দান (৪০৫৬-৪০৯৬)
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... উমার ইবন খাত্তাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি উত্তম ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করি। কিন্তু সে ব্যক্তি (যাকে দেয়া হয়েছিল) ঘোড়াটির সঠিক দেখাশুনা না করে ঘোড়াটিকে দুর্বল করে ফেলে। আমার ধারণ হলো, সে তা সস্তা দামে বিক্রি করে দিবে। আমি এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তুমি তা খরিদ করবে না এবং তোমার দানকে ফিরিয়ে আনবে না। কেননা যে ব্যক্তি আপন দান ফিরিয়ে নেয়, সে সেই কুকুরের মতো, যেটি বমি করে আবার তা খায়।
যুহায়র ইবন হারব ও আবদুর রহমান ইবন মাহদী .... মালিক ইবন আনাস থেকে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। তবে এতে তিনি অতিরিক্ত বলেছেন যে, তুমি তা ক্রয় করতে যাবে না, যদিও এক দিরহামের বিনিময়ে সে তোমাকে তা দিয়ে দেয়।
উমাইয়াহ ইবন বিসতাম .... উমার ইবন খাত্তাব হতে বর্ণিত যে, তিনি একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় দান করেন। পরে তিনি তার মালিকের নিকট ঘোড়াটি দেখতে পান যে, সে তাকে নষ্ট করে ফেলেছে। সে লোকটি ছিল গরীব। তাই তিনি তা কিনে নেয়ার ইচ্ছা করেন। তখন তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে এ বিষয়টি তাকে বললেন। তিনি বললেন, এক দিরহামের বিনিময়ে দিলেও তুমি তা খরিদ করবে না। কেননা, যে ব্যক্তি আপন দান ফিরিয়ে নেয়, সে সেই কুকুরের ন্যায়, যে নিজে বমি করে আবার তা খায়।
ইবন আবূ উমর .... যায়দ ইবন আসলাম এর সূত্রে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। তবে মালিক ও রাওহ এর হাদীস পরিপূর্ণ ও বেশী নির্ভরযোগ্য।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, উমার ইবন খাত্তাব আল্লাহর রাস্তায় একটি ঘোড়া দান করেন। পরে তিনি দেখলেন তা বিক্রি করা হচ্ছে। তখন তিনি তা ক্রয় করতে চাইলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ বললেন, তুমি তা ক্রয় করো না এবং তোমার সাদাকা করা জিনিসকে ফিরিয়ে নিও না।
কুতাইবাহ ও ইবন রুমূহ লায়স ইবন সা'দ হতে এবং মুকাদ্দামী, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন নুমায়র, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ উবাইদুল্লাহ হতে, উভয়ে বর্ণনা করেন নাফি সূত্রে ইবন উমর থেকে, তিনি নবী (ﷺ) থেকে উক্ত হাদীসটি মালিক এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
ইবন আবূ উমার ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, উমর একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় দান করেন। এরপর তিনি দেখলেন যে, তা বিক্রি করা হচ্ছে। তখন তিনি তা ক্রয় করার ইচ্ছা করেন এবং নবী (ﷺ) এর নিকটে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে উমার! তোমার সাদাকা করা বস্তুকে ফিরিয়ে নিও না।
ইবরাহীম ইবন মূসা রাযী ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি দান করে তা আবার ফিরিয়ে নেয়, তার উদাহরণ ঐ কুকুরের ন্যায়, যে বমি করে এবং পুনরায় তার বমি সে খেয়ে ফেলে।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলী .... আওযাঈ এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন হুসায়ন কে উক্ত সানাদে এরূপ বলতে শুনেছি।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... আবদুর রহমান ইবন আমর এর সূত্রে বর্ণিত যে, মুহাম্মাদ ইবন ফাতিমা বিনতু রসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত সানাদে হাদীসটি তাদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হারূন ইবন সাঈদ আইলী এবং আহমাদ ইবন ঈসা .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয় এটাই ঐ ব্যক্তির উদাহরণ, যে দান করে তা ফিরিয়ে আনে, তাহলো সেই কুকুরের মতো, যে বমি করে পরে তার বমি খেয়ে ফেলে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ স্বীয় দান প্রত্যপণকারী নিজ বমি পুনরায় ভক্ষণকারীর ন্যায়।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ..... কাতাদাহ এর সূত্রে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিজের দান প্রত্যপণকারী ব্যক্তি কুকুরের ন্যায়, যে বমি করে ও পরে সে তার বমি পুনরায় খায়।