল্লাহ ও তার রসূলের নিকট তওবা করছি। কিন্তু আমি কি অন্যায় করেছি? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ গদির বিষয় কি? তিনি বললেন, আপনার জন্য আমি এটি ক্রয় করেছি, আপনি তাতে বসবেন এবং তাতে হেলান দিবেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এসব ছবি তৈরিকারীদের (শাস্তি) দেয়া হবে এবং তাদের বলা হবে- তোমরা যা তৈরি করেছে তা জ্যান্ত করো। অতঃপর বললেন, যে গৃহে ছবি থাকে, সেখানে ফেরেশতা প্রবেশ করে না (ঢুকেন না)।
কুতাইবাহ ইবন রুমহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, আবদুল ওয়ারিস ইবন আবদুস সামাদ, হারূন ইবন সাঈদ আইলী ও আবূ বকর ইবন ইসহাক .... আয়িশাহ্ হতে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেন। কিন্তু তাদের একজনের হাদীস অন্যজনের হাদীসের তুলনায় পরিপূর্ণ। আবদুল আযীয তার হাদীসে বর্ধিত বর্ণনা করেন যে, আয়িশাহ্ বলেছেন, তা দিয়ে তাকে আমি দুটি হেলানো বালিশ তৈরি করে দিলাম। তিনি ঘরে সে দুটিতে হেলান দিতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ইবন মুসান্না ও ইবন নুমায়র .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যারা ছবি প্রস্তুত করে, কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দেয়া হবে আর বলা হবে, তোমরা যা তৈরি করেছে তাকে জীবিত করো।
আবূ রাবী, আবূ কামিল, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমার .... ইবন উমার এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে উবাইদুল্লাহ সানাদে ইবন উমার হতে বর্ণিত হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ আবূ সাঈদ আশাজ্জ .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অবশ্যই কিয়ামতের দিবসে মানুষের মধ্যে (কঠিন শাস্তি ভোগকারী হবে ছবি তৈরিকারীরা।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইবন আবূ উমার .... আমাশ হতে উপরোক্ত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন কিন্তু ইয়াহইয়া ও আবূ কুরায়ব আবূ মুআবিয়াহ্ এর সানাদে বর্ণিত রয়েছে, অবশ্যই কিয়ামতের দিবসে জাহান্নামবাসীদের কঠিনরূপে শাস্তি ভোগকারীদের মধ্যে থাকবে ছবি অঙ্কনকারীরা। আর সুফইয়ান এর হাদীস বর্ণনাকারী ওয়াকি' এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল।
নাসর ইবন আলী জাহযামী .... মুসলিম ইবন সুবায়হ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাসরুক এর সঙ্গে একটি গৃহে ছিলাম। সেখানে মারইয়াম এর (সদৃশ) মূর্তি ছিল। মাসরুক বললেন, এটি (পারস্য বাদশাহ) কিসরার প্রতিমা। আমি বললাম, না; এটি মারইয়াম এর প্রতিমা (সাদৃশ্য)। সে সময় মাসরুক বললেন, শুনো! আমি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিবসে ভয়ঙ্কররূপে শাস্তি ভোগকারী হবে ছবি প্রস্তুতকারীরা।
ইমাম মুসলিম বলেন আমি নাসর ইবন আলী জাহযামী কে (এ হাদীসের পাঠ) পড়ে শুনিয়েছি, সাঈদ ইবন আবূল হাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক ইবন আব্বাস এর নিকট এসে বলল, আমি এসব ছবি অঙ্কন করে থাকি; তাই এ ব্যাপারে আপনি আমাকে ফাতাওয়া দিন। তিনি বললেন, তুমি আমার কাছে এসো। সে তার নিকটে এলে তিনি বললেন, (আরও) নিকটে এসো। সে (আরও) নিকটে এলো। পরিশেষে তিনি তার মাথায় হাত রেখে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট যা শুনেছি, তা তোমাকে বলছি। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি - প্রত্যেক ছবি প্রস্তুতকারী জাহান্নামের অধিবাসী হবে। তার তৈরিকৃত প্রতিটি ছবিতে জীবন দেয়া হবে, সে সময় জাহান্নামে তাকে ঐগুলো আযাব দিতে থাকবে। তিনি আরও বললেন, তোমাকে একান্তই যদি (তা) করতে হয়, তাহলে গাছ (পালা) এবং যার জীবন নেই, সে সব বস্তুর (ছবি) প্রস্তুত করো। [ইমাম মুসলিম এ হাদীস পড়ে শুনালে] নাসর ইবন আলী তার অনুমতি দিলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... নাযর ইবন আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি (অনেক বিষয়) ফাতাওয়া দিতে লাগলেন, কিন্তু (কোন ফাতাওয়ায়) এ কথা বলেননি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পরিশেষে জনৈক লোক তাকে প্রশ্ন করলে সে বলল, আমি এসব (প্রাণীর) ছবি তৈরি করে থাকি। তখন ইবন আব্বাস তাকে বললেন, কাছে এসো। ব্যক্তিটি নিকটে আসলো। তখন ইবন আব্বাস বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, দুনিয়াতে যে লোক (প্রাণীর) ছবি অঙ্কন করে, কিয়ামতের দিন তাতে প্রাণ ফুকে দিতে তাকে বাধ্য করা হবে। অথচ সে (তা) ফুকে দিতে পারবে না।
আবূ গাসসান মিসমাঈ ও মুসান্না .... নাযর ইবন আনাস হতে বর্ণিত যে, জনৈক লোক ইবন আব্বাস এর নিকটে আসলো। .... অতঃপর তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হুবহু বর্ণনা করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আবূ কুরায়ব .... আবূ যুরআহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ এর সঙ্গে (খলীফা) মারওয়ানের গৃহে ঢুকলাম। সেখানে তিনি বহু ছবি প্রত্যক্ষ করে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ "সে লোকের চেয়ে অধিকতর অত্যাচারী আর কে আছে, যে আমার সৃষ্টি সমতুল্য মাখলুক সৃষ্টি করতে চায়; (যদি তাই হয়) তাহলে তারা একটি (অনুভূতিশীল) বিন্দু সৃষ্টি করুক? কিংবা তারা (খাদ্য প্রাণ ও স্বাদযুক্ত) একটি শস্যদানা সৃষ্টি করে দেখাক? কিংবা তারা একটি মাত্র যব (এর দানা) সৃষ্টি করুক?
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ যুরআহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আবূ হুরাইরাহ সাঈদ অথবা মারওয়ানের জন্য মদীনায় নির্মাণাধীন একটি ঘরে ঢুকলাম। বর্ণনাকারী বলেন, সে সময় তিনি [আবূ হুরাইরাহ] প্রত্যক্ষ করলেন যে, একজন অঙ্কনকার ঘরের দেয়ালগুলোতে (বিভিন্ন) চিত্র আকছে। তখন তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) উপরোক্ত হাদীসের হুবহু বলেছেন। কিন্তু তিনি "তারা একটি (মাত্র) যবদান সৃষ্টি করুক" অংশটি বর্ণনা করেননি।
আবূ বকর ইবন শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে ঘরে ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না, যে ঘরে ছবি রয়েছে।
আবূ কামিল ফুযায়ল ইবন হুসায়ন জাহদারী .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (রহমতের) ফেরেশতারা সে সফরকারী দলের সঙ্গে অবস্থান করেন না, যাতে কোন কুকুর বা ঘণ্টা থাকে।
যুহায়র ইবন হারব ও কুতাইবাহ .... সুহায়ল হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবন হুজর .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ঘণ্টা হলো শয়তানের বাশি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আব্বাদ ইবন তামীম হতে বর্ণিত যে, আবূ বাশীর আনসারী তাকে বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কোন এক সফরে তার সঙ্গী ছিলেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন ঘোষক প্রেরণ করলেন; আবদুল্লাহ ইবন আবূ বকর বলেন, আমার ধারণা হয়, তিনি (আব্বাদ) বলেছেন, সে সময় দলের ব্যক্তিরা তাদের রাত কাটানোর জন্য শয্যায় (ঘুমিয়ে পড়ে) ছিল, 'নিশ্চয়ই কোন উটের গলায়' চামড়ার তারের মালা অথবা কোন মালা না থাকে; যদি অবশিষ্ট থাকে তবে কেটে ফেলা হবে। মালিক বলেন, আমার বিশ্বাস, তা কুলক্ষণ হতে বাচার জন্য (লাগানো) হত।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (প্রাণীর) মুখে আঘাত করতে এবং মুখে সেক লাগতে বারণ করেছেন।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ এবং (অন্য সূত্রে) আবদ ইবন হুমায়দ, .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বারণ করেছেন, .... (উপরোক্ত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন)।
