কুরআনের তাফসীর (৭৪১৪-৭৪৫৪)
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কয়েকটি হাদীস আলোচনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হাদীস হচ্ছে এই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ বনী ইসরাঈলদেরকে বলা হয়েছিল, তোমরা দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সময় সিজদাবনতঃ হয়ে প্রবেশ কর এবং বলো 'আমাদেরকে ক্ষমা কর'। তাহলে আমি তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিব। কিন্তু তারা এ কথার পরিবর্তন করতঃ পাছার উপর ভর করে হেচড়াতে হেঁচড়াতে দরজা দিয়ে প্রবেশ করল এবং (ক্ষমা মার্জনার স্থলে) - যবের শীষে দানা দাও বলতে থাকল।
আমর ইবন মুহাম্মাদ ইবন বুকায়র আন নাকিদ, হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইন্তিকালের পূর্বে ও ইন্তিকাল পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর ধারাবাহিকভাবে ওয়াহী অবতীর্ণ করেন। যেদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তিকাল করেন সেদিনও তার প্রতি অনেক ওয়াহী অবতীর্ণ হয়।
আবু খাইসামাহ যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... তারিক ইবন শিহাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহুদী লোকেরা উমর কে বলল, তোমরা এমন একটি আয়াত পাঠ করে থাকো তা যদি আমাদের সম্বন্ধে অবতীর্ণ হত, তবে এ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসবের দিন হিসেবে পালন করতাম। উমর বললেন, আমি জানি, ঐ আয়াতটি কখন, কোথায় ও কোন দিন অবতীর্ণ হয়েছিল। আর যখন তা অবতীর্ণ হয়েছিল তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোথায় অবস্থান করছিলেন তাও জানি। আয়াতটি আরাফার দিন অবতীর্ণ হয়েছিল; রসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আরাফাতেই অবস্থান করছিলেন। রাবী সুফইয়ান বলেন, "আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং আমার নিআমাত তোমাদের প্রতি পূর্ণ করে দিলাম"-(আল মায়িদাহ ৫ঃ ৩)। এ আয়াতটি যেদিন অবতীর্ণ হয়েছিল তা জুমুআর দিন ছিল কি-না, এ বিষয়ে আমি সন্দিহান
আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... ত্বরিক ইবন শিহাব হতে বর্ণিত তিনি বলেন জনৈক ইয়াহুদি উমার কে বলল "আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম"(আল মায়িদাহ ৫ঃ ৩) এ আয়াতটি আমাদের ইয়াহুদী সম্প্রদায় সম্বন্ধে অবতীর্ণ হলে এ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসব দিবস হিসেবে পালন করতাম। আমরা জানি, কোন দিন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে। রাবী বলেন, এ কথা শুনে উমর বললেন, কোন দিন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে, কোন সময়ে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এ আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোথায় ছিলেন, তাও আমি সম্যক অবগত আছি। এ আয়াতটি মুযদালিফার রাতে অবতীর্ণ হয়েছে। তখন আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আরাফার মাঠে ছিলাম।
আবদ ইবন হুমায়দ .... তারিক ইবন শিহাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহুদী ব্যক্তি উমর এর কাছে এসে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনাদের কিতাবের মধ্যে এমন একটি আয়াত আপনারা তিলাওয়াত করে থাকেন। যদি তা আমাদের ইয়াহুদী সম্প্রদায় সম্পর্কে অবতীর্ণ হত তাহলে ঐ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসব দিবস হিসেবে পালন করতাম। উমর প্রশ্ন করলেন আয়াতটি কি? সে বলল, আয়াতটি হল "আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম"(আল মায়িদাহ ৫ঃ ৩)। এ কথা শুনে উমর বললেন, যে দিন, যে স্থানে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে অবশ্যই আমি তা জানি। আয়াতটি জুমুআর দিন আরাফাতের মাঠে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে।
আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজীবী .... উরওয়াহ ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ কে মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে প্রশ্ন করলেনঃ "তোমরা যদি ভয় করো যে, ইয়াতীমদের মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করবে স্ত্রীলোকেদের মধ্যে যাকে তোমাদের পছন্দ হয়। (আন নিসার) দু', তিন অথবা চার" এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, হে ভাগ্নে! যেসব ইয়াতীম মেয়েরা তাদের তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবকদের সম্পদের অংশীদার হত তার সম্পদের লালসা ও রূপ-যৌবনের সৌন্দর্যের প্রতি উক্ত অভিভাবক তাকে অন্যরা যে পরিমাণ মুহরানা দিয়ে বিয়ে করতে প্রস্তুত ইনসাফের নীতি অনুযায়ী উক্ত পরিমাণ মুহরানা দিয়ে বিয়ে করতে চাইতো না। এ আয়াতে তাদেরকে ঐসব ইয়াতীমদের বিয়ে করতে বারণ করা হয়েছে। তবে তাদের মুহরানা প্রদানের ব্যাপারে সর্বোত্তম রীতি-নীতি অনুসরণ করলে তা স্বতন্ত্র কথা। অন্যথায় তাদের পছন্দমত অন্য মেয়েদের বিয়ে করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উরওয়াহ বলেন, আয়িশাহ বলেছেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর কতিপয় লোক বিষয়টি সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ "এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানতে চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানাচ্ছেন এবং ইয়াতীম নারী সম্পর্কে যাদের প্রাপ্য তোমরা প্রদান করো না অথচ তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে চাও ও নিপীড়িত শিশুদের বিষয়ে এবং ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায়বিচার সম্পর্কে যা কিতাবে তোমাদেরকে শুনানো হয়, তাও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন। আর যে সৎকাজ তোমরা করো আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত"-(আন নিসা ৪ঃ ১২৭)। আয়িশাহ বলেন, আল্লাহর বাণী- এর দ্বারা প্রথম আয়াতটিকে বুঝানো হয়েছে, যার মধ্যে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা যদি আশঙ্কা করো যে ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তবে বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে দু', তিন অথবা চার। আয়িশাহ বলেন, আল্লাহর বাণী এর মানে হচ্ছে, অর্থ-সম্পদ ও রূপযৌবন কম থাকার কারণে তোমাদের কেউ ইয়াতীম মেয়েদেরকে বিবাহ করতে অপছন্দ করলে-তাদেরকে অর্থ সম্পদ ও রূপ যৌবনবতী ইয়াতীম স্ত্রীলোককে পছন্দ হলেও বিয়ে করতে বারণ করা হয়েছে। তবে অর্থ-সম্পদ ও রূপ-যৌবন না থাকার কারণে পছন্দনীয় না হলেও যদি ইনসাফের ভিত্তিতে মুহরানা পরিশোধ করে তবে বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
হাসান আল হুলওয়ানী ও আব্দ ইবন হুমায়দ .... উরওয়াহ থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ্ কে আল্লাহর বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেনঃ "তোমরা যদি শঙ্কিত হও যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না"-(আন নিসা ৪ঃ ৩) এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন অতঃপর রাবী ইউনুসের সানাদে যুহরী হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীসের শেষাংশে তিনি "যখন তারা সামান্য সম্পদ ও কম সৌন্দর্যের অধিকারী হয় তখন আর তাদের তত্ত্বাবধায়করা এদেরকে বিয়ে করতে সম্মত হয় না" কথাটি বর্ণনা করেছেন।
আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ ও আবু কুরায়ব .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার বাণী, "তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না"-(আন নিসা ৪ঃ ৩) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ পুরুষ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে; যার তত্ত্বাবধানে রয়েছে ইয়াতীম মহিলা এবং এ পুরুষই হচ্ছে তার ওলী ও অভিভাবক। আর এ মেয়েটির আছে কিছু ধন-সম্পদ। কিন্তু তার পক্ষ সমর্থন করার জন্য সে ব্যতীত আর কেউই নেই। ওলী এ ধরনের মেয়েকে তার সম্পদের উদ্দেশে বিয়ে করে তাকে কষ্ট দিতে এবং তার সাথে নিষ্ঠুরভাবে জীবন-যাপন করতে পারবে না। এ ব্যক্তি সম্পর্কেই আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ তোমরা যদি শঙ্কা করো যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না তবে বিবাহ করবে নারীদের মাঝে যাকে তোমাদের পছন্দ হয় দু', তিন অথবা চার। যে মহিলাদেরকে আমি তোমাদের জন্য হালাল করেছি তাদেরকে বিবাহ করো এবং যে ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তুমি নিষ্ঠুর আচরণ করছ তাদের থেকে দূরে থাকো।
আবূ বকর ইবন আবু শাইবাহ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ "এবং ইয়াতীম মেয়ে সম্পর্কে যাদের অধিকার তোমরা দান করো না, অথচ তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে চাও ও অসহায় শিশুদের বিষয়ে এবং ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায় বিচার সম্পর্কে যা কিতাবে তোমাদেরকে শুনানো হয়, তাও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়"-(আন নিসা ৪ঃ ১২৭) বিষয়ে বলেন, এ আয়াতটি ঐ ইয়াতীম মেয়েদের সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে, যে এমন এক পুরুষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, যার সাথে সে সম্পদের মধ্যে শারীক আছে। কিন্তু সে তাকে বিয়ে করা অপছন্দ করছে এবং অপর কোন লোকের সঙ্গে তার বিয়ে হোক এটাও অপছন্দ করছে এ আশঙ্কায় যে, সে তার সম্পদের শারীক হয়ে যাবে। পরিশেষে সে তাকে এমনিই ছেড়ে রাখছে; নিজেও তাকে বিবাহ করছে না এবং অন্য কারো কাছে বিবাহও দিচ্ছে না।
আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার বাণীঃ "এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের সম্পর্কে বিধান জানতে চায়, বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের ব্যাপারে বিধান জানিয়ে দিচ্ছেন"(আন নিসা ৪ঃ ১২৭) এর ব্যাখ্যায় বলেন, আয়াতটি ঐ ইয়াতীম মেয়েদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যে রয়েছে এমন এক পুরুষের তত্ত্বাবধানে যার সম্পদে এমনকি খেজুর বাগানেও উক্ত নারী অংশীদার। সে তাকে বিয়ে করতেও আগ্রহী নয় এবং অন্যের কাছে বিয়ে দিতেও আগ্রহী নয়। কেননা তাহলে সে তার সম্পদের শারীক হয়ে যায়। ফলে সে তাকে বিয়ের ব্যবস্থা না করে এমনিই ফেলে রাখে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ "এবং যে গরীব সে যেন ন্যায়ানুগ পন্থায় আহার করে"-(আন নিসা ৪ঃ ৬)। তিনি বলেন, এ আয়াতটি ইয়াতীমের ধন-সম্পদের ঐ তত্ত্বাবধায়ক সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়েছে, যে তার সম্পদের তত্ত্বাবধান করছে এবং সেটা রক্ষণাবেক্ষণ করছে। যদি তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তি গরীব হয় তবে সে ন্যায়ানুগ পরিমাণ তা হতে পারিশ্রমিক হিসেবে আহার করতে পারবে।
আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ "যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত থাকে এবং যে গরীব সে যেন ন্যায়ানুগ পরিমাণ ভোগ করে"-(আন নিসা ৪ঃ ৬) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ইয়াতীমের তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তির ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, সে যদি নিতান্তই গরীব হয় তবে সে যেন তার সম্পদ হতে ন্যায়ানুগ পন্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক গ্রহণ করে।