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... নুমান ইবন বাশীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার পিতা তাকে সঙ্গে করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসেন। তারপর বলেন যে, আমি আমার এ পুত্রকে আমার একটি গোলাম দান করেছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার সকল সন্তানকে কি এভাবে দান করেছো? তিনি বললেন, না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তা হলে তুমি তা ফিরিয়ে নাও।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... নুমান ইবন বাশীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসেন এবং বলেন যে, আমি আমার এ পুত্রকে একটি গোলাম প্রদান করেছি। তিনি বললেন, তোমার সকল পুত্রকে দান করেছ কি? তিনি বললেন, না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তা ফিরিয়ে নাও।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবূ উমর ইবন উইয়াইনাহ্ হতে এবং কুতাইবাহ ও ইবন রুমূহ, লায়স ইবন সা'দ হতে, হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া ইউনুস হতে, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ মা'মার হতে, তারা সকলেই যুহরী এর সূত্রে উক্ত সানাদে হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ইউনুস ও মা'মার এর বর্ণনায় "আকুল্লু বণিক" এবং লায়স ও ইবন উয়াইনাহ্-এর বর্ণনায় "আকুল্লু ওয়ালাদিক" এবং মুহাম্মাদ ইবন নুমান ও হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান থেকে লায়স এর বর্ণনায় "বাশীর নুমানকে সাথে নিয়ে আসে" বলা হয়েছে।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... নুমান ইবন বাশীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাকে তার পিতা একটি গোলাম দান করেন। নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করেন, এ গোলামটি কিসের? তিনি বললেন, একে আমার পিতা আমাকে দান করেছেন। নবী (ﷺ) বললেন, তার সকল ভাইদেরকে তুমি দিয়েছে কি, যেভাবে একে দিয়েছো? তিনি বললেন, না। নবী (ﷺ) বললেন, তাহলে তা ফিরিয়ে নাও।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... নুমান ইবন বাশীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা তার সম্পদ থেকে কিছু প্রদান করেন। আমার মা আমরাহ বিনতু রাওয়াহা বললেন, আমি সম্ভষ্ট হতে পারছি না, যতক্ষণ না আপনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সাক্ষী রাখেন। এরপর আমার পিতা আমাকে নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট আসেন, আমার দানের উপর তাকে সাক্ষী রাখার জন্যে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, এরূপ কাজ কি তুমি তোমার আর সব পুত্রদের সঙ্গে করেছ? তিনি বললেন, না। নবী (ﷺ) বললেন, আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার সন্তানদের মধ্যে ন্যায় বিচার কর। তখন আমার পিতা চলে আসেন এবং সে দান ফিরিয়ে নেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ... নুমান ইবন বাশীর থকে বর্ণিত। তার মা বিনতু রাওয়াহ তার পিতার নিকট স্বীয় পুত্রের জন্যে তার সম্পদ থেকে কিছু দান করার অনুরোধ করলেন। এক বছর যাবৎ তিনি এ ব্যাপারে গড়িমসি করেন। পরে তা দেয়ার ইচ্ছা জাগল। বিনতু রাওয়াহা বললেন, আমার পুত্রকে যা দিবেন তার উপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সাক্ষী না রাখা পর্যন্ত আমি খুশি হবো না। তখন আমার পিতা আমার হাত ধরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলেন। সে সময় আমি বালক ছিলাম। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এর মা বিনতু রাওয়াহা চায় যে, আমি তার পুত্রকে যা দান করেছি আপনাকে তার সাক্ষী রাখি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে বাশীর! এ ছাড়া তোমার কি আর কোন পুত্র আছে? বললেন, হ্যা। তিনি বললেন, তুমি কি তাদের সকলকে এরূপ দান করেছ? তিনি বললেন, না। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি যুলুমের ব্যাপারে সাক্ষী হই না।