সালামাহ্ ইবন শাবীব .... জাবির হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে দিয়ে একটি গাধা যাচ্ছিল, যার মুখে দাগ দেয়া হয়েছিল। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি একে দাগ লাগিয়েছে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করুন।
আহমাদ ইবন ঈসা .... ইবন আব্বাস বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুখে দাগ বিশিষ্ট একটি গাধা দেখে তাতে বিরক্তিবোধ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি (ইবন আব্বাস) বলেন, আল্লাহর শপথ আমি তার মুখের কিনারায় দাগ লাগাব। এরপর তিনি তার একটি গাধার উপর আদেশ জারি করলেন। অতঃপর তার দু' পাছায় দাগ দিয়ে দেয়া হলো। ফলে তিনিই হলেন পাছায় দাগ লাগানোর প্রথম ব্যক্তি (ও প্রবর্তক)।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমার মা) উম্মু সুলায়ম যখন বাচ্চা প্রসব করলেন তখন আমাকে বললেন, হে আনাস! এ বাচ্চাটির প্রতি খেয়াল রেখ, সকাল বেলা তুমি যতক্ষণ তাকে নবী (ﷺ) এর কাছে নিয়ে না যাবে এবং তিনি কিছু চিবিয়ে তার মুখে না দিবেন (ততক্ষণ পর্যন্ত একে কিছু খাওয়ানো হবে না)। বর্ণনাকারী আনাস বলেন, আমি সকালে গেলাম এবং লক্ষ্য করলাম, তিনি (রসূলুল্লাহ (ﷺ)) একটি বাগানে আছেন এবং তার শরীরে একটি জাওয়ানিয়্যাহ কালো পশমী চাদর রয়েছে এবং তিনি যুদ্ধ হতে প্রাপ্ত (গনীমতের) উটগুলোতে চিহ্ন দিচ্ছিলেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... হিশাম ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস কে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, যখন তার মা সন্তান প্রসব করলেন, তখন তারা নবজাতককে নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে গেলেন, তিনি খেজুর চিবিয়ে লালাযুক্ত খেজুর তার মুখে দেন। বর্ণনাকারী আনাস বলেন, গিয়ে দেখলাম, নবী (ﷺ) একটি খোয়াড়ে বকরীর গায়ে দাগ লাগাচ্ছেন, (এ সানাদের অন্য বর্ণনাকারী) শুবাহ বলেন, আমার দৃঢ়প্রত্যয় এই যে, তিনি (হিশাম) বলেছেন, সেগুলোর কানো দাগ লাগাচ্ছিলেন।
যুহায়র ইবন হারব .... শুবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস কে বলতে শুনেছি, আমরা একটি (ছাগলের) খোয়াড়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে গেলাম এমতাবস্থায় যে, তিনি ছাগলের শরীরে চিহ্ন দিচ্ছিলেন। বর্ণনাকারী (শুবাহ) বলেন, আমি মনে করছি, তিনি (হিশাম) বলেছেন 'সেগুলোর কানে'- (চিহ্ন দিচ্ছিলেন)।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... শুবাহ হতে উপরোল্লিখিত সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হারূন ইবন মারূফ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে দাগযন্ত্ৰ দেখলাম এমতাবস্থায় যে, তিনি সদাকার উটে দাগ লাগাচ্ছিলেন।
