দাসমুক্তি (৩৬৬৩-৩৬৯৩)
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শরীক (যৌথ মালিকানাধীন) ক্রীতদাসের বেলায় তার নিজের অংশটুকু মুক্ত করে দেয় এবং তার (মুক্তিদাতার) কাছে এ পরিমাণ ধন-সম্পদ থাকে যা উক্ত ক্রীতদাসের মূল্য সমান হয়- তবে ন্যায় সঙ্গতভাবে মূল্য নিরূপণ করবে এবং বাকী অংশীদারদের অংশের মূল্যও তাকে পরিশোধ করতে হবে। আর ক্রীতদাসটি পুরোপুরিভাবে তার পক্ষ থেকেই মুক্ত করা হবে। তবে যদি সে (পুরো অংশের মূল্য পরিশোধে) সক্ষম না হয় তাহলে সে যতটুকু অংশ মুক্ত করেছে ততটুকু মুক্ত হয়ে যাবে।
কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ, শাইবান ইবন ফাররুখ, আবূ রাবী, আবূ কামিল, ইবন নুমায়র, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, ইসহাক ইবন মানসূর, হারূন ইবন সাঈদ আইলী ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... ইবন উমর হতে বর্ণিত। মালিক নাফি হতে বর্ণিত হাদীসের অর্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ক্রীতদাসটি দু'জনের মালিকানাধীন তার একজন নিজের অংশ মুক্ত করে দিলে অপরজনের অংশেরও সে যিম্মাদার হবে (যদি সে বিত্তবান হয়)।
আমর আন নাকিদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি যৌথ মালিকানাধীন ক্রীতদাসের বেলায় নিজের অংশ মুক্ত করে দিবে বাকী অংশ তার সম্পদ দ্বারাই মুক্ত করবে। আর যদি সে বিত্তশালী না হয় তাহলে সে ক্রীতদাসকে উপার্জনের মাধ্যমে মুক্ত হওয়ার চেষ্টায় নিযুক্ত করতে হবে। তবে তার উপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপানো যাবে না।
আলী ইবন খাশরাম .... সাঈদ ইবন আবূ আরুবাহ্ হতে এ সানাদে বর্ণিত। তবে তিনি তার বর্ণনায় এতটুকু বেশী উল্লেখ করেছেন যে, "যদি সে মুক্তিদাতা বিত্তবান না হয় তখন ঐ ক্রীতদাসের প্রচলিত মূল্য স্থির করতে হবে। এরপর সে (দাস) তার অবশিষ্টাংশ মুক্ত করার লক্ষ্যে উপার্জনে নিয়োজিত হবে। তবে এ ব্যাপারে তাকে (মুক্তিদাতাকে) সাধ্যাতীত কষ্টে ফেলা যাবে না।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ .... ওয়াহব ইবন জারীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কাতাদাহ্ কে এ সানাদে ইবন আবূ আরুবাহ এর হাদীসের মর্মানুযায়ী হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি তার বর্ণনায় উল্লেখ করেন, "ক্রীতদাসের ন্যায্য মূল্য নিরূপণ করতে হবে।"
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি একবার একটি ক্রীতদাসী ক্রয় করে তাকে মুক্ত করে দিবেন বলে ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তখন সে ক্রীতদাসীর মনিবেরা তাকে জানালেন যে, আমরা আপনার এ শর্তে ক্রীতদাসটি বিক্রয় করতে পারি যে, আমরাই হব তার ওয়ালার অধিকারী। তিনি বলেন এরপর বিষয়টি আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত করলাম। তিনি বললেনঃ এ শর্ত তোমাকে ওয়ালা থেকে বঞ্চিত করবে না। কেননা প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতার জন্যই ওয়ালার হক্ নির্ধারিত।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ ... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাহ তার লিখিত মুক্তিপণ পরিশোধের ব্যাপারে সাহায্যের জন্য আয়িশাহ এর কাছে এল। সে তার লিখিত মুক্তিপণের কিছুই আদায় করেনি। তখন আয়িশাহ তাকে বললেনঃ তুমি তোমার মুনিবের কাছে ফিরে যাও। যদি তারা এ শর্তে রাযি হয় যে, আমি তোমার লিখিত মুক্তিপণের যাবতীয় পাওনা আদায় করলে তোমার ওয়ালা আমার প্রাপ্য হবে, তবে তা আমি করতে পারি। বারীরা তার মনিবদের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করল। কিন্তু তারা সে প্রস্তাব মেনে নিল না এবং বলে দিল, যদি তিনি সাওয়াবের আশায় তোমার লিখিত মুক্তিপণ আদায়ের দায়িত্ব নেন তাহলে নিতে পারেন, তবে তোমার ওয়ালা আমাদের জন্যই থাকবে। এরপর তিনি [আয়িশাহ] বিষয়টি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উঠালেন। তখন তিনি তাকে বললেনঃ তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দিতে পার, কেননা ওয়ালা মুক্তিদাতারই প্রাপ্য। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়িয়ে গেলেন এবং বললেনঃ লোকদের কী হয়েছে তারা এমন কিছু শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই। যে ব্যক্তি এমন শর্তারোপ করবে যা আল্লাহর কিতাবে নেই- সে শর্তের কোন মূল্য নেই যদিও সে একশো বার শর্তারোপ করে। আল্লাহর শর্তই কেবল সঠিক ও নির্ভরযোগ্য।
