স্বপ্ন (৫৭৯১-৫৮৩২)
আমর আন নাকিদ, ইসহাক ইবন ইব্রাহীম ও ইবন আবূ উমার .... আবূ সালামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন স্বপ্ন দেখতাম যাতে ভয় পেয়ে জ্বর জ্বর ভাব অনুভব করতাম। তবে আমাকে কম্বল দিয়ে ঢাকতে হতো না। অবশেষে আমি আবূ কাতাদাহ্ এর সঙ্গে দেখা করলাম এবং এ বিষয়টি তার নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি সু-স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে, আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের তরফ হতে। অতএব তোমাদের কেউ যখন এমন স্বপ্ন দেখে, যা সে পছন্দ করে না, তখন যেন সে তার বাম পাশে তিনবার থু থু ফেলে এবং এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে (আউয়ুবিল্লাহ্ পড়ে), তাহলে সেটি তার ক্ষতি করবে না।
ইবন আবূ উমর .... আবূ কাতাদাহ্ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এরা এদের বর্ণিত হাদীসে (পূর্বোল্লিখিত হাদীসের) বর্ণনাকারী আবূ সালামাহ এর কথা আমি স্বপ্ন দেখে ভয় পাওয়ার দরুন জ্বর জ্বর ভাব দেখা দিতো, কিন্তু আমাকে কম্বল দিয়ে ঢাকতে হতো না কথাটি বর্ণনা করেননি।
হারামালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আব্দ ইবন হুমায়দ .... যুহরী হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে– ভয় পেয়ে জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়তাম' উক্তিটি নেই। আর (প্রথম সূত্রে) বর্ণনাকার ইউনুস বর্ধিত করে বলেছেন, যখন সে ঘুম হতে জেগে উঠবে তখন সে যেন তিনবার তার বাম পাশে থুথু ফেলে।
আবদুল্লাহ ইবন মসলামাহ্ ইবন কানাব .... আবূ কাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, সু-স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে, আর দুঃস্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে। অতএব তোমাদের কেউ যখন এমন কোন ব্যাপারে স্বপ্নে দেখে, যা সে পছন্দ করে না, তখন সে যেন তার বাম পাশে তিন বার থুথু ফেলে এবং (আউযুবিল্লাহ্ বা সূরা আল ফালাক ও সূরা আন নাস পড়ে) স্বপ্লের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চায়। কারণ (এভাবে করলে) তা তার কোন খারাবী করতে পারবে না। রাবী বলেন, আমি এমন স্বপ্নও দেখতাম যা আমার জন্য পাহাড়ের চাইতেও কঠিন (ও ভয়াবহ) কিন্তু এখন অবস্থা এই যে, এ হাদীস যখন আমি শুনে ফেলেছি, এখন আর সে সবের পরোয়া করি না।
কুতাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বর্ণনাকারী আসূ-সাকাফী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে, (আমার উস্তায) বর্ণনাকারী আবূ সালামাহ্ বলেছেন, আমি এমন স্বপ্নও দেখতাম যা.....। আর বর্ণনাকারী আল-লায়স ও ইবন নুমায়র সূত্রে বর্ণিত হাদীসে আবূ সালামাহ্ এর কথা হতে হাদীসের শেষাংশ নেই এবং বর্ণনাকারী ইবন রুমূহ এ হাদীসের রিওয়ায়াতে বর্ধিত বলেছেন যে, আর সে (স্বপ্নদ্রষ্টা) লোক যে পাশে ঘুমাচ্ছিল সে পাশ পরিবর্তন করে অন্যপাশে ঘুমাবে।
আবূ তাহির .... আবূ কাতাদাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন স্বপ্ন দেখল আর এতে কোন কিছু পছন্দ হলো না, তখন সে যেন তার বাম পাশে খু থু ফেলে এবং শয়তান (এর অনিষ্ট) হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে, (তাহলে) তা তাকে কোন সমস্যায় ফেলবে না। আর কারো কাছে ঐ স্বপ্নের কথা বর্ণনা করবে না। আর যদি কোন ভাল স্বপ্ন দেখে তাহলে সু-সংবাদ গ্রহণ করবে। আর যাকে সে মুহাব্বাত করে এমন ব্যক্তি ব্যতীত কারো নিকট তা বর্ণনা করবে না।