যুহায়র ইবন হারব .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কাযা (চুল কিছু ছেটে কিছু রাখা) নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকার (উমার ইবন নাফি) বলেন, আমি নাফি কে জিজ্ঞেস করলাম, কাযা কি? তিনি বললেন, শিশুর মাথার (চুল) কিছু কামানো এবং কিছু রেখে দেয়া।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ এবং (অন্য সানাদে) ইবন নুমায়র উভয়ে .... উবাইদুল্লাহ থেকে উপরোক্ত সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু উসামাহ্ বর্ণিত হাদীসে তিনি কাযা শব্দের ব্যাখ্যাটিকে উবাইদুল্লাহ এর কথা বলে বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও উমাইয়াহ্ ইবন বিসতাম .... উবাইদুল্লাহ হতে উপরোক্ত সানাদে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরা উভয়ে ব্যাখ্যাটিকে (মূল) হাদীসের সাথে যুক্ত করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি, হাজ্জাজ ইবন শা'ইর ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন উমার সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন।
সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আবূ সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বেচে থাকো। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! (পথের উপরে) আমাদের মাজলিস না করে উপায় নেই, তথায় বসে আমরা (দরকারী) আলোচনা করে থাকি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ নিতান্তই যদি তোমাদের তা করতেই হয়, তবে রাস্তার হক আদায় করবে। তারা বললেন, রাস্তায় হক কি? তিনি বললেন, দৃষ্টি নিচু করা, কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলা, সালামের উত্তর দেয়া এবং ভাল কাজের আদেশ দেয়া ও মন্দ কর্ম থেকে নিষেধ করা।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... যায়দ ইবন আসলাম থেকে উপরোল্লিখিত সানাদে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আসমা বিনতু আবূ বকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার এক সদ্য বিবাহিতা মেয়ে হাম রোগে ভুগছে। এতে তার চুল ঝরে গেছে। আমি কি তাকে পরচুল লাগিয়ে দিব? তখন তিনি বললেন, পরচুল সংযোজনকারিণী ও সংযোজন প্রার্থিনীদের (মহিলাদের) আল্লাহ তাআলা অভিসম্পাত করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ইবন নুমায়র আবূ কুরায়ব ও আমর আন নাকিদ ..... হিশাম ইবন উরওয়াহ্ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে আবূ মুআবিয়াহ্ বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন।
আহমাদ ইবন সাঈদ দারিমী .... আসমা বিনতু আবূ বকর থেকে বর্ণিত যে, একজন মহিলা নবী (ﷺ) এর নিকটে এসে বললেন, আমার মেয়েকে আমি বিবাহ দিয়েছি, এখন (রোগগ্রস্ত হয়ে) তার মাথার চুল ঝরে গেছে, আর তার স্বামী তাকে (যথাশীঘ্রই কাছে পাওয়া) পছন্দ করে। হে আল্লাহর রসূল! আমি কি পরচুল সংযোজন করে দিব? তিনি তাকে নিষেধ করলেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আয়িশাহ হতে বর্ণনা করেন যে, এক আনসারী মেয়ে বিয়ে করলেন। আর সে রোগগ্রস্ত হলে তার চুল ঝরে গেল। তার পরিবারের লোকজন তাকে পরচুল লাগিয়ে দেয়ার ইচ্ছা করল। অতঃপর তারা এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রশ্ন করল। তিনি তখন পরচুল সংযোজনকারিণী ও সংযোজন প্রার্থিনী মহিলাকে অভিসম্পাত করলেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত যে, একজন আনসারী মহিলা তার এক মেয়েকে বিয়ে দিলেন, মেয়েটি রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ল অতঃপর তার চুল উঠে গেল। অতঃপর মহিলাটি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, তার স্বামী তাকে এখন পেতে চায়। আমি তার চুলের সঙ্গে পরচুল লাগিয়ে দিব কি? তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কৃত্রিম চুল সংযোজনকারিণীদের লানত করা হয়েছে।