আবূ তাহির ... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বারীরা আমার কাছে এল। এরপর সে বলল, হে আয়িশাহ! আমি আমার মুনিবের কাছে লিখিত চুক্তি করেছি যে, বছরে এক উকিয়া (চল্লিশ দিরহামে এক উকিয়া) করে নয় বছরে সর্বমোট নয় উকিয়া পরিশোধ করব। এরপর লায়স বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় এতটুকু বেশী উল্লেখ আছে: "তিনি (রসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেন, তাদের এ শর্ত করা তোমাকে ওয়ালা প্রাপ্তি হতে বাধা দিবে না। তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দিতে পার। উরওয়াহ ইবন যুবায়র এ হাদীসে উল্লেখ করেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের সামনে দাড়িয়ে যান এবং আল্লাহর প্রশংসা ও তার মহিমা বর্ণনা করেন।
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন আলা আল-হামদানী .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন বারীরা আমার কাছে এল। এরপর সে বলল, আমার মনিব আমাকে প্রতি বছর একটি করে নয় বছরে নয়টি উকীয়্যাহ্ (চল্লিশ দিরহামে এক উকীয়াহ্) আদায় করার শর্তে আমাকে মুক্তি দানের ব্যাপারে লিখিত চুক্তি করেছে। আপনি আমাকে সাহায্য করুন। আমি [আয়িশাহ] তাকে বললাম, তোমার মনিব যদি এ শর্তে রাজী হয় যে তোমার মুক্তিপণ এক সঙ্গে আদায় করে দিলে তোমার ওয়ালা আমি পাব তাহলে আমি তোমাকে মুক্তির ব্যাপারে সাহায্য করতে চাই। তখন বারীরাহ এ বিষয়টি তার মুনিবের কাছে উঠালে তাদের জন্য ওয়ালা ব্যতিরেকে তারা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল। এরপর সে আমার [আয়িশাহ্] এর কাছে এসে তাদের কথা বলল। তিনি বলেন, আমি তাকে ধমক দিয়ে বললামঃ তাহলে আল্লাহর কসম! আমি রাজী নই। আয়িশাহ বলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বিষয়টি শুনলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। তার কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। এরপর তিনি বললেনঃ হে আয়িশাহ! তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দাও এবং তাদের জন্য ওয়ালার শর্ত করে দাও। তবে নিশ্চয়ই ওয়ালা সে পাবে যে মুক্তি দান করে। আমি (আয়িশাহ) তাই করলাম। রাবী বলেনঃ এরপর সন্ধ্যা বেলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা ও তার মহিমা ঘোষণা করলেন। এরপর বললেনঃ লোকের অবস্থা কেমন অবস্থায় পৌছেছে যে, তারা এমন সব শর্ত দেয় যা আল্লাহর কিতাবে নেই। স্মরণ রাখ, যে শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই, তা বাতিল বলে গণ্য, যদিও একশতবার শর্তারোপ করা হয়। আল্লাহর কিতাবের শর্তই যথার্থ সঠিক, আল্লাহর শর্তই সর্বাধিক সুদৃঢ়। তোমাদের মধ্যে কতক লোকের কী হয়েছে যে, তারা অপরকে বলে অমুককে মুক্ত করে দাও আর ওয়ালা গ্রহণ করব আমরা? অথচ ওয়ালা তো আসলে তারই পাওনা যে মুক্ত করে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব, যুহায়র ইবন হারব ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম .... হিশাম ইবন উরওয়াহ্ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ একই সানাদে বর্ণিত আছে। তবে জারীর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে- "তিনি বলেন, তার (বারীরার) স্বামী ছিল ক্রীতদাস। সে কারণে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দান করেছিলেন। (যখন সে মুক্ত হবে তখন ক্রীতদাস স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রাখতে কিংবা তা নাকচ করে দিতে পারবে- এ ইখতিয়ার তাকে দেয়া হয়েছিল)। সে নিজের স্বার্থটাকেই সমর্থন করল (ক্রীতদাস স্বামীকে পছন্দ করল না)। যদি সে স্বাধীন হত তাহলে তিনি (রসূলুল্লাহ (ﷺ)) তাকে (বারীরাকে) ইখতিয়ার দিতেন না।"
যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন আলা .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার কল্যাণে তিনটি শরীআতী বিধান পাওয়া গিয়েছিল ১. তার মুনিবেরা তাকে বিক্রি করতে চেয়েছিল এবং তার ওয়ালার উপর তাদের অধিকার লাভের শর্তারোপ করেছিল। আমি নবী (ﷺ) এর কাছে বিষয়টি উঠালাম। তিনি আমাকে বললেন, তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দাও। কেননা "ওয়ালা" সেই পাবে যে আযাদ করে। ২. যখন তাকে (বারীরাকে) মুক্ত করে দেয়া হল তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে (তার ক্রীতদাস স্বামীকে রাখা, না রাখার) ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। এরপর সে নিজের স্বার্থটাকেই সমর্থন করল। (তার ক্রীতদাস স্বামীকে প্রত্যাখ্যান করল।) ৩. তিনি [আয়িশাহ্] বলেন, লোকেরা বারীরাকে সাদাকা খয়রাত করত এবং সে তা (সাদাকাকৃত জিনিস) থেকে আমাদেরকে কিছু হাদিয়া হিসেবে দিত। এরপর আমি নবী (ﷺ) এর কাছে বিযয়টি পেশ করলাম। তিনি বললেন, "তা তার জন্য সাদাকা এবং তোমাদের জন্য হাদিয়া। সুতরাং তোমরা তা খাও।"
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি কিছু সংখ্যক আনসার মনিবদের কাছে থেকে বারীরাকে খরিদ করলেন। তবে তারা (সে সময়) ওয়ালার শর্ত দিয়েছিল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ প্রকৃতপক্ষে ওয়ালা তারই প্রাপ্য যে নিআমাতের অধিকারী (মুক্তিদাতা)। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন। তার স্বামী ছিল ক্রীতদাস। একবার সে (বারীরাহ) আয়িশাহ এর কাছে কিছু পরিমাণ গোশত হাদিয়া পাঠাল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা যদি এ গোশত থেকে আমার জন্য কিছুটা রান্না করে আনতে.....। তখন আয়িশাহ বললেনঃ এতো বারীরার জন্য সাদাকা হিসেবে এসেছে (আর আপনার জন্য সাদাকা হারাম)। তিনি বললেনঃ তা তার জন্য সাদাকা এবং আমাদের জন্য হাদিয়া।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না .... আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি মুক্ত করে দেয়ার উদ্দেশে বারীরাকে খরিদ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। কিন্তু তারা (বারীরার মুনিবেরা) তার "ওয়ালা পাওয়ার শর্তারোপ করে বসল। তখন তিনি বিযয়টি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উঠালেন। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দাও। মূলত ওয়ালা সে পাবে যে মুক্ত করে দেয়। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য কিছু গোশত হাদিয়া রূপে পেশ করা হল। তখন তারা নবী (ﷺ)-কে বললেনঃ এ গোশত বারীরাকে সাদাকা হিসেবে দেয়া হয়েছে। তিনি বললেনঃ এতো তার জন্য সাদাকা এবং আমাদের জন্য হাদিয়া। তাকে (বারীরাকে) তার (ক্রীতদাস) স্বামীর বিষয়ে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল। আবদুর রহমান বললেন, তার স্বামী স্বাধীন ছিল। শুবাহ বলেনঃ আমি পুনরায় তাকে (আবদুর রহমানকে) তার (বারীরার) স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমার জানা নেই।
আহমাদ ইবন উসমান নাওফালী .... শুবাহ এর সূত্রে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও ইবন বাশশার .... আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, বারীরার স্বামী ক্রীতদাস ছিল।