আবূ কুরায়ব .... হিশাম এর সূত্রে এ সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার বাণীঃ "যখন তারা তোমাদের (বিপক্ষে) উপর হতে ও নীচ হতে সমাগত হয়েছিল (ভয়ের কারণে) তোমাদের চোখ বিস্ফারিত হয়ে গিয়েছিল, তোমাদের প্রাণ হয়েছিল কণ্ঠাগত এবং তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে নানা রকম বিরূপ ধারণা পোষণ করছিলে"(আল আহযাব ৩৩ঃ ১০) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি খন্দক যুদ্ধের দিন অবতীর্ণ হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবু শইবাহ্ .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ "কোন সহধর্মিণী যদি তার স্বামীর দুর্ব্যবহার ও উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে স্বামী-স্ত্রী যদি সমঝোতা করতে চায় তাদের কোন দোষ নেই এবং সমঝোতা (সন্ধি) সর্বাবস্থায়ই উত্তম"-(আন নিসা ৪ঃ ১২৮) তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ মহিলাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যে এমন একজন পুরুষের কাছে ছিল, যার সাহচর্যে সে দীর্ঘদিন ছিল। এখন সে তাকে তালাক দিতে চায়। আর মহিলা বলে, আমাকে তালাক দিও না বরং আমাকে তোমার সাথে থাকতে দাও। তবে তোমার জন্য আমার পক্ষ হতে অন্য স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি থাকল। এ প্রসঙ্গে উপরোল্লিখিত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।
আবূ কুরায়ব .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ "কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীর অসদাচরণ ও উপেক্ষার আশঙ্কা করে তবে তারা আপোষ-মীমাংসা করতে চাইলে তাদের কোন দোষ নেই বরং সমঝোতাই (সন্ধিই) উত্তম"(আন নিসা ৪ঃ ১২৮) তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ মহিলা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যে এমন একজন পুরুষের কাছে ছিল, সম্ভবতঃ সে তার প্রতি ভালবাসা ও আকর্ষণ অনুভব করে না। অথচ সে তার দীর্ঘ সাহচর্যে ছিল এবং তার সন্তান-সন্ততিও রয়েছে। ফলে সে তার স্বামী হতে পৃথক হওয়া অপছন্দ করছে। তখন উক্ত মহিলা তাকে বলছে, তুমি আমার পক্ষ হতে মুক্ত (অন্য স্ত্রী গ্রহণে অনুমতি থাকল)।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... উরওয়াহ্ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (উরওয়াহ) বলেন, "আয়িশাহ আমাকে বলেছেনঃ হে ভাগ্নে! লোকেদেরকে নবী (ﷺ) এর সাহাবাদের জন্য মাফ চাইতে আদেশ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তাদের গাল-মন্দ করেছে।
আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... হিশাম এর সূত্রে এ সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... সাঈদ ইবন জুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুফাবাসী লোকেরা মহান আল্লাহর এ বাণীকে কেন্দ্র করে মতভেদে লিপ্ত হলঃ "কেউ স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে কোন মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম; সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লানাত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করবেন"-(আন নিসা ৪ঃ ৯৩) এ আয়াত সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করলে আমি ইবন আব্বাস এর কাছে আসলাম এবং তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, এ আয়াত শেষ পর্যায়ে নাযিল হয়েছে। সুতরাং অন্য কোন আয়াত সেটাকে মানসুখ করতে পারেনি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... শুবাহ থেকে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... সাঈদ ইবন জুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবন আবযা আমাকে নিম্নোক্ত দুটি আয়াতের ব্যাপারে ইবন আব্বাস কে জিজ্ঞেস করার জন্য আদেশ দিলেন। তন্মধ্যে প্রথমটি হলো, "কেউ স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করলে"-(আন নিসা ৪ঃ ৯৩) এর হুকুম সম্বন্ধে আমি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, কোন আয়াত এ আয়াতটিকে রহিত করেনি। আর দ্বিতীয় আয়াতটি হচ্ছে, "এবং তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন মাবূদকে আহ্বান করে না। আল্লাহ যার হত্যা বারণ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না"-(আল ফুরকান ২৫ঃ ৬৮)। এ সম্পর্কে আমি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, এ আয়াতটি মুশরিকদের বিষয়ে নাযিল হয়েছিল।