bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

জান্নাত, জান্নাতের নিআমত ও জান্নাতবাসীদের বর্ণনা (৭০২৩-৭১২৭)

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতকে পবিবেষ্টন করে রাখা হয়েছে কষ্টদায়ক জিনিস দ্বারা এবং জাহান্নামকে পরিবেষ্টন করে রাখা হয়েছে আকর্ষণীয় জিনিস দ্বারা।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

সাঈদ ইবন আমর আল আশআসী ও যুহায়র ইবন হাব .... আবু হুরাইরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু তৈরি করে রেখেছি যা কখনো কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ কখনো কল্পনাও করেনি। এ কথাটি অনুরূপ আল-কুরআনেও উল্লেখ রয়েছে- "কেউ জানে না তাদের জন্য নয়ন মুগ্ধকর কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান স্বরূপ"-(আস্ সিজদা ৩২ঃ ১৭)।

হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী .... আবু হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি আমার নেক্কার বান্দাদের জন্য এমন বস্তু তৈরি করে রেখেছি যা কোন চোখ কক্ষনো দেখেনি, কোন কান কক্ষনো শুনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ যা কক্ষনো চিন্তাও করেনি। এসব নিআমাত আমি জমা রেখে দিয়েছি। তবে আল্লাহ তোমাদেরকে যা অবগত করিয়েছেন তা অবগত হয়েছেন।

আবু বকর ইবন আবী শাইবাহ ও আবু কুরায়ব, ইবন নুমায়র .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোন চোখ কক্ষনো দেখেনি, কোন কান কক্ষনো শুনেনি এবং যা কোন অন্তঃকরণ কক্ষনো চিন্তাও করেনি। এগুলো আমি তোমাদের জন্য গচ্ছিত করে রেখে দিয়েছি। এ সকল ব্যতীত আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছু দেখিয়েছেন। এর কোনই মূল্য নেই। তারপর তিনি পাঠ করলেন, "কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন মুগ্ধকর কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান স্বরূপ"-(আস্ সিজদা ৩২ঃ ১৭)।

হারূন ইবন মারূফ ও হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী .... সাহল ইবন সাদ আস্ সাইদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলাম। তিনি জান্নাতের গুণকীর্তন করে শেষ অবধি বললেন, এতে এমন সব নিআমাত রয়েছে যা কোন চোখ কক্ষনো দেখেনি, কোন কান কক্ষনো শোনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ কক্ষনো কল্পনাও করেনি। অতঃপর তিনি (ﷺ) পাঠ করলেন "তারা শয্যা ত্যাগ করতঃ তাদের প্রতিপালককে ডাকে, আশায় ও আশংকায় এবং তাদেরকে যে রিযক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন মনোমুগ্ধকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে তাদের কর্মফল স্বরূপ"-(আস্ সিজদা ৩২ঃ ১৬-১৭)।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ বছর পর্যন্ত সফর করতে থাকবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে অতিরিক্ত রয়েছে যে, এতেও সে সফর শেষ করতে পারবে না।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হান্‌যালী .... সাহল ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতের মাঝে এমন একটি গাছ রয়েছে, যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ বছর ভ্রমণ করেও তা শেষ করতে পারবে না।

বর্ণনাকারী আবু হাযিম বলেন, নুমান ইবন আবূ আইয়্যাশ যুরাকীর কাছে এ হাদীস আমি বর্ণনা করার পর তিনি বললেন, আমাকে আবু সাঈদ আল খুদরী বলেছেন, নবী (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতের মাঝে এমন একটি গাছ রয়েছে, যা দ্রুতগামী শক্তিশালী অশ্বারোহী একশ বছর পর্যন্ত চলার পরও তা সে অতিক্রম করতে পারবে না।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন সাহম, হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী ..... আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতী লোকদেরকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে জান্নাতীগণ! তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আপনার আনুগত্যের জন্য উপস্থিত আছি। যাবতীয় কল্যাণ আপনারই হাতে। তারপর তিনি বলবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছো? তারা জবাব দিবে, হে আমাদের রব কেন আমরা সন্তুষ্ট হব না? অথচ আপনি আমাদেরকে এমন বস্তু দান করেছেন যা আপনার সৃষ্টি জগতের অন্য কাউকে দান করেননি। তিনি বলবেন, আমি কি তোমাদেরকে এর থেকে উত্তম বস্তু দান করব না? তারা বলবে, হে পালনকর্তা! এর চাইতে উত্তম বস্তু আর কি হতে পারে? এরপর আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের উপর আমার সম্ভষ্টি নাযিল করব। অতঃপর তোমাদের উপর আমি আর কক্ষনো অসন্তুষ্ট হব না।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সাহল ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতবাসীগণ জান্নাতের সুউচ্চ বালাখানাসমূহ দেখতে পাবে, তোমরা যেমন আকাশের তারকারাজি দেখে থাকো।

বর্ণনাকারী বলেন, নুমান ইবন আবূ আইয়্যাশ এর নিকট এ হাদীসটি আমি বর্ণনা করার পর তিনি বললেন, আমি আবূ সাঈদ আল খুদরী এর কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যেমনিভাবে তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম আকাশের উজ্জ্বল তারকারাজি দেখে থাকো।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবু হাযিম থেকে উভয় সূত্রে ইয়াকুব এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবন জাফার ইবন ইয়াহইয়া ইবন খালিদ, হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী .... আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, জান্নাতের বাসিন্দাগণ জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদসমূহ উপর দিকে দেখতে পাবে, যেমন দূরবর্তী উজ্জ্বল নক্ষত্রসমূহ তোমরা আকাশের পূর্ব বা পশ্চিম কোণে স্পষ্ট দেখতে পাও। কেননা তাদের পরস্পরের সম্মানের ক্ষেত্রে পার্থক্য সূচিত থাকবে। এ কথা শ্রবণে সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ স্তরসমূহ তো নবীদের জন্য নির্ধারিত। তাদের ছাড়া অন্যেরা তো এ স্তরে কক্ষনো পৌছতে পারবে না। জবাবে তিনি বললেন, কেন পারবে না, অবশ্যই পারবে। যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ আমি তার শপথ করে বলছি! যে সকল লোক আল্লাহতে ঈমান আনয়ন করে এবং তার রসূলদের প্রতি আস্থা স্থাপন করে, তারা সকলেই এ মর্যাদা সম্পন্ন স্তরসমূহে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে আমাকে বেশি মহব্বতকারী ঐ সব লোকেরা হবে, যারা আবির্ভূত হবে আমার ইন্তিকালের পর, তারা আকাঙ্খা করবে, হায় যদি তাদের পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিনিময়েও আমাকে দেখতে পেত।

আবূ উসমান, সাঈদ ইবন আবদুল জাব্বার আল বাসরী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতে একটি বাজার থাকবে। প্রত্যেক জুমুআয় জান্নাতী লোকেরা এতে একত্রিত হবে। তারপর উত্তরদিকের বায়ু প্রবাহিত হয়ে সেখানকার ধূলা-বালি তাদের মুখমণ্ডল ও পোশাক-পরিচ্ছদে গিয়ে লাগবে। এতে তাদের সৌন্দর্য এবং শরীরের রং আরো বেড়ে যাবে। তারপর তারা স্ব স্ব পরিবারের কাছে ফিরে আসবে। এসে দেখবে, তাদের শরীরের রং এবং সৌন্দর্যও বহু বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর তাদের পরিবারের লোকেরা বলবে, আল্লাহর শপথ আমাদের নিকট হতে যাবার পর তোমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরে তারাও বলবে, আল্লাহর শপথ! তোমাদের শরীরের সৌন্দর্য তোমাদের নিকট থেকে যাবার পর বহুগুণে বেড়ে গেছে।