আবূ তাহির .... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বারীরার ঘটনায় তিনটি বিধান জারী হয়েছেঃ ১. যখন সে মুক্তি লাভ করেছিল তখন স্বামীর (বৈবাহিক সূত্র বহাল রাখা, না রাখার) ব্যাপারে তাকে ইখতিয়ার প্রদান করা হয়েছিল। ২. তাকে গোশত সাদাকা করা হয়েছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের (আয়িশাহর) কাছে এলেন। তখন গোশতের হাড়ি চুলার উপর টগবগ করছিল। তিনি খাবার চাইলেন। তখন তার সামনে রুটি এবং ঘর থেকে তরকারী পরিবেশন করা হল। তিনি বললেনঃ আমি কি লক্ষ্য করিনি যে, চুলার উপর হাড়ি আছে যার মধ্যে গোশত রয়েছে। তারা বললেনঃ জি হ্যা, হে আল্লাহর রসূল! ওটা তো বারীরাকে সাদাকা দেয়া গোশত। আমরা তা থেকে আপনাকে খাওয়ানো পছন্দ করিনা। তখন তিনি বললেনঃ এতো তার জন্য সাদাকা এবং তার পক্ষ থেকে তা আমাদের জন্য হাদিয়া। ৩. নবী (ﷺ) তার (বারীরার) মুক্তির ব্যাপারে বললেনঃ আসলে ওয়ালা সে-ই পাবে যে আযাদ করে।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আয়িশাহ একটি ক্রীতদাসী খরিদ করে আযাদ করে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। তার মুনিবেরা তাদের জন্য তার ওয়ালা ব্যতিরেকে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল। তিনি এ বিষয়টি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উঠালেন। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তাকে খরিদ করে মুক্তি দিয়ে দাও। তার (মুক্তি দেয়া) তোমাকে ওয়ালা থেকে বাধাপ্রাপ্ত করবে না। কেননা ওয়ালা তারই প্রাপ্য যে মুক্তি দান করে।
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী ..... ইবন উমর হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ওয়ালা বিক্রি করা এবং তা হেবা (দান) করা নিষিদ্ধ করেছেন। ইবরাহীম বলেছেন, আমি মুসলিম ইবন হাজ্জাজ কে বলতে শুনেছি যে, এ হাদীসের ব্যাপারে সকল মানুষ আবদুল্লাহ ইবন দীনারের পৌষ্য।"
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্, যুহায়র ইবন হারব, ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতাইবাহ ইবন হুজুর, ইবন নুমায়র, ইবন মুসান্না ও ইবন রাফি .... ইবন উমর এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে সাকাফী বর্ণিত হাদীসে উবাইদুল্লাহ সূত্রে উল্লেখ নেই। এ বর্ণনায় বিক্রির কথা রয়েছে। তবে তিনি হেবার কথা উল্লেখ করেননি।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেনঃ নবী (ﷺ) লিখিত ফরমান জারি করলেন যে, প্রত্যেক গোত্রের উপর তার দ্বারা হত্যাকাণ্ডের ক্ষতিপূরণ ওয়াজিব হবে। এরপর তিনি লিখলেন, মুক্তদাসের অনুমতি ব্যতীত কোন মুসলিমের পক্ষে অপর মুসলিমের ক্রীতদাসের ওয়ালী হওয়া হালাল নয়। এরপর আমি জানতে পারলাম যে, তিনি তার লিখিত ফরমানে তাকে লানাত করেছেন যে ব্যক্তি এরূপ কাজ করবে।
কুতাইবাহ্ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত আছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (ক্রীতদাস) তার মুনিবের অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে মনিব বানাবে তার উপর আল্লাহর লানাত এবং তার ফেরেশতাদেরও লানাত। তার ফরয কিংবা নফল কিছুই (আল্লাহর কাছে) কবুল হবে না।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তার মুনিবের অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে মাওলা বানাবে তার উপর আল্লাহর লানাত, ফেরেশতা ও সমগ্র মানব জাতির লানাত বর্ষিত হবে। কিয়ামতের দিন তার কোন ফরয কিংবা নফল আল্লাহর নিকট কবুল হবে না।
ইব্রাহীম ইবন দীনার .... আমাশ হতে এ সানাদে বর্ণিত- তবে তিনি এতে বলেছেনঃ "কোন লোক তার মুনীবের অনুমতি ব্যতিরেকে অন্যকে মাওলা বানাবে .... "