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "এবং তারা আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদকে ডাকে না। আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে স্থায়ী হবে লাঞ্ছিত অবস্থায়"-(আল ফুরকান ২৫ঃ ৬৮)। উক্ত আয়াতটি মক্কায় অবতীর্ণ হবার পর মুশরিকরা বলতে আরম্ভ করল যে, ইসলাম গ্রহণ করলে আমাদের কি উপকার হবে, আমরা তো আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করেছি, যাদেরকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাদের হত্যা করেছি এবং অশ্লীল কাজ-কর্মে লিপ্ত হয়েছি। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন, "তারা নয় যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। আল্লাহ তাদের পাপরাশি পুণ্যের দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"(আল ফুরকান ২৫ঃ ৭০)। অতঃপর ইবন আব্বাস বলেন, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল এবং ইসলাম সম্বন্ধে যথাযথ উপলব্ধি অর্জন করল তারপর হত্যা করল, তার তওবা কবুলযোগ্য নয়।
আবদুল্লাহ ইবন হাশিম ও আবদুর রহমান ইবন বিশর আল আবদী .... সাঈদ ইবন জুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস কে বললাম, যে লোক স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার তওবা গ্রহণযোগ্য হবে কি? তিনি বললেন, না, গ্রহণযোগ্য হবে না। এরপর আমি তার কাছে সূরা আল ফুরকানে বর্ণিত উল্লেখিত আয়াতটি পাঠ করলাম, "যারা আল্লাহর সঙ্গে কোন মা'বুদকে ডাকে না। আল্লাহ যার হত্যা বারণ করেছেন যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচারও করে না। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে"(আল ফুরকান ২৫ঃ ৬৮)। তিনি বললেন, এটা তো হচ্ছে মাক্কী আয়াত। মাদানী আয়াত সেটাকে মানসুখ করে দিয়েছে। আর তা হলো, "যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার আযাব জাহান্নাম"-(আন নিসা ৪ঃ ৯৬)। কিন্তু ইবন হাশিম এর বর্ণনায় রয়েছে যে, অতঃপর আমি তার কাছে সূরা আল ফুরকানে উল্লেখিত(আল ফুরকান ২৫ঃ ৭০) আয়াতটি তিলাওয়াত করলাম।
আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ, হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও আব্দ ইবন হুমায়দ ..... উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে ইবন আব্বাস বললেন, তোমার কি জানা আছে? হারূন বলেন, তিনি বলেছেন, কুরআনের সর্বশেষ নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সূরা কোনটি? আমি বললাম, হ্যা, তা হলো "যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে" (110:1)।
ইসহাক ইবন ইব্রাহীম .... আবু উমায়স হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। আর তিনি ইবন সুহায়ল' না বলে শুধু আবদুল মজীদ' বাক্যটি উল্লেখ করেছেন।
আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আহমাদ ইবন আবদাহ আয যাব্বী .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক একটি ছোট্ট ভেড়ার পাল চরাচ্ছিল, এমতাবস্থায় কতক মুসলিম তার কাছে আগমন করলে সে বলল, আস্সালামু আলাইকুম'। এতদসত্ত্বেও তারা তাকে পাকড়াও করল। অতঃপর তারা তাকে হত্যা করতঃ তার এ ছোট্ট ভেড়ার পালটি নিয়ে নিল। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হলোঃ "যারা তোমাদেরকে সালাম করে, ইহ-জীবনের সম্পদের লালসায় তাকে বলো না, তুমি ঈমানদার নও"-(আন নিসা ৪ঃ ৯৪)।
আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... বারা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারী লোকেরা হজ্জ সমাপ্তি শেষে বাড়ী ফেরার পর দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে পেছন দিক থেকে ঘরে প্রবেশ করত। অতঃপর এক আনসারী সাহাবা দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে এ ব্যাপারে তাকে কিছু (ভাল-মন্দ) বলা হলে "পেছন দিক দিয়ে তোমাদের বাড়ীতে ঢুকাতে কোন সাওয়াব নেই" (সুরাহ্ আল বাকারাহ ২ঃ ১৮৯) এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলো।
ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা আস্ সাদাফী .... ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের ইসলাম গ্রহণ করা ও নিম্নোক্ত আয়াত তথা "যারা ঈমান আনে আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর কি ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি"(আল হাদীদ ৫৭ঃ ১৬) এর দ্বারা আমাদেরকে উপহাস করার মধ্যে চার বছরের ব্যবধান ছিল।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও আবু বকর ইবন নাফি .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্ত্রীলোকেরা উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করত এবং বলত, কে আমাকে একটি কাপড় ধার দিবে? এর দ্বারা উদ্দেশ্য স্বীয় লজ্জাস্থান ঢাকা। আর এটাও বলত, আজ খুলে যাচ্ছে কিয়দংশ বা পূর্ণাংশ। তবে যে অংশটা খুলে সেটা আমি আর কখনো হালাল করব না। তখন অবতীর্ণ হলো, "প্রত্যেক সালাতের সময় সৌন্দর্য অবলম্বন করবে"-(আল আরাফ ৭ঃ ৩১)।
আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ ও আবু কুরায়ব .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল তার বাদীকে বলত, যাও বেশ্যাবৃত্তির মাধ্যমে সম্পদ উপার্জন করে নিয়ে এসো। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন, "তোমাদের বাদীদেরকে সতীত্ব রক্ষা করতে চাইলে পার্থিব জীবনের ধন লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত করতে বাধ্য করবে না। আর যে তাদেরকে বাধ্য করে, তবে তাদের (দাসীদের) উপর জবর-দস্তির পর আল্লাহ তো (দাসীদের জন্য) ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"(আন নূর ২৪ঃ ৩৩)।
আবু কামিল আল জাহদারী .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর দু'জন বাদী ছিল। একজনের নাম ছিল মুসাইকাহ এবং অপরজনের নাম ছিল উমাইমাহ। সে দু'জন বাদীকে দিয়ে জোরপূর্বক বেশ্যাবৃত্তি করাতো। তাই তারা এ বিষয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ করল। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ "তোমাদের বাদীরা সতীত্ব রক্ষা করতে চাইলে পার্থিব জীবনের ধন-লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে জোর-জবরদস্তি করবে না। আর যে তাদেরকে জোর জবরদস্তি করে তবে তাদের (বাদীদের) উপর জবরদস্তির পর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার বাণীঃ "তারা যাদেরকে আহবান করে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের উপায় খোজ করে"-(আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭) এর ব্যাখ্যায় বলেন, একদা একদল জিন ইসলাম গ্রহণ করলো। (একদল মানুষ) তাদের (জিনদের) পূজা করতো। কিন্তু পূজায় রত এ লোকগুলো তাদের পূজাতেই অটল থাকল। অথচ জিনের একদল ইসলাম গ্রহণ করেছে।
আবু বকর ইবন নাফি আল আবদী .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ "তারা যাদেরকে আহবান করে তারাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্যার্জনের উপায় সন্ধান করে"-(আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭) এর ব্যাখ্যায় বলেন, একদল মানুষ কয়েকটি জিনের পূজা করত। তারপর জিনের দলটি ইসলাম গ্রহণ করল। কিন্তু এ লোকগুলো তাদের পূজার উপর অটল থাকে। তখন অবতীর্ণ হলো, "তারা যাদেরকে ডাকে, তারাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্যার্জনের উপায় সন্ধানে লিপ্ত থাকে"-(আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭)।