আমর আন্‌ নাকিদ ও ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী .... মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা গর্ব প্রকাশ করে বলল, অথবা আলোচনা করতঃ বলল, জান্নাতে পুরুষ অধিক হবে, না মহিলা? এ কথা শ্রবণে আবূ হুরাইরাহ বললেন, আবুল কাসিম (ﷺ) কি বলেননি, যে দলটি জান্নাতে প্রথমে প্রবেশ করবে তাদের মুখায়ব পূর্ণিমার চাদের মতো উজ্জ্বল হবে। তাদের পর যারা জান্নাতে যাবে তাদের চেহারা হবে উদ্ধাকাশের আলোকিত নক্ষত্রের মতো। তাদের প্রত্যেকের জন্যই থাকবে দু' জন সহধর্মিণী। গোশতের এ পাশ হতে তাদের পায়ের নলার মগজ দৃশ্য হবে। জান্নাতের মাঝে কেউ (আর) অবিবাহিত থাকবে না।

ইবন আবু উমর .... ইবন সীরন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে) কারা অধিক জান্নাতী হবে, এ বিষয়ে পুরুষ ও মহিলাগণ ঝগড়ায় লিপ্ত হলো। তারপর তারা এ ব্যাপারে আবু হুরাইরাহ কে প্রশ্ন করলে তিনি ইবন উলাইয়্যার ন্যায় বললেন, আবুল কাসিম (ﷺ) এ কথা বলেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক সর্বপ্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করবে। কুতাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সর্বপ্রথমে যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। তাদের পর যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল আকাশে উদিত আলোকজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো হবে। তারা প্রস্রাব-পায়খানা করবে না, থু-থু ফেলবে না এবং নাক ঝাড়বে না। তাদের চিরুনী হবে স্বর্ণের। তাদের গায়ের ঘাম হতে মিশকের ঘ্রাণ আসবে এবং তাদের ধূপদানী হবে আলুওয়াহ' নামে এক ধরনের সুগন্ধি কাষ্ঠের তৈরি। তাদের স্ত্রীগণ হবে ডাগর চোখ বিশিষ্ট। তাদের চরিত্র হবে একই লোকের চরিত্রের মতো। আদি পিতা আদম এর আকৃতির মতো হবে তাদের আকৃতি। যা ষাট হাত দীর্ঘ আকৃতি বিশিষ্ট।

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবু কুরায়ব .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রথমে আমার উম্মাতের যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাদের মতো আলোকিত। তারপর যারা জান্নাতে যাবে তাদের মুখমণ্ডল হবে উর্ধ্বাকাশে উদিত তারকারাজির মতো। অতঃপর যারা জান্নাতে দাখিল হবে তাদের কয়েকটি ধাপ হবে। তারা প্রস্ৰাব পায়খানা করবে না, নাক ঝাড়বে না এবং থু-থু ফেলবে না। তাদের চিরুনি হবে স্বর্ণের এবং তাদের ধূপদানী হবে আলুওয়াহ নামক সুগন্ধিযুক্ত কাষ্ঠের। তাদের শরীরের ঘাম হতে মিশকের ঘ্রাণ বিচ্ছুরিত হবে। তাদের চরিত্র একই ব্যক্তির চরিত্রের ন্যায় হবে। তারা তাদের আদি পিতা আদম এর মতো ষাট হাত দীর্ঘ হবে। ইবন আবী শাইবাহ এর বর্ণনাতে একই ব্যক্তির চরিত্রের। আর আবু কুরায়ব এর বর্ণনাতে একই ব্যক্তির গঠনের ন্যায় হবে। কিন্তু ইবন আবূ শাইবাহ বলেছেন, তাদের আকৃতি আদি পিতা আদম এর ন্যায় হবে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যা আবু হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হলো এই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে দলটি প্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের মতো আলোকজ্জ্বল হবে। তথায় তারা থু-থু ফেলবে না, নাক ঝাড়বে না এবং পায়খানও করবে না। সেখানে তাদের বাসন এবং চিরুনীসমূহ স্বর্ণ এবং রৌপ্য নির্মিত হবে। তাদের ধূপদানী হবে আলওয়াহ নামে এক ধরনের সুগন্ধি কাষ্ঠের নির্মিত। তাদের গায়ের ঘাম মিশকের মতো সুঘ্ৰাণযুক্ত হবে। তাদের প্রত্যেকেরই দু'জন করে সহধর্মিণী থাকবে। সৌন্দর্যের কারণে গোশতের উপর থেকে তাদের পায়ের নলাস্থিত মজ্জা পরিদৃষ্ট হবে। তাদের মধ্যে কোন মতভেদ থাকবে না, আর কোন হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের অন্তঃকরণ একই অন্তরের মতো হবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠে রত থাকবে।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে পানাহার করবে। তবে থু-থু ফেলবে না, প্ৰস্ৰাব-পায়খানা করবে না এবং নাকও ঝাড়বে না। এ কথা শুনে সাহাবাগণ বললেন, তবে ভক্ষিত খানা যাবে কোথায়? উত্তরে তিনি বললেন, এক ঢেকুরে শেষ হয়ে যাবে। তাদের শরীরের ঘাম মিশকের মতো সুঘ্ৰাণযুক্ত হবে। আল্লাহর পবিত্রতা এবং প্রশংসা তাদের অন্তঃকরণে এভাবে দেয়া হবে। যেভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়া হয়।

আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ ও আবু কুরায়ব .... আমাশ থেকে এ সানাদে (মিশকের সুঘ্ৰাণের ন্যায়) পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।

হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী ও হাজ্জাজ ইবন আশ শাইর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতবাসীগণ তথায় পানাহার করবে। তবে তারা সেখানে প্রস্রাব-পায়খানা করবে না এবং নকও ঝাড়বে না। তাদের এ ভক্ষিত খাদ্য ঢেকুরের মাধ্যমে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তাদের শরীরের ঘাম মিশকের ন্যায় সুঘ্ৰাণ বিচ্ছুরিত করবে। তাসবীহ ও তাহমীদের যোগ্যতা তাদের অন্তঃকরণে এভাবে দেয়া হবে যেমনিভাবে মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে থাকে। তবে হাজ্জাজ এর হাদীসে এ কথা বর্ধিত আছে যে, (এটাই তাদের খাদ্য)।

সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া আল উমাবী .... জাবির এর সনদে নবী (ﷺ) থেকে অবিকল হাদীস বর্ণিত আছে। তবে এতে এ কথা বর্ণিত বর্ণিত আছে যে, (তাসবীহ ও তাকবীরের যোগ্যতা তাদের অন্তঃকরণে এভাবে দেয়া হবে যেমনিভাবে মানুষ শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে থাকে)।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে সে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে কখনো দুর্দশাগ্রস্ত হবে না। তার পরিধেয় বস্ত্র কখনো পুরনো হবে না এবং তার যৌবন কক্ষনো শেষ হবে না।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবু সাঈদ আল খুদরী ও আবু হুরাইরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন আহবানকারী জান্নাতী লোকেদেরকে আহ্বান করে বলবে, এখানে সর্বদা তোমরা সুস্থ থাকবে, কক্ষনো অসুস্থ হবে না। তোমরা স্থায়ী জীবন লাভ করবে, কখনো তোমরা মরবে না। তোমরা যুবক থাকবে, কক্ষনে তোমরা বৃদ্ধ হবে না। তোমরা সর্বদা সুখস্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কক্ষনে আর তোমরা কষ্ট-ক্লেশে পতিত হবে না। এটাই মহা মহিম আল্লাহর বাণীঃ "আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা যে আমল করতে তারই বিনিময়ে তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে"-(আল আরাফ ৭ঃ ৪৩) এর ব্যাখ্যা।