মুহাম্মদ ইবন হাতিম ..... ইবরাহীম ইবন নাফি হতে উপরোল্লিখিত সানদে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, কৃত্রিম চুল সংযোজনকারিণীদের প্রতি লানত করা হয়েছে। তাছাড়া তার বর্ণনায় (এ কাজে সাহায্যকারীদের লানাত দেয়া হয়েছে) শব্দ রয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) পরচুল সংযোজনকারিণী ও সংযোজন প্রার্থিনী এবং মানবদেহে চিত্র অঙ্কনকারিণী ও অঙ্কন প্রার্থিনীদের অভিশাপ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বাযী .... আবদুল্লাহ সানাদে নবী (ﷺ) থেকে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষের শরীরে চিত্র অঙ্কনকারিণী ও চিত্র অঙ্কন প্রার্থিনী মহিলা, কপালে ভ্রুর চুল উৎপাটনকারিণী ও উৎপাটন প্রার্থনী এবং সৌন্দর্য সুষমা বাড়ানোর জন্যে দাতের মাঝে (সুদৃশ্য) ফাক সুষমা তৈরিকারিণী- যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি সাধনকারিণী- এদের আল্লাহ তাআলা অভিশাপ করেন। বর্ণনাকারী বললেন, বানী আসাদ গোত্রের এক মহিলার কাছে হাদীসটি পৌছল যাকে উম্মু ইয়াকুব নামে ডাকা হয়। তিনি কুরআন পাঠ করছিলেন। অতঃপর তিনি তার নিকট এসে বললেন, সে হাদীসটি কি ধরনের, যা আপনার পক্ষ থেকে আমার নিকট পৌছেছে যে, অবশ্য আপনি মানুষের শরীরে চিত্র অঙ্কনকারিণী ও অঙ্কন প্রাথিনী মহিলা ও ভুরুর পশম উৎপাটনকারিণী নারী এবং সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্যে দাতের মাঝে দর্শনীয় ফাকে সুষমা তৈরিকারিণীদের- যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন সাধনকারিণী- এদের অভিশাপ করেছেন আবদুল্লাহ বললেন, আমার পক্ষে কি যুক্তি থাকতে পারে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন, আমি সে ব্যক্তিদের অভিশাপ দিব না? অথচ তা আল্লাহর কিতাবে রয়েছে। অতঃপর মহিলা বললেন, মাসহাফের (আল-কুরআন)-এর দু' বাধাই কাগজের মধ্যবর্তী (আদ্যোপান্ত) সবটুকু আমি পড়েছি, তাতে আমি কোথাও কিছু পাইনি। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি যদি (গভীর অভিনিবেশ সহকারে) তা পড়তে, তাহলে অবশ্যই তুমি তা পেতে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আর রসূল তোমাদের নিকট যা কিছু নিয়ে আসছেন তা ধরে রাখো এবং তিনি যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে দূরে থাকো"-(আল হাশর ৫৯ঃ ৭)। মহিলাটি বললেন, আমি নিশ্চিত যে, আপনার স্ত্রীর মধ্যে এর কোন বিষয় এখন গিয়ে দেখতে পাব। তিনি বললেন, তুমি যাও, দেখো আছে কিনা। বর্ণনাকারী বললেন, এরপর মহিলা আবদুল্লাহ এর স্ত্রীর নিকট গেলেন, তবে কিছুই দেখতে পাননি। তারপর তিনি তার নিকটে ফিরে এসে বললেন, কিছুই দেখতে পেলাম না। বর্ণনাকারী বললেন, শোনা যদি সে রকম হতো তাহলে আমরা সহবাস করতাম না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... মানসূর হতে উপরোল্লিখিত সানাদে জারির বর্ণিত হাদীসের হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া বর্ণনাকারী সুফইয়ান এর বর্ণিত হাদীসে "মানুষের শরীরে চিত্র অঙ্কনকারিণী ও অঙ্কন প্রার্থিনী" কথাটি রয়েছে এবং বর্ণনাকারী মুফাযযাল এর বর্ণিত হাদীসে "মানুষের শরীরে অংকনকারিণী ও অংকনকৃত মহিলারা" এ কথাটি রয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার ..... মানসূর সানাদে উপরোক্ত হাদীসটি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তবে তা উম্মু ইয়াকুব প্রসঙ্গে সব ঘটনা থেকে ভিন্ন।