ইবন নুমায়র .... নুমান ইবন বাশীর হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ ছাড়া কি তোমার আরও পুত্র আছে? তিনি বললেন, হ্যা। তিনি বললেনঃ তাদের সবাইকে কি এভাবে দান করেছ? বললেন, না। তিনি বললেনঃ তা হলে আমি যুলুমের ব্যাপারে সাক্ষী হবো না।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ... নুমান ইবন বাশীর হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পিতাকে বললেন, আমাকে অন্যায় কাজের ব্যাপারে সাক্ষী রেখো না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ..... নুমান ইবন বাশীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উদ্দেশে রওয়ানা করলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি নুমানকে আমার সম্পদ থেকে অমুক অমুক বস্তু দান করেছি। তিনি বললেন, তোমার সকল পুত্রদেরও কি তুমি তা দান করেছ, যেরূপ নুমানকে দান করেছ? তিনি বললেন, না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে এর সাক্ষী রাখো। তারপর বললেন, তুমি কি এটা চাও যে, তারা সবাই তোমার প্রতি সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বললেন, হ্যা। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে এরূপ করো না।
আহমাদ ইবন উসমান নাওফালী .... নুমান ইবন বাশীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে কোন এক জিনিস দান করেন। পরে তিনি আমাকে সাথে নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গমন করেন তাকে সাক্ষী রাখার জন্যে। তিনি বললেন, তোমার সকল পুত্রকে কি এভাবে দান করেছ? তিনি (আমার পিতা) বললেন, না। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি কি তাদের থেকে উত্তম ব্যবহার আশা করো না? যেমন আশা করো এর থেকে? তিনি বললেন, হ্যা। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে আমি সাক্ষী হবে না। ইবন আওন বলেন, আমি এ হাদীসটি মুহাম্মাদের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায় বিচার করো।
আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাশীরের স্ত্রী তাকে বলেন, আমার পুত্রকে আপনার গোলামটি দান করে দিন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমার পক্ষে সাক্ষী রাখুন। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন, অমুকের কন্যা (আমার স্ত্রী) আমার কাছে আবেদন করেছে, যেন আমি তার পুত্রকে আমার গোলামটি দান করে দেই। আর সে বলেছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমার পক্ষে সাক্ষী করুন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তার কি আরও ভাই আছে? তিনি বললেন, হ্যা। এরপর তিনি (ﷺ) বললেন, তাদের সকলকে কি প্রদান করেছ, যেরূপ ওকে দিচ্ছ? তিনি বললন, না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে এটি সঠিক কাজ হবে না। আর অন্যায় কাজে আমি সাক্ষী হব না।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তিকে এবং তার ওয়ারিসদেরকে আজীবন ভোগ করার জন্যে কিছু দান করে, তবে যাকে তা দান করেছে তা তারই হয়ে যাবে। এরপরে যে দান করেছে তা তার কাছে ফিরে আসবে না। কেননা, সে এমনভাবে দান করেছে, যাতে ওয়ারিসগণ তা পেয়ে গেছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ ও কুতাইবাহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যদি কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তি এবং তার উত্তরসূরীদেরকে আজীবন ভোগ করার জন্যে কোন কিছু দান করে, তাহলে সে যেন তার কথা দ্বারা তার মধ্যে স্বীয় অধিকার তুলে নিল এবং সে বস্তু তারই হবে যার জন্যে দান করা হয়েছে এবং তা হবে তার উত্তরসূরীদের জন্যেও। অবশ্য ইয়াহইয়া তার হাদীসের প্রথম অংশে বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তিকে আজীবনের জন্যে দান করা হয়, তবে তা তার ও পরবর্তী উত্তরসূরীদের জন্যে হয়ে যাবে।
আবদুর রহমান ইবন বিশর আবদী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে কোন ব্যক্তি কাউকে তার সারা জীবনের জন্যে এবং তার সন্তানাদির জন্য দান করে, এরূপ বলে যে, "আমি তোমাকে তা দিলাম এবং তোমার সন্তানদেরকে যতদিন পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে কেউ জীবিত থাকে, তবে তা তারই হয়ে যাবে যাকে দান করা হলো। তা তার মালিকের নিকট আর ফিরে আসবে না। কারণ, সে এমনভাবেই দান করেছে যার মধ্যে উত্তরাধিকার প্রবর্তন হয়ে গেছে।"
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে আজীবন কালের জন্যে দান রসূলুল্লাহ (ﷺ) কার্যকরী বলে গণ্য করেছেন, তা হলো এই যে, সে বলে, "এ তোমার ও তোমার উত্তরাধিকারীদের জন্যে।" কিন্তু সে যদি বলে যে, এ তোমার জন্যে যতদিন তুমি বেচে থাকবে, তবে তা তার মালিকের নিকট ফিরে আসবে (প্রদত্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর)। মা'মার বলেন, যুহরী এ ফাতাওয়াই দিতেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। কোন ব্যক্তি এবং তার উত্তরাধীকারীদের উদ্দেশে সারা জীবনের জন্য যা দান করা হয়, রসুলুল্লাহ (ﷺ) ফায়সালা দিয়েছেন যে, সেটি তার জন্যে চিরস্থায়ী হবে। তাতে কোন শর্ত বা ব্যতিক্রম কিছু করা দাতার জন্যে বৈধ নয়। রাবী আবূ সালামাহ্ বলেন, এর কারণ, সে এমনভাবে দান করেছে যার মধ্যে উত্তরাধিকার প্রযোজ্য হয়েছে। তাই মীরাস তার শর্ত কেটে দিয়েছে।
উবাইদুল্লাহ ইবন উমার কাওয়ারীরী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আজীবনের জন্যে দানটি তারই প্রাপ্য, যাকে তা দান করা হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পরবর্তী বর্ণনাটি অনুরূপ।
আহমাদ ইবন ইউনুস, যুহায়র, আবূ যুবায়র, জাবির নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ... জাবির হতে, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা তোমাদের সম্পত্তি ধরে রেখো, তা বিনষ্ট করো না। নিশ্চয় যে ব্যক্তি সারা জীবনের জন্যে দান করে, তবে তা তারই হয়ে যাবে, যাকে দান করা হলো, জীবিত অবস্থায় ও মৃত অবস্থায় এবং তার পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের জন্যে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদুল ওয়ারিস ইবন আবদুস সামাদ .... জাবির সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, উপরে উল্লিখিত আবূ খাইসামার হাদীসের অর্থানুযায়ী। তবে আইয়্যুবের বর্ণনায় কিছু বাড়তি রয়েছে। তিনি বলেছেন, আনসারগণ মুহাজিরদেরকে আজীবনের জন্যে দান করতেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা তোমাদের সম্পদ নিজেদের জন্যে সংরক্ষিত রাখো।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও ইসহাক ইবন মানসূর .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার জনৈক মহিলা তার একটা বাগান তার এক পুত্রকে আজীবনের জন্যে দান করেন। পরে পুত্রটি মারা যায় এবং তারপরে মহিলাটিও মারা যায়। পুত্র নিজে একটি সন্তান রেখে যায়। আর তার ছিল কয়েকজন ভাই, যারা দানকারিণীর পুত্র। তারপর দানকারিণীর পুত্র বললো, বাগানটি আমাদের কাছে ফিরে এসেছে। আর যাকে দান করা হয়েছিল তার পুত্ররা বললো বরং এ ছিল আমার পিতার, তার জীবদ্দশায় ও মৃত অবস্থায়। এরপর তারা উসমান এর আযাদকৃত গোলাম তারিক এর নিকট ফায়সালা চাইল। তিনি জাবির কে ডেকে পাঠালেন। জাবির সাক্ষ্য দেন, জীবিতকালীন দান তারই প্রাপ্য, যাকে দান করা হয়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ নির্দেশ দিয়েছেন। তারিক তদনুযায়ী ফায়সালা দেন। তারপর তিনি খলীফা আবদুল মালিককে এ ঘটনা লিখে জানান এবং জাবিরের সাক্ষ্য দান সম্পর্কেও তাকে অবগত করেন। আবদুল মালিক বলেন, জাবির সত্যই বলেছেন। পরে তারিক এ হুকুম জারি করেন। কাজেই বাগানটি আজ পর্যন্ত দানকৃত ব্যক্তির বংশধরদের অধিকারে রয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... সুলাইমান ইবন ইয়াসার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বর্ণিত জাবির এর হাদীসের প্রেক্ষিতে তারিক "সারা জীবনের জন্যে দান তার ওয়ারিসরা পাবে বলে ফায়সালা দেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, আজীবনের জন্যে দান বৈধ।
ইয়াহইয়া বিনু হাবীব হারিসী .... জাবির হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, সারা জীবনের জন্যে দান দানকৃত ব্যক্তির পরিজনের মীরাসে পরিগণিত হবে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, সারা জীবনের জন্যে দান' বৈধ।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... সাঈদ সূত্রে কাতাদাহ্ হতে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। তবে সাঈদ বলেছেন, তার পরিজনদের জন্যে মীরাস হয়ে যায় অথবা বলেছেন (আজীবনের জন্যে) জয়িয।