আবূ কুরায়ব .... ইবরাহীম তাইমী তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার আলী ইবন আবূ তালিব আমাদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, যে ব্যক্তি মনে করে যে, এ পুস্তিকা ও আল্লাহর কিতাব ব্যতীত আমাদের কাছে এমন কিছু আছে যাকে আমরা অধ্যয়ন করি সে মিথ্যা বলছে। সে (বর্ণনাকারী) বললঃ সে সময় তার আলী তরবারির খাপের মধ্যে একখানা পুস্তক ঝুলানো ছিল। এ পুস্তিকায় উটের দাতের বিবরণ ছিল এবং যখমের দিয়াত (ক্ষতিপূরণ) সম্পর্কে বিধান ছিল। এতে আরও উল্লেখ ছিল যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মদীনার আয়র' থেকে 'সাওর' পর্বত পর্যন্ত এলাকা হারাম (সংরক্ষিত স্থান)। যে ব্যক্তি এ এলাকায় বিদআত করবে অথবা কোন বিদআতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহর লানাত, তার ফেরেশতাদের ও সমগ্র মানব জাতির লানাত বর্ষিত হবে। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তার কোন ফরয কিংবা নফল কবুল করবেন না। সকল মুসলিমের দায়িত্ব অভিন্ন। একজন সাধারণ মুসলিমও এ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবে। যে ব্যক্তি তার পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে পিতা বলে দাবী করবে অথবা যে ক্রীতদাস তার মনিবকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মাওলা বানায় তার উপর আল্লাহর লানাত, ফেরেশতা ও সমগ্র মানব জাতির লানাত বর্ষিত হবে। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তার কোন ফরয কিংবা নফল (ইবাদাত) কবুল করবেন না।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না আনায়ী .... আবূ হুরাইরাহ্ এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ক্রীতদাসকে আযাদ করবে আল্লাহ তার প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বদলে আযাদকারীর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জাহান্নাম থেকে বাচাবেন।
দাউদ ইবন রুশায়দ .... আবূ হুরাইরাহ্ এর সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন ঈমানদার ক্রীতদাসকে আযাদ করে দিবে আল্লাহ তার প্রত্যেকটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বদলে মুক্তিদাতার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন- এমন কি তার লজ্জাস্থানের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানও।
কুতাইবাহ ইবন সাঈদ .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন ঈমানদার ক্রীতদাস মুক্ত করবে আল্লাহ তার (শরীরের) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বদলে তার (শরীরের) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন- এমন কি তিনি তার (মুক্তদাসের) গুপ্তস্থানের পরিবর্তে তার (মুক্তিকারীর) গুপ্তস্থানও রক্ষা করবেন।
হুমায়দ ইবন মাসআদাহ্ .... আবূ হুরাইরাহ বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন মুসলিম অপর কোন মুসলিম ক্রীতদাসকে মুক্ত করলে আল্লাহ তার (মুক্ত দাসের) প্রত্যেকটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বদলে তার (মুক্তিদাতার) প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জাহান্নামের আগুন থেকে বাচাবেন। তিনি বর্ণনাকারী সাঈদ ইবন মারজানাহ্ বললেনঃ আবূ হুরাইরাহ থেকে এ হাদীস শোনার পরপরই আলী ইবন হুসায়ন এর কাছে গেলাম এবং তার কাছে হাদীসটি পেশ করলাম। তখনই তিনি তার একটি গোলাম (ক্রীতদাস) মুক্ত করে দিলেন যার বিনিময় মূল্য হিসেবে তিনি ইবন জাফরকে দশ হাজার দিরহাম অথবা এক হাজার দীনার পরিশোধ করেছিলেন।
আবূ বকর ইবন আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবন হারব .... আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন সন্তান তার পিতার ঋণ (হক্ব) পরিশোধ করতে পারে না। তবে হ্যা, সে যদি তার পিতাকে ক্রীতদাস হিসেবে দেখতে পায় এবং তখনি তাকে ক্রয় করে নিয়ে আযাদ করে দেয় (তাহলে ভিন্ন কথা)। ইবন আবী শাইবাহ্-এর বর্ণনায় 'সন্তান তার পিতাকে' শব্দটির উল্লেখ আছে।
আবূ কুরায়ব, ইবন নুমায়র ও আমর আন নাকিদ .... সুহায়ল হতে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তারা তাদের বর্ণনায় 'সন্তান তার পিতাকে' কথাটি বলেছেন।