পানীয় বস্তু (৫০২২-৫২৭৯)
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী ... আলী ইবন আবূ তালিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বাদর দিবসে আমি গনীমাত (যুদ্ধলব্ধ মাল) হতে একটি বয়স্ক উট পেয়েছিলাম। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আর একটি বয়স্ক উট দিয়েছিলেন। একদিন আমি জনৈক আনসারী ব্যক্তির দরজার সামনে সে দুটি বেধে রাখলাম। আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল, সে দুটির পিঠে করে কিছু ইযখির ঘাস বয়ে আনবো, আর তা বিক্রয় করে ফাতিমা এর ওয়ালীমায় সাহায্য নিব। আমার সঙ্গে ছিল বানু কাইনুকা গোত্রের জনৈক স্বর্ণকার। হামযাহ ইবন আবদুল মুত্তালিব সে বাড়িতেই মদ পান করছিল। তার সাথে ছিল একজন গায়িকা। সে (তার গানের মধ্যে) বললঃ হে হামযাহ! হৃষ্টপুষ্ট উট দু'টির কাছে যাও এবং তোমার মেহমানদের জন্য তা যাবাহ করো। তারপর হামযাহ ও দুটির নিকট ছুটে গেল। পরে দুটিরই কুঁজ কেটে ফেললো এবং তাদের পেট ফেড়ে দিল। তারপর সে এ দু'টির কলিজা বের করে নিল। আমি ইবন শিহাবকে বললাম, তিনি কুঁজ দুটি কি করলেন? তিনি বললেন, কুঁজ দুটি কেটে সাথে নিয়ে চললেন। ইবন শিহাব বলেন, আলী বলেছেন, এ মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম। তার নিকট ছিল যায়দ ইবন হারিসাহ। এরপর আমি তাকে পুরো ঘটনা জানালাম। তিনি যায়দ কে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। আমিও তার সাথে চললাম। হামযাহ এর নিকট গিয়ে তিনি তাকে কিছু কঠিন কথা বললেন। হামযাহ চোখ তুলে বলল, তোমরা তো আমার বাবার ক্রীতদাস ছাড়া কিছু নও। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) পিছন দিকে ফিরে আসলেন। এমনকি তিনি তাদের নিকট থেকে বেরিয়ে চলে এলেন।
আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন জুরায়জ হতে এ সূত্রে হুবহু বর্ণিত হয়েছে।
আবূ বকর ইবন ইসহাক .... আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের দিন আমি গনীমাত থেকে আমার ভাগে একটি বয়স্ক উট পেয়েছিলাম। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেদিন এক পঞ্চমাংশ থেকে আমাকে আর একটি উট দিয়েছিলেন। আমি যখন রসূল (ﷺ) তনয়া ফাতিমা এর সাথে বাসর যাপনের আকাজক্ষা করলাম, তখন বানু কাইনুকা গোত্রের জনৈক স্বর্ণকার ও আমি উভয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলাম। সে আমার সাথে যাবে আর আমরা (দু'জনে) ইযখির (ঘাস) নিয়ে আসবো। আমি ইচ্ছা করলাম, এগুলো স্বর্ণকারদের কাছে বিক্রি করে তা দিয়ে আমার বিয়ের ওয়ালীমার বিষয়ে সাহায্য নিব। আমি উট দু'টির জন্য বসার গদি, থলে এবং রশি ইত্যাদি জিনিস সংগ্রহ করছিলাম। আর আমার উট দুটি একজন আনসার লোকের গৃহের পাশে বাধা ছিল। আমিও যা সংগ্রহ করার সংগ্রহ করলাম। এমন সময় অকস্মাৎ লক্ষ্য করি সে দু'টি (উটের) কুঁজ কেটে ফেলা হয়েছে, পেটের দিক কেটে ফেলা হয়েছে এবং উভয়ের কলিজা বের করে নেয়া হয়েছে। আমার দু' নয়ন এ দৃশ্য সহ্য করতে পারল না। আমি বলে উঠলাম, এ কাজ কোন্ লোক করল? লোকেরা, বলল হামযাহ্ ইবন আবদুল মুত্তালিব। সে এ বাড়িতে আনসারদের একদল মদ্যপায়ীকারীদের মাঝে আছে। তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে গান শুনাচ্ছিল এক গায়িকা। সে তার গানে বললঃ হে হামযাহ! তুমি হৃষ্টপুষ্ট উট দুটির সম্মুখে যাবে কি? পরে হামযাহ্ তরবারি নিয়ে উঠলো, উট দু'টির কুঁজ কেটে ফেললো, পশ্চাৎদিক চিড়ে ফেললো। অতঃপর ও দু'টোর কলিজা নিয়ে গেল। আলী বলেন, সরাসরি নবী (ﷺ)-এর নিকটে গিয়ে উপস্থিত হলাম, তখন তার কাছে ছিল যায়দ ইবন হারিসাহ। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার অবয়ব দেখে বুঝতে পারলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম, আজকের দিনের মতো আমি আর কখনও দেখিনি। হামযাহ আমার উট দুটির উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উভয়ের কুঁজ দুটি কেটে ফেলেছে, পিছনের দিক কেটে ফেলেছে এবং কলিজা খুলে নিয়েছে। সে ঐ গৃহে আছে আর তার সাথে আছে মদ্যপায়ীদের কিছু লোক। তিনি বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার চাদর নিয়ে আসতে বললেন। অতঃপর তা পরিধান করে হাটতে লাগলেন। আমি এবং যায়দ ইবন হারিসাহ তার পিছনে পিছনে অনুকরণ করলাম। পরিশেষে তিনি সে ঘরের দরজায় এসে অনুমতি চাইলেন যে ঘরে হামযাহ ছিল। তারা তাকে অনুমতি দিল। তিনি প্রবেশ করেই লক্ষ্য করলেন মদ্যপায়ীর দল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) হামযার অপকর্মের জন্য তাকে শাসন ও নিন্দা করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় হামযার চোখ দুটি লাল হয়ে গেল। সে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। এরপর সে তার হাটুর দিকে তাকালো, তারপর আরো উচুতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল তার নাভীর দিকে, এরপর দৃষ্টি উঠালো তার চেহারার দিকে। এরপর হামযাহ বলল, তোমরা তো আমার পিতার গোলাম ছাড়া কিছুই নও। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বুঝতে পারলেন সে নেশাগ্রস্ত, তখন তিনি পিছনে হেঁটে বের হয়ে পড়লেন। আমরাও তার সাথে বের হলাম।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কুহযায .... যুহরী হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু বর্ণিত আছে।
আবূ রাবী সুলাইমান ইবন দাউদ আতাকী .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদ হারাম হওয়ার দিন আমি আবূ তালহার ঘরে লোকদের মদ পান করাচ্ছিলাম। তারা শুকনো ও কাঁচা খেজুরের মদ পান করতো (শুকনো ও কাঁচা খেজুর দ্বারা তৈরি ঘন তৈলাক্ত ও সিরকা পান করতো)। হঠাৎ শুনা গেল জনৈক লোক ঘোষণা দিচ্ছে। তিনি বললেন, বের হয়ে দেখো। আমি বের হয়ে দেখলাম, এক লোক ঘোষণা দিচ্ছেঃ শুনে রাখো, মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অতঃপর মদীনার চারপাশে ও অলিগলি দিয়ে মদের ঢল প্রবাহিত বইতে থাকে। আবূ তালহাহ আমাকে বললেন, বের হও এবং এগুলো ঢেলে দিয়ে আসো। অতঃপর আমি সেগুলো ঢেলে দেই। তারা সবাই বা তাদের কেউ কেউ বললেন, অমুকে নিহত হয়েছে। অমুকে নিহত হয়েছে! অথচ তাদের উদরে মদ আছে। রাবী বলেন, আমি জ্ঞাত নই যে, এ কথাও আনাস এর হাদীসের অন্তর্ভুক্ত কি-না। এরপর আল্লাহ তাআলা নাযিল করেনঃ "যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারা পূর্বে যা খেয়েছে তাতে তাদের কোন গুনাহ নেই, যদি তারা সতর্ক হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকাজ করে"-(আল-মায়িদাহ্ ৫ঃ ৯৩)।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব .... আবদুল আযীয ইবন সুহায়ব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষেরা আনাস-কে প্রশ্ন করল 'ফাযীখ' (খেজুরের তৈরি মদ) সম্পর্কে। তিনি বললেন, তোমরা যাকে 'ফাযীখ' বলে সম্বোধন কর, তোমাদের এ ফাযীখ ব্যতীত আমাদের আর কোন মদ-ই ছিল না। আমি আমাদের ঘরে আবূ তালহা, আবূ আইয়্যুব এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আরো কতিপয় সাহাবীকে মদপান করাতে মত্ত ছিলাম। এমন সময় এক লোক এসে বলল, তোমাদের নিকট কি কোন সংবাদ এসেছে? আমরা বললাম, না। সে বলল, মদ তো সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করা হয়েছে। তিনি (আবূ তালহা) বললেন, হে আনাস! এ মদের কলসগুলো ঢেলে দাও। তিনি বলেন, তারা উক্ত ব্যক্তির সংবাদের পর কোন খোজখবরও করেননি। এ সম্পর্কে কোন জিজ্ঞাসাবাদও করেননি।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যখানে দাড়িয়ে আমার চাচাদের 'ফাযীখ' পান করাচ্ছিলাম। আর বয়সে আমি তাদের সবার ছোট ছিলাম। এ সময় এক লোক এসে বলল, মদ তো হারাম করা হয়েছে। তারা সবাই বললেন, হে আনাস! এ হাড়িগুলো উল্টিয়ে দাও। আমি সেগুলো উপুড় করে ফেলে দিলাম। সুলাইমান বলেন, আমি আনাসকে বললাম, ফাযীখ কি জিনিস? তিনি বললেন, কাঁচা-পাকা খেজুর দ্বারা তৈরিকৃত মদ। তিনি বলেন, আবূ বকর ইবন আনাস বলেছেন, তখন এটাই ছিল তাদের একমাত্র নেশাজাতীয় দ্রব্য। সুলাইমান বলেন, আমার নিকটে জনৈক লোক আনাস ইবন মালিক হতে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনিও (আনাস) এ কথা বলেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সম্প্রদায়ের মাঝে দাড়িয়ে তাদের মদপান করাচ্ছিলাম। এরপর বর্ণনাকারী ইবন উলাইয়্যার মতো বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেন, তারপর আবূ বকর ইবন আনাস বললেন, সেকালে ওটাই ছিল তাদের মদ। আনাস তথায় উপস্থিত ছিলেন, তিনি এ কথা অস্বীকার করেননি। ইবন আবদুল আ'লা মু'তামির এর সূত্রে তার বাবা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যারা তার সাথে ছিল তাদের একজন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস কে বলতে শুনেছেন, "তৎকালীন সময়ে সেটাই ছিল তাদের মদ।"
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ তালহাহ, আবূ দুজানাহ ও মুআয ইবন জাবাল কে আনসারীদের একদল মানুষের মাঝে মদপান করাচ্ছিলাম। তখন এক লোক আমাদের নিকট এসে বলল, একটি নতুন ব্যাপার ঘটেছে, মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতঃপর আমরা তখন পাত্রগুলো উপুড় করে ঢেলে দিয়েছিলাম। সে মদ ছিল কাঁচা-পাকা মিশ্ৰিত খেজুরের বানানো। কাতাদাহ্ বলেন, আনাস ইবন মালিক বলেছেন, মদকে হারাম করা হয়েছে। সেকালে তাদের সাধারণ মদ ছিল কাঁচা-পাকায় সংমিশ্রিত খেজুরের তৈরি।
আবূ গাসসান আল-মিসমাঈ, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন একটি মদপাত্র হতে আবূ তালহাহ, আবূ দুজানাহ ও সুহায়ল ইবন বাইযা কে মদপান করাচ্ছিলাম যার মধ্যে কাঁচা-পাকা খেজুরের মদ ছিল। অতঃপর বর্ণনাকারী সাঈদ এর হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেন।
আবূ তাহির আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কাঁচা-পাকা খেজুর দিয়ে মদ তৈরি করা এবং তা পান করা থেকে বারণ করেছেন। সেদিন তাই ছিল তাদের সাধারণ নেশাজাতীয় দ্রব্য যেদিন মদ হারাম করা হয়।
আবূ তাহির .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ উবাইদাহ্ ইবন জাররাহ, আবূ তালহাহ উবাই ইবন কা'ব কে মদপান করাচ্ছিলাম, যা কাঁচা ও শুকনো খেজুর দিয়ে তৈরি ছিল। অতঃপর জনৈক আগত ব্যক্তি এসে বলল, মদ তো হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। আবূ তালহাহ্ বললেন, হে আনাস! তুমি সে কলসটির কাছে গিয়ে তা ভেঙ্গে ফেল। আমি আমাদের মিহ্রাসটির (ছিদ্রযুক্ত পাথর) নিকট গেলাম এবং কলসের নিম্নাংশে আঘাত করলাম। যার দরুন সেটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জা'ফার হতে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবন মালিক কে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহ তাআলা যে আয়াতে মদ নিষিদ্ধ করেছেন, সেটি এমন সময় তৈরি করেছেন, যখন মদীনায় শুধুমাত্র খেজুরের তৈরি মদপান করা হত।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আবদুর রহমান ইবন মাহদী ও যুহায়র ইবন হারব ... আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কে মদ দিয়ে সিরকা তৈরি করা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... ওয়ায়িল আল-হাযরামী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারিক ইবন সুওয়াইদ জুকী রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মদ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তিনি তাকে বারণ করলেন, কিংবা মদ প্রস্তুত করাকে খুব জঘন্য মনে করলেন। তিনি [তারিক] বললেন, আমি তো শুধু ঔষধ তৈরি করার জন্য মদ প্রস্তুত করি। তিনি বললেনঃ এটি তো (ব্যাধি নিরামক) ঔষধ নয়, বরং এটি নিজেই ব্যাধি।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মদ তৈরি হয় দুটি গাছ (এর ফল) হতে, তা হলো- খেজুর ও আঙ্গুর গাছ (এর ফল)।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, মদ তৈরি হয় ঐ দুটি গাছ (এর ফল) থেকে, তা হলো খেজুর ও আঙ্গুর গাছ (এর ফল)।
যুহায়র ইবন হারব ও আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মদ তৈরি হয় ঐ দুটি গাছ (এর ফল) থেকে, তা হলো- আঙ্গুর ও খেজুর গাছ (এর ফল)। আবূ কুরায়ব এর বর্ণনায় আঙ্গুরকে খেজুর বলা হয়েছে।
শাইবান ইবন ফাররূখ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কিসমিস ও শুকনো খেজুর এবং কাঁচা-পাকা খেজুর একসাথে মিশিয়ে নবীয বানাতে বারণ করেছেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) শুকনো খেজুর ও কিসমিস একত্র করে নবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও নিষেধ করেছেন কাঁচা-পাকা খেজুর একত্র মিশিয়ে নবীয বানানো থেকে।
মুহাম্মদ ইবন হাতিম, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মদ ইবন রাফি ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কাঁচা-পাকা খর্জুর (খেজুর) এবং কিসমিস ও খোরমা মিশ্রণ করে নবীয বানিও না।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিসমিস ও খোরমা মিশিয়ে 'নবীয' বানাতে বারণ করেছেন। তিনি একসাথে কাঁচা-পাকা খেজুর দিয়ে 'নবীয' প্রস্তুত করতেও বারণ করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) খোরমা ও কিসমিস একসঙ্গে মিশ্রণ (করে নবীয তৈরি) করতে বারণ করেছেন এবং কাঁচা-পাকা খেজুর একত্র (করে নবীব তৈরি) করতে নিষেধ করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব .... আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে (নবীয তৈরিতে) কিসমিস ও শুকনো খেজুর এবং কাঁচা-পাকা খেজুর একসাথে মিশাতে বারণ করেছেন।
নাসর ইবন আলী জাহযামী .... আবূ মাসলামাহ্ হতে উপরোল্লিখিত সানাদে একইভাবে বর্ণিত হয়েছে।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নবীয (খেজুর বা আঙ্গুর ভেজানো পানি) পান করতে ইচ্ছা পোষণ করে, সে যেন কিসমিস বা শুকনো খেজুর অথবা কাঁচা খেজুর দ্বারা আলাদাভাবে নবীয তৈরি করে তা পান করে।
আবূ বকর ইবন ইসহাক .... ইসমাঈল ইবন মুসলিম আবদী হতে উল্লেখিত সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বারণ করেছেন, যেন আমরা কাঁচা খেজুর শুকনো খেজুরের সঙ্গে না মেশাই অথবা কিসমিস খোরমার সঙ্গে না মেশাই অথবা কিসমিস কাঁচা খেজুরের সাথে না মেশাই। তিনি আরও বলেন, তোমাদের মাঝে যে তা পান করতে আগ্রহী। অতঃপর বর্ণনাকারী ওয়াকী এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব .... আবদুল্লাহ ইবন আবূ কাতাদাহ্ সূত্রে তার পিতা আবূ কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কাঁচা-পাকা খেজুর একসাথে করে নবীয বানাবে না। কিসমিস ও খোরমা একত্র করেও নবীয প্রস্তুত করবে না বরং একেকটি আলাদাভাবে নবীয বানাবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইয়াহইয়া ইবন আবূ কাসীর হতে উল্লেখিত সূত্রে হুবহু বর্ণিত রয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবূ কাতাদাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কাঁচা-পাকা খেজুর একসাথে মিশিয়ে নবীয বানাবে না এবং কাঁচা খেজুর ও কিসমিস একত্রে মিশিয়ে নবীয বানাবে না বরং একেকটি দ্বারা আলাদাভাবে নবীয বানাবে। ইয়াহইয়া ধারণা করেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আবূ কাতাদার সঙ্গে দেখা করলে তিনি তার পিতার সানাদে নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস তার নিকটে রিওয়ায়াত করেছেন।
এ হাদীসটি ইয়াহইয়া (র) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আবু কাথির এই দুটি বর্ণনাকারীর মাধ্যমে কিন্তু শব্দের সামান্য তারতম্যের সাথে।
আবূ বকর ইবন ইসহাক .... আবূ কাতাদাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কাঁচা ও শুকনো খেজুর একত্র সংমিশ্রণ করা হতে এবং কিসমিস ও শুকনো খেজুর সংমিশ্রণ করা থেকে এবং কাঁচা পাকা খেজুর সংমিশ্রণ করা হতে বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকটি দিয়ে আলাদাভাবে নবীয বানাও।
ইয়াহইয়া বলেন, আবূ সালামাহ্ ইবন আবদুর রহমান আবূ কাতাদাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব ও আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিসমিস ও শুকনো খেজুর (একত্রে মিশিয়ে নবীয প্রস্তুত করা) হতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকটি দিয়ে পৃথকভাবে নবীয বানানো যেতে পারে।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন .... অতঃপর রাবী অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) শুকনো খেজুর ও কিসমিস সংমিশ্রণে এবং কাঁচা ও শুকনো খেজুর মিশিয়ে নবীয প্রস্তুত করতে বারণ করেছেন। তিনি জুরাশ (ইয়ামানের একটি শহর) অধিবাসীদের চিঠি লিখে তাদেরকে শুকনো খেজুর ও কিসমিসের মিশ্রণে নবীয প্রস্তুত করতে বারণ করেন।
বর্ণনাকারী বলেন, আমাকে ওয়াহব ইবন বাকিয়্যাহ খালিদ তাহহান এর সানাদে শাইবানী হতে উল্লেখিত সূত্রে শুকনো খেজুর ও কিসমিসের কথা বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি (ওয়াহব) কাঁচা ও শুকনো খেজুরের কথা বর্ণনা করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন, কাঁচা-পাকা খেজুর একসাথে এবং শুকনো খেজুর ও কিসমিস একত্রে মিশিয়ে নবীয তৈরি করতে বারণ করা হয়েছে।
আবূ বকর ইবন ইসহাক .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাঁচা-পাকা খেজুর মিশিয়ে এবং শুকনো খেজুর ও কিসমিস মিশ্রণে নবীয তৈরি করতে বারণ করা হয়েছে।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দুব্বা ও মুযাফফাতে নবীয প্রস্তুত করতে বারণ করেছেন।
আমর আন নাকিদ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে রসূলুল্লাহ (ﷺ) দুব্বা ও মুযাফফাতে নবীয বানাতে বারণ করেছেন।
বর্ণনাকারী বলেন, আবূ সালামাহ্-ও তাকে অবহিত করেছেন, তিনি আবূ হুরাইরাহ কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা দুব্বা ও মুযাফফাতে নবীয বানিও না। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ বলেন, হানতাম ব্যবহার করা থেকেও তোমরা সরে (বেচে) থাকো।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মুযাফফাত, হানতাম ও নাকীর (ইত্যাদিতে নবীয প্রস্তুত করা) হতে বারণ করেছেন। রাবী বলেন, আবূ হুরাইরাহ কে প্রশ্ন করা হলো, হানতাম কি জিনিস? তিনি বললেন, সবুজ রং-এর কলসী।
নাস্র ইবন আলী জাহযামী .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দলকে বলেছেন, আমি তোমাদেরকে দুব্বা, হানতাম, নাকীর ও মুকাইয়্যার হতে বারণ করছি। হানতাম হল মাথা কাটা চামড়ার বাসন হতে। আর তুমি তোমার চামড়ার বানানো মশক হতে নবীয পান করো এবং এর প্রবেশ মুখ আটকে রাখো।
সাঈদ ইবন আমর আশআসী, যুহায়র ইবন হারব ও বিশর ইবন খালিদ .... আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দুব্বা ও মুযাফফাতে নবীয প্রস্তুত করতে বারণ করেছেন। এ হলো জারীর এর বর্ণিত হাদীস। আবসার ও শুবাহ্ এর হাদীসে উল্লেখ আছে যে, নবী (ﷺ) দুব্বা ও মুযাফফাত হতে বারণ করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... ইবরাহীম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আসওয়াদ কে বললাম, আপনি কি আয়িশাহ কে প্রশ্ন করেছিলেন- কোন জিনিসে নবীয প্রস্তুত করা মাকরূহ? তিনি বললেন, হ্যা। আমি তখন বলেছিলাম, হে উম্মুল মুমিনীন! আমাকে বলুন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন জিনিসে নবীয প্রস্তুত করতে বারণ করেছেন। তিনি বললেন, তিনি আমাদের পরিবারের সকলকে বারণ করেছেন, আমরা যেন দুব্বা ও মুযাফফাতে নবীয প্রস্তুত না করি। ইবরাহীম বলেন, আমি আসওয়াদকে বললাম, তিনি [আয়িশাহ্] কি হানতাম ও কলসীর কথা বর্ণনা করেননি? তিনি বললেন, আমি যা শুনেছি, তাই তোমার কাছে বলছি। সেটিও কি তোমার কাছে বলতে হবে যা আমি শুনিনি?
সাঈদ ইবন আমর আশআসী .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) দুব্বা ও মুযাফফাত হতে বারণ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আয়িশাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু বর্ণনা করা হয়েছে।
শাইবান ইবন ফাররূখ .... সুমামাহ ইবন হাযন কুশাইরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ এর সাথে দেখা করে তাকে নবীয সম্বন্ধে প্রশ্ন করলাম। তিনি আমার কাছে উল্লেখ করলেন যে, আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল নবী (ﷺ) এর কাছে আসল এবং তারা নবী (ﷺ) কে নবীয সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি দুব্বা, নাকীর, মুযাফফাত ও হানতাম-এ তাদেরকে নবীয প্রস্তুত করতে বারণ করলেন।
ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দুব্বা, হানতাম, নাকীর ও মুযাফফাত হতে বারণ করেছেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইসহাক ইবন সুওয়াইদ হতে উপরোল্লিখিত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি 'মুযাফফাত' এর জায়গায় 'মুকাইয়্যার' শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও খালাফ ইবন হিশাম .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল কায়সের প্রতিনিধি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসলে তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে দুব্বা, হানতাম, নাকীর এবং মুকাইয়্যার হতে বারণ করছি। হাম্মাদ বর্ণিত হাদীসে 'মুকাইয়্যার' স্থলে 'মুযাফফাত' শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দুব্বা, হানতাম, মুযাফফাত ও নাকীর হতে বারণ করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন- দুব্বা, হানতাম, মুযাফফাত ও নাকীর থেকে এবং কাঁচা-পাকা খেজুর একসাথে মিশিয়ে নবীয প্রস্তুত করা থেকে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দুব্বা, নাকীর ও মুযাফফাত হতে বারণ করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব .... আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কলসীতে নবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) দুব্বা, হানতাম, নাকীর ও মুযাফফাত (এ নবীয বানানো) থেকে নিষেধ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... কাতাদাহ্ হতে উল্লেখিত সূত্রে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (ﷺ) নবীয বানাতে বারণ করেছেন। অতঃপর রাবী উল্লেখিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন।
নাসর ইবন আলী আল-জাহযামী .... আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বারণ করেছেন হানতাম, দুব্বা ও নাকীরের (বানানো নবীয) পান করতে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও সুরায়জ ইবন ইউনুস .... সাঈদ ইবন জুবায়র হতে বর্ণিত। ইবন উমার ও ইবন আব্বাস সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা দু'জনেই সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দুব্বা, হানতাম, মুযাফফাত ও নাকীর (এ নবীয বানানো) হতে বারণ করেছেন।
শাইবান ইবন ফাররূখ .... সাঈদ ইবন জুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কলসীর নবীয সম্বন্ধে ইবন উমর কে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কলসীর নবীযকে নিষিদ্ধ করেছেন। অতঃপর আমি ইবন আব্বাস এর নিকট এসে বললাম, ইবন উমারের কথা কি আপনি শুনেছেন? তিনি বললেন, কি কথা তার? আমি বললাম, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কলসীর নবীয নিষেধ করেছেন। তিনি বললেন, ইবন উমার যথার্থই বলেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কলসীর নবীযকে নিষিদ্ধ করেছেন। আমি বললাম, কলসীর নবীয কি? তিনি বললেন, মাটি দ্বারা যে পাত্র প্রস্তুত হয় সেটাই।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের উদ্দেশে কোন এক যুদ্ধে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। ইবন উমর বলেন, আমি সে দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম। তবে আমি তার কাছে পৌছার আগেই তিনি (অন্যদিকে) চলে গেলেন। আমি (লোকেদের) প্রশ্ন করলাম, তিনি কি বললেন? তারা বললেন, তিনি দুব্বা ও মুযাফফাতে নবীয তৈরি করতে বারণ করলেন।
কুতাইবাহ, ইবন রুমূহ, আবূ রাবী, আবূ কামিল, যুহায়র ইবন হারব, ইবন নুমায়র, ইবন মুসান্না, ইবন আবূ উমার, মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও হারূন আইলী .... উসামাহ্ হতে তাদের প্রত্যেকেই নাফি এর সানাদে ইবন উমার হতে মালিক এর হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মালিক ও উসামাহ্ ভিন্ন অন্য কেউ "কোন এক যুদ্ধে" কথাটি বর্ণনা করেননি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর কে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কলসীর নবীয হতে বারণ করেছেন কি? তিনি বললেন, মানুষের তো তাই ধারণা। আমি বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বারণ করেছেন কি-না? তিনি বললেন, মানুষের তো তাই ধারণা।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব .... তাউস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক ইবন উমার কে বলল, আল্লাহর নবী (ﷺ) কি কলসীর নবীয হতে বারণ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা। অতঃপর তাউস বলেন, আল্লাহর কসম! আমি তা তার নিকট হতে শুনেছি।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, এক লোক তার নিকট এসে বলল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি কলসী ও লাউয়ের খোলে নবীয তৈরি করতে বারণ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাড়ি (কলস) ও দুব্বা (-তে নবীয বানানো) হতে বারণ করেছেন।
আমর আন নাকিদ .... তাউস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমনি মুহুর্তে জনৈক লোক এসে বলল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি কলসী, দুব্বা ও মুযাফফাত এর (বানানো) নবীয হতে বারণ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... মুহারিব ইবন দিসার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হানতাম, দুব্বা ও মুযাফফাত হতে বারণ করেছেন। তিনি বলেন, আমি তার কাছে কয়েকবার শুনেছি।
সাঈদ ইবন আমর আশআসী .... ইবন উমর এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি বলেন, আমার ধারণা তিনি 'নাকীর' এর বিষয়েও বলেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কলসী, দুব্বা, মুযাফফাত হতে বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা নবীয প্রস্তুত করো চামড়া দ্বারা নির্মিত পাত্রে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) হানতাম হতে বারণ করেছেন। সে সময় আমি বললাম, হানতাম কি? তিনি বললেন, কলসী।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... যাযান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর কে বললাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সমস্ত পানীয় হতে বারণ করেছেন সে সম্পর্কে আপনি আপনার ভাষায় আমার কাছে উল্লেখ করুন এবং আমাদের ভাষায় তা বুঝিয়ে দিন। কারণ আপনাদের ভাষা আমাদের ভাষা থেকে ব্যতিক্রম। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বারণ করেছেন হানতাম হতে- হানতাম হলো কলসী এবং দুব্বা থেকে, তা হলো- কদু (এর খোল)। আর মুযাফফাত হতে, তা হলো- আলকাতরা মিশ্রিত পাত্র এবং নাকীর থেকে, তা হলো- খেজুর গাছের নিম্নাংশ, যার ভেতরের অংশ ফেলে দিয়ে পাত্রের মতো করা হয়। আর তিনি চামড়া দ্বারা তৈরি পাত্রে নবীয প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ দাউদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, শুবাহ্ উল্লেখিত সূত্রে আমাদের কাছে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... সাঈদ ইবন মুসাইয়্যিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর কে এ মিম্বারের নিকট বলতে শুনেছি বলে তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মিম্বারের প্রতি ইশারা করেন। আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসলো এবং তাকে মদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে দুব্বা, নাকীর ও হানতাম হতে বারণ করলেন। আমি বললাম, হে আবূ মুহাম্মাদ! মুযাফফাতের কথা? আমরা মনে করলাম, তিনি সম্ভবত ভুলে গেছেন। তিনি বললেন, সেদিন আবদুল্লাহ ইবন উমর এ কথা বলেছেন আমি তা শুনিনি। তবে তিনি সেটাকে পছন্দ করতেন না।
আহমাদ ইবন ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির ও ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) নাকীর, মুযাফফাত ও দুব্বা (-তে নবীয তৈরি করা) হতে বারণ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কলসী, দুব্বা এবং মুযাফফাত (ইত্যাদিতে নবীয তৈরি) হতে বারণ করতে শুনেছি।
আবূ যুবায়র বলেন, আমি জাবির কেও বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বারণ করেছেন কলসী, মুযাফফাত ও নাকীরের (বানানো নবীয পান করতে)।
রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য যে নবীয প্রস্তুত করার জন্য কোন বাসন না পাওয়া গেলে পাথর নির্মিত বাসনে তার জন্য নবীয প্রস্তুত করা হতো।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর জন্য পাথর দ্বারা তৈরি পাত্রে নবীয বানানো হতো।
আহমাদ ইবন ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ..... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য চর্ম দ্বারা তৈরি বাসনে নবীয প্রস্তুত করা হতো। তবে চামড়া নির্মিত বাসন পাওয়া না গেলে পাথর নির্মিত বাসনে তার জন্য নবীয প্রস্তুত করা হতো। সে সময় এক লোক আবূ যুবায়র এর নিকটে জিজ্ঞেস করল আর আমি তা শুনলাম। তিনি বললেন, পাথরের ডেগ? তিনি (আবূ যুবায়র) বললেন, হ্যা পাথরের ডেগ।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মদ ইবন মুসান্না .... মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... বুরাইদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে চর্ম নির্মিত পাত্র ব্যতীত অন্য সব পাত্রেই নবীয প্রস্তুত করা হতে বারণ করেছিলাম। এখন তোমরা সব ধরনের পাত্রেই নবীয প্রস্তুত করে পান করতে পার। কিন্তু নেশা জাতীয় নবীয পান করো না।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... বুরাইদাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে নবীয তৈরি করতে সব রকম পাত্র (ব্যবহার করা) হতে বারণ করেছিলাম। পাত্রগুলো অথবা (তিনি বলেছেন) কোন পাত্র কোন জিনিসকে হালালও করতে পারে না হারামও করতে পারে না। তবে সব ধরনের নেশা জাতীয় জিনিসই নিষিদ্ধ।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... বুরাইদাহ তিনি তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে নিষেধ করেছিলাম চামড়া নির্মিত সব রকম বাসনে (বানানো নবীয) পান করতে। কিন্তু এখন তোমরা সর্বপ্রকার বাসনেই পান করতে পার। তবে নেশা জাতীয় কোন প্রকার জিনিসই বানানো নবীয পান করো না।
আবূ বকর ইবন আবূ শইবাহ ও ইবন আবূ উমর ..... আবদুল্লাহ ইবন আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সকল (চামড়ার ছাড়া) বাসনের নবীয হতে বারণ করলেন, তখন মানুষেরা বলল সবাই তো (চামড়ার বাসন) পায় না। পরে তিনি আলকাতরা মিশ্রিত কলসী ব্যতীত ভিন্ন কলসীর ক্ষেত্রে অনুমতি প্রদান করেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিত'ই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলো। তিনি বললেন, নেশাগ্রস্ত করে এমন সকল প্রকার পানীয়ই নিষিদ্ধ।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া তুজাইবী .... আবূ সালামাহ্ ইবন আবদুর রহমান হতে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশাহ কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিত'ই এ সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলো। তিনি বললেন, নেশা উদ্রেক করে এমন সর্বপ্রকার পানীয়ই নিষিদ্ধ।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবন মানসুর, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবন হারব উয়াইনাহ্ হতে অপর সূত্রে হাসান-হুলওয়ানী, আবদ ইবন হুমায়দ ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম ইবন সা'দ সালিহ্ হতে অন্য সূত্রে ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদ ইবন হুমায়দ .... মা'মার হতে, তারা সবাই যুহরী হতে উক্ত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে সুফইয়ান সালিহ্ এর হাদীসে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে "বিত'ই সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলো"- কথাটি নেই। কিন্তু মা'মার এর কথাটি হাদীসে রয়েছে। আর সালিহ্ এর হাদীসে রয়েছে যে, তিনি [আয়িশাহ্] রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন- সকল প্রকার নেশা উদ্রেককারী পানীয়ই নিষিদ্ধ।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ মূসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে এবং মুআয ইবন জাবাল কে ইয়ামানে প্রেরণ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের অঞ্চলে যব হতে 'মিয়্র' নামক মদ এবং মধু হতে বিত'ই নামক মদ প্রস্তুত করা হয়। তিনি বললেন, সকল প্রকার নেশা উদ্রেককারী জিনিসই নিষিদ্ধ।
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ .... সাঈদ ইবন আবূ বুরদাহ তার পিতা, তিনি দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) তাকে ও মুআয কে ইয়ামানে প্রেরণ করলেন এবং তাদেরকে বললেনঃ তোমরা (মানুষকে) সুসংবাদ দিবে আর (দীনকে) সহজভাবে প্রকাশ করবে, (মানুষকে) দীন শিক্ষা দেবে, কাউকে (দীন থেকে) পৃথক করে দিবে না। আমার ধারণা হয়, তিনি 'একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করবে' কথাটিও বলেছেন। তিনি যাত্রা করলে আবূ মূসা ফিরে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তাদের তো মধু থেকে বানানো মদ আছে যা পাকিয়ে ঘন করা হয় এবং মিযর আছে যা যব দিয়ে প্রস্তুত করা হয়। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যা কিছু নামাজ হতে বিরত করে তা-ই হারাম।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবূ খালাফ .... আবূ বুরদাহ তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ও মুআয কে ইয়ামানে প্রেরণ করে বললেনঃ তোমরা লোকদেরকে (দীনের) আহ্বান করবে, সুখবর দিবে, কাউকে তাড়িয়ে দিবে না। সহজ করবে- কঠিন করবে না। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! ইয়ামানে আমরা দু' রকমের মদ তৈরি করি, আপনি সে ব্যাপারে আমাদেরকে জানান। (১) আল-বিতই, যা মধু পাকিয়ে ঘন করে প্রস্তুত করা হয়; (২) আল-মিযর, যা যব পাকিয়ে ঘন করে তৈরি করা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কিছু শব্দ অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা পূর্ণতার সঙ্গে প্রকাশ করার সামর্থ্য দেয়া হয়েছিল। তিনি বললেনঃ প্রত্যেক নেশাযুক্ত জিনিস যা নামাজ হতে গাফিল করে তা (পান করতে) বারণ করছি।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... জাবির হতে বর্ণিত। 'জাইশান' থেকে জনৈক লোক আসলো। জাইশান ইয়ামানের একটি অঞ্চল। অতঃপর সে নবী (ﷺ) কে তাদের অঞ্চলে তারা শস্য দিয়ে প্রস্তুত 'মিয্র' নামক যে মদ পান করে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করলো। নবী (ﷺ) বললেনঃ এটা কি নেশা তৈরি করে? সে বলল, হ্যা। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ নেশা উদ্রেক করে এমন সবই নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করেছেন, যে লোক নেশাযুক্ত জিনিস পান করবে তাকে তিনি "তীনাতুল খাবাল" পান করিয়ে ছাড়বেন। মানুষেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! তীনাতুল খাবাল কি? তিনি বললেন, জাহান্নামবাসীদের ঘাম বা জাহান্নামবাসীদের মলমূত্র।
আবূ রাবী আতাকী ও আবূ কামিল .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যা কিছু নেশা তৈরি করে তা-ই মদ। আর যা নেশা উদ্রেক করে তাই নিষিদ্ধ। যে লোক দুনিয়াতে মদ পান করবে, আবার সব সময় এ কাজ করে তওবা না করেই মৃত্যুমুখে পতিত হবে, সে আখিরাতে তা পান করতে পারবে না।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবূ বকর ইবন ইসহাক .... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যা কিছু নেশাগ্রস্ত করে তা-ই মদ। আর যা নেশা উদ্রেক করে তা-ই নিষিদ্ধ।
সালিহ্ ইবন মিসমার সুলামী .... মূসা ইবন উকবাহ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... ইবন উমার হতে বর্ণিত। সম্ভবত তিনি নবী (ﷺ) থেকেই বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যে জিনিসে নেশা উদ্রেক করে তাই মদ। আর মদ মাত্রই হারাম।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক পৃথিবীতে মদ পান করবে, পরকালে তাকে তা থেকে বঞ্চিত থাকবে।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে লোক দুনিয়াতে মদ পান করবে এবং তওবা করবে না, পরকালে তাকে তা থেকে বঞ্চিত করা হবে। তাকে তা পান করতে দেয়া হবে না। মালিক কে বলা হলো- হাদীসটি কি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে? তিনি জবাবে বললেন, হ্যা।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র হতে, ভিন্ন সূত্রে ইবন নুমায়র .... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক পৃথিবীতে মদ পান করবে, পরকালে সে তা পান করতে পারবে না। তবে যদি তওবা করে।
ইবন আবূ উমার .... ইবন উমর এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে উবাইদুল্লাহ এর হাদীসের হুবহু বর্ণিত রয়েছে।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আম্বারী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য রাতের প্রথম ভাগে নবীয প্রস্তুত করা হতো। তিনি তা পান করতেন, সেদিন সকালে, আগামী রাতে, পরবর্তী দিনে, এর পরের রাতে এবং পরদিন আসর পর্যন্ত। তবে যদি কিছু পরিশিষ্ট থেকে যেত, তা তিনি তার সেবাদানকারীকে পান করাতেন, কিংবা ফেলে দিতে নির্দেশ দিতেন।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার .... ইয়াহইয়া বাহরানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষেরা ইবন আব্বাস এর কাছে নবীযের ব্যাপারে আলোচনা করলে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য মশকে নবীয প্রস্তুত করা হতো। শুবাহ বলেন, সোমবারের রজনীতে (রোববার দিবাগত রাতে) তিনি তা সোমবার দিন ও মঙ্গলবার আসর পর্যন্ত পান করতেন। এরপরও কিছু বাকী থাকলে তিনি সেটা খাদিমকে পান করাতেন বা ফেলে দিতেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য কিসমিস পানিতে ডুবিয়ে রাখা হতো। তিনি সেদিন, তার পরের দিন এবং তৃতীয় দিন বিকাল পর্যন্ত তা পান করতেন। অতঃপর তার নির্দেশে কোন লোককে পান করানো হতো কিংবা ফেলে দেয়া হতো।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য মশকের ভিতরে কিসমিসের নবীয প্রস্তুত করা হতো। তিনি ঐদিন, তার পরবর্তী দিন এবং পরশু দিন পর্যন্ত তা পান করতেন। তৃতীয় দিনের বিকাল হলে তিনি নিজে তা পান করতেন এবং অপরকে পান করাতেন। তারপরও যদি কিছু বাকী থাকত তিনি তা ঢেলে দিতেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবূ খালাফ .... ইয়াহইয়া নাখ'ঈ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় লোক ইবন আব্বাস কে মদ কেনা-বেচা এবং এর ব্যবসা সম্পর্কে প্রশ্ন করলো। তিনি বললেন, তোমরা কি মুসলিম? তারা বললো, হ্যা। তিনি বললেন, তাহলে এর কেনা-বেচা ও ব্যবসা জায়িয হবে না। রাবী বলেন, অতঃপর তারা তাকে নবীয সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার ভ্রমণে গিয়ে যখন ফিরে আসলেন, তখন তার সাহাবীদের থেকে কতিপয় লোক হানতাম, নাকীর ও দুব্বার মাঝে নবীয প্রস্তুত করছিল। তিনি নির্দেশ দিলে তা ঢেলে ফেলা হয়। অতঃপর তিনি মশক আনতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তার মধ্যে কিসমিস ও পানি দিয়ে সারারাত রাখা হলো। সেদিন সকালে এবং আগামী রাত ও তার পরবর্তী বিকাল পর্যন্ত তিনি তা হতে পান করেন, আর অন্যদের পান করতে দেন। রাত পার হলে তিনি বাকী অংশের ব্যাপারে আদেশ দিলে, তা ঢেলে ফেলা হলো।
শাইবান ইবন ফাররূখ .... সুমামাহ্ ইবন হায্ন কুশাইরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ্ এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে নবীয সম্বন্ধে প্রশ্ন করলাম। আয়িশাহ এক হাবশী ক্রীতদাসীকে ডেকে বললেন, একে প্রশ্ন করে- রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য সে নবীয প্রস্তুত করতো। অতঃপর হাবশী মেয়েটি বলল, রাতে আমি তার জন্য মশকের ভিতরে নবীয প্রস্তুত করতাম এবং সেটি মুখ বন্ধ করে লটকিয়ে রাখতাম। ভোর হলে তিনি এ থেকে পান করতেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না আম্বারী ..... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য নবীয তৈরি করতাম এমন মশকে যার প্রবেশদ্বার উপরের দিকে এবং যেটির (নিচের দিকে) বহু ছিদ্র ছিল। আমরা ডোরে নবীয প্রস্তুত করলে রাত্রেই তিনি পান করতেন। পুনরায় রাতে করলে ভোরেই তিনি পান করতেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সাহল ইবন সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ উসায়দ সাইদী তার বিবাহে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দাওয়াত করলেন। তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীই সেদিন তাদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। সাহল বললেন, তোমরা কি জান, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কী পান করতে দিয়েছিলেন? তিনি রাতে কিছু খেজুর একটি পাথরের পাত্রে ভিজিয়ে রেখেছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) খাবার শেষ করলে তিনি তাকে তা পান করিয়েছিলেন।
কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ .... আবূ হাযিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল কে বলতে শুনেছি যে, আবূ উসায়দ সাইদী রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দাওয়াত করলেন। তারপর রাবী উপরোল্লিখিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন। তবে তিনি এ কথা বলেননি যে, "খাওয়া শেষ হলে সে নবীযটুকু তিনি তাকে পান করান"।
মুহাম্মাদ ইবন সাহল আত-তামীমী .... সাহল ইবন সা'দ থেকে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেছেন, পাথর দিয়ে তৈরি বাসনে (নবীয বানানো হয়েছিল), এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাবার শেষ করলে তিনি তা হালকা করে একমাত্র তাকেই পান করতে দিয়েছিলেন।
মুহাম্মাদ ইবন সাহল আত তামীমী ও আবূ বকর ইবন ইসহাক .... সাহল ইবন সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আরবের জনৈকা মহিলার ব্যাপারে আলোচনা করা হলে, তিনি আবূ উসায়দ কে তার কাছে লোক প্রেরণের জন্য নির্দেশ দিলেন। তিনি লোক (দূত) পাঠালে উক্ত মহিলা আসলো এবং বানু সাইদাহ্ সম্প্রদায়ের দূর্গে অবস্থান গ্রহণ করলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে তার কাছে আসলেন। তিনি যখন তার কাছে পৌছলেন, তখন মহিলা মাথা নীচু করে বসেছিল। তিনি তার সঙ্গে আলাপ করলে সে বলল, আমি আপনার থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। তিনি বললেন, আমিও তোমাকে পরিত্রাণ দিলাম। লোকেরা মহিলাকে বলল, তুমি জান ইনি কে? সে বলল, না। তারা বলল, ইনি তো আল্লাহর রসূল। তিনি তোমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিতে এসেছিলেন। তখন সে বলল, আমি তো এর অযোগ্য! সাহল বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেদিন প্রত্যাবর্তন করে তিনি ও তার সাহাবীগণ বানু সাইদার সাকীফায় (বাগানে) নিজেকে উপবেশন করেন। অতঃপর তিনি সাহলকে বললেন, আমাদেরকে কিছু পান করাও। সাহল বলেন, পরে আমি এ পেয়ালাটি বের করে তাদের সকলকেই তা হতে পান করিয়েছিলাম। আবূ হাযিম বলেন, সাহল আমাদের সম্মুখে বাটিটি বের করলে আমরা তা হতে পান করলাম। অতঃপর উমার ইবন আবদুল আযীয তা চাইলে, তিনি তাকে সেটি দান করেন। আবূ বকর ইবন ইসহাক এর রিওয়ায়াতে আছে, তিনি বললেন, হে সাহল! তুমি আমাদেরকে পান করাও।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ ও যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার এ পেয়ালাটি দিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মধু, নবীয, পানি, দুধ ইত্যাদি সকল প্রকার পানীয় (দ্রব্য) পান করিয়েছি।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আম্বারী .... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর সিদীক বলেছেন, নবী (ﷺ) এর সাথে যখন আমরা মক্কাহ হতে মদীনার দিকে রওনা দিলাম। এক সময় আমরা এক রাখালের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করছিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পিপাসিত হলে আমি তার জন্য কিছু দুধ দোহন করে নিয়ে আসলাম। তিনি তা পান করলে আমি খুব আনন্দিত হলাম।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... বারা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর সিদীক বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মক্কাহ থেকে মদীনার দিকে বের হলেন। তখন সুরাকাহ্ ইবন মালিক ইবন জুশুম তার পশ্চাদ্ধাবন করল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উপর বদদোয়া করলে তার ঘোড়া জমিনে দেবে গেলো। সে বলল, আমার জন্য দোয়া করুন, আমি আপনার কোন ক্ষতি করবো না। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দোয়া করলেন। ...... বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) পিপাসার্ত হলেন এবং তারা এক বকরীর রাখালের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। আবূ বকর সিদীক বলেন, আমি একখানা বাটি নিয়ে রসূলুল্লাহ এর জন্য কিছু দুধ দোহন করে আনলাম। তিনি তা পান করলেন। আমি আনন্দিত হলাম।
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, মিরাজের রাত্রে ঈলিয়া নামক স্থানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে মদ ও দুধের দুটি পেয়ালা নিয়ে আসা হলে তিনি সে দুটির প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন, অতঃপর তিনি দুধ গ্রহণ করলেন। জিবরীল বললেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর- যিনি আপনাকে স্বভাবসুলভ রাস্তা গ্রহণের তাওফীক দিয়েছেন। যদি আপনি মদের পেয়ালা গ্রহণ করতেন তবে আপনার উম্মাত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।
সালামাহ্ ইবন শাবীব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আনা হলো। অতঃপর বর্ণনাকারী উপরোল্লিখিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি ঈলিয়া ব্যাপারটি উল্লেখ করেননি।
যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আবদ ইবন হুমায়দ .... আবূ হুমায়দ সাইদী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাকী' নামক জায়গা হতে এক বাটি দুধ নিয়ে আমি নবী (ﷺ) এর কাছে আসলাম। বাটিটি ছিল ঢাকনাবিহীন। তিনি বললেনঃ তুমি একে ঢাকলে না কেন, এর উপর একটি কাঠি রেখে হলেও? আবূ হুমায়দ বলেন, রাতে মশকের মুখ বেধে রাখতে ও দরজা আটকানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইব্রাহীম ইবন দীনার .... আবূ হুমায়দ হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট এক পেয়ালা দুধ নিয়ে এলেন। পরবর্তী অংশ উপরোল্লিখিত হাদীসের মতই। রাবী বলেন, রাবী যাকারিয়্যা আবূ হুমায়দ এর বর্ণনায় উপরোল্লিখিত রাতে কথাটি উল্লেখ করেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরাযব .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। তিনি কিছু পান করার ইচ্ছা করলে এক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি আপনাকে নবীয পান করতে দিবো? তিনি বললেন, হ্যা। অতঃপর লোকটি তাড়াতাড়ি চলে গেল এবং একটি বাটি নিয়ে আসলো তার মধ্যে নবীয ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন এর উপর একটি কাঠি দিয়ে হলেও তুমি এটি ঢেকে আনলে না কেন? আবূ হুমায়দ বলেন, তারপর তিনি পান করলেন।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুমায়দ নামক এক লোক নাকী' (নামক জায়গা) থেকে এক বাটি দুধ নিয়ে এলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি এটা আবৃত করে আনলে না কেন, এর উপর একটা কাঠি দিয়ে হলেও।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... জাবির হতে বর্ণিত আছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা (রাতে) বাসনগুলো ঢেকে রাখবে, মশকগুলোর প্রবেশদ্বার আটকিয়ে রাখবে, ফটকগুলো বন্ধ করবে এবং বাতিগুলো নিভিয়ে দেবে। কারণ, শয়তান মশকের মুখ ও দরজা খুলতে পারে না এবং বাসনও অনাবৃত করতে পারে না। যদি তোমাদের কেউ তার বাসনের উপর রাখার জন্য কাঠি ছাড়া অন্য কিছু না পায়, তবে সে যেন তাই রেখে দেয় এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। কেননা ইদুর ঘরের মালিকদের ঘর তাড়াতাড়ি জ্বলিয়ে দেয়। কুতাইবাহ তার হাদীসে দরজা আটকাও কথাটি উল্লেখ করেননি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির থেকে হাদীসটি বর্ণিত আছে। তবে তিনি বলেছেন- তোমরা বাসনগুলো উল্টিয়ে বা কাত করে রাখবে অথবা ঢেকে রাখবে। আর তিনি বাসনের উপর কাঠি দেয়ার কথা উল্লেখ করেননি।
আহমাদ ইবন ইউনুস .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা দরজা আটকিয়ে রাখবে। তারপর রাবী লায়স এর হাদীসের মত হুবহু বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, তোমরা বাসনগুলো আবৃত রাখবে। তিনি আরও বলেন, ইদুর ঘরের অধিবাসীদের পোশাক পুড়িয়ে ফেলে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে তাদের হাদীসের হুবহু বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, ইদুর গৃহবাসীদের ঘর জ্বালিয়ে দেয়।
ইসহাক ইবন মানুসূর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রাত্রি যখন ঘনিভূত হবে অথবা বলেছেন, তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হবে তখন তোমরা তোমাদের সন্তানদের দেখে রাখবে। কেননা, শয়তান তখন ঘুরাফেরা করে। রাত্রি ঘণ্টাখানিক পার হলে তাদের ছেড়ে দাও। আর দরজাগুলো আটকিয়ে রাখবে এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করবে। কেননা শয়তান কোন বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। আর তোমরা তোমাদের মশকসমূহের মুখ বেধে রাখবে এবং আল্লাহর নাম মনে করবে। আর তোমাদের বাসনগুলো আবৃত রাখবে, যদি তার উপর একটি কাঠিও রেখে হয় এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করবে। আর তোমাদের বাতিগুলো নিভিয়ে দেবে।
ইসহাক ইবন মানসূর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি আতা এর হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি আল্লাহর নাম স্মরণ করার কথা বর্ণনা করেননি।
আহমাদ ইবন উসমান নাওফালী ..... ইবন জুরায়জ আতা ও আমর ইবন দীনার হতে রাওহ্ এর সানাদের হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আহমাদ ইবন ইউনুস .... অপর সূত্রে ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের গৃহপালিত জন্তু এবং সন্তানিদেরকে সূর্য ডোবার সময় বের হতে দিবে না যতক্ষণ না ইশার কালোর অন্ধকার অতিবাহিত হয়। কারণ সূর্য ডোবার পর থেকে ইশার কালোর অন্ধকার পার হওয়া পর্যন্ত শয়তান ঘুরাফেরা করতে থাকে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির নবী (ﷺ) হতে যুহায়র এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।
আমর আন নাকিদ .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা বাসনগুলো আবৃত রাখবে এবং মশকসমূহের মুখ বেধে রাখবে। কারণ বছরে একটি এমন রাত আছে, যে রাতে মহামারী অবতীর্ণ হয়। যে কোন খোলা পাত্র এবং বন্ধনহীন মশকের উপর দিয়ে তা অতিবাহিত হয়, তাতেই সে মহামারী নেমে আসে।
নাসর ইবন আলী আল-জাহযামী .... লায়স ইবন সা'দ হতে উপরোক্ত সূত্রে হুবহু বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তিনি বলেছেন, 'কেননা বছরে একটি এমন দিন রয়েছে, যে দিনে মহামারী ধেয়ে আসে। বর্ণনাকারী হাদীসের শেষলগ্নে বাড়তি বলেছেন যে, লায়স বলেছেন, আমাদের মাঝে অনারবরা "প্রথম কানুন" মাসে তা থেকে বাচার চেষ্টা করে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, আমর আন্ নাকিদ ও যুহায়র ইবন হারব ..... সালিম সূত্রে তার পিতা হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ঘরে অগ্নি প্রজ্জ্বলন অবস্থায় শায়িত হবে না।
সাঈদ ইবন আমর আশআসী, আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, আবূ আমির আশআরী ও আবূ কুরায়ব .... আবূ মূসা হতে বর্ণিত যে, একবার রাতে মদীনায় ঘরের অধিবাসীসহ একটি বাড়ি পুড়ে গেল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানানো হলে তিনি বললেনঃ এ আগুন তোমাদের শত্রু। অতএব তোমরা রাতে শোয়ার সময় তা নিভিয়ে ফেলবে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব .... হুযাইফাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন খাবার অনুষ্ঠানে যখন আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে উপবিষ্ট হতাম। যতক্ষণ তিনি স্বীয় হাত রেখে আরম্ভ না করতেন ততক্ষণ আমরা আমাদের হাত (আহারে) রাখতাম না। একবার আমরা তার সাথে এক খাবার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলাম। এমনি মুহুর্তে একটি মেয়ে এলো। (মনে হচ্ছিল) যেন তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সে খাবারে হাত দিতে গেলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাত ধরে নিলেন। অতঃপর একজন বেদুঈন এলো। (মনে হচ্ছিল) যেন তাকে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছিল। তিনি তারও হাত ধরে নিলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর নাম স্মরণ করা না হলে শয়তান সে খাদ্যকে হালাল করে ফেলে। আর সে এ মেয়েটিকে নিয়ে এসেছে যাতে করে (এ খাদ্যকে) তার দ্বারা হালাল করতে পারে। অতঃপর আমি তার হাত ধরে ফেললে সে এ বেদুঈনকে নিয়ে এসেছে। যাতে করে (এ খাদ্যকে) তার দ্বারা হালাল করতে পারে। কিন্তু আমি তারও হাত ধরে ফেলেছি। সে সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! অবশ্যই তার (শয়তানের) হাত মেয়েটির হাতসহ আমার হাতের মুঠোয়।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম হান্যালী .... হুযাইফাহ ইবন ইয়ামান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে কোন খাবার উপলক্ষে দাওয়াত করা হতো। অতঃপর বর্ণনাকারী আবূ মুআবিয়াহ্ এর হাদীসের মতই বর্ণনা করেন। আর এ হাদীসে তিনি মেয়েটির আগমনের পূর্বে বেদুঈনের আসার কথা বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসের শেষে অতিরিক্ত বলেছেন, তারপর তিনি "বিসমিল্লাহ" বলেন এবং খাদ্য গ্রহণ করেন।
আবূ বকর ইবন নাফি .... আমাশ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু বর্ণিত আছে। তবে তিনি প্রথমে মেয়েটির আসা ও পরে বেদুঈনের আসার কথা উল্লেখ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না আনাযী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, যখন কোন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশের এবং খাবার গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে, তখন শয়তান হতাশ হয়ে (তার সঙ্গীদের) বলে- তোমাদের (এখানে) রাত্রি যাপনও নেই, খাওয়াও নেই। আর যখন সে প্রবেশ করে এবং প্রবেশকালে আল্লাহর নাম স্মরণ না করে, তখন শয়তান বলে, তোমরা থাকার স্থান পেয়ে গেলে। আর যখন সে খাবারের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ না করে, তখন সে (শয়তান) বলে, তোমাদের নিশি যাপন ও রাতের খাওয়ার আয়োজন হলো।
ইসহাক ইবন মানুসূর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন। তারপর রাবী আবূ আসিম এর হাদীসের মত বর্ণনা করেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ .... জাবির হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা বাম হাতে আহার করবে না। কারণ, শয়তান বাম হাতে আহার করে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমর .... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ খাদ্য খায়, তখন সে যেন ডান হাতে খায় আর যখন পান করে, সে যেন ডান হাতে পান করে। কারণ শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।
কুতাইব ইবন সাঈদ মালিক ইবন আনাস হতে, ভিন্ন সূত্রে ইবন নুমায়র তার পিতা নুমায়র থেকে, অন্য একটি সূত্রে ইবন মুসান্না ইয়াহইয়া আল-কাত্তান হতে, শেষাংশে দু'জন উবাইদুল্লাহ হতে, আর তারা সবাই যুহরী হতে সুফইয়ান এর সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ .... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বাম হাতে পানাহার না করে। কারণ শয়তান বাম হাতে পানাহার করে। রাবী বলেন, নাফি এতে অতিরিক্ত করতেন, বাম হাতে যেন কোন (কিছু আদান-প্ৰদানও না করে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... সালামাহ ইবন আকওয়া হতে বর্ণিত যে, এক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বাম হাতে খাদ্য গ্রহণ করছিল। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ডান হাতে খাও। সে বলল, আমি পারবো না। তিনি বললেনঃ তুমি যেন না-ই পার। শুধুমাত্র অহমিকাই তাকে বারণ করছে। সালামাহ্ বলেন, সে আর কখনো তার ডান হাত মুখের নিকট উঠাতে পারেনি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন আবূ উমার .... উমার ইবন আবূ সালামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তত্ত্বাবধানে ছিলাম। খাবার বাসনে আমার হাত চারপাশে ঘুরত। তিনি আমাকে বললেনঃ হে বালক! তুমি তোমার ডান হাতে খাও এবং নিজের পাশ হতে খাও।
হাসান ইবন আলী হুলওয়ানী ও আবূ বকর ইবন ইসহাক .... উমর ইবন আবূ সালামাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে খাবার খাচ্ছিলাম। আমি বাসনের বিভিন্ন দিক হতে গোশত নিতে লাগলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি নিজের পাশ থেকে ভক্ষণ কর।
আমর আন নাকিদ .... আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বর্তনের মুখে মুখ লাগিয়ে পান করতে বারণ করেছেন।
হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) মশক বাকিয়ে এর মুখে মুখ লাগিয়ে পান করতে বারণ করেছেন।
আবদ ইবন হুমায়ুদ .... যুহরী হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী মা'মার বলেছেন, মশকের মাথা হেলিয়ে তাতে মুখ লাগিয়ে পান করা।
হাদ্দাব ইবন খালিদ .... আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) দাড়িয়ে পান করা হতে শাসন করেছেন।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না .... আনাস হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কোন লোককে দণ্ডায়মান হয়ে পান করতে বারণ করেছেন। কাতাদাহ বলেন, আমরা বললাম, তবে খাবারের ব্যাপারে (আদেশ কি)? তিনি বললেন, সেটা তো আরো নিকৃষ্ট, আরো জঘন্য।
কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আনাস এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন। তবে রাবী হিশাম কাতাদাহ্ এর উক্তিটি বর্ণনা করেননি।
হাদ্দাব ইবন খালিদ .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) দাড়িয়ে পান করা হতে কঠিনভাবে সাবধান করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়িয়ে পান করতে বারণ করেছেন।
আবদুল জাব্বার ইবন আলা .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কখনো দাড়িয়ে পান না করে। কেউ ভুলে পান করলে সে যেন পরে বমি করে ফেলে।
আবূ কামিল জাহদারী .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে যমযম হতে পানি পান করিয়েছি। তিনি দাড়িয়ে তা পান করলেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত রয়েছে যে, নবী (ﷺ) যমযম কুয়া হতে ছোট বালতি দ্বারা পানি উঠিয়ে দাড়িয়ে পান করেছেন।
সুরায়জ ইবন ইউনুস, ইয়াকুব দাওরাকী ও ইসমাঈল ইবন সালিম .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়িয়ে যমযম হতে পানি পান করেছেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে যমযম হতে (পানি) পান করিয়েছি। তিনি দাড়ানো অবস্থায় পান করেছেন এবং তিনি পানি চেয়ে লোক পাঠালেন, তখন তিনি বাইতুল্লাহর নিকটে ছিলেন।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... শুবাহ হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তাদের দু'জনের হাদীসে রয়েছে- আমি তার নিকট বালতি নিয়ে আসলাম'।
ইবন আবূ উমার .... আবূ কাতাদাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) পানপাত্রের মধ্যে শ্বাস ফেলতে বারণ করেছেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আনাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (যখন পান করতেন) তিনবার পাত্রে (পাত্রের বাইরে) শ্বাস নিতেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও শাইবান ইবন ফাররূখ .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পান করার সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনবার নিঃশ্বাস নিতেন এবং বলতেন, এতে করে ভালভাবে প্রশান্তি লাভ হয়, তৃষ্ণার্তের কষ্ট লাঘব হয় এবং খুব আরামে গলধঃকরণ হয়। আনাস বলেন, আমিও পান করার সময় তিনবার নিঃশ্বাস নিয়ে থাকি।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ... আনাস এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু বর্ণনা করেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পানি মেশানো কিছু দুধ আনা হলো। তার ডান দিকে একজন বেদুঈন ছিল, বাম দিকে ছিলেন আবূ বকর। তিনি পান করলেন। অতঃপর বেদুঈনকে দিয়ে বললেনঃ ডান থেকে, ডানে হওয়া করণীয়।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আম্র আন নাকিদ যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন মদীনায় আসেন তখন আমার বয়স ছিল দশ বছর। তিনি যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন আমার বয়স বিশ বছর। আমার মা খালাগণ আমাকে তার সেবা করার জন্য প্রেরণা দিতেন। একবার তিনি আমাদের গৃহে আসলেন, আমরা তার জন্য পালিত বকরীর দুধ দোহন করলাম, গৃহের একটি কুয়া থেকে অল্প পানি মেশানো হলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পান করলেন। তার বাম দিকে আবূ বকর ছিলেন। উমর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আবূ বকর কে দিন। কিন্তু তিনি তার ডান পাশের বেদুঈনকে দিলেন এবং বললেনঃ ডান দিক হতে, ডানের হক বেশি।
ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ইবন হুজুর ও আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের গৃহে আগমন করে কিছু পান করতে ইচ্ছা করলেন। আমরা তার জন্য একটি ছাগলের দুধ দোহন করলাম। তারপর আমি আমার এ কুপ হতে কিছু পানি দুধের সাথে মেশালাম। তিনি (আনাস) বলেন, অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পান করলেন। আবূ বকর তার বাম পাশে ছিলেন। উমর তার সম্মুখে আর তার ডান দিকে ছিল এক বেদুঈন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন পান করা শেষ করলেন, তখন উমর আবূ বকরকে দেখিয়ে তাকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ তো আবূ বকর (তাকে দিন)। কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ বকর ও উমর কে (আগে) না দিয়ে সে বেদুঈনকে দিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আগে ডান পাশের মানুষদের। ডান পাশের মানুষদের, ডান পাশের লোকদেরই বেশি হক রয়েছে। আনাস বলেন, অতএব এটা সুন্নাত, এটা সুন্নাত, এটা সুন্নাত।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সাহল ইবন সা'দ সাইদী হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কিছু পানীয় আনা হলে তিনি সামান্য পান করলেন। তার ডান পাশে ছিল একটি ছেলে আর বাম পাশে কিছু বৃদ্ধ মানুষ। তিনি ছেলেটিকে বললেন, তুমি কি তাদেরকে দেয়ার জন্য আমাকে অনুমতি দিবে? ছেলেটি বলল, না। আল্লাহর শপথ। আপনার নিকট হতে যা পাওনা আমার ভাগে (তাতে) আমি অন্য কাউকে প্রাধান্য দিব না। আনাস বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) দুধের বাটি তার হাতেই তুলে দিলেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... সাহল ইবন সা'দ এর সনাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু বর্ণনা করেছেন। তারা দুজনেই (তার হাতে দিলেন) শব্দটি বর্ণনা করেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ, ইসহাক ইবন ইব্রাহীম ও ইবন আবূ উমর .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন আহার করে, সে যেন তার হাত মুছে না ফেলে যতক্ষণ না সে তা চেটে খায় বা অপরকে দিয়ে চাটায়।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ, আবদ ইবন হুমায়দ ও যুহায়র ইবন হারব .... ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ আহার করে, সে যেন স্বীয় হস্ত মুছে না ফেলে যতক্ষণ না সে তা নিজে চেটে খায় কিংবা অপরকে দিয়ে চাটায়।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ..... কা'ব ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার আঙ্গুল তিনটি হতে খাবার চেটে খেতে দেখেছি। কিন্তু ইবন হাতিম (তিন) শব্দটি উল্লেখ করেননি। আর ইবন আবূ শাইবাহ তার বর্ণনায় আব্দুর রহমান ইবন কা'ব তার পিতা হতে সূত্রটির কথা বলেছেন।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... কা'ব ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তিন আঙ্গুলে খাবার খেতেন এবং হাত মুছার আগে তা চেটে খেতেন।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... কা'ব হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তিন আঙ্গুলে খাবার খেতেন এবং খাবার শেষ করে আঙ্গুলগুলো চেটে খেতেন।
আবূ কুরায়ব .... কা'ব ইবন মালিক এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জাবির হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আজুল ও বাসন চেটে খেতে নির্দেশ করেছেন। আর তিনি বলেছেনঃ (খাদ্যের) কোন অংশে বারাকাত আছে তা তোমরা জান না।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো লোকমা পড়ে গেলে সে যেন তা তুলে নেয়। তারপর তাতে যে আবর্জনা স্পর্শ করেছে তা যেন দূরীভূত করে এবং খাদ্যটুকু খেয়ে ফেলে। শয়তানের জন্য সেটি যেন ফেলে না রাখে। আর তার আঙ্গুল চেটে না খাওয়া পর্যন্ত সে যেন তার হাত রুমাল দিয়ে মুছে না ফেলে। কেননা সে জানে না খাদ্যের কোন অংশে বারাকাত রয়েছে।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... সুফইয়ান হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন। তাদের দু'জনের হাদীসে আছে, সে ব্যক্তি যেন তার হাত রুমাল দিয়ে মুছে না ফেলে, যতক্ষণ না সে তার নিজের হাত চেটে খায় কিংবা অপরকে দিয়ে চাটায়। ..... পরবর্তীতে বাকী অংশ উল্লেখ করেছেন।
উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, শয়তান তোমাদের সকল কাজ-কর্মে উপস্থিত হয়। এমনকি তোমাদের কারো খাবারের সময়ও সে উপস্থিত হয়। সুতরাং তোমাদের যদি কারো লোকমা মাটিতে পড়ে যায়, সে যেন তাতে লেগে যাওয়া আবর্জনা সরিয়ে তা খেয়ে ফেলে। শয়তানের জন্য যেন ফেলে না রাখে। খাবার শেষে সে যেন তার আঙ্গুলগুলো চেটে খায়। কেননা সে জানে না, তার খাদ্যের কোন অংশে বারাকাত (কল্যাণ) রয়েছে।
আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম দু'জনই আবূ মুআবিয়াহ্ হতে, তিনি আমাশ হতে উপরোক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, "যখন তোমাদের কারো লোকমা পড়ে যায়, .... হাদীসের শেষ পর্যন্ত। তবে আবূ মুআবিয়াহ্ হাদীসের প্রথমাংশ "শইতান তোমাদের প্রতিটি কাজে-কর্মে উপস্থিত হয়"- কথাটি উত্থাপন করেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে চেটে খাওয়ার ব্যাপারে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ সুফইয়ান জাবির এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। তিনিও তাদের উভয়ের হাদীসের ন্যায় লোকমার কথা বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আবূ বকর ইবন নাফি আবদী .... আনাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন খাদ্য খেতেন তখন তার আঙ্গুল তিনটি চেটে খেতেন এবং তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কারো লোকমা যদি মাটিতে পড়ে যায় তবে সে যেন তা হতে ময়লা দূর করে এবং খাবারটুকু খেয়ে ফেলে, তা যেন শয়তানের জন্য রেখে না দেয়। আর তিনি আমাদের বাসন মুছে খেতে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, 'কারণ তোমরা জান না, তোমাদের খাবারের কোন অংশে কল্যাণ রয়েছে'।
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম .... আবূ হুরাইরাহ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন খাবার খায়, সে যেন তার আঙ্গুলগুলো চেটে খায়। কারণ সে জানে না খাদ্যের কোন অংশে বারাকাত রয়েছে।
আবূ বকর ইবন নাফি .... হাম্মাদ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত। তবে তিনি বলেছেন, তোমাদের সবাই যেন বাসন চেটে খায়। আর তিনি (ﷺ) বলেছেন, তোমরা জান না তোমাদের কোন খাদ্যে বারাকাত রয়েছে অথবা কোন খাদ্যে বারাকাত দেয়া হয়।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ মাসউদ আনসারী হতে বর্ণিত। আবূ শুআয়ব নামধারী এক আনসারী ব্যক্তি ছিল। তার একজন কসাই দাস ছিল। লোকটি একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখে তার অবয়বে ক্ষুধার আভাস অনুভব করলো। পরে তার গোলামকে বলল, তোমার কল্যাণ হোক আমাদের পাচজনের জন্য তুমি খাবার তৈরি করো। কেননা আমি পঞ্চম ব্যক্তি হিসেবে নবী (ﷺ)-কে দাওয়াত দিতে ইচ্ছা পোষণ করেছি। তখন সে খাবার তৈরি করলো। তারপর লোকটি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে তাকে সহ পাচজনকে দাওয়াত দিল। জনৈক লোক তাদের পিছে অনুসরণ করলো। দরজা পর্যন্ত পৌছলে নবী (ﷺ) বললেনঃ এ লোকটি আমাদের পিছু পিছু এসেছে। তুমি চাইলে তাকে অনুমতি দিতে পার, আর যদি ইচ্ছা কর তবে সে প্রত্যাবর্তন করবে। লোকটি বলল, না। বরং আমি তাকে অনুমতি দিচ্ছি, হে আল্লাহর রসূল!
আবূ বকর ইবন আবূ শইবাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম নাসর ইবন আলী জাহযামী, আবূ সাঈদ আশাজ্জ, উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয ও আবদুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান দারিমী .... আবূ মাসউদ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে জারীর এর হাদীসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু নাসর ইবন আলী পুরো সানাদ 'হাদ্দাসানা' দিয়ে বর্ণনা করেছেন এবং পুরো হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন জাবালাহ্ ইবন আবূ রাওওয়াদ .... জাবির হতে, ভিন্ন সূত্রে সালামাহ্ ইবন শাবীব .... আবূ মাসউদ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
যুহায়র ইবন হারব .... আনাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একজন ইরানী প্রতিবেশী ভাল সালুন রান্না করতে পারতো। একদা সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য সামান্য খাবার তৈরি করে তাকে দাওয়াত করতে আসলো। তিনি আয়িশাহ এর দিকে ইশারা করে বললেন এই যে, আয়িশাহ আছেন। সে বলল, না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ (তাহলে আমিও) না। লোকটি আবার তাকে দাওয়াত করলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইনিও [আয়িশাহ]? সে বলল, না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ (তাহলে আমিও) না। এরপর সে পুনরায় তাকে দাওয়াত করতে আসলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইনিও? লোকটি তৃতীয়বারে বলল, হ্যা। তারপর তারা উভয়েই দাড়ালেন এবং একজনের পিছনে আরেকজন চলে তার গৃহে এসে পৌছলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক দিনে কিংবা রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) (তার বাড়ী থেকে) বের হয়ে আবূ বকর ও উমার কে দর্শন করলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, এ সময় কিসে তোমাদের গৃহ হতে বের করেছে? তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! উপবাসের যন্ত্রণায়। তিনি (ﷺ) বললেন, যে মহান আল্লাহর হাতে আমার জীবন, তার কসম, যা তোমাদের বের করে এনেছে, আমাকেও তা-ই বের করে এনেছে, চলো। তারা উভয়ে তার সাথে চলতে লাগলেন। তারপর তিনি এক আনসারীর গৃহে এলেন তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার সহধর্মিণী তাকে (রসূলুল্লাহ (ﷺ)) দেখে বলল, 'মারহাবা ওয়া আহলান' রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে প্রশ্ন করলেন, অমুক কোথায়? স্ত্রীলোকটি বলল, তিনি আমাদের জন্য মিষ্ট পানি আনতে গেছেন। তখনই আনসারী ব্যক্তিটি উপস্থিত হয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার দু' সাথীকে দেখতে পেয়ে বললেন, আল্লাহর প্রশংসা, আজ মেহমানের দিক হতে আমার থেকে সৌভাগ্যবান আর কেউ নেই। তারপর সে গিয়ে একটি খেজুরের ছড়া নিয়ে আসলেন। তাতে কাঁচা, পাকা ও শুকনা খেজুর ছিল। তিনি বললেন, আপনার এ ছড়া থেকে খান। এরপর তিনি ছুরি নিলেন (ছাগল যাবাহ করার জন্য) তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, সাবধান, দুধওয়ালা বকরী যাবাহ করবে না। অতঃপর তাদের জন্য (বকরী) যাবাহ করলে তারা বকরীর গোশত ও কাঁদির খেজুর খেলেন এবং (মিঠা) পানি পান করলেন। তারা সকলে ক্ষুধা মিটালেন ও পরিতৃপ্ত হলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আবূ বকর ও উমর কে কেন্দ্র করে বললেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জীবন, তার কসম! কিয়ামতের দিন এ নিআমাত সম্বন্ধে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে। ক্ষুধা তোমাদের বাড়ি হতে বের করে এনেছে অথচ তোমরা এ নিআমাত লাভ না করে ফিরে যাওনি।
ইসহাক ইবন মানসূর .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ বকর বসে ছিলেন। তার সাথে উমর-ও ছিলেন। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের পাশে এসে বললেনঃ কোন জিনিস তোমাদের এ স্থানে বসিয়ে রেখেছে? তারা বললেন, সে আল্লাহর কসম! যিনি আপনাকে সত্য দীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন। ক্ষুধা আমাদের ঘর থেকে আমাদের বাইরে নিয়ে এসেছে। অতঃপর বর্ণনাকারী খালাফ ইবন খলীফা এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন।
হাজ্জাজ ইবন শাইর .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (খন্দক যুদ্ধের প্রাক্কালে) পরিখা খোড়ার সময় আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দেহে ক্ষুধার যন্ত্রণা লক্ষ্য করলাম। অতঃপর আমার সহধর্মিণীর নিকট ফিরে এসে তাকে বললাম, তোমার কাছে কিছু আছে কি? কেননা, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে চরম ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখেছি। অতঃপর সে একটি চামড়ার ব্যাগ বের করলো, যার মধ্যে এক সা' পরিমাণ যব ছিল। আর আমাদের একটা গৃহপালিত বকরী ছিল। আমি ওটা যাবাহ করলাম, আর স্ত্রী যবগুলো ভালভাবে পিষে নিল। আমার কাজ সম্পাদনের সঙ্গে সঙ্গে সেও তার কাজ শেষ করলো। আমি (রান্নার জন্য) গোশত কেটে ডেগচিতে রাখলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে ফিরে এলাম। (যাওয়ার সময়) আমার স্ত্রী আমাকে বলল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সাথীদের দিয়ে তুমি আমাকে লাঞ্ছিত করো না। তিনি বলেন, তারপর আমি তার নিকট এসে চুপি চুপি তাকে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা একটি বকরী যাবাহ করেছি আর আমাদের এক সা' পরিমাণ যব ছিল আমার স্ত্রী তাই পিষে নিয়েছে। সুতরাং আপনি কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আসুন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) দরাজকণ্ঠে বললেন, হে পরিখা খননকারীরা জাবির তোমাদের জন্য কিছু খাবার তৈরি করেছে। তোমরা সকলে চলো। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) (আমাকে) বললেন; আমি না আসা পর্যন্ত তোমাদের ডেগ (চুলা থেকে) নামাবে না এবং খামীর দ্বারা রুটি প্রস্তুত করবে না। আমি আসলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) মানুষদের আগে আগে আসলেন। আমি আমার স্ত্রীর নিকট এলে সে আমাকে (তিরস্কার করে) বলল, তোমার ধ্বংস হোক, তোমার ধ্বংস হোক। আমি বললাম, আমি তাই করেছি, তুমি যা আমাকে বলেছিলে। অতঃপর সে খামীরগুলো বের করলো। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার মধ্যে একটু লালা দিলেন এবং বারাকাতের দোয়া করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, রুটি প্রস্তুতকারিণীকে ডাক, যে তোমার সঙ্গে রুটি প্রস্তুত করবে। আর তুমি পাতিল হতে পেয়ালা ভরে ভরে নিবে। আর ডেগ (চুল্লি হতে) নামাবে না। তারা ছিলেন মোট এক হাজার মানুষ। আল্লাহর নামে শপথ করছি। তারা সকলে খাবার খেলেন। পরিশেষে তারা তা রেখে এমনভাবে ফিরে গেলেন যে, আমাদের ডেগ আগের মতো উতলিয়ে পড়ছিল। আর আমাদের খামীর পূর্বের মতো রুটি প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) আবূ তালহাহ উম্মু সুলায়ম কে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দুর্বল শব্দ শ্রবণ করে বুঝতে পেরেছি যে, তিনি ক্ষুধার্ত। তাই তোমার কাছে কিছু আছে কি? তিনি বললেন, হ্যা। তিনি যবের কয়েক খন্ড রুটি বের করলেন। তারপর তার ওড়না নিলেন এবং এটির একাংশ দিয়ে রুটিগুলো পেচিয়ে আমার কাপড়ের তলায় গুজে দিলেন এবং অপর অংশ আমার দেহে জড়িয়ে দিলেন। অতঃপর আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে প্রেরণ করলেন। তিনি (আনাস) বলেন, আমি এগুলো নিয়ে এসে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখতে পেলাম তিনি মসজিদে বসে আছেন। তার সাথে আরো মানুষ ছিলেন। আমি তাদের নিকট গিয়ে দাড়ালাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাকে আবূ তালহাহ প্রেরণ করেছে? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেন, খাওয়ার ব্যাপারে? আমি বললাম, হ্যা। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাথীদের বললেন, সবাই চলো। আনাস বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) গেলেন। আর আমি তাদের সামনে চলতে লাগলাম। পরিশেষে আমি আবূ তালহাহ্-এর কাছে এসে তাকে (ঘটনা) খবর দিলাম। তখন আবূ তালহাহ বললেন, হে উম্মু সুলায়ম! রসূলুল্লাহ (ﷺ) তো লোকদের নিয়ে আসছেন, অথচ আমাদের কাছে সে পরিমাণ খাদ্য নেই যা দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করতে পারি। উম্মু সুলায়ম বললেন, (তুমি উদ্বিগ্ন হয়ে না) আল্লাহ এবং তার রসূলই ভাল জানেন। আনাস বলেন, তারপর আবূ তালহাহ্ যেয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে দেখা করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাথে এসে (উভয়ে) ঘরে ঢুকলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু সুলায়ম-কে লক্ষ্য করে বললেন, হে উম্মু সুলায়ম! তোমার কাছে যা আছে নিয়ে আসো। তিনি সে রুটিগুলো তার সাথে করে নিয়ে আসলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দান করলে সেগুলো টুকরা টুকরা করা হলো। আর উম্মু সুলায়ম চামড়া দ্বারা তৈরি ঘি-এর পাত্রটি চিপে সেটি সালুন হিসেবে দিলেন। আর এর ভিতরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছু পড়লেন। অতঃপর বললেন, দশজনকে আসতে বলো। তাদের ডাকা হলে তারা এসে তৃপ্তির সাথে খাবার খেয়ে বেরিয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আরো দশজনকে আসতে বলে। তাদের ডাকা হলে তারা পেট ভরে খেয়ে চলে গেলেন। পুনরায় তিনি বললেন, দশজনকে ডাক। এভাবে দলের সকলে পেটপুরে খাবার খেলেন। সত্তর কিংবা আশিজন লোক তাদের দলে ছিল।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও ইবন নুমায়র .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহাহ কিছু খাদ্যের ব্যবস্থা করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দাওয়াত করার জন্য আমাকে প্রেরণ করলেন। আমি তার নিকট গেলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সাথীদের সাথে ছিলেন। তিনি আমার প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। আমি লজ্জার সাথে বললাম, আপনি আবূ তালহার দাওয়াত কবুল করুন। তখন তিনি লোকদের বললেনঃ তোমরা সবাই চলো। আবূ তালহাহ্ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো শুধুমাত্র আপনার জন্য সামান্য খাবার ব্যবস্থা করেছি। আনাস বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) খাবারগুলো ছুয়ে দেখলেন এবং এতে বারাকাতের দোয়া করলেন। অতঃপর বললেন, আমার সাথীদের থেকে দশজনকে ঘরে নিয়ে এসো। তিনি তাদের বললেন, তোমরা খেতে থাকো। তিনি তাদের জন্য তার আঙ্গুলের মধ্য থেকে কিছু বের করে দিলেন। তারা সকলে তৃপ্তিসহ খাওয়ার পর বেরিয়ে গেলেন। অতঃপর বললেন, আরো দশ জনকে ঘরে নিয়ে এসো। তারাও আহার শেষে বের হয়ে গেলেন। এভাবে দশজন ঘরে প্রবেশ করে এবং দশজন বের হয়ে যায়। এমনকি তাদের মাঝ থেকে একজনও বাকী থাকেনি যে ঘরে ঢুকেনি। অতঃপর তিনি পাত্র খুলে দেখলেন, সকলে আহার করার পূর্বে যেমন ছিল এখনও ঠিক তেমনি আছে।
সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া উমাবী .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহাহ আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রেরণ করলেন। রাবী ইবন নুমায়র এর হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন। তবে হাদীসটির শেষাংশে তিনি বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বাকী অংশ জমা করে এতে বারাকাতের প্রার্থনা করলেন। আনাস বলেন, ফলে তা (পূর্বে) যেমনি ছিল আবার তেমনি হয়ে গেল এবং তিনি বললেনঃ এবার তোমরা নাও।
আমর আন নাকিদ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একমাত্র নবী (ﷺ) এর জন্য খাবার তৈরি করতে আবূ তালহাহ্ উম্মু সুলায়ম কে আদেশ করলেন। অতঃপর তিনি আমাকে তার কাছে প্রেরণ করলেন। অতঃপর রাবী শেষ পর্যন্ত হাদীসটি রিওয়ায়াত করেন। এ হাদীসে তিনি বলেছেন, অতঃপর নবী (ﷺ) তাতে হাত রাখলেন এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করলেন। অতঃপর বললেন, দশজনকে ডাকো। তাদের ডাকলে তারা ঘরে ঢুকলো। তিনি বললেন, তোমরা বিসমিল্লাহ (আল্লাহর নামে) বলে খাওয়া শুরু করো। তারা আহার করলো। এভাবে আশিজনের সাথে এ রকম করলেন। সবশেষে নবী (ﷺ) ও ঘরের লোকেরা খাবার খেলেন এবং কিয়দংশ রেখে গেলেন।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আনাস ইবন মালিক এর সানাদে আবূ তালহাহ এর খাবারের এ বর্ণনাটি নবী (ﷺ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন। এর মধ্যে রাবী বলেছেন, তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আগমনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আবূ তালহাহ্ দরজায় দাড়িয়ে থাকলেন। তারপর তাকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এতো কিছু মাত্র (অল্প খাবার)। তিনি বললেন, তাই নিয়ে আসো। আল্লাহ অবশ্যই এতে বারাকাত দান করবেন।
আবদ ইবন হুমায়দ .... আনাস ইবন মালিক সূত্রে নবী (ﷺ) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে বর্ণনাকারী বলেছেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) খাবার খেলেন। ঘরের অধিবাসীরাও খাবার খেলো এবং তারা তাদের প্রতিবেশীদের কাছে পৌছানোর জন্যও কিয়দংশ রাখলেন।
হাসান ইবন আলী হুলওয়ানী .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মসজিদে শয়ন করে ও পিঠ উপর-নিচ করতে দেখলেন। তখন তিনি উম্মু সুলায়ম এর সন্নিকটে এসে বললেন। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মসজিদে শয়ন করে পেট ও পিঠ উপর-নিচ করতে লক্ষ্য করেছি। আমার ধারণা হলো, তিনি ক্ষুধার্ত। তারপর রাবী শেষ পর্যন্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। এতে তিনি বলেছেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ), আবূ তালহাহ, উম্মু সুলায়ম ও আনাস খাবার খেলেন। সামান্য অবশিষ্ট রয়ে গেলে আমরা সেটা প্রতিবেশীদের কাছে উপটৌকন প্রেরণ করলাম।
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া তুজীবী .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে তাকে দেখলাম, তিনি সাহাবীদের সাথে বসে আলোচনায় রত আছেন এবং তিনি তার পেট একটি কাপড়ের টুকরো দিয়ে বেধে রেখেছেন। বর্ণনাকার উসামাহ্ বলেন, পাথরসহ ছিল কি-না, এতে আমার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে। আমি তার কোন এক সাহাবীকে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পেট কেন বেধে রেখেছেন? তারা বললেন, ক্ষুধার তাড়নায়। তারপর আমি আবূ তাহাহ্ এর কাছে গেলাম। তিনি উম্মু সুলায়ম বিনতু মিলহান এর স্বামী ছিলেন। আমি বললাম, আব্বা! আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রত্যক্ষ করলাম, তিনি বস্ত্র দ্বারা তার পেট বেধে রেখেছেন। আমি তার এক সাহাবীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বললেন, ক্ষুধার যন্ত্রণায়। অতঃপর আবূ তালহাহ আমার মায়ের নিকট গিয়ে বললেন, কিছু আছে কি? তিনি বললেন, হ্যা; আমার কাছে কয়েক টুকরা রুটি আর কিছু খেজুর আছে। যদি রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের ঘরে একাকী আসেন, তাহলে আমরা তাকে তৃপ্তি সহকারে আহার করাতে পারি। আর যদি ভিন্ন কেউ তার সাথে আসে তাহলে তাদের সামান্য হবে। অতঃপর বর্ণনাকারী ঘটনাসহ পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
হাজ্জাজ ইবন শাইর ..... আনাস ইবন মালিক এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আবূ তালহার আহারের ব্যাপারে তাদের (উপরোল্লিখিত রাবীদের) হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক দর্জি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য কিছু খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে দাওয়াত করলো। আনাস ইবন মালিক বলেন, সে দাওয়াতে আমিও রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে গেলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে যবের রুটি, ঝোল বিশিষ্ট লাউ ও শুকনা গোশত পেশ করা হলো। আনাস বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে লক্ষ্য করলাম, তিনি থালার চারপাশে থেকে লাউ সন্ধান করছেন। সেদিন থেকে আমিও লাউ পছন্দ করতে লাগলাম।
মুহাম্মাদ ইবন আলা, আবূ কুরায়ব .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দাওয়াত করলো। আমিও তার সাথে গেলাম। তরকারি আনা হলো যাতে লাউ ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) সে লাউগুলো খেতে লাগলেন। লাউ তার নিকট ভাল লাগছিল। তিনি বলেন, এ অবস্থা দেখে স্বয়ং আমি না খেয়ে এগুলো তার নিকট বাড়িয়ে দিতে লাগলাম। আনাস বলেন, তারপর থেকে সব সময় লাউ আমার প্রিয় খাবার হয়ে যায়।
হাজ্জাজ ইবন শাইর ও আব্দ ইবন হুমায়দ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত যে, এক দর্জি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দাওয়াত করলো। রাবী অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, সাবিত বলেছেন, আমি আনাস কে বলতে শুনেছি যে, অতঃপর আমার জন্য যদি আহার তৈরি করা হতো এবং এতে আমি লাউ দিতে সমর্থ হলে তাই করা হতো।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না আনায়ী .... আবদুল্লাহ ইবন বুসর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার আব্বার কাছে আসলেন। আমরা তার সম্মুখে কিছু খাবার ও ওয়াত্বাহ (খেজুর চূর্ণ, পনির ও ঘি যোগে তৈরি এক প্রকার খাদ্য) পেশ করলাম। তিনি তা হতে খেলেন। অতঃপর খেজুর নিয়ে আসলে তিনি তা খেতে লাগলেন। আর বিচিগুলো মধ্যমা ও শাহাদাত অঙ্গুলি একত্র করে দোয়াঙ্গুলের মাঝখান দিয়ে ফেলতে লাগলেন। শুবাহ বলেন, এটা আমার অনুমান। তবে ইনশা আল্লাহ এতে দোয়াঙ্গুলের মাঝখান দিয়ে বীজ ফেলার কথাটি আছে। অতঃপর তার নিকট সুপেয় আনা হলে তিনি তা পান করেন। পরে তিনি তার ডান পাশের লোককে দিলেন। আবদুল্লাহ ইবন বুসূর বলেন, অতঃপর আমার আব্বা তার সওয়ারীর লাগাম ধরে বললেন, আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন। তখন তিনি বললেন, ইয়া আল্লাহ! তুমি তাদের রিযকে বারাকাত দাও, তাদের ক্ষমা করো এবং তাদের প্রতি দয়া করো।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... শুবাহ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তারা দু'জনেই দোয়াঙ্গুলের মধ্য দিয়ে বিচি ফেলে দেয়ার ব্যাপারে শুবাহর সন্দেহে কথা উল্লেখ করেননি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী ও আবদুল্লাহ ইবন আওন হিলালী ..... আবদুল্লাহ ইবন জাফার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সতেজ খেজুরের সঙ্গে শশা খেতে লক্ষ্য করেছি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও আবূ সাঈদ আশাজ .... আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে জানুদ্বয় উচ্চে তুলে উপরি বৈঠকে খেজুর খেতে লক্ষ্য করেছি।
যুহায়র ইবন হারব ও ইবন আবূ উমর .... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শুকনা খেজুর আনা হলে তিনি তা ভাগ করতে লাগলেন এবং স্বয়ং জানুদ্বয় তুলে উপর বৈঠক অবস্থায় জলদি এগুলো থেকে আহার করছিলেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবালাহ ইবন সুহায়ম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন যুবায়র আমাদেরকে খাদ্য হিসেবে খেজুর দিতেন। তৎকালীন সময় লোকেরা অনাহারে পতিত হয়েছিল। আমরা তাই খেয়ে থাকতাম। একবার আমরা খাবার খাচ্ছিলাম। তখন ইবন উমর আমাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, তোমরা একাধিক খেজুর এক সঙ্গে খেও না। কেননা, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সাথে একাধিক খেজুর খেতে বারণ করেছেন। তবে যদি কেউ তার (সাখী) ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে নেয় (তাহলে খেতে পারে)। শুবাহ বলেন, আমার ধারণা হয়, অনুমতি নেয়ার কথাটা ইবন উমর এরই কথা।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয মুহাম্মাদ ইবন বাশশার শুবাহ্ হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের হাদীসে (অনুমতি সম্পর্কে) শুবাহ এর কথা এবং জাবালাহ্ এর এ কথা নেই যে, তখন মানুষ অনাহারে পতিত হয়েছিল।
যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবালাহ্ ইবন সুহায়ম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সাথীদের অনুমতি ব্যতীত কোন লোকের এক সাথে দুটি করে খেজুর ভক্ষণ করা হতে বারণ করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে পরিবারের লোকদের নিকট খেজুর আছে, তারা অনাহার থাকে না।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আয়িশাহ! যে গৃহে খেজুর নেই সে গৃহের মানুষজন ক্ষুধার্ত। হে আয়িশাহ! যে গৃহে খেজুর নেই সে গৃহে মানুষজন ক্ষুধার্ত। এ কথাটি তিনি দু'বার বা তিনবার বলেছিলেন।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ্ ইবন কানাব .... সা'দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক মদীনার উভয় সীমান্তের মধ্যে উৎপাদিত খেজুরের সাতটি করে প্রতি সকালে আহার করে সন্ধ্যা অবধি কোন বিষ তার অনিষ্ট করতে পারে না।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... সা'দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি করে আজওয়া (মদীনায় উৎপন্ন এক জাতীয় উৎকৃষ্ট মানের খেজুর) আহার করে, সেদিন তাকে কোন বিষ বা যাদু অনিষ্ট করতে পারে না।
ইবন আবূ উমার মারওয়ান আল-ফাযারী হতে, ভিন্ন সূত্রে ইসহাক ইবন ইব্রাহীম আবূ বাদ্র শুজা ইবন ওয়ালীদ হতে, তারা দু'জনেই হাশিম ইবন হাশিম হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে তারা উভয়ে আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি উক্তিটি উল্লেখ করেননি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব ও ইবন হুজুর .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মদীনার উচু ভূমির আজওয়াহ খেজুরে শিফা (রোগমুক্তি) রয়েছে। কিংবা তিনি বলেছেন, এগুলো প্রতি সকালে খাবারে বিষমুক্ত ঔষধের কাজ করে।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ জারীর হতে, ভিন্ন সূত্রে ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... সাঈদ ইবন যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, কামআহ মান্না জাতীয়। আর এর নিগৃহীত রস চোখের জন্য উপশম।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ..... সাঈদ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, কামআহ্ মান্না জাতীয় এবং এর রস চোখের জন্য উপশম।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... সাঈদ ইবন যায়দ এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে অবিকল বর্ণিত রয়েছে। শুবাহ্ বলেন, হাকাম যখন আমার নিকট হাদীসটি রিওয়ায়াত করলেন, তখন আমি আবদুল মালিক এর হাদীসটিকে আর "গারীব" (যে হাদীসের সানাদে শুধুমাত্র কোন একজন বর্ণনাকারী থাকে) মনে করলাম না।
সাঈদ ইবন আমর আশআসী .. সাঈদ ইবন যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কামআহ মান্না জাতীয় (উদ্ভিদ) যা বনী ইসরাঈলের উপর আল্লাহ নাযিল করেছিলেন এবং এটা হতে নিগৃহীত রস চোখের উপশম।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... সাঈদ ইবন যায়দ এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কামআহ মান্না জাতীয় (উদ্ভিদ) যা মহান আল্লাহ মূসা এর উপর নাযিল করেছিলেন এবং এর রস চোখের জন্য নিরাময়।
ইবন আবূ উমার .... সাঈদ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কামআহ্ এক প্রকারের মান্না জাতীয় (উদ্ভিদ) যা মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেছিলেন বনী ইসরাঈলের উপর। আর এটির রস চোখের জন্য ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব হারিসী .... সাঈদ ইবন যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কামআহ মান্না জাতীয় এক প্রকার উদ্ভিদ। এর রস চোখের জন্য এক প্রকার ঔষধ।
আবূ তাহির .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে 'মারযুয যাহরান' নামক জায়গায় কাবাস (পিলু ফল) সংগ্রহ করেছিলাম। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তাথেকে শুধু কালোগুলো সংগ্রহ। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সে সময় বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি সম্ভবত বকরী চরিয়েছেন। তিনি বললেন, হ্যা। সকল নবীই বকরী চরিয়েছেন (বর্ণনাকারী বলেন) কিংবা তিনি শুধু এ ধরনের কোন কথা বলেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান দারিমী .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সিরকা তো খুব মজাদার সালুন।
মূসা ইবন কুরায়শ ইবন নাফি তামীমী .... সুলাইমান ইবন বিলাল হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত রয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) তার গৃহের লোকদের নিকট সালুন চাইলে তারা বললো, সিরকা ব্যতীত আমাদের নিকট ভিন্ন কিছু নেই। সে সময় তিনি তাই নিয়ে আসতে বললেন এবং খাওয়ার সময় বললেন, সিরকা কত ভাল তরকারি, সিরকা কত চমৎকার তরকারি!
ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম দাওরাকী .... নাফি হতে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ কে বলতে শুনেছেন যে, একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হাত ধরে স্বীয় ঘরে গেলেন। (খাদেম) এক খণ্ড রুটি তার সম্মুখে পেশ করলে তিনি বললেনঃ কোন তরকারি কি নেই? তারা বলল, না। তবে অল্প কিছু সিরকা রয়েছে। তিনি বললেন, সিরকা তো ভাল তরকারি। জাবির বলেন, আল্লাহর নবী (ﷺ) থেকে এ কথা শুনার পর আমি সিরকা পছন্দ করতে থাকি। তালহাহ্ বলেন, আমিও জাবির এর কাছে এ কথা শুনার পর হতে সিরকা পছন্দ করতে লাগলাম।
নাসর ইবন আলী জাহযামী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) (একদা) তার হাত ধরে স্বীয় ঘরে গেলেন। অতঃপর রাবী সিরকা কত উত্তম তরকারি- পর্যন্ত ইবন উলাইয়্যাহ্ এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এর পরবর্তী অংশ উল্লেখ করেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার গৃহে বসা ছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে ইঙ্গিত করলে আমি তার নিকট উঠে গেলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর আমরা চললাম। পরিশেষে তিনি তার কোন এক সহধর্মিণীর ঘরে এসে ঢুকলেন। অতঃপর তিনি আমাকে প্রবেশাধিকার দিলে আমি পর্দার ভিতরে ঢুকলাম। তিনি বললেনঃ কিছু খাবার আছে কি? তারা বললেন, হ্যা। পরে তিন টুকরো রুটি আনা হলো এবং তা দস্তরখানে রাখা হলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি টুকরো নিয়ে তার সম্মুখে রাখলেন। অপর একটি নিয়ে আমার সম্মুখে রাখলেন। অতঃপর তৃতীয় টুকরোটি দুখণ্ড করলেন এবং এটির অর্ধেক তার সামনে অবশিষ্ট অর্ধেক আমার সামনে রাখলেন। এরপর বললেনঃ কোন সালুন আছে কি? তারা বললেনঃ সামান্য পরিমাণ সিরকা আছে। তিনি বললেন, তাই নিয়ে আসো। সেটা তো খুব ভালো তরকারি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ আইয়্যুব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কোন খাদ্য নিয়ে আসলে তিনি সামান্য খেতেন আর বাকীটুকু আমার নিকট প্রেরণ করতেন। একদা তিনি এমন কিছু খাবার প্রেরণ করলেন যা হতে তিনি কিছুই আহার করেনি। কেননা তাতে রসুন ছিল। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, এটা কি নিষিদ্ধ? তিনি বললেন, না। তবে গন্ধের কারণে ওটা আমার কাছে অপছন্দনীয়। তিনি বললেন, তাহলে আমিও তা পছন্দ করবো না, যা আপনি পছন্দ করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... শুবাহ্ হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেন;
হাজ্জাজ ইবন শাইর ও আহমাদ ইবন সাঈদ ইবন সাখ্র .... আবূ আইয়্যুব হতে বর্ণিত যে, (হিজরতের সময়) নবী (ﷺ) তার গৃহে মেহমান হলেন। নবী (ﷺ) অবস্থান করতেন নীচ তলায় এবং আবূ আইয়্যুব অবস্থান করতেন উপর তলায়। একদা রাত্রে আবূ আইয়্যুব জাগ্রত হয়ে বললেন, আমরা তো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথার উপর চলাফেরা করি। তখন তিনি সে স্থান হতে দূরে গিয়ে এক কোণে রাত্রি যাপন করলেন। অতঃপর (সকালে) নবী (ﷺ) কে তিনি ব্যাপারটি জানালে নবী (ﷺ) বললেন, নীচ তলায়ই অনেক সুবিধা। তখন তিনি বললেন, আপনি নীচে থাকবেন এমন ছাদে আমি উঠবো না। অতঃপর নবী (ﷺ) উপর তলায় এবং আবূ আইয়্যুব নীচ তলায় জায়গা পরিবর্তন করলেন। তিনি নবী (ﷺ) এর জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতেন যখন (অবশিষ্ট) খাদ্য ফেরত আনা হতো, তখন তিনি জানতে চাইতেন, রসূল (ﷺ) কোন জায়গায় তার আঙ্গুল স্পর্শ করেছেন। অতঃপর তার আঙ্গুলের স্থান অনুসরণ করে সেখান থেকে খেতেন। একবার তিনি তার জন্য খানা প্রস্তুত করলেন, যার মধ্যে রসুন ছিল। তার নিকট ফেরত নিয়ে আসলে তিনি নবী (ﷺ) এর আঙ্গুল স্পর্শের স্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তাকে বলা হলো, তিনি এগুলো খাননি। তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন এবং তার কাছে গেলেন। অতঃপর জানতে চাইলেন, ওটা কি নিষিদ্ধ? নবী (ﷺ) বললেনঃ না। তবে আমি ওটা পছন্দ করি না। তিনি বললেন, তাহলে আপনি যা পছন্দ করেন না, আমিও তা পছন্দ করি না। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর নিকট সে সময় ওয়াহী আসত।
যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, আমি চরম অনাহারে ভুগছি। তিনি তার কোন এক সহধর্মিণীর নিকট লোক প্রেরণ করলে তিনি বললেন, যে স্রষ্টা আপনাকে সঠিক দীনসহ পাঠিয়েছেন তার কসম! আমার নিকট পানি ব্যতীত আর কিছু নেই। তিনি অপর এক স্ত্রীর নিকট লোক প্রেরণ করলে তিনিও অনুরূপ কথা বললেন। এভাবে তারা সবাই একই কথা বললেন যে, সে সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন, আমার কাছে পানি ব্যতীত আর কিছু নেই। তখন তিনি বললেন, আজ রাত্রে লোকটির কে অতিথিপরায়ণ হবে? আল্লাহ তার উপর দয়া করুন! তখন এক আনুসারী লোক উঠে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি। অতঃপর লোকটিকে নিয়ে আনুসারী নিজ বাড়িতে গেলেন এবং তার সহধর্মিণীকে বললেন, তোমার নিকট কিছু আছে কি? সে বলল, না। তবে সন্তানদের জন্য অল্প কিছু খাবার আছে। তিনি বললেন, তুমি তাদের কিছু একটা দিয়ে ব্যস্ত রাখো। আর যখন অতিথি ঘরে ঢুকবে, তখন তুমি আলোটা নিভিয়ে দেবে। আর তাকে বুঝাবো যে, আমরাও খাবার খাচ্ছি। সে (মেহমান) যখন খাওয়া আরম্ভ করবে তখন তুমি আলোর পাশে যেয়ে সেটা নিভিয়ে দেবে। রাবী বলেন, অতঃপর তারা বসে থাকলেন এবং অতিথি খেতে শুরু করলো। সকালে তিনি (আনসারী) নবী (ﷺ) এর কাছে আসলে, তিনি বললেনঃ আজ রাত্রে অতিথির সঙ্গে তোমাদের উভয়ের ব্যবহারে আল্লাহ খুশী হয়েছেন।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, এক আনসারী লোকের বাড়িতে এক অতিথি রাত কাটালেন। তার কাছে তার ও সন্তানদের জন্য অল্প কিছু খাদ্য ব্যতীত আর কিছু ছিল না। তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, বাচ্চাদের ঘুমিয়ে দাও, আলোটা বন্ধ করে দাও এবং তোমার নিকট যা কিছু আছে তাই অতিথির জন্য পেশ করো। রাবী বলেন, এরপর এ আয়াতটি নাযিল হয়ঃ "তারা তাদের উপর অপরকে প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা অনাহারে থাকে"(আল হাশর ৫৯ঃ ৯)।
আবূ কুরায়ব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মেহমান হয়ে এক লোক তার নিকট এলেন। কিন্তু তার কাছে এমন কিছু ছিল না যা দিয়ে তিনি সে ব্যক্তির আপ্যায়ন করবেন। তখন তিনি বললেন, এর মেহমানদারী করার মতো কেউ কি আছে? আল্লাহ তার উপর দয়া করুক। এ সময় আবূ তালহাহ নামক এক আনসারী লোক দাড়ালেন এবং লোকটিকে আপন গৃহে নিয়ে গেলেন। অতঃপর রাবী শেষ পর্যন্ত হাদীসটি জারীর এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। আর তিনি ওয়াকী এর মতো আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কথাও বর্ণনা করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... মিকদাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচুর খাদ্য সংকটে আমার ও আমার দু'সাথীর দৃষ্টিশক্তি ও শ্রুতিশক্তি কমে যায়। অতঃপর আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের নিকটে নিজেদের উত্থাপন করতে লাগলাম। কিন্তু তাদের কেউ আমাদের কথা শুনলেন না। সবশেষে আমরা নবী (ﷺ) এর নিকট আগমন করলে তিনি আমাদের সাথে নিয়ে তার পরিবারের নিকটে গেলেন। সেখানে তিনটি বকরী ছিল। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা দুধ দোহন করবে। এ দুধ আমরা বণ্টন করে পান করবো। তিনি বলেন, এরপর থেকে আমরা দুধ দোহন করতাম। আমাদের সবাই যার যার অংশ পান করতো। আর আমরা নবী (ﷺ) এর জন্য তার অংশ উঠিয়ে রাখতাম। মিকদাদ বলেন, তিনি রাত্রে এসে এমনভাবে সালাম দিতেন যাতে নিদ্রারত লোক উঠে না যায় এবং জাগ্রত লোক শুনতে পায়। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি মসজিদে এসে নামাজ আদায় করতেন। প্রত্যাবর্তন করে দুধ পান করতেন। একদা রাতে আমার নিকটে শয়তান আগমন করলো। আমি তো আমার অংশ পান করে ফেলেছিলাম। সে বলল, মুহাম্মাদ (ﷺ) আনসারীদের নিকটে গেলে তারা তাকে উপঢৌকন দিবে এবং তাদের নিকটে তার এ অল্প দুধের প্রয়োজনীয়তাও ফুরিয়ে যাবে। অতঃপর আমি এসে সেটুকুও পান করে ফেললাম। দুধ যখন উত্তমভাবে আমার পেটে ঢুকে গেলে আমি বুঝলাম, এ দুধ বের করার আর কোন উপায় নেই তখন শইতান আমার থেকে দূরে সরে গিয়ে বলল, তোমার ধ্বংস হোক, তুমি একি করলে তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর দুধ পান করে ফেলেছ? তিনি জাগ্রত হয়ে যখন তা পাবেন না, তখন তোমার উপর বদ-দোয়া করবেন এতে তুমি সর্বনাশ হয়ে যাবে এবং তোমার ইহকাল ও পরকাল নিঃশেষ হয়ে যাবে। আমার শরীরে একটা চাদর ছিল। আমি যদি তা আমার পাদ্বয়ের উপর রাখি তাহলে আমার মাথা বের হয়ে পড়ে, আর যদি আমি তা আমার মাথার উপর রাখি তাহলে আমার পদদ্বয় বেরিয়ে পড়ে। কিছুতেই আমার ঘুম আসছিল না। আমার সাথীদ্বয় তো নিদ্রাচ্ছন্ন ছিল। তারা তো আমার মতো কাজ করেনি। তিনি বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) আগমন করে যেভাবে সালাম করতেন সেভাবেই সালাম করলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে এসে নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর দুধের নিকটে এসে ঢাকনা খুলে সেখানে কিছুই পেলেন না। এরপর তিনি নিজ মাথা আকাশের দিকে তুললেন। আমি তখন (মনে মনে) বললাম, এখনই হয়তো আমার উপর তিনি বদদোয়া করবেন, আর আমি নিঃশেষ হয়ে যাবো। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! যে লোক আমার খাবারের ব্যবস্থা করে তুমি তার খাদ্যের ব্যবস্থা কর। আর যে আমাকে পান করায় তাকে তুমি পান করাও। মিকদাদ বলেন, তখন আমি চাদরটি নিয়ে গায়ে বাধলাম এবং একটি ছুরি নিলাম, অতঃপর (এ ভেবে) বকরীগুলোর কাছে গেলাম যে, এদের মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশি মোটাতাজা আমি সেটি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য যাবাহ করবো। সেখানে গিয়ে দেখলাম, সেটি দুধে পরিপূর্ণ এবং অন্যান্য সব বকরীও দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অতঃপর আমি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবারের একটি বাসন নিয়ে এলাম যার মধ্যে তারা দুধ দোহাতেন না। তিনি [মিকদাদ] বলেন, আমি তার মধ্যেই দুধ দোহন করলাম, এমনকি বাসনের উপরের অংশ ফেনা ভেসে উঠলো। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আগমন করলাম। তিনি বললেন, তোমরা কি রাত্রের দুধ পান করেছো? তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি পান করুন। তিনি পান করে আমাকে দিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি পান করুন। তিনি পান করে আমাকে দিলেন। আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, নবী (ﷺ) পরিতৃপ্ত হয়ে গেছেন এবং আমি তার নেক দোয়া পেয়ে গেছি, তখন আমি খুশীতে হাসতে হাসতে মাটিতে নুয়ে পড়লে নবী (ﷺ) বললেনঃ হে মিকদাদ এটা তোমার এক মন্দকাজ? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার এ ঘটনা ঘটে গেছে। কিংবা তিনি বলেছেন, আমার দ্বারা এরূপ কাজ হয়ে গেছে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এটা একমাত্র আল্লাহর মেহেরবানী! তুমি কেন আমাকে জানালে না? আমরা আমাদের সঙ্গীদ্বয়কে জাগাতাম, তাহলে তারাও এর অংশ পেত। তিনি বলেন, আমি তখন বললাম, যে মহান স্রষ্টা আপনাকে সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন তার কসম! আপনি যখন পেয়েছেন এবং আমি যখন আপনার সঙ্গে ভাগ পেয়েছি, তখন ভিন্ন কোন ব্যক্তি পাওয়া না পাওয়ার আমি তোয়াক্কা করি না।
ইসহাক ইবন ইব্রাহীম .... সুলাইমান ইবন মুগীরাহ হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত রয়েছে।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আম্বারী, হামিদ ইবন উমার বাকরাবী ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা .... আব্দুর রহমান ইবন আবূ বকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একশ তিরিশ জন ব্যক্তি (এক সফরে) নবী (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের মাঝে কারো নিকট খাবার আছে কি? দেখা গেল, এক লোকের নিকটে এক সা' বা সমপরিমাণ খাদ্য রয়েছে। তা (মিশিয়ে) খামীর করা হলো। অতঃপর এলোমেলো চুলে দীর্ঘাঙ্গ এক মুশরিক লোক কিছু ছাগল হাকিয়ে নিয়ে আসলো। নবী (ﷺ) বললেনঃ এগুলো বিক্রি করে দিবে না উপটৌকন হিসেবে দিবে? কিংবা উপঢৌকন শব্দের স্থলে তিনি দান করবে বলেছিলেন। লোকটি স্বলল, না; আমি বরং বিক্রি করবো। নবী (ﷺ) তার নিকট থেকে একটি বকরী ক্রয় করলেন। বকরীটা যাবাহ করা হলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কলিজা ভূনা করতে নির্দেশ দিলেন। বর্ণনাকারী আব্দুর রহমান বলেন, আল্লাহর শপথ! একশ ত্রিশজনের মাঝে একজনও এমন ছিল না যাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক টুকরা কলিজা দেননি। যারা সমবেত ছিল তাদেরকে তো তখনই দিয়েছেন। আর যারা উপস্থিত ছিল না তাদের জন্য পৃথকভাবে তুলে রেখেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, গোশত দুটি বাসনে বন্টন করে রাখলেন। আমরা সবাই তৃপ্তি সহকারে খেলাম। তারপরও বাসন দুটিতে গোশত অতিরিক্ত থাকলো। আমি তা উটের উপর বহন করে নিয়ে গেলাম। কিংবা তিনি (রাবী) যেভাবে রিওয়ায়াত করেছেন।
উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আম্বারী, হামিদ ইবন উমার বাকরাবী ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা কাইসী .... আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর হতে বর্ণিত যে, আসহাবে সুফফার মানুষজন দরিদ্র ছিলেন। তাই রসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার বললেনঃ যার কাছে দু'জনের খাদ্য আছে সে যেন তৃতীয় এক জনকে নিয়ে যায়। আর যার নিকটে চার জনের খাদ্য রয়েছে, সে যেন পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ ব্যক্তিকে নিয়ে যায়। কিংবা রাবী যেভাবে বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, আবূ বকর তিনজনকে সাথে নিয়ে আগমন করলেন। আর আল্লাহর নবী (ﷺ) দশজনকে নিয়ে রওনা হলেন। আমার পরিবারে আমরা ছিলাম তিনজন আমি, আমার আব্বা ও আমার আম্মা। রাবী বলেন, আমি জানি না, তিনি বলেছেন কি-না যে, আমার সহধর্মিণী আমাদের ও আবূ বকরের গৃহে শারীক খাদিম। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ বকর নবী (ﷺ)-এর বাড়িতে রাতের খাবার খেলেন। অতঃপর তিনি প্রতীক্ষা করলেন। পরিশেষে ইশার নামাজ আদায় করা হলো। নামাজ শেষে ফিরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিদ্রাচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রতীক্ষা করলেন। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় রাত্রির কিছু অংশ পার হলে তিনি (বাড়িতে) প্রত্যাবর্তন করলেন। তার স্ত্রী তাকে বললেন, অতিথি রেখে দেরী করলেন কেন? তিনি বললেন, কেন? তুমি কি তাদের রাত্রের খাবার খাওয়াওনি? তার সহধর্মিণী বললেন, আপনি না ফেরা পর্যন্ত তারা খাবার খেতে নারাজ। কয়েক বারই খাবার দেয়া হয়েছে কিন্তু মেহমানরা তাদের কথা হতে ফিরে আসেনি। আবদুর রহমান বলেন, আমি যেয়ে পালিয়ে রইলাম। তিনি বললেন, হে নির্বোধ! অতঃপর তিনি আমাকে বকাঝকা করলেন। আর (মেহমানদের) বললেন, ভাল হলো না। আপনারা খাবার গ্রহণ করুন। তিনি আরও বললেন, আল্লাহর শপথ আমি এ খাবার গ্রহণ করবো না। আবদুর রহমান বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা যে লোকমাই মুখে দিচ্ছিলাম তার নীচে এর থেকে বহু পরিমাণে বৃদ্ধি পেত। এমনকি আমরা পেটপুরে খেয়েও আমাদের খাওয়ার আগে যা ছিল তার তুলনায় প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেলে আবূ বকর খাবারের প্রতি খেয়াল করে দেখলেন, তা যেমন ছিল তেমনি আছে বা তার চেয়েও বেশী হয়েছে। তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, হে উখত (বোন) বানী ফিরাস! একি অবস্থা, তিনি বললেন, কিছু না। আমার চোখের প্রশান্তি এগুলো যা আগে ছিল তার থেকে তিন গুণ বর্ধিত হয়েছে। আবদুর রহমান বলেন, অতঃপর আবূ বকর কিছু খেয়ে বললেন, ওটা শপথটা ছিল শয়তানের নিকট থেকে, তারপর আরও এক লোকমা খেলেন। অতঃপর সেগুলো রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে নিয়ে চললেন। আমিও তার নিকটে সকাল পর্যন্ত ছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের এবং কোন এক গোত্রের মধ্যে একটি অঙ্গীকারনামা ছিল। যার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আমরা (বারটি দল করে) বার জন ব্যক্তি নিযুক্ত করলাম। প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গে অনেক ব্যক্তি ছিল। আল্লাহই ভাল জানেন, প্রত্যেক লোকের সাথে কতজন ব্যক্তি ছিল। তাদের প্রত্যেকের কাছে এ খাদ্য প্রেরণ করা হলো এবং তারা সকলেই সে খাবার খেলেন। কিংবা রাবী যেভাবে বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কিছু অতিথি আমাদের গৃহে আসলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার আব্বা রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে কথোপকথন করতেন। তাই তিনি যাওয়ার সময় বললেন, হে আবদুর রহমান! মেহমানদারীর সব কাজ সুন্দরভাবে শেষ করবে। আবদুর রহমান বলেন, রাত হলে আমি অতিথিদের আহার নিয়ে আসলাম। কিন্তু তারা খেতে সম্মত হলেন না। তারা বললেন, যতক্ষণ গৃহের মালিক এসে আমাদের সঙ্গে না খাবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা খাবো না। আমি তাদের বললাম, তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত লোক। আপনারা যদি খাওয়া দাওয়া না করেন তাহলে আমার শঙ্কা হচ্ছে তার পক্ষ হতে আমাকে হয়তো বকাঝকা শুনতে হবে। তিনি বলেন, তারা কেউ সম্মত হলোই না। আমার আব্বা এসে শুরুতেই তাদের সংবাদ নিলেন। তিনি বললেন, তোমরা কি অতিথিপরায়ণের কাজ শেষ করেছো? তারা বললো, না। আল্লাহর শপথ আমরা সমাপ্ত করিনি। তিনি বললেন, আমি কি আবদুর রহমানকে আদেশ দিয়ে যাইনি? আবদুর রহমান বলেন, আমি তার চোখের পলক হতে আড়ালে গিয়েছিলাম। তিনি বললেন, হে আব্দুর রহমান! আমি আরও সরে গেলাম। তিনি আবার বললেন, ওরে নির্বোধ! আমি শপথ করে তোমাকে বলছি যদি তুমি আমার শব্দ শুনে থাকো তাহলে উপস্থিত হও। তিনি বলেন, তখন আমি উপস্থিত হয়ে বললাম, আল্লাহর শপথ আমার কোন দোষ নেই। আপনার অতিথিদের প্রশ্ন করে দেখুন। আমি তাদের আহার নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু আপনি না ফেরা পর্যন্ত তারা খেতে রাযী হলেন না। তখন তিনি (অতিথিদের) বললেন, আপনাদের কি হয়েছে? আপনারা কেন আমাদের পরিবেশন কবুল করেননি। আবদুর রহমান বলেন, তখন আবূ বকর বললেন, আল্লাহর শপথ আজ রাতে খাবো না। অতিথিরাও শপথ করে বলল, যতক্ষণ আপনি না খাবেন ততক্ষণ আমরাও খাব না। তখন আবূ বকর বললেন, আজকের রাত্রের মতো এতো মন্দ রাত আমি আর দেখিনি। আফসোস, তোমরা কেন আমাদের আপ্যায়ন কবুল করবে না? তিনি বললেন, প্রথমে যা হয়েছে তা শয়তানের তরফ হতে হয়েছে। তোমরা খাবার নিয়ে আসো। রাবী বলেন, অতঃপর খাবার নিয়ে আসলে তিনি বিসমিল্লাহ্ পড়ে খাওয়া শুরু করলেন। তারাও খাওয়া শুরু করলো। আব্দুর রহমান বলেন, পরদিন সকালে তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে যেয়ে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! তারা তো শপথ পূর্ণ করেছে। কিন্তু আমি শপথ ভেঙ্গে ফেলেছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ বরং তুমি সবচেয়ে বেশী সৎকর্মশীল এবং উত্তম ব্যক্তি। আব্দুর রহমান বলেন, কাফফারার কথা আমার নিকটে পৌছেনি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দু'জনের খাদ্য তিনজনের জন্য এবং তিনজনের খাদ্য চারজনের জন্য যথেষ্ট।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, একজনের খাদ্য দু'জনের জন্য পর্যাপ্ত এবং দু'জনের খাদ্য চারজনের জন্য যথেষ্ট, এমনিভাবে চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট। ইসহাক এর বর্ণনায় রয়েছে, "রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিনি "আমি শুনেছি" কথাটি বর্ণনা করেননি।
ইবন নুমায়র .... সুফইয়ান হতে ভিন্ন সূত্রে মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ..... জাবির এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে ইবন জুরায়জ হাদীসের হুবহু বর্ণিত আছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একজনের খাদ্য দু'জনের জন্য পর্যাপ্ত এবং দুজনের খাদ্য চারজনের জন্য যথেষ্ট।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ও উসমান ইবন আবূ শাইবাহ্ .... জাবির এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ এক লোকের খাবার দু'লোকের জন্য যথেষ্ট। দু'লোকের খাদ্য চার লোকের জন্য যথেষ্ট। আর চারজনের খাদ্য আটজনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট।
যুহায়র ইবন হারব, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবন সাঈদ .... ইবন উমার সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কাফির লোক সাত আতে খায় আর মুমিন খায় এক আতে।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, আবূ বাকুর ইবন আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবন রাফি ও আবদ ইবন হুমায়দ .... ইবন উমর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু বর্ণনা করেছেন।
আবূ বকর ইবন খাল্লাদ বাহিলী .... নাফি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার এক মিসকীনকে প্রত্যক্ষ করলেন, সে শুধু সম্মুখে হাত মারছে এবং এভাবে সে প্রচুর খাবার শেষ করে ফেলেছে। তিনি (নাফি) বলেন, তখন ইবন উমর বললেন, তুমি এ জাতীয় লোককে আর কখনো আমার নিকটে নিয়ে আনবে না। কেননা আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, কাফির লোক সাত আতে ভক্ষণ করে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... জাবির ও ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঈমানদার লোক এক আতে ভক্ষণ করে আর কাফির লোক সাত আতে ভক্ষণ করে।
ইবন নুমায়র .... জাবির এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু রিওয়ায়াত আছে। এখানে রাবী ইবন উমার এর কথা বর্ণনা করেননি।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আবূ মূসা এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ মুমিন এক আতে খাবার খায় এবং কাফির সাত আতে খাবার খায়।
কুতাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ্ এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে তাদের সবার হাদীসের হুবহু বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, জনৈক কাফির লোক রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অতিথি হলো। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি বকরীর দুধ দোহন করতে নির্দেশ দিলেন। দুধ দোহন শেষ হলে ব্যক্তিটি সে দুধটুকু পান করলো। এরপর অন্য একটি বকরী দোহন করা হলে সে তাও পান করলো। পুনরায় আরেকটি দোহন করা হলে সেটার দুধও সে পান করলো। এভাবে সে সাতটি বকরীর দুধ পান করে ফেলল। পরবর্তী দিন সকালে সে ইসলাম গ্রহণ করলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় তার জন্য একটি বকরীর দুধ দোহন করতে নির্দেশ দিলেন। (দোহন করা হলে) সে তা পান করলো। তিনি আবার আর একটি দোহন করার আদেশ দিলে তখন সে আর তার পুরোটুকু পান করতে পারল না। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মুমিন এক আতে পান করে। আর কাফির সাত আতে পান করে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন সময় কোন খাদ্যকে মন্দ বলেননি। কোন খাদ্য প্রিয় হলে খেয়েছেন আর পছন্দ না হলে ছেড়ে দিয়েছেন।
আহমাদ ইবন ইউনুস .... আমাশ হতে উল্লেখিত সানাদে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন।
আব্দ ইবন হুমায়দ .... আমাশ হতে উল্লেখিত সানাদে হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কক্ষনো কোন খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতে দেখিনি। তার (ﷺ) ইচ্ছা জাগলে খেতেন আর অনিচ্ছা হলে চুপ থাকতেন।