সাঈদ ইবন মানসূর .... আবদুল্লাহ ইবন কায়স এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিনদের জন্য জান্নাতে মধ্যস্থলে ফাকা এমন একটি মুক্তার তাবু নির্মাণ করা হবে যার দৈর্ঘ্য হবে ষাট মাইল। মুমিনদের সহধর্মিণীগণও এতে থাকবে। তারা তাদের সকলের নিকট গমন করবে। তবে স্ত্রীগণ পরস্পর একে অন্যকে দেখতে পাবে না।

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ .... আবদুল্লাহ ইবন কায়স থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতে (মুমিনদের জন্য) মাঝে ফাকা এরূপ মুক্তার একটি বিশাল তাবু থাকবে, যার বিস্তৃতি হবে ষাট মাইল। এর প্রত্যেক প্রান্তেই স্ত্রীগণ থাকবে। তারা পরস্পর একে অপরকে দেখতে পাবে না। মুমিনেরা ঘুরে ঘুরে সকল রমণীর নিকট যাবে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ মূসা এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতের তাবুগুলো মণি-মুক্তার তৈরি হবে। এর দৈর্ঘ্য হবে উর্ধাকাশের দিকে ষাট মাইল। এর প্রত্যেক কোণে মুমিনদের সহধর্মিণীগণ থাকবে। তবে পরস্পর একে অপরকে দেখতে পাবে না।

আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সাইহান, জাইহান (দু'টি নদ) এবং ফুরাত ও নীল (দু'টি নদ) এসবের প্রত্যেকটিই জান্নাতের নহরসমূহেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।

হাজ্জাজ ইবন আশ শাইর .... আবূ হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন কিছু লোক জান্নাতে যাবে, যাদের অন্তর পাখীর অন্তরের মতো।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো এ-ই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা আদম কে তার নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তার দৈর্ঘ্য হলো ষাট হাত। সৃষ্টির পর তিনি তাকে বললেন, যাও এদেরকে সালাম করো। সেখানে একদল ফেরেশতারা বসা ছিলেন। সালামের জবাবে তারা কি বলে তা খুব মনোযোগ সহকারে শুনো। কেননা তোমার এবং তোমার বংশধরদের অভিবাদন হবে এ-ই। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি এগিয়ে গেলেন ও বললেন, "আসসালামু আলাইকুম"। জবাবে তারা বললেন, "আসসালামু আলাইকা ওয়ারহমাতুল্লাহ"। তারা ওয়ারহমাতুল্লাহ বাড়িয়ে বলেছেন। অবশেষে তিনি বললেন, যে লোক জান্নাতে যাবে সে আদম এর আকৃতি বিশিষ্ট হবে। তার দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত। তিনি (ﷺ) বলেন, তারপর আদম এর পর থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ ক্রমশই খাটো হয়ে আসছে।

উমর ইবন হাফস ইবন গিয়াস .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নামকে এভাবে উপস্থিত করা হবে। সেদিন তাতে সত্তর হাজার লাগাম লাগানো থাকবে। প্রতিটি লাগামের সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা থাকবে তারা তাকে টেনে নিয়ে যাবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের এ অগ্নি যা আদম সন্তানগণ জ্বলিয়ে থাকে তা জাহান্নামের অগ্নির উত্তাপের সত্তর ভাগের একভাগ। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম! এ আগুনই তো যথেষ্ট ছিল? তিনি বললেন, সে আগুন তো এ আগুনের তুলনায় উনসত্তর গুণ অধিক তাপমাত্রা সম্পন্ন। এ উনসত্তরের প্রতিটি তাপমাত্রাই দুনিয়ার আগুনের তাপমাত্রার সমতুল্য।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবু হুরাইরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আবূ যিনাদ এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে হাম্মাম (সবগুলোই তার তাপমাত্রার সমতুল্য) বলেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি হঠাৎ একটি বিকট আওয়াজ শুনতে পেলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা কি জান, এটা কিসের আওয়াজ? বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, এ একটি পাথর যা সত্তর বছর আগে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তারপর তা কেবল নিম্নে পতিত হতে হতে এখন সেটা তার তলদেশে গিয়ে পৌছেছে।

মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ও ইবন আবূ উমর .... আবু হুরাইরাহ থেকে এ সানাদে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এ কথা বর্ধিত বর্ণিত রয়েছে যে, এ পাথরটি এখন জাহান্নামের অতল গভীরে গিয়ে পৌছেছে, তাই তোমরা বিকট আওয়াজ শুনতে পেয়েছো।

আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ্ .... সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, অগ্নি জাহান্নামীদের কাউকে তো তার উভয় গোড়ালি পর্যন্ত স্পর্শ করবে; আবার কাউকে তার কোমর পর্যন্ত এবং কাউকে তার গর্দান পর্যন্ত স্পর্শ করবে।

আমর ইবন যুরারাহ্ .... সামুরাহ ইবন জুনদাব থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ অগ্নি জাহান্নামীদের কাউকে তার উভয় টাখনু পর্যন্ত স্পর্শ করবে, কাউকে তার উভয় হাটু পর্যন্ত স্পর্শ করবে, কাউকে তার কোমর পর্যন্ত, আবার কাউকে তার গলা পর্যন্ত স্পর্শ করবে।

মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মদ ইবন বাশশার .... সাঈদ থেকে এ সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে (উভয় শব্দের অর্থ একই, কোমর) শব্দটি বর্ণিত আছে।

ইবন আবূ উমর .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নাম ও জান্নাত পরস্পর বাক-বিতণ্ডা করল। অতঃপর জাহান্নাম বলল, প্রতিপত্তি সম্পন্ন অহংকারী লোকেরা আমার মাঝে প্রবেশ করবে। জান্নাত বলল, দুর্বল ও নিঃস্ব লোকেরা আমার মাঝে প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা আযাব দিব। কোন কোন সময় তিনি বলেছেন, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা বিপদে ফেলব। তারপর তিনি জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমত, আমি যাকে ইচ্ছা তোমার দ্বারা রহমত করব। তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই পেট ভর্তির ব্যবস্থা থাকবে।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবু হুরাইরাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা জাহান্নাম ও জান্নাত বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লো। জাহান্নাম বলল, অহংকারী এবং প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পন্ন লোকেরা আমার মাঝে প্রবেশ করবে। জান্নাত বলল, আমার কি হলো, মানুষের মাঝে যারা দুর্বল, নীচু স্তরের এবং অক্ষম, তারাই আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। এ কথা শুনে আল্লাহ তাআলা জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমত, আমার বান্দাদের যার প্রতি ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা রহমত বর্ষণ করব। তারপর তিনি জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব, আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা আযাব দিব। তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই পেট ভর্তির ব্যবস্থা থাকবে। এতদসত্ত্বেও জাহান্নাম পূর্ণ হবে না। তাই আল্লাহ তাআলা এর উপরে স্বীয় পা মুবারাক রাখবেন। তখন জাহান্নাম বলবে, যথেষ্ট হয়ে গেছে। এ সময়ই জাহান্নাম পরিপূর্ণ হবে এবং একাংশ অপরাংশের সাথে মিলে যাবে সঙ্কুচিত হয়ে যাবে।

আবদুল্লাহ ইবন আওন আল হিলালী .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ একদা জান্নাত ও জাহান্নাম বিতর্ক যুদ্ধে লিপ্ত হলো। অতঃপর ইবন সীরীন আবূ যিনাদ এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরাইরাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কতিপয় হাদীস উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে একটি হাদীস হলো এই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর তর্কে লিপ্ত হয়েছে। জাহান্নাম বলল, প্রভাবপ্রতিপত্তি ও অহংকারীদের জন্য আমাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। জান্নাত বলল, আমার কি হলো, আমার মাঝে কেবল দুর্বল ও নগণ্য লোকেরাই প্রবেশ করবে। এ কথা শুনে আল্লাহ তাআলা জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমত। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে চাই তার প্রতি আমি রহমত নাযিল করব এবং তিনি জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব। তোমার দ্বারা আমি আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা আযাব দিব। বস্তুতঃ তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই পেট ভরপুর করার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু জাহান্নাম কিছুতেই পরিপূর্ণ হবে না। পরিশেষে তিনি স্বীয় পা মুবারাক তার উপরে রাখলে তখন জাহান্নাম বলবে, হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। তখনই জাহান্নাম পরিপূর্ণ হবে এবং এর একাংশ অন্য অংশের সাথে মিলে গিয়ে সংকুচিত হয়ে আসবে। আল্লাহ তাআলা তার সৃষ্টির কারো উপর অবিচার করবেন না। আর জান্নাত পরিপূর্ণ করার জন্য আল্লাহ তাআলা অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একদা জান্নাত ও জাহান্নাম তর্কে লিপ্ত হলো। অতঃপর তিনি আবূ হুরাইরাহ এর হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। (তোমাদের প্রত্যেককে পরিপূর্ণ অংশ প্রদান করা আমার দায়িত্ব) কথাটি বর্ণিত আছে। তবে এর পরবর্তী অংশটুকু এখানে বর্ধিত বিবৃত হয়নি।

আবদ ইবন হুমায়দ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ জাহান্নাম সবসময় বলতে থাকবে, আরো বেশি আছে কি? শেষ অবধি আল্লাহ রব্বুল আলামীন আপন পা মুবারাক তাতে স্থাপন করবেন। তখন সে বলবে, আপনার ইযযতের কসম! হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। তখন এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিলে গিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে থাকবে।

যুহায়র ইবন হারব .... আনাস এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে শাইবান এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আর রুমী মহান আল্লাহর বাণী "আমরা কেয়ামতের দিন জাহান্নামকে বলবো, তুমি কি পরিপূর্ণ হয়ে গেছ?" - এর ব্যাখ্যায় আনাস ইবন মালিক থেকে উল্লেখ করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ অনবরত (জাহান্নামীদেরকে) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তবুও জাহান্নাম বলবে, আরো বেশি আছে কি? অবশেষে আল্লাহ রববুল আলামীন এতে আপন পা মুবারাক স্থাপন করবেন। তখন এর একাংশ অপরাংশের সাথে মিলে গিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে এবং বলবে, তোমার ইজ্জত ও অনুগ্রহের কসম হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। পক্ষান্তরে জান্নাতের মধ্যস্থলে কিছু জায়গা অব্যাহতভাবে খালি পড়ে থাকবে। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা এর জন্য অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন এবং শূন্যস্থানে তাদেরকে আবাসের ব্যবস্থা করবেন।

যুহায়র ইবন হারব .... আনাস এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর যে পরিমাণ ইচ্ছা সে পরিমাণ স্থান জান্নাতে শূন্য থাকবে। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা নিজ ইচ্ছানুযায়ী এর জন্য অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবু কুরায়ব .... আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি সাদা মেষের আকৃতিতে উপস্থিত করা হবে। আবু কুরায়ব বর্ধিত বর্ণনা করে বলেন, তারপর তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যস্থলে দাড় করানো হবে। এরপর উভয়ই অবশিষ্ট হাদীস একই রকম বর্ণনা করেছেন। তখন বলা হবে, হে জান্নাতীগণ! তোমরা কি একে চিনো? এ কথা শুনে তারা মাথা উঠিয়ে দেখবে এবং বলবে, হ্যা, এ তো মৃত্যু। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বলা হবে, হে জাহান্নামীগণ! তোমরা কি একে চিনো? তখন তারা মাথা তুলে দেখবে এবং বলবে, হ্যা! এতো মৃত্যু। তারপর নির্দেশ দেয়া হবে এবং সেটাকে যবাহ করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বলা হবে, হে জান্নাতীগণ! মৃত্যু নেই, তোমরা অনন্তকাল এখানে থাকবে। হে জাহান্নামীরা! মৃত্যু নেই, তোমরা অনন্তকাল এখানেই থাকবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠ করলেন, "তুমি তাদেরকে সাবধান করে দাও-অনুশোচনার দিন সম্পর্কে, যখন সকল বিষয়ে ফায়সালা করা হবে। অথচ তারা গাফিলতির মাঝে নিপতিত হয়ে আছে এবং ঈমান গ্রহণ করছে না।" এ সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় হাত দ্বারা দুনিয়ার প্রতি ইশারা করলেন।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যখন জান্নাতী লোকেদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে এবং জাহান্নামী লোকেদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে, তখন বলা হবে, হে জান্নাতবাসীগণ! তারপর জারীর আবু মুআবিয়াহ এর অবিকল হাদিস উল্লেখ করেন।

যুহায়র ইবন হারব, হাসান ইবন আলী আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ ..... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদেরকে জান্নাতে আর জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে দাখিল করানোর পর জনৈক ঘোষণাকারী তাদের মাঝে দাড়িয়ে ঘোষণা করবে, হে জান্নাতবাসীগণ! এখন মৃত্যু নেই, হে জাহান্নামীরা! এখন আর মৃত্যু নেই। প্রত্যেকে চিরকাল নির্ধারিত স্থানে থাকবে।

হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী ও হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যখন জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন মৃত্যুকে আনা হবে এবং তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে দাড় করিয়ে যবেহ করে দেয়া হবে। অতঃপর একজন ঘোষক ঘোষণা করবে, হে জান্নাতবাসীগণ! এখানে আর তোমাদের মৃত্যু নেই। অনুরূপভাবে জাহান্নামীদেরকেও বলা হবে, হে জাহান্নামীরা! আর তোমাদের মৃত্যু নেই। এতে জান্নাতীদের আনন্দের সাথে আরো আনন্দ বেড়ে যাবে এবং জাহান্নামীদের শোকের সাথে আরো শোক বহুগুণ বেড়ে যাবে।

সুরায়জ ইবন ইউনুস .... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কাফিরদের দাত উহুদ পাহাড়ের ন্যায় বড় হবে এবং তাদের চামড়া তিন দিনের দূরত্ব পরিমাণ মোটা হবে।

আবু কুরায়ব ও আহমাদ ইবন উমার আল ওয়াকীঈ .... আবু হুরাইরাহ থেকে মারফ সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জাহান্নামে কাফিরদের দু' কাঁধের মাঝখানে দ্রুতগামী আরোহী ব্যক্তির তিন দিনের দূরত্বের পথ হবে। তবে ওয়াকীঈ (জাহান্নামে) কথাটি বর্ণনা করেননি।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... হারিসাহ ইবন ওয়াহব থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেন, আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতবাসীর পরিচয় বলব না? সাহাবাগণ বললেন, হ্যা! অবশ্যই। তিনি বললেন, তারা হবে দুর্বল লোক তাদের (দুনিয়া) দুর্বলই মনে করা হতো। যারা আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তা পূরণ করেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামবাসীর পরিচয় জানাব না? সাহাবাগণ বললেন, হ্যা, জানাবেন। তিনি বললেন, তারা হবে নিষ্ঠুর, দাম্ভিক ও অহংকারী লোক।

মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ..... শুবাহ এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে পার্থক্য এই যে, তিনি শব্দ উল্লেখ করেছেন, অর্থ একই (আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব না)।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... হারিসাহ ইবন ওয়াহ্‌ব আল খুযাঈ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতবাসীগণের পরিচয় আমি কি তোমাদেরকে জানাব না? তারা হবে দুর্বল কোমল হৃদয় বিনয়ী লোক। যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে কসম করলে আল্লাহ তা পূর্ণ করান। তিনি আবার বললেন, আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামীদের পরিচয় বলব না? তারা হবে দাম্ভিক, হীন বা নীচ এবং অহংকারী লোক।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিছু সংখ্যক এমন জীর্ণশীর্ণ লোক আছে, যাদেরকে মানুষের দ্বার হতে বিতাড়িত করা হয়। (অথচ তারা আল্লাহর নিকট এত প্রিয় যে,) তারা যদি আল্লাহর নামে কোন কসম করে তবে আল্লাহ তাআলা তা পূর্ণ করে দেন।

আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ ও আবু কুরায়ব ..... আবদুল্লাহ ইবন যামআহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবাহ প্রদানকালে সালিহ এর উষ্ট্রি সম্পর্কে এবং যে লোক সেটার পা কেটেছিল তার সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, যখন ঐ উষ্ট্রিকে হত্যা করার জন্য তাদের কাওমের সবচেয়ে হতভাগ্য লোকটি উদ্যত হল, তখন এ কাজের জন্য ঐ কাওমের মধ্যে আবু যামআর ন্যায় সবচেয়ে শক্তিশালী, নিষ্ঠুর, অসভ্য ও হতভাগ্য লোক ছিল। এ খুতবায় তিনি মহিলাদের বিষয়ে আলোচনা করলেন এবং তাদের নাসীহাত করলেন। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে তার স্ত্রীকে অযথা প্রহার করে। আবূ বকর এর বর্ণনায় আছে, ক্রীতদাসীর ন্যায় প্রহার করে। আবূ কুরায়ব এর বর্ণনায় আছে, ক্রীতদাসের ন্যায় প্রহার করে। কিন্তু আবার দিন শেষে রাতের বেলা তার সঙ্গে মিলিত হয়। এরপর তিনি বায়ু নিঃসরণ করে হাসি দেয়া সম্বন্ধে উপদেশ করলেন এবং বললেন, যে কাজ তোমরা স্বয়ং করবে সে ব্যাপারে তোমরা কি করে হাসতে পার?

যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি বানী কা'ব এর বাবা আমর ইবন লুহাই ইবন কামাআহ ইবন খিনদিফকে জাহান্নামের মাঝে দেখেছি সে তার পেট হতে সব নাড়ী-ভুড়ি টেনে বের করছে।

আমর আন্‌ নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানী ও আব্‌দ ইবন হুমায়দ ..... সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'বাহীরাহ বলা হয় এমন উষ্ট্রীকে, যা কোন দেবতার নামে মানৎ করে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়া হয়। তাকে আর কেউ দোহন করে না। আর সায়িবাহ বলা হয় এমন উটকে, মুশরিকগণ তাদের দেবতার নামে ছেড়ে দিত। এভাবে ছেড়ে দেয়ার পর এর পিঠে কোন বোঝা বহন করা হত না। ইবন মুসাইয়্যাব আরো বলেন, আবু হুরাইরাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি জাহান্নামের মাঝে আমির আল খুযাঈকে দেখেছি, সে তার নাড়ী-ভুড়ি টেনে বের করছে। কেননা সে-ই সর্বপ্রথম দেব-দেবীর নামে সায়িবাহ (উটের) জন্তুর প্রথা চালু করেছিল।

যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দু প্রকার লোক জাহান্নামী হবে। আমি তাদেরকে দেখিনি। এক প্রকার ঐ সব লোক যাদের কাছে গরুর লেজের ন্যায় ছড়ি থাকবে। তারা এর দ্বারা লোকেদের পিটাবে। দ্বিতীয় প্রকার ঐ শ্রেণীর মহিলা, যারা কাপড় পরিহিতা কিন্তু উলঙ্গ প্রায়, মানুষকে আকৃষ্টকারিণী ও স্বয়ং বিচ্যুত। যাদের মাথার খোপা বুখতী উটের পিঠের উচু কুজোর ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জান্নাতের গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়।

ইবন নুমায়র .... উম্মু সালামার মুক্তদাস আবদুল্লাহ ইবন রাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরাহ কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সেদিন আর খুব বেশি দূরে নয়, অচিরেই তোমরা এক সম্প্রদায় দেখতে পাবে, যাদের হাতে থাকবে গরুর লেজের মতো চাবুক। সকাল অতিবাহিত হবে তাদের আল্লাহর গযবের মধ্যে এবং সন্ধ্যা যাপন হবে আল্লাহর অভিশাপের মধ্যে।

উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ, আবু বাকর ইবন নাফি ও আব্‌দ ইবন হুমায়দ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি, তুমি যদি দীর্ঘজীবি হও তাহলে অচিরেই তোমরা এমন এক সম্প্রদায় দেখতে পাবে, যাদের সকাল হবে আল্লাহর অসম্ভষ্টির ভিতর এবং সন্ধ্যা হবে আল্লাহর অভিসম্পাতের মাঝে। তাদের হাতে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে।

আবূ বকর ইবন আবু শাইবাহ, ইবন নুমায়র, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন রাফি, মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... বানু ফিহর এর ভাই মুসতাওরিদ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! ইহকাল-পরকালের তুলনায় অতটুকুই, যেমন তোমাদের কেউ তার এ আঙ্গুলটি সমুদ্রে পানিতে ভিজিয়ে দেখল যে, কতটুকু পরিমাণ এতে পানি লেগেছে। বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া এ সময় শাহাদাত আঙ্গুলের দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। ইয়াহইয়া ছাড়া সকলের বর্ণনার মাঝেই আছে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি। তাতে এ কথাও উল্লেখ আছে যে, ইসমাঈল বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন।

যুহায়র ইবন হারব .... আয়িশাহ্ সিদ্দীকা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের মাঠে সকল মানুষকে একত্রিত করা হবে খালি পা, উলঙ্গ দেহ এবং খাতনাবিহীন অবস্থায়। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! পুরুষ এবং মহিলা এক সঙ্গেই উত্থিত হবে আর তারা পরস্পর একে অপরের প্রতি তাকাবে? তিনি বললেন, হে আয়িশাহ! তখনকার প্রেক্ষাপট এতো কঠিন ও ভয়ঙ্ককর হবে যে, একে অপরের প্রতি তাকানোর কল্পনারও উদ্রেক হবে না।

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... হাতিম ইবন আবূ সাগীরাহ হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এতে খাতনাবিহীন শব্দটি বর্ণনা নেই।

আবূ বকর ইবন শাইবাহ, যুহায়র ইবন হারব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে খুতবারত অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছেন যে, অবশ্যই তোমরা খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে, উলঙ্গদেহ ও খাতনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে। তবে যুহায়র তার হাদীসে খুতবাহ প্রদানের শব্দটি বর্ণনা করেননি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উপদেশ সম্বলিত ভাষণ প্রদানের উদ্দেশে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দাড়িয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সামনে খালি পা এবং উলঙ্গদেহে এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় উপস্থিত হবে। (আল্লাহর বাণী) "যেমন আমি প্রথম দিন সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, তেমনি তার পুনরাবৃত্তি করব। এটা আমার একটা ওয়াদা, তা পালন করা আমার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। আমি তা পালনে বদ্ধপরিকর।" সাবধান! কিয়ামতের দিন সৃষ্টির মাঝে সর্বপ্রথম ইবরাহীম কে পোশাক পরিধান করানো হবে, সেদিন আমার উম্মাতের মধ্য থেকে কিছু মানুষকে হাযির করা হবে, এদের মধ্যে যারা বাম হাতে আমলনামা প্রাপ্ত তাদের পাকড়াও করা হবে। তখন আমি বলব, হে আমার রব! এরা তো আমার উম্মাত। উত্তরে আমাকে বলা হবে, তুমি জানো না তোমার পরে এরা কি কার্যকলাপে জড়িত ছিল। আমি তখন আল্লাহর সৎ বান্দা ঈসা এর ন্যায় বলব, "যতদিন আমি তাদের মাঝে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের কার্যকলাপের সাক্ষী; কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে তখন তুমিই তো ছিলে তাদের কার্যকলাপের পর্যবেক্ষণকারী এবং তুমিই সর্ব বিষয়ে সাক্ষী, তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে মাফ করো তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" তখন আমাকে বলা হবে, তুমি তাদের থেকে বিদায় গ্রহণের পর থেকে তারা সবসময় মুখ ফিরিয়ে কুফুরীর আশ্রয় নিয়েছিল। ওয়াকী এবং মুআয এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে অতঃপর বলা হবে, আপনি অবশ্য জানেন না আপনার পরে তারা কোন নতুন ধর্মমত আবিষ্কার করেছে?

যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবু হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেদেরকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করে সমবেত করা হবে। প্রথম দল আশা পোষণকারী এবং ভীত-সন্ত্রস্ত লোকেদের দল। দ্বিতীয় দলে সেসব লোক যাদের দু'জন থাকবে এক উটের উপর, কোন উটের উপর তিনজন, কোনটির উপর চারজন, আর কোনটির উপরে আরোহিত হবে দশজন। অবিশিষ্টরা হবে সে সকল লোক যাদেরকে আগুন তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। তারা যেখানে রাত্রিযাপন করবে আগুনও তাদের সঙ্গে রাত কাটাবে। তারা যেখানে বিশ্রাম নিবে আগুনও সেখানে বিশ্রাম নিবে। তাদের যেখানে সকাল হবে আগুনও তাদের সঙ্গে থাকবে। আর যেখানে তাদের সন্ধ্যা হবে একই সঙ্গে আগুনও তাদের সাথে থাকবে।

যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। এর ব্যাখ্যায় নবী (ﷺ) বলেন, সেদিন মানুষ অর্ধ কান পর্যন্ত ঘামে ডুবে দাড়িয়ে থাকবে। ইবন মুসান্নার বর্ণনাতে তিনিঃ "যেখানে" শব্দটি উল্লেখ করা ছাড়া শুধু "লোকজন দাড়িয়ে থাকবে" উল্লেখ করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী, সুওয়াইদ ইবন সাঈদ, আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবদুল্লাহ ইবন জাফার ইবন ইয়াহইয়া, আবূ নাসর তাম্মার, হুলওয়ানী ও আবদ ইবন হুমায়দ ..... ইবন উমর এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে উবাইদুল্লাহর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে মূসা ইবন উকাহ ও সালিহ এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, তাদের মধ্যে কোন কোন ব্যক্তি স্বীয় ঘামে দুই কানের অর্ধেক অবধি ডুবে যাবে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামতের দিন ঘাম জমিনের উপর দিয়ে একশ চল্লিশ হাত পর্যন্ত উচু হয়ে বয়ে যাবে। আর তা মানুষের মুখমণ্ডল পর্যন্ত বা কান পর্যন্ত পৌছবে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু'য়ের মধ্যে কোনটির কথা বলেছেন, বর্ণনাকারী সাওর এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

হাকাম ইবন মূসা আবূ সালিহ .... মিকদাদ ইবন আসওয়াদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন সূর্যকে মানুষের সন্নিকটবর্তী করে দেয়া হবে। অবশেষে তা মানুষের এক মাইলের দূরত্বের মাঝে চলে আসবে। বর্ণনাকারী সুলায়ম ইবন আমির বলেন, আল্লাহর শপথ আমি জানি না, মাইল শব্দ দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে, জমিনের দূরত্ব, না ঐ শলাকা যা চোখে সুরমা দেয়া কাজে ব্যবহৃত হয়। মানুষ তাদের আমল অনুসারে ঘর্মের মাঝে ডুবে থাকবে। তাদের কারো ঘাম পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত হবে, কেউ হাটু পর্যন্ত ঘামের মধ্যে থাকবে, কেউ কোমর পর্যন্ত আর কারো মুখ পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় রসূল (ﷺ) নিজ মুখের প্রতি ইঙ্গিত করলেন।

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ইবন উসমান .... ইয়ায ইবন হিমার আল মুজাশিঈ হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবাহ প্রদানকালে বললেনঃ সাবধান! আমার প্রতিপালক আজ আমাকে যা শিক্ষা প্রদান করেছেন, এ থেকে তোমাদেরকে এমন বিষয়ের শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি আমাকে আদেশ দিয়েছেন, যে বিষয়ে তোমরা সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞাত। তা হলো এই যে, আমি আমার বান্দাদেরকে যে প্রাচুর্য দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ। আমি আমার সকল বান্দাদেরকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের নিকট শইতান এসে তাদেরকে দীন হতে সরিয়ে দেয়। আমি যে সমস্ত জিনিস তাদের জন্য বৈধ করেছিলাম সে তা হারাম করে দেয়। অধিকন্তু সে তাদেরকে আমার সাথে এমন বিষয়ে অংশীদার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে, যে বিষয়ে আমি কোন প্রমাণ পাঠাইনি। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীবাসীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে কিতাবীদের কিছু লোক ছাড়া আরব-আজম সকলকে অপছন্দ করেছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে এবং তোমার দ্বারা অন্যদেরকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে আমি তোমাকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছি এবং তোমার প্রতি আমি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা পানি কখনো ধুয়ে-মুছে ফেলতে পারবে না। ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় তুমি সেটা পাঠ করবে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, কুরায়শ সম্প্রদায়ের লোকেদেরকে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ করেছেন। আমি তখন বললাম, হে আমার প্রতিপালক! আমি যদি এ কাজ করি তবে তারা তো আমার মাথা ভেঙ্গে রুটির মতো টুকরা টুকরা করে ফেলবে। আল্লাহ তাআলা বললেন, তারা যেমনিভাবে তোমাকে বহিষ্কার করেছে ঠিক তেমনিভাবে তুমিও তাদেরকে বহিষ্কার করে দাও। তুমি তাদের সাথে যুদ্ধ করো। আমি তোমাকে সাহায্য করব। ব্যয় করো আল্লাহর পথে, তোমার জন্যও ব্যয় করা হবে। তুমি একটি সেনাদল প্রেরণ করো, আমি অনুরূপ পাচটি বাহিনী প্রেরণ করব। যারা তোমার আনুগত্য করে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যারা তোমার বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের সাথে যুদ্ধ করো। তিন শ্রেণীর মানুষ জান্নাতী হবে। এক প্রকার মানুষ তারা, যারা রাষ্ট্রীয় কর্ণধার, ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী এবং নেক কাজের তাওফীক লাভে ধন্য লোক। দ্বিতীয় ঐ সকল মানুষ, যারা দয়ালু এবং আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কোমলচিত্ত। তৃতীয় ঐ শ্রেণীর মানুষ, যারা পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, যাঞ্চাকারী নয় এবং সন্তানাদি সম্পন্ন লোক। অতঃপর তিনি বললেন, পাচ ধরনের মানুষ জাহান্নামী হবে। এক- এমন দুর্বল মানুষ, যাদের মধ্যে পার্থক্য ক্ষমতা নেই, যারা তোমাদের এমন তাবেদার যে, না তারা পরিবার-পরিজন চায়, না ধনৈশ্বর্য। দুই- এমন খিয়ানাতকারী মানুষ, সাধারণ বিষয়েও যে খিয়ানাত করে যার লালসা কারো নিকটই লুক্কায়িত নেই। তিন- ঐ ব্যক্তি, যে তোমার পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিষয়ে তোমার সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা প্রতারণা করে। অবশেষে তিনি কৃপণতা, মিথ্যা বলা এবং গালমন্দ করার কথাও বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ গাস্‌সান তার হাদীসের মাঝে "তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় কর, আমিও তোমার জন্য ব্যয় করব" বাক্যটি উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ ইবন মুসন্ন আল আনায়ী .... কাতাদাহ্ হতে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি "আমি বান্দাকে যে সম্পদ দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ" কথাটি বর্ণনা করেননি।

আবদুর রহমান ইবন বিশর আল আবদী .... ইয়ায ইবন হিমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) ভাষণ দিলেন। তারপর তিনি পুরো হাদীসটি বর্ণনা করলেন এবং শেষ ভাগে বলেছেন, কাতাদাহ্ বলেন, আমি মুতারিফকে বলতে শুনেছি।

আবু আম্মার হুসায়ন ইবন হুরায়স .... বানী মুজাশি এর ভাই ইয়ায ইবন হিমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) ভাষণ প্রদানকালে আমাদের মাঝে দাড়িয়ে বললেনঃ আল্লাহ তাআলা আমাকে আদেশ দিয়েছেন। তারপর তিনি কাতাদাহ্ হতে হিশাম এর সানাদে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এ কথা বর্ধিত উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি ওয়াহী নাযিল করেছেন যে, তোমরা বিনয়ী হও, কারো উপর কেউ যেন গর্ব না করে এবং কারো প্রতি যেন কেউ যুলম না করে। এ হাদীসে এটাও রয়েছে যে, তারা তোমাদের এমন অনুগামী যে, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ সন্ধান করে না। কাতাদাহ বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আবু আবদুল্লাহ! এমনটি কি হবে? তিনি বললেন, হ্যা, অবশ্যই। জাহিলিয়াতের যুগে আমি তাদেরকে পেয়েছি। আর এরূপ এক গোত্রে কোন এক লোক ছিল। সে বকর চরাতো। দাসী ছাড়া সেখানে তার কাছে কেউ যেত না। তার সাথেই সে সহবাস করত।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কোন লোকের মৃত্যুর পর সকাল-সন্ধ্যা তার সম্মুখে তার (পরকালীন) ঠিকানা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতবাসী হয় তবে জান্নাতবাসীদের থেকে আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নামীদের থেকে। আর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার বাসস্থান। কিয়ামতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে।

আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তখন সকাল-সন্ধ্যা তার কাছে তার (পরকালীন) ঠিকানা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতবাসী হয় তবে জান্নাত আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নাম। তারপর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার ঐ বাসস্থান যেখানে তোমাকে কিয়ামতের দিন পাঠানো হবে।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব ও আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... যায়দ ইবন সাবিত এর সূত্রে আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিত। আবু সাঈদ আল খুদরী বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম না, বরং আমাকে যায়দ ইবন সাবিত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) নাজ্জার গোত্রের একটি প্রাচীর ঘেরা বাগানে তার একটি খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন। এ সময় আমরা তার সাথে ছিলাম। অকস্মাৎ তা লাফিয়ে উঠল এবং তাকে ফেলে দেয়ার উপক্রম করল। দেখা গেল, সেখানে ছয়টি কিংবা পাচটি অথবা চারটি কবর রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, জুরাইরী এমনটিই বর্ণনা করতেন। অতঃপর তিনি প্রশ্ন করলেন, এ কবরবাসীদেরকে কে চিনে? তখন এক ব্যক্তি বললেন, আমি চিনি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তারা কখন মৃত্যুবরণ করেছে? তিনি বললেন, তারা শিরকের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ উম্মাতকে তাদের কবরের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে। তোমরা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা বর্জন করবে, এ আশঙ্কা না হলে আমি আল্লাহর নিকট দোয়া করতাম যেন তিনি তোমাদেরকেও কবরের আযাব শুনান যা আমি শুনতে পাচ্ছি। তারপর তিনি আমাদের প্রতি মনোনিবেশ করে বললেন, তোমরা সবাই জাহান্নামের আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সাহাবাগণ বললেন, জাহান্নামের শাস্তি হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তারপর তিনি বললেন, তোমরা সকলে কবরের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সাহাবাগণ বললেন, কবরের আযাব হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনাহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। তারা বললেন, প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনাহ হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তিনি আবারো বললেন, তোমরা দাজ্জালের ফিতনাহ হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। সাহাবাগণ বললেন, দাজ্জালের ফিতনাহ হতে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা মৃতদেরকে দাফন করা বর্জন করবে এ ভয় না থাকলে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম যেন তিনি তোমাদেরকে কবরের কিছু আযাব শুনিয়ে দেন।

আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ্, উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার, যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবু আইয়্যুব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্যাস্ত হওয়ার পর বের হলেন। এমন সময় তিনি একটি শব্দ শুনতে পেয়ে বললেন, ইয়াহুদী লোকেদেরকে তাদের কবরের মধ্যে আযাব দেয়া হচ্ছে।

আবদ ইবন হুমায়দ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরের মধ্যে রেখে তার সঙ্গী-সাথীরা সেখান থেকে ফিরে আসে এবং সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায় তখন তার কাছে দু'জন ফেরেশতা এসে তাকে উঠিয়ে বসান। তারপর তাকে তারা জিজ্ঞেস করে, এ লোকটির ব্যাপারে তুমি কি বলতে? মুমিন বান্দা তখন বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তার রসূল। তখন তাকে বলা হয়, জাহান্নামে তুমি তোমার আসন দেখে নাও। আল্লাহ তাআলা তোমার এ আসনকে জান্নাতের আসনের দ্বারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তখন সে তার উভয় আসন অবলোকন করে নেয়। বর্ণনাকারী কাতাদাহ্ বলেন, আমাদের নিকট এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতঃপর তার কবরকে (দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে) সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেয়া হয় এবং সবুজ শ্যামল গাছের দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেয়া হয় কিয়ামত পর্যন্ত।

মুহাম্মাদ ইবন মিনহাল আয যারীর .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃতদেরকে যখন তার কবরে রাখা হয় তখন সে তার সঙ্গীসাথীদের ফিরে আসার সময় তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়।

আমর ইবন যুরারাহ্ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, বান্দাকে যখন তার কবরে রেখে তার সঙ্গী-সাথীগণ প্রত্যাবর্তন করে। অতঃপর সাঈদ শাইবান এর সানাদে কাতাদাহ হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ইবন উসমান আল আবদী .... বারা ইবন আযিব এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণীঃ "যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন" সম্পর্কে বলেন, এ আয়াত কবরের আযাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। কবরে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তোমার রব কে? সে বলে, আমার রব আল্লাহ এবং আমার নবী মুহাম্মাদ। এটাই আল্লাহর নিম্নবর্ণিত বাণীর মর্ম, "যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন"।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আবু বকর ইবন নাফি ..... বারা ইবন আযিব হতে আল্লাহর বাণীঃ "যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন"-(ইবরাহীম ১৪ঃ ২৭) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, এ আয়াতটি কবরের শাস্তির ব্যাপারে নাযিল হয়েছে।

উবাইদুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিন লোকের রূহু কবয করার পর দু'জন ফেরেশতা এসে তার রূহ আকাশের দিকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী হাম্মাদ বলেন, আবু হুরাইরাহ এখানে ঐ রূহের সুগন্ধি এবং মিশকের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আকাশের বাসিন্দারা বলতে থাকে, এক পবিত্ৰ আত্মা পৃথিবী হতে আগমন করেছে। আল্লাহ তোমার প্রতি এবং তোমার আবাদকৃত শরীরের প্রতি করুণা বর্ষণ করুন। তারপর তাকে তার প্রতিপালকের নিকট নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আর যখন কোন কাফির লোকের রূহ বের হয়- বর্ণনাকারী হাম্মাদ বলেন, আবু হুরাইরাহ্ এখানে তার দুর্গন্ধ এবং তার প্রতি অভিসম্পাতের কথা উল্লেখ করেছেন। তখন আকাশমণ্ডলীর অধিবাসীরা বলতে থাকে, এক অপবিত্র আত্মা দুনিয়া হতে এসেছে। অতঃপর বলা হয়, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আবু হুরাইরাহ্ বলেন, এ সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) গায়ে জড়ানো একটি পাতলা কাপড় দ্বারা নিজের নাকটি এভাবে ধরলেন।

ইসহাক ইবন উমার ইবন সালীত আল হুযালী, শাইবান ইবন ফারুরূখ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর এর সাথে একদা আমরা মক্কাহ ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে ছিলাম। তখন আমরা চাঁদ দেখছিলাম। আমি তীক্ষ দৃষ্টিসম্পন্ন ছিলাম, তাই আমি চাঁদ দেখে ফেললাম। আমি ব্যতীত কেউ বলেনি যে, সে চাঁদ দেখেছে। তিনি বলেন, আমি উমার কে বলছিলাম, আপনি কি চাঁদ দেখছেন না? এ-ই তো চাঁদ। কিন্তু তিনি দেখছিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমর বলছিলেন, আমি আমার বিছানায় শুয়ে থেকেই তা দেখতে পাব। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কাফিরদের (নিহত হবার) ঘটনার অবস্থা বর্ণনা করতে শুরু করলেন। বললেন, গতকাল বাদর যোদ্ধাদের ধরাশায়ী হবার স্থান রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে (পূর্ব থেকেই) দেখাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় এটা অমুকের ধরাশয়ী হবার স্থান। বর্ণনাকারী বলেন, উমর বলেছেন, শপথ সে সত্তার! যিনি তাকে সত্য বাণী সহ পাঠিয়েছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সীমারেখা বলে দিয়েছেন, তারা সে সীমারেখা একটুও অতিক্রম করেনি। তারপর তাদেরকে একটি কুপে একজনের উপর অপরজনকে নিক্ষেপ করা হলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের কাছে গিয়ে বললেন, হে অমুকের ছেলে অমুক, হে অমুকের ছেলে অমুক। আল্লাহ ও তার রসূল যে ওয়া'দা তোমাদের সঙ্গে করেছেন তোমরা কি তা বাস্তবে পেয়েছ? আমার প্রতিপালক আমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন আমি তা বাস্তবে সঠিক পেয়েছি। তখন উমর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যেসব দেহে প্রাণ নেই, আপনি তাদের সাথে কিভাবে কথা বলছেন? নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি যা বলছি, তা তোমরা তাদের চেয়ে অধিক শুনছ না। তবে তারা এ কথার প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম।

হাদ্দাব ইবন খালিদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর যুদ্ধে নিহত লোকদেরকে তিন দিন পর্যন্ত এভাবেই রেখে দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তাদের কাছে এসে তাদের লাশের সামনে দাড়ালেন এবং তাদেরকে উচ্চ আওয়াজে বললেন, হে হিশামের পুত্র আবু জাহল! হে উমাইয়া ইবন খালাফ, হে উতবাহ ইবন রাবীআহ, হে শাইবাহ ইবন রাবীআহ! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সঙ্গে যা ওয়াদা করেছেন তোমরা কি তা বাস্তবে পাওনি? আমার প্রতিপালক আমার সাথে যা ওয়াদা করেছেন আমি তা বাস্তবে পেয়েছি। নবী (ﷺ) এর এ কথা উমর শুনে বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! তারা তো মৃত। কিভাবে তারা শুনবে এবং কিভাবে তারা উত্তর দিবে? তিনি বললেন, আমি তাদেরকে যা বলছি এ কথা তাদের থেকে তোমরা বেশি শুনছ না। তবে তারা প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম। অতঃপর তিনি তাদের সম্বন্ধে আদেশ দিলে তাদেরকে হেঁচড়িয়ে নিয়ে বদরের কূপে নিক্ষেপ করা হলো।

ইউসুফ ইবন হাম্মাদ আল মানী ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবু তালহাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ) যখন কাফিরদের উপর বিজয়ী হলেন, তখন তিনি বিশের অধিক কুরায়শ নেতৃবৃন্দ, অপর হাদীসে রাওহ বলেন, চব্বিশ জন কুরায়শ নেতৃবৃন্দ সম্বন্ধে আদেশ দিলেন। তারপর তাদের লাশ বদর প্রান্তে এক নোংরা আবর্জনাপূর্ণ কুয়ায় নিক্ষেপ করা হলো। অতঃপর তিনি আনাস হতে বর্ণিত সাবিত এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আলী ইবন হুজর .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কিয়ামতের দিন যার হিসাব (কষাকষিভাবে) করা হবে তার শাস্তি নিশ্চিত। আমি জিজ্ঞাসা করলাম আল্লাহ তা-আলা কি বলেননি "তার হিসাব-নিকাশ সহজেই নেয়া হবে"। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ এ তো হিসাব নয় বরং এটা তো কেবল নামে মাত্র পেশ করা। কারণ কিয়ামতের দিন যার হিসাব (কঠিনভাবে) নেয়া হবে তার শাস্তি নিশ্চিত।

আবু রাবী আল আতাকী ও আবূ কামিল .... আইয়্যুব হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবদুর রহমান ইবন বিশর ইবন হাকাম আল আব্‌দী .... আয়িশাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যারই হিসাব (কঠিনভাবে) নেয়া হবে তার ধ্বংস অনিবার্য। এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ কি সহজ হিসাবের কথা বলেননি? তিনি বললেন, এ তো কেবল নামে মাত্র পেশ করা। কারণ যার হিসাবে কষাকষি করা হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।

আবদুর রহমান ইবন বিশর .... আয়িশাহ এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যার হিসাব নেয়া হবে তার ধ্বংস অবধারিত। এরপর উসমান ইবন আসওয়াদ আবু ইউনুস এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মৃত্যুর তিন দিন আগে তাকে আমি এ কথা বলতে শুনেছি যে, তোমাদের সকলেই যেন আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা পোষণরত অবস্থায় মারা যায়।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমাশ থেকে এ সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ দাউদ সুলাইমান ইবন মাবাদ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ আল আনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তিরোধানের তিন দিন আগে আমি তাকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তোমাদের সকলেই যেন আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা পোষণরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক বান্দা কিয়ামতের দিন ঐ অবস্থায় পুনরুথিত হবে, যে অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করল।

আবু বকর ইবন নফি .... আমাশ হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি "আমি শুনেছি" না বলে "নবী (ﷺ) হতে" এ শব্দে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া আত তুজীবী .... আবদুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি, আল্লাহ যখন কোন গোত্রকে শাস্তি দেয়ার ইচ্ছা করেন তখন এ শাস্তি ঐ গোত্রে অবস্থিত প্রত্যেকের উপরই নিপতিত হয়। অতঃপর কিয়ামতের দিন (তাদের প্রত্যেককে) নিজ নিজ আমলের উপর পুনরুথিত করা হবে।