শাইবান ইবন ফাররূখ .... আবদুল্লাহ সানাদে নবী (ﷺ) হতে (উপরোক্ত) ওদের হাদীসের হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী, মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবূ যুবায়র ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। যে মহিলা তার মাথায় কোন কিছু সংমিশ্রণ করে, নবী (ﷺ) তাকে ধমক দিয়েছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান ইবন আওফ .... মুআবিয়াহ ইবন আবূ সুফইয়ান হতে বর্ণিত যে, তিনি মিম্বারে দাড়িয়ে (বক্তৃতা দেয়ার সময়) একটি (নকল) চুলের খোপা হাতে নিয়ে, যা একজন দেহরক্ষীর হাতে ছিল, বলেছিলেন, হে মদীনাবাসী! তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন বস্তু হতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি বলেছেন বনী ইসরাঈল ঐ সময় ধ্বংস হয়েছে, যখন তাদের স্ত্রীলোকেরা এসব ধারণ করেছে।
ইবন আবূ উমার, হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে মালিক বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া বর্ণনাকারী মা'মার এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, "বনী ইসরাঈল সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে"।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআবিয়াহ্ যখন মদীনায় আসলেন। তখন তিনি আমাদের সামনে খুতবাহ দেয়ার সময় চুলের একটি খোপা বের করে বললেন, আমি জানতাম না যে, ইয়াহুদী ব্যতীত ভিন্ন কেউ এ কর্ম করে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এটি পৌছলে তিনি এটাকে মিথ্যা (প্রতারণা) নামে আখ্যায়িত করলেন।
আবূ গাসসান মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... সাঈদ ইবন মুসাইয়্যিব হতে বর্ণিত যে, মুআবিয়াহ (একদিন) বললেন, তোমরা একটি নিকৃষ্ট বেশভুশা তৈরি করেছ। অথচ নবী (ﷺ) মিথ্যা বলতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, সে সময় একজন লোক একটি লাঠি নিয়ে আসলো যার মাথায় একটি (কৃত্রিম চুলের) খোপা ছিল। মুআবিয়াহ বললেন, দেখো! এটাই মিথ্যা ও অলীক। বর্ণনাকারী কাতাদাহ্ বলেন, মেয়েরা তাদের চুলের পরিমাণ যেসব গোছা দিয়ে বাড়িয়ে দেখায়।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নামবাসী দু' প্রকার মানুষ, আমি যাদের (এ পর্যন্ত) দেখিনি। একদল মানুষ, যাদের সঙ্গে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে, তা দ্বারা তারা লোকজনকে মারবে এবং এক দল স্ত্রী লোক, যারা কাপড় পরিহিত উলঙ্গ, যারা অন্যদের আকর্ষণকারিণী ও আকৃষ্টা, তাদের মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কুঁজের মতো। ওরা জান্নাতে যেতে পারবে না, এমনকি তার সুগন্ধিও পাবে না অথচ এত এত দূর হতে তার সুঘ্ৰাণ পাওয়া যায়।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, একটি মহিলা (এসে) বলেছে, হে আল্লাহর রসূল! আমার স্বামী আমাকে যা দেয়নি, আমি বলি যে, সে আমাকে তা (জিনিস) দিয়েছে। (এমন করা কেমন)? অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যা দেয়া হয়নি তা নিয়ে আত্মতৃপ্তি প্রকাশকারী দু'খানি মিথ্যা কাপড় পরিধানকারীর মতই।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আসমা হতে বর্ণনা করেন যে, একজন মহিলা নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, আমার একজন সতীন আছে। আমার স্বামী যে মালপত্র আমাকে দেননি, তা দিয়ে আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করলে আমার উপর কোন গুনাহ হবে কি? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যা দেয়া হয়নি, তাতে আত্মতৃপ্তি প্রকাশকারী দু'খানি মিথ্যা বস্ত্র পরিধানকারীর মতো।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... হিশাম সানাদে উপরোল্লিখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন।