bd flag

বাংলা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা (৬৯৩৯-৭০২২)

আবূ বকর ইবন ইসহাক .... আবু হুরাইরাহ এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কিয়ামতের ময়দানে মোটা-তাজা লোক উপস্থিত হবে, কিন্তু আল্লাহর নিকট তার ওযন মশার ডানার ন্যায়ও হবে না। তোমরা পড়ে নাও "কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোন পরিমাপক স্থাপন করব না"-(আল কাহফ ১৮ঃ ১০৫)।

আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ইয়াহুদী পাদরী নবী (ﷺ) এর কাছে এসে সম্বোধন করে বলল, হে মুহাম্মাদ! অথবা (বলল) হে আবুল কাসিম "কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলীকে এক আঙ্গুলে, জমিনসমূহকে এক আঙ্গুলে, পাহাড় ও গাছপালাকে এক আঙ্গুলে; পানি ও মাটি এক আঙ্গুলে এবং সকল প্রকার সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলে তুলে ধরবেন। তারপর এগুলো দুলিয়ে বলবেন, আমিই বাদশাহ, আমিই অধিপতি।" পাদরীর কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিস্ময়ের সাথে তার সত্যায়ন স্বরূপ হাসলেন। অতঃপর তিনি পাঠ করলেনঃ (অর্থ) "তারা আল্লাহর যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করেনি। কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী তার হাতের মুষ্টিতে এবং আকাশমণ্ডলী থাকবে তার ডান হাতের মুঠোয়। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাকে অংশীদার স্থাপন করে, তিনি তার থেকে অনেক উর্ধ্বে"-(আয যুমার ৩৯ঃ ৬৭)।

উসমান ইবন আবু শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... মানসূর থেকে উক্ত সূত্রে বলেছেন যে, জনৈক ইয়াহুদী পাদরী লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলো, পরবর্তী অংশ ফুযায়ল এর হাদীসের অনুরূপ। তবে তিনি এগুলো দুলিয়েছেন কথাটির উল্লেখ করেননি। এতে এ-ও রয়েছে যে, তার কথায় বিস্মিত হয়ে তার সত্যায়নে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি এমনভাবে হাসতে দেখেছি যে, তার মাড়ির দাত মুবারক প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তিলাওয়াত করলেন, (অর্থ) "তারা আল্লাহর যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করেনি" .... পূর্ণ আয়াত তিলাওয়াত করেন।

উমর ইবন হাফস ইবন গিয়াস .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। আহলে কিতাবদের জনৈক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে আবুল কাসিম! আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলী এক আঙ্গুলে, ভূমণ্ডল এক আঙ্গুলে, গাছপালা ও আর্দ্র মাটি এক আঙ্গুলে এবং সকল সৃষ্টি এক আঙ্গুলে তুলে ধরবেন। এরপর তিনি বলবেন, আমিই বাদশাহ্, আমিই রাজা। রাবী বলেন, তখন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এমনভাবে হাসতে দেখলাম যে, তার মাড়ি মুবারকের দাতগুলো প্রকাশ পেলো। এরপর তিলাওয়াত করলেন, (অর্থ) "তারা আল্লাহর যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করেনি।" (৩৯:৬৭)

আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবু কুরায়ব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, আলী ইবন খাশরাম ও উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ... আমাশ এর সূত্রে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের সকলের বর্ণনাতেই রয়েছে যে, বৃক্ষরাজি এক আঙ্গুলে এবং আর্দ্র মাটি এক আঙ্গুলো। তবে জারীর এর হাদীসে "সকল প্রকার সৃষ্টি এক আঙ্গুলে" কথাটি উল্লেখ নেই। অবশ্য তার হাদীসে "পাহাড়সমূহ এক আঙ্গুলে" কথাটি রয়েছে। জারীর এর হাদীসে বর্ধিত রয়েছে যে, তার কথায় অবাক হয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে সমর্থন করেন।

হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া ..... আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সারা পৃথিবী তার হাতের মুষ্টিতে নিয়ে নিবেন এবং আকাশমণ্ডলী ভাঁজ করে তার ডান হাতের মুঠোয় নিবেন। তারপর তিনি বলবেন, "আমিই বাদশাহ্। পৃথিবীর বাদশাহগণ কোথায়?"

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলী পেচিয়ে নিবেন। তারপর তিনি আকাশমণ্ডলীকে ডান হস্তে ধরে বলবেন, আমিই বাদশাহ। কোথায় শক্তিশালী লোকেরা! কোথায় অহংকারীরা? এরপর তিনি বাম হস্তে গোটা পৃথিবী গুটিয়ে নিবেন এবং বলবেন, আমিই বাদশাহ। কোথায় অত্যাচারী লোকেরা, কোথায় বড়ত্ব প্রদর্শনকারীরা?

সাঈদ ইবন মানসূর .... উবাইদুল্লাহ ইবন মিকসাম থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর এর দিকে তাকিয়ে থাকলেন, কিভাবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা বর্ণনা করছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলী ও সারা পৃথিবী তার হস্তদ্বয়ে তুলে ধরবেন এবং বলবেন, আমিই আল্লাহ। তিনি স্বীয় আঙ্গুল সংকোচন ও সম্প্রসারণ করে বলবেন, আমিই বাদশাহ। আবদুল্লাহ ইবন উমর বলেন, এমনকি তখন আমি দেখতে পাচ্ছিলাম যে, মিম্বারের নিম্নাংশের কিছু দুলছিল। তখন আমি ভাবছিলাম, মিম্বারটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নিয়ে পড়ে যায় কিনা?

সাঈদ ইবন মানুসূর .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিম্বারের উপর এমন অবস্থায় দেখেছি যে, তিনি বলছেন, মহাপরাক্রমশালী সত্তা আকাশমণ্ডলী ও গোটা পৃথিবী স্বীয় হস্তদ্বয়ে তুলে ধরবেন। পরবর্তী অংশ ইয়াকুব এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।

সুরায়জ ইবন ইউনুস ও হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হাত ধরে বললেন, আল্লাহ তাআলা শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেন এবং এতে পর্বত সৃষ্টি করেন রবিবার দিন। সোমবার দিন তিনি বৃক্ষরাজি সৃষ্টি করেন। মঙ্গলবার দিন তিনি বিপদাপদ সৃষ্টি করেন। তিনি নূর সৃষ্টি করেন বুধবার দিন। তিনি বৃহস্পতিবার দিন পৃথিবীতে পশু-পাখি ছড়িয়ে দেন এবং জুমুআর দিন আসরের পর জুমুআর দিনের শেষ মুহূর্তে আসর থেকে নিয়ে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে সর্বশেষ মাখলুক আদম কে সৃষ্টি করেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... সাহল ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লোকেদেরকে কিয়ামতের দিন ময়দার রুটির ন্যায় (গোল) লালচে সাদা জমিনের উপরে জমায়েত করা হবে। সেখানে কারো কোন বিশেষ নিদর্শন মওজুদ থাকবে না।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আল্লাহর বাণীঃ (অর্থ) "যেদিন এ পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হয়ে যাবে এবং আকাশমণ্ডলীও"-(ইবরা-হীম ১৪ঃ ৪৮) সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! তবে সেদিন লোকেরা কোথায় থাকবে? তিনি বললেন, (জাহান্নামের উপরে নির্মিত) সেতুর উপরে অবস্থান করবে।

আবদুল মালিক ইবন শুআয়ব ইবন লায়স .... আবু সাঈদ আল খুদরী এর রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সমস্ত ভূখণ্ড কিয়ামতের দিন একটি রুটির মতো হয়ে যাবে। আল্লাহ সেটি নিজ হাতে এপাশ-ওপাশ করবেন, যেমন তোমাদের মাঝে কেউ সফরের সময় নিজ রুটি এপাশ-ওপাশ করে। এ দিয়ে হবে জান্নাতবাসীর জন্য আতিথেয়তা। এমন সময় এক ইয়াহুদী লোক এসে বলল, হে আবুল কাসিম! রহমান আপনার প্রতি বারাকাত দান করুন। কিয়ামতের দিন জান্নাতবাসীদের আতিথেয়তা সম্পর্কে আপনাকে জানাব কি? তিনি বললেন, হ্যা। ইয়াহুদী বলল, এ পৃথিবীটি একটি রুটির রূপ ধারণ করবে, যেমন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন। রাবী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দিকে লক্ষ্য করে এমনভাবে হেসে দিলেন যে, তার মাড়ির মুবারক দাত প্রকাশিত হয়ে পড়েছিল। ইয়াহুদী বলল, তাদের তরকারি কি হবে তা কি আপনাকে বলব? তিনি বললেন, হ্যা। সে বলল, বালাম এবং নূন। সাহাবাগণ প্রশ্ন করলেন, তা কি? সে বলল, ষাড় এবং মাছ- যাদের কলিজার বাড়তি অংশ থেকে সত্তর হাজার লোক আহার করতে পারবে।

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ দশজন ইয়াহুদী ব্যক্তি যদি আমার অনুসরণ করতো তাহলে এ ভূখণ্ডে মুসলিম হওয়া ছাড়া কোন ইয়াহুদী আর অবশিষ্ট থাকত না।

উমর ইবন হাফস্ ইবন গিয়াস .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে এক ফসলি জমিতে চলছিলাম। সে সময় তিনি একটি খেজুর শাখার ছড়ির উপর ভর দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি ইয়াহুদীদের একটি দলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন তারা একজন আরেকজনকে বলাবলি করতে লাগল, রূহ সম্বন্ধে তাকে প্রশ্ন করো। তাদের কেউ বলল, কি সন্দেহ তৈরি হয়েছে তোমাদের যে, তোমরা তাকে প্রশ্ন করবে? তোমাদের যেন এমন কথার সম্মুখীন না হতে হয়, যা তোমরা অপছন্দ করো। এরপরও তারা বলল, তাকে অবশ্যই প্রশ্ন করো। পরিশেষে তাদের কেউ উঠে গিয়ে তাকে রূহ সম্বন্ধে প্রশ্ন করল। রাবী বলেন, তখন নবী (ﷺ) চুপ রইলেন। তার কোন উত্তর দিলেন না। আমি বুঝতে পারলাম, তার উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে। রাবী বলেন, আমি নিজের স্থানে দাড়িয়ে রইলাম। এরপর ওয়াহী অবতীর্ণ শেষ হলে তিনি বললেন, "তোমাকে তারা রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে; বলো, রূহ আমার প্রতিপালকের একটি আদেশ মাত্র এবং তোমাদের অতি নগণ্য জ্ঞান দেয়া হয়েছে"(আল ইসরা ১৭ঃ ৮৫)।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবু সাঈদ আল আশাজ্জ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল হানযালী এবং আলী ইবন খাশরাম .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে মদীনার একটি ফসলি জমিতে হাটছিলাম। তারপর তিনি হাফসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) কোন এক খেজুর বাগানে খেজুর ডালের লাঠির উপর ভর করে চলছিলেন। এরপর তিনি আমাশ হতে বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তার বর্ণনার মধ্যে রয়েছে "এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে"।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ আল আশাজ্জ .... খাব্বাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আস ইবন ওয়ায়িল এর কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। এর উসূলান্তে আমি তার নিকট গেলাম। সে বলল, যে পর্যন্ত তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার পাওনা দিব না। এ কথা শুনে আমি তাকে বললাম, আমি কক্ষনো মুহাম্মাদ (ﷺ) কে অস্বীকার করব না, তুমি মরার পর আবার জীবিত হয়ে আসলেও। সে বলল, আমি কি মৃত্যুর পর আবার জীবিত হয়ে উঠব? তাহলে তখনই আমি আমার সম্পদ এবং সন্তানাদি লাভ করে তোমার পাওনা পরিশোধ করব। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়, "আপনি কি দেখেছেন তাকে যে আমার আয়াতসমূহ উপেক্ষা করে এবং বলে, আমাকে তো ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি দেয়া হবে।" ".... আর সে আমার কাছে একাকী আসবে" (১৯:৮০) তখন এ আয়াতটি নাযিল হয়।

আবূ কুরায়ব, ইবন নুমায়র, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমার, .... আমাশ এর সানাদে এ সূত্রে ওয়াকীর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে জারীর এর হাদীসের মধ্যে অতিরিক্ত আছে যে, খাব্বাব বলেন, জাহিলী যুগে আমি কর্মকার ছিলাম। তখন আস ইবন ওয়ায়িলকে আমি একটি কাজ করে দিয়েছিলাম। এরপর আমি তা আদায় করার জন্য তার কাছে গেলাম।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু জাহল বলল, "হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার তরফ থেকে সত্য হয়, তাহলে আমাদের উপর আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণ করো অথবা আমাদের কঠিন আযাব দাও।" তখন অবতীর্ণ হলোঃ "আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন আর তিনি তাদের আযাব দিবেন এবং আল্লাহ এমনও নন যে, তারা মার্জনা প্রার্থনা করবে আর তিনি তাদের আযাব দিবেন। আর তাদের কি বা বলার আছে যে, আল্লাহ তাদের আযাব দিবেন না, যদিও তারা লোকেদের মসজিদুল হারাম হতে নিবৃত্ত করে?"(আল আনফাল ৮ঃ ৩৩-৩৪) .... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয এবং মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা আল কায়সী .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু জাহল বলেছিল, মুহাম্মদ কি তোমাদের মাঝে তার মুখমণ্ডল জমিনের উপর রাখে? লোকেরা বলল, হ্যা রাখে। তখন সে বলল, আমি লাত এবং উয্যার শপথ করে বলছি, আমি যদি তাকে এমন করতে দেখি তবে নিশ্চয়ই আমি তার ঘাড় পদদলিত করব, অথবা তার মুখমণ্ডল আমি মাটিতে মেখে দিব। (নাউযুবিল্লাহ) তারপর একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায়ে রত ছিলেন। এমন সময় আবূ জাহল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গর্দানকে পদদলিত করার উদ্দেশে তার কাছে আসলো। একটু অগ্রসর হয়ে অকস্মাৎ সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে মুখ ফিরিয়ে দ্রুত পিছনে সরে আসল এবং দু' হাত দিয়ে নিজেকে বাচাতে লাগল। এ দেখে তাকে প্রশ্ন করা হলো, তোমার কি হয়েছে? উত্তরে সে বলল, আমি দেখেছি যে, আমার এবং তার মধ্যে আগুনের একটি প্রকাণ্ড খাদক, ভয়াবহ অবস্থা এবং কতগুলো ডানা। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, সে যদি আমার নিকটে আসত, তবে ফেরেশতাগণ তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে ফেলতো। রাবী বলেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন। রাবী (আবু হাযিম) বলেন, আবু হুরাইরাহ এর হাদীসের মধ্যে এ অবতীর্ণ আয়াতটি আছে, না এ মর্মে তার কাছে কোন খবর পৌছেছে, তা আমাদের জানা নেই। "কক্ষনো ঠিক নয়, মানুষ তো সীমালঙ্ঘন করেই থাকে, কেননা সে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করছে। আপনার প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে এটা সুনিশ্চিত। আপনি বলুন তো সে ব্যক্তি সম্পর্কে যে বাধা দেয় এক বান্দাকে যখন সে সালাত আদায় করে। আপনি বলুন তো যদিও সে সালাত আদায়কারী ব্যক্তিটি সৎপথে থাকে এবং তাকওয়ার আদেশ করে এমন ব্যক্তিকে কি বাধা দেয়া ব্যক্তি তবে সে কি জানে না যে, আল্লাহ প্রত্যক্ষ করেন? সাবধান, সে যদি বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাকে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাব মস্তকের অগ্রভাগের কেশগুচ্ছ ধরে, সেটি মিথ্যাচারী পাপিষ্ঠের কেশগুচ্ছ। অতএব সে তার নাসিয়াহ তার সম্প্রদায়কে আহবান করুক। আমি যবনিয়াকে (সম্প্রদায়কে) আহবান করব। কক্ষনো তুমি তার অনুকরণ করো না"(আল আলাক ৯৬ঃ ৬-১৯)। উবাইদুল্লাহ তার হাদীসে এতটুকু বাড়িয়েছেনঃ রাবী আবু হুরাইরাহ বলেন, তার (রসূল) আদেশ আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী (প্রযোজ্য)।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... মাসরুক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের মাঝে এক পার্শ্বদেশ হয়ে ঘুমিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় তার কাছে জনৈক লোক এসে বলল, হে আবু আবদুর রহমান। কিনদা দ্বারপ্রান্তে এক বক্তা বলছেন, কুরআনে বর্ণিত ধোয়ার কাহিনীটি ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে। তা প্রবাহিত হয়ে কাফিরদের শ্বাসরুদ্ধ করে দিবে এবং এতে মুমিনদের সর্দির মতো অবস্থা হবে। এ কথা শুনে তিনি গোস্বা হয়ে বসলেন এবং বললেন, হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। তোমাদের কেউ কোন কথার জ্ঞান থাকলে সে যেন তা-ই বলে। আর যে না জানে সে যেন বলে- আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানে। কেননা প্রকৃত জ্ঞানের কথা হচ্ছে এই যে, যে বিষয়ে তার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে বলবে, আল্লাহই অধিক ভাল জানেন। কারণ আল্লাহ তাআলা তার নবী (ﷺ) কে বলেছেন, "বলো, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিফল চাই না এবং আমি মিথ্যা দাবীদারদের অন্তর্ভুক্ত নই।" প্রকৃত অবস্থা তো এই যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন লোকেদের মাঝে দীন বিমুখ দেখলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, হে আল্লাহ ইউসুফ এর সময়ের ন্যায় অভাব-অনটনের সাতটি বছর তাদের উপর আপতিত কর। তারপর তাদের উপর অভাব-অনটন এমনভাবে পতিত হলো যে, তা সব কিছুকে নিঃশেষ করে দিল। ফলে ক্ষুধার জ্বালায় তারা চামড়া ও মৃত দেহ খাদ্য উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করলো। এমনকি তাদের কোন লোক আকাশের দিকে তাকালে শুধু ধোয়ার মতই দেখতে পেত। অতঃপর আবু সুফইয়ান রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনি তো আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ করেন এবং আত্মীয়তার হক আদায় করার আদেশ দিয়ে আসছেন, অথচ আপনার সম্প্রদায় তো ধ্বংস হয়ে গেলো। আপনি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। (এ প্রসঙ্গে) আল্লাহ তাআলা বললেনঃ "অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সে দিনের, যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং সেটা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে। এ হবে কঠিন শাস্তি। ... তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।" এ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন। (আদ দুখান ৪৪ঃ ১০-১২) আবদুল্লাহ বলেন, আখিরাতের শাস্তি কি লাঘব করা হবে? (আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন), "যেদিন আমি তোমাদের সুদৃঢ়ভাবে পাকড়াও করব, অবশ্যই সেদিন আমি তোমাদের নিকট থেকে প্রতিশোধ নিব।" (আদ দুখান ৪৪ঃ ১৬) অনুরূপ এ আয়াতে বাতশাহ্ দ্বারা বদরের যুদ্ধ উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কাজেই দুখান (ধোয়ার নিদর্শন), আল বাতশাহ্ (পাকড়াও), লিযাম (আবশ্যিক শাস্তি) এবং রূম (রোমকদের পরাজয়ের কাহিনী) এসব অতীত হয়ে গেছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ, উসমান ইবন আবু শাইবাহ, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবূ কুরায়ব .... মাসরুক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ এর কাছে এক লোক এসে বলল, আমি মসজিদে এক লোককে দেখে এসেছি, সে কুরআনের ইচ্ছামাফিক তাফসীর করছে। সে "অতএব সেই দিনের জন্য অপেক্ষা কর যেদিন আকাশ পরিষ্কার ধোয়া নিয়ে আসবে।" এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলছে যে, কিয়ামতের দিন ধোয়া এসে লোকেদের আবৃত করে ফেলবে ও তাদের শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলবে, এমনকি এতে লোকেদের সর্দির ন্যায় অবস্থা হয়ে যাবে। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ বললেন, যে ব্যক্তি যে বিষয়ে জানে সে তা বর্ণনা করবে। আর যে না জানে তার বলা উচিত, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। কেননা অজানা বিষয় সম্বন্ধে আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, এ কথা বলাই মানুষের পরিপূর্ণ জ্ঞানের লক্ষণ। কারণ এ বিষয়টি তখনই সংঘটিত হয়েছিল, যখন কুরায়শরা নবী (ﷺ) এর অবাধ্যতা করেছিল। তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে দোয়া করেন যেন ইউসুফ এর সময়ের সাত বছরের মতো অভাব-অনটন তাদের উপর নিপতিত হয়। এরপর তাদের উপর অভাব-অনটন এবং ক্ষুধার কষ্ট এমনভাবে নিপতিত হলো যে, কেউ আকাশের দিকে তাকালে সে ধূম্ৰাচ্ছন্ন দেখত, এমনকি তারা হাড্ডি খাওয়া শুরু করল। তখন জনৈক লোক এসে নবী (ﷺ)-কে বলল, হে আল্লাহর রসূল! মুযার গোত্রের জন্য আল্লাহর কাছে মার্জনা প্রার্থনা করুন। তারা নিশ্চয় ধ্বংস হয়ে গেল। তিনি বললেন, মুযার গোত্রের জন্য তুমি তো দুর্দান্ত সাহসী। রাবী বলেন, তারপর নবী (ﷺ) তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন, "আমি তোমাদের শাস্তি কিছু সময়ের জন্য বিরত রেখেছি। তোমরা তো তোমাদের আগের অবস্থায়ই প্রত্যাবর্তন করবে"- (আদ দুখান ৪৪ঃ ১৫)। রাবী বলেন, অতঃপর তাদের উপর অনবরত বৃষ্টি হলো। এরপর তাদের যখন স্বচ্ছলতা ফিরে এলো তখন তারা আবার আগের অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করল। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন, "অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সেদিনের, যেদিন ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং সেটা মানব জাতিকে ঢেকে ফেলবে। এ হবে কঠিন শাস্তি"- (সুরাহ্ আদ দুখান ৪৪ঃ ১০-১১)। যেদিন আমি তোমাদের শক্তভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি তোমাদেরকে আযাব দিবই"- (আদ দুখান ৪৪ঃ ১৬)। রাবী বলেন, বদরের দিন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পাচটি বিষয় অতীত হয়ে গেছেঃ ধোয়া, শাস্তি, রোম এর পরাজয়, পাকড়াও এবং চন্দ্রের নিদর্শন বিদীর্ণ হওয়া।

আবু সাঈদ আল আশাজ্জ, ওয়াকী এর সূত্রে আমাশ হতে এ সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও আবু বকর ইবন আবূ শাইবাহ ... উবাই ইবন কা'ব আল্লাহর বাণী- "বড় বড় শাস্তির পূর্বে তাদের আমি অবশ্যই ছোট ছোট শাস্তি আস্বাদন করাব" (সুরা আস্ সিজদা ৩২ঃ ২১) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ উদ্দেশ্য হলো পার্থিব বিপদাপদ, রোমের পরাজয়, পাকড়াও অথবা ধোয়া। পাকড়াও না ধোয়া' এ সম্পর্কে শুবাহ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় চন্দ্ৰ দু'টুকরো হয়েছিল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেনঃ তোমরা সাক্ষী থাকো।

আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ, আবু কুরায়ব, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, উমার ইবন হাফস ইবন গিয়াস ও মিন্‌জাব ইবন হারিস আত তামীমী .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিনায় আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় অকস্মাৎ চাঁদ দু'টুকরো হয়ে গেল। এক টুকরো পাহাড়ের পিছনে পতিত হল এবং অপর টুকরো পাহাড়ের সামনে। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বললেন, তোমরা সাক্ষী থাকো।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় চন্দ্র ফেটে দু'টুকরো হয়ে যায়। এর এক টুকরোকে পাহাড় আড়াল করে ফেলেছে এবং অপর এক টুকরো পাহাড়ের উপর পরিলক্ষিত হয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... ইবন উমর এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু বর্ণনা করেছেন।

বিশর ইবন খালিদ ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... শুবাহ হতে অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে ইবন আবু আদী এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, তারপর তিনি বললেনঃ তোমরা সাক্ষী থাকো, তোমরা সাক্ষী থাকো।

যুহায়র ইবন হারব ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কাহ্বাসী লোকেরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তাদের একটি নিদর্শন (মুজিযা) দেখানোর অনুরোধ করল। তিনি তাদের দু'বার চন্দ্ৰ দুটুকরো হওয়ার নিদর্শন দেখালেন।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আনাস হতে শাইবানের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, চাঁদ দু'টুকরো হয়েছে। তবে আবু দাউদ এর হাদীসে রয়েছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় চাঁদ দু'টুকরো হয়েছে।

মূসা ইবন কুরায়শ আত তামীমী .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় চাঁদ দু'টুকরো হয়েছে।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কষ্টকর কোন কথা শোনার পর আল্লাহ তাআলার চেয়ে বেশি ধৈর্যশীল আর কোন সত্তা নেই। অবস্থা এই যে, আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করা হয় এবং তার জন্য সন্তান সাব্যস্ত করা হয়, এরপরও তিনি তাদেরকে মাফ করে দেন এবং তাদেরকে রিযক দান করেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আবু সাঈদ আল আশাজ্জ ..... আবু মূসা এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... আবদুল্লাহ ইবন কায়স থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, কষ্টকর কোন কথা শোনার পর আল্লাহর চেয়ে বেশি ধৈর্যশীল আর কেউ নেই। কেননা মানুষ আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে এবং তার জন্য সন্তান সাব্যস্ত করে, এতদসত্ত্বেও তিনি তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদেরকে মাফ করেন এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় সব কিছু প্রদান করেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী .... আনাস ইবন মালিক এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহান্নামীদের মাঝে যার শাস্তি সবচেয়ে কম হবে, আল্লাহ তাআলা তাকে বলবেন, পৃথিবী এবং পৃথিবীর মাঝে যা কিছু আছে সব কিছু যদি তোমার হয়ে যায়, তবে কি তুমি এসব কিছু মুক্তিপণ হিসেবে প্রদান করে নিজেকে আযাব থেকে রক্ষা করবে? সে বলবে, হ্যা, অবশ্যই। তখন তিনি বলবেন, তুমি আদমের পৃষ্ঠে থাকা অবস্থায় আমি তো তোমার কাছে এর থেকেও সহজ জিনিস আশা করেছিলাম। তা হলো, তুমি শিরক করবে না। রাবী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছেনঃ তাহলে আমি তোমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব না। কিন্তু তুমি তা উপেক্ষা করে শিরকে জড়িয়ে পড়েছে।

মুহাম্মদ ইবন বাশার (রহ:) ..... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে অবিকল বর্ণনা করেছেন।

উবাইদুল্লাহ ইবন আল কাওয়ারিরী, ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, কিয়ামতের দিন কাফিরদেরকে বলা হবে, তুমি কি বলো, যদি তুমি পৃথিবী সমতুল্য স্বর্ণের মালিক হও, তাহলে মুক্তিপণ হিসেবে তা প্রদান করে তুমি কি নিজেকে শাস্তি হতে রক্ষা করবে? সে বলবে, হ্যা অবশ্যই। তখন তাকে বলা হবে, তোমার নিকট হতে তো এর থেকে অধিক সহজ বিষয় কামনা করা হয়েছিল।

আবদ ইবন হুমায়দ ও আম্বর ইবন যুবরাহ .... আনাস এর সানদে নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রয়েছে যে, তাকে বলা হবে, তুমি মিথ্যা বলেছ। তোমার কাছে তো এর থেকে সহজ বিষয় কামনা করা হয়েছিল।

যুহায়র ইবন হারব ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! কিয়ামত দিবসে কাফিরদেরকে নিম্নমুখী করে কিরূপে উথিত হবে? তিনি বললেন, যিনি দুনিয়াতে উভয় পায়ের উপর ভর করে চালিত করেছেন, তিনি কি কিয়ামতের দিন তাদেরকে মুখের উপর ভর করে চালাতে সক্ষম হবেন না? এ হাদীস শুনে কাতাদাহ্ বললেন, আমার রবের মর্যাদার শপথ অবশ্যই তিনি সক্ষম হবেন।

আমর আন নাকিদ .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জাহান্নামের উপযোগী-দুনিয়ায় সর্বাধিক সচ্ছল ও ধন-সম্পদের অধিকার লোককে কিয়ামতের দিন উপস্থিত করা হবে। এরপর তাকে জাহান্নামের আগুনে একবার অবগাহন করিয়ে বলা হবে, হে আদম সন্তান! দুনিয়াতে আরাম-আয়েশ কখনো তুমি ভোগ করেছে কি? কখনো তুমি স্বাচ্ছদ্য অবস্থায় দিন অতিবাহিত করেছে কি? সে বলবে, আল্লাহর শপথ হে আমার প্রতিপালক না, কক্ষনো করিনি। এরপর জান্নাতের উপযোগী দুনিয়ায় সর্বাধিক দুরাবস্থা সম্পন্ন লোককে আনা হবে। এরপর তাকে জান্নাতে একবার অবগাহন করিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে, হে আদম সন্তান! কখনো তুমি কষ্টে দিনাতিপাত করেছে কি? হৃদয় বিদারক এবং ভয়াবহ অবস্থায় দিনাতিপাত করেছে কি? সে বলবে, আল্লাহর কসম, হে আমার প্রতিপালক! কক্ষনো আমি কষ্টের সাথে দিনাতিপাত করিনি এবং দুঃখ কক্ষনো দেখিনি।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একটি নেকীর ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলা কোন মুমিন বান্দার প্রতি অত্যাচার করবেন না। বরং তিনি এর ফলাফল দুনিয়াতে দান করবেন এবং আখিরাতেও দান করবেন। আর কাফির লোক পার্থিব জগতে আল্লাহর উদ্দেশে যে সৎ আমল করে এর প্রতিদান স্বরূপ তিনি তাকে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিশেষে আখিরাতে প্রতিফল দেয়ার মতো তার কাছে কোন সৎ আমলই থাকবে না।

আসিম ইবন নাযর আত তামীমী .... আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন যে, কাফির যদি দুনিয়াতে কোন সৎ আমল করে তবে এর প্রতিদান স্বরূপ দুনিয়াতেই তাকে জীবনোপকরণ প্রদান করা হয়ে থাকে। আর মুমিনদের নেকী আল্লাহ তাআলা আখিরাতের জন্য জমা করে রেখে দেন এবং আনুগত্যের প্রতিফল স্বরূপ আল্লাহ তাআলা তাদেরকে পৃথিবীতেও জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ আর রুয্‌য়ী .... আনাস এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে অবিকল বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিনের দৃষ্টান্ত শস্যক্ষেতের মতো। বাতাস সবসময় তাকে আন্দোলিত করে। অনুরূপভাবে মুমিনের উপরও সবসময় বিপদাপদ আসতে থাকে। আর মুনাফিকের দৃষ্টান্ত দেবদারু গাছের মতো। মূল উৎপাটন হয়ে যায়; কিন্তু সেটা আন্দোলিত হয় না।

মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... যুহরী থেকে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবু বাকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... কা'ব ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিনের দৃষ্টান্ত নরম চারাগাছের মতো। বাতাস সেটাকে দুলাতে থাকে কখনো তাকে নুইয়ে ফেলে আবার কখনো একেবারে সোজা করে ফেলে। এমনিভাবে অবশেষে সেটা পূর্ণতা লাভ করে শুকিয়ে যায়। আর কাফিরদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে স্বীয় কাণ্ডে দাড়ানো দেবদার গাছের মতো। কোন কিছুই তাকে নাড়াতে পারে না। কিন্তু এটা একেবারেই মূলোৎপাটিত হয়ে যায়।

যুহায়র ইবন হারব .... কা'ব ইবন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিনের দৃষ্টান্ত নরম চারাগাছের মতো। বাতাস তাকে আন্দোলিত করে। বাতাস কখনো তাকে নুইয়ে দেয়, আবার কখনো একেবারে সোজা দাড় করিয়ে দেয়। এমনি করে তার মৃত্যুক্ষণ এসে উপস্থিত হয়। আর মুনাফিকের দৃষ্টান্ত দাড়ানো দেবদারু গাছের মতো, কোন কিছুই তাকে নত করতে পারে না। পরিশেষে তাকে একেবারেই মূলোচ্ছেদ করে দেয়।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও মাহমুদ ইবন গাইলান .... কা'ব ইবন মালিক থেকে বর্ণিত তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তবে মাহমুদ এর রিওয়ায়াতে বিশর এর সূত্রে বর্ণিত আছে, কাফরের দৃষ্টান্ত দেবদারু গাছের মতো। আর ইবন হাতিম যুহায়র এর ন্যায় - মুনাফিকের দৃষ্টাস্তের কথাটি বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও আবদুল্লাহ ইবন হাশিম .... কা'ব ইবন মালিক এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে তাদের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তারা দু'জনেই ইয়াহইয়া হতে বর্ণনা করেছেন যে, কফিরের দৃষ্টান্ত দেবদারু গাছের মতো।

ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আলী ইবন হুজর আস্ সাদী .... আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, গাছ-গাছালির মধ্যে এমন একটি গাছ আছে, যার পাতা ঝরে পড়ে না এবং তা হলো মুমিনের দৃষ্টান্ত। তোমরা আমাকে বলতে পার, সেটা কোন গাছ? তারপর লোকজনের ধারণা জঙ্গলের কোন গাছের প্রতি নিবদ্ধ হল। আবদুল্লাহ বলেন, আমার মনে হতে লাগল যে, তা হলো খর্জুর বৃক্ষ। কিন্তু আমি লজ্জাবোধ করলাম। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আপনিই আমাদের তা বলে দিন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তা হলো খর্জুর বৃক্ষ। আবদুল্লাহ বলেন, এরপর আমি আমার পিতাকে আমার মনে যা এসেছিল তা বললাম। তিনি বললেন, তুমি যদি তখন তা বলে দিতে যে, সেটা হলো খর্জুর বৃক্ষ, তবে আমি অমুক অমুক জিনিস লাভ করার চাইতেও অধিক খুশী হতাম।

মুহাম্মাদ ইবন উবাইদুল্লাহ আল গুবারী .... ইবন উমার থেকে বর্ণিত। একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাহাবাগণকে বললেন, এমন একটি গাছ আছে, যার দৃষ্টান্ত মুমিনের মতো, এ গাছটি কি গাছ, তোমরা কি আমাকে বলতে পার? তখন লোকেরা জঙ্গলের গাছসমূহ থেকে এক একটি গাছের কথা বর্ণনা করল। ইবন উমার বলেন, আমার মনে হতে লাগল, তা হলো খেজুর গাছ। তখন আমি বলার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু সেখানে যেহেতু সমাজের বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিগণও ছিলেন, তাই আমি কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলাম। লোকজন চুপ হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তা হলো খেজুর গাছ।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন আবূ উমার .... মুজাহিদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় ইবন উমর এর সাথে ছিলাম। একটি হাদীস ছাড়া রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কোন হাদীস বর্ণনা করতে তাকে আমি শুনিনি। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে বসা ছিলাম। তখন তার নিকট খেজুর গাছের মাথি আনা হলো। তারপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীস দুটোর মতো এ হাদীসটি বর্ণনা করলেন।

ইবন নুমায়র .... মুজাহিদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমার কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে খেজুর গাছের মাথি আনা হলো। তারপর তিনি পূর্বোক্তদের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... ইবন উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি বললেন, এমন একটি গাছ আছে যা মুসলিম লোকের ন্যায়, যার পাতা কখনো ঝরে পড়ে না, গাছটি কি গাছ তোমরা কি আমাকে বলতে পার? ইবরাহীম ইবন সুফইয়ান বলেন, সম্ভবতঃ ইমাম মুসলিম বলেছেন, যা প্রত্যেক মৌসুমে ফল প্রদান করে। ইবন উমর বলেন, আমার মনে হতে লাগল, তা হলো খেজুর গাছ। কিন্তু তখন আমি দেখলাম যে, আবূ বকর ও উমর কিছুই বলছেন না। তাই কোন কথা বা কিছু বলা আমার ভালো লাগলো না। কিন্তু উমার এ কথা শুনে বললেন, যদি তুমি বলে দিতে তবে অমুক অমুক জিনিস লাভ করা হতেও আমি বেশি খুশী হতাম।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, আরব ভূখণ্ডে মুসল্লীগণ শয়তানের উপাসনা করবে, এ বিষয়ে শয়তান নিরাশ হয়ে পড়েছে। তবে তাদের একজনকে অন্যের বিরুদ্ধে উসকিয়ে দেয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়নি।

আবু বাকর ইবন আবু শাইবাহ, আবু কুরায়ব .... আমাশ হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) হতে শুনেছি। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই ইবলীসের আরশ সমুদ্রের উপর স্থিরকৃত। সে লোকেদেরকে ফিতনায় নিপতিত করার উদ্দেশে তার বাহিনী পাঠায়। শয়তানের কাছে সবচেয়ে বড় সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি ফিতনাহ সৃষ্টিকারী।

আবু কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবন আলী ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইবলীস পানির উপর তার আরশ স্থাপন করতঃ তার বাহিনী প্রেরণ করে। তন্মধ্যে তার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জনকারী সে-ই যে সবচেয়ে বেশী ফিতনাহ সৃষ্টিকারী। তাদের একজন এসে বলে, আমি অমুক অমুক কাজ করেছি। সে বলে, তুমি কিছুই করনি। অতঃপর অন্যজন এসে বলে, অমুকের সাথে আমি সকল প্রকার ধোকার আচরণই করেছি। এমনকি তার থেকে তার স্ত্রীকে আলাদা করে দিয়েছি। তারপর শয়তান তাকে তার নিকটবর্তী করে নেয় এবং বলে হ্যা, তুমি খুব ভাল। রাবী আমাশ বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেনঃ অতঃপর শয়তান তার সাথে আলিঙ্গন করে।

সালামাহ ইবন শাবীব .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, শয়তান তার সৈন্য বাহিনীকে পাঠিয়ে লোকেদেরকে ফিতনায় নিপতিত করে। তন্মধ্যে সে-ই তার নিকট সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী যে অধিক ফিতনাহ সৃষ্টিকারী।

উসমান ইবন আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই একটি শয়তান নির্ধারিত আছে। সাহাবাগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সাথেও কি? তিনি বললেন, হ্যা, আমার সাথেও ৷ তবে তার মুকাবিলায় আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন। এখন আমি তার সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ। এখন সে আমাকে কল্যাণকর বিষয় ছাড়া কক্ষনো অন্য কিছুর নির্দেশ দেয় না।

ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার ও আবু বকর ইবন শাইবাহ .... মানসূর এর সূত্রে জারীর থেকে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে সুফইয়ান এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, প্রত্যেক মানুষের সাথে একটি শয়তান সঙ্গীরূপে এবং একজন ফেরেশতা সঙ্গীরূপে নিযুক্ত রয়েছে।

হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ সিদ্দীকা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক রজনীতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কাছ থেকে বের হলেন। তিনি বলেন, এতে আমার মনে কিছুটা অহমিকা আসল। তারপর তিনি এসে আমার অবস্থা অবলোকন করে বললেন, হে আয়িশাহ! তোমার কি হয়েছে? তুমি কি ঈর্ষাপরায়ণ হয়েছ? উত্তরে আমি বললাম, আমার ন্যায় মহিলা আপনার ন্যায় স্বামীর প্রতি কেন ঈৰ্ষাপরায়ণ হবে না? এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার শয়তান মনে হয় তোমার কাছে এসেছে? তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার সঙ্গেও কি শয়তান রয়েছে? তিনি বললেন, হ্যা, অবশ্যই। তারপর আমি বললাম, প্রত্যেক মানুষের সাথেই কি শয়তান রয়েছে? তিনি বললেন, হ্যা। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সঙ্গেও কি রয়েছে? তিনি বললেন, হ্যা, আমার সঙ্গেও। তবে আল্লাহ তাআলা তার মুকাবিলায় আমাকে সাহায্য করেছেন। এখন তার ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কোন লোকের আমলই তাকে পরিত্রাণ দিতে পারবে না। এ কথা শুনে এক লোক বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকেও না? তিনি বললেন, হ্যা, আমাকেও না। তবে যদি আল্লাহ তাআলা তার করুণা দ্বারা আমাকে ঢেকে নেন। তোমরা অবশ্য সঠিক পন্থা অবলম্বন করবে।

ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা আস্ সাদাকী ... বুকায়র ইবন আশাজ্জ থেকে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের মাঝে এমন কোন লোক নেই, যার আমল তাকে জান্নাতে দাখিল করাতে পারে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! আপনিও কি নন? তিনি বললেন, হ্যা আমিও নই। তবে আল্লাহ যদি তার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে আবৃত করে নেন।

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের মাঝে এমন কোন লোক নেই, যার আমল তাকে নাযাত দিতে পারে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনিও কি নন? জবাবে তিনি বললেন, আমিও নই। তবে যদি আল্লাহ তাআলা আমাকে তার মার্জনা ও করুণা দ্বারা ঢেকে নেন। রাবী ইবন আওন নিজ হাত দ্বারা নিজ মাথার দিকে ইশারা করে বললেন, আমিও না। হ্যা, যদি আল্লাহ তাআলা তার মার্জনা ও করুণা দ্বারা আমাকে ঢেকে ফেলেন।

যুহায়র ইবন হারব .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এমন কোন লোক নই, যার আমল তাকে মুক্তি দিতে পারে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনিও কি নন? তিনি বলেন, আমিও নই। একমাত্র প্রত্যাশা এই যে, যদি আল্লাহ তাআলা আমাকে তার করুণা দ্বারা সহায়তা করেন।

মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কারো আমল তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। সহাবগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনিও কি নন? তিনি বললেনঃ আমিও নই। তবে যদি আল্লাহ তাআলা আমাকে তার অনুগ্রহ ও করুণা দ্বারা ঢেকে নেন।

মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সঠিক পথে কায়িম থাকো এবং কমপক্ষে তার কাছাকাছি থাক। নিশ্চিতভাবে তোমরা জেনে রাখো, তোমাদের কেউ আমলের দ্বারা মুক্তি পাবে না। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আপনিও নন? তিনি বললেন, হ্যা, আমিও নই। তবে আল্লাহ তাআলা যদি স্বীয় রহমত ও অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে ঢেকে রাখেন।

ইবন নুমায়র .... জাবির এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে অবিকল বর্ণনা করেছেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আমাশ এর সানাদে ইবন নুমায়র এর অবিকল বর্ণনা করেছেন।

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবু কুরায়ব ... আবু হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে অবিকল বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে বর্ধিত আছে। তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর।

সালামাহ্ ইবন শাবীব .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কোন লোক তার আমল দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে না। আর আল্লাহর রহমত ব্যতীত আমি নিজেও বাচতে পারব না।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর, এর কাছাকাছি পথে থেকো এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর, কারো আমলই তাকে জান্নাতে দাখিল করাতে পারবে না। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনিও কি নন? তিনি বললেন, আমিও নই। তবে হ্যা, যদি আল্লাহ তাআলা আমাকে তার রহমত দ্বারা ঢেকে নেন। তোমরা জেনে রাখো, নিয়মিত আমলই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশী পছন্দের আমল, যদিও তা পরিমাণে কম হয়।

কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ .... মুগীরাহ ইবন শুবাহু থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এমনভাবে সালাত আদায় করেছেন যে, তার দু'পা ফুলে যেত। এ দেখে তাকে বলা হলো, আপনি এত কষ্ট করছেন কেন? আপনার তো পূর্বাপর যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি মাফ করে দেয়া হয়েছে। এ কথার প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, আমি কি শুকরগুজার বান্দা হিসেবে পরিণত হব না?

আবু বকর ইবন আবু শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... মুগীরাহ ইবন শুবাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সালাতে এমনভাবে দাড়িয়ে থাকতেন যে, এতে তার দু'পা ফুলে যেতো। এ দেখে সাহাবাগণ বললেন, আল্লাহ তো আপনার আগের ও পরের যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি মাফ করে দিয়েছেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, আমি কি শুকরগুজার বান্দা হব না?

হারূন ইবন মারূফ ও হারূন ইবন সাঈদ আল আইলী .... আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সালাত আদায় করতেন তখন এত বেশি দাড়িয়ে থাকতেন যে এতে তার দু'পা ফুলে যেত। এ দেখে আয়িশাহ্ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এরূপ করছেন অথচ আপনার পূর্বাপর যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি মাফ করে দেয়া হয়েছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, হে আয়িশাহ আমি কি শুকরগুজার বান্দা হব না?

আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইবন নুমায়র .... শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ এর অপেক্ষায় আমরা তার (বাড়ীর) দ্বারপ্রান্তে বসা ছিলাম। এ সময় ইয়াযীদ ইবন মুআবিয়াহ্ নাখাঈ আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে লাগলেন। আমরা তাকে বললাম, আপনি তাকে আমাদের অবস্থানের সংবাদটি দিন। তিনি ভেতরে তার নিকট গেলেন। আমনি দেরী না করে আবদুল্লাহ আমাদের সম্মুখে বেরিয়ে আসলেন। তারপর তিনি বললেন, তোমাদের অবস্থানের সংবাদ আমাকে পৌছানো হয়েছে। তবে তোমাদের কাছে আসতে এ জিনিসই আমাকে নিষেধ করেছে যে, আমি যেন তোমাদেরকে বিরক্ত না করে ফেলি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের উদ্দেশে নির্ধারিত দিনে উপদেশ দিতেন, আমাদের মধ্যে যাতে বিরক্ত ভাব সৃষ্টি না হয়।

আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও মিনজাব ইবন হারিস আত তামীমী, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আলী ইবন খাশরাম, ইবন আবূ উমর .... আমাশ হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইসহাক ইবন ইবরাহীম, ইবন আবূ উমর .... ওয়ায়িল এর পিতা শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ প্রত্যেক বৃহস্পতিবার দিন আমাদেরকে উপদেশ দিতেন। এক লোক তাকে বললেন, হে আবদুর রহমানের পিতা! আমরা আপনার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা শুনতে ভালো লাগে এবং ইচ্ছা পোষণ করি যে, আপনি আমাদের কাছে প্রত্যেক দিন হাদীস বর্ণনা করেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, এ কাজ হতে আমাকে যা বিরত রাখে তা হলো, আমি তোমাদেরকে বিরক্ত করা পছন্দ করি না, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে নির্ধারিত দিনে উপদেশ দিতেন, আমরা যাতে বিরক্ত না হই।