বিশর ইবন খালিদ .... সুলাইমান হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ "তারা যাদেরকে ডাকে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্যার্জনের উপায় খোজ করে"- (ইসরা ১৭ঃ ৫৭)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, অত্র আয়াতটি আরবের এক দল লোক সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। তারা কতগুলো জিনের আরাধনা করত। অতঃপর জিনেরা তো ইসলাম গ্রহণ করলো; কিন্তু তাদের ইবাদাতে রত এ মানুষগুলো তা বুঝতে পারল না। তখন অবতীর্ণ হলো, "তারা যাদেরকে ডাকে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্যার্জনের উপায় সন্ধানে লিপ্ত থাকে"- (সুরাহ্ আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭)।
আবদুল্লাহ ইবন মুতী' .... সাঈদ ইবন জুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইবন আব্বাস এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, সূরা আত তওবা। বরং এটা হচ্ছে অপমানকারী সূরাহ্। এ সূরাতে কেবল (এদের মধ্যে, এদের মধ্যে) বর্ণিত হয়েছে। ফলে মানুষেরা ধারণা করতে লাগল যে, এ সূরায় আমাদের কেউ আলোচনা ব্যতীত অবশিষ্ট থাকবে না, সকলের দুর্বলতা তুলে ধরবে। অতঃপর আমি বললাম, সূরা আল আনফাল। এ কথা শুনে তিনি বললেন, এ সূরা তো বদর যুদ্ধের পটভূমিতে নাযিল হয়েছে। এরপর আমি সূরা আল হাশরের কথা বললাম। তিনি বললেন, এতো বানু নায়ীর গোত্র সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।
আবূ বকর ইবন শাইবাহ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন উমর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মিম্বারে উঠে খুৎবাহ প্রদান করতঃ প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা এবং গুণকীর্তন করলেন। অতঃপর বললেন- মদ হারাম হওয়ার বিধান যেদিন অবতীর্ণ হওয়ার অবতীর্ণ হয়েছে। তখন তা পাচটি জিনিস হতে বানানো হতো, গম, যব, খেজুর, আঙ্গুর এবং মধু হতে। আর যা মানুষের বিবেকবুদ্ধি বিলোপ করে দেয়, তা-ই মদ। আর তিনটি বিষয়, হে লোক সকল! আমার প্রত্যাশা। যদি রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে দাদার (পরিত্যক্ত সম্পত্তি), কালালাহ্ (নিঃসন্তান ব্যক্তির পরিত্যাজ্য সম্পত্তি) এবং সুদের বিভিন্ন অধ্যায় সম্পর্কে (আরো স্পষ্ট) বলে যেতেন।
আবু কুরায়ব .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবন খাত্তাব কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মিম্বারে উঠে খুৎবাহ রত অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছি যে, অতঃপর হে লোক সকল! মদ হারাম হওয়ার বিধান অবতীর্ণ হয়েছে। তা পাচটি জিনিস হতে বানানো হয়। আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব হতে। আর যা মানুষের হিতাহিত জ্ঞান বিলুপ্ত করে দেয় তা-ই মদ। আর তিনটি বিষয়, হে লোক সকল! আমার মনের কামনা, যদি রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে (নিম্নোক্ত কতিপয় বিষয়ে) আরো বিশদভাবে সুস্পষ্টভাবে বলে যেতেন তবে তো আমরা এ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পৌছে যেতে পারতাম। আর তা হচ্ছে, দাদার (মীরাস বণ্টন), কালালাহ্ (নিঃসন্তান ব্যক্তির পরিত্যাজ্য সম্পত্তি) এবং সুদের কতিপয় বিষয়াদি সম্পর্কিত বিধান বলে দিতেন।
আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবু হাইয়্যান হতে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ইবন উলাইয়্যাহ আবু ইদরীস এর মতো তার হাদীসে (আঙ্গুর) বাক্যটি উল্লেখ করেছেন।
আমর ইবন যুরারাহ .... আবু যর থেকে বর্ণিত। তিনি শপথ করে বলতেন, "তারা দু'টি বিবদমান পক্ষ তাদের পালনকর্তা সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে"-(আল হাজ্জ ২২ঃ ১৯) আল্লাহর এ বাণী ঐ লোকেদের সম্বন্ধেই অবতীর্ণ হয়েছে, যারা বদরের দিন যুদ্ধ করার জন্য যুদ্ধ ক্ষেত্রে অবতরণ করেছিল। এদের একদিকে ছিলেন হামযাহ, আলী ও উবাইদাহ ইবন হারিস আর অপরদিকে ছিল, উতবাহ ও শাইবাহ রাবীআর দু' পুত্র এবং ওয়ালীদ ইবন উতবাহ্।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মদ ইবন মুসান্না .... আবু যর থেকে বর্ণিত। অতঃপর হুশায়মের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।