আবূ বকর ইবন খাল্লাদ বাহিলী ও আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাকম .... আবূ সালামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন স্বপ্ন দেখতাম, যা আমাকে রোগগ্রস্ত করে দিত। তিনি বলেন, পরে আমি আবূ কাতাদাহ এর সঙ্গে দেখা করলাম (এবং আমার সমস্যার ব্যাপারটি তাকে বললাম)। তখন তিনি বললেন, আমিও এমন স্বপ্ন দেখতাম, যা আমাকে অসুস্থ করে দিত। অবশেষে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনলাম, ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে। অতএব তোমাদের কেউ যখন এমন (স্বপ্ন) দেখে যা সে পছন্দ করে তাহলে তা তার ঘনিষ্ঠ লোক ব্যতীত অন্য কারো নিকট যেন প্রকাশ না করে। আর যখন এমন (স্বপ্ন) দেখে, যা সে অপছন্দ করে তাহলে সে যেন তার বামপাশে তিন (বার) থুথু নিক্ষেপ করে এবং শয়তানের অনিষ্ট ও স্বপ্লের অমঙ্গল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে ও কাউকে তা না বলে। কারণ (এভাবে করলে) সে স্বপ্ন তার কোন অকল্যাণ হবে না।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইবন রুমূহ .... জাবির এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন এমন স্বপ্ন দেখে, যা সে পছন্দ করে না তখন সে যেন তার বামপাশে তিনবার খু থু ফেলে এবং শয়তান (এর খারাবী) থেকে আল্লাহর নিকট তিনবার আশ্রয় প্রার্থনা করে। আর যে পাশে ঘুমন্ত ছিল তা হতে যেন বিপরীত পাশে ঘুমায়।
মুহাম্মাদ ইবন আবূ উমার আল-মাক্কী .... আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যুগ ও সময় (কিয়ামতের) সন্নিকটে হয়ে আসবে তখন প্রায়শ (খাঁটি) মুসলিমের স্বপ্ন মিথ্যা ও ভ্রান্ত হবে না। তোমাদের (মাঝে) অধিক সত্যভাষী লোক সর্বাধিক সত্য (ও বাস্তব) স্বপ্নদ্রষ্টা হবে। আর মুসলিমের স্বপ্ন নুবুওয়াতের পয়তাল্লিশ ভাগের এক ভাগ। আর স্বপ্ন তিন (প্রকার)- ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে সুসংবাদ (বাহক)। আর (এক ধরনের) স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ হতে দুর্ভাবনা তৈরি করে। আর (এক ধরনের) স্বপ্ন যা মানুষ তার মনের সাথে কথা বলে (এবং ভাবনা-চিন্তা করে) তা থেকে (উদ্ভূত)। অতএব তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু (স্বপ্ন) দর্শন করে- যা সে পছন্দ করে না, তাহলে সে যেন (ঘুম থেকে) উঠে দাড়ায় এবং নামাজ আদায় করে আর মানুষের নিকট সে (স্বপ্নের) কথা গোপন রাখে। তিনি (আরও) বলেছেন যে, আমি (স্বপ্লে) হাত কড়া (দেখা) পছন্দ করি এবং গলায় বেড়ী (দেখা) পছন্দ করি না। কারণ, হাত কড়া দীন-ধর্মে অবিচলতা ('র পরিচায়ক)। বর্ণনাকারী বলেন, তবে আমি জানি না যে, তা (রিওয়ায়াতের এ শেষাংশটি) মূল হাদীসের অংশ (নবী (ﷺ) এর বাণী) নাকি তা [জাবির থেকে রিওয়ায়াতকারী] ইবন সীরীন বলেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আইয়্যুব হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি (তার বর্ণিত) হাদীসে বলেছেন, আবূ হুরাইরাহ্ বলেন, হাত কড়া (দেখা) আমাকে বিমোহিত করে এবং গলায় বেড়ী (দেখা) আমি পছন্দ করি না। (কেননা) হাতকড়া হলো দীন ধর্মে অটল থাকার পরিচায়ক। নবী (ﷺ) আরো বলেছেন, (খাটি) ঈমানদারের স্বপ্ন নুবুওয়াতের (চল্লিশ অংশের) একটি অংশ।
আবূ রাবী .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যুগ বা সময় কিয়ামতের সন্নিকটে এসে যাবে .... বর্ণনাকারী (এভাবেই) হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি তাতে নবী (ﷺ) এর নামোল্লেখ করেননি।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি তার বর্ণনায় আর আমি গলায় বেড়ী দেখা পছন্দ করি না .... পর্যন্ত অংশ সংযোজন করেছেন। আর স্বপ্ন নুবুওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ- উক্তিটি তিনি বর্ণনা করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন বাশশার, যুহায়র ইবন হারব ও উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... উবাদাহ ইবন সামিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিনের স্বপ্ন নুবুওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... আনাস ইবন মালিক নবী (ﷺ) হতে উপরে বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন।
আবদ ইবন হুমায়দ ..... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "অবশ্য ঈমানদারের স্বপ্ন নুবুওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।
ইসমাঈল ইবন খলীল ও ইবন নুমায়র .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিমের স্বপ্ন, যা সে দেখে অথবা যা তার ব্যাপারে দৃশ্য হয়। বর্ণনাকারী ইবন মুসহির বর্ণিত হাদীসে 'মুসলিমের স্বপ্ন' এ জায়গায় রয়েছে 'ভাল স্বপ্ন' নুবুওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ্ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সৎ লোকের স্বপ্ন নুবুওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আহমাদ ইবন মুনযির ..... ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসীর হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি ... আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আবদুল্লাহ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসীর তার পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ভাল স্বপ্ন নুবুওয়াতের সত্তর ভাগের এক ভাগ।
ইবন মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ ইয়াহইয়া সূত্রে উবাইদুল্লাহ হতে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
কুতাইবাহ ও ইবন রুমল্লাহ্ লায়স ইবন সা'দ থেকে (ভিন্ন সানাদে) ইবন রাফি ও ইবন ফুদায়ক নাফি হতে হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন। লায়স-এর হাদীসে আছে নাফি বলেন, আমার ধারণা ইবন উমর বলেছেনঃ স্বপ্ন নুবুওয়াতের সত্তর ভাগের এক ভাগের এক ভাগ।
আবূ রাবী সুলাইমান ইবন দাউদ আতাকী .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক আমাকে স্বপ্নে দেখে সে (অবশ্যই) আমাকে দেখেছে। কারণ, শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে লোক আমাকে স্বপ্নে দেখে, শীঘ্রই সে আমাকে জেগে থাকাবস্থায় দেখতে পাবে। অথবা তিনি বলেছেন, সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় প্রত্যক্ষ করলো। কারণ শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।
আবূ সালামাহ্ বলেন, আবূ কাতাদাহ্ বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে আমাকে দেখলো সে যেন (অবশ্যই) সত্যই দেখলো।
যুহরীর ভাইয়ের ছেলে বলেন, তার চাচা (যুহরী) তাকে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি ইউনুস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ দুটি হাদীস সানাদসহ রিওয়ায়াত করেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইবন রুমূহ .... জাবির হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক স্বপ্নযোগে আমাকে দেখল, সে নিশ্চয়ই আমাকে (স্বপ্নে) দেখল। কারণ, শয়তানের পক্ষে আমার আকৃতি ধারণ করা অসম্ভব। তিনি আরও বলেন, তোমাদের কেউ যখন খারাপ স্বপ্ন দেখে সে যেন ঘুমের মধ্যে তার সাথে শয়তানের চক্রান্তের সংবাদ কাউকে না দেয়।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক স্বপ্নযোগে আমাকে দেখল সে অবশ্যই আমাকেই দেখল। কারণ আমার রূপ ধারণ করা শয়তানের পক্ষে অসম্ভব।
কুতাইবাহ ও ইবন রুমূহ .... জাবির এর সানাদে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। একবার এক বেদুঈন তার নিকট এসে বলল, আমি স্বপ্নে প্রত্যক্ষ করলাম যে, আমার মস্তিষ্ক কর্তন করা হয়েছে আর আমি তার পিছু পিছু ছুটে চলছি। সে সময় নবী (ﷺ) তাকে রাগাম্বিত হয়ে বললেনঃ ঘুমের মধ্যে তোমার সঙ্গে শয়তানের খেলাধূলার সংবাদ কাউকে প্রকাশ করো না।
উসমান ইবন আবূ শইবাহ .... জাবির হতে বর্ণিত তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার মাথা কর্তন করা হয়েছে এবং তা গড়াতে শুরু করেছে, আর আমি তার পিছনে পিছনে খুব জোরে দৌড় লাগালাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সে বেদুঈন আরবকে বললেন, তোমার ঘুমের মধ্যে তোমার সঙ্গে শয়তানের ক্রীড়া-কৌতুকের ব্যাপারে কারো নিকটেই প্রকাশ করো না। বর্ণনাকারী জাবির বলেন, এ ঘটনার পর আমি নবী (ﷺ) কে ভাষণ দিতে শুনলাম। তাতে তিনি বললেন, তোমাদের কেউ ঘুমের মধ্যে তার সঙ্গে শয়তানের ক্রীড়া-কৌতুকের ব্যাপারে বলে দিও না।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ সাঈদ আশাজ্জ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার মস্তিষ্ক কর্তন করা হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন নবী (ﷺ) মুচকি হেসে বললেন, শয়তান যখন তোমাদের কারো সঙ্গে তার ঘুমের মধ্যে খেলাধূলা করে, তখন সে যেন কোন ব্যক্তির নিকট তা প্রকাশ না করে। আর বর্ণনাকারী আবূ বকর-এর বর্ণনাতে আছে- 'যখন তোমাদের কারো সঙ্গে ক্রীড়া-কৌতুহল করা হয়। তিনি 'শয়তান' শব্দ বর্ণনা করেননি।
হাজিব ইবন ওয়ালীদ .... উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, ইবন আব্বাস অথবা আবূ হুরাইরাহ হাদীস রিওয়ায়াত করতেন যে, জনৈক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলো .....। ভিন্ন সূত্রে হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া তুজীবী উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবাহ ইবন শিহাব কে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবন আব্বাস এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করতেন যে, জনৈক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আজ রাতে স্বপ্ন দেখলাম যে, শামিয়ানা হতে ঘি ও মধু ঝরে পড়ছে আর লোকদের দেখলাম- তারা তা থেকে তাদের হাতের অঞ্জলি ভরে ভরে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ বেশি পরিমাণ নিচ্ছে, কেউ স্বল্প পরিমাণে। আর একটি রশি দেখলাম আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনকারী, আর দেখলাম আপনি তা ধরলেন এবং উপর উঠে গেলেন, এরপর এক ব্যক্তি তা ধরল এবং সে উপর উঠে গেল, তারপর আর এক ব্যক্তি তা ধরল এবং তা ছিড়ে পড়ে গেল। পরিশেষে তা তার জন্য জুড়ে দেয়া হলো এবং সেও উপরে উঠে গেল। স্বপ্ন বর্ণনার এ পর্যায়ে আবূ বকর (রাযীঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত। আল্লাহর শপথ! আপনি অবশ্য আমাকে অনুমতি দিবেন, তাহলে আমি এ স্বপ্লটির ব্যাখ্যা করব। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আপনি ব্যাখ্যা করুন। আবূ বকর বললেন, শামিয়ানাটি হলো ইসলামের (রূপক) শামিয়ানা, আর যে ঘি ও মধু ফোটা ঝরে পড়ছিল, তা হচ্ছে আল-কুরআনের মধুরতা ও কোমলতা আর মানুষেরা যে তা থেকে অঞ্জলি ভরে ভরে নিয়ে যাচ্ছিল তা হলো- কেউ বেশি পরিমাণে আর কেউ সামান্য পরিমাণে আল কুরআন হতে সংগ্রহ করছে। আর আসমান হতে জমিন পর্যন্ত সংযুক্ত রশিটি হলো হক ও সত্য (পথ), যার উপরে আপনি রয়েছেন তা ধারণ করলেন, আর আল্লাহ তা দিয়ে আপনাকে উপরে উঠিয়ে নিলেন। তারপর আপনার পরে এক লোক তা ধারণ করলেন এবং তা দিয়ে সেও উপরে উঠে যাবে, তারপর আর এক লোক তা ধারণ করবে এবং তা ছিড়ে পড়ে যাবে, পরে তা তার জন্য জুড়ে দেয়া হবে এবং তা দিয়ে সে উপরে উঠে যাবে। হে আল্লাহর রসূল! এখন আমাকে বলে দিন, আমার পিতা আপনার উদ্দেশে উৎসর্গিত, আমি ঠিক বলেছি নাকি ভুল বলেছি? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কতক ঠিক বলেছেন আর কতক ভুল করেছেন। তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রসূল! যা আমি ভুল করেছি তা আপনি অবশ্যই আমাকে বর্ণনা করে দিবেন। তিনি বললেন, এভাবে শপথ করবে না।
ইবন আবূ উমর .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ (যুদ্ধক্ষেত্র) হতে তার ফিরে আসার সময় জনৈক লোক নবী (ﷺ) এর দরবারে এলো। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আজ রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম- একটি শামিয়ানা তা থেকে ফোটা ফোটা ঘি ও মধু ঝরছে। হাদীসের পরবর্তী অংশ ইউনুস বর্ণিত হাদীসের অর্থানুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন আব্বাস কিংবা আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, আবদুর রাযযাক বলেন (আমার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী উস্তায) মা'মার কখনো বর্ণনা করতেন ইবন আব্বাস হতে আবার কখনো বর্ণনা করতেন আবূ হুরাইরাহ হতে এ মর্মে যে, জনৈক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, আজ রাতে (স্বপ্নে) আমি একটি শামিয়ানা দেখতে পাই, তারপর পূর্বোল্লিখিত বর্ণনাকারীগণের বর্ণিত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (যেসব অভ্যাসে অভ্যস্ত) ছিলেন (সে সবের মধ্যে একটি ছিল এই) যে, তিনি তার সাহাবীগণকে (ফজরের সালাতের পরে) বলতেন, তোমাদের কেউ কোন স্বপ্ন দেখলে সে তা আমার নিকট প্রকাশ করুক, তাহলে আমি তাকে তার ব্যাখ্যা বলে দিব। জনৈক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি একটি শামিয়ানা দেখলাম .....। পরবর্তী বর্ণনা (পূর্বোল্লিখিত) বর্ণনাকারীগণের বর্ণিত হাদীসের অবিকল।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক রাতে আমি দেখলাম যেভাবে ঘুমন্ত লোক দেখে (স্বপ্ন), যেন আমরা উক্বাহ ইবন রাফি এর গৃহে রয়েছি। তখন আমাদের নিকট ইবন তাব (নামক) খেজুর হতে কিছু তাজা খেজুর নিয়ে আসা হলো। তখন আমি এর বিশ্লেষণ করলাম- পৃথিবীর বুকে আমাদের জন্য উন্নতি এবং আখিরাতে উত্তম পরিণতি। আর আমাদের দীন অবশ্যই উত্তম।
নাসর ইবন আলী জাহ্যামী .... নাফি হতে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন উমর এ মর্মে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ঘুমের মধ্যে আমাকে একটি দাতন দিয়ে মিসওয়াক করতে দেখলাম। তখন দু'লোক আমাকে আকৃষ্ট করল, যাদের একজন অন্যজনের চেয়ে বয়সে বড়। তখন আমি মিসওয়াকটি কম বয়সীকে দিতে গেলে আমাকে বলা হলো- 'বড়কে দিন', তাই তা আমি বয়স্ককে দিয়ে দিলাম।
আবূ আমির আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ আশআরী ও আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আবূ মূসা এর সানাদে নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মক্কাহ থেকে এমন এক দেশে হিজরত করে যাচ্ছি, যেখানে খেজুর বৃক্ষ আছে, তাতে আমার কল্পনা এদিকে গেল যে, তা ইয়ামামাহ্ অথবা হাজর (এলাকা) হবে। পরে (বাস্তবে) দেখি যে, তা হলো মদীনাহ্- (যার পূর্ব নাম) ইয়াসরিব। আমি আমার এ স্বপ্নে আরও দেখলাম যে, আমি একটি তলোয়ার নাড়াচাড়া করলাম, ফলে তার মধ্যখান ভেঙ্গে গেল। তা ছিল উহুদের দিনে যা মুমিনগণের উপর আপতিত হয়েছিল। তারপরে আমি আর একবার সে তলোয়ার নাড়া দিলে তা পূর্বের চাইতে ভাল হয়ে গেল। তারপরে মূলত তা হলো সে বিজয় ও ঈমানদারদের সম্মেলন- যা আল্লাহ সংঘটিত করলেন (মক্কাহ বিজয়)। আমি তাতে একটি গরুও দেখলাম। আর আল্লাহ তাআলাই কল্যাণের অধিকারী। মূলত তা হলো- উহুদের যুদ্ধে (শাহাদাতপ্রাপ্ত) মুমিনদের দলটি। আর মঙ্গল হলো, সে কল্যাণ যা পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা দান করেছেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সে সাওয়াব ও প্রতিদান যা আল্লাহ তাআলা আমাদের বদর যুদ্ধের পরে দিয়েছেন।
মুহাম্মাদ ইবন সাহল তামীমী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (ভণ্ড নবী) মুসাইলামাহ কাযয্যাব নবী (ﷺ) এর আমলে মদীনায় আসলো, সে তখন বলতে থাকল মুহাম্মাদ যদি তার (মৃত্যুর) পরে আমাকে নেতৃত্ব দেয়ার ওয়াদা করে, তাহলে আমি তার অনুসরণ করব। সে তার সম্প্রদায়ের প্রচুর লোকজন নিয়ে মদীনায় আসলো। নবী (ﷺ) তার দিকে অগ্রসর হলেন। তার সঙ্গে ছিলেন সাবিত ইবন কায়স ইবন শাম্মাস, আর তখন নবী (ﷺ) এর হাতে ছিল খেজুর শাখার একটি টুকরা। পরিশেষে তিনি সহচর বেষ্টিত মুসাইলামার সম্মুখে গিয়ে থামলেন এবং কথাবার্তার এক পর্যায়ে বললেন (তুমি যদি আমার কাছে এ) সামান্য খেজুর ডালের টুকরাটিও আবদার করো, তবু আমি তা তোমাকে দিব না এবং আমি কিছুতেই তোমার বিষয়ে আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করব না। আর যদি তুমি (অবাধ্য হয়ে) পিছনে ফিরে যাও, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তোমাকে পরাভূত করবেন। আর আমি অবশ্যই ধারণা করি যে, যা আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে তা তোমার বিষয়েই দেখানো হয়েছে। আর (আমি তোমার সঙ্গে বেশি কথা বলতে চাই না) এ সাবিত আমার তরফ থেকে তোমাকে উত্তর দিবে। তারপর তিনি তার নিকট হতে ফিরে চললেন।
বর্ণনাকারী ইবন আব্বাস বলেন, পরে আমি নবী (ﷺ)-এর বক্তব্য- "আমি মনে করি যে, আমাকে (স্বপ্নে) যা দেখানো হয়েছে তা তোমার বিষয়েই দেখানো হয়েছে" সম্বন্ধে প্রশ্ন করলাম। তখন আবূ হুরাইরাহ আমাকে বললেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ঘুমে থাকাবস্থায় আমার দু'হাতে দুটি সোনার কাকন দেখতে পেলাম; সে দু'টির অবস্থা আমাকে মহাদুশ্চিন্তায় ফেলল। স্বপ্নে আমার নিকট ওয়াহী পাঠানো হলো যে, ও দুটিকে ফু দিন। আমি সে দুটিকে ফু দিলে সে দুটি ভেসে গেল। তখন আমি স্বপ্নে দেখা সে বালা দুটির ব্যাখ্যা করলাম দু'জন নুবুওয়াতের মিথ্যা দাবীদার, যারা আমার পরে আত্মপ্রকাশ করবে। (বর্ণনাকারী বলেন), তাদের উভয়ের একজন হলো আল-আনসী সানআবাসীদের নেতা এবং অপরজন হলো মুসাইলামাহ-ইয়ামামাবাসীদের সরদার।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... হাম্মাম ইবন মুনব্বিহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হলো সেসব হাদীস যা আবূ হুরাইরাহ্ রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এ কথা বলে তিনি কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেন। এটি হলো (সেগুলোর একটি)। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেন, আমি নিদ্রিত ছিলাম এমতাবস্থায় আমার নিকট দুনিয়ার ভাণ্ডারসমূহ নিয়ে আসা হলো। সে সময় আমার হাতে দুটি স্বর্ণের কাকন রেখে দেয়া হলে সে দুটি আমার জন্য অনেক ওজন মনে হলো এবং তারা আমাকে দুর্ভাবনায় ফেলল। তখন আমার নিকট ওয়াহীর মাধ্যমে জানানো হলো যে, আমি যেন সে দু'টির উপরে ফু দেই। তখন আমি ফু দিলে সে দু'টি উড়ে গেল। আমি সে দুটির ব্যাখ্যা করলাম- সে দু' মিথ্যাবাদী (ভণ্ড নবী) যে দু'জনের মাঝে আমি রয়েছি- (-) সানআ অধিবাসী আসওয়াদ আল-আনসী এবং ইয়ামামাহ অধিবাসী মুসাইলামাতুল কাযযাব।
মুহাম্মদ ইবন বাশশার .... সামুরাহ ইবন জুনদাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ফজরের নামাজ আদায়ন্তে লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন এবং বলতেন, তোমাদের কেউ কি গত রাতে কোন স্বপ্ন দেখেছে?