সূর্যগ্রহণ (১৯৭৫-২০০৮)
কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ [শব্দাবলী তার] .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে একবার সূর্য গ্রহণ হল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। সালাতের মধ্যে তিনি বেশ দীর্ঘ এবং বেশ দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর রুকূ করলেন এবং তা খুব দীর্ঘায়িত করলেন। অতঃপর আবার রুকূ করলেন এবং রুকূ বেশ দীর্ঘায়িত করলেন, যা প্রথম রুকূ থেকে কিছু কম, অতঃপর সাজদায় গেলেন। সিজদা থেকে দাড়িয়ে দীর্ঘ সময় কিয়াম (দণ্ডায়মান হওয়া) করলেন। যা প্রথমবারের কিয়াম অপেক্ষা কিছুটা কম ছিল। অতঃপর রুকূতে গেলেন এবং এতে দীর্ঘ সময় কাটালেন। অবশ্য তা প্রথম রুকূ অপেক্ষা কম ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ করলেন, অবশ্য তা প্রথম রুকূর চেয়ে কম ছিল। অতঃপর সিজদা করলেন। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শেষ করলেন। এতক্ষণে সূর্য পরিষ্কার হয়ে গেল। তিনি লোকদের সামনে খুতবাহ দিলেন। খুতবাহ প্রসঙ্গে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। আর চন্দ্র গ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কারো জন্ম ও মৃত্যুর কারণে সংঘটিত হয় না। অতএব তোমরা যখন চন্দ্র গ্রহণ ও সূর্য গ্রহণ দেখতে পাও, তখন তাকবীর পড় আর আল্লাহর কাছে দোয়া কর এবং সালাত আদায় কর ও সাদাকা কর। হে উম্মাতে মুহাম্মাদ! মনে রেখ, এমন কেউ নেই যে মহান আল্লাহ থেকে অধিক আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন, যখন তার দাস বা দাসী ব্যভিচারে লিপ্ত হয় (তখন তিনি শাস্তি না দিয়ে থাকেন না)। হে উম্মাতী মুহাম্মাদী! আল্লাহর কসম, যদি তোমরা জানতে যা আমি জানি, তবে তোমরা অবশ্যই অধিক পরিমাণে কান্না-কাটি করতে এবং খুব কম হাসতে। আমি কি আল্লাহর বাণী পৌছিয়ে দিয়েছি? মালিকের রিওয়ায়াতে এ বাক্যটি এভাবে উদ্ধৃত হয়েছে- সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর বিশেষ কুদরাতের নিদর্শনাবলী।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... হিশাম ইবন উরওয়াহ্ থেকে একই সানাদে বর্ণিত। তবে হিশাম এ কথাটুকু বাড়িয়েছেঃ "অতঃপর সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত" এবং এ কথাটুকুও বাড়িয়েছেনঃ "অতঃপর তিনি উভয় হাত উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি তোমার বাণী পৌছিয়ে দিয়েছি?"
হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া, আবূত তহির ও মুহাম্মাদ ইবন সালামাহ আল মুরাদী .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশায় সূর্য গ্রহণ লেগেছিল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে চলে গেলেন এবং দাড়িয়ে তাকবীর উচ্চারণ করলেন। আর লোকজন তার পিছনে সারিবদ্ধ ছিল। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) দীর্ঘ কিরআত পাঠ করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে রুকূতে গেলেন এবং লম্বা রুকূ করলেন, অতঃপর মাথা উঠিয়ে "সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ" বললেন। এরপর দাড়িয়ে লম্বা কিরআত পাঠ করলেন যা প্রথম কিরআত অপেক্ষা ছোট ছিল। এরপর তাকবীর বলে রুকূতে গেলেন এবং লম্বা রুকূ করলেন যা প্রথম রুকূ অপেক্ষা ছোট ছিল। অতঃপর তিনি "সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ" বলে সাজদায় গেলেন। আবূত তহির এর বর্ণনায় অবশ্য সিজদার কথাটি উল্লেখ নেই। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্বিতীয় রাকাআতেও অনুরূপ করলেন। এভাবে তিনি চারটি রুকূ ও চারটি সিজদা করলেন। (দু রাকাআত সালাত আদায় করলেন) তিনি সালাত শেষ করার আগেই সূর্য পরিষ্কার হয়ে গেল। অতঃপর বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারো জন্ম মৃত্যুর কারণে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ হয় না। অতএব, যখন তোমরা এ অবস্থা দেখতে পাও দ্রুত সালাতে ধাবিত হও। এরূপও বলেছেনঃ "এবং সালাত আদায় করতে থাক যে পর্যন্ত তোমাদের থেকে এ অবস্থার দূরীভূত না হয়। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি আমার এ স্থানে দাড়িয়ে তোমাদের নিকট ওয়াদাকৃত প্রতিটি বস্তু দেখতে পেলাম। এমনকি আমি নিজেকে যেন দেখতে পেলাম জান্নাতের এক ছড়া ফল নিতে যাচ্ছিলাম। এমনকি তোমরা আমাকে সামনে অগ্রসর হতে দেখেছ। রাবী মুরাদী বলেছেন আমি অবশ্যই জাহান্নামকে (এরূপ ভয়াবহ অবস্থায়) দেখলাম যে, এর একাংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলেছে, এমনকি তোমরা আমাকে দেখলে আমি পিছনে সরে যাচ্ছি। আমি জাহান্নামে (আমর) ইবন লুহাইকে দেখতে পেলাম। সে সর্বপ্রথম প্রতিমার উদ্দেশে পশু ছেড়েছিল। আবূত তহির এর হাদীস তার এ কথা পর্যন্ত শেষ হয়েছে- "ফাফযা-উ লিসসলা-ত" তিনি পরবর্তী অংশ উল্লেখ করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন মিহরান আর রায়ী .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় একবার সূর্য গ্রহণ হয়েছিল। তিনি জনৈক ব্যক্তিকে এ ঘোষণা দেয়ার উদ্দেশে পাঠিয়ে দিলেনঃ "জামাআতে সালাত" অনুষ্ঠিত হচ্ছে। (ঘোষণা শুনে) সবাই একত্রিত হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সামনে অগ্রসর হয়ে তাকবীর উচ্চারণ করলেন এবং দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। দু' রাকাআতে চারটি রুকূ ও চারটি সিজদা করলেন।
মুহাম্মদ ইবন মিহরান .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) চন্দ্রগ্রহণের সালাতেকিরআত উচ্চস্বরে পড়েছেন এবং তিনি দু' রাকাআত সালাতে চারটি রুকু এবং চারটি সেজদা দিয়েছেন।
যুহরী .... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) চার রুকূ এবং চার সাজদাতে দু' রাকাআত সালাত আদায় করেন।
হাজিব ইবন ওয়ালীদ .... কাসীর ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। ইবন আব্বাস সূর্যগ্রহণের দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত সম্পর্কে ঠিক ঐরূপ বর্ণনা করেছেন যেরূপ উরওয়াহ আয়িশাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ এর সময় সূর্যগ্রহণ লাগলে তিনি সালাতের উদ্দেশে দাড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। অতঃপর রুকূ করেন। রুকূর পর আবার দাড়ালেন আবার রুকূ করলেন। আবার দাড়ালেন, আবার রুকূ করলেন। এভাবে দু' রাকাআতে তিন রুকূ ও চার সাজদায় আদায় করলেন। সালাত শেষ হতে হতে সূর্যও পরিষ্কার হয়ে গেল। তিনি রুকূতে যাওয়ার সময় "আল্ল-হু আকবার" বলতেন, অতঃপর রুকূ করতেন। রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে "সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ" বলতেন। অতঃপর দাড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেনঃ চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ করো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে লাগে না বরং এ দুটি আল্লাহর নিদর্শন, যা দ্বারা আল্লাহ তার বান্দাকে সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখ, আল্লাহর যিকরে মশগুল হও যতক্ষণ তা আলোকিত হয়ে না যায়।
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ (বাযিঃ) থেকে বণিত। নবী (ﷺ) (সূর্য গ্রহণের সময়) ছয় রুকূ ও চার সিজদা সহকারে দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ আল কানবী .... আমরাহ থেকে বর্ণিত। এক ইয়াহুদী মহিলা আয়িশাহ কে কিছু জিজ্ঞেস করার উদ্দেশে তার নিকট আসলো। এসে বলল, আল্লাহ আপনাকে কবর আযাব থেকে মুক্তি দিন। আয়িশাহ বলেন, এরপর আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! মানুষকে কবরে কি আযাব দেয়া হবে? আমরাহ এর বর্ণনা অনুযায়ী আয়িশাহ বলেন, নাউযুবিল্লাহ। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন সকালবেলা সওয়ারীতে আরোহণ করলেন, তখন সূর্যগ্রহণ লাগছিল। আয়িশাহ বলেন, আমি কতিপয় মেয়ে লোকদের সাথে নিয়ে হুজরাগুলোর পিছন দিয়ে বের হলাম। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সওয়ারী থেকে নেমে যেখানে সালাত আদায় করতেন সোজা সেখানে পৌছলে তিনি সালাতে দাড়িয়ে গেলেন। লোকেরাও সঙ্গে সঙ্গে তার পিছনে দাড়িয়ে গেল। আয়িশাহ বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) লম্বা কিয়াম করলেন। অতঃপর রুকূ করলেন এবং রুকূও লম্বা করলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে আবার বেশ কিছু সময় দাড়িয়ে থাকলেন যা পূর্বের কিয়াম অপেক্ষা কিছু কম। অতঃপর রুকূতে গেলেন তবে তা প্রথম রুকু অপেক্ষা কম ছিল। তারপর মাথা উত্তোলন করলেন। এতক্ষণে সূর্য একেবারে উজ্জ্বল হয়ে গেল। তিনি বললেন, আমি দেখতে পেলাম তোমরা কবরেও দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় ভীষণ পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। আমরাহ বলেন, আমি আয়িশাহ কে বলতে শুনেছি, এরপর থেকে আমি শুনতে পেতাম যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জাহান্নামের আযাব থেকে ও কবর আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইবন আবু উমার .... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে সুলায়মান ইবন বিলাল-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম আদ দাওরাকী .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় ভীষণ গরমের দিনে একবার সূর্যগ্রহণ লাগল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাতে কিয়াম এত দীর্ঘায়িত করলেন যে, লোকেরা পড়ে যেতে লাগল। অতঃপর রুকূ করলেন এবং তাও খুব লম্বা করলেন। তারপর মাথা উঠালেন এবং অনেক সময় দাড়িয়ে থাকলেন। আবার রুকূতে গেলেন এবং লম্বা রুকূ করলেন। তারপর মাথা উঠালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর দুটি সিজদা করলেন। এরপর দাড়িয়ে পূর্বের ন্যায় কিয়াম ও রুকূ করলেন। এতে চারটি রুকূ ও চারটি সিজদা ছিল। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা সেসব স্থানে প্রবেশ করবে যে সব স্থান আমাকে দেখানো হয়েছে। আমার সামনে জান্নাত পেশ করা হয়েছিল। আমি সেখান থেকে একটি আঙ্গুর ধরতে চেয়েছিলাম। অথবা তিনি বলেছেন, একটি শাখা ধরতে চাইলে আমার হাত সে পর্যন্ত পৌছতে পারেনি এবং আমার সম্মুখে জাহান্নামও পেশ করা হয়েছিল। সেখানে বনী ইসরাঈলের একটি মহিলাকে দেখতে পেলাম। তাকে একটা বিড়ালের কারণে শাস্তি দেয়া হয়েছে। সে বিড়ালটিকে বেধে রেখেছিল, খানাপানি কিছু দেয়নি। আর ছেড়েও দেয়নি যে তা জমিনের পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করত (এভাবে অনাহারে বিড়ালটি মারা গেল)। এছাড়াও জাহান্নামে আবূ সুমামাহ আমর ইবন মালিককেও দেখলাম, সে তার নাড়িভুড়ি টানাটানি করছে। আরবরা বলত যে, চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কোন মহান ব্যক্তির মৃত্যুর কারণেই সংঘটিত হয়ে থাকে। অথচ এ দুটি আল্লাহর দু'টি নিদর্শন যা আল্লাহ তোমাদেরকে দেখান। অতএব যখন চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ লাগে, তোমরা সালাত আদায় কর যে পর্যন্ত তা পরিষ্কার না হয়ে যায়।
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ .... হিশাম থেকে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কেবল ব্যতিক্রম এই যে, তিনি বলেন, আমি জাহান্নামের মধ্যে হিমইয়ারিয়্যাহ গোত্রের একটি দীর্ঘাকায় কালো মেয়েলোককে দেখতে পেলাম। এতে তিনি বনী ইসরাঈলের কথা উল্লেখ করেননি।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র [তাদের দু'জনের শব্দ প্রায় কাছাকাছি] .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় যেদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রিয় পুত্র ইবরাহীম মৃত্যুবরণ করেন, সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। এতে লোকেরা বলতে লাগল ইবরাহীমের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ লেগেছে। নবী (ﷺ) উঠে গিয়ে উপস্থিত লোকদের নিয়ে ছয় রুকূ ও চার সাজদায় সালাত আদায় করলেন। সূচনাতে তাকবীর উচ্চারণ করলেন পরে কিরআত পাঠ করলেন এবং কিরআত বেশ লম্বা করলেন। অতঃপর রুকূ করলেন। রুকূতে কিয়ামের সমপরিমাণ সময় অবস্থান করলেন। অতঃপর রুকূ থেকে মাথা উঠালেন এবং কিয়ামে প্রথম কিরআত অপেক্ষা কিছু ছোট কিরআত পাঠ করলেন। অতঃপর কিয়ামের সমপরিমাণ সময় রুকূতে কাটালেন। তারপর রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে কিরআত পাঠ করলেন যা পূর্বের কিরআত অপেক্ষা ছোট ছিল। অতঃপর রুকূতে গিয়ে কিয়ামের পরিমাণ সময় অতিবাহিত করলেন। এরপর রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে সাজদায় গেলেন এবং দুটি সিজদা করলেন। তারপর দাড়িয়ে আরো তিনটি রুকূ করলেন যাতে কোন রাকাআত ছিল না। শেষের তিন রুকূ এরূপ ছিল যে, প্রত্যেক রুকূ পূর্ববর্তী রুকূ অপেক্ষা ছোট এবং পরবর্তী রুকূ অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল। আর প্রতিটি রুকূর সময় সাজদার সমপরিমাণ ছিল। অতঃপর তিনি একটু পিছনে সরে আসলেন আর তার পিছনের সারিগুলোও পিছনে সরে গিয়ে আমরা পৌছে গেলাম। আবূ বকর বলেনঃ মহিলাদের কাতার পর্যন্ত পৌছে গেলেন। অতঃপর তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন এবং তার সাথে সব লোক সামনে এগিয়ে গেল। অবশেষে তিনি (ﷺ) তার নির্দিষ্ট স্থানে দাড়িয়ে সালাত শেষ করলেন। এদিকে সূর্য তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এল। সালাত শেষে তিনি (ﷺ) উপস্থিত লোকদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে লোক সকল! চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। আর এ দুটি কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। আবূ বকর-এর বর্ণনায় (রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন), "কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে" (এ দুটি গ্রহণ হয় না)। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু ঘটতে দেখ তখন সালাত আদায় কর যে পর্যন্ত সূর্য স্পষ্ট হয়ে না যায়। তোমাদের কাছে যে সব বিষয় সম্পর্কে ওয়াদা করা হয়েছে তার প্রতিটি আমি আমার সালাতের মধ্যে দেখতে পেয়েছি। আমার কাছে জাহান্নাম তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন যখন তোমরা আমাকে দেখেছ যে, আমি পিছনে সরে এসেছি এর লেলিহান শিখা আমাকে স্পর্শ করার ভয়ে। অবশেষে আমি জাহান্নামের মধ্যে লৌহশলাকাধারীকে (আমর ইবন মালিক) দেখলাম, সে জাহান্নামের মধ্যে নিজের নাড়ীভুড়ি টানছে। এ ব্যক্তি নিজ লাঠি দ্বারা হাজ যাত্রীদের মালপত্র চুরি করত। এরপর যদি ধরা পড়ে যেত তখন বলত আহ! আমার শলাকার সাথে লেগে গেছে। আর কেউ অসাবধান থাকলে তা নিয়ে যেত। এছাড়া জাহান্নামের মধ্যে ঐ মহিলাকেও দেখতে পেলাম যে, একটি বিড়ালকে বেধে রেখেছিল। এরপর এটাকে আহারও দেয়নি, ছেড়েও দেয়নি, যাতে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারত। শেষ পর্যন্ত বিড়ালটি ক্ষুধায় ছটফট করে মারা গেল। অতঃপর আমার সামনে জান্নাত তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন দৃষ্ট হয়েছে, যখন তোমরা আমাকে দেখতে পেয়েছ যে, আমি সামনে এগিয়ে গেছি এবং নিজস্থানে দাড়িয়েছি। আমি আমার হাত প্রসারিত করলাম এবং এর ফল তুলে নেবার ইচ্ছা করলাম যাতে তোমরা তা দেখতে পাও। অতঃপর এরূপ না করাই স্থিরকৃত হল। যেসব বিষয় তোমাদের জানানো হয়েছিল তার প্রতিটি বিষয় আমি আমার এ সালাতে থাকাকালীন দেখতে পেয়েছি।
মুহাম্মাদ ইবন আ'লা আল হামদানী .... আসমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগে। তখন আমি আয়িশাহ্ এর নিকট গিয়ে দেখি তিনি সালাত আদায় করছে। আমি বললাম কি ব্যাপার। লোকেরা সালাত আদায় করছে? আয়িশাহ মাথা নেড়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, একি বিশেষ কোন ঘটনা? তিনি বললেন, হ্যা। এদিকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এত লম্বা কিয়াম করলেন যে, আমার মাথার চক্কর এসে গেল। তখন আমি আমার পাশে রাখা পানির মশক নিয়ে আমার মাথায় অথবা চেহারায় পানি ঢালতে আরম্ভ করলাম। আসমা বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত শেষ করার সাথে সাথে সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গেল। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের উদ্দেশে খুতবাহ দিলেন। আল্লাহর হামদ ও নাত আদায় করার পর তিনি বললেন, আম্মাবাদ, যে সব বস্তু আমি ইতিপূর্বে দেখিনি তা আমি আমার এ স্থানে দাড়িয়ে দেখতে পেলাম। এমনকি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলাম। আর এ মুহুর্তে আমার নিকট অবতীর্ণ করা হয়েছে যে, অচিরেই তোমরা কবরে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। অথবা বলেছেন, মাসীহ দাজ্জালের ফিৎনার ন্যায় ফিৎনায় পতিত হবে। (রাবী বলেন,) আমার জানা নেই আসমা এর কোনটা বলেছে। এরপর তোমাদের প্রত্যেককে হাজির করে জিজ্ঞেস করা হবে "এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কি জানা আছে?" এ সময় ঈমানদার ব্যক্তি অথবা বলেছে "মুমিন দৃঢ় বিশ্বাসী ব্যক্তি (আমার জানা নেই আসমা এর কোনটা বলেছেন) বলবে, ইনি মুহাম্মাদ , ইনি রসূলুল্লাহ। তিনি (ﷺ) সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াতের বিষয়বস্তু নিয়ে এসেছেন। তাই আমরা তার আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং তার অনুসরণ করেছি। তিনবার সে এ কথা উচ্চারণ করবে। তখন তাকে বলা হবে। ঘুমাও, আমরা জানতাম তুমি তার প্রতি ঈমান বজায় রেখেছো। ভালরূপে ঘুমাও। কিন্তু মুনাফিক অথবা মুরতাদ (সংশয়বাদী আমার জানা নেই আসমা এর কোনটা বলেছেন) বলবে, আমি তো কিছু জানি না। লোকদের কিছু বলাবলি করতে শুনেছি আমিও তা-ই বলেছি।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব .... আসমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ এর নিকট এসে দেখলাম, লোকেরা সালাতে দাড়ানো এবং আয়িশাহ-ও সালাত আদায় করছেন না। আমি বললাম, লোকদের কি অবস্থা? হাদীসটি হিশাম-এর সূত্রে বর্ণিত। ইবন নুমায়র-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... উরওয়াহ থেকে বর্ণিত। কাসাফাত-উস-শামসু বলো না, বরং খাসাফাত-উস-শামসু বলো। অর্থ একই সূর্যগ্রহণ লেগেছে।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল হারিসী .... আসমা বিনতু আবূ বকর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একদিন যেদিন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল, এরূপ আতঙ্কগ্রস্ত হলেন যে, চাদর নিতে গিয়ে ভুলে (মহিলাদের) বড় চাদর উঠিয়ে নিলেন। পরে তার চাদরই তাকে পৌছে দেয়া হল। অতঃপর তিনি লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করে দিলেন এবং বেশ লম্বা কিয়াম করলেন। যদি কোন লোক তার কাছে আসত বুঝত পারত না যে, নবী (ﷺ) রুকূ করেছেন (রুকূর পর) দীর্ঘ কিয়ামের কারণে। যে পর্যন্ত কেউ প্রকাশ না করে দিত যে, তিনি রুকূ করেছেন।
সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া আল উমাবী .... ইবন জুরায়জ একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে আসমা বলেছেন, দীর্ঘ সময় কিয়াম করে পরে রুকূ করেছেন। বর্ণনাকারী এ কথাটুকু বাড়িয়েছেন- "আমি মহিলাদের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমার চেয়ে বয়স্কা মহিলাও আছে আর আমার চেয়ে অধিক রুগ্না মহিলাও রয়েছে।"
আহমাদ ইবন সাঈদ আদ দারিমী .... আসমা বিনতু আবূ বকর থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগলে তিনি (ﷺ) ঘাবড়ে গেলেন। যে কারণে তিনি ভুল করে নিজের চাদর নিতে গিয়ে (মহিলাদের) বড় চাদর নিয়ে গেলেন। অবশ্য পরে তার চাদর পৌছিয়ে দেয়া হল। আসমা বলেন, আমি আমার প্রয়োজন সেরে আসলাম এবং এসে মসজিদে প্রবেশ করলাম। ঢুকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখলাম দাড়িয়ে আছেন। আমিও তার সাথে দাড়ালাম, তিনি (ﷺ) দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এমনকি আমি মনে মনে ভাবছিলাম বসে পড়ব কিনা, অতঃপর তাকিয়ে দেখলাম একটি দুর্বল মহিলা। তখন মনে মনে বললাম, এ মেয়েলোকটি তো আমার চেয়েও দুর্বল। অতএব দাড়িয়ে থাকলাম। দীর্ঘ সময় পর তিনি রুকূতে গেলেন এবং রুকূও দীর্ঘ করলেন, অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন। রুকূ থেকে উঠেও দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এমনকি কোন ব্যক্তি এসে দেখলে মনে করত তিনি রুকূই করেননি।
সুওয়াইদ ইবন সাঈদ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের সাথে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শুরু করে তিনি লম্বা কিয়াম করলেন প্রায় বাক্কারাহ পড়ার সমপরিমাণ সময় অতঃপর রুকূ করলেন লম্বা রুকূ। অতঃপর (রুকূ থেকে) মাথা উঠালেন। আবার লম্বা কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কিছুটা ছোট। অতঃপর লম্বা রুকু করলেন যা প্রথম রুকূ অপেক্ষা কিছু কম। অতঃপর সিজদা করলেন। সিজদা থেকে উঠে আবার লম্বা কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। আবার লম্বা রুকূ করলেন যা প্রথম রুকূর চেয়ে কিছু কম। অতঃপর সিজদা করলেন সিজদা থেকে উঠে আবার লম্বা কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কিছু কম। তারপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘ সময় কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকূ করলেন যা প্রথম রুকূ অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত। অতঃপর সিজদা করে সালাত সমাপ্ত করলেন। এতক্ষণে সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল। এরপর তিনি (ﷺ) বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দু'টি নিদর্শন। এগুলো কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখ, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর। সার্থীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনাকে দেখলাম, আপনি এ স্থানে দাড়িয়ে হাত বাড়িয়ে নিতে যাচ্ছেন। আবার একটু পর দেখলাম হাত ফিরিয়ে নিলেন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি জান্নাত দেখতে পেলাম। অতএব জান্নাত থেকে ফলের একটি ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। যদি তা নিয়ে নিতাম তাহলে তোমরা তা পৃথিবী কিয়াম থাকা পর্যন্ত খেতে পারতে। আমি জাহান্নামও দেখতে পেলাম এবং আজকের ন্যায় এমন ভয়াবহ দৃশ্য আর কখনও দেখিনি। আমি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে বেশীর ভাগ দেখলাম মহিলা। সাথীরা জিজ্ঞেস করলেন, কি কারণ হে আল্লাহ রসূল! রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাদের অকৃতজ্ঞতার কারণে। তিনি বলেন, তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে এবং অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো সারাজীবনও উপকার কর, অতঃপর যদি কখনও তোমার থেকে কোন ক্রটি দেখে তখন বলে ফেলে, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কোন কল্যাণ দেখতে পাইনি।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... যায়দ ইবন আসলাম থেকে একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কেবল ব্যতিক্রম এই যে, তিনি বলেছেনঃ "অতঃপর আপনাকে দেখলাম হাত গুটিয়ে নিলেন।"
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ্ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সময় আটটি রুকূ ও চারটি সিজদা সহকারে সালাত আদায় করেছেন। আলী থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও আবূ বকর ইবন খাল্লাদ .... ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সময় সালাত শুরু করে প্রথমে কিরআত পাঠ করেছেন, তারপর রুকু করেছেন। আবার কিরআত পড়েছেন, আবার রুকূ করেছেন। আবার কিরআত পাঠ করে আবার রুকু করেছেন। আবার কিরাআত পাঠ করে আবার রুকূ করেছেন। অতঃপর সিজদা করেছেন। দ্বিতীয় রাকাআতও অনুরূপভাবে আদায় করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি, আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ দারিমী .... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ লাগল, তখন ঘোষণা করা হল, "আসসলা-তু জা-মি আহ" (সালাতের জামাআত) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) দু' রুকূ ও এক সিজদা সহকারে এক রাকাআত আদায় করলেন। অতঃপর সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল। আয়িশাহ বলেন, আমি কখনও এর চেয়ে লম্বা রুকূ ও লম্বা সিজদা আদায় করিনি।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আবূ মাসউদ আল আনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। এগুলো দ্বারা আল্লাহ তার বান্দাদের ভীতি প্রদর্শন করেন। আর এ দুটি কোন মানুষের মৃত্যুর জন্য গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখতে পাও, তখন তোমরা সালাত আদায় কর এবং দোয়া করতে থাক যে পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের এ অবস্থা দূর না করেন।
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয আল আম্বারী ও ইয়াহইয়া ইবন হাবীব .... আবূ মাসউদ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ অবশ্যই কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে সংঘটিত হয় না। বরং এগুলো আল্লাহর দুটি নিদর্শন। অতএব তোমরা যখন তা (গ্রাস) দেখ তখন উঠে গিয়ে সালাত আদায় কর।
আবূ বকর ইবন আবূ শয়বাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ইবন আবূ উমর .... সকলেই ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে সুফইয়ান ও ওয়াকী এর হাদীসে এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ যেদিন ইবরাহীম (ইবন মুহাম্মাদ) ইনতিকাল করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন লোকেরা বলতে লাগল, ইবরাহীম এর মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ লেগেছে।
আবূ আমির আল আশআরী আবদুল্লাহ ইবন বাররাদ ও মুহাম্মাদ ইবন আলী ..... আবূ মূসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগল। তিনি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দাড়ালেন। (রাবীর ধারণা) তিনি কিয়ামত হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। অবশেষে তিনি মসজিদে এসে সালাতে দাড়ালেন এবং সবচেয়ে লম্বা কিয়াম, লম্বা রুকু, লম্বা সিজদা সহকারে সালাত আদায় করতে লাগলেন। আমি কখনও কোন সালাত তাকে ((ﷺ)-কে) এত লম্বা করতে দেখিনি। সালাত শেষ করে তিনি (ﷺ) বললেন, এসব নিদর্শনাবলী যা যা আল্লাহ জগতে পাঠান। কোন ব্যক্তির মৃত্যু বা জীবনের কারণেই অবশ্যই তা হয় না। বরং আল্লাহ এগুলো পাঠিয়ে বান্দাদের সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন এমন কিছু দেখতে পাও, তখন তোমরা ভীত হয়ে আল্লাহর যিকর, দোয়া ও ইস্তিগফারে মশগুল হও। ইবন আলা এর বর্ণনায় রয়েছেঃ সূর্যগ্রহণের সময় এবং তিনি বলেন, বান্দাদের সতর্ক করার জন্য।
উবায়দুল্লাহ ইবন উমার আল কাওয়ারীরী .... আবদুর রহমান ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশায় আমি তীর নিক্ষেপ করেছিলাম। এমন সময় সূর্যগ্রহণ লাগল। তখন আমি এগুলো ফেলে রেখে মনে মনে ভাবলাম, আজ সূর্যগ্রহণে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নতুন কিছু প্রকাশ পায় কিনা তা অবশ্যই দেখব। আমি তার কাছে পৌছে গেলাম। এ সময় তিনি দু' হাত উঠিয়ে দোয়া করছিলেন এবং তাকবীর (আল্ল-হু আকবার), তাহমীদ (আল হামদুলিল্লা-হ) ও তাহলীলে (লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) মশগুল ছিলেন। অবশেষে সূর্য পরিষ্কার হয়ে গেল। এরপর তিনি দু'টি সূরাহ পাঠ করলেন এবং দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ .... আবদুর রহমান ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত, যিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে আমি একবার মদীনায় তীর নিক্ষেপ করেছিলাম। এমন সময় সূর্যগ্ৰহণ আরম্ভ হল। তখন আমি এগুলো ফেলে রেখে মনে মনে বললাম, আল্লাহর কসম! সূর্যগ্রহণকালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে যা কিছু প্রকাশ পায়, তা অবশ্যই দেখব। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে দেখি তিনি সালাতে দণ্ডায়মান এবং দু' হাত উঠিয়ে তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হামদুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ), তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) ও দোয়া করছেন, অবশেষে সূর্য গ্রাসমুক্ত হল এবং তিনি দুটি সূরাহ পাঠ করলেন এবং দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আবদুর রহমান ইবন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় একবার আমি আমার তীর ছুড়ছিলাম, এমন সময় সূর্যগ্রহণ লাগল। অতঃপর পূর্বোক্ত বর্ণনাকারীর মতো বর্ণনা করেন।
হারূন ইবন সাঈদ আল আয়লী .... আবদুল্লাহ ইবন উমার (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কারো জীবন ও মৃত্যুর কারণে লাগে না। বরং এ দুটি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব তোমরা যখন এ দুটি (গ্রহণ লাগতে) দেখ, তখন সালাতে মশগুল হও।
আবূ বকর ইবন আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র .... যিয়াদ ইবন ইলাকাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুগীরাহ ইবন শুবাহ কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় যেদিন ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ (ﷺ) ইনতিকাল করেন, সূর্যগ্রহণ লেগেছিল তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। এগুলো কারো জীবন ও মরণের কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব যখন তোমরা তা দেখতে পাও। আল্লাহর কাছে দোয়া কর ও সালাত আদায় করতে থাক যে পর্যন্ত গ্রাসমুক্ত